Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প104 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. যদুনাথের হল-ঘরে

    পরদিন প্রভাতে বেলা আন্দাজ নটার সময় যদুনাথের হল-ঘরে টেবিল ঘিরিয়া বসিয়া আছেন : স্বয়ং যদুনাথ, ইউনিফর্ম-পরা একজন পুলিস ইন্সপেকটর এবং ড্রেসিং-গাউন-পরা মন্মথ। যদুনাথের চেয়ারের পিছনে নন্দা পিতামহের কাঁধে হাত রাখিয়া দাঁড়াইয়া আছে; ইন্সপেকটরের পিছনে দাঁড়াইয়া একজন নিম্নতর পুলিস কর্মচারী খাতা-পেন্সিল হাতে নোট লিখিতেছে; সেবক একটা খালি চেয়ারের পিঠ ধরিয়া দণ্ডায়মান আছে এবং সতর্কভাবে সওয়াল জবাব শুনিতেছে।

    খোলা দরজা দিয়া ফটক পর্যন্ত দেখা যাইতেছে।

    ইন্সপেকটর বলিলেন—তাহলে চুরি কিছুই যায়নি?

    যদুনাথ বলিলেন-না, কিন্তু চোর বাড়ি ঢুকেছিল।

    ইন্সপেকটর বলিলেন—তা বটে। চোরকে আপনারা কে কে দেখেছেন?

    মন্মথ বলিল—আমি দেখেছি। কিন্তু এক নজর, ভাল করে দেখিনি।

    সেবক বলিল—আমিও দেখেছি

    ইন্সপেকটর সেবককে বলিলেন—দাঁড়াও, তোমার কথা পরে শুনব।–মন্মথবাবু, আপনি চোরের চেহারা কি রকম দেখছেন বলুন দেখি।

    মন্মথ চিবুক চুকাইতে চুলকাইতে চোরের চেহারা স্মরণ করিবার চেষ্টা করিল। এই সময় নন্দা চক্ষু তুলিয়া দেখিল, একটি অপরিচিত যুবক সদর দরজা দিয়া প্রবেশ করিতেছে। যুবকের গোঁফ দাড়ি কামানো, ধারালো মুখ, শরীর ঈষৎ কৃশ, কিন্তু হাড় বাহির করা নয়। পরিধানে খদ্দরের পাঞ্জাবি ও ধোপদুরস্ত ধুতি। নন্দার বুকের ভিতর ধ্বক্ করিয়া উঠিল। এই কি গতরাত্রির চোর?

    দিবাকর টেবিলের কাছাকাছি আসিয়া কুণ্ঠিতভাবে একটু কাশিল। সকলে একবার তাহার দিকে চাহিলেন; যদুনাথ চশমা খুলিয়া তাহাকে নিরীক্ষণ করিলেন।

    কে তুমি বাপু? কি চাও?

    দিবাকর বলিল—আজ্ঞে, শ্রীযুক্ত যদুনাথ চৌধুরী মহাশয়ের সঙ্গে আমার একটু দরকার আছে।

    কণ্ঠস্বর শুনিয়া নন্দা দিবাকরকে নিশ্চয়ভাবে চিনিল; সে দাদুর শুভ্র মস্তকের উপর চক্ষু নিবদ্ধ রাখিয়া হৃদযন্ত্রের দ্রুত স্পন্দন চাপিবার চেষ্টা করিল।

    যদুনাথ বলিলেন-ও কি নাম তোমার?

    আজ্ঞে, দিবাকর রায়।

    আচ্ছা, তুমি একটু বোসো, তোমার কথা শুনব—সেবক!

    সেবক শূন্য চেয়ারটা টেবিল হইতে একটু দূরে টানিয়া দিবাকরকে বসিতে ইঙ্গিত করিল; দিবাকর বসিল। কাহারও প্রতি দৃষ্টিপাত না করিয়া বিনীত ভাবলেশহীন মুখ লইয়া বসিয়া রহিল। বড় মানুষের বাড়িতে এমন কৃপাপ্রার্থী উমেদার কত আসে; কেহ আর তাহাকে লক্ষ্য করিল না।

    ইন্সপেকটর তাঁহার প্রশ্নোত্তরের ছিন্নমূত্র তুলিয়া লইলেন—

    হ্যাঁ, চোরের চেহারার কথা হচ্ছিল, (মন্মথকে) কি রকম চেহারা দেখেছিলেন মন্মথবাবু?

    মন্মথ বলিল—মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি-গোঁফ ছিল—রোগা-পটকা চেহারা

    সেবক অমনি হাত নাড়িয়া প্রতিবাদ করিল। বলিল-না না, রোগা-পটকা হবে কেন? চোর কখনও রোগা-পটকা হয়?-কালো—মুষ্কো—ইয়া জোয়ান

    দিবাকর নির্লিপ্তভাবে একবার সেবকের মুখের পানে তাকাইল। মন্মথ বিরক্ত হইয়া বলিল—তুই কি জানিস? আমি বলছি রোগা-পটকা!

    সেবক আবার প্রতিবাদ করিবার জন্য মুখ খুলিয়াছিল, ইন্সপেকটর হাত তুলিয়া তাহাকে নিরস্ত করিলেন। তারপর মন্মথকে প্রশ্ন করিলেন–মন্মথবাবু, চোরের চেহারা যেমনই হোক, বলুন দেখি, চোরকে দেখলে সনাক্ত করতে পারবেন?

    মন্মথ চিন্তিতভাবে এদিক ওদিক চাহিল। নন্দার মুখে উদ্বেগের ছায়া পড়িল; দিবাকর কিন্তু নির্বিকার।

    মন্মথ বলিল—তা ঠিক বলতে পারি না। বোধ হয় না।

    ইন্সপেকটর সেবককে শুধাইলেন—আর তুমি? চোরকে দেখলে চিনতে পারবে?

    সেবক সগর্বে বলিল—আপনি নিয়ে আসুন, আলবৎ চিনব। আমি দেখেছি, ইয়া মুষ্কো জোয়ান—ভূষকুণ্ডি কালো

    ইন্সপেকটর হাসিয়া যদুনাথকে সম্বোধন করিলেন—

    দেখছেন তো, ইনি বলছেন রোগা-পটকা, আর ও বলছে ইয়া মুস্কো জোয়ান। এ রকম অবস্থায় চোরকে সনাক্ত করার তো কোনও উপায় নেই।

    উপায় আছে দারোগাবাবু। এই যে উপায়।–মেঝে হইতে টপ করিয়া চোরের জুতাজোড়া তুলিয়া লইয়া সেবক ইন্সপেকটরের সামনের টেবিলের উপর রাখিল এবং সহর্ষে হাত ঘষিতে লাগিল।

    ইন্সপেকটর চমকিয়া বলিলেন—এ কি! বদ গন্ধ বেরুচ্ছে। কার জুতো?

    সেবক বলিল—চোরের জুতো। উঁই ঝাড়ের তলায় লুকিয়ে রেখেছিল, আমি খুঁজে বার করেছি।

    ইন্সপেকটর রুমাল বাহির করিয়া নাকের উপর ধরিলেন। মন্মথ মুখ বিকৃত করিয়া উঠিয়া গেল এবং ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করিল।

    ইন্সপেকটর বলিলেন——হুঁ–চোরের জুতো। কম্বল সিং, জুতা লে চলো।…যদি দাগী চোর হয়, হয়তো সনাক্ত করা যাবে।

    কম্বল সিং নাক সিটকাইয়া আলাগোছে জুতাজোড়া তুলিয়া লইল।

    যদুনাথ বলিলেন—দেখুন ইন্সপেকটরবাবু, কাল রাত্রে যে চোর ঢুকেছিল তার জন্যে আমি বেশি ভাবিনে, আমার মনে হয় ছিচকে চোর, ঘটিটা বাটিটা সরাবার মতলবে ঢুকেছিল।

    ইন্সপেকটর বলিলেন–জুতোর অবস্থা দেখে তো তাই মনে হয়।

    যদুনাথ বলিলেন—হ্যাঁ। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, আমার বাড়িতে এক অমূল্য জহরৎ আছে—আমার গৃহদেবতা। আপনি বোধ হয় সূর্যমণির নাম শোনেননি।

    ইন্সপেকটর বলিলেন—বিলক্ষণ। সূর্যমণির নাম কে না শুনেছে। এমন রুবি বাংলা দেশে আর নেই—

    যদুনাথ বলিলেন—হ্যাঁ। আমার ভয় সূর্যমণি নিয়ে। কে জানে, হয়তো কলকাতা শহরে যত পাকা চোর আছে সকলের নজর পড়েছে সূর্যমণির ওপর। এখন পুলিস যদি আমার সম্পত্তি রক্ষা না করে—

    ইন্সপেকটর বলিলেন—সকলের সম্পত্তি রক্ষা করাই পুলিসের কাজ। আমরা চেষ্টার ত্রুটি করব না। কিন্তু আপনি যদি special protection চান তাহলে কমিশনার সাহেবকে দরখাস্ত করতে হবে। —আজ তাহলে উঠি। চলো কম্বল সিং।

    ইন্সপেকটর নমস্কার করিয়া দ্বারের দিকে চলিলেন। কম্বল সিং জুতাজোড়া নাক হইতে যতদূর সম্ভব দূরে টাঙাইয়া লইয়া চলিল। সেবক তাহাদের ফটক পর্যন্ত আগাইয়া দিতে গেল। হল-ঘরে যদুনাথ, নন্দা ও দিবাকর ছাড়া আর কেহ রহিল না।

    যদুনাথ অন্যমনস্কভাবে বসিয়া বোধ করি সূর্যমণির বিপদ-আপদের কথা চিন্তা করিতে লাগিলেন। নন্দা ও দিবাকর গোপনে একবার দৃষ্টি বিনিময় করিল। তারপর দিবাকর উঠিয়া দাঁড়াইয়া মৃদু রকম গলা ঝাড়া দিল। কিন্তু বিমনা যদুনাথ লক্ষ্য করিলেন না। নন্দা তখন তাঁহার কানের কাছে নত হইয়া বলিল—

    দাদু, ভদ্রলোক দেখা করতে এসেছেন।

    যদুনাথ সজাগ হইয়া বলিলেন-ও হ্যাঁ। তা—কি দরকার তোমার বাপু?

    দিবাকর উঠিয়া জোড়হস্তে বলিল—আজ্ঞে, আপনার নাম শুনে এসেছি—আমাকে একটু অনুগ্রহ করতে হবে—

    যদুনাথ বলিলেন—অনুগ্রহ! কি অনুগ্রহ?

    দিবাকর বলিল—আমি শুনেছি জ্যোতিষ শাস্ত্রে আপনার অগাধ পাণ্ডিত্য। তাই এসেছিলাম–যদি আপনি

    যদুনাথ খুশি হইলেন।

    আঁ–তা—বোসো বোসো—কি নাম বললে? দিবাকর রায়–ব্রাহ্মণ সন্তান নাকি?

    আজ্ঞে হ্যাঁ।

    বেশ বেশ। তা জ্যোতিষ নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করি বটে। তুমি কোত্থেকে খবর পেলে?

    আজ্ঞে একথা কি চাপা থাকে। আমি আপনাকে একটু কষ্ট দিতে এসেছি। আমি বড় গরীব, কাজকর্ম কিছু নেই—আপনি যদি দয়া করে দেখে দেন—আর কতদিন কষ্ট ভোগ আছে। সময়টা বড় খারাপ যাচ্ছে—

    সময় খারাপ যাচ্ছে? বেশ বেশ। তা ঠিকুজি-কোষ্ঠী এনেছ?

    আজ্ঞে এনেছি।

    দিবাকর পকেট হইতে কুণ্ডলিত ঠিকুজি বাহির করিয়া দিল। যদুনাথ চশমা পরিয়া অত্যন্ত মনোযোগের সহিত জাতচক্র পরীক্ষা করিতে লাগিলেন। দিবাকর ভয়ে ভয়ে একবার নন্দার পানে চোখ তুলিল। যেন নীরবে প্রশ্ন করিল—ঠিক হচ্ছে তো? নন্দা একটু ঘাড় নাড়িল।

    যদুনাথ হঠাৎ বলিয়া উঠিলেন—বা বা! এ যে দেখছি মেষ!

    দিবাকর হতবুদ্ধি হইয়া বলিল—আজ্ঞে মেষ।

    হ্যাঁ হ্যাঁ, তোমার মেষ রাশি মেষ লগ্ন—একেবারে খাঁটি মেষ।

    দিবাকর ঘাড় চুলকাইয়া বলিল—আজ্ঞে আপনি যখন বলছেন তখন তাই। কিন্তু আমার ভাল সময় কবে পড়বে?

    যদুনাথ কোষ্ঠী দেখিতে দেখিতে বলিলেন—ভাল সময়? হুঁ–বৃহস্পতি গোচরে তোমার ভাগ্যস্থানে প্রবেশ করেছেন : শনি ষষ্ঠে; রাহু একাদশে। বা বা! তোমার তো ভাল সময় এসে পড়েছে হে!

    আজ্ঞে তাই নাকি? কিন্তু কই কিছু তো দেখছি না। বরং খুবই দুঃসময় যাচ্ছে, চাকরিবাকরি নেই—

    ও কিছু নয়, সব ঠিক হয়ে যাবে।

    চাকরি পাব?

    নিশ্চয় পাবে। মেষ রাশি, নবমে বৃহস্পতি, একাদশে রাহু—এ কখনও মিথ্যে হয়। দেখে নিও, শিগগিরই তোমার বরাত ফিরে যাবে।

    যদুনাথ জন্মকুণ্ডলী দিবাকরকে ফেরত দিলেন; চশমা খুলিয়া নিশ্চিন্ত মনে তাহার কাচ পরিষ্কার করিতে লাগিলেন। দিবাকর কিছুক্ষণ উৎকণ্ঠিতভাবে অপেক্ষা করিল, কিন্তু যদুনাথ আর কিছু বলিলেন না। দিবাকর তখন ধীরে ধীরে উঠিয়া দাঁড়াইল

    আচ্ছা, আজ তাহলে আসি। নমস্কার।

    অনিচ্ছা-মন্থর পদে দিবাকর দ্বারের দিকে চলিল। নন্দা অমনি যদুনাথের কানে কানে বলিল—দাদু, ওঁকে যেতে দিচ্ছ?

    যদুনাথ বলিলেন—আঁ–কী?

    নন্দা বলিল—উনি যদি চাকরি না পান, ভাববেন তুমি জ্যোতিষের কিচ্ছু জান না!

    যদুনাথ বিচলিত হইয়া বলিলেন—আঁ–তা?

    তোমার তো একজন সেক্রেটারি দরকার, ওঁকেই রেখে নাও না কেন?

    ওঃ? আরে তাই তো!…ওহে… কি বলে—দিবাকর! শোনো শোনো

    আজ্ঞে?

    যদুনাথ বলিলেন—হ্যাঁ—দ্যাখো, আমার একজন সেক্রেটারি দরকার। তুমি পারবে?

    দিবাকর ব্যগ্রস্বরে বলিল—আজ্ঞে পারব।

    ত্রিশ টাকা মাইনে পাবে, আর খাওয়া-পরা রাজি?

    আজ্ঞে রাজি।

    রোজকার হিসেব রাখতে হবে, খুচরো খরচ নিজের হাতে করবে; বাড়ির সব কাজ দেখাশুনো করতে হবে-দরকার হলে বাজারে যেতে হবে, ফাই-ফরমাস খাটতে হবে বুঝলে?

    আজ্ঞে।

    তাহলে আজ থেকেই কাজে লেগে যাও। হ্যাঁ, আর একটা কথা। বাইরে থাকা চলবে না, এই বাড়িতেই থাকতে হবে। ওপরে যে-ঘরে আমার পুরোনো সেক্রেটারি থাকত, সেই ঘরে তুমি থাকবে।

    আজ্ঞে থাকব।

    সহসা যদুনাথের মনে সংশয়ের উদয় হইল। তিনি দ্বিধাভরে বলিলেন—কিন্তু—তোমার বিষয় কিছুই জানি না—তুমি লোক ভাল বটে তো হে?

    দিবাকর আহতস্বরে বলিল—আজ্ঞে আপনি এখনি আমার ঠিকুজি-কোষ্ঠী দেখলেন, আমি ভাল কি মন্দ তা আপনার চেয়ে বেশি আর কে জানে? আপনি তো আমার নাড়ী-নক্ষত্র জেনে নিয়েছেন।

    যদুনাথ নিরুদ্বেগ হইয়া বলিলেন—হ্যাঁ হ্যাঁ, তা বটে। তুমি মেষ। মেষ কখনো ঠগ জোচ্চোর মিথ্যাবাদী হতে পারে না। আমিও মেষ কিনা।

    দিবাকর পুলকিত স্বরে বলিল—আপনিও মেষ!

    যদুনাথ বলিলেন—হুঁ। বেশ তুমি থাকো বলেছিলাম কিনা যে শিগগিরই বরাত ফিরে যাবে?

    দিবাকর জোড়হস্তে বলিল—অদ্ভুত আপনার গণনা; বলতে না বলতে ফলে গেল। সত্যিই আমার বরাত ফিরেছে।

    যদুনাথ স্মিতমুখে উঠিয়া দাঁড়াইলেন এবং পিরানের বোম খুলিতে লাগিলেন।

    নন্দা, দিবাকরকে ওর ঘর দেখিয়ে দে। আমার স্নানের সময় হল—

    নন্দা দিবাকরকে বলিল—আসুন আমার সঙ্গে।

    নন্দার অনুগামী হইয়া দিবাকর সিঁড়ির দিকে চলিল। তাহারা সিঁড়ির পাদমূল পর্যন্ত পৌঁছিয়াছে এমন সময় মন্মথ খবরের কাগজ পড়িতে পড়িতে ড্রয়িংরুম হইতে বাহির হইয়া আসিল। দুই পক্ষের মুখোমুখি হইয়া গেল। নন্দা একটু থতমত হইল। বলিল—দাদা, ইনি দাদুর নতুন সেক্রেটারি দিবাকরবাবু।

    দিবাকর সবিনয়ে নমস্কার করিল। মন্মথ তাচ্ছিল্যভরে তাহার দিকে একবার ঘাড় নাড়িয়া কাগজ পড়িতে পড়িতে চলিয়া গেল। নন্দা ও দিবাকর সিঁড়ি দিয়া উপরে উঠিতে লাগিল।

    উপরের বারান্দায় নন্দা ও দিবাকর গিয়া দাঁড়াইয়াছে, নন্দার চোখে চাপা উত্তেজনা।

    নন্দা খাটো গলায় বলিল-প্রথমটা আমিও আপনাকে চিনতে পারিনি, গলা শুনে চিনলাম। দাদা আর সেবক তো–

    সে মুখে আঁচল দিয়া হাসি চাপা দিল।

    দিবাকর বলিল—ওঁদের সঙ্গে এমন অবস্থায় দেখা করতে হয়েছিল যে। আমিও ওঁদের চিনতে পারিনি।

    নন্দা গম্ভীর হইয়া বলিল—এটা আমার ঘর; এটা দাদার। আর এই ঘরে আপনি থাকবেন।

    নন্দার দরজার লাগাও আর একটা দরজা ভেজানো ছিল, নন্দা তাহা ঠেলিয়া খুলিয়া দিল। ঘরটি অপেক্ষাকৃত ছোট; আসবাবের মধ্যে একটা উলঙ্গ খাট, টেবিল ও চেয়ার।

    নন্দা বলিল—ঘরটা খালি পড়ে আছে, বিশেষ কিছু নেই। আমি আজই সাজিয়ে-গুছিয়ে দেব।

    দিবাকর তদগতভাবে বলিল—আর কিছু দরকার নেই; এই আমার পক্ষে স্বর্গ।

    নন্দা বলিল—কিন্তু দাদু চান আমরা যে ভাবে থাকি তাঁর সেক্রেটারিও সেইভারে থাকবে, ঠিক বাড়ির ছেলের মতো।

    দিবাকর বলিল-দেবতুল্য মানুষ আপনার দাদু। ওঁর সেবা করবার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য হয়েছি।—ওঁর ঘর কোনটা?

    নন্দা বলিল—দাদু ওপরে শোন না। একে তো বাতের ব্যথার জন্যে ওপর-নীচে করতে কষ্ট হয়, তাছাড়া ঠাকুরঘরে সূর্যমণি আছে—

    দিবাকর সরলভাবে বলিল—সূর্যমণির নাম শুনলাম নীচে, কি জিনিস বুঝতে পারলাম না।

    নন্দা ক্ষণেক নীরব থাকিয়া বলিল—সূর্যমণি আমাদের গৃহদেবতা।—দেখুন, আমি দাদুর কাছে আপনার সত্যিকার পরিচয় লুকিয়ে আপনাকে ভাল হবার সুযোগ দিয়েছি, একথা যেন ভুলে যাবেন না।

    হাত জোড় করিয়া দীনকণ্ঠে দিবাকর বলিল—আপনার দয়া কখনও ভুলব না।

    .

    সেইদিন অপরাহ্নে খোলা ফটকের সামনে দাঁড়াইয়া সেবক ও গুর্খা দারোয়ান বাক্যালাপ করিতেছিল।

    গুর্খা বলিল—আজ সুবেরকো পুলিস আয়ী থি। ফি ক্যা হুয়া, সেবকরামজী?

    সেবক বলিল—অনেক ব্যাপার হুয়া। দাদাবাবু তো সব ভেস্তে দিয়েছিল, আমি শেষ রক্ষে করলুম।

    ক্যাসা? ক্যাসা?

    দাদাবাবু পুলিসকে বললে—চোরটা ছিল রোগা-পটকা। আচ্ছা তুমিই বল তো গুরুঘণ্টাল সিং, তুমি তো দশ বছর ধরে দারোয়ানগিরি করছ, চোর কখনও রোগা-পটকা হয়?

    চোর হাম কভী দেখা নেই, সেবকরামজী। হামকো দেখনে সে হী দূরসে চোর ভাগতা হ্যায়।

    এই সময় বিলাতী বেশভূষায় সজ্জিত হইয়া মন্মথ বাহির হইয়া আসিল।

    গুর্খা স্যালুট করিল। সেবক মন্মথর কাছে ঘেঁষিয়া নিম্নস্বরে বলিল—মনে আছে তো? আজ ফিরতে দেরি করেছ–

    মন্মথ বিরক্তভাবে বলিল—আচ্ছা আচ্ছা

    রাস্তা দিয়া একটা খালি ট্যাক্সি যাইতেছিল, মন্মথ তাহাতে চড়িয়া চলিয়া গেল। সেবক গুর্খার দিকে ফিরিল–

    কি বলছিলে, চোর তোমাকে দেখেই পালিয়ে যায়? ভারি মদ্দ তুমি। কাল তবে বাড়িতে চোর ঢুকলো কি করে? তুমি যে বন্দুক ঘাড়ে করে পাহারা দিচ্ছিলে, কই, ধরতে পারলে না?

    গুর্খা বলিল—আরে হা কৈসে পাকড়েগা। চোর ফাটকসে ঘুসাথা থোড়ই।

    সেবক বলিল-নাই বা ঘুসা থা ফাটক দিয়ে। চোর ধরা তোমার কাজ, তুমি দারোয়ান। ধরনি কেন? তার বেলা এই সেবকরাম।

    গুর্খা বলিল-ক্যা তুম চোর পাড়াথা? সেবক বলিল—পাড়া থা নেই, কিন্তু দেখা থা। আর চোরের জুতো খুঁজে বার কিয়া থা। চোর কা জুতা? হুঁ হ্যাঁ, জুতো। তো জুতা লেকে তুম্ কা করেগা, চবায় গা? চোর তো ভাগ গয়া।

    সেবক চোখ পাকাইয়া বলিল—দ্যাখ গুরুঘন্টাল সিং, তুমি আমার সঙ্গে বুঝে-সমঝে কথা বলবে। চোরের জুতো আমি চিবোব কেন? চিবোতে হয় পুলিস চিবোক্।

    সেবক রুষ্ট মুখে বাড়ির দিকে চলিয়া গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাজদ্রোহী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }