Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রেমের গল্প – নিমাই ভট্টাচার্য

    নিমাই ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প304 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রবিবার

    রবিবার

    কি ব্যাপার? মিট মিট করে হাসতে হাসতে কি দেখছ?

    দেখছি আর ভাবছি।

    কি দেখছ আর কি ভাবছ?

    অনেক কিছু।

    দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু দেখবে আর ভাববে? কথা বলবে না?

    বলব বলেই তো এসেছি, কিন্তু…।

    কিন্তু কি?

    ভাবছি তুমি বলব নাকি আপনি বলব

    চমৎকার! প্রজ্জ্বল হাসতে হাসতে জিজ্ঞাসা করল, আগে কি বলতে?

    আগে তো তুমিই বলতাম, কিন্তু তুমি তো আর সেই আগের তুমি নেই।

    কেন? আমি কি পাল্টে গেছি? প্রজ্জ্বল সোজাসুজি মায়াবৌদির দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল, নাকি ভালো চাকরি করছি বলে তুমি বলতে দ্বিধা হচ্ছে?

    এবার মায়াবৌদিও চোখ তুলে তাকায়। বলে, তুমি হঠাৎ এত বড় হয়ে গেছ যে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দ্বিধা হওয়া স্বাভাবিক।

    তাই নাকি?

    নিশ্চয়ই।

    এখন খুব বড় হয়েছি আর আগে বুঝি খুব ছোট ছিলাম?

    তা তো বলছি না।

    তবে তুমি যে এখন অনেক বড় হয়েছ, তা তো ঠিক?

    তার জন্য তোমার সঙ্কোচ বোধ করার কি কারণ ঘটল? আমি যাই হই, তুমি তো আমার বৌদিই আছ!

    মায়াবৌদি জানত, প্রজ্জ্বল বড় হলেও পাল্টাতে পারে না। পাল্টাবে না। তবুও দ্বিধা এসেছিল। আসাটা স্বাভাবিক। ডিজি পি অ্যান্ড টি অফিসের আপার ডিভিশন কেরানির স্ত্রীর পক্ষে একজন আইএএস অফিসারের কাছে সহজ হওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়। সে প্রজ্জ্বল হলেও নয়।

    প্রজ্জ্বলের কথায় মায়াবৌদি খুশি হয়।

    মামী দুহাতে দুকাপ চা নিয়ে ঘরে ঢুকতে গিয়েই মায়াবৌদিকে দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল, কিরে মায়া, দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

    মাযাবৌদি কিছু বলার আগেই প্রজ্জ্বল হাসতে হাসতে বলল, জান মামী, মায়াবৌদি পুজোর সময় থিয়েটার করবে বলে এখন থেকেই রিহার্সাল দিচ্ছে।

    সেন্টার টেবিলে চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে মামী অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার মানে?

    আমি মামার অন্ন ধ্বংস করে ভালো চাকরি পেয়েছি বলে মায়াবৌদি আমাকে তুমি বলতে ভরসা পাচ্ছে না। প্রজ্জ্বল মায়াবৌদির দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে কথাগুলো বলল।

    এবার মামীও হাসে। তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে মায়া? মানা আইএএস হয়েছে বলে কি আমি মামী নেই, নাকি তুই বৌদি নেই?

    মামী আর কথা না বলে রান্নাঘরে চলে গেল। মামা বাথরুমে! বেরুলেই খেতে বসবেন। আটটা চল্লিশ হয়ে গেছে। মামী চলে যেতেই প্রজ্জ্বল উঠে গিয়ে মায়াবৌদির হাত ধরে এনে পাশে বসাল।

    নাও, চা খাও।

    খাচ্ছি।

    চা খেতে খেতে প্রজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল, বল কি ব্যাপার?

    শুনলাম তুমি এসেছ। তাছাড়া কদিন থাকছ বলে একটা কথা বলতে এসেছিলাম।

    কি কথা?

    সামনের শনিবার দিল্লিতে থাকবে?

    শনিবার আছি, তবে রবিবার সকালেই চলে যাবার কথা।

    এই শনিবার তো সেকেন্ড স্যাটারডে। আমরা সবাই পিকনিকে যাচ্ছি, তুমি যাবে?

    .

    এই রামকৃষ্ণপুরমের মামার বাড়িতে কটা বছর থাকার সময় প্রজ্জ্বল তখন প্রত্যেকটা পিকনিকে গেছে। আনন্দ করেছে। দারুণ আনন্দ করেছে। প্রথমবার যেতে চায়নি। তখন কলকাতা থেকে ও নতুন এসেছে। পাড়ার সবার সঙ্গে পরিচয় হয়নি! ঘনিষ্ঠতা তো দূবের কথা! প্রজ্জল ভেবেছিল পিকনিকে গিয়ে চুপচাপ একলা একলা কাটাবার চাইতে বাড়িতে থাকাই ভালো, কিন্তু পারেনি। যেতে হয়েছিল। মামামামী এসব ব্যাপারে সবার চাইতে বেশি উৎসাহী। মামীর কাছেই পাড়ার সবাই চাঁদা জমা দিচ্ছিলেন। মামামামীর কথা ফেলতে পারেনি। প্রল নতুন হলেও পিকনিকে গিয়েছিল।

    প্রজ্জ্বলের মামামামী দুজনেই বড় ভালোমানুষ। মনটা বড় উদার। পোস্টাপিসে সামান্য চাকবি করেন মামা, কিন্তু তবুও প্রজ্জ্বল যখন ইসলামিক হিস্ট্রি নিয়ে এম. এ. পড়বার জন্য দিল্লি জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশন নিল, তখন কিছুতেই ওকে হোস্টেলে থাকতে দিলেন না।

    তা হয় না রে মানা। আমি দিল্লিতে থাকতে তুই হোস্টেলে থাকবি, তা কখনোই হতে পারে না।

    মামী বললেন, আচ্ছা কয়েক মাস তো থাক। তারপর যদি তোমার অসুবিধে হয় তাহলে তখন হোস্টেলে চলে যেও।

    এরপর আর কি বলবে। হোস্টেলের জন্য ফরম ভর্তি করেও জমা দিল না। রামকৃষ্ণপুরমে মামার ফ্ল্যাটে থেকেই জামিয়া মিলিয়াতে পড়তে লাগল।

    এ মামা কিন্তু ওর আপন মামা নয়। মার মাসতুতো ভাই। তবে আপন মামা না থাকায় এই মামার সঙ্গে প্রজ্জ্বলদের সম্পর্ক বরাবরই বড় নিবিড়। এই মামা যখন কলকাতার সিটিওতে ছিলেন তখন প্রত্যেকবার প্রজ্জ্বলের মার কাছে ভাইফোঁটা নিয়েছেন। দিল্লিতে আসার পরও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। মামামামী ছুটিতে কলকাতায় গেলেই দুএকদিন ওদের মানিকতলার বাড়িতে থাকেন, দলবেঁধে সবাইকে নিয়ে স্টারে থিয়েটার দেখান, আর সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পরও প্রজ্জ্বলের বাবামার সঙ্গে গল্প করেন।

    এখানে এসে নতুন করে মামামামীকে ভালোবাসল প্রজ্জ্বল। রামকৃষ্ণপুরমের সেক্টর সিক্স মানেই ডাকতার বিভাগের সাধারণ কর্মচারীদের আবাসভূমি। ঘোট ঘোট খানা ঘরের ফ্ল্যাট। তা হোক। ঐ দুখানা ঘরের ফ্ল্যাটেই মামামামী সারা পাড়ার সবাইকে টেনে আনেন। গোরাবাবু তো কথায় কথায় বলেন, দাশদার ধর্মশালা থাকতে রিহার্সাল দেবার জায়গা নিয়ে এত আলোচনার কি দরকার? মামী পেটে ধরেছেন একটি মেয়ে কিন্তু সারা পাড়ার সব বাচ্চাদের হাসিমুখে কোলে তুলে নেন। বিশ্বাসের ফুটফুটে দুটো বাচ্চা তো প্রায় সারাদিন মামীর কাছে থাকে। বীণাবৌদির বড় বাচ্চাটা দেড় বছর হতে না হতেই তিনি আবার বাচ্চা হবার জন্য সফদারজং হাসপাতালের তিনতলার কোণার ঘরে আশ্রয় নিলেন। বড় বাচ্চাটা তখন মামীর কাছে বেশ কাটিয়ে দিল তিন সপ্তাহ। উষাবৌদির স্বামী নতুন স্কুটার কিনলেন। রোজ অফিস থেকে ফিরে একবার বৌকে নিয়ে না বেড়াতে বেরুলে তার মন ভরে না। অথচ ছেলেটা স্কুটারের আওয়াজ শুনলেই ভয়ে চীৎকার করতে শুরু করে। কিন্তু তার জন্য তাদের সান্ধ্য অভিসার বন্ধ হল না। মামী তো আছেন। দুচারদিন বাপ্পাকে রাখার পরই মামী ওর মাকে বললেন, হারে উষা, ছেলেটাকে একটা কুমারেশ খাওয়া তো?

    প্রথম প্রথম প্রজ্জ্বল দারুণ অস্বস্তিবোধ করত। এত লোকজন বাচ্চাকাচ্চার হৈ চৈ তো ও কোনদিন সহ্য করেনি। কিন্তু আস্তে আস্তে ভালো লাগল। বিশ্বাসদার স্ত্রী চমৎকার ঘুগনি করতে পারেন। বিশ্বাসবৌদি সে ঘুগনি এ বাড়িতে না পাঠিয়ে নিজের স্বামীকেও দেবেন না। গোরাবাবুর মা এই দিল্লিতে এসেও সারা শীতকাল পিঠেপায়েস বানিয়ে শান্তি পান না। মামামামীর পুণ্যের জোরে প্রজ্জ্বল সারা শীতকাল পিঠে পায়েস খেয়েছে। শনিবাররবিবার বিকেলে চায়ের সঙ্গে সিঙাড়া পেলেই প্রজ্জ্বল বুঝত সুনীলদার স্ত্রী তত্ত্ব পাঠিয়েছেন।

    .

    এই মামামামীর জন্যই প্রথমবার পিকনিকে গিয়েছিল। একদল অপরিচিত মানুষের সঙ্গে গিয়েও মন ভরে গিয়েছিল প্রজ্জ্বলের। তারপর থেকে প্রত্যেকবারই গিয়েছে। মামা মামীর তাগিদে নয়, নিজের আগ্রহেই গিয়েছে।

    এই মায়াবৌদির সঙ্গে তো পিকনিকে গিয়েই ওর প্রথম আলাপ। পিকনিকের কথা শুনতেই প্রলের মনে অনেক দিনের অনেক মিষ্টি ছবি ফুটে উঠল।

    প্রজ্জ্বল খুশি হয়ে বলল, এবার কোথায় যাচ্ছ?

    দাসনায়।

    দাসনায় আগে পিকনিক হয়নি?

    না।

    সবাই যাচ্ছে?

    হ্যাঁ।

    প্রজ্জ্বল একটু ভেবে বলল, কিন্তু বৌদি, আমি কি শনিবারে যেতে পারব?

    কেন? সেকেন্ড স্যাটারডে তো সব বন্ধ।

    তবুও আমাদের মিটিং বোধহয় চলবে।

    যাই হোক, একটু চেষ্টা কর। তুমি গেলে সবাই খুশি হবে।

    শুধু তোমরা কেন, আমিও খুব খুশি হব। তাছাড়া এখন তো এই সব সুযোগ পাই না।

    মায়াবৌদি চলে যাবার পর মামাও অফিস রওনা হলেন। মামী তখনও রান্নাঘরে ব্যস্ত। মামী এই একবেলাতেই দুবেলার রান্না করেন বরাবর। প্রজ্জ্বল বাইরের ঘরে জানালার ধারে বসে দূরের কুতুবমিনার দেখতে পেয়েই ওর মনে পড়ল আগেকার কত কথা, কত স্মৃতি।

    .

    সেবার কুতুবমিনারের পিছন দিকের পাহাড়ের উপরে পিকনিক হচ্ছিল। সুনীলবাবু আর গোরাবাবু মাংস রাঁধতে ব্যস্ত। আর সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ বিশ্বাসদা বললেন, জয়া, দুএকটা গান শোনাও তো। সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ জয়া, গান শোনাও। এতদিন পর প্রজ্জ্বলের ঠিক মনে নেই, তবে বোধহয় তিনচারটে গান গেয়েছিল। তার মধ্যে একটা রবীন্দ্রনাথের গান, বাকিগুলো বাংলা সিনেমার গান। সবাই বাহবা দিলেও প্রজ্জ্বলের ভালো লাগেনি। রবীন্দ্র সঙ্গীতের একটা পুরো প্যারাগ্রাফ বাদ দিয়েছিল বলে মনে মনে বড় বিরক্ত হয়েছিল। অবাকও হয়েছিল। জয়ার পর একটি ছেলে গান শোনাল। ভাটিয়ালী বোধহয়। তবে স্পষ্ট মনে আছে মণিমালার কথা।

    মাংস রাঁধতে রাঁধতে হঠাৎ গোরাবাবু এসে বললেন, এই মণিমালা, এবার তুই গান শোনা।

    প্রজ্জ্বল, এক কোণায় বসেছিল। এতক্ষণ মণিমালাকে দেখতে পায়নি। এবার দেখল ঐ কোণায় একটা মিষ্টি মেয়ে মুখ কাচুমাচু করে বলল, কাকু, আমাকে গাইতে বলবেন না।

    গোরাবাবু তবুও বললেন, কেন রে? অন্তত একটা গান তো শোনাবি।

    মামীও বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ একটা গান শোনা। কতদিন তোর গান শুনি না।

    মণিমালা গাইল। প্রজ্জ্বলের স্পষ্ট মনে আছে ও ফানীর আকাশ আমার ভরল আলোয়, আকাশ আমি ভরব গানে গেয়েছিল। ঐ একটাই গান গেয়েছিল কিন্তু তাতেই প্রজ্জ্বলের মন ভরেছিল।

    একটু পরে একটু ফাঁকায় মামীকে বলেছিল, মামী, তোমাদের ঐ জয়াকে অন্তত রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতে বারণ করে দিও।

    কেন রে?

    পুরো একটা প্যারাগ্রাফ বাদ দিয়ে গেল।

    তাই নাকি?

    তবে কি!

    মণিমালা ঠিক গেয়েছে?

    হ্যা মামী। মেয়েটি ভারি সুন্দর গেয়েছে।

    খাওয়াদাওয়ার পর মামী আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন ওদের। এদিকে শোন মালা। মালা কাছে এলে বললেন, আমাদের ভাগ্নের সঙ্গে আলাপ নেই তো তোর?

    মণিমালা শুধু মাথা নেড়ে জানাল, না।

    আমাদের ভাগ্নে প্রজ্বল। জামিয়া মিলিয়াতে ইসলামিক হিস্ট্রি নিয়ে এম. এ. পড়ছে। তারপর রিসার্চ করবে। তোর গান ওর খুব ভালো লেগেছে।

    মণিমালা লম্বা বিনুনির শেষে রবার ব্যান্ডটার মধ্যে একটা আঙুল দিয়ে নাড়তে নাড়তে মাথা নীচু করে বলল, বোধহয় সুচিত্রা কণিকার চাইতেও ভালো গেয়েছি, তাই না বড়মাসী?

    প্রজ্জ্বল বলেছিল, তা তো কেউ বলেনি। তবে সত্যি আপনি ভালো গেয়েছেন।

    মণিমালা এক মুহূর্তের জন্য ওর দিকে তাকিয়ে বলেছিল, ধন্যবাদ।

    বেশ লেগেছিল প্রজ্জ্বলের। সহজ সরল ব্যবহার। অথচ তার চারপাশে একটা সলজ্জ আবরণ। মনে হল দুচোখ দিয়ে যা দেখল, তার চাইতে বোধহয় ওকে বেশি অনুভব করতে হয়। এ যেন ভোরের সূর্যের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আনন্দ হলেও মন ভরে না। শতবার শতরূপে দেখেও আশা মেটে না। মিটতে পারে না। একেই বলে মাধুর্য? নারীর মাধুর্য? প্রজ্জ্বল মনে মনে কথা বলে।

    মামামামীর সংসারে থেকে একদল সাধারণ মানুষের মধ্যেও কেমন যেন একটু অসাধারণত্বের স্বাদ পায় প্রজ্জ্বল। মাসের শেষে সবারই টানাটানি। তবু বড়ি দিয়ে পালঙের তরকারি পাঠিয়ে দেন মণিমালার মা! কলকাতা থেকে এক শিশি কাসুন্দি এলেও ভাগাভাগি হয় সবার মধ্যে। মাস ছয়েক পরে ছুটিতে কলকাতা যাবার আগে মামী প্রজ্জ্বলকে জিজ্ঞাসা করলেন, হারে মানা, কলকাতা থেকে ফিরে এসে এখানে আসছিস তো?

    প্রজ্জ্বল পাল্টা প্রশ্ন করেছিল, কেন? তুমি কি আমাকে না তাড়িয়ে শান্তি পাচ্ছ না?

    মামী হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ঠিক বলেছিস। তোকে আর সহ্য করতে পারছি না।

    পরের বার তুঘলকবাদে পিকনিক করতে গিয়ে প্রজ্জ্বল আর চুপ করে কোণায় বসে থাকেনি। সুনীলবাবুর হুকুম মতো মাংসে নুন দিয়েছে, গোরাবাবুর ফরমায়েশ মতো জল টেনে এনেছে। তারপর গানের আসরে সবার সামনে জয়াকে বলেছে, গতবারের মতো পুরো প্যারাগ্রাফ বাদ দিয়ে গাইলে এবার আর সহ্য করছি না।

    জয়া চুপ করে থাকেনি। তুমি কি রবিঠাকুরের নাতজামাই যে তোমার কথামতো আমাকে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে হবে?

    মণিমালা বলেছিল, মানাদাকে অমন করে চিমটি কাটিস না জয়া। জামিয়া মিলিয়াতে ইসলামিক হিস্ট্রি নিয়ে এম. এ. পড়তে হলে রবীন্দ্রসঙ্গীতে অনার্স থাকতে হয়, তা বুঝি জানিস না?

    প্রজ্জ্বল বলেছিল, জয়া যে রবীন্দ্রনাথের গান গায় সে রবীন্দ্রনাথ কি গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়ার আন্ডারসেক্রেটারী?

    জানালার ধারে বসে বসে ঐ দূরের কুতুবমিনার দেখতে দেখতে সে সব দিনের কথা মনে পড়ে প্রজ্জ্বলের। শুধু আজ নয়, কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে মাঝেও মনে পড়ে সেসব দিনের কথা। মাঝে মাঝে মনে হয় হঠাৎ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে আইএএস পরীক্ষা না দিলেই ভালো করত। দারোগার স্যালুট না পেলেও বিশ্বাসবৌদির ঘুগনি, সুনীলবৌদির সিঙাড়া, গোরাদার মার পিঠেপায়েস, মণিমালার মার বড়ির তরকারি তো পেত। তাছাড়া দুপুর বারোটার শোতে কমলএ সিনেমা দেখে বেরুবার মুখে মণিমালার সঙ্গে তো দেখা হতে পারত!

    .

    সত্যি ভারি মজা হয়েছিল। ডঃ মাসুদের ক্লাস না হওয়ায় প্রজ্জ্বল বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ কি মনে হল! ঢুকে পড়ল কমলএ। শো শেষ হলে বাইরে বেরুতেই মণিমালার সঙ্গে দেখা। দুজনেই চমকে উঠেছিল। তবুও প্রজ্জ্বল নিজেকে সামলে নিয়ে বলেছিল, আজ বুঝি অনার্স ক্লাস কমলএই হল?

    আজ হঠাৎ এসে মনে হল ইসলামিক হিস্ট্রির ক্লাস করব। তাই এসেছিলাম।

    বয়ফ্রেন্ড কোথায় পালাল?

    তোমার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে গেল।

    প্রজ্জ্বল হঠাৎ বলে ফেলল, আমার গার্লফ্রেন্ড তো আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

    আঃ! কেউ শুনে ফেলবে।

    .

    অনেকদিন এসব কথা মনে পড়েনি। মনে পড়ার সুযোগ ছিল না। নতুন জীবনের সম্মানপ্রতিপত্তির জোয়ারে পুরনো দিনের সব স্মৃতি ভেসে গিয়েছিল। অনেকদিন পর দিল্লি এসে আবার যেন টুকরো টুকরো স্মৃতির দ্বীপপুঞ্জগুলো চোখে পড়েছে। ভালো লাগছে।

    কিরে মানা, তুই কি মায়াকে কথা দিলি? হঠাৎ মামীর কথা শুনে প্রজ্জ্বল ঘুরে বসল।

    পিকনিকে গেলে খুব মজা হবে, তাই না মামী?

    তা তো হবেই, কিন্তু তুই কি শনিবারে যেতে পারবি?

    সেটাই তো সন্দেহ। আজ খোঁজ করব। তবে রবিবার হলে নিশ্চয়ই যেতাম।

    রবিবার হলে যেতে পারবি?

    প্রোগ্রামটা একটু ওলটপালট হয়ে গেলেও তা পারব!

    তাহলে শনিবারের বদলে রবিবার করতে বলব?

    কিন্তু তাতে তো সবারই মুশকিল হবে।

    আচ্ছা আমি ওদের বলেই দেখি না কি হয়।

    মিটিং শেষ হবার পর দুতিনজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে ফিরতে ফিরতে প্রজ্জ্বলের বেশ রাত হয়ে গেল। সামনের ঘরে ঢুকতেই দেখল পাড়ার অনেকেই বসে। গোরাবাবু, সুনীলবাবু, বিশ্বাসবাবু। আরো দুতিনজন। মামামামীও। প্রজ্জ্বলকে দেখেই মামী বললেন, জানিস মানা, রবিবারেই পিকনিক হবে।

    আমার জন্য অনেক ঝামেলা হল তো এদের সবার

    গোরাবাবু বললেন, কি যে বল ভাগ্নে? তুমি গেলে সবাই কত খুশি হবে, তা জান?

    প্রজ্জ্বল হাসতে হাসতে মামীর পাশে বসল। মামী কত চাঁদা দিতে হবে?

    তোর আবার চাঁদা কিসের?

    তার মানে?

    তোর চাঁদা আমি দিয়ে দিয়েছি।

    তা হবে না মামী। বরং তোমাদের চাঁদাও আমি দেব!

    মামা বললেন, তুই কি পাগল হয়েছিস মানা?

    প্রজ্জ্বল হাসতে হাসতে বলল, তুমি সাধাসিধে মানুষ বলে মামীর চালাকি ধরতে পারছ না। মামী ভাবছে আমার কাছ থেকে চাঁদা নিলে ভালো শাড়িটা আর বাগাতে পারবে না!

    মামী সঙ্গে সঙ্গে প্রজ্জ্বলের পিঠে একটা চড় মেরে বললেন, তুই কি ভেবেছিস আমি তোর মতো ঘুষখোর আইএএস?

    কেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছ। বল কত চাঁদা দিতে হবে?

    মধ্যস্থতা করলেন গোরাবাবু। না বৌদি, এবার আর তোমরা চাঁদা দেবে না। ভাগ্নেই তোমাদের চাঁদা দেবে। নট ওনলি দ্যাট, তুমি নতুন শাড়ি পরে পিকনিকে যাবে।

    প্রজ্জ্বল আবার হাসে। জাজমেন্টে ফাঁক থেকে গেল গোরাদা।

    কেন? কি ফাঁক থাকল?

    আমি শাড়ি কিনে দেব ঠিকই, কিন্তু সায়াব্লাউজ মামী মামার গ্যাঁড়ামারা টাকা দিয়ে বানাবে।

    মামা হো হো করে হেসে উঠলেন।

     

    রবিবার।

    বাইরের ঘরের বেডকামসোফায় উপুড় হয়ে শুয়ে প্রজ্জ্বল তখনও বোধহয় স্বপ্ন দেখছিল। মামী চায়ের কাপ সেন্টার টেবিলে রেখে ডাক দিলেন, এই মানা ওঠ! ছটা বাজে।

    প্রজ্জ্বল অঘোরে ঘুমুচ্ছে। উঠল না। মামী এবার ওর গায়ে হাত দিয়ে ডাকলেন, মানা উঠবি না? চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে!

    আস্তে আস্তে চোখ মেলল প্রজ্জ্বল। ঘুরে দেখল মামী। কি ব্যাপার? ডাকছ নাকি?

    ওঠ। চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।

    হ্যা, হ্যাঁ, উঠছি; মামা উঠেছেন?

    হ্যা! ও বাথরুমে।

    এত ভোরে?

    সাতটায় বাস ছাড়বে যে!

    ও তাই নাকি? এখন কটা বাজে?

    সওয়া ছটা হবে।

    প্রজ্জ্বল চায়ের কাপ তুলে নিতেই মামী বললেন, তোর মামা বেরুলেই বাথরুমে যাবি। দেরি করিস না।

    না।

    .

    সাতটায় না, বাস ছাড়তে ছাড়তে প্রায় আটটা হল। প্রত্যেকবারই এমন হয়! এর চাইতে আগে হওয়া সম্ভব নয়। বাস ছাড়ার সময় সুনীলবাবু বললেন, রওনা হতে বড্ড দেরি হয়ে গেল। মাংসটা খারাপ না হয়ে যায়।

    গোরাবাবু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে? অত রাত্রে কাটা মাংস সারা রাত বরফ দিয়ে রাখার পর কখনও খারাপ হতে পারে?

    প্রায় দুবছর পর এতগুলো পরিচিত মানুষের মধ্যে নিজেকে পেয়ে প্রজ্জ্বল খুব খুশি।

    মাসিমা চিনতে পারছেন?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, চিনব না কেন?

    বলুন তো আমি কে?

    কে আবার। তুমি তো মানা।

    মানিকদা কেমন আছেন?

    ভালো। আপনার খবর ভালো তো?

    এমনি ভালোই, তবে তখনকার মত হৈহুঁল্লোড় করার সুযোগ তো আর পাই না।

    মানিকদা হেসে বললেন, এখন আপনি এত বড় হয়ে গিয়েছেন যে সেসব ফ্রীডম এনজয় করা অসম্ভব।

    প্রজ্জ্বলও হাসে। কিন্তু বয়স তো ছাব্বিশ। মন যে মানে না।

    কিছুতেই নিজের জায়গায় বসে থাকতে পারছে না প্রজ্জ্বল। প্রত্যেকটা সীটের কাছে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। আরে জয়া! কেমন আছ?

    ভালো। তাহলে চিনতে পেরেছেন?

    চিনতে পারব না?

    অনেকে পারে না।

    আমি তো অনেক না, আমি সামান্য একজন।

    জয়া হাসে। কথা বলে না।

    হাসছ যে?

    দেখছি এত বড় অফিসার হয়েও কথাবার্তার ধরন বদলায়নি।

    বদলালে বুঝি খুশি হতে?…আরে মায়াবৌদি! তোমাকেই খুঁজছিলাম!

    কেন?

    তুমি পিকনিকে যাচ্ছ অথচ চাঁদাটা তো এখনও দিলে না!

    এমন ঘুষ খাবার হ্যাবিট হয়েছে যে পিকনিকের চাঁদা পর্যন্ত পকেটে পুরতে শুরু করেছ?

    .

    রিং রোড দিয়ে বাস ছুটে যমুনা ব্রিজ পার হল। মামী বিশ্বাসদার ছোট ছেলেটাকে কোলে নিয়ে বলছেন, ঐ দ্যাখ উট।

    প্রজ্জ্বলকে দেখে মামী বললেন, কিরে, তুই ঘুরে ঘুরেই বেড়াবি? বসবি না?

    রোজই তো বসে বসে কাটাই।

    প্রজ্জ্বল আর একটু এগিয়ে যায়। কি মণিমালা এখানে লুকিয়ে রয়েছ?

    বড় বড় চোখ দুটো তুলে এক মুহূর্তের জন্য প্রজ্জ্বলকে দেখেই মণিমালা দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। একটু হাসল। একটু যেন শুকনো হাসি। লুকিয়ে রয়েছি কোথায়?

    এতদিন পর দিল্লি এলাম অথচ একবারও খোঁজখবর নিলে না?

    আমি জানতাম না আপনি এসেছেন।

    যাই হোক, আজ কিন্তু অনেক গান শুনব।

    আমি আর আজকাল গান গাই না।

    কেন?

    ভালো লাগে না।

    না লাগলেও শোনাতে হবে। দাসনায় পৌঁছেই ফাল্গুনীর সেই গানটা শোনাবে।

    কোন গানটা?

    সেই যে, আকাশ আমার ভরল আলোয়, আকাশ আমি ভরব গানে।

    মণিমালা বিস্মিত হয়। এখনও মনে আছে ঐ গানটার কথা?

    কখন যে হিন্দন নদী পার হয়ে হাপুরের রাস্তায় বাস প্রায় দাসনার কাছাকাছি এসে গেছে, তা অনেকেই টের পাইনি। হঠাৎ সুনীলবাবু চীৎকার করে উঠলেন, ব্যস! ব্যস! ব্রীজকে বাদ ডাইনা টার্ন লেনা।

    ছোট্ট একটা ব্রিজ পার হয়ে বাস ডান দিকে ঘুরল। ছোট খালের পাড় দিয়ে মাইলখানেক যাবার পর একটা গেটের সামনে বাস থামল। দুতিনজন বাস থেকে নেমে চৌকিদারকে ইরিগেশন ডিপার্টমেন্টের অর্ডার দেখাতেই সে গেট খুলে দিল।

    .

    ইন্সপেকশন বাংলোটা পুরনো হলেও পরিবেশটা ভারি সুন্দর। সামনেপেছনে বিরাট লন। সামনের দিকের লনের পাশ দিয়েই ইরিগেশন ক্যানাল ধনুকের মতো বেঁকে ঘুরে গেছে। ক্যানালের জল এক জায়গায় উঁচু থেকে নীচুতে পড়ছে। অনেকটা জলপ্রপাতের মতো। পেছন দিকে লনের শেষ সীমায় দুটি কিচেন। তারপর আমবাগান।

    বাস থেকে সমস্ত মালপত্র নামাবার পরই গোরাবাবু আব সুনীলবাবু একটা কিচেন। দখল করে নিলেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে ইটের উনুন তৈরি হল। তারপর কাঠে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন জ্বালানো হল। এক উনুনে মুগের ডাল ভাজা শুরু হল আর অন্যটায় গরম জল চাপানো হল।

    পাশের কিচেনে শুরু হল চাজলখাবারের ব্যবস্থা। কিচেনের খানিকটা দূরে বিরাট লনের মাঝখানে বিরাট বিরাট সতরঞ্চি বিছিয়ে আড্ডা জমেছে মেয়ে পুরুষের। ঘোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমবাগানে লুকোচুরি খেলছে। প্রজ্জ্বল গোরাবাবুর পরিচালনায় ও সুনীলবাবুর প্রযোজনায় মাংস মেখে দিয়ে বাইরে গিয়ে দেখল সান্টুবাবুর ক্যারিকেচার দেখতে সবাই মত্ত। প্রজ্জ্বল দাঁড়াল না। মামা মামীর আড়ালে একটা সিগারেট খাবার জন্য ইন্সপেকশন বাংলোয় চলে গেল। সামনের বারান্দায় বিরাট ইজিচেয়ারে এক ভদ্রলোক ঘুমুচ্ছিলেন। ও বারান্দা পার হয়ে ঘরে ঢুকতেই দেখল মণিমালা একটা ইজিচেয়ারে শুয়ে রয়েছে।

    কি ব্যাপার? তুমি এখানে একলা একলা কি করছ?

    কিছু না। এমনি একটু শুয়ে আছি!

    কেন? শরীর খারাপ নাকি?

    মণিমালা মাথা নেড়ে বলল, ওখানে বড় বেশি হৈহুল্লোড় হচ্ছে বলে চলে এলাম।

    প্রজ্জ্বল একটু অবাক হল। মণিমালা আগে তো এমনি ছিল না। আচ্ছা তুমি বিশ্রাম কর। আমি যাই।

    চলে যাবেন কেন? চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসুন না!

    আচ্ছা তুমি আমাকে আপনি আপনি বলে কথা বলছ কেন বল তো?

    কোনো কারণ নেই। এমনিই বলছি।

    আর আপনি আপনি করবে না, বুঝলে?

    মণিমালা একটু হাসল।

    প্রজ্জ্বল খানিকটা দূরে চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসে একটা সিগারেট ধরাল। একটা টান দিয়ে মণিমালার দিকে চাইল। তুমি আমাকে ঐ গানটা শোনাবে না?

    সত্যি আজকাল গান গাই না।

    কেন?

    মণিমালা যেন একটু ভাবে। একটুকরো মুহূর্তের জন্য। এমনি। ভালো লাগে না।

    কিন্তু ঐ গানটা যে না শুনলে শান্তি পাচ্ছি না।

    কেন? কি ব্যাপার বলুন তো?

    আবার বলুন তো?

    মণিমালা হাসে। বোধহয় একটু জোর করে হাসল। আচ্ছা শুনি কি ব্যাপার।

    কি আর ব্যাপার? তোমার ঐ গানটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল।

    এতদিন পর্যন্ত মনে আছে?

    আরো কি কি মনে আছে শুনবে?

    মণিমালা আবার হাসে। বোধহয় অতীত দিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে ভালোই লাগে।

    উত্তরের অপেক্ষা না করে প্রজ্জ্বল বলল, কমলএ সিনেমা দেখার কথা মনে আছে? তাছাড়া দোলের দিন কি কাণ্ডটাই হয়েছিল?

    বিশেষ কিছুই না। পুরনো দিনের ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটা মিষ্টি স্মৃতির টুকরো। তবু ভাবতে গিয়ে ভালো লাগল মণিমালার। বোধহয় একটু লজ্জাও পেল। মুখ নীচু করে প্রায় আপন মনে বলল, এখনও সেসব মনে আছে দেখছি।

    তোমার গানের প্রশংসা করতাম বলে জয়া কি ভীষণ হিংসা করত তোমাকে।

    তাও মনে আছে?

    সিগারেট শেষ হতেই প্রজ্জল বলল, গান শোনাবে কখন?

    আজ না।

    তবে কবে?

    পরে।

    পরে আবার কবে শোনাবে?

    ঠিক শোনাব।

    কথা দিচ্ছ?

    সত্যি শোনাব।

    প্রজ্জ্বল এগিয়ে গিয়েও একটু পিছিয়ে এল, তোমার এম. এসসির রেজাল্ট তো বললে না?

    মণিমালা চট করে উত্তর দিতে পারল না। একটু পরে বলল, মাঝে পড়াশুনা বন্ধ ছিল। এবছর আবার ভর্তি হয়েছি।

    বন্ধ ছিল কেন?

    মণিমালা হাসল। নানা ঝামেলায়।

    এই বয়সে আবার ঝামেলা কিসের?

    সবার জীবন কি প্রজ্জ্বলের মতো উজ্জ্বল হয়? নাকি হতে পারে?

    তাই নাকি?

    প্রজ্জ্বল ইন্সপেকশন বাংলো থেকে বেরিয়ে গেল। সে জানল না মণিমালা তার চলে যাবার পথের দিকে চেয়ে রইল।

    .

    ওদিকে তখন দারুণ উত্তেজনা। ডাল নেমে গেছে। মাংস চড়েছে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা শালপাতা গেলাস ধুচ্ছে। পাশের কিচেনে উঁকি দিয়ে দেখল জনতা স্টোভে মায়াবৌদি ছোট্ট কড়ায় কি যেন বাঁধছেন। প্রজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল, আপনি আবার কি করছেন?

    নিরামিষ রান্না করছি ভাই।

    ও!

    কেন, কিছু বলবে?

    ভাবছিলাম এক কাপ চা পেলে খুব ভালো হত।

    তরকারিটা নামিয়ে করছি।

    মাঠের মাঝখানে মুক্তাঙ্গনে তখনও চাঞ্চল্য। জয়ার গান হয়ে গেছে। সান্টুবাবু এবার মূকাভিনয় দেখাচ্ছেন। আণ্ডাবাচ্চা থেকে গোরাবাবুর ঐ বুড়ি বিধবা মা পর্যন্ত হাসছেন। বিশ্বাসের ছেলে দুটো দৌড়ে ক্যানালের দিকে যাচ্ছে দেখে মামী তাদের পিছনে ছুটেছেন। এরই মাঝখানে কিচেন থেকে গোরাবাবু আর সুনীলবাবুর গলা শোনা যাচ্ছে। আঃ। আর লঙ্কা দিসনা।

    পনেরো কিলো মাংসে ঐ লঙ্কায় কি হবে রে? আবোরা লাগবে।

    তুই পাগলামি করিস না তো। শেষে বাচ্চাগুলো মুখে তুলতে পারবে না

    এর মধ্যে সান্টুবাবু মূকাভিনয় বন্ধ করে পাশের এক ক্ষেতে গিয়ে আখ খেয়ে এলেন আর আসার সময় একটা ছাগল ধরে এনেছেন। গোরাবাবু, এটাকে বেখে দিন। যদি বাইচান্স মাংস কম পড়ে তাহলে এটাকে একটু ঝোলে ডুবিয়ে সার্ভ করতে পারবেন।

    সব চাইতে মজা হল খাওয়ার সময়। যে যেখানে পারল শালপাতা নিয়ে বসে পড়ল। যারা পরিবেশন করল তাদের কষ্ট হল ঠিকই কিন্তু আনন্দ হল অপরিসীম। সবার খাওয়াদাওয়ার পর হাঁড়িকড়া নিয়ে খেতে বসলেন গোরাবাবু আর মামী। প্রজ্জ্বল ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘোষবৌদি একটা পান খাওয়ালেন। ঘুরতে ঘুরতে গোরাবাবুর মার কাছে হাজির হয়ে প্রজ্জ্বল জিজ্ঞাসা করল, মাসিমা আপনার খাওয়া হয়েছে?

    আজ তো অমাবস্যা।

    তাতে কি হল?

    আজ তো ভাতটাত কিছু খাই না বাবা।

    তবে।

    আমি, একটু ছানা আর ফল এনেছিলাম। তাতেই আমার হয়ে গেছে।

    প্রজ্জ্বল যেন শেষের কথাগুলো শুনতে পেল না। নিরামিষ রান্না কার জন্য? কাউকে কিছু বলল না কিন্তু মনের মধ্যে প্রশ্নটা বার বার উঁকি দিতে লাগল। মামামামীর আড়ালে সিগারেট খাবার জন্য ক্যানালের দিকে এগিয়ে যেতেই মায়া বৌদির সঙ্গে দেখা। প্রশ্নটা আর চেপে রাখতে পারল না।

    আচ্ছা বৌদি, তুমি কার জন্য নিরামিষ রান্না করছিলে?

    মণিমালার জন্য।

    প্রজ্জ্বল চমকে উঠল, মণিমালার জন্য?

    হা! তুমি জান না কিছু?

    না তো।

    ওর বিয়ে তো তুমি দেখে গিয়েছ?

    না না, আমি তো জানি না ওর বিয়ে হয়েছে!

    তাই বুঝি? মায়াববৗদি একটু থেমে বললেন, আরে বোলো না ভাই। ছমাসের মধ্যে মেয়েটার সর্বনাশ হল।

    বল কি?

    হ্যা ভাই। তুমি কিছুই জানতে না?

    না।

    মায়াবৌদি চলে গেল। প্রজ্জ্বল সিগারেটটা হাতে নিয়ে পাথরের মতো চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। অনেকক্ষণ। তারপর হঠাৎ খেয়াল হতেই সিগারেটটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ইন্সপেকশন বাংলোয় ঢুকল। বারান্দা পার হয়ে ঘরে ঢুকতে গিয়েই মণিমালার সঙ্গে দেখা। একেবারে মুখোমুখি। প্রজ্জ্বল থমকে দাঁড়াল কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারল না। মণিমালাই আগে কথা বলল, কি হল? অমন করে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?

    মুখ নীচু করে ঠোঁট কামড়াতে কামড়াতে প্রজ্জ্বল তবুও চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

    কি হল? কথা বলছেন না যে?

    আমি কিছুই জানতাম না মণিমালা।

    মণিমালা হাসল, জেনে আর কি হবে?

    আবার একটু নীরবতা।

    একটু হাতটা দেবে?

    কেন?

    দাও না।

    আঁচলটা টেনে নিয়ে মণিমালা ডান হাতটা বাড়িয়ে দিতেই দুহাতের মধ্যে ওর হাতটা ধরে বলল, আকাশ আমার ভরল আলোয়, আকাশ আমি ভরব গানে।

    তাড়াতাড়ি হাতটা টেনে নিয়ে মণিমালা বলল, কি পাগলামি করছেন?

    সময় নেই মণিমালা। কথা দাও।

    কি কথা দেব?

    তুমি আমার আকাশ আলোয় আর গানে ভরিয়ে দেবে।

    তাই কি হয়?

    হয়।

    তা হয় না।

    হয়। নিশ্চয়ই হয়। হতেই হবে। তুমি কথা দিলেই হবে।

    কিন্তু

    প্রজ্জ্বল মুহূর্তের জন্য দুহাত দিয়ে ওর মুখখানা তুলে বলল, বোধহয় তোমাকে পাব বলেই এই পিকনিকে এসেছিলাম, তাই না?

    মণিমালা দাঁড়িয়ে রইল। প্রজ্জ্বল ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল।

    .

    মামী
    জয়পুর ফিরে এসেও বার বার মণিমালার কথা মনে পড়ছে।
    মন্দির আছে, বিগ্রহ আছে, অথচ শুধু পূজারীর অভাবে ওর
    জীবন এমন ভাবে নষ্ট হতে পারে না। আমি আছি।
    আমি রইলাম।
    তোমাদের স্নেহের মানা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রেয়সী – নিমাই ভট্টাচার্য
    Next Article প্রিয়বরেষু – নিমাই ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নিমাই ভট্টাচার্য

    মেমসাহেব – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    এ-ডি-সি – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    আকাশ-ভরা সূর্য-তারা – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    ডিপ্লোম্যাট – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রিয়বরেষু – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নিমাই ভট্টাচার্য

    প্রেয়সী – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }