Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মন ধোয়া যায় না – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প331 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিবাহ বিবরণ

    পাত্র দেখতে পাত্রীপক্ষ আসছে, তাও আবার ছয়জনের দল, যার অর্ধেক ছেলে, অর্ধেক মেয়ে, বেশ অবাক হলেন মুকুন্দচন্দ্র। খবরটা এনেছিল তার শালা শ্যামাপদ। বাউন্ডুলে স্বভাবের লোক, বউ মরে যাওয়ার পর যেন সব ব্যাপারে উৎসাহ বেড়ে গেছে। টেবিল চাপড়ে বলল, ‘বুঝলেন জামাইবাবু, মেয়েটিকে দেখে আমি যাকে বলে মুগ্ধ, তাই হয়ে গিয়েছি।’

    মুকুন্দচন্দ্র শালাকে বোঝার চেষ্টা করলেন, ‘মুগ্ধ হওয়ার কারণ?’

    ‘একেবারে কল্পনার মতো। দেখলে মনে হবে যমজ।’ শ্যামাপদ বলেছিল।

    কল্পনা মারা গিয়েছে বছর দশেক আগে। বেশ মিষ্টি দেখতে ছিল মেয়েটা। মুকুন্দদাস ওকে খুব পছন্দ করতেন। দিঘার সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে গিয়েছিল। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও শ্যামাপদ নাকি জলে ঝাঁপিয়েছিল বউকে বাঁচাতে যা মুকুন্দদাস পুরোপুরি বিশ্বাস করেননি।

    জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এত লোকের আসার কী দরকার, দুজন এসে কথা পাকা করে গেলেই তো হত।’

    ‘বুঝছেন না,’ শ্যামাপদ মাথা নেড়ে বলল, ‘তিনজন পাত্রীর মায়ের তরফের তিনজন বাপের দিকের। আমি অনেক অনুরোধ করেছিলাম দুপুরে এসে খাওয়া—দাওয়া করে পাত্রকে দেখতে কিন্তু ওরা আসবে সকাল আটটায়। নটা—দশটায় ফিরে যাবে জলখাবার খেয়ে!’

    মুকুন্দচন্দ্র সোজা হলেন, ‘সেকি! অত সকালে কেন?’ বশিষ্ঠ, ভৃগু ও নারদ—ইত্যাদি ঋষিদের উদ্দেশে জলদান করা হয়। এরপর পিতামহ ভীষ্মের উদ্দেশে তর্পণ করা হয়, তারপরই পিতৃলোকের উদ্দেশে চলে জলদান। সমস্ত অনুষ্ঠানটির মধ্যে আমাদের ভারতবর্ষের সংস্কৃতির মূল ভাবনাটি, বা ভিত্তিভূমিটি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। মহালয়ার পরেই চন্দ্রের গতি অনুযায়ী শুরু হয় শুক্লপক্ষের বা দেবী পক্ষের। এই অমাবস্যা থেকে পরের পূর্ণিমা পর্যন্ত আমাদের আরাধনার কাল। সেই আরাধনার সূচনা হয় মহালয়ার পিতৃঅর্চনার মধ্য দিয়ে। এরপরেই দেবীপূজার মূল অংশে ধীরে ধীরে প্রবেশ করি আমরা।

    শরৎকালে দেবীর আরাধনা হয় বলে এই পূজা শারদীয়া। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণে ও কাঠক সংহিতায় দেবী অম্বিকাকে ‘শত’ রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে ‘শরদ্বৈ অম্বিকা’। শরৎ রূপিণী অম্বিকার পূজা বলেই তা শারদীয়া। পণ্ডিতগণ বলেন, এ হল অকালবোধন। সূর্যের গতিপথে এ সময় দক্ষিণায়ন। শ্রাবণ থেকে পৌষমাসে দক্ষিণায়নের সময়। এ সময় দেবতারা নিদ্রিত থাকেন। ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র রাবণবধের উদ্দেশে নিদ্রিত দেবীকে উদবোধিত করে পূজা করেছিলেন। তাই এই পূজা অকালবোধন নামে খ্যাত। যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি তাঁর ‘পূজা—পার্বণ’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ঋগবেদের ঋষিগণ রবির উত্তরায়ণ হইতে বৎসর আরম্ভ করিতেন। হিম অর্থাৎ শীত ঋতুতে আরম্ভ এই কারণে তাঁহারা ‘হিম’ শব্দে বৎসর বুঝিতেন। শত হিম বললে শত বৎসর বুঝাইত। কতকাল পরে কে জানে, তাঁহারা শরৎ ঋতু হইতেও আর এক বৎসর গণিতে আরম্ভ করেন। এই বৎসরের নাম ছিল শরৎ। শতং শরদঃ জীবতু—শত শরৎ বাঁচিয়া থাক—এইরূপ আশীর্ব্বচন ছিল। ইহা অদ্যপি শুনিতে পাই।’ এই শরৎকালকে কেন্দ্র করেই পরিস্ফুট হয়েছে দেবীর শস্যদায়িনী রূপ।

    শস্যের সঙ্গে দেবীর নিগূঢ় সম্পর্ক! মহেন—জো—দারোর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে আমরা এমন এক নারীর দেখা পাই, যাঁর গর্ভ একগুচ্ছ শস্যে শোভিত। দেবীর আর—এক রূপ হল তাঁর শস্যবধূ রূপ। এই শস্যবধূকে আমরা বলি নবপত্রিকা। নয়টি গাছের সমাহার নবপত্রিকায় কলাগাছের সঙ্গে থাকে কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, মানকচু, অশোক এবং ধান। আবার প্রত্যেকটি শস্যের জন্য পৃথক পৃথক দেবী নির্দিষ্ট আছেন। কলা গাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন ব্রাহ্মণী, কচুর কালিকা, হরিদ্রার দুর্গা, জয়ন্তীর কার্তিকী, বেল গাছের জন্য দেবী শিবা, ডালিম গাছের দেবী রক্তদন্তিকা, অশোকের শোকরহিতা, মানকচুর চামুণ্ডা এবং ধান্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন লক্ষ্মী। নবপত্রিকার নয়টি শস্যতে দেবীর অধিষ্ঠান কেন? এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে দেবীর গাত্রবর্ণ হলুদরঙের তাই নবপত্রিকায় হলুদের স্থান দেবী জয়রূপিণী বলে জয়ন্তী দেবী রূপে পূজিতা। তিনি মানদায়িনী তাই মানকচুর সঙ্গে তাঁর যোগ। বেল শঙ্করের প্রিয়, তাই দেবীর বিল্ববৃক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড়। তিনি মানবের শোকহরণ করেন তাই অশোক গাছ তাঁর অধিষ্ঠান। জীবের প্রাণস্বরূপিণী দেবী জীবের প্রাণ প্রদানকারী মূল অন্ন ধান্যে বিরাজিতা। তাই ধান নবপত্রিকায় স্থানলাভ করে। অসুরবিনাশকালে দেবীর দন্ত ডালিমফুলের মতো রক্তবর্ণ ধারণ করেছিল। দেবী এর ফলে রক্তদন্তিকা নামে খ্যাত হন। দেবীর রক্তদন্তিকা রূপের জন্য ডালিম স্থান পান নবপত্রিকাতে। এইভাবে বিভিন্ন শস্যের সঙ্গে দেবীকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেবীর শাকম্ভরী রূপটিও সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে। শস্যদায়িনী রূপে দেবীর দশটি অস্ত্রের সঙ্গে দশরকমের শাককেও যুক্ত করা হয়েছে। এরা হল, পত্র অর্থাৎ পাতা, অগ্র, মূল, করীর, ফল, কাণ্ড, অস্থিরূঢ়ক, ত্বক, ফুল, কবক। এখানে দশরকমের শাকের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলি হল বৃক্ষেরই এক একটি অংশ। আমাদের জীবনের নানা অংশ, পিতৃপুরুষ বন্দনা থেকে শাকান্ন পর্যন্ত দেবীপূজার সঙ্গে জড়িত।

    বর্তমানে দেবী পূজা কয়েকটি পদ্ধতি মতে সম্পন্ন করতে হয়। সাধারণত বৃহন্নন্দিকেশ্বর পুরাণোক্ত পদ্ধতি, দেবী পুরাণ ও কালিকা পুরাণোক্ত পদ্ধতিকে ব্যবহার করা হয়। কালিকাপুরাণে দেবীর মূর্তি তিন রকম—একবার ইনি উগ্রচণ্ডা অষ্টাদশ ভুজা, একবার ভদ্রকালী ষোড়শভুজা, একবার দুর্গা, কাত্যায়নী দশভুজা। এই তিনমূর্তিতেই দেবী মহিষমর্দিনী। এই পুরাণে ষাট অধ্যায়ে দেখা যায়—প্রথম সৃষ্টিতে মহিষাসুরকে উগ্রচণ্ডা রূপে, দ্বিতীয় সৃষ্টিতে ভদ্রকালীরূপে, এখন দুর্গারূপে তাঁকে বধ করছেন দেবী। দেবীপুরাণে শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকে নয় রাত্রি দেবীর পূজার কথা বলা হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রামায়ণের অকাল বোধনের কাহিনি। সীতা উদ্ধারের জন্য রাবণকে বধ অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু দেবীকৃপায় পুষ্ট লঙ্কারাজকে বধের জন্য দেবীর আরাধনা করা প্রয়োজন। তাই দেবকুলের নিদ্রার সময়, দেবীকে জাগরিত করে পূজার আয়োজন করেছিলেন দশরথ পুত্র রাম। শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে তাই বিল্ববৃক্ষে দেবীর বোধনের আয়োজন এবং তারই মাধ্যমে দেবী পূজার সূচনা। ঘুমন্ত দেবীকে প্রথমে জাগ্রত করতে হবে, তারপর তাঁর পূজার আয়োজন! তাই অকালবোধনের কাহিনি, দেবী পূজায় একটি নতুন মাত্রা সংযোজিত করেছে। সব নিয়েই আমাদের বর্তমান দুর্গোৎসব।

    ‘পাত্রীর মামা বললেন, সকালে মন ভালো থাকে, সত্যিকারের চেহারাটা ভালো বোঝা যায়। মানে, সকালে তো কেউ চট করে মেকআপ নেয় না, তাই।’

    ‘মেকআপ! কী আশ্চর্য! ওরা কি মেয়েছেলে পাত্র দেখতে আসছে?’

    ‘এই আপনার মুশকিল জামাইবাবু। চিরকাল ব্যাকডেটেড থেকে গেলেন। আজকাল কেউ ছেলে বা মেয়ে নয়। সবাই ইউনিসেক্স। যাই, দিদিকে সব ভালো করে বুঝিয়ে বলে যাই।’ শ্যামাপদ ভেতরে চলে যেতেই বাইরে থেকে শান্তিময় মুখ নিচু করে ঘরে ঢুকল। মুকুন্দচন্দ্রের সামনে দিয়ে সে ভেতরে চলে যাচ্ছিল, কাশি শুনে দাঁড়াল।

    মুকুন্দচন্দ্র বললেন, ‘তোমার মামা খবর এনেছেন, আগামী রবিবার সকাল আটটায় পাত্রীপক্ষ তোমাকে দেখতে আসছেন। তুমি ভোর ছটার আগেই ঘুম থেকে উঠে দাঁত মেজে, দাড়ি কামিয়ে স্নান সেরে নেবে। তারপর পরিষ্কার পাজামা—পাঞ্জাবি পরে ওদের জন্যে অপেক্ষা করবে।’

    শান্তিময় মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

    ‘তোমাকে ওরা যা যা প্রশ্ন করবে তার ঠিকঠাক জবাব দেবে।’

    শান্তিময় এবার মুখ তুলল, ‘কী কী প্রশ্ন?’

    ‘সেটা আমি কী করে বলব?’ মুকুন্দচন্দ্র বিরক্ত হলেন।

    ‘আঁচ পেলে ভালো হত, তৈরি থাকতাম।’

    ‘তোমার মামাকে জিজ্ঞাসা করো, তিনি বলতে পারবেন। যাও।’

    প্রশ্ন শুনে শ্যামাপদ ভাগ্নের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে চোখ বন্ধ করলেন, ‘তোর নাম জিজ্ঞাসা করবে, কত মাইনে পাস জানতে চাইবে। অসুখবিসুখ আছে কিনা, ঘুমালে নাক ডাকে কিনা জেনে নিয়ে হয়তো হাঁটতে বলবে।’

    ‘হাঁটতে বলবে কেন?’ শান্তিময় অবাক হল।

    ‘পুরুষোচিত হাঁটা কিনা দেখতে চাইবে। হয়তো গান গাইতে বলবে।’

    ‘গান? ওরে বাবা, আমি তো…।’

    ‘জানি, তোদের বংশে কারও গলায় সুর নেই তা জানি। মায়ের কোনো গুণ যদি এক ফোঁটা পেতিস তাহলে বর্তে যেতিস।’

    পাশে বসা মা আপত্তি করল, ‘আঃ, কী যা তা বলছিস?’

    ‘থামো তো? সত্যি কথা শুনতে খারাপই লাগে। আর হ্যাঁ, বিয়ের পর বউমাকে তুই, তুমি, আপনি, কী বলে সম্বোধন করবি জানতে চাইতে পারে।’

    ‘এ আবার একটা প্রশ্ন হল? আপনি বলব।’

    ‘হয়ে গেল! যেমন বাপ তেমন ছেলে! ওসব ব্যাকডেটেড ব্যাপার। আজকালকার ছেলেমেয়েরা বিয়ের পর তুই তোকারি করে শুনিসনি!’

    মা বলল, ‘ইস। শুনলে সাঁওতাল মনে হয়।’

    ‘কালচার, লোকসংস্কৃতি। লেটেস্ট ফ্যাশান।’

    পাত্রীপক্ষ এল, জমিয়ে গল্প করল, চা—জলখাবার খেয়ে চলে গেল, পাত্রকে একটাও প্রশ্ন করল না। যাবার সময় সম্মতি জানিয়ে গেল।

    এবার মুকুন্দচন্দ্র শ্যালক শ্যামাপদকে নিয়ে পাত্রী দেখতে গিয়ে একইরকম সৌজন্য দেখানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু শ্যামাপদকে সামলাতে পারলেন না। জামাইবাবু কেন প্রশ্ন করছেন না দেখে শ্যামাপদ মুখ খুলল, ‘আচ্ছা মা, বিয়ের পর তুমি তোমার স্বামীকে কী বলে সম্বোধন করবে? তুমি, তুমি বা আপনি?’

    ‘আমার ঠাকুমা ঠাকুরদাকে আপনি বলতেন। আমার মা বাবাকে তুমিই বলে।’ পাত্রী, যার নাম দীপাঞ্জনা থামল।

    শ্যামাপদ উৎসাহিত হল, ‘তাহলে তোমার তো তুই বলা উচিত।’

    ‘কেন? আমি কোনো সম্বোধন না করেও কথা বলতে পারি।’

    ‘যেমন?’ হকচকিয়ে গেল শ্যামাপদ।

    ‘কাগজটা পড়া হয়েছে? কতক্ষণ পরে বেরুনো হবে?’ দীপাঞ্জনা হেসে বলল, ‘এইরকম আর কী!’

    আর প্রশ্ন করেনি শ্যামাপদ। মুকুন্দদাস দিন পাকা করলেন।

    শান্তিময়ের বন্ধু সংখ্যা তিনজনের বেশি নয়। তারা দীপাঞ্জনার ছবি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে বলল, ‘বাঃ বেশ দেখতে।’

    বন্ধুদের কারও বিয়ে হয়নি কিন্তু বিস্তর পড়াশুনা। চারজনের একটা মিল আছে, কেউ সিনেমা দূরের কথা, টিভিও দ্যাখে না। বই ওদের জগৎ।

    একজন বলল, ‘বিয়ের পর তুই বদলে যাবি শান্তি।’

    ‘কেন? বদলে যাব কেন?’ শান্তিময় প্রশ্ন করল।

    ‘সবাই নাকি যায় আমার ঠাকুমা এখনও বলে, বাবা নাকি বিয়ের পর বদলে গিয়েছে।’ প্রথমজন গম্ভীর মুখে বলল।

    দ্বিতীয়জন বলল, ‘সবাই বদলে যায় না। কেউ কেউ ঠিক থাকে। যারা বউকে স্বভাবিত করতে পারে তারা ঠিক থাকে। ব্যাপারটা অনেকটা আগুনের মতো। তুই সরাসরি আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। কিন্তু একটা কাচের পাত্রে আগুন রেখে সেই পাত্রকে ধরলে কিছুই হবে না, উলটে ঘর আলোয় ভাসবে।

    তৃতীয়জন বলল, ‘তাই বোধহয় প্রথম রাতে যারা বেড়াল মারতে যায় তারা সারাজীবন বউ—এর বেড়াল হয়ে থাকে।’

    শান্তিময় এসব শুনে হকচকিয়ে গেল। বলল, ‘তাহলে আমি কী করব?’

    বন্ধুরা পরামর্শ দিল, ‘প্রথম রাতেই বেড়াল মারতে যাস না।’

    ‘বেড়াল? সে কি বাপের বাড়ি থেকে বউ বেড়াল সঙ্গে নিয়ে আসবে?

    প্রথমদা বলল, ‘প্রকাশ্যে বেড়াল নিয়ে কেউ যায়! অযাত্রা। এমনি বেড়াল নয়, প্যানিশ ছোট গল্পে পড়েছিলাম, বিয়ের ঘরের ভিতরে একটা পুষি বেড়াল থাকে। খুব আদুরে, তাকে চোখে দেখা যায় না। বুঝলি?’

    শান্তিময় অনুমান করতে চেষ্টা করেও সক্ষম হল না।

    বিয়ে হয়ে গেল। ছাঁদনাতলাতেই কয়েকবার আড়চোখে দেখার চেষ্টা করেছিল। শান্তিময় কিন্তু দীপাঞ্জনার চিবুক যেহেতু বুকের কাছে নামানো ছিল তাই হতাশ হয়েছিল। বিয়ের লগ্ন ছিল শেষরাতে, তাই বাসরের প্রশ্ন উঠল না। রাত জেগে মেয়ে নাকি ঘুমিয়ে কাদা। পরের দিন ফিরে আসা এবং কালরাত্রি। দেখাদেখি নেই।

    তারপর ফুলশয্যার রাত, বন্ধুদের বিদায় দিয়ে ঘরের দিকে এগোনো মাত্র শ্যামাপদ তাকে ডেকে বলল, ‘আজ থেকে তোমার সত্যিকারের সংসারজীবন শুরু হচ্ছে। তুমি এমন কিছু করো না যা বউমাকে দুঃখ দেবে।’

    ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল শান্তিময়।

    শ্যামাপদ বলল, ‘যাও।’

    ঘরের দরজা ভেজানো, বাইরে থেকে শব্দ করল শান্তিময়। দ্বিতীয়বারে দীপাঞ্জনার গলা ভেসে এল ভেতর থেকে, ‘দরজা খোলাই আছে।’

    সামান্য চাপ দিতেই দরজা খুলে গেল। ভেতরে ঢুকে আবার সেটা বন্ধ করে তাকাল শান্তিময়।

    ফুল দিয়ে চমৎকার সাজানো বিছানায় একপাশে বসে আছে দীপাঞ্জনা। তার হাতে বই। দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল শান্তিময়ের, খাটের পাশে গিয়ে বলল, ‘বসতে পারি?’

    ‘অবশ্যই।’ হাসল দীপাঞ্জনা।

    ‘কোনো অসুবিধে হচ্ছে না তো?’ কথা খুঁজছিল শান্তিময়।

    ‘বিন্দুমাত্র নয়।’

    কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ চলে গেল। আবার মুখ খুলতে গিয়ে মামার উপদেশ মনে পড়ল, সোজা হয়ে বসল শান্তিময়। তারপর বলল, ‘তো—তো—তো—।’

    ‘শুনছি।’ দীপাঞ্জনা শব্দটা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বলল।

    ‘ঘুম পাচ্ছে নাকি?’ শান্তিময় হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

    ‘একটু একটু।’

    ‘তাহলে শুয়ে প—প—।’ কিছুতেই ‘শুয়ে পড়’ মুখ থেকে বের হল না দীপাঞ্জনা হাসল, ‘শুয়ে পড়া যাক।’

    ‘হ্যাঁ হ্যাঁ—।’—শুয়ে পড়ল শান্তিময় বিছানার একপাশে।

    মাঝখানে পাশবালিশ, দীপাঞ্জনাও বালিশে মাথা রাখল। কয়েক সেকেন্ড পরে শান্তিময় বলল, ‘ইয়ে, আমার না কোনো অভিজ্ঞতা নেই। মানে এক্সপেরিয়েন্স আর কী!’

    ‘ও।’

    ‘ভাবিনি তো।’

    ‘ও। স্কোপও ছিল না বোধহয়।’

    ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক তাই।’ তারপর কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে মুখ ফেরাল, ‘আছে নাকি?’

    দীপাঞ্জনা গম্ভীর হল, ‘কী?’

    ‘ওই যে, এক্সপেরিয়েন্স!’

    ‘থাকলে কী হবে?’ বাঁকা গলায় জিজ্ঞাসা করল দীপাঞ্জনা।

    ‘তার মানে আমারই মতন, তাই না?’

    ‘হুঁ।’ দীপাঞ্জনা চোখ বন্ধ করল।

    ‘তাহলে আজ ঘুমিয়ে পড়া যাক।’

    ‘হ্যাঁ। গুডনাইট।’ হাসি চাপল দীপাঞ্জনা।

    ‘গুডনাইট।’ শান্তিময় বড় শ্বাস ফেলল।

    বালিশে মাথা দিয়ে শান্তিময়ের মুখে একটা হতাশ্বাস বেরিয়ে এল।

    —এ—দিনটা এ—রাতটা নিয়ে মানুষের কত স্বপ্ন থাকে, আমাদের ঝগড়া দিয়ে শুরু হল।

    —বিয়ের আগে এক্সপেরিয়েন্সের কথাটা বলাই অন্যায় হয়েছিল। দীপা বলল।

    শান্তিময় বলল—ঠিকই। আসলে আমার মুখে না—কথা আসছিল না।

    এইবার দীপা বললে—তবে আমার ঠাকুমা বলেন, ফুলশয্যায় ঝগড়া হলে, পরে বাকি জীবন সুখে কাটে। আর যারা ফুলশয্যায় মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, পরে বাকি জীবন ঝগড়া করে। তোর ঠাকুরদার মতন।

    শান্তি এবার উৎসাহে উঠে বসে। পাশবালিশটা সরিয়ে বলে — তাহলে তো জমিয়ে ঝগড়া করা যাক। তবে কী জানো— একটা শ্লোক আছে—অজা—যুদ্ধে ঋষিশ্রাদ্ধে প্রভাতে মেঘডম্বর। দাম্পত্যকলহে চৈব বহবারম্ভে লঘু ক্রিয়া। এর মানে হল— ছাগলে ছাগলে লড়াইয়ে মনে হয় কত না কী হবে, শেষে একটা ঢুঁ, ঋষিমশাই সকাল থেকে তোড়জোড় করছেন শ্রাদ্ধের, দান করলেন কি না একটা হরতকী, ভোরবেলায় মেঘ ডাকলে কদাচিৎ বৃষ্টি হয়। আর দাম্পত্যকলহ—ফাটাফাটি ঝগড়া—এই বুঝি দুজনে দুদিকে চলে গেল—আবার পরদিন দেখ—নিশ্চিন্তে ঘর—সংসার করছে।

    প্রথম আড়ষ্টতা ভাঙতে শান্তি অনেকক্ষণ বকে গেল।

    সব শুনে দীপা বলল—সর্বনাশ!

    শান্তিময় অবাক হল। বলল—এতে সর্বনাশের কী হল?

    দীপা জিজ্ঞেস করল—তুমি কি সংস্কৃতের পণ্ডিত নাকি! আমার দিদি, মাসতুতো দিদি রমাদি, বলেছিল—দীপু, খবরদার মাস্টার স্বামীর পাল্লায় পড়বি না। নয়তো আমার মতো, হেডমাস্টার স্বামীর পাল্লায় পড়ে জীবন ছারখার হয়ে যাবে! এটা উচিত নয়, ওটা উচিত নয়।

    শান্তি হেসে বলল—মাস্টারও নই, সংস্কৃতপণ্ডিতও নই। আমি তো ব্যাংকে কাজ করি। শ্লোকটা জানা ছিল, তাই তোমার কাছে একটু বিদ্যে জাহির করলাম। এই মাত্র।

    দীপাও এতক্ষণে সহজ হয়েছে। ঘরের আলো অনেকক্ষণ নিভেছে। দীপা বলল—ভাগ্যিস তোমাদের বাড়িতে ফুলশয্যায় আড়ি পাতার সেরকম কেউ নেই। না হলে আমাদের কথাবার্তা শুনে হইচই পড়ে যেত।

    শান্তি বলল—ফুলশয্যা নিয়ে সব থেকে মিষ্টি মজার গল্প আছে শরদিন্দুর।

    দীপা বলল—আমি পড়েছি। বর সবাইকে তাড়িয়ে যখন দরজা বন্ধ করতে যাবে, তখন ঘরের মধ্যেই কে বললে—এই কী হচ্ছে! বর আবার বাইরে যাবে, বউ তার জামা ধরে টেনে দেখালে, কড়িকাঠে একটা ময়না না কাকাতুয়া বসে।

    শান্তি বলল—পাখিটা শেষকালে কী বলেছিল জানো?

    দীপা বলল—জানি। জ্বালালে!

    শান্তি মৃদু হেসে বলল—কেন বল তো?

    দীপা এইবার লজ্জা পেল। বালিশে মুখ গুঁজে বলল—তুমি একটা অসভ্য। ধ্যেৎ।

    শান্তি সাহস পেয়ে দীপার মুখটা তুলে নববধূকে প্রথম চুম্বন করল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রজাপতি – সমরেশ বসু
    Next Article জন-যাজক – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }