Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – বিনয় ঘোষ

    বিনয় ঘোষ এক পাতা গল্প391 Mins Read0
    ⤷

    বাঙালি সদাগরশ্রেণি – বিনয় ঘোষ

    বাঙালি সদাগরশ্রেণি ইতিহাসের এক বিচিত্র রহস্য ও প্রহেলিকা হয়ে রয়েছেন। বাংলার সামাজিক ইতিহাসের অনুসন্ধিৎসু ছাত্ররা এ কথা অস্বীকার করতে পারেন না। অর্থনীতি ও সমাজনীতির ছাত্রদের উচিত এই প্রহেলিকার সমাধান করা। কিন্তু সমাধান আপাতদৃষ্টিতে যতটা সহজ মনে হয়, আসলে তত সহজ নয়। যে—কোনও কঠিন ‘ক্রসওয়ার্ড পাজল’—এর চেয়েও কঠিনতর এ বাঙালি সদাগরদের ‘পাজ্ল’। সাহিত্যের ছাত্ররা জানেন, বাংলা সাহিত্যের কতটা অংশ জুড়ে বাঙালি সদাগরশ্রেণী বিরাজ করছেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান নায়ক বাঙালি সদাগর। লোকসাহিত্যেও সদাগরদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। প্রশ্ন বা প্রহেলিকা এই যে বাংলার সমাজজীবনে বাঙালি সদাগরদের এরকম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সেই বাঙালি সদাগরশ্রেণি পরবর্তীকালে পুঁজিপতি বা শিল্পপতি শ্রেণিতে পরিণত হতে পারলেন না কেন? যে বিরাট মূলধন তাঁরা বংশানুক্রমিক ব্যবসায়ের ফলে সঞ্চয় করেছিলেন সেই মূলধন কোন রন্ধ্র নিয়ে কোথায় উবে গেল এবং কেন গেল? কেন তাঁরা পুঁজিবাদী যুগে প্রধানত দালাল ও দোকানদারের স্তরে নেমে এলেন? বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা অনুশীলন করলে এই ধরনের অনেক প্রশ্ন মনে জাগে, যার সদুত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না। এইজন্যই বাঙালি সদাগরশ্রেণির ইতিহাসকে প্রহেলিকা বলেছি।

    পশ্চিমবাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে এ প্রশ্ন আমার মনে সম্প্রতি বিশেষভাবে জেগেছে। বাংলার সদাগরসমাজের অতীত ঐশ্বর্য ও সমৃদ্ধির বিস্তৃত ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে ভাগীরথীর পশ্চিমে রাঢ়দেশে। বাংলার অন্যান্য অঞ্চলে যে নেই তা নয়, কিন্তু বর্তমান বর্ধমান ও হুগলি—হাওড়া জেলায় যেরকম আছে, সেরকম আর কোথাও নেই। বণিকপ্রধান এমন বহুগ্রাম এসব অঞ্চলে এখনও আছে, যার অতীত সমৃদ্ধির স্মৃতি দেখলে আজও অবাক হয়ে যেতে হয়। এখন শুধু এইটুকু বলা প্রয়োজন যে বাঙালি সদাগরশ্রেণির ঐতিহাসিক প্রহেলিকা ভেদ করতে পারলে কেবল যে একটা সামাজিক সমস্যারই সমাধান হবে তা নয়, বাংলার একটা অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রহেলিকারও সমাধান হবে। অর্থাৎ বাংলার সদাগরি প্রহেলিকা কেবল সামাজিক প্রহেলিকা নয়, সাংস্কৃতিক প্রহেলিকাও। আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির সংঘাত ও সমন্বয়ে বাঙালি সদাগরশ্রেণি যে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছেন, বাংলার মঙ্গলকাব্যে ও লোকসাহিত্যে তার প্রচুর প্রমাণ আছে। বাংলার কোন অঞ্চলে সদাগরশ্রেণির বিকাশ ও প্রতিষ্ঠা হয় জানতে পারলে, বাংলার চণ্ডীপূজা, মনসাপূজা ও শিবপূজার আদিকেন্দ্রের, অথবা প্রাধান্যকেন্দ্রের আভাস পাওয়া যেতে পারে। এই কারণে সদাগরশ্রেণির প্রহেলিকাকে সাংস্কৃতিক প্রহেলিকাও বলা যায়।

    বাঙালি সদাগরশ্রেণির প্রাচীনতা

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    ডিজিটাল বই
    PDF
    অনলাইন বুকস্টোর
    Books
    গল্প, কবিতা
    নতুন বই
    PDF বই
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা সাহিত্য

     

    বাঙালি সদাগরশ্রেণির প্রাচীনতা সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে প্রাচীন ইতিহাসের আলোচনা করতে হয়। এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। তবু যতটা সম্ভব সংক্ষেপে এপ্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করব। বাংলার সদাগরদের প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে বাংলা দেশের আর্যীকরণের (Aryanisation) ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ সুবর্ণবণিক গন্ধবণিক তাম্বূলীবণিক প্রভৃতি যেসব বিভিন্ন বণিকজাতি নিয়ে বাঙালি সদাগরশ্রেণি গঠিত তাঁরা কেউ প্রাগার্য জাতির আধুনিক বংশধর নন। নৃতাত্ত্বিক মানদণ্ডে তাঁদের দৈহিক গড়নের বিচার করলে অন্তত তা—ই মনে হয়। দেড় হাজার দু—হাজার বছরের ইতিহাসে সব জাতির মধ্যেই যেমন মিলন—মিশ্রণ হয়েছে, বণিকজাতির মধ্যেও তেমনি হয়েছে। বৈজ্ঞানিকের কাছে অবিমিশ্র বিশুদ্ধ জাতির অস্তিত্ব পৃথিবীর কোনওদেশেই নেই, আমাদের দেশেও নেই। বিশুদ্ধ জাতিস্মরতন্ত্রের ‘সংস্কার’ অশিক্ষা ও কুশিক্ষাজনিত কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়। আমাদের দেশের লোকের অস্থিমজ্জায় আজও এই কুসংস্কার আছে। বর্ণাশ্রমপন্থীরা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে এমন এক জাতি—নিউরসিসের সৃষ্টি করেছেন আমাদের দেশে, যা উপড়ে ফেলতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে হয়। সে যা—ই হোক, আমাদের দেশের বণিকদের কথা বলি।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা কৌতুক বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বইয়ের
    বাংলা অডিওবুক

     

    প্রাচীন ইতিহাসে বণিকদের কথা বৈদিক যুগ থেকেই পাওয়া যায়। প্রাক—বৈদিক যুগেও সমাজে বণিকশ্রেণি ছিল বলে মনে হয়। অন্তত সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন থেকে বোঝা যায় যে ব্যবসায়ী শ্রেণি তখনও ছিল। বৈদিক যুগেও ছিল। বৈদিক সাহিত্যে বণিকদের বাণিজ্যযাত্রার কথা আছে। বৌদ্ধ যুগেও সে বণিকশ্রেণির বেশ প্রতিপত্তি ছিল, বৌদ্ধ সাহিত্যের মধ্যে তার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে বাংলা দেশের বণিকশ্রেণি সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না। বৈদিক যুগের বণিক বাংলা দেশ পর্যন্ত এসেছিলেন কি না তা বলা যায় না। আসতেও পারেন, না—ও আসতে পারেন, এলেও আসে—যায় না কিছু। কারণ, এসে তাঁরা বাংলা দেশে যে বসবাস করতেন, তা মনে হয় না। আমাদের প্রশ্ন হল, বাংলা দেশে বণিকরা কবে থেকে নিয়মিতভাবে আনাগোনা ও বসবাস করতে আরম্ভ করলেন? কবে থেকে তাঁরা বাংলার গ্রাম্য সমাজে স্বতন্ত্র গোষ্ঠী ও শ্রেণি হিসেবে নিজেদের স্থান করে নিলেন? নদীমাতৃক বাংলা দেশের আদি বাসিন্দাদের মধ্যে জলের ও স্থলের শিকারিরা এবং কৃষিজীবীরাই প্রধান ছিল। পশুপালকরাও ছিল। তাদের মধ্যে জিনিসপত্রের লেনদেন যে ছিল না তা নয়। কিন্তু সেইসব আদিম কৌমসমাজে বৃত্তি হিসেবে বাণিজ্যকে গ্রহণ করে যে স্বতন্ত্র একটি শ্রেণি বিকাশ হয়েছিল, তা মনে হয় না। আজও আমাদের দেশের সাঁওতাল বা অন্যান্য আদিবাসীদের মধ্যে স্বতন্ত্র বণিকশ্রেণির বিকাশ হয়নি দেখা যায়। উৎপাদকরা (Producer) নিজেরাই তাদের উৎপন্ন পণ্যদ্রব্যের লেনদেন করে হাটবাজারে। আদিম কৌমসমাজের এইটাই বিশেষত্ব। মধ্যবর্তী একটি বণিকশ্রেণির বিকাশের সেখানে কোনও সুযোগ নেই। বাংলা দেশের আর্যপূর্ব সমাজেও ছিল না এবং বণিকশ্রেণির স্বতন্ত্র বিকাশ তখন হয়নি। পূর্ব ভারতে ও বাংলা দেশে আর্যদের আগমনের সময় থেকে ধীরে ধীরে বণিকশ্রেণির বিকাশ হতে থাকে।

     

    আরও দেখুন
    PDF বই
    পিডিএফ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    Library
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বই
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই

     

    পূর্ব ভারতে আর্যরা প্রথম আসেন বিদেহতে বা মিথিলায় (উত্তর বিহারে)। মিথিলা থেকে আর্য সংস্কৃতির বিস্তার হয় উত্তরবঙ্গে, মগধে বা দক্ষিণ বিহারে এবং প্রাগজ্যোতিষে বা আসামে। বাংলা দেশ যে মগধের নন্দ ও মৌর্য রাজাদের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায়; খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ থেকে দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত তাঁরা রাজত্ব করেন। গ্রিক ঐতিহাসিকরা পাটলিপুত্রের এই রাজাদের প্রাচী ও গঙ্গারিড়ির (গঙ্গারাঢ়ের) রাজা বলেছেন। গঙ্গারিড়ি বা গঙ্গারাঢ়ের মধ্যে যে রাঢ়দেশ ছিল তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মৌর্য যুগ থেকেই বাংলার আর্যীকরণ আরম্ভ হয় এবং তখন থেকেই মনে হয় আর্যসমাজভুক্ত বণিকরা বাংলা দেশে নিয়মিতভাবে আনাগোনা ও বসবাস করতে শুরু করেন।১ প্রধানত নদনদীর তীরেই তাঁরা বসতি স্থাপন করেন এবং ধীরে ধীরে বন্দর ও বাণিজ্য—নগর গড়ে তোলেন। যেসব বন্দর ও বাণিজ্য—নগর তাঁরা গড়ে তোলেন তার মধ্যে তাম্রলিপ্তি বা তমলুক সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ।

    গুপ্ত যুগে বাংলা দেশের আর্যীকরণ আরও অনেক সম্পূর্ণ হয়। গুপ্ত রাজারা শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের পশ্চিম থেকে নিয়ে এসে ভূমিদান করে বাংলা দেশে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন। সমুদ্রগুপ্ত দিগবিজয়ে বাংলা দেশেও এসেছিলেন। অনেকে মনে করেন যে মহাকবি কালিদাস রঘুর দিগবিজয় কাহিনির মধ্যে সমুদ্রগুপ্তর দিগ্বিজয়েরই ইঙ্গিত করেছেন। কালিদাসের ‘রঘুবংশ’ থেকে জানা যায় যে তখন বাংলা দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ—পূর্ব অঞ্চলের নৌবাহিনী বিখ্যাত ছিল। গুপ্ত যুগের শাসনব্যবস্থায় দেখা যায় যে ব্যাঙ্কার ও বণিকদের বিশেষ স্থান আছে। ভুক্তির শাসনকার্য চালাতেন উপরিক, নির্বাচিত প্রতিনিধিমণ্ডলীর সাহায্যে।২ এই প্রতিনিধিমণ্ডলী বা শাসন—পরিষদের নাম ছিল ‘অধিষ্ঠানাধিকরণ’। এই শাসন—পরিষদের সভ্যসংখ্যা ছিল চারজন—

     

    আরও দেখুন
    লেখকের বই
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা সাহিত্য
    রেসিপি বই
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    PDF বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ

     

    নগরশ্রেষ্ঠী, অর্থাৎ ব্যাঙ্কার বা শেঠদের প্রতিনিধি

    প্রথম সার্থবাহ, বা বণিকসমাজের প্রতিনিধি

    প্রথম কুলিক, বা উৎপাদক—শিল্পীদের প্রতিনিধি

    জ্যেষ্ঠ কায়স্থ, বা রাষ্ট্র দপ্তরের চিফ সেক্রেটারি

    চারজনের মধ্যে তিনজন সমাজের অর্থনৈতিক স্তরের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধি। তার মধ্যে একজন হলেন নগরশ্রেষ্ঠী বা ব্যাঙ্কার। শ্রেষ্ঠীর বা শেঠের প্রতিনিধিত্ব থেকে বোঝা যায় যে সমাজে ব্যাঙ্কিং বা মহাজনি কারবার বেশ রীতিমতো চালু ছিল এবং শেঠদের বেশ প্রতিপত্তিও ছিল। অবশ্য প্রতিপত্তিটা অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি। প্রতিনিধিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠী ছাড়াও ‘প্রথম সার্থবাহ’ বা বণিকসমাজের একজন প্রতিনিধি থাকতেন। শুধু ব্যাঙ্কার বা মহাজনের নয়, বণিকদের প্রতিনিধিরও বিশেষ স্থান ছিল শাসন—পরিষদে। এর থেকে বণিকশ্রেণির স্বাতন্ত্র্য ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার পরিচয় পাওয়া যায়। এ ছাড়া, উৎপাদকশিল্পীদের প্রতিনিধি থাকতেন। তাঁকে ‘প্রথম কুলিক’ বলা হয়। কৃষিপ্রধান সমাজে এরকম কৃষিবর্জিত পেশার তিনজন প্রতিনিধি শাসন—পরিষদে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতির ইতিহাসের অনুসন্ধিৎসু ছাত্ররা এর মধ্যে চিন্তা করবার অনেক খোরাক পাবেন। পণ্য উৎপাদন ও বাণিজ্য সম্পর্কে গুপ্ত যুগের শাসকরা যে বিশেষ সজাগ ছিলেন, তা এই প্রতিনিধি নির্বাচন থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়। গুপ্ত যুগে এই কারণে বাণিজ্যের বিস্তার হয়েছিল যথেষ্ট এবং বণিকশ্রেণির প্রাধান্যও বেড়েছিল। বাংলার প্রাচীন বন্দরে বন্দরে এইসময় বেশ সুসমৃদ্ধ বাণিজ্য—নগরও গড়ে উঠেছিল মনে হয়। এইসময়কার একটি বাণিজ্য—নগরের কথা আমরা চীনা পর্যটকদের বৃত্তান্ত থেকে জানতে পারি, তাম্রলিপ্তি বা তমলুকের কথা। তাম্রলিপ্তি প্রসঙ্গে চীনা পর্যটকরা বণিকদের কথাও উল্লেখ করেছেন। হুয়েন সাং তমলুকের লোকদের রীতিমতো ধনী বলেছেন। ‘কথাসরিৎসাগর’—এও তমলুকের ধনী ব্যবসায়ীদের লঙ্কা ও সুবর্ণদ্বীপের সঙ্গে ব্যবসায়ের কথা আছে। তাম্রলিপ্তি থেকে সুবর্ণভূমির বাণিজ্যপথ ছিল সমুদ্রের উপর দিয়ে, আরাকান ও বর্মা হয়ে। এই পথে মালয় ও সুদূর প্রাচ্য পর্যন্ত বাঙালি সদাগররা বাণিজ্যযাত্রা করতেন। দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দে টলেমিও এই বাণিজ্যপথের কথা জানতেন। পঞ্চম শতাব্দীতে ফা—হিয়েন তাম্রলিপ্তিতে আসেন বাণিজ্যতরিতে এবং তাম্রলিপ্তি থেকেই সিংহল হয়ে চীনে ফিরে যান। সপ্তম শতাব্দীতে তমলুক থেকে মালয় উপদ্বীপ পর্যন্ত রীতিমতো বাণিজ্যতরি যাতায়াত করত।৩ দক্ষিণ—পূর্ব ছাড়াও, দক্ষিণ—পশ্চিমে বাণিজ্যের আর—একটি জলপথ ছিল তমলুক থেকে। কলিঙ্ক ও কারোম্যাণ্ডাল উপকূল দিয়ে দক্ষিণ ভারত ও সিংহল পর্যন্ত এই পথে বাঙালি সদাগররা যাতায়াত করতেন। জাতকের গল্পে, পেরিপ্লাস গ্রন্থে, প্লিনির লেখায় এই পথের উল্লেখ আছে। এ ছাড়া চীনা পর্যটক আইসিং তমলুক থেকে পশ্চিম দেশে বাণিজ্যযাত্রার স্থলপথের কথা উল্লেখ করে গিয়েছেন। আইসিং বলেছেন যে তাম্রলিপ্তি থেকে স্থলপথে যখন তিনি বুদ্ধগয়ায় গিয়েছিলেন তখন শত শত বণিকও তাঁর সহযাত্রী হয়েছিলেন।৪

     

    আরও দেখুন
    ডিজিটাল বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বুক শেল্ফ
    Library
    বই
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন

     

    এইসব প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, গুপ্ত যুগে বাংলার বাণিজ্যের বিশেষ উন্নতি হয় এবং বাঙালি সমাজে সদাগররা রীতিমতো প্রতিষ্ঠালাভ করেন। গুপ্ত যুগের পর পাল যুগে ও সেন যুগে বাণিজ্যের আরও দ্রুত ক্রমোন্নতি হয় এবং বণিকরাও রীতিমতো প্রতিপত্তিশালী শ্রেণিতে পরিণত হন। নদনদীর তীরে তীরে, তমলুক ছাড়াও আরও অনেক স্থানে তাঁরা বন্দর ও বাণিজ্য—নগর গড়ে তোলেন। মনে হয়, প্রধানত রাঢ়দেশের বা পশ্চিমবঙ্গের নদনদীর তীরেই বাঙালি সদাগরদের বসতি ও পত্তনগুলি গড়ে ওঠে। দামোদর, অজয়, সরস্বতী ও ভাগীরথী—এই কয়টি প্রধান নদনদী ও তাদের শাখাপ্রশাখার তীরেই বাঙালি বণিকদের প্রাচীন বসতি স্থাপিত হয়। এ অনুমান ঐতিহাসিক যুক্তিসহ, কারণ ভাগীরথীর পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম বণিকশ্রেণি বাণিজ্যের উদ্দেশে আনাগোনা করতে থাকেন মগধ থেকে। ভাগীরথীর প্রবাহ তখন আরও পশ্চিম—দক্ষিণমুখী ছিল এবং ক্রমেই পূর্বদিকে এই প্রবাহ সরে গিয়েছে। দামোদর, অজয় ও সরস্বতীও তখন অনেক বড় ও বিস্তৃত নদনদী ছিল। বড় বড় বাণিজ্যতরি যাতায়াত করত এই নদীপথে। বর্তমানের খড়্গেশ্বরী, কানা নদী, কানা দামোদর ইত্যাদি তখন বেশ প্রশস্ত নদী ছিল। দামোদরও পূর্ব থেকে ক্রমে পশ্চিমে সরে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে এইসব নদনদীর তীরে, বর্ধমান ও হাওড়া—হুগলী জেলায় যেরকম বণিকপ্রধান বসতির ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়, এরকম আর অন্য কোথাও দেখা যায় না। অতীতের এইসব বণিকপ্রধান বসতির চিহ্ন দেখলে আজও বোঝা যায়, একসময় এইসব গ্রাম ও নগর বাঙালি সদাগরদের সম্পদে কীরকম সুসমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছিল। দামোদর ও অজয় নদের তীরে, ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে, সরস্বতীর তীরে, কানা নদী, কানা দামোদর, খড়্গেশ্বরী বা খড়ি নদীর তীরে, বাঙালি বণিকদের সুসমৃদ্ধ বসতির যেরকম ধারাবাহিক স্মৃতিচিহ্ন দেখা যায়, এবং যা বাংলা দেশের আর কোনও অঞ্চলে এমনভাবে দেখা যায় না, তাতে মনে হয় বাঙালি সদাগরশ্রেণির প্রথম স্থিতি, প্রতিষ্ঠা ও ক্রমবিকাশ প্রধানত পশ্চিমবাংলার এই অঞ্চলেই হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে ঘন ঘন বৈদেশিক অভিযান হয়েছে, হিন্দু যুগ থেকে মুসলমান ও খ্রিস্টান যুগ পর্যন্ত। তার ফলে যে রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, অনেকসময় তা বাণিজ্যের অনুকূল নয় বলে সদাগররা পশ্চিম থেকে পূর্ব তীরে, বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গিয়েছেন। এ ছাড়া ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও বণিকশ্রেণির অবনতি ও দেশত্যাগের অন্যতম কারণ। পশ্চিমবঙ্গের নদনদীর বৈপ্লবিক গতিপরিবর্তন হয়েছে। তার ফলে নদীতীরবর্তী বণিকবসতি ও বাণিজ্য—নগরের সমৃদ্ধি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বড় বড় ইমারত—অট্টালিকার ধ্বংসাবশেষ নিয়ে অসংখ্য জনশূন্য একদা—বণিকপ্রধান গ্রাম আজও পশ্চিমবঙ্গের নদনদীর তীরে তার নির্বাক সাক্ষীরূপে বিরাজ করছে।

     

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বইয়ের তালিকা
    উপন্যাস সংগ্রহ
    গল্প, কবিতা
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড

     

    মধ্যযুগের সাহিত্যে বণিকদের কথা

    হিন্দু যুগের পর মুসলমান যুগেও যে বাঙালি সদাগরদের সমৃদ্ধি ও প্রতিপত্তি যথেষ্ট ছিল, তার পরিচয় মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পাওয়া যায়। মঙ্গলকাব্যে ও চৈতন্য—সাহিত্যে পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত বাঙালি সদাগরশ্রেণির সমৃদ্ধির যে পরিচয় পাওয়া যায় তা লক্ষণীয়। বিপ্রদাসের ‘মনসাবিজয়’ কাব্যে চাঁদবেনের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা আছে :

    গন্ধেশ্বরী প্রণমে বরিল সাবধানে
    অনেক ছাগল করিয়া বলিদানে।
    সনকারে প্রবোধ করিয়া নৃপবর
    শুভক্ষণে বুহিত্র মেলিল নরেশ্বর।
    দ্বিতীয় মেলিল ডিঙ্গা নামে সর্বজয়া
    দু’লক্ষ তঙ্কার দ্রব্য তাহাতে ভরিয়া।
    তৃতীয় মেলিল ডিঙ্গা নামে জগদ্দল
    বারো বরিষের ধরে তণ্ডুল সম্বল।
    চতুর্থ মেলিল ডিঙ্গা নাম সুমঙ্গল
    যার রূপে দুই কূলে হইল উজ্জ্বল।
    পঞ্চমে মেলিল ডিঙ্গা নামে নবরত্ন
    যার রূপ দেখিতে দেবের হয় যত্ন।
    অষ্টমে মেলিল ডিঙ্গা নামে চিত্ররেখা
    জার ধনে আদি অন্ত নাই লেখা জোখা।
    সপ্তমে মেলিল ডিঙ্গা নামে শশিমুখী৫
    বহুদূর হইতে যার ছইঘর দেখি।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    রেসিপি বই
    বইয়ের
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ডিকশনারি
    Books
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    PDF
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

     

    বৃন্দাবনদাসের ‘চৈতন্যভাগবত’—এ সপ্তগ্রামের বণিকদের কথা আছে। নিত্যানন্দ বণিকদের ঘরে ঘরে কীর্তন করে বেড়িয়েছিলেন।৬

    সপ্তগ্রামে প্রতি বণিকের ঘরে ঘরে।
    আপনে শ্রীনিত্যানন্দ কীর্তন বিহারে।।
    বণিক সকল নিত্যানন্দের চরণ।
    সর্বভাবে ভাবিলেন লইয়া শরণ।।

    মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ধনপতি ও শ্রীমন্ত সদাগরের উপাখ্যানের কথা সকলেই জানেন। ধনপতির পিতৃশ্রাদ্ধের আয়োজন, কুটুম্বসমাগম ও বণিকদের মধ্যে সম্মানপ্রাপ্তির জন্য বিবাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বণিকসমাজের প্রসার ও প্রতিপত্তির যে বিস্তৃত পরিচয় পাওয়া যায়, তা বিস্ময়কর বললেও অত্যুক্তি হয় না। ধনপতিধামে প্রায় সাতশত বণিকের সমাগম হয়েছিল, প্রধানত বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলি জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে।

     

    আরও দেখুন
    বাইশে শ্রাবণ
    নতুন বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বই পড়ুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা সাহিত্য

     

    একে একে বণিকের কত কব নাম।
    সাতশত বেণে আইসে ধনপতিধাম।।

    বণিকসভায় কে বেশি সম্মান পাবেন তা—ই নিয়ে যে বিবাদ আরম্ভ হয়, তাতে দেখা যায় :

    যেকালে বাপের কর্ম কৈল ধূসদত্ত।
    তাহার সভায় বেণে হৈল ষোল শত।।

    ধনপতির পিতৃশ্রাদ্ধে সাতশত বণিকের সমাগম হয়েছিল এবং ধূসদত্তর পিতৃশ্রাদ্ধে ষোলোশত বণিকের। সকলেই পশ্চিমবঙ্গের বণিক এবং প্রধানত বর্ধমান ও হুগলি—হাওড়া জেলাতেই অধিকাংশের বাস।

    মঙ্গলকাব্যে বাঙালি বণিকদের ঐশ্বর্য ও ধনসম্পদেরও পরিচয় পাওয়া যায়। বিপ্রদাস বলেছেন যে চাঁদ সদাগরের সর্বজয়া ডিঙাতে দু—লক্ষ টাকার পণ্য ভরা ছিল—’দ্বিতীয় মেলিল ডিঙ্গা নামে সর্বজয়া, দু’লক্ষ তঙ্কার দ্রব্য তাহাতে ভরিয়া।’ সাতখানি ডিঙার সাত রকমের নাম—নরেশ্বর, সর্বজয়া, জগদ্দল, সুমঙ্গল, নবরত্ন, চিত্ররেখা, শশিমুখী। ডিঙাগুলির ডিজাইন বা আকার কেমন ছিল জানা যায় না। পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন মন্দিরের গায়ে কয়েক রকমের নৌকার চিত্র দেখা যায়—পোড়ামাটির ইটের উপর উৎকীর্ণ। বাংলার নদনদীতে এই ধরনের নৌকা যে চলাচল করত তাতে সন্দেহ নেই। সব নৌকাতেই যে পণ্যের পসরা যেত তা নয়, লোকলশকরও যেত সঙ্গে। চাঁদ সদাগরের সাতটি ডিঙ্গার মধ্যে একটিতেই যদি দু—লক্ষ টাকার জিনিস থাকে, তাহলে সাতটিতে মোট কত লক্ষ টাকার জিনিস ছিল তা অনুমান করা কঠিন নয়। এত টাকা মূল্যের জিনিস নিয়ে কোনও সদাগরই একা সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রা করতেন না। জলদস্যুর উৎপাত ছিল তখন যথেষ্ট। সঙ্গে ডিঙারক্ষী নিয়েই তাঁরা বাণিজ্যযাত্রা করতেন। বাণিজ্যের মুনাফা থেকে যে তাঁরা কি পরিমাণ ধন সঞ্চয় করেছিলেন তা চাঁদ সদাগরের পণ্যের বহর দেখেই বোঝা যায়।

     

    আরও দেখুন
    বই ডাউনলোড
    গ্রন্থাগার
    Library
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্য
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    ধন মানে কুলে শীলে চাঁদ নহে বাঁকা।
    বাহির মহলে যার সাত মরাই টাকা।।

    —কবিকঙ্কণ

    ধনপতির শ্বশুরও লক্ষপতি সদাগর ছিলেন।
    সাধুর শ্বশুর আইল নামে লক্ষপতি।
    নানাধন লয়ে আইসে সাধুর বসতি।।

    —কবিকঙ্কণ

    ষোড়শ, সপ্তদশ, এমনকী অষ্টাদশ শতাব্দীতেও দেখা যায়, বাঙালি সদাগররা বেশ প্রচুর পরিমাণে ধনসঞ্চয় করেছিলেন। প্রশ্ন হল, শত শত বৎসর ধরে বাণিজ্য করে বংশপরম্পরায় ধনসঞ্চয় করেছেন যে দেশের সদাগরশ্রেণি, সে দেশে ইংরেজ আমলের আগে পর্যন্ত কেন নতুন ধরনের পণ্যোৎপাদন পদ্ধতিপ্রচলিত হল না, নতুন যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হল না, এবং ইংরেজ আমলেও কেন তাঁদের ভিতর থেকে আধুনিক যুগের পুঁজিপতির বিকাশ হল না বেশি। প্রশ্ন খুবই জটিল এবং উত্তরও সহজ নয়।

     

    আরও দেখুন
    নতুন বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বুক শেল্ফ
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    অনলাইন বুকস্টোর
    উপন্যাস সংগ্রহ
    পিডিএফ
    লাইব্রেরি
    রেসিপি বই

     

    বাণিজ্যের সম্পদ ও জাতীয় প্রগতি

    এ প্রশ্নের উত্তর যত দূর সম্ভব সংক্ষেপে দেবার চেষ্টা করব। বরং কোন পথ ধরে অনুসন্ধান করলে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, তারই ইঙ্গিত করব বলা চলে। কারণ অর্থনীতির কিছুটা জটিল তত্ত্বকথা সবিস্তারে আলোচনা না করলে, এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়াও সম্ভব নয়। এখানে তার অবকাশ নেই বলে সংক্ষেপে ইঙ্গিত করছি। বাণিজ্য প্রসঙ্গে সবচেয়ে বড় কথা হল, বাণিজ্যলব্ধ সম্পদ আর জাতীয় সম্পদ (National Wealth) এক নয়। কথাটা হেঁয়ালি মনে হবে, কিন্তু হেঁয়ালি নয়। দেশের মুষ্টিমেয় বণিকশ্রেণি বাণিজ্য করে যতই ধনসঞ্চয় করুন, তাতে দেশের সম্পদ বৃদ্ধি হয় না। কেন হয় না? কারণ বণিকশ্রেণি নিজেরা পণ্যদ্রব্য উৎপাদন করেন না, উৎপন্ন পণ্য নিয়ে লেনদেন করেন, কেনাবেচা করেন। দেশের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য উৎপাদন—পদ্ধতির (Mode of Production) পরিবর্তন প্রয়োজন, নতুন পদ্ধতিতে নানাবিধ পণ্যের উৎপাদন প্রয়োজন। শুধু ব্যবহার্য পণ্যের নয় (Consumption goods), উৎপাদনযন্ত্রেরও উদ্ভাবন প্রয়োজন। পুঁজিপতিরা (Capitalists) উৎপাদন—পদ্ধতির পরিবর্তন করে উৎপন্ন দ্রব্যের বৈচিত্র্য বাড়ান, বাজার প্রসারিত করেন। তাই পুঁজিবাদী উৎপাদনব্যবস্থায় জাতীয় সম্পদ বাড়ে। কিন্তু বণিকরা (Merchants)  তা করেন না, বণিগবৃত্তির (Mercantilism) সঙ্গে তার কোনও সম্পর্কও নেই। সংকীর্ণ অনগ্রসর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে বাণিজ্যের বিস্তার হলে অনেকসময় দেখা যায় যে সেই সংকীর্ণতা আরও কায়েমি হয়। বাংলা দেশেও তা—ই হয়েছে। প্রাচীন সমাজে বাণিজ্যলব্ধ মূলধন বৃদ্ধির ফলে কীভাবে দাসব্যবস্থা কায়েম হয়েছে, কার্ল মার্কস সে কথা উল্লেখ করেছেন। মার্কস বলেছেন, ‘In the antique world the effect of commerce and the development of merchant capital always results in slave economy.৭ বাংলা দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদন—পদ্ধতি প্রাচীন সামন্ততান্ত্রিক পদ্ধতিই ছিল, মৌর্য ও গুপ্ত যুগ থেকে ব্রিটিশ যুগের গোড়া পর্যন্ত তার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। সংকীর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে বাণিজ্যের প্রসারের ফলে সেই সংকীর্ণতা আরও বেশি কায়েমি ও দৃঢ়মূল হয়েছে। বাঙালি সদাগররা বাংলার গ্রাম্য সমাজকে যত দূর সম্ভব সংঘবদ্ধ ও সুনিয়ন্ত্রিত করে নিজেদের বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদনের কাজে নিয়োগ করেছেন। কোনও নূতন উৎপাদন—পদ্ধতি তাঁরা উদ্ভাবন করেননি। তার ফলে মার্কস কথিত ‘antique world’—এ যেমন বণিকের মূলধন বৃদ্ধির ফলে ‘slave economy’—র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তেমনি বাংলা দেশেও ধনপতি সদাগরেরা ‘আত্মনির্ভর গ্রাম্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’কে বদ্ধমূল করেছিলেন। সেটা ভেঙে ফেলে নতুন ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে পারেনি।

     

    আরও দেখুন
    PDF বই
    লাইব্রেরি
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    Library
    গল্প, কবিতা
    অনলাইনে বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বইয়ের তালিকা

     

    এই হল আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রথম কারণ। দ্বিতীয় কারণ হল, ধনসঞ্চয় (Saving) অর্থনৈতিক প্রগতির অনুকূল নয়। ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির জন্য যে সঞ্চয় করা হয় তার কোনও অর্থনৈতিক বা সামাজিক মূল্য নেই। যা উৎপাদনের জন্য বা ভোগের জন্য নিয়োগ বা ব্যয় করা হয়, সেই সঞ্চয়ের সামাজিক মূল্য আছে। আমাদের দেশে চিরকাল ব্যক্তিগত ধনসঞ্চয়ের দিকেই মানুষের লক্ষ্য বেশি। তাই চাঁদ সদাগরদের ‘সাত মরাই টাকাও’ দেশের জাতীয় সম্পদ বাড়াতে পারেনি।

    তৃতীয় কারণ হল, লেনদেন মাধ্যম (Medium of Exchange) হিসেবে টাকাপয়সার বেশি প্রচলন ছিল না আমাদের দেশে। টাকাপয়সার অসম্ভব দুষ্প্রাপ্যতার (Scarcity) জন্য সুদের হার (Rate of Interest) ছিল অত্যন্ত বেশি। প্রাচীন হিন্দু যুগ থেকে ব্রিটিশ যুগ পর্যন্ত যদি আমাদের দেশের ‘সুদের হার’ যাচাই করে দেখা যায় তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। প্রাচীন হিন্দুধর্মশাস্ত্রে বিভিন্ন রকমের সুদের হার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।৮ তাতে সুদের যে পরিমাণ হার দেখা যায় তা ভয়াবহ বললে অন্যায় হয় না। সুদের এই উৎকট হার ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আমাদের দেশে টাকাপয়সার দুষ্প্রাপ্যতার জন্য বজায় ছিল। তার জন্য মূলধন বিনিয়োগের বা উৎপাদনবৃদ্ধির কোনও প্রেরণাও উৎপাদক বা ব্যবসায়ীরা পাননি। বাণিজ্যের ফলে বাইরে থেকে প্রচুর পরিমাণে টাকাপয়সা (সোনা) আমাদের দেশে আমদানি হলেও, আমাদের নগদ সোনা বা টাকা সঞ্চয়ের বাসনা চিরকাল এত বেশি যে তার ফলে সমাজে টাকাপয়সারও দুষ্প্রাপ্যতা কোনওদিন কমেনি এবং সুদের হারও কমেনি। কিনস ভারতবর্ষ সম্বন্ধে এই কথাটি অতি সুন্দরভাবে বলেছেন : ৯

    The history of India at all times has provided an example of a country improverished by a preference for liquidity amounting to so strong a passion that even an enormous and chronic influx of the precious metals has been insufficient to bring down the rate of interest to a level whch was compatible with the growth of real wealth.

    ভারতের ক্ষেত্রে যা সত্য, বাংলার ক্ষেত্রেও তা মিথ্যা নয়। বাংলার ধনপতি ও চাঁদ সদাগরেরা যথেষ্ট ধনসঞ্চয় করেও তাই ইংরেজ আমলের আগে নতুন কোনও যুগের প্রবর্তন করতে পারেননি। তাঁদের ব্যক্তিগত সঞ্চিত ধন অনেকসময় অযোগ্য বংশধরদের বিলাসিতায় উবে গেছে। ইংরেজ আমলে তাঁরা ইংরেজ বণিক—শাসকদের কূটবুদ্ধিতে খুব সহজেই মধ্যবর্তী দালাল ও মধ্যশ্রেণির দোকানদারে বা আড়তদারে পরিণত হয়েছেন। যাঁরা কিছু দূর অগ্রসর হয়েছিলেন, কলকারখানার দিকে নজর দেবার আগেই ইংরেজরা তাঁদের নতুন জমিদারি কিনিয়ে নব্যযুগের জমিদারি করে দিয়েছেন। রঙ্গতামাসা ও বিলাসিতা করে আড়তদারি ও দালালির সঞ্চিত ধন তাঁরা ফুঁকে দিয়েছেন। তারপর দীর্ঘকাল ইংরেজ আমলে জমিদারি চালিয়ে বাঙালি বণিকদের জমিদারি প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে উঠেছে। নতুন শিল্পোৎপাদনে মূলধন নিয়োগের দুঃসাহস বা সৎসাহস তাঁদের নেই। আজও সেকালের মহাজনি মনোভাব ও সুদের কারবার তাঁরা অনেকেই ছাড়তে পারেননি। আজও সমস্ত শিক্ষাদীক্ষা সত্ত্বেও বাঙালি ধনিকরা হাড়েমজ্জায় ফিউডাল যুগের ধনিক, বুর্জোয়া যুগের ধনিক নন। বাঙালির জাতীয় অবনতির এ—ও একটা অন্যতম প্রধান কারণ। মর্মান্তিক ও করুণ হলেও অস্বীকার করার উপায় নেই।

    ১৯৫২।

    .

    ১. প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে ও উত্তরবঙ্গে এবং পরে মধ্য ও পূর্ববঙ্গে আর্যদের প্রভাব ক্রমেই বাড়তে থাকে—’With the infiltration of Magadhan settlers, merchants, soldiers, officials and agriculturists, and Brahmanas, Sramanas and Yatis, to minister to the religious needs of the Brahmanists, Buddhists ad Jains and also to bring within the fold of Aryan or Upper Indian religion and culture the non-Aryan tirbes of the land. (History of Bengal, Dacca University, Vol. 1, p. 373)

    ২. R. D. Banerjee: The Age of Imperial Guptas, Ch. p, II

    ৩. R. C. Mazumdar : Subrnadwipa: Vol. 1, p. 7, Vol II. p. 350

    ৪. Takakusu’s I-tsing p. 31

    ৫. শ্রীসুকুমার সেন সম্পাদিত বিপ্রদাসের ‘মনসাবিজয়’ কাব্য এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ধৃতি এই সংস্করণ থেকে নেওয়া।

    Vipradasas Manasa-Vijaya : Ed. by Dr. Sukumar Sen (Bibliotheca India Series) p. 142

    ৬. চৈতন্যভাগবত : অন্তখণ্ড, ৫ম অধ্যায়

    ৭. Karl Marx : Capital, Vol. III, p. 390

    M. Dobb : Studies in the Development of Capitalism, Chaps. 2 & 3

    ৮. P. V. Dane : History of Dharmasastra. Vol. III, pp. 417-430

    ৯. J. M. Keynes : The General Theory of Employment, chap. 23, p. 337

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকাদম্বরী – বানভট্ট
    Next Article মেট্রোপলিটন মন মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ – বিনয় ঘোষ

    Related Articles

    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ২ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    জনসভার সাহিত্য – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার বিদ্বৎসমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ১ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }