Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভানুমতী – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প1053 Mins Read0
    ⤷

    অপহরণ

    আমার মা? সাতটা গাঁয়ে দেখিনি অমন রূপ। কী রূপ! বাবাগো! কৈবর্তের ঘরে অত রূপ! ইস! বার করো দিকিনি একটা। কোথাও পাবে না। ভুলব? কেমন করে? সে কি কোনওদিন ভোলা যায়, না কেউ ভুলতে পারে। দুগগা পিতিমে দেখেছ তো? পাকা সোনা রঙের উপর ঘামতেল মাখানো। তেমনি রং। নজর পিছলে যায়। যেমন নাক, তেমনি চোখ। চোখের ফাঁদ কী। এ্যাত্তোখানি। চোখ পাকিয়ে তাকালে আমার বাঘা বাপও পালাতে পথ পেত না। আর…তেমনি মাথার চুল। কী যে বস্তু এই রূপ! আমি তখন কতটুকুন আর। এক ফোঁট্টা মেয়ে। তবু মায়ের রূপ আমাকেও ভুলিয়েছিল। মেয়ে হয়ে সারাদিন আঁচল ধরে ঘুরতুম আর বলতুম, মা, তোকে আমি বে করব। মা হাসত। বুকে চেপে বলত, আ মরণ তোর কথার। আমাকে কেন বে করবি। তুই আমার অমন সোনার টুকরো মেয়ে। এ্যাদ্দিন লোকে বিনি জেলেনির রূপের কথা বলেছে, এখন যে বিনির মেয়ের রূপ দেখে বিনিকে বলে, ওদিক থাক। মুখপুড়ি আমার সঙ্গে কেন লো৷ জাতের ঘরে চাঁদের মতো ছেলের সঙ্গে দেব তোর বে। পাকা ঘরে মোহরের ঘড়া থাকবে সেই ছেলের। খাওয়া নেই, কাজ নেই, জামাই অষ্টমপোহর মেয়ের মুখ দেখবে। তোর মুখ দেখলে আর কীসের বা কাজ, কীসের বা খাওয়া। শুনে আমি কেঁদে কেটে একশা হতুম। পড়ে থাকত খেলাঘরের বর কনে। মল পায়ে দাপাদাপি করে বাড়ি মাথায় করতুম। ঘড়া উলটে হাঁড়ি কুড়ি ফেলে একাক্কার করতুম ঘর-দোর। মা আমার তবুও হাসত। পাড়ার লোক ডাকত, সে খেলা দেখবার জন্য, হাততালি দিত আমার দাপাদাপির তালে তালে। মল বাজত ঝুম ঝুম। মা বলত খেপি আমার নাচছে।

    এমনি ছিল আমার মায়ের খেলা। তারপরে বুকে চেপে সোহাগ করত। বলত, সেই হবে লো হারামজাদি, সেই হবে! আমাকে বে করেই যদি তোর সুখ হয়, তবে তাই করিস।তখন আমার সে কী আদরের ঘটা। দেখি দেখি মা, আমার দিকে এমনি করে তাকা। অমনি করে ঘোমটা দে। তেমনি করে যা আমার পাশ দিয়ে। মা বলত, মুখপুড়ি। মুখপুড়ির মরণ। কিন্তু যা বলতুম, তাই করত। ঘোমটা টেনে দাঁড়াত বাঁকা হয়ে। টেরে টেরে চেয়ে হাসত। আমি বলতুম, কী সোন্দর লো মা তুই।মা বলত, সত্যি? বলে এক হাত কোমরে, আর এক হাত থুতনিতে রেখে ঘুরে ঘুরে নাচত আমার সামনে। আর গান গাইত:

    যৌবনের এ ভরাগাঙ্গে কে ধরবে হাল
    শ্যাম তুমি যেও না কো

    বড় হয়ে ঠাওর পেয়েছিলুম। মা আমার নাচতেও জানত। গলাখানিও ছিল বড় মিঠে।

    সে খেলা ছিল মায়ের প্রাণের খেলা। তখন বুঝিনি পরে বুঝেছি। নিজেকে দিয়ে বুঝেছি।

    রূপ যে কাল। রূপ যে বিষ! রূপে অমৃত ওঠে, গরল ওঠে তার চেয়ে বেশি। দেমাক না থাক, অহংকার না থাক, চোরা বানের মতো রূপের কারসাজি চলে লুকিয়ে নিঃসাড়ে। কেউ দেখুক বা না দেখুক। তার কাজ সে আপনি করে যায়। দু পাড় ডুবিয়ে ফুলে ফেঁপে দ্যাখ দ্যাখ করে ভরে ওঠে সে।

    তেমনি রূপ। বিষের চোরা বান। কী তার জ্বলুনি। সেই জ্বালা ধরেছিল আমার মায়ের মনে। আমার গুণের মায়ের মনে। গুণ ছিল বইকী। অনেক গুণ ছিল। কিন্তু না ছিল গুণের আদর, না ছিল রূপের সোহাগ।

    বাপ ছিল হুতো ভুতো মানুষ। ভাল তো ভাল। কেমন ভাল, অত কথার দরকার কী? ও সব প্যানপ্যানানিতে নেই বাপু। মন্দ তো মন্দ। কতখানি মন্দ, সে বাছবিচারের ধার কে ধারে। এমনি মানুষ ছিল বাপ। কিন্তু তা বললে কি হয়? খুব হলে খুব বলো, কথার গোছ হলে তাই বলো। না তা হবে না। বাপের বুকের ছাতিটা ছিল এ্যাত্তো বড়। বেশি বললে ছাতি ফুলিয়ে দেবে হাঁক। নিজের বেলা ষোলো আনা, পরের বেলা কানাকড়িও নয়। কেন? তা কি হয়!

    বিনি জেলেনির রূপের কথা কে না জানত। হালিশহর গৌরীপুরের কে না জানত। বামুন কায়েত বদ্যি, তাঁতি জেলে বাগদি সক্কলে, সব ঘরে। পুরুষের চোখ ভরে ছিল বিনি জেলেনির রূপ। রূপের জাত নেই। জাত দেওয়া-নেওয়ার কথাও আসে না। বিনি জেলেনির রূপের ধ্যান বামুন কায়েত বদ্যিও করত। কার নাম করব। সে কি আজকের কথা। মরে সব ভূত হয়েছে কবে। নাম করাও ঠিক নয়।

    ওমা! একদিন গঙ্গা থেকে ডুবে এসে মা আমার অস্থির। ছোট মেয়ে বুঝিনে সব। পাড়ার মেয়ে বউরা এল। কী হল, কী হল গো। মা বললে, পুরুষের তিন চোখ দেখলুম। তিন চোখ! সে আবার কী?

    হ্যাঁ, পুব পাড়ার মেজো ঠাকুরের কপালেও একটা চোখ দেখলুম। ডুব দিয়েছিলুম জলে। উঠে দেখি সামনে মহাদেব। শিব ঠাকুর গো৷

    কাঁটা দিয়ে উঠল সকলের গায়ে। কী বলে সর্বনাশী। মায়ের আমার রূপে যেন নতুন জোয়ার এসেছে তখন। একই মানুষের রূপ যে এমন বাড়ে কমে, তা কে জানত।

    মা বললে, হ্যাঁ, মেজোঠাকুরের তিন তিনটি চোখ। মাথায় জটা, গায়ে গলায় সাপ। আমাকে বললে, তুমি দেবী, মহাদেবী। পৈতে ঘুচিয়ে দেব, জপ গায়ত্রী ছেড়ে দেব। ঘণ্টা নাড়া মন্তর পড়া সব ছেড়ে, তোমার পুজো করব। তুমি আমার পুজো নাও।

    সবাই বললে, তারপর?

    আর জবাব নেই। মা চুপ হয়ে গেল। খেলায় মাতল আমার সঙ্গে। বাপ এসে সব শুনে মাকে বাঁধল গোয়ালের খুঁটোয়। পিঠে ছপটি ভাঙলে গণ্ডা গণ্ডা। মারের চোটে ভূত ভাগে কিনা, তাই।

    রাত পোয়ালে দেখা গেল, ভূতের সঙ্গে মাও ভেগেছে। খোঁজ খোঁজ খোঁজ। আর খোঁজ। ভক্তের ডাকে পাগলি হয়েছে সে। পুজো নিতে গেছে। আর কি তাকে পাওয়া যায়।

    মুখে যাই বলো, ছ্যাঁকা খেলে ঠাওর হয় ছ্যাঁকার জ্বালা। বাপ আমার অমন রাশভারী গোঁয়ার মানুষ। ছেলেমানুষের মতো কেঁদে আকুল হল। কেঁদে কেঁদে ধুলোয় গড়াগড়ি দিল। লোকে দূরের কথা, বিনি জেলেনিও জানত না, তার জন্য তার বরের আবার এত দরদও ছিল। প্রাণে এতখানি লাগবে। আমিও মা মা করে কেঁদে অস্থির।

    কিন্তু আর তো মা এল না। প্রথম প্রথম, আমার উপরই বাপের যত আক্রোশ। কোথাও যেত না। আমাকে নিয়েই সারা দিন ঘরে বসে থাকত। উনুনে আগুন নেই, হাঁড়ি চাপে না। পাড়ার বউরা ডেকে নিয়ে খাওয়াত আমাকে।

    বাপ বসে থাকত আর আমার দিকে তাকাত বিষনজরে। কখনও মিঠে গলায় কাছে ডেকে নিত। কোলে বসাত আর হাঁ করে আমার মুখের দিকে চেয়ে থাকত। থাকতে থাকতে দেখতুম বাপের চোখে ধকধকে আগুন। গলার কাছে সুড়সুড়ি দিতে দিতে সাঁড়াশির মতো বাপের হাত চেপে বসত আমার গলায়। যতক্ষণ না লাগত, কিছু বলতুম না। লাগলেই চেঁচিয়ে উঠতুম।…এখন ভাবি, জানলে পরে রা-টি কাড়তুম না। মরে পড়ে থাকতুম বাপের কোলে। এ জীবন আর বয়ে বেড়াতে হত না।

    কিন্তু তখন কী বুঝি। বলে পিঁপড়ে কামড়ালে কেঁদে অস্থির হই।

    তারপরে বাপ সুস্থির হল। কিন্তু আমাকে ছাড়া এক দণ্ড থাকতে পারে না। আমিও তেমনি। পাড়ার মেয়েরা বলত, উঃ ভারী বাপ-সোহাগি মেয়ে। বলতুম, নয় তো? কে কাকে হতে বারণ করেছে।

    এই তো আমার পরিচয়। তবু আমার নাম বিনি জেলেনির মেয়ে বলে, পাড়ায় আমি মায়ের মেয়ে, বাপের মেয়ে নয়। নাম আমার ভানুমতী। আমার নাম গঙ্গা। দু-দুটো নাম থাকতেও লোকে বলত, বিনি জেলেনির মেয়ে।

    বলে ভানুমতী চুপ করল। ভানুমতী নয় গঙ্গা বাড়িওয়ালি। অনেক রাত্রি হয়েছে। কিছুক্ষণ আগেই কোনও কারখানা থেকে পেটা ঘড়িতে ঢং ঢং করে দুটো শব্দ হয়ে গেছে।

    গ্রীষ্মকাল। কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকার রাত। অন্ধকারে সাদা কৃষ্ণকলির মতো অজস্র তারায় তারায় কালো আকাশের বাগান রয়েছে ভরে। ছায়াপথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে পাতলা সাদা মেঘের মতো।

    কিন্তু একটুও হাওয়া নেই। অসহ্য গরম। গঙ্গা বাড়িওয়ালির বস্তির সামনের মাঠে এলোমেলো খাঁটিয়া পেতে শুয়ে আছে অনেক লোক। বস্তির লোক। কারখানার মজুর।

    মস্ত মাঠটা ঠিক মাঠ নয়। অনেকগুলি কারখানার রাবিশ ছড়ানো আঁস্তাকুড় বিশেষ। কোথাও খানাখন্দও আছে। গঙ্গার বস্তির অদূরে ডোম বস্তিতে শুয়োরের খাঁচা আছে কয়েকটা।

    এই জমিটার পরেই গঙ্গা। জোয়ার কি ভাটা, বোঝা যায় না এখান থেকে। নিঃশব্দ গঙ্গা। স্রোতের বুকে নক্ষত্রের ঝিকিমিকি। অন্ধকারে চোরা হাসির মতো ঝলকিত স্রোত।

    গঙ্গার ওপারে জমাট অন্ধকার। অন্ধকারের উপর অন্ধকার হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওপারের পর্তুগিজ গির্জাটা। তীক্ষা বর্শাফলকের মতো তারাভরা আকাশে গিয়ে ঠেকেছে তার মাথা। ক্রুশের অগ্রভাগ।

    পনেরোশো নিরানব্বই খ্রিস্টাব্দের গির্জা। ইতিহাস বলে, খ্রিস্টানদের ওইটি প্রথম গির্জা। গির্জা খ্রিস্টানদের ভজনালয়।

    ভজনালয়ের অন্তরালে ওই ইমারতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকোনো ছিল হিংস্র বেনে পর্তুগিজ অস্ত্রাগার। লালমুখো নীলচোখা ছদ্মবেশী সেনাবাহিনী লুকিয়ে ছিল গোপন কুঠরির গুপ্ত দ্বারে দ্বারে। একদিকে কুঠি, আর একদিকে দুর্গ। আত্মরক্ষা শুধু নয়, অর্থরক্ষাও বটে। হিরা মুক্তা, জহরত আর দুষ্প্রাপ্য সম্পদ।

    ওই গুপ্ত দুর্গের মধ্যে লুকোনো ছিল সোনার সপ্তগ্রামের ধ্বংসবীজ। ছিল পর্তুগিজ জলদস্যুর ঘাঁটি। সে দস্যুর কিছু গড়বার বাসনা ছিল না। তার দুরন্ত লোভের থাবা সোনাদানা ছাড়িয়ে জীবন্ত সোনার দিকে পড়েছিল। বাংলার ছেলেমেয়ে ধরে নিয়ে বিক্রি করেছে তারা পৃথিবীর হাটে বন্দরে। পর্তুগিজ উন্মাদনার মতো তখন উত্তাল হুগলি নদী। ঘাটে ঘাটে তার শত শত সুলুপ আর বিরাট আকারের পর্তুগিজ মডেলের পাল-তোলা নৌকা। পর্তুগিজ রাজার পতাকা উড়ছে পতপত করে। হুগলি জুড়ে তখন তাদেরই গৌরব, তাদেরই সম্মান, তাদেরই প্রতি ভয় ও শ্রদ্ধা। গাঁয়ের নাম পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। নতুন নামে পরিচয় হয়েছে তার ব্যান্ডেল। পর্তুগিজ ভাষার বন্দর শব্দের অপভ্রংশ।

    দেশ তখন অরাজক নয়। স্বয়ং শাজাহান বাদশা। কিন্তু বাংলা যে দোজখ। অর্থাৎ নারকী প্রদেশ। মুঘল দরবারের বিচারে শিরচ্ছেদ না করে এক সময়ে কয়েদিকে পাঠানো হত এই দোজখ প্রদেশে।

    কিন্তু জলদস্যুর তাড়নায় অতিষ্ঠ মুঘলের জঙ্গি নৌবহর শেষে আক্রমণ করল পর্তুগিজ গির্জা। গির্জা নয় দুর্গ।…ষোলোনো বত্রিশ খ্রিস্টাব্দ। তিন মাস ধরে হুগলি আর হুগলি নদীর আকাশ কালো হয়ে ছিল তোপের ধোঁয়ায়। গোলার আগুনে দগ্ধ হয়েছে দিবানিশি মাঠ আর গ্রাম। বাস্তুহারা ভীত সন্ত্রস্তরা পালিয়েছে দূর গ্রামে।

    আঘাতে আঘাতে চুরমার হয়েছে পর্তুগিজ গির্জা আর দুর্গ। কেউ পালিয়েছে, অসংখ্য সুন্দর সুন্দরী পর্তুগিজ বালক-বালিকা চালান হয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। পর্তুগিজের ব্যবসা গিয়েছে তলিয়ে, বস্তাবন্দি নথিপত্র দেওয়া হয়েছে জ্বালিয়ে। হুগলি নদীর কিনারে শুধু ধ্বংসস্তূপ।

    বাদশা ক্ষমা করেছিল। কিন্তু ভাঙা পাত্র আর জোড়া লাগেনি। পর্তুগিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ইংরেজ এসে পড়েছে তখন। হার মানতে হয়েছিল তাদের কাছে। ব্যান্ডেল ছেড়ে সুমাত্রা বন্দরে সরে গিয়েছিল তারা।

    কিন্তু পর্তুগিজেরা তখন হুগলির ঘরের মানুষ হয়েছিল। হরিনাম জপ করেছে, রসকলি কেটেছে কপালে। দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঠুকেছে মাথা। মা কালীর থানে নেচেছে ধুনুচি নিয়ে।

    মোঘলের গোলার ধ্বংসস্তৃপে উঠেছিল নতুন গির্জা। শুধু গির্জাই।

    ওই সেই গির্জা। গতায়ুযৌবন। আলো সজ্জা নেই, লোকজন নেই, নেই সিপাই মাঝিমাল্লা। তোপের খিলান নেই। ঝনাৎকার নেই তলোয়ারের। ঘণ্টা বাজে না দৈনিক প্রার্থনার।

    এই বিংশ শতাব্দীর পরিত্যক্ত এক গ্রাম। সে নগর নেই, নাগর নেই, বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি নেই, নেই আধুনিক যানবাহনের যন্ত্রের গর্জন।

    আধুনিক রাজধানী থেকে অনেক দূরে এক শান্ত গ্রাম। নিশীথ রাত্রির অন্ধকার আকাশে লেপটে রয়েছে যেন যুগ-ভীত এক পঙ্গু বৃদ্ধ। নীল রক্তধারায় তার প্রাচীন ব্যান্ডেলের স্বপ্ন। নদীবক্ষে দস্যুতার স্তিমিত স্মৃতি।

    খানিক দূর দক্ষিণে তার ইমামবাড়া। অদূর উত্তর সাগঞ্জ। ডানলপ কারখানার কোটিপতিদের প্রাসাদ। আলোর মালা দিনের মতো আলোকিত করেছে কুঠির পরিধি।

    এপারে সামনেই দক্ষিণে হাজিনগর চটকল। আর এই গঙ্গার বস্তি। অদূর উত্তরে প্রাচীন ভাঙা মন্দির আর পুরনো বাড়ির ইটের স্তূপে ছাওয়া হালিশহর গ্রাম।

    .

    জীবনের তাড়নায় আসতে হয়েছিল এখানে। সস্ত্রীক এসেছিলাম। ভদ্রলোকের ছেলে বস্তিতে বাস করতে এলে কথা হয়। ঘোঁট পাঁচালি হয়। সন্দেহ করে লোক। তবে গঙ্গা কেন বিশ্বাস করবে।

    বউ দেখে গঙ্গা বলল, মেয়েটাকে কোত্থেকে নিয়ে এলে?

    বললাম, বউ।

    দেখি তো৷ বলে তার নব্বই বছরেরও উপরে বাঁকা দেহটা নিয়ে এল থপ থপ করে। চোখ দুটি গলা। তবু নাকি দেখতে পায়। হুমড়ি খেয়ে দেখল। দেখে বলল, ডাগর বউ। জানাশোনা মেয়ে বুঝি?

    বললাম, হ্যাঁ।

    বুঝেছি। বলে কয়েক মুহূর্ত শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। থরথর করে কাঁপছে। শরীর আর স্থির থাকে না। জ্ব জোড়া ঝুলে পড়েছে চোখের উপর। জিভটা বেরিয়ে পড়েছে আপনি।

    হঠাৎ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, যা হোক, সুখী হও। ভালবাসো। ছেড়ে দিয়ো না ভাঙা ভেলার মতো। ঘরছাড়া মেয়ে…জগৎজোড়া এ মানুষের সুমুদুরে তার কেউ নেই।

    কেউ নেই।

    অবাক হলাম গঙ্গার কথা শুনে। বিস্ময়ের অনেক কারণ ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম গঙ্গা অবাঙালিনি। রামু সর্দারের মা। রামু এখানকার চটকলের ডিপার্টের একজন সর্দার। কিন্তু পরে বুঝলাম, গঙ্গা বাঙালিনি। তা ছাড়া মেয়েমানুষ সম্পর্কে তার বিচিত্র ধারণা। সেও এক বিস্ময়ের ব্যাপার। সে কথা থাক। জীবনে অনেক বেড়াজাল। দুশ্চিন্তায় মন আমার দিবানিশি ভারাক্রান্ত। সারা দিন ঘুরি নিজের কাজের ফিকিরে। রাত্রে যখন ফিরে আসি বস্তিতে তখন শুধু মনে হয় পালাই-পালাই, আর পারিনে।

    সেই ঘুপসি ঘর। অসহ্য গরম। আর জানালা দরজা বলে কিছু নেই। আমার বউ, আমার স্ত্রী থাকেন সারা দিনরাত্রি ওই ঘরে। তার পক্ষে বাইরে রাত কাটানো সম্ভব নয়। কিন্তু আমি কিছুতেই থাকতে পারি না ওই ঘরে। বিশেষ করে রাত্রে কেবলই ঘর বার করি। প্রথম প্রথম তো তাই। অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড়চড় করে।

    আর ঘুমোয় না গঙ্গা। একটি হাতপাখা নিয়ে রোজ বসে থাকে মাঠের ধারে। সামনে থাকে একটি সলতে কমানো হারিকেন।

    দিনের বেলা দেখেছি বুড়িকে। চাঁদের মা জটি বুড়ি যেন, মাথায় রুপালি চুল। এ বয়সেও গায়ের রং আঁচড়ানো কাঁচা সোনা। আঁচড়ানো, কেননা রেখাবহুল লোলচর্ম। গুল টিপে রাখে ঠোঁটে। এ বয়সেও ঠোঁট দুটি কী লাল। লাল টুকটুকে। ভাবি, যৌবনে গঙ্গার রূপ তা হলে কেমন ছিল।

    আমি ঘর থেকে বেরিয়ে এলেই ডাকে, এসো, এদিকে এসো৷ পাখাটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে, ঘুম হচ্ছে না তো। মেয়েটাকে একলা ফেলে এসেছ, না। কাঁদবে না?

    বলি, না। বুড়ি বলে, তবে হাওয়া খাও, আমাকেও একটু করো।তারপরে একটু চুপ। আবার, কী করে সব ঘুমোয় এরা জানিনে বাবা। আমার তো ঘুম আসে না।

    দু-চারটি এমনি কথা বলেই সে এসে পড়ে আমার জীবনের প্রসঙ্গে। কুণ্ঠিত হই, লজ্জিত হই। তবু একদিন সব কথা বলেই ফেলি। আমার সব কথা।

    শুনে গঙ্গা আমার হাত দুটি ধরে বলল, খুব ভাল করেছিস বাছা খুব ভাল করেছিস। তবে দেখিস, মেয়েমানুষ। মাঝ দরিয়ায় তরী ডুবোসনি যেন।

    বলে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল, হাল নেই, মাঝি নেই, মাঝ নদীর নৌকো। কখনও সে পাড়ে ঠেকে, কখনও ভাসে জলে। ভাসতে ভাসতে সে কোথায় যায়, কে তাকে ধরে রাখবে। ধরে রাখতে পারে শুধু তোদের মতো ছেলেগুলো। প্রাণে যাদের আগুন, মনে যাদের রস ফোটে টগবগ করে। রেখেও তো ছিল। কিন্তু পারেনি।

    বললাম, কার কথা বলছ বাড়িউলি?

    গঙ্গা বলল, ভানুমতীর কথা!

    ভানুমতী কে?

    আমি, এই মুখপুড়ি।

    কী বলছ?

    গরমে তার সর্বাঙ্গ খোলা। গায়ের লোলচর্ম দেখিয়ে বলল, সারা গায়ে দেখছ না কত কালের কথা আঁকা আছে। ভানুমতীর জীবনের নামাবলী এই চামড়া। তারই একটি কথা বলছিলাম।

    বললাম, কী বলছ, বলো না?

    গঙ্গা বলল, আকাশের তারা কি গোনা যায়। এ জীবনের কথার কি শেষ আছে। সে যে কত কথা। বাছা, তোদের জীবন তেজে ভরা,নতুন তোদের কাল। আমাদের সেকালের কথা এখন রাক্ষস রাজত্বের রূপকথা।

    বলে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে পাখাঁটি আমার হাতে দিল। আমি হাওয়া করতে লাগলাম। আর গঙ্গা বহু দূর ঝরনার গুঞ্জনের মতো গুনগুন করে চলল এক বিচিত্র রাগিণী। নব্বই বছরে পথের এক অন্ধকারে সেই ঝরনা।

    .

    বৈশাখের ঘোর দুপুর।

    ধীরে বইছে ভাগীরথী। ভাটার টানে চলেছে সমুদ্র সঙ্গমে। যায় আর আসে। এমনি যাওয়া আসা তার দিবানিশি। কাল যায় আর আসে তার স্রোতের বুকে। কালের কথা গুনগুন করে ফেরে তার কলকল ধ্বনির সঙ্গে। কত কথা। তার আদি আছে অন্ত নেই!

    কখনও ইতিহাসের রচয়িত্রী সে নিজে। কখনও মানুষের গড়া ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে গুঞ্জন করেছে তলে তলে।

    কয়েক শতাব্দী আগে তার প্রধান স্রোতের বেগ নিয়ে ছুটেছে সে সরস্বতীর সঙ্গে সঙ্গে। ত্রিবেণী সঙ্গমের কোল থেকে তখন সে সমৃদ্ধ করেছে সপ্তগ্রাম। সমৃদ্ধ রাজ্য আর বন্দর সেদিন সপ্তগ্রাম।

    আবার এক সময়ে আপন মনের খেয়ালে সে তার প্রধান স্রোত নিয়ে এসেছে নিজেরই খাতে। সপ্তগ্রামের পূর্ব সীমান্তের গভীর হোগলা বনের পাশ দিয়ে।

    বাণিজ্যের আসর-সন্ধানী বিদেশিরা অমনি ছুটে এসেছে হোগলা বনের ধারে। হোগলা বনের ধারে গভীর স্রোতস্বিনী। বলে হোগলা নদী। হোগলা থেকে ওগলা, ওগলি, ওগোলিন। তারপরে হুগলি। হুগলি নদী। দ্যাখ দ্যাখ করে দু শতাব্দীর মধ্যে সপ্তগ্রাম গেল চুপসে। বন্দর হল হুগলি।

    বৈশাখের ঘোর দুপুরে ছায়াশীতল গ্রাম এই হালিশহর। চব্বিশ পরগনার এক পরগনা এখন। তখন ছিল সপ্তগ্রামের অংশ। জীবন ও যৌবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, কেনা-বেচাসবার কেন্দ্র সপ্তগ্রাম।

    তারপরে মুখোমুখি হুগলি। এপার ওপার। যোগাযোগ হয়েছে হুগলির সঙ্গে। হাট বাজার, ওঠা বসা, শিক্ষা দীক্ষা সবই!

    আবার তাও ভাঙতে আরম্ভ করেছে। এক সময় সপ্তগ্রামকে কেন্দ্র করে, তারপরে হুগলিকে কেন্দ্র করে হালিশহর সমৃদ্ধ করেছে নিজেকে। আজ আবার সেই হুগলি বন্দর ক্রমে সরে যাচ্ছে। কেন্দ্রীভূত হচ্ছে কলকাতায়।

    সপ্তগ্রাম থেকে হুগলি। হুগলি থেকে কলকাতা৷ হালিশহর বোবা বিস্ময়ে লক্ষ করেছে এই বিচিত্র গতি। সপ্তগ্রাম থেকে হুগলির নাগাল পেয়েছে সে। কিন্তু কলকাতার নাগাল পাওয়া যাবে কি আর।

    আর ঘোর দুপুরের অলস বিস্মিত নীরব হালিশহর দেখছে গঙ্গাকে। গঙ্গা, অর্থাৎ ভানুমতীকে। ভানুমতী নয়। বিনি জেলিনির মেয়ে ভানি।

    হালিশহরের কথা বলছ? সে কি গ্রাম। গ্রাম নয়, শহর। ও তল্লাট খুঁজলে পাবে না এমন একখানি জায়গা। মস্ত বড় বড় মহলের পর মহল তোলা বাড়ি। বাড়ি নয়, রাজার বাড়ি। থাকবে না কেন। হালিশহরের লোকের ধন আছে, ধর্ম আছে। হুগলি বন্দরে অনেকের কাজ, অনেকের ব্যবসা। অনেকের ঘোড়ার আস্তাবলে ঘোড়া আছে। দুজনের আছে হাতি। লোকে বাড়ি তোলে, তার সঙ্গে তোলে মন্দির। বাড়ি বাগান মন্দির। বড় বড় সড়ক। গ্রাম নয় শহর। হাবেলি পরগনার হালিশহর। বামুন পণ্ডিত, কুলীন কায়েত, হাড়ি, বাগদি, জেলে, হাতি, ঘোড়া, পালকি, সব মিলিয়ে জমজমাট হালিশহর। জাগ্রত মা কালীর থান, রামপ্রসাদের পঞ্চবটী আর শিব মন্দিরের ছড়াছড়ি। গঙ্গার পারে আছে রানি রাসমণির ঘাট। হরেকেষ্ট বোষ্টমের মেয়ে রাসমণি। হালিশহরের মেয়ে। কপাল কী। কলকাতার নোক গঙ্গার পাড়ে রাসমণিকে দেখে পছন্দ করে ফেলল। জানবাজারের রাজচন্দ্রের তৃতীয় বিয়ের মেয়ে দেখতে বেরিয়েছিল তারা।

    .

    গঙ্গার এপারে দেখা যায় না বিশেষ নৌকা। কিন্তু কাতার দেওয়া রয়েছে ওপারে। শুধু নৌকা নয়। পাল ভোলা স্টিমের নৌকাও আছে। লোকে বলে জাহাজ। ওপারে স্কুল কলেজ হাসপাতাল আদালত। সাহেবরা পড়ায় স্কুলে কলেজে। এপার থেকে বামুন কায়েতদের ছেলেরা যায় ওপারে পড়তে। ওপারেই সব। সাহেব মেমের ছড়াছড়ি, সাহেব মেমে মারামারি। আর কী বাড়ি। বাড়ির গায়ে বাড়ি, তার গায়ে বাড়ি। এপার থেকে মনে হয়, সব যেন এর ওর গায়ে হেলান দিয়ে রয়েছে। লক্ষ করলে দেখা যায় সামান্য কিছু মানুষের ব্যস্ততা। রাস্তায় ফিটন ও পালকির যাওয়া আসা। এক-আধজন দেশি বিদেশি ঘোড়সওয়ারের দৌড়াদৌড়ি। হালিশহরে শোনা যাচ্ছে, মেয়েছেলেরাও নাকি ওপারে লেখাপড়া করছে। তাদেরও স্কুল হয়েছে।

    পরিষ্কার দেখা যায় ব্যান্ডেলের গির্জাটা। পাঁচিল ঘেরা উঠানে, কৃত্রিম কুঞ্জ বীথিতে পাথরের নারীমূর্তি। বাইরের জনহীন মাঠে একটা চার ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে দাঁড়িয়ে। না সহিস, না যাত্রী।

    একটু উত্তরে তার পাঁচিলের ঘেরাও। ভাঙন ধরেছে পাঁচিলে। ঘেরাওয়ের মধ্যে বাগান ছিল। এখন জঙ্গলে ভরে উঠেছে। লোকে বলে মাদাম গ্র্যান্ডের বাগান ছিল। আজকের কথা তো নয়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকের কথা। আজ উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যাহ্ন অতিক্রান্ত। মাদাম গ্র্যান্ডকে অর্থাৎ দ্বিতীয়া ব্যারনেস ইনহফকে নিয়ে ওখানে প্রেম করতে আসতেন ওয়ারেন হেস্টিংস। তখনকার দিনে হুগলি ও কলকাতার শ্রেষ্ঠা সুন্দরী। মেমসাহেব অনেকের চোখে রং ধরিয়েছিলেন। কিন্তু হেস্টিংসের রূপ, বীরত্ব, ক্ষমতা জয় করেছিল তাঁকে। বাগানের পেছনে ঝাউবন। বৈশাখের রোদে আগুনের ফুলকির মতো জ্বলছে কৃষ্ণচূড়া। আরও উত্তরে কেওটা আর সাগঞ্জ ক্ৰমে প্রাসাদের সারি ছাড়িয়ে গাছের মাথায় মাথায় শুধু গ্রামের চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    এদিকে ব্যান্ডেল থেকে চুঁচুড়া। বন্দর ও শহর। স্কুল ও কলেজ। আপিস আর আদালত। কী রোদ। গাঁয়ে ঘরে কে বেরোয় এ সময়ে। এপারের লোক কাজে যায়, অকাজে যায়। সম্পর্ক ওপারের সঙ্গেই বেশি।

    বৈশাখের প্রচণ্ড রোদে হালিশহর এখন তন্দ্রাচ্ছন্ন। নিস্তব্ধ। দ্বার বন্ধ নিঃশব্দ পুরী। দীঘি পুকুরে মানুষ নেই, রাস্তায় লোক নেই। ফাঁকা গঙ্গার ধারের মাঠ ও বাগান। অলস দুপুরে ঝোপে ডাকছে ঘুঘু কোথাও পিক পিক অথবা আচমকা কুহু কুহু! আম গাছে আম, কাঁঠাল গাছে কাঁঠাল। কাঠবেড়ালির পৌষমাস।

    কী রোদ! যাও বা দু-একজন বেরোয়, চলে গাছের ছায়ায় ছায়ায় মাথায় গামছা বেঁধে। শুধু গোরুর পাল চরছে গঙ্গার ধারে।

    আর বেরোয় ভানুমতীর মতো মেয়ে। মেয়ের বোল ফুটতে না ফুটতে মা ঘর ছেড়ে গিয়েছে। মা, বিনি জেলেনি। রূপে তার হালিশহর আলো ছিল। ঘর ছেড়েছে এক বামুনের সঙ্গে।

    ঘরে মা নেই। বাবা করে জাত ব্যবসা। সকাল থেকে মাছ ধরে, সন্ধে অবধি কাটে ওপারে।

    ভানু সেয়ানা হয়েছে। সে-ই রাঁধে বাড়ে। ঘরের কাজ কর্ম করে। তারপর, বলার কেউ নেই, নেই কেউ চোখ পাকিয়ে ঘরে রাখবার। মেয়ে সারা দিন পাড়ায় পাড়ায় টো টো করে ঘোরে। মন গেলে দুস্তর জঙ্গল পেরিয়ে চলে যাবে গরিফায়। মেয়ের ভয় ডর বলে কিছুই নেই। প্রতিবেশীরা কেউ কিছু বলতে এলে অমনি কট কট করে দেবে দশ কথা শুনিয়ে। কে বলবে! মেয়ের চোখে মুখে কথা। শত হলেও বিনি জেলেনির মেয়ে তো৷ অসতী গৃহত্যাগিনী বিনি জেলেনি।

    মেয়ে তো নয়। সাপের মাথার মণি। ময়লা ন্যাকড়া জড়ানো হিরের মতো চিরকুট কাপড় পরে দিব্যি চলেছে গঙ্গার ধারের বাগান দিয়ে। বাগানের ছায়ায় ছায়ায়। এক হাতে নুন, আর হাতে কাঁচা আম। নুনে জরিয়ে জরিয়ে খাচ্ছে আর জিভ দিয়ে শব্দ করছে টকাস টকাস করে। রূপে আলো করে চলেছে দশ দিক। বিনির রূপে চোখ ঝলসাত লোকের। কিন্তু পেট থেকে যে রূপের ড্যালাটি ফেলে গিয়েছে, তার রূপের তুলনা হয় না। বড় হলে, এ মেয়ের দিকে চেয়ে চোখ ঠিকরে পড়বে।

    এখনও বড় হয়নি। বয়স মাত্র বারো। তবু এর মধ্যে লোকে বলতে আরম্ভ করেছে, মেয়ে তো নয়, একটা মস্ত মাগি।

    হ্যাঁ, তা বটে। গায়ে হাত পায়ে ভারী হয়নি। লজ্জার অবকাশ আসেনি দেহে। তবু, হঠাৎ খানিকটা লম্বা হয়ে উঠেছে। একহারা, রোগা রোগা। মাথায় একরাশ চুল। তেল নেই, জল নেই, চুলের রং পিঙ্গল হতে চলেছে। চুল এলিয়ে পড়েছে কোমরের নীচে। পেছন থেকে দেখলে হঠাৎ একটি বড়সড় মেয়েমানুষ বলেই বোধ হয়।

    চৈত্র বৈশাখের চারা গাছটির মতো। নববর্ষণে ডালপালা ছড়িয়ে বেড়ে ওঠার এই তো লক্ষণ। ফরসা ধবধবে মুখোনি রোদে পুড়ে লাল হয়ে উঠেছে। ঘেমে উঠেছে নাকের ডগা আর ঠোঁটের উপরিভাগ। কিশোরী চোখে তার অস্থির কালো তারা। স্বাভাবিক চাউনিটি দীপ্ত ও খরো। আপনি আপনি চোখ দুটি দপদপ করে জ্বলছে।

    বোঝা যাচ্ছে, মনে মনে স্বগতোক্তি হচ্ছে একটা কিছু। অদ্ভুত শব্দ করতে করতে আম চিবুচ্ছে। তাকাচ্ছে এদিকে ওদিকে। ভ্র জোড়া নেচে উঠছে। হাসতে গিয়ে হঠাৎ অভিমান করে ঘাড় কাত করে চোখ বুজিয়ে ফেলছে নয়তো উদাস হয়ে উঠছে ওপারের দিকে চেয়ে।

    গহনা কিছু নেই বিশেষ। রুপার দুটি চুড়ি আর ঝুটো পাথর বসানো একটি ছোট নাকছাবি। কানে দিয়েছে নিম কাটি। নইলে ফুটো বন্ধ হয়ে যাবে। আশা তো মরে না। একদিন সে সোনার দুল পরবে। রাসমণির মতো মস্ত ঘরে বিয়ে হবে তার। হিরে মুক্তোয় তার সর্বাঙ্গ ভরে উঠবে।

    রূপের কথা শুনে শুনে কান তার ঝালাপালা। সবাই বলে, কী সুন্দর! শুনে শুনে এক এক সময়। তার সাজতে মন চায়। কিন্তু সাজবে কী দিয়ে। না আছে বেনারসি, না আছে নীলাম্বরী।

    আম চিবুতে চিবুতে বসল একটি গাছের তলায়। আমটি ফুরোলে পরে লম্বা লম্বা ঘাস ছিঁড়ে তার বিনুনি করল। বিনুনি করে বিছে হারের মতো পরল গলায়। আবার ওই ঘাসের বিনুনি দিয়েই তৈরি করে কানের ফুল। আর গুনগুন করছে একটি গান:

    জোড় হাতে বলি শুন, শুন কুলীন গণে
    ক্ষেমা দেওরে ভাই নিত্য বিবাহ রণে

    সম্প্রতি রটনা হয়েছে এই গান। গান নিয়ে হাসাহাসি, গান নিয়ে মারামারি। ভানুমতী গাইছে আপন মনে। তার কোনও কারণ নেই।

    কিন্তু এমনি ধারা গান আজকাল সব জায়গায়ই শোনা যায়। ওপারে বিদ্যাসাগর ঘুরছেন, কোন কুলীন ব্রাহ্মণ কত বিয়ে করেছে তারই হিসাবনিকাশ করতে। সঙ্গে আবার লোক যায় গান গাইতে গাইতে।

    সন্ধ্যাবেলা চণ্ডীমণ্ডপে, বারবাড়িতে বৈঠকখানায় সর্বত্র ওই একই আলোচনা। ওই নিয়েই তর্কের আসর, গল্প, হাসাহাসি, কোনও কোনও সময় হাতাহাতি, মারামারি, হুঁকো পেটাপেটি পর্যন্ত হয়। পুকুর ঘাটে হেঁসেলেও তাই। হালিশহরে, পাড়ায় পাড়ায়ও তাই।

    বর্ধমানের জ্বর বলে এক সর্বনেশে রোগ এসেছে দেশে। ইংরেজরা বলে ম্যালেরিয়া। রোজ রোজ লোক মরছে বর্ধমানে। হুগলিতে তার চেয়ে বেশি। হালিশহরেও কম নয়। এমনকী রোগ সন্ধানী কমিশন প্রকাশ করেও দিয়েছে, বর্ষার সময় রোগটা শুরু হয়েছিল হালিশহরে। সেখান থেকে হুগলি, বর্ধমান ছড়িয়েছে। কিন্তু রোগের নাম হয়ে গিয়েছে বর্ধমান-জ্বর। দেদার লোক পালাচ্ছে কলকাতায়।

    হালিশহরের থেকেও পালাচ্ছে অনেকে। যাদের যেমন অবস্থা, সেই অনুযায়ী। সবাই ঠাট্টা করে বলে এক দিকে বর্ধমান-জ্বর, আর এক দিকে কুলীনের ভীমরতি। ওষুধ নিয়ে ওপার থেকে আসছেন বিদ্যাসাগর।

    নিশিকান্ত বাঁড়ুজ্জে তো খেপেই অস্থির। বয়স হয়েছে বাহান্ন। বিয়ে করেছে সাতচল্লিশটি। মাথাটিও সম্প্রতি একটু বেশি গরম হয়েছে। গঞ্জিকা সেবনে অষ্টপ্রহরই শিবনেত্র হয়ে থাকে। পাড়ায় কুচো কাচারা ঠাট্টা করে, আড়াল থেকে চেঁচায়, বিদ্যাসাগর আসছেন ওপার থেকে। এক বার শুনলে হয়। নিশিকান্তর নেশা অমনি ছুটে যায়। মস্ত একটি বাঁশ নিয়ে ছুটে যায় গঙ্গার ঘাটে। বলে, কই, কোথায় যুগ্ন করে চাল থেকে সেই ব্যাটা পণ্ডিত, এক বার দেখি।

    অমনি কেউ বলে, ওই তো আসছে, সায়েবদের বজরায় করে। গোটা বিশেক বন্দুকধারী সঙ্গে আছে।

    বন্দুকধারী? কটা? কুড়িটা? নিশিকান্ত মানে মানে গাঁয়ে ঢোকে। বলে, আচ্ছা, এবারটা যাক।বলে সরাসরি হালিশহর ছেড়ে দু দিনের জন্য গা ঢাকা দিয়ে থাকে।

    সবাই ওই গান গুনগুন করে। ভানুমতীও করে। গান করতে করতে আপন মনে লতাপাতার অলংকার তৈরি করছে। চুড়ি, হার, দুল, নাকছাবি। এমন সময় দুটো লোক অদূরের একটি জামরুল গাছের তলায় এসে দাঁড়াল। দুজনেরই মাথায় ছোট ছোট চুল, সমান করে কাটা। আধ হাত পরিমাণ স্থূল শিখা। দুজনেই কালো। দুজনেরই স্থূল চেহারা। একজন কিঞ্চিৎ লম্বা।

    একজনের নাম সর্বেশ্বর পাঠক। দ্বিতীয় নন্দন অধিকারী। সর্বেশ্বরের পাঠক পদবি আজ বিলুপ্তপ্রায়। বিশেষ, ঘটকালি করে করে, নাম তার ঘটক ঠাকুর দাঁড়িয়েছে। নন্দনের পেশা তাই, তবে নামটা ততোধিক নেই। দুজনে তারা হালিশহরেরই অধিবাসী। ভানুমতীর প্রতিবেশী। সর্বেশ্বরের খালি গা, গলায় মোটা পৈতা, ঘাড়ের উপর উড়নি, গামছাটি বগলে, নন্দনের গায়ে ফতুয়া, উড়নি নেই, গামছাটি কাঁধে।

    দুজনেই তারা এক বার দেখল ভানুমতীকে। দেখে পরস্পর চোখাচোখি করে ঘাড় নেড়ে ইতি-উতি দেখল চারিদিকে।

    সর্বেশ্বর চাপা গলায় বলল, নন্দন, অনেক দিন পেছু ঘুরছি। এই সুযোগ আর ছাড়া চলে না।

    নন্দন একটু ভিতু। বলল, দিনক্ষণটা ঠিক ঠিক দেখেছ তোতা?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ। এর আবার অত দিনক্ষণ কীসের? মঙ্গলে ঊষা, বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা। বুধে বুদ্ধি আপনি গজায়। বুদ্ধি থাকলেই পগার পার।

    নন্দন তবু বলল, যদি কেউ দেখে ফেলে?

    সর্বেশ্বর তার কুৎসিত মুখটা আরও বিকৃত করে বলল, তোমার মুণ্ডু। দেখে আবার ফেলবে কী? আমরা কি কেটে খাব? দাঁড়াও এখন! আমি উত্তর দিক দিয়ে ঘুরে যাচ্ছি। কথা বলে এগুলেই তুমি এসে দেখা দেবে, বুঝলে?

    নন্দন বলল, আচ্ছা।

    সর্বেশ্বর পা টিপে টিপে কোথায় অদৃশ্য হল। নন্দন ভীত চোখে তাকাতে লাগল এদিকে ওদিকে।

    একটু পরেই দেখা গেল সর্বেশ্বর ভানুমতীর কাছে দাঁড়িয়ে। বলল, কে র‍্যা? আমাদের গঙ্গা না, বিনির বেটি?

    ভানুমতী দেখল। নিজের কাজ করতে করতে মুখ না ফিরিয়েই বলল, ঘটক ঠাকুরদা, কোথায় যাচ্ছ এই দুকুরবেলা?

    সর্বেশ্বর এদিক ওদিক দেখে হেসে বলল, এই তোর বের ঘটকালি করতে। দ্যাখ না, তোর কেমন বে দিই।

    কিন্তু নিজের কাজে ভানু এমনই মশগুল, বিয়ের কথাতে তার একটুও উৎসাহ দেখা গেল না। বলল, তোমরা তো বামুনের বে দেও। আমরা তো জেলে।

    সর্বেশ্বর বলল, হলই বা। তোর অমন রূপ। একশো মোহর কামিয়ে নেব তোর বে দিয়ে।

    ভানুমতী তাকায়ও না। জবাবও দেয় না আর। সর্বেশ্বর হাত কচলায় উশখুশ করে তারপর হঠাৎ হামলে ওঠে, তোর বাপের কথা শুনেছিস?

    ভানু অন্যমনস্কভাবেই বলল, কী কথা ঠাকুরদা?

    সর্বেশ্বর বিস্মিত হয়ে জিভ দিয়ে আক্ষেপের শব্দ করে বলল, ওমা, সে কথা শুনিসনি? চুচড়োয় তোর বাবাকে যে এক সাহেবের ঘোড়া লাথি মেরে মাথার খুলি ভেঙে দিয়েছে।

    বালিকা ভানুমতী আঁতকে উঠে তাকাল সর্বেশ্বরের দিকে। সর্বেশ্বরের আগের পরের কথাও লক্ষ করল না। কেবল মুখের দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক নিমেষ। তারপরেই হাতের অলংকার ছুঁড়ে ফেলে, ওগো আমার বাবা গো। বলে চিৎকার। কী দাপাদাপি! তবে, লোকজনের বাসস্থান থেকে অনেক দূরে গঙ্গার ধার। সেই যা রক্ষা। নইলে গাঁ মাথায় হত। অমনি নন্দন বেরিয়ে এসে বলল, কী হল রে? ও! তোর বাপের খবর পেয়েছিস বুঝি। আহা, এক ফোঁটা মেয়ে। আমি সকালেই দেখে এসেছি।

    বুদ্ধি নেই, বিচার নেই। যত শোনে, ভানুমতী তত কাঁদে।

    সর্বেশ্বর বলল, আচ্ছা, অত কাঁদছিস কেন? বাপ কি কারও মরে না? কী বলল হে নন্দন। পাড়ায় অত লোক রয়েছে, আমরা রয়েছি।

    নন্দন বলল, তা তো বটেই। ওপারেই যাচ্ছি আমি। আদালতের বারান্দায় তোর বাপকে শুইয়ে রেখেছে দেখে এসেছি। সর্বেশ্বর বলল, তা চলো না মেয়েটাকেও নিয়ে যাই, দেখে আসবে এক বার বাপকে?

    ভানুমতী অমনি দুহাতে সর্বেশ্বরকে জড়িয়ে ধরে বলল, ও ঠাকুরদা, তোমার পায়ে পড়ি, এক বারটি আমাকে বাবার কাছে নে চলো।

    সর্বেশ্বর বলল, তা চুবো চুবো। বেশ তো যাবি। বলে নন্দনকে চোখ টিপল। টিপে হুশ করে নিশ্বাস ফেলে বলল, আহা! এমন সোনার টুকরো মেয়ে।

    নন্দন দেখল, ঘাটে কেউ আছে কি না। কেউ নেই। খালি তাদের আগের থেকেই ঠিক করা মাঝি বসে আছে নৌকা নিয়ে। সে ডাকল, কই, এসো হে সব্বো, আমার আবার তাড়াতাড়ি।

    সর্বেশ্বর খালি বলে, চুবো চুবো। চল, নন্দনের নৌকা রয়েছে। তাইতেই চলে যাই।

    ছই ছাওয়া নৌকা। নৌকা তো নয়, দিব্যি একখানি ছোটখাটো ভাউলে। ঢেউয়ের দোলায় নাচছে। মাঝিটি ওপারের মানুষ। জেনে শুনেই এসেছে। পাখি ডাকছে ছায়ায় বসে। বৈশাখের খর রোদে নিশীথের মতো সুপ্ত গ্রাম। কোথা থেকে একটা গোরু ডাকছে হাম্বা হাম্বা করে।

    ওগো বাবা গো! বলে ফোঁপাতে ফোঁপাতে ভানুমতী নৌকায় উঠল। কান্নায় তার চোখ লাল, মুখ লাল।

    মুখে চোখে ছড়ানো এলোমেলো চুলের রাশি।

    সর্বেশ্বর বলল, যা রোদ! চলো ভেতরে গিয়ে বসি।

    নন্দন বলল মাঝিকে, কই হে, নৌকা খোলো৷ বলে গলা বাড়িয়ে একবার চার দিকে দেখল। কেউ নেই। নিঝুম গ্রাম। সূর্য একেবারে ঢলে না পড়লে আর লোকজন পথে বেরুবে না।

    মাঝি নৌকা ছেড়ে দিল। নন্দন ইশারায় অঙ্গুলি সংকেত করল উত্তর দিকে তাড়াতাড়ি চলার জন্য।

    মাঝির সঙ্গে আগে থেকেই ষড় করা হয়েছে। সে ঘাড় নেড়ে হাল ধরল। নন্দন ঢুকল ছইয়ের ভিতরে। ভানু কাঁদছে। বালিকা ভানুমতী, শিশু গঙ্গা। বাপ সোহাগি, চলেছে মাথার খুলি ভাঙা বাপকে দেখতে। আর কয়েক প্রহর বাদেই তার যে বাপ পাড়ি দেবে ওপার থেকে এপারে। এ যাওয়া যে কী যাওয়া, সে জানে না, কেউ জানে না। জানে শুধু পাপের মতো ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর, মানুষরূপী সর্বেশ্বর আর নন্দন।

    আর এ যাওয়া যে শেষ পর্যন্ত ভানুমতীকে কোথায় নিয়ে যাবে, সে কথা জানে না সর্বেশ্বর আর নন্দনও। গঙ্গার অতল রহস্যের মতোই তা অন্ধকার।

    এ বিশ্বসংসারের সমুদ্রে সবাই ভাসছে। ভাসছে জীবন ভেলায়। ভানুমতীও ভাসল এক জীবন ভেলায়। তার নিজের অজান্তে যে জীবনের ভেলা তৈরি হয়েছিল তার জন্যে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশালঘেরির সীমানায় – সমরেশ বসু
    Next Article গোয়েন্দা অশোক ঠাকুর সমগ্র – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }