Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প104 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. যদুনাথের হলঘর

    যদুনাথের হলঘর। ঘড়িতে সওয়া এগারোটা বাজিয়াছে।

    সেবক পুর্ববৎ দরজায় ঠেস দিয়া বসিয়া আছে, তাহার মাথাটি হাঁটুর উপর নত হইয়া পড়িয়াছে।

    উপরের ঘরে নন্দা পড়িতেছে। তাহার চক্ষু ঘুমে জড়াইয়া আসিতেছে। সে একটা হাই তুলিল; তারপর ঈষৎ সজাগ হইয়া আবার পড়িতে আরম্ভ করিল

    অমূং পুরঃ পশ্যসি দেবদারুম–

    বাড়ির ফটকের সম্মুখে গুর্খা দারোয়ান এখন আর পায়চারি করিতেছে না, ফটকের পাশে একটি টুলের উপর খাড়া বসিয়া আছে, দুই হাঁটুর মধ্যে বন্দুক। কিন্তু তাহার চক্ষুদুটি মুদ্রিত।

    বাগানের অভ্যন্তর অপরিস্ফুট জ্যোৎস্নায় ঈষদালোকিত।

    একটি মানুষ বাহিরের দিক হইতে পাঁচিলের উপর উঠিয়া বসিল, সতর্কভাবে এদিক ওদিক তাকাইয়া বাগানের মধ্যে লাফাইয়া পড়িল। লোকটির চেহারা শীর্ণ, মুখে কয়েক দিনের গোঁফ-দাড়ি, গায়ে ছিন্ন-মলিন কামিজ। চেহারা ও ভাবভঙ্গি দেখিয়া তাহাকে ছিচকে চোর বলিয়া মনে হয়।

    লঘু ক্ষিপ্রপদে চোর বাড়ির দিকে চলিল; আঁকাবাঁকাভাবে এক ঝোপ হইতে অন্য ঝোপে গিয়া ছায়ামূর্তির মতো সদর দরজার দিকে অগ্রসর হইল। শেষে বাড়ির গাড়ি বারান্দার পাশে একটা উঁই ফুলের ঝাড়ের পিছনে গিয়া লুকাইল।

    হল-ঘরের ভিতরে সেবক দরজায় ঠেস দিয়া ঘুমাইতেছে।

    ঘড়িটা ঠং করিয়া বাজিয়া উঠিতেই সেবক চমকিয়া মাথা তুলিল। সাড়ে এগারোটা। সে উদ্বিগ্ন মুখে উঠিয়া দাঁড়াইল।

    দ্বারের বাহিরে চোর উঁই ঝোপের আড়াল হইতে উঁকি মারিতেছিল, দ্বার খোলার শব্দে সে আবার লুকাইয়া পড়িল।

    অর্ধ-উন্মুক্ত দ্বারপথে সেবকের মুণ্ড দেখা গেল। সে ফটকের দিকে কিছুক্ষণ চাহিয়া রহিল, তারপর মুণ্ড টানিয়া লইয়া আবার দ্বার ভেজাইয়া দিল।

    সঙ্গে সঙ্গে চোর ঝোপের আড়াল হইতে বাহির হইয়া আসিল; নিঃশব্দে দ্বারের কাছে গিয়া কবাটে কান লাগাইয়া শুনিতে লাগিল।

    দ্বারের অপর পারে সেবক চিন্তিতমুখে দাঁড়াইয়া ভাবিতেছে—এখনও বাবুর ইয়ার্কি দেওয়া শেষ হইল না! গলার মধ্যে একটা শব্দ করিয়া সে দ্বারের হুড়কা লাগাইবার উদ্যোগ করিল, তারপর কি ভাবিয়া হুড়কা না লাগাইয়াই পা টানিয়া টানিয়া আবার সিঁড়ি দিয়া উপরে উঠিতে লাগিল।

    সেবকের পদশব্দ উপরে মিলাইয়া গেলে, সদর দরজা বাহিরের চাপে একটু খুলিয়া গেল। চোরের মাথা সেই ফাঁক দিয়া ভিতরে প্রবেশ করিয়া ক্ষিপ্র চকিত দৃষ্টিতে একবার চারিদিক দেখিয়া লইল, তারপর চোরের শরীরও ভিতরে প্রবেশ করিল।

    পিছনে দরজা ভেজাইয়া দিয়া চোর ক্ষণকাল সমস্ত শরীর শক্ত করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল; তারপর বিড়াল-পদক্ষেপে যদুনাথের শয়নকক্ষের দিকে অগ্রসর হইল।

    যদুনাথের দ্বারের বাহিরে দাঁড়াইয়া চোর উৎকর্ণভাবে শুনিল; ভিতর হইতে যদুনাথের মন্দ্রগভীর নাসিকাধ্বনি আসিতেছে। চোর তখন আরও কয়েক পা আগাইয়া গিয়া ঠাকুরঘরের সম্মুখে দাঁড়াইল; ঝুঁকিয়া দেখিল দ্বারে ভারী তালা ঝুলিতেছে।

    উপরে নন্দার দ্বারের কাছে দাঁড়াইয়া সেবক নন্দাকে বলিতেছে—তুমি আর কতক্ষণ জেগে থাকবে? খেয়ে-দেয়ে শুয়ে পড়।

    নন্দা বলিল—এত দেরি তো দাদা কোনও দিন করে না! কী হল আজ? না, আমি জেগে থাকব। আজ ফিরুক না, খুব বকবো।

    সেবক ক্ষুব্ধস্বরে বলিল-বকে আর কি হবে দিদিমণি, চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী। ও জানে আমরা তো আর ওকে কর্তার কাছে ধরিয়ে দিতে পারব না, তাই ওর অত বুকের পাটা।

    সেবক আবার নীচে নামিয়া আসিল।

    নীচে চোর ঠাকুরঘরের তালাটি নাড়িয়া-চাড়িয়া দেখিতেছিল, সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শুনিয়া চমকিয়া খাড়া হইল। সদর দরজা পর্যন্ত পৌঁছিবার আর সময় নাই, চোর ভোজনকক্ষের দ্বার খুলিয়া সুট করিয়া ভিতরে ঢুকিয়া পড়িল।

    সেবক নীচে নামিয়া আসিয়া চোরকে দেখিতে পাইল না, কেবল দেখিল ভোজনকক্ষের দরজা একটু ফাঁক হইয়া আছে। সে ভাবিল, হয়তো বিড়াল ঢুকিয়াছে, কিংবা মন্মথ, তাহার অবর্তমানে ফিরিয়া আসিয়া আহারে বসিয়াছে। সে গিয়া দ্বারের নিকট হইতে ভিতরে উঁকি মারিল কিন্তু বিড়াল কিংবা মন্মথকে দেখিতে পাইল না; মন্মথর খাবার যেমন ঢাকা ছিল তেমনি ঢাকা আছে। সেবক তখন দরজা বন্ধ করিয়া বাহির হইতে শিকল লাগাইয়া দিল, তারপর আবার সদর দরজার সম্মুখে গিয়া বসিল।

    .

    ভোজনকক্ষে চোর একটা আলমারির পাশে লুকাইয়াছিল। শিকল লাগানোর শব্দ তাহার কানে গিয়াছিল, সে সশঙ্ক মুখে বাহির হইয়া আসিল; সন্তর্পণে দ্বার টানিয়া দেখিল নির্গমনের পথ বন্ধ, খাঁচার মধ্যে ইদুরের মতো সে ধরা পড়িয়াছে। চোরের চক্ষু ভয়ে বিস্ফারিত হইল; সে ছুটিয়া গিয়া জানালা খুলিল। কিন্তু জানালায় মোটা মোটা লোহার গরাদ বসানো; উপরন্তু ঘরের উজ্জ্বল আলো জানালা পথে বাহিরে যাইতেছে, কাহারও দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারে। চোর তাড়াতাড়ি জানালা বন্ধ করিয়া দিল; তারপর হতাশভাবে দেয়ালে ঠেস দিয়া ঝাঁকড়া চুলের মধ্যে আঙুল চালাইতে লাগিল।

    আপন শয়নকক্ষে নন্দা পড়িতে পড়িতে বইয়ের উপর ঢুলিয়া পড়িতেছিল। একবার বইয়ের উপর মাথা ঠুকিয়া যাইতে তাহার ঘুমের ঘোর কাটিয়া গেল। সে উঠিয়া দ্বারের কাছে গেল, দ্বার খুলিয়া কিছুক্ষণ কান পাতিয়া শুনিল। নীচে সাড়াশব্দ নাই। নন্দা তখন বইখানা তুলিয়া লইয়া পায়চারি করিতে করিতে পড়া মুখস্থ করিতে লাগিল—

    একাতপত্ৰং জগতঃ প্রভুত্বম—

    ভোজনকক্ষে চোর পুর্ববৎ দেয়ালে ঠেস দিয়া দাঁড়াইয়াছিল। তাহার হতাশ বিভ্রান্ত চক্ষু ইতস্তত ঘুরিতে ঘুরিতে মন্মথর খাবারের উপর গিয়া স্থির হইল। সে কিছুক্ষণ চাহিয়া রহিল, তারপর গিয়া ঢাকা খুলিয়া দেখিল।

    খাবার দেখিয়া চোরের মুখে ক্লিষ্ট হাসির মতো একটা ভঙ্গিমা ফুটিয়া উঠিল। সে আসনে বসিল, গেলাস চকাইয়া হাত ধুইল, তারপর থালার দিকে হাত বাড়াইল। তাহার মনের ভাব, যদি ধর পড়িতেই হয় শূন্য উদরে ধরা পড়িয়া লাভ কি?

    ফটকের সম্মুখে গুর্খা দারোয়ান টুলের উপর খাড়া বসিয়া ঘুমাইতেছে। মন্মথ রাস্তার দিক হইতে আসিয়া তাহার কাঁধে টোকা মারিল। গুর্খা সটান উঠিয়া স্যালুট করিল, তারপর চাবি বাহির করিয় ফটক খুলিতে প্রবৃত্ত হইল। প্রশ্ন করিল—

    ক ঘড়ি ব্যজা হ্যায় সরকার?

    মন্মথ হাতের ঘড়ি দেখিবার ভান করিল।

    পৌনে দশটা। গুর্খা বলিল—জী সরকার।

    মন্মথ ভিতরে প্রবেশ করিল : গুর্খা আবার ফটকে তালা লাগাইল।

    হল-ঘরে সেবক হাঁটুতে মাথা রাখিয়া বসিয়া আছে। সদর দরজার মৃদু টোকা পড়িতেই সে উঠিয়া দ্বার অল্প খুলিল। মন্মথ পাশ কাটাইয়া প্রবেশ করিল।

    সেবক কটমট করিয়া চাহিয়া মন্মথর একটা হাত চাপিয়া ধরিল, চাপা গলায় বলিল—

    চল কর্তার কাছে। তিনি জেগে বসে আছেন। মন্মথ সভয়ে পিছু হটিল।

    অ্যাঁ—দাদু জেগে!

    সেবকের মুখে একটু হাসির আভাস দেখিয়া সে থামিয়া গেল; বুঝিতে পারিল সেবক মিথ্যা ভয় দেখাইতেছে। সে বিরক্ত হইয়া বলিল—দ্যাখ সেবক, এত রাত্রে ইয়ার্কি ভাল লাগে না। —নে জুতো খোল—

    সেবক নত হইয়া তাহার জুতার ফিতা খুলিতে লাগিল : মন্মথ ইতিমধ্যে কোট ও গলার টাই খুলিয়া ফেলিল।

    সেবক বলিল—এবারটা ছেড়ে দিলাম। কিন্তু ফের যদি দেরি করেছ—

    সেবক উঠিয়া কোট ও টাই মন্মথর হাত হইতে লইল—

    যাও, খেয়ে নাও গে। শুধু ইয়ার্কিতে পেট ভরে না।

    ঘরের এককোণে একটা আলনা ছিল, সেবক জুতা কোট প্রভৃতি লইয়া সেই দিকে রাখিতে গেল। মন্মথ পা টিপিয়া ভোজনকক্ষের দিকে চলিল।

    ভোজনকক্ষে চোর আসনে বসিয়া আহার আরম্ভ করিয়াছে এমন সময় হঠাৎ দ্বার খুলিয়া গেল। চোর চমকিয়া দেখিল এক ব্যক্তি দ্বারের সম্মুখে দাঁড়াইয়া!

    মন্মথও একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে তাহার খাদ্য আত্মসাৎ করিতে দেখিয়া ক্ষণেক স্তম্ভিত হইয়া রহিল, তারপর চিৎকার করিয়া উঠিল—

    অ্যাঁ–কে। চোর—চোর!

    চোর তড়াক করিয়া লাফাইয়া উঠিয়া একদিকে ছুটিল; মন্মথ চোর চোর বলিয়া চেঁচাইতে চেঁচাইতে তাহার পশ্চাদ্বাধন করিল। ঘরের মধ্যে এক পাক ঘুরিয়া চোর সাঁ করিয়া দ্বার দিয়া বাহির হইল; মন্মথও তাহার পিছনে বাহির হইল।

    হল-ঘরে সেবক মন্মথর চিৎকার শুনিয়া তাড়াতাড়ি ভোজনকক্ষের দিকে আসিতেছিল, চোর বিদ্যুদ্বেগে তাহাকে পাশ কাটাইয়া ঘরের অন্য দিকে পলায়ন করিল। কিন্তু মন্মথ সেবককে এড়াইতে পারিল না; সবেগে ঠোকাঠুকি হইয়া দুজনেই ভূমিসাৎ হইল এবং তারস্বরে চোর চোর বলিয়া চেঁচাইতে লাগিল।

    যদুনাথের ঘুম ভাঙিয়া গিয়াছিল। তিনি ধড়মড় করিয়া উঠিয়া প্রথমেই চাবির গোছাটা মুঠিতে চাপিয়া ধরিলেন, তারপর খোঁড়াইতে খোঁড়াইতে হল-ঘরে বাহির হইয়া আসিলেন।

    ওদিকে নন্দাও অপ্রত্যাশিত সোরগোল শুনিয়া দ্রুতপদে নীচে নামিয়া আসিল।

    চোর এতক্ষণ ড্রয়িংরুমের দ্বারের কাছে পর্দার আড়ালে লুকাইয়া ছিল; নন্দা নামিয়া আসিবার পর সে সরীসৃপের মতো নিঃশব্দে সিঁড়ি দিয়া উপরে অদৃশ্য হইয়া গেল।

    যদুনাথ ও নন্দা যখন ভূপতিত মন্মথ ও সেবকের কাছে উপস্থিত হইলেন তখন তাহারা পরস্পর ধরাধরি করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইবার চেষ্টা করিতেছে।

    যদুনাথ কড়া স্বরে বলিলেন-কি হয়েছে, এত চেঁচামেচি কিসের?

    মন্মথ ও সেবক একসঙ্গে বলিল—চোর চোর—

    নন্দা বলিয়া উঠিল—কই কোথায় চোর?

    সে চারিদিকে তাকাইল। যদুনাথ আর্তনাদ করিয়া উঠিলেন—

    অ্যাঁ—চোর! আমার সূর্যমণি—

    তিনি হাঁপাইতে হাঁপাইতে গিয়া ঠাকুরঘরের দ্বার খুলিলেন। দেখিলেন সূর্যমণি যথাস্থানে আছে, চুরি যায় নাই।

    যদুনাথ দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া বলিলেন-যাক, আছে—

    তিনি আবার ঠাকুরঘরে তালা লাগাইলেন। ইতিমধ্যে বাড়ির ভিতর হইতে আরও তিন-চারজন ভৃত্য উপস্থিত হইয়াছিল।

    মন্মথ তাহাদের বলিল—বাড়িতে চোর ঢুকেছে। খোঁজো তোমরা—ওপরে নীচে চারিদিকে খুঁজে দ্যাখো-যাও—

    চাকরেরা ইতি-উতি চাহিতে লাগিল, তারপর ভয়ে ভয়ে এদিকে ওদিকে প্রস্থান করিল।

    যদুনাথ মন্মথকে প্রশ্ন করিলেন—কোথায় ছিল চোর? কে দেখলে তাকে?

    মন্মথ থতমত খাইয়া বলিল—আমি খাবার জন্যে নীচে নেমে এসে দেখি—

    যদুনাথ সন্দিগ্ধভাবে বলিলেন—খাবার জন্যে? এত রাত্রে?

    মন্মথ বলিল—আমি—পৌনে দশটার সময় বাড়ি ফিরেছি কিন্তু খিদে ছিল না তাই নিজের ঘরে শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিলাম। তারপর এই মিনিট পাঁচেক আগে নেমে এসে খাবার ঘরে ঢুকে দেখি–

    ও—কি দেখলে?

    দেখি একটা লোক আমার আসনে বসে বসে খাচ্ছে—

    খাচ্ছে!

    হ্যাঁ, টপাটপ খাচ্ছে।

    নন্দা সহানুভূতির স্বরে বলিল—আহা বেচারা! হয়তো পেটের জ্বালাতেই চুরি করতে ঢুকেছিল—হয়তো কতদিন খেতে পায়নি?

    মন্মথ বলিল–তা জানি না। কিন্তু এদিকে আমার নাড়ী জ্বলে যাচ্ছে।

    নন্দা বলিল—এস তোমাকে খেতে দিই। আলমারিতে খাবার আছে।

    তাহারা ভোজনকক্ষে গেল; যদুনাথ ভ্রূ কুঞ্চিত করিয়া দাঁড়াইয়া রহিলেন। চাকরেরা বিভিন্ন দিক হইতে ফিরিয়া আসিল।

    জনৈক ভৃত্য বলিল—বাড়িতে চোর নেই বাবু, ওপর নীচে আঁতিপাতি করে খুঁজেছি।

    যদুনাথ বলিলেন—নেই তো গেল কোথায়? এই ছিল এই নেই—একি ভেলকিবাজি নাকি!-সদর দরজা খোলা রয়েছে, সেবক কই?

    এই সময় একজোড়া ছেঁড়া জুতা দুই হাতে আস্ফালন করিতে করিতে সেবক দরজা দিয়া প্রবেশ করিল।

    পেয়েছি! পেয়েছি!—এই দ্যাখো

    সেবক দুর্গন্ধ জুতাজোড়া যদুনাথের নাকের সম্মুখে ধরিল। যদুনাথ দ্রুত নাক সরাইয়া লইয়া বিরক্ত স্বরে বলিলেন—

    আ গেল যা। কি পেয়েছিস?

    সেবক বলিল—জুতো গো বাবু-জুতো। উঁই ঝাড়ের পেছনে জুতো খুলে রেখে বাড়িতে ঢুকেছিল

    যদুনাথ জুতার ছিন্ন গলিত অবস্থা নিরীক্ষণ করিলেন।

    হুঁ, সত্যিই ছিচকে চোর, খাবার লোভে বাড়িতে ঢুকেছিল। যা রাস্তায় ফেলে দিগে যা।

    সেবক লাফাইয়া উঠিল—ঐঃ। ফেলে দেব! পুলিসকে দিতে হবে না?

    যদুনাথ অস্ফুটস্বরে বলিলেন-পুলিস! হ্যাঁ, পুলিশকে খবর দেওয়া দরকার। কিছু বলা যায় না।

    ওদিকে ভোজনকক্ষে মন্মথ ও নন্দা মুখোমুখি দাঁড়াইয়া ছিল; মন্মথ একটা রেকাবি হাতে লইয়া আহার করিতেছিল। নন্দা ভর্ৎসনাপূর্ণ চক্ষে তাহার পানে চাহিয়া ছিল।

    মন্মথ চিবাইতে চিবাইতে বলিল—চোরে খাবার খেয়ে গেল—হুঁ!

    নন্দা বলিল—যেমন কর্ম তেমনি ফল। খাবেই তো চোর। আরও দেরি করে এস!

    মন্মথ বলিল-হুঁ।

    ওদিকে হল-ঘরে যদুনাথ চাকরদের বলিতেছেন—

    চোরটা পালিয়েছে যখন তখন আর কি হবে। তোরা যা, সাবধানে ঘুমোবি। আর সেবক, তুই ঠাকুরঘরের সামনে শুয়ে থাক। আজ অনেক রাত হয়েছে, কাল সকালে পুলিস ডাকব।

    অন্য ভৃত্যরা চলিয়া গেল। সেবক চোরের জুতাজোড়া বগলে করিয়া বলিল—ঠাকুরঘরের সামনেই শোব। কিন্তু জুতো ছাড়ছি না। কাল সকালে পুলিস এলেই বলব, এই ন্যাও জুতো!

    ইতিমধ্যে মন্মথ ও নন্দা ফিরিয়া আসিয়াছে। নন্দা বলিল—জুতো! কি হবে জুতো?

    সেবক বলিল—কী আর হবে? চোরের জুতো পেয়েছি, আজ রাত্তিরে মাথায় দিয়ে শুয়ে থাকব। তারপর কাল সকালে দেখো।

    মন্মথ বলিল—মাথা খারাপ।

    যদুনাথ নন্দা ও মন্মথকে বলিলেন—তোমরা শুয়ে পড় গিয়ে। রাত হয়েছে।

    যদুনাথ নিজ কক্ষে ফিরিয়া গেলেন। নন্দা ও মন্মথ সিঁড়ি দিয়া উপরে চলিল। সেবক জুতাজোড়া বালিশের মতো মাথায় দিয়া ঠাকুরঘরের সম্মুখে শয়নের উদ্যোগ করিল।

    নন্দা ও মন্মথ উপরে আসিয়া নিজেদের ঘরের দরজার সম্মুখে দাঁড়াইল। নন্দার দরজা খোলা রহিয়াছে, ভিতরে আলো জ্বলিতেছে। মন্মথ নিজের ঘরের দরজা ঠেলিয়া ভিতরে প্রবেশ করিতে যাইবে এমন সময় নন্দা মিনতির সুরে বলিয়া উঠিল—

    দাদা, কেন রোজ রোজ এত দেরি কর বল দেখি? আজ তো আর একটু হলেই ধরা পড়ে গিয়েছিলে।

    আমি কি ছেলেমানুষ? কচি খোকা?

    নন্দা বলিল—না। কিন্তু সে কথা দাদুকে বললেই পারো। আমরা কেন রোজ রোজ তোমার জন্যে দাদুর কাছে মিছে কথা বলব? জানো একটা মিছে কথা বলার জন্যে দাদু আজ ভুবনবাবুকে বিদেয় করে দিয়েছেন?

    মন্মথ রুষ্ট কণ্ঠে বলিল—যথেষ্ট হয়েছে, আমাকে আর লেকচার দিও না। আমি তোমার দাদা, তুমি আমার দিদি নও।

    মন্মথ নিজের ঘরে ঢুকিয়া দ্বার বন্ধ করিয়া দিল। নন্দা কিয়ৎকাল দাঁড়াইয়া নীরবে অধর দংশন করিল, তারপর ফিরিয়া নিজ কক্ষে প্রবেশ করিল এবং বেশ একটু জোরের সঙ্গে দ্বারের ছিটকিনি লাগাইয়া দিল। তারপর বিরক্ত আহত মুখে ওয়ার্ডরোবের সম্মুখে দাঁড়াইয়া চুলের বিননি খুলিতে লাগিল।

    ওদিকে মন্মথ নিজের ঘরে গিয়া আলো জ্বালিয়াছিল। ঘরটি নন্দার ঘরের জোড়া; ওয়ার্ডরোবের স্থানে একটি ড্রেসিং টেবিল আছে। মন্মথ ইতিমধ্যে পায়জামার উপর ড্রেসিং গাউন পরিয়াছে, সিগারেট ধরাইয়াছে। এখন সে টেবিলের সম্মুখে বসিয়া একটি দেরাজ খুলিল; দেরাজ হইতে লিলির একটি ছোট ফটোগ্রাফ বাহির করিয়া একদৃষ্টে তাহার পানে চাহিয়া রহিল এবং ঘন ঘন সিগারেট টানিতে লাগিল।

    নন্দা নিজের ঘরে চুল আঁচড়ানো শেষ করিয়া আলনা হইতে কোঁচানো আটপৌরে শাড়ি লইয়া রাত্রির জন্য বেশ পরিবর্তন করিতে আরম্ভ করিয়াছে এমন সময় এক অদ্ভুত ব্যাপার ঘটিল। নন্দা সত্ৰাসে দেখিল, ওয়ার্ডরোবের দ্বার ধীরে ধীরে খুলিয়া যাইতেছে, যেন, ভিতর হইতে কেহ দ্বার ঠেলিয়া খুলিতেছে।

    নন্দার অবস্থা শোচনীয় হইয়া উঠিল। তাহার বস্ত্র পরিবর্তন ক্রিয়া তখন মধ্যপথে। সে ভয় ও লজ্জায় জড়সড় হইয়া চাপা গলায় বলিয়া উঠিল—

    কে?

    অমনি ওয়ার্ডরোবের ঈষন্মুক্ত দ্বারপথে একজোড়া যুক্তকর বাহির হইয়া আসিল, সেই সঙ্গে কাতর, কণ্ঠস্বর শুনা গেল—

    আমাকে মাফ করুন

    কণ্ঠস্বর পুরুষের, কিন্তু অতিশয় করুণ। তার উপর জোড় করা হাত দুটি বিনীতভাবে বাহির হইয়া আছে। নন্দা প্রথমে ত্রাসের ধাক্কা সামলাইয়া লইয়া ক্ষিপ্র হস্তে বস্ত্র পরিবর্তন করিতে লাগিল।

    তুমি কে?

    আমি—আমি চোর।

    চোর!

    ভয় পাবেন না। আমি আপনার কোনও অনিষ্ট করব না। যদি অনুমতি করেন, বেরিয়ে আসব কি?

    না না, এখন বেরিও না।

    আচ্ছা। দেখুন, আমার কোনও কু-মতলব নেই, আমি ধরা পড়বার ভয়ে লুকিয়ে আছি। আমাকে ক্ষমা করুন।

    নন্দা এতক্ষণে বস্ত্র পরিবর্তন সম্পন্ন করিয়াছে। চোরের দীনতা দেখিয়া সে অনেকখানি সাহস ফিরিয়া পাইল। সঙ্গে সঙ্গে এই অদ্ভুত পরিস্থিতির নূতনত্ব তাহাকে উত্তেজিত করিয়া তুলিল। চেঁচামেচি করিয়া লোক ডাকিলে চোরকে সহজেই ধরা যায়। কিন্তু না তাহা করিল না। সে স্বভাবতই সাহসিনী। কোমরে আঁচল জড়াইয়া সে নিজের পড়ার টেবিলের কাছে গেল; টেবিলের উপর একটি রুল ছিল, দৃঢ় মুষ্টিতে সেটি ধরিয়া সে চোরের দিকে ফিরিল। বলিল—

    এবার বেরিয়ে এস।

    চোর যুক্তকরে ওয়ার্ডরোব হইতে বাহির হইয়া আসিল।

    নন্দা রুল তুলিয়া বলিল—দাঁড়াও—আর এগিয়ো না।

    চোর অমনি দাঁড়াইয়া পড়িল। নন্দা ইতিপূর্বে কখনও চোর দেখে নাই, চোর সম্বন্ধে একটা প্রেত-পিশাচ জাতীয় ধারণা তাহার মনে ছিল। কিন্তু এই চোরের মূর্তি দেখিয়া তাহার সমস্ত ভয় দুর হইল। চোর নিতান্ত নির্জীব প্রাণী। সে সতেজে প্রশ্ন করিল—

    তুমি আমার ঘরে ঢুকলে কি করে?

    চোর কাতর কণ্ঠে বলিল—আমাকে তাড়া করেছিল, তাই পালাবার রাস্তা না পেয়ে ওপরে পালিয়ে এসেছিলাম-দোহাই আপনার, আমাকে পুলিসে দেবেন না।

    চোর দীন নেত্রে নন্দার মুখের পানে চাহিল।

    নন্দা বলিল—তুমি চুরি করবার জন্যে এ বাড়িতে ঢুকেছিলে?

    চোর উত্তর দিল না, লজ্জাহত চক্ষু নত করিল। নন্দার মনে দয়া হইল; কিন্তু তাহার ভাবভঙ্গি নরম হইল না। রুলের দ্বারা চেয়ার দেখাইয়া সে কড়া সুরে বলিল—

    বোস ঐ চেয়ারে।

    চোর সঙ্কুচিতভাবে চেয়ারের কানায় বসিল।

    নন্দা বলিল—তোমার নাম কি?

    দিবাকর-দিবাকর রায়।

    নন্দা সবিস্ময়ে প্রতিধ্বনি করিল—দিবাকর রায়। ভদ্রলোকের ছেলে হয়ে তুমি চুরি কর।

    দিবাকর কাতরভাবে বলিল—আমি বড় গরীব কাজকর্ম পাইনি

    নন্দা প্রশ্ন করিল—কাজকর্ম পাওনি কেন? লেখাপড়া করেছ?

    চোর ছাড়া-ছাড়া ভাবে উত্তর দিল—ম্যাট্রিক পর্যন্ত পড়েছিলাম—পাস করতে পারিনি। আবার বাবা ভদ্রলোক ছিলেন, কিন্তু তিনি হঠাৎ মারা গেলেন—কিছু রেখে যেতে পারেননি। মা অনাহারে মারা গেলেন–তারপর—তারপর কাজ যোগাড় করবার অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু কেউ কাজ দিলে না। তাই শেষ পর্যন্ত পেটের জ্বালায়

    নন্দার মুখ এবার করুণায় কোমল হইল।

    পেটের জ্বালায়! তাই বুঝি তুমি খাবারঘরে ঢুকে খেতে বসেছিলে?

    দিবাকর বলিল—হ্যাঁ। সবে একটি গ্রাস মুখে তুলেছি এমন সময়

    আহা বেচারা! এখনও বোধ হয় তোমার পেট জ্বলছে?

    ও কিছু নয়। আমার অভ্যেস আছে।

    নন্দা টেবিলের উপর রুল রাখিয়া দিল, সদয় কণ্ঠে বলিল—

    তুমি খাবে? আমার ঘরে খাবার আছে।

    দিবাকর চেয়ার হইতে উঠিয়া উচ্চকিতভাবে চাহিল।

    খাবার!!

    হ্যাঁ—এই যে। এস।

    নন্দার অনুবর্তী হইয়া দিবাকর চরকি আলমারির কাছে গিয়া দাঁড়াইল, সাগ্রহে খাদ্যদ্রব্যগুলি দেখিয়া নন্দার পানে চোখ তুলিল।

    আমাকে এই সব খেতে বলছেন?

    হ্যাঁ-খাও না।

    আপনার দয়া জীবনে ভুলতে পারব না

    এক টুকরা খাদ্য তুলিয়া মুখে দিতে গিয়া দিবাকর সহসা থামিয়া গেল।

    কিন্তু—এ তো আপনার খাবার!

    নন্দা বলিল—তাতে কি! তুমি খাও।

    দুঃখিতভাবে মাথা নাড়িয়া দিবাকর খাদ্য থালায় রাখিয়া দিল।

    না, আপনার মুখের খাবার খেতে পারব না। আপনার নিশ্চয় খিদে পেয়েছে।

    নন্দা বলিল—না, আমার খিদে নেই। তুমি খাও না

    দিবাকর বলিল—মাফ করবেন, আমি পারব না। আপনার কষ্ট হবে।

    নন্দা এবার হাসিয়া বলিল—আচ্ছা, আমিও খাচ্ছি। এবার খাবে তো?

    নন্দা থালা হইতে চিংড়ি মাছের কাটলেট তুলিয়া লইয়া তাহাতে একটু কামড় দিল। দিবাকরের মুখে এতক্ষণে হাসি দেখা দিল। সে একটা লুচি লইয়া মুখে পুরিল। চরকি আলমারির দুই পাশে দাঁড়াইয়া চোর ও গৃহকন্যার যৌথ ভোজন আরম্ভ হইল।

    মন্মথ এখনও শয়ন করে নাই, সিগারেট টানিতে টানিতে নিজের ঘরে পায়চারি করিতেছিল। বন্ধ। দরজার সম্মুখ দিয়া যাতায়াত করিবার সময় বাহির হইতে অস্পষ্ট বাক্যালাপ তাহার কানে আসিতেছিল; কিন্তু এতক্ষণ সেদিকে সে মন দেয় নাই। এখন সে হেঁট মুখে দাঁড়াইয়া শুনিবার চেষ্টা করিল, তারপর ভ্রু কুঞ্চিত করিয়া দ্বারের দিকে চলিল।

    নন্দার ঘরে দুজনের আহার তখন প্রায় শেষ হইয়াছে, দ্বারে ঠকঠক শব্দ শুনিয়া উভয়ে চমকিয়া উঠিল। নন্দা চকিতে নিজের ঠোঁটের উপর আঙুল রাখিয়া দিবাকরকে নীরব থাকিতে ইঙ্গিত করিল, তারপর দ্বারের দিকে ফিরিয়া উচ্চ কণ্ঠে বলিল

    কে?

    দ্বারের অপর পার হইতে মন্মথর কণ্ঠস্বর আসিল—

    আমি। দোর খোলো।

    দাদা! কি দরকার?

    দোর খোলো–কার সঙ্গে কথা কইছ?

    নন্দা নীরবে দিবাকরকে ইশারা করিল, দিবাকর আলমারির পিছনে বসিয়া পড়িল। তখন নন্দা রঘুবংশ বইখানা তুলিয়া লইয়া দ্বারের ছিটকিনি খুলিয়া দাঁড়াইল, ঈষৎ বিরক্তির স্বরে বলিল—এত রাত্রে তোমার আবার কি হল!

    মন্মথ সন্দিগ্ধভাবে ঘরের এদিক ওদিক উঁকি মারিল, বলিল—

    তুমি এখনও ঘুমোওনি?

    না। কিছু দরকার আছে?

    মনে হল তুমি কার সঙ্গে কথা কইছ।

    কথা কইছি! সে কি? ও-

    নন্দা হাসিয়া উঠিল। হাতে খোলা বই দেখাইয়া বলিল—

    পড়া মুখস্থ করছিলাম।

    এত রাত্রে পড়া মুখস্থ।

    হ্যাঁ। শুনবে? শোনো

    অমূং পুরঃ পশ্যসি দেবদারুম্
    পুত্ৰীকৃতহসৌ বৃষভধ্বজেন।

    মন্মথ উত্যক্তভাবে বলিল-থাক, দুপুর রাত্রে শ্লোক আওড়াতে হবে না।

    সে নিজের ঘরে চলিয়া গেল। নন্দা আবার দ্বার বন্ধ করিল। যেন মস্ত একটা ফাঁড়া কাটিয়াছে এমনিভাবে সুদীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিয়া সে বইখানা টেবিলের উপর ফেলিল। দিবাকরের মুণ্ড চরকি আলমারির পিছন হইতে ধীরে ধীরে জাগিয়া উঠিল। চোখে চোখে বাক্য বিনিময় হইল।

    অতঃপর তাহাদের কথাবার্তা অনুচ্চ ফিসফিস্ স্বরে হইতে লাগিল।

    দিবাকর বলিল—আপনি দুবার আমাকে রক্ষা করলেন। এবার আমি যাই।

    নন্দা বলিল—হাঁ, এবার তোমাকে যেতে হবে! কিন্তু যাবে কোন্ দিক দিয়ে?

    দিবাকর খোলা জানালার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিল—

    বাগানে কেউ আছে কিনা দয়া করে একবার দেখবেন কি?

    একটু বিস্মিত হইয়া নন্দা জানালার কাছে গিয়া নীচে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিল। চাঁদ অস্ত গিয়াছে, নীচে বড় কিছু দেখা যায় না।

    নন্দা বলিল—না, কেউ নেই।

    দিবাকর বলিল—তাহলে আমি জানালা দিয়েই

    নন্দা সরিয়া আসিল; দিবাকর গিয়া জানালা দিয়া উঁকি মারিল।

    নন্দা বলিল—কিন্তু যদি পড়ে যাও, হাত-পা ভাঙবে

    দিবাকর বলিল—না, পড়ব না, একটা জলের পাইপ আছে।—হাত জোড় করিয়া বলিল—আমাকে আপনি অনেক দয়া করেছেন, এবার বিদায় দিন।

    নন্দা আঙুল তুলিয়া বলিল—কিন্তু মনে রেখো, আর কখনও চুরি করবে না। তুমি পুরুষ, ভদ্রসন্তান; কাজ করবে।

    দিবাকর বলিল—কাজ পাব কোথায়? যখন কুলি-কাবাড়ীর কাজ পাই তখন করি; আর যখন পাই না-পেটের দায় বড় দায়।

    আচমকা একটা কথা নন্দার মনে পড়িয়া গেল; সে বিস্ফারিত নেত্রে কিছুক্ষণ শুন্যে তাকাইয়া রহিল। বড় দুঃসাহসের কথা, কিন্তু একটা হতভাগাকে যদি সৎ পথে আনা যায়। নন্দা দিবাকরের কাছে এক-পা সরিয়া আসিয়া চাপা উত্তেজনার কণ্ঠে বলিল

    আমি যদি তোমাকে কাজ দিই, তুমি কাজ করবে?

    দিবাকর চমকিয়া উঠিল—কাজ! আপনি আমাকে কাজ দেবেন।

    নন্দা বলিল—দিতে পারি। আমার দাদুর একজন সেক্রেটারি চাই। তুমি হিসেব-নিকেশের কাজ জানো?

    দিবাকর দ্বিধাভরে বলিল—তা—একটু একটু জানি।

    তা হলেই হবে। কিন্তু মনে থাকে যেন, যদি এক পয়সা চুরি হয় তাহলে পুলিশে ধরিয়ে দেব।

    বিশ্বাস করুন, কাজ পেলে আমি চুরি করব না। চুরি করা আমার স্বভাব নয়; অভাবে পড়েই

    আচ্ছা। বেশ।

    নন্দা ওয়ার্ডরোব হইতে একটা দশটাকার নোট লইয়া দিবাকরের হাতে দিল। দিবাকরের মুখ কৃতজ্ঞতায় ব্যাকুল হইয়া উঠিল।

    নন্দা বলিল—এই নাও দশটাকা। এখন যা বলি শোন। কাল সকালে বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ভাল কাপড়-চোপড় পরে দাদুর সঙ্গে দেখা করতে আসবে।

    দিবাকর বলিল—আপনি যা বলবেন তাই করব। আর কি করব বলুন। চাকরির কথা আপনার দাদুকে বলব কি?

    নন্দা গালে আঙুল ঠেকাইয়া ক্ষণেক চিন্তা করিল। শেষে বলিল—না, তাতে গণ্ডগোল হতে পারে। শোন, আমার দাদু জ্যোতিষ চর্চা করেন। তুমি বলবে, তাঁর নাম শুনে এসেছ; তোমার। কাজকর্ম নেই কবে কাজকর্ম হবে তাই জানতে এসেছ। বুঝলে?

    আজ্ঞে বুঝেছি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। কাল সকালে আমি আসব।

    আবার জোড়হস্তে নন্দাকে নমস্কার করিয়া দিবাকর জানালা পার হইল; তারপর তাহার মস্তক জানালার নীচে অন্তর্হিত হইয়া গেল।

    নন্দা আসিয়া কিছুক্ষণ জানালার নীচে চাহিয়া রহিল; পরে জানালা বন্ধ করিয়া দিল। তাহার মুখে ভয় সংশয় এবং উত্তেজনা মিশিয়া এক অপূর্ব ভাবব্যঞ্জনা ফুটিয়া উঠিল। গত একঘন্টা ধরিয়া এই ঘরে যে ব্যাপার ঘটিয়াছে তাহা স্বপ্ন না সত্য? নিজের দুঃসাহসের কথা ভাবিয়া সে নিজেই স্তম্ভিত হইয়া গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাজদ্রোহী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }