Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রেমের গল্প – নিমাই ভট্টাচার্য

    নিমাই ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প304 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রাইভেট প্রাকটিশ

    প্রাইভেট প্রাকটিশ

    ডেরাডুন শহরটাকে পিছনে রেখে এগিয়ে যান চাক্ৰাতার রাস্তা ধরে। ধীরে ধীরে মানুষের ভিড় পাতলা হয়ে আসবে আর দূরের মুসৌরী পাহাড়টা আরো স্পষ্ট মনে হবে। ঐ যে কি একটা সিনেমা হলের কাছাকাছি কংক্রীটের ছোট্ট পুলটা পার হলেই ডেরাড়ুন শহরটাকে আর দেখা যাবে না।

    আরো এগিয়ে যান। বেশি না, দুএক মাইল এগিয়ে গেলেই দূরের ফরেস্ট অনেকটা কাছে এগিয়ে আসবে। তারপর ছোটোখাটো দুটোএকটা কলকারখানা পড়বে। দাঁড়াবেন না। আরো একটু এগিয়ে যান। এই মাইলখানেক আর কি! ফাঁকা চাক্ৰাতা রোডের ওপর ছোটোখাটো দুচারটে দোকান চোখে পড়বে। চাপানবিড়িসিগারেটের দোকান। একটা দোকান থেকে বিবিধ ভারতীয় পচা হিন্দি গান আপনার কানে আসবে। কিছু লোককে আড্ডা দিতে দেখবেন। তবুও দাঁড়াবেন না।

    এ বল্লুপুর পিছনে ফেলে সামান্য কয়েক পা এগিয়ে গেলেই এফআরআই ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক নম্বর গেট। খাকি উর্দি পরা রামবাহাদুরকে পাহারা দিতে দেখবেন। যদি প্রাইভেট গাড়ি করে যান, থামতে হবে না। আর যদি ট্যাক্সি বা অটো রিকশা করে যান, একটু থামুন। রামবাহাদুর একটা হলদে রঙের ছেঁড়া খাতা আর দেড় ইঞ্চি লম্বা একটা পেন্সিল এগিয়ে দেবে। ঐ খাতায় ট্যাক্সি বা অটোরিকশার নম্বর লিখে একটা দস্তখত দিন।

    বল্লুপুরের এই গেট থেকে প্রায় মাইলখানেক দূরে এফআরআইএর কেন্দ্রবিন্দু। কলকাতায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের পিছনের ছোট্ট রাস্তাটাকে লাভার্স লেন বলে না? পদ্মপুকুরের ওদিকেও একটা ছোট্ট রাস্তার নাম লাভলক প্লেস। আসলে এফআর আইএর এই রাস্তাটাই প্রেমিক-প্রেমিকাদের উদ্দেশ্যেই নিবেদিত হওয়া উচিত ছিল। সত্যি কি সুন্দর এই রাস্তাটা! দুপাশে এফ-আর-আই এর নিজস্ব রিজার্ভ ফরেস্ট। ঐ ফরেস্টের মাঝখান দিযে পিচের রাস্তাটা লজ্জায় এঁকে বেঁকে পালিয়ে গেছে সেন্ট্রাল বিল্ডিংএর ওদিকে।

    দুপাশে অত সুন্দর ফরেস্ট যে শুধু কিছু কোকিল ছাড়া আর কেউ থাকতে পারে না। হ্যাঁ, আর আছে কিছু বৌ কথা কও পাখি! এফআরআইএর এই ছোট্ট নিজস্ব শহর নিউ ফরেস্টে যারা বেশিদিন থাকেন, তাঁরা সাইকেল, মোটর, ট্যাক্সি বা অটো রিকশা করেই এই রাস্তা দিয়ে চলে যান। এই বিজননির্জন বনানীর আকর্ষণ তাদের নেই। কোকিলের ডাক বা বৌ কথা কও তাদের কানে যায় কিন্তু প্রাণে দোলা দেয় না।

    কিন্তু নতুন যারা আসেন তারা বল্লুপুরের গেটে এসে ট্যাক্সি বা অটোরিকশা থেকে নেমে পড়েন। এই বনবীথিকা দিয়ে ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে যান নিউফরেস্টের ঐ বাংলোগুলোর দিকে।

    নিউ ফরেস্টের অফিসারের দল সপরিবারে এই রিজার্ভড় বেস্টে আসেন মাঝে মাঝে। বছরে দুতিনবার। তবে কোকিলের ডাক শুনতে নয়, পিকনিক করতে। মধু গন্ধে ভরা মৃদু মিছায়া নীপকুঞ্জে তলে বসে বসে লুচিআলুর দমচিকেনকারি আর চাটনি খাওয়া হয়। ফরেস্ট এদের কাছে মনের খোরাক নয়, ল্যাবরেটারির উপাদান মাত্র।

    .

    ব্যতিক্রম শুধু ডাক্তার।

    ডাঃ বোধিসত্ত্ব ব্যানার্জী।

    ডাঃ ব্যানার্জী মাঝে মাঝেই আপন মনে ঘুরে বেড়ান এই শ্যামল বনানীর নির্জন পথে পথে। কোকিলের ডাক শোনেন, বৌ কথা কও পাখি খুঁজে বেড়ান গাছের ফাঁকে ফাঁকে, লতাপাতার আড়ালে।

    নিউ ফরেস্টের কোনো অফিসারকে দেখলে ডাক্তার লজ্জা পান। ভীষণ লজ্জা পান। নিজের মনকে নিজেই লুকোতে হিমসিম খেয়ে যান। একটু সামলে নিয়ে বলেন, কী করব বলুন মিঃ সরকার? নিউ ফরেস্টের যে বাড়িতেই যাই না কেন, সেখানেই একটা একটা রুগী দেখতে হয়। প্রেসক্রিপশন লিখতে হয়। সব সময় কি ভালো লাগে?

    একটু থেমে, একটু হেসে ডাক্তার বলেন, তাইতো মাঝে মাঝে সময় পেলে এদিকে একটু ঘুরতে আসি। এখানে কেউ প্রেসক্রিপশন লিখতে বলে না।

    মিঃ সরকার হো হো করে হেসে উঠে ছড়ি ঘোরাতে ঘোরাতে এগিয়ে যান ওদিকে। মনে মনে ভাবেন, ছোঁকরা বয়স, তারপর এইতো সেদিন এলোয় আরো কিছুদিন থাকলে এসব কবিত্ব কোথায় পালিয়ে যাবে।

    ডাক্তারের ভাবতে অবাক লাগে। সত্যি নিউ ফরেস্টের মানুষগুলো যেন কেমন কেমন! নিউ ফরেস্টের মধ্যে এবা কি আশ্চর্যভাবে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়। এত বড় হিমালয়ের কোলে থেকেও এদের জীবন কত সীমাবদ্ধ। সকাল সাড়ে নটা আর বিকেল সাড়ে চারটের সাইরেনের পরও এরা মুক্তি পায় না, মুক্তি পেতে পারে না, মুক্তি পেতে জানে না। সন্ধ্যার পর একটুআধটু মজলিস বসে, কিন্তু সেখানেও ট্রান্সফার প্রমোশনইনক্রিমেন্টের গল্প। অথবা টুরের কথা। অথবা পুরনো অফিসারের নিন্দা।

    মেয়েরা?

    নিউ ফরেস্টে মেয়ে কোথায়? মিঃ মুখার্জীর দুটি মেয়ে ছাড়া নিউ ফরেস্টে মেয়ে নেই, সবাই বিবাহিতা, সবাই গৃহিণী। সাড়ে সাতটার মধ্যে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে স্বামীকে ব্রেকফাস্ট দিতে দিতেই সকালবেলার মেয়াদ শেষ হয়। তারপর স্বামীকে লাঞ্চ খাইয়ে ছেলেমেয়েদের তদারক করতে করতেই সাড়ে চারটের সাইরেন বিকট আর্তনাদ করে বেজে ওঠে। স্বামীকে চা দিতে না দিতেই সূর্য নিউ ফরেস্ট থেকে পালিয়ে যায়। তারপর আবার সংসার, চাল-ডাল-আটা-ময়দার কোরাস।

    সন্ধ্যার পর একটু মেলামেশা। একটু গল্পগুজব। হয়তো বা একটু হাসিঠাট্টাতামাসা। তারপর নিউ ফরেস্ট ঘুমিয়ে পড়ে। একটি একটি করে বাংলোর আলোগুলো নিভে যায়। ঘুমিয়ে পড়ে সবাই।

    সবাই?

    না, সবাই না। মিঃ মুখার্জীর ড্রইংরুমে দুটি একটি ব্যালির মৌমাছি মধুর গন্ধে অথবা কিছু খোস গল্প করে অনেক রাত অবধি। আর ফরেস্ট কলেজের হোস্টেলের পাশের বাংলোয় মিঃ পটাশকারের ড্রইংরুমে আলো জ্বলে। তবে বড় আলোটা নয়, ছোট আলোটা। নাইট ল্যাম্পটা। হোয়াইট হর্সের শেষ বিন্দু গলায় ঢেলে দেবার পর নাইট ল্যাম্পটাও আর নজরে পড়ে না।

    তারপর নিউ ফরেস্টে ঘুমিয়ে পড়ে। সবাই ঘুমিয়ে পড়ে?

    .

    না। স্বামীর পাশে শুয়ে থাকেন কিন্তু ঘুম আসে না অমিতাবৌদির। দূরের মুসৌরী পাহাড়ের আলোগুলো যেন হাতছানি দিয়ে অমিতাবৌদিকে ডাকে। নিউ ফরেস্টের ঐ বন্দিনী জীবনে ঐ দূরের আলো কত মিষ্টি, কত মনোরম, কত প্রিয়, কত আকর্ষণীয় মনে হয়। দূরের মুসৌরী পাহাড়ের আলোর মালার মতো ডাক্তারের হৃদয়দীপের আলোও যেন অমিতাবৌদিকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

    ডাক্তার?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, ডাঃ বোধিসত্ত্ব ব্যানার্জী। আমাদের ডাক্তার। নিউ ফরেস্টের মেডিক্যাল অফিসার।

    আশ্চর্য হবার কি আছে? অমিতাবৌদি মানুষ। রক্তমাংসের মানুষ। আঠারো বছরে ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন থেকে আইএ পাস করার পর স্বামীর হাত ধরে প্রথম যেদিন নিউ ফরেস্টে এসেছিলেন, সেদিন তার চোখে ছিল অনেক আশা, ছিল অনেক স্বপ্ন। মধ্যবিত্ত বাঙালি ঘরের সব শিক্ষিতা মেয়েই যেমন স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের। শিক্ষিত ভদ্র ছেলের সঙ্গে বিয়ে হলে স্বপ্ন দেখবে না? নিশ্চয়ই দেখবে কিন্তু ঐ লাল বেনারসীর মেয়াদ যে কত সীমিত তা ভাবতে পারে না স্বপ্নাতুর ভরাযৌবনাদের দল। স্বামীর একটু ছোঁয়া, একটু স্পর্শ, একটু আদর, একটু আলিঙ্গন মেয়েদের দেহে বন্যা আনে, মনে স্বপ্ন আনে।

    তারপর?

    তারপর বিনাইঞ্জিনের গ্লাইডারের মতো হঠাৎ আকাশে ভাসতে থাকে, উড়তে থাকে। মাটির পৃথিবী থেকে একটু উপরে গিয়েই পাগল হয় সদ্যবিবাহিতা, সদ্যপ্রস্ফুটিতার দল। কিন্তু বিনাইঞ্জিনের গ্লাইডার কতক্ষণ উড়বে? নেমে আসে মাটিতে, মাটির পৃথিবীতে। বারো বছর আগে এমএসসি পাস স্বামীর সঙ্গে যেদিন অমিতাবৌদি হাওড়া থেকে ডুন এক্সপ্রেসের কুপেতে চড়েছিলেন, তখন মনে করেছিলেন হাতে স্বর্গ পেলেন।

    স্বর্গ?

    স্বর্গ বৈকি। বৈঠকখানায় তিনখানা ঘরের বাড়িতে পাঁচ ভাইবোন আর বাবামা। মিত্র স্কুলের মাস্টারি আর দুটো টিউশনিব পঞ্চাশ টাকার মধ্যে সাতটি প্রাণীর সংসার

    ৪৮

    চলত। থামত না ঠিক কিন্তু বনগাঁ লোকালের মতো থামতে থামতে হাঁপাতে হাঁপাতে কোনোরকমে চলত। কলকাতার বারো আনা লোকের সংসার যেমন চলে, অমিতাবৌদিদের সংসারও ঠিক তেমনি চলত। পাঁচপাঁচটি ভাইবোনকে স্কুলকলেজে পড়াতেই বাবার জান বেরিয়ে যেত।

    সখ-আনন্দ? মীর্জাপুরের প্রতিমাদের বাড়ি যাওয়াই ছিল একমাত্র আনন্দ। প্রতিমাদের বাড়ির ছাদে উঠে একটু দূরের আকাশ দেখাই ছিল অমিতাবৌদির নিত্যকার চিত্তবিনোদনের একমাত্র সূত্র। আর কদাচিৎ কখনও এক টাকা চার আনা দিয়ে পূরবীতে সিনেমা দেখা।

    ম্যাট্রিক পাস করে কলেজে ভর্তি হবার পর দৃষ্টিটা একটু পালটে গিয়েছিল। মনে রঙ লেগেছিল। দেহের গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে মঞ্জরী দেখে অমিতাবৌদি নিজেই চমকে উঠেছিল। আশপাশের সবার থেকে নিজেকে একটু স্বতন্ত্র, একটু অনন্যা মনে হয়েছিল।

    নিজেকে নিজের ভালো লাগত। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখার সুযোগ কোথায়? তাইতো ঐ সিঁড়ির তলার কলকাতায় স্নান করতে গিয়ে অমিতাবৌদি নিজেকে দেখত। ভালো করে দেখত। সর্বাঙ্গ দেখত। অকারণে হাসি ফুটে উঠত নিজের মুখে।

    আমহার্স্ট স্ট্রিট-মীর্জাপুর দিয়ে কলেজে যাবার সময় শুদ্ধানন্দ পার্কের কাছাকাছি প্রায়ই দেখা হত অশোকদার সঙ্গে। ছোটবেলার বন্ধু মিতালীর দাদা অশোক। ইউনিভার্সিটির ছাত্র। অমিতাবৌদির সঙ্গে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু তবুও শ্ৰদ্ধানন্দ পার্কের কাছে এসে অশোকদার সঙ্গে ঐ দেখাটুকুই ভালো লাগত। তখন যে ভালো লাগার বয়স।

    কলেজের অন্য অনেক মেয়ের জীবনে বসন্ত এসেছিল। ওদের বসন্তে ভ্রমরগুঞ্জনের কথা শুনত অমিতাবৌদি। ভালো লাগত উপন্যাসের নায়িকাঁদের জীবনকাহিনি শুনতে। হয়তো লুকিয়ে লুকিয়ে তারও মনে মনে ইচ্ছা হতো নায়িকা হতে। ভালোবাসতে, ভালোবাসা পেতে। বহুর থেকে দূরে গিয়ে অনন্যা হতে।

    .

    সুধীরবাবুর সঙ্গে যেদিন ডুন এক্সপ্রেসে চাপল, তখন সে অনন্যা হয়েছিল। দুটি রাত্রের সে সফর যেন অনন্যার অভিষেক হয়েছিল। দেহে, মনে নতুন ঐশ্বর্যের স্বাদে ভরে উঠেছিল অমিতাবৌদির জীবন। জোয়ারের জল যে একদিন সরে যাবে, ভরা নদী যে একদিন শুকিয়ে যাবে, সেদিন অমিতাবৌদি ভাবতে পারেনি। কেউই পারে না।

    দিনে দিনে, তিলে তিলে সুধীরবাবু যেন ল্যাবরেটরির মাইক্রোস্কোপের মধ্যে হারিয়ে গেলেন। সাড়ে নটা আর সাড়ে চারটের সাইরেনের মধ্যে মাইক্রোস্কোপের তলায় গাছের সেল পরীক্ষা করতে করতে অমিতবেদির মনের সেল দেখতে ভুলে গেলেন। সুখী, সাধ্বী অমিতাবৌদির জন্মের সঙ্গে সঙ্গে অনন্যা অমিতাবৌদির মৃত্যু হল। রঙিন নিউ ফরেস্ট হারিয়ে গেল। চিরকালের জন্য হারিয়ে গেল। স্বামীর দায়িত্ব, কর্তব্য, ভালোবাসার ফাঁক দিয়ে কবে, কখন কেমন করে হারিয়ে গেল অমিতাবৌদি নিজেও তা টের পেল না।

    সুধীরবাবু কি পালটে গেছেন? বিন্দুমাত্র না। পৃথিবীর অন্য সব স্বামীর মতো তিনিও ছন্দা পড়াশুনা সেরে ঘুমিয়ে পড়লে অমিতাবৌদিকে কাছে টেনে নেন। আদর করেন, ভালোবাসেন। রাতের অন্ধকার আরো গাঢ় হলে, নিউ ফরেস্ট ঘুমিয়ে পড়লে সুধীরবার অমিতাবৌদিকে আরো আরো অনেক কাছে টেনে নেন। ডুবে যান, হারিয়ে যান অমিতাবৌদির মধ্যে! তাও কি রোজ? সপ্তাহে দুএকদিন। ঐ দুএকদিনই সুধীরবাবু আবার সেই বারো বছর আগের ডুন এক্সপ্রেসের যাত্রী হন।

    অমিতাবোদির ভালো লাগে। বেশ ভালো লাগে। ডুন এক্সপ্রেসের কুপেতে চড়তে তার বড় আনন্দ হয়, বড় তৃপ্তি লাগে। কিন্তু ঐ রাতের অন্ধকারে যখন ডুন এক্সপ্রেস থেমে যায়, যখন একটি সপ্তাহের মতো সিগন্যাল ডাউন না পেয়ে ডুন এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে থাকে, তখন অমিতাবৌদির কানে ঐ সর্বনাশা কোকিলেব ডাক ভেসে আসে। হয়তো শ্ৰদ্ধানন্দ পার্কের মোড়ের আশোকদার কথা মনে পড়ে। হয়তো মনে মনে সন্দেহ হয়, একি ভালোবাসা? নাকি কর্তব্য? অভ্যাস? নাকি শুধু প্রয়োজন?

    ঠিক বুঝতে পারে না অমিতাবৌদি। ভাবে সবারই কি এক ইতিহাস? সবাই কি শুধু অভ্যাস-কর্তব্য-প্রয়োজনের ত্রিসীমানার মধ্যে বন্দিনী? এর চাইতে বেশি কি পাওয়া যায় না? এর চাইতে বেশি পাবার কি অধিকার নেই? প্রয়োজন নেই?

    অমিতাবৌদি চায় অনন্যা হতে। স্বপ্ন দেখে তার স্পর্শ, তার ভালোবাসা, তার হাসি, তার চোখের দৃষ্টি মাতাল করবে, পাগল করবে তার প্রাণের পুরুষকে। আর আর সেই প্রাণের পুক দায়িত্ব, কর্তব্য, অভ্যাসের দাস হয়ে ডন এক্সপ্রেসের কুপেতে সফর করবে

    তবে?

    তবে আবার কি? অমিতাবৌদি অনন্যা হবে। অন্তত একটি মানুষের জীবনে সে অনন্যা, অদ্বিতীয়া হবে। শুধু নিদ্রাহীন রাতে নিঃসঙ্গ হয়ে নয়, প্রতি দিন, প্রতি রাত্রে দুজনে মিলে শুনবে কোকিলের ডাক। শুনবে, বৌ কথা কও।

    সকালবেলায় দিনের আলোয় অমিতাবৌদির স্বপ্ন হারিয়ে যায়, পালিয়ে যায়। সত্যি? নাকি লুকিয়ে পড়ে?

    দুটোর সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সুধীরবাবু লাঞ্চ খেয়ে ল্যাবরেটরিতে গিয়ে তার মাইক্রোস্কোপের ফোকাস ঠিক করতে শুরু করেন! সে লেন্সের মধ্যে দিয়ে পৃথিবীব অসংখ্য সব গাছপালার অন্তরের কথা জানা যায়; কিন্তু অমিতাবৌদি তখন আউট অফফোকাস হয়ে যান। ঐ সুন্দর বাংলো বাড়ির বারান্দায় বা লনের পাশে গার্ডেন চেয়ারে বসে সুধীরবাবুর পুলওভার বুনতে বুনতে অমিতাবৌদির আবার মনে পড়ে যায় ফেলে আসা রাতের কথা। স্বপ্নের স্মৃতি। আপন মনে নিজেই হেসে ওঠে পাগলামিরও একটা সীমা থাকা উচিত। তাই না? নিশ্চয়ই। অমিতাবৌদি নিজেই নিজেকে শাসন করেন। হাতের কাঁটা দুটো যেন একটু দ্রুত চলে।

    .

    রাত্রে খাবার সময় সুধীরবাবু একটু যেন রেগেই বলে উঠলেন, এতদিন ধরে বুকে ব্যথা, বুকে ব্যথা বলছ অথচ ডাক্তার দেখাবে না কেন বলতে পার?

    ছন্দার খাওয়া হয়ে গেছে। সে ভিতরের বেসিনে হাত ধুতে যায়। সুধীরবাবু বামহাত দিয়ে কাছে টেনে নেন অমিতাবৌদিকে। কয়েক মুহূর্তের জন্য ফিরে যান অতীতে। সেই বারো বছর আগে।

    অমিতাবৌদির বেশ ভালো লাগে। মুহূর্তের জন্য তিনি যেন অনন্যা, অদ্বিতীয় হন। বলেন, আঃ ছেড়ে দাও। ছন্দা দেখবে।

    সুধীরবাবু বোধহয় মাইক্রোস্কোপের লেন্সের ভিতর অমিতাবৌদির মনের সেল দেখতে পান। কি যেন একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন, অমিতাবৌদির দিকে, নিশ্বাসটাও যেন একটু ঘন, একটু গরম হয়। সুধীরবাবু কেমন যেন একটু পাগলামী শুরু করেন।

    অমিতাবৌদির ভালো লাগে, খুব ভালো লাগে। দেহ মনে পদ্মার মাতলামী দেখা দেয় লুকিয়ে লুকিয়ে। সর্বাঙ্গে যেন শিহরণ দেখা দেয়, কানে ভেসে আসে কোকিলের ডাক।

    পরের দিন সকালে অফিস গিয়েই সুধীরবাবু ডাক্তার ব্যানার্জীকে টেলিফোন করলেন, ডাক্তার সাহেব, এই মাইক্রোস্কোপ আর ঘরের গিন্নি ঠিক না থাকলে বাঁচব কি করে?

    ডাক্তার হেসে বলে, কোনটা ধর্মঘট করল? মাইক্রোস্কোপ না গিন্নি?

    মাইক্রোস্কোপ হলে কি আর এই সাত সকালে ফোন করতাম? গিন্নি, ডাক্তার গিন্নি। কুইন এলিজাবেথ দি থার্ড!

    কি হল কি?

    কি হল তা বুঝলে তো নিজেই চিকিৎসা করতে পারতাম। কিছু কাল ধরেই বলছে বুকে ব্যথা, অথচ চিকিৎসা করবে না।

    তাহলে আমি আর কি করব?

    সুধীরবাবু এবার রসিকতা করে বলেন, ভায়া, সুন্দরী গিন্নির বুকে ব্যথা। সহ্য করতে পারলাম না। কাল অনেক কাণ্ড করে রাজি করিয়েছি।

    ডাক্তার একটু ব্যস্ত ছিল। বলল, এক্ষুনি তো পারছি না। লাঞ্চের পর গেলে কি অসুবিধা হবে?

    লাঞ্চে এসে সুধীরবাবু বলে গেলেন, ডাক্তার আসবে। সব কথা বোলো, কিছু লুকিয়ে চেপেটেপে রেখো না!

    .

    ডাক্তার এসেছিল। তবে লাঞ্চের পরেই আসতে পারেনি। আসতে আসতে প্রায় চারটে হয়েছিল।

    সুধীরবাবুর জন্য রোজ কাটলেট বানাতে শরীরটাই খারাপ করে ফেললেন?

    অমিতাবৌদি হাসে। অর্ধসমাপ্ত পুলওভারটা ছোট্ট টিপাইএর উপর রেখে ভিতরে যান। ড্রইংরুমে।

    ডাক্তার বলল, শুয়ে পড়ুন। একটু পরীক্ষা করে দেখি কত কাটলেট খাইয়েছেন।

    শোবার ঘরে অমিতাবৌদি শুয়ে পড়েন। ডাক্তার পাশে বসে চেয়ারটা টেনে নিয়ে চুপচাপ দেখেন কিছুক্ষণ।

    বাঁ হাতটা দিন।

    অমিতাবৌদি বাঁ হাত বাড়িয়ে দেন। ডাক্তার ঘড়ির কাটার সঙ্গে মিলিয়ে পালস পরীক্ষা করেন।

    অমিতাবৌদি জোরে জোরে নিশ্বাস নেন। বুকটা একটু বেশি ফুলে ফুলে ওঠে। বোধহয় একটু লজ্জা করে। দৃষ্টিটা সরিয়ে ঘুরিয়ে নেন বাইরের দিকে।

    ডাক্তার নাড়ী দেখে। কিন্তু অসতর্ক মুহূর্তে দৃষ্টিটা আটকে যায়। অমিতাবৌদির হৃদয় স্পন্দন দেখে ডাক্তার হয়তো একটু ভালো লাগে, মনে রং লাগে। না, না, ওসব কিছু না। ছাত্রজীবনে ওসব হতো। আজকাল আবার এসব দুর্বলতা কি? তিনবছর বিয়ের পরও কি এসব দুর্বলতা কারুর থাকে? ডাঃ বোধিসত্ত্ব ব্যানার্জীরও নেই।

    কিন্তু তবুও মুহূর্তের জন্য ভালো লেগেছিল ডাক্তারের। অমিতাবৌদির হৃদয়স্পন্দন দেখতে দেখতে মনে হয়েছিল, সুধীরবাবু সত্যি ভাগ্যবান।

    পালস্ দেখা হয়ে গেল। ডাক্তার অমিতাবৌদির হাতটা নামিয়ে রাখে।

    বুকে ব্যথা করে আপনার?

    হ্যাঁ।

    কোথায়? বাঁ দিকে না ডান দিকে?

    বাঁ দিকে।

    সব সময় ব্যথা করে?

    হ্যাঁ, প্রায় সব সময়েই।

    কম না বেশি?

    মাঝে মাঝে খুব বেশি ব্যথা করে।

    ডাক্তার স্টেথো বের করে। চেস্টপিস দিয়ে অমিতাবৌদির বুক পরীক্ষা শুরু করে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরীক্ষা করে। ডাক্তার কেন যেন একটু চিন্তিত হয়। ভ্রূ দুটো কুঁচকে ওঠে।

    একটু জোরে জোরে নিশ্বাস নিন

    অমিতাবৌদি জোরে জোরে নিশ্বাস নেয়। বুকটা ফুলে ফুলে উপরে ওঠে, নীচে নামে।

    স্টেথোর চেস্টপিস কখনও পুরা পাশে, কখনও ব্রেস্টের পাশে ঘোরাঘুরি করে ডাক্তারের হাতটাও ঘুরে বেড়ায়। একটু এদিকওদিক লাগে বৈকি!

    অমিতাবৌদির লজ্জা করে। চুপ করে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে। শুধু দৃষ্টিটা বাইরের আকাশে ভেসে বেড়ায়। ডাক্তারের স্পর্শে কি মন একটু চঞ্চলা হয়? না না, তা হবে কেন?

    ডাক্তার তো পরীক্ষা করবেই।

    ওপাশ ফিরে শোন

    অমিতাবৌদি ওপাশ ফিরে শোন। ডাক্তার পরীক্ষা করে চলে। ডাক্তারের ভ্রূ দুটো কুঁচকে ওঠে। কপালে যেন কয়েকটা চিন্তার রেখা দেখা দেয়।

    উপুড় হয়ে শোন তো।

    অমিতাবৌদি উপুড় হয়ে শোন। ডাক্তারের পরীক্ষা এগিয়ে চলে। পরীক্ষা করতে করতে ডাক্তার বুঝিবা মুহূর্তের জন্য অমিতাবৌদির সর্বাঙ্গের উপর দিয়ে দৃষ্টিটা বুলিয়ে নেয়। বাঃ বেশ তো!

    ডাক্তারের কথায় অমিতাবৌদি আবার চিৎ হয়ে শোন। স্টেথো নামিয়ে রেখে এবার হাত দিয়ে পরীক্ষা করে। দুপাশের প্লুরার কাছে দুটো হাত দিয়ে জোর করে চেপে ধরে ডাক্তার।

    খুব জোরে নিশ্বাস নিন।

    খুব জোরে নিশ্বাস নিতে গিয়েই অমিতাবৌদি হঠাৎ বলেন, আঃ ভীষণ লাগছে।

    কোথায়?

    এইতো বাঁ দিকটার এইখানে।

    ডাক্তার এবার দুটো আঙুল দিয়ে বাঁ দিকের নানা জায়গায় আঘাত করতে থাকে।

    ব্যথা লাগলেই বলবেন।

    ডাক্তার জেনে নেয় কোথায় ব্যথা।

    প্রায় আধঘণ্টা ধরে ডাক্তার বড় যত্ন করে পরীক্ষা করল। বড় ভালো লাগল অমিতাবৌদির।

    দুজনে বেরিয়ে এসে বাইরের গার্ডেন চেয়ারে বসে।

    এতদিন আমাকে খবর দেননি কেন? কাটলেট খাওয়াতে হবে বলে?

    অমিতাবৌদি একটু হাসেন। বড় সুন্দর হাসি। ঢলে পড়া সূর্যের মতো মিষ্টি আলোয় ভরে যায় মুখখানা। বললেন, এমনি।

    খুব বেশি পরিশ্রম করেন?

    না, তেমন কি। সাধারণ সংসারে সবাই যেমন করে…।

    কোনোদিন হঠাৎ কোথাও পড়ে গিয়েছিলেন বা বুকে আঘাত লেগেছিল?

    একটু ভাবেন অমিতাবৌদি। একটু দৃষ্টিটা ঘুরিয়ে একটু ঠোঁটটা কামড়ান মুহূর্তের জন্য। বলেন, দিন পনেরো আগে বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলাম।

    পড়ে গেলেন কীভাবে?

    সারান দিয়ে স্নান করছিলাম। হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেলাম।

    ডাক্তার একটু রসিকতা করেন। এখনও সারান দিয়ে স্নান করতে পারেন না?

    দুজনেই একটু হাসে

    বুকে চোট লেগেছিল?

    ঠিক বুকে কোনো চোট লাগেনি কিন্তু বুকের মধ্যে কেমন খচ করে উঠেছিল!

    তারপর থেকেই বুকে ব্যথা তাইতো?

    হ্যাঁ।

    ডাক্তার আরো খোঁজখবর নেয়। শরীরের যত্ন করেন না কেন?

    আর কি যত্ন করব?

    অনেক দিন ধরে খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো করেন না, তাই না?

    অমিতাবৌদি একটু হাসে। ভাবে খাওয়াদাওয়া তো রোজই আছে। কিন্তু একলা একলা কি খেতে ভালো লাগে? তাছাড়া কে খোঁজ করে আমার খাওয়াদাওয়ার? ডাক্তারকে বলেন, কেন? খাওয়াদাওয়া তো ঠিক মতোই করি।

    কেন লুকোচ্ছেন? এবার আমি যখন নিজে খাইয়ে দেব, তখন দেখবেন মজাটা।

    অমিতাবৌদি ভেতরে চলে যান। একটু পরে এক কাপ কফি আর দুটো ফ্রেঞ্চ টোস্ট নিয়ে আসেন।

    স্বামীকে কাটলেট খাইয়ে তো একটা বুকে ব্যথা করেছেন। এবার আমাকে খাইয়ে আর একটা বুকে ব্যথা করবেন?

    এবার অমিতাবৌদিও একটু রসিকতা করেন। স্বামীকে সেবা করে বুকে ব্যথা করেছি, আপনাকে সেবা করে সে ব্যথা সারিয়ে নেব।

    সে বিশ্বাস আছে আপনার?

    নিশ্চয়ই। তা নয়তো কি এত খাতির করতাম?

    কফির পেয়ালা, প্লেট নামিয়ে রেখে ডাক্তার জিজ্ঞাসা করে, বুকে ব্যথা হবার পর থার্মোমিটার দিয়ে টেম্পারেচার দেখেছেন?

    থার্মোমিটার দিইনি, তবে মাঝে মাঝে গাটা গরম মনে হয়।

    শোবার সময় কোন দিকে ফিরে শুতে ভালো লাগে?

    বাঁ দিকে ফিরে শুলেই যেন একটু ভালো লাগে।

    .

    সাড়ে চারটের সাইরেন বেজে উঠল! কয়েক মিনিটের মধ্যেই সুধীরবাবু আসেন। অমিতাবৌদি আবার কফি করতে ভেতরে চলে যান।

    কি দেখলেন ডাক্তার?

    আই থিঙ্ক ইট ইজ এ কেস অফ ড্রাই প্লুরিসি।

    তাই নাকি? সুধীরবাবু একটু চিন্তিত হন।

    চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে আপনাকে কয়েকটা কাজ করতে হবে।

    কি বলুন।

    নিয়ম হচ্ছে কমপ্লিট রেস্ট ইন বেড। যদি সেটা নিতান্তই অসম্ভব হয় তাহলে অন্তত ওঁকে দিয়ে রান্নাবান্না করানো বন্ধ করতেই হবে।

    সুধীরবাবু যেন একটু স্বস্তি পান। সেটা বিশেষ মুশকিলের কিছুই নয়। আমার একটা ছোকরা চাকর আছে। সে মোটামুটি ভালোই রান্না করে।

    সেকেন্ডলি, বেশ ভালো খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

    কিন্তু খেলে তো? এক কাপ দুধ খেতে বললেই ফাটাফাটি হয়ে যায়।

    ছেলেমানুষি করলে তো চলবে না। এবার খেতেই হবে।

    অমিতাবৌদি দু কাপ কফি নিয়ে আসেন।

    সুধীরবাবু বললেন, নিজের কানে ডাক্তার সাহেবের কাছ থেকে শুনে নাও কি কি করতে হবে।

    অমিতাবৌদি উড়িয়ে দেন কথাটা, যা সম্ভব তাই শুনব।

    এবার ডাক্তার মুখ খোলে, ওসব ছেলেমানুষি ছেড়ে দিন।

    পরের দিন অমিতাবৌদির চেস্ট এক্সরে হলো। রক্তের ডিফারেনসিয়াল কাউন্ট আর ইএসআর দেখা হল।

    ডাক্তার সুধীরবাবুকে জানিয়ে দেয়, যা সন্দেহ করেছিলাম ঠিক তাই। লেফট প্লুরায় বেশ খানিকটা প্যাঁচ হয়েছে।

    .

    অমিতাবৌদি শুয়ে পড়লেন বিছানায়। চিকিৎসা শুরু হয়ে গেল।

    কে জানত তখন, এ শুধু প্লুরিসির চিকিৎসা নয়?

    ডাক্তার রোজ সকালের দিকে আসে ড্রাই-হাইড্রো স্ট্রেপটোমাইসিন ইনজেকশন দিতে। কোনদিন দশটা, কোনদিন আবার এগারোটায় আসে।

    প্রথমে বুকের মুভমেন্ট পৰীক্ষা করেন। তারপর প্যালপেসন দেখেন। হুঁ, এখনও বেশ ঘড়ঘড়ানি আওয়াজ। ঠিক যেন বেড়ালের মতো। তারপর পারকাসান। আঙুল দিয়ে টোকা মেরে পরীক্ষা করেন। আওয়াজটাও ঠিক একই রকম আছে। তারপর স্টেথো বের করেন। ইয়ারপিস কানে দিয়ে চেস্টপিসটা ঘুরে বেড়ায় অমিতাবৌদির সারা বুকে।

    রোগশয্যায় শুয়ে থেকেও অমিতাবৌদির যেন একটু ভালো লাগে, শরীরে যেন একটু রোমাঞ্চ লাগে। মনে যেন একটু দোলা লাগে। ডাক্তারকেও যেন একটু ভালো লাগে।

    ডাক্তার সিরিঞ্জ বের করে। স্পিরিট দিয়ে মুছে নেয়। ইনজেক্শন বের করে, ডিসটিল্ড ওয়াটারের ফাইল বের করে। সিরিঞ্জে ইনজেকশন ভরে নেয়।

    নিন, কোন্ হাতে দেব?

    গলা পর্যন্ত চাদর মুড়ি দিয়ে ব্লাউজের বোতামগুলো খুলে দেন অমিতাবৌদি। তারপর অর্ধেক ব্লাউজ খুলে ডান হাতটা বের করে দেন।

    ডাক্তার ডান হাতের উপরের মাংসপেশীতে স্পিরিটের তুলোটা বুলিয়ে নিয়ে ইনজেকশন দেন।

    অমিতাবৌদি একবার আর্তনাদ করেন, আঃ মরে গেলাম।

    ডাক্তার সিরিঞ্জটা বের করে নিয়ে দুচার মিনিট ম্যাসেজ করে দেয়।

    অমিতাবৌদির সব ব্যথা সেরে যায়।

    এফআরআই এর প্রেসিডেন্টের স্ত্রীকে দেখে ফেরার পথে ডাক্তার রাত্রের দিকে আর একবার আসে। সুধীরবাবুকে জিজ্ঞাসা করেন, কি গিন্নী ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছেন তো?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, অমিতা সব কথা শুনছে।

    পরের দিন ডাক্তার আসতে পারে না। কম্পাউডার এসে ইনজেকশন দিয়ে যায়। অমিতাবৌদির কেমন যেন একটু বিশ্রী লাগে।

    পরের দিন ডাক্তার এলে অমিতাবৌদি জিজ্ঞাসা করেন, কাল এনেন না যে?

    আসবো কেমন করে? শকুন্তলা পতিগৃহে যাত্রা করলেন। রাজা দুষ্মন্তের তদারক করতে হয়েছে। সন্ধ্যায় শালাবাবু আর শকুন্তলাকে ট্রেনে চড়িয়ে দিতে হয়েছে।

    অমিতাবৌদি সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করেন, তাহলে আপনার খাওয়াদাওয়ার কি হবে?

    মুখার্জী বৌদির ওখানে নন পেয়িং গেস্ট হবার ব্যবস্থা হয়েছে। কাল রাতেই ওপেনিং সেরিমনি হল।

    দশদিনে অমিতাবৌদির বুকের ব্যথা বেশ কমে গেল কিন্তু রোজ রোজ ইনজেকশন নিতে হাতের ব্যথা বেড়ে গেল।

    হাতে না নিলে কোমরে নিন।

    কোমরে? একটু লজ্জা একটু সঙ্কোচ যেন ঘিরে ধরে অমিতাবৌদিকে। একটু এগিয়ে, একটু পিছিয়ে যায়। হাত দুটো ব্যথায় বিষ হয়ে গেছে। না, না কোমরেই ভালো।

    অমিতাবৌদির শাড়ির বাঁধন, সায়ার বাঁধন খুলে একটু নীচে নামিয়ে দেন। মুখটা একটু ঘুরিয়ে নেন ওপাশে।

    স্পিরিটের তুলোটা বুলোত বুলোতে যেন ডাক্তারের হাতটা একটু কেঁপে ওঠে, একটু যেন থমকে দাঁড়ায়।

    অমিতাবৌদি টের পান। তবে কি ডাক্তারেরও!

    ইনজেকশন দেবার পব স্পিবিটের তুলোটা দিয়ে ডাক্তার একটু ম্যাসেজ করে। একটু বেশি সময় ম্যাসেজ করল না? তুলোটা ফেলে দিয়ে এবার হাতের তালু দিয়ে আরো একটু ম্যাসেজ করে ডাক্তার।

    অমিতাবৌদির দেহটা একটু দূলে দূলে নড়ে ওঠে।

    ডাক্তারের কি একটা দীর্ঘনিশ্বাস পড়ল?

    সিরিঞ্জ খুলতে খুলতে ডাক্তার হঠাৎ প্রশ্ন করে কতদিন বিয়ে হয়েছে আপনার?

    বারো বছর।

    বারো বছর? তাহলে খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে আপনার?

    আঠারো বছরে।

    চিকিৎসা এগিয়ে চলে। অমিতাবৌদি আর ডাক্তার এগিয়ে চলে নিয়তির দিকে।

    দুসপ্তাহ হয়ে গেল। দুজনে এখন অনেক সহজ অনেক সরল। রাতের বেলায় দুজনেই শুয়ে শুয়ে কোকিলের ডাক শোনে।

    আর কতদিন শুয়ে থাকব ডাক্তারবাবু?

    ডাক্তারবাবু অমিতাবৌদির কপালে, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে, কোন কষ্ট হচ্ছে?

    অমিতাবৌদির দৃষ্টিটা জানালা দিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। অন্যমনস্ক হয়েই একটা হাত ডাঙারের হাতের পরে চলে যায়।

    ডাক্তার আবার প্রশ্ন করে, কোন কষ্ট হচ্ছে?

    অমিতাবোদি মুখে কিছু বলে না। মাথা নেড়ে বলে, না না, কষ্ট হবে কেন?

    ডাক্তার একটু অমিতাবোদির গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। অমিতাবৌদি যেন দেহের বাঁধনটা একটু ঢিলা করে ডাক্তারকে আদর করতে আমন্ত্রণ জানান। দুজনেরই নিশ্বাসটা যেন একটু ঘন হয়।

    অমিতাবৌদি দুটো হাত দিয়ে ডাক্তারের হাতটা চেপে ধরেন।

    সন্ধ্যার সময় ডাক্তার ঐ বল্লুপুরের যাবার রাস্তায় একলা একলা ঘুরে বেড়ায়। কোকিলের ডাক শোনে, বৌ কথা কও পাখি খুঁজে বেড়ায়।

    অমিতাবৌদি লনে গার্ডেন চেয়ারে বসে সুধীরবাবু পুলওভারটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে চায়। পারে না। হাতটা থেমে যায়। কোকিলের ডাক কানে আসে।

    তিন সপ্তাহ ধরে রোজ রোজ ইনজেকশান দেওয়া হল, একটা কোর্স শেষ হল, ডাক্তার ও অমিতাবৌদির একটা অধ্যায় শেষ হলো।

    .

    টেম্পারেচার আর বুকের ব্যথা চলে গেল। এখন আর রোজ ইনজেকশন নয়, একদিন অন্তর একদিন।

    ডাক্তার আসে, নিশ্বাস নেবার সময় বুকের মুভমেন্ট দেখে, প্যালপেসান দেখে, পারকাসান দেখে, স্টেথো দিয়ে অস্কালটেশান দেখে, না, না, অনেকটা ভালো, তারপর ডাক্তার ইনজেকশন দেয়। কোনোদিন হাতে, কোনোদিন কোমরে।

    তারপর?

    তারপরও ডাক্তার থাকে কিছুক্ষণ, অমিতাবৌদির গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। কখনও বা হাতটা এদিকওদিক চলে যায়।

    তারপর?

    তারপর অমিতাবৌদি ডাক্তারের হাতটা চেপে ধরে। গালের পাশে চেপে ধরে।

    শেষ ইনজেকশন দেবার দিন আরো একধাপ এগিয়েছিল দুজনে। চাকরটা ক্যান্টিনে গিয়েছিল ডিম কিনতে, অমিতাবৌদি ডাক্তারকে বিদায় জানাবার জন্য ড্রইংরুমের দরজা পর্যন্ত এসেছিলেন। ডাক্তার আর পারেনি। কাছে, বুকের মধ্যে টেনে নিয়েছিল অমিতাবৌদিকে।

    আর?

    আর অমিতাবৌদির ঠোঁটে রেখে গিয়েছিল নিজের স্মৃতি।

    ডাক্তার মুহূর্তের মধ্যে ঐ ছোট্ট ফিয়েট চড়ে নিউ ফরেস্টের মধ্যে মিলিয়ে গেলেন।

    অমিতাবৌদি সেরে গেছে। সুধীরবাবু ভীষণ খুশি, ডাক্তারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

    অমিতাবৌদি ফিসফ্রাই পৌঁছে দেন ডাক্তারের বাংলোয়। ছন্দা লনে থাকে, ফুল দেখে। অমিতাবৌদি চলে যান ভেতরে। ড্রইংরুম পার হয়ে বেডরুমে। টিফিন ক্যারিয়ারটা খালি করে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু মন? সে জোয়ারের জলে ভরে যায়।

    লরী রোডের মোড়ে পোস্টাপিসের কাছে মিঃ মুখার্জীর মেয়ে খুকু বলে, রোজ রোজ তুমি ডাক্তারবাবুকে ফিসফ্রাই খাওয়াবে তা চলবে না।

    ঠোঁটটা একটু কামড়ে হাসিমুখে অমিতাবৌদি বলেন, কি করব বল? ডাক্তার রোগ সারাল কিন্তু ফি নিল না। তাই খেসারত দিচ্ছি।

    নিউ ফরেস্ট ঘুমিয়ে পড়ে। মিঃ মুখার্জীর ড্রইংরুম থেকে মৌমাছিরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিদায় নেয়। মিঃ পটাশকার হোয়াইট হর্স চড়ে অমরাবতী বেড়াতে যান। সুধীরবাবু ডুন এক্সপ্রেসের কুপেতে চড়ে পাগল হন। তারপর ডুন এক্সপ্রেস থেমে যায়।

    জেগে থাকে শুধু অমিতাবৌদি। দূরের মুসৌরী পাহাড়ের আলোগুলো যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে।

    আর?

    আর ঐ সর্বনাশা কোকিলের ডাক শোনে শুধু অমিতাবৌদি।

    ডাক্তারও বিছানা ছেড়ে উঠে বসে। কিছুতেই ঘুম আসে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রেয়সী – নিমাই ভট্টাচার্য
    Next Article প্রিয়বরেষু – নিমাই ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নিমাই ভট্টাচার্য

    মেমসাহেব – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    এ-ডি-সি – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    আকাশ-ভরা সূর্য-তারা – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    ডিপ্লোম্যাট – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রিয়বরেষু – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রেয়সী – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }