Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প104 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. চন্দ্রহীন রাত্রি

    চন্দ্রহীন রাত্রি। নন্দার ঘরে ক্ষীণ নৈশ-দীপ জ্বলিতেছে। নন্দা এখনও শয়ন করে নাই, জানালায় দাঁড়াইয়া নক্ষত্রখচিত অন্ধকারের পানে চাহিয়া আছে। আজ সে নিজের মনের কথা জানিতে পারিয়াছে; দিবাকরের প্রতি তাহার মনের ভাব শুধুই করুণা বা সহানুভূতি নয়।

    তাহার চোখদুটি তারায় তারায় সঞ্চরণ করিতেছে। তারপর তাহার কণ্ঠ হইতে মৃদু বিগলিত সঙ্গীত বাহির হইয়া আসিল

    দুজনে কইব কথা কানে কানে কানে কানে
    যেন তা কেউ না জানে কেউ না জানে।
    যে কথা যায় না ধরা যায় না ছোঁয়া
    তাহারি বেদন রবে গোপন প্রাণে।
    দুজনে কইব কথা–।
    যদি রই দূরে দূরে– দূরে দূরে—
    তুমি রও পথের পাশে, আমি রই গৃহচূড়ে
    তবুও ঘনিয়ে আসা সন্ধ্যালোকে
    দুজনে কইব কথা চোখে চোখে।
    দুজনে কইব কথা–।
    যদি বা দেখা না পাই হারাই দিশা
    নয়নে নেমে আসে অন্ধ নিশা
    তখনও ক্ষণে ক্ষণে–ক্ষণে ক্ষণে–
    দুজনে কইব কথা মনে মনে।
    দুজনে কইব কথা–।

    কোনও অশরীরী যদি জানালার বাহিরে উপস্থিত থাকিত তাহা হইলে দেখিতে পাইত, নন্দার জানালার পাশে আর একটি জানালায় একজন বিনিদ্র শ্রোতা দাঁড়াইয়া আছে ও তন্ময় হইয়া গান শুনিতেছে।

    .

    রাত্রি আরও গভীর হইয়াছে। দিবাকর আপন শয্যায় শয়ন করিয়া নিষ্পলক নেত্রে শূন্যে চাহিয়া আছে। ভোগবতীর ন্যায় কোন্ অন্তর্গূঢ় পথে তাহার চিন্তার ধারা প্রবাহিত হইতেছে তাহা তাহার মুখ দেখিয়া অনুমান করা যায় না।

    নীচে হল-ঘরে ঘড়িতে দুইটা বাজিল। রাত্রির স্তব্ধতায় তাহার আওয়াজ উপরে ভাসিয়া আসিল। দিবাকর বিছানায় উঠিয়া বসিল। বস্ত্রাদি সংবরণ করিয়া খাট হইতে নামিল এবং নিঃশব্দে ঘর হইতে বাহির হইল।

    বারান্দা পার হইয়া সে সিঁড়ি দিয়া নীচে নামিতে লাগিল। এই সময় নন্দার ঘরের দ্বার অল্প একটু খুলিয়া গেল। নন্দা মুখ বাড়াইয়া ক্ষণেক সিঁড়ির দিকে চাহিয়া রহিল; তাহার মুখ আবার সংশয়ের ছায়ায় আচ্ছন্ন হইয়াছে।

    নন্দা বাহির হইয়া পা টিপিয়া টিপিয়া সিঁড়ির মাথা পর্যন্ত গেল, নীচে উঁকি মারিল; তারপর দ্রুত ফিরিয়া আসিয়া নিজের ঘরের দ্বার বন্ধ করিয়া দিল।

    কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল দিবাকর ফিরিয়া আসিতেছে। তাহার হাতে কি একটা রহিয়াছে, অন্ধকারে ভাল দেখা গেল না।

    দিবাকর লঘুপদে নন্দার দ্বারের সম্মুখ দিয়া নিজের ঘরের দিকে যাইবে এমন সময় নন্দার দ্বার সহসা খুলিয়া গেল। দিবাকর থতমত খাইয়া হাত পিছনে লুকাইল।

    নন্দা ইশারা করিয়া তাহাকে কাছে ডাকিল, খাটো গলায় বলিল–কোথায় গিয়েছিলেন?

    দিবাকর বলিল—নীচে। একটু দরকার ছিল।

    এত রাত্রে কী দরকার?

    দিবাকর চুপ করিয়া রহিল।

    নন্দা তখন বলিল—আপনার হাতে ও কি? লুকোচ্ছেন কেন?

    একখানা বই।

    বই!! কী বই? দেখি—

    একটু ইতস্তত করিয়া দিবাকর বইখানি নন্দার হাতে দিল। নন্দা বই চোখের কাছে আনিয়া শিরোনামা পড়িয়া অবাক হইয়া গেল। মহাত্মা গান্ধীর আত্মজীবনী, বাংলা অনুবাদ।

    মহাত্মা গান্ধীর আত্মজীবনী! এ বই–?

    নন্দা উৎফুল্ল বিস্ময়ে দিবাকরের পানে চাহিল। দিবাকর একটু নীরব থাকিয়া ধরাধরা গলায় বলিল—পড়ব। মহাপুরুষদের জীবনী আমার মতো পথহারাকে পথ দেখাবার জন্যেই তো লেখা হয়েছে।

    নন্দার হৃদয় যেন দ্রবীভূত হইয়া টলমল করিতে লাগিল। সে বইখানি দিবাকরের হাতে ফিরাইয়া দিল। মহাপুরুষের পূত জীবনচরিতের উপর তাহাদের হাতে হাত মিলিত হইল।

    .

    সোনালী রৌদ্রভরা প্রভাত।

    বাড়ির পাশে গোলাপ বাগান; শিশিরে ঝলমল করিতেছে। নন্দা একটি গানের কলি মৃদুকণ্ঠে গুঞ্জন করিতে করিতে ফুল তুলিতেছিল। তাহার মুখখানি শিশির-খচিত অর্ধ-বিকচ গোলাপ ফুলের মতোই নবোন্মোষিত অনুরাগের বর্ণে রঞ্জিত।

    কয়েকটি সবৃন্ত গোলাপ তুলিয়া নন্দা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করিল। ঠাকুরঘর হইতে ঠুং ঠুং ঘন্টির আওয়াজ আসিতেছে। যদুনাথ পূজায় বসিয়াছেন; যুক্ত করে মুদিত চক্ষে মন্ত্র পড়িতেছেন, আর মাঝে মাঝে ঘণ্টি নাড়িতেছেন। নন্দা আসিয়া দুইটি গোলাপ ফুল ঠাকুরের সিংহাসন প্রান্তে রাখিয়া প্রণাম করিল, তারপর নিঃশব্দে বাহির হইয়া গেল।

    ড্রয়িংরুমে দিবাকর খোলা জানালায় পিঠ দিয়া খবরের কাগজ পড়িতেছে, কাগজে তাহার মুখ ঢাকা পড়িয়াছে। নন্দা আসিয়া টেবিলের ফুলদানিতে ফুল রাখিল। দিবাকর কাগজে মগ্ন, নন্দার আগমন জানিতে পারিল না। না তখন একটু গলা ঝাড়া দিয়া নিজের অস্তিত্ব জানাইয়া দিল। দিবাকর তাড়াতাড়ি কাগজ নামাইয়া দেখিল, নন্দা ঘাড় বাঁকাইয়া মৃদু হাসিতে হাসিতে ঘর হইতে বাহির হইয়া যাইতেছে।

    উপরে নিজের ঘরে গিয়া নন্দা বাকি ফুলগুলি ফুলদানিতে সাজাইয়া রাখিল। কিন্তু একটি ফুলের স্থানাভাব ঘটিল, ফুলদানিতে ধরিল না। নন্দা ফুলটি হাতে লইয়া এদিক ওদিক তাকাইল, কিন্তু কোথাও ফুলটি রাখিবার উপযুক্ত স্থান পাইল না। তখন সে মুখ টিপিয়া একটু হাসিয়া ঘর হইতে বাহির হইল।

    দিবাকরের ঘরে চুপি চুপি প্রবেশ করিয়া নন্দা দেখিল সেখানেও ফুল রাখিবার কোনও পাত্র নাই। দিবাকরের সদ্যপরিষ্কৃত বিছানা পাতা রহিয়াছে। নন্দা গিয়া ফুলটি মাথার বালিশের উপর রাখিয়া দিল, তারপর লজ্জারুণ মুখে ঘর হইতে পলাইল আসিল।

    নীচে ড্রয়িংরুমে দিবাকর তখনও সংবাদপত্র পাঠ শেষ করে নাই, যদুনাথ লাঠি ধরিয়া ঘরে প্রবেশ করিলেন; তাঁহার পশ্চাতে সেবক।

    যদুনাথ বলিলেন—এই যে দিবাকর

    দিবাকর তাড়াতাড়ি কাগজ মুড়িয়া আগাইয়া আসিল।

    আজ্ঞে—

    যদুনাথ চেয়ারে বসিলেন। তাঁহার মুখ দেখিয়া মনে হয় দিবাকরের প্রতি তাঁহার প্রীতির ভাব আরও গভীর হইয়াছে। তিনি প্রশ্ন করিলেন—তারপর, কাগজে নতুন খবর কিছু আছে কি?

    দিবাকর বলিল—কিছু না। তবে জিনিসপত্তরের দাম বেড়েই চলেছে; একে লগনসা চলছে, তার ওপর দোলও এসে পড়ল—

    যদুনাথ বলিলেন—ওঃ তাই তো, দোল এসে পড়ল; এখনও দোলের বাজার করা হয়নি। সেবক, নন্দাকে ডাক—

    সেবক হাত ঘষিতে ঘষিতে বলিল—এবার কিন্তু বাবু আমার এক শিশি চামেলির তেল চাই, তা বলে দিচ্ছি।

    তুই চামেলির তেল কি করবি?

    বৌ চেয়েছে। বলিয়া সেবক সলজ্জভাবে নন্দাকে ডাকিতে গেল।

    দিবাকর জিজ্ঞাসা করিল–কি কি বাজার করতে হবে?

    যদুনাথ বলিলেন—আমি কি ছাই সব জানি! নন্দা জানে। পুজোর সময় আর দোলের সময় অনেক বাজার করতে হয়; নিজেদের জন্যে, চাকরবাকরদের জন্যে কাপড়-চোপড়, আরো কত কি। এই যে নন্দা।

    সেবকের দ্বারা অনুসৃত হইয়া নন্দা প্রবেশ করিল। বলিল—

    দাদু, আজ কি দোলের বাজার করতে যাওয়া হবে?

    যদুনাথ বলিলেন-আজ! তা বেশ, আজই যা।

    নন্দা বলিল—তুমি যাবে না?

    আমি পারব না, আমার হাঁটুর ব্যথাটা বেড়েছে। মন্মথ কোথায়?

    দাদা ঘুমচ্ছে। দাদা কি নটার আগে কোনও দিন বিছানা ছেড়ে ওঠে!

    হুঁ, লগ্নে কেতু কিনা, ও তো আলসেকুঁড়ে হবেই। তমোগুণ—তমোগুণ। তা দিবাকর যাক তোর সঙ্গে।

    নন্দা মনে মনে খুশি হইল, কিন্তু বাহিরে তাহা প্রকাশ করিল না। বলিল—বেশ তো। কেউ একজন হলেই হল।

    দিবাকর বলিল—কি কি কিনতে হবে তার একটা ফিরিস্তি—

    নন্দা বলিল—ফিরিস্তি আমার তৈরি আছে।

    সেবক বলিল—আমার চামেলি তেল কিন্তু ভুলো না দিদিমণি।

    নন্দা বলিল—আচ্ছা আচ্ছা। তুই ড্রাইভারকে গাড়ি বার করতে বল্। সকাল সকাল বেরিয়ে পড়া ভাল, বারোটার আগে ফিরতে পারব।

    সেবক বলিল-ডেলেভর কোথায়? ডেলেভর তো দুদিনের ছুটি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গেছে।

    যদুনাথ মুখ তুলিলেন—সত্যি তো, আমার মনে ছিল না। তা আজ না হয় থাক; কাল যাস নন্দা।

    নন্দা ক্ষুণ্ণ হইল। বাজার করিতে যাইবার প্রস্তাবে বিঘ্ন ঘটিলে মেয়েরা স্বভাবতই মনঃপীড়া পান। দিবাকর তাহা দেখিয়া সঙ্কোচভরে বলিল—

    তা যদি হুকুম করেন আমি মোটর চালিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

    যদুনাথ ও নন্দা উভয়েরই চক্ষু বিস্ফারিত হইল।

    যদুনাথ বলিলেন—অ্যা। তুমি মোটর চালাতেও জানো?

    দিবাকর বলিল—আজ্ঞে কিছুদিন মোটর-ড্রাইভারের চাকরি করেছিলাম—

    যদুনাথ খুশি হইলেন-বা বা। তুমি তো দেখছি ঝালে ঝোলে অম্বলে সব তাতেই আছ! বেশ বেশ। হবেই বা না কেন? হাজার হোক মেষ! তাহলে নন্দা, দুর্গা বলে বেরিয়ে পড়—

    হ্যাঁ দাদু, আমি পাঁচ মিনিটে তৈরি হয়ে নিচ্ছি।

    নন্দা বস্ত্রাদি পরিবর্তনের জন্য দ্রুত চঞ্চল আনন্দে ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।

    .

    রাজপথ। যদুনাথের মিনার্ভা গাড়ি দিবাকরের দ্বারা চালিত হইয়া একটি বৃহৎ বস্ত্রালয়ের সামনে আসিয়া থামিল। নন্দা চালকের পাশের আসনে বসিয়াছিল, উভয়ে অবতরণ করিয়া দোকানে প্রবেশ করিল।

    এইরূপে এক দোকান হইতে অন্য দোকানে, বস্ত্রালয় হইতে জুতার দোকানে, সেখান হইতে মনিহারীর দোকানে গিয়া বাজার করা যখন শেষ হইল তখন গাড়ির পিছনের আসনে পণ্যদ্রব্য স্তূপীকৃত হইয়াছে।

    গাড়িতে বসিয়া ফিরিস্তি দেখিতে দেখিতে নন্দা বলিল—মনে তো হচ্ছে সবই কেনা হয়েছে।

    দিবাকর প্রশ্ন করিল—সেবকের চামেলির তেল?

    হ্যাঁ।

    তাহলে এবার ফেরা যেতে পারে?

    আপনি ফেরবার জন্যে ভারি ব্যস্ত যে!

    ব্যস্ত নয়। তবে এখনও গোটা পঞ্চাশেক টাকা বাকি আছে, আর একটা দোকানে ঢুকলে কিছু থাকবে না।

    নন্দা হাসিয়া উঠিল। দিবাকর গাড়িতে স্টার্ট দিল, গাড়ি চলিতে আরম্ভ করিল।

    নন্দা বলিল—আপনি দেখছি ভারি হিসেবী।

    দিবাকর বলিল—ভয়ঙ্কর। আপনিই তো শিখিয়েছেন।

    একেই বলে গুরু-মারা চেলা!

    এই সময় একটা মোড়ের কাছে আসিয়া দিবাকর মোটর ঘুরাইবার উপক্রম করিল; নন্দা অমনি স্টিয়ারিংয়ের উপর হাত রাখিয়া গাড়ির গতি সোজা পথে চালিত করিল। গাড়ি আঁকাবাঁকা টাল খাইয়া ঋজু পথে চলিল।

    দিবাকর সবিস্ময়ে নন্দার পানে তাকাইল।

    এ কি! আর একটু হলেই অ্যাসিডেন্ট হত।

    নন্দা বলিল—হয়নি তো।

    কিন্তু ব্যাপার কি? বাড়ির পথ যে ওদিকে!

    সামনে কিন্তু সোজা পথ। বাঁকা পথের চেয়ে সোজা পথ কি ভাল নয়?

    ভাল। তাহলে কি এখন সোজা পথেই যাওয়া হবে, বাড়ি ফেরা হবে না?

    বাড়ি ফেরার এখনও ঢের সময় আছে, এই তো সবে সাড়ে দশটা। চলুন, শহরের বাইরে একটু ঘুরে আসা যাক। কত দিন যে ভোলা হাওয়ায় বেড়াইনি!

    বেশ চলুন। এটা কিন্তু হিসেবের মধ্যে ছিল না।

    নির্জন পথের উপর দিয়া মোটর ছুটিয়া চলিয়াছে। দুই পাশে অবারিত মাঠ, মাঝে মাঝে তরুগুল্ম; দূরে ভাগীরথীর রজতরেখা। নন্দা উৎফুল্ল চঞ্চল চোখে চারিদিকে চাহিতেছে, দিবাকর কিন্তু স্থির দৃষ্টিতে সম্মুখে তাকাইয়া অবিচলিত মুখে গাড়ি চালাইতেছে।

    নন্দা বলিয়া উঠিল—কী চমৎকার! রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে পড়ে যায়—

    নমোনমো নম সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি
    গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ সমীর, জীবন জুড়ালে তুমি।

    দিবাকর বলিল—হুঁ।

    নন্দা বলিল—কিন্তু আপনি তো কিছুই দেখছেন না। চুপটি করে বসে বসে কী ভাবছেন?

    দিবাকর বলিল—ভাবছি

    আছে শুধু পাখা, আছে মহানভ-অঙ্গন
    ঊষা দিশাহারা নিবিড় তিমির ঢাকা।
    ওরে বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,
    এখনি অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।

    নন্দা চকিত চক্ষে দিবাকরের পানে চাহিল, যেন দিবাকরের মুখে সে রবীন্দ্রনাথের কবিতা প্রত্যাশা করে নাই।

    কিছুক্ষণ কথা হইল না। গাড়ি ছুটিয়া চলিল। রাস্তা হইতে এক রশি দূরে ঢিপির উপর একটি ক্ষুদ্র মন্দির দেখা যাইতেছে; মন্দিরটি জীর্ণ এবং পুরাতন।

    নন্দা বলিল—দেখুন দেখুন—মন্দির! বোধহয় শিব মন্দির।

    দিবাকর বলিল—উহু। শিব মন্দির হলে মাথায় ত্রিশূল থাকত।

    তবে কার মন্দির?

    তা জানি না। হনুমানজীর হতে পারে।

    কখনো না। আমি বলছি শিব মন্দির-দিবাকর মাথা নাড়িল বেশ, বাজি রাখুন।

    দিবাকর বিবেচনা করিয়া বলিল—এক পয়সা বাজি রাখতে পারি। কিন্তু প্রমাণ হবে কি করে?

    নন্দা বলিল—গাড়ি দাঁড় করান, চোখে দেখলেই সন্দেহ ভঞ্জন হবে।

    দিবাকর গাড়ি থামাইল; নন্দা নামিয়া পড়িল।

    দিবাকর বলিল—এক পয়সার জন্যে এত পরিশ্রম করতে হবে?

    হ্যাঁ, নামুন। চলুন মন্দিরে। দিবাকর নামিয়া গাড়ি লক্ করিল।

    দিবাকর বলিল—চলুন। কিন্তু মিছে ওঠা-নামা হবে। মন্দিরে হয়তো চামচিকে আর ইঁদুর ছাড়া কোনও দেবতাই নেই।

    নন্দা উৎসাহ দেখাইয়া বলিল—-নিশ্চয় আছে। একটু কষ্ট না করলে কি দেবদর্শন হয়!

    রাস্তা ছাড়িয়া দুজনে মাঠ ধরিল। ঢিপির পাদমূল হইতে ভগ্নপ্রায় এক প্রস্থ সিঁড়ি মন্দির পর্যন্ত উঠিয়া গিয়াছে।

    সিঁড়ি দিয়া উঠিতে উঠিতে তাহারা শুনিতে পাইল, কেহ একতারা বাজাইয়া মৃদুকণ্ঠে ভজন গাহিতেছে। নন্দা উজ্জ্বল চক্ষে দিবাকরের পানে চাহিল।

    শুনছেন?

    দিবাকর কহিল—শুনছি। ছুঁচোর কীর্তন নয়, মানুষ বলেই মনে হচ্ছে।

    তাহারা মন্দিরের সম্মুখে উপস্থিত হইলে, ভিতর হইতে এক পুরুষ বাহির হইয়া আসিলেন। বৃদ্ধ। ব্যক্তি; চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ; মাথার উপর পাকা চুল চূড়া করিয়া বাঁধা; মুখে প্রসন্ন হাসি। হাতে দুইটি ফুলের মালা লইয়া তিনি নন্দা ও দিবাকরের সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন। বলিলেন—এস মা! এস বাবা! এত দূরে কেউ আসে না। আজ তোমাদের দেখে বড় আনন্দ হল। এই নাও ঠাকুরের নির্মাল্য। চিরসুখী হও তোমরা, ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লাভ কর।

    বৃদ্ধ দুজনের গলায় মালা দুটি পরাইয়া দিলেন। বৃদ্ধের ভুল বুঝিতে পারিয়া দুজনে অতিশয় লজ্জিত হইয়া পড়িল। নন্দা তাড়াতাড়ি টাকা বাহির করিতে করিতে আরক্ত মুখে বলিল—

    মন্দিরে কোন্ ঠাকুর আছেন?

    পুরোহিত বলিলেন—মা, আমার ঠাকুরের নাম ননীচোরা। বৃন্দাবনে যিনি গোপিনীদের ননী চুরি করে খেতেন ইনি সেই বাল-গোপাল।

    নন্দা মন্দিরের দ্বারে টাকা রাখিয়া প্রণাম করিল; দিবাকরও প্রণাম করিল। পুরোহিত আবার আশীর্বাদ করিলেন—

    আমার প্রেমময় ঠাকুর তোমাদের মঙ্গল করুন। চিরায়ুষ্মতী হও মা, ফলে ফুলে তোমাদের সংসার ভরে উঠুক—

    দিবাকর ও নন্দা তাড়াতাড়ি নামিয়া চলিল; পুরোহিত স্মিতমুখে দাঁড়াইয়া রহিলেন।

    অনেকগুলি ধাপ নামিয়া নন্দা একটি চত্বরের মতো স্থানে বসিল। মুখে লজ্জার সহিত চাপা কৌতুক খেলা করিতেছে। সে এপাশে ওপাশে চাহিয়া নিরীহভাবে বলিল—বেশ জায়গাটি। ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না।

    দিবাকরের মুখ গম্ভীর, কিন্তু চোখে দুষ্টামি উকিঝুঁকি মারিতেছে।

    হুঁ-কিন্তু আমি ভাবছি

    কি ভাবছেন?

    ভাবছি ঠাকুরেরও চুরি করা অভ্যেস ছিল।

    ঠাকুর তো খালি ননী চুরি করতেন।

    শুধু ননী নয়, শুনেছি আরও অনেক কিছু চুরি করেছিলেন।

    যেমন–?

    যেমন গোপিনীদের মন।

    তা সত্যি। – নন্দা যেন চিন্তিত হইয়া গালে হাত দিল।

    দিবাকর বলিল—কি ভাবছেন?

    নন্দা বলিল—ভাবছি সব চোরেরই কি এক রকম স্বভাব!

    দিবাকর চকিত হইয়া বলিল—তার মানে?

    নন্দা বলিল—মানে সব চোরই কি মেয়েদের মন চুরি করে!

    দিবাকর দৃঢ়স্বরে প্রতিবাদ করিল-না না, ও সব বাজে গুজব। চোরেদের স্বভাব মোটেই ওরকম নয়। দেখুন, আপনি চোরেদের নামে মিথ্যে দুর্নাম দেবেন না।

    নন্দা বলিল–অর্থাৎ আপনি বলতে চান যে আপনি কখনও কোনও মেয়ের মন চুরি করেননি?

    দিবাকর মাথা নাড়িল-না, কখখনো না। ও সব আমার ভালই লাগে না।

    নন্দা মুখ টিপিয়া হাসিল। এই সময় মন্দির হইতে একতারা সহযোগে ভজনের সুর ভাসিয়া আসিল। দুজনে শান্ত হইয়া শুনিতে লাগিল।

    নাচ নাচ মন-মোর—
    আওল নওল কিশোর।
    প্রেম-চন্দনে অঙ্গ রঙ্গই।
    নাচত মাখন-চোর
    নাচ নাচ মন-মোর।
    চূড়া-পর, মরি, পিঞ্ছ নাচত, নাচে গলে বনমাল
    মণি-মঞ্জীর চরণপর চঞ্চল, চপল করে করতাল।
    নাচ রে শ্যাম কিশোর, বৃন্দাবন চিত-চোর,
    গোপবধু মন প্রীতিরস-ঘন
    পুলকভরে তনু ভোরনাচ নাচ মন-মোর।

    ঘণ্টাখানেক পরে।

    যদুনাথের ফটক। দিবাকর গাড়ি চালাইয়া ভিতরে প্রবেশ করিল।

    এদিকে হল-ঘরের টেবিল ঘিরিয়া তিনজন বসিয়া ছিলেন : যদুনাথ, মন্মথ ও পুলিস ইন্সপেকটর। সেবক নিকটে দাঁড়াইয়া ছিল। ইন্সপেকটর গম্ভীর মুখে বলিতেছিলেন—

    যখন চোরের জুতো জোড়া নিয়ে গিয়েছিলাম তখন ভাবিনি যে ও থেকে চোরের কোনও হদিস পাওয়া যাবে। রুটিন মতো জুতো জোড়া পরীক্ষার জন্য হেড় অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আজ হেড অফিস থেকে খবর পেয়েছি

    যদুনাথ সাগ্রহে প্রশ্ন করিলেন—কী খবর পেয়েছেন?

    ইন্সপেকটর বলিলেন—আমরা ভেবেছিলাম ছিচকে চোর। কিন্তু তা নয়। জুতো থেকে সনাক্ত হয়েছে যে চোর-কানামাছি!

    এই সময় একটা আকস্মিক শব্দ শুনিয়া সকলে ফিরিয়া দেখিলেন নন্দা ও দিবাকর অদূরে দাঁড়াইয়া আছে। দিবাকরের হাতে একটা জুতার বাক্স ছিল, তাহা তাহার হাত হইতে খসিয়া মাটিতে পড়িয়াছে। নন্দা যেন পাথরে পরিণত হইয়াছে। দিবাকরের মুখ ভাবলেশহীন; সে নত হইয়া জুতার বাক্সটা তুলিয়া লইল।

    যদুনাথ ইন্সপেকটরকে অধীর প্রশ্ন করিলেন—কানামাছি! সে আবার কে?

    ইন্সপেকটর বলিলেন—কানামাছির নাম শোনেননি? একজন নামজাদা চোর। খবরের কাগজে তার কথা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়।

    নন্দা নিঃশব্দে আসিয়া যদুনাথের পিছনে দাঁড়াইয়াছে। সে একবার দিবাকরের দিকে চোখ তুলিল; তাহার চোখে চাপা আগুন।

    মন্মথ বলিল—হ্যাঁ হ্যাঁ, কাগজে পড়েছি বটে। আপনি বলতে চান সেই কানামাছি আমাদের বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছিল? কিন্তু জুতো থেকে তা বুঝলেন কি করে?

    ইন্সপেকটর বলিলেন-এর একটা ইতিহাস আছে। প্রায় তিন বছর ধরে এই চোর অনেক বড় মানুষের বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছে, অনেক টাকা চুরি করেছে। একলা আসে একলা যায়, তার সঙ্গী-সাথী নেই। কিন্তু একবার সে একজনের বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছিল, বাড়ির লোকেরা জেগে উঠে তাকে তাড়া করে। কানামাছি পালালো, কিন্তু তার পুরোনো জুতো জোড়া ফেলে গেল। সেই জুতো পুলিসের কাছে আছে। আপনার বাড়িতে যে-জুতো পাওয়া গেছে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেল, অবিকল কানামাছির পায়ের ছাপ। সুতরাং

    সেবক সানন্দে হাত ঘষিতে লাগিল; যদুনাথ কিন্তু বিচলিত হইয়া পড়িলেন—

    এ তো বড় ভয়ানক কথা। সূর্যমণির ওপর যদি কানামাছির নজর পড়ে থাকে—অ্যাঁ–। ইন্সপেকটরবাবু, এ চোর তো আপনাদের ধরতেই হবে।

    ইন্সপেকটর বলিলেন—ধরা কিন্তু সহজ নয়। কানামাছির চেহারা কেমন আমরা দেখিনি। দেখেছি কেবল তার পায়ের ছাপ। ভেবে দেখুন, কলকাতা শহরের লক্ষ লক্ষ লোকের সঙ্গে পায়ের ছাপ মিলিয়ে চোরকে ধরা কি সম্ভব? একমাত্র তাকে যদি হাতে হাতে ধরা যায় তবেই সে ধরা পড়বে। কিন্তু কানামাছি ভারি সেয়ানা চোর। আমার বিশ্বাস সে আমাদেরই মতো ভদ্রলোক সেজে বেড়ায়, তার বন্ধুবান্ধবও তাকে চোর বলে চেনে না। এরকম চতুর-চূড়ামণিকে ধরা কি সহজ, যদুনাথবাবু?

    নন্দার অধরোষ্ঠ খুলিয়া গেল; সে যেন এখনি দিবাকরের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করিয়া দিবে। কিন্তু তাহার দৃষ্টি পড়িল দিবাকরের উপর। দিবাকর শান্তভাবে তাহার পানে চাহিয়া আছে, যেন সব কিছুর জন্যই সে প্রস্তুত। নন্দা অধর দংশন করিয়া উদগত বাক্য রোধ করিল।

    যদুনাথ অত্যন্ত উদ্বিগ্নভাবে বলিলেন—কিন্তু—তাহলে—আমার সূর্যমণি!

    ইন্সপেকটর বলিলেন—আপনার সূর্যমণি সম্বন্ধে খুবই সাবধান হওয়া দরকার। পুলিসের দিক থেকে কোনও ত্রুটি হবে না; আপনিও যাতে সাবধানে থাকেন তাই খবর দিয়ে গেলাম!–আচ্ছা, আজ তাহলে উঠি। যতদূর জানা আছে, কানামাছি রাত্রে ছাড়া চুরি করে না। আপনি রাত্রে বাড়ি পাহারা দেবার ব্যবস্থা করুন।

    যদুনাথ উঠিলেন—হ্যাঁ হ্যাঁ, আজই আমি দুটো চৌকিদার রাখব। কানামাছি—কি সর্বনাশ—আঁ!

    ইন্সপেকটর গমনোম্মুখ হইলেন—আচ্ছা নমস্কার!

    নন্দা এতক্ষণে কথা কহিল—একটা কথা। চোরের নামই কি কানামাছি?

    ইন্সপেকটর বলিলেন—চোরের নাম কেউ জানে না। কানামাছি নামটা খবরের কাগজের দেওয়া। আসল নামের অভাবে ঐ নামই চলে গেছে।

    নন্দা কেবল বলিল-ও—

    .

    পূর্ব ঘটনার পর মিনিট পনেরো গত হইয়াছে।

    দিবাকর নিজের ঘরের জানালায় দাঁড়াইয়া বাহিরের দিকে তাকাইয়া ছিল, দ্বার খোলার শব্দে ফিরিয়া দেখিল নন্দা প্রবেশ করিতেছে। নন্দার চোখ দুটি সূর্যমণির মতোই জ্বলজ্বল করিতেছে।

    নন্দা দরজা ভেজাইয়া দিয়া দিবাকরের সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইল, বিদ্রূপশাণিত কণ্ঠে বলিল—আপনি কি সুন্দর গল্প বলতে পারেন! কী অদ্ভুত আপনার উদ্ভাবনী শক্তি! ধন্য আপনি!

    দিবাকর চক্ষু নত করিল।

    নন্দা বলিয়া চলিল—কানামাছি। খবরের কাগজওয়ালাদের কি স্পর্ধা আপনাকে কানামাছি বলে! আপনি কানাও নয়, মাছিও নয়। আপনি পাকা চোরনামজাদা চোর—চতুর চুড়ামণি!!

    দিবাকর অস্ফুটস্বরে বলিল—আমার একটা কথা শুনবেন?

    নন্দা তীব্রস্বরে বলিল—আপনার কথা আমি ঢের শুনেছি, অভিনয়ও ঢের দেখেছি। কি অপূর্ব অভিনয়! গরীব-অসহায়—পেটের দায়ে চুরি করতে আরম্ভ করেছেন—

    দিবাকর বলিল—অন্তত ও কথাটা মিথ্যে নয়। সত্যিই আমি পেটের দায়ে চুরি করতে আরম্ভ করেছিলাম।

    নন্দা বলিল—চুপ করুন। আপনার একটা কথাও সত্যি নয়। সত্যি কথা বলতে আপনি জানেন। আজই আপনি বলেছেন যে মেয়েদের মন চুরি করতে আপনি জানেন না; কিন্তু মেয়েদের চোখে কি করে ধুলো দিতে হয় তা আপনি বেশ জানেন। মেয়েদের কাছে ন্যাকা সেজে কাজ আদায় করতে আপনার জোড়া নেই।

    আমাকে দুটো কথা বলতে দেবেন?

    কী বলবেন আপনি? আমাকে বোধহয় বোঝাবার চেষ্টা করবেন যে আপনি সূর্যমণি চুরি করতে আসেননি।

    না, আমি সূর্যমণি চুরি করতেই এসেছিলাম।

    নন্দার বিদ্যুৎ শিখার মতো আপাদমস্তক জ্বলিয়া উঠিল—

    উঃ! অসহ্য! নির্লজ্জতারও একটা সীমা আছে।

    সে ঝড়ের মতো ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল, ক্ষণেক পরে তাহার ঘরের দরজা দমাস্ করিয়া বন্ধ হইল। দিবাকর তাহাকে অনুসরণ করিবার উপক্রম করিয়াছিল, শব্দ শুনিয়া আবার জানালায় ঠেস দিয়া দাঁড়াইল। কিছুক্ষণ চিন্তা করিয়া সে একবার জানালা দিয়া বাহিরে উঁকি মারিল।

    নন্দা নিজের ঘরে গিয়া দরজায় ছিটকিনি লাগাইয়া দিয়াছিল। রাগে ফুলিতে ফুলিতে ওয়ার্ডরোবের সামনে দিয়া যাইবার সময় সে আয়নায় দেখিল, পূজারী প্রদত্ত মালাটি এখনও তাহার গলায় দুলিতেছে। সে একটানে মালা ছিড়িয়া দূরে ফেলিয়া দিল। দেয়ালে নন্দার একটি ছবি টাঙানো ছিল, ছিন্ন মালা ছবির ফ্রেমে আটকাইয়া ঝুলিতে লাগিল। ঠাকুরের আশীর্বাদী মালাটা যেন কিছুতেই নন্দাকে ছাড়িবে না।

    নন্দা গিয়া খাটের কিনারায় বসিল; ক্লান্তিভারাক্রান্ত একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিয়া দুহাতে মুখ ঢাকিল। তাহার উত্তপ্ত ক্রোধ এতক্ষণ তাহাকে খাড়া করিয়া রাখিয়াছিল, এখন সে যেন ভাঙিয়া পড়িবার উপক্ৰম করিল।

    ঘরের জানালা খোলা ছিল। এই সময় দিবাকরকে জানালার বাহিরে দেখা গেল। সে নিঃশব্দে জানালা ডিঙাইয়া ঘরের ভিতরে আসিল; একবার চকিত চক্ষে নন্দাকে দেখিয়া লইল।

    জানালার কাছেই নন্দার পড়ার টেবিল। দিবাকর দেখিল টেবিলের উপর কয়েকটা ফটো পড়িয়া রহিয়াছে; তন্মধ্যে একটি নন্দার। দিবাকর ছবিটি পকেটে পুরিয়া ঠোঁটের উপর হাত রাখিয়া একটু কাশিল। নন্দা চমকিয়া চোখ তুলিল; দিবাকরকে দেখিয়া সুচীবিদ্ধবৎ উঠিয়া দাঁড়াইল।

    এ কি! আমার ঘরে ঢুকলেন কি করে?

    নন্দা তাহার কাছে আসিয়া দাঁড়াইল। দিবাকর শুষ্কস্বরে বলিল—শুধু দরজা বন্ধ করে নামজাদা চোরকে ঠেকিয়ে রাখা যায় না।

    নন্দা বুঝিল, একদিন দিবাকর যেমন ঐ জানালা দিয়া বাহির হইয়া গিয়াছিল, আজ তেমনি অবলীলাক্রমে প্রবেশ করিয়াছে। নন্দার মুখের ভাব তিক্ত হইয়া উঠিল। সে বলিল—দেখছি আমার জানালাও বন্ধ করা উচিত ছিল। কিন্তু আমাকে এমনভাবে উত্যক্ত করছেন কেন? আর কি চান আপনি?

    দিবাকর জিজ্ঞাসা করিল—আমার সত্যিকার পরিচয় আপনি কাউকে বলেছেন কি?

    নন্দা বলিল—না বলিনি এখনও। কিন্তু বলব, শিগগিরই বলব।

    দিবাকর বলিল—বেশ, বলবেন। কিন্তু তার আগে আমার কথাও আপনাকে শুনতে হবে। ভয় নেই, আমি নিজের সাফাই গাইব না, চোখে ধূলো দেবার চেষ্টাও করব না। নিছক সত্যি কথা বলব। বিশ্বাস করা না করা আপনার ইচ্ছে।

    নন্দা কথা কহিল না, ওষ্ঠাধর চাপিয়া দিবাকরের পানে চাহিয়া রহিল। ইহাকেই অনুমতি বলিয়া গ্রহণ করিয়া দিবাকর ধীরে ধীরে বলিতে আরম্ভ করিল—

    চুরি করবার যে একটা নেশা আছে তা বোধহয় আপনি জানেন না; জানবার কথাও নয়। প্রথম যখন আমি চুরি করতে আরম্ভ করি তখন আমার বয়স পনেরো-ষোল বছর। বাবা সামান্য চাকরি করতেন, কিছু সঞ্চয় করতে পারেননি। তিনি হঠাৎ মারা গেলেন; সংসারে রইলাম শুধু মা আর আমি। কেউ সাহায্য করল না, কেউ একবার ফিরে তাকাল না। আমার তখনও রোজগার করবার বয়স হয়নি—একদিন মরীয়া হয়ে চুরি করলাম। সেই আরম্ভ—কিন্তু মাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম না, তিনি একরকম অনাহারেই মারা গেলেন।

    দিবাকর একটু চুপ করিল। নন্দা তীক্ষ্ণ অবিশ্বাস লইয়া শুনিতে আরম্ভ করিয়াছিল, কিন্তু শুনিতে শুনিতে তাহার মুখের ভাব একটু একটু করিয়া পরিবর্তিত হইতে লাগিল। দিবাকর নীরস আবেগহীন কণ্ঠে আবার আরম্ভ করিল

    নিজের বলতে আমার আর কেউ রইল না। পৃথিবীতে আমি একা; কেউ আমাকে চায় না, আমার মরা বাঁচায় কারুর আসে যায় না। আমার মন কঠিন হয়ে উঠতে লাগল। আমার ওপর যখন কারুর মমতা নেই, তখন আমারই বা কারুর ওপর মমতা থাকবে কেন? সংসার যখন আমার শত্রু তখন আমিও সংসারের শত্রু। এইভাবে বড় হয়ে উঠলাম। আমি নির্বোধ নই; জানতাম, যদি একবার ধরা পড়ি তাহলে সমাজ আমাকে ছাড়বে না, দাগী করে ছেড়ে দেবে। খুব সাবধানে চুরি করতে শিখলাম। আর শিখলাম ধনীকে ঘৃণা করতে। যাদের টাকা আছে তারাই আমার শত্রু; তারা সম্পত্তি আগলে নিয়ে বসে আছে, যে সেদিকে হাত বাড়াবে তাকেই তারা পায়ের তলায় পিষে ফেলবে। তারা নিষ্ঠুর, তারা পরের সম্পত্তি ফাঁকি দিয়ে নিজেরা বড়মানুষ হয়ে বসেছে; তারাই আমার মুখের অন্ন কেড়ে খাচ্ছে–

    নন্দা তপ্তকণ্ঠে বলিল—মিথ্যে কথা। বড়মানুষ মাত্রই গরীবের মুখের অন্ন কেড়ে খায় একথা সত্যি নয়।

    দিবাকর বলিল—পুরোপুরি সত্যি না হলেও একেবারে মিথ্যেও নয়। যাক, আমি নিজের মনের অবস্থা বর্ণনা করছি। একটা কথা আপনাকে মিথ্যে বলেছিলাম, আমার শিক্ষা সম্বন্ধে। চুরির টাকায় আমি এম-এ পাস করেছি, অশিক্ষিত নই। আধুনিক মনীষীদের চিন্তাধারার সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। Proudhon বলেছেন, Property is theft; যার সম্পত্তি আছে সেই চোর। মনে আছে কথাটা আমাকে খুব উৎসাহ দিয়েছিল। যারা বিত্তবান তারাই যদি চোর তবে আমার হতে লজ্জা কি?…ক্রমে আমি কঠিন অপরাধী হয়ে উঠলাম; চুরির নেশা আমাকে চেপে ধরল। সুবিধে পেলেই চুরি করতে আরম্ভ করলাম। এইভাবে গত তিন বছর কেটেছে। এখন আর আমার টাকার দরকার নেই, কিন্তু নেশা ছাড়তে পারি না।

    দিবাকর আবার থামিল। নন্দা সম্মোহিত হইয়া শুনিতেছিল, নিজের অজ্ঞাতসারেই বলিয়া উঠিল–

    তারপর?

    দিবাকর নন্দার দিকে না চাহিয়া বলিতে লাগিল।

    তারপর একটা বাড়িতে চুরি করতে গেলাম। আটঘাট বেঁধেই গিয়েছিলাম, কিন্তু ধরা পড়ে গেলাম। ভেবেছিলাম তারা আমাকে পুলিসে ধরিয়ে দেবে, কিন্তু তারা ধরিয়ে দিলে না। দয়া মায়া আশা করিনি, দয়া মায়া পেলাম, সমবেদনা পেলাম; সৎপথে চলবার প্রেরণা পেলাম। যে বাড়িতে চোর হয়ে ঢুকেছিলাম সেই বাড়িতে আশ্রয় পেলাম–

    সে কোন্ বাড়ি?

    দিবাকর প্রশ্নের উত্তর না দিয়া বলিয়া চলিল—কিন্তু তবু আমার চুরির নেশা গেল না। একদিকে লোভ, অন্যদিকে কৃতজ্ঞতা—দুয়ের মধ্যে টানাটানি শুরু হল। এমনি ভাবে কিছুদিন চলল। তারপর সব ভেসে গেল।

    ভেসে গেল!

    আমার মনে স্নেহ মমতা ভালবাসার স্থান ছিল না, শ্রদ্ধা ভক্তি ছিল না; সব পাথর হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একদিন কোথা থেকে এক প্রবল বন্যা এসে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। শুধু রয়ে গেল ভালবাসা শ্রদ্ধা আর আত্মগ্লানি।

    দিবাকরের কথা শুনিতে শুনিতে নন্দা এক পা এক পা করিয়া টেবিলের কাছে আসিয়া দাঁড়াইয়াছিল; তাহার মুখে সংশয়ভরা অবিশ্বাস আর ছিল না, চোখে এক নূতন দীপ্তি ফুটিয়া ছিল। দিবাকর পকেট হইতে চকচকে চাবিটি বাহির করিয়া অন্যমনস্কভাবে নাড়াচাড়া করিতে লাগিল

    যতদিন আমার প্রাণে ভালবাসা ছিল না, ততদিন আত্মগ্লানিও ছিল না। কিন্তু এখন মনে হল আমি নরকের কীট, আমার সর্বাঙ্গে পাঁক লেগে আছে, যাকে ভালবাসি তার পানে চোখ তুলে চাইবার অধিকার আমার নেই—

    নন্দা টেবিলের দিকে দৃষ্টি নত করিয়া মৃদুকণ্ঠে বলিল-কাকে আপনি ভালবাসেন তা তো বললেন না।

    দিবাকর নিবন্ত স্বরে বলিল—সে কথা বলবার নয়। —এই চাবি তৈরি করেছিলাম চুরি করব বলে, যা চুরি করতে এসেছিলাম, ইচ্ছে করলেই তা চুরি করতে পারতাম। কিন্তু আর সে ইচ্ছে নেই। এখন আমাকে কেটে ফেললেও আর চুরি করতে পারব না।

    চাবিটি টেবিলে রাখিয়া দিয়া সে ক্লান্তচক্ষে নন্দার পানে চাহিল।

    আমার যা বলবার ছিল শেষ হয়েছে। এখন আপনি পুলিসে খবর দিতে পারেন। আমি পাশের ঘরে থাকব।

    দিবাকর দ্বার খুলিয়া ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল।

    .

    হল-ঘরের ঘড়িতে তিনটা বাজিতে কয়েক মিনিট বাকি আছে। মন্মথ টেবিলের সম্মুখে বসিয়া অলসভাবে একটা মাসিক পত্রিকার পাতা উল্টাইতেছিল। ঘরে আর কেহ নাই। যদুনাথ এখনও তাঁহার চিরাভ্যস্ত দিবানিদ্রা শেষ করিয়া ঘর হইতে বাহির হন নাই।

    টেলিফোন বাজিয়া উঠিল। মন্মথ নিরুৎসুকভাবে যন্ত্র তুলিয়া কানে দিল

    হ্যালো

    তারের অপর প্রান্ত হইতে যে কণ্ঠস্বরটি ভাসিয়া আসিল তাহাতে মন্মথ তড়িৎপৃষ্টের ন্যায় খাড়া হইয়া বসিল, তাহার ব্যাজার-ভরা মুখ মুহূর্তে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল। সে একবার সচকিতে চারিদিকে চাহিল।

    তারপর বলিল—অ্যাঁ—লিলি! হুঁ হুঁ, আমি মন্মথ। কি বললে—তুমি একলা আছ?

    লিলি নিজের বাসা হইতে টেলিফোন করিতেছে। দাশু ও ফটিক তাহার কাছে দাঁড়াইয়া আছে। লিলি কণ্ঠস্বরে মধু ঢালিয়া ফোনের মধ্যে বলিল—হ্যাঁ, কেউ নেই। আমি একলা।

    মন্মথ সন্দিগ্ধভাবে বলিল—দাশুবাবু? ফটিকবাবু?

    লিলি মুখের একটা ভঙ্গি করিয়া দাশু ও ফটিকের পানে কটাক্ষপাত করিল—

    তাঁরা আর আসবেন না। তাঁদের আমি—। তাঁদের কথা দেখা হলে বলব; কিন্তু আপনিও কি আমাকে ভুলে গেছেন, মন্মথবাবু?

    ভুলে গেছি! কি বলছ তুমি? আমি এখনি তোমার কাছে যাচ্ছি

    শুনুন, এখন আসবেন না। আজ রাত্রে আমার সঙ্গে ডিনার খাবেন, কেমন? শুধু আমি আর আপনি, আর কেউ নয়।

    আচ্ছা, সেই ভাল। তোমাকে যে কত কথা বলবার আছে, লিলি—হেঁ হেঁ—আচ্ছা—আচ্ছা—নিশ্চয়।

    মন্মথ টেলিফোন রাখিয়া আহ্লাদে প্রায় লাফাইতে লাফাইতে উপরে চলিয়া গেল।

    ওদিকে লিলি টেলিফোন বন্ধ করিয়া সপ্রশ্ন নেত্রে দাশু এবং ফটিকের পানে চাহিল। দাশু উত্তরে সন্তোষসূচক ঘাড় নাড়িল-হা, আজই একটা হেস্তনেস্ত করে ফেলা চাই, আর দেরি নয়। চল ফটিক, আমাদেরও তৈরি থাকতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাজদ্রোহী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }