Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বুবুনের বাবা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. খবর

    ৪. খবর

    বুবুন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখল তাদের বাসার সামনে আবছা অন্ধকারে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটা তাদের বাসার দিকে আসতে শুরু করে আবার পিছিয়ে গেল। খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে খুব ধীরে ধীরে বাসার সামনে পায়চারি করতে থাকে। সেখানে থাকে হেঁটে হেঁটে অন্যদিকে গিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল, তারপর আবার তাদের বাসায় সামনে দাঁড়িয়ে গেল।

    বুবুন কেমন জানি ভয় পেয়ে যায়। আম্মা রান্নাঘরে কাটাকাটি করছিলেন, বুবুন কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, “আম্মা, একটা লোক বাসার সামনে অনেকক্ষণ থেকে ঘোরাঘুরি করছে।”

    “তুই কেমন করে জানিস?”

    “আমি দেখেছি। বাসার দিকে আসতে শুরু করে আবার পিছিয়ে যায়।”

    আম্মা গম্ভীর হয়ে গেলেন। সবজি কাটার ছুরিটা টেবিলে রেখে বললেন, “আয় দেখি।”

    ঠিক তখন দরজায় শব্দ হল। বুবুন বলল, “ঐ যে, এসেছে।”

    আম্মা কয়েক মুহূর্ত ইতস্তত করে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন, দরজার অন্যপাশে একজন বয়স্ক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটার চোখে চশমা, মাথার চুল বেশিরভাগ সাদা। আম্মাকে দেখে বললেন, “আপনি নিশ্চয়ই ডক্টর রওশান। আমি একজন ডাক্তার, আমার নাম রাজীব হাসান। আমি আপনার সাথে একটু কথা বলতে এসেছিলাম।”

    আম্মা দরজা থেকে সরে গিয়ে বললেন, “আসেন। ভিতরে আসেন।”

    ডাক্তার রাজীব হাসান ভিতরে এসে সোফায় বসে বুবুনকে দেখিয়ে বললেন, “এ নিশ্চয়ই আপনার ছেলে বুবুন?”

    আম্মা মাথা নাড়লেন। ডাক্তার সাহেব মুখটা হাসিহাসি করে বললেন, “আপনার ছেলের বয়স এখন তেরো। যখন তার দুই বছর বয়স তখন থেকে আপনার হাসব্যান্ড মিসিং।”

    হঠাৎ করে আম্মার মুখটা কেমন যেন কঠিন হয়ে গেল। ঠাণ্ডা গলায় বললেন, “আপনি ঠিক কী নিয়ে কথা বলতে এসেছেন?”

    ডাক্তার রাজীব হাসান কেমন যেন কাঁচুমাচু হয়ে গেলেন। খানিকক্ষণ নিজের নখের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, “বলছি। তার আগে এক গ্লাস পানি খেতে পারি?”

    আম্মা উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি নিয়ে এলেন। ডাক্তার সাহেবের পানি খাওয়া দেখে মনে হল আসলে তার পানি তেষ্টা পায়নি, এমনি সময় নেওয়ার জন্যে খাচ্ছেন। একরকম জোর করে পুরো গ্লাস শেষ করে হাতের উলটোপিঠ দিয়ে মুখ মুছে বললেন, “আমি ঠিক কীভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না। সত্যি কথা বলতে কি আমি অনেকক্ষণ থেকে আপনার বাসার সামনে হাঁটাহাঁটি করছি।”

    আম্মা বললেন, “জি, আমি জানি।”

    “ব্যাপারটা আপনার ছেলের সামনেই বলব কি না বুঝতে পারছি না।”

    আম্মা জোর করে একটু হাসার চেষ্টা করে বললেন, “কথাটা না শোনা পর্যন্ত আমিও তো বলতে পারছি না আমার ছেলের সেটা শোনা উচিত হবে কি না।”

    “কোনো-না-কোনো সময়ে তাকে তো জানতেই হবে”

    “তা হলে তার সামনেই বলুন।”

    ডাক্তার রাজীব হাসান আবার নিজের নখের দিকে তাকালেন, তারপর একরকম জোর করে মুখ তুলে আম্মার দিকে তাকালেন। একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “কথাটা আপনার স্বামীকে নিয়ে।”

    আম্মা হঠাৎ ইলেকট্রিক শক খাওয়ার মতো চমকে উঠে সোজা হয়ে বসে প্রায় আর্তচিৎকার করে বললেন কী কথা?”

    “আপনার স্বামী—”

    রাজীব হাসান কথা শেষ করার আগেই আম্মা প্রায় দাঁড়িয়ে উঠে চিৎকার করে বললেন, “বেঁচে আছে?”

    রাজীব হাসান কিছু-একটা বলার চেষ্টা করলেন কিন্তু ঠিক বলতে পারলেন না। আম্মা ভাঙা গলায় চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলেন, “বেঁচে আছে এখনও?”

    রাজীব হাসান আস্তে আস্তে বললেন, “আমি ঠিক কীভাবে বলব বুঝতে পারছি ডক্টর রওশান। হ্যাঁ, আপনার স্বামী মাসুদ আহমেদ বেঁচে আছে, তবে

    আম্মা হঠাৎ বুবুনকে ঝাঁপটে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “বুবুন! তোর আব্বা বেঁচে আছে–

    ডক্টর রাজীব হাসান সোফা থেকে উঠে আম্মার কাছে এসে দাঁড়িয়ে বললেন, “ডক্টর রওশান, প্লিজ আপনি আমাকে আমার কথা শেষ করতে দিন, নাহয় আপনার ভয়ংকর আশাভঙ্গ হবে, আমি তখন নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। প্লিজ—প্লিজ–”

    আম্মা রাজীব হাসানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “না ডাক্তার সাহেব, আমার আশাভঙ্গ হবে না। মানুষটা যদি শুধু বেঁচে থাকে তা হলেই হবে, আমি আর কিছু চাই না। মানুষটা পাগল হোক, বদ্ধ উন্মাদ হোক, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হোক, কিছু আসে যায় না। গত এগারো বছর প্রতি রাতে আমি খোদার কাছে দোয়া করেছি, খোদা, মানুষটাকে বাঁচিয়েং রাখো, বাঁচিয়ে রাখো–”

    রাজীব হাসান আম্মার পাশে বসে বললেন, “খোদা আপনার দোয়া শুনেছেন ডক্টর রওশান। আপনার স্বামী বেঁচে আছেন সত্যি, কিন্তু পুরোটুকু আগে শুনুন”

    আম্মা চোখ মুছলেন, বুবুন বুঝতে পারল আম্মা এখনও থরথর করে কাঁপছেন। ডাক্তার রাজীব হাসান বললেন, “আপনার স্বামী অর্থাৎ মাসুদ বেঁচে আছে, কিন্তু তার কোনকিছু মনে নেই। তার থেকেও যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে–” ডাক্তার রাজীব হাসান একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “তার ব্রেনের সেরেব্রাল করটেক্সে যে ম্যালিগনেন্ট টিউমার হয়েছিল সেটা সরানোর সময় ব্রেনে মেজর ড্যামেজ হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম সে পুরোপুরি একটা ভেজিটেবলে হয়ে যাবে। সত্যি কথা বলতে কি প্রথমে তাই ছিল কিন্তু খুব ধীরে ধীরে বাউন্স ব্যাক করেছে। তার শরীরের কোঅর্ডিনেশান ফেরত পেয়েছে। কিন্তু–”

    ডাক্তার রাজীব হাসান আবার একটু থেমে খুব মনোযোগ দিয়ে নিজের নখগুলো পরীক্ষা করতে লাগলেন। আম্মা নিঃশ্বাস আটকে রেখে বললেন, “কিন্তু?”

    “কিন্তু মাসুদ একটা শিশুর মতো হয়ে গেছে। তার মানসিক বয়স আট-নয় বৎসর বয়সের একটা বাচ্চার মতো।”

    আম্মা বুকে আটকে-থাকা নিঃশ্বাসটা বের করে আবার ডুকরে কেঁদে উঠে বললেন, “আমার একটা বাচ্চা আছে, এখন নাহয় দুটো বাচ্চা থাকবে।”

    রাজীব হাসান মাথা নেড়ে বললেন, “আপনার অ্যাটিচুড আমার খুব পছন্দ হয়েছে ডক্টর রওশান। আমি এটা নিয়ে একটু ভয় পাচ্ছিলাম। এতদিনের ব্যাপার, কিছু-একটা অন্যরকমও তো হতে পারত।”

    “কী হবে? আমি এগারো বছর ধরে অপেক্ষা করছি!”

    “এখনও অবিশ্যি একটা সমস্যা রয়ে গেছে। সত্যি কথা বলতে কি সবচেয়ে বড় সমস্যা।”

    আম্মার মুখে দুশ্চিন্তার ছায়া পড়ল, “কী সমস্যা?”

    ‘মাসুদকে আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া! বুঝতেই পারছেন, সে একেবারে সাত-আট বছরের বাচ্চার মতো–আমার ওখানেই মোটামুটি আছে। আপনাদের কথা জানে না–এখন সে তো আপনাদের সাথে থাকতে চাইবে না!”

    বুবুন অবাক হয়ে বলল, “কেন?”

    “তুমি কি এখন তোমার মাকে ছেড়ে আরেকজনের সাথে থাকতে পারবে? সেই একই ব্যাপার। তোমার আব্বা এখন বয়সে তোমার থেকেও ছোট একটা বাচ্চার মতো!”

    বুবুন কথাটা বুঝতে পারল কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব সেটা কোনোভাবেই ভেবে পেল না। রাজীব হাসান বললেন, “এখন একটা দিন ঠিক করে, খুব সাবধানে মাসুদকে এখানে আনতে হবে। প্রথম আপনাদের একসেপ্ট করবে না–“

    আম্মা রাজীব হাসানকে বাধা দিয়ে বললেন, “আপনার কাছে ছবি আছে? মাসুদের ছবি?”

    “হ্যাঁ। আমি একটা ছবি এনেছি। এই যে–” বলে রাজীব হাসান বুকপকেট থেকে একটা ছবি বের করলেন, আম্মা প্রায় এক নিমিষে ছিনিয়ে নিলেন ছবিটা। এক নজর দেখে ছবিটা দুই হাতে বুকের মাঝে চেপে ধরে আবার হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন।

    ঠিক এই সময় দরজায় শব্দ হল, আম্মা শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মোছর চেষ্টা করলেন, বুবুন গিয়ে খুলে দিল। দরজায় জাহিদ চাচা দাঁড়িয়ে আছেন, হাসিহাসি মুখে বললেন, “কী খবর মিস্টার বুবুন?”

    বুবুন কী বলবে বুঝতে পারল না, জাহিদ চাচা ভিতরে ঢুকে আম্মাকে আঁচল দিয়ে চোখমুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে একেবারে থতমত খেয়ে গেলেন। জাহিদ চাচা একবার ডাক্তার রাজীব হাসান আরেকবার বুবুনের দিকে তাকালেন, তারপর মাথা নেড়ে বললেন, “আমি বলেছি না, আমি প্রত্যেকবার ভুল সময়ে চলে আসি!”

    বুবুন বলল, “জাহিদ চাচা আমার আব্বা বেঁচে আছেন?”

    জাহিদ চাচা চমকে উঠলেন, “কী বললে?”

    “আমার আব্বা বেঁচে আছেন।”

    “বেঁচে আছেন? সত্যি?”

    “হ্যাঁ চাচা। আমাদের কারও কথা নাকি মনে নেই!”

    জাহিদ চাচা তখনও চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন, কোনোমতে আবার বললেন, “বেঁচে আছেন! বেঁচে আছেন?”

    “হ্যাঁ চাচা। কিন্তু ব্রেনে টিউমার হয়েছিল তো তাই আমার আব্বা নাকি বাচ্চাদের মতো হয়ে গিয়েছেন।”

    জাহিদ চাচা বললেন, “বেঁচে আছেন তা হলে! কী আশ্চর্য!”

    .

    ডাক্তার রাজীব হাসান আর জহিদ চাচাকে রাতে খেয়ে যেতে হল। খেতে খেতে ডাক্তার রাজীব হাসান আব্বার গল্প করলেন। কেমন করে তাকে পাওয়া গেল, কেমন করে তাকে হাসপাতালে রাখা হল, কেমন করে তার নাক দিয়ে চোখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল কোনো উপায় না দেখে কীভাবে তাঁর অপারেশান করা হল। কীভাবে কীভাবে আব্বা সুস্থ হলেন শুনতে শুনতে বুবুনের চোখে পানি এসে যাচ্ছিল। আব্বার শার্টে যে ঠিকানা সেলাই করে রাখা ছিল এবং সেটা কীভাবে হারিয়ে গিয়েছিল সেটা শুনে বুবুনের প্রায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ এতদিন পরে কেমন করে সেই ঠিকানাটা খুঁজে পাওয়া গেল আর ডাক্তার রাজীব হাসান কীভাবে খুঁজে খুঁজে আম্মাকে বের করল সেই অংশটা শুনে বুবুন আনন্দে প্রায় হাততালি দিতে থাকে।

    গভীর রাতে সবাই চলে গেলে আম্মা বুবুনকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বললেন, “বুঝলি বুবুন, সবাই বলেছিল তোর আব্বাকে ভুলে যেতে। সবাই! তুই পর্যন্ত বলেছিলি। আমি তবু মানুষটাকে মনে রেখেছিলাম। প্রত্যেকদিন রাতে আমি খোদাকে বলেছি, হে খোদা, মানুষটাকে ফিরিয়ে দাও। দেখলি, খোদা মানুষটাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে!”

    “আমরা আব্বাকে আনতে কবে যাব আম্মা?”

    “আমি তো আজ রাতেই যেতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু ডাক্তার সাহেব যে না। করলেন! বললেন একটু সময় দিতে।”

    “কেন আম্মা?”

    “তোর আব্বা তো এখন একেবারে বাচ্চা ছেলের মতো, জোর করে আনা যাবে না, বুঝিয়ে আনতে হবে! ডাক্তার সাহেব গিয়ে বোঝাবেন, বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নিয়ে আসবেন। আমরা এই ফাঁকে বাসাটা রেডি করে ফেলব!”

    “আম্মা!”

    “কীরে বুবুন?”

    “আব্বা যে তোমাকে ভুলে গেছে, বাচ্চা ছেলের মতো হয়ে গেছে, সেজন্যে তোমার মন-খারাপ হচ্ছে না?”

    “ধূর বোকা ছেলে, মন-খারাপ হবে কেন! তোর আব্বা আগেই ভুলোমনের ছিল। তুই কি ভাবছিস আগে সে খুব বড় মানুষের মতো ছিল?”

    বুবুন আম্মার গা ঘেঁষে বলল, “আম্মা!”

    “কীরে বুবুন?”

    “আব্বার একটা গল্প বলো না!” শুনবি? কীরকম বোকা ছিল মানুষটা বলি শোন!”

    রাতে গল্প শেষ করে যখন বুবুন আর আম্মা শুতে গেলেন তখন ঘড়িতে রাত আড়াইটা বাজে। বুবুন অনেকক্ষণ জেগে রইল, তার মনে হচ্ছিল বুঝি কোনোদিন ঘুমাতে পারবে না। কিন্তু একসময় তার চোখেও ঘুম নেমে এল, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখল তার আব্বা এসেছেন,বাচ্চা ছেলের মতো মোটেই নন, কী সুন্দর তার চেহারা, বিশাল পাহাড়ের মতো শক্ত শরীর। সে তার আব্বার ঘাড়ে চেপে বসে রইল আর আব্বা তাকে নিয়ে পাহাড়-জঙ্গল নদী পার হয়ে যাচ্ছেন, খবিরউদ্দিন আসছিল হাতে রামদা নিয়ে, আব্বা এক লাথি দিতেই সে উলটেপালটে ছিটকে গেল, টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেল, উড়ে গেল বাতাসে! কী যে ভালো লাগল বুবুনের সে আর বলার মতো নয়।

    বুবুন ঘুম থেকে উঠল বুকের ভিতরে একটা ফুরফুরে আনন্দ নিয়ে। বিছানা থেকে লাফিয়ে নেমে এসে দেখল আম্মা কোমরে আঁচল পেঁচিয়ে ঘরদোর পরিষ্কার করছেন। বুবুনকে দেখে বললেন, “কী হল? ঘুম ভাঙল?”

    “কয়টা বাজে আম্মা?”

    “অনেক বেলা হয়ে গেছে, ঘড়ি দ্যাখ!”

    “স্কুল! আমার স্কুল?”

    “হবে না আজকে।”

    বুবুন ঘড়ি দেখতে যাচ্ছিল ঠিক তখন দরজায় শব্দ হল, সাথে পিয়ালের গলার স্বর, “বুবুন তাড়াতাড়ি!”

    বুবুন দরজা খুলতেই দেখতে পেল বাইরে পিয়াল আর সুমি স্কুলের পোশাক পরে দাঁড়িয়ে আছে। গাব্বু পিঠে ব্যাগ ঝোলাতে ঝোলাতে আসছে। সুমি অবাক হয়ে বলল, “কী হল? তুইও এখনও রেডি হোসনি? স্কুলে যাবি না?”

    “নাহ্!”

    “কেন?”

    “আমার আব্বাকে পাওয়া গেছে!”

    “কী?” একসাথে সবাই চিৎকার করে উঠল, “কী বললি?”

    বুবুন মাথা নাড়ল, “আমাদের কথা অবশ্যি মনে নাই। সব স্মৃতি নষ্ট হয়ে গেছে। আর—”

    “আর কী?”

    তার আব্বা যে বাচ্চা ছেলের মতো হয়ে গেছেন সেটা এখনই বলবে কি না বুঝতে পারছিল না, কিন্তু এত বড় একটা খবর চেপে রাখে কেমন করে? বলল, “আমার আব্বা এখন বাচ্চা ছেলের মতো হয়ে গেছেন।”

    “বাচ্চা ছেলের মতো?”

    “হ্যাঁ। আম্মা বলেছেন আমার ছোট ভাইয়ের মতো দেখে রাখতে হবে। সেজন্যে আজকে ঘরদোর গোছাতে হবে। তোরা যা।”

    সুমির চোখ গোল গোল হয়ে উঠল, “কীভাবে ঘর গোছাবি?”

    “এখনও জানি না। ছোট বাচ্চা থাকলে যেরকম ধারালো চাকু টাকু সরিয়ে রাখতে হয়, ম্যাচ লুকিয়ে রাখতে হয় মনে হয় সেরকম।”

    “সত্যি?”

    বুবুন মাথা নাড়ল।

    সুমি উত্তেজনা লুকিয়ে রাখতে পারল না, “স্কুল থেকে এসে আমিও তোর আব্বার জন্যে ঘর সাজিয়ে দেব। ঠিক আছে?”

    পিয়াল মুখ শক্ত করে বলল, “বুবুনের আব্বা ছোট ছেলের মতো হয়ে গেছেন–ছোট মেয়ের মতো তো হননি। তুই কেন সাজাবি?”

    সুমি চোখ পাকিয়ে বলল, “সেটা বোঝার মতো ঘিলু যদি থাকত তা হলে তো তুই মেয়ে হয়েই জন্মতি!”

    বাকবিতণ্ডা আরও খানিক দূর এগিয়ে যেত কিন্তু স্কুলের দেরি হয়ে যাচ্ছিল, অন্য বাচ্চারা ডাকাডাকি শুরু করেছে বলে সুমি, পিয়াল আর গাবুকে চলে যেতে হল।

    আম্মা আর বুবুন মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করল। যেটা ছিল বুবুনের ঘর সেখানে আব্বা থাকবেন, বুবুন ঘুমাবে তার আম্মার সাথে। বুবুনের টেবিলটা খালি করা হল, তার খেলনা বই আর খাতাপত্র সরিয়ে আম্মার ঘরে নিয়ে যাওয়া হল। একটা শেলফ এনে সেখানে কিছু বই রাখা হল, আব্বা যখন ভালো ছিলেন তখন নাকি সেই বইগুলো পড়তেন। আগে বাসায় আব্বার কোনো ছবি টাঙানো থাকত না–দেখলেই আম্মার মন-খারাপ হয়ে যেত, সেজন্যে। এখন আর সেই সমস্যা নেই তাই আব্বার ছবিগুলো বের করে টানানো হল। বুবুনের বিছানায় ডাইনোসরের ছবি আঁকা বিছানার চাঁদর আর বালিশ ছিল, সেগুলো পালটে সাদা চাঁদর বালিশ দেওয়া হল। আব্বা গান শুনতে ভালোবাসতেন বলে একটা ক্যাসেট প্লেয়ার আর অনেকগুলি বরীন্দ্রসংগীতের ক্যাসেট রাখা হল, বুবুন অবিশ্যি আপত্তি করে বলল, “আম্মা, আব্বা যদি বাচ্চা ছেলের মতন হয়ে থাকেন তা হলে কি আর বরীন্দ্রসংগীত শুনবেন?”

    আম্মা ভুরু কুচকে বললেন, “কী শুনবে তা হলে?”

    “রবীন্দ্রসংগীত তো শোনে বুড়োমানুষেরা–”

    “আমি বুড়ো?”

    “আমার থেকে তো বুড়ো।”

    “তা হলে কী গান রাখতে চাস?”

    “খুব হৈচৈ মার্কা তালের গান।”

    আম্মা বেশি কিছু বললেন না। দিনের বড় একটা অংশ গেল খাওয়ার ব্যবস্থা করতে গিয়ে। আব্বা যেসব জিনিস খেতে পছন্দ করতেন সেগুলো বাজার করে আনা হল, আম্মা হৈচৈ করে যেসব রান্না করলেন। বিকেলবেলা, সুমি, পিয়াল, গাব্ব, বকুল সবাই হাজির হল। সুমি বাগান থেকে ফুল তুলে এনেছে সেটা দিয়ে ফুলের তোড়া তৈরি করে ফুলদানিতে রাখা হল। গাব্বু এনেছে একটা সুপারম্যান এর পোস্টার আব্বা যখন বাচ্চা ছেলের মতো হয়ে গেছেন তখন বাচ্চা ছেলেরা যেসব পছন্দ করে সেসব নিশ্চয়ই পছন্দ করবেন–কিন্তু সুমি আর বকুলের প্রবল আপত্তির জন্যে সেটা টানানো গেল না!

    বিকেলবেলা জাহিদ চাচা আব্বার জন্যে কিছু জামাকাপড় ভোয়ালে গেঞ্জি এসব কিনে আনলেন। আব্বা নাকি আগে ভালো চা পছন্দ করতেন সেইজন্যে ভালো দার্জিলিং চা নিয়ে এসেছেন। সাথে ভালো বিস্কুট।

    সব মিলিয়ে চারিদিকে শুধু উৎসব-উৎসব ভাব। এখন বাকি শুধু আব্বার হাজির হওয়া। বুবুনের আর সময় কাটতে চায় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাজু ও আগুনালির ভূত – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article বাচ্চা ভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }