Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাতালঘরের পিশাচ – অনীশ দাস অপু

    অনীশ দাস অপু এক পাতা গল্প404 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আঁধারের শক্তি – ১

    এক

    শহরের শেষ প্রান্তে অক্সফোর্ডের পুরনো কলেজ অঞ্চল। এখানে একটি পুরনো বাড়ি আছে। নাম মিনার হাউস। বাড়িটির সর্বাঙ্গে বয়সের ছাপ। বিশাল দরজার পাল্লা দুটি হেলে পড়েছে। বাড়ির খিলানগুলো ভাঙা। আইভিলতার পুরু আস্তরণ ঢেকে ফেলেছে পুরনো বাড়ির মিনার।

    নিচতলা থেকে একটা সর্পিল সিঁড়ি উঠে গিয়েছে উপরের দিকে। দোতলা, তিনতলা এবং চারতলায় সিঁড়ির মুখোমুখি দুটি ঘর। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রের বাস ওখানে। নিরিবিলিতে পড়াশুনা বা গবেষণার জন্য এ __ চমৎকার।

    চারতলায়  চারতলায় থাকে অ্যাবারক্রোম্বি স্মিথ, এডওয়ার্ড বেলিংহ্যাম, দোতলায় উইলিয়াম মল্কহাউস লী আর. একতলায় বুড়ো চাকর টমাস স্টাইলাস। সে ঘরদোর পরিষ্কার রাখে, উপরের তিন তলার বাসিন্দাদের রান্নাবান্না করে দেয়, ফাইফরমাশ খাটে।

    সেদিন রাত প্রায় দশটা। চারতলায় নিজের ঘরে আরাম কেদারায় বসে অ্যাবারক্রোম্বি স্মিথ গল্প করছিল তার বন্ধু জেফ্রো হেস্টির সঙ্গে। হেস্টিও গা এলিয়ে দিয়েছিল আরেকটি আরাম কেদারায়। নদীতে নৌকো চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ওরা ফিরে এসেছে।

    নানান কথা বলতে বলতে হেস্টি একসময় বলল, ‘এঁ বাড়ির অপর দুই বাসিন্দার সঙ্গে তোমার আলাপ আছে?’

    ‘মোটামুটি আছে,’ স্মিথ বলল।

    ‘মল্কহাউস লী ছেলেটা বেশ ভাল। তবে…’

    ‘তবে কী?’ স্মিথ প্রশ্ন করল।

    ‘মানে বলছিলাম কি এডওয়ার্ড বেলিংহ্যামকে আমার তেমন সুবিধার বলে মনে হয় না।’

    ‘কেন?’ স্মিথ প্রশ্ন করল।

    ‘কেন যে বেলিংহ্যামকে পছন্দ করি না ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারব না। ও চোর ডাকাত বা গুণ্ডা বদমায়েশ নয়। কিন্তু আচার-আচরণ কেমন অদ্ভুত। চালচলন ঠিক স্বাভাবিক মানুষের মত নয়। ওর চোখের দিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখেছ? চাউনিটা কেমন ক্রূর, নিষ্ঠুর আর নারকীয়। ওই চোখ দেখলেই মনে হয় যেন শয়তানের পয়লা নম্বরের সাগরেদ।

    স্মিথ হেসে ফেলল। ‘তোমার সব ব্যাপারেই বাড়াবাড়ি।’

    ‘মোটেই না,’ প্রতিবাদ করল হেস্টি, ‘অনেকেই বলে বেলিংহ্যাম নাকি নানান তুকতাক জানে। অবশ্য ও একেবারেই বেগুণ তাও বলছি না। প্রাচ্যবিদ্যায় নাকি অসাধারণ পাণ্ডিত্য আছে তার। প্রাচীন মিশরীয় হিব্রু, আরবি, ফার্সী ইত্যাদি ভাষা খুব ভাল জানে।’

    ‘বেলিংহ্যাম কি তুকতাক করে কারো কোন ক্ষতি করেছে?’ স্মিথ প্রশ্ন করল।

    ‘না, তা করেনি, বা করলেও আমি ঠিক জানি না।’

    ‘তাহলে ওকে খারাপ লোক ভাবছ কেন?’

    কেন যে ওকে খারাপ ভাবছি ঠিকমত ব্যাখ্যা দিতে পারব না। জানি না কেন লোকটাকে আমি মোটেই সহ্য করতে পারি না। মল্কহাউস লীর বোন ইভেলিনের সঙ্গে যখন বেলিংহ্যামের মত মানুষকে ঘুরে বেড়াতে দেখি তখন আরও খারাপ লাগে। লীদের পরিবারের সঙ্গে আমাদের পরিবারের অনেক দিনের পরিচয়। ইভেলিনকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। সে সুন্দরী। স্বভাবও সহজ-সরল। তার সঙ্গে যখন বেলিংহ্যাম ঘুরে বেড়ায় তখন মনে হয় একটা সুন্দর পাখির সঙ্গে থপ্ থপ্ করে যাচ্ছে একটা কুৎসিত কোলাব্যাঙ।’

    ‘তোমার ঈর্ষা লাগে?’ তরল সুরে স্মিথ বলল।

    ‘না না, এর মধ্যে ঈর্ষার কোন ব্যাপার নেই,’ হেস্টি বলল।

    ‘তাহলে তুমি বেলিংহ্যামের উপর এমন নাখোশ কেন?’

    ‘শোনো, স্মিথ, তোমাদের এই বেলিংহ্যাম লোকটি খুবই ঝগড়াটে। সবার সঙ্গেই ওর বিবাদ, এই তো সেদিন নর্টনের সঙ্গে ওর একচোট হয়ে গেল। ও নর্টনকে খুব শাসিয়েছে। এরকম লোকের সঙ্গে বেশি মেলামেশা না করাই ভাল।’

    ‘তুমি কি আমাকে সাবধান করছ?

    দ্বিধান্বিত কণ্ঠে হেস্টি বলল, ‘যদি ভাব তবে তাই।’

    ‘দেখো, এরকম ছোটখাট ব্যাপার দিয়ে একটা মানুষের বিচার চলে না।’

    ‘তা জানি। কিন্তু লোকটার সঙ্গে একটু চলাফেরা করলেই বুঝতে পারবে ও কত বড় ধূর্ত আর শয়তান।’

    ঘড়িতে ঢং ঢং করে এগারোটা বাজল। হেস্টি তড়াক করে লাফিয়ে উঠল আরাম কেদারা থেকে। ‘এইরে! এগারোটা বাজে! আর নয়, এবার আমি উঠি। অনেকটা পথ যেতে হবে। গুডনাইট, স্মিথ।’

    ‘গুডনাইট, হেস্টি।’

    হেস্টি চলে গেল।

    .

    দুই

    হেস্টি যাবার পর স্মিথ টেবিল ল্যাম্পটা জ্বেলে পড়ার টেবিলে বসল। বইয়ের তাক থেকে নামিয়ে নিল মোটা মোটা কয়েকটি ডাক্তারী বই। অ্যাবারক্রোম্বি স্মিথ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র। সামনেই পরীক্ষা। এখন ভাল করে পড়াশোনা করা দরকার। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে সবকিছু ভুলে গিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রের রহস্যের মধ্যে ডুবে গেল।

    দেয়াল ঘড়ি ঢং ঢং করে বারোটা বাজার জানান দিল। বইয়ের পাতা থেকে চোখ তুলল স্মিথ। ধূমপানের তেষ্টা লেগেছে। একটা সিগারেট ধরাল সে। হেস্টির কথাগুলো মনে পড়ল। সেই সঙ্গে মনে পড়ল মিনারের অপর বাসিন্দার কথা। উইলিয়াম মল্কহাউস লী সাহিত্যের ছাত্র। লোক হিসেবে তাকে তো ভালই মনে হয়। তেতলার এডওয়ার্ড বেলিংহ্যাম প্রাচীন ইতিহাসের কী একটা বিষয় নিয়ে গবেষণা করছে। যেটুকু পরিচয় হয়েছে তাতে তাকেও তো খারাপ মানুষ বলে মনে হয় না।

    কিন্তু হেস্টি ওকে পছন্দ করে না কেন? বেলিংহ্যামের সঙ্গে যতবার দেখা হয়েছে ততবারই সে ভদ্রতা আর সৌজন্যের হাসি হেসেছে। ওকে বেশ ভদ্র আর শান্তিপ্রিয় মানুষ বলেই মনে হয়েছে। অন্তত এ পর্যন্ত ওর আচার- ব্যবহারে খারাপ কিছু দেখেনি স্মিথ। কিন্তু’ হেস্টি বেলিংহ্যাম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করল কেন? বন্ধু হেস্টিকে সে ভাল করেই চেনে। স্পষ্টবক্তা। কিন্তু কারোর নামে নিন্দা করার মত ছেলে সে নয়। তাহলে? এসব কথা ভাবতে ভাবতে স্মিথ আবার বইয়ের পাতায় মন দিল। আরও কিছুক্ষণ কেটে গেল।

    হঠাৎ একটা তীব্র তীক্ষ্ণ আর্তনাদ রাতের নিস্তব্ধতা খান খান করে দিল। সেই আতঙ্কঘন ভয়াবহ আর্তনাদ শুনলে শরীরের রক্ত জমে যায়। আচমকা এই আর্তনাদে স্মিথ শিউরে উঠল। তার হাত থেকে মোটা ডাক্তারী বইটি ছিটকে পড়ে গেল মাটিতে। শরীরের ঝাঁকুনিতে পড়ার টেবিলটা কেঁপে উঠল। টেবিলের আলোটা মাটিতে পড়ে নিভে গেল।

    ঘর অন্ধকার। নিকষ কালো আঁধার।

    সিঁড়িতে পায়ের শব্দ। কেউ দ্রুত সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে আসছে। এত রাতে কে আসছে? কেন আসছে? পায়ের শব্দটা এসে থামল স্মিথের দরজার বাইরে। তারপর ভেজানো দরজাটা খুলে কে যেন ঢুকল ঘরের মধ্যে।

    ‘কে? কে?’ স্মিথ চিৎকার করে উঠল

    ‘আমি…আমি,’ কাঁপা গলায় উত্তর এল।

    ‘আমি কে?’ বলতে বলতে আলোর সুইচ টিপে দিল স্মিথ।

    মল্কহাউস লী এসে দাঁড়িয়েছে ঘরে। আতঙ্কে আর উত্তেজনায় তার শরীর কাঁপছে।

    ‘কী ব্যাপার, মি. লী?’ স্মিথ জিজ্ঞেস করল।

    হাঁফাতে হাঁফাতে মল্কহাউস লী বলল, ‘মি. স্মিথ, আপনি তো ডাক্তারী পড়েন, দয়া করে একবার নিচে আসুন…শিগির আসুন।’

    ‘কেন? কী হয়েছে?’ স্মিথ উৎকণ্ঠিত প্রশ্ন করল। ‘বেলিংহ্যাম…বেলিংহ্যাম খুব অসুস্থ…অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। শিগগির তার ঘরে চলুন।’

    ‘একটু আগে কি মি. বেলিংহ্যামই চিৎকার করে উঠেছিলেন?’ স্মিথ জিজ্ঞেস করল।

    ‘হ্যাঁ, সে-ই চিৎকার করেছিল। চিৎকার শুনেই আমি ছুটে গিয়ে তার ঘরে ঢুকি। দেখি সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তারপরই আমি ছুটে এসেছি আপনার কাছে।’

    আর কোন কথা বলল না স্মিথ। মল্কহাউস লীর পেছন পেছন সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল। ঘোরানো সিঁড়িটা সরু। ইচ্ছা থাকলেও তাড়াতাড়ি নামা সম্ভব না। পাশাপাশি দু’জন লোক নামার সুযোগ নেই সরু এ সিঁড়ি দিয়ে। একজনের পিছনে আর একজনকে নামতে হয়। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত লীর সঙ্গে বেলিংহ্যামের ঘরে এসে ঢুকল স্মিথ।

    .

    তিন

    এডওয়ার্ড বেলিংহ্যামের রুম আকারে স্মিথের ঘরেরই মত। ঘরে ঢুকে চমকে উঠল স্মিথ। একে মানুষের থাকার জায়গা না বলে একটা ছোটখাট মিউজিয়াম বললেই চলে। স্মিথ শুনেছিল, বেলিংহ্যাম প্রাচীন ইতিহাসের কী একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা করছে…তাই বলে শোবার ঘরের এই অবস্থা!

    ঘরের চারদিকের দেয়ালে প্রাচ্য আর মিশরদেশের প্রাচীনকালের বিভিন্ন যুগের নানা অদ্ভুত আর বিচিত্র নিদর্শন। আরও রয়েছে ছোট-বড় নানান আকারের ভাঙাচোরা মূর্তি, প্রাচীনকালের অস্ত্রশস্ত্র, অনেকগুলি সূক্ষ্ম কারুকার্য করা রাজপোশাক, বিভিন্ন মুখোশ, বড় বড় লাল-নীল পাথর, বিভিন্ন পুঁতির মালা।

    প্রাচীন দেবদেবীর মূর্তির মধ্যে রয়েছে প্রাচীন মিশরের হোরাস্, আইসিস্, ওসাইরিস ইত্যাদি দেবতার বড় বড় অদ্ভুত মূর্তি। কড়িকাঠ থেকে ঝুলছে বিরাট একটা কুমিরের চিমসানো দেহ। কুমিরটার মুখ হাঁ-করা।

    ঘরের মাঝখানে একটা লম্বা টেবিল। তার উপর টুকিটাকি অসংখ্য জিনিস। ছড়ানো টুকরো কাগজ, নানারকমের গাছের ছাল, শুকনো পাতা। তাছাড়াও টেবিলে রয়েছে প্যাপিরাস গাছ থেকে তৈরি কাগজের একটি পুঁথি। পুঁথিখানা খুবই প্রাচীন। পাতা হলদেটে।

    টেবিলের সামনে দেয়ালের দিকে একটা কফিন। কফিনের ডালা খোলা। ভিতরে একটা মমি। সেদিকে তাকিয়ে স্মিথ ভয়ে চমকে উঠল। তার শিরদাঁড়া বেয়ে যেন বয়ে গেল ভয়ের শীতল স্রোত।

    দেখেই বোঝা যায় মমিটা বহুদিনের পুরনো। ওটার গায়ের রঙ পোড়া কাঠের মত কুচকুচে কালো। দেহটা শুকিয়ে অস্থিচর্মসার। কফিন থেকে শরীর অনেকখানি বেরিয়ে এসেছে। হাতের সরু সরু অস্থিসার বড় বড় আঙুলগুলো এসে পড়েছে টেবিলটার কাছাকাছি। কী বীভৎস আর ভয়ানক দেখতে!

    মমির ঠিক মুখোমুখি একটি চেয়ারে বেলিংহ্যাম পড়ে আছে অজ্ঞান হয়ে। দারুণ আতঙ্কে তার চোখ দুটো যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। বোঝা যায় দারুণ ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। মাঝে মাঝে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। তখন ঠোঁট দুটো একটু ফাঁক হয়ে যাচ্ছে।

    বেলিংহ্যামের অবস্থা দেখে খুবই ঘাবড়ে গিয়েছে মল্কহাউস লী। সে উদ্বিগ্ন গলায় বলল, ‘এখন কী হবে?’

    স্মিথ ঝুঁকে পড়ে পরীক্ষা করতে লাগল বেলিংহ্যামকে।

    ‘কী বুঝছেন?’ উৎকণ্ঠিতভাবে লী জিজ্ঞেস করল।

    ‘চিন্তা করবেন না। ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে বেলিংহ্যাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’

    মল্কহাউস লী দেখতে বেশ সুদর্শন। লম্বা, ছিপছিপে গড়ন। চোখের মণিদুটি কুচকুচে কালো। গায়ের চামড়া জলপাইয়ের মত মসৃণ।

    স্মিথ ঝুঁকে পড়ে নিঃশব্দে বেলিংহ্যামকে পরীক্ষা করছিল। পরীক্ষা শেষ হতে সে সোজা হয়ে দাঁড়াল।

    ‘কী হয়েছে ওর?’ ব্যাকুলভাবে প্রশ্ন করল লী।

    স্মিথ বলল, ‘মনে হয় কোন কারণে ভীষণ ভয় পেয়ে উনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছেন। একটু শুশ্রূষা করলেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। একটা কাজ করি। আসুন, দু’জনে মিলে ওকে ওই সোফায় শুইয়ে দিই। ইস্ সোফাটার উপরে দেখছি রাজ্যের জিনিসপত্তর। দাঁড়ান, আগে গাছ-গাছড়া আর শিকড়বাকড়গুলো এখান থেকে সরাই।’

    ‘আমি সরিয়ে দিচ্ছি,’ মল্কহাউস লী বলল।

    সোফা পরিষ্কার হলে স্মিথ বলল, ‘এবার আপনি মি. বেলিংহ্যামের পায়ের দিকটা ধরুন। আমি মাথার দিকটা ধরছি।’

    অচেতন বেলিংহ্যামকে শুইয়ে দেয়া হলো সোফার উপরে।

    স্মিথ বলল, ‘আমি ওঁর পোশাকটা ঢিলে করে দিচ্ছি। আপনি একটু ঠাণ্ডা পানি নিয়ে আসুন। আচ্ছা, বেলিংহ্যামের ঠিক কী হয়েছিল জানেন?’

    লী জবাব দিল, ‘না, আমি জানি না। বেলিংহ্যামের চিৎকার শুনেই আমি দোতলা থেকে এ ঘরে ছুটে আসি। এসে দেখি ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে চারতলায় ছুটলাম আপনাকে ডেকে আনতে।’

    ‘তাহলে বোধহয় কিছু দেখেই উনি ভীষণ ভয় পেয়েছেন,’ স্মিথ মন্তব্য করল। ঠিক চাRIOIৎ চালায়

    অজ্ঞান হবার আগে সত্যিই ভীষণ ভয় পেয়েছিল এডওয়ার্ড বেলিংহ্যাম। জোরে জোরে শ্বাস নেয়া এবং শ্বাস ছাড়বার জন্য তার বুকটা হাপরের মত উঠছে নামছে। মুখখানা রক্তশূন্য-বিবর্ণ। চোখের মণিদুটো যেন দারুণ আতঙ্কে অক্ষিকোটর থেকে ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। মুখের গড়নও বিকৃত হয়ে কেমন অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। কী দেখে এত ভয় পেয়েছে এডওয়ার্ড বেলিংহ্যাম?

    ‘বুঝতে পারছি না, কী দেখে মি. বেলিংহ্যাম এত ভয় পেলেন?’ স্মিথ আপন মনেই প্রশ্ন করল।

    ‘বোধহয় এই মমিটা,’ মল্কহাউস লী বলল।

    ‘কিন্তু মমিটার মধ্যে এমন কী আছে যা দেখে উনি ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন?’ একটু অবাক হয়েই স্মিথ জানতে চাইল।

    ‘তা বলতে পারব না। কিন্তু ওই শুকনো লাশটা যেমন কুৎসিত তেমনই ভয়ঙ্কর। ওটাকে দেখলেই গা শিরশির করে।’

    ‘কিন্তু মমিটা তো এ ঘরে অনেকদিন ধরেই রয়েছে। আজ হঠাৎ ভয় পাবার কারণ কী?’ স্মিথ জিজ্ঞেস করল।

    ‘না, আজই প্রথম নয়,’ মল্কহাউস লী বলল, ‘গত শীতকালেও ও একদিন ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। তখন মমিটা ছিল ওর টেবিলের সামনে।’

    ‘কিন্তু মমির সঙ্গে ওঁর ভয় পাবার বা অজ্ঞান হবার কী সম্পর্ক?’ স্মিথ প্রশ্ন করল।

    ‘তা আপনাকে ঠিকমত বুঝিয়ে বলতে পারব না। এটুকু বলতে পারি বেলিংহ্যাম অদ্ভুত খেয়ালী প্রকৃতির মানুষ। পুরনো আমলের জিনিসপত্রের প্রতি ওর প্রচণ্ড আকর্ষণ। নানা দেশের বহু পুরনো জিনিস সে সংগ্রহ করেছে। শুধু সংগ্রহই নয়, এসব নিয়ে সে প্রচুর পড়াশোনাও করেছে। প্রাচীন লিপির পাঠোদ্ধার করা ওর একটা বড় নেশা। অনেক পুরনো পুঁথিপত্তরের পাঠোদ্ধার করেছে। এ কাজে ওর সমকক্ষ গোটা ইংল্যাণ্ডে খুঁজে পাবেন না। কলেজের অনেকেই ওকে ছিটগ্রস্ত বলে। এসব নেশাই হয়তো একদিন ওর জন্য সাংঘাতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এসব নেশা ছাড়বার জন্য ওকে অনেক বলেছি, কিন্তু শোনেনি। নিজের অদ্ভুত সব খেয়াল ছাড়তে ও মোটেই রাজি নয়। বাঃ! এই তো ওর জ্ঞান ফিরে আসছে!’

    সত্যিই বেলিংহ্যামের জ্ঞান ফিরে আসছিল। স্মিথ আর মল্কহাউস লী ঝুঁকে পড়ে তার মুখের দিকে তাকাল।

    বেলিংহ্যামের চোখের পাতা ধীরে ধীরে নড়ে উঠল। হাতের শক্ত মুঠো আস্তে আস্তে আলগা হয়ে খুলে গেল। পাণ্ডুর মুখে লাগল রঙের ছোঁয়া। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে উঠল। আরও কয়েকবার থির থির করে কেঁপে ওঠার পর চোখের পাতাদুটো অল্প খুলে গেল।

    কিছুক্ষণ স্থির চোখে তাকিয়ে থাকার পর চোখের পাতা পুরো খুলে গেল। আরও খানিক স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকার পর বেলিংহ্যাম অবাক হয়ে ঘরের চারদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগল। হঠাৎ মমিটার দিকে চোখ যেতেই চমকে গেল বেলিংহ্যাম। সঙ্গে সঙ্গে ধড়মড় করে উঠে বসে হুড়মুড় করে সোফা থেকে নামল। প্যাপিরাসের পাতার পুঁথি ঝট্ করে তুলে নিয়ে টেবিলের ড্রয়ারের মধ্যে রেখে ড্রয়ারে তালা মেরে দিল। তারপর স্মিথ আর লীর দিকে তাকিয়ে একটু রুক্ষস্বরেই বলল, ‘কী ব্যাপার, আপনারা হঠাৎ এখানে কেন?’

    ‘আরে তোমার চিৎকার শুনেই তো আমরা ছুটে এলাম, মল্কহাউস লী বলল, ‘চারতলার এই ভদ্রলোকটি না এলে তুমি যে কী কাণ্ড করে ফেলতে, ভাবতেও ভয় লাগছে।’ কাকত স্মিথের দিকে তাকিয়ে বেলিংহ্যাম বলল, ‘আপনার নাম অ্যাবারক্রোম্বি স্মিথ, না?’

    উত্তরে স্মিথ একটু হেসে মাথা দোলাল।।

    ‘আপনি যে দয়া করে এসেছেন, তাতে আমি খুব খুশি হয়েছি। মামুলি ধন্যবাদ জানিয়ে আপনাকে ছোট করতে চাই না।’

    একটু চুপ করে থেকে বেলিংহ্যাম বলল, ‘ইস্, কী বোকা! …কী বিরাট মূর্খ আমি! হ্যাঁ… হ্যাঁ… আমি একটা মহামূর্খ!’

    দু’হাতের আঙুল দিয়ে নিজের মাথার চুল খামচে ধরে অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাসল গবেষক বেলিংহ্যাম।

    মল্কহাউস লী বলল, ‘শোনো, বেলিংহ্যাম, তোমাকে আগেও মানা করেছি, আবারও বলছি। গভীর রাতে মমি নিয়ে এসব ঘাঁটাঘাঁটি বন্ধ করো। কে জানে কবে কী অঘটন ঘটে যায়!’

    ‘মি. বেলিংহ্যাম, ওই শুকনো মমিটাকে দেখেই কি আপনি ভয় পেয়েছিলেন?’ স্মিথ প্রশ্ন করল।

    ‘না না তা নয়…তা নয়…’ মাথা ঝাঁকিয়ে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলল বেলিংহ্যাম। তারপর যোগ করল, ‘আসলে কি জানেন, পর পর কয়েক রাত জেগে পড়াশোনা করার জন্য শরীরটা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। মাথাটা ঘুরে উঠল। কী দেখে যে ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলাম বলতে পারব না। এখন বেশ সুস্থ বোধ করছি।’

    ‘এবার তাহলে আমি উঠি,’ স্মিথ বলল।

    ‘না না এক্ষুণি যাবেন না। আর একটু থাকুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাব। তখন যাবেন।’

    স্মিথের মনে হলো বেলিংহ্যাম একলা থাকতে এখনো ভয় পাচ্ছে, তাই ওদেরকে ছাড়তে চাইছে না।

    লী বলল, ‘একী অবস্থা করে রেখেছ ঘরের। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে যাবে। দাঁড়াও আগে জানালাটা খুলে দিই।

    লী জানালাটা খুলতেই ঘরের গুমোট ভাবটা চলে গেল। বাইরে থেকে এক ঝলক মিষ্টি ঠাণ্ডা হাওয়া এসে ঢুকল।

    বলতে বেলিংহ্যাম বলল, ‘দাঁড়ান, আপনাদেরকে একটা আশ্চর্য জিনিস দেখাই। সে উঠে ড্রয়ারের ভিতর থেকে গাছের ছালের মত একটা শুকনো পাতা বের করল। তারপর সেই পাতাটাকে ধরল লণ্ঠনের চিমনির উপর। পাতাটা পুড়ে কালো হয়ে কুঁকড়ে গেল। ধোঁয়ায় ভরে গেল সমস্ত ঘর। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধোঁয়া কেটে গেল। ঘরে রইল দামী ধূপের মত একটি অপূর্ব মিষ্টি সৌরভ।

    স্মিথ আর লী দু’জনেই অবাক। ওদেরকে আশ্চর্য হতে দেখে বেলিংহ্যাম যেন খুশিই হলো। গম্ভীরকণ্ঠে বলল, ‘এটা একটা পবিত্র গাছের পাতা। এ গাছ খুব দুষ্প্রাপ্য। অনেক কষ্টে এ পাতা সংগ্রহ করেছি। এরকম নানান জিনিস আমার কাছে আছে, একদিন সময় করে দেখার আপনাদের। …আচ্ছা, মি. স্মিথ, আমি কতক্ষণ অজ্ঞান ছিলাম?’

    স্মিথ বলল, ‘বেশিক্ষণ নয়। মিনিট পাঁচ-ছয়।’

    ‘আমারও তাই মনে হয়। খুব বেশিক্ষণ অজ্ঞান ছিলাম না আমি। কিন্তু অজ্ঞান হয়ে যাওয়াটা যে কী অদ্ভুত ব্যাপার তা কল্পনাও করতে পারবেন না, মি. স্মিথ। যে লোক চেতনা হারিয়ে ফেলে তার কাছে অচেতন অবস্থাটুকুর সময়ের মাপ থাকে না। সে নিজে বলতে পারে না কতক্ষণের জন্য সে অজ্ঞান হয়ে ছিল। আমি বলতে পারব না কতক্ষণের জন্য অজ্ঞান হয়ে ছিলাম-এক মুহূর্তের জন্য, না একদিনের জন্য, নাকি এক সপ্তাহের জন্য।’

    দম নেবার জন্য একটু থামল বেলিংহ্যাম। তারপর আবার শুরু করল: ‘কাচের কফিনের মধ্যে ওই যে মমিটিকে দেখছেন, উনি হলেন চার হাজার বছর আগের একজন মহামান্য সম্রাট। আজ যদি উনি কথা বলতে পারতেন, তাহলে বোধহয় বলতেন, ‘আমি তো একটু আগেই জেগে ছিলাম। চার হাজার বছর তো আমার কাছে একটা মুহূর্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ …মি. স্মিথ, মমিটা কিন্তু সত্যিই খুব অদ্ভুত, তাই না?’

    কৌতূহলী হয়ে মমিটার দিকে তাকাল স্মিথ। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল ওটাকে। বহুকালের পুরনো একটা দেহ। কালের কবলে পড়ে দেহটা দুমড়ে গিয়েছে। তার ফলে মূর্তিটা ভয়ঙ্করদর্শন হয়ে উঠেছে। চোখের জায়গায় দুটো অন্ধকার গর্ত। কিন্তু সেই গর্ত দুটোর মধ্যে যেন জ্বলছে লালচে আগুন। সেই আগুনের রক্তিম আভা যেন ফিনকি দিয়ে ঠিকরে বেরোচ্ছে বাইরে।

    চামড়া কালো হয়ে হাড়ের সঙ্গে লেগে রয়েছে। মমির মাথার খুলিতে কোঁকড়ানো কালো চুল। একটু ফাঁক হয়ে থাকা ঠোঁটের মধ্যে ছোট ছোট ঝকঝকে সাদা দাঁতের সারি দেখা যাচ্ছে। দাঁতগুলি ছোট এবং তীক্ষ্ণ। মমিটার গলার নিচ থেকে পা পর্যন্ত জড়ানো হলুদ রঙের কাপড় দিয়ে। সেই কাপড় কোন অজানা নির্যাস অথবা আঠার মত জিনিস দিয়ে ভেজানো। মমিটাকে দেখে স্মিথের মোটেই ভাল লাগল না। ওটার ভঙ্গিটাই অদ্ভুত। যেন শিকারি পশুর মতই শিকারের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে রয়েছে। মনে হচ্ছে এক্ষুণি কারো ঘাড়ে লাফিয়ে পড়বে।

    বেলিংহ্যাম বলল, ‘জীবিতকালে এই মমিটার নাম কী ছিল জানি না। নামটি হয়তো ওর মাথায় লেখা ছিল। তবে সে লেখা আমার চোখে পড়েনি। সেটা বোধহয় বহুকাল আগেই হারিয়ে গিয়েছে। এখন মমিটার মাথায় একটা সংখ্যা লেখা আছে। সংখ্যাটা হলো ২৪৯। যে নিলাম থেকে আমি মমিটা কিনেছি, সংখ্যাটা তাদেরই দেয়া।’

    মল্কহাউস লী বলল, ‘লোকটার অদ্ভুত চেহারা আর মোটা মোটা হাড় দেখে মনে হচ্ছে জীবিতকালে ও একটা ছোটখাট দৈত্য ছিল। হয়তো একসময় একা নিজের হাতেই কোন পিরামিড গেঁথে তুলেছিল।’

    ভুল বললে, লী। এটি এক মহামান্য ফারাও-এর মমি। কোন শ্রমিকের মমি নয়, উনি যদি পিরামিড তৈরি করেও থাকেন তবে তা ক্রীতদাসদের দিয়েই করিয়েছেন, নিজের হাতে পাথর সাজিয়ে পিরামিড তোলেননি।’

    মল্কহাউস লী হেসে ফেলে বলল, ‘চার হাজার বছর আগে তো আর পৃথিবীর আলো দেখিনি। তবু যা বলছ হয়তো তা-ই ঠিক।’

    ‘আপনার কি আগের চেয়ে এখন একটু সুস্থ লাগছে, মি. বেলিংহ্যাম?’ স্মিথ প্রশ্ন করল।

    ‘হ্যাঁ, আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছি।’

    ‘তাহলে আমি এখন চলি।

    স্মিথ যাবার জন্য উঠে দাঁড়াল। বেলিংহ্যাম সোফা থেকে উঠে এসে তার হাত ধরে আন্তরিকভাবে বলল, ‘ধন্যবাদ…অশেষ ধন্যবাদ, মি. স্মিথ। আবার দেখা হবে। শুভরাত্রি।’

    বেলিংহ্যাম আর লীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্মিথ উপরে উঠে গেল। নিজের ঘরে গিয়ে সে চিকিৎসাশাস্ত্রের একটা মোটা বই খুলে তাতে মনোনিবেশ করল।

    .

    চার

    সে রাতের ঘটনার পর থেকে মিনার হাউসের দুই বাসিন্দা, এডওয়ার্ড বেলিংহ্যাম আর মল্কহাউস লীর সঙ্গে অ্যাবারক্রোম্বি স্মিথের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। তাদের সম্পর্ক ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’-তে নেমে এল। তবে বেশি খাতির জমল বেলিংহ্যামের সঙ্গে। সে রাতের ঘটনার পর বেলিংহ্যাম স্মিথকে দু’বার ধন্যবাদ জানাতে গিয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে বেলিংহ্যাম একদিন স্মিথকে বলল, ‘তোমার যদি কখনো মনে হয় আমি তোমার কোন কাজে আসতে পারি তাহলে কোনরকম দ্বিধা বা সঙ্কোচ না করে আমাকে বলবে। আমি সাধ্যমত তোমাকে সাহায্য করব।’

    বেলিংহ্যামের আচরণে কিছুটা আপাত রুক্ষতা থাকলেও তাকে খারাপ লোক মনে হলো না স্মিথের। হেস্টি যে কেন ওর উপর বিরূপ তা বুঝতে পারল না স্মিথ। বেলিংহ্যামের চরিত্রের কতগুলি বৈশিষ্ট্য স্মিথকে মুগ্ধ করেছিল। সে অসাধারণ পরিশ্রমী, নানা বিষয়ের ওপর তার প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য, দারুণ তার স্মৃতিশক্তি। বন্ধু হিসেবে সে মোটেই বাজে নয়। তার সঙ্গ স্মিথের খারাপ লাগে না।

    সময়ে-অসময়ে যখন-তখন স্মিথের ঘরে চলে আসে বেলিংহ্যাম। কিছুক্ষণ এটা ওটা নিয়ে কথা বলে। তারপর হঠাৎ উঠে পড়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। লোকটা যে অত্যন্ত খেয়ালী তা বেশ বোঝা যায়। কিন্তু দুনিয়ার সব জ্ঞানই যেন ওর মগজের মধ্যে ঢুকে আছে। এমন কোন বিষয় নেই যা ও জানে না। মাঝে মাঝে কেমন সব অদ্ভুত কথাবার্তা বলে বেলিংহ্যাম। যেমন একদিন বলল, ‘কে কী ভাবছে তা জানাতে পারে এমন কোন যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারলে খুবই মজা হত, তাই না, স্মিথ?’

    কোনদিন হয়তো বলল, ‘পৃথিবীতে নানা রকমের কত রহস্য রয়েছে, কিন্তু আমরা তার কোন খবরই রাখি না। এই আত্মার কথাই ধরো না কেন, ভাল-মন্দ, শুভ-অশুভ আত্মার উপর মানুষ যদি নিজের প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বিস্তার করতে পারত তাহলে বিষয়টা কী রকম হত একবার ভেবে দেখ। তাহলে মানুষের ক্ষমতা খুব বেড়ে যেত। বিশ্বাস করো, স্মিথ, মানুষের মধ্যে সত্যিই অসীম ক্ষমতার সম্ভাবনা রয়েছে।’

    মাঝে মাঝে বেলিংহ্যাম বলে, ‘দু’জন মানুষের যদি একরকম মন হত অথবা একটি মন যদি আরও একটি দুটি মনের উপর আধিপত্য স্থাপন করতে পারত তাহলে কী বিরাট ব্যাপারই না হত!’

    স্মিথের ঘরে এসে এই রকম সব অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে বেলিংহ্যাম। অনেক সময় সে আপন মনেই অনর্গল বকে যায়। স্মিথ চুপচাপ পাইপ টানতে টানতে তার কথা শোনে। মাঝে মাঝে কেবল হুঁ হাঁ, তাই নাকি বলে। সে কখনো বেলিংহ্যামের অদ্ভুত এবং উদ্ভট কথাগুলোকে সমর্থন করে না। আবার সরাসরি বিরোধিতাও করে না। সে বুঝতে পেরেছে বেলিংহ্যাম খুব মেজাজী প্রকৃতির। এরকম লোকের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা খুবই শক্ত। সমর্থন অসমর্থন কিছুই না করলেও বেলিংহ্যামের অদ্ভুত এবং উদ্ভট কথাগুলো শুনতে স্মিথের ভালই লাগে। সে মজাও পায়।

    বেলিংহ্যামের একটা অদ্ভূত অভ্যাস স্মিথ লক্ষ করেছে— সে আপন মনে কথা বলে। স্মিথ নিজে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে পড়াশোনা করে। মাঝে মাঝে নিঝুম রাতে নিচে বেলিংহ্যামের ঘর থেকে চাপাগলার আওয়াজ ভেসে আসে। কার সঙ্গে যেন ফিসফিস করে কথা বলছে বেলিংহ্যাম। কিন্তু এত রাতে তার ঘরে কে আসবে? সমস্ত তল্লাটই তো নিঝুম- নিস্তব্ধ। অনেক ভেবে স্মিথ এই সিদ্ধান্তে এল বেলিংহ্যামের নিশ্চয়ই আপন মনে কথা বলার বদভ্যাস আছে।

    স্মিথের ধারণা যে সত্যি, ক’দিন পরেই প্রমাণ পাওয়া গেল।

    টমাস স্টাইলাস মিনার হাউসের বহুদিনের পুরনো চাকর। এ বাড়ির

    এ বাড়ির বাসিন্দাদের দেখাশোনা করে সে। বার্ধক্যের ছাপ তার দেহে। মাথার চুল ধূসর। লোকটি সহজ- সরল, মুখে হাসিটি লেগেই আছে। মিনার হাউসের বাসিন্দাদের সেবা-যত্নের ত্রুটি করে না সে।

    একদিন সকালে চারতলায় স্মিথের ঘরে এসে একথা সেকথার পর টমাস একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করল। সে জিজ্ঞেস করল, ‘স্যর, মি. বেলিংহ্যামের শরীর ভাল আছে তো?’

    প্রশ্ন শুনে অবাক অ্যাবারক্রোম্বি স্মিথ। টমাসের দিকে তাকিয়ে সে জিজ্ঞেস করল, ‘হঠাৎ এ প্রশ্ন?

    ‘না, মানে আমার মনে হয়…’ কী বলতে গিয়েও টমাস থেমে গেল।

    তার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে স্মিথ বলল, ‘আমি যদ্দূর জানি বেলিংহ্যাম সুস্থই আছে। আমি ডাক্তারীর ছাত্র। অসুস্থ হলে সে নিশ্চয়ই আমাকে বলত।’

    ‘স্যর, বলছিলাম কি…মানে…মি. বেলিংহ্যামের মাথা খারাপ হয়ে যায়নি তো?’ সমস্ত সঙ্কোচ ঝেড়ে ফেলে বুড়ো টমাস প্রশ্নটা করেই ফেলল।

    ‘এরকম চিন্তা তোমার মনে আসার কারণ?’ স্মিথ জিজ্ঞেস করল।

    ‘তাহলে বলি, স্যর। কিছুদিন ধরেই দেখছি মি. বেলিংহ্যাম যেন কেমন পাল্টে গিয়েছেন। গভীর রাতে আপন মনে কথা বলেন। কখনো হাসেন, কখনো বা কাউকে খুব বকাবকি করেন। আপনার ঘর ওঁর কামরার ঠিক উপরে। আপনিও হয়তো কিছু শুনেছেন। এতে নিশ্চয়ই আপনার পড়াশোনার ক্ষতি হয়।

    ‘না না, আমার কোন ক্ষতি হয় না। দুশ্চিন্তা কোরো না। মি. বেলিংহ্যাম সুস্থই আছেন।

    ‘দুশ্চিন্তা করতাম না, স্যর, কিন্তু আরও একটা ব্যাপার আছে,’ ঘর গোছাতে গোছাতে টমাস বলল।

    ‘কী ব্যাপার?’

    ‘কিছু দিন থেকে দেখছি মি. বেলিংহ্যাম যখন ঘরে থাকেন না এবং ঘর যখন বাইরে থেকে তালা বন্ধ থাকে, তখনো কে যেন ঘরের মধ্যে পায়চারি করে। আমি নিজের কানে বন্ধ ঘরে পায়ের শব্দ শুনেছি।’

    ‘বলছ কী তুমি!’ স্মিথের কণ্ঠে বিস্ময়।

    ‘ঠিকই বলছি, স্যর। বুড়ো হতে পারি, কিন্তু এখনো কানে ভালই শুনি।

    একটু থামল টমাস। তারপর বাধো বাধো গলায় বলল, ‘মি. বেলিংহ্যাম এখন ঘরে নেই। এইমাত্র কোথায় যেন বেরিয়ে গেলেন। তাঁর ঘরের সামনে একবার যাবেন, স্যর? দেখি পায়ের শব্দটা এখন শোনা যায় কিনা।’

    টমাসের কথা শুনে স্মিথের কৌতূহল বাড়ল। ‘বেশ, চল।’

    বুড়ো টমাসের পিছু পিছু নিচে নেমে এল স্মিথ। বেলিংহ্যামের ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল দু’জনে। দরজা বন্ধ। একটা বিরাট ভারি তালা ঝুলছে দরজায়। টমাস কান পাতল। কী যেন শুনল। তারপর স্মিথকেও ইশারা করল কান পাতার জন্য। তার ইঙ্গিতে বন্ধ দরজায় কান ঠেকাল স্মিথ।

    কী আশ্চর্য! বন্ধ ঘরের ভিতরে সত্যি পায়ের আওয়াজ! কেউ পা টেনে টেনে হাঁটছে। হ্যাঁ, ঘরের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত কেউ পায়চারি করছে তাতে কোন ভুল নেই। পায়ের শব্দ স্পষ্টই শোনা যাচ্ছে। টমাস ঠিক কথাই বলেছে।

    বিমূঢ় দৃষ্টিতে টমাসের দিকে তাকাল স্মিথ। একটু পরে বেলিংহ্যামের ঘরের সামনে থেকে দু’জনেই চলে এল।

    স্মিথের সঙ্গে তার ঘরে এল টমাস। ঘরের দরজা বন্ধ করে স্মিথ জিজ্ঞেস করল, ‘কবে তুমি প্রথম বন্ধ ঘরে পায়ের শব্দ শুনেছ, টমাস?’

    ‘দু’দিন আগে রাতের বেলা আপনার ঘরে খাবার দিতে আসার সময় আমি প্রথম পায়ের শব্দটা শুনতে পাই। মনে হয়েছিল, কেউ অস্থিরভাবে ঘরের মধ্যে চলাফেরা করছে। সিঁড়ি থেকেই আমি জিজ্ঞেস করি, ‘কে?’ কেউ সাড়া দেয় না। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার, আমার গলার আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গেই পায়চারির শব্দটা থেমে যায়। স্যর, মি. বেলিংহ্যামের ঘরে নিশ্চয়ই আরও লোক আছে। এ নিয়ে একটু খোঁজ-খবর করা দরকার।

    স্মিথের কপালে চিন্তার রেখা ফুটল। সে বলল, ‘ঠিক আছে, টমাস। তুমি এ নিয়ে কারো সঙ্গে কোন কথা বলতে যেয়ো না। ব্যাপারটা আপাতত গোপনই থাক। বিষয়টি নিয়ে আমি একটু চিন্তা করে দেখি। দরকার পড়লে আমি নিজেই তোমাকে জানাব-তোমার সাহায্য নেব।’

    ‘ঠিক আছে, স্যর। দরকার পড়লেই আমাকে বলবেন। এখন তবে আসি।’

    ‘এসো।’

    বুড়ো টমাস বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচণ্ডরাজার বলি – সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    Next Article তিমির প্রেম – রকিব হাসান
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }