Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প219 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রজাপতি – ০৮

    প্রজাপতি – ০৮

    কিন্তু কী, ব্যাপার কী, সকলেরই যেন চোখ জ্বলছে। কেন, সব কি বাঘ হয়ে গেছে নাকি, আমাকে ছিঁড়ে খাবে? বিমলেটা তো ঠিক সে ভাবেই যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কারখানার খাবার ছুটি হয়েছে। তাই অনেকেই বাইরে। ছোটখাটো চায়ের দোকানগুলোকে ঠিক গুড়ের ওপর মাছির মত ছেঁকে ধরেছে। বিমলে—ভাল করে বললে বিমল—বিমল ব্যানার্জি, আসলে বিমলে-ই। ওর চেহারা চরিত্র ফিটার মিস্তিরির কাজ, সব মিলিয়ে, তা ছাড়া আর কিছু না। সেই জন্যেই তো পূর্ণেন্দুদের গরীবদের দলের, ও হল—কী যেন—উস্—কী যেন কথাটা—হ্যাঁ, লড়ান্ধু! আসলে বাড়ুজ্জেদের আকাট মুখখু ছেলে, ছেলেবেলা থেকেই কারখানার কাজে লেগে গিয়েছে। ওর কেরানী বাবা আর দোকানদার দাদা আবার অন্যরকম। তারা সব ভদ্দরলোক, আর বিমলে ছোটলোক। ও হল খাঁটি গরীবদলের লড়িয়ে, দলের মধ্যে ওব খুব খাতির, কেননা, ওদের তো গরীবদের দল, আর বিমলে তেলকালি মাখা হাফপ্যান্ট পরে, তেলকলি মাখা ছেঁড়া জামা গায়ে দেয়, কচর কচর পান চিবোয়, লাল ছোপ ধরা দাঁতে বিড়ি কামড়ে ধরে নাকের পাটা ফুলিয়ে, ও চিৎকার করে বক্তৃতা দেয়, বন্ধুগণ, আমরা সবাই এক। আমরা গরীবরাজ কায়েম করব, শেষ লড়াইয়ের জন্যে আমরা তৈয়ার। ওহরে বাস, কথা শুনলে মনে হয়, করলো বলে, কিন্তু আমি ভাবি, ওরা গরীবদের নিয়ে নিজেরাই যে সব বাত মারে, তার সঙ্গে বিমলের মিল কোথায়। রাত পোহলেই তো তুই নেয়েধুয়ে, পৈতাটাকে ঘস ঘস করে মেজে ঘষে, মন্তর-টন্তর জপে পুজোয় বসিস, প্রসাদ খাস, তোর বউ তোকে পান দেয়, চিবোতে চিবোতে বউকে বলিস, কারখানার ধোঁকড়াগুলোন দাও তো। যার মানে, ওটা হল কারখানার পোশাক, পরে ঠাকুর চললেন কারখানায়, গরীব লড়াকুটি, যে-কারণে ওর বাবা দাদা ওকে রেগুলার সম্মান দিয়ে কথা বলে, অর্থাৎ নেতা তো, পূর্ণেন্দু রমেশের তুলনায় তাদের ছেলে কম কিসে—একদিন হয়তো ভোটে দাঁড়াবে, চাই কী, মন্তীরও হতে পারে—লে হালুয়া! আমি তো জানি ওদের বাড়ির সবাইকে, বিমলেকেও ছেলেবেলা থেকেই চিনি, লড়াকুটির এখন বেজায় গ্যাস, কারখানায় এসে সারাদিন কাজের চেয়ে বেশী বকে, তারপরে বক্তিমে-টক্তিমে দিয়ে, আবার যখন বাড়ি ফিরলেন, তখন তিনি অন্য মানুষ—রোজগেরে ছেলে, নেতা, ইস্তিরি সোয়ামি—ই বাববা, এমনি এমনি নয়, করকরে হাজার টাকা পণ, হাতঘড়ি, সসোনার বোতাম নিয়ে লড়াকুটি বিবাহ করিয়াছেন। একঠো সাইকেল ভি মাঙিয়েছিলেন। মগর শ্বশুর মস্‌সাইয়ের ধকে কুলোয়নি। গরীব নেতাটি বাড়ি ফিরে গিয়ে, ধোয়া-মোছা করে, আদির পাঞ্জাবী পরে, ঘাড়ে গদানে পাউডার মেখে বউকে নিয়ে চললেন সিনেমা দেখতে, পান চিবোতে চিবোতে তখন ও খাঁটি ভদ্দরলোক, কারখানা-টারখানার কথা এখন ছাড়’—রাজকায়েমের লড়াই এখন না—যার মানে, কী যেন বলে একে, সেই কী একটা সুন্দর কথা আছে না—আহ্, সেই যে—হাঁ হ্যাঁ, যাকে বলে, দ্বৈত সত্তা। স্‌সাহ্‌ পানের পিচু। আমি ভাবি, আসল গরীবেরা কি সত্যি ধোকাখোর, তারা এসব বোঝে না। কী জানি বাবা, কিন্তু খচ্চরটা আমার দিকে ওরকম করে তাকিয়ে আছে কেন, যেন পাড়ার কুকুর বে-পাড়ার কুকুরকে দেখে কটমট করে তাকায়, আর গর্‌গর্‌ করে।

    যাবার আগে আমি ইচ্ছা করেই, মোটরবাইক ঘুরিয়ে ওর পাশে একবার দাঁড়াই। এঞ্জিন বন্ধ না করেই, জিজ্ঞেস করি, ‘কী রে ফটিচার। আমাকে দেখিসনি কোনদিন?’

    লড়াক্কুটি সব সময়ে এত লড়াইয়ের কথা বলে, যে-জন্যে আমি ওকে ওই নাম দিয়েছি। ফটিচার—মানে গুল আর বোকাবাজ। ওর চোখ দুটো লাল হয়ে উঠলো। আর পান চিবিয়ে কালো ইয়ে যাওয়া মোটা ঠোঁট দুটো ঠিক ক্ষ্যাপা শুয়োরের মত করে খুলে বললো, ‘দেখছি বৈ কি, তবে তোর দিন ঘনিয়ে এসেছে, ফটিচার কে, সেটা প্রমাণ হয়ে যাবে।’

    ‘তাই নাকি রে?’

    ‘হ্যাঁ, দালালি বেশীদিন চলবে না। গরীবরা তাদের লড়াইয়েই তোর মত দুষমনকে হালাল করবে।‘

    ছত্যি, আ কুতু কুতু। ইচ্ছা হল, ওর গরীবের পোশাক হাফপ্যান্টটা নেড়ে দিয়ে, ছেলেমানুষের মত আদর করে দিই। কিন্তু তা করতে গেলে, ওদের দল এসে পড়বে। একলা পারব না-—হারামজাদা শুটকা, শিবে—ওরা যে কোথায় থাকে! বললাম, আর তুই তো সেই গরীব, না? ব্যাটা লেখাপড়া শিখলি না কেন, তা হলে পূর্ণেন্দু হতে পারতিস। বিমলের মুখটা সত্যি ভয়ংকর হয়ে উঠলো, আমি ওর দাঁতের কিড়মিড়ি পর্যন্ত শুনতে পেলাম, বললো, ‘তোর মত লোচ্চা আর গুণ্ডার কাছ থেকে লেকচার শুনতে চাই না, তোকে আমরা—’

    কথা শেষ করলো না, আর একবার দাঁত কড়মড় করলো, মানে, আমাকে চিবিয়ে খাবে। আমি হেসে শিস দিয়ে মোটরবাইক নিয়ে এগিয়ে চলে যাই, কিন্তু আমার ঘাড়ের পিছনটা কেমন শিরশির করছে, সেইরকম শিউরোনি শিউরোনি ভাব। শিখার কথাগুলো আবার আমার মনে পড়ছে, ‘তুমি সবাইকেই শত্র করে ফেলছ”—তা হবে হয়তো, তা বলে, এইসব ফটিচারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমি চলতে পারব না; আমার চেয়ে ওরা কিসে ভাল! যাক গে, তার কোন দরকার নেই, শিখা যাকে একটা সাধারণ মানুষ বলে, একটা সাধারণ বাঙালী ছেলে—ও যেমন একটা সাধারণ বাঙালী মেয়ে, বিমলে কি তাই! কিন্তু, তা কী করে হবে, সাধারণ লোক তো আর বিমলের মত একটা খচ্চর না। তবে, আচ্ছা, এটাই বা কেমন কথা যে, সাধারণ লোকেরা এদের বা কেশবদের বিশ্বাসই বা করে কী করে। সাধারণ বলতে কি তাই বোঝায়! কিন্তু নিরাপদবাবু—কী বিচ্ছিরি ঘাড়ের কাছে শিউরোনি ভাবটা লেগেই থাকছে, ঠিক যেন, সেই ছেলেবেলায় শ্মশানের পাশ দিয়ে যাবার সময় হত, যেন ভয়ংকর ভয়ংকর ভূতগুলো হাওয়ায় চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অনেকটা যেন সেইরকমই মনে হচ্ছে আমার। শহরের প্রায় বাইরে, একটা রাস্তা দিয়ে আমি বাড়ির দিকে চললাম। এদিকে আমাদের একটা আড্ডা মারবার জায়গা আছে, আর এখানে এসেই দেখলাম, শিবে বসে আছে। এটা একটা চায়ের দোকান—তবে, অন্যান্য জিনিসও পাওয়া যায়। থামিয়ে শিবুকে জিজ্ঞেস করলাম, শুটকাকে দেখেছে কিনা : ও বলতে পারলো না। জিজ্ঞেস করলো, ‘এক পাত্তর চা হবে গুরু?’

    বললাম, ‘হোক। তারপরে একটা বেঞ্চে চিত হয়ে শুয়ে পড়লাম। হাতটা কপালের কাছে তুলে আনতে গিয়ে দেখলাম, দুটো বাজে। আর ঠিক এ সময়েই সেই—

    সেই যে একটা গুরগুরনো ভয়, না, ঘাড়ের কাছে না, আমার ভিতরটা কীরকম করে ওঠে, সেই রকম করে উঠলো অনেকদিন পরে, যে ভয়টা ভিতর থেকে গুরগুরিয়ে উঠলেই, মনে হয় হাত পা অবশ হয়ে যাবে, আর আমি মূছ রুগীর মত পড়ে গিয়ে মাটি খামচে ধরে, মুখ ঘষটাতে থাকবো, ঠিক সেই রকম। ঠিক যেন মনে হল, চারিদিকটা খা খা করছে, আর কে যেন আমার ঘাড় মুচড়ে দিতে আসছে—অথচ আজ এখন তো আমি একলা ঘরে বসে নেই, কয়েকজন তো রয়েছে। আমি লাফ দিয়ে উঠে বসলাম, আর তখনই দেখলাম, আমার সামনে চায়ের গেলাস, সেটাকে হাতের এক ধাক্কায় ফেলে দিয়ে চিৎকার করে উঠলাম, ‘হটাও চা, আমাকে এক পাট মাল দাও দয়ালদা।’

    দয়ালদা, যে এ দোকানের মালিক, তাড়াতাড়ি গদির নিচে থেকে একটা রাম-এর পাট বের করে দিল, এক মোচড়ে মুখটা খুলে, কাঁচাই খানিকটা ঢেলে দিলাম, এক ঢোক, দু ঢোক, তিন ঢোক, চার—পাঁচ–ছ ….। শিবে বলে উঠলো, ‘এই গুরু, ওরকম খাসনি মাইরি, কলিজা ফেটে যাবে।’

    আমিও ওর দিকে একবার তাকালাম, হয়তো কিছু বলতাম, কিন্তু আমার সেই ভাবটা যেন কেটে যাচ্ছিল, গা-টা গরম হয়ে উঠছিল, তবু আমি বোতলের মুখটা আমার মুখে লাগিয়ে বসে রইলাম, একটু একটু খেতে লাগলাম, শিবেটা হা করে তাকিয়ে রইলো, আর দয়ালদা—সত্যি দয়ালু মাইরি, রসের দয়াল, যখন চাইবে, তখনই পাবে, দয়ালদাও আমাব দিকেই চেয়েছিল, আর যে ছোকরাটা চা নিয়ে এসেছিল, সে তো একেবারে দেওয়াল সেটে দাঁড়িয়ে গেছে। আমি বোতলটা মুখ থেকে সরিয়ে, একবার দয়ালদার দিকে তাকালাম। হাস্‌লাম একটু আর বোতালটা শিবের দিকে বাড়িয়ে দিলাম। শিবে বোতলটা নিতে নিতে বললো, ‘কী হল রে গুরু, ওরকম করলি কেন?’

    ‘কী আবার, মাল খেতে ইচ্ছা করলো, তাই।‘

    ‘তাই বলে ওভাবে, তোর মুখটা আর চোখ দুটো দাখ দিকিনি, কী রকম হয়েছে?’

    ‘কী রকম?’

    ‘লাল, আর খুনীর মতন।‘

    ‘খুনীর মতন?’

    কাকে খুন করব, তা তো বুঝতে পারছি না, আজ সকালে, সেই প্রজাপতিটাকে ধরবার সময়, শিখাও বলছিল, আমাকে নাকি খুনীর মত দেখাচ্ছে, আমাকে খালি খুনীব মতই দেখায়। শিবে বাকী মদটা খেতে খেতে বললো, ‘বাড়ি যাবি না? অনেক বেলা হয়েছে।‘

    ‘তুই কোথায় যাবি।’

    ‘বাড়ি।‘

    ‘চল।’

    শিবের বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে বেশী দূরে না। ও মুখটা কুকুরের পাছার মত করে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল। মোটরবাইকে আমার পিছনেই বসলো, এটাই ওর আসল দরকার ছিল, আমি মুখ ফিরিয়ে বললাম, ‘দয়ালদা, দামটা কাল নিও।‘

    দয়ালদা ঘাড়টা দোলালো, জানে, ওর টাকা আমরা বিশেষ ফাঁকি দিই না, তা ছাড়া দয়ালু দাদাটির দাম একটু আলাদা। কিন্তু হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল, ন’কড়ি হালদারের একশো টাকার নোটটা আমার পকেটে রয়েছে-—আশ্চর্য, ভুলেই গিয়েছিলাম। বীণার মুখটা আমার মনে পড়লো, ‘কী করব বীণা, তোর বিয়ের পাসপোর্ট আমি এনে দিতে পারলাম না—পকেট থেকে নোটটা বের করে দয়ালদার দিকে ছুড়ে দিলাম, বললাম, পরে হিসাব হবে। তবু তো মালের জন্যে খরচ হচ্ছে, এ টাকাটা মাটিতে রেখে পেচ্ছাব করতে আরো ভাল লাগতো, কিন্তু তারপরে আবার হাতে করে তুলতে হবে তো। কিন্তু বীণা—মাইরি, সেই বাঙলা পাঁচের মত মুখটা—যাচ্ছেতাই। একটা ছেলে ঘায়েল করতে পারছে না ও। কত মেয়ে তো কত কী করছে! গাড়িটা স্টার্ট দিতেই আমার আবার শিখার কথা মনে পড়লো, যা দিনকাল হয়েছে …. তার মানে কী, সকলের চোখ আমার দিকে বাঘের মতন জ্বলবে! শিবে বলে উঠলো, একটু আস্তে চালা গুরু, কাঁচা মাল টেনে চালাচ্ছিস।

    ‘স্‌লা ভয় লাগে, নেমে যা।‘

    ‘না, তা তোর মত হাত আছে কারুর, তবে—!’

    কথা শেষ করলো না ও—কিন্তু আমি ভাবছি, একটা সাধারণ মানুষ হওয়াটা কি খুব কঠিন? আমার তো যেন তাই মনে হচ্ছে, একটা ভীষণ কঠিন ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে, ঠিক যেন শিখার মুখটা সেই কষ্টের ভাব করে বলার মতন, কেন তুমি একটা সাধারণ ছেলে হলে না। কিছুই তো না, কাজ করা, খাওয়া, ছেলেমেয়ে নিয়ে আর বউ, মানে শিখার মত বউ নিয়ে, নিরাপদবাবুর মত—উহ্রে স্‌সাহ্‌। কী করে তা হব, ভাবতেই পারছি মা! কেননা, আমার মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা যা ভাবছি, ঠিক তা না।

    ‘দাঁড়া।’

    শিবেদের বাড়ি। মোটরবাইকটা দাঁড় করাতেই ও নেমে গেল, আমি এঞ্জিন বন্ধ করে দিলাম, তাই দেখে শিবে বললো, ‘কী হল, বাড়ি যাবি না?”

    ‘না, একটু ঘুমোব তোদের বাড়িতে।‘

    ‘ঘুমোবি? খাবি না?’

    ‘না, খিদে নেই।‘

    আমিই আগে ওদের বাড়ি ঢুকি। এককালে ওদের অবস্থা বেশ ভালই ছিল, এখন হাফ-গেরস্থদের থেকেও খারাপ, ওর বোনই তো মঞ্জরী! প্রকাণ্ড এই পুরনো বাড়িটা ওদের নিজেদেরই, বোধ হয় দেড়শো দুশো লোক আছে—ভাড়াটে না, ওরা নিজেরাই, অবিশ্যি অত লোক নাও হতে পারে, আমার মনে হয়। শিবে বোধহয় এখন আমাকে মনে মনে গাল দিচ্ছে—দিক গে স্‌লা, তোর খালারে তো ভাগ বসাতে যাচ্ছি না, আমি চিৎকার করে বললাম, ‘মঞ্জরী, আমাকে এক গেলাস খাবার জল দিও তো ‘ বলে শিবের অন্ধ কুঠরিটাতে ঢুকে পড়লাম। স্‌সাহ্‌, ব্যাঙও থাকে না এরকম ঘরে, একটা তক্তপোষ পর্যন্ত নেই, খালি মাদুর আর কাঁথা মেঝেয় পাতা। গিয়েই চিত হয়ে পড়লাম, আর একটু পরেই মঞ্জরী এল একটা ফাটা কাচের গেলাসে জল নিয়ে। গেলাসটা ধরে, খাবার আগেই, মঞ্জরীর শাড়ির আঁচলটা ধরলাম—যে কাপড়টা থেকে কাপড়-কাচা সাবান আর তেলের বিচ্ছিরি গন্ধ বেরুচ্ছে, তারপর খেলাম। মঞ্জরী আঁচলটা টেনে বললো, ‘কী করছেন, দাদা আসবে।‘

    ‘আসুক গে, দাদা কি জানে না!’

    মঞ্জরীর যেন হঠাৎ খেয়াল পড়ে, বলে, ‘এ কি, খেয়ে এসেছেন নাকি?

    ‘কী?’

    ‘কী আবার। যা খান, গন্ধ বেরুচ্ছে।‘

    আমি মঞ্জরীর দিকে তাকালাম। সাবান আর তেল মেশানো চকচকে শাড়িটার মধ্যে শুধুমাত্র ব্রেসিয়ার। কোলের কাছে ওকে টেনে নিলাম—এরকম অনেকবারই নিয়েছি, শিবেও জানে, আর মঞ্জরী তো জানেই। আমি শিখাকে কখনো কিছুই দিইনি, কিন্তু ওকে প্রায়ই দিই, যা পারি জিনিসপত্র, কাপড়চোপড়, টাকা-পয়সা, যখন যা পারি, কিন্তু শিখাকে কোনদিন দিইনি। শিখা চায়নি আমিও দিইনি—ওকে কিছু দেবার কথা মনে হলেই আমার ঘাড়টা যেন কেমন বেঁকে যায়, ‘না, থাক’ এইরকম মনে হয়। মঞ্জরীকে দিই, ও চায়, ওকে আমি দিই, অনেকেই দেয়, শিখাকেও হয়তো অনেকে দেয,আমি দিই না। মঞ্জরীকে আমি দিই, ও আমাকে দেয়, অথচ শিখাকে আমি দিই না, শিখা আমাকে দেয়, সেইজন্যে আমি ওদের মেলাতে পারি না, আমি কখনো মঞ্জরীকে মারতে পারি না, থাপ্পড় বা ওইরকম কিছু, কিন্তু শিখাকে মেরেওছি। মঞ্জরীকে আমার শুধু ডলতে পিষতে কাতুকুতু দিতে ইচ্ছা করে, শুতে ইচ্ছা করে, এখনো তাই করতে লাগলাম : ওর গা-টা ঠাণ্ডা, ভেজা ভেজা, জলে ভেজানো বলের মতন। ও এখন চান করে এসেছে, তাই বললো, এইমাত্র চান করে উঠেছি। তা হোক, ওকে আমি আটকে রাখব না, এখুনি ছেড়ে দেব,–কিন্তু এই মেয়েটার এই এক বিচ্ছিরি, মুখে কী রকম উনুনের ছাই ছাই গন্ধ। তা হোক গে, ওকে কাঁথার ওপরে টানলাম। ও কী বুঝলো, বললো, ‘দাঁড়ান, দরজাটা দিয়ে আসি।‘

    তাই এল, আমি ওকে টেনে নিয়ে বললাম, ‘তোমার ঠাণ্ডা গা-টা খুব ভাল লাগছে। আচ্ছা, তুমি একটা বে-থা করতে পার না, মানে সাধারণ মেয়েরা যা করে—!’

    মঞ্জরী বললো, ‘দাঁড়ান, আমার চুলে টান লাগছে।‘

    চুলটা ছাড়িয়ে নিতে আবার বললাম, ‘বে-থা করে ঘর-সংসার যদি কর।‘

    ও বললো, ‘খুব খেয়েছেন নাকি? ‘

    ‘না। আচ্ছা, এখন সেটা তোমার পক্ষে খুব শক্ত, না?’

    ‘আমি একটু খেয়ে আসি, কেমন? আড়াইটা বেজে গেছে।‘

    ‘আচ্ছা, যাও।‘

    আমার গা-টা যেন নরম হয়ে এলিয়ে পড়ে গেল, আর চোখটা বুজে কোথায় তলিয়ে যেতে লাগলাম, আর কী আশ্চর্য, দেখলাম, প্রজাপতিটা দেওয়াল ঘেষটে ঘেষটে পড়ছে, শিখা শব্দ করে উঠলো, ‘ইস্‌!’…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগঙ্গা – সমরেশ বসু
    Next Article মন ধোয়া যায় না – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    সওদাগর – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }