প্রতিহিংসা – অনীশ দাস অপু
প্রতিহিংসা
স্কুনার মারিয়ান-এর নিচু ছাতের তলে সরু কাঁধ জোড়া কুঁজো করে দাঁড়িয়ে আছে হেনরি ক্যাবট ওয়েড। অভিজাত তর্জনীটি ইঙ্গিত করছে তার হাতের নিচে রাখা জরাজীর্ণ চার্টের গায়ে একটি ছোট কালো ক্রস চিহ্নের দিকে। ওয়েড বংশের শেষ বংশধর হেনরি ক্যাবট ওয়েড। পূর্বপুরুষদের মত ধনী সে নয়, কারণ পারিবারিক ধনসম্পদ সবই আশ্রয় নিয়েছে পানিতে, জাহাজডুবিতে।
‘আমার মনে হচ্ছে এটাই সেই জায়গা, ক্যাপ্টেন ম্যানলি, ‘ ওয়েডের গলার স্বর ক্যানকেনে, নিউ ইংল্যাণ্ডবাসীদের মত, যেন ঠাণ্ডা বাতাসের কামড় খেয়ে কাহিল হয়ে পড়েছে।
সায় দেয়ার ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালেন জেরেমিয়া ম্যানলি। তিনি টেনেটেনে খোনা সুরে প্রত্যুত্তর দিলেন। ‘জি। চার্টের দুটো দ্বীপ সেটাই সন্দেহাতীতভাবে ইঙ্গিত করছে। দুই দ্বীপের মাঝখানের চ্যানেলে পানির গভীরতা ছয় ফ্যাদম হবে।’
নিরানন্দ হাসি ফুটল ওয়েডের মুখে।
‘আজ বোধহয় আর সার্চ করা যাচ্ছে না।’
‘ঠিকই বলেছেন। সূর্যের আলো কমে যাচ্ছে। রাতে নোঙর করে রাখব জাহাজ। কাল সকাল দশটা নাগাদ শুরু করে দেব কাজ।’
ওয়েডের মাপা হাসি একটু প্রসারিত হলো মাত্র।
‘তলদেশে কাচ লাগানো ওই বোটের সাহায্যে জলদিই ফল পাওয়া যাবে। চ্যানেলটা বেশি চওড়াও নয়।’ সে চোখ কুঁচকে তাকাল চার্টে। ‘ভাবছি ওখানে কী পাব? কালো, সোনা! আমার শ্রদ্ধেয় পূর্বপুরুষ বিষয়টি কাগজে উল্লেখ করতে কতই না গোপনীয়তা অবলম্বন করেছেন! দশ টন কালো সোনা! আর এ চার্টখানা তিনি সযত্নে তাঁর ব্যক্তিগত সিন্দুকের তলায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু কালো সোনাটা কী জিনিস?’
ওরা দু’জনেই স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল চার্টের দিকে।
বিষয়টিকে প্রহেলিকাময়ই বলা চলে-ওই কালো ক্রসটা একটা চ্যানেল বা প্রণালীকে নির্দেশ করছে। চ্যানেলটির অবস্থান দুটো ছোট দ্বীপের মাঝখানে। তবে বহু বছরের পুরনো চার্টে লেখা অসংলগ্ন মেসেজ এটিকে আরও বেশি দুর্বোধ্য করে তুলেছে:
এখানে, ছয় ফ্যাদম নিচে শুয়ে আছে দশ টন কালো সোনা। আমি এখন জানি কোন্ অপরাধে আমি অভিশাপগ্রস্ত। ঈশ্বর যেন আমার আত্মাকে দয়া করেন!
খুক করে কেশে গলা পরিষ্কার করে নিলেন ক্যাপ্টেন ম্যানলি।
‘অনুমান করছি আপনি হয়তো জানেন আপনার পূর্বপুরুষ ইবেনেযার ওয়েড কীভাবে ধনসম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন?’
তাঁর প্রভুর ঠোঁট বেঁকে গেল পাতলা হাসির ভঙ্গিতে।
‘জানি, ক্যাপ্টেন,’ বলল সে, তবে কণ্ঠে মোটেই বাজল না ক্ষমাপ্রার্থনার সুর। ‘তিনি ক্রীতদাসের ব্যবসা করতেন। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে ওদেরকে কিনে নিয়ে সাভান্না এবং নিউ অর্লিন্সে বিক্রি করে দিতেন। প্রচুর টাকা পেতেন তিনি। আমরা ওয়েডরা, স্টক মার্কেটে ধস নামার আগ পর্যন্ত সবসময়ই অর্থ কামাই করেছি। ইণ্ডিয়ানদের কাছ থেকে ফার ক্রয়, লোন ব্যাঙ্ক চালানো, স্টক মার্কেটে অর্থ লগ্নি—সবকিছুতেই আমাদের ভূমিকা ছিল শোষকের। আমি আমাদের পরিবারের বুর্জোয়া মনোভাবের বিষয়ে খুব ভালভাবে অবগত, ক্যাপ্টেন ম্যানলি। তবে এ নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তার কিছু নেই। উন্নতি করা বা এগিয়ে যাওয়ার এটাই একমাত্র পথ।’
ক্যাপ্টেন ম্যানলির চোখ সেঁটে আছে চার্টের ওপর।
‘হয়তো,’ শুকনো গলায় বললেন তিনি। ‘অনেক বড়- বড় লোকই হয়তো আপনার সঙ্গে একমত হবেন। তবে এ কথাটি ছাড়ন, মি. ওয়েড। আপনি কি সেই পুরনো গল্পটা কখনো শুনেছেন যে আপনার প্রপিতামহ একবার নাকি জাহাজ বোঝাই নিগ্রো ক্রীতদাসকে সাগরে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন-একটি রণতরী তাঁকে ধাওয়া করার পরে? তারপরে তিনি আর সমুদ্রযাত্রা করেননি?’
বিদ্রূপের হাসি হাসল শুধু ওয়েড। কিছু বলল না।
ক্যাপ্টেন ম্যানলি তাঁর ধূসর দাড়িতে হাত বুলালেন। চার্টে চোখ রেখে বললেন, ‘এটি একটি সরু এবং অগভীর চ্যানেল, মি. ওয়েড। একটি হালকা জাহাজকে যদি ধাওয়া করা হয় এবং সে এখানে এসে ঢোকে তাহলে বড় আকারের কোন রণতরীর পক্ষে এ চ্যানেলের মধ্যে প্রবেশের অবকাশই নেই। ওই ফাঁকে জাহাজ বোঝাই মাল খালাস করা কঠিন কোন কাজ নয়। নিগ্রোরা খালাস হয়েছিল এমন কোন প্রমাণও মেলে না।’
এক মুহূর্তের জন্য কেবিনের বাতাস যেন স্থির হয়ে রইল। তারপর ক্ষীণ হাসল ওয়েড।
‘আপনি কি বলতে চাইছেন আমার একজন পূর্বপুরুষ এতটাই বোকা ছিলেন যে তিনি একটি চার্ট এঁকে দেখিয়ে গেছেন এক জাহাজ বোঝাই নিগ্রোকে তিনি সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিলেন?’ খেঁকিয়ে উঠল সে। ‘আপনি ওয়েডদেরকে চেনেন না।’
ক্যাপ্টেন ম্যানলির চাউনি নিবদ্ধ হলো তাঁর মালিকের নিখুঁত চেহারার ওপর
‘কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না আরেকজন মানুষ কী করবে,’ তিনি শান্ত গলায় বললেন।
কর্কশ গলায় হেসে উঠল ওয়েড।
‘আমরা ওয়েডরা মানুষ নই-বড়-বড় লোকেরা তাই বলে গেছেন। আমি ডেকে গেলাম ইভলিনের সঙ্গে দেখা করতে।’
প্রভু কম্প্যানিয়নওয়ে ধরে চলে গেলে ক্যাপ্টেন ম্যানলি গোল করে গুটিয়ে নিলেন চার্ট।
.
‘থ্যাঙ্ক হেভেন, লিওনা ফুপু অবশেষে ঘুমাতে গেল!’
ইভলিন ফেলপসের পরিষ্কার, হালকা ধাতব কণ্ঠে উচ্চারিত হলো শব্দগুলো। সে হেনরি ক্যাবট ওয়েডের বাগদত্তা। ইভলিন ডেক চেয়ারটি ওয়েডের কাছে টেনে এনে হাসতে-হাসতে ওর ডান হাতখানা তুলে নিল নিজের কাঁধে কাছের উপসাগর থেকে মৃদু মন্দ হাওয়া বইছে। মাথার ওপর কমলালেবু সাইজের চাঁদ।
মুচকি হাসল হেনরি ক্যাবট ওয়েড।
‘বয়স্কা মহিলারাও এমন রাতে মাতাল হয়ে উঠতে পারে।
ফোঁস করে শ্বাস ফেলল মেয়েটা। ‘খুব সুন্দর না? বস্টনকে মনে হচ্ছে বহু দূরে-আর টাকা-পয়সার কথা মাথাতেই আনা উচিত নয়।’
ওয়েডদের পারিবারিক অর্থ সঙ্কটের কথা মনে পড়তে দু’জনেই চুপ করে গেল। ওদের চেয়ে ভাল আর কেউ জানে না যদি কালো সোনা উদ্ধারের এ মিশন ব্যর্থ হয় তাহলে ইভলিনকে আর বিয়ে করতে পারবে না ওয়েড। ইভলিনের পরিবারই রাজি হবে না তার হাতে তাদের আদরের মেয়েকে তুলে দিতে।
‘আমরা ওটা উদ্ধার করবই,’ প্রেমিকাকে আশ্বস্ত করতে চাইল ওয়েড। ‘এই ছাতার চ্যানেলের প্রতিটি ইঞ্চিও যদি তন্নতন্ন করে খুঁজতে হয় তবু খুঁজব। আমরা পৃথিবীর সেরা ডুবুরিকে ভাড়া করে এনেছি। প্রচুর পরিমাণে ডিনামাইট এনেছি যা দিয়ে গোটা একটা শহর-’
ঘুরল ইভলিন। চুমু খেল ওয়েডের গালে। তারপর ঠোঁটে। এরপর ওরা উন্মত্ত প্রেমে মেতে উঠল ডেকের ওপর।
হঠাৎ খাড়া হয়ে বসল ওয়েড।
‘ওদিকে দেখো,’ সামনে আঙুল তুলে তীব্র গলায় বলল সে। তারপর হতভম্বের মত মাথা নাড়ল। ‘নাহ্, চলে গেল। তুমি দেখেছ ওটাকে?’
‘কী দেখব?’ ঘুম-ঘুম তৃপ্ত গলায় জিজ্ঞেস করল ইভলিন। ‘আমি কিছু দেখিনি।’
বিমূঢ় ওয়েড বিড়বিড় করে বলল, ‘মনে হলো যেন দেখলাম এক মুহূর্তের জন্য রেইল ধরে উঁকি দিয়েছে একটা মাথা। একটা কালো বুদ্বুদের মত জিনিস। হয়তো চোখে ভুল দেখেছি আমি।’ কাঁধ ঝাঁকাল সে। ইভলিনকে টেনে নিল কাছে’। তারপর আবার ওকে আদর করতে লাগল।
হঠাৎ ওকে ছেড়ে দিল ওয়েড। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল পেছন দিকে। একটা খসখস আওয়াজ শুনতে পেয়েছে। পরক্ষণে গলা চিরে বেরিয়ে এল তীক্ষ্ণ আর্তচিৎকার। ঝট করে দাঁড়িয়ে গেল সে। খড়িকাঠের মত ফ্যাকাসে মুখ। চোখে নির্জলা আতঙ্ক।
‘ভাগো, ইভলিন, ভাগো!’ সে শূন্যে কাকে যেন এলোপাতাড়ি ঘুসি মারতে লাগল।
ইভলিন হাঁচড়ে-পাঁচড়ে উঠে দাঁড়াল। এক কদম এগিয়ে গেল ওয়েডের দিকে। কিন্তু ওয়েড তাকে হাত নেড়ে পিছিয়ে যেতে নির্দেশ দিল। ‘ভাগো! দৌড়াও! ক্যাপ্টেন ম্যানলিকে খবর দাও—আমি যতক্ষণ পারি ওদেরকে ঠেকিয়ে রাখছি।’
অবশেষে রা ফিরে পেল হতবুদ্ধি ইভলিন। ‘হেনরি ক্যাবট ওয়েড,’ কঠিন গলায় বলল সে। ‘তুমি কি পাগল হয়ে গেলে? নাকি মজা করছ?’
কিন্তু ইভলিনের কথা ওয়েড শুনতে পেয়েছে বলে মনে হলো না। হঠাৎ ইভলিনের শরীর শিরশির করে উঠল।
ওয়েড ডান হাতে ঘুসি মারছিল, অকস্মাৎ থেমে গেল, যদিও যাকে আঘাত করছে ইভলিন তাকে দেখতে পাচ্ছে না। এক পা করে পিছু হটছে ওয়েড। পিছিয়ে যাচ্ছে রেইলের দিকে।
ইভলিন এখন ওয়েডের মুখের অর্ধেকটা দেখতে পাচ্ছে। ওর দিকে ঘোরানো। সেখানে মজা করার কোন চিহ্ন নেই। চেহারায় ফুটে আছে প্রচণ্ড ভয়। তবে এখনো সে শূন্যে ঘুসি মেরে চলেছে এবং ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে অদৃশ্য হাতের মারও ঠেকাচ্ছে। সেইসঙ্গে অবিরাম চিৎকার চলছে: ‘ভাগো, ইভলিন, ভাগো! ফর গড’স সেক, সাহায্য নিয়ে এসো। ওরা রেইল বেয়ে উঠে আসছে। অসংখ্যজন। আমি ওদের সঙ্গে পেরে উঠছি না। বিশালদেহী নিগ্রো, গায়ে জংধরা শিকল-আহহ!’
গুঙিয়ে উঠে থেমে গেল ওয়েড। গলায় উঠে এসেছে হাত। যেন ওর গলা চেপে ধরেছে কেউ।
পুতুলনাচের পুতুলের মত অদৃশ্য রশিতে যেন বাঁধা হয়েছে ওয়েডকে, টেনে নিয়ে যাচ্ছে পেছন দিকে, ওর শরীরটা শূন্যে উঠে গেল, রেইলের ওপরে ঝুলে থাকল কয়েক সেকেণ্ড, তারপর গায়েব হয়ে গেল চোখের সামনে থেকে। জাহাজের নিচ থেকে ভেসে এল ঝপাস শব্দ…
নিজের গলার স্বর ফিরে পেল ইভলিন। উন্মাদের মত আবোল-তাবোল বকছে। একটার পর একটা ভয় আর আতঙ্কের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে শরীর বেয়ে। কোন মানুষের পক্ষে ওভাবে রেইলের ওপর উঠে গিয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য শূন্যে ভেসে থাকা সম্ভব নয়। চন্দ্রালোকিত ডেকে এখন ইভলিন ছাড়া আর কেউ নেই …
.
ক্যাপ্টেন জেরেমিয়া ম্যানলি মারিয়ান-এর রেইলে দাঁড়িয়ে আছেন। কানে ইয়ারফোন, তাকিয়ে আছেন নিচের ধূসর, প্রায় নিস্তরঙ্গ চ্যানেলের দিকে। ভোরবেলার সূর্যের আলোয় তাঁর চেহারাটি দেখাচ্ছে বিবর্ণ, ত্রিশ ফুট নিচে ডুবুরির সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলার সময় বারবার তাঁর গলা কাঁপল।
পাম্পের ছন্দায়িত আওয়াজ আর নিজের বিড়বিড়ানি ছাড়া মারিয়ান-এর ডেকে আর কোন শব্দ নেই। ইভলিন ফেলপস নিচের কেবিনে। নিদ্রিত। তার ফুপু তাকে মরফিন ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে। জাহাজের যে তিনজন ক্রু ডেকে রয়েছে তারা কোন সাড়াশব্দ করছে না।
ডুবুরির ধাতব কণ্ঠ ভেসে এল ইয়ারফোনে।
‘ঠিক আছে। আগে ওটাকে টেনে তুলুন। তারপর আমাকে তুলবেন। আমার ভয় লাগছে এখানে।’
আধ মিনিট বাদে রশিতে বাঁধা হেনরি ক্যাবট ওয়েডের লাশ টেনে তোলা হলো। ক্রুরা লাশটি নিঃশব্দে নামিয়ে রাখল ডেকের ওপর। ঢেকে দিল তারপুলিনে।
এরপর উঠে এল ডুবুরি। পরনে হেভিসুট এবং হেলমেট। জাহাজীরা তাকে পোশাক খুলতে সাহায্য করল। ক্যাপ্টেন ম্যানলি কান থেকে ইয়ারফোন খুলে নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। পাম্পের শব্দ বন্ধ হয়ে গেল।
ডুবুরি পোশাক খুলে ডেকে রাখল। তাকাল ক্যাপ্টেন ম্যানলির দিকে। ক্যাপ্টেন লক্ষ করলেন ডুবুরির চোখের তারা বিস্ফারিত হয়ে আছে। হঠাৎ কাঁপতে শুরু করল লোকটি। এখন সে নিরাপদ জায়গায় আছে। তবু ভয় পাচ্ছে।
যখন কথা বুলল, ব্যাঙের ডাক যেন বেরুল গলা দিয়ে।
‘ওখানে দেখেছি ওদেরকে, ডজন ডজন-ব্যারাকুডা আর হাঙরের দল মাংস খেয়ে শুধু কঙ্কালটা রেখে গেছে-সবার হাতে-পায়ে শিকল পরানো। শিকলের শেষ মাথায় কমপক্ষে আধ টন ওজনের লোহা জড়ানো।’
ক্যাপ্টেন ম্যানলির ঠোঁট নড়ে উঠল, তবে কথাগুলো বোঝা গেল না মোটেই। দুর্বোধ্য বিড়বিড়ানি। ডুবুরি পাম্পের পাশে ধপ করে বসে পড়ল। সে তারপুলিনে ঢেকে রাখা লাশটার দিকে তাকাল না পর্যন্ত।
ওদেরকে দেখেছি জড়াজড়ি করে পড়ে থাকতে। কমপক্ষে কুড়ি-পঁচিশটা কঙ্কাল ওর গায়ের ওপর স্তূপ হয়ে পড়ে ছিল। আমি কঙ্কালগুলোর শরীর স্পর্শ করতেই স্তূপটা ছড়িয়ে যায়।
‘ওদের মধ্যে একজন, স্তূপের নিচের জন, ওয়েডের গলা টিপে ধরে রেখেছিল কঙ্কাল হাত দিয়ে। গলা থেকে আঙুলগুলো ছাড়াতে আমাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আঙুল ভেঙে ফেলতে হয়েছে। আর ওই কঙ্কালের ভাঙা মুঠোয় আমি এ জিনিসটি পেয়েছি।’
সে অদ্ভুত দর্শন একটি অলঙ্কার এগিয়ে দিল ক্যাপ্টেন ম্যানলির দিকে। দু’জনেই নীরবে তাকিয়ে রইল বস্তুটির দিকে।
এটি বিরাট-বিরাট দাঁত দিয়ে তৈরি একটি নেকলেস। নেকলেসটি বিচিত্রভাবে অলঙ্কৃত এবং সরু সোনার সুতো দিয়ে বাঁধা দাঁতগুলো।
কেশে গলা পরিষ্কার করে নিলেন ম্যানলি। তাঁর গলাটা হঠাৎই শুকিয়ে গেছে।
‘গড!’ বললেন তিনি। তারপর ধীরে-ধীরে বলতে লাগলেন, ‘এ লোক নিশ্চয়ই ওঝা বা শামান ছিল। আমি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকায় এদের নিয়ে লেখা পড়েছি। এ নির্ঘাত ওয়েড বংশকে অভিশাপ দিয়েছিল!’
