Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভানুমতী – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প239 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. ছলনার মায়াজাল

    ছলনার মায়াজাল

    নৌকার ছইয়ের ভেতরে গঙ্গা কাঁদছে, আর বাইরে গঙ্গা হাসছে। ছোট ছোট ঢেউয়ের বুকে সূর্যচ্ছটায় ঝিকিমিকি। ছোট ছোট ঢেউ নাচছে যেন কচি কচি দামাল শিশুর মতো। হাসি তার ছলছল তালে বাজছে তীর সৈকতে। সে শব্দে মুখরিত গঙ্গাব।

    দক্ষিণী হাওয়া বইছে মিঠে মিঠে। ঝিলিমিলি হাওয়া। চোখ বোজানো হাত পা এলিয়ে দেওয়া গোলাপি নেশার মতো রম্য হাওয়া। বৈশাখী দুপুরের গঙ্গা। ভারী মিষ্টি। নৌকার ছইয়ের মধ্যে গঙ্গার মতো। ভানুমতীর মতো, একহারা কিশোরী বালিকা। অনাগত যৌবনের ইশারা তার অঙ্গ ভরে। আষাঢ়ের ঢল নামবে। নিজেকে ছাড়িয়ে উঠবে বেড়ে। রং ফিরবে, রঙে রসে বান ডাকবে। সেই চাঞ্চল্য আর শিহরন তার বুক জুড়ে।

    আর এই বৈশাখী গঙ্গা, ভারী সুন্দর। সুন্দর, আবার অতি ভয়ংকর। ভয়ংকর আর সর্বনাশা ভয়াবহ খেলার লীলাস্থল হয়ে উঠতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। শুধু দূর ঈশানে ওই কৃষ্ণচূড়া ছাওয়া অগ্নিশিখার মাথায় এক টুকরো কালো মেঘের অপেক্ষামাত্র। হাস্যময়ী হবে রুদ্রাণী। লক্ষ নাগিনী গজাবে আকাশে আর গঙ্গায়। ফুটফুটে হাসি হবে খেপির খলখলানি। মাঝি তাই দেখছে আকাশের এদিকে ওদিকে। মনে ভাবছে এক কথা। অন্য কথায় অন্যমনস্ক। কিন্তু মাঝ গঙ্গায় ঝিলিমিলি হাওয়াই জোর হয়ে উঠছে একটু। নজর তাই আপনি ঘুরছে। বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ চোখে সন্ধান করছে মেঘের। না, আকাশ বেশ পরিষ্কার, আকাশ নীলাম্বরী নয়, নীলের তলায় সাদা অন্তর্বাস। বৈশাখী রোদজ্বলা আকাশ।

    হাওয়াটা কাজে লাগাল মাঝি, পাল তুলে দিল। তারপর নৌকার মোড় ঘুরিয়ে দিল সোজা উত্তরে। কষে হাল ধরে বসল ভাবতে। বামুন দুটো মেয়েটাকে নিয়ে কী করবে, সেই ভাবনা। আরে বাপরে! ছুঁড়ির রূপ কী! কাদের ঘরের মেয়ে, কে জানে।

    আর ছইয়ের ভেতরে ভানুকে মাঝে রেখে বসে বসে ঘামছে সর্বেশ্বর আর নন্দন। হাঁটুতে মুখ রেখে বসে আছে ভানুমতী। অঝোরে জল ঝরছে চোখ থেকে। সান্ত্বনায় কান্না মানে না। নিঃশব্দ কান্নায় ফুলে ফুলে উঠছে তার শরীর।

    দুই মানুষ-বেশী গুপ্ত যম বসে দৃষ্টি বিনিময় করছে তার দুই পাশে। যম নয়, দুটি সাপ, মুখে এখন তাদের কথা নেই। শিকার যখন মুখে নেওয়া হয়েছে, তখন তাকে গিলতে হবে। পাপীর মনে এখন সেই ভাবনা। পাপের পরেই যে ভয় আসে, সেই ভয়ে এখন তারা নির্বাক। পরস্পরের দিকে দেখছে, আর ঘামছে দরদর করে। কিন্তু প্রথম হাতে-খড়ি নয়। এ বিষয়ে উভয়েরই পাকানো হাত। তবে একেবারে এমনি বিনা পয়সায় লুণ্ঠন, তাও স্বগ্রাম থেকে, এমনটি এই প্রথম। তা ছাড়া বিনি জেলেনির মেয়ে। গণ্ডগোলের আশঙ্কা বড় বেশি।

    গঙ্গা পার হতে কতক্ষণ লাগে। কতক্ষণ যাবে এমনি করে। এখুনি প্রশ্ন উঠবে। ছটফট করে উঠবে। মেয়েটা। চিৎকার করবে। মাইল ছয়েক অন্তত পার না হতে পারলে নিস্তার নেই।

    পরস্পরকে দেখছে সর্বেশ্বর পাঠক আর নন্দন অধিকারী। জাল ফেলতে হবে, শিকার আওতায় এসেছে, জালে পড়েনি এখনও। নিপুণ শিকারির মতো নিঃশব্দে বিস্তার করতে হবে জাল। মায়াজাল, শিকার যাতে আপনি ধরা দেয়।

    কিন্তু বুধে বুদ্ধি জোগাচ্ছে না, বুদ্ধি এলে ফন্দি আসবে। আসলে, সর্বেশ্বর শনি-সাধক। কুচক্রী শনিঠাকুর বুদ্ধি না দিলে এ বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। ঘামে পৈতাগাছটি ভিজে লেপটে গেছে। মাথার ঘাম বেয়ে বেয়ে পায়ে পড়ছে, দোহাই শনি, বুদ্ধি দাও।

    নন্দন আতঙ্কিত, সে ভাবছে আজকের তিথি নক্ষত্রের কথা। কিন্তু সব তালগোল পাকিয়ে গেছে মাথায়। কিছুতেই সঠিক তিথিটা মনে আসছে না। এলে বুঝতে পারত, যাত্রা ফলবে না বিফলে যাবে।

    সর্বেশ্বরের চোখে একটু আলো দেখা দিল। কুঞ্চিত কপালের রেখা একরাশ পুঁয়ে সাপের মতো উঠল কিলবিল করে। এক মুহূর্ত চোখ কুঁচকে তাকিয়ে রইল নন্দনের দিকে। নন্দন তার অর্থ না বুঝে তাকিয়ে রইল বিমূঢ়ের মতো।

    চমকিত গলায় সর্বেশ্বর ডাকল, নন্দন!

    নন্দন স্তিমিত গলায় জবাব দিল, বলো।

    কথা বলে, কিন্তু চোখে চোখ থাকে ঠিক। সর্বেশ্বর বলল উৎকণ্ঠিত গলায়, মেয়েটাকে ওপারে নিয়ে যাওয়া কি ঠিক হচ্ছে?

    নন্দন সঠিক জবাব দিতে ভুল করল না–কেন বলো তো?

    গঙ্গার বাপ তো অপঘাতে মরেছে?

    তাই তো।

    সর্বেশ্বর গম্ভীর গলায় বলল, অপঘাতে মৃত্যুর মড়ার কাছে কি যেতে আছে? দেখো তো নন্দ, ঘোড়ার লাথিতে মরলে আত্মার কী গতি হয় শাস্ত্রের কথা ভেবে বলল।

    পিতৃশোকাতুর ভানু ডাগর চোখ দুটি তুলে ধরল নন্দনের দিকে। করুণ জিজ্ঞাসু চোখ কান্নায় লাল। অকুণ্ঠ বিশ্বাস ও পরম নির্ভরতা বালিকার চোখে। বাপ তার অপঘাতে মরেছে। সে তো শুনে আসছে। জন্মকাল থেকে, মানুষ মরে এক অদৃশ্য ভয়ংকর জীব হয়ে ওঠে। তখন তার মায়া দয়া থাকে না। নিজের ছেলেমেয়ে জ্ঞান থাকে না। যে মাড়াবে তার অদৃশ্য ছায়া, তারই ঘাড়ে ভর করবে সে, বিশেষ অপঘাতে মরণ। আর বামুনের মনে খটকা লেগেছে, কম কথা নয়।

    ভয় জানে না বিনি জেলেনির মেয়ে। ভর দুপুরে সে চুল এলিয়ে বেড়ায় বনে জঙ্গলে। বড় বুকের পাটা। এক গাঁ থেকে আর এক গাঁয়ে যায় ছুটে।

    সত্যি, ভয় জানে না। কিন্তু সর্বেশ্বরের কথাগুলি কানে গেল, কান থেকে মনে। থাকলেই বা সাহস। বাপের মরণের সংবাদই প্রথম আঘাত করেছে সাহসের মুখে। দুর্বল করেছে মনকে অনেকখানি। সাহসের চেয়ে তার কুসংস্কার বেশি। তা ছাড়া সরল শিশু হৃদয়। অদৃশ্য জীব-জগতের ভয়াবহ চিত্র আঁকা আছে তার মনের পটে।

    সার্থক সর্বেশ্বর। শোকাতুরা বালিকার মনকে অন্যদিকে মোড় ফিরিয়েছে। নন্দন ভিতু কিন্তু অদ্ভুত চতুর। সংস্কৃতচর্চা করেনি জীবনে। কিন্তু চোখ পিটপিট করে অদ্ভুত সব ভাষা আওড়াতে লাগল অর্ধোফুট গলায়। তার মধ্যে অপর্যাপ্ত অনুস্বার ও বিসর্গের ছড়াছড়ি। অর্থাৎ শাস্ত্র ঘেঁটে, মন্ত্র আউড়ে গঙ্গার বাপের গতি আবিষ্কৃত হচ্ছে।

    সর্বেশ্বর দেখছে শিকারের গতি। জাল ঠিক পাতা হচ্ছে কি হচ্ছে না, নজর সেই দিকে।

    শোকাতুরা বালিকার মনে কৌতূহল ও ভয়ের ছোঁয়া লেগেছে। নন্দনের মন্ত্রপাঠ, সর্বেশ্বরের গাম্ভীর্য, সর্বোপরি অপঘাত মৃত্যুর আত্মার গতি সন্ধান, সব মিলিয়ে একটা থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ভানুমতীর চোখেই এই পরিবেশ।

    সর্বেশ্বর ডাকল, নন্দন!

    নন্দন নিজের পৈতায় হাত রেখে ইশারা করল সর্বেশ্বরকে। সর্বেশ্বর হাত রাখল তার পৈতায়। তারপরে নন্দন তার অদ্ভুত সংস্কৃত ভাষায় কতকগুলি দুর্বোধ্য কথা বলে উঠল।

    সর্বেশ্বর কপালে চোখ তুলে বলল, সর্বনাশ! আত্মা এর মধ্যেই প্রেত হয়েছে? কী রকম চেহারা? কালো কুচকুচে ঘোড়ার মতো? মানুষের মতো মুখ? ভয় কার বেশি। আইবুড়ো মেয়ের? তা হলে নৌকা ফেরাতে বলি মাঝিকে?

    নন্দন নীরব। উভয়ে আড়চোখে দেখছে ভানুমতীকে। হাঁটু থেকে মুখ তুলেছে ভানু। ভয় পেয়েছে মেয়েটি। এক ফোঁটা মেয়ে। কথা বলে পাকা পাকা। দস্যিপনা করে ঘুরে বেড়ায় সারাদিন। তারই মধ্যে হাত ঘেঁচে, কোমর ভেঙে, জল ফেলে রান্না করে। বাপের কাছে আদর কাড়ায়। রাত হলে গুটিসুটি হয়ে পড়ে ঘুমোয় বাপের কোলের কাছে। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে চোখ মেলে না অন্ধকারে। হাত দিয়ে বাপকে ছুঁয়ে ঢলে পড়ে আবার ঘুমের কোলে।

    সেই মেয়ে। অকপটে বিশ্বাস করল সব কথা। শোকের বেড়া ভেঙে ঢুকল মানুষমুখো অশ্বদেহ প্রেত। অসহায় মেয়ে ভয়ে কথাটি পর্যন্ত জিজ্ঞেস করতে ভরসা পেল না। গলা শুকিয়ে আসছে। কান্না ঠেলে আসছে আরও বেগে। ভাবনার তার দিকপাশ নেই। যখন যেটুকু মনে আসে, শুধু সেটুকু। তার বাইরে চিন্তা করবার ক্ষমতা নেই।

    সম্ভবত সাবালিকা হলেও এই মিথ্যে আতঙ্ক হতে রেহাই পেত না। দেশ, সমাজ ও কালাচার বুঝতে ভুল করেনি কোনওদিন সর্বেশ্বর আর নন্দন। বিশেষ করে সমাজের নিম্নবর্ণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তাদের গভীর। উচ্চবর্ণেও কম নয়। সমাজের বুকে লুকানো পাপ ও দুর্বলতাই তাদের একমাত্র মূলধন। কোথায় কী রকম জাল বিস্তার করতে হবে, তারা জানে। তারা জানে নিখুঁত অভিনয়। তারা পারে ভগবানকে ভূত করতে।

    আর, এ তো সামান্য বালিকা? এগারো বছর বয়স। তবুও বাপের মৃতদেহ দেখতে যাবে কি যাবে না, এ সংশয়ে অসহায় ভীত চোখে ভানু দেখছেনন্দনকে। দেখছে সর্বেশ্বরকে। আর ভাবছে, সেই নিষ্ঠুর প্রেতমূর্তি যদি তাকে ধরে। তার এগারো বছরের জীবনে সে ইতিহাস বিরল নয় হালিশহর গ্রামে। সহৃদয় বাপ আর নিষ্ঠুর প্রেত, দুয়ে মিলে তোলপাড় ভানুর হৃদয়।

    জাল পাতা হয়েছে। জাল তুলতে হবে। ফসকে না বেরিয়ে যায়। আটঘাট বেঁধে তুলতে হবে। চারা পোনা, কিন্তু খাঁটি রুই। আখেরে ফল পাওয়া যাবে ভাল।

    নন্দন আবার কথা বলল তার সেই দুর্বোধ্য ভাষায়। কত হাস্যকর কিন্তু ভানুর কাছে কী ভয়ংকর।

    সর্বেশ্বর বলল আতঙ্কিত গলায়, বলো কী নন্দন, এর মধ্যেই হালিশহরের বাড়িতে গিয়ে উঠেছে গঙ্গার বাপ? প্রেতের নজর কার দিকে?

    নন্দন বলল, মেয়ের দিকে।

    আতঙ্কে অস্ফুট শব্দ করে ভানু ঘেঁষে এল সর্বেশ্বরের কাছে। তার প্রাণ শুকিয়ে গেছে প্রেতের ভয়ে। সুন্দর মুখ সাদা হয়ে উঠল। আর এই অসহায় মুহূর্তে কেউ নেই। কেউ নেই এই দুই ঘুঘু ছাড়া। কিন্তু একফোঁটা মেয়ের জন্যে তাদের প্রাণে নেই এক ছিটে মমতা। তাদের প্রাণে সাফল্যের উল্লাস।

    নন্দনকে থামতে ইশারা করে ব্যথিত গলায় বলল সর্বেশ্বর, আহা, একটুখানি মেয়ে। কার কপালে যে কী লেখা থাকে। রাম রাম বল। তুই ডরাসনি গঙ্গা। আমরা তো রয়েছি। শত হলেও বামুন, গলায় পৈতে রয়েছে। এখানে আসতে পারবে না সে। বেহ্মদত্যিই পারে না আসতে, তা আবার তোর বাপ।

    নন্দনকে বলল, তা হলে কী করা যায় নন্দন?

    নন্দন বিরাগ ভরে বলল, কী আর করবে। শত হলেও পরের মেয়ে। নইলে তোমার কোনও আত্মীয়ের বাড়ি রেখে আসতে পারতে। তবে, হালিশহর গাঁয়ে এখন না যাওয়াই ভাল।

    ভয়ে মেয়ে কাঠ। অজান্তে এসেছে চোখে জল। বলল, ঘটক ঠাকুরদা, বকু পিসির বাড়িতে নে চল আমাকে।

    সর্বেশ্বর বলল, শুনলি তো, হালিশহরে গেলে সে তোর কাছে আসতে পারে। তবে? সে কার কাছে যাবে? থাকবে কার কাছে! মা নেই। বাপ মরে হল শত্রু। সেই শত্রু ঘুরছে তার পিছে পিছে।

    সর্বেশ্বর বলল, চল, দিন সাতেকের জন্যে গুপ্তিপাড়ায় থাকবি। আমার বোনের বাড়ি। তারপর আবার নিয়ে আসব, কেমন? কথায় বলে গুপ্তিপাড়ার মাটির গুণে, দেবের ভাষা মানুষ জানে। হেঁ হেঁ, সাক্ষাৎ ভগবানের থান!

    গুপ্তিপাড়া! সে যে অনেক দূর! কোনও জবাব দিল না ভানুমতী। নৌকার পাটাতনে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে উঠল। ফোঁপাতে ফোঁপাতে ডুকরে চিৎকার করে উঠল।

    সর্বেশ্বর চমকে উঠে বলল, কী হল রে!

    ভানু বলল, আমার কী হবে তা হলে ঠাকুরদা?

    সর্বেশ্বর কপট স্নেহের হাসি হেসে বলল, পাগলি! কী আবার হবে। আমার কাছেই থাকবি। ভয় কী তোর। চল, আমার বোনের বাড়িতে দু দিন থাকবি, আবার চলে আসবি। না হয়, ওখানেই থাকবি। তোর আর রইল কে এখানে? সেখানে তোকে আদর যত্ন করবে, খেতে পরতে দেবে। বেশ থাকবি। তারপর…তারপর আমার বোনের কথা শুনলে দেখিস কত কী দেবে। কত গয়না দেবে। তোর মতো সুন্দর মেয়ে। বোনের আমার কত গয়না আছে, সব–একেবারে সব তোকে দেবে।

    কিন্তু কে শোনে! ভানুর কান্না বাধা মানে না। সে গয়না ভালবাসে। সাজতে গুজতে ভালবাসে। এখন সে কথা একটি বার মনেও আসছে না। জীবনে তার শুধু অন্ধকার। অন্ধকার আর জ্বলন্ত প্রেত-চক্ষু।

    সর্বেশ্বর বলল, দেখি মাঝিকে বলে আসি।

    কিন্তু মাঝিকে বলার দরকার ছিল না। সে ঠিক চলেছে। গঙ্গায় ভরা জোয়ার, তার উপরে দক্ষিণী হাওয়া মেতেছে আরও। পালে হাওয়া লেগে নৌকা দ্রুত বেগে চলেছে উত্তরে।

    কোথায় হালিশহরের ওপার, আর কোথায় এসে পড়েছে নৌকা। সর্বেশ্বর বাইরে এসে দেখল, বংশবাটি ঘেঁষে চলেছে দ্রুতগামী নৌকা। বংশবাটির রাজাদের বিষ্ণুমন্দির রয়েছে এখানে। রয়েছে। রাজাদের হংসেশ্বরীর মন্দির। জাগ্রত মা কালীর থান। মন্দির দেখা যায় না। তবু হংসেশ্বরীর ত্রয়োদশ চুড়োর উদ্দেশে কপালে হাত ঠেকাল সর্বেশ্বর। হাত ঠেকায় বিষ্ণু ঠাকুরের উদ্দেশে। আর পুবে ওপারে আছে জাগ্রত কেষ্ট রায় ঠাকুর। সর্বেশ্বর সেদিকে হাত-জোড় করে বলল মনে মনে, শেষরক্ষে করো ঠাকুর।

    পেছন ফিরে তাকাল সর্বেশ্বর। সাগঞ্জের বাঁক ফিরে হুগলি চুঁচুড়া হারিয়ে গেছে চোখের আড়ালে। আড়াল পড়ে গেছে হালিশহর। না, পেছনে কোনও নৌকা নেই। পেছনে ধাওয়া করেনি কেউ। কোনও বাধা নেই। কোনও ভয় নেই।

    চাপা উল্লাসের হাসিতে ভয়ংকর হয়ে উঠল সর্বেশ্বরের মুখ। আবার ফিরে তাকাল সামনে।

    নৌকা চলেছে পশ্চিম পাড় ঘেঁষে। ডাইনে কাঁচড়াপাড়া, বাঁয়ে বংশবাটি। তারপরে ত্রিবেণী। বেলা বড়। তবু এর মধ্যেই ঢল খেয়েছে। ত্রিবেণী পার হতেই সন্ধ্যা হবে হয়তো। অথচ যেতে হবে গুপ্তিপাড়া। হুগলি জেলার শেষ সীমান্ত, শান্তিপুরের পরপার। পথ এখনও দীর্ঘ। রাত হয়ে যাবে অনেক।

    এদিকে সন্ধ্যার সময়ে ত্রিবেণী আর তার আশপাশটা বিশেষ সুবিধার নয়। শিক্ষিত ভদ্র বামুনদের ডাকাতি করার রেওয়াজ আছে এদিকে। কিছুই নেই। কিন্তু যেটি আছে সেটিকে নিলেই সব গেল।

    সর্বেশ্বর মাঝিকে বলল, সন্ধ্যার পরেই পৌঁছনো যাবে? মাঝি বলল, সবই বাতাসের হাত। বাতাস ঠিক থাকলে, পৌঁছে যাব।

    সর্বেশ্বর মনে মনে বলল, বাতাস ঠিক আছে। কেবল ডাঙায় ওঠার সময় শিকার গণ্ডগোল করে না বসলেই হয়। এক বার গুপ্তিপাড়ায় নিয়ে তুলতে পারলে হয়। তারপর বোনের বাড়ি? তার অভাব হবে না।

    কিন্তু মায়াজাল পাতা হয়েছে, মায়ার ঠাস বুনানি গাঁথা হয়নি। গঙ্গা ভয় পেয়েছে। এবার লোভ দেখাতে হবে। রাজবাড়ি, দাসদাসী, সোনাদানা, শাড়ি। এক বার যখন জ্যান্ত বাপকে মেরে ফেলা গেছে, তখন সুখের ভাতে হাত দিতে আপত্তি করবে না। কচি মেয়ে। পিঠে হাত বুলিয়ে পথে আনতে কতক্ষণ।

    সর্বেশ্বর ভেতরে এল। এসে দেখল,নন্দনের পা জড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে ভানুমতী। হ্যাঁ রূপই বটে। চোখে লেগেছিল এই রূপ চার বছর আগে। সেইদিন প্রথম মনের মধ্যে অঙ্কুরিত হয় এই বাসনা। সে বলল নন্দনকে, খাওয়ার কিছুই নেই নন্দন? আহা, দাও চাড্ডি বেচারিকে।

    আগে থাকতেই সব ব্যবস্থা ছিল। নন্দনকে চিড়ে আর মুড়ির পুঁটলিটা বার করে দিয়ে বলল, হ্যাঁ, আছে। এনেছিলাম নিজের জন্যে। ভেবেছিলাম, ফিরতে দেরি হলে খাব। নে লো দিদি, নে। খেয়ে নে, কাঁদিসনে। আহা, আমরা তো আছি।

    কে খাবে। ছোট্ট প্রাণটুকু বেদনায় ভয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে। তার ক্ষুধা তৃষ্ণা, তার হাসি গান কথা, তার খেলা বেড়ানো, তার অবাধ জীবনের পথ রুদ্ধ হয়েছে চিরতরে। পাষাণ চাপা বালিকা প্রাণে তার কান্না ছাড়া আর কিছু নেই।

    ঘনিয়ে এল সন্ধ্যা। গাঁয়ের বউ ঝিয়েরা দল বেঁধে আসছে ঘাটে। বৈশাখের খর দুপুরের পর ছায়াঘন সন্ধ্যা। ঘাটে ঘাটে মেয়েদের হাসির লহরী। বুকে কলসি আটকে জল ছোঁড়াছুড়ি। ঘোমটা তুলে দেখছে। যাত্রী নৌকা। এর মধ্যেও তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা দিতে হবে, বাতি জ্বালতে হবে। বাজাতে হবে শাঁখ।

    হালিশহরের ঘাটেও এখন বউ-ঝিদের মেলা বসেছে। ভানুর মন গুমরে উঠল। গাঁয়ে থাকলে সেও এখন জলে নামত। সারাদিনের রোদ-পোড়া শরীর জুড়িয়ে শীতল হত। একলা নয়। সঙ্গিনী থাকত অনেকগুলি। কিন্তু, কী করে যাবে সে। সারা গাঁয়ের আকাশে, গাছে গাছে, পথে পথে দুরন্ত শত্রু রয়েছে ঘাপটি মেরে। ভাবতে গিয়েও বুকের মধ্যে পেঁকির পাড় পড়ছে। সে তো আর এসে ডাকবে না ভানি ভানি বলে। চেঁচিয়ে ডাকবে না, গঙ্গা গঙ্গা। বিশালকায় কালো ঘোড়ার ঘাড়ে মানুষের মুখ। লাথিয়ে ভাঙবে শুধু মাথা। বাবা, আমার বাবাগো!

    তবু, তবু ফিরে যেতে মন চাইছে। সে লুকিয়ে থাকবে আঁচল ধরে, বকু পিসির। বুকের মধ্যে তার কে চিৎকার করে উঠল, যাব না, যাব না। মুখ তুলে বলতে গেল, ঠাকুরদা, যাব না।

    হুঁশিয়ার সর্বেশ্বর যেন সর্বজ্ঞ। তো এখন বলছে নন্দনকে, নন্দন, রাম নাম করো। হাওয়া বড় সুবিধের নয়।

    নন্দন ভাবল, বৈশাখ মাস, ঝড় আসছে। বলল, কেন, মেঘ করেছে?

    সর্বেশ্বর দেখছে ভানুকে। বুঝেছে, সন্ধ্যা যত ঘনাচ্ছে, ভানুর মন তত ফিরে যেতে চাইছে। কিন্তু তা আর হবে না। বলল, তোমার মাথা। গঙ্গার বাপ!

    শিশু ভানু শিউরে উঠে দু হাতে আঁকড়ে ধরল সর্বেশ্বরের পৈতা।

    সর্বেশ্বর তার মাথায় হাত রেখে বলল, সেই ভাল। ডরাসনি। শুয়ে থাক। বলে তির্যক দৃষ্টি হানল নন্দনের দিকে।

    নন্দন বলল, রামং রামং রামং।

    ঘোর অন্ধকারে মিশে গেল আকাশ ও দুই তটভূমি। হাওয়ায় ভেসে এল শেয়ালের চিৎকার। কুকুরের ক্রুদ্ধ প্রত্যুত্তর। তারপর সমস্ত জগৎ জুড়ে শুধু গঙ্গার ছলছলানি, কলকলানি, গলুইয়ের তলায় ঢেউয়ের ছপছপানি।

    গুপ্তিপাড়ায় এসে যখন নৌকা ভিড়ল, তখন সমস্ত গ্রাম ঘুমন্ত, নিস্তব্ধ। কেবল টিং টিং করে বাজছে ঘণ্টা। হয়তো কোনও মন্দিরে। ভোগের পর দেবতার শয়নপর্ব শুরু হল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশালঘেরির সীমানায় – সমরেশ বসু
    Next Article বিশ্বাস – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }