Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বহু যুগের ওপার হতে – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প80 Mins Read0
    ⤶

    ৬. সেনজিতের শয়নকক্ষ

    সেনজিতের শয়নকক্ষ। রাজা পালঙ্কে শুইয়া ঘুমাইতেছেন।

    সহসা বাতায়নের বাহিরে বাদ্যযন্ত্র ও সঙ্গীতের কর্ণবিদারী শব্দ উথিত হইল। রাজার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। তিনি বিরক্ত মুখে শয্যায় উঠিয়া বসিয়া ডাকিলেন—

    অভিজিৎ।

    রাজার সন্নিধাতা অভিজিৎ প্রবেশ করিল। তাহার বেশবাস উৎসবের উপযোগী; কর্ণে কুণ্ডল, বাহুতে অঙ্গদ, গলায় ফুলের মালা, পরিধানে পট্টাম্বর ও উত্তরীয়। সে প্রবেশ করিতেই রাজা রুক্ষস্বরে বলিলেন

    এ কি! এত শব্দ কিসের?

    সন্নিধাতা বলিল—আয়ুষ্মন্, আজ দোলপূর্ণিমা-মদনোৎসব!

    রাজা শয্যা হইতে অবতরণ করিলেন। বলিলেন

    মদনোৎসব—তা এত গণ্ডগোল কেন?

    সন্নিধাতার মুখে বিস্ময়ের ভাব ফুটিয়া উঠিল—

    মহারাজ, আজ আনন্দের দিন—তাই পুরবাসীরা উৎসব করছে।

    সেনজিৎ বাতায়ন খুলিয়া বাহিরে চাহিলেন, আবার তৎক্ষণাৎ বন্ধ করিলেন—

    উত্সব। কিসের জন্য উত্সব! যাও, এখনি বন্ধ করে দাও-মদনোৎসব হবে না।

    সন্নিধাতা বুদ্ধিভ্রষ্টভাবে বলিল—মদনোৎসব হবে না—মদনোৎসব হবে না। কিন্তু মহারাজ

    সেনজিৎ দৃঢ়স্বরে বলিলেন—আমার আদেশ, মদনোৎসব বন্ধ থাকবে। যাও, নগরে ঘোষণা করে দাও—দাঁড়িয়ে দেখছ কি? যাও।

    যথা আজ্ঞা মহারাজ-হতভম্ব অভিজিৎ প্রস্থান করিল।

    রাজপ্রাসাদের অঙ্গনে পুরীর দাসদাসীরা অভিনব বেশে সজ্জিত হইয়া উৎসবে মাতিয়াছে। যুবতী দাসীরা কোমরে কাপড় জড়াইয়া কাঁখে কলস লইয়া নাচিতেছে, ভৃত্যেরা শিঙা বাঁশী ঢোল বাজাইতেছে। যবনী প্রতিহারীরাও স্বদেশের পোষাক পরিয়া যোগ দিয়াছে। উদ্দাম উৎসব আরম্ভ হইয়া গিয়াছে।

     

     

    অবরোধের একটি অলিন্দ। উল্কা বাতায়নে দাঁড়াইয়া রাজপ্রাসাদের দিকে চাহিয়া আছে। প্রাসাদ-অঙ্গন হইতে বাদ্যযন্ত্রের নিনাদ আসিতেছে। উদ্ধার চোখেমুখে অসহ্য উৎকণ্ঠা।

    বাসবী আসিয়া উল্কার পাশে দাঁড়াইল। কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া বাসবী কুষ্ঠাজড়িত স্বরে বলিল—

    প্রিয়সখি, মহারাজ তো আজও এলেন না।

    উল্কা অধর দংশন করিয়া বলিল—না।

    সহসা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ থামিয়া গেল। উল্কা ও বাসবী বিস্মিতভাবে পরস্পরের পানে চাহিল।

    রাজপ্রাসাদের অঙ্গনে দাসদাসীরা নৃত্য-গীত বন্ধ করিয়া অবাক বিস্ময়ে রাজ-সন্নিধাতা অভিজিতের পানে চাহিয়া আছে। অবশেষে এক দাসী স্খলিতস্বরে প্রশ্ন করিল

    মদনোৎসব বন্ধ থাকবে!

     

     

    সন্নিধাতা সক্ষোভে বলিল—মহারাজের আদেশ।

    অবরোধের অলিন্দে উল্কা ও বাসবী পূর্ববৎ দাঁড়াইয়া আছে। কঞ্জুকী কুণ্ঠিতমুখে প্রবেশ করিল।

    বাসবী বলিল—কঞ্চুকী মহাশয়, গীতবাদ্য বন্ধ হয়ে গেল যে!

    কঞ্চুকী হতাশভাবে দুই হস্ত প্রসারিত করিল।

    মহারাজ আদেশ দিয়াছেন—মদনোৎসব হবে না।

    ***

    চারিদিক নিস্তব্ধ, কোথাও গীতবাদ্যের শব্দ নাই। সেনজিৎ আপন বিশ্রামগৃহে একাকী বসিয়া আছেন, তাঁহার ললাট ভূবদ্ধ। তিনি দুই হাতে একটি ফুলের পাপড়ি ছিড়িতেছেন!

     

     

    বটুক ভট্ট আসিয়া রাজার কাছে বসিলেন—

    জয়োস্তু মহারাজ!

    সেনজিৎ হাস্যহীন মুখে বটুক ভট্টকে নিরীক্ষণ করিলেন—

    স্বস্তি।

    শুনলাম, তুমি দোলপূর্ণিমার নৃত্য-গীত আনন্দ-উৎসব বন্ধ করে দিয়েছ! বেশ করেছ, ভাল করেছ, উত্তম কার্য করেছ।

    সেনজিতের দৃষ্টি সন্দিগ্ধ হইয়া উঠিল। তিনি বলিলেন—এইসব অর্থহীন উৎসব আমার ভাল লাগে না।

    বটুক ভট্ট মুণ্ড নাড়িয়া বলিলেন—বটেই তো, কেন ভাল লাগবে! এবং তোমার যখন ভাল লাগে তখন প্রজাদেরই বা কেন ভাল লাগবে! কোন্ স্পর্ধায় তারা উৎসব করবে!

     

     

    বটুক ভট্টের ব্যঙ্গ বুঝিতে পারিয়া সেনজিৎ আরও ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিলেন, কিন্তু ক্রোধ সংবরণ করিয়া বলিলেন—

    কী বলতে চাও তুমি?

    কিছু না বয়স্য। বছরের মধ্যে এই এক উৎসব, যেদিন ধনী-দরিদ্র বালকবৃদ্ধ একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে। কিন্তু তুমি যখন নিষেধ করেছ তখন সকলে নীরব থাকবে। কেবল

    কেবল?

    কেবল তোমার পক্ষীশালার পাখিগুলো অকারণে বড় কিচির-মিচির করছে। যদি অনুমতি দাও এখনি গিয়ে তাদের গলা টিপে নীরব করে দিতে পারি।

    সেনজিৎ কিছুক্ষণ নতমুখে রহিলেন, তারপর ব্যথাক্লিষ্ট মুখ তুলিলেন।

    বটুক, তোমার কথাই সত্য। কিন্তু বয়স্য, আমার বুকের জ্বালা যদি বুঝতে!

     

     

    বটুক ভট্ট গাঢ়স্বরে বলিলেন—আমি সব বুঝেছি বয়স্য। কিন্তু তুমি মিছে কষ্ট পাচ্ছ!

    যাক।–সন্নিধাতাকে ডাকো।

    ডাকিতে হইল না, সন্নিধাতা অভিজিৎ নিজেই প্রবেশ করিল। দেখা গেল, তাহার পশ্চাতে পুরীর দাসদাসী দ্বারের কাছে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে।

    সন্নিধাতা করজোড়ে বলিল—আজ্ঞা করুন আর্য।

    সেনজিৎ ঈষৎ লজ্জিতভাবে বলিলেন-আমার আদেশ প্রত্যাহার করছি। যাও, সকলে উৎসব কর গিয়ে।

    দ্বারের কাছে দাসদাসীরা জয়ধ্বনি করিয়া উঠিল—

    মহারাজের জয়-জয় দেবপ্রিয় মহারাজ!

     

     

    ভৃত্যেরা আনন্দ কোলাহল করিতে করিতে চলিয়া গেল।

    বটুক ভট্ট বলিলেন—বয়স্য, আশীবাদ করি কন্দর্পদেব তোমার প্রতি প্রসন্ন হোন।

    সেনজিৎ নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন—বটুক, দ্বার বন্ধ করে দাও, বাতায়ন বন্ধ করে দাও। উৎসবের শব্দ আমি শুনতে চাই না।

    ***

    অবরোধের একটি কক্ষ। উল্কাকে ঘিরিয়া চারজন সখী বসিয়াছে, তাহারা উল্কাকে ফুলের অলঙ্কার পরাইয়া দিতেছে। কঙ্কণ অবতংস গলায় চন্দ্রহার—সমস্তই ফুলের। উল্কা চোখে-মুখে বিদ্রোহ ভরিয়া বলিতেছে

    মহারাজ সেনজিৎ যে আদেশই দিন, আমরা বসন্ত-উৎসব করব। তিনি যদি পারেন, নিজে এসে বাধা দিন।

    সখীরা নীরব। সহসা বাহিরে বিপুল বাদ্যোদ্যম শুনা গেল। সকলে হতচকিত হইয়া পরস্পর দৃষ্টিপাত করিতে লাগিল। এমন সময় কঞ্চুকী মহা-উল্লাসে প্রবেশ করিয়া বলিল—

     

     

    সুসংবাদ! সুসংবাদ! মহারাজ আদেশ প্রত্যাহার করেছেন। উৎসব হবে—মদনোৎসব হবে—

    কঞ্চুকী প্রায় নাচিতে নাচিতে প্রস্থান করিল। উল্কার মুখ উৎফুল্ল হইয়া উঠিল, চোখে আশার আলো ফুটিল।

    ***

    বেলা দ্বিপ্রহর। নগরের বিভিন্ন স্থানে আবার উৎসব আরম্ভ হইয়াছে। পুষ্করিণীর জলে রঙ গুলিয়া নাগরিক নাগরিকারা জলক্রীড়া করিতেছে। বিলাসী নাগরিকেরা নৌকায় চড়িয়া জলবিহার করিতেছে। বনে বনে প্রেমিক প্রেমিকাদের লুকোচুরি খেলা চলিতেছে, গাছে গাছে হিন্দোল দুলিতেছে।

    অপরাহ্ন আসিল। উল্কার শয়নকক্ষে বাতায়নে দাঁড়াইয়া উল্কা প্রতীক্ষা করিতেছে। তাহার পুষ্পভূষা শুকাইয়া গিয়াছে। দূর হইতে উৎসবের মিশ্রিত ধ্বনি ভাসিয়া আসিতেছে। উল্কার চোখে ব্যর্থতার শুষ্ক জ্বালা। মহারাজ আসেন নাই।

    সহসা রূঢ় হস্ত সঞ্চালনে উল্কা নিজের গলার মালা ছিড়িয়া দূরে নিক্ষেপ করিল, তারপর নিজ শয্যার পাশে আসিয়া বসিল। তীক্ষ্ণ নীরব কণ্ঠে ডাকিল—

     

     

    বাসবী।

    বাসবী উদ্বিগ্ন মুখে প্রবেশ করিল।

    উল্কা প্রশ্ন করিল—বেলা কত?

    বাসবী বলিল—অপরাহ্ন। কই প্রিয়সখি, মহারাজ তো এখনও এলেন না।

    উল্কা দাঁতে দাঁত চাপিয়া বলিল—আসবেন। তুই লেখনী মসীপত্র নিয়ে আয়, মহারাজকে পত্র লিখব—

    বাসবী দ্রুতপদে চলিয়া গেল, উল্কা মুখে বাণ-বিদ্ধ মৃত হাসি লইয়া বসিয়া রহিল।

    ***

    সায়াহ্ন। সেনজিৎ বিশ্রামগৃহে একাকী জানালার পাশে দাঁড়াইয়া আছেন। দীর্ঘ অন্তযুদ্ধে তাঁহার মুখ ক্ষত-বিক্ষত।

     

     

    দ্বারের নিকট হইতে মন্ত্রী বলিলেন—

    জয়োস্তু মহারাজ।

    সেনজিৎ মুখ তুলিলেন-মন্ত্রী! কি প্রয়োজন?

    মন্ত্রী প্রবেশ করিলেন, তাঁহার মুখে কুণ্ঠা, হাতে কুণ্ডলীকৃত একটি লিপি।

    ক্ষমা করবেন, একটা গুরুতর কথা মহারাজকে জানাবার জন্য এলাম।

    কী গুরুতর কথা? কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা কি চলত না?

    না মহারাজ, বিলম্বে ঘোর অনিষ্ট হতে পারে। আমরা জানতে পেরেছি যে গোপনে আপনার প্রাণনাশের চেষ্টা হচ্ছে

    সেনজিৎ তাচ্ছিল্যভরে বলিলেন—কে চেষ্টা করছে?

     

     

    মন্ত্রী কহিলেন—মহারাজ, যাকে আপনি বিশ্বাস করে অবরোধে স্থান দিয়েছেন সেই চেষ্টা করছে।

    সেনজিৎ চকিত বিস্ফারিত নেত্রে চাহিলেন। বলিলেন

    বটে! প্রমাণ পেয়েছেন?

    মন্ত্রী লিপি দেখাইয়া বলিলেন—এই যে প্রমাণ। পড়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন। লিচ্ছবি দেশের এক গুপ্তচর এই লিপি নিয়ে আসছিল, পথে আমাদের গুপ্তচর লিপি চুরি করে এনেছে। এতে পরিষ্কার নির্দেশ রয়েছে, সুযোগ পেলেই যেন রাষ্ট্রদূতী আপনাকে হত্যা করে।

    লিপি লইয়া সেনজিৎ নীরবে পাঠ করিলেন। তাঁহার মুখ অমার্জিত প্রস্তরখণ্ডের মত কর্কশ হইয়া উঠিল।

    মন্ত্রী বলিলেন—মহারাজ, এখন এই বিশ্বাসঘাতিনী রাষ্ট্রদূতীকে—যদি অনুমতি হয়—

    সেনজিৎ পত্রের দিকে চাহিয়া থাকিয়া বলিলেন—যা করবার আমি করব, আপনি চিন্তিত হবেন না।

     

     

    মন্ত্রী উদ্বিগ্নকণ্ঠে বলিলেন-আপনি সাবধানে থাকবেন। সতর্ক থাকবেন।

    সেনজিৎ ঈষৎ হাসিয়া বলিলেন-অবশ্য। আপনি এখন আসুন।

    জয়োস্তু মহারাজ।

    মন্ত্রী মহারাজের এই ঔদাসীন্য বুঝিতে পারিলেন না, একটু যেন অতৃপ্তভাবে প্রস্থান করিলেন। সেনজিৎ তখন আস্তরণে আসিয়া বসিলেন; আবার লিপি খুলিয়া পড়িলেন। তাঁহার বক্ষ বিদীর্ণ করিয়া একটি নিশ্বাস পড়িল।

    উল্কা—আমাকে হত্যা করতে চায়। কিন্তু কেন? কেন?

    দ্বারের দিকে চক্ষু ফিরাইয়া সেনজিৎ দেখিলেন একটি যুবতী আসিয়া দাঁড়াইয়াছে। প্রশ্ন করিলেন

    কে তুমি?

    বাসবী সলজ্জভাবে বলিল—আমি উল্কার সখী-বাসবী।

    সেনজিৎ কিছুক্ষণ চাহিয়া রহিলেন।

    কাছে এস।—তুমি উল্কার সখী! কী নাম তোমার?

    বাসবী।

    বাসবী। কিছু প্রয়োজন আছে?

    বাসবী মহারাজের কাছে আসিয়া দাঁড়াইয়াছিল, এখন কঞ্চুলীর মধ্য হইতে একটি পত্র বাহির করিল।

    মহারাজ, আমার প্রিয়সখী আপনাকে এই পত্র দিয়েছেন।

    পত্র হাতে লইয়া সেনজিৎ কিছুক্ষণ বাসবীর সলজ্জ সরল মুখের পানে চাহিয়া রহিলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করিলেন—তোমার সখী তাঁর মনের সব কথা তোমাকে বলেন?

    বাসবী আরও লজ্জা পাইয়া নতমুখে বলিল—হাঁ, বলেন।

    সেনজিৎ ধীরস্বরে বলিলেন—তিনি আমার প্রতি বিরূপ কেন বলতে পারো?

    লজ্জা ভুলিয়া বাসবী সবিস্ময়ে চাহিল।

    বিরূপ! মহারাজ, আমার প্রিয়সখী আজ তিন দিন আপনার পথ চেয়ে আছেন।

    এবার সেনজিৎ সবিস্ময়ে চাহিলেন; তারপর নীরবে পত্ৰ খুলিয়া পাঠ করিলেন। পত্র পড়িতে পড়িতে তাঁহার মনে হইল তিনি উল্কার স্বর শুনিতে পাইতেছেন—

    দেবপ্রিয়, আজ বসন্ত-পূর্ণিমার রাত্রে লজ্জাহীনা উল্কা প্রার্থনা জানাইতেছে—একবার দর্শন দিবেন কি? শুধু একটিবার দেখিব—আর কিছু না।

    পত্র পাঠ করিয়া সেনজিৎ কিছুক্ষণ নির্বাক বসিয়া রহিলেন, তারপর ধীরে ধীরে পত্র কুণ্ডলিত করিয়া অন্য পত্রটির পাশে রাখিলেন; তাঁহার মুখ দেখিয়া মনে হয় তিনি গভীর চিন্তায় ড়ুবিয়া গিয়াছেন।

    বাসবী সঙ্কোচভরে বলিল—মহারাজ, পত্রের উত্তর দেবেন কি?

    সেনজিৎ সচেতন হইয়া বলিলেন—উত্তর! হাঁ—এই উত্তর।

    সেনজিৎ অন্য পত্রটি লইয়া বাসবীর হাতে দিলেন। বাসবী ক্ষণেক পত্ৰ-হাতে দাঁড়াইয়া রহিল, তারপর যুক্তকরে প্রণাম করিয়া চলিয়া গেল। সেনজিৎ একটি দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিলেন।

    দিনের আলো ফুরাইয়া আসিতেছে। বটুক ভট্ট আসিয়া রাজার নিকটে বসিলেন। বলিলেন—

    বয়স্য, দিনটা তো উপবাসে কাটল, এবার পারণের ব্যবস্থা হোক।

    সেনজিৎ বলিলেন-উপবাস! পারণ! বুঝতে পারলাম না।

    বটুক ভট্ট বলিলেন—বুঝতে পারলে না? আচ্ছা, তবে একটা গল্প বলি শোনো। পুরাকালে ঘরট্টঘর্ঘর নামে এক উগ্রতপা মুনি ছিলেন—মুনিবর যখন নিদ্রা যেতেন তখন তাঁর নাক দিয়ে

    সেনজিৎ ক্লান্তস্বরে বলিলেন—বটুক, আমার কি ইচ্ছা হচ্ছে জানো?

    কী ইচ্ছে হচ্ছে বয়স্য?

    তোমাকে শুলে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে।

    বটুক ভট্ট লাফাইয়া উঠিয়া দ্বারের দিকে চলিলেন

    বয়স্য, ও ইচ্ছা দমন করো, আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে মরতে চাই

    বটুক নিষ্ক্রান্ত হইলেন। সেনজিৎ অবিচলিত মুখে বসিয়া রহিলেন।

    ***

    গভীর রাত্রি। পূর্ণিমার চাঁদ প্রায় মধ্যাকাশে।

    অবরোধের সরোবর-তীরে শুভ্র সোপানশ্রেণীর এক পাশে উল্কা বসিয়া আছে। তাহার পরিধানে শুভ্র বেশ, দেহে অলঙ্কার নাই, একটি মাত্র বেণী অংসের উপর দিয়া বুকের মাঝখানে লম্বিত হইয়া আছে।

    উল্কার হাতে বীণা। সে খেদ বিগলিত মৃদু কণ্ঠে গান গাহিতেছে—

    ফাগুন রাতি পোহায়—তুমি এলে না!

    ***

    সেনজিতের বিশ্রাম কক্ষ। চতুষ্কোণে দীপ জ্বলিতেছে, মুক্ত বাতায়নপথে জ্যোৎস্নাপ্লাবিত বহির্দৃশ্য দেখা যাইতেছে। সেনজিৎ বাতায়নের পাশে দাঁড়াইয়া আছেন, উল্কার গান মধ্যরাত্রির নিস্তব্ধ বাতাসে ভাসিয়া আসিতেছে—

    চাঁদ মাথা নোয়ায়—তুমি এলে না।

    সহসা সেনজিৎ বাতায়ন হইতে ফিরিলেন। প্রাচীরগাত্রে একটি কোষবব্ধ ক্ষুদ্র ছুরিকা ঝুলিতেছিল, তাহা লইয়া নিজের কটিবন্ধে বাঁধিলেন। তারপর ঘর হইতে নিষ্ক্রান্ত হইলেন। তাঁহার অন্তর্দ্বন্দ্ব শেষ হইয়াছে।

    সরোবরের ঘাটে উল্কা গান গাহিতেছে। তাহার দেহ মন যেন ভাঙিয়া পড়িতেছে—তুমি এলে না! তুমি এলে না!

    হঠাৎ সেনজিতের স্বর শুনিয়া উল্কা চমকিয়া উঠিল—

    উল্কা!

    দীর্ঘ পদক্ষেপে সেনজিৎ আসিতেছেন। উল্কার কোল হইতে বীণা পড়িয়া গেল, সে উদ্ভাসিত মুখে উঠিয়া দাঁড়াইল

    দেবপ্রিয়!

    সেনজিৎ আসিয়া উল্কার হাত ধরিলেন, আবেগ রুদ্ধ স্বরে বলিলেন—

    উল্কা, আমি এসেছি। আর পারলাম না। নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে পারলাম না—

    উল্কার কণ্ঠে গুঞ্জরণ উঠিল—প্রিয় প্রিয়তম

    সেনজিৎ গাঢ়স্বরে বলিলেন—উল্কা! মায়াবিনি! এ তুমি আমায় কী করেছ? আমার রক্তের সঙ্গে তুমি মিশে গেছ—আমার বুকের স্পন্দনে তোমার নাম ধ্বনিত হচ্ছে। তুমি শুনতে পাচ্ছ না? এই শোনো।

    সেনজিৎ উল্কার মস্তক নিজ বক্ষে চাপিয়া ধরিলেন। কিছুক্ষণ উভয়ে এইভাবে জগৎ সংসার ভুলিয়া রহিলেন। উল্কার চক্ষু আপনি মুদিয়া গিয়াছিল, সে ধীরে ধীরে চক্ষু মেলিল। তাহার একটি হাত সেনজিতের কটির উপর ন্যস্ত হইয়াছিল, সেখানে কোষবদ্ধ ছুরিকার অস্তিত্ব সে অনুভব করিল। সে মাথা তুলিয়া অস্ফুটস্বরে বলিল—

    এ কি?

    সেনজিৎ আত্মস্থ হইলেন, কটি হইতে নিষ্কোষিত ছুরিকা বাহির করিয়া উল্কার হাতে দিলেন—

    হাঁ, ভুলে গিয়েছিলাম। তুমি নাকি আমাকে হত্যা করতেই মগধে এসেছ? এই নাও, তোমার কাজ শেষ কর।

    উল্কা ছুরিকা লইয়া দূরে নিক্ষেপ করিল— প্রিয়তম, এ উল্কা আর সে উল্কা নেই—সে উল্কা মরে গিয়েছে (স্বপ্নাবিষ্টমুখে হাসিল) আমি কে তা নিজেই জানি না। প্রিয়তম, তুমি বলে দাও

    সেনজিৎ উল্কাকে আবার বাহুবদ্ধ করিলেন

    উল্কা, তুমি মগধের পট্ট মহাদেবী।

    সহসা মাথার উপর একটি পেচক কর্কশ চিৎকার করিয়া উড়িয়া গেল। চমকিয়া উল্কা ঊর্ধ্বে চাহিল, তাহার স্বপ্নাচ্ছন্নতা কাটিয়া গেল; বজ্রনির্ঘোষের মত তাহার কর্ণে ধ্বনিত হইল—তুমি। বিষকন্যা! সে যন্ত্রবৎ উচ্চারণ করিল

    পট্ট মহাদেবী—মগধের পট্ট মহাদেবী

    সেনজিতের মুখের পানে চক্ষু তুলিয়া উল্কা দেখিল, তিনি মৃদু মৃদু হাসিতেছেন। উল্কার চোখে ধীরে ধীরে ভয়ের ব্যঞ্জনা পরিস্ফুট হইয়া উঠিল। তারপর সে সেনজিতের বুকের উপর দুই হাত রাখিয়া সত্ৰাসে পিছু হটিয়া গেল।

    না না না

    সেনজিৎ ঈষৎ বিস্ময়ে উল্কার দিকে অগ্রসর হইলেন, উল্কা আবার পিছাইয়া গেল; আৰ্তস্বরে বলিল—

    না না, রাজাধিরাজ, তুমি আমার কাছে এস না—

    সেনজিৎ দুই বাহু প্রসারিত করিয়া ভর্ৎসনার কণ্ঠে বলিলেন—

    ছি উল্কা, এই কি ছলনার সময়।

    উল্কা এবার দেহ ও মুখের ভাব কঠিন করিয়া বলিল

    মহারাজ, আপনি ভুল বুঝেছেন, আমি আপনাকে ভালবাসি না।

    সেনজিৎ বলিলেন—আর মিথ্যে কথায় ভোলাতে পারবে না। এস–কাছে এস

    উল্কা ব্যাকুলস্বরে বলিয়া উঠিল—না না, প্রিয়তম, তুমি জানো না—তুমি জানো না

    কাঁদিতে কাঁদিতে উল্কা বাড়ির দিকে ছুটিয়া চলিয়া গেল। সেনজিৎ ক্ষণেক বিমুঢ় হইয়া রহিলেন, তারপর উল্কার অনুসরণ করিলেন।

    ***

    অন্তঃপুর গৃহের দ্বার। উল্কা ছুটিতে ছুটিতে দ্বারপথে প্রবেশ করিয়া অদৃশ্য হইয়া গেল।

    অল্পক্ষণ পরে সেনজিৎ দৌড়িতে দৌড়িতে সেই পথে অন্তঃপুরে প্রবেশ করিলেন—

    উল্কা!

    উল্কার শয়নকক্ষের দ্বার। উল্কা প্রবেশ করিয়া সশব্দে দ্বার বন্ধ করিয়া দিল। তাহার মুখ অশ্রুসিক্ত।

    সেনজিৎ আসিয়া দ্বার ঠেলিলেন, দ্বার খুলিল না।

    উল্কা!

    কক্ষের ভিতর উল্কা কবাটে গণ্ড রাখিয়া দাঁড়াইয়া আছে; তাহার চক্ষু দিয়া অনর্গল অশ্রু ঝরিতেছে। সে বলিল—

    রাজাধিরাজ, বিস্তীর্ণ পৃথিবীতে আপনার যোগ্য নারীর অভাব নেই, আপনি উল্কাকে ভুলে যান।

    দ্বারের অপর দিক হইতে সেনজিৎ তিক্তস্বরে বলিলেন

    হৃদয়হীনা, তবে কেন আমাকে প্রলুব্ধ করেছিলে?

    আর্য, বুদ্ধিহীনা নারীর প্রগভতা ক্ষমা করুন। আপনি ফিরে যান, দয়া করুন। আমাদের মিলন অসম্ভব।

    কিন্তু কেন—কেন? কিসের বাধা?

    উল্কা ভগ্নস্বরে বলিল—সে কথা বলবার নয়।

    সেনজিৎ বলিলেন—কেন বলবার নয়? তোমাকে বলতে হবে। আমি শুনতে চাই।

    উল্কা ক্ষণেক নীরব হইয়া রহিল। তারপর বলিল—

    আচ্ছা, কাল সকালে বলব।

    সেনজিৎ দ্বারের কাছে অধর আনিয়া স্নেহ-ক্ষরিত স্বরে বলিলেন—

    উল্কা, আজ এই বসন্ত-পূর্ণিমার রাত্রি

    উল্কা আর্তস্বরে কাঁদিয়া উঠিল—না না না

    সেনজিৎ ক্লান্তকণ্ঠে বলিলেন—ভাল– কাল সকালে বলবে?

    বলব।

    আশাহত দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া সেনজিৎ চলিয়া গেলেন। উল্কা দ্বারের কাছে নতজানু হইয়া হৃদয়বিদারক কান্না কাঁদিতে লাগিল।

    ***

    পরদিন প্রভাত। উল্কা শয়নঘরের বাতায়নে দাঁড়াইয়া আছে। মনের আগুনে পুড়িয়া পুড়িয়া রাত্রি কাটিয়াছে; উল্কার চোখের কোলে নীলাভ ছায়া তাহার মুখখানিকে আরও সুন্দর করিয়া তুলিয়াছে। তাহার কেশ-বেশ শিথিল, কবরীর অর্ধ-শুষ্ক মালা অংসে লুটাইতেছে।

    সহসা বাহির হইতে একটি তীর আসিয়া বাতায়নের কাষ্ঠে বিদ্ধ হইল। উল্কা চকিতে তীর বাতায়ন হইতে টানিয়া মুক্ত করিল। দেখা গেল তীরের কাণ্ডে একটি লিপি জড়ানো রহিয়াছে। উল্কা সযত্নে লিপি উন্মোচন করিয়া পড়িল। শিবামিশ্রের লিপি, তাহাতে লেখা আছে

    কন্যা, স্মরণ রাখিও, শিশুনাগ বংশকে নির্মূল করা চাই!

    পত্র হাতে লইয়া উল্কার মুখে একটি তিক্ত হাসির আভাস ফুটিয়া উঠিল—সে পত্রখানি ছিড়িয়া দুই খণ্ড করিল, তারপর চারিখণ্ড করিল। এই সময় বাসবী প্রবেশ করিল।

    ওকি প্রিয়সখি, কার চিঠি ছিড়ছ? উল্কা বলিল-বৈশালী থেকে পিতা লিখেছেন—

    সে পত্রের ছিন্নাংশগুলি বাতায়নের বাহিরে ফেলিয়া দিল।

    জানিস বাসবী, পিতা একটি ভুল করেছেন। আমার শরীরেও যে শিশুনাগ বংশের রক্ত আছে তা তাঁর মনে নেই।

    বাসবী হতবুদ্ধি হইয়া বলিল—তোমার শরীরে শিশুনাগ বংশের রক্ত!

    উল্কা চমকিয়া আত্মসংবরণ করিল—ও–না না! আজ আমি কী সব বলছি তার ঠিক নেই।

    ঘরের যে-প্রাচীরে অস্ত্রশস্ত্র টাঙানো ছিল উল্কা সেখানে গিয়া দুই হাতে দুইটি তরবারি তুলিয়া লইল। উল্কার হাতে ঋজু শাণিত তরবারি দুটি ঝকমক করিয়া উঠিল। সে দুই হাতে তরবারি ঘুরাইতে লাগিল।

    এ কি করছ প্রিয়সখি!

    দেখছি অসি-বিদ্যা ভুলে গেছি কিনা। আজ মহারাজের অস্ত্র-কৌশল পরীক্ষা করব। বাসবী, তাঁকে অসি-যুদ্ধে কি হারাতে পারব না?

    বাসবী উন্মুক্ত অধরে অবাক হইয়া চাহিয়া রহিল

    তুমি কি বলছ আমি বুঝতে পারছি না!

    উল্কা বলিল—তুই এখন বুঝতে পারবি না। আমি উদ্যানে যাচ্ছি, মহারাজ যদি আসেন তাঁকে বলবি, আমি মাধবীকুঞ্জে তাঁর জন্যে অপেক্ষা করছি।

    উল্কা দুইটি তরবারি লইয়া কক্ষ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইল।

    ***

    উদ্যানের এক প্রান্তে মাধবীকুঞ্জ। পুষ্পিতা মাধবীলতা মাথার উপর বিতান রচনা করিয়াছে। বিতানতলে উল্কা এক পাশে দাঁড়াইয়া। তাহার দুই হাতে দুই তরবারির প্রান্তভাগ ভূমি স্পর্শ করিয়া আছে। মুখে চোখে দৃঢ় যুযুৎসা। বিতানের অপর প্রান্তে সেনজিৎ আসিয়া দাঁড়াইয়াছেন, তাঁহার বক্ষ বাহুবদ্ধ, চোখে কোমল ভর্ৎসনা।

    আজ আবার এ কি নতুন ছলনা?

    উল্কা চকিতে ফিরিয়া সেনজিৎকে দেখিল। তাহার মুখ কোমল হইল, আবার দৃঢ় হইল। সে বলিল—ছলনা নয়। আমাদের দুজনের মধ্যে এই তরবারির ব্যবধান।

    সেনজিৎ ভ্রূ তুলিয়া বলিলেন—অর্থাৎ?

    অর্থাৎ অসি-যুদ্ধে পরাজিত করতে না পারলে আমাকে পাবেন না।

    সেনজিতের বিস্মিতমুখে ঈষৎ কৌতুকের ছায়া পড়িল—

    সে কী!

    এই আমার বংশের প্রথা।

    কিন্তু তুমি নারী, নারীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরব কি করে।

    উল্কা ভ্রূভঙ্গি করিয়া বলিল—মহারাজ কি আমাকে অস্ত্র-বিদ্যায় তাঁর সমকক্ষ মনে করেন না?

    সেনজিৎ হাসিয়া বলিলেন—তা নয়। তোমার অস্ত্র-বিদ্যার পরিচয় আগেই পেয়েছি, এখনও বুক তোমার অস্ত্রাঘাতে জর্জরিত কিন্তু উল্কা, আমি যদি যুদ্ধ না করি?

    তাহলে আমাকে পাবেন না।

    যদি জোর করে গ্রহণ করি?

    তাও পারবেন না—এই তরবারি বাধা দেবে।

    উল্কা ডান হাতের তরবারি তুলিল। সেনজিৎ দুই বাহু প্রসারিত করিয়া তাহার দিকে অগ্রসর হইলেন

    বেশ, তোমার তরবারি আমাকে বাধা দিক।

    সেনজিৎ যতই কাছে আসিতে লাগিলেন, উল্কার মুখ ততই বিবর্ণ হইতে লাগিল। শেষে উল্কার অসির অগ্র যখন সেনজিতের বক্ষ স্পর্শ করিবার উপক্রম করিয়াছে তখন উল্কা কম্পিতস্বরে বলিয়া উঠিল—

    মহারাজ, আর কাছে আসবেন না

    মহারাজ কিন্তু অগ্রসর হইতে লাগিলেন, উল্কা তখন নিজেই তরবারি টানিয়া লইল। সেনজিৎ উচ্চকণ্ঠে হাসিয়া উঠিলেন। উল্কা বাধ্য হইয়া অসি নামাইল। সেনজিৎ তাহার দুই স্কন্ধে হাত রাখিয়া কপট ক্রোধে বলিলেন—

    আজ তোমাকে কঠিন শাস্তি দেব।

    উল্কা কাঁদিয়া ফেলিল

    নিষ্ঠুর নির্দয়! তোমার কি কলঙ্কের ভয় নেই? অসহায়া নারীর ওপর অত্যাচার করতে তোমার লজ্জা হয় না?

    সেনজিৎ বলিলেন—না—হয় না। এস, এবার যুদ্ধ করি। (উল্কা চকিতে সজল চক্ষু তুলিল) পাছে তুমি মনে কর নারীর সঙ্গে যুদ্ধ করতেও আমি ভয় পাই, তাই অসি ধরলাম। এস।

    উল্কা বলিল—প্রতিজ্ঞা করুন, যদি পরাজিত হন আমাকে স্পর্শ করবেন না।

    সেনজিৎ গর্বিতস্বরে বলিলেন—প্রতিজ্ঞা করছি যদি পরাজিত হই, কখনও স্ত্রীজাতির মুখ দেখব না।

    উল্কার হাত হইতে একটি তরবারি লইয়া সেনজিৎ কয়েক পদ পিছু হটিয়া অসিক্রীড়ার জন্য প্রস্তুত হইয়া দাঁড়াইলেন। যুদ্ধ আরম্ভ হইল। কিন্তু উল্কা বেশীক্ষণ যুদ্ধ করিতে পারিল না, তাহার তরবারি করচ্যুত হইয়া দূরে ছিটকাইয়া পড়িল।

    সেনজিৎ নিজের তরবারি ফেলিয়া দিয়া উল্কার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন।

    এবার হয়েছে?

    উল্কা ব্যাকুল চক্ষে সেনজিতের মুখের পানে চাহিয়া রহিল। সেনজিৎ তখন তাহাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করিয়া কোমলস্বরে বলিলেন—

    উল্কা, আর তো বাধা নেই।

    উল্কা নিষ্প্রাণকণ্ঠে বলিল-না, আর বাধা নেই।…আজ মধ্যরাত্রে তুমি এস, তোমার গলায় মালা দেব…আর…রক্তকমল দিয়ে তোমার পূজা করব।

    ***

    রাত্রি। অন্তঃপুরের বৃহৎ একটি কক্ষে অসংখ্য দীপ জ্বলিতেছে, চারিদিক পুষ্পমালা পুষ্পস্তবকে সমাকীর্ণ। কক্ষের মধ্যস্থলে একটি বেদীর মত আসন, তাহাতে বধূ-বেশিনী উল্কা বসিয়া আছে। তাহার হাতে এক গুচ্ছ রক্তকমল। চারিজন সখী তাহাকে ঘিরিয়া ঘিরিয়া নৃত্য করিতেছে ও গান গাহিতেছে। উল্কার মুখে স্বপ্নাতুর বেদনা-বিধুর হাসি।

    সখীরা গান গাহিল

    আজি উজল মন-মন্দির
    সুন্দর এলো
    তারে বরণ করিয়া নে লো।
    নয়ন সলিল ধারে
    ভুজ বন্ধন হারে
    মন-মন্দির দ্বারে
    বরণ করিয়া নে লো।
    সৌর-মুকুট শিরে—শোভে শিরে
    কনক-পীত চীরে– ধীরে ধীরে
    সুন্দর এলো
    তারে হৃদয়ে বরিয়া নে লো—

    নৃত্যগীত শেষ হইলে দেখা গেল, মহারাজ সেনজিৎ দ্বারের কাছে আসিয়া দাঁড়াইয়াছেন। তাঁহার অঙ্গে বর-বেশ, মুখে আনন্দের উদ্ভাস। সখীরা তাঁহাকে দেখিয়া হাসিতে হাসিতে অন্য দ্বার দিয়া অদৃশ্য হইল।

    উল্কা উঠিয়া দাঁড়াইয়া স্থির আয়ত নয়নে রাজার পানে চাহিল; রক্তকমলগুচ্ছ তাহার বুকের কাছে রহিল। সেনজিৎ আসিয়া তাহার কাছে দাঁড়াইলেন। চোখে চোখে অনির্বচনীয় প্রীতির বিনিময় হইল।

    উল্কা!

    সেনজিৎ উল্কার দুই স্কন্ধে হাত রাখিয়া তাহাকে নিকটে আকর্ষণ করিলেন, তারপর বিপুল আবেগভরে বুকে চাপিয়া ধরিলেন। বক্ষে বক্ষ নিষ্পেষিত হইল। উল্কার মাথা সেনজিতের বুকের উপর এলাইয়া পড়িল।

    উল্কা!

    ঈষৎ উদ্বেগে সেনজিৎ উল্কার মুখের পানে চাহিলেন, উল্কা অর্ধনিমীলিত নেত্রে স্রিয়মাণ হাসিল। সেনজিৎ তাহাকে দুই বাহু দ্বারা বক্ষ হইতে দূরে সরাইয়া দেখিলেন। রক্তকমলগুলি বুকের মাঝখান হইতে ঝরিয়া পড়িল। সেনজিৎ সভয়ে দেখিলেন, শলাকার ন্যায় সূক্ষ্ম ছুরিকা উষ্কার বুকে আমূল বিদ্ধ হইয়া আছে। তিনি চিৎকার করিয়া উঠিলেন

    উল্কা! সর্বনাশী! এ কী!

    উল্কা অস্ফুটস্বরে বলিল—এখন অন্য কথা নয়, শুধু ভালবাসা—প্রিয়তম, আরও কাছে এস…তোমাকে ভাল দেখতে পাচ্ছি না

    সেনজিৎ উল্কাকে দুই বাহু দিয়া বক্ষে তুলিয়া লইলেন। উন্মত্তের ন্যায় বলিলেন—

    কিন্তু কেন উল্কা—কেন এ কাজ করলে?

    উল্কার চোখের কোণ হইতে দুই বিন্দু অশ্রু গলিয়া পড়িল। সে নির্বাপিত স্বরে বলিল—

    প্রিয়তম, আমি বিষকন্যা–

    উল্কা আরও কিছু বলিবার চেষ্টা করিল কিন্তু বলিতে পারিল না; তাহার প্রাণবায়ু নির্গত হইল। সেনজিৎ তাহার মুখের উপর মুখ রাখিয়া হৃদয়বিদারক স্বরে ডাকিলেন—

    উল্কা—উল্কা—উল্কা

    ⤶
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅভিজাতক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রাজদ্রোহী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }