Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প104 Mins Read0
    ⤷

    ০১. রাত্রির কলিকাতা

    রাত্রির কলিকাতা। মহানগরীর পথে পথে বিদ্যুদ্দীপালী। জলন্ত চক্ষু মোটরের ছুটাছুটি। উচ্চাঙ্গের বিলাতী হোটেলে যৌথনৃত্য। রেডিও যন্ত্রে গগনভেদী সঙ্গীত। কোনও নবাগত দর্শক দেখিয়া শুনিয়া মনে করিতে পারেন না যে নগরের একটা অন্ধকার দিকও আছে।

    আকাশে শুক্লা তিথির চাঁদ; তাহারও অর্ধেক উজ্জ্বল, অর্ধেক অন্ধকার।

    কলিকাতার পথে-বিপথে সঞ্চরণ করিয়া শেষে একটি অপেক্ষাকৃত নির্জন অভিজাত পল্লীতে আসিয়া উপনীত হওয়া যায়। এ অঞ্চলে প্রায় প্রত্যেক বাড়ি পাঁচিল দিয়া ঘেরা, আপন আপন ঐশ্বর্যবোধের গর্বে পরস্পর হইতে দূরে দূরে অবস্থিত।

    একটি পাঁচিল-ঘেরা বাড়ির ফটক। ফটক না বলিয়া সিংদরজা বলিলেই ভাল হয়। লোহার গরাদযুক্ত উচ্চ দরজার সম্মুখে গুর্খা দারোয়ান গাদা বন্দুক কাঁধে তুলিয়া ধীর গম্ভীর পদে পায়চারি করিতেছে। গরাদের ফাঁক দিয়া অভ্যন্তরের বৃহৎ দ্বিতল বাড়ি দেখা যাইতেছে; বাড়ি ও ফটকের মধ্যবর্তী স্থান নানা জাতীয় ফুলগাছ ও বিলাতী পাতাবাহারের ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। একটি কঙ্করাকীর্ণ পথ ফটক হইতে গাড়িবারান্দা পর্যন্ত গিয়া আবার চক্রাকারে ফিরিয়া আসিয়াছে।

    ফটকের একটি স্তম্ভে পিতলের ফলকে খোদিত আছে—

    যদুনাথ চৌধুরী
    জমিদার–হুতুমগঞ্জ

    সিংদরজা উত্তীর্ণ হইয়া বাড়ির সম্মুখীন হইলে দেখা যায়, গাড়িবারান্দার নীচে ভারী এবং মজবুত সদর দরজা ভিতর হইতে বন্ধ রহিয়াছে।

    সদর দরজা দিয়া ভিতরে প্রবেশ করিলে সম্মুখেই পড়ে একটি আলোকোজ্জ্বল বড় হলঘর। ঘরের মধ্যস্থলে একটি গোল টেবিল; তাহার উপর টেলিফোন। টেবিলের চারিদিকে কয়েকটি চেয়ার। সম্মুখের দেয়ালে একটি বৃহৎ ঠাকুর্দা-ঘড়ি। তাছাড়া অন্যান্য আসবাবপত্রও আছে।

    বাঁ দিকের দেয়ালে সারি সারি তিনটি ঘরের দ্বার। প্রথমটি ভোজনকক্ষ, দ্বিতীয়টি গৃহস্বামীর শয়নকক্ষ; তৃতীয়টি ঠাকুরঘর। ডান দিকে দুইটি ঘর; লাইব্রেরি ও ড্রয়িংরুম। পিছনের দেয়াল ঘেঁষিয়া উপরে উঠিবার সিঁড়ি।

    হল-ঘরে কেহ নাই। কিন্তু ভোজনকক্ষ হইতে মানুষের কণ্ঠস্বর আসিতেছে। সুতরাং সেদিকে যাওয়া যাইতে পারে।

    ভোজনকক্ষে দেশী প্রথায় মেঝেয় আসন পাতিয়া ভোজনের ব্যবস্থা। কিন্তু ঘরে একটি বড় ফ্রিজিডেয়ার ও কয়েকটি জালের দ্বারযুক্ত আলমারি আছে। মেঝেয় পাশাপাশি তিনটি আসন পাতা। মাঝের আসনটিতে বসিয়া বাড়ির কর্তা যদুনাথবাবু আহার করিতেছেন। দুই দিকের আসন দুইটি খালি; তবে আসনের সম্মুখে থালায় খাদ্যদ্রব্যাদি সাজানো রহিয়াছে।

    যদুনাথের অনুঢ়া নাতিনী নন্দা সম্মুখে বসিয়া আহার পরিদর্শন করিতেছে এবং মাঝে মাঝে কোনও বিশেষ ব্যঞ্জনের প্রতি তাঁহার দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছে। সেই সঙ্গে দুই চারটি কথা হইতেছে। বাড়ির সাবেক ভৃত্য সেবকরাম এক ঝারি জল ও তোয়ালে লইয়া দ্বারের কাছে বসিয়া আছে। সেও কথাবার্তায় যোগ দিতেছে।

    যদুনাথবাবুর বয়স অনুমান সত্তর; আকৃতি শীর্ণ এবং কঠোর; সহজ কথাও রুক্ষভাবে বলেন। একদিকে যেমন ঘোর নীতিপরায়ণ, অন্যদিকে তেমনি ছেলেমানুষ; তাই তাঁহার ব্যবহার কখনও সম্ভ্রম উৎপাদন করে, আবার কখনও হাস্যরসের উদ্রেক করে। শরীর বাতে পঙ্গু তাই সচরাচর লাঠি ধরিয়া চলাফেরা করেন। বর্তমানে লাঠি তাঁহার আসনের পাশে শয়ান রহিয়াছে।

    নন্দার বয়স আঠারো উনিশ। সে একাধারে সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী, স্নেহময়ী ও তেজস্বিনী। বাড়িতে পড়িয়া আই-এ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হইতেছে। এই নাতিনী ও এক নাতি ছাড়া যদুনাথের সংসারে আর কেহ নাই।

    সেবক বয়সে বৃদ্ধ; সম্ভবত যদুনাথের সমবয়স্ক। কিন্তু তাহার ছোটখাটো ক্ষীণ দেহটি পঞ্চাশ বছরে আসিয়া আটকাইয়া গিয়াছে; আর অধিক পরিণতি লাভ করে নাই।

    ছাড়া-ছাড়া কথাবার্তা চলিতেছে।

    নন্দা বলিল——দাদু, অন্য জিনিস খেয়ে পেট ভরিয়ে ফেলো না, আমি নিজের হাতে তোমার জন্যে পুডিং তৈরি করেছি।

    যদুনাথ গলার মধ্যে একটা শব্দ করিলেন। নন্দা গিয়া ফ্রিজিডেয়ার হইতে পুডিং-এর পাত্রটি আনিয়া আবার বসিল।

    সেবক হঠাৎ বলিল-বাবু, ছাকড়াগাড়িবাবুকে তাড়িয়ে দিলে কেন? কী করেছিলেন তিনি?

    নন্দা বলিল-হ্যাঁ, ভুবনবাবুকে ছাড়িয়ে দিলে কেন দাদু? সেক্রেটারির কাজ তত ভালই করছিলেন।

    যদুনাথ কিছুক্ষণ নীরবে আহার করিয়া চক্ষুযুগল তুলিলেন, বলিলেন—ভুবন মিছে কথা বলেছিল। আমার কাছে মিথ্যে কথা! হতভাগা! ভেবেছিল আমার চোখে ধুলো দেবে।

    যদুনাথ আবার আহারে মন দিলেন। নন্দা ও সেবক একবার চকিত শঙ্কিত দৃষ্টি বিনিময় করিল। সেবকের মুখের ভাব দেখিয়া মনে হয়, সে মনে মনে বলিতেছে কর্তা যদি আমাদের মিছে কথা জানতে পারেন তাহলে কি করবেন! নন্দা অস্বস্তিপুর্ণ মুখে একটু বসিবার চেষ্টা করিয়া বলিল—তা একটু-আধটু মিছে কথা কে না বলে? ভুবনবাবু কি টাকাকড়ি গোলমাল করেছিলেন?

    যদুনাথ বলিলেন-না, কিন্তু করতে কতক্ষণ? যে-লোক মিছে কথা বলতে পারে, সে চুরিও করতে পারে। এরকম লোককে বাড়িতে রাখা যেতে পারে না। যদি আমার সূর্যমণি চুরি করে! তখন আমি কি করব?

    নন্দা হাসিল-কী যে বল দাদু! ঠাকুরঘরের তালা ভেঙে সূর্যমণি চুরি করবে এত সাহস কারুর নেই।

    তবু সাবধানের মার নেই। চুরিই বলো আর মিথ্যে কথাই বলো, সব এক জাতের। যার মিথ্যে কথা একবার ধরা পড়েছে, আমার বাড়িতে তার ঠাঁই নেই।

    সে যেন হল। কিন্তু তোমার তো একজন সেক্রেটারি না হলে চলবে না। তার কি হবে?

    এবার খুব দেখেশুনে বাছাই করে সেক্রেটারি রাখব।

    বাছাই করে

    হ্যাঁ, এবার কাগজে বিজ্ঞাপন দেব ঠিকুজি-কোষ্ঠীসহ আবেদন করহ। যারা দেখা করতে আসবে তাদের ঠিকুজি আনতে হবে। ঠিকুজি পরীক্ষা করে যদি দেখি লোকটা ভাল, চোরবাটপাড় নয়, মিথ্যেবাদী নয়, তবেই তাকে রাখব। আর চালাকি চলবে না।

    নন্দার ঠোঁটে মৃদু হাসি খেলিয়া গেল। সেবক গলা খাঁকারি দিল।

    বলিল—ঠিকুজি-কোষ্ঠীর কথায় মনে পড়ল, আমার দিদিমণির ঠিকুজি-কোষ্ঠী কী বলে? আর কতদিন বই পড়বে? ওনার বিয়ে-থা কি হবে না?

    নন্দা ঠোঁটের উপর আঁচল চাপা দিল।

    যদুনাথ কহিলেন-নন্দার কোষ্ঠী অনেকদিন দেখিনি, কাল দেখব!-নন্দা, তুই খেতে বসলি না?

    নন্দা বলিল—আমার তাড়া নেই। দাদা আসুক, দুজনে একসঙ্গে খাব।

    যদুনাথ পাশের আসনের দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন, তারপর কুঞ্চিত করিয়া মুখ তুলিলেন।

    মন্মথ এখনও ফেরেনি?

    এই সময় পাশের হল-ঘরে ঠং ঠং করিয়া নটা বাজিতে আরম্ভ করিল।

    নন্দা হালকাভাবে বলিল—এই তো সবে নটা বাজল। দাদা দশটার আগেই ফিরবে।

    যদুনাথ কিছুক্ষণ উদ্বিগ্ন চক্ষে নন্দার পানে চাহিয়া রহিলেন। শেষে বলিলেন—আমি নটার সময় শুয়ে পড়ি, ডাক্তারের হুকুম; মন্মথ কখন বাড়ি ফেরে জানতে পারি না। ঠিক দশটার আগে ফেরে তো? দশটার পর আমার বাড়ির কেউ বাইরে থাকে আমি পছন্দ করি না।

    নন্দার সহিত সেবকের আর একবার চকিত দৃষ্টি বিনিময় হইল। সেবক বলিল—আজ্ঞে বাবু, কোনও দিন দাদাবাবুর দশটা বেজে এক মিনিট হয় না, ঠিক দশটার আগে এসে হাজির হয়।

    হুঁ। কিন্তু এত রাত্রি পর্যন্ত থাকে কোথায়? করে কি?

    নন্দা কহিল-কী আর করবে, বন্ধুদের সঙ্গে ব্রিজ খ্যালে, না হয় ক্লাবে গিয়ে বিলিয়ার্ড ব্যালে—এই আর কি।

    যদুনাথ ভারী গলায় বলিলেন—তা তাস-পাশা খ্যালে খেলুক। বিয়ের ছমাস যেতে না যেতে নাতবৌ মারা গেলেন, ওর মনে খুবই লেগেছে; তাই আমি আর বেশি কড়াকড়ি করি না। খেলাধুলোয় যদি মন ভাল থাকে তো থাক। কিন্তু দশটার পর বাড়ির বাইরে থাকার কোনও ওজুহাতই থাকতে পারে না। যারা বাইরে থাকে তারা বজ্জাৎ, দুশ্চরিত্র।

    নন্দা আশ্বাসের সুরে বলিল—না দাদু, দাদা ঠিক সময়ে বাড়ি ফেরে।

    সেবক বলিল—ঘরে বৌ থাকলে আরও সকাল সকাল বাড়ি ফিরত। কথায় বলে ঘর না ঘরণী। বাবু, এবার তাড়াতাড়ি দাদাবাবুর নতুন বিয়ে দাও; দেখবে ঘর ছেড়ে আর বেরুবে না।

    যদুনাথ বলিলেন—আমার কি অনিচ্ছে। কিন্তু একটা বছর না কাটলে লোকে বলবে কি!—দে, হাতে জল দে।

    সেবক হাতে জল ঢালিয়া দিল, যদুনাথ ভোজনপাত্রের উপরেই মুখ প্রক্ষালন করিয়া লাঠি হাতে উঠিয়া দাঁড়াইলেন। বলিলেন—সেবক, বাড়ির দোর-জালা সব বন্ধ হয়েছে কিনা ভাল করে দেখে নিবি।

    আজ্ঞে

    ভোজনকক্ষ হইতে হল-ঘরে প্রবেশ করিয়া যদুনাথ ঠাকুরঘরের দিকে চলিলেন; নন্দা ও সেবক তাঁহার পিছনে চলিল। ঠাকুরঘরের দ্বারে একটি বড় তালা ঝুলিতেছিল, যদুনাথ কোমর হইতে চাবির থোলো লইয়া দ্বার খুলিলেন।

    ঠাকুরঘরে দুইটি ঘৃত-প্রদীপ জ্বলিতেছে। ঘরের মধ্যস্থলে রূপার সিংহাসনের উপর একটি সোনার থালা খাড়াভাবে রাখা রহিয়াছে; থালার মাঝখানে চাকার নাভিকেন্দ্রের মতো একটি প্রকাণ্ড মাণিক্য আরক্ত প্রভা বিকীর্ণ করিতেছে। ইহাই অমূল্য সূর্যমণি; ইহাই যদুনাথের বংশানুক্রমিক গৃহদেবতা।

    যদুনাথ দ্বারের সম্মুখে জোড়হাতে দাঁড়াইয়া প্রণাম করিলেন।

    জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্
    ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোস্মি দিবাকরম্।

    যদুনাথের পশ্চাতে নন্দা ও সেবক যুক্ত কর কপালে ঠেকাইয়া প্রণাম করিল। তারপর যদুনাথ আবার দ্বারে তালা লাগাইলেন।

    শয়নকক্ষের দ্বার পর্যন্ত আসিয়া যদুনাথ সেবককে বলিলেন—সেবক, লাইব্রেরিতে উড়ুদায় প্রদীপ বইখানা আছে, এনে দে বিছানায় শুয়ে পড়ব।

    যদুনাথ শয়নকক্ষে প্রবশ করিলেন। সেবক নন্দার মুখের পানে চাহিয়া কয়েকবার চক্ষু মিটিমিটি করিল—উড়ু উড়ু পিদ্দিম—সে আবার কি বই দিদিমণি?

    নন্দা হাসিয়া বলিল—উড়ুদায় প্রদীপ—একখানা জ্যোতিষের বই। আয় দেখিয়ে দিচ্ছি।

    দুইজনে হল-ঘরের অপর প্রান্তে লাইব্রেরির দিকে চলিল।

    লাইব্রেরি-ঘরে একটি বড় টেবিল, কয়েকটি গদিমোড়া চেয়ার; অনেকগুলি আলমারিতে অসংখ্য পুস্তক সাজানো। নন্দা টেবিলের উপর হইতে উড়দায় প্রদীপ লইয়া সেবককে দিল—এই নে। আর দ্যাখ সেবক, দাদার খাবার ঢাকা দিয়ে রেখে দে, বাবু যে কখন ফিরবেন তার তো কিছু ঠিক নেই, এগারোটাও হতে পারে-বারোটাও হতে পারে।

    সেবক বিমর্ষভাবে বলিল—হুঁ। এদিকে কর্তার কাছে মিছে কথা বলে বলে আমাদের জিভ তেউড়ে গেল। কোথায় যায় বল দিকি? কি করে এত রাত অব্দি?

    জানিনে বাপু। ভাবতেও ভাল লাগে না। দাদু যদি জানতে পারেন অনর্থ হবে। কিন্তু সে হুঁশ কি দাদার আছে?—থাকগে ও কথা, সেবক-তোকে আর-একটা কাজ করতে হবে। তুই নিজের খাওয়া-দাওয়া সেরে আমার খাবার ওপরে আমার ঘরে দিয়ে আসিস, লক্ষ্মীটি। এখন খেলে ঘুম পাবে, পড়াশুনা হবে না। এদিকে শিরে সংক্রান্তি, একজামিন এসে পড়েছে।

    ঐ তো! রাত জেগে জেগে বই পড়ছ, এদিকে বিয়ের নামটি নেই। থুবড়ো মেয়ে আমি দুচক্ষে দেখতে পারি না।

    নন্দা মুখ টিপিয়া হাসিল—আচ্ছা—হয়েছে

    দুজনে লাইব্রেরি হইতে বাহির হইল। নন্দা সিঁড়ি দিয়া উপরে গেল; সেবক বই লইয়া যদুনাথের ঘরের দিকে গেল।

    .

    বাড়ির দ্বিতলে একটি লম্বা বারান্দার দুই পাশে দুই সারি ঘর। একটি ঘর নন্দার; তাহার সম্মুখেরটি মন্মথর। অন্য ঘরগুলি প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহৃত হয়।

    নন্দা সিঁড়ি দিয়া উপরে উঠিয়া আসিল এবং নিজের ঘরে প্রবেশ করিল। তাহার ঘরটি বেশ বড়, একটু লম্বাটে ধরনের। একদিকে খাট বিছানা; অন্যদিকে পড়ার টেবিল, বই রাখার চরকি আলমারি ইত্যাদি। মাঝখানে একটি আয়নার কবাটযুক্ত বড় ওয়ার্ডরোব। ঘরটি মেয়েলি হাতের নিপুণতার সহিত পরিপাটিভাবে সাজানো।

    নন্দা প্রথমে গিয়া বাহিরের দিকের জানালা খুলিয়া দিল। দ্বিতলের জানালা, তাই গরাদ নেই। বাহিরের অস্ফুট জ্যোত্সা ঘরে প্রবেশ করিল। নন্দা জানালায় দাঁড়াইয়া অলস হস্তে কানের দুল খুলিতে লাগিল। তারপর দুল দুটি ওয়ার্ডরোবে রাখিয়া দিয়া সে পড়ার টেবিলের কাছে আসিয়া দাঁড়াইল; টেবিলের উপর একটি পড়ার আলো ছিল, তাহা জ্বালিয়া দিল।

    টেবিলে একটি বই খোলা অবস্থায় উপুড় করা ছিল; মলাটের উপর তাহার নাম দেখা গেল-রঘুবংশম্। নন্দা চেয়ারে বসিল; ছোট্ট একটি নিশ্বাস ফেলিয়া বইটি তুলিয়া পড়িতে আরম্ভ করিল।

    .

    হল-ঘরের ঘড়িতে দশটা বাজিতে পাঁচ মিনিট। ঘরের আলো নিষ্প্রভ; মাত্র একটা বা জ্বলিতেছে।

    যদুনাথ শয্যায় শয়ন করিয়া বই পড়িতেছিলেন, আলো নিভাইয়া শুইয়া পড়িলেন। চাবির গোছ তাঁহার বালিশের পাশে ছিল, তাঁহার একটা হাত তাহার উপর ন্যস্ত হইল।

    .

    নন্দা নিজের ঘরে বসিয়া রঘুবংশ পড়িতেছে।

    সা দুষ্প্রর্ধষা মনসাপি হিংস্রৈঃ —

    ভেজানো দরজার বাহির হইতে সেবকের কণ্ঠস্বর আসিল

    দিদিমণি, তোমার খাবার এনেছি

    নন্দা গলা তুলিয়া বলিল—নিয়ে আয়।

    সেবক দ্বার ঠেলিয়া ভিতরে প্রবেশ করিল এবং চরকি আলমারির উপর খাবারের থালা রাখিল। অনুযোগের স্বরে বলিল—দশটা বাজল, এখনও ছোট কর্তার দেখা নেই! আচ্ছা, রোজ রোজ এ কি ব্যাপার দিদিমণি? তুমি কিছু বলতে পার না?

    নন্দা বলিল-হাজার বার বলেছি। রোজই বলে—আজ আর দেরি হবে না। কি করব বল?

    সেবক বলিল-হুঁ। যাই, দোরের কাছে বসে থাকিগে। দোর খুলে দিতে হবে তো। কিন্তু এসব ভাল কথা নয়, মোট্টে ভাল কথা নয়—

    দ্বার ভেজাইয়া দিয়া সেবক চলিয়া গেল। নন্দা কিছুক্ষণ উদ্বিগ্ন চক্ষে শুন্যে তাকাইয়া রহিল, তারপর বই টানিয়া লইয়া আবার পড়ায় মন দিল।

    সেবক নীচে নামিয়া আসিয়া ভোজনকক্ষে গেল। আসনের সম্মুখে থালায় খাবার সাজানো ছিল, সেবক একটা জালের ঢাকনি দিয়া তাহা ঢাকা দিয়া রাখিল। হল-ঘরে ফিরিয়া সদর দরজা সন্তর্পণে খুলিয়া একবার বাহিরে উঁকি মারিল। তারপর দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া দরজা ভেজাইয়া দরজায় পিঠ দিয়া বসিল।

    .

    লিলি নাম্নী এক নর্তকীর ড্রয়িংরুম।

    লিলি আধুনিকা নর্তকী। বয়স আন্দাজ ত্রিশ, কিন্তু ঠাটঠমক ও প্রসাধনের চাকচিক্যে নবযৌবনের বিভ্রম এখনও বজায় রাখিয়াছে। আজ রাত্রি দশটার সময় সে পিয়ানোতে বসিয়া গান গাহিতেছে এবং মন্মথ গগদ মুখে তাহার পাশে দাঁড়াইয়া আছে। মন্মথর বয়স ছাব্বিশ, বুদ্ধিসুদ্ধি বেশি নাই, সে বিলাতী পোশাক পরিতে এবং বড়মানুষী দেখাইতে ভালবাসে।

    লিলি ও মন্মথ ছাড়া ঘরে আরও দুইটি লোক রহিয়াছে—দাশু ও ফটিক। ইহারা লিলির দলের লোক। দাশু মোটা লম্বা, ফটিক রোগা বেঁটে; দুজনেরই সাজপোশাক বাবুয়ানির পরিচায়ক, যেন তাহারাও বড়লোকের ছেলে। আসলে তাহারা ভদ্রবেশী জুয়াচোর; লিলির সাহায্যে বড়মানুষের ছেলে ফাঁসাইয়া শোষণ করা তাহাদের পেশা। বর্তমানে তাহারা যেন লিলির প্রণয়াকাঙক্ষী এবং মন্মথর প্রতিদ্বন্দ্বী—এইরূপ অভিনয় করিতেছে।

    লিলি গাহিতেছে—

    কেন পোহায় বলো সুখ-ফাগুন-নিশা
    বঁধু না মিটিতে বুকে প্রেমতৃষা।
    নব-যৌবন টলমল গো
    চল চঞ্চল গো
    চলে যায়–রহে না
    তার ত্বর সহে না
    চোখে বিজলী হানে কালোকাজল-দৃশা।
    ফুলের বুকে আছে এখনও মধু,
    আছে অরুণ হাসি অধরে, বঁধু
    এস ধরিয়া রাখি—তারে ধরিয়া রাখি।
    যেন পোহায় না গো সুখ-ফাগুন-নিশা।

    গান শেষ হইলে মন্মথ সানন্দে করতালি দিয়া বলিয়া উঠিল—ওয়াণ্ডারফুল! ওয়াণ্ডারফুল!

    লিলি সলজ্জে বিভ্রম দেখাইয়া বলিল—ধন্যবাদ মন্মথবাবু। এই গানটা আমার নতুন নাচের সঙ্গে গাইব। ভাল হবে না?

    মন্মথ সোৎসাহে বলিল—চমৎকার হবে। নাচও তৈরি করেছেন নাকি?

    হ্যাঁ। দেখবেন?

    লিলি উঠিয়া দাঁড়াইল। মন্মথ বক্রচক্ষে দাশু ও ফটিকের প্রতি দৃষ্টিপাত করিল। বলিল—আজ থাক। আর একদিন দেখব।

    দাশু মুখ হইতে সিগার হাতে লইয়া হাসিল।

    হে হে— আমি আগেই দেখেছি।

    ফটিক বলিল-আমিও—হে হে।

    মন্মথ ভর্ৎসনা-ভরা চোখে লিলির পানে তাকাইল।

    ওঁদের আগেই দেখিয়েছেন। তা—বেশ। আমার দেখার কী দরকার?, আমি নাচের কী বা বুঝি?

    প্রস্থানোদ্যত মন্মথকে হাত ধরিয়া লিলি থামাইল। বলিল—রাগ করছেন কেন, মন্মথবাবু? ওঁরা সেদিন জোর করে ধরলেন, না দেখে ছাড়লেন না। নইলে আপনাকেই তো আগে দেখাবার ইচ্ছে ছিল। বসুন, আজই আপনাকে নাচ দেখাব।

    লিলি মন্মথকে ধরিয়া বসাইল। দাশু ফটিকের পানে চাহিয়া চোখ টিপিল। মন্মথ সন্তুষ্ট হইল বটে কিন্তু নিজের হাত-ঘড়ির দিকে চাহিয়া উৎকণ্ঠিত হইল।

    আজ! কিন্তু আজ বড় দেরি হয়ে গেছে,

    লিলি বলিল—কোথায় দেরি, এই তো সবে দশটা। ফটিকবাবু, ঘরের মাঝখান থেকে টেবিল-চেয়ারগুলো সরিয়ে নিন দেখি।

    কিন্তু মন্মথ তথাপি ইতস্তত করিতে লাগিল।

    আজ থাক, মিস লিলি। কাল আমি সকাল সকাল আসব। কাল হবে।

    দাশু হাসিয়া উঠিল। বলিল—ওঁকে আজ ছেড়েই দিন, মিস লিলি। বাড়ি ফিরতে দেরি হলে হয়তো ঠাকুর্দার কাছে বকুনি খাবেন।

    মন্মথ ক্রুদ্ধ চোখে তাহার পানে চাহিল।

    মোটেই না—আসুন মিস লিলি, আজ আপনার নাচ দেখে বাড়ি যাব।

    তখন দাশু ও ফটিক উঠিয়া আসবাবপত্র দেয়ালের দিকে সরাইয়া দিতে প্রবৃত্ত হইল, লিলি শাড়ির আঁচলটা কোমরে জড়াইয়া নাচিবার জন্য প্রস্তুত হইতে হইতে বলিল—আপনাকে কিন্তু বাজাতে হবে, মন্মথবাবু। সুরটা তো শুনলেন, ফলো করতে পারবেন?

    নিশ্চয়।

    মন্মথ মিউজিক টুলে বসিল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাজদ্রোহী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }