Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মনোমুকুর – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প155 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অবাধ্য

    রুনুর মা সেদিন রুনুকে ডেকে বললেন, দেখি, এদিকে এসো তো রুনু।

    রুনুর তখন স্কুলে যাওয়ার সময়। দুপাশের দুটি বিনুনি ঝাঁকিয়ে, ফ্রকের বেলট বাঁধতে বাঁধতে বলল, তাড়াতাড়ি বলো মা, সময় হয়ে গেছে।

    কিন্তু মা কিছুই বললেন না, শুধু একটু তাকিয়ে দেখে বললেন, আচ্ছা, ঘুরে এসো স্কুল থেকে।

    রুনুর মুখখানা লাল হয়ে উঠল। চোখের পাতা গেল নেমে। কোনও রকমে যেন পালিয়ে গেল মায়ের কাছ থেকে। লজ্জা, বিস্ময় আর বিচিত্র একটু বিক্ষোভে মনে মনে বলল, মা যেন কী! এমন করে তাকান যেন কী একটা অন্যায় বুঝি করে ফেলেছে রুনু! গায়ের মধ্যে এমন করে ওঠে।

    কেন, কী করেছে রুনু? মা আজকাল প্রায়ই এ রকম করেন। এখানে যেয়ো না, ওখানে যেয়ো না, হেসো না অত জোরে। ও-রকম দাপাদাপি কোরো না রুনু। কেন? না, মা কেবল বলবেন : কেন আবার। বড় হচ্ছ না এখন? কোথাও বেড়াতে গেলে বলবেন, রুনু, তুমি বেশি দূরে যেয়ো না। কাছাকাছি থেকো। কেন? না, বড় হচ্ছ না তুমি?

    বড় হচ্ছে, না, ছাই হচ্ছে রুনু। বড় বিরক্তি লাগে।

    পর-মুহূর্তেই রুনুর মনটা আবার অন্তঃস্রোতে বহে উজানে। লজ্জা করে বলতে, ভীষণ লজ্জা করে, আর আশ্চর্য আনন্দ বোধ হয়, কোথায় যেন কেমন করে সে সত্যি বড় হয়ে যাচ্ছে। মা যেন ভগবান! ভগবানের মতো সব দেখতে পান!

    প্রায় পৌনে এক মাইল হাঁটতে হয় রুনুকে স্কুলে যাওয়ার জন্যে। মফস্বলের এ ছোট শহরে তাদের মোটর বাস নেই স্কুলে যাবার। অনেক মেয়েই হেঁটে যায়। রুনুও যায়। স্কুলে পাঠিয়েও নাকি মায়ের বড় ভাবনা!

    স্কুলের মাঠ পেরিয়ে, লাফাতে লাফাতে দোতলার সিঁড়ি ভেঙে ক্লাস এইটের ঘরে ঢুকতে না ঢুকতে সব ভুলে গেল রুনু। তখনও ক্লাস বসেনি। মনিটর দীপালি কাজল-ধ্যাবড়ানো ছোট ছোট চোখে এক-একজনের দিকে তাকাচ্ছে আর নাম টুকছে। নামের পাশে পাশে লিখে রাখছে, ‘চেঁচিয়ে হাসি’, ‘অলকার চুল ধরে টানা’, ‘দিদিমণির টেবিলের ওপর বসা’, ‘বাদামভাজার খোসা ছড়ানো’ ইত্যাদি।

    রুনুর সে দিকে খেয়াল নেই। তিপুর সঙ্গে চোখাচোখি হতেই দুর্জয় অভিমান ঝিলিক দিল তার চোখে। ঠোঁট দুটিও ফুলে উঠল একটু।

    তিপু অর্থাৎ তৃপ্তি ছুটে এসে রুনুর থুতনি তুলে ধরে বলল, রাগ করেছিস ভাই রুনু?

    না।

    না আবার! রাগ না করলে বুঝি রুনু এমন করে!

    তিপু বলল, আজ তোর জন্যে দাঁড়াতুম ঠিক। কিন্তু বাবার সঙ্গে এলুম রিকশায় চেপে, সত্যি। তা নইলে বুঝি দাঁড়াই নে?

    রুনু চোখ তুলে তাকায়। মুখের অন্ধকার প্রায় কেটে আসে। সত্যি, বাবার সঙ্গে এলে তো কিছু বলার নেই।

    তিপু আবার বলল, আর বাবাকে দাঁড়াতে বললে, বাবা যদি রাগ করত?

    তাও তো বটে। বাবারা যে সব সময় কাজ করেন। রুনুর ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল। বলল, একলা একলা আসতে এত খারাপ লাগে

    বলতে বলতেই রুনুর চোখে পড়ে যায় তিপুর বিনুনির ভাঁজে পুরনো ফিতের ফুপড়ি বেরিয়ে পড়েছে। বিনুনি ধরে টেনে বলল রুনু, এদিকে আয়, খারাপ দেখাচ্ছে।

    বলে সুকৌশলে ফিতের ফুপড়ি ঢুকিয়ে দিল বিনুনির ভাঁজে। তারপর চোখাচোখি হতে হাসল দুজনে।

    এ স্কুলে নতুন এসেছে রুনু। এ বছরেই এসেছে। আগের স্কুলটা নাকি বাজে, বাবা বলেছেন। আর এ স্কুলে ভর্তি হয়ে অনেক মেয়ের সঙ্গে মিশতে মিশতে সবচেয়ে তার ভাব বেশি জমে গেছে তিপুর সঙ্গে।

    প্রথম প্রথম তিপু দূর থেকে তাকিয়ে থাকত। তখনও ওদের আলাপ হয়নি। প্রথম যেদিন চোখে চোখ পড়ে গেল রুনুর, সেদিন ওর কী অস্বস্তি। আর লজ্জাও করছিল ভীষণ। প্রায় সব পিরিয়ডের দিদিমণিদের কাছেই ওকে বকুনি খেতে হয়েছে অন্যমনস্কতার জন্যে।

    কিন্তু কী করবে রুনু! কেবলই মনে হচ্ছিল, তিপু ওর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। কেন? কে মেয়েটা, বারে বারে অমন করে তাকাচ্ছে! আর তো কেউ অমন করে তাকায় না। চোখে যেন পলক পড়ে না মেয়েটার। কী যেন রয়েছে তার চোখে, তার অপলক সুন্দর চোখ দেখে রুনুর লজ্জা করছিল, অস্বস্তি হচ্ছিল, তার মধ্যে কোথায় একটু ভাললাগার ভাবটুকুও এসে গিয়েছিল। শুধু অচেনা হলে মানুষ ওরকম করে তাকায় না। যেন কী হয়ে গেছে মেয়েটার রুনুকে দেখে। ঠোঁটের কোণে একটু হাসির আভাসও বুঝি উঠছিল চমকে চমকে!

    সে-ই যে চোখ নামিয়েছিল রুনু, আর কিছুতেই তাকাতে পারেনি। কিন্তু তাকাবার জন্যে মনটা হাঁসফাঁস করছিল ভিতরে ভিতরে। আড়চোখে তাকাতে গিয়েও লক্ষ করেছে, ঠিক তাকিয়ে আছে সে।

    পরদিনই আবার চোখাচোখি হয়ে গেল রাস্তায়। একই রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছিল দুটিতে। মা গো! ধক করে উঠেছিল রুনুর বুকের মধ্যে। পরমুহূর্তেই লজ্জায় চোখের পাতা আনত হল রুনুর। লাল ছোপ ধরে গেল মুখে।

    কত মেয়ের সঙ্গে কত সহজে আলাপ হয়ে যায়। পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যে আলাপ হয়ে কত কথাই না হয়ে যায়। আর এখানে কথা বলা দূরে থাকুক, সহজভাবে তাকাতেই পারেনি রুনু। মেয়েটাও কথা বলতে পারছিল না যেন কিছুতেই।

    ক্লাসে গিয়েও সেই একই অবস্থা।

    তিন দিন চলেছিল প্রায় একই রকম। কিন্তু রুনুর প্রাণ ভিতরে ভিতরে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল মেয়েটির জন্যে। তিপুর নামটা শুনে নিয়েছিল ইতিমধ্যে। কিন্তু আড়চোখে চোখে কত আর তাকাবে রুনু তিপুর দিকে! কেন যে ভাব হয় না মেয়েটার সঙ্গে!

    চার দিনের দিন, টিফিনে ক্লাসে কেউ ছিল না তখন। রুনু কোনওদিনই বাড়ি যায় না টিফিনে। মাঠে মেয়েরা খেলা করছিল। রুনু মাঠে না গিয়ে, ক্লাসের জানলায় গিয়ে দাঁড়াল। তিপু খেলা করবে, রুনু দেখবে লুকিয়ে লুকিয়ে।

    সবে দাঁড়িয়েছে জানলায়, পিঠে আঙুলের খোঁচা খেয়ে ফিরতেই, তিপু? কিন্তু লজ্জা পাবার সময় না দিয়েই বলে উঠল তোমার সঙ্গে ভাব করতে এলুম ভাই। উঃ, কী মেয়ে ভাই তুমি। বড্ড গম্ভীর।

    রুনুর লঙ্গা-লজ্জা করছিল। তবু হেসে বলল, যাঃ।

    তিপু বলল, ইস। নয়? তোমাকে দেখে আমার এত ভাল লাগছিল! যতবারই তোমার দিকে তাকাই, তুমি কেমন গম্ভীর হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিতে। তোমার ভাই একটু অহঙ্কার আছে।

    রুনু হেসে বলল, হ্যাঁ, তাই বুঝি! কিন্তু তুমি কিচ্ছু জানো না, আমার কী ভীষণ লজ্জা করছিল, সত্যি।

    সত্যি?

    হ্যাঁ।

    আমারও। জানো, এত লজ্জা করছিল, কিছুতেই ভাব করতে পারছিলুম না।

    তবে আমি এসে ভাব না করলে তুমি কিছুতেই কথা বলতে না, না?

    রুনু বলল, মোটেই তা নয়। আমি ঠিক আজকে তোমার সঙ্গে ভাব করে ফেলতুম। আমার ভীষণ ইচ্ছে করছিল।

    তার পরে সত্যি সত্যি ভাব হয়ে গেল। এত ভাব আর কারুর সঙ্গে হয়নি রুনুর।

    মা যে আজকাল রুনুকে পায়ে পায়ে সাবধান করেন, বড় হচ্ছ বড় হচ্ছ বলেন, সেটুকুও তিপুকে না বললে তার চলে না।

    এমনকী সেদিন যে অমন হঠাৎ ডেকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে বলেছিলেন, আচ্ছা, স্কুল থেকে ঘুরে এসো। তারপর বিকেলে দরজি ডাকিয়ে নতুন জামার মাপ নিয়ে, তৈরি করিয়ে দিয়েছিলেন অন্য রকম ঝাঁপালো-ফাঁপালো লুজ ফ্রক, সেটুকুও বলে। সব বলে–সবটুকু, তার এই চোদ্দো বছর গহিনের সব কথা, সব অজানা সংশয়, তার রক্তের বিচিত্র বিস্ময়।

    তিপুও বলে। কিন্তু তিপু ওর মায়ের কথা তেমন করে বলে না। বাবা নাকি ওর নেই। না-ই বা থাকলেন, তা বলে রুনুকে কি একদিন তিপু ওদের বাড়িতে যেতে বলতে পারে না! নিজেও যেতে বলবে না, আর রুনু এতবার তিপুকে তাদের বাড়ি নিয়ে যেতে চায়, তিপু যায় না। খালি বলে, আচ্ছা, আর একদিন যাব, সত্যি, মাইরি! কেন? এমন করে এড়িয়ে কেন যায় তিপু? কষ্ট হয় না বুঝি, রাগ হয় না?

    একদিন শনিবারের ছুটির পরে দুজনে ওরা হেঁটে আসছিল। বড় রাস্তার কাছেই একটি রাস্তার বাঁকে রুনুদের বাড়ি। তিপুদের বাড়ি আরও ছাড়িয়ে, সেই বাজার পার হয়ে গঙ্গাধারের কাছাকাছি।

    এই দিনে রুনু বলল রাস্তায় চলতে চলতে, তিপু, আজ আমাদের বাড়ি তোকে যেতেই হবে।

    তিপু বলল প্রতিদিনের মতো, আজ না ভাই রুনু, আর একদিন যাব।

    আজ রুনুর মুখ ভার হয়ে উঠল। হাতে ধরে টানল তিপুর। হাসতে হাসতে হাত-টানাটানি করল দুজনেই। তারপর রুনুর চোখে যেন মেঘ করে এল। হঠাৎ হাত ছেড়ে দিয়ে বলল, থাক তা হলে, আসিস নে।

    রাগ করলি ভাই?

    না।

    তিপু হেসে রুনুর হাত ধরে বলল, আহা, মেয়ে যেন একেবারে মনসা। চল চল যাচ্ছি। তোর মা রাগ করবেন না তো?

    ভাগ। সবাই কত যায়। বীণা, কুসুম

    তারপরেই দুটি বড় বড় ছেলের দিকে চোখ পড়তেই রুনু বলে উঠল, দেখছিস, লোক দুটো কী রকম করে তাকাচ্ছে!

    তিপু বলল, তাকাকগে মুখপোড়াগুলো!

    তিপুর এমন পাকা গালাগাল শুনে দুজনেই চাপা গলায় খিলখিল করে হেসে উঠল। পর মুহূর্তেই বোধ হয় রুনুর মনে পড়ে যায়, এ রকম হাসা উচিত নয়। মা দেখলে খুব রাগ করতেন।

    বাড়ি গিয়ে, তিপুকে নিয়ে একেবারে মার ঘরে চলে এল রুনু : দেখো মা, কাকে নিয়ে এসেছি আজ।

    মা তখন খাটে শুয়ে উপন্যাস পড়ছিলেন। ভেজা চুল ছড়ানো, পান খেয়েছেন ঠোঁট লাল করে। মায়ের এই রূপটি তিপুকে দেখাতে পেরেও রুনু খুব খুশি মনে মনে। এ সময় মাকে তার এত সুন্দর লাগে, ঠিক যেন একটি মহারানি। সুন্দর লাগে, আবার ভয়-ভয়ও করে।

    মা বই থেকে চোখ তুলে বললেন, কে?

    রুনু বলল, তিপু গো, সেই যার কথা তোমাকে অনেকবার বলেছি।

    কিন্তু মা তো কই হেসে, ভালবেসে ডেকে উঠলেন না এখনও তিপুকে! বরং মায়ের ভ্রূ দুটি কেমন যেন মেঘভার আকাশের বিদ্যুতের মতো ঢেউ খেলে গেল। রাগ করেননি, তবু যেন কেমন একটু উদাসীন ভাব। বললেন, ও, তোমার নাম তিপু?

    তিপু সলজ্জ হেসে বলল, হ্যাঁ।

    মা বললেন, বোসো, তোমাদের বাড়ি কোথায়? গঙ্গার ধারে? অধর পণ্ডিত লেনের কাছে?

    তিপু বসে বলল, হ্যাঁ। আপনি চেনেন?

    মা বললেন, চিনি বইকী।

    তারপরে আরও দু-চারটি কথা বলে মা যেন কেমন সহজেই গা এলিয়ে দিলেন। অন্যমনস্কভাবে ডুব দিলেন বইয়ের পাতায়।

    মার বুঝি ঘুম পেয়েছে? না কি বইটা পেয়ে বসেছে মাকে, এক-একটা বই নিয়ে মা অনেক সময় নাওয়া-খাওয়া ভুলে যান। কিন্তু সেদিন ময়নার সঙ্গে মা কতক্ষণ কথা বললেন। এমনকী ময়নার মা কী রান্না করেছেন, সেটুকুও জেনেছেন। আর আজ তিপুকে দেখে মার কেমন যেন গা-এলানো ভাব। তিপু হয়তো মাকে একটা বিচ্ছিরি কুঁড়ে গেঁয়ো মেয়েছেলে ভেবে গেল। মনে মনে বড় রাগ হল রুনুর মায়ের উপর।

    কিন্তু তিপু কিছুই বলল না। সহজভাবেই হেসে, ঘুরে সারা বাড়িটা প্রায় দেখল রুনুদের। ছাদে দাঁড়িয়ে বড় রাস্তাটা দেখা যায়। বেলা বুঝি তখন দুটো বেজেছে। ভাদ্রের মেঘলা-ভাঙা রোদ প্রায় ফাঁকা রাস্তাটার উপর ভ্রূ কুঁচকে আছে। বড় জ্বলুনি এই রোদে। শুধু একটি লোক হেঁটে যাচ্ছে। খোঁড়াতে খোঁড়াতে, ছেড়া নেংটি পরে, খালি গায়ে। নিশ্চয় ভিখিরি।

    দুই বান্ধবী খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল লোকটির দিকে। তারপর যখন দুজনের চোখাচোখি হল, তখন তাদের দুজনের মনই এক বিস্ময়কর বেদনায় ভরে গিয়েছে। এই প্রথম শরতে অনেকখানি-ছড়িয়ে-পড়া আকাশের তলায় হঠাৎ কেমন উদাস হয়ে যায় দুজনেই। রুনু বলল ফিসফিস করে, ভারী কষ্ট হয় দেখলে, না?

    তিপু বলল, হ্যাঁ! জানিস, আমি যখন রাত্রে শুয়ে চোখ বুজব, তখন ঠিক লোকটা অমনি করে হেঁটে যাবে আমার চোখের ওপর দিয়ে। কেন এ রকম হয় ভাই?

    রুনুও বলল অসহায়ভাবে : কী জানি! আমিও স্বপ্ন দেখে ঠিক জেগে উঠব অনেক রাত্রে।

    কেন যে এই অজানা ব্যথায় ভরে ওঠে মন, এই দুই সখী তা বোঝে না। শুধু কারুর কষ্ট দেখলেই, তাদের বুক ছাপামাপি হয়ে যায়। একটুখানি আনন্দের সন্ধান পেলে হেসে হেসে মরে যায় তারা।

    তারপরে তিপু বলল, এবার যাই।

    রুনু বলল, আর একটু থাক ভাই। আয়, চল, দুজনেই ভাত খেয়েনি, অ্যাঁ?

    তিপু বলল, ভাত, না ভাই, আজ নয়, আর একদিন হবে।

    তিপু চলে গেল। তারপরে মার উপরে অভিমানটা আবার ফিরে এল রুনুর মনে। মার কাছে আর গেল না। রান্নাঘরে গেল খেতে। সেখানে তার ভাত ঢাকা দেওয়া আছে।

    কিন্তু তার আগেই রুনুর পায়ের শব্দ পেয়ে মা ডাকলেন।

    রুনু মুখখানি ভার-ভার করে গেল মায়ের কাছে। কিন্তু মা ওসব চেয়েও দেখলেন না। তিনি ততক্ষণে উঠে বসেছেন। জিজ্ঞেস করলেন, চলে গেছে তোমার বন্ধু?

    হ্যাঁ।

    শোনো।

    কেন?–মার গলা যেন কেমন শাণিত হয়ে উঠেছে। চাউনিটি যেন রাগ রাগ ভাবের।

    রুনু অভিমানে ডুবে গেল। বলল, কী বলছ মা?

    মা বললেন, ও-ই যে তোমার তিপু, তা জানতুম না। ওকে আর কোনওদিন বাড়িতে এনো না, ওর সঙ্গে মেশামিশিও কোরো না একদম।

    রুনুর দুটি বড় বড় চোখ বিস্ময়ে ও অজানা ভয়ে পলকহারা হয়ে গেল। জিজ্ঞেস করল, কেন মা?

    মার ভ্রূ দুটি কুঁচকে উঠল। কী ভয় করছে এখন মাকে দেখে! মা অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, সব কথা তোমাকে বলতে পারব না, জেনে রাখো, ওরা ভাল নয়। ওদের সঙ্গে কোনও ভদ্রলোকের ছেলেমেয়ের মেলামেশা একদম উচিত নয়।

    কী একটা বিশেষ ভয়াল ইঙ্গিত আছে যেন মার কথায়! তাই মা অমন এলাকাড়ি দিয়েছিলেন তিপুকে দেখে। কিন্তু তিপু! তিপুর তো কোনওদিন কিছু খারাপ দেখেনি রুনু। ক্লাসের মায়া নাকি কাকে কী সব চিঠিপত্র লেখে! শোভা কত রকমের বাজে কথা বলে। তিপু তো সে রকম কথা কোনওদিন বলেনি!

    রুনু বলল খুব ভয়ে ভয়ে, জানো মা, তিপু কিন্তু ক্লাসের পড়া খুব ভাল দেয়। ইংরিজিতে

    শোনো রুনু।–মার গলা রুনুর বুকে যেন কেটে কেটে বসে। বললেন, তিপু লেখাপড়ায় কত ভাল-মন্দ, আমি ওসব শুনতে চাই নে। তিপুর কী দোষ আছে, গুণ আছে তাও আমি জানিনে। কিন্তু তিপুর সঙ্গে তোমার মেশা দূরের কথা, কথা বলাও উচিত নয়। কী করে ও মেয়েকে স্কুলের দিদিমণিরা পড়তে দিচ্ছে বুঝিনে। খালি জেনে রাখো, ওর মা ভীষণ খারাপ, ভীষণ! যার চেয়ে আর কিছু হয় না, বুঝেছ? বলে রুনুর চোখের দিকে তাকালেন মা। কী একটা বিশ্রী ইঙ্গিত ছিল মায়ের কথায়, রুনুর মুখ লাল হয়ে উঠল। আর তিপুর মার কথা ভাবতে গিয়ে শহরের এক শ্রেণীর মেয়েদের চেহারা ভেসে উঠল তার চোখের সামনে। মার কথা থেকে সেই সব মেয়ের মূর্তিই ভেসে ওঠে।

    কিন্তু তিপুর সঙ্গে তো কোনও মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তিপুকে রুনু তার চেয়ে সব বিষয়ে অনেক সুন্দর দেখে।

    বোধ হয় রুনুর মুখে কিছু সংশয়ের ছায়া দেখে দৃঢ় গলায় মা বললেন, মোট কথা, তুমি এখন বড় হচ্ছ। তিপুর সঙ্গে একেবারে মিশবে না, কথাও বলবে না। যাও, খেয়ে নাও গে। এখুনি তোমার গানের মাস্টার মশাই এসে পড়বেন আবার।

    চলে গেল রুনু। কিন্তু তিপুর কোনও দোষের কথা তো মা বললেন না। তিপুর তো কোনও দোষ নেই। কথা বলবে না সে তিপুর সঙ্গে। তবে কী বলবে সে তিপুকে! তিপু যখন হাসবে তার দিকে তাকিয়ে, ডাকবে–এই রুনু, শোন, তখন কী করবে রুনু, সে কথা কেন মা বলে দেবেন না! এমনি মিছিমিছি একজনের সঙ্গে কখনও আড়ি করা যায়? তিপু যদি সেই আগের মতো একদৃষ্টে  তাকিয়ে থাকে, তখন কী হবে রুনুর?

    খেতে বসে বুকের মধ্যে টনটন করতে লাগল রুনুর। মরে গেলেও তো সে তিপুকে তার মায়ের বিষয় জিজ্ঞাসা করতে পারবে না। গান করতে বসে জাগরণে যায় বিভাবরীর স্বরলিপি তুলতে গিয়েও তার মনে হল, আচ্ছা, কেন এত প্যাঁচালো এই পৃথিবীটা! কার সঙ্গে এখন এ বিষয় নিয়ে রুনু আলোচনা করবে! তার আলোচনা করা দরকার, জানা দরকার, বোঝা দরকার।

    রাত্রে সে যে বাইরের উঠোনের অন্ধকারে বসে ছিল, মা বোধ হয় তা জানতেন না। শুনতে পেল, মা বাবাকে বলছেন, তবে আর তোমাকে বলছি কী। দেখি রুনুর সঙ্গে একেবারে আমার ঘরে এসে হাজির। আমি তো একেবারে শিউরে উঠেছি দেখে। এ কী, মঙ্গলার মেয়ে এ বাড়িতে কেন? সে যে আবার স্কুলে পড়ে, তা কে জানত!

    বাবার গলা শোনা গেল, দিনকাল তো বদলে যাচ্ছে।

    মা বললেন, তা বলে একটা প্রস্টিটিউটের মেয়েকে স্কুলে রাখবে? অন্যান্য মেয়েরা খারাপ হয়ে যাবে না?

    বাবা বললেন, শুনেছিলুম মঙ্গলা ওর মেয়েকে কোন এক আলাদা বাড়িতে রেখে দিয়েছে।

    যতই রাখুক আলাদা, তবু সে যা তাই।

    প্রস্টিটিউট শব্দটার আভিধানিক মানে জানে না রুনু। ভাবগত অর্থটা জানে। ঠিক যে সব মেয়েদের কথা ভেবেছিল সে, তবে তা-ই তিপুর মা! তিপুর মতো মেয়ের মা এই রকম কেন হয়? তিপু তো তার চেয়ে মোটেই খারাপ নয়। ও, তাই বুঝি তিপু কোনওদিন রুনুকে তাদের বাড়ি যেতে বলত না!

    কিন্তু তিপুকে কী বলবে রুনু! মা বাবার কাছে যেটা সমস্যা, রুনুর কাছে সেটা কোনও সমস্যাই নয়। ওঁদের কাছে তিপু শুধু খারাপ মেয়েমানুষের মেয়ে। রুনুর যে বন্ধু।

    কিন্তু রুনু মনে মনে ঠিক জানে, তার আর কিছুতেই তিপুর সঙ্গে কথা বলা চলবে না, মেলামেশা তো অনেক দূরের কথা।

    পরদিন আগে আগে বেরিয়ে গেল রুনু স্কুলে। তিপু এসে রোজ দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার মোড়ে একসঙ্গে যাবার জন্য। তার আগেই বেরিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য, তিপু যে এত আগে এসে রোজ দাঁড়িয়ে থাকে, কে জানত! তিপু হেসে বলে উঠল, উঃ, আজ খুব সকাল সকাল এসেছিস তো? রুনু দেখল, আজও ঠিক তিপু বেণী দুটি যা-তা করে বেঁধে এসেছে। ফ্রকের পিঠের বোতামগুলি লাগায়নি ঠিক করে।

    রুনু গম্ভীর হয়ে গেল। রাগ করে নয়। বুকটা কী রকম ধড়াস ধড়াস করছে! মার কথাগুলো মনে পড়ছে। কী বলবে সে তিপুকে! মার উপরে, সংসারের উপরে ভীষণ রাগ হচ্ছে আর কান্না পাচ্ছে রুনুর। আর, আর তিপুর উপরেও রাগ হচ্ছে। কেন মরতে ও-রকম মায়ের মেয়ে হয়েছে! হল যদি, তবে রুনুকে কেন ভালবেসেছে!

    তিপু কিন্তু থিতিয়ে গেছে রুনুর ভাব দেখে। কেন, এ রকম করছে কেন রুনু! রুনুর মুখে তো সে ভাবের অভিমান লেগে নেই! তিপুর উপর রাগলে তো তাকে এ রকম দেখায় না! তবে, তবে? তিপু যেন সাপ। অ্যাসিডের গন্ধ পেয়ে সতর্ক সন্ত্রস্ত হয়ে উঠল। মাথা নত হল তারও। মুখখানি ভরে গেল একটি বোবা ব্যথার অভিব্যক্তিতে। তোর মা রাগ করেছে, না?

    রুনু পিছন ফিরে তাকাল। কে জানে, মা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে কি না! নেই। রুনু কোনও রকমে ঘাড় নেড়ে, হঠাৎ জোরে জোরে হাঁটতে লাগল তার স্লিপারে শব্দ তুলে। তিপু আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগল তার শক্ত হিলে খট খট করে।

    এর চেয়ে বেশি কিছু বলার দরকার ছিল না তিপুকে। এইটুকুর মধ্যেই আসল গণ্ডগোলটা জানাজানি হয়ে গেল ওদের।

    এতে ওরা কে কতখানি আঘাত পেয়েছে, কে কত কেঁদেছে লুকিয়ে, সেটা জানাজানি হওয়ার কোনও উপায় রইল না। মেশামিশি, কথা বলাবলি বন্ধ হয়ে গেল ওদের আপনা থেকেই। ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল দুজনে।

    কিন্তু রুনুর তবু মনে হয়, তিপু ক্লাসে তাকিয়ে আছে তার দিকে। তাই মাঝে মাঝে ও আড়চোখে তাকায়।

    আসলে ওরা দুজনেই সোজা চোখে তাকাতে গেছে ভুলে। কিন্তু তাকানোটা এ জীবনে যেন শেষ হবে না আর। আর, বুকের মধ্যে কোথায় যেন আছে একটি মস্ত তেপান্তর। সেখানে যেন পুব-সাগরের ঝড়ো বাতাস মাথা কোটে নিরন্তর।

    কে এসে দুজনের মাঝখানে পড়ে রাস্তার ডাইনে বাঁয়ে সরিয়ে দিয়েছে ওদের। কিন্তু বিচ্ছেদের আড়ালে, কাঁদতে গিয়ে হাসবার মতো একটি বিচিত্র খেলা পেয়ে বসেছে দুটিকে।

    তিপু অপেক্ষা করে না আগে এসে, রুনু ছুটে আসে না কারুর আশায়, তবু ওদের দেখা হয়ে যায় রোজ। কিন্তু মিশতে মানা, কথা বলতে মানা। রাস্তার দুপাশ ধরে দুজনে যায় হেঁটে। যেন একজনকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে পথের এক পাশে, আর একজনকে টেনে ধরে রাখা হয়েছে আর এক পাশে।

    আড়চোখে ওরা দেখে কি না! কে জানে। না দেখাই উচিত, কেন না, ওদের মানা আছে। বেলা দশটার রোদে ওদের ছায়া দুটি শুধু জানে, কী করে ওরা, কী হয় ওদের।

    খানিকটা এগিয়ে মিউনিসিপালিটি, তারপরে অনেকগুলো দোকান–মোষের খাটাল, কামারের দোকান, একটা কালভার্ট, সিনেমা-হল, ডাক্তারখানা, ফোটোর দোকান। তারপরে ডান দিকে একটি রাস্তা চলে গেছে পুব দিকের মাঠে। ওদিকটার কোনও সীমা নেই। বড় বড় গাছের ফাঁকে ফাঁকে মাঠ, ধানক্ষেত, জঙ্গল, দূর গ্রাম। তার পরে আরও যেন কত কী! কত কী! শুধু তার ইশারা নিয়ে পড়ে থাকে আকাশটা।

    কিন্তু ওরা যায় সোজা উত্তরে কারখানা পেরিয়ে, পোস্ট-আফিস ডিঙিয়ে, তারপরে স্কুল।

    ওদের মানা আছে, ওরা কথা বলে না, মেশে না। যেন দুটি আলাদা জগৎ, নত মুখে, সামনে তাকিয়ে, নিস্পৃহভাবে চলে যায় রাস্তার দুপাশ দিয়ে। রোজ রোজই এই খেলা।

    তারপরে একদিন এই খেলার আয়ু শেষ হয়ে আসে। পৃথিবীতে সব খেলারই যেমন একদিন শেষ হয়।

    পুজোর ছুটি কেটে গেছে। শরৎ গিয়ে হেমন্তের কাল এসে পড়েছে আকাশে। বাতাসে মাঝে মাঝে উত্তরের ঝাপটা টের পাওয়া যায়। আকাশ যেন বছর কাবারের আগে বড় বেশি নীল হয়ে গেছে। আরও বড়, অনেক বড় হয়ে সে হারিয়ে যেতে চাইছে। রোদে নতুন আমেজ। শীত আসার আগেই পাখিগুলি সারাদিন ডেকে নিচ্ছে প্রাণভরে।

    আজও তেমনি না তাকিয়েও মোড়ের মাথায় এসে পরস্পরকে টের পেয়ে গেল ওরা। তারপর যেমন চলে, তেমনি চলতে লাগল।

    মিউনিসিপাল অফিস গেল, পার হয়ে গেল দোকানগুলো, মোষের খাটাল, কামারের দোকান, কালভার্ট—

    কেন, তিপু কি আজ আর যেতে চায় না? ওর ছায়াটা যেন পিছিয়ে পড়ছে মনে হয় রুনুর।

    তারপরে সিনেমা হল, ডাক্তারখানা, ফোটোর দোকান

    এ কী, কোথায় যাচ্ছে তিপু? রুনু থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। দেখল, তিপু পুবদিকের পথটায় চলে যাচ্ছে হনহন করে। কেন রাগ হয়েছে?

    রুনুর মনে হল, মা যেন বলছেন, তুমি ওদিকে কী দেখছ রুনু? যাও স্কুলে চলে যাও, ঘণ্টা বাজার সময় হল।

    রুনুর বুকটা কী রকম করছে! ওকে স্কুলে যেতে হবে, কিন্তু তিপু আজ কেন এমন করে খেলা ভেঙে চলে যাচ্ছে! তিপু কি একটুও বোঝে না, একটুও কি কষ্ট হয় না তার রুনুর জন্যে!

    রুনু যেন শুনতে পাচ্ছে মায়ের শাসানো চিৎকার–স্কুলে যাও বলছি…

    কিন্তু এ কী রুনু, অবাধ্য মেয়ে তুই, তুই কেন মাঠের পথে যাস? –নিজেকেই যেন বলে রুনু, আর নিজেই জবাব দেয়, তিপু কি একটুও বোঝে না, কত কষ্টে রুনু চেপে রাখে নিজেকে। না কি তিপু আজ আর সহ্য করতে পারেনি। আর বুঝি সে এমন খেলা খেলতে পারে না।

    কিন্তু এ কী, তিপু এত জোরে যাচ্ছে কেন? রুনু পিছু পিছু আসছে বলে? রুনু ডেকে উঠল, তিপু, তি–পু!

    অমনি রুনুর কানে বাজল মায়ের হুঙ্কার : খবরদার, খবরদার বলছি রুনু

    কিন্তু তিপু এত জোরে ছুটছে কেন? মাথাটা এত নুয়ে পড়েছে কেন ওর? কাঁদছে, না? কাঁদছে তিপু, আর রুনুর কান্না তুই দেখবি নে চেয়ে, না? তোরই খালি কষ্ট হয় ; রাগ হয়, আর আমার বুকটা কেমন করে, তুই জানিস নে? তিপু–তি-পু

    গাছের আড়ালে পড়ল তিপু, আবার দেখা গেল। মাঠে পড়ল, আবার গাছের আড়ালে। বই বুকে চেপে, বেণী উড়িয়ে রুনু ছুটছে। দমের অভাবে আর ডাকতেও পারে না। ফিসফিস করে ডাকে শুধু, তিপু, তিপু, তিপু।

    তারপরে একটা কুলঝোপের কাছে এসে, বই ফেলে রুনু দুহাতে জড়িয়ে ধরে সখীকে। তিপু মাটিতে মুখ গুঁজে ফুলে ফুলে কাঁদতে থাকে। রুনুও কাঁদতে থাকে তিপুর পিঠে মুখ চেপে।

    হেমন্তের উদার আকাশ ভরে বাতাস লুটোপুটি খায়। মাঠে মাঠে পাকাধানের গোছা পড়ে নুয়ে। শব্দ হয় ঝিরিঝিরি, গন্ধ ছড়ায় নতুন ধানের। আর মনে হয়, আকাশ আর মাঠ যেন হাসে ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে, তাদের দু-চোখভরা স্নেহ ও বেদনা। এই যে মেয়ে দুটি আজ প্রথম স্কুল পালিয়ে এসেছে, সমাজ ও মায়ের বারণ মানেনি, তাতে তাদের একটুও রাগ হল না। বরং যেন খুশি হয়ে ঠাঁই দিল এ ঝোপের নির্জনে।

    দুটিতে অনেকক্ষণ ধরে শুধু কাঁদল, তারপর ফোঁপাতে লাগল। তারপরে এক সময়ে ফোলা-ফোলা চোখ নিয়ে, গায়ে গায়ে জড়িয়ে বসে রইল চুপ করে, দূর মাঠ ও আকাশের দিকে চেয়ে। তখনও কান্নার হেঁচকি উঠছে দুজনের। তারপর শুধু থেকে থেকে কেঁপে যেতে লাগল ওদের বুকের গভীর থেকে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাস।

    দুঃখ দেখলে ওদের বুক ছাপাছাপি হয়ে যায়, আনন্দে হেসে বাঁচে না। ভালবাসার টান ধরলে যে সব অনুশাসনের বেড়া ভেঙে ফেলতে পারে, সেটা ওরা জানে না। না জেনে, বাঁধ ভেঙে ওরা জীবনের অচেনা আঙিনায় এসে বোবা হয়ে রইল অনেকক্ষণ।

    তিপু দুজনের বইগুলি গোছাল। রুনু তিপুর বিনুনি দুটি বাঁধল ভাল করে, ফ্রকের বোতামগুলি ঠিক করে লাগিয়ে দিল। আর রুনুর বুকের কাছে একটি পাকা ঘামাচি নখ দিয়ে মেরে দিল তিপু। আবার দুটিতে বসে রইল, গায়ে গায়ে, হাতে হাত দিয়ে! কোথায় যেন মেঠো মানুষের গলা শোনা গেল। গোরু ডেকে উঠল দূর থেকে। কুলগাছে ডেকে গেল পাখি। কখন সূর্য চলে গেল মাথার উপর দিয়ে।

    রুনু গুন গুন করে গান গেয়ে উঠল। এতদিন মাস্টারমশায়ের কাছে শিখেছে, বাড়িতে কেউ এলে মা গান করতে বলেছেন। আজ আপনা থেকে গাইছে রুনু—

    এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না।
    মন উড়েছে উড়ুক না রে মেলে দিয়ে গানের পাখনা।

    রুনুর গান শেষ হল। তারপর তিপুও গুন গুন করে উঠল—

    তোমার বাঁশী শুনলে ঘরে রইতে পারি না।
    তোমার দেখা পেলে আগল বাঁধতে পারি না।

    দুজনের গান দুরকম। সুরের কোনও মিল নেই, ভাবে ও ভাষার কোনও মৈত্রী নেই। না-ই বা থাকুক। তারা যা জানে, তা-ই গাইতে লাগল। তাদের সব গান তারা গাইবে আজ পরস্পরের মুখের দিকে তাকিয়ে।

    রুনু।   মরি মরি, জাগরণে যায় বিভাবরী
    আঁখি হতে ঘুম নিল হরি।

    তিপু।   সখী এ পথ দিয়ে অনেক গেছি।
    তাকিয়েছি মিছামিছি
    তোমার দেখা পাই নি

    রুনু।   কবে তুমি আসবে বলে।
    আমি রইব না বসে
    আমি চলব বাহিরে।

    তিপু।    অমন কুঞ্জের ধারে আসব না
    ভুজঙ্গ সেথা আছে গো তবু অঞ্জন মাখি নয়নে।
    মনোরঞ্জন পাশে আসি গো।

    রুনু।   আলোকের এই ঝরনা ধারার ধুইয়ে দাও
    আপনাকে এই লুকিয়ে রাখা,
    ধুলায় ঢাকা, ধুইয়ে দাও।

    তিপু।   শিকল দিয়ে বাঁধো নাই তো
    কী দিয়ে যে বেঁধেছ বাঁধনে যে এত সুখ
    ছাড়া যেন না পাই গো।

    এই যেন জীবনে দুজনের প্রথম গান গাওয়া। হাসল তারা দুজনে, গম্ভীর বিষণ্ণ সে-হাসি। এই বয়সের এত কথা, এত কাকলি–সব ছাপিয়ে, যেন ভরা গাঙের টাবুটুবুতে এসে পড়েছে তারা। অবাধ্য হয়ে তারা বাধ্য হল পরস্পরের। জীবনের কোথায় একটা দরজা খুলে গেল নিঃসাড়ে, দেখে শুধু হাসল ওই আকাশ আর পাকাধানের মাঠ।

    রুনু বলল, স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বোধহয় পড়ল।

    তিপু বলল, চল এবার যাই।

    মাথার ওপরে আকাশটি চলল সঙ্গে সঙ্গে, মাঠের বাতাস এল পিছু পিছু।

    বাড়ি আসতে মা রুনুর দিকে তাকিয়ে একটু অবাক হলেন। বললেন, কী রে, শরীর খারাপ হয়েছে নাকি?

    রুনুর বুকের মধ্যে কেঁপে উঠল। বলল, না তো।

    তারপরে খেয়েদেয়ে, চুল বাঁধার আগেই আজ রুনুর বড় ঘুম পেতে লাগল। কখন এক সময় ঘুমিয়েও পড়ল মায়ের বিছানায়।

    বিকালে ঘরে ঢুকে রুনুকে এমন ঘুমুতে দেখে চমকে উঠলেন মা। গায়ে হাত দিলেন আস্তে আস্তে। না, জ্বর আসেনি। তারপর খানিকক্ষণ রুনুর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মায়ের কী যেন হল! তিনি হঠাৎ উপর দিকে মুখ করে চুপিচুপি বললেন, মেয়েটা যেন আমার সুখী হয় জীবনে।

    ঘরে ঢুকলেন রুনুর বাবা। বললেন, কী করছ?

    মা বললেন, কিছু না। জানো গো, আমার বড় সাধ, রুনু একখানি শাড়ি পরবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরশুমের একদিন – সমরেশ বসু
    Next Article বনলতা – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }