Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পৃথা – কালকূট (সমরেশ বসু)

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প100 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পৃথা – ৯

    ৯

    রাজা কুন্তিভোজ সুধা-ধবলিত এক প্রাসাদ দুর্বাসার বাসের জন্য দিলেন। মহর্ষি খাবেন ভিক্ষা করে। কিন্তু থাকবেন সুধা-ধবলিত- প্রাসাদে রাজকন্যার সেবা নিয়ে! কুন্তী প্রস্তুত হয়ে মহর্ষির সেবা শুরু করলেন। দুর্বাস। কখনও বলে বেরোতেন, তিনি অপরাহ্ণে ফিরবেন। কিন্তু ফিরতেন অধিক রাত্রে। আবার যেদিন বলে বেরো- তেন, ফিরবেন অধিক রাত্রে, সেদিন ভোরবেলা ফিরে আসতেন। কিন্তু দেখতেন, কুত্তী সর্বদাই তাঁর পছন্দমতো ভোজ্য সায়ন আসন ইত্যাদি নিয়ে সেবার জন্য প্রস্তুত আছেন।

    এসব ছাড়াও, দুর্বাসা কুন্তীকে নানারকম ধিক্কার দিতেন। খাবারের নিন্দা করতেন। অপ্রিয় কথায় গালাগালি দিতেন। কুন্তী একটুও রাগ করতেন না। জানতেন, এমন মহর্ষির সেবা করে, তিনি যে-ফল পাবেন, তার তুলনা নেই। তিনি শিষ্যের (শিষ্যা নন) মতো, পুত্রের ( কন্যা নন ) মতো, ভগিনির মতো দুর্বাসার সেবা করেছেন। কুন্তিভোজ প্রত্যহ সকাল সন্ধ্যায় কুন্তীকে জিজ্ঞেস করতেন, “পুত্রি। ব্রাহ্মণ কি তোমার সেবায় পরিতুষ্ট হচ্ছেন?”

    কুন্তী উত্তরে হেসে বলতেন, “ব্রাহ্মণ যারপরনাই আনন্দিতহচ্ছেন।” কিন্তু কুন্তী এমন একজন মহর্ষির সঙ্গে কী আচরণ করতেন, আর মহর্ষিই বা কেন এত আনন্দিত হতেন, তার কিছুই বলা যায় না।

    “…তমহং পর্য্যতোষয়ম্।
    শৌচেন ত্বাগসস্ত্যাগৈঃ শুদ্ধেন মনসা তথা
    কোপস্থানেস্বপি মহৎস্বকুপন্ন্য কদাচন।”

    কুন্তী বলছেন –অনপরাধী হয়ে, শুচিতার দ্বারা শুচিসিদ্ধ চিত্তে আমি মহর্ষি দুর্বাসাকে পরিতুষ্ট করেছিলাম। বিশেষভাবে ক্রুদ্ধ হবার ব্যাপারেও আমি কখনও ক্রুদ্ধ হই নি।

    .

    কুন্তিভোজের রাজত্ব হর্ষনদীতীরে বুন্দেলখণ্ডে।

    দুর্বাসা প্রায় এক বছর কুন্তীর সেবা গ্রহণ করে, সুখী হয়ে চলে যাবার সময়, তাঁকে বর দিতে চাইলেন। বললেন, “তোমার পরি – চর্যায় আমি পরম পরিতুষ্ট হয়েছি। তুমি আমার কাছে অনন্য দুর্বল বর প্রার্থনা কর।”

    কুন্তী বললেন, “আপনিও আমার পিতা যখন সুখী হয়েছেন, তখন আর আমার বরে কী প্রয়োজন?”

    কিন্তু দুর্বাসা ছাড়লেন না। তিনি কুন্তীকে বর দিলেন, “… তুমি না চাইলেও, আমি তোমাকে দেবগণকে আহ্বান করার জন্য মন্ত্র প্রদান করছি। গ্রহণ কর। এই মন্ত্রের দ্বারা তুমি যে-কোনো দেবতাকে আহ্বান করবে, তিনি সকামী বা অকামীই হোন, মন্ত্র প্রভাবে ভৃত্যের ন্যায় তোমার বশবর্তী হবেন।”

    কুন্তী আর আপত্তি করতে পারলেন না। দুর্বাসা তাঁকে অথর্ববেদ- বিহিত মন্ত্র সব দান করলেন। কিন্তু হঠাৎ এমন একটি বর কেন দুর্বাসা তাঁকে দিলেন? আরও অনেক প্রকারের বর তিনি কুন্তীকে দিতে পারতেন। দেবতাদের ভৃত্যের মতো আহ্বান করার শক্তিযুক্ত বর দান করার অর্থ কী?

    এখানে এস, ইতিবৃত্তের পাতায় আমি সত্যের সন্ধানে লিপ্ত হচ্ছি। তার আগে, ইতিবৃত্তে প্রক্ষিপ্ত অলৌকিক সংবাদে, ব্রাহ্মণের বিচিত্র মতিগতির কথা কিছু বর্ণনা করতে চাই। কারণ এঁরাই আমাদের প্রাচীন ইতিবৃত্তকে, ব্রাহ্মণ্য মহিমার দ্বারা ( মূর্খতা! ) এমন ভাবে মিথ্যায় আচ্ছন্ন করে রেখেছেন, যাতে সত্য কখনও প্রকাশ না পায়। আর ব্রাহ্মণরা যে কী ভয়াবহ শক্তিশালী ছিলেন, তার প্রমাণের জন্য যা মনে এসেছে, তাই লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। অথচ আমরা জানি, ব্রাহ্মণ কোনে! জাতি ছিলেন না। প্রতিভা জ্ঞান ও তপোবলে, জারজ পুরুষও ব্রাহ্মণত্ব লাভ করতেন।

    অলৌকিকত্বের প্রমাণ স্বরূপ,ঋষি দীর্ঘতমার এক দীর্ঘ কাহিনী, কুন্তীর কারণে, এক ব্রাহ্মণ তুলে ধরেছেন। আমি সংহিতা যুগে বিচরণের সময়, দীর্ঘতমাকে দর্শন করেছি। তাঁর গো-গণের ন্যায় উন্মুক্ত স্থানে যখন তখন মৈথুন কার্যে লিপ্ত হওয়ায় আশ্রমের মুনি ঋষিরা তাঁর প্রতি বিরক্ত হয়ে আশ্রম থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী প্রদ্বেষীও তাঁর প্রতি বিশেষ রুষ্ট হয়েছিলেন। দীর্ঘতমা ছিলেন অন্ধ। প্রদ্বেষীর গর্ভে তাঁর অনেকগুলো পুত্র হয়েছিল। তাঁর প্রতি বিরক্ত হয়ে প্রদ্বেষী ও তাঁর পুত্রগণ, দীর্ঘতমাকে ভেলায় করে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন।

    দীর্ঘতমা ভাসতে ভাসতে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যান। বলি নামে এক রাজা ছিলেন। অসাধারণ ধার্মিক। তিনি গঙ্গায় স্নান করতে এসে মুনিকে ভেলায় ভেসে যেতে দেখে, নিজের গৃহে নিয়ে আসেন। এবং তিনি যে ভগবান দীর্ঘতমা, দেখেই চিনতে পারলেন। বলি ছিলেন অপুত্রক! তিনি দীর্ঘতমাকে অনুরোধ করলেন, তাঁর ভাষা- দের গর্ভে সন্তান উৎপাদন করার জন্য। দীর্ঘতমা সম্মত হলেন। রাজা বলি তাঁর পট্টমহিষী সুদেষ্ণাকে ঋষির নিকট গমন করতে বললেন। সুদেষ্ণা দেখলেন, ঋষি অন্ধ ও বৃদ্ধ। তখন তিনি নিজে না গিয়ে এক শূদ্রা পরিচারিকাকে পাঠিয়ে দিলেন। সেই দাসীর গর্ভে দীর্ঘতমা, জেনেশুনেই এগারোটি পুত্রোৎপাদন করলেন, পুত্ররা যখন সবাই অধ্যয়নরত হয়েছে, রাজা বলি খুবই খুশি হলেন। কিন্তু দীর্ঘতমা বললেন, “এরা তোমার ক্ষেত্রে, হয় নি। শূদ্রাযোনিতে আমি এদের উৎপন্ন করেছি। সুতরাং এরা আমারই পুত্র। আমাকে অন্ধ আর বৃদ্ধ দেখে, তোমার মহিষী সুদেষ্ণা আমার কাছে আসেন নি।”

    রাজা বলি সে-কথা শুনে খুবই দুঃখিত হলেন। সুদেষ্ণাকে নানা রকম অনুনয়পূর্বক, দীর্ঘতমার কাছে পাঠাতে সক্ষম হলেন। দীর্ঘ- তমা সুদেষ্ণাকে ভোগ করলেন না। তাঁর গায়ে হাত বুলিয়েই বলে দিলেন, “তোমার অত্যন্ত তেজস্বী পাঁচ পুত্র হবে। তারা অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ পুণ্ড্র ও সুহ্মা বলে পরিচিত হবে। তাদের নামানুসারে অঙ্গ বঙ্গাদি দেশ প্রসিদ্ধ হবে।” …

    অতএর ব্যাপারটা কী? ব্যাপারটা হলো, দেবতা, ঋষিগণ যে-ভাবে পুত্র উৎপাদন করেন, তা লৌকিক বিধি নয়। তা দিব্যবিধি। এরূপ দিব্যবিধিতে কোনো রূপ দোষের বা পাপের সম্ভাবনা নেই। কারণ, অনেক তির্যক যোনিতে সর্বদা এরূপ জন্ম ঘটেছে। যেমন, কচ্ছপ, ময়ূরী, বলাকা, এরা পুরুষ সম্বন্ধ ব্যতিরেকেই গর্ভ ধারণ করতে পারে।

    তা তো বুঝলাম। কিন্তু কচ্ছপ, ময়ূরী তো মানবী নয়। এ বিষয়ে আমি ইতিপূর্বেই জেনে এসেছি, দেব-দানব মানব, যে কোনো জাতির মানুষের, নরনারীর দৈহিক মিলন সম্ভূত ছাড়া সম্ভব না।

    এইসব অবাস্তব অলৌকিকতায় বিশ্বাসী পণ্ডিতবর্গের প্রতি অভি- যোগ করা প্রহসন মাত্র। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন, ঋষি স্ত্রী- লোকের গায়ে হাত স্পর্শ করলেই, স্ত্রীলোকটি সন্তান সম্ভবা হয় কুম্ভীর সঙ্গে সূর্যের সহযোগিতায় কর্ণের জন্মও সেই রকমই এঁরা প্রমাণ করতে চেয়েছেন। আর সেই সূর্য যে আকাশ থেকেই নেমে এসেছিলেন, সে-বিষয়েও এইসব পণ্ডিতের মনে কোনো সন্দেহ নেই। হে সূর্য!তুমি আকাশ থেকে নেমে, একবার এই সব পণ্ডিতের দেহ স্পর্শ করে যাও।

    একমাত্র, এই কারণেই, কুন্তী যখন কুমারী অবস্থায় রজস্বলা হলেন, তখন খুবই লজ্জিতা হলেন। অনন্তর তিনি প্রাসাদ মধ্যে রমণীয় শয্যায় উপবেশন পূর্বক সূর্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন। দেখলেন, কবচ কুণ্ডল যুগল মণ্ডিত দিব্য জ্যোতি সূর্যদেব। তখনই ব্রাহ্মণের সেই মন্ত্রের কথা তাঁর মনে পড়লো। তিনি সেই মন্ত্রের দ্বারা সূর্যকে আহ্বান করলেন। করে ফ্যাসাদে পড়ে গেলেন। কারণ, সূর্য সত্যি এসে উপস্থিত হলেন। বললেন, “হে কল্যাণি, আমি মন্ত্র প্রভাবে, তোমার নিতান্ত অধীন হয়ে আগমন করেছি। বলো, আমাকে কী করতে হবে।”

    কুন্তীর কী দুরবস্থা! সূর্য যতই তাঁকে বর দিতে চান, তিনি কিছুতেই তা গ্রহণ করতে পারছিলেন না। কিন্তু সূর্য পরিষ্কারই বলে দিলেন, আমি জানি, তুমি কবচ-কুণ্ডলমণ্ডিত, আমার ন্যায় সন্তান উৎপাদন করাই তোমার অভিলাষ। তুমি সম্মতি দিলেই আমি সেই অভিলষিত পুত্র উৎপাদন করবো।

    কুন্তী দেখলেন, এ ভারি গর্হিত কাজ। বাবা মা জানবেন না। অথচ আমার সন্তান হবে। তখন কী করবো? সূর্য বললেন, “তোমার কন্যকাবস্থা নষ্ট হবে না। তুমি যেমন সন্তান চেয়েছো, সেই রকমই আমি উৎপাদন করব। আর তুমি যে কবচকুণ্ডলসহ বীর সন্তান চেয়েছে, তাই আমি দান করবো।”

    কুন্তী সম্মত হলে, সূর্যদেব তাঁর নাভিদেশ স্পর্শ করা মাত্র, তিনি তেজঃপ্রভাবে অচেতন হয়ে শয্যাতলে পড়ে রইলেন। এবং সূর্যদেব স্বীয় তেজঃপ্রভাবে কুন্তীকে মোহিত করে, যোগ বলে গর্ভাধান করলেন। কিন্তু তাঁর কন্যকাবস্থা দূষিত করলেন না।

    বলাবাহুল্য, এই অলৌকিক, অবাস্তব, মিথ্যা কাহিনী আর যারাই বিশ্বাস করুন, বাস্তব ইতিবৃত্তে যাঁরা বিশ্বাসী, এবং প্রকৃতই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করেন, তাঁদের মধ্যেও নানা কৌতূহল ও ইচ্ছা জাগে, অথচ তার জন্য তাঁরা সমস্ত রকম দায় দায়িত্ব গ্রহণের দ্বারা, নিজেদের বৈশিষ্ট্যকে প্রতিষ্ঠা করেন। নারীকে যারা নিতান্ত দেহ শুচিতার বিচারে কেবল পুত্রোৎপাদনের যন্ত্র মনে করেন, তারাই ঐসব অলৌকিক অসম্ভব অবাস্তব ব্যাপারকে লোক মধ্যে প্রচার করে, মানুষকে সত্য সন্ধানে বঞ্চিত করেন।

    এখন, ইতিবৃত্তের ধুলাচ্ছন্ন পাতার অন্তরালে, কুম্ভীর সেই আরাধ্য পুরুষটিকে কেমন করে আবিষ্কার করা যায়? কুম্ভী চরিত্রের দ্বারা, আমি মোহিত। আমি দেখছি, শৈশবের সেই বালিকা, তাঁর তারুণ্যে এসেই, এমন এক তেজঃপুঞ্জপূর্ণ তপস্বীর, সমস্ত রকম স্বেচ্ছাচারী ব্যবহারেও অসুখী হন নি, রাগ করার যথেষ্ট কারণ থাকলেও, রাগ করেন নি, এবং যিনি কুন্তীর কাছে রাত্রে, ভোরে, সন্ধ্যায় যখন খুশি আসতেন, কখনও গঙ্গাজল দিতেন, নিন্দা করতেন, তবু কুম্ভী তাঁর বাধ্য থাকতেন, এ সবই কি কুম্ভীর বাল্য থেকে প্রাপ্ত, দুঃখের মধ্য থেকে, নতুন জীবনকে জানার ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় না?

    আমি তো দেখছি, দুর্বাসাকে যে যাই বলুন, অন্তরে তিনি মোটেই কোপন স্বভাব ছিলেন না। বরং মধুরভাষী ছিলেন। দেখতেও ছিলেন, অসাধারণ তেজবহ্নি স্বরূপ সুপুরুষ। পরাশরের তুলনায় তিনি আরও অনেক বেশি গুণসম্পন্নই দেখছি। পরাশয় যদি সত্য- বতীকে গর্ভবর্তী করে কন্যকাবস্থা দূষিত না করে থাকেন, ইনিই বা কুন্তীর কন্যকাবস্থা দূষিত করবেন কেন?

    কুন্তিভোজ রাজার গৃহে, দুর্বাসার প্রথম আবির্ভাবই যেন একটি সংকেত দেয়, তিনি কুন্তীর সেবা পাবার জন্যই এসেছিলেন। এবং তিনি কুন্তীভোজকে দিয়ে এমন সব কথা আদায় করে নিয়েছিলেন, স্বভাবতঃই মনে হয়, তাঁর মনে কোনো অভিসন্ধি ছিল। থাকলেও তা তেমন অপরাধের কিছু না। দুর্বাসার নিশ্চয়ই এমন কোনো গুণাবলী ছিল স্বয়ং কৃষ্ণও পরে এই মহর্ষির তুষ্টি বিধানের পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

    দুর্বাসার মতো বহ্নিকান্তিমান পুরুষকে দেখে মুগ্ধ হওয়া কি খুবই আশ্চর্যের? তিনি বৃদ্ধ বা কুরূপ ছিলেন না। কুন্তীও আর দশটি কন্যার মতো, মনের দিক থেকে সাধারণ কন্যা ছিলেন না সূর্যদেবের মুখ দিয়ে কুন্তীকে বলানো হয়েছে, “তোমার পিতামাতা অন্যান্য গুরুজন তোমার প্রভু নহেন।” তা যে ছিলেন না, দুর্বাসা আগেই সেবার দায়স্বরূপ,কুন্তীর প্রতি যথেচ্ছাচারের বিষয়টি স্থির করে নিয়েছিলেন।

    অতঃপরেও যদি, দুর্বাসাকেই সেই পুরুষরূপে আমি গ্রহণ করি, তাহলে, স্বর্গের বাজা সূর্যকেই আমি এই ভারতের অশ্বনদীর তীরে, ( অধুনা বুন্দেলখণ্ডে ) ভ্রমণ করতে দেখতে পাচ্ছি? স্বৰ্গলোক থেকে, এই মর্ত্য ভারতে, সর্বদাই দেবতা ও মানুষ জাতির যাতায়াত ছিল। আমি আমার ইতিবৃত্তের ভ্রমণে স্বর্গ থেকে আগেই ঘুরে এসেছি। স্বৰ্গলোক অতীব স্বাস্থ্যকর বলে, বেদে এই দেশসমূহকে ‘অমৃতভূমি’ বলা হয়েছে? এবং অধিবাসীরাও স্বাস্থ্যবান, দীর্ঘায়ু ছিলেন।

    যদিও ইতিহাসের অপরিচ্ছন্ন অস্পষ্টতায়, আমি বাস্তব দৃশ্যটি দেখতে পাচ্ছি না, তথাপি আমি যেন কুন্তীর অন্তরের মধ্যে দুর্বাসাকেই অঙ্কিত দেখছি। কিন্তু ইতিহাস এ বিষয়ে এমনই নীরবতা অবলম্বন করেছে, আমি সুস্পষ্ট রূপে কিছুই দেখছি না।

    এই অবস্থায়, আমি স্বর্গলোকের এক রাজ্যের অধিপতি সূর্যকে অশ্বনদীর তীরে দেখতে পাচ্ছি। দেখতে পাচ্ছি, ধাত্রী ও সখীগণ সহ কুন্তীও সেখানে বিচরণ করছিলেন! সহসাই দুজনের সঙ্গে চারি চক্ষের মিলন। চক্ষের মিলনই তাঁদের দেহ মিলনে আকৃষ্ট করলো। কিন্তু কুন্তী তখন রজস্বলা কুমারী। পরস্পরের মধ্যে মিলনে, সন্তান জন্ম অবশ্যম্ভাবী। অথচ দুজনেই তখন দুজনের প্রতি প্রেমাবিষ্ট। স্বভাবতঃই ধাত্রী ও সখীদের সাহায্যেই, কুন্তী রাজা সূর্যকে রাজ- অন্তঃপুরে নিয়ে গেলেন।

    কুন্তীর সঙ্গে, কুমারী অবস্থায় যাঁর মিলন হয়েছিল, তা যে অন্তঃপুরেই হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সমস্ত ঘটনাটিকে এমন রূপ দেওয়া হয়েছে যে, কুন্তী তাঁর রমণীয় প্রাসাদেরশয্যায় উপবেশন- পূর্বক নবোদিত সূর্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করামাত্র, সূর্যের কবচকুণ্ডল- যুগল মণ্ডিত দিব্যমূর্তি দর্শন করলেন। দুর্বাসাও ছিলেন সুধাধবল প্রাসাদে। স্বর্গ রাজ্যের অধিপতি সূর্য হয়তে। কুন্তী রূপৈশ্বর্যের কথা শুনেই, কুন্তিভোজ রাজার রাজ্যে এসেছিলেন। সাক্ষাৎ যদি ধরে নেওয়া হয়, অশ্বনদীর তীরেই হয়েছিল, এবং সেখানেই দুজনে দুজনাকে দেখে মুগ্ধ হন, তাহলেও, কুন্তীর সেই সাহস ছিল, প্রেমিককে তিনি অন্তঃপুরে নিয়ে যাবেন।

    আমি ইতিপূর্বেই দেখেছি, কুন্তীর প্রতি সকলেই তুষ্ট। বলছেন, স্বয়ং রাজা কুন্তিভোজ। এমন কি প্রাসাদের দাসদাসী ভৃত্যসকলও তাঁর প্রতি আকৃষ্ট ছিল। অতএব, কুম্ভীর পক্ষে রাজা সূর্যকে অন্তঃপুরে নিয়ে যাওয়া কিছুমাত্র অসুবিধা ছিল না। সেখানে প্রাসাদের ভিতরে, রমণীয় শয্যায়, আহারে ব্যসনে ভূষণে পরস্পরে মধ্যে প্রেম গাঢ়তর হয়েছিল। দুজনে প্রাসাদ মধ্যে কতোদিন কাটিয়েছেন, এক্ষেত্রে তার কোনো হিসাব পাওয়া কঠিন!

    আমি জানি, ইতিবৃত্তের এই অধ্যায়টিকে অনেকেই সংশয়ের চোখে দেখবেন অথচ দেখার কোনো কারণ নেই। আকাশের সূর্য যে মানুষের বেশে নেমে আসতে পারে না, যে-কোনো জীবই তা অনুমান করতে পারে। কিন্তু আমি একটা বিষয় ভেবে বিস্মিত হচ্ছি। মুনি পরাশর বা দুর্বাসা, যাঁরা ছিলেন তাঁদের তপোবলে অসাধারণ ব্যক্তি, যাঁদের ক্ষমতা ছিল অসীম, যাঁরা অবিবাহিতা কন্যাদের রমণ করেও তাদের কন্যকাবস্থা দূষিত করতেন না, তাঁরা কি সেই কন্যাদের গর্ভে সন্তান উৎপাদন বন্ধ করার কৌশল অবগত ছিলেন না। তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা কি এক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারতেন না? তাহলে তো কোনো সংকটই থাকতো না। এর দ্বারা এটিই প্রমাণ হয়, দেহ মিলনে সন্তান উৎপাদন বন্ধ করার ক্ষমতা তাঁদের ছিল না। অথচ সংহিতা যুগে, কন্যারা বা ঋষি পত্নীরা যদৃচ্ছ পুরুষের সঙ্গে মিলিত হতো, তখন বিধান ছিল, ঋতুকালে ষোলদিন পরে, মিলনে কোনো দোষ হতো না। এর একটাই অর্থ। ঋতুকাল থেকে ষোলদিন পরে, পুরুষ মিলনে, নারীর সন্তানসম্ভবা হবার ভয় থাকতো না।

    বিষয়টি ভাবতে অবাক লাগে। সেই সংহিতা যুগেও মানুষ জানতে। – স্ত্রী জরায়ুতে, ঋতুকালে যে ডিম্বানুর আবির্ভাব ঘটতো, ঋতু স্নানের দশ দিনের আগেই ডিম্বানুটির মৃত্যু ঘটে। অতএব, তারপরে পুরুষের শুক্রকীট জরায়ুতে প্রবেশ করলেও, ডিম্বানুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে না বলেই সন্তান ধারণেরও কোনো উপায় নেই সংহিতা যুগেই যখন মানুষ এ বিষয়ে জানতো তখন পৌরাণিক কালের মুনি-ঋষিরা কি জানতেন না? জানতেন। সম্ভবতঃ তাদের কন্যারমণের অভিপ্রায় ছিল, সন্তান জন্মদানই। সেদিক থেকে, যে দুজন কানীন পুত্রের কথা এই মুহূর্তেই মনে পড়ছে, আমাদের প্রাচীন ইতিবৃত্তে, তাঁরা বিশাল ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। একজন কুম্ভীর কানীন পুত্র কর্ণ।

    সংহিতা যুগের কন্যারা (কুমারী) স্বতন্ত্রা ছিলেন, এবং যদৃচ্ছ। পুরুষ- সঙ্গ করতে পারতেন, এ চিত্র আমি আগেই দেখে এসেছি। তখন তা সমাজে প্রচলিত ছিল। গোপন করার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে, নতুন যুগে, কুমারীর গর্ভাধান সমাজে দোষণীয় বলে গণ্য হতো। কুন্তীর গর্ভবতী হওয়া তারই প্রমাণ।

    কুমারী অবস্থায় পুরুষের যৌন সাহচর্য ভোগ করার সাহস তাঁর ছিল। আমি আগেই দেখেছি, অন্যান্য কন্যাদের তুলনায়, তাঁর শৈশবটাই শুরু হয়েছিল ভিন্ন ভাবে। দেখতেও ছিলেন বিশেষ রূপশালিনী। এই সংবাদটি নানা দিকে প্রচারিতও ছিল। কুম্ভীর নিজেরও, দেহ মিলনের আকাঙ্ক্ষা বিষয়ে যথেষ্ট কৌতূহল ছিল। ইতিবৃত্তের অস্পষ্টতায়, যা আমি চাক্ষুষ করতে পারছি না, তা হলো তাঁর সেই প্রিয় সূর্যসম ব্যক্তিটি কে? স্বয়ং দুর্বাসা? অথবা স্বর্গ- রাজ্যের এক অধিপতি সূর্য? আমার নিজের মনে একটি বিশ্বাস, নানা কারণেই জন্মেছে। কুন্তীর সেই পুরুষ স্বয়ং দুর্বাসাই ছিলেন। নানা যুক্তি দিয়েও এই সিদ্ধান্তেই আসতে হয়। এবং এই সিদ্ধান্তে আসার, অনেক সংকেতও ঘটনার মধ্য দিয়ে পাচ্ছি।

    কিন্তু এ ক্ষেত্রে কুন্তীর প্রাতঃস্মরণীয়া হবার কী কারণ আছে?

    এই প্রশ্নের সামনে এসেই আমাকে ভবিষ্যতের প্রতি দৃষ্টি দিতে হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে কুত্তী সবেমাত্র যৌবন লাভ করেছেন। আর তেজবহ্নিসম সুপুরুষ তাঁর প্রতি প্রসন্ন। দুর্বাসার মতো ব্যক্তি যে তাঁর প্রতি আসক্ত, এটাও একটা রমণীসুলভ বড় গুণ। কিন্তু ভবিষ্যতেই আমরা জানতে পারবো এ ঘটনার জন্য কেন তিনি প্রাতঃস্মরণীয়া ভারতীয় রমণীগণের মধ্যে গণ্যা হয়েছিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅমৃত কুম্ভের সন্ধানে – কালকূট (সমরেশ বসু)
    Next Article মহাকালের রথের ঘোড়া – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }