Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাতালঘরের পিশাচ – অনীশ দাস অপু

    অনীশ দাস অপু এক পাতা গল্প404 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লুলু – অনীশ দাস অপু

    লুলু

    শুনে তাক ধিন নাচতে ইচ্ছা করল যখন মা বললেন ল্যারি এবং মেরিজোরা চলে যাবে। আমার বোন কোর্টনিও খুব খুশি। হ্যাঁ, ওরা আমাদের পড়শী বলে মা বলেছেন ওদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে। আমি আর কোর্টনি অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু…

    এই বাচ্চাগুলোকে পাজি বললেও কম বলা হয়, এরা দুষ্টের শিরোমণি। আর পেটুকের পেটুক।

    আমার রুমে সেদিন ল্যারি পটেটো চিপসের প্যাকেট পেয়েছিল। ওটা আমি পরে খাব বলে রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে নাকিসুরে ঘ্যানঘ্যান করতে লাগল ওটা খাবে। বাধ্য হয়ে দিতে হলো। সারা মুখে, চিবুকে আলুর তেল চকচক করছিল ল্যারির। আর প্যাকেটটা সাবাড় করে ও দাঁত বের করে হাসছিল।

    তারপর সে ঢেঁকুর তোলে। ঢেঁকুরের সে কী আওয়াজ! আমাদের বয়স বারো। ঢেঁকুর তোলার অভ্যাস খুবই খারাপ এটা আমরা দশ বছর বয়স থেকেই জানি।

    আমার কুকুর মার্টলি পটেটো চিপের ব্যাগটি শুঁকছিল। ওটা ল্যারি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল মেঝেতে। মার্টলি ওটার ওপর লাফিয়ে পড়ে চিবুতে শুরু করে।

    আমার প্রকাণ্ড কুকুরটা যা পায় তাতেই মুখ দেয়। চিপসের প্যাকেট ওর মুখ থেকে ছুটিয়ে আনতে রীতিমত কুস্তি করতে হচ্ছিল আমাকে। আর তখন মার্টলি আমাকে কামড়ে দেয়!

    আর তাই দেখে ল্যারির কী হাসি!

    পরে ল্যারিকে আমি আমার নতুন প্লে স্টেশন রেসিং গেম দেখাতে গিয়েছি। ‘আমাকে ওটা দাও, ম্যাথিউ,’ বলে এমন জোরে টান মারল কন্ট্রোলার ধরে, কর্ডটা ছিঁড়ে দু’টুকরো!

    ও কি এজন্য ‘সরি’ বলেছিল? না। সে হাসতে-হাসতে মেঝেয় চিৎ হয়ে পড়ে গিয়েছিল। যেন কর্ড ছেঁড়ার মত হাসির ব্যাপার পৃথিবীতে নেই। পাজি আর কাকে বলে!

    শুনলাম আমার বোন হলঘরে মেরিজোর সঙ্গে তর্ক করছে। ওরা একসঙ্গে থাকলেই ঝগড়া করে। এবারে কী নিয়ে কথা কাটাকাটির সূত্রপাত জানি না আমি, তবে শুনলাম কোর্টনি চিৎকার করে বলছে, ‘মানুষের নাম ধরে ওভাবে ডাকতে নেই, গাধী!’

    মেরিজো আশপাশে থাকলে কোর্টনির সঙ্গে ওর ঝগড়া হবেই। মেরিজোর খড়খড়ে গলার স্বর আর ছিঁচকাঁদুনে স্বভাবটাকে সহ্য করতে পারে না ও মোটেই। আর মেরিজো যে সারাক্ষণ, এমনকী ডাইনিং টেবিলে বসেও তার লম্বা, সোনালি চুল আঁচড়াতে থাকে, এটিও কোর্টনির দু’চোখের বিষ।

    কাজেই মা যখন সবাইকে একত্র করে বললেন, ‘পার্টি শেষ করার জন্য দুঃখিত। তবে ল্যারি এবং মেরিজোকে এখন বাসায় ফিরতে হবে। আমি মলে যাচ্ছি তোমাদের বাবার সঙ্গে দেখা করতে। নতুন বেবি সিটার যে কোন সময় চলে আসবে।’

    ‘যাওয়ার আগে কিছু পান করতে পারি?’ জিজ্ঞেস করল ল্যারি। বাসায় ফেরার আগে তার কিছু না কিছু পান করা চাই। যেন পান না করলে তেষ্টায় মরে যাবে।

    ‘আমিও খাব,’ তার পাজি বোনটা ঘ্যানঘ্যানে সুর তুলল।

    মা দ্রুত ওদের হাতে ফলের রসের প্যাকেট ধরিয়ে দিলেন। তারপর ওদেরকে বিদায় দিলাম বৃষ্টির মধ্যে। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি দরজা লাগিয়ে দিলাম।

    ‘আমাদের বেবি সিটারের কী দরকার?’ জিজ্ঞেস করলাম মাকে। ‘আমার বারো বছর বয়স। দিব্যি নিজের দেখভাল করতে পারি।’

    ‘তোমার বোনের বয়স মাত্র আট,’ বললেন মা। ‘তুমি ওর দেখভাল করতে পারবে?’

    আমি কোর্টনির দিকে তাকালাম। তার মুখে ফুটল শয়তানী হাসি। মা ঠিকই বলেছেন। কোর্টনি একটা ঝামেলার নাম।

    কোর্টনি নিজেকে জিমন্যাস্ট ভাবে। সবসময় কাউচের ওপর দাপাদাপি করছে অথবা সিঁড়ির রেইলিং ধরে ঝুলছে, লাফ মেরে মেঝেয় নামছে।

    সে সিঁড়ি বাইতেও বেশ পছন্দ করে। যেমন বাড়ির পাশে বৃষ্টির ঝাঁঝরি বেয়ে সে ওপরে উঠে যায়। গেল বসন্তে ও আমাদের গ্যারাজের ছাদে উঠে পড়েছিল। ছয়জন দমকল কর্মী লেগেছে ওকে নিচে নামিয়ে আনতে।

    ‘কোর্টনির বেবি সিটারের দরকার নেই,’ ঘোঁতঘোঁত করে বললাম আমি। ‘ওর দরকার একজন রক্ষী।’

    ‘মিসেস ক্রাভের কেন আসছেন না?’ জানতে চাইল কোর্টনি।

    ‘উনি অসুস্থ,’ জবাব দিলেন মা। ‘তাঁর জায়গায় আরেকজনকে পাঠাচ্ছেন।’

    ‘তাহলেই হয়েছে,’ দীর্ঘশ্বাস ফেলি আমি। ‘হয়তো কোন বুড়ি মহিলা আসবে যে সারারাত উনো খেলতে চাইবে।’

    বেজে উঠল ডোরবেল। ‘ওই তো এসে পড়েছে, বললেন মা। ‘আগে তো দেখো নতুন বেবি সিটার কেমন, ম্যাট।’

    ‘ঠিক আছে।’

    আমি সদর দরজা খুলতেই হাওয়া এবং বৃষ্টির ঝাপটা খেলাম। হুড়মুড়িয়ে পিছিয়ে গেলাম। আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে বেগুনি বর্ষাতি পরা একটি মেয়ে।

    ‘আমি লুলু,’ বলল সে। ‘তুমি কি ম্যাথিউ?’

    আমার জবাবের অপেক্ষা করল না মেয়েটি। ঢুকে পড়ল ঘরে। কুকুরের মত গা ঝাড়া দিতেই বর্ষাতি থেকে পানি ছিটকে পড়ল কার্পেটে।

    ‘হাই, লুলু,’ বললেন মা। ‘তোমার ভেজা জিনিসগুলো আমাকে দাও।’

    লুলু মা’র হাতে তার ছাতা এবং বর্ষাতি দিল। মা দ্রুত ওগুলো ক্লজিটে ঝুলিয়ে রাখলেন।

    আবার গা ঝাড়া দিল লুলু। ‘আজ রাত ভয়ে কেঁপে ওঠার রাত,’ কোর্টনি এবং আমার দিকে তাকিয়ে হাসল। ‘আমার পছন্দের রাত।’

    সে দু’হাতে তার ঢেউ খেলানো কালো চুলগুলো এলোমেলো করে দিল। মেয়েটির বয়স হবে পনেরো- ষোলো। গোল-গোল কালো চোখ, ফ্যাকাসে ত্বক, মুখে কড়া বেগুনি লিপস্টিক, তার বর্ষাতির রঙের।

    লুলু তার কালো সোয়েটারের পেছনে ঠেলে দিল কালো চুলগুলো। পরনে টাইট কালো জিন্স এবং কালো চামড়ার বুটজুতো। ‘হেই, গাইজ,’ বলল সে। ‘ইট’স নাইস টু মিট ইউ বোথ।’ নরম ফিসফিসে কণ্ঠ তার।

    হেব্বি মেয়ে! মনে-মনে বললাম আমি। ওয়াও!

    এরকম বেবি সিটার বেবি সিটিং দিলে মন্দ হয় না।

    কাউচে বসল লুলু। মার্টলি এসে দরজার কাছে জমে থাকা পানিতে নাক শুঁকল। কিন্তু ওখানে খাওয়ার মত কিছু না পেয়ে লুলুর বুটজুতো শুঁকে দেখল এক মুহূর্ত।

    ‘কুকুররা আমাকে পছন্দ করে,’ বলল লুলু। হাত বাড়াল মার্টলির ধূসর, বিরাট মাথায় আদর করার জন্য। ‘ওরা জানে আমি ওদের মনের কথা বুঝতে পারি।

    সে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল মার্টলির চোখে। ‘জানি ও এখন কী ভাবছে,’ বলল লুলু। ‘ওর খিদে পেয়েছে।’

    আমি আর কোর্টনি একসঙ্গে হেসে উঠলাম। ‘ওর সারাক্ষণই খিদে পায়।’ কোর্টনি বলল, ‘ও যা পায় তা-ই খায়।’

    মা গায়ে লম্বা রেইনকোট এবং মাথায় বাবার বেসবল ক্যাপ চাপিয়ে ছুটতে ছুটতে এলেন। ‘আমি গেলাম,’ বললেন তিনি আমাদেরকে। ফিরলেন লুলুর দিকে। ‘নিজের বাড়ির মত করে থাকো। আর ওদেরকে বেশি লাই দিয়ো না। তাহলে মাথায় চড়বে।

    ‘ও নিয়ে ভাববেন না,’ বলল লুলু। ‘আমি এসব সামাল দিতে জানি। আমি ওদের সম্মোহন করে ঘুম পাড়িয়ে দেব।’

    মা ততক্ষণে দরজার কাছে প্রায় পৌঁছে গেছেন। মনে হয় না লুলুর কথা শুনতে পেয়েছেন। ‘বেশ,’ বললেন মা। তারপর দরজা খুলে বেরিয়ে গেলেন।

    আমি লুলুকে দেখছি। সে আবারও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মার্টলির চোখে। লুলু ভালই রসিকতা জানে, ভাবলাম, আমি।

    সে এমন জোরে হাততালি দিয়ে উঠল যে চমকে গেল মার্টলি। ‘আমরা আজ রাতে কী করছি?’ জিজ্ঞেস করল সে। আলোতে জ্বলজ্বল করছে তার কালো চোখ।

    ‘তুমি ভিডিও গেম পছন্দ কর?’ জানতে চাই আমি। ‘আমার কাছে প্লে স্টেশন টু আছে।

    ‘বো-রিং,’ গুঙিয়ে উঠল কোর্টনি। ‘তুমি আমাকে চিয়ারলিডার কীভাবে হয় শিখিয়ে দেবে? সোমবার থার্ড গ্রেড স্কোয়াডে চান্স পাবার সুযোগ খুঁজছি আমি।

    ‘আমাদের স্কুলে কোন চিয়ারলিডার নেই,’ ফিসফিসে কণ্ঠে বলল লুলু। ‘এ ব্যাপারে তোমাকে তেমন সাহায্য করতে পারব বলে মনে হয় না।’

    ‘তুমি শুধু দেখবে আমি কেমন করছি,’ বলল কোর্টনি।

    ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, খুব হয়েছে,’ বললাম আমি।

    তোমাদের বাসা থেকে দুটো বাচ্চাকে চলে যেতে দেখলাম,’ বলল লুলু। ‘কারা ওরা?’

    ‘ওরা বাচ্চা নয়—বদের হাড্ডি,’ জবাব দিলাম আমি।

    ‘ওরা আমাদের পড়শী,’ বলল কোর্টনি। ‘প্রায় রোজই আমাদের বাসায় আসে। কিন্তু আমরা ওদেরকে দেখতে পারি না, ওরাও আমাদেরকে পছন্দ করে না। খুবই বিরক্তিকর চরিত্র।’

    ল্যারি এবং মেরিজো কেমন বিরক্তিকর সব খুলে বললাম লুলুকে।

    লাফিয়ে উঠল লুলু। ‘আমার মাথায় দারুণ একটা বুদ্ধি এসেছে। তোমরা কি প্রতিশোধ নিতে চাও?’

    আমি চোখ কুঁচকে তাকালাম ওর দিকে। ‘মানে?’ খিলখিলিয়ে হাসল লুলু। ‘তোমরা ঠিকই বুঝতে পেরেছ। তোমাদেরকে ওরা এত যন্ত্রণা দেয়! এর শোধ নিতে মন চায় না?’

    ‘একশোবার চায়!’ আমি আর কোর্টনি বলে উঠলাম সমস্বরে।

    ‘তাহলে চলো মাটির কিছু বিস্কিট বানাই,’ বলল লুলু। কোর্টনি এবং আমি ওর দিকে হাঁ হয়ে তাকালাম। ‘মাটি দিয়ে বিস্কিট বানাবার কথা বলছ?’

    মাথা ঝাঁকাল লুলু। চোখ টিপল আমাকে উদ্দেশ্য করে। ‘ব্যাপারটা খুব ছেলেমানুষী হয়ে যাবে না?’ বললাম আমি। ‘আমার বয়স বারো। তিন বছর বয়সে আমি মাটির পাই বানিয়েছিলাম।’

    ‘তবে এরকম মাটির পাই কখনো বানাওনি,’ ফিসফিস করল লুলু। হাসি ছড়িয়ে পড়ল সারা মুখে। ‘এগুলো বিশেষ জিনিস। আর এ জিনিস বানাবার জন্য পারফেক্ট দিন আজ।’

    ‘মানে?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি। ‘বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।

    লুলুর মুখের হাসি চওড়া হলো। ‘ঠিক তাই। এসময়ই তো মাটি থাকে নরম।’

    .

    কোর্টনি আর আমি উঠনের জলের মধ্যে ছপছপিয়ে গেলাম গ্যারাজে। ফিরে এলাম বেলচা আর ঝুড়ি নিয়ে। কুঁজো হয়ে আছি, তবু বাতাসের ঝাপটায় শীতল বৃষ্টি আছড়ে পড়ছে মুখে।

    ‘এসব করছি নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না,’ মাথায় বর্ষাতির হুড তুলে দিতে-দিতে অসন্তোষ প্রকাশ করলাম আমি।

    আমরা চলে এসেছি বাবার সবজি বাগানে। আমার হাতে বালতি। কোর্টনি বেলচা দিয়ে ভেজা মাটি তুলে বালতিতে ফেলতে লাগল।

    ‘এই রে-মার্টলিকে কে বেরুতে দিল?’ চেঁচিয়ে উঠল কোর্টনি।

    বিশালদেহী কুকুরটা কাদামাটি পেরিয়ে আমার গায়ে লাফিয়ে পড়ল। ‘অ্যাই-নাম! নাম বলছি!’ চেঁচালাম আমি। ওর বড়-বড় থাবায় লেগে থাকা কাদায় মাখামাখি হয়ে গেল আমার বর্ষাতি।

    ‘বালতি নিয়ে যা!’ কাউমাউ করে উঠল কোর্টনি। ‘বালতি নিয়ে যা! ও মাটি খাচ্ছে!’

    মিনিট কয়েক পরে আমি আমার কাদামাখা বুট ঝাড়তে-ঝাড়তে লুলুর হাতে তুলে দিলাম ভেজা মাটি ভর্তি বালতি। কোর্টনি এবং আমি গা থেকে খুলে ফেললাম নোংরা পোশাক।

    হাসল লুলু। ‘তোমাদেরকে আমি খানিক কাদামাটি জোগাড় করে আনতে বলেছি। কাদার মধ্যে গড়াগড়ি খেতে বলিনি!”

    ভেজা রেইনকোট নিয়ে দু’জনে মিলে চলে গেলাম লণ্ডি রুমে। তারপর কিচেনে ঢুকলাম। ওখানে লুলু আছে। সে বিস্কিটের দুটি ট্রে বের করল। ‘তোমাদের কাছে পোস্টার পেইণ্ট আছে?’ জানতে চাইল সে। ‘আমাদের রঙ দরকার হবে।’

    কোর্টনি এক ছুটে নিজের ঘরে গিয়ে পেইন্টের বাক্স নিয়ে এল।

    ‘এসো, কাজ শুরু করা যাক, বলল লুলু।

    সে বালতির মধ্যে হাত ঢুকিয়ে ভেজা মাটির একটা দলা তুলে নিল এবং ওটা বেকিং ট্রেতে রাখল। ‘এটা তোমার জন্য, কোর্টনি।’

    কোর্টনি চোখ গোল গোল করে তাকাল মাটির ঢেলার দিকে। ‘আমি এ দিয়ে কী করব?’

    ‘এটাকে কাদামাটির আকার দাও,’ বলল লুলু। ‘মানুষের একটা আকৃতি বানাবে। যেমন ধরো জিঞ্জারব্রেড ম্যান।’ তার মুখে ফুটল হাসি। ‘মেরিজোর চেহারা দেবে।

    খিলখিলিয়ে হাসল কোর্টনি। ‘কাদামাটিতে ওকে যা লাগবে না!’

    ‘তারপর আমি ল্যারির মূর্তি বানাব,’ বললাম আমি। ওর মুখে মোটাসোটা একটা নাক বসিয়ে দেব।’ লুলু আমার ট্রেতে আরেক দলা মাটি দিল। আমি কাজে নেমে গেলাম।

    চামচ এবং আঙুলের সাহায্যে আমরা মাটি দিয়ে আমাদের বন্ধুদের মূর্তি বানাতে লাগলাম। লুলু রঙের জার খুলল। আমরা ওদের গায়ে রঙ মাখালাম। কোর্টনি হলুদ রঙ করল মেরিজোর লম্বা চুলে। আমি ল্যারির মুখ রাঙিয়ে দিলাম লাল রঙে। ওকে এখন দেখতে মোটাসোটা শুয়োরের মত লাগছে।

    ‘আমরা কি এখন ওদের ওভেনে পোড়াব?’ জিজ্ঞেস করল কোর্টনি।

    মাথা নাড়ল লুলু। ‘আরেকটু কাজ বাকি আছে।’ মৃদু গলায় বলল সে। ‘তোমাদের বন্ধুদের কোন জিনিস মূর্তির সঙ্গে জুড়ে দিতে হবে।’

    ‘যেমন?’ জানতে চাই আমি।

    যেমন হাতের নখ বা এরকম কিছু,’ জবাব দিল লুলু। ‘এটা কুকির সঙ্গে লাগিয়ে দিতে হবে।’

    ‘আমার কাছে মেরিজোর চুল আছে,’ বলল কোর্টনি, রওনা হয়ে গেল দরজার দিকে। ‘ও আমার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়িয়েছে।

    ‘আর ওর ভাই ল্যারি?’ লুলু জিজ্ঞেস করল আমাকে। সে আমার কুকি বা বিস্কিটের একটা ঠ্যাং টিপেটুপে ঠিক করে দিচ্ছে। ‘তোমার কাছে ওর মাথার চুলটুল নেই?’

    ‘না, চুল নেই,’ দ্রুত চিন্তা করছি আমি। ‘তবে বাঁদরটা মেঝেতে পটেটো চিপসের অনেক গুঁড়ো ফেলেছে। এখনো আছে ওগুলো। এ দিয়ে কাজ হবে?’

    লুলু একটু ভেবে বলল, ‘ওগুলো কি সে মুখ থেকে থুতু দিয়ে ফেলেছে? তাহলে চলবে। যাও, নিয়ে এসো।’

    আমি আর আমার বোন এক ছুটে চলে এলাম দোতলায়। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ল্যারি এবং মেরিজোকে দিয়ে মাটির বিস্কিট বানাতে বেশ মজা পেয়েছি। আমরা চুল এবং চিপসের ফেলে দেয়া থুতুমাখা গুঁড়ো নিয়ে ফিরে এলাম জলদি। লুলু সযত্নে ওগুলো কুকির ঠিক মাঝখানে সেঁটে দিল।

    .

    বিস্কিট পোড়ানো হচ্ছে এই ফাঁকে আমরা রান্নাঘর সাফসুতরো করে ফেললাম। ওভেন থেকে বিশ্রী গন্ধ আসছে।

    তবে কুকিজ যখন বের করা হলো ওভেন থেকে, দারুণ লাগল দেখতে।

    মেরিজোর মুখটা গোল এবং সবুজ, মাথায় হলুদ চুলের স্তূপ। ল্যারির ছোট-ছোট কালো চোখ, লাল টকটকে নাক। পরনের বড়সড় জিন্স প্যান্ট ঢলঢলে, একদম আসলের মত দেখতে।

    ‘গুড ওয়ার্ক,’ হাততালি দিল লুলু। ‘ভেরি গুড ওয়ার্ক।’

    ‘এগুলো দিয়ে এখন কী করব?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি।

    ‘নিরাপদ কোন জায়গায় লুকিয়ে রাখো। তারপর ওদের ব্যবহার করবে,’ জবাব দিল লুলু।।

    ‘হাহ্?’ বিস্ময়ে বড়-বড় হয়ে গেল আমার চোখ। ‘ওদের ব্যবহার করব? মানে?’

    এমন সময় কিচেনের দরজা খুলে গেল। বাবা-মা ঢুকলেন ঘরে, ছাতা ঝাঁকাচ্ছেন। তাঁদের রেইনকোট থেকে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। ‘ওহ! কী বিষম রাত!’ বললেন বাবা। বৃষ্টির পানিতে তাঁর চশমার কাঁচ পুরো ঝাপসা।

    মা ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন আমাদের বিস্কিটের ট্রের দিকে। এসব কী? ‘

    ‘আমরা মাটির কুকিজ বানিয়েছি,’ লুলু বলল তাঁকে। ‘সময় কাটাতে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আর কী।’

    ‘এহ, কী বিকট গন্ধ রে, বাবা!’ নাক চেপে ধরলেন মা। কোর্টনি এবং আমার দিকে ঘুরে বললেন, ‘বানিয়েছ তো ভালই। তবে দয়া করে এগুলো কিচেন থেকে নিয়ে যাবে?’

    আমি এবং আমার বোন সাবধানে বিস্কিটগুলো তুলে নিলাম ট্রে থেকে। তারপর শুভ রাত্রি বললাম লুলুকে। সে রেইনকোট পরতে ব্যস্ত।

    ‘ওগুলো নিরাপদ কোন জায়গায় লুকিয়ে রাখতে ভুলো না,’ ফিসফিস করল সে। ‘তোমাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে। শীঘ্রি।’

    ‘তুমি তো বেশ মেয়ে! ওদেরকে দিয়ে সৃজনশীল কাজ করিয়েছ!’ মা লুলুকে দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে-দিতে বললেন। ‘ওরা এসব কাজ মোটেই পছন্দ করে না।’

    ল্যারির আকারে তৈরি বিস্কিট নিয়ে আমি দোতলায় চলে গেলাম। ঘরের চারপাশে একবার চোখ বুলালাম কোথায় রাখা যায় এটা। শেষে ড্রেসারের ওপরের দেরাজ পছন্দ হলো। ল্যারি আবার এলে দেখাব ওকে। বলব- এটা দেখতে অবিকল ওর মত।

    ওটা ড্রেসারের ড্রয়ারের হাতলে বাড়ি খেল রাখতে গিয়ে। ‘ওহ, না!’ চেঁচিয়ে উঠলাম আমি। পুতুলের ডান হাতখানা ভেঙে পড়ে গেছে মেঝেতে।

    কুকিটি নামিয়ে রাখলাম মেঝেতে। তারপর ছোট গোলাপি হাতটি তুলে শক্ত করে চেপে ধরলাম ভাঙা বাহুতে। কিন্তু মাটি গেছে শুকিয়ে। হাতটা লাগল না।

    গ্লু দিয়ে হয়তো লাগানো যাবে, ভাবলাম আমি।

    ‘অ্যাই, তোমরা শুতে যাও!’ নিচতলা থেকে ভেসে এল বাবার গলা।

    আমি হাতটি ড্রেসারের ওপরে বাকি কুকির পাশে রেখে ওটার কথা ভুলে গেলাম।

    অন্তত পরদিন সকালে স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত মনে পড়ল না।

    ল্যারি ক্লাসে এল এক ঘণ্টা দেরিতে। আমার পাশে বসল শুকনো মুখে। ডান হাতটা তুলে দেখাল।

    হাতে প্লাস্টার করা দেখে আমি খাবি খেলাম। ‘ল্যারি -কী হয়েছে?’

    ‘আমার হাত ভেঙে ফেলেছি,’ বিড়বিড় করল ও।

    আমি বিস্ফারিত চোখে হাতের দিকে তাকিয়ে আছি। ‘কীভাবে?’

    কাঁধ ঝাঁকাল ল্যারি। ‘বুঝতে পারলাম না কীভাবে এটা ঘটল। গত রাতে পাজামা পরছি, হঠাৎ মনে হলো হাতটা মচকে গেল। ডা. ওয়েনসও মাথামুণ্ডু কিছু বুঝতে পারেননি। আজ সারা সকাল তাঁর চেম্বারেই ছিলাম।’

    ‘দরজা কিংবা অন্য কিছুতে বাড়ি-টাড়ি খাওনি তো?’

    মাথা নাড়ল ল্যারি। ‘না। এমনি-এমনি ভেঙে গেল।’

    চোখে ভেসে উঠল আমার ড্রেসারে রাখা মাটির ভাঙা কুকি। সঙ্গে-সঙ্গে শিরদাঁড়া বেয়ে নামল বরফ জল। ল্যারির হাতের কথা কোর্টনিকে না বলা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছি না।

    ‘এটা স্রেফ একটা কাকতালীয় ঘটনা,’ স্কুল শেষে ওকে ঘটনাটি বলার পরে মন্তব্য করল কোর্টনি। ‘মাটির কুকির সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই।’ হাসল ও। ‘বেচারা ল্যারি। ও বাম হাতে কী করে খাবে? সবসময় দুই হাত দিয়ে ও খায়!’

    আমরা হেঁটে বাড়ি ফিরছি। রৌদ্রকরোজ্জ্বল শীতল একটি দিন। ফুটপাতে মোটা-মোটা বাদামী পাতা বাতাসের ঝাপটায় নাচানাচি করছে। ‘কুকিগুলোর যদি কোন শক্তি থেকে থাকে?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি। ‘আমিই যদি ল্যারির হাত ভাঙার জন্য দায়ী হই?’

    ‘কী যা-তা বলছিস!’ বিরক্ত হলো কোর্টনি। ‘কুকিগুলো তো স্রেফ মাটি। আমি তোকে প্রমাণ করে দেব। মেরিজোর কুকি নিয়ে কিছু একটা করব। দেখবি ওর কিছুই হবে না।’

    কোর্টনি এবং আমি দ্রুত ওর ঘরে গেলাম। ড্রেসারের ড্রয়ারে ও মেরিজোর কুকি লুকিয়ে রেখেছিল। ওখান থেকে ওটা বের করে এনে পড়ার টেবিলে রাখল। ‘দেখি কী করা যায়।’ বলল ও।

    একটি কাঁচি দিয়ে ঘ্যাঁচঘ্যাঁচ করে মেরিজোর সোনালি চুলগুলো কেটে ফেলল কোর্টনি।

    আমি চোখ ট্যারা করে তাকিয়ে থাকলাম ন্যাড়া মাথাটির দিকে। তারপর বোনের হাতে ফোন গুঁজে দিয়ে বললাম, ‘নে, ওকে ফোন কর।’

    কোর্টনির চোখ বিস্ফারিত হলো। ‘মেরিজোকে ফোন করব?’

    ‘হ্যাঁ, ওকে ফোন কর!’ বললাম আমি। ‘দ্যাখ কিছু হলো কিনা।

    কোর্টনি মেরিজোর নম্বর টিপল। ‘হাই, মিসেস রলিন্স। কোর্টনি বলছি। মেরিজো আছে?’

    ও-প্রান্তের জবাব শুনে চোয়াল ঝুলে পড়ল কোর্টনির। মুখটা রক্তশূন্য হয়ে গেছে। ‘ওহ, আচ্ছা,’ বলল ও। ‘ঠিক আছে…নো প্রবলেম। না, জরুরি কিছু নয়। আশা করি মেরিজো ঠিক আছে।’ ফোন রেখে দিল ও।

    ‘কী? কী হয়েছে?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি।

    কোর্টনি ধপ করে বসে পড়ল বিছানার এক কোণে। ফিসফিসে শোনাল কণ্ঠস্বর। ‘আ-আমি শুনলাম চিৎকার করছে মেরিজো। ওর মা বললেন ও ফোন ধরতে পারবে না। ওর চুলে যেন কী সমস্যা হয়েছে।’

    ঢোক গিললাম আমি। ‘তুই ওকে চিৎকার করতে শুনেছিস?’

    মাথা ঝাঁকাল কোর্টনি। “আমার চুল পড়ে যাচ্ছে-আমার চুল পড়ে যাচ্ছে! বাঁচাও!” বলে কান্নাকাটি করছিল ও।’

    টেবিলে রাখা ন্যাড়া মাথার কুকির দিকে তাকালাম আমি। হঠাৎ কেমন অসুস্থ বোধ করলাম। কাঁপছে পা। ‘আমরা-আমাদের উচিত মাকে সব খুলে বলা, বললাম আমি।

    ঘুরে রওনা হলাম বেডরুমের দরজায়। নিচতলা থেকে শোনা গেল মা’র গলা। ‘আমি গেলাম, বাচ্চারা। তোমাদের বাবার সঙ্গে শহরে ডিনার করে ফিরব। লুলু চলে এসেছে। তোমরা নিচে নেমে এসে ওকে “হাই” বলো।”

    লুলু?

    কোর্টনি আর আমি দু’জনেই যেন জমে গেলাম। ‘আমি নিচে যাব না,’

    ‘নিচু গলায় বলল ও। ‘মেয়েটাকে দেখলেই কেমন ছমছম করে গা। ও জাদু জানে। আমাদেরকে দিয়ে ভয়ঙ্কর কাজ করিয়ে নেয়।’

    ‘নিচে যাওয়া উচিত আমাদের,’ বললাম আমি। ‘সত্যি কথাটি বলব লুলুকে। বলব আমরা আমাদের বন্ধুদের আঘাত করতে চাই না।’

    তোমাদের সাড়া পাচ্ছি ওপরে!’ নিচতলা থেকে চেঁচাল লুলু। ‘নিচে চলে এসো দু’জনে।’

    কোর্টনি এবং আমি সিঁড়ি বেয়ে নামতে লাগলাম। লুলু দাঁড়িয়ে আছে লিভিং রুমে বুকে হাত বেঁধে। অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

    আবারও কালো পোশাক পরে এসেছে ও, কালো শার্টের ওপর চাপিয়েছে কালো সোয়েটার। গলা ঢেকে রেখেছে লম্বা, বেগুনি রঙের স্কার্ফে। ওর ঠোঁটের লিপস্টিকের সঙ্গে ম্যাচ করা রঙ।

    ‘এসেছ!’ হাসল লুলু।

    ‘মাটির কুকির রহস্যটা আমরা জানি,’ কাঁপা-কাঁপা গলায় অস্ফুটে বললাম আমি। ‘মানুষকে আঘাত দেয়া উচিত না।’-

    লুলুর মুখে ছড়িয়ে পড়ল হাসি। ‘উচিত না-তবে ব্যাপারটা মজার না?”

    ‘না,’ বলল কোর্টনি। ‘এতে কোন মজা নেই। আমরা বাবা-মাকে কথাটা বলে দেব ওঁরা বাড়ি ফিরলেই।’

    ‘না, বলবে না,’ মৃদু গলায় বলল লুলু। ধীরে-ধীরে মুছে গেল হাসি। ‘তোমরা কাউকে কিছু বলবে না। কেন বলবে না তা দেখাচ্ছি।’

    সে কফি টেবিলে রাখা সাদা একটি বাক্সের ঢাকনি খুলল। ওখান থেকে দুটি মাটির কুকি বের করল, দুই হাতে দুটো নিল।

    জ্বলজ্বল করছে লুলুর চোখ। ‘দেখলে? আমি ম্যাথিউ এবং কোর্টনির কুকিজ বানিয়েছি!

    ‘ওহ্, না!’ আঁতকে উঠলাম আমি। ম্যাথিউর কুকির মাথায় কালো চুল, হাড্ডিসার দেহ। অবিকল আমার মত। কোর্টনির কুকি রোগাপাতলা, মাথায় কোঁকড়া চুল, একদম ওর মত।

    ‘কাউকে কিছু বলে দেয়ার হুমকি আমাকে আর দিতে এসো না। এসো, কাজে নামি।’ বলল লুলু, সামনে ধরে রেখেছে কুকিজ। ‘আমাদের মাটি লাগবে। আজ আরও কিছু স্পেশাল কুকিজ বানাব।’

    ‘প্রশ্নই ওঠে না!’ আপত্তি করলাম আমি। ‘তুমি আমাদের বাধ্য করতে পারো না–’

    লুলু কাউচের বালিশ থেকে সাদা একটি পালক বের করল। পালকের সরু ডগাটা মুচকি হেসে ধীরে-ধীরে তুলল ম্যাথিউ কুকির মাঝ বরাবর-তারপর ওটা দিয়ে ঘাই মারল।

    ‘আউ!’ আর্তনাদ করে উঠলাম আমি পেটে হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা পেয়ে। ‘লুলু-থামো!’ হাঁপাতে-হাঁপাতে বললাম আমি।

    সে কুকির গায়ে পালকটা দিয়ে মোচড়াতে লাগল।

    আমার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল প্রচণ্ড ব্যথা। শরীর ভাঁজ হয়ে পড়ে গেলাম মেঝেতে। ‘প্লিজ,’ ফিসফিস করে বললাম। ‘প্লিজ-ওটা সরিয়ে নাও।’

    কুকির গা থেকে পালক সরিয়ে নিল লুলু। আস্তে-আস্তে আমার শরীরের ব্যথা চলে গেল।

    লুলু এবার আমার বোনের কুকি, হাতে নিল। ‘তোমাকেও একটা শিক্ষা দেব নাকি?’

    ‘না, না। তুমি যা বলবে আমি তাই করব,’ কম্পিত কণ্ঠে বলল কোর্টনি।

    ‘বেশ, তাহলে কাজে লেগে যাও,’ বলল লুলু। ‘আর আমি যা-যা বলব ঠিক তাই করবে। নইলে তোমাদের কুকিজ ফুটন্ত জলে ফেলে দেব। তখন বুঝবে মজা!”

    কোর্টনি এবং আমার করার কিছু নেই। আমি টলতে- টলতে উঠে দাঁড়ালাম। এখনো ব্যথা করছে পেট। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে।

    আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে কোর্টনি ডিগবাজি খেল। কাউচের ওপর ঝাঁপ দিয়ে পড়ল। লুলু লাফ মেরে উঠল। কোর্টনি সিধে হয়ে কাপড়ের ধুলো ঝাড়তে লাগল।

    ‘কোন চালাকি নয়,’ ওকে সাবধান করে দিল লুলু। হাতে আমাদের কুকি দুটো শক্ত করে ধরে আছে। ‘আমি বাচ্চাদের নির্যাতন করতে খুব ভালবাসি।’ শয়তানি হাসি ফুটল তার মুখে। ‘তবে বড়দের টর্চার করতে আমি আরও বেশি আনন্দ পাই। চলো। আজ তোমাদের বাবা-মা’র কুকিজ বানাব।’

    আমি আর কোর্টনি মিলে বাড়ির পেছনের উঠনে গেলাম মাটি খুঁড়তে। সবজি বাগানে উবু হয়ে মাটি খুঁড়তে লাগলাম।

    ‘তুই তখন ডিগবাজি খেতে গেলি কেন?’ ফিসফিসিয়ে জানতে চাইলাম আমি। ‘হঠাৎ মাথাটা বিগড়ে যায়নি তো?’

    রান্নাঘরের জানালায় একবার ফিরে তাকাল কোর্টনি। তারপর হাত ঢুকিয়ে দিল শার্টের পকেটে। ‘এটা দ্যাখ।’ অনুচ্চ গলায় বলল ও।

    ওর হাতে লম্বা, কালো একটি চুল। ‘এটা কার্পেটে পড়ে ছিল। ডিগবাজি খাওয়ার ছলে এটা তুলে নিয়েছি।’

    আমার বোনের পরিকল্পনাটি আমি অনুমান করতে পারছিলাম। ‘মাটির কুকিতে এটা ব্যবহার করবি, তাই না?’

    মাথা দোলাল কোর্টনি। ‘মায়ের বদলে আমি লুলুর ব্যবস্থা করব।’

    .

    পরিকল্পনা মাফিক কাজ হলো। কোর্টনি এবং আমি মিলে কাজটি করলাম। আমার বোন লুলুর কুকি বানাল। আমি তখন লুলুকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলাম কিচেনের অন্য পাশে। ভাব করলাম আমার আঙুলে ভাঙা কাচ ঢুকে গেছে। লুলু আঙুল টিপে-টিপে ভাঙা কাচ বের করার চেষ্টা করছিল।

    কোর্টনি ওভেনে কুকি ঢুকিয়ে ফেলল পোড়াতে। কুকিজ ঠাণ্ডা করার সময় আমি লুলুকে নিয়ে বেরিয়ে এলাম কিচেন থেকে। ওকে নিয়ে দোতলায় চলে গেলাম দেখাতে আমরা ল্যারি এবং মেরিজোর কুকির কী দশা করেছি।

    ‘চমৎকার কাজ,’ হাসল লুলু। ‘ওদের বাঁদরামির জবাব বেশ ভালই দিয়েছ তোমরা।’

    কিচেনে যখন ফিরে এলাম ততক্ষণে কোর্টনির সারপ্রাইজ রেডি। কিচেন কাউন্টারের মাটির কুকিটির দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল লুলু। ওটার ঠোঁট উজ্জ্বল বেগুনি রঙে রঙিন, গলায় বেগুনি রঙের স্কার্ফ। লুলুর লম্বা কালো চুলটি ওটার মাথায় আটকে আছে।

    ‘না আ আ আ আ আ!’ আর্তনাদ করল লুলু। ‘তোমরা এটা করতে পার না!’ সে ছুট দিল কুকির দিকে।

    কিন্তু কোর্টনি ঝট করে তুলে নিল কুকি। নাগাল পেল না লুলু!

    ‘ওটা আমাকে দাও! ওটা আমাকে দাও!’ চেঁচাচ্ছে লুলু। আবারও কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করল।

    কোর্টনি কুকিটা আমার দিকে ছুঁড়ে মারল। চমকে গিয়ে আমি ওটা এক হাতে ধরে ফেললাম।

    ওটার মাথাটা ভেঙে পড়ে গেল।

    আবার আর্তনাদ করল লুলু। দুই হাতে কুকিটাকে ধরার ।চেষ্টা করল।

    কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। ওর মাথাটা খসে পড়ল ঘাড় থেকে। রান্নাঘরের মেঝেতে বার দুই ড্রপ খেল।

    মাথাটা চিৎকার করেই চলেছে। ওটার আঙ্কভরা চোখ দুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে, গড়াতে-গড়াতে ঠোকর খেল কিচেন কাউন্টারে। ‘আমাকে কুকিটা দাও! আমাকে কুকিটা দাও!’ কিচকিচ করে উঠল কাটা মুণ্ডু।

    লুলুর মস্তকবিহীন শরীরটা টলতে-টলতে এগিয়ে এল আমার দিকে। হাত দুটো সামনে ছড়ানো। এগোতে গিয়ে বেগুনি স্কার্ফটা পড়ে গেল, উন্মুক্ত হলো নিখুঁতভাবে কাটা – গলা।

    ওর বাড়ানো হাত বাতাস খামচাচ্ছে। অন্ধের মত পা ফেলে এগিয়ে আসছে লুলু।

    আর ঘরের অন্যপাশ দিয়ে ওর কাটা মাথা চেঁচাচ্ছে, কিচকিচ করছে, ‘আমাকে ওটা দাও! আমাকে ওটা দাও!’

    মাটির কুকিটা হাতে নিয়ে আমি দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালাম।

    মুণ্ডহীন লুলু, সামনে ছড়ানো হাত, বাতাস খামচে- খামচে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। আমাকে ধরবে বলে।

    আমি দেয়ালের সঙ্গে মিশে যেতে চাইলাম। ভয়ে ধড়ফড় বুক।

    সাঁৎ করে সরে যেতে চাইলাম ওর নাগালের বাইরে। আর তখন আমার হাত থেকে পড়ে গেল কুকি।

    মেঝেতে পড়ল ওটা। আমি ওটার দিকে তাকালাম। ভেবেছিলাম ভেঙে যাবে, কিন্তু ভাঙল না।

    লুলুর হাত ঝাপটা খেল আমার সামনে। আমি চট করে সরে দাঁড়ালাম একপাশে। এখন আমি ফাঁদে পড়ে গেছি। রান্নাঘরের কিনারে আটকা পড়েছি।

    মুণ্ডহীন মেয়েটা আবারও থাবা চালাল। তারপর…থেমে গেল। প্রস্তর মূর্তি হয়ে গেল সে

    আমার মুখ হাঁ হয়ে গেল ওর ডান কাঁধ ভেঙে চুরচুর হয়ে গেছে দেখে। তারপর স্কার্ফটা অদৃশ্য হলো। সেই সঙ্গে হাত।

    ‘অ্যাই-মার্টলি!’ আমার বোনের গলা ভেসে এল ঘরের ওধার থেকে।

    ঘুরলাম আমি। আমাদের প্রকাণ্ড কুকুরটা মাথা নিচু করে কী যেন চিবুচ্ছে।

    লুলুর কুকি ওর মুখে!

    একটু পরে লুলুর শরীর নেই হয়ে গেল। তারপর খণ্ডিত মস্তকও।

    আনন্দে লাফাতে লাগলাম আমরা। দু’জনে মিলে মার্টলির গলা জড়িয়ে ধরলাম। ‘তুই একটা হিরো, মার্টলি! রিয়েল হিরো!’

    ‘ভাগ্যিস ওর সবকিছু খেয়ে ফেলার অভ্যাস ছিল!’ বলল কোর্টনি।

    ‘ওকে আজ রাতে বড়সড় একটা স্টেক খাওয়াব,’ বললাম আমি। ‘ও একটা হিরো! হিরো!” আমি আবারও আলিঙ্গন করলাম মার্টলিকে।

    সিধে হলো কোর্টনি। ‘চল, ভাই, বাবা-মা ফেরার আগেই কিচেন পরিষ্কার করে ফেলি।’

    ‘না, থাক,’ বললাম আমি। ‘কোন কিছু স্পর্শ করার দরকার নেই। বাবা-মাকে দেখাব এসব। তাঁদেরকে সব কথা খুলে বলব।’

    ‘ঠিক আছে,’ আমার কথায় সম্মতি দিল কোর্টনি। সে কিচেনের চারপাশে চোখ বুলাচ্ছে। ‘লুলু যে কুকি দুটো নিয়ে এসেছিল সেগুলো কোথায়? তোর আর আমার কুকি? লুলু ওগুলো কোথায় রেখেছে?’

    ‘এখানেই তো নিয়ে এসেছিল,’ বললাম আমি। ‘তারপর-ওহ্, না!’

    কোর্টনি আর আমি সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠলাম, ‘মার্টলি-না! ফেলে দে! ফেলে দে! মার্টলি! ফেলে দে! প্লিজ-খাস না! ফেলে দে!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচণ্ডরাজার বলি – সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    Next Article তিমির প্রেম – রকিব হাসান
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }