Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মনোমুকুর – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প155 Mins Read0
    ⤶

    একটু নীল আকাশের খোঁজে

    আমাদের এই কল-মিল-গঞ্জ-স্টেশনওয়ালা ঘিঞ্জি ছোট শহরের আকাশটাও এত নীল হয়ে ওঠে মধ্যম ঋতুতে, নানান আকারের সাদা মেঘগুলি নরম গা এলিয়ে এলিয়ে ঘুরে বেড়ায় তার অথৈ বুকে, বর্ষার সদ্যস্নাত গাছপালাগুলি সবুজ সমারোহে এত মেতে ওঠে, চিলগুলি চিৎকার করে গলা কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে এমন ডাকে আকাশ থেকে যে আমাদেরও মনটা ছুটি-ছুটি করে ওঠে।

    নানান ভাগে বিভক্ত, কাজ আর কাজঠাসা সময়ের মধ্যে থাবা বাড়িয়ে মুঠোখানেক সময় অপহরণের লোভ কিছুতেই সামলানো যায় না। জানি, আপনি অফিসে বসে বড় সাহেবের সুইং-ডোরটার দিকে একবার তাকাবেন আমার কথা শুনে। তারপর ঠোঁট কুঁচকে একটু হাসবেন। কিংবা যিনি কারখানায় মেশিনের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন, দোকানের হিসেব লিখছেন, তাঁরাও আমার এই মুঠো বাড়িয়ে সময় অপহরণের এ রকম কাব্যিক চৌর্যবৃত্তিকে চার্জশিট এবং ওয়ারনিং, এমনকী ডিসচার্জের বাইনাকুলার দিয়ে কাছাকাছি দেখে, চোখ বড় বড় করে তাকাবেন আমার দিকে। তারপরে জিজ্ঞাসা করবেন, আমি এখনও আমার বাপের ভাতে আছি কি না।

    নেই। বিশ্বাস করতে পারেন।

    কাজ? তাও করতে হয়। অনেকখানি করতে হয়। আর এমনি একটা কাজ, যেখানে ফাঁকি দিলে কোম্পানি ফাঁকি পড়বে না—সব ফাঁকিটা পড়বে এসে সরাসরি নিজের ঘাড়ে। সেখানে জমার অঙ্কে শূন্য নিয়ে যদিও বা নিজে নিশ্চিন্ত থাকতে পারতুম, কিন্তু কাজটা যেহেতু একেবারে সোজাসুজি দশজনের পাতে গিয়ে পড়ছে, সেই হেতু তৎক্ষণাৎ লোক-জিহ্বা আমাকে সমালোচনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে।

    কী রকম?

    ধরুন, এই-রকম?

    ফুলের মালাগাছি বিকাতে আসিয়াছি
    পরখ করে সবে, করে না স্নেহ।

    যখন ফুল তুলি আর মালা গাঁথি, তখন মনের মতোটি করেই গাঁথি, চেষ্টা করি। কিন্তু সময়টা উনিশশো আটান্ন সাল। জমার অঙ্ক শুন্য রেখে সত্যিই তো আর নিশ্চিন্তে মালা গাঁথা যায় না। তাই, সে-মালা নিয়ে আপনাদের দোরে আসতেই হয়।

    আর আপনিও জানেন, দেখেশুনে না কিনলে ফাঁকিতে পড়তে হবে। আপনি নানান ভাবে পরীক্ষা করেন।

    এ যুগে মালা সাজি ভরে রাজসভায় কিংবা অন্তঃপুরে পাঠিয়ে দিলেই কদর হয় না। ওই রাজসভা আর অন্তঃপুর এখন রাজপথে আর জনপদে ঠাঁই নিয়েছে। তাই–

    যাক গে, এত কথা বলার প্রয়োজন কী? বলতে চাইছিলুম কাজের কথা। কাজ করি আর তাতে ফাঁকি দিলে মোটেও চলে না। কারণ, কোম্পানি নয়, মালা এখানে মালাকারের নামে বিকোয়। অতএব সাবধান!

    তবু সময় চুরির লোভ সামলাতে পারিনে।

    ক্ষতি এসে চোখ রাঙায়, কাজ এসে উপদেশ দেয়।

    কিন্তু চৌর্যবৃত্তিটা এমন একটি জিনিস যে, বিবেকের শাসনটা আপাতত মানতে রাজি নয়।

    কেন? সেইজন্যই বলছিলুম, আমাদের এই ছন্নছাড়া ঘিঞ্জি ছোট শহরটার আকাশটার দিকে একবার চেয়ে দেখুন। সে তার চিমনি আর পুরনো গাছের ডালপালায় যেভাবে আকাশটাকে ধরে আছে, সেই আকাশ যেখানে মুক্ত অবাধ হয়ে ছড়িয়ে আছে দূর চক্ৰবালে, সেখানে যেতে আপনার মন করে কি না, নিজেই একবার পরখ করুন।

    না, আমি মোটেই হিল্লি-দিল্লি যাবার কথা চিন্তা করিনি। নিতান্তই, এই শহর থেকে মাইল দশেকের মধ্যেই, কোনও একটা নির্জন স্টেশনে গিয়ে নেমে পড়া। তারপরে, আকাশটাকে দেখা।

    পারবেন না আসতে? তা হলে আমাকে একা-একাই কাজে ফাঁকি দিতে হয়। দিলুমও। আর মাত্র তিনটে স্টেশন পরেই নেমে পড়লুম।

    যা ভেবেছিলুম, তাই। আকাশটাকে কেউ বাঁধতে পারেনি। শরতের মাঠ দিগন্ত ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর এই ঘোর দুপুরে, জনহীন স্টেশনটার পাশের বনেই পাখিটা ডাকছে, খোকা কোথা! খোকা কোথা!

    মায়ের এই চিরদিনের কান্না শুনতে গেলে, আমার আর মাঠ আর আকাশ দেখা হবে না। তাই পা বাড়ালুম।

    কোথায়ই বা পা বাড়াব? ওই তো আবার কোন পাখিটা ডেকে উঠছে পুবের মাঠ থেকে। কেহে? কেহে? কেহে?

    জবাব দেবার কোনও দরকারই নেই জানি। আমাকে নমস্কার করে হেসে বলতেও হবে না, আজ্ঞে, আমি অমুক, অমুক জায়গা থেকে এসেছি।

    শুধু এই অবাধ মুক্ত আকাশের তলে, চারপাশে সবুজ সমারোহের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই সব নানান কিচিরমিচির আমাকে শুনতেই হবে। নইলে আকাশটাও এতখানি দেখা যেত না, মাঠও এত অবারিত হতে পারত না।

    .

    টিকেট নেবার লোক নেই। প্ল্যাটফরম্ শেষ হয়ে গেল। খানিকটা এগোলেই বাঁ দিকে অনেকগুলি চালাঘর। রেললাইনটা সোজা চলে গিয়েছে উত্তরে টেলিগ্রাফের তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।

    চালাঘরগুলির দিকেই পা টানতে লাগল। এই চকচকে অবাধ নীল আকাশটার সঙ্গে নিঝুম চালাঘরগুলির কী একটা সম্পর্ক যেন আছে।

    বড় বড় গাছ এখানে সেখানে, তারই নীচে চালাঘরগুলি সারি সারি। ঝাঁপ নেই। বেড়াও নেই। চারদিকেই খোলা। অতএব এগুলিকে ঘর বলা যাবে কি না বুঝতে পারছি নে। মাটি এখনও রীতিমতো এবড়োখেবড়ো। মানুষ, গোরু আর গোরুর গাড়ির চাকার গভীর দাগ চালাগুলির পাশে। বর্ষার সময়, হাটের দিনে যারা এসেছিল, এ-সব তাদেরই চিহ্ন।

    বোঝা গেল এটা বাজার।

    খাবারের দোকানে লোক নেই। দোকানদার ঘুমোচ্ছে। কাচ-লাগানো একটা খাবারের কেস যদিও আছে, তার কাচ গেছে ভেঙে। কাঠগুলিতে ন্যাতা বুলিয়ে বুলিয়ে ন্যাতারই রং হয়ে গেছে। খাবারও বিশেষ নেই, বোঝাই যায়। মাছিগুলি খালি পাত্রের রসেই যা একটু ভ্যানভ্যানাচ্ছে।

    শুধু তেলেভাজার কড়াটাই উনুনের উপর চুপড়িটাকা। সকালবেলা নিশ্চয়ই তেলেভাজার খদ্দের কিছু আসে। নইলে উনুনের তলায় সাতদিনের বাসি ছাই ওগুলি নয় নিশ্চয়ই। আর কুকুরটাও ওভাবে ছাইগাদায় শুয়ে থাকত না, হপ্তাবারে অথবা হাটের দিনেই শুধু আসত হয়তো। একদিনের আশায় কে আর সাতদিন পড়ে থাকে?

    খিদে যদি পায় আমার?

    ভেবে কোনও লাভ নেই। এখানে খাবার খেতে কেউ আসে না।

    আর একটা মুদির দোকান পাশেই। ঝাঁপ হাপ-বন্ধ। নাসিকাধ্বনি শোনা যাচ্ছে মুদির।

    দাওয়ায় বসে আছে একটি লোক। ওর চোখে বোধ হয় ঘুম নেই। দিব্যি পিলেখানি নিয়ে হলদে চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। পাশে একখানি কাস্তে রয়েছে পড়ে। গামছা দিয়ে মাথাটি বাঁধা। বেশ করে বাঁধা। বোধহয় মাথা ধরেছে। তার কাছেও একটি কুকুর বসে রয়েছে। সামনে পড়ে থাকা শালপাতাটি চাটা হয়ে গেছে নিশ্চয়।

    একটা খোলা চালায় একজন বসে আছে সের পাঁচেক ঢেঁকিছাঁটা লাল চাল নিয়ে। পোকা-খাওয়া কিছু বেগুন চটের ওপর বিছানো একজায়গায়। লোক নেই কেউ সামনে।

    মনিহারি দোকান আছে একটা। বেড়ায় অনেক ছবিওয়ালা ক্যালেন্ডার। নানারকমের ছবি। দোকানি বসে বসে কী যেন লিখছে। তাকিয়ে দেখল আমাকে। দেখতেই লাগল। তারপর জিজ্ঞাসা করল, কোথায় যাবেন?

    –বেড়াতে এসেছি।

    -ও।

    বিরক্ত হল কিংবা বিদ্রূপ করল, বুঝতে পারলুম না। অ-ভক্তিটা টের পাওয়া গেল। আর টের পাওয়া গেল চোখের কোণে একটু সন্দেহ।

    কয়েকটি লোক, প্রায় উলঙ্গ, বসে আছে গোল হয়ে। একটা হুঁকো নিয়ে টানাটানি করছে সবাই। সামনে দুটো গোরুর গাড়ি, বলদ-হীন, ঘাড় গুঁজে পড়ে আছে। বলদ চারটে একটা গাছের গোড়ায় বাঁধা। লোকগুলির মতোই,হাড়সার চেহারা বলদগুলি, অপুষ্ট ঝুঁটিতে জোয়ালের ঘষায় ঘষায় ঘা হয়ে গেছে। কেউ শুয়ে, কেউ বসে। কেউ চোখ বুজে, কেউ অলস চোখে চেয়ে রয়েছে শূন্যে।

    আকাশ দেখছে নাকি?

    লোকগুলি কী একটা আলোচনা করছিল। থেমে গিয়ে আমাকে দেখতে লাগল। তারপর চোখাচোখি হল নিজেদের মধ্যে। আবার তাকিয়ে রইল আমার দিকে।

    ওদের সকলের চোখই কি হলদে? একটু নীল আকাশের ছায়াও নেই?

    আর একটু এগোলাম। একটি জীর্ণ সাইকেল, এবড়োখেবড়ো মাটিতে ঝনঝন করে এগিয়ে এল সামনে। আরোহীর মাথায় শোলার টুপি, শার্ট কাপড়ের মধ্যে ঢুকানো। গলায় মালার মতো স্টেথিসকোপ।

    ডাক্তারবাবু। এখনও বাড়ি যাবার সময় পাননি। আমাকে দেখতে লাগলেন ঘন ঘন। তারপর নামলেন একটি ঘরের সামনে। রেডক্রস-আঁকা একটি সাইনবোর্ডও আছে। বেলারাণী ফার্মেসি। ডাঃ হরেন্দ্রকুমার মিশ্র, এল. এম. এফ।

    –কোথায় যাবেন?

    বেড়াতে এসেছি।

    –অ! কোত্থেকে আসছেন?

    বললুম জায়গার নাম।

    ডাক্তারবাবু বললেন, বেড়ান।

    ঘরে ঢুকে গেলেন। চোখ ডলতে ডলতে, বোধহয় কমপাউন্ডারই হবে লোকটি, বেরিয়ে এল। এসে ডাকল, কই হে, এসো।

    সেই গোল-হয়ে বসা লোকগুলি উঠল।

    আমি এগোলুম।

    .

    বোধহয় ভুল করেছি। রেললাইনের পুবদিকে গেলেই বোধহয় ভাল হত। ওদিকটায় লোকজন পড়বে ভেবে গেলুম না। মনে করেছিলুম, হাটটা পেরিয়ে গেলেই মাঠ মিলবে। বেশ একটু মেজাজ নিয়ে, একটি গাছতলায় বসব। আকাশটাকে চোখ দিয়ে গিলে গিলে নেশা করব। কিন্তু কী রকম একটা ছন্নছাড়া রিক্ত শ্বাসচাপা চাপা ভাব চারদিকে। কালো কালো গায়ে নখ দিয়ে চুলকানো খড়ি ওঠা খসকা খসকা রং যেন সবখানে।

    একটু তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে হাটের এলাকাটা পার হতে চাইলুম।

    কিন্তু থামতে হল। যেন কাউকে কেউ মারছে, আর কে হাউমাউ করে চিৎকার করছে, এমনি ভাবে শব্দ করছে টিউবওয়েলটা। যে পাম্প করছে, সে একটি বুড়ি। পাম্প করছে কিন্তু জল উঠছে না। এক ফোঁটা জলও দেখা যায় না কলের নীচে, মাটির ওপর। আমাকে বলল একটু টিপে দিতে।

    দিলুম। সেই গলাটিপে-ধরা। চিৎকারের মতো একটা বিশ্রী শব্দ। কিন্তু এক ফোঁটা জলও নেই।

    বুড়িটা জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে চলে গেল হাটের দিকে।

    আমি এগোলুম। শরতের রোদে বেশ জ্বালা আছে। মাটি থেকেও একটা গরম তাপ উঠছে। কিন্তু লোকালয় দেখা যাচ্ছে যেন? লোক নয়, বাড়ি-ঘর দেখা যাচ্ছে যেন। মাটির বেড়া, টালির চাল, টিনের চাল, গোলপাতা কিংবা খড়ের চাল, এ-সবই বেশি। পাকা বাড়িও আছে যেন।

    কিন্তু মাথার ওপরে এগুলি কী?

    মশা। দুপুরেও দল বেঁধে চক্কোর দিচ্ছে মাথার ওপরে। খেতে চায়। ঘ্যানোর ঘ্যানোর করছে যেন।

    তা হলে গ্রাম পড়ে গেল এটা? পার হতে হবে তাড়াতাড়ি।

    একটা ভাঙা পুরনো বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলুম। দেয়ালে ঘুঁটে। দোতলাটা চিড়-খাওয়া, তার ফাঁকে ফাঁকে বেত-আচড়া সাপের মতো কী সব গাছের শিকড়েরা জড়াজাপটি করে আছে।

    বাড়িটার দরজা খুলে, একটি মেয়ে দাঁড়াল দরজায়। আর এই মৃত্যুপুরীর নৈঃশব্দ্যে শোনা গেল, কোথায় যাচ্ছেন?

    কাকে জিজ্ঞাসা করছে? পিছন ফিরে দেখলুম, কাকপক্ষীও নেই। ফিরে দেখলুম, মেয়েটি আমার দিকেই তাকিয়ে হাসছে।

    –আমাকে বলছেন?

    জবাবের আগে, মেয়েটি মুখে আঁচল চাপা দিয়ে হাসল এবং ভিতরের দিকে এমনভাবে তাকাল যে, তার চোখেই একাধিক মানুষের অস্তিত্ব টের পাওয়া গেল। বলল, আর কাকে বলব? আপনি অমুকবাবু, মানে, অমুকদা তো?

    মিথ্যে নয়, আমি সেই অমুক। কিন্তু ইনি? হ্যাঁ, ইনিই বলা উচিত। কেননা বয়স কুড়ির নীচে নয় নিশ্চয়ই। অবশ্য দেখতে কেমন, সেটা না বলাই বোধহয় ভাল। কারণ প্রথমটা দেখেই সেটা বোঝা যায় না। তবে চোখ দুটি বড়ই। মুখখানিও কোমল। সিঁথিতে সিঁদুর নেই, অবিবাহিতা, যেটা এখানে অচল। স্বাস্থ্য? মনে হচ্ছে রুগণ। আর চোখ, কী আশ্চর্য! এর চোখও হলদে।

    আমাকে বলতেই হল, আপনাকে চিনতে পারলুম না তো?

    মেয়েটি হাসল। বলল, ভুলে গেলেন? সত্যি, আপনারা ভাবুক বটে। তা তো হবেই। শত হলেও

    একটু অতিমাত্রায় স্মার্ট হবার চেষ্টা পীড়াদায়ক বোধ হল। বোধহয় পরিবেশেরই গুণে। একটু বিব্রত ভাবে হাসতে হয় আমাকে, এবং অপেক্ষাও করতে হয় শেষ পর্যন্ত শোনার জন্যে।

    মেয়েটা আবার বলল, সরযূর সঙ্গে আপনাদের বাড়ি গেছলাম, মনে নেই? সেই সরযূ, আপনাদের মিউনিসিপ্যালিটির স্যানিটারি ইনস্পেক্টরের মেয়ে?

    ঘাড় নেড়ে স্বীকৃতি জানালুম, সরযূকে আমি জানি।

    মেয়েটি বলে আবার, সরযূ আপনার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলে বাড়ি গিয়ে। আমি আমার দিদিরা গেছলুম শহরে সিনেমা দেখতে, সেই সময়। আপনাকে নেমন্তন্ন করেছিলাম আমাদের এখানে আসতে। আপনি বলছিলেন, আসবেন। অবিশ্যি আসবেন, সত্যি বিশ্বাস করিনি কোনওদিন। তা হলেও আপনারা

    আমাকে বলতে হল, না না, তার কী মানে আছে।

    অনেকগুলি গলার ফিসফিসানি আমার কানে এল। দৃষ্টির সীমানাতেও কয়েকটা এলোমলো চোখ, চিবুকের অংশ, একটু কাঁধ, আঁচলের ঝাপটা দেখা গেল।

    মেয়েটি বলল, আসুন। বাইরে দাঁড়িয়ে রইলেন যে।

    –হ্যাঁ, চলুন।

    হায়রে নীল আকাশ! শরতের নীল আকাশ!

    একটা উঠান, ঘাস ভরতি। কুয়ো, কুয়োর বাঁধানো পাড়, শেওলায় যার অকালের কোনও তারিখই জানা যায় না। দড়ি বালতি আর এক রাশ এঁটো বাসন ডাঁই করা রয়েছে। দুটো গোরু, খোঁটায় বাঁধা রয়েছে উঠোনে।

    এবড়োখেবড়ো ফাটাফুটি বারান্দা দিয়ে, একটি ঘরে নিয়ে গেল আমাকে মেয়েটি। বাকিরা দুড়দাড় করে দৌড়ে অন্য ঘরে গিয়ে ঢুকল।

    যে ঘরে নিয়ে এল, সেটা পুরনো হলেও মোটামুটি পরিষ্কার। দেয়ালে চুনের পোঁচড়া আছে। সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ছবি আছে। পারিবারিক ফটোও আছে দু-একটা। খান দুই পুরনো চেয়ার, একটা টেবিল। বইও আছে। সিনেমার পত্রিকা, খানকয়েক সাম্প্রতিক বহুবিক্রীত জনপ্রিয় উপন্যাস, বেশ সযত্নে গুছিয়ে রাখা আছে।

    মেয়েটি বললে, বসুন।

    বসলুম। মেয়েটি চলে গেল। এবার ভাবনার পালা। অবশ্য, মনে পড়ছে, কবে যেন দেখেছি মেয়েটিকে। আমাদের বাড়িতেই দেখেছি। সরযূই বোধহয় নিয়ে এসেছিল।

    কিন্তু এবার কে আসবে? মেয়েটির বাবা? সেইটেই স্বাভাবিক। বাড়ির পুরুষ মানুষ এসে আলাপ করবেন।

    অনেকগুলি মেয়ে-গলার হাসি কানে এল। আমার লজ্জা করতে লাগল একলা একলা। কারণ, ওরা জানে আমি ওদেরই খোঁজে এসেছি। যদিও নামটাও মনে নেই।

    কিন্তু গায়ে হাতে পায়ে চুলকোচ্ছে কেন?

    মশা। বোধহয় অনাস্বাদিত রক্তের গন্ধ পেয়েছে।

    আশেপাশে কি লোকজন নেই? এত নিঝুম কেন?

    একটু পরেই, দরজার পাশে একটা ছোটখাটো ভিড় দেখা গেল। সকলেই মেয়ে, সকলেই পরস্পরকে ঠেলাঠেলি করছে।

    –আহা! চল না।

    –তুই যা না।

    খিলখিল হাসি।

    –সেজদি আগে।

    না, বড়দি যাক না।

    –আচ্ছা, মা তুমি চলো।

    না, না।

    –হ্যাঁ।

    যিনি প্রথম ঢুকলেন, তিনি ঘোমটায় মুখ-ঢাকা। বাকিরা সকলে ঘোমটা-বিহীনা। বোধহয় কুমারী, দিদি এবং বোনেরা।

    মেয়েটি বলল, ঘোমটা টানা মহিলাকে দেখিয়ে, আমার মা।

    নমস্কার করলুম। তিনি সকলের বেশি জড়সড়। কোনওরকমে একবার ঘোমটা খুলে আমাকে দেখলেন। আমিও দেখলুম। বয়স বছর পঞ্চাশ হতে পারে। মেয়েটির মতোই মুখ প্রায়। ওঁরও চোখ দুটি বড়, কিন্তু কী আশ্চর্য ওঁর চোখও হলদে।

    উনি কী যেন বললেন মেয়েদের ফিসফিস করে। তারপর আমার দিকে ফিরেও যেন চুপিচুপিই বললেন, বসুন।

    বলতে বলতেও, হেসে মরে গেলেন যেন। আর লজ্জাতেই মিলিয়ে গেলেন বোধহয়।

    তারপর পাঁচ বোন। কুড়ির পরে একজন, হয়তো আঠারোর পাড়ে। বাদ বাকি ওপরে। কারুরই বিয়ে হয়নি, বোঝাই যায়। সবাই বসে পড়ে মেঝেতে। পরমুহূর্তেই গায়ে গায়ে পড়ে ভীষণ হাসাহাসি আরম্ভ হয়ে গেল।

    আমিও কি হাসব? কী জানি, ঠিক বুঝতে পারছিনে।

    এই বড়দি, কথা বল্ না।

    -কী বলব?

    –তুই যেন কী জিজ্ঞাসা করবি বলছিলি?

    –আমি না, টুকু।

    –ও, মেজদি?

    -না না। আমি না, তুই তো।

    –ভাগ।

    নীল আকাশটা আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, যে আকাশটাকে এই দরজার পুরনো চৌকাঠের সীমানায় বেঁধে এনেছে।

    জানেন, অমুকদা, বড়দি কবিতা লেখে।

    বললুম, তাই নাকি?

    বড়দি ধাক্কা দিতে লাগল একজনকে। –এই মিথ্যুক কোথাকার। আপনি জানেন, নমি গল্প লেখে।

    নমির কুড়ি বছর। সে মুখে আঁচল চেপে না না করতে লাগল।

    যার নাম টুকু, সে জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা, আপনার কোন গল্পটা সিনেমা হচ্ছে?

    বললুম।

    –অমুককুমার থাকবে?

    না।

    পাঁচজনের মধ্যেই একটা হতাশা দেখা গেল।

    –আচ্ছা কী করে লেখেন?

    বোকার মতো হেসে বললুম, সেটা ঠিক বলতে পারি নে।

    আবার চুপচাপ। পাঁচজনের মিটিমিটি হাসি।

    জিজ্ঞাসা করলুম, আপনাদের বাবা

    –বাবা কলকাতায়। চাকরি করেন কলকাতায়, রাত্রে আসবেন।

    বললুম, আজকে চলি, কেমন?

    একটা প্রবল কলরোল উঠল। না না, ইশ! এখুনি কী? অনেক গাড়ি আছে ফিরে যাবার। একেবারে রাত্রে খেয়েটেয়ে যাবেন।

    খেয়ে এবং টেয়ে? সে আবার কী কথা? পাঁচজনের দিকেই ফিরে তাকালুম। আর, পাঁচজনেই সহসা লজ্জায় যেন মাটিতে মিশিয়ে গেল। আর সকলেই আড় চোখে তাকিয়ে দেখতে লাগল।

    দশটিই হলদে-চোখ, শীর্ণ-গাল। তবু একটি কোমল করুণ স্নিগ্ধতাও আছে।

    কিন্তু আকাশটা আর নীল নেই, ধূসর হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। কেন? শ্বাস ক্রমাগতই আটকে আসছে। আর ভয় নয়, তবুও একটা ভুতুড়ে আবহাওয়া যেন ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। চারদিকেই কতগুলি অশরীরী আত্মার অস্তিত্ব যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কারা তারা?

    ঘোমটা জড়িয়ে মা এলেন। থালায় লাল রসগোল্লা (নিশ্চয়ই সেই দোকানের?) আর এক কাপ চা। পানাপুকুরের জলে দুধ দিলে যে-রকম রং হয়, সে রকম চায়ের রং।

    না না করেও খেতে হল।

    এবার চলি?

    পাঁচজনের চোখের দিকে তাকিয়ে যেন থমকে গেলুম। হলদে রংটা কখন উঠে গেছে, পাঁচজোড়া চোখ, পাঁচজোড়া কালো দীঘির মতো শান্ত, নিস্তরঙ্গ, কিন্তু পরিত্যক্ত বিষণ্ণতা সেই কালো জলে। বারে বারে চমকে উঠলুম, কারা এত দীর্ঘশ্বাস ফেলছে আমাকে ঘিরে?

    নমি, টুকু, বড়দি, সেজদি, কাউকেই আলাদা করে চিনতে পারছি নে আর।

    কে যেন বলল, আবার আসবেন।

    –আসব।

    আর একজন, আসবেন তো?

    –আসব।

    মা বললেন, একটা অনুরোধ করব বাবা।

    বলুন।

    বললেন, কত জায়গায় তো যান, কত লোকের সঙ্গে আপনার জানা শোনা। একটু দেখবেন আমার এই মেয়ে ক’টির জন্য। মোটামুটি আনে নেয়, খায়, এরকম ছেলে হলেই চলবে।

    আচ্ছা বলতে গিয়েও থেমে গেলুম। ফিরে তাকালাম পাঁচজনের দিকে পাঁচটি মুখ অবনত। পাঁচজোড়া চোখে, এই অনামী অবাধ মুক্ত নীল আকাশ-গ্রামটার কী এক অবোধ বোবা রহস্যময় কাহিনী যেন চিকচিক করতে লাগল। ঠোঁটের কোণে লেগে রইল একটু অস্পষ্ট হাসি।

    বললুম, দেখব।

    বেরিয়ে আসবার মুখে, পাঁচজনেই বলল, শহরে ওরা একদিন আসবে ছবি দেখতে, নতুন যে-ছবিটা আসছে।

    বাইরে যখন এলুম, আকাশে অন্ধকার নেমেছে প্রায়। মশারা চিৎকার করছে আমাকে ঘিরে। হাটের কাছে এসে মনে হল, এক-আধটা লক্ষ-হ্যারিকেনের আলোয় ভৌতিক ছায়ারা ঘুরছে ফিরছে, কথা বলছে, বোধহয় গুনগুনও করছে কেউ।

    সবটা মিলিয়ে একটা পরিত্যক্ত মৃত-পুরী যেন এই অবাধ-উন্মুক্ত নীল-আকাশ গ্রামটা। হায়রে নীল আকাশ!

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমরশুমের একদিন – সমরেশ বসু
    Next Article বনলতা – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }