কতকগুলি হিয়ালী এবং প্রহেলিকা
১।
অনন্ত ধরিল ফণা সঙ্করের মাথে,
চক্রবর্ত্তী থুইলেন পাথর ল্যাজেতে।
অন্ধকের অন্ধ সেবা করে দিবারাতি,
সময়ে সময়ে ছিদ্রে দিয়ে থাকে কাঠি।
অষ্টাঙ্গ থাকিতে তার মধ্যে দেয় ফল,
পর্ব্বত বিদর্যে যেন পড়িতেছে জল।
উঃ। কলঘানী।
২।
অনলেতে জন্ম তার নলে করে ভর,
জলের ভিতরে থাকে কপটি অন্তর।
এক জীব মারে আর এক জীব পোষে,
কবিবর হিয়াঁলীর ছন্দে যাহা ঘুষে।
উঃ। বড়িশী কাঁটা
৩।
অনল সমান ক্ষেতি নাহি তাতে চাষ।
তাতে নাহি কাদা পানি নাহি তাতে ঘাস,
তাহাতে বুনিলে শস্য় হয় তো প্রচুর,
হেঁয়ালীর ছন্দে কবিকঙ্কনের সুর।
উঃ। ভাজা খোলা ও ভাজাশশ্য।
৪।
অশ্ব নয় রজ্জু নয় নাহি তার পা,
চালায় সারথি রথ, পশারিয়া পা,
বায়ুবেগে সে বিমান ঘুরে শীঘ্র গতি।
রথের উপরে কভু না বশে সারথি।
উঃ। কুম্ভকারের চক্র।
৫।
ঈশ্বর নির্ম্মিত ঘর নাহি তার দ্বার।
তাহার ভিতরে থাকে ঋষির কুমার।
বলিষ্ঠ হইলে পুত্র ঘর চুর্ণ করে,
কবিবর বলে যাহা হিঁয়ালীর সুরে।
উঃ। তােসরগুটী।
৬।
কাট মাটি আর ফল তিনে এক তনু,
উপরে রবির তাপ শিরে চিত্রি ভানু।
দুনয়নের মধ্যে থাকে দময়ন্তির পতি,
হিঁয়ালীর ছন্দে রচি বলে ভিখে তাঁতি।
উঃ। হুঁকা।
৭।
গণ্ডার সমান বীর শিরে খড়্গধর।
মাথাতে জটার ভার দুই চক্ষু ডাগর,
কুলার মত ল্যাজ তার হাতির মত ঘাড়।
ভিতরেতে মাংস তার উপরেতে হাড়।
উঃ। চিঙ্গড়ি মাছ।
৮।
জল মধ্যে জন্ম বটে নগর মধ্যে বাস।
জন্মিয়ে মাতার দুগ্ধ না করিল আস,
হেন পুত্র অদ্ভূৎ, মাতার পার্শ্বে মরে পুত্।
উঃ। লবণ।
৯।
জল মধ্যে জন্ম বটে নহে কুম্ভমীন্
ত্রিকোণ শরীর তার মধ্যে একচিন্।
যাত্রাকালে নাম তাহা যাত্রা ভাল হয়,
হিঁয়ালীর ছন্দে কবিকঙ্কনে যা গায়।
উঃ। “র”।
১০।
নাক, মুখ, চক্ষু আছে ইথে নহি ভ্রান্ত,
সর্ব্বাঙ্গ শরীর আছে কিন্তু নাই দন্ত,
প্রথমে মানুষ খেত এই কালে নয়,
হিঁয়ালীর ছন্দে কবিকঙ্কনে যা গায়।
উঃ। সর্প খোলস্।
১১।
পঙ্কেতে জন্মতার মরিলে সে ডাকে।
গায়েতে ছাল নাই বিধির বিপাকে।
উঃ। সঙ্খ।
১২। বিধাতার সৃষ্টি দেখ একি চমৎকার।
গর্ব্ভেতে শরীর তার অপূর্ব্ব সংসার।
উঃ। ঝিনুক বা শামুক।
১৩।
বিষম চাকরী যার তর নাহি পায়,
গুনি নয় জ্ঞানী নয় সারাদিন গায়,
হিরে নয় মানিক নয় সারারাত জলে।
কবিকঙ্কন বলে তাহা হেঁয়ালীর ছলে।
উঃ। গাম্ছা।
১৪।
বিঘৎ পরিমাণ গাছটী ছাতার মত পাতটী।
যে জানে কলটী সেই তুলে ফলটী।
উঃ। কুম্ভকারের চক্র ও ঘাট।
১৫।
প্রথম প্রহরে প্রভু ঢেঁকি অবতার,
দ্বিতীয় প্রহরে প্রভু ধনুকেটংকার।
তৃতীয় প্রহরে প্রভু কুকুর কুণ্ডলী,
চতুর্থ প্রহরে প্রভু বেন্যার পুট্টলী।
উঃ। নিদ্রামগ্ন শরীর।
১৬।
ছিলাম যখন শিশুকালে তখন মেরেছিস্ আপন বলে,
এখন যদি মারিস মােকে তবে বলি মর্দ্দ তােকে।
উঃ। মাটীর পাত্র।
১৭।
রাজাও নয় বাদশাও নয় চড়ে যায় কাঁধে,
চোর নয় ডাকাৎ নয় ধরে আনে বেঁধে,
মূষীক নয়, ইন্দুর নয় দাঁতে কাটে মাটী,
দিঘী শরোবর নয় মধ্যে এক জাঠি।
উঃ। নাঙ্গল।
১৮।
লম্ফে লম্ফে যায় বীর, দুটী পা ঘােড়া,
মুখেতে কাবারী থাকে নহে সে ঘােড়া,
খাওয়াইলে খায় বিস্তর না দিলে না খায়,
হেঁয়ালীর ছলে কবিকঙ্কনে তা গায়।
উঃ। ঢেঁকি।
১৯।
শনক পুরে ঘর তার নাম সনাতন,
পৌষ মাস এলে পুষ্প করে বরিষণ,
চৈত্র মাস হলে পর শিরে ধরে জটা,
কবিকঙ্কন বলে তাহা খেতে বড় মিঠা।
উঃ। শজিনা ফুল ও ফল।
২০।
কাননে জন্ম হয় ত্রিভঙ্গ সুঠান,
বুকেতে আবৃত শুল মুখে একবান,
দূর দূর শব্দ করে সুরভী বাহনে,
হিয়ালীর ছন্দে কবিকঙ্কনে তা ভনে।
উঃ। হাল ফাল এবং হেল্যা গোরু।
২১।
মহল ভিতরে থাকে নয় কারো নারী,
সূর্য্যের কিরণ সহেনা অতি সুকুমারী,
বৃদ্ধ কালে অতি মিষ্টী তরূণেতে সিঠা,
কবিকঙ্কনে বলে ইহা খেতে বড় মিঠা।
উঃ। পাকা পান।
২২।
রাত্রিতে জনম যার দিবসে মরণ,
যে ঘরেতে জন্ম পায় সেই ঘরে ক্রন্দন,
শন হেঁয়ালীর ফন্দি মুর্খ কি বুঝিবে,
পণ্ডিতের পক্ষে যাহা সহজ হইবে।
উঃ। সিঁদ কাটা।
২৩।
দু অক্ষরে জন্ম যার সর্ব্ব লােকে খায়,
প্রথমের আকার গেলে শুনে লাগে ভয়।
দু অক্ষরে আকার দিলে দেহােপরি রাখি,
তদুপরি ‘তা’ দিলে আদর করে ডাকি।
উঃ। জাম, জম, জামা।
২৪।
ছিল মুঢ়ি হইল সাপ,
কবি বলে কি হইলরে বাপ।
উঃ। শজিনা ফুল ও ডাঁটা
২৫।
ছুঁছের মত মুখতার করাতের ধার,
শিব নয়, সৈন্যাসী নয়, মাথায় জটার ভার।
পার্ব্বতীর পতি নয় ভস্ম মাখে গায়।
হিঁয়ালীর ছন্দে কবিকঙ্কনে তা গায়।
উঃ। কেতকী ফুল।
