Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভানুমতী – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প1053 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সংশয়, শঙ্কা ও ভরসা

    দিনের মনে দিন চলে গেল, রাত্রির মনে রাত্রি। কিন্তু ভানুকে মুক্তি দিতে কেউ এল না। গঙ্গার বুকের দূরবিসারী চর থেকে উঠে আসা কালবৈশাখীর ঝড় বয়ে গেছে প্রতি সন্ধ্যায়। গুপ্তিপাড়ায় ছিন্নভিন্ন লতাপাতায়, ভাঙা গাছপালায়, গরিবের দোমড়ানো চালায় প্রকৃতির সেই রুদ্র উল্লাসের দাগ লেগে আছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের খর রৌদ্রে ফাটল ধরেছে মাঠ ও পথে। ঝিঙে পটলের ক্ষেতগুলি ঝলসে নেতিয়ে পড়ছে। ফুটি খরমুজা ফেটে হাঁ করে রয়েছে মাঠে। তাপ-তাড়নায় গর্ত ছাড়া তৃষ্ণার্ত আল-কেউটে খরমুজার ঠাণ্ডা গহ্বরে ঢুকিয়ে রয়েছে মাথা। ফুটি খরমুজার তীব্র গন্ধেও তার নেশা লাগে। গঙ্গা তীরের চিড় খাওয়া উঁচু পাড়ে এখানে সেখানে হাঁ করে রয়েছে হাড়ল গর্ত। মুখ ব্যাদান করে রয়েছে পিপাসার্ত মাটি।

    জ্যৈষ্ঠেরও শিয়রে সংক্রান্তি। আষাঢ় আসছে। আসছে, কিন্তু রোদজ্বলা দপদপে আকাশটার দিকে তাকিয়ে আষাঢ়ের সাড়া মেলে না এখনও।

    বন্দিনী ভানু তাকিয়ে দেখে। শৈলীর বেড়াকাটা জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকে সারা দিন মাঠের দিকে। শুধু মাঠ। চাষ-আবাদহীন ফুটিফাটা মাঠ। গাঁয়ের একটেরে, মাঠের ধারেই শৈলর ঘর। লোকজনের আনাগোনা ছিল না।

    এখন প্রায়ই থেকে থেকে দেখা যায় নীলকুঠির লেঠেলদের। নজর টাটিয়ে ওঠা দুস্তর মাঠের এখানে সেখানে খাড়া পেত্নির মতো পোঁতা বাঁশ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পেত্নিগুলি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে এদিকেই, এই বেড়াকাটা ঘুলঘুলিতে ভানুর দিকে। ওই পোঁতা বাঁশগুলি নীলের আবাদের দাগ। গায়ের জোরে দাদন দেওয়া রায়তের জমি। ওখানে সারাদিন পালা করে পাহারা দেয় কুঠির লেঠেলরা। রায়তের ভয়ে নয়। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব নাকি আসতে পারেন যে কোনওদিন। এ সব নেই হালিশহরে, ভানুদের গাঁয়ে। ব্যাপার শুনে ভানু ভয়ে আরও কাঁটা। ধান রুইতে পারবে না। এক বার দাদন দেওয়া হল তো, হাল বলদ সবেরই দাদন। লোকে চাষ করবে নীল, গিলবেও নীল! তাই নিয়ে কথা হয়েছে। কথা উঠেছে কলকাতার কাগজে। চারিদিকে এই নিয়ে গণ্ডগোল। গুপ্তিপাড়াতেও শোরগোল পড়েছে খুব। হুগলির বড় সাহেব নয়, হুগলি বর্ধমানের বড় সাহেব আসবেন। সে গোরা নাকি আবার রায়তের দিকে টেনে চলেন। গোরারও আবার টান! টান বইকী। নইলে কুঠির সাহেবরা অমন ভয়ে কাঁটা হয়ে লেঠেল বসায় দাগের বাঁশে। বড় সাহেব আসছে এই খবর পেলেই দাগের বাঁশ তুলে সব বেমালুম পাচার করে দেবে তারা। কুঠির সাহেবের হুকুম।

    সারা গুপ্তিপাড়া তোলঘোল। একরকমের ঝড় লেগেছে সারা গাঁয়ে, মস্ত চাকলায়। তার চেয়েও বড় ঝড়ের মাতন ভানুর বুকে। সেই উথাল-পাথাল মন নিয়ে সে যখন বেড়াকাটা ঘুলঘুলি দিয়ে তাকিয়ে থাকে দুরে, তখন চোখে পড়ে শুধু এই সব। চোখে পড়ে আর শোনে শৈলর মুখে। শৈল এসে গল্প করে।

    যাবার সময় লেঠেলরা ডাক দিয়ে যায়, শৈল দিদি আছ নাকি গো৷ থাকলে শৈলী জবাব দেয়। ওরা যমের দোসর, কিন্তু শৈলর সঙ্গে দিব্যি হেসে গল্প করে। কুঠির সাহেবদের মনের সুখে গাল দিয়ে যায় নিজেরাই। যমের দোসর যমকে গালি দেয়। শৈল না থাকলে, না জবাব দিলেও দিক করে না। চলে যায় আপন মনে। শৈলকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে একটু হাস্য-রসের কথা বলে।

    কিন্তু বুকের মধ্যে কাঁপে ভানুর। বড় ঘরের ঘুলঘুলি থেকে চকিতে সরে আসে। বুকের ধুকধুকিতে শোনে ওদের চলে যাওয়া পায়ের শব্দ। তারপর উঁকি মারে। ওরা কোনওদিন ভানুকে দেখেনি। দেখা দিতে বারণ আছে শৈলর। বুকের মধ্যে টনটন করে লোকগুলির দিকে তাকিয়ে। যেন তার বাবার মতো। হুমদো হুমদো মানুষগুলি। দেখলেই মনে হয়, তার বাপের মতো গোঁয়ার। এখুনি এদিকে ফিরে গাঁক করে উঠবে তাকে।

    কোনও কোনও দিন দেখা যায়, মাটি কাঁপিয়ে, ধুলো উড়িয়ে, ঘোড়া ছুটিয়ে চলেছে স্বয়ং কুঠির সাহেব। মাথার উপরে ফটফট হিসহিস করে বাজে চাবুক। আমিনের ঘোড়াও কখনও সখনও ছুটে যায় এমনি। অমনি ভয়ে আতঙ্কে যন্ত্রণায় অবশ হয়ে যায় ভানুর শরীর। মনে হয়, ওই ঘোড়ার খুরের বাজ ফাটা শব্দ বাজছে তার মাথায়। মনে হয়, সত্যি মনে হয়, ঘোড়া লাথি মারছে তার মাথায়। ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে তার খুলি। দুহাতে মাথা চেপে চাপা গলায় চিৎকার করে, গেলুম, মলুম গো!এমনি অবস্থায় যখন তার চেতনা হারিয়ে যেতে থাকে, তখন সে দেখে ঘোড়ার ঘাড়ে মানুষের মাথা। তার বাবার রক্তাক্ত ভাঙা খুলি। বলে, কই লো গঙ্গা, চোখ খোল, আমি এইছি! ভয় কী! খাচ্ছিস, পরছিস, বেশ আছিস। আমি তো আর ফিরে আসব না। শৈলী বাগদিনি তো তোকে ভালবাসে, ওর কথা শুনিস। ভয় কী? এই তো আমি চলে যাচ্ছি।

    ধীরে ধীরে, মাঠের বুকে মিলিয়ে যায় ঘোড়ার পদশব্দ। কিন্তু সহজে জ্ঞান ফেরে না ভানুর। শৈল এসে চোখে মুখে জলের ঝাঁপটা দেয়। মুখের মধ্যে খুন্তি পুরে দিয়ে দাঁতকপাটি ছাড়ায়। বুকের উপর মাথাটি টেনে নিয়ে ডাকে, নাতনি! নাতনি গো!

    যেন ঘুমের ঘোরে ডাক শুনতে পায় ভানু। চোখ খোলে। রক্তবর্ণ চোখ। সেই চোখ দেখলে শৈলর বুকের মধ্যে কাঁপে। কী চোখ! যেন কান পর্যন্ত টানা মা দুর্গার দপদপে চোখে জ্বর-বিকারের ঘোর। শৈল ভাবে, প্রকৃত মহিষমর্দিনী ভর করেছে ভানুর উপর। হয়তো এখুনি রুদ্রাণী রূপে ঠেলে উঠে দাঁড়াবে শৈলর বুকের উপর! হুশ ফিরিয়ে আনার জন্য সে সন্ত্রস্ত গলায় জোরে ডাকে, নাতনি। গঙ্গা…গঙ্গা… ।

    ভানু তাকায়, যেন ঘুম ভাঙা চকিত চমক চোখে। চেনা অচেনার বিস্মিত সংশয়ে ভরা সেই চোখ। কে? কে গো তুমি? কালো কালো মুখোনি। তরাস ভরা চোখ! কালো চুলের গোছা মাথায়, গলায় রুপোর হাঁসুলি। সারা গায়ে রামধনু রং খেলা করছে শান্তিপুরে ডুরে শাড়ির। কে? চিনি চিনি, চিনিনে যেন! এ যেন বিনি জেলেনি। তবে কালো; কালো বিনি জেলেনি যেন এটি! তুমি কি গঙ্গার মা?

    না। বিনি জেলেনি নয়, শৈল বাগদিনি। সে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে ভানুমতীকে। কী মেয়ে এল আর কী হল। জ্বলন্ত আগুনের গায়ে ছাই পড়েছে। মেয়ের সে আগুনের মতো রং কালি হয়েছে। হাসি নেই, এসে অবধি ছিলও না কোনওদিন। কিন্তু জাত শলুইয়ের মতো যে তেজ ছিল, ফোঁসফোঁসানি ছিল তা কোথায় চাপা পড়ে গেছে। আর বাড়া ভাতে লাথি দেয় না, কাপড় ছিঁড়ে কুচি কুচি করে না। কাঁদে না মেঝেয় দাপিয়ে পড়ে। নতুন খোলস ছাড়া সাপের মতো তার ধীর গতি। মন্ত্রবাণ ছুঁড়ে কে হরণ করেছে তার কথা। চোখে ছিল আগুনের লেলিহান শিখা। এখনও আগুন আছে। কিন্তু সে শিখা এখন অঙ্গারের মতো স্থির। চোখের এ দীপ্তি যেন আরও অসহ্য। এখন সে শান্ত। বোবা পাগলিনীর মতো বিস্মিত স্থিরতা, থমকানো ভাব।

    তবুও তলে তলে চোরা বানের ধারা বইছে। যেন আঁস্তাকুড়ের ছাই ধুলো মাখা তেজি লাউ ডগাটির মতো ভানুর সর্বাঙ্গে জোয়ারের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। নতুন দেখা দেয়নি, জোয়ার নিয়েই সে এসেছিল। শৈল দেখে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। ভানুর আলতা পরা পা। প্রথম প্রথম আলতার বাটি লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। এখন আর দেয় না। শুধু চেয়ে দেখে। হাতে বড় বড় রুপোর চুড়ি। শৈলর হাতের চুড়ি। তেল জলে ধোয়া মোছা যত্ন করে বাঁধা মেনকা খোঁপা। গলায় শৈলরই রুপোর হার। সারা দেহ যেন একটু ভার ভার। যেন একটু বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। কিন্তু শৈল মেয়েমানুষ, ভানুর একমাত্র সঙ্গিনী। সে তো জানে, মেয়েটা শিশু। একেবারে বাচ্চা। ওর কিছুই হয়নি।

    শৈল আবার ডাকে, গঙ্গা, নাতনি লো

    সংশয় দূর হয় ভানুর চোখের। বিনি জেলেনি নয়, দিদিমণি। এই ডাকই শিখিয়ে দিয়েছে তাকে শৈল। সে জবাব দেয়, অ্যাঁ?

    শৈল বলে, কী হয়েছে তোর। কী হল তোর?

    ভানুর চোখে অমনি বড় বড় ফোঁটায় জল জমে ওঠে। চোখের সামনে শৈলর মুখটা কাঁপতে কাঁপতে দুরে সরে যেতে থাকে। ফিসফিস করে বলে, দিদিমণি। বাবা..আমার বাবা!…

    জানে শৈল। বাপের চিন্তাই মেয়েটাকে এমনি পাগল করে। বড় বাপ-সোহাগি মেয়ে। শুতে বসতে বাপকে দেখে। মা-পালানো মেয়ে যে! তাই অমনি সব বিষয়ে বাবাকে মনে হয়।

    শৈল বলে, মিছে কেন ভাবিস নাতনি। ও কিছু নয়। সে যে মরে গেছে। বড় যে বাপ-সোহাগি ছিলি, তাই সে অমনটি করে দুঃখু দেয়।

    তারপর আপন মনে বলে ফিসফিস করে, যে কাঁদিয়ে যায়, সে শব্দুর। মরে যে তোর বাপ শত্রুর হয়েছে। মিছে ভাবিসনে।

    বলতে বলতে শৈলর চোখেও জল দেখা দেয়। আর তো সব কথাই বলেছে সে ভানুকে, শুধু বাবার মৃত্যু-সংবাদটুকু জিইয়ে রেখেছে শৈল। তক্ষকের নজরে জক্কি দিয়ে আগলে রেখেছে শুধু সেই সংবাদটি, বাপ নেই! বাপ নেই, বাপ নেই।

    তবু জল আসে শৈলর চোখে। সে কারও মা নয়, কারও বোন নয়, আজকে আর কোনও মায়ের সে কন্যা নয়। সে বউ নয়, গুপ্তিপাড়ার পঙ্ক। স্বৈরিণী শৈলবালা। তবু তার চোখে জল আসে। জল আসে পোড়চোখে, এক ফোঁটা মেয়েটাকে তার বাবার মরার কথা বলতে।

    দিন চলে গেছে। বৈশাখের রুদ্র ঝড়ে শৈল কেঁদেছে এই মেয়েটাকে বুকে করে। এই মেয়েটার মতো কেউ কাঁদেনি তার বুকে পড়ে। কেউ কাঁদায়নি তাকে। আর যে কটি মেয়ে ইতিপূর্বে এসেছে, তারা এসেছে ভারী বয়সে, নিরাশ্রয় ও অনাহারের তাড়নায়। তারা কাঁদেনি, মজায়নি। হেসেছে, খেয়েছে, ব্রাহ্মণী সেজে বরের ঘরে চলে গেছে।

    দিন চলে যায়। শৈল আর ভানু বুকে মুখে কাঁদে। শৈলর যে বলিষ্ঠ দেহে কোনও সন্তান মানুষ হয়নি, যে দেহ সমাজের অন্ধ-যৌবনের রং-এর বিবি হয়ে ফিরেছে, সেই দেহে, সেই কোলে বুকে, সেই আগুনের মতো পাঁকে ভানু শান্তি পেয়েছে। বিশ্বাস ও মমতায় নিজেকে সঁপে দিয়েছে। কোনও গোপনতার আড়াল রাখেনি শৈল। ধীরে ধীরে, সইয়ে সইয়ে সে সবই একটু একটু করে বলেছে ভানুকে। শৈলর জীবনের অনেক অধ্যায়ের কয়েকটি পর্বের অভিজ্ঞতায় তাকে সাবালিকা করে তুলেছে।

    লোকে বলে, কী হল শৈলীর? পাড়ায় আসে কম। আসে তো বসে না, দু দণ্ড কথা বলে না। কী হল? নতুন কেউ জুটল, নাকি আগের কেউ আবার ধরে বাঁধল। বলা তো যায় না। দিন যাচ্ছে, চেহারা ৪৪

    ফিরছে যেন শৈলর। পাড়ার মিনসেদের নজর ফাঁকি দিয়ে খুঁড়ি পাড়ায় ঢুকতে পায় না। পাপিষ্ঠার ছলকলারও তো অন্ত নেই।

    কি ছোট জাত আর বড় জাত, দুপুরের সধবা বিধবা আর পান দোক্তার আসরে শৈল কত গল্প বলে, কত রকমারি গল্প। পুরুষদের বেহায়াপনার, পাগলামির ও মাতলামির। সে গল্প শুনতে ঘরের মেয়েরা বড় ভালবাসে। শুনতে শুনতে নিজেরাও মাতালের মতো ঢলাঢলি করে, এ ওকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে। তারপর যেন কেঁদে ফেলে বলে, মিনসেরা আমাদের কাছে রাত্রে যখন ঘরে আসে, তখন যেন ভিজে ন্যাতা। হাজার কাছে ঘেঁষলেও চোখ মেলে না, যেন ঘাটের মড়া।

    ক দিন ধরে শুধু জিজ্ঞেস করে সবাই, কী হয়েছে লো তোর শৈল?

    শৈল বলে, মাথাধরা অষ্টপোহর!

    ওমা, তাই নাকি? কেন লো?

    কী জানি গো। গা বমি বমি করছে সারাদিন। বলে শৈল হাঁপায়। মাথায় হাত দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। করুণ চোখে তাকিয়ে হাসে।

    আসরের মহিলাদের গায়ে কাঁটা। বলে, ওমা গো! আবার? বলি, কবে থেকে লো মুখপুড়ি, কার ব্যাপার?

    শৈল বলে, কী জানি! কার নাম করব বলো?

    আসরের সধবাদের মুখ চুন হয়ে ওঠে। সত্যি, কার নাম করবে শৈল? কার, কোন পুরুষের, এ আসরের কার স্বামীর নামে কলঙ্ক দেবে সে। বলে, ও, তাই বুঝি ঘর থেকে বেরুস না বড় একটা। তা এত লোকের ব্যবস্থা করিস, নিজের ব্যবস্থাও একটা করে নে।

    শৈল বলে, তাই ভাবছি।

    সত্যি, কত ছলাকলা। ছলাকলার অন্ত নেই। পাড়ায় পাড়ায় রাষ্ট্র হয়েছে, শৈল গর্ভবতী। অমনি কাজে কর্মে শৈলর ডাক কমেছে। রং-সন্ধানী পুরুষেরা ঠোঁট উলটে মুখ ফিরিয়েছে। আর ওদিক মাড়ায় না। এই তো চেয়েছিল শৈল।

    মনে মনে বলে শৈল, সত্যই সে গর্ভবতী। ঘরজোড়া তার অমন মেয়ে, সে যে সবদিক থেকে তার গর্ভযন্ত্রণারই সামিল। গর্ভাধারের যন্ত্রণা, সে যে সুখের, দুঃখের আর সংশয়ের। শৈলরও তাই।

    দিন গেছে আর শৈল বলেছে সব কথা ভানুকে। বলেছে, কী চায় সর্বেশ্বর আর নন্দন। শুনে ভানু ভয়ে, আতঙ্কে, ব্যথায় কুঁকড়ে উঠেছে। শৈলকে আঁকড়ে ধরেছে আরও জোরে। বলেছে, না, না, না, তুমি আমায় ছেড়ো না দিদিমণি।

    কী হবে, কী হবে এই মেয়ে নিয়ে! তবু বলেছে শৈল, বাপ-মরা কুলছাড়া মেয়ের ভবিষ্যতের ভয়াবহ ছবি এঁকেছে শৈল ভানুর চোখের সামনে। এঁকে বলেছে, একি ভাল?

    ভানু ডুকরে উঠেছে, না না না।

    শৈল বলেছে, তার চেয়ে এই ভাল। এই হোক। সে বুঝিয়েছে ভানুকে, বিয়ে বর ঘর, সে আশা আজ ঘুচেছে তার। তার চেয়ে এই ভাল। ভানুও শোধ নিতে পারবে, আবার ফিরে আসতে পারবে শৈলর কাছে এক গা গহনা নিয়ে। কার কাছে কাঁদবে, কার কাছে হাত পাতবে ভানু। কে দয়া করবে, কে ভালবাসবে। যে পথে আজ তাকে টেনে আনা হয়েছে, সেই পথেই নিজের জীবনকে চালিয়ে নিতে হবে। বাপ নেই, এ পথে শৈল আছে তার পেছনে। সমাজ ও পুরুষের মিথ্যা আশ্বাসে লাভ নেই। ভানু এ সংসারকে চিনুক, দেখুক, বুঝুক। এই সমাজেরই বুকে ডঙ্কা মেরে বেঁচে থাকতে হবে তাকে। বেঁচে থাকতে হবে ওদেরই মধ্যে।

    সর্বেশ্বর নন্দন তাকে যেখানে দিয়ে আসবে, সেখানে থাকবে শৈলর সতর্ক চোখ। যেদিন খুশি, যখন খুশি আত্মপরিচয় দিয়ে কিংবা না দিয়ে সে আবার ফিরে আসতে পারবে শৈলর কাছে। তার কীসের দায়, কীসের দায়িত্ব। মহারানির রাজত্বে তো প্রকাশ্যে মানুষ বিক্রি নেই। তবে? এমনি করে সর্বেশ্বরেরও সর্বনাশের মন্ত্র পড়িয়েছে শৈল ভানুকে। বাইরে বৈশাখের ঝড় হয়েছে, শৈলর চালা দুলেছে। আর ভানুকে সে এই বুঝিয়েছে। সে সৎভাবে যা বিশ্বাস করে, এ অবস্থায় ভানুর জন্য যা ভাল বুঝেছে, তাই বলেছে। সর্বেশ্বরের হাত থেকে আপাতত রেহাই নেই। কিন্তু রেহাই রয়েছে ভানুরই হাতে। আজ বেঁকে বসলে সর্বেশ্বর অন্য মতলব ভাঁজবে। কার কাছেই বা ফিরে যাবে ভানু! বাপ নেই। সে কি আজীবন শৈলর কাছে থাকতে রাজি নয়?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, রাজি ভানু। এমন করে কে অকপটে সব সত্য কথা বলে। শৈল তাকে মিথ্যে আশা দিয়ে ভোলাতে পারত। সেজে থাকতে পারত সর্বেশ্বরের বিধবা বোন। কিন্তু সে সব ফাঁস করে দিয়েছে। সর্বেশ্বরের নন্দনের চরিত্রের কথাও বলে দিয়েছে। বলেনি শুধু ভানুর বাবার বেঁচে থাকার কথা।

    তবু, বড় ভয়, বড় ভয়। এই ছোট বুকে এত ভয় সয় না। এত সব অজানা অচেনা বিপদ ও আতঙ্কের মুখোমুখি দাঁড়াতে এ বয়স বার বার মুখ থুবড়ে পড়ছে। এসময়ে থেকে থেকে, বিদ্যুৎচমকে একটি মুখ মনে পড়ে ভানুর। সামান্য দেড়-দুমাসের অভিজ্ঞতায় অনেক অগ্রসর হয়েছে তার মন। তাই মনে পড়ে। মনে পড়ে, নবর মুখ। হালিশহরের নব, তার বাবার চব্বিশ ঘণ্টার সঙ্গী, শাকরেদ। হাঁ করে লোকটা তাকে দেখত, অকারণে হাসত, আর কাছে কাছে ঘুরঘুর করত। বড় রাগ হত ভানুর। কী যে সব ছাই আনকথা বকত! কিন্তু সেই নবর চাউনি মনে হতেই আজ ঠোঁট ফুলে ওঠে ভানুর। সেদিন নবর চাউনির অর্থ যে আবছায়ার মধ্যে ছিল, আজ তা কেমন করে যেন স্পষ্টই হয়ে ওঠে তার চোখে। চোখে ও মনে। আর কল্পনায় নবকে সামনে দাঁড় করিয়ে, দ্বিধাহীন চিত্তে সে অভিমানে ঠোঁট ফুলায়। কাঁদে আর মনে মনে বলে, এখন দেখছ না? বাপ মরল চুঁচুড়োয়, সেই সংবাদটা নিয়েও তো হালিশহরে আসতে পারতে। এমনিতে কত ঘোরাফেরা। যখন সর্বেশ্বর আর নন্দন নিয়ে এল, তখন কোথায় ছিলে? আজ নবর কথা মনে করে বুকের মধ্যে হা হা করে ওঠে। যুবতীর অনুরাগে নয়, ছোট মেয়েটির একমাত্র স্বর্গের মতো আশ্রয়ের জন্য। নবকে আজ অকূল সমুদ্রের ভেলা মনে হয়। না, মুখ ঝামটা ছাড়া নবর সঙ্গে সে কথা বলতে পারবেনা। এত ভয়, এত আমতা আমতা কথা পুরুষের! তার সঙ্গে আর কেমন করে কথা বলবে। ভানু। কিন্তু সে-ই যে আজ বন্দিনী রাজকন্যার চোখে মুক্তিদাতা রাজপুত্র। কোন মন-ভ্রমরা গিয়ে সংবাদ দেবে তাকে, কোন পক্ষী গিয়ে বলবে তাকে।

    আশা নেই। তবু সারা মন চায় নবকে। নবর জন্য আজ বুকের মধ্যে হাহাকার। শুধু বিপদে নয়, নিজের অগোচরে সে যে নবকেই এক পুরুষ বলে জানত। তাকেই গাল দিতে, ভেংচাতে, খুনসুটি করতে ভাল লাগত। সে যে তখন বুঝত না, তার অপ্রস্ফুটিত কুঁড়ির গায়ে বার বার নব-ভোমরা পাখার ঝাঁপটা দিয়ে গেছে। আজ সেই কুঁড়ি দল মেলেছে, কিন্তু ভোমরা আজ ডানা ভেঙে কোথায় পড়ে আছে।

    দিন গেছে, আশা গেছে। আজ আশা শুধু শৈল, যে ভরসা দিয়ে তাকে বলেছে, ভয় নেই। এই জীবনের রীতি বুঝিয়েছে, কাঁটা হয়ে কাঁটা তুলতে হবে। যেদিন চলে আসতে চাইবে ভানু, সেইদিনই শৈল তাকে নিয়ে আসবে। পৃথিবীর কোনও শক্তি তাকে আটকাতে পারবে না। ভানুকে সে বিয়ে দেবে, যাকে ভানুর মন চায় তার সঙ্গে। ঘর দেবে, তার সবই সে দেবে ভানুকে। তার মতো স্বৈরিণী করে তুলতে চায় না সে তাকে। কিন্তু ভানু যেন ভুলে না যায়, সর্বেশ্বরের খাঁচা থেকে কেমন করে মুক্ত হয়ে আসতে হবে। সে-ই হবে সর্বেশ্বরের সবচেয়ে বড় পরাজয়। লোভের প্রতিশোধ।

    বিয়ে দেবে শৈল বাগদিনি ভানুকে মুক্ত করে এনে৷ যাকে মন চায়। কী অভাবিত, কী বিচিত্র, কত আশার কথা বলে শৈল। কাকে মন চায়!নবর কথা মনে আসে। ঠোঁটে ভেসে ওঠে। কিন্তু বলতে বাধে। শুধু এক অপরিচিত রসে ফুরিত ঠোঁটে চাপা ব্যথা ও যন্ত্রণা থাকে কাঁপতে। শৈলকে বলে, কিন্তু দিদিমণি, যদি না ছাড়ে?

    কে ছাড়বে না?

    যার কাছে নিয়ে যাবে?

    শৈলর চোখে আগুন জ্বলে ওঠে। তীব্র চাপা গলায় বলে, ছাড়বে না? ছাড়বে না তো সাপ পুষবে? তুই যে কালনাগিনীর মতো সর্বনাশী লো! তোকে ওঁয়ারা ঘরে রাখতে পারবে? ফণা তুলে নাচতে পারবিনে? বিষ ছইড়ে শেষ করতে পারবিনে?

    বলতে বলতে শৈল নিজেই দোলে কালনাগিনীর মত। দ্রুত নিশ্বাসে ওঠা নামা করে বুক।

    শৈলর আগুন ভানুর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়ে চোখে মুখে সর্বাঙ্গে। কালসাপিনীর মতোই চাপা রোষে সে দুলতে থাকে। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো দোলে বুক। বলে, পারব। খুব পারব।

    ভানুর এ রূপ চোখ ভরে দেখে শৈল। কিশোরী গৌরী, এই তো তবে রণচণ্ডী মূর্তি। এইটুকু সাফল্য শৈলর। এ সাফল্য অর্থের জন্য নয়, সর্বেশ্বরের জন্য নয়, সে যেন তার নিজের জীবনেরই কোনও প্রতিশোধ নিতে যাচ্ছে ভানুকে দিয়ে।

    তবু কাঁদে ভানু। শৈলও কাঁদে। কোনও কোনওদিন ভানু ধরে বসে শৈলকে। বলে, গান করো।

    গান গাইতে পারে না, তবু গায় শৈল। ভানু বলে, নাচো। শৈল নাচে যাত্রার দলের সঙের মতো। তারা দুজনেই নারী। তাদের কোনও বিষয়েই বিশেষ লজ্জা নেই পরস্পরের মধ্যে। তার মধ্যে শৈলর জীবনধারণের বিশেষ একটা রীতি আছে। একটা অভ্যাস আছে। সেই অভ্যাস তার রক্তবাহী শিরায় শিরায়। জীবনের অনেকটাই তার ফাঁকি। ফাঁকির মধ্যে একটা মূঢ় ও ভয়ংকর সুখের সন্ধান করেছে তার অন্ধ জীবন।

    ভানুর সঙ্গে নিজেকেও বন্দিনী করছে সে। বাইরের কাজে যায় অল্প। ভানুকে সে এখন করেছে তার রঙ্গরসের সঙ্গিনী। ভানুর কাঁচা রক্তে ঘুষঘুষে আগুন জ্বালিয়ে দেয় সে মাঝে মাঝে। এই বোবা উত্তেজনার মধ্যে ভানুর ঘৃণা ও আনন্দ আছে সমপরিমাণে। কিন্তু সবটাই তার জ্ঞানের বাইরে।

    তবু তারা কাঁদে। ভানু বলে বাপের কথা, মায়ের কথা, হালিশহরের কথা। শৈল বলে না তার অতীত জীবনের কথা। কিন্তু মনে পড়ে, বড় জ্বালায় স্মৃতির মালা চটকায় আড়ালে আড়ালে।

    তারা কাঁদে, যখন তারা এ সংসারে তাদের অসহায়তা অজান্তে অনুভব করে। শৈল কাঁদে, যখন তার ঘন কালো কেশের মাঝখান থেকে এক গাছি সাদা চুল লুটিয়ে পড়ে মুখে। যখন সে ঘুমন্ত ভানুর মুখে চুমু খায়। যখন তার বুকে এক মায়ের প্রেত চিৎকার করে কাঁদে। জ্যৈষ্ঠের আকাশে ছায়া পড়ে আবার মিলিয়ে যায়। সন্ধ্যাকালের বাতাস থমকে যায় মাঝে মাঝে। গাছপালা স্থির হয়ে থাকে। তোক গিলতে থাকে সারা ধরিত্রী। বড় যে তৃষ্ণা।

    কোনও সময় দারুণ উল্লাসের গম্ভীর গর্জন শোনা যায় আকাশের। কিন্তু জল আসে না। পূর্ণ আষাঢ়ের আবির্ভাব ঘটেনি এখনও।

    বর্ধমান বিভাগের বড় সাহেব আসেনি আজও। আষাঢ়ের জলের মতো সকলেই সাহেবকেও চাইছে। সারা গুপ্তিপাড়া ও আশেপাশের সকলেই চাইছে। সকলেই জটলা করছে পথে পথে, বৈঠকখানায়, চণ্ডীমণ্ডপে, জেল সদর কোর্ট কাছারিতে। এমনকী টোল পড়ুয়া চতুষ্পঠীতে বাদ যায় না। গাঁয়ের মধ্যে ভানুকে গোপন করে রাখতে পারার এটা একটা সুযোগ বটে। সকলেই এই বিষয়ে ব্যস্ত, এস্ত, সংশয়ান্বিত। শৈল এ বিষয়ে জড়িত। তার পাঁচ বিঘা জমি, সেইটুকুরও দাদন নিতে হয়েছে তাকে। তবে শৈলর অভাব নেই। বড় সাহেব তাকে খাতির করে, খাতির করে অনেকে। দাদন নেয়, কিন্তু ষোলো আনা নেয়। তাকে দেয়, সে নেয়। তা ছাড়া, একার আয়ের পক্ষে শৈলর কিছু কমতি নেই। কিন্তু গাঁয়ের অন্যান্য মানুষগুলির অবস্থা তো দেখতে হবে। নীলের প্রতি সকলের ঘৃণা, সকলের রাগ। সমাজের লোক যত ঘৃণা করে শৈলকে তার চেয়ে বেশি ঘৃণা করে নীলের দাদন নিতে।

    তাই ঈশান মিত্তির মশাই বারবার করে অনুনয় করেছেন শৈলকে। ভাল মানুষ মিত্তির মশাই। কায়েত কুলের শিরোমণি হয়েও কোনওদিন মরা মাছের মতো চোখ নিয়ে তাকাননি শৈলর দিকে। বলেছেন, দ্যাখ বেটি, বড় সাহেবের কাছে সবাই যা বলবে, তুইও তাই বলিস। কুটির সাহেব তোকে খাতির করে, করতে পারে। তোর একটা পেট, নানা রকমে করে কম্মে চলে যায়। আমাদের তো তা নয়। মাটির জিনিস খেয়ে আর বেচে বেঁচে থাকতে হয়। গাঁয়ের মেয়ে তুই, জানিস সবই। নদে যশোরের মতো হুগলির কুটিয়ালদেরও নোলা বাড়ছে দিনকে দিন। আমার তো নিতে নিতে সবই নিয়েছে। বেউলির পশ্চিমে যে বিঘা সতেরো-আঠারো আছে, সেইটুকুই সোমবছরে ভরসা। তাই বলছি, সবাই যা বলবে, তুইও তাই বলিস মা।

    কী বলতে হবে, সে কথা জানে শৈল। মিত্তির মশাই মিছে কথা শেখাননি। সত্য কথা বলতে বলেছেন! বড় সাহেবের কাছে বলতে হবে, জোর করে দাদন দিয়েছে কুটির সাহেবরা। সে কথা তো মিথ্যে নয়। দাদন তো জোর করেই দেওয়া হয়। না নিলে মারধোর পর্যন্ত হয়।

    কোনও কোনও সময় আমিন মশায়ের ঘোড় এসে দাঁড়ায় শৈলর দরজায়। জিজ্ঞেস করে গাঁয়ের হালচালের কথা। শৈল বলে, বেরুই না, জানব কেমন করে? শৈলর ঘরে বাইরে ভাবনা।

    একদিন কুটির পেশকার রাত দুপুরে এসে হাজির। বড় হ্যাংলা মানুষ। শৈল বিরক্ত হয়ে বলেছিল, রাতে থাকতে দিতে পারব না প্যাশকার মশায়, আমার শরীল ঠিক নেই।

    পেশকার হাঁপাতে হাঁপাতে ফিসফিস করে বলেছিল, সেজন্য আসিনি, অন্য কথা ছিল। ঘরে কেউ নেই তো?

    ভানু ছিল। পুরুষের গলা শুনে আচমকা জেগে কাঁটা হয়েছিল মেয়ে। শৈল ভেবেছিল, তা হলে কুটির কোনও কাজ হাসিলের জন্য ডাক পড়েছে। সে বলেছিল, না, কেউ নেই। তা বলে আমি এখন রাত দুকুরে তোমার কুটির কথা শুনতে পারব না বাপু।

    পেশকার বলেছিল, কুটি না শৈল, নিজের কথা, ঘরের কথা।

    কী কথা?

    পেশকার পদবিতে চক্রবর্তী। ঘোর কুলীন মানুষ। গুটি সাতেক বিয়ে করেছে নিজে। বলেছিল, বোনটা সর্বনাশ করেছে রে।

    আর বলতে হয়নি, শৈল বুঝে নিয়েছিল। আজ সাত বছর বোনের বিয়ে দিয়েছে বর্ধমানের এক কুলীনের সঙ্গে। বিয়ের রাত ছাড়া সে মেয়ে আর বরের মুখ দেখেনি কোনওদিন। এখন তার গর্ভ সঞ্চার হয়েছে, বাড়ির লোকে টের পেয়েছে, সেই সর্বনাশের কথাটাই বলতে এসেছিল পেশকার।

    শৈলর ঘুমন্ত চোখ অন্ধকারে জ্বলে উঠেছিল ধকধক করে বলেছিল, সর্বনাশ কেন! যার সঙ্গে হয়েছে, তার সঙ্গে বোনকে পাঠিয়ে দাও কোথাও।

    কিন্তু সে যে জাতে পোদ।

    হলই বা।

    না না, দিক করিসনে শৈল। যা হোক একটা ব্যবস্থা করে ফেল রাত্রেই।

    হ্যাঁ, আমার আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই, রাত করে যাই জীব হত্যে করতে। আর সে জিনিসও আমার কাছে নেই এখন বাপু।

    তা হলে–একটু থেমে, গলা আরও নামিয়ে বলেছিলে পেশকার, তা হলে অন্য কিছু দে। একেবারে সবই যাক।

    বিষ! বোনকে খুন করতে চেয়েছিল পেশকার। শৈল বলেছিল, মরণ তোমার। যাও এখন, কাল ব্যবস্থা করব।

    তারপর ঠোঁট উলটে আপন মনেই বলে শৈল, নিজের বোনকে হত্যে করতে চায় নিজে কুলীন বাপের ব্যাটা হয়ে। নিজের মাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করে দ্যাখ, সে তোর বাপের মুখ আদপে দেখেছিল কি না!

    ভানু এই সব দেখে, শোনে। জীবনের সব ভয়াবহ দরজা তার চোখের সামনে খুলে যায়। এখন হালিশহরের অনেক কুলীন ঘরের প্রকৃত ছবি স্পষ্ট দেখতে পায় সে, অনেক ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যায়।

    তবু ভানু কাঁদে, শৈলও কাঁদে। কিন্তু শৈল যে কেন কাঁদে, কত কারণে কাঁদে তা কেউ জানে না। কুলটার কান্না থাকতে নেই। স্বৈরিণীর চোখে জলের দাগ থাকে না। সে শুধু লীলাসঙ্গিনী।

    এই মেয়েটি, এই ভানুমতী এসে কাঁদালে তাকে। সে কি জানত, কত বিষয়ে তার কত কান্না আসে। সে কি জানত, তার রক্তের লীলাখেলায় যখন সে ভানুকে ডেকে নেয়, তাতেও তাকে কাঁদতে হয়। সে কি জানত, এই সমাজের পাপের আড়কাঠিদের হাতের সরস পুতুল বনতে গিয়েও তার কান্না পাবে। সে জানত না, এই মা বাপ-হারানি মেয়েটা তার বুকে এক নতুন নীরব কান্নার ঢেউ তুলে দেবে। বহু ঘাটের জল খেয়ে এসে, এক ঘাটে আজ আটকে গেছে শৈল। এই মেয়েটা তার বুকে পড়ে এমনি করে কাঁদলে সে কেমন করে তাকে ছাড়াবে, কেমন করে না কেঁদে থাকবে। তাই সে মনে মনে বলে, হে দেবতা, আমাকে পাপ বোঝাও, পুণ্যি বুঝিও না।

    দিন চলে গেল। আকাশে আষাঢ়ের ঘনঘটা দেখা দিল সত্যি। জল এল। প্লাবিত হল সারা জগৎ। বড় সাহেব এলেন না। নীল বুনবার আয়োজন চলল।

    তারপর এল একদিন সর্বেশ্বর আর নন্দন।

    ভানু দু হাতে শৈলকে জড়িয়ে ধরে বলল, আমাকে ছেড়ো না, ছেড়োনা।

    শৈল বলল, ছি, কী বলেছি তোমাকে মনে নেই?

    মনে আছে। কিন্তু সে যে নতুন জায়গা, নতুন মানুষ নতুন সবই, আর ভানু সেখানে একা। সর্বেশ্বর হেসে খালি বলল, কেমন আছিস লো নাতনি। চ এবার তোকে গুপ্তিপাড়ার মস্ত বড় রথ দেখিয়ে আনব। শৈল ভেংচে বলল, কলা বেচার কথাটাও মনে রেখো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশালঘেরির সীমানায় – সমরেশ বসু
    Next Article গোয়েন্দা অশোক ঠাকুর সমগ্র – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }