Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাচ্চা ভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প137 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. একটু সুস্থ হয়েই বল্টু চলে যাবে

    ০৫.

    একটু সুস্থ হয়েই বল্টু চলে যাবে বলে কথা দিয়েছিল কিন্তু এর মাঝে দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে বল্টু চলে যাবার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। রইসউদ্দিন নিজে থেকে কিছু বলতেও পারেন না, এইটুকুন একটা ছেলেকে তো আর ঘর থেকে বের করে দেওয়া যায় না। ছেলেটা আসায় শিউলির একটা কথা বলার লোক হয়েছে, দুইজনে কুটকুট করে দিনরাত কথা বলে। মেয়েটা অসম্ভব দুষ্ট হলেও ভেতরে কেমন জানি একটা মায়া আছে, মনে হয় ছেলেটাকে একটু আদরও করে। বল্টু বাসায় থাকায় রইসউদ্দিন আরেকটা লাভ হয়েছে, মতলুব মিয়াকে চোখে-চোখে রাখার একজন মানুষ হয়েছে। পঁচিশ বছর একসাথে থেকে হঠাৎ সে যে চুরি করা শুরু করবে সেটা কে জানত? সবচেয়ে বড় কথা, শিউলির চাচার খোঁজ পাওয়া গেছে, রইসউদ্দিন চিঠি লিখেছেন, আশা করছেন সপ্তাহ দুয়েকের মাঝে চিঠির উত্তর এসে যাবে। চাচা এসে যখন মেয়েটাকে নিয়ে যাবে তখন বল্টু তার নিজের জায়গায় চলে যাবে। ততদিন তার বাসায় এই দুজন নতুন বাচ্চা অতিথি থাকা এমন কিছু খারাপ ব্যাপার নয়। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে তাঁর যেরকম ভয় ছিল–সত্যি কথা বলতে কী এ দুজনকে দেখে সেই ভয়টা একটু কমেই এসেছে।

    আজ অফিস ছুটি। রইসউদ্দিন তার কাগজপত্র ঝেড়েঝুড়ে পরিষ্কার করার জন্যে বের করে খানিক দূর এগিয়ে এসে হঠাৎ করে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। শিউলি আর বল্টু বেরিয়ে গেছে–দুজন টো টো করে কোথায় ঘুরে বেড়ায় কে জানে! কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে রইসউদ্দিন হঠাৎ চা খাওয়ার ইচ্ছে করল। মতলুব মিয়াকে ডেকে তাই এক কাপ চা দিয়ে যেতে বললেন।

    মতলুব মিয়া কাপে করে যে-জিনিসটা চা হিসেবে নিয়ে এল সেটা দেখে অবিশ্যি রইসউদ্দিনের চা খাওয়ার ইচ্ছে পুরোপুরি উবে গেল। ময়লা কাপে ঘোলা খানিকটা তরল, তার মাঝে গোটা ছয়েক নানা আকারের পিঁপড়া ভাসছে। পিঁপড়াগুলো সরিয়ে চায়ে একটু চুমুক দিয়ে তাঁর নাড়ি উলটে এল। থুঃ থুঃ করে

    ফেলে বললেন, “এইটা কী এনেছ মতলুব মিয়া? চা, নাকি ইঁদুর মারার বিষ?”

    মতলুব মিয়া মুখ গম্ভীর করে বলল, “ভাই, পঁচিশ বছর থেকে আপনার জন্যে জীবনপাত করেছি, এখন আর না।”

    রইসউদ্দিন অবাক হয়ে বললেন, “কেন? কী হয়েছে?”

    “বাসার কাজ আর করব না।”

    রইসউদ্দিন অবাক হয়ে বললেন, “বাসার কাজ তুমি করে করেছ? গত পঁচিশ বছর তো তুমি শুধু শুয়ে বসে কাটিয়ে দিলে। শিউলি আসার পর মনে হয় গতরটা একটু নাড়াচ্ছ।”

    মতলব মিয়া মুখ শক্ত করে বলল, “এই অপমান আর সহ্য করব না ভাই, স্বাধীন কাজ করব।”

    “কী কাজ?”

    “ব্যবসা।”

    রইসউদ্দিন চোখ কপালে তুলে বললেন, “ব্যবসা তুমি ব্যবসা করবে?”

    “কেন ভাই? আপনি কি মনে করেন আমি ব্যবসা করতে পারি না?”

    রইসউদ্দিন গম্ভীরমুখে মাথা নাড়লেন, “আমি তাই মনে করি মতলুব মিয়া। তোমার মতো আলসে মানুষ ব্যবসা করতে পারে না। তুমি কিসের ব্যবসা করবে?”

    মতলুব মিয়ার মুখে সবজান্তার মতো একটা হাসি ফুটে ওঠে। সে মাথা নেড়ে বলল, “তার আগে ভাই বলেন দেখি একটা ময়না পাখির দাম কত?”

    “ময়না পাখি? সে তো অনেক দাম, কয়েক হাজার তো হবেই।”

    ”ময়না পাখি তো দেখতে সুন্দর না কিন্তু তার দাম বেশি, কারণটা কী বলেন দেখি?”

    “কারণ ময়না পাখি কথা বলে।”

    “এখন যদি মনে করেন অন্য কোনো পাখি কথা বলে তবে সেই পাখির দাম কত হবে?”

    রইসউদ্দিন অবাক হয়ে মতলুব মিয়ার দিকে তাকালেন, “তুমি যদি কথা বলা কাক আনতে পার লাখ টাকায় বিক্রি হবে। যদি মুরগিকে দিয়ে কথা বলাতে পার সেইটাও নিশ্চয়ই বৈজ্ঞানিকরা লাখ দুইলাখ টাকায় কিনে নেবে।”

    মতলুব মিয়ার চোখ লোভে চকচক করতে থাকে, “সত্যি? সত্যি? ভাই?”

    রইসউদ্দিন মাথা নেড়ে বললেন, “কিন্তু তুমি কী পাখি আনবে যেটা কথা বলে?”

    মতলুব মিয়া উত্তর না দিয়ে খুব গম্ভীর গলায় বলল, “সময় হলেই দেখবেন ভাই। এখন খালি আমার দরকার একটু ক্যাশ টাকা। ধার দিবেন কিন্তু ভাই।”

    রইসউদ্দিন ভুরু কুঁচকে বললেন, “দেওয়ার মতো হলে নিশ্চয়ই দেব কিন্তু কথা হচ্ছে তোমার যেরকম বুদ্ধিশুদ্ধি তোমাকে কেউ-না ঠকিয়ে দেয়!”

    মতলুব মিয়া একগাল হেসে বলল, “ভাই, একজন মানুষকে আরেকজন মানুষ ঠকাতে পারে যদি তার বুদ্ধি বেশি হয়। এইখানে মক্কেলের বুদ্ধি আমার থেকেও কম। হে হে হে!”

    সেদিন সন্ধ্যেবেলা দেখা গেল মতলুব মিয়া একটা খাঁচা নিয়ে এসেছে, খাঁচাটা কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা। অনেক যত্ন করে সেটাকে তার ঘরে টেবিলের উপর রাখা হল। রইসউদ্দিন জিজ্ঞেস করলেন, “কী আছে ভেতরে?”

    মতলুব মিয়া গম্ভীরমুখে বলল, “সময় হলেই দেখবেন।”

    “কখন সময় হবে?”

    “রাত বারোটায়।”

    “রাত বারোটায়? রাত বারোটায় কেন?”

    “পাখিদের খাওয়া-দাওয়া বিশ্রাম খুব নিয়মমতো নিতে হয়। একটু উলটা পালটা হলেই বিপদ।”

    শিউলি জিজ্ঞেস করল, “এর ভিতরে পাখি আছে?”

    “হুঁ।“

    “এই পাখি কথা বলে?”

    মতলুব মিয়া উত্তর না দিয়ে খুব একটা তাচ্ছিল্যের ভান করে শিউলির দিকে তাকাল। বল্টুকে এখনও স্কুলে দেওয়া হয়নি কিন্তু একা একা জেগে না থেকে সেও শুয়ে পড়ে। তবে আজকে কথা বলা পাখি দেখার জন্যে রইসউদ্দিন, শিউলি এবং বল্টু তিনজনই জেগে রইল। ঠিক রাত বারোটার সময় মতলুব মিয়া এক গ্লাস পানি, একটা পিরিচে করে কিছু চাউল এবং একটা মোমবাতি নিয়ে হাজির হল। টেবিলে মোমবাতিটা জ্বালিয়ে সে ঘরের লাইট নিভিয় দিল। বল্টু জিজ্ঞেস করল, “লাইট থাকলে কী হয়?”

    মতলুব মিয়া ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলল, “শ-স-স-স কোনো শব্দ না। এই পাখিকে জাগানোর সময় কড়া আলো কড়া শব্দ থাকতে পারবে না।”

    রইসউদ্দিন, শিউলি এবং বল্টু তিনজনই নিঃশ্বাস বন্ধ করে রইল এবং মতলুব মিয়া খুব সাবধানে কালো কাপড়টি সরিয়ে নিল। তারা অবাক হয়ে দেখল খাঁচার মাঝখানে একটা মাঝারি সাইজের মুরগি বসে আছে। কথা বলা নিষেধ জেনেও শিউলি অবাক হয়ে চিৎকার করে উঠল, “আরে! এইটা দেখি মুরগি!”

    মতলুব মিয়া চোখ পাকিয়ে শিউলির দিকে তাকিয়ে বলল, “চুপ!”

    শিউলি চুপ করে যাবার পর মতলুব মিয়া গ্লাস থেকে ঠাণ্ডা পানি নিয়ে মুরগির গায়ে ছিটিয়ে দিতেই মুরগি গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে বসল। মতলুব মিয়া তখন হাতে কয়টা চাউল নিয়ে খাঁচার দরজা দিয়ে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিল, কিন্তু মুরগি সেটা খাবার কোনো উৎসাহ দেখাল না, খাঁচার এক কোণায় সরে গেল। মতলুব মিয়া বলল, “খাও জরিনা একটু চাউল খাও।”

    বল্টু জিজ্ঞেস করল, “মুরগি কথা বলতে পারে?”

    “হ্যাঁ।” মতলুব মিয়া মাথা নাড়ল, “মুরগি বোলো না, মনে দুঃখু পাবে। নাম জরিনা।”

    “মুরগির নাম জরিনা?”

    “হ্যাঁ। সব কথা বলতে পারে।” মতলুব মিয়া মুরগির দিকে তাকিয়ে আদুরে গলায় বলল, “বলো জরিনা, নাম বলো।”

    সবাই কানখাড়া করে রইল, মুরগি কোনো শব্দ করল না। মতলুব মিয়া গলায় মধু ঢেলে বলল, “বলো জরিনা সুন্দরী! লজ্জা কোরো না।”

    মুরগি এবারের কক কক করে একটু শব্দ করল। বল্টু হাততালি দিয়ে বলল, “বলেছে! নাম বলেছে।”

    শিউলি মাথা নেড়ে বলল, “নাম বলেছে কক কক। জরিনা তো বলে নাই।”

    রইসউদ্দিন এতক্ষণ একটা কথাও না বলে চুপ করে পুরো ব্যাপারটা দেখছিলেন। এবারে গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, “মতলুব মিয়া!”

    “জে?”

    “আসলেই তোমার মুরগি কথা বলে?”

    “জে ভাই।”

    “তোমার নিজের কানে শুনেছ?”

    “জে। নিজের কানে শুনেছি।”

    “কী কথা বলেছে?”

    “নাম জিজ্ঞেস করলে বলে জরিনা সুন্দরী। বাড়ি জিজ্ঞেস করলে বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া।”

    “ব্রাহ্মণবাড়িয়া? রইসউদ্দিন চোখ কপালে তুলে বললেন, “একটা মুরগি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলতে পারে? এত কঠিন একটা শব্দ?”

    মতলুব মিয়া গম্ভীর গলায় বলল, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুরগি তো বাড়ি নেত্রকোনা বলতে পারে না।”

    “আর কী কী কথা বলে?”

    “আলুর পাতা থালু থালু কবিতাটা বলতে পারে।”

    “পুরো কবিতাটি বলে?”

    “জে।”

    রইসউদ্দিন নিঃশ্বাস ফেলে মাথা নাড়লেন। মতলুব মিয়া বলল, “অনেক পাছড়াপাছড়ি করলে গানও গাইতে পারে।”

    “গানও গাইতে পারে? কী গান?”

    “রঙিলা ভাবি গো–তবে গানের গলা বেশি ভালো না।”

    “তুমি নিজের কানে শুনেছ?”

    “জে। আপনি শুনবেন ভাই?”

    “শোনাও দেখি।”

    মতলুব মিয়া খাঁচার সামনে উবু হয়ে বলল, “জরিনা সুন্দরী! একটা গান শোনাও দেখি আমাদের! রঙিলা ভাবির গান! শোনাও! শোনাও দেখি–”

    মুরগির গান শোনানোর কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। মতলুব মিয়া খাঁচা ধরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, “শোনাও একটা গান। ভালো হবে না কিন্তু! অনেক রাগ হবে কিন্তু! শোনাও গান।”

    মুরগি খানিকটা পেয়ে পেয় মাথা উঁচু কর কক কক করে একবার শব্দ করল। মতলুব মিয়া এবারে সত্যি সত্যি রেগে গেল, খাঁচাটা জোরে জোরে কয়েকটা ঝাঁকুনি দিয়ে ধমক দিয়ে বলল, “কথা বল বেটি। বল কথা, না হলে এক আছাড় দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেব, আবাগীর বেটি। মুণ্ডু ছিঁড়ে ফেলব কিন্তু।

    রইসউদ্দিন একটা হাই তুলে বললেন, “মতলুব মিয়া, তোমাকে বোকা পেয়ে কেউ একজন ঠকিয়ে দিয়েছে। মুরগি কোনোদিন কথা বলে না। মুরগি যদি কথা বলত তা হলে তুমিও আইনস্টাইন হয়ে যেতে।”

    মতলুব মিয়া কাঁদোকাঁদো গলায় বলল, “কিন্তু আমি নিজের কানে কথা বলতে শুনেছি!”

    “কী শুনেছ, কীভাবে শুনেছ আমি জানি না–কিন্তু আমার কাছ থেকে তুমি শুনে রেখো, তোমার বুদ্ধি আর ঐ মুরগির বুদ্ধির মাঝে বিশেষ পার্থক্য নাই।”

    রইসউদ্দিন ঘুমাতে চলে গেলেন। শিউলি আর বল্টু মতলুব মিয়ার সাথে আরও ঘণ্টাখানেক মুরগিকে কথা বলানোর চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিল। মতলুব মিয়া হাল ছাড়ল না, সারারাত মুরগির পেছনে লেগে রইল। শেষরাতে রইসউদ্দিনের ঘুম যখন একটু হালকা হয়ে এল, শুনতে পেলেন মতলুব মিয়া ভাঙা গলায় কাকুতি-মিনতি করছে, তোর দোহাই লাগে জরিনা বেটি–তোর পায়ে ধরি জরিনা–একটা কথা বল। বেশি লাগবে না, মাত্র একটা শব্দ! মাত্র একটা শব্দ! বল আবাগীর বেটি! বল সোনার চান আমার পিঞ্জিরার পক্ষী! বল একবার চেষ্টা করে দেখ, আমি জানি তুই পারবি। পাঁচশো টাকা দিয়ে তোরে কিনে এনেছি–আমারে তুই পথে বসাবি না। আল্লাহর কসম লাগে–”

    সকালবেলা অফিসে যাওয়ার আগে রইসউদ্দিন দেখলেন মতলুব মিয়া মুরগির খাঁচাটিকে সামনে নিয়ে বারান্দায় গালে হাত দিয়ে বসে আছে, মুখে খোঁচাখোঁচা দাড়ি এবং চোখ টকটকে লাল। মতলুব মিয়ার অবস্থা দেখে রইসউদ্দিন তাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। শিউলি স্কুলে যাবার সময় দেখল মতলুব মিয়া হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে আছে। দুপুরবেলা বল্টু যখন হাঁটতে বের হল মতলুব মিয়া তখনও তার মুরগির খাঁচার সামনে বসে আছে।

    .

    বিকেলবেলা বাসায় ফিরে এসে রইসউদ্দিন একটা বিচিত্র জিনিস দেখতে পেলেন–ঘরের পিলারের সাথে একটা আট-দশ বছরের ছেলে দড়ি দিয়ে বাঁধা। তার সামনে মতলুব মিয়া শিউলি এবং বল্টুকে নিয়ে বসে আছে। মতলুব মিয়ার চেহারা আনন্দে ঝলমল করছে, রইসউদ্দিনকে দেখে সবগুলো দাঁত বের করে হেসে বলল, “ভাই কেস কমপ্লিট।”

    “কিসের কেস কমপ্লিট? আর এই ছেলে কে? দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছ কেন?”

    “পালিয়ে যেন না যায়।”

    “পালিয়ে কোথায় যাবে? কী করেছে এই ছেলে?”

    “এই হচ্ছে মুরগির ব্যাপারী।”

    “যার কাছ থেকে তুমি কথা-বলা মুরগি কিনেছে?”

    “জে।”

    রইসউদ্দিন অবাক হয়ে সাত-আট বছরের মুরগি-ব্যাপারীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। গায়ের রং নিশ্চয়ই একসময় ফরসা ছিল, এখন রোদে পুড়ে বাদামি হয়ে গেছে। চোখ দুটি চকচক করছে, দেখলেই মনে হয় এর পেটে পেটে অনেক বুদ্ধি। রইসউদ্দিন বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি মতলুব মিয়াকে মুরগি বিক্রি করেছ?”

    ছেলেটা মাথা নাড়ল।

    ”তুমি নাকি বলেছ তোমার মুরগি কথা বলে?”

    ছেলেটা আবার মাথা নাড়ল। রইসউদ্দিন বললেন, “মুরগি তো কখনো কথা বলে না।”

    ছেলেটা কোনো কথা না বলে ঠোঁট ওলটাল।

    মতলুব মিয়া এগিয়ে এসে বলল, “তুই মুরগিকে আবার কথা বলাতে পারবি? ছেড়ে দেব তা হলে। পারবি?”

    ছেলেটা মাথা নাড়ল। মতলুব মিয়া তখন ঘরের ভেতর থেকে মুরগির খাঁচাটা নিয়ে এল, ছেলেটার সামনে রেখে বলল, “নে। কথা বলা।”

    ছেলেটা এই প্রথম কথা বলল, “আমাকে আগে ছেড়ে দাও।” মতলুব মিয়া মুখ শক্ত করে বলল, “আগে কথা বলা।”

    রইসউদ্দিন ধমক দিয়ে বললেন, “দড়ি খুলে দাও মতলুব মিয়া। একজন মানুষকে আবার বেঁধে রাখে কেমন করে?”

    মতলুব মিয়া বিরসমুখে ছেলেটার হাতের বাঁধন খুলে দিল। ছেলেটা হাতে হাত বুলাতে বুলাতে মুরগির খাঁচার কাছে এগিয়ে গেল। মাথা নিচু করে মুরগিটাকে জিজ্ঞেস করল, “এই, তোর নাম কী?

    মুরগিটা মাথা উঁচু করে ছেলেটার দিকে তাকাল, কিছু বলল না। ছেলেটা খাঁচা ধরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, “ কী নাম?”

    সাথে সাথে সবাই স্পষ্ট শুনল মুরগিটা বলল, “জ-রি-না।”

    ছেলেটা উঠে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। মতলুব মিয়া হাতে কিল দিয়ে বলল, “শুনেছেন ভাই? শুনেছেন?”

    রইসউদ্দিন হতচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। শিউলি আর বল্টু খাঁচার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “নাম কী? নাম কী তোর?”

    মুরগিটা বারকয়েক কক কক করে হঠাৎ আবার স্পষ্ট গলায় বলল, “জ-রি-না সুন্দরী!”

    শিউলি আর বল্টু লাফিয়ে উঠল আনন্দে।

    রইসউদ্দিন তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইলেন, হঠাৎ করে তাঁর মনে হল তিনি ব্যাপারটা খানিকটা বুঝতে পেরেছেন। তার মুখে একটু হাসি ফুটে ওঠে, একটুকু ছেলে–কিন্তু কী ধুরন্ধর! ছেলেটা মতলুব মিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি যাই।”

    রইসউদ্দিন বললেন, “দাঁড়াও ছেলে।”

    ছেলেটা শঙ্কিতমুখে দাঁড়িয়ে পড়ল। রইসউদ্দিন জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার নাম কী?”

    “কুকন।”

    “কুকন? কুকন কি কারও নাম হয়? নিশ্চয়ই তোমার নাম খোকন। তাই না?”

    ছেলেটা মাথা নাড়ল। রইসউদ্দিন বললেন, “তুমি নিজের নামটাও ঠিক করে উচ্চারণ করতে পার না আর এরকম ভেন্ট্রিলোকুইজম কেমন করে শিখলে?”

    ছেলেটা মাথা ঘুরিয়ে রইসউদ্দিনের দিকে তাকাল। রইসউদ্দিন বললেন, “ভেন্ট্রিলোকুইজম মানে জান? মুখ না নাড়িয়ে কথা বলা যেন মনে হয় অন কেউ কথা বলছে।”

    মতলুব মিয়া হঠাৎ চোখ বড় বড় করে সোজা হয়ে দাঁড়াল। নাক দিয়ে ফেস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “কী? কী বলছেন ভাই?”

    “তোমার মুরগি কখনো কথা বলে নাই মতলুব মিয়া। কথা বলে খোকন, মনে হয় বলছে মুরগি। তাই যখন খোকন আশেপাশে থাকে না তখন তোমার মুরগিও কথা বলে না।” রইসউদ্দিন খোকনের দিকে তাকালেন, বললেন, “তাই না খোকন?”

    খোকনের মুখ হঠাৎ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে হঠাৎ উঠে একটা দৌড় দেবার চেষ্টা করল কিন্তু তার আগই মতলুব মিয়া তাকে জাপটে ধরে ফেলেছে। শুধু যে ধরেছে তাই নয় নাকেমুখে কিল-ঘুসি মারা শুরু করেছে। রইসউদ্দিন, শিউলি আর বল্টু একসাথে ছুটে গিয়ে খোকনকে মতলুব মিয়ার হাত থেকে ছুটিয়ে নিল। শিউলি আর বল্টু মিলে মতলুব মিয়াকে ধরে রাখতে পারল না, রাগে ফোঁসফোঁস করে সে হাত-পা নেড়ে চিৎকার করতে করতে বলল, “ব্যাটা বদমাইশ, জোচ্চুর। ঠগের বাচ্চা ঠগ। চোরের বাচ্চা চোর। হারামখোরের বাচ্চা–”

    রইসউদ্দিন প্রচণ্ড ধমক দিয়ে বললেন, “মতলুব মিয়া, খবরদার ঘরের মাঝে আজেবাজে কথা বলবে না। এইটুকুন একটা ছেলের গায়ে হাত তোল, তোমার লজ্জা করে না? আরেকবার করেছ কি তোমাকে আমি পুলিশে দেব।”

    মতলুব মিয়া গজগজ করতে লাগল, রইসউদ্দিন তখন খোকনকে পরীক্ষা করলেন। নাকে বেকায়দা ঘুসি লেগে খানিকটা রক্ত বের হয়ে এসেছে, রুমাল দিয়ে মুখে মুখ ধুইয়ে দেওয়া হল। বল্টু মগে করে পানি এনে তার মুখ ধুয়ে দিল। শিউলি একগ্লাস লেবুর শরবত তৈরি করে নিয়ে এল। শরবত খেয়ে একটা ঢেকুর

    তুলে খোকন বলল, “আমি গেলাম।”

    মতলুব মিয়া প্রায় আর্তনাদ করে বলল, “আমার টাকা!” বল্টু দাঁত বের করে হেসে বলল, “তোমার টাকা গেছে মতলুব চাচা।”

    শিউলি খোকনের ঘাড়ে থাবা দিয়ে বলল, “কই যাবি? আজ রাতটা আমাদের সাথে থেকে যা।”

    “থেকে যাব?”

    “হ্যাঁ। তুই কেমন করে ভেন্টি-কুন্টি করিস আমাদের দেখা–”

    রইসউদ্দিন হেসে বললেন, “শব্দটা ভেন্টি-কুন্টি না। শব্দটা ভেন্ট্রিলোকুইজম।”

    শিউলি কয়েকবার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়ে বলল, “ঐ একই কথা।”

    বল্টু রইসউদ্দিনের দিকে তাকিয়ে বলল, “চাচা। খোকন আজ রাতে এখানে থাকুক?”

    রইসউদ্দিন একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “ঠিক আছে থাকুক।”

    রাত্রিবেলা জরিনা সুন্দরীকে কেটেকুটে রান্না করা হল, মতলুব মিয়ার রান্না খুব যে ভালো হল তা বলা যাবে না, কিন্তু সবাই খেলা খুব তৃপ্তি করে। সবচেয়ে মজা হল খাবার পর, যখন সবার পেটের ভেতর থেকে জরিনা সুন্দরী কথা বলতে শুরু করল! হেসে সবাই কুটিকুটি হয়ে গেল খোকনের কাণ্ড দেখে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবুবুনের বাবা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article বকুলাপ্পু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }