কালো রাত্রি চেনা যাত্রী ● বিপুল মজুমদার
কালো রাত্রি চেনা যাত্রী – বিপুল মজুমদার
রাত প্রায় পৌনে বারোটা। কৃষ্ণা চতুর্দশীর অন্ধকারে ডুবে আছে চরাচর। রাত দশটার ট্রেন লেট করে স্টেশনে ঢুকেছে সাড়ে এগারোটায়। ছেলেকে ট্রেনে তুলে দিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছেন সুজিত। দীর্ঘক্ষণ ট্রেন লেটের কারণে মনমেজাজ অপ্রসন্ন। ছেলে সুমন এখন যে বাড়িতে পেয়িং গেষ্ট হিসাবে রয়েছে তার মালিক ওকে ঘর ছাড়তে বলেছে। বলেছে মাসখানেকের মধ্যেই নতুন ঘর দেখে অন্যত্র উঠে যেতে। ট্রেন লেটের বিরক্তিটার সঙ্গে সেই চিন্তাটাও মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। এসবের মধ্যেই হেডলাইটের আলো সম্বল করে হাইরোড ধরে বেশ দ্রুতগতিতেই এগোচ্ছিলেন সুজিত। হঠাৎ একটা লোক রাস্তা পার হতে গিয়ে তার গাড়ির সামনে চলে এল! সতর্ক থাকলে হয়তো ঘটত না ঘটনাটা কিন্তু সুজিতের অন্যমনস্কতার জন্যই… মুহূর্তের মধ্যে রাতের নিস্তব্ধতাকে খানখান করে গদাম করে একটা শব্দ হল। চাপা একটা আর্তনাদ করে পথচারী মানুষটা প্রায় উড়ে গিয়ে পড়ল পাশের নয়ানজুলিতে!
সুজিত হতচকিত। তার হৃৎপিণ্ড দড়াম করে লাফিয়ে উঠল। কেঁপে উঠল হাত পা। শীতের রাতেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। বরাত ভালো যে এই মূহূর্তে আগেপিছে কোনও গাড়ি নেই। রাত গভীর হওয়ায় কোনও লোকজনও নেই আশেপাশে! সুজিত তাই গাড়ি থামালেন না। ধাক্কায় ছিটকে যাওয়া মানুষটার জন্য মনের কোণে একটা দুঃখবোধ চাগিয়ে উঠলেও দ্রুত তার মূলোচ্ছেদ করলেন। ভাবলেন, য পলায়তি স জীবতি। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে হলে কেটে পড়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ!
বাড়িতে ফিরে মুখে কুলুপ এঁটেই থাকলেন সুজিত। কাউকে কিছু বললেন না। টেনশনে সারারাত্রি ঘুমও এল না চোখে। সারাক্ষণ কেবল একটাই ভাবনা, লোকটা কে? কোনও কি চেনা মানুষ? যেভাবে উড়ে গিয়ে পড়ল তাতে বাঁচার কি সম্ভাবনা আছে মানুষটার? যদি টেসে যায়…!
কাউকে কিছু না বললেও অ্যাক্সিডেন্টটা মনের উপর বেশ প্রভাব ফেলল সুজিতের। তাই মনে মনে তিনি ঠিক করলেন, গাড়ি ড্রাইভ আর নৈব নৈব চ। এবার একজন মাইনে করা ড্রাইভার রাখবেন! সেইমতো দিন পাঁচেকের মধ্যেই শিবু নামের স্থানীয় একটা ছেলেকে ড্রাইভার হিসাবে নিষুক্তও করলেন।
পরের বার ছেলে সুমনের বাড়িতে ফেরার সময় ড্রাইভার শিবু গেল তাকে নিয়ে আসতে। পরদিন রবিবার রাতের ট্রেনে তাকে তুলে দিতেও গেল শিবু। কিন্তু গাড়ি নিয়ে ফিরে আসার পর শিবুর মুখে আতঙ্কের ছাপ। গাড়ির চাবি সুজিতের হাতে তুলে দিয়ে সে বলল, “ফেরার সময় আর একটু হলে একটা অ্যাক্সিডেন্ট ঘটে যাচ্ছিল! বেশ স্পিডেই ছিল গাড়িটা। হঠাৎ একটা উটকো লোক বটতলা মোড়ের একটু আগে গাড়ির সামনে দিয়ে বিপজ্জনকভাবে রাস্তা পেরিয়ে গেল। অদ্ভুত ব্যাপার হল, লোকটার চোখমুখ যেন জ্বলছিল! রাস্তা পার হওয়ার সময় জ্বলন্ত চোখে আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল… মনে হচ্ছিল যেন ভস্ম করে দেবে!”
চমকে উঠলেন সুজিত। দুর্ঘটনার পরদিনই খবরটা কানে এসেছিল তার। মাঠপাড়ার দিকটার কোন এক চায়ের দোকানদার নাকি হাইরোডে গাড়ির ধাক্কায় মারা গিয়েছে! তাহলে কি ওই আগুনে চোখো লোকটা ওর বাড়ির কোনও সদস্য? কিন্তু তাই বা কী করে সম্ভব! ঘটনাটা ঘটার সময় ধারেকাছে কেউই তো ছিল না। সুতরাং কারও পক্ষে জানা সম্ভব নয় যে ঘাতক গাড়িটি একটি কালো অ্যাম্বাসাডার! সুজিত তাই দ্রুত সামলে নিলেন নিজেকে। ঢোঁক গিলে বললেন, “লোকটাকে দেখতে কেমন?”
| — | “মাঝারি হাইট। গালে চাপদাড়ি। চাদরে গা-মাথা ঢাকা ছিল বলে বাকি কিছু আর নজরে পড়েনি।” |
শুনেই বুকের নীচে ধক করে উঠল সুজিতের। সেদিন ঠিক এইরকম একটা লোককেই তো…! শেষমেশ অবশ্য মনের ভাব লুকিয়ে তাচ্ছিল্যের ঢঙে বলে উঠলেন, “হবে কোনও পাগল-টাগল!”
দিন পনেরো বাদে মালিকের ছেলেকে ট্রেনে তুলে দিয়ে ফেরার পথে আবার একই ঘটনার সাক্ষী হল শিবু। আবার সেই চাপদাড়ি লোকটা বটতলার মোড়ের একটু আগে গাড়ির সামনে দিয়ে দ্রুতগতিতে রাস্তা পেরিয়ে চলে গেল! চোখে সেই আগের মতোই আগুনে দৃষ্টি! চোখ বড়বড় করে ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার পর শিবু বলল, “মনে হচ্ছে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়! লোকটা রাস্তা পেরিয়ে যাবার পর আমি ব্রেক কষে গাড়ি দাঁড় করালাম। ভাবলাম গালাগাল দিয়ে ব্যাটার ভূত ভাগাব। কিন্তু কোথায় কী…! গাড়ি থেকে নেমে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও লোকটার হদিশ পেলাম না। ঝোপঝাড়ের আড়ালে কোথায় যে ভ্যানিশ হয়ে গেল!”
দু’-দুবার একইরকম ঘটনা! সুজিত এবার ঘাবড়ে গেলেন। স্থানীয় এক কাগজে লিখেছে, বটতলার অ্যাক্সিডেন্টটার জন্য দায়ী অজ্ঞাত পরিচয় গাড়ির চালকটিকে নাকি খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ!
তবে কী রাস্তা পার হওয়া ওই লোকটা পুলিশের চর? কিন্তু সেখানেও তো একটা প্রশ্ন থেকে যায়। মৃত লোকটার মতো তারও কেন চাপদাড়ি থাকবে! মালিকের উদ্বিগ্ন মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বোধগম্য না হওয়ায় শিবু আবার বলে উঠল, “মুহূর্তের চোখাচোখি তবু তার মধ্যে মনে হল তীক্ষ্ণ চোখে কিছু একটা খুঁজছে যেন লোকটা! বাপরে, এমনভাবে তাকাচ্ছিল…!”
সুজিত তুতলে উঠলেন, “ব্যাপারটা কাকতালীয়ও হতে পারে। হয়তো লোকটা রোজ ওখান দিয়েই রাস্তা পার হয়। ঘটনাচক্রে দু’দিনই তোর গাড়ির সামনে পড়ে গেছে।”
ফ্যালফ্যাল করে তাকাল শিবু, “কাকতালীয়… তা কী করে সম্ভব! শনিবার যাতায়াতের সময় হচ্ছে না, রবিবার যখন যাচ্ছি তখনও নয়। শুধু সুমনকে ট্রেনে তুলে দিয়ে ফিরছি যখন তখনই এই কেস!”
ড্রাইভার শিবুর চোখে সংশয় দেখে সুজিত আর কথা বাড়ালেন না। এ তল্লাটে ভালো ড্রাইভার পাওয়া মুশকিল। সুতরাং জল যত কম ঘোলা করা যায় ততই মঙ্গল!
এরপর তৃতীয়বার সুমনকে নামিয়ে দিয়ে ফিরে আসার পর রীতিমতো খেপচুরিয়াস শিবু। “না না কাকু, আমি আর আপনার গাড়ি চালাতে পারব না। আজ সেই চাপদাড়ি লোকটা একদম গাড়ির সামনে চলে এসেছিল। অ্যাক্সিডেন্ট এড়াতে এত জোরে ব্রেক কষলাম যে আর একটু হলে উল্টেই যাচ্ছিল গাড়িটা! আজও রেগেমেগে গাড়ি থামিয়ে লোকটাকে গরুখোঁজা খুঁজলাম কিন্তু আগের দিনের মতোই পেলাম না খুঁজে। আমার কিন্তু এখন কেসটাকে অন্যরকম লাগছে কাকু। মনে হচ্ছে ভূতুড়ে কেস! শুনেছি মাস দুয়েক আগে ওখানে নাকি একটা লোক গাড়ি চাপা পড়েছিল। রাস্তা পার হওয়া লোকটা নির্ঘাত তার ভূত!
| — | “কী আজেবাজে বকছিস!” আলোচনা বিপজ্জনক দিকে মোড় নিচ্ছে দেখে খিঁচিয়ে উঠলেন সুজিত, “ভূতের আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই নাকি! দিনের পর দিন খালি রাস্তাই পেরোবে! এবার থেকে তুই এক কাজ করবি, বটতলার কাছে এলে গাড়ি স্লো করে দিবি। একটু ধরে চালাবি।” |
শিবুর চোখে ভয়, “ধরে চালাই আর জোরে চালাই ভূতের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়ার কোনও ইচ্ছেই নেই আমার!”
শিবুর কথায় এবার বিরক্তই হলেন সুজিত, “তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নি যে লোকটা ভূত তাহলেও বা এত ভাবার কী আছে! শুধু তো রাস্তাই ক্রস করছে, ক্ষতি তো কিছু করেনি!”
| — | “ক্ষতি করেনি ঠিক আছে কিন্তু করলে রুখবেটা কে! তিনবারই রাগী রাগী চোখ করে তাকিয়েছে, এরপর গাড়ির ভেতরে ঢুকে গলা টিপে ধরলে ফাঁকা রাস্তায় কে আমায় রক্ষা করবে! না না কাকু, আমি আর ঝুঁকি নিতে চাই না। আপনি অন্য ড্রাইভার খুঁজে নিন।” |
আতান্তরে পড়লেন সুজিত। এই বাজারে নতুন একজন ড্রাইভার যোগাড় করা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়, তার উপর ছেলেটার হাতখানাও বেশ জব্বর। তাই রাগতে গিয়েও হেসে ফেললেন তিনি, “তুই যে এত ভীতু তা তো জানতাম না! ঠিক আছে চিন্তা করিস না, এর পরের বার তোর গাড়ির আমি সওয়ারী হব। সুমনকে ট্রেনে তুলে দিয়ে দু’জনে মিলে একসঙ্গে বাড়ি ফিরব। দেখি কোন ভূতের পো তোকে ডিসটার্ব করে!”.
মালিকের কথায় খানিকটা নরম হলেও পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারল না শিবু। মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, “সেদিনও যদি আবার একই ঘটনা ঘটে তাহলে আমি কিন্তু আর নেই কাকু। মানুষ হলে নয় টক্কর দেওয়া যায়, কিন্তু ভূত… বাপ রে!”
|| ২ ||
দশটার ট্রেন স্টেশনে ঢুকল সাড়ে দশটায়। ট্রেনে উঠে ছেলে হাত নাড়লে সুজিতও হাত নেড়ে স্টেশনের বাইরে বেড়িয়ে এলেন। বাইরে গাড়ির স্ট্যান্ডে কালো অ্যাম্বাসাডার খানা দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশেই হ্যালোজেনের জোরালো আলোর নীচে ফ্যাকাসে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে শিবু। সুজিতকে দেখে সে এগিয়ে এল। মিয়ানো গলায় বলল, “আপনাকে বলতে ভুলে গেছি কাকু। গতকাল সকালে সুমনকে নিতে আসার সময় বটতলার মোড়ে একবার গাড়ি দাঁড় করিয়েছিলাম। সামনে একটা শনি মন্দির আছে। মন্দিরের পুরোহিতের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ধারেকাছে কোনও পাগল-টাগল থাকে কিনা। পুরোহিত ‘না’ বলল।”
গাড়ির বনেটে একটা হাত রেখে হাসলেন সুজিত, “ভূত আছে কিনা সেটা জানতে চাইলি না?” মালিকের কথায় ভ্যাবলার মতো তাকাল শিবু, “চেয়েছিলাম তো। পুরোহিত বলল জানি না!”
আজ বেশ ভালো মুডেই আছেন সুজিত। ছেলে সুমন একটা ভাল ভাড়া বাড়ি খুঁজে পেয়েছে। পুরনো জায়গা ছেড়ে শীঘ্র সে নতুন জায়গায় শিফট করবে। তাই ড্রাইভারের দিকের দরজা টেনে ধরে তিনি বললেন, “মাথা থেকে পোকাটাকে তাড়া শিবু। ভূত-টুত কিস্যু নয়, কেউ তোর সঙ্গে মশকরা করছে। তুই এক কাজ কর, ওদিকে গিয়ে বোস। আজ নিজে আমি ড্রাইভ করব। দেখি কোন ব্যাটা এসে ঝামেলা পাকায়।”
সুজিতের কথায় হাঁপ ছেড়ে যেন বাঁচল শিবু। সে ড্রাইভারের উল্টোদিকের সিটটায় বসতে বসতে বলল, “সাবধানে চালাবেন কাকু।”
খানিকবাদেই স্টেশন রোড ছেড়ে গাড়ি হাইরোডে গিয়ে পড়ল। উদ্দিষ্ট জায়গাটার কথা ভালোই মনে আছে সুজিতের। তাই জায়গাটার কাছাকাছি হতেই তিনি সতর্ক হয়ে উঠলেন। গাড়ির গতি কমিয়ে দিয়ে শক্ত হাতে আঁকড়ে ধরলেন স্টিয়ারিং। ভেবেছিলেন দু’জনে আছেন বলে কোনও কিছুই আজ ঘটবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হল না। যে জায়গাটায় পথচারী লোকটাকে তিনি ধাক্কা মেরেছিলেন ঠিক সেখানেই আবির্ভাব ঘটল লোকটার, থুড়ি অশরীরীর! চাদরে গা-মাথা ঢাকা। চাপদাড়ির মাঝখানে রাগে ভস্ম করে দেওয়ার মতো দুটো আগুনে চোখ। তবে এবার আর রাস্তা পেরোনো নয়। সুজিতকে স্টিয়ারিং-এ বসে থাকতে দেখেই নিমেষে পাখির মতো উড়ে এসে পড়ল উইন্ড স্ক্রিনের উপরে! চলন্ত গাড়িতে দড়াম করে একটা শব্দ হল। চুরচুর করে ভেঙে পড়ল উইন্ড স্ক্রিনের কাচ। কাচের একটা টুকরো ছিটকে চোখে এসে বিঁধতেই যন্ত্রণায় স্টিয়ারিং থেকে হাত আলগা হয়ে গেল সুজিতের। মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন গাড়িটা ছিটকে গিয়ে পড়ল পাশের নয়ানজুলিতে!
ঘণ্টা তিনেক পরে হাসপাতালের বেডে শিবুর যখন জ্ঞান ফিরল তখন সে শুনল সুজিতবাবুর অবস্থা ভালো নয়। তিনি কোমায় রয়েছেন! ডাক্তারবাবু বলেছেন, বাহাত্তর ঘণ্টা না গেলে কিছু বলা যাবে না!
.
বিপুল মজুমদার
জন্ম ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হালিশহরে। অধুনা বারাসাত নিবাসী। রাজ্য সরকারের পূর্ত (সড়ক) দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি বাস্তুকার। নয়ের দশক থেকে লেখালেখির শুরু। প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় রবিবারের ‘বর্তমান’ পত্রিকায়। পরবর্তীকালে “আনন্দবাজার”, “শুকতারা”, “কিশোর ভারতী”, “সাপ্তাহিক বর্তমান”, “সানন্দা”, “নবকল্লোল”, “সুখী গৃহকোণ” সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছোট এবং বড়দের জন্য নানাধরনের গল্প-উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থ – ‘গা ছমছম’, ‘বিচিত্রমামার বিচিত্রকাণ্ড’, ‘কৃষ্ণপক্ষ শুক্লপক্ষ’, ‘ভো-কাট্টা’, ‘অশরীরী ২১’, ‘রক্ত-দাগের রহস্য’ ইত্যাদি।
