ডাইনি – ৩০
ত্রিশ
ডাক্তার প্রায় প্রতিদিনই আমাকে দেখতে এলেন। তাঁকে কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করলাম না আমি। নিজেকে পরিচয় দিলেন ডা. স্টাফোর্ড বলে। প্রায়ই বড় বড়, অপরিষ্কার দাঁত বের করে হাসেন। তার কব্জি মোটা মোটা, রোমশ। আঙুলে তিনটি আংটি পরে আছেন। আমার ধারণা ইনি একজন অসুখী মানুষ।
সিটিংরুম নামে একটি কক্ষে তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। বিশ্রী রুম। ওই ঘরে ঢোকার পরে কোয়েন্টিস স্লিপের আমাদের পলিশ করা কাঠের চকচকে মেঝে আর জটিল নকশা করা কার্পেটের কথা মনে হতে থাকে আমার। আমার নতুন রুমটির সবকিছুই প্লাস্টিক অথবা ধাতব দিয়ে নির্মিত। কোনটিই অলঙ্কৃত নয়। এমনকী যেসব মানুষ আমাকে এসে প্রশ্ন করে কিংবা আমার জন্য খাবার নিয়ে আসে, তাদেরও পরনে থাকে একেবারে সাদামাটা পোশাক। সে পোশাকের রং সাদা কিংবা সবুজ। আমাকে এখানে আয়না দেখতে দেয়া হয় না।
আমি একবার ডা. স্টাফোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, আমি আপনাদেরকে যেসব কথা বলেছিলাম সেসবই তাঁকে বয়ান করেছি। তিনি গম্ভীর মুখে, মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনেছেন, তাঁর চোখ আমার দিকে নয়, নিবদ্ধ ছিল হলুদ কাগজের প্যাডে। ওতে তিনি সবুজ একটি কলম দিয়ে লিখছিলেন। আমার কথা তিনি বিশ্বাস করেননি বলে বিস্মিত হইনি। আমার ধারণা তাঁকে বেতন দেয়া হয় এজন্য যে সবাইকে তিনি যাতে বোঝানোর চেষ্টা করেন সকলেই তাঁর মত সাধারণ মানুষ।
আমার বাবা-মা’র মৃত্যুর পরে আমার জীবনে যা ঘটেছে আমি তার ভুল ব্যাখ্যা করেছি বলে ডাক্তারের ধারণা। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলার সময় ‘সত্য’ নিয়ে কথা বলেন।
ডা. স্টাফোর্ড আমার সঙ্গে খুব কমই কথা বলেছেন। কথা বলার সময় তাঁর গলা স্বর থাকে শান্ত তবে একটু আড়ষ্ট, এবং সবুজ ফাউন্টেন পেনের গায়ে আঙুল বুলাতে বুলাতে তিনি কথা বলেন।
তিনি সবসময়ই উপসংহারে এ কথাটি বলার চেষ্টা করেন যে পরিবারের সকলেই আমাকে ভালবাসে। জেমস বেপরোয়ার মত যেসব কাজ করেছে আমাকে কাছে পাবার জন্য যেমন, আমার বাবা-মাকে হত্যা কিংবা দাদীমাকে খুন, এসবই নাকি. স্রেফ আমার মনের কল্পনা। আমি এরকমটি বিশ্বাস করতে চাই বলেই করছি। দৃশ্যত যারা জড়িত তারা অতিপ্রাকৃত ঘটনার চেয়ে ব্যাখ্যা করা যায় এমন কিছুতেই বরং বিশ্বাসী। তারা ডাইনিটাইনি বিশ্বাস করে না।
যেমন, মি. হিউবার্ট দাবি করেন জেমস আমার বাবা- মাকে হয় ডুবিয়ে মেরেছে কিংবা তাদেরকে ডুবে মরার হাত থেকে রক্ষা করেনি। মি. হ্যামিলটন বলছেন তিনি নাকি দেখেছেন জেমস সে রাতে দাদীমার লাশ বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে তার গাড়ির ট্রাঙ্কে ঢুকিয়ে ফেলে।
এরা দু’জনেই প্রথম দিকে নীরব ছিলেন কারণ উভয়েই জেমসকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন তাকে তাঁদের সন্তান ভেবে। ধারণা করা হয়, জেমস দাদীমাকে পরদিন লেক জর্জের তীরে কবর দিয়েছে। যদিও দাদীমার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই বলে ওদের বিশ্বাস টসকে যায়নি। ওঁরা হয়তো জেমস এবং দাদীমার ব্যাপারে ঠিক কথাই বলেছেন কিন্তু আমি ঠিক মেনে নিতে পারিনি।
ডা. স্টাফোর্ডের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করা গিয়েছিল তিনি তাই করেছেন। তিনি পরিস্থিতির একটি জটিল তবে গতানুগতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা আমার মোটেই মনঃপূত হয়নি। মনে হলো অপরাধের কনসেপ্ট নিয়ে তাঁর একটি মুগ্ধতা রয়েছে। তিনি আমাকে বিশ্বাস করাতে চেয়েছেন, যেহেতু আমি আমার বাবা-মাকে ভালবাসতাম না তাই তাদের মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী মনে করে নিজেকে শাস্তি দিতে চেয়েছি এবং ফ্রান্সিস ও তার শক্তিকে দায়ী হিসেবে কল্পনা করেছি।
ডাক্তার ভাল-মন্দ নিয়ে কিন্তু কিছু বললেন না। বললে তাঁর কথা আমার কাছে অনেকটাই গ্রহণযোগ্য মনে হত। তিনি আমার কাছ থেকে সে জিনিসটিই আশা করেছেন যা শত শত বছর আগে ভণ্ড লোকেরা প্রত্যাশা করত: স্বীকারোক্তি এবং বিশ্বাস পরিহার।
আমার দৃঢ়সঙ্কল্পবদ্ধ মন বোধহয় তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়েছিল। আর তা না হলেও একটি বিষয় ছিল যেটি ঘটবে বলে তিনি অনুমানই করেননি। তা হলো আমি মা হতে চলেছি।
মা হওয়া নিয়ে খুব বেশি কিছু ভাবিনি আমি। প্রথমে এই বলে সান্ত্বনা পেয়েছি আমার কাছ থেকে যে শক্তি কেড়ে নেয়া হয়েছে তা হয়তো হারিয়ে যাবে না, আমার সন্তানের মধ্যে বেঁচে থাকবে।
তবে এ চিন্তা আমাকে খুব বেশি স্বস্তি দেয়নি। আমার ধারণা বেশিরভাগ বাবা-মা তাদের সন্তানকে আশীর্বাদ বলে মনে করে। যেকোনভাবেই হোক তাদেরকে তাদের ব্যর্থতা থেকে বিমুক্ত করবে। তবে আমার জন্য এটি যথেষ্ট নয়। আমি শীঘ্রি উপলব্ধি করলাম আমার কাছে এ দৃশ্য অসহ্যই লাগবে যে আমার কাছে যে শক্তি নেই তা আমার সন্তান ধারণ করে আছে।
আমাকে ওই শক্তিটি ফিরে পেতেই হবে।
.
একত্রিশ
ডাক্তার শীঘ্রি আবিষ্কার করলেন যে আমি প্রেগনেন্ট। তারপর থেকে তিনি আমার দিকে তাকিয়ে অবিরত হেসেই যাচ্ছেন। কিন্তু আমি এখনো তাঁর সঙ্গে কথা বলিনি।
তিনি ক্যাথেরিনকে নিয়ে এলেন আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য। আমি কোয়েন্টিস স্লিপ থেকে আসার পরে দু’একবার আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল ক্যাথেরিন। কিন্তু ওর সঙ্গ আমার ভাল লাগেনি। সে নীরস চেহারা নিয়ে প্লাস্টিকের মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকত। শুধু মিস বার্টনের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা উঠলে ভঙ্গ হত নীরবতা। মিস বার্টন মাঝে মাঝে ফোন করে। তবে বলে না কোথায় সে আছে।
আমি কল্পনায় দেখি মিস বার্টন একটি ভাড়া বাড়িতে আছে, দাগটাগ পড়া ম্যাট্রেসে একাকী শুয়ে তাকিয়ে রয়েছে ছাদের দিকে, লকেটটি তার ঢিলা দুই বুকের মাঝখানে পড়ে আছে। সে হয়তো ভাবছে আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেও সে কেন তেমন খুশি হতে পারছে না।
মিস বার্টন তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত কিনা কে জানে। তবে আমি নিশ্চিত একদিন সে ঠিকই অনুতাপ বোধ করবে। এবং সেটা গভীরভাবে অনুভব করবে।
আমি মা হতে চলেছি জানার পরে ক্যাথেরিনের আচরণে একটি পরিবর্তন লক্ষ করলাম। মনে হলো প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কথা বলছে। তারপর দেখি সে ডাক্তারের মতই হাসছে।
একদিন ক্যাথেরিন আর আমি মুখোমুখি বসে আছি। আমি মুখ তুলে ওর দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকালাম। কেমন বোকার মত হাসল ক্যাথেরিন। আমি সিধে হলাম, হেঁটে ওর চেয়ারের কাছে গেলাম। ওর চুল ধরে মাথাটা টেনে নিয়ে এলাম আমার পেটের ওপর।
‘আমার মেয়ের হৃৎস্পন্দন শুনতে পাচ্ছ?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি।
আমার শরীরের সঙ্গে চেপে থাকা ক্যাথেরিনের মাথাটি কেঁপে উঠল। সে হাত তুলে আমার পাছা খামচে ধরল। তার নখ বসে গেল নরম মাংসে।
‘ওহ্, মাই ডার্লিং,’ বলল সে, ‘তুমি আমাদের কাছে ফিরে এসেছ।’
‘হ্যাঁ,’ বললাম আমি।
আমার রোবের সামনের অংশটি ভিজে গেল ক্যাথেরিনের চোখের জলে।
.
ক্যাথেরিন এখন আমাকে দিনে দুইবার করে দেখতে আসে। হয়তো এ আশায় আবার আমার পেটে তার গাল ঠেসে ধরতে পারবে। কিন্তু আমি তাকে সে সুযোগ আর দিলাম না।
.
বত্রিশ
তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে, এলিজাবেথ।’
আমি এবং ক্যাথেরিন কোয়েন্টিস স্লিপের বাড়িতে দাঁড়িয়ে আছি। হালকা বৃষ্টি পড়ছে, বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাচ্ছে কিছুক্ষণ আগে ঝরে পড়া তুষার।
‘সারপ্রাইজ?’
দরজা খুলে গেল। প্রবেশ কক্ষের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে টেলর দম্পতি।
মি. টেলর বলল, ‘ওয়েলকাম হোম, মিস এলিজাবেথ।’ তার এবং তার স্ত্রী দু’জনের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি: ভয় এবং কৌতূহলের মিশ্রণ।
আমি হেসে ওদেরকে পাশ কাটালাম। চলে গেলাম ফুল লেংথ আয়নাটির দিকে। ওটি হল ক্লজিট ডোরের সঙ্গে লাগানো। বাড়ি ফিরে বেশ ভাল লাগছে আমার।
একটি কণ্ঠ শুনতে পেলাম তবে চিনতে পারলাম না। ‘হ্যালো, এলিজাবেথ।’ আয়নায় আমার কাঁধের পেছনে দেখতে পাচ্ছি কিথকে। তার কণ্ঠ আগের চেয়ে ভারি এবং দৃঢ় শোনালেও আচার আচরণ বদলেছে সামান্যই। তাকে দেখতে লাগছে সেই লোকটির মত যে মাত্রই নিজের সম্পর্কে অপ্রীতিকর কিছু আবিষ্কার করেছে এবং সেটি কাউকে বলবার জন্য উসখুস করছে মন।’
‘হ্যালো, কিথ,’ বললাম আমি, ‘তোমার সঙ্গে একটু পরেই কথা বলব আমি।’
ক্যাথেরিন আমার হাত ধরে নিয়ে চলল, ‘তোমার সারপ্রাইজটি রয়েছে স্টাডি রুমে,’ বলল সে, ‘তুমি একা যাও।’
আমি স্টাডির দিকে পা বাড়ালাম। দরজা বন্ধ। খোলার আগে এক মুহূর্ত দ্বিধা করলাম। ক্যাথেরিনের মত তার সারপ্রাইজটি আমাকেও আনন্দ দেবে কিনা বুঝতে পারছি না। হাতল ঘুরিয়ে খুলে ফেললাম দরজা।
ঘরের মাঝখানে বসে আছে মিস বার্টন। সে আমার দিকে তাকিয়ে তার ডান হাতখানা উঁচু করল, তারপর ধীরে ধীরে খুলল মুঠো। হাতের তালুতে সেই লকেটটি যেটি সে আমার কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছিল।
‘আমি তোমাকে এটা ফেরত দিতে এসেছি,’ বলল সে।
‘কেন?’
‘কারণ আমার শান্তি লাগছিল না।’
‘তুমি সবসময়ই অসুখী ছিলে,’ বললাম আমি।
‘সবসময় নয়,’ সে লকেটটি আমার দিকে বাড়িয়ে ধরল। ‘তুমি এটা নেবে?’
‘আমাকে পরিয়ে দাও,’ বলে গায়ের কোট খুলে ফেললাম, ওর দিকে পেছন ফিরলাম। মিস বার্টন আমার পেছনে যদিও আমার সামনের আয়নায় তার কোন প্রতিফলন নেই। তার গরম নিঃশ্বাস পড়ছে আমার ঘাড়ে, তার হাত কাঁপছে। লকেটের ক্ল্যাসপ লাগানোর সময় সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। আমি তার ফোঁপানি অগ্রাহ্য করলাম। আমি আরেকটি আবছা শব্দ শুনছি উৎকর্ণ হয়ে। ওটা একটা ফিসফিস:
‘আমার খরগোশ, আমার মিষ্টি।’
ক্রমে ফ্রান্সিসের অবয়ব ফুটতে লাগল আয়নায়। তাকে এত সুন্দরী আর কোনদিন লাগেনি।
‘আমাকে ছেড়ে আর কখনো যাবে না,’ বললাম আমি।
‘না, সোনা, যাব না। আমরা এখন নিরাপদ।’
আমরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ হাসাহাসি করলাম। শেষে ফ্রান্সিস বলল, ‘আমি আবার ফিরে আসব। তুমি এখন ওটার সঙ্গে কথা বলতে পার,’ তার ছবি মুছে গেল, আমি আবার যেন ফিরে পেলাম সংবিৎ। মিস বার্টনের ফোঁপানির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠলাম। তাকে ধরে সোফায় বসিয়ে দিলাম। ওর কান্না বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বসে রইলাম চুপচাপ।
‘এখন কী?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি তাকে।
‘আমি কি তোমার সঙ্গে থাকতে পারি? তোমার সন্তানের দেখভাল করব।’
‘তুমি আমার কাছ থেকে সম্মতি না পাওয়াতক এসব কথা বলে লাভ নেই।’
‘তুমি আমার অনুমতি পেয়ে গেছ, এলিজাবেথ। আমি এখন তোমারটা চাই। আমি তোমার বোন হতে চাই। তোমার সাহায্যকারী।’
‘তাহলে তুমি তোমার উত্তরাধিকারকে মেনে নিতে রাজি আছ?’
‘সে আমি আগেই সেরে ফেলেছি।’
‘তোমার কি ধারণা আমি শয়তান?’
‘তা কেন হবে। আমরা তো বড়জোর একটা শক্তি। যেমন জেমসের একটি শক্তি ছিল। তারটা ছিল ন্যাচারাল পাওয়ার, কিন্তু আমাদেরটা সুপারন্যাচারাল। আমরা অন্য কারো চেয়ে কমবেশি শয়তান নই। আমরা মানুষ মাত্র।’
ভান করলাম মিস বার্টনের কথা শুনে বেশ প্রীত হয়েছি। তার মন চাইলে আমাদের শক্তিটাকে সাধারণ মানুষের মত ভাবতে পারে। এটা হাস্যকর। তবে ওর এ কথায় কোন হুমকির আভাস নেই।
মিস বার্টন যা বলছে আমি দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানোর চেষ্টা করলাম। কেন সে এ বাড়িতে ফিরে এল?
হয়তো সে আমার প্রেমে পড়েছে। হয়তো সে ভাবছে আমার সন্তান তার সন্তান না হওয়ার বেদনা ভুলিয়ে দেবে। অবশ্য সে কী ভাবল না ভাবল আমার কিছু আসে যায় না। আমি চাই আমাদের বাড়িটি সুখে শান্তিতে ভরে থাকুক। এ ব্যাপারে যদি মহিলা সাহায্য করতে চায়, করবে।
.
তেত্রিশ
এখন আমি প্রতি রাতে আমার ফুলো পেটে হাত রেখে শুয়ে থাকি, ফ্রান্সিসের শেখানো সুরটা গুনগুনিয়ে ভাবি। বাড়ির এখন সমস্ত কর্মকাণ্ড আমাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। বরং আরও পরিষ্কার করে বলা যায়, সকল আয়োজন হচ্ছে আমার ভেতরে যে জীবনটি তৈরি হচ্ছে তাকে ঘিরে।
তবে আমি বিচলিত হয়ে আছি। কারণ আমি মনে করি ফ্রান্সিসই একমাত্র নারী যে বুঝতে পেরেছে এ শিশুটি আমার ভেতরের শক্তির একটি প্রতীক মাত্র। যদি কোন সন্তান না হত তাহলে হয়তো আমাকে ওরা বেশি বুঝতে পারত।
আপনারা কি আমাকে বুঝতে পারেননি, পেরেছেন তাই না? আমি জানি পেরেছেন। এজন্যেই আমার গল্পটি আপনাদেরকে শোনালাম। আমি কল্পনায় আপনাকে দেখছি। আপনার বগল কামানো, আপনার দাঁতগুলো সাদা। মাঝে মাঝে আপনি যখন একা বাড়িতে থাকেন, গোধূলী লগ্নে নদী তীরে গাড়ি নিয়ে যান, তখন আপনি ব্যাকসিটে একবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন। আশা করেন এমন কাউকে দেখতে পাবেন যে আপনার অফিস কিংবা ডিনার টেবিল থেকে আলাদা।
আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আমি কেন রাত দুপুরে ঘুম থেকে জেগে গিয়ে আয়নার কাছে যাই এবং বলি, ‘ফ্রান্সিস, একবার শিশুহত্যার অভিযোগ তোমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল, তাই না?’
এবং আপনারা নিশ্চয় এ-ও বুঝতে পারবেন আমার কথার জবাবে ফ্রান্সিস কেন আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।
***
