Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ফুলবর্ষিয়া – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প138 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুই বন্ধু

    তোকে আমি শো’রের বাচ্ছা বলেছি।

    যাকে বলল, তার একটি নিশ্বাস পড়ল ফোঁস করে।

    যে বলল, তার সামনের দাঁতগুলি নেই। গতকাল রাত্রের এক চিমটি তামাক পাতা ছিল তার নীচের মাড়িতে গোঁজা। সেটুকু চুষছে এখনও। লালা গড়াচ্ছে তার বাসি মাংসের মতো চোপসানো ফাটা ঠোঁটের কশ দিয়ে। ভোরের আলোয় কী যেন খুঁজছে মাটিতে হাতড়ে হাতড়ে।

    আবার বলল, বুডঢা, তোকে আমি গীদধরের বাচ্ছা বলেছি।

    বুডঢার আবার একটি নিশ্বাস পড়ল ফোঁস করে। কালো গলিত পাঁকের মতো থলথলে নীচের ঠোঁট তার ঝুলে পড়ল। দেখা গেল, বুডঢার দাঁত নেই একটিও থলথলে কালো মাড়িতে।

    যে বলল, সে যেন ডুব দিয়ে উঠেছে মানুষডোবা পাঁক থেকে। দলা দলা পাঁক গড়িয়ে, ঝুলে পড়ছে সর্বাঙ্গে। কিন্তু, ওগুলি পাঁক নয়, গায়ের মাংস আর চামড়া। লোল-শিথিল শরীর বুড়োর, মনে হচ্ছে ওইরকম। চোখ দুটি গলা গলা, একটু শাদাটে। নজর যে বিশেষ নেই, তা বোঝা যাচ্ছে। খানিকটা ন্যাকড়া আছে গোঁজা তার কোমরে। তাতে লজ্জা ঢাকেনি, বুড়ো যেন অচেতন শিশু হয়ে উঠেছে।

    সামনে একটি হেলে-পড়া ভাঙা-বেড়া ঘর। মাথা নিচু করে, পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে বুডঢা। উপুড় হয়ে, হামা দিয়ে কী খুঁজছে বুড়ো। আবার বলল, তোকে আমি হারামি বলেছি, যা আমার দিল চেয়েছে। কখনও গোঁসা করে বলেছি, আবার সোহাগ করে বলেছি। এটা তামাম দুনিয়ার নিয়ম, একজনকে সে সবকিছু বলে। আমার বুড়িকে বলেছি, ব্যাটাকে বলেছি। কিন্তু ওরা যা, তা-ই থেকে গেছে। তুই যে ছেরুয়া, সেই ছেরুয়াই আছিস। তাই না?

    ছেরুয়া বুডঢার পাহাড়ে-শরীর আকুঞ্চিত হল একবার। পিচুটি-গলা চোখ দুটি উদ্দীপ্ত হল। আরও। আর একটি নিশ্বাস পড়ল ফোঁস করে।

    বুড়ো বলল, তবে। তুই আজ ফের তুক করেছিস। আমি লাঠি খুঁজে পাচ্ছি না। তুই যেদিন তুক করিস, সেইদিনই আমার লাঠি হারিয়ে যায়। হাঁ, তোকে আমি গালমন্দ করি। পেটাই ওই লাঠিটা দিয়ে। আমার বুড়িকে পিটিয়েছি, ব্যাটাদের পিটিয়েছি আর তোকে আজও পেটাই। কেন? না আমাকে একজন পেটায়। এটা দুনিয়ার নিয়ম। বুডঢা, তুই ভয় পাচ্ছিস মিছে। তোর তুক তুলে। নে, লাঠিটা আমাকে বার করে দে।

    ছেরুয়া বুডঢার সারা শরীর আকুঞ্চিত হল আবার ঘন ঘন। দন্তহীন কালো মাড়ির পাশে, ফাটা কালো জিভ দিয়ে নাক চেটে নিল একবার।

    বুড়ো তখন ঢুকেছে বুডঢার পায়ের তলায়। বলল, পেয়েছি। তোরই পায়ের তলায় রয়েছে।

    বুডঢার পায়ের তলা থেকে বেরিয়ে এসে, লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়াল বুড়ো। চোপসানো ঠোঁটের পাশ দিয়ে আবার গড়িয়ে পড়ল খানিকটা লালা। হাঁপ ধরে গেছে। সামলাতে হল খানিকক্ষণ সেই বাসি তামাকপাতাটুকু চুষে। যেন মাথা থেকে পা পর্যন্ত, চুষছে সারা দেহটাই। বলল, বুডঢা, তোর তুক টেকে না। কেন না, তুই ছেরুয়া। আমি মানুষ।

    বুডঢার গলনালী থেকে একটা চাপা শব্দ বেরুল, আঁ।

    হাঁ। আর এই লাঠিটা আমার দরকার। তোকে আর আমাকে দুজনাকেই চালাবার জন্যে দরকার।

    বুড়ো তাকাল সামনের দিকে। কেউ নেই। সবাই বেরিয়ে গেছে সেই ভোররাত্রে। মেয়ে-পুরুষ গাড়ি বলদ-ছেরুয়া, টিন বাঁকবুরুশ, সব চলে গেছে ধাওড়া থেকে। শুধু শুয়োর চরছে, বুড়ির বাচ্চারা ঘুরছে, বসে আছে।

    বিষকাটারির ঝাড় আর ডোবা ছড়িয়ে আছে শুয়োরের জন্য। দূরের উঁচুনিচু টিলাগুলি পাহাড় নয়। কাগজকলের রাবিশ ফেলে ওইরকম হয়েছে। যেন সাদা পাথরের স্তূপ। তারপর একরাশ সবুজ লকলকিয়ে উঠেছে বাঁশঝাড় বেয়ে। আম জাম নারকেলের সারিতে। তার ওপারের আকাশে দেখা দিয়েছে একটু রক্তাভা।

    বুড়ো বলল, সবাই চলে গেছে। আগে আমিও যেতাম বুডঢা, তুইও যেতিস। এখন দেরি হয়ে যায়। আমরা দুজনে বুড়ো হয়ে গেছি। এবার চল।

    বুডঢা সামনের পা-টি তুলল একবার। বাড়াতে পারল না। আবার তুলল, পারল না।

    বুড়ো দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই। এগুতে পারছে না। দুজনের কালো দন্তহীন মাড়ি বেরিয়ে পড়ল। বিলুলিত হল দুজনের শরীর।

    এটা আমাদের মনের ভয়। আমরা দুজনেই ভয় পাচ্ছি। আমাদের বুকের মধ্যে বসে কারা। দাপাদাপি করছে, ভয় দেখাচ্ছে, কিন্তু আমরা বেঁচে আছি এখনও, রুটি বিচুলি খাই। তাই আমাদের যেতে হবে। কাজ করতে হবে। বুড়ো প্রাণপণে চেঁচিয়ে উঠল ছেরুয়া বুডঢা!

    সেই চিৎকার শুনে, বুডঢা দুপা এগিয়ে গেল। বুড়োও এগিয়ে এল!

    দুজনেরই চোখ দুটি সমান গোল। একই রকম পিচুটি আকীর্ণ গলিত সিক্ত চোখ। চিৎকার করেছে বুড়োই। কিন্তু দুজনের মনে হল, যেন আর কেউ হাঁক দিয়েছে। দুজনেই এগিয়ে গেল ঘরের পিছন দিকে।

    সেখানেই রয়েছে মিউনিসিপালিটির ভাগাড়ের পুরনো গাড়িটা। গাড়িটা ঝরঝরে হয়ে গেছে। ভেঙে, মরচে পড়ে হা হা করছে চারদিক। জোয়ালের কাঠ খেয়েছে পোকায়। চাকা দুটি টালমাটাল আছে এক রকম। তেল পড়ে না আর হুইলে, চলে কেঁদে ককিয়ে। এখন আর কোনও নম্বর বহন করে না গাড়িটা। ওটার আর কোনও অস্তিত্ব নেই মিউনিসিপালিটির খাতায়।

    কারও নেই। বুড়োরও নেই।

    একদিন ছিল। আমার নাম ছিল গাড়ি-টানাদের হাজিরা খাতার সকলের ওপরে। আমি ছিলাম সর্দার, নাম ছিল বটুয়া। তখন ছিলাম মানুষ। এখন বুড়ো। আমার নাম গেছে খারিজ হয়ে। কিন্তু এখনও আমি কাজ করি, তাই আমাকে খাবার জন্যে কয়েকটা টাকা দেয় মিউনিসিপালিটি থেকে। তাই নিয়ে আমাকে খাওয়ায় শেখো মরদের বউ।

    গাড়িটাকে দেখলে মনে হয় না চলে! জোয়ালটার ভার বেশি নেই। কিন্তু বুড়োকে তুলতে হয় কাঁধ দিয়ে। তুলে ডাকে, বুডঢা আয়।

    বুডঢা তাকাল উদ্দীপ্ত গলিত চোখে ছানি পড়েছে, বুড়োর মতোই কালো মণি দুটো ঘষা কাঁচের মতো সাদা দেখাচ্ছে! তার পাশে লাল জায়গাটুকুতে ভয় কাঁপছে থরথর করে। বিশাল কালো শরীরটা আর সম্মুখভেদী শিং দুটি যেন পাথর হয়ে গেছে। নড়ছে না, কান দুটি কাঁপছে শুধু। এখনই হড়হড় করে লালা ঝরছে নাক দিয়ে।

    বুড়ো আবার চিৎকার করে উঠল, আয়।

    বুডঢা দুবার চেষ্টা করল। সামনের পা দুটো যায় তো, পিছনের দুটো আসে না। তারপর পাছার ধাক্কায় যেন এগিয়ে দিল সামনেটা। ঢুকল জোয়ালে। বুড়ো বলল, হাঁ। তুই বুড়ো হয়েছিস, তবু ভয় পাস। এবার চল।

    হাজিরা নেয় না আর বুড়োর। তবু বুড়ো হাজিরা দিয়ে যায় একবার মিউনিসিপালিটিতে।

    চাকাতে টান পড়তেই কে যেন কেঁদে উঠল বুড়ো-গলায়, আঁ হো আঁউ…

    বুড়ো বলল, হাঁ!

    ওটা বুড়োর অভ্যাস। বুডঢার সঙ্গে কথা বলতে বলতে এদিক ওদিক দেখতে দেখতে, চাকা দুটি এক পাক খায়, আর কঁকায় আঁ হো আউ…।

    বুড়ো বলে, হাঁ।

    অর্থাৎ ঠিক চলছে।

    শব্দটা শোনা মাত্রই, আশেপাশে শুয়োরগুলি উঠল ফোঁস ফোঁস করে। একদল বাচ্চা উঠল ছড়া কেটে চেঁচিয়ে,

    ছেরুয়া ছেরুয়া ছেরু–য়া
    তোকে তেল মাখাব কেড়ু–য়া।

    বুড়ো বলল, হাঁ, তেল মাখালে ছেরুয়া খুব তাগুদে হয়। তোকে আমি মাখাতে পারিনি। কেন , আমি নিজে কোনওদিন মাখতে পাইনি। তোর নাম ছিল আমার সঙ্গে, মিসিপালটির এক খাতায় বটুয়া সর্দার, এক গাড়ি, এক ছেরুয়া।

    তুই ছিলি পাঁড়া, হতে পারতিস ভঁইসা। কিন্তু ভঁইসা গাড়ি টানে না, চাষ করে না, শুধু জন্ম দেয়, ঘোরে ইসীর পিছে পিছে। সামনে কোনও ভঁইসা এলে সে লড়ে। হয় মরে না হয় মারে। মানুষ তোর কাছ থেকে জন্ম দেওয়ার মরদপানাটা নিয়েছে ছিনিয়ে তাই তোকে বলে ছেরুয়া। তুই জানিস না, এই দুনিয়া কাজের জন্যে তোর কাছ থেকে কী ছিনিয়ে নিয়েছে। যে সময়ে নিয়েছে তখন তোর কিছু করার ছিল না। আমার নিলে, আমারও থাকত না।

    দুধের দাঁত সবকটা পড়ার আগে তুই কাজে লেগেছিলি। এখন তোর জোয়ান বয়সের দাঁত নেই একটাও। আমার মতো বুডঢা। তখন ছিলি আমার বুকে বুকে, এখন কাঁধে কাঁধে। ঠিক বুড়ো যখন। ছিলি, তখন ছিলি হাড্ডিসার। এখন তুই বুড়ো নোস তারও বাইরে। এখন ফুলে হয়েছিস ঢোল, পাগুলো হয়েছে সরু কাঠি। তাই তোর নামটাও গেছে খারিজ হয়ে। এক আঁটি বিচুলি তোকে দেয় মিসিপালটি। কেন না, তুই কাজ করিস এখনও আমার সঙ্গে। এইটা নিয়ম।

    ছেরুয়া, ছেরুয়া, ছেরু–য়া।

    একটু একটু করে হারিয়ে গেল পিছনে বাচ্চাদের চিৎকার। সামনে রাস্তা। বৈশাখী সূর্য উঠে এসেছে খানিকটা। এর মধ্যেই ছড়াচ্ছে উত্তাপ।

    বুড়ো চাকা গোঙাচ্ছে-আঁ হো আঁউ…

    বুড়ো বলছে, হাঁ।…থামিসনে বুডঢা, চল। যেতে হবে বহুদূর। ঘুরতে হবে অনেক রাস্তা। ওই বুড়ো চাকা দুটো ডাকে, আমি ভাবি, তুই ডাকিস। বেলা যত বাড়ে, তত মনে হয়, ওটা আমারই গলা, আমিই ডাকি। আসলে ওটা আমাদের তিনজনের। তোর, আমার, গাড়িটার। তিন খারিজের বেঁচে থাকাটা ও জানান দিয়ে যায় সবাইকে।

    বুড়ো সারা মুখ কাঁপিয়ে চুষছে তামাক পাতা। বাসি পাতার স্বাদ নেই আর। কাগজের মতো পানসে হয়ে গেছে। মাড়িতে মাড়িতে ঘষেও একটু রস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই গিলতে ইচ্ছে করছে না, লালা গড়িয়ে পড়ছে কশ দিয়ে।

    বুড়োটার নাক থেকেও গড়াচ্ছে লালা। চলছে খুব আস্তে। এক পা ফেলে, আর এক পা টানতে সময় লাগে। হাড়ে হাড়ে জং ধরে গেছে। পা তুলতে গেলে হাঁটু বাঁকে না, খাড়া হয়ে থাকে।

    বুডঢার পা ফেলাটা বোঝা যায়, যখন চাকা দুটো আঁ বলে খানিকক্ষণ থামে। তারপর হো বলে আবার থামে। পরে, হঠাৎ আঁউ শব্দটা সবচেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে। তখন পিছনের পা দুটো যায়।

    বুড়ো বলে, হাঁ।..আমি ওই ডাক শুনি। আর দেখি একটা পাহাড় চলেছে আমার পাশে পাশে। একটা কালো পাহাড়, বাঁয়ে হেলে ডাইনে হেলে, ঢেউ দিয়ে চলেছে। পাছায় তার বড় বড় পাথরের চাংড়া আছে খোঁচা খোঁচা হয়ে। তারপর উঁচু পাহাড়ের কোলে যেমন থাকে সমান জমি, তেমনি চলে গেছে তার পিঠ। আমার বুডঢা ছেরুয়া। ওর শিং দুটো আমার হাতের চেয়ে বড়। কখনও মনে হয়, একটা পেল্লায় কালো মেঘ চলেছে আমার পাশ দিয়ে।

    কত বড়। তার পাশে, লাঠি হাতে আমি। মেঘ বলো, পাহাড় বলল, ওকে চালাই আমি। অথচ আমাকে দেখা যায় না ওর আড়ালে। দেখে নিশ্চয়ই ভগবান হাসে। কিন্তু চাকা কেন ডাকছে না। বুডঢা!

    সামনের রাস্তাটি, নর্দমার কালভার্টের জন্য একটু উঁচু হয়ে উঠেছে। বুডঢা ঠেলছে, উঠতে পারছে না।

    পারবি বুডঢা, পারবি। রোজ পারিস, আজও পারবি। আজ, হ্যাঁ আজ কী হয়েছে আমারও। আমারও মনে হচ্ছে, আমি যেন আমার গাঁয়ের সেই পাহাড়ের মন্দিরটার সামনে এসেছি। ওইখানে মহাদেব আছে। এত উঁচু তো মনে হয়নি কোনওদিন এ রাস্তাটা। আমার হাঁটুর শিরে টান ধরছে। দুহাতে আমাকে লাঠি ভর দিতে হচ্ছে। তোকে আমি ঠেলতে পারব না।

    ঠিক যাব, বুডঢা, এটা আমাদের মনের ভয়। আমরা দুজনেই বুড়ো হয়ে গেছি। ছেরুয়া বুডঢা…! আ…আ…আঁ হো…আউ…

    হাঁ।…এইটা ভগবানের হাসি, ওই রাস্তাটা। আমি দেখেছি ভগবানের হাসি। আমার প্রথম ছেলেটা মরবার আগে যখন ধনুকের মতো বেঁকতে লাগল মেঝেয় পড়ে, দেখলাম ভগবান হাসছে। ধাওড়ার মারামারিতে যেদিন রামু চালুর মাথাটা কোদাল দিয়ে ফাঁক করে হাঁ করে তাকিয়ে রইল, দেখলাম ভগবান হাসছে। কেন, শেখোর বাচ্চাটার পাতের ভাত যখন শোরে এসে কপকপ খেয়ে ফেলতে থাকে আর বাচ্চাটা কাঁদে, আমি দেখি ভগবান হাসে। দিব্যি করে বলছি, দেখেছি। বুডঢা, তুই দেখতে পাস না।

    শিউরে উঠল একবার বুডঢার সারা গায়ের চামড়া। ল্যাজটা আন্দোলিত হল বারকয়েক। ঘাড়ের কাছে কয়েকগাছি চুল উড়ছে ফুরফুর করে।

    বুড়ো বলল, তুই ঠিক দেখতে পাস। তুই আমাকেই তুক করিস, যাতে আমি কিছুতেই উঠে না দাঁড়াতে পারি। মিছে তুক করিস। দুনিয়ার নিয়মের কাছে তুক চলে না।

    রাস্তা ঘিঞ্জি হচ্ছে, শহর বাড়ছে। দোকানপসার ছেকে ধরছে রাস্তার দুদিক থেকে। সূর্য হাসছে দপদপিয়ে। বাতাস হালকা লাগছে একটু একটু। রাস্তাটা তাতছে ধীরে ধীরে। ধুলো উড়ছে থেকে থেকে।

    গাড়ি ঘোড়া ভেঁপু। থামিসনে বুডঢা, এ সবই তোর চেনা। মোটরের ড্রাইভার তোকে খিচোবে, রিকশাওয়ালা গালাগাল দেবে, বাচ্চারা ঢিল মারতে পারে, দল বেঁধে ভেংচাবে, আঁ হো আঁউ! হাঁ। সে শুধু তোকে নয়, গাড়িকে নয়, আমাকেও।

    থামিস্ নে। রাস্তাটা তো বেশ আলকাতরা-ঢালা পেয়েছিস, চলে চল। ওই দেখা যায় মিসিপালটির অপিস। ওই লাল টকটকে ফুল, উড়ছে বাতাসে। তোর ভয় পাবার কিছু নেই, ওগুলি রক্ত নয়; ফুল। মনে হয়, যেন মাটির তলে আছে অনেক রক্ত, গাছে গাছে ফুটেছে বিন্দু বিন্দু হয়ে। তারপর ঝরে যাচ্ছে মাটিতে। সবাই ঝরে যায় একদিন।

    এটা নিয়ম।

    দাঁড়াল এসে মিউনিসিপালিটির ফটকের সামনে। সেখানেই দাঁড়িয়েছিলেন স্যানিটারি বাবু সাইকেলে হেলান দিয়ে। বললেন, আজও তুই বেরিয়েছিস বুড়ো।

    কী আশ্চর্য কথা! ফোকলা মাড়িতে, বলিরেখাঙ্কিত শিথিল গালে বুড়ো হাসল। কথা বলতে গিয়ে জড়িয়ে যাচ্ছে জিভ। মাঝে মাঝে এই রকম হয়। তোমার হাত, তোমার পা তোমার চোখ জিভ তোমার কথা শোনে না।

    জিভটাকে স্থির করে রাখল বুড়ো এক মুহূর্ত। লালা মুছে নিল হাতের চেটোয়। তারপরে বলল, হাজিরা দিতে হবে না?

    বাবু বললেন ভ্রূ কুঁচকে, হাজিরা দিতে হবে?

    হাঁ। তুমি যখন বাইরে আছ বাবু, হাজিরাটা নিয়ে নাও।

    নিয়ে নিলুম।

    হাঁ। ফিরে যাওয়ার সময় বুডঢার বিচুলি নিয়ে যাব।

    নিয়ে যেয়ো।

    বাবু!

    বল।

    একটু দাওয়াই দিতে হবে।

    কার? তোর?

    না, বুডঢার।

    স্যানিটারিবাবু তেলচিটে টুপিটা মাথা থেকে খুলে, হেসে উঠলেন হা হা করে। তারপর ভারী অবাক হয়ে তাকালেন বুডঢার দিকে। বললেন, বুডঢার পেটটা তো রেল ইঞ্জিনের মতো হয়েছে।

    হাঁ।

    কী খায়?

    মিসিপালটির বিচুলি!

    তাই খেয়ে এত বড় হয়েছে পেটটা?

    না। ফুলে যাচ্ছে রোজ, একটু একটু করে।

    স্যানিটারিবাবু তাকিয়ে দেখলেন, বুড়োরও হাত পা ফুলেছে, মুখও ফুলেছে। বললেন, তুইও তো ফুলে গেছিস।

    বুড়ো ভাবল, তা হতে পারে। এ সময়ে সবাই ফোলে।

    বিশ্বের এক বিচিত্র বিস্ময় যেন দেখছেন স্যানিটারিবাবু। একবার দেখেন বুড়োকে, আবার একটু ফিরে দেখেন বুডঢাকে। বললেন, তোবে না তো রে। যে কালাপাহাড়, যেমন চাউনি। আর যা শিং বাবা।

    না। ও যে ছেরুয়া। বয়েসকালে একটু আধটু বাগাত। ওর আসল জিনিস থাকলে, আপনাকে ওই রকম কাছে ঘেঁষতে দিত না। এতক্ষণে আপনার লাশ বাড়িতে রেখে আসতে হত।

    উল্লুক।

    হাঁ বাবু।

    কী দাওয়াই দিতে হবে?

    দুটো দাওয়াই। বুডঢার তেরোটা ঘা হয়েছে বাবু।

    গুনে রেখেছিস।

    হাঁ। এই যে, লাল দগদগে ফটকের এই ফুলের মতো। এক–দুই-তিন…মাছি ধরেছে। বুডঢা এখন আর তাড়াতে পারে না।

    আর কীসের দাওয়াই?

    ওর শরীলের সব কবজাগুলো জং ধরে গেছে। একটু মালিশ চাই।

    মালকোঁচা-দেওয়া স্যানিটারিবাবু টুপি হাতে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলেন বুড়োর দিকে। বললেন, ওই দাওয়াইগুলো তোর নিজের জন্যে চাইনে?

    বুড়োর ভয়, বুডঢা তার আগে মরবে। সেইজন্যে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। নিজের জন্যে চায়। বলে, এটা দুনিয়ার নিয়ম। বলল, না।

    স্যানিটারিবাবু মনে মনে বললেন, ব্যাটা এই ফটকেই না পড়ে এখুনি মরে।

    বললেন, আচ্ছা যা, নিয়ে যাস।

    বাবু, একটা বিড়ি দাও।

    দিলেন একটি বিড়ি। বুড়ো সেটি ভেঙে, ছোট্ট এক টুকরো ফেলে দিল কশে। একটু নেশা চাই।

    এ সবই রোজকার ব্যাপার। বুড়ো বলল, বুডঢা, দাওয়াই বাবু দেবে না, ওই রকম বলে। চাকায় একটু তেল, তোকে একটু দাওয়াই। কিন্তু তার দাম আছে। খারিজের খাতায় ওগুলো নেই। আমি জানি। তবু কেন বলি। বলতে হয়, কেন না, আমি মানুষ। ৮৩২

    সূর্য ক্রমে প্রচণ্ড হচ্ছে। চোখে আগুন, জটায় হলকা। মহামেদিনী কাঁপছে দাবদাহের ভয়ে।

    তবু মানুষ ঘুরছে, পুড়ছে। ধুলো উড়ছে, মানুষ চোখ-মুখ ঢাকছে। আঙিনায় বারান্দায় সব জায়গায় তৈরি করছে ছায়া।

    কিন্তু বুডঢা, আমাদের এ সব দেখলে চলবে না, যেতে হবে আমাদের। চল।

    কাঁপছে এখনই বুডঢার নাসারন্ধ্র, ফুটো দিয়ে ঝরছে ঘাম। পিচুটি-গলা ভয়ার্ত চোখে গড়াচ্ছে জল। বুড়ো দেখল, শিঙের গোড়ায় পোকা কিলবিল করছে বুডঢার। তাই কাক বসেছে মাথায়। টুকরে ঠুকরে খাচ্ছে পোকা।

    বুড়ো, থামলে চলতে পারবিনে। আমাদের যেতে হবে দূরে।

    আমরা কোথায় যাব? আমরা যাব ভাগাড়ে।

    বুডঢা শূন্য চোখে দূরে তাকিয়ে নিশ্বাস ফেলল ফোঁস করে।

    ভয় পাচ্ছিস বুড়োটা। কিন্তু এইটা আমাদের কাজ।

    আমরা টহল দেব আমাদের এলাকাটা। যার নাম মিসিপালটির ওয়াড। পথে পথে পড়ে থাকবে যত মড়া, সবাইকে তুলে দিয়ে আসব ভাগাড়ে। এইটা আমাদের কাজ। কুত্তা, বেড়াল, ছাগল, গরু, ভঁইসী, ভঁইসা, ছেরুয়া…

    তুই ভয় পাচ্ছিস বুডঢা। মিছে ভয় তোর। সবাই যায়। কেউ যায় ভাগাড়ে, কেউ শ্মশানে কেউ কবরে। কিন্তু যেতে হয়। আমাকেও যেতে হবে একদিন শ্মশানে। তোকেও যেতে হবে একদিন ভাগাড়ে। আমি সঙ্গে যাব না, কেন না, তুই মরে গেলে, তোকে নিয়ে যাব কেমন করে।

    তুই মিছে ভয় পাচ্ছিস। এ দুনিয়ায় এলে, থামবার জো-টি নেই, যেতেই হবে। এইটা নিয়ম।

    আমাকে পোড়াবে, তোকে খাবে শকুনে। কিন্তু আমরা সেটা জানতে পারব না। চল।

    চলে না। বুডঢার গলিত মাড়ি ঝুলে পড়ছে। তেমনি তাকিয়ে আছে ভয়ার্ত ব্যাকুল চোখে, দীপ্ত রোদের দিকে।

    বুড়োর মনে হল, গরম বাতাস তাকে ঠেলে দিচ্ছে ফটকের দিকে।

    আজ বড় দম নিতে হচ্ছে। ঠেলতে হচ্ছে বারবার, চাড় লাগছে হৃৎপিণ্ডে। ছেরুয়াটা তুক করছে নাকি। মনে হচ্ছে যেন, ভগবান হাসছে।

    বুড়ো প্রাণপণে চিৎকার করে উঠল, এই শো’রের বাচ্ছা, শুনতে পাচ্ছিস।

    কে যেন হেসে উঠল হা হা করে। হাঁ, এমনি করে সবাই হাসে। ভয় দেখাচ্ছে আমাকে। আবার চিৎকার করে উঠল, ছেরুয়া–বুডঢা!….

    আঁ-আঁ হো আঁউ!

    হাঁ। তিন খারিজে ডাক ছেড়েছে।

    দুজনেরই ছানিপড়া চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে রোদে। বড় রাস্তা পার হয়ে পড়ল পাড়ার মধ্যে। বাচ্চারা লাগল আবার পিছনে। কে একটা মরা ইঁদুর ছুঁড়ে ফেলল ভাঙা গাড়িতে, নে নিয়ে যা ভাগাড়ে।

    হাঁ। কিন্তু বাচ্চারা, তোরা চড়িসনে। এ গাড়ি ভাগাড়ে যায়। ওটা কী রাস্তার কিনারে? মরা কুত্তা? না, ছেড়া বালিশ। ওটা ভাগাড় যাবে না ছেরুয়া, শুকে কে যা, যত মরার জঞ্জাল, সব নিয়ে যেতে হবে।

    যদি সারা এলাকায় না পাই, তবু যেতে হবে। কেন? না, যদি সীমানার বাইরে কেউ পড়ে থাকে ভাগাড়ের জীব, তাকে ফেলে দিতে হবে ভাগাড়ে। তাই রোজ যেতে হয়। এটা আমাদের ডিপটি, অর্থাৎ কাজ।

    আমরা জন্ম থেকে মরণে যাই। আঁতুড় থেকে ভাগাড়ে। এখানে সবাই বিয়োয়। ওই বউটা, ওই ভঁইসীটা, ওই কুত্তিটা। এই পথে রোজ আমাদের যাওয়া-আসা। রোজ দেখি, জীবনটা চলে অষ্টপোহর। মিছে তোর ভয় বুডঢা, সামনে চল।

    সামনে বাঁক। আবার বাঁক। ছেরুয়ার বুড়ো পিঠের শিরদাঁড়া বাঁকে না। অনেকখানি জায়গা নিয়ে মোড় বেঁকতে হয়। বেধে যায়, পিছুতে হয়, আবার সামনে।

    পথ এই রকম। বাঁকা…বাঁকা…বাঁকা। অনেক খানা খাদ পাবি বুডঢা, খবরদার! নেমে পড়িসনে। ওরা তোকে ডাকবে পরান জুড়োতে। জুড়োলে আর পারবিনে যেতে।

    চাকার শব্দ ক্রমে বিলম্বিত হচ্ছে একটু একটু করে, সুদীর্ঘ নিঝুম দুপুরের বিলম্বিত লয়ের মতো।

    মাথা নুয়ে পড়ছে ছেরুয়ার। পেটের দিকটা আরও ফুলছে যেন। মাছি ভরে গেছে ঘায়ে। হড়-হড় করে লালা গড়াচ্ছে।

    বুড়োর বুকের মধ্যে বিদ্যুতের চমক লাগছে।

    কেন, কী হয়েছে আমার। উরতের শিরায় টান পড়ছে আমার, তামাকপাতাটুকু বেরিয়ে পড়তে চাইছে কশ বেয়ে। আমার ঘাম ঝরছে। কেন, আমার তো ঘাম ঝরে না আর।

    খং করে কী বেজে উঠল। বুডঢার সম্মুখভেদী শিঙের ঠোকা লেগেছে লাইটপোস্টে।

    বুডঢা ডাইনে বেঁকে চল। এখন কানা হলে চলবে না। একী, তোর চোখ কোথায়? ভয়ে উলটে ফেলেছিস। তোর চোয়াল দুটো লালায় হড়কে যাচ্ছে। থামিসনে বুডঢা। আগুন উঠছে জমি থেকে। তুই খারিজ ছেরুয়া, খুরে তোর নাল লাগানো হয়নি অনেক দিন। আমার নাগরা কবে ছিঁড়ে গেছে। পুড়ছে পায়ের তলা।

    সামনে আর একটি পাড়া। শেষ পাড়া। ওটি ডোমপাড়া। বুডঢা , রোজ তোকে অভিশাপ দেয়। তুই মলে ওরা চামড়াটা ছাড়িয়ে নেবে। নেবে নেবে, তুই চোখ বুজে পার হয়ে চল। ওরা ছুরি শানাচ্ছে, হাসছে, দেখছে তুই কবে মরবি! চাকার ডাক শুনতে পাচ্ছিনে কেন। বুডঢা!

    বুডঢার মাথার উপরে চলে গেছে জোয়াল। ফোঁস ফোঁস করছে। যেন কোনও শত্রু ওর সামনে এসেছে, তাই দাঁড়িয়েছে রুখে। কিন্তু বুড়ো জানে, ও ভয় পাচ্ছে, বুড়োকে তুক করছে।

    এই গীদধরের বাচ্ছা!

    লাঠি তুলল বুড়ো। ছেরুয়ার পেছনের পায়ে শিরে টান পড়েছে, এগুচ্ছে না বুঝি।

    বুড়ো মারল লাঠি দিয়ে। একবার, দুবার, তিনবার, বারবার।

    আমাকে মারতে হয়। প্রাণপণে মারতে হয়। না মারলে আমি চলতে পারব না! তুই আমার ছেরুয়া। ওরে শোরের বাচ্ছা, মরে গেলেও তোকে মারব। ভীরু, মরণে তোর ভয়!

    মারতে লাগল ঠাস ঠাস করে।

    ছেরুয়ার চোখ দুটো প্রকাণ্ড হয়ে উঠল। গলগল করে ঝরে পড়তে লাগল জল।

    এই…এই…এই!

    দুটো ডোম এল। কেন মারছ এত। অবলা জীব।

    বুড়ো দেখল, হাতে ওদের ছুরি আছে নাকি। মরলে ওরা ছুরি নিয়ে আসত।

    মারতে লাগল বুড়ো। ডাক দিল, ছেরুয়া বুডঢা!…

    আঁ–হো–আঁউ!

    হাঁ।

    বুড়ো তাকাল ডোম দুটোর দিকে। কিন্তু নিজে চলতে পারছে না। বলল, এই তোর তুক। তুই এমনি করে আমাকে মারবি। এমনি করে।

    বাতাস পাক খাচ্ছে, তপ্ত বাতাস। হাঁপাচ্ছে বুড়ো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আর চাকার লয়ে তাল দিচ্ছে, হাঁ। এবার তুই চল বুড়ো, নইলে তোকে মার খেতে হবে। এখনও বেঁচে আছিস, চলতে হবে!

    ফাটা থ্যাবড়া ঠোঁট বুড়োর ঝুলে পড়েছে। রোদ পড়ে জিভটা দেখাচ্ছে শাদা। বুড়ো এগোল লাঠি ভর দিয়ে। কোমরের ন্যাকড়াটা অনেকখানি স্থানচ্যুত হয়েছে। বুড়ো এখন শিশু দিগম্বরের সামিল।

    কাছে এল বুডঢার। মস্ত বড় কালো পাহাড় ঢেউ দিয়ে চলেছে। হাত দিল বুডঢার গায়ে।

    সামনে মাঠের পথ। ওই রেল লাইন। তার ওপারে ভাগাড় বৈশাখের রুদ্র কটাক্ষে কাঁপছে। থরথর করে।

    পেটটা যেন ফুলে ফুলে উঠছে বুডঢার। মাথাটা ঠেলে ঠেলে তুলে তুলে এগুতে হচ্ছে। যেন পাহাড়ের খাদ থেকে, শিং-খোঁচা চুড়ো ঠেলে ঠেলে উঠছে। নাকের লালা সুতোর মর্তো গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে, হলদে ফেনায় ভরে যাচ্ছে থলথলে কালো পাঁকের মতো কশ। চোখে জল।

    তুই কাঁদছিস বুডঢা। কাঁদিসনে।

    বুড়ো হাতের চেটো দিয়ে মুখ মুছল। বুকে একটা হাত রাখল।

    কাঁদিসনে বুডঢা। বুড়োদের কাঁদতে নেই।

    কলো মেঘের মতো বড় হয়ে উঠছে ছেরুয়াটা। মস্ত বড়, দলাপাকানো বিশাল কৃষ্ণ জলধর। ঠিকরে পড়ছে চোখ। জল পড়ছে কোণ দিয়ে।

    বুডঢা, চার বছর বয়সে তুই এসেছিলি আমার কাছে। তখন তোর দুধের দাঁত সব পড়েনি। আজ তোর বয়স হল, এক কুড়ি আট। ছেরুয়া হিসাবে তুই আমার চেয়ে বুড়ো। পঁচিশ বছর ছেরুয়ার অনেকখানি। তুই এককুড়ি আটে পড়লি, তুই কেন কাঁদিস। তোর কেন মরণের ভয়।

    তুই যেবারে এলি, তখনও আমি জোয়ান। আমার বুড়ির তখনও অনেক রং। তিনটে বাচ্চার মা। হয়ে গেছে তখন। তবু, চোখে চোখ পড়লেই, মেয়েমানুষটার নজর আড় হয়ে যেত। চলত বনা ভঁইসীর মতে, আঁট ছিল ওই রকম। বাচ্চাগুলি ওর মরে যেত, আর ছুটত আমার পিছে পিছে। কেঁদে কেঁদে সোহাগ জানাত। জানতাম, বাচ্চা চায়। আমার মরদের শোক, ভাবতাম থাক, কী হবে আর! ওর মন মানত না। খালি কিনা খাঁ খাঁ করত! ভরে রাখতে চাইত। সবাই চায় ভরে। রাখতে। ও ছিল এই এলাকার ঝাড়ুদানী। কাজ ফাঁকি দিয়ে আসত ছুটে ছুটে।

    একদিন পড়েছি এই মাঠের পথে। বউটা এল। এল তুমুল জল মাথায় করে। সেই প্রথম, আমি এই গাড়িটায়, বুডঢা, তোর গাড়িতে চাপলাম, বউয়ের কথায়। লোকজন নেই, ফাঁকা। তার উপরে বিষ্টি। ও তাকাতে লাগল ঘন ঘন, বিজলিহানা চোখে। বিজলি হানল ওর ফুলে-ওঠা নাকের পাটায়। আর কোমরে একটা এমন মোচড় দিয়ে বসেছিল। ও নয়, মরা ছেলের শোকটাই ওই রকম খেলার বেশ ধরে খেলছিল। আমি দেখলাম। কী বিষ্টি বুডঢা, তুই তখন জোয়ান ছেরুয়া। জল পেয়ে ছুটেছিস মহানন্দে। তখন তোর কোনও ভয় ছিল না।

    আমি বউটাকে আদর করলাম। ভালবাসলাম। তখন আমার একবার আবার মনে হয়েছিল, ভগবান হাসছে।

    বুডঢা, শব্দ নেই কেন বুড়ো চাকার।

    কিন্তু কালো মেঘটা তো ঠিক ভেসে চলেছে চোখের উপর দিয়ে। লালা দাগ রেখে চলেছে। ফেনা লালা গড়িয়ে, গলার তলা দিয়ে পা বেয়ে পড়ছে। একটা চাপা কাশির শব্দ যাচ্ছে শোনা।

    বুডঢা, তুই কি মুখ থুবড়ে পড়ছিস? তোর মাথা, পেল্লায় শিং দুটো নুয়ে পড়ছে কেন? তুই কি চলছিস না? চোখ দুটো তোর এত চকচক করছে কেন?

    আঁ-আঁ-হো–আঁউ।

    হাঁ…চলছে। আমি শুনতে পাচ্ছি না বোধহয়। যেন রেললাইন পার হয়েছে। ওই যে দেখা যায় কালো কালো সারি সারি–ওরা শকুন। এই গাড়িটাকে, মানুষ আর ছেরুয়াটাকে ওরা চেনে। তাই ছুটে আসতে লাগল কাছে।

    ও! ওইজন্যে বুডঢা তোর চোখ ওই রকম দেখাচ্ছে। ভয় পাচ্ছিস। নিশ্বাস ফেলছিস ঘনঘন। মাথাটাকে তুলছিস আমি দেখছি, পাহাড় উঠছে সমুদ্রের তলা থেকে। ভয় নেই বুডঢা ওরা চেনা।

    ভয়ঙ্কর দুর্গন্ধ। হাড্ডি আর জানোয়ারের দাঁতসুদ্ধ চোয়ালে ছড়ানো ঘাস-পোড়া মাটি। শকুনের বিষ্ঠায় আস্তীর্ণ সর্বত্র। মাংসখেকো কালো পিঁপড়ে থিকথিক করেছ।

    বাতাস এখানে ঘূর্ণি বাতাসে ডাক ছেড়েছে। সুর্যের রক্তচক্ষুর দৃষ্টি এখানে ছাই করতে চাইছে। পুড়িয়ে।

    বুডঢা, সেই একদিন চেপেছিলাম গাড়িতে। আর একদিন দশ মাস বাদে চেপেছিলাম। ভরা পেটে ব্যথা নিয়ে বউটা এসে উঠেছিল গাড়িতে। গাড়িতে একটা মরা গাই, তার পাশে আবার বুড়ি কাতরাচ্ছিল। এইখানে এসে দেখলাম, বউটার একটা ছেলে হয়েছে।

    ছেরুয়া বুডঢা, এই সংসার কী অদ্ভুত। দুনিয়ার আঁতুড়ঘরের কোল দিয়ে আসি মরার আসরে। সেইখানেও আঁতুড়ঘর করে গেল বউটা। আমার সেই ব্যাটা আছে বেঁচে। থাকে ভিনদেশে। গাড়ি টানে। জোয়ান বউ, তার এখন দুটো বাচ্চা। তুই সব জানিস বুডঢা, সে আমাকে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তিন জন খারিজে রয়ে গেছি একত্রে। বুডঢা, তুই আমার ভাই আমার বন্ধু। তোর কেন ভয়? তুই কাঁদলে আমায় কাঁদতে হবে।

    আগুন গলে গলে পড়ছে আকাশ থেকে। শকুনগুলি থেমে গেছে আসতে আসতে। কৌতূহলী উৎসুক চোখে দেখছে চেয়ে চেয়ে।

    বুড়োর নাল কাটছে বুডঢার মতোই। বুডঢা কাঁপছে থরথর করে। ঘনঘন নিশ্বাসে দেখছে শকুনের দিকে। পায়ে ধরছে কালো ডেয়ো পিঁপড়ে।

    বুড়ো দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি চাকা ধরে। আর একহাতে হাতড়াচ্ছে মরা ইঁদুরটা। তুলে ফেলতেই মুখে করে নিয়ে গেল একটা শকুন।

    চল বুডঢা। কিন্তু, তুই এত বড় হচ্ছিস কী করে। কী করে! বড় হচ্ছিস, মস্ত বড়, কালো পাহাড় হয়ে আকাশে উঠছিস। বুডঢা! তুক করছিস তুই আবার। একী, ভাগাড়ের চেয়েও বড় হয়ে যাচ্ছিস। থাম, নইলে মরবি পিটুনি খেয়ে। ফিরে চল।

    চল।

    লাঠিটা পড়ে গেল বুড়োর হাত থেকে।

    কেন?

    চাকাটা চলে যাচ্ছে আপনি-আপনি।

    কেন?

    বুড়ো পড়ে গেল মাটিতে। চিত হয়ে পড়ল। গনগনে সূর্য জ্বলছে বুড়োর চোখে। বিড়ির টুকরোটা লেগে গেছে কশে।

    বুডঢা, আমি তোকে ছাড়া কিছু দেখছি না। আমি দেখছি, সারাটা আকাশ ভরে তুই। আমি ভয় পাচ্ছিনে। দেখছি, তোর হাসি। এতদিন ভেবেছি, ভগবান হাসছে। এখন দেখছি সে তোর মুখে।

    বুড়ো উঠল না আর। ছেরুয়াটা ছানিপড়া চোখে অবাক হয়ে দেখল বুড়োকে। দেখল শকুনগুলিকে! তারপর ঠেলতে লাগল নিজেকে।

    আঁ… আ হহা–আঁউ।

    বুডঢার মনে হল, বুড়ো বলছে, হাঁ।

    হাঁ। আমি পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছি বুডঢা, আঁ–হো-আউ। হাঁ। শুনছি..এখনও শুনছি।

    বুডঢা এগিয়ে গেল। তারপর পাক দিয়ে ঘুরে এসে দাঁড়াল বুড়োর কাছে। মুখোমুখি। জোয়ালসুদ্ধ মুখটা নামিয়ে নিয়ে এল। ওর লালায় ভরে দিল বুড়োর মুখ।

    দুটি চোখে দারুণ ভয়ার্ত অসহায়তা। দাঁতহীন কালো থলথলে মাড়ি বেরিয়ে পড়ল বিরাট হাঁ থেকে। চোয়াল কাঁপছে, ফোঁস ফোঁস করছে। পেটটা ফুলে ফুলে উঠছে। মোটা কালো জিভটা বের করে বুড়োর নাকের কাছে নিয়ে চাটল একবার।

    তারপর ফিরে তাকাল দূরের পথে। চোখ দুটি ভরে উঠেছে জলে।

    বুড়োকে না মাড়িয়ে পার হল চার পায়ে। ঠেকে গেল চাকা দুটি বুড়োর গায়ে। ভাঙা গাড়ির চাকা, তবু চাকা। আর ভারী।

    বুডঢা টানল।

    আ…আ…আঁ-হো -আঁউ!…

    বুডোর বুক আর পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেল চাকা দুটি।

    রৌদ্রের দাবদাহ কথা বলছে ঘূর্ণি বাতাসের গোঙানিতে।

    বুডঢা অনেকখানি গেল, অনেকক্ষণ ধরে। চেনা পথ। রেল লাইন পেরিয়ে আবার দাঁড়াল।

    যেতে পারছে না। কেউ যে চালাচ্ছে না। মারছে না, কথা বলছে না, তিন খারিজের একটা নেই। বোধহয় ভাবছে, উঠে আসবে আবার।

    ফিরে দাঁড়াল। ছানিপড়া চোখে তাকিয়ে দেখল, কালো কী কতকগুলি হেঁটে ফিরে বেড়াচ্ছে নড়ে চড়ে বুড়োকে ঘিরে। যেতে পারছে না বুডঢা। ভয়ার্ত ব্যাকুল চোখ দুটি তুলে, কাঁপতে লাগল দাঁড়িয়ে। হাঁ করল কাঁপানো চোয়ালে। অস্ফুট শব্দ বেরুল, আঁ–।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবনলতা – সমরেশ বসু
    Next Article পশারিণী – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }