Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প60 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাসা গ্রান্দে

    কাসা গ্রান্দে

    ম্যারিজোনাতে এসেছি। আগে যদিও দেখেছি, তবু আবার যেতেই হবে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। যত দেখি তত অবাক লাগে। কিন্তু তার বাইরেও তো অ্যারিজোনার মরুভূমির বুকে অনেক কিছু দ্রষ্টব্য রয়েছে—প্রাচীন বাসিন্দাদের চিহ্ন ছড়ানো চতুর্দিকে। হার্ড মিউজিয়ামে গিয়ে দুটো ভিডিও টেপ দেখেছি, দুটি নেটিভ আমেরিকান সম্প্রদায়ের। আমরা যাদের ‘রেড ইন্ডিয়ান’ বলি এবং আমেরিকায় যাদের শুধু ‘ইন্ডিয়ান’ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে এতদিন। সদ্যপ্রাপ্ত এই ‘নেটিভ আমেরিকান’, খেতাব তাদের যথার্থ পরিচিতি। অ্যারিজোনার এই অঞ্চলে একদা সবুজ গাছপালায় ভরা অরণ্যানী ছিল। নদী বইত, শস্য ফলত। আস্তে আস্তে মরুভূমি এগিয়ে এল, মানুষরা সরতে সরতে হঠাৎ উধাও হয়ে গেল। প্রথমে প্রকৃতির রোষ, তারপর সাদা মানুষের আক্রমণ—স্থানীয় আদিবাসীদের স্থানচ্যুত করেছে বারবার। নেটিভ আমেরিকানদের এখন বেড়াবন্দী করে খাটালে রাখার মতো জিইয়ে রাখা হয় ‘ইন্ডিয়ান রেজার্ভেশন্স’ নামক সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সংরক্ষিত অঞ্চলে। সেখানে তারা মদ-গাঁজা-তামাক খেয়ে নেশাভা করে, আর জুয়া খেলে সময় কাটায়। অ্যারিজোনাতে দেখলাম ইন্ডিয়ানদের জন্যই বেশ কয়েকটি বড় বড় ‘ক্যাসিনো’ বানিয়ে দিয়েছেন সরকার, সেখান থেকে তাদের আয় ও ব্যয় দুটোই চলছে। আমেরিকাতে ঘুরে মাঝে মাঝেই এই নেটিভ আমেরিকানদের মুখোমুখি হয়েছি গত সাতচল্লিশ বছরে—আগের চেয়ে মনে হয় আধুনিককালে তাদের অবস্থা একটু ভালোর দিকে। আগে আরও বেশি অবহেলিত, আরও বেশি আত্মবিধ্বংসী জীবন ছিল তাদের এই সংরক্ষিত খোঁয়াড়গুলিতে। যারা বেরিয়ে এসেছে, মূলস্রোতে মিশেছে, তারাই বেঁচে গেছে। কিন্তু নিজস্ব সংস্কৃতিটুকু বাঁচিয়ে রেখেও উন্নতির মুখ দেখা খুব বেশি নেটিভ মার্কিনী আদিবাসীর জীবনে এখনও সম্ভবপর হয়নি বলেই মনে হয়।

    ফিনিক্সে, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনাতে আমার নিমন্ত্রণ ছিল মোট দশদিনের। তারই ফাঁকে ফাঁকে একদিন ঘুরে এলাম সেডোনা আর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। সেডোনার লালপাথরের প্রাকৃতিক ভাস্কর্য, ঠিক মন্দিরের মতো। আর বিচিত্র গণেশে গণেশে ভর্তি! শিবলিঙ্গের তো কথাই নেই। যে-কোনও প্রাকৃতিক গুহাতেই কিন্তু অন্তত একটি না একটি শিবমূর্তি আছেই। এবং গণেশের রূপও দেখা যায়, যদি দেখার চোখটা থাকে। এখানে খোলা মরুভূমির বুকে ছুটে যাওয়া তীব্র গরম বাতাস বছরের পর বছর লাল পাহাড় কেটে কেটে মন্দিরের মতো আকৃতি তৈরি করেছে। অসীম আর নন্দিতা চৌধুরির সঙ্গে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যাবার পথে সেডোনাতে থেমে লাঞ্চ করলাম। কত যে আমরা গণেশমূর্তি, এমনকী দশভুজাও আবিষ্কার করে ফেলেছি সেখানে, সেই বিক্ষত পাথরের কেরামতিতে! পরেরবার গিয়ে হয়ত আর তাদের খুঁজে পাব না। বেঠিকানা দেবদেবী তো ওঁরা সবাই। ওইদিকেই একটি বড় দ্রষ্টব্য, প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নভূমি আছে, সেদিন আর যাওয়া হল না। প্রাচীন নেটিভ আমেরিকানদের সভ্যতা-সংস্কৃতির বহু নিদর্শন আছে সেখানে। কিন্তু সেখানে থামার সময় নেই আজ।

    ফিনিক্সের বিখ্যাত হার্ড মিউজিয়াম নেটিভ আমেরিকান সংস্কৃতির যাদুঘর। সেখানে ঘুরেছি আমাদের বন্ধু জয়ন্ত সেন, মঞ্জীরা দত্ত আর সুচিত্রা রায়ের সঙ্গে—কী করে যাদুঘরে বেড়ালাম? পা-ব্যথায় হাঁটতে পারি না এদিকে? কেন, চক্র-আসনে সমাসীন হয়ে। রাজার মতো! শ্রাবস্তী হুইলচেয়ার ঠেলায় এক্সপার্ট হয়ে গেছে। আমেরিকার এই একটি গুণকীর্তন করতেই হবে—সমস্ত পাবলিক ইন্টারেস্টের জায়গা, সেটা থিয়েটারই হোক বা যাদুঘর, লাইব্রেরিই হোক বা চিড়িয়াখানা—সবই হুইলচেয়ার-অ্যাকসেসিবল। এবং টিকিট কাটার সময়েই হুইলচেয়ার চেয়ে (সাধারণত বিনামূল্যে) নেওয়া যায়। অতএব কি স্মিথসোনিয়ামের বিভিন্ন যাদুঘরে ঘুরে বেড়ানো, চাঁদের যাত্রী সেই অ্যাপোলো-১১টি দেখা, কি, হার্ড মিউজিয়ামে ঘুরে ঘুরে নেটিভ আমেরিকানদের শিল্পকর্ম, জীবনযাপনের কীর্তিকলাপ প্রত্যক্ষ করা, সবই সম্ভব হয় আমার মতো আপাতত প্রতিবন্ধী যাত্রীর পক্ষে। হার্ড মিউজিয়ামেই জেনেছি, ফিনিক্সের বেশ কাছাকাছিই আরও একটি প্রত্নভূমি আছে, সেখানে প্রাচীন এক মাটির প্রাসাদ আছে হোহোকাম ইন্ডিয়ানদের তৈরি করা। আমি আগে নিউ মেক্সিকোতে সান্টা ফে ও তাওসে এরকম মাটির বাড়ি দেখেছি, তাদের এদেশি নাম, আডোবে (Adobe)। এখানকার মাটির বাড়িটি কেমন, দেখতে উৎসাহ হল। শ্রাবস্তীর এটা প্রথম মার্কিনী যাত্রা। সে-বেটি তো কিছুই দেখেনি। যা দেখছে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বিপুল বিস্তার। গম্ভীর শোভা ‘গভীরতা দেখে সে স্তম্ভিত। সেডোনার লালপাথরের প্রাকৃতিক ভাস্কর্য দেখে উল্লসিত। এখন দেখা যাক নেটিভ আমেরিকানদের এই ‘প্রাগৈতিহাসিক ভগ্নস্তূপ’ (Prehistoric ruins of Casa Grande) দেখে তার কী মনে হয়। আমাকে নিয়ে যেতে আগ্রহী হলেন এক বাঙালি গৃহবধূ, শর্মিলা। তিনি আপাতত বাচ্চাদের দেখাশোনা করছেন বলে চাকরি করছেন না। হাতে সময় আছে।

    শর্মিলা এসে সকালবেলাতে আমাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। রোদ্দুর চড়া হবার আগে আগেই পৌঁছতে ইচ্ছে। কাসা গ্রান্দের প্রসিদ্ধ ভগ্নস্তূপটি ধু-ধু মরুভূমির বুকের মধ্যে। বড্ড গরম হবে—রোদ্দুরের মধ্যে দেখতে হবে তো ঘুরে ঘুরে। যেতেও অনেকক্ষণ, আসতেও অনেকক্ষণ, রোদ্দুরেই যাতায়াত। আমাদের গৃহকর্ত্রী, শ্রীমতী নন্দা দত্ত আমাদের হাতেমুখে রোদ আটকানোর ক্রিম মাখিয়ে দিলেন, সঙ্গে জলের বোতল দিয়ে দিলেন বেশি করে। আমার মেয়ে নন্দনা বিশাল দুটো রোদচশমা দিয়ে দিয়েছে সঙ্গে, অ্যারিজোনার তীক্ষ্ণ রোদ্দুরে চোখ যাতে আরও ধ্বংস না হয়। আমি আর শ্রাবস্তী, বগলে জলের বোতল, চোখে কালো চশমা-আমরা মরু বিজয়ে বেরোচ্ছি।

    শর্মিলা খুব চমৎকার গাইড। সুন্দর করে পথটি চিনিয়ে দিতে দিতে এনে ফেললেন কাসা গ্রান্দে-তে। ইস্পানি ভাষায় মানে, বড় বাড়ি। বাড়িটি, যতটা দেখতে পাচ্ছি, এমনকিছুই বড় নয়। তবে হ্যাঁ, কুটির তো নয়-তিন-চার তলা বাড়ি ছিল এককালে, বড়ই। সম্ভবত গ্রামের শস্যের ভাণ্ডার ছিল এর মধ্যে। এখন ছাদ নেই, দেওয়ালই শুধু দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটা। ঘরের মানচিত্র চেনা যায় তা থেকে। গাড়ি থেকে নেমে যেখানে আশ্রয় নিলাম, তার প্রথমেই দোকান। তার গায়ে যাদুঘর, এখানে মাটি খুঁড়ে পাওয়া বাসনকোসন, অস্ত্রশস্ত্র, কাপড়-চোপড়, গয়নাগাটি, আর কিছু ছবি রাখা আছে। আর আছে অতি সুন্দর একটি ভিডিও-শো। নেটিভ আমেরিকান হোহোকাম সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি ইতিহাস বলছেন, আগে এখানটা কেমন ছিল। সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যও তেমনই হয়ে উঠছে। সেখানে জনবসতি কেমন ছিল, তাদের জীবনযাত্রা কেমন ছিল, তারপর কীভাবে একদিন মরুভূমি এসে গ্রাস করে নিল জনপদ। এই শো-টি সত্যি মনোগ্রাহী। তারপর ভাঙা দেউলে যাত্রা করলেন শর্মিলা। সঙ্গে শ্রাবস্তী।

    আমি ছায়াতে বসে থাকি কাছাকাছি। সেগুয়েরো নামের উঁচু উঁচু মনসাগাছেরা আকাশে দু-হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক যেন দানব–আমার চেয়ে অন্তত তিন-চার গুণ দীর্ঘতর সেই কাঁটাগাছেরা, তার মধ্যে কাঠঠোকরা পাখির মতো একরকম পাখি ঠুকরে ঠুকরে ফুটো করে কী সুন্দর বাসা বাঁধছে, দেখলাম। পোকা খাওয়ার জন্য নয়, ডিম পাড়বার জন্যই গর্ত খুঁড়ছে। এখানে তো এরাই বৃক্ষ। ফল দেয়। আশ্রয় দেয়। আরও নানারকমের ফণিমনসার ঝোপ আছে-তাতে সুন্দর লাল টুকটুকে ফুল ফুটে আছে। ঝাড়লণ্ঠনের মত দেখাচ্ছে। আমাদের দেশের গেল ফণিমনসাতেও খুব সুন্দর হলুদ রঙের বড় বড় ফুল ফোটে। এখানে সেই বিখ্যাত ফণিমনসার গাছটিও দেখলাম, যেটি দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম মেক্সিকেতে। ঠিক কেয়াঝোপের মতো দেখতে ঝাড়টি-মোটা মোটা লম্বা লম্বা পাতা, তার ধারে ধারে কাঁটার লাইন—ওই পাতা থেকে রস নিয়ে টাকিলা মদ হয়, ওই পাতা থেকে সুতো কেটে সুতো হয়। ও থেকে জলও পাওয়া যায়, একরকম আটাও তৈরি করা যায় ওই পাতার আঠা শুকিয়ে গুঁড়ো করে—কিন্তু গাছটির নাম আমার মনে ছিল না। এখানে আবার সেই গাছ দেখে আমার উত্তেজনা, আনন্দের অবধি ছিল না। দ্বাররক্ষীকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, হ্যাঁ, এই সেই একাই-একশো গাছ। মরুভূমির বাসিন্দাদের হুজুর মা-বাপ। কিন্তু ছি ছি—নামটা যে আবার ভুলে গেছি? Agave কি? মেক্সিকো এখান থেকে খুব বেশি দূরে নয়। অ্যারিজোনার শহরে বাড়ি বাড়ি ঘরের কাজকর্ম করতে যাঁরা আসেন, তাঁরা সবাই হয় মেক্সিকান, নয় আদিবাসী মার্কিনী রমণী। আর বাগানের কাজকর্ম করেন তাঁদেরই সম্প্রদায়ের পুরুষরা। শিক্ষায় তাঁরা অগ্রসর হননি, গায়ে-গতরে খেটে তাঁদের দিন চলে। ফিনিক্সে অবশ্য মেক্সিকানদের চেয়ে আদিবাসী আমেরিকান কর্মীই বেশি। তাঁদের চেহারা অনেকটা আমাদের পাহাড়িদের মতো, কিন্তু শরীরের গড়ন বড়সড়। চোখ সরু, কিন্তু নাক বোঁচা নয়। রং তামাটে। দেখলে চেনা যায় যে এঁরা সাদামানুষের জাতভাই নন। কৃষ্ণাঙ্গদেরও কেউ নন। এঁদেরই জমিজমা, এঁদেরই মাতৃভূমি কেড়ে নিয়ে আজকের আমেরিকার বোলবোলাও। এই অঞ্চলে স্প্যানিশ প্রভাবই বেশি, বাড়িঘরে স্প্যানিশ আর্কিটেকচারের চিহ্ন, রাস্তার নামে, শহরের নামে হয় স্প্যানিশ, নয় আদিবাসী মার্কিনী প্রভাব সুস্পষ্ট। এখানে চার্চগুলিকেও দেখতে স্প্যানিশ চার্চের মতো। সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতেও তাই।

    আমি বসে বসে ওঁদের টুপি পরা মাথাগুলো মিলিয়ে যেতে দেখি কাসা গ্রান্দের ভাঙা দেওয়ালের পিছনে। ওঃ খুলিফাটা রোদ্দুর একেই বলে। নন্দার জল খুব কাজে লাগছে আমাদের। এই অঞ্চলটির নাম, কুলিজ। আজকের টেম্পারেচার ১০২° ফারেনহাইট মাত্র, বেশি নয়, তবু মনে হচ্ছে যেন ১২০°, যদিও আমি বসে আছি ছায়াতে। বসে বসে ভাবতে চেষ্টা করছি টোলি হিলারম্যান কেমন করে এইসব অঞ্চলকে নিয়েই অমন সব থ্রিলার লিখলেন! সামনের বিস্তীর্ণ শুকনো মাটির দিকে তাকিয়ে কল্পনা করতে চেষ্টা করি, এখানেই ছিল একদিন হোহোকাম ইন্ডিয়ানদের বসতি। পাশেই বইত গিলানদী। ভোর থেকেই গ্রামের কাজকর্ম শুরু হয়ে যেত। পুরুষরা কাজ করতে যেত গমের খেতে, মেয়েরা জল আনত, শস্য ঝাড়ত, জাঁতা পিষত, রান্না করত—হ্যাঁ, এরকমই ভাগাভাগি ছিল কাজের। এখানে একদিন অরণ্য ছিল পালোভের্দে, মেসকিট, আর লোহাকাঠের গাছ ছিল প্রচুর। আর মেসটি গাছ তো এদের মায়ের মত। তার ছায়া, তার ফুল, ফল, কাঠ, শুকনো পাতা, সবই কাজে লাগত হোহোকামদের। অদূরেই মুরুভূমিতে ছিল এই সেগুয়েরা মনসাগাছ—যার লাল টুকটুকে ফল যখন পেকে ফেটে যায়, মনে হয় সারা গাছটি বুঝি লাল ফুলে ভরে আছে। সেগুয়েরার ফল, তার শাঁস, আদিবাসীদের প্রিয় খাদ্য। জলের ধারে নানারকমের ঘাসবন ছিল, শরবনের মতো—তা থেকে ওরা ঝুড়ি বুনত, আসন বুনত, মাদুর বুনত। এখানে লাউ ফলাত ওরা—সেই কচি লাউ খেত, আর বুড়ো লাউয়ের খোল শুকিয়ে পাত্র বানাত, আর ঝুমঝুমি বানাত বাচ্চাদের। এখানকার যাদুঘরে আছে সেই পাত্র, সেই ঝুমঝুমি। আছে ছবি আঁকা লাল-কালো মাটির বাটি, হাঁড়ি, কুঁজো। আছে শিশুর বেতের দোলনা। রঙিন চুড়ি, মালা। সেগুলো নাকি সেগুয়েরার আঠা দিয়ে তৈরি। এখানে যে একদা গমখেত, ঘাসবন, গাছপালা ছিল, এটা কল্পনা করতে বেশ কষ্ট হচ্ছে কিন্তু। অথচ খুব বেশিদিনের কথা নয়। এদের ‘প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতা’র সংজ্ঞা তো আমাদের সঙ্গে তুলনীয় নয়। ছশোবছর আগে বর্তমান সাদা আমেরিকার অস্তিত্ব ছিল না, ‘ইতিহাস’ সৃষ্টি হয়নি। ঠিকই। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে, মানবসভ্যতার ইতিহাসে ছশোবছর নামমাত্র। সে তো এই সেদিনের কথা, নস্যি!

    শ্রাবস্তী আর শর্মিলা ফিরে এল পায়ে-চলা পথে কাসা গ্রান্দে পরিদর্শন সেরে। পরিক্রমার পর দুজনেরই মুখ লাল টুকটুকে—ঘেমে ভিজে উঠেছে দুজনেই।—’জল খাও, জ্বল খাও! ছায়ায় বসো, ছায়ায় বসো!’ এখানে গাড়ি থেকে নেমে অবধি শুনতে পাচ্ছি অত্যন্ত সুন্দর এক বাঁশির সুর—কাসা গ্রান্দের মাঠঘাট আর ভাঙা কুঠিবাড়ি ভাসিয়ে ঢেউ খেলছে যাদুমাখা ইন্ডিয়ানদের বাঁশির মেঠো সুর। বড্ড মোহময়, বড্ড একলা-করে-দেওয়া সুর। কান্না পায়। কেম্ব্রিজের হার্ভার্ড স্কোয়্যারে প্রথম শুনেছিলাম এই সুর, অনেক বছর আগে। একজন নেটিভ আমেরিকানের হাতে ছিল অদ্ভুতদর্শন, হাতের পাতার মতো চ্যাটাল, ছোট, চ্যাপ্টা একটা পাঁচনলী বাঁশি—তাতেই বাজাচ্ছিল প্রাণকাঁদানো সুর। হার্ভার্ড স্কোয়্যারে উইকএন্ডের সন্ধেবেলা অনেকরকমের খেল দেখা যায়। ম্যাজিক, গানবাজনা, কত কী! তারই মধ্যে এই বাঁশির সুর ছিল এক্কেবারে আলাদা। অনেকদিন আমার মাথার ভেতরে ঘুরেছিল। আজ কাসা গ্রান্দে-তে মধ্যদিনের রোদে সেই সুর আবার ভেসে এসেছে। কিন্তু এ বাঁশির তো এটাই নিজস্ব জায়গা। হার্ভার্ড স্কোয়্যারে ও ছিল বড্ড বেমানান। এখানে এ সুরটি প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছে। ‘ঘরটর, দেওয়াল-টেওয়াল, সিঁড়ি প্রণালী, শস্যের ভাঁড়ারঘর—সব দেখে এলাম’—শ্রাবস্তী বলল। ‘এমন কিছুই নয়। এত আহামরি করার কী আছে? এই মাটির বাড়ির আর্কিটেক্ট যখন বড় বাড়ি বানাচ্ছেন, তখন তো মোগলরা ওখানে রাজত্ব করছে। দূর! ভারতবর্ষ থেকে এখানে এসে প্রাগৈতিহাসিক বস্তু দেখতে আসার মানে হয়?’

    এই প্রথম শ্রাবস্তী অবাক হল না। অথচ আমেরিকাতে এটা সত্যিই প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার। ঘরটার মাথায় আবার মস্ত উঁচু করে একটা ছাদ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে রোদে-জলে ওটি আরও ধ্বংস হয়ে যেতে না পারে। ছাদটা একটা এরোপ্লেনের গ্যারাজের মতো উঁচু। বাড়িটিকে আলগোছে রক্ষা করছে, কোথাও ছুঁয়ে ফেলেনি। আমার মনে হল এটা আমাদের পাথরের মূর্তিদের বেনারসি শাড়ি পরিয়ে দেবার মতো বেখাপ্পা। বড্ড বেমানান দেখাচ্ছে কিন্তু। মাঠের মধ্যে এরকম একটা ভগ্নস্তূপ খোলা আকাশের নীচেই মানায় ভালো। সে যাই হোক, প্রশ্নটা এখানে তো নন্দনতত্ত্বের নয়, সংরক্ষণের। আমরা তো প্রয়োজনে বাঁদুরে টুপিও পরি।

    হোহোকাম আদিবাসীরা চাষিবাসী সভ্য মানুষ ছিল। গিলানদী থেকে জলের জন্য খাল কেটেছিল, বাঁধও দিয়েছিল, বল খেলার মাঠও ছিল তাদের। বিভিন্ন প্রাঙ্গণে ভাগ করা তাদের গ্রাম। প্রাঙ্গণের দেওয়ালের গায়ে ছিল তাদের মাটির বাড়িগুলি। এই বাড়িটার মতোই সেগুলিও সম্ভবত তেতলা বাড়িই ছিল। এই কাসা গ্রান্দে বাড়িটা যে ঠিক কী ছিল সেটা নিয়ে ধন্দ মেটেনি এখনও। সরকারি ভবন ছিল কি? কেউ বলে এটা ছিল শস্যাগার। আবার কেউ কেউ বলে, না, এটা ছিল একটা প্রাগৈতিহাসিক অবজার্ভেটরি-জ্যোতির্বিদ্যা চর্চা হত এখানে। দেওয়ালে এমনই কতগুলি গর্ত করা আছে, যেখান থেকে সারাবছরের বিভিন্ন সময়ের সূর্যোদয় এবং চন্দ্রোদয়ের হিসেব কষা যায়। হতে পারে যে হোহোকামেরা এই বাড়িটাকে একটা ক্যালেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করত—কিন্তু এমন বিশদ ক্যালেন্ডার দিয়ে তাদের কী কাজ ছিল? তার উত্তর মেলেনি।

    ১৩০০ শতকের পর বেশিদিন এখানে বসবাস করেনি হোহোকাম সম্প্রদায়। কেন তারা চলে গেল জানা যায়নি, তবে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে মনে হয় এখানে যেমন বারবার বন্যা হত, তেমনই খরাও আসত বারবার। হোহোকামরা শেষপর্যন্ত সামলে উঁঠতে পারেনি। মাটির তলার জলের স্তর এখানে এত দ্রুত নেমে গেছে যে অরণ্যানী ক্রমশ … মরুতে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রচুর শুকনো, মৃত মেসকিট গাছ মিলেছে। জলাভাবেই তাদের মৃত্যু ঘটেছিল। মানুষও টিকে থাকতে পারেনি।

    মনে অনেক প্রশ্ন নিয়ে কাসা গ্রান্দে থেকে ফেরার পথ ধরলাম আমরা। ভীষণ খিদে পেয়েছে তিনজনেরই। আপাতত ধু-ধু মরু, যেদিক পানে চাই, কোনওখানে জনমানব নাই। ফিরতি পথে দেবদূতের মত একটা টাকো-বেল-এর দোকান দেখ গেল। মেক্সিকান ফাস্ট ফুডের চেন এটা। এই দোকানে ড্রাইভ-ইন-উইন্ডো আছে—জানলার কাছে গাড়ি থামাল শর্মিলা। প্রত্যেকের দুটো করে স্পাইসি চিকেন বুরিটো অর্ডার করল, আর কোক। এক জানলায় অর্ডার প্লেস করতে হয়, আরেক জানলা থেকে তুলে নিতে হয় ঠোঙায় ভরা গরম খাদ্য। তৃতীয় জানলা থেকে তুলে নিই কাগজের গেলাসে বরফ ঠাসা ঠান্ডা কোক। গাড়ি চলল ফিনিক্সের পথে। বাইরে দুর্ধর্ষ রোদ, মরুভূমির আগুনে গরম বাতাস বইছে। গাড়ির ভেতরে ঠান্ডায় বসে কোক আর বুরিটো (ঠিক যেন পরোটা-মাংসের রোল) খেতে খেতে আমরা কাসা গ্রান্দে ছেড়ে আমাদের ছোট বাড়ির দিকে ছুটি।

    প্রকাশ : ‘ভ্রমণ’ আগস্ট-সেপ্টেম্বর ২০০৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে – নবনীতা দেবসেন
    Next Article ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }