Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মহাকালের রথের ঘোড়া – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প158 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. বর্ষার ঝোরার মতো

    মঙ্গলা। বর্ষার ঝোরার মতো হঠাৎ যেন বেগে ঢল নামল। বুধুয়া, করমা আর দুধি সকলের মুখগুলো একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠল। আর অন্ধ বুড়ি মা। খড়িবাড়ির ডাক্তার বলেছিল মায়ের চোখে ছানি পড়েছে, কাটাতে হবে। চোখের ছানি কী জিনিস, তা আবার কাটানো যায়, এ কথা মা কখনও বিশ্বাস করেনি। রুহিতনের টাকার জোগাড়ও ছিল না। মেয়েটার নাম দুধি রাখা হয়েছিল কারণ মেয়েটা বাপের রং পেয়েছিল। বাপ পেয়েছিল তার মায়ের গায়ের রং। পোশপত্ কুরমি চা বাগানের গজেন সাঁওতালের মেয়ে গঙ্গাকে বিয়ে করেছিল।

    এটা একটা ব্যতিক্রম। কুরমির ছেলের সঙ্গে, সাঁওতাল মেয়ের বিয়ে। কিন্তু জায়গাটা ধলভূম বা মানভূমগড় না, সাঁওতাল পরগনাও না। পাহাড়ের নীচে, তরাইয়ের চা বাগান আর কৃষি জোতের অঞ্চল। সেখানে সমাজ সামাজিকতার চেহারা কিছু আলাদা, জাতিগত বৈষম্য অনেক কম। তা ছাড়া গজেন সাঁওতালের মেয়ে গঙ্গাকে, পশুপতি কুরমি, বলতে গেলে হরণ করেছিল। এমনি এমনি তো আর হরণ হয় না। গাই বাছুরে ভাব থাকলে বনে গিয়ে দুধ দেয়। বিয়ের আগে বাবার সঙ্গে মায়ের সেই রকম ভাব ছিল।

    রুহিতনের ঠাকুরদা তখনও বেঁচে। তখনও পশুপতি ছিল, নকশালবাড়ি পূর্বাঞ্চল চা বাগানের মজুর। মা বাবার ব্যাপার নিয়ে বস্তিতে বস্তিতে খুব হইচই গণ্ডগোল হয়েছিল। মায়ের কাছে সেই সব গল্প শুনে, রুহিতনের মজাই লাগত। তার বাবা নাকি ঠিক করেছিল, বিয়ে না দিলে, সে মাকে নিয়ে চলে যাবে, মিরিক থানার উঁচুতে, গয়াবাড়ি বা অন্য কোনও চা বাগানে। শেষ পর্যন্ত তা করতে হয়নি। রুহিতনের ঠাকুরদা ছিল একজন মুখ্য আর মান্য ব্যক্তি। সাঁওতাল মুণ্ডা ওরাঁও মাহাতো সকলের সঙ্গেই ছিল তার মেলামেশা, ভাব ভালবাসা। একটা আপস রফা করা গিয়েছিল। গজেন সাঁওতালকে কন্যাপণ কিছু বেশি দিতে হয়েছিল। প্রায় অবিশ্বাস্য হলেও, দুটো সিকিমি মোরগ দিতে হয়েছিল। চা বাগানের সাহেব আর বড় জোতদার মহাজনের বাড়ি ছাড়া কেউ সিকিমি মোরগ কেনবার কথা ভাবতেই পারে না। অবিশ্যি মারোয়াড়ি মহাজনদের কথা আলাদা। তারা মাছ পর্যন্ত ছোঁয় না।

    পশুপতি কুরমির আমলে, সবথেকে বড় ব্যতিক্রম চা বাগান ত্যাগ করা। জমি জিরেত চাষবাসের দিকে তার মন টেনেছিল। এটা একজন কুরমির আদিম পিপাসা। নিজের একটা ঘর, এক জোড়া বলদ লাঙ্গল, আর কিছু চাষের জমি। ঠাকুরদারও মনে এই আকাঙ্ক্ষা ছিল। পারেনি। উড়িষ্যা বিহারের সীমান্তে ফিরে গিয়েও, সে সম্ভাবনা আর ছিল না।

    কিন্তু যেখানে চৌধুরী, জোতদার, মণ্ডল আর টিকাদাররা সমস্ত রকমের জমির ওপর দখল রাখে, সেখানে পোপ কুরমির মতো একজন সামান্য মজুর কোন সাহসে জমির স্বপ্ন দেখেছিল? কত টাকা সে জমিয়েছিল? একজন চৌধুরী হাঁ করলেই, বাবাকে গিলে খেয়ে ফেলতে পারত। চৌধুরীরা হল সব বাঙালি অফিসার, যারা জমির ভাগ বাটোয়ারা করে, খাজনা আদায় করে, আর সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে সকলের বিচার ও শাসন করে। এক সময়ে চৌধুরী’ নাম ছিল তরাই অঞ্চলের পাগলা হাতির মতো হৃদকম্প। জোতদার আর টিকাদারদের হাতের লোক মণ্ডল, যারা আধিয়ারদের, কুকুরের গায়ে লেগে থাকা, রক্ত চোষা এঁটুলির থেকেও খারাপ।

    রুহিতন ভেবে অবাক হয়, কত টাকা জমিয়েছিল তার বাবা? আসলে পোশপত্ কুরমি একজন চৌধুরীর নেকনজরে পড়ে গিয়েছিল। না, তার বাবা একজন সাধারণ টিকাদারের অধিকারও জমিতে পায়নি। পেয়েছিল শুধু উঠবন্দি প্রজাস্বত্ব, যাদের বলে দার টিকাদার, অথবা কোরফা রায়ত। তারা বাস করে, চাষ করে, কিন্তু জমির ওপরে কখনওই কোনও অধিকার জন্মায় না। ও বললেই ওঠো, যাও বললেই ভাগো।

    তবু বাবার সে কী খুশ মেজাজ। লোকটা কিছুকাল পচাই খেতে পর্যন্ত ভুলে গিয়েছিল। নকশালবাড়ির পুবের চা বাগান থেকে, রাতারাতি চলে এসেছিল টুকরিয়াঝাড় জঙ্গলের দক্ষিণে, রেললাইনের পুব পারে। চা বাগানের পাঁচ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে। রামধন মৌজার নীচে, ময়নাগুড়ি মৌজার কিছু ওপরে। রেল লাইন সরে গিয়েছে পশ্চিমে, নেমেছে দক্ষিণে গলগলিয়া দিয়ে ঢুকেছে। পূর্ণিয়া জেলায়। উত্তরে তাকালে মিরিকের বন পাহাড় দেখা যায়। পুবে আধ মাইলের মধ্যে মেচি নদী, নেপালের সীমানা। ওপারে মোরাং কারিয়াঝাড়। আরও দক্ষিণে ভদ্রপুর।

    কিন্তু মাটি? পোশপত্ কুরমি চৌধুরী সাহেবের কৃপায় যে-জমি খণ্ড পেয়েছিল, তা ছিল জোতদার মোহন ছেত্রীর জোতের সীমানার মধ্যেই। সেই জমি খণ্ডে, বালি মেশানো সাদা ভাগই বেশি। কালো মাটির ছিটেফোঁটাও ছিল। লাল মাটি সেখানে নেইযাকে বলে শুখা ক্ষেত। পাহাড়ে, তরাইয়ে কালো মাটি হল হিরার মতো দামি। সাদা, বালি মেশানো জমিতে সেই অঞ্চলে চুনেরও অভাব। মেচি নদীর পলি তুলে এনে সাদা জমিতে ছড়ানো হয়। তার সঙ্গে গোবরের সার। এ ভাবেই বন্ধ্যা জমিকে ফসল ফলানোর যোগ্য করে নিতে হয়। মকাই কোদো আর কালো মাটিতে হৈমন্তিক ধান। ওর নাম খাঁটি রুপিনি জমি। রোপা গাড়ার কাজ যে জমিতে ভাল হয়। কিন্তু সেই ভূমিখণ্ডের গাছপালার মালিক জোতদার। একটা বাঁশঝাড়, তার মালিকও জোতদার।

    পোশপত কুরমি দমেনি। এক রকম ভূমিহীন আধিয়ার ছাড়া সে কিছুই ছিল না। তবু সে যে কোরফা রায়ত। উঠবন্দি প্রজা। হয়তো তার মনে আশা আর স্বপ্ন ছিল, এক দিন সে রায়তি স্বত্ব পাবে। টিকাদার যাকে বলে। যা সে কোনওকালেই পায়নি। রুহিতন চা বাগানের বালক মজুর থেকে, চাষের কাজে লেগেছিল। মেচি নদী থেকে, বেতের ঝোড়ার বাঁকে, মন মন পলি মাটি ঘেঁটে নিয়ে আসত। ঝোরা আর আশপাশের সরু নালি স্রোতস্বিনীর জল ধরে রাখত, চার পাশে আল বেঁধে। পোশপত কুরমির ব্যাটা সে, বাবার তৃষ্ণাটা তার রক্তেও লেগেছিল। সেই তৃষ্ণাতেই সে যেন গায়ে গতরে সাজোয়ান হয়ে উঠেছিল। আর মাঠের শস্যের দিকে তাকিয়ে, মায়ের মনে হয়েছিল, রুহিতনের একটা বিয়ের দরকার। রাজবংশিদের মেয়ে কেঁপড়ির সঙ্গেও যে সেই সময় তার আঁশনাইয়ের বাড়াবাড়ি চলছিল। তারপরেই মঙ্গলা এল।…

    সব মুখগুলো মনে পড়ে গেল, আর একসঙ্গে অনেকগুলো গলার স্বর হাসি কান্না। বুকের ভিতর থেকে পাক খেয়ে নামা ঝোরার ঢল সামলানো গেল না। রুহিতনের চোখ তখনও ডান দিকের পিছনে ফেরানো। কলকাতার সবুজ একটা ফালি, বাঁক খাওয়া নদীর মতো। অল্প দু-চারটি লোক। বেড়াচ্ছে না দৌড়চ্ছে বোঝা যায় না। দূরে দূরে আকাশের গায়ে ঠেকানো বাড়ি। আসলে মিরিকের নীল বন-তরাইয়ের ছবি। রুহিতন নিজে যেন এই প্রথম শুনল তার গলা সত্যি ভাঙা আর ফ্যাসফেসে। সে বলে উঠল, চুনীলাল মৌজার খবর আমি কিছুই পাই না। ওদের কোনও খবর আমাকে দেওয়া হয় না। কেমন আছে সব?।

    অফিসার বোধ হয় পিছন ফিরে রুহিতনের দিকেই তাকাতে যাচ্ছিল। লোকটার মাথা যেন তার মাথার পিছনে ঠেকে গেল। এক মুহূর্তের জন্য, আর লোকটি যেন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, চুনীলাল? ওহ্, তোমার গ্রাম আর বাড়ির কথা বলছ?’ বলতে বলতেই তার মাথাটা সরে গেল।

    রুহিতনও মুখ ফিরিয়ে নিল কিন্তু তার শীতে কাঁটা দেওয়া শরীরটা যেন উৎকর্ণ হয়ে রইল। একটু পরে সামনের আসন থেকে অফিসারের স্বর শোনা গেল। যেন খুব সহজভাবেই বলল, এতক্ষণ যেভাবে সে বলে এসেছে, সে সব খবর আমি কিছুই জানি না।

    রুহিতনের দাঁতে দাঁত চেপে বসল। চোখ দুটো কুঁচকে বুজে গেল। রাগে না, একটা অন্ধ যন্ত্রণায়। আত্মবিদ্বেষের যন্ত্রণাটা অন্ধের মতো, কোনও দিকেই তা নিষ্কৃতির পথ দেখতে পায় না। অফিসারটি ঠিকই বলেছিল বোধ হয়, রুহিতনের সঙ্গে তার কোথায় যেন একটা ব্যাপার রয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে জন্যই এই চারবারের দেখা না। সাত বছর পরে আবার রুহিতনকে নিয়ে যাওয়ার ভার সেই জন্য তার। ওপর পড়েনি। এখন রুহিতনের মনে হচ্ছে এ লোকটা বরাবর তার কাছে জিতে গিয়েছে। সেই জিতে যাওয়াটাই বরাবরের ব্যাপার। প্রথমবার দশ বছর আগে লোকটিকে যখন সে খড়িবাড়ি থানার কাছে দেখেছিল, তখন লোকটি তাকে চিনত না। তার দিকে ফিরে তাকিয়েও দেখেনি। দ্বিতীয়বার সে ছিল পরাজিত রক্তাক্ত পর্যদস্ত। তৃতীয়বার যখন তার ওপর পুলিশ ক্যাম্পে প্রচণ্ড অত্যাচার চলছিল, সে যখন সাময়িকভাবে অসহ্য যন্ত্রণায় এলিয়ে পড়েছিল তখন এই লোকটি তাকে একটা সিগারেট খাইয়েছিল। কিন্তু তার বদলে কিছু আদায় চায়নি। তারপরে এখন–এই তিন দিন পরের রক্তহীন কাঁচা মাংস-রং ভোরে তার দুর্বলতম মুহূর্তে লোকটা যেন কষে একটা লাথি মারল রুহিতন কুরমির মুখে। মুখে না বুকে।

    ঠিক করেছে, লোকটা কোথাও একটু ভুল করেনি। রুহিতন কুরমি তার নাম, সে এখন তা বুঝতে পারছে। লোকটা যা ঠিক তা-ই আছে। রুহিতন তা থাকতে পারল না। লোকটা তাকে এই তিনদিনে অনেক কথা বলেছে। অনেক কথা জিজ্ঞেস করেছে। হেসেছে। রুহিতনের কোনও প্রতিক্রিয়া হয়নি। সে যেমন তেমনি ছিল। কারণ সে-ই জানত তাদের দুজনের সম্পর্ক আলাদা। জানত অথচ লোকটার এত কথার মধ্যেও যেখানে তার মুখ বন্ধ রাখার কথা সেখানে ঠিক মুখ বন্ধ রেখেছে। আর রুহিতন না খোলবার জায়গায় মুখ খুলেছে। পুরনো এক স্মৃতি আচমকাই তার বুকে বর্ষার ঝোরা নামিয়ে দিল। থামিয়ে রাখা গেল না।

    জীবনে এক বার অন্তত তুমি কলকাতায় এসেছ। অফিসারের ভেসে আসা স্বরে নিশ্চয়তা, ট্রাম আর রাস্তাঘাট দেখে বুঝতেই পারছ আমরা কলকাতার মধ্যে ঢুকে পড়েছি…।

    অফিসার আরও যেন কী সব বলে যেতে লাগল। রুহিতনের কানে কিছুই আর ঢুকছে না। নিজের প্রতি জাতক্রোধের যন্ত্রণা থেকে কলকাতার সেই পুরনো স্মৃতি আবার তার মনে ফিরে এল। সভার পরদিন সকালে খেলু চৌধুরীর নেতৃত্বে তারা আর এক বার মিছিল করে কলকাতার ওপর দিয়ে গিয়েছিল। মিছিল করে কলকাতার বাইরে কোথায় একটা রেল স্টেশনে গিয়ে উঠেছিল। দিবা বাগচির সঙ্গে সেখানে দেখা হয়েছিল। দিবা বাগচিকে তাদের থেকেও খারাপ দেখাচ্ছিল। তার মুখটা দেখাচ্ছিল কঙ্কালের মতো রুগণ অসুখী আর রাগী। কিন্তু ভাদুয়া মুণ্ডা বলে উঠেছিল, এই পয়লা আর এই আখেরি। শালা কলকাতায় আর না।

    দিবা বাগচির মতো লোক মুখ নিচু করেছিল। একটা কথা বলেনি। দুপুরের দিকে একটা রেলগাড়িতে সবাইকে ভোলা হয়েছিল। গাড়িতে ওঠবার সময় আর একবার মঙ্গলার কথা মনে পড়েছিল। তার পকেটে তখনও কিছু পয়সা। থাকবার কথা না। কারোরই টাকা পয়সা নিয়ে আসার কথা ছিল না। তবু রুহিতন সামান্য কিছু পয়সা সঙ্গে রেখেছিল। আসবার আগে মঙ্গলা তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে মুখ টিপে হেসেছিল। রুহিতনের মনে কেমন একটা খটকা লেগেছিল। মঙ্গলা তো যখন তখন এ রকম হাসে না। সে জিজ্ঞেস করেছিল, কী?

    মঙ্গলা তো সহজে কথা বলে না। বুধুয়া তখন পেটে। ঠিক যেন একটা লক্ষ্মীমন্ত গাভীন নীল গাই। কেবল মাথা নেড়ে জানিয়েছিল, কিছু না। কিছু না? চাষ আবাদ করে বলে সে কি মেয়েদের কিছুই বোঝে না? হাসি আর তাকানো দেখলেই তো বোঝা যায়। তার সঙ্গে যদি আবার নাকের পাটা কাঁপে। রুহিতন বলেছিল, বল না, শুনতে দোষ কী?

    মঙ্গলা বলেছিল, কলকাতা বলে কথা। সাবধানে থেকো।

    এই কথা বলবার জন্য, চোখমুখের ও রকম ভাব-ভঙ্গি? রুহিতনের ভুরু কুঁচকে উঠেছিল। মঙ্গলা হেসে উঠে বলেছিল, বলছি, কলকাতায় কি খালি লড়াই করতে যাচ্ছ?

    রুহিতন কেমন অপ্রস্তুত হয়ে বলেছিল লড়াই মানে, কী আর! সারা দেশের কৃষি মজুর কলকাতার মাঠে জমা হয়ে সরকারের কানের তুলো খুলে দিয়ে আসব। ওরা যে কানে শুনতে পায় না। মস্ত ব্যাপার। গোটা দেশের কৃষি মজুর জমায়েত হবে, সকলের সাথে সকলের চেনাজানা হবে।

    কথাগুলো শুনেও যেন মঙ্গলার কালো গহীন চোখের কৌতূহল মুছে যায়নি। যেন লজ্জা পেয়ে চোখের পাতা নামিয়ে তেমনি মুখ টিপে হেসেছিল, তারপরে বলেছিল, কলকাতায় যাচ্ছ, একটা কত বড় কথা! এ তো আর বিজনবাড়ি সফর মেলা না, না কি অ্যাঁ? অধিকারী বাবার মাঘ মেলাও না, অ্যাঁ? তাই বলছি মায়ের জন্য কিছু নিয়ে এসো। কলকাতার কোনও চিহ্ন। বলতে বলতে কোমরে জড়ানো শাড়ির আঁচলের গিট খুলে এক টুকরো কাগজ আর কিছু খুচরো পয়সা রুহিতনের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। মঙ্গলার পক্ষে কাজটা খুব সহজ ছিল না। সেই কয়েকটি কথা বলতে আর আঁচল খুলতে খুলতেই নাকে চিবুকে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠেছিল। ওর তখন অন্য এক রূপের খোলতাই। গাভীন হলেই ওদের আর একটা রূপ খোলে। তার সঙ্গে করম পরবের কোনও যোগ নেই। যে পরবে বুড়ো বুড়ির প্রবেশ নিষেধ। যুবা যুবী করম গাছের ডাল সরিয়ে দিয়ে নিজেদের ধর্মকর্ম করে। সেটাও মেয়েদের গাভীন করারই ধর্মকর্ম। মঙ্গলার চোখের কোলগুলো বসা, একটা ক্লান্তি সারা শরীর জুড়ে। কিন্তু তা কোনও রোগ ব্যামো না, এক রকম রূপ দেখলে চোখ জুড়ায়, মায়া লাগে। চোখ জুড়ানোটাও এক রকমের মায়া।

    রুহিতন অবাক চোখে ভুরু কুঁচকে পয়সাগুলোর দিকে তাকিয়েছিল। এক টুকরো কাগজটা আসলে পাঁচ টাকার একটা নোট। ময়লা দূর্বা ঘাসের একটা গুটলির মতো, যেন রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা।

    রুহিতনের অবাক চোখের দিকে তাকিয়ে মঙ্গলা বোধ হয় অস্বস্তি বোধ করেছিল। একটু বা অপ্রস্তুত। বলে ছিল, অনেক দিন আগের জমানো, বাপের ঘরে ছিলাম তখন। নাসির মিয়া মাস্টেরের জোতে তখন কাজ করতাম।’

    রুহিতন তৎক্ষণাৎ হেসে ওঠেনি। বারে বারে নিজের হাতে নেওয়া পয়সাগুলো আর মঙ্গলার মুখের দিকে দেখেছিল। কিন্তু সে কি মেয়েদের কথার আড় বোঝে না? হাসি চাহনি–চেনে না? মায়ের দোহাই, কলকাতার চিহ্ন, কথার ঝোরা কোন ফাঁক দিয়ে কুলুকুলু বহে, সে কি একেবারেই টের পায় না? সে বলেছিল, কলকাতার কী চিহ্ন নিয়ে আসব? মায়ের জন্য কি নাসার ফুল আনব, না রেশমি চুড়ি?

    মঙ্গলা যেন অবাক লজ্জায় ব্যস্ত হয়ে বলে উঠেছিল, এই দেখ, লোকটা কী বলে?

    রুহিতন এত সহজে ছাড়বার লোক ছিল না। মঙ্গলা সামনে থেকে চলে যাবার চেষ্টা করতেই সে হাত টেনে ধরেছিল। বলেছিল, লোকটা আর কী বা বলবে? সে কখনও কলকাতা যায়নি। কলকাতার কী চিহ্ন আনতে হবে, সেটা বলে দে।

    মঙ্গলা রুহিতনের গায়ে লেপটে বলেছিল, তা আমি জানি না।’

    রুহিতন তা জানত। মঙ্গলার তা ছাড়া কোনও জবাব থাকতে পারে না। জবাব জানবার কোনও দরকারও ছিল না। সে মাথা নুইয়ে গভীর নিশ্বাস টেনে, মঙ্গলাকে আঘ্রাণ করেছিল। মঙ্গলা তার মাথায় পিঠে হাত রেখে, ভাঙা নিচু স্বরে বলেছিল, তিস্তা বুড়ি মায়ের সুনজর লাগে।

    রুহিতন কলকাতায় কিছুই কেনেনি। সকালবেলা মিছিলের আগে ভাদুয়া মুণ্ডা সকলের কাছে কুড়ি-পঁচিশটা করে পয়সা চেয়েছিল। ফেরবার পথে কেউ তাদের খাবার দেওয়া দূরের কথা, ডেকেও জিজ্ঞেস করেনি। সভার শেষে, পরের দিন সকালে, কলকাতার চেহারাটাই যেন বদলিয়ে গিয়েছিল। ভাদুয়া মুণ্ডা আর খেলু চৌধুরী সকলের জন্যই কিছু খাবার জোগাড় করেছিল। আর ব্যস্ত কলকাতা তাদের দিকে নির্বিকার চোখে তাকিয়েছিল। কলকাতার সে কী চেহারা! যেন গাড়ির গতি আর গর্জন। চার দিক থেকে গিলতে আসছিল। খেলু চৌধুরীর নেতৃত্বে বাইরে একটা স্টেশন থেকে দুপুর নাগাদ তারা একটি রেলে উঠেছিল। লোকজনে ঠাসাঠাসি কামরা। কেউ কেউ রুহিতনদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চেয়েছিল। চড়-চাপড়ও মারেনি এমন না। কিন্তু তারা মাথা ঠাণ্ডা রেখেছিল। ফিরে যেতে পারার জন্যই তারা তখন আকুল হয়ে উঠেছিল। তাদের সেই নীল বনানীর দেশে, পাহাড় যেখানে আকাশের গায়ে ঠেস দিয়ে থাকে। ঝোরার ঠাণ্ডা মিষ্টি জল যেখানে কখনওই প্রায় মহাজনি চশমখোরি অকৃপণ না। সবসময়েই ঘাস গজায় কিছু বেশি, নিড়ানের খাটুনি লেগেই থাকে। তা থাকুক। ওখানকার মাটির ধর্ম এই রকম। পাহাড়ি ঢল নামলে, সংসার টলে যায়। মানুষ জানোয়ার একসঙ্গে বাঁচবার চেষ্টা করে। ঢল গড়িয়ে যাবার পরে, নদীর উঁচু দুই পাড়ে সবুজ ফসলেরও ঢল নামে তা সে ধন যারই হোক। নিজের জায়গা বলে একটা কথা আছে।

    রেল গাড়িতেই এক সময় দিবা বাগচি রুহিতনের পাশে এসে বসেছিল। কাশির কামাই নেই, ওদিকে বিড়ি সিগারেটের কামাই নেই। তাকে অনেক দিনের রুগির মতো দেখাচ্ছিল। রুহিতন মনে মনে গুটিয়ে গিয়েছিল। কলকাতার অভিযান সম্পর্কে কোনও আলাপে তার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু দিবা বাগচি আলাপ করেনি। বরং বলেছিল, তোমাকে কিছু বলতে হবে না রুহিতন। আমি সব বুঝি। সীসায় ঘষা দিলে জেল্লা দেয়, কিন্তু বাজে না। কী, ঠিক না?

    রুহিতনের মনের মতো হয়েছিল কথাটা। সে হেসে বলেছিল, ঠিক।

    দিবা বাগচি যেন কী ভাবছিল। ঘন ঘন সিগারেটে টান দিচ্ছিল, আর থেকে থেকে কাশছিল। কাশি শুনলে ভয় লাগত। ওই তো পাখির মতো বুক। বুকের খাঁচাটা ভেঙে যাবে না তো! অনেকক্ষণ পরে বলেছিল, কিন্তু এই রকম ভাবে চিরকাল যাবে না। এ সব কেবল বাজার গরম রাখা, বুঝলে রুহিতন। কেন, তাও বুঝি। তবে বুঝে কোনও লাভ নাই।বলে সিগারেটে টান দিয়ে, নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে, বাঁশির শব্দ তুলে কেশেছিল।

    রুহিতন বলেছিল, সিগারেটে একটু থামা দাও। দাও, আমাকে দাও। বলে সে নিজেই জ্বলন্ত সিগারেটটা দিবা বাগচির হাত থেকে নিয়ে নিয়েছিল।

    দিবা বাগচি মুখে একশো ভাঁজ ফেলে হেসে বলেছিল, ওটা কেন, তোমাকে একটা আলাদা দিচ্ছি।

    দরকার নেই। রুহিতন দুই আঙুলের মধ্যে সিগারেট নিয়ে মুঠি পাকিয়ে বুড়ো আঙুলের কাছে মুখ রেখে জোরে টান দিয়েছিল।

    দিবা বাগচি জিজ্ঞেস করেছিল, বাড়ির জন্যে কিছু কেনাকাটা করলে নাকি?

    কেনাকাটা?’ রুহিতনের বুকের কাছে সিগারেটের ধোঁয়া আটকে গিয়েছিল। রুদ্ধস্বরে বলেছিল, না তো।

    দিবা বাগচি বলেছিল, তাই জিজ্ঞেস করছি। দেখলাম কে কে যেন তেল সাবান চুড়ি ফিতে কিনেছে। তুমি বুঝি পয়সাকড়ি কিছু আনননি?

    আনবার কথা না।’ রুহিতন বলেছিল। আসবার সময় বউ এই দিয়ে দিয়েছিল।’বলে পকেট থেকে সেই পাঁচ টাকার নোট আর পয়সা দেখিয়েছিল।

    দিবা বাগচি জিজ্ঞেস করেছিল, কিছু কিনবে?

    না না না। রুহিতন মাথা নেড়ে বলেছিল, কলকাতা ছেড়ে চলে এসেছি, আর কিছু কিনব না। বউ কলকাতার একটা চিহ্ন নিয়ে যেতে বলেছিল।

    দিবা বাগচি হেসে বলেছিল, নামেই কলকাতা। শিলিগুড়িতে সব পাওয়া যায়। কেবল দামের যা এক-আধটুকু ফারাক।

    রুহিতন মনে মনে ভেবেছিল, হতে পারে। কপালের টিপ ফোঁটা পায়ের আলতা খড়িবাড়ির দোকান থেকেও কেনা যায়। গড়তলি জলপেশের মেলা থেকে কিনে আনা টিপ আলতার দাম আলাদা। কিংবা যদি অধিকারী বাবার মেলা থেকে কিছু কেনা হয়, তা কি আর যেমন তেমন কেনা? তার দাম আলাদা। মঙ্গলা যাকে বলে চিহ্ন’ এ হল তা-ই। এক এক জায়গার এক একটা চিহ্ন থাকে। পরে দেখলে, সেই সব জায়গার কথা মনে পড়ে যায়। কিন্তু রুহিতন সে কথা দিবা বাগচিকে বলেনি।…

    সেই পুরনো দিনের কথাগুলো এখন যেন আরশির বুকে মুখ দেখার মতো মনে পড়ে গেল। আবার এক বার কলকাতার এই লাল-আভা ভোরে, সশস্ত্র রক্ষী বেষ্টিত জিপে, হাতে পায়ে বেড়ি পরা অবস্থায়। যত মনে পড়ছে, যন্ত্রণা তত তীব্র হয়ে উঠছে। মনের দুর্বলতা আর অপমান, এক সঙ্গে বুকের মধ্যে জ্বলছে। রুহিতন কেন অফিসারকে হঠাৎ চুনীলাল মৌজার কথা জিজ্ঞেস করতে গেল? সেই মৌজায় তার ঘর, নকশালবাড়ির পাঁচ মাইল দক্ষিণ-পুবে। যেখানে মঙ্গলা, ছেলেমেয়েরা আর বুড়ি অন্ধ মা আছে। লোকটার কোনও কথারই জবাব সে দেয়নি। তবে কেন এমন একটা কথা জিজ্ঞেস করতে গেল? সাত বছরের মধ্যে যে-খবর কোনও জেলে কেউ কখনও তাকে দেয়নি, সেই খবর তাকে দেবে এই অফিসার।

    রুহিতন আজকাল কি দুর্বল হয়ে গিয়েছে? যাবৎকাল থেকে গায়ে এই রকম জ্বর জ্বর ভাব, সেই সময় থেকেই কি তার মনটা দুর্বল হতে আরম্ভ করেছে। কিন্তু কখনও সে তা প্রকাশ করেনি। আজ, এখন কেন করল? সেই যে এক বার কলকাতার জমায়েতে এসেছিল আর ভাঙা মন নিয়ে ফিরে গিয়েছিল, তা জোড়া লেগেছিল বেশ কিছু বছর পরে। দিবা বাগচিই একটা শোলোক নিয়ে এসেছিল, গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরতে হবে। শহরকে গ্রামের কবজায় ঘিরতে হবে। কলকাতায় জমায়েত না। দক্ষিণের যাবৎ শহর ঘিরতে ঘিরতে, কলকাতাকেও গ্রাম দিয়ে ঘিরতে হবে।

    রুহিতন সেই থেকে গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার লড়িয়ে। জানকবুল, কিন্তু শত্রুর শেষ রেখো না। রুহিতন রাখেনি। খতম আর ঘেরাও, একনাগাড়ে। সে সেই লোক। তবে কেন সাত বছর পরে বাড়ির কথা মনে হলে মন টাটিয়ে ওঠে? নিজেকে সামলাতে না পেরে, এই অফিসারকে জিজ্ঞেস করতে হয়? সেইজন্যই আজকাল তার গা গরম হয় নাকি? মুখের চেহারা বদলিয়ে যাচ্ছে? কান নাক মোটা হয়ে যাচ্ছে। আর চোখ বুজলেই সেই লালচে মেটে সাপটার রং ভেসে ওঠে। রক্তহীন কাঁচা মাংসের মতো গায়ে যার লাল চাকা চাকা দাগ? হ্যাঁ, তার নিজের গায়েও সেই রকম কতকগুলো দাগ ফুটে উঠেছে।

    ভোরের এই হাওয়ায় আরাম লাগার কথা।’অফিসারের স্বর শোনা যাচ্ছে এখনও নেশার মতো ঘুম পেয়ে যায় আরামে আর তোমার শীত লাগছে? এটা তো ঠিক না। তুমি…’

    অথচ চুনীলাল মৌজার কথা লোকটা জানে না স্পষ্ট জানিয়ে দিল। রুহিতনের মাথাটা কষ্টে আর অপমানে বুকের কাছে নুয়ে পড়ল। কম্বলের ঢাকনা আবার খসে গেল কাঁধের কাছ থেকে। সে পা দুটোকে আরও খানিকটা ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করল। ঘাড়ের পিছনটা সামনের আসনে আরও খানিকটা এলিয়ে দিল। কিন্তু কম্বল ঢাকা পায়ের ওপর হঠাৎ শক্ত কিছুর আঘাত পেয়ে চোখ মেলে তাকাল। ডান দিকের দুই সশস্ত্র রক্ষীর সঙ্গে তার চোখাচোখি হল। ওরাও তার দিকে তাকিয়েছিল। ওদের চোখগুলো অপলক ঠাণ্ডা। জেগে থাকার জন্যই যেন লাল। কিন্তু জ্বলে কেন!

    রুহিতন তার কম্বল ঢাকা পায়ের দিকে তাকাল। তার চোখ দুটোও জ্বলে উঠল। সে বাঁ দিকের দুই সশস্ত্র রক্ষীর দিকে দেখল। ওরাও তার দিকে একরকম ভাবেই তাকিয়ে আছে। সে পিঠে চাপ দিয়ে পা দুটো টেনে আনবার চেষ্টা করল। কিন্তু টাল সামলাতে পারল না। কোমরের কাছ থেকে পা জোড়া ডান দিকে খানিকটা এলিয়ে পড়ল। পড়ল রক্ষীদের পায়ের ওপর। পড়তেই ডান দিকের একজন রক্ষী বুটের আঘাতে সোজা করে দিতে চেষ্টা করল।

    রুহিতন তাকাল রক্ষীর দিকে। একটা তীব্র যন্ত্রণায় জ্বলছিল সে, তার সঙ্গে অপমানের জ্বালাও ছিল। রুহিতন কুরমি সে। চোখের পলকেই যেন তার পিঠের শিরদাঁড়াটা সোজা হয়ে উঠল। হাতে পায়ে বেড়ি বাঁধা অবস্থায় অনেকটা উঠে সে ডান দিকের রক্ষী দুজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কঁধ আর মাথা দিয়ে আঘাত করল দুজনকেই।

    বাঁ দিকের দুই রক্ষী মুহূর্তে রুহিতনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সামনের আসন থেকে দুটো রিভলবার উদ্যত হয়ে উঠল রুহিতনকে লক্ষ্য করে। অফিসার ইংরাজিতে বলে উঠলেন, হোয়াটজ হ্যাঁপেন্ড?

    ডান দিকের দুই রক্ষী তার মধ্যেই রাইফেলের কুঁদোর আঘাতে আর ঘুষি মেরে, রুহিতনকে তার জায়গায় বসিয়ে দিয়েছে। বাঁ দিকের দুই রক্ষী তাকে হাত দিয়ে চেপে ধরেছে। রুহিতনের নাকের ছিদ্র আর ঠোঁটের কষে রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে। কিন্তু সে আর এখন তাকিয়ে নেই। দাতে দাঁত চেপে দু চোখ বন্ধ করে রয়েছে। এ রকম অসম্ভব কোনও পরিকল্পনা তার মাথায় ছিল না। তার দুই পায়ের মাঝখানে, দুই বেড়ির বলয়ের সঙ্গে মোটা লোহার ফ্রেমটা মাত্র ছ ইঞ্চি লম্বা। তার এক একটা পা দশ ইঞ্চি থেকে বড়। একটা দম দেওয়া কলের পুতুলের মতোও তার হাঁটবার উপায় নেই। পুরোপুরি সোজা হয়ে দাঁড়ানোও সম্ভব না। পালানো দূরের কথা, রক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষও দুরের কথা, তাদের সঙ্গে বিবাদের কথাও তার মাথায় কখনও আসেনি। তথাপি কেন সে এমন করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? সশস্ত্র রক্ষী বা কোনও কোনও ওয়ার্ডারের চরিত্র সে বুঝতে পারে না, কেন ওরা বন্দিদের ওপর এক এক সময় অকারণেই দুর্ব্যবহার করে। কর্তব্য পালনের অতি সন্ত্রস্ততা থেকে কি সবসময়েই ওদের মনে ঘৃণা আর রাগ জমে থাকে? অথচ অন্য সময় হলে, সে হয়তো এ রকম ঝাঁপিয়ে পড়ত না। অত্যাচারের মাত্রা কতখানি উঠতে পারে তার অজানা নেই। রাইফেলধারী অচেনা এই সব রক্ষী, বুট দিয়ে তার পায়ে মেরে সরিয়ে দেবে, এটা তেমন একটা ঘটনাই না। তা ছাড়া তার হাতে যেভাবে ডান্ডাবেড়ি পরানো এ অবস্থায় স্বাভাবিক নড়াচড়া করাও অসম্ভব। হ্যাঁ, জেলের ভাষায় একে ডান্ডাবেড়ি বলা হয়। তবু, তবু কেন সে এমন ভয়ংকরভাবে ক্ষেপে উঠল?

    রুহিতন নিজেকে ছাড়া এর জবাব আর কাকে দেবে? জবাব তার চোখের কোণে দুই বিদ্যুৎ অঙ্গারের মতো চিকচিক করে উঠল। অফিসারের প্রশ্নে রক্ষীদের জবাব সে শুনতে পেল, ইসকো ভাগনে কা মতলব হুয়া থা সাব।’

    প্রতিবাদ নিরর্থক, রুহিতন জানে। কেন, কাদের কাছেই বা প্রতিবাদ। তার মনে বিন্দুমাত্র ইচ্ছাও জাগছে না। চুনীলাল মৌজার সংবাদ জানবার মতো ও রকম একটা প্রাণঘাতী ভুল সে আর করবে না। হয়তো রক্ষীরা মিথ্যা বলছে না। এ রকম অদ্ভুত ধারণা ওরা করতেও পারে। কারণ সে জানে, ওরা ভাবতেই পারেনি, তার মতো ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় কেউ দাঁড়িয়ে পড়তে পারে।

    অফিসারের স্বাভাবিক সহজ স্বর আর নেই। তার উৎকণ্ঠিত অবাক গলা শোনা গেল, এই হল রুহিতন কুরমি। এমনি এমনি কি আর এই লোককে সবাই তরাইয়ের ভয়ংকর দাতাল বলে? কী বুঝলেন মিস্টার নাগ?

    ডেঞ্জারাস স্যার। টেরিফিক। মিঃ নাগ উচ্চারণ করলেন।

    রুহিতন ইংরাজি কথাগুলোর মানে বুঝতে পারল না। দিবাবাবু, বিনোদ রায়, খেলুবাবুরা এই রকম গলার স্বরে একটা কথা প্রায়ই বলে উঠত, ঐতিহাসিক। কথাটা শুনে শুনে রুহিতনের মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। বেহুলার ভাসান গানে, লক্ষীন্দরকে সাপে কামড়াবার মতোই অতি দারুণ কোনও কথা হবে। নিশ্চয়। কিন্তু রুহিতন কথাটার অর্থ কোনও দিন বুঝতে পারেনি। কথাটা ভয়ের, না রাগের, না উত্তেজনার, কখনও ধরতে পারেনি।

    .

    আন্ডার ট্রায়াল বন্দিশালার গেট পার হলেই একটা সরু গলির মতো ফালি। বাঁ দিকে জেনানা ফাটকের গেট। বন্ধ গেটের ওপার থেকে জেনানাদের গলার স্বর ভেসে আসছে। রুহিতন দেখল তারপরেই মাঠ। ঘাট বাঁধানো পুকুর, মাঠের সামনে। মাঠটা বেশ বড়ই। মাঠটাকে ঘিরে তিন দিকে দোতলা ওয়ার্ড। একতলা দোতলায় লোহার মোটা শিক ঘেরা দরজার মতো বড় বড় জানালা। কোনও কোনও জানালায় দু-একজন কয়েদিকে দেখা যাচ্ছে, যারা রুহিতনকেই লক্ষ করে দেখছিল। তাদের চোখে জিজ্ঞাসু কৌতূহল।

    স্বাভাবিক। দুজন ওয়ার্ডারের মাঝখানে, মাঠের ওপর নতুন একজন বন্দিকে দেখলে পুরনো। বন্দিদের কৌতূহল হয়। কে এল? ঘরানা? ঘরানার কথা ভাবে অবিশ্যি অন্য ধরনের অপরাধীরা। পকেটমার চোর ডাকাত খুনি কেপমারি নারী ধর্ষণকারী, বহু রকমের অপরাধী। সরকারের আইনের চোখে, রুহিতনও একজন অপরাধী। তার বিরুদ্ধেও খুন, লুট, আগুন লাগানো, রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল, বহুবিধ অপরাধের অভিযোগ। তথাপি সে আলাদা। কারণ সে নিজেকে একজন অপরাধী ভাবে না। তার মতো যারা থাকে, তারা নতুন কোনও বন্দিকে জেলে আসতে দেখলেই, তাদের মনে প্রথম প্রশ্ন। জাগে, কোন দলের? অথবা বেনোজল? চলতি কথায় যাকে টিকটিকি বলে। ঘাসের মধ্যে ঘাস রঙের রক্তশোষা জোঁকের মতো। নাকি আমাদের কেউ?

    রুহিতনকে এখন ডান্ডাবেড়ি পরানো নেই। দুজন ওয়ার্ডারের মাঝখানে, খোলা হাতে পায়ে সে হেঁটে চলেছে। সকালের রোদটা এখনও খুব গরম হয়ে ওঠেনি। দক্ষিণ না পুব, ঠিক কোন দিক থেকে হালকা বাতাস আসছে, সে বুঝতে পারছে না। রোদ চলকানো পুকুরের জল বাতাসে কাঁপছে। পুকুরের ধার থেকে কিছুটা দূরে ডান দিকে বড় একটা গাছের পাতাগুলো উড়ছে। রোদ লেগে পাতাগুলো। চিকচিক করছে। এ রকম আবহাওয়ায় ভাল লাগবার কথা। কিন্তু রুহিতনের শীতভাবটাই গায়ে লেগে রয়েছে। জ্বর হলে যেমন গায়ে কাটা দেয়, সেই রকম ভাব। সেই আগের মতোই, যা নিয়ে এখন আর বিশেষ ভাবে না সে।

    গাছটার কাছাকাছি ঘর দালানের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, ওদিকটায় জেলের অফিস। গেটও ওদিকেই। রুহিতন অবিশ্যি মনে করতে পারছে না পরশু দিন সবে রোদ ওঠা সকালে তাকে ওখান থেকেই জেলের একটা আলাদা অংশের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল কি না। কলকাতার জেল, এইটুকুই। তার খেয়াল আছে। জেলে ঢোকবার আগে যে ঘটনা ঘটেছিল, তাতে তখন তার মনের অবস্থা মোটেই ভাল ছিল না। রক্ষীদের প্রহারের ফলে তার নাকে মুখে বুকে বা পেটের ব্যথাটা তেমন কিছু মনে হয়নি। তার মন আচ্ছন্ন করে ছিল সেই আত্মধিক্কারের অপমান আর যন্ত্রণা, কেন সে চুনীলাল মৌজার কথা অফিসারকে জিজ্ঞেস করেছিল।

    রুহিতন পরশু সকালেও জানত না, তাকে কলকাতা থেকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে। অথবা কলকাতায় তাকে বিশেষ কোনও কারণে আনা হয়েছে কি না। তবে পরশু সকালেই অফিসের মধ্যেই তার হাত পা থেকে ডান্ডাবেড়ি খুলে নেওয়া হয়েছিল। আহ্! খালি হাত পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবার যে কী আরাম। সেই অফিসারই আবার তাকে বলেছিল, রুহিতন, একটা সিগারেট খাবে নাকি?

    রুহিতনের মনে যত যন্ত্রণা আর রাগই থাক, সে শান্তভাবে নিঃশব্দে মাথা নেড়ে অসম্মতি জানিয়েছিল। অফিসারটি আর অনুরোধ না করে, দুঃখিত স্বরে বলেছিল, বেশ ভালভাবেই তোমাকে নিয়ে আসছিলাম। আমার মনটা বেশ ভাল ছিল। হয়তো তোমার সঙ্গে আমার আর দেখা হবে না। হয়তো কেন, মনে হয়, আর হবে না। কিন্তু কলকাতায় ঢুকে তুমি কেন যে এ রকম একটা কাণ্ড করতে গেলে। তোমাদের সবটাই পাগলামি। আগাগোড়াই তোমরা পাগলামি করে এলে।..

    সাত বছরের মধ্যে রুহিতন একটা কাজ ভাল রপ্ত করেছিল। কানে কালা হয়ে যাওয়া। যে-যাই বলুক, আর জিজ্ঞেস করুক, শুনতে না পাওয়া আর জবাব না দেওয়া। তা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। পরশুদিন সকালেও সে অফিসারের কথাগুলো কানে না ঢোকাবার চেষ্টা করেছিল। বরং নিজেকে আরওই ধিক্কার দিয়েছিল সে, লোকটার সম্পর্কে সে অন্য রকম ভাবতে আরম্ভ করেছিল। লোকটাকে জবাব দেবার তার কিছুই ছিল না। জবাব দিতে হলে যাচ্ছেতাই গালাগাল দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তার পরিণতিও যে ভাল হত না, সে ভালই জানে। কিন্তু লোকটার মগজে কি এক বারও এ কথাটা এল না, রুহিতনের চুনীলাল মৌজার বিষয়ে খোঁজখবরে ও কী জবাব দিয়েছিল? ওর জবাব শুনে রুহিতনের মনের অবস্থা কী হতে পারে সে সব এরা বোধ হয় ভাবতে চায় না। উলটে রুহিতনকেই পাগলামির কথা বলছিল।

    তা, হ্যাঁ, এক রকমের পাগলামি ছাড়া, রুহিতনের জিপের মধ্যে ক্ষেপে ওঠা আচরণকে কী-ই বলা যায়। কষ্ট আর যন্ত্রণাও এক রকমের পাগলামি। সে না শুনলেও সিগারেট টানতে টানতে অফিসারটি সেই রকম দুঃখিতভাবে অনেক ভাল ভাল কথা বলে যাচ্ছিল। তার মধ্যেই এখানকার দপ্তরের একজন। কী সব লেখালেখি করছিল, আর অফিসারটিকে কী সব জিজ্ঞেস করছিল। লোকটি সে কথারও জবাব দিচ্ছিল। কিন্তু রুহিতনকে বেশিক্ষণ দুর্ভোগ ভোগ করতে হয়নি। হুকুম পেয়ে একজন ওয়ার্ডার এসে তাকে ডান্ডাবেড়ি মুক্ত করে দিয়ে ভিতরে নিয়ে গিয়েছিল। আন্ডারট্রায়াল বন্দিদের বড় সীমানাটা পেরিয়ে তাকে পাঁচিল ঘেরা একটা বাড়ির উঠোনে নিয়ে গিয়েছিল। আন্ডারট্রায়াল বন্দিদের মাথায় ছাউনি দেওয়া, লোহার গরাদ ঘেরা ছাউনিটা বিরাট। ওটা যে আন্ডারট্রায়াল বন্দিদেরই জেল হাজত, রুহিতন তখন জানত না। সেই সাত সকালেই একদিকে অনেক বিচারাধীন বন্দিদের প্রাতঃকৃত্যের জন্য বের করা হয়েছিল। জেলখানায় লজ্জার অবকাশ কমই পাওয়া যায়। ওয়ার্ডার আর হাতে বা কোমরে চওড়া বেল্ট পরা মেট কয়েকজন বন্দিদের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছিল। মলমূত্রের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। বন্দিরা কেউ কেউ রুহিতনকে ডেকেও নানা রকম টিটকারি দিয়ে, সেই রকম ধরনের কথা বলছিল, রাত না পোয়াতেই তুমি চাঁদ কে এলে?’ দু-একজন ভঙ্গি সহকারে তাদের পুরুষাঙ্গ দেখিয়েছিল। রুহিতন তার দুপাশের ওয়ার্ডারদের দিকে দেখছিল। ওরা ওদিকে তাকায়নি। রুহিতনের মনে বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া হয়নি। তাকেও সেখানে রাখা হবে কি না, এ রকম একটা দুশ্চিন্তা হয়েছিল। আর সেই অফিসারটির একটি কথা কেন যেন তার কানে লেগেছিল, ‘হয়তো তমার সঙ্গে আর দেখা হবে না।‘ পরে জোর দিয়েই বলেছিল, দেখা হবেনা। কথাটার অনেক রকম অর্থ হতে পারে। কেন যে কথাটা কানে লেগেছিল, রুহিতন তা জানত না, ভাবেওনি। লোকটা যে কোনও কারণেই বলে থাক, সে মনে মনে বলেছিল, সত্যি যেন আর দেখা না হয়। এমনকী, কলকাতার জেলে তাকে ফাঁসি দিলেও।

    ওয়ার্ডার দুজন তাকে পাঁচিল ঘেরা যে উঠোনে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে কয়েকটা গাছে লাল গোলাপ ফুল ফুটেছিল। উঠোনটাকে প্রায় বাগানই বলা যায়। শুধু গোলাপ না, আরও কোনও কোনও গাছে নানা রকম ফুল ফুটেছিল। রুহিতন সে সব ফুলের নাম জানে না। জুই বেলি হতে পারে। দুজন কয়েদি বাগানের কাজ করছিল। তারা অবাক কৌতূহলিত চোখে রুহিতনের দিকে তাকিয়ে দেখছিল। বাড়িটার পাঁচিলের বন্ধ দরজার সামনেই একজন ওয়ার্ডার ছিল। সেই দরজা খুলে দিয়েছিল। ভিতরেও দুজন ওয়ার্ডার ছিল। রুহিতনের মনে হয়েছিল, চা বাগানের কোনও ছোটখাটো সাহেবের কুঠিতে যেন। সে ঢুকেছে। উঠোনের দুদিকে রসুইখানা গোসলখানার মতো দুটো ঘর ছিল। গোসলখানা মনে হয়েছিল, কারণ সেই ঘরটার কাছেই একটা বড় চৌবাচ্চায় পাইপের মুখ দিয়ে কলকল করে জল পড়ছিল। উঠোনের এক দিকে দোতলা একটা বাড়ি।

    রুহিতন পরে বুঝেছিল, ওটা আদৌ কোনও বাড়ি না। জেলের মধ্যে কোনও বাড়ি থাকে না। বাড়ি বলতে যা থাকে, তা হল জেলারের কোয়ার্টার। তাকে যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেটাও একটা নিরালা বন্দিশালা। ওপরে আর নীচে দশটা সুরক্ষিত সেল। যে-দুজন ওয়ার্ডার রুহিতনের সঙ্গে এসেছিল তাদেরই একজনের হাতে চাবির গোছা ছিল। রুহিতনকে একতলার একেবারের শেষের এক কোণের একটি সেলের মধ্যে ঢুকিয়ে চাবি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও ব্যবস্থা আগে থেকেই করা ছিল। লোহার খাঁটিয়ায় কম্বল বিছানো এক কোণে একটা কমোড। আর এক কোণে জলের কুঁজো আর গেলাস। এমনকী কমোডের কাছে একটা জল ভরা বালতি, একটা অ্যালুমিনিয়ামের বাটিও ছিল। রুহিতন পরবর্তী ব্যবস্থার কথা কিছুই জানত না। সে আগেই লোহার খাঁটিয়ার ওপর শরীরটাকে টান টান করে ছড়িয়ে দিয়ে শুয়ে পড়েছিল। কতক্ষণ পরে, ঠিক খেয়াল নেই, সেলের লোহার গরাদ ভোলার শব্দে তার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। পুরো তিন দিন পরে, ডান্ডাবেড়ি মুক্ত হয়ে টান টান হয়ে শুতে পাওয়াতে সে সত্যি সত্যি ঘুমিয়ে পড়েছিল। চোখ তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে, প্রশস্ত সেলের মধ্যে সে দুজনকে দেখতে পেয়েছিল। একজন খাকি ইউনিফর্ম পরা, মাথায় টুপি হাতে একটি ছড়ি, চোখে কালো চশমা। আর একজন সাদা পোশাক, শার্ট প্যান্ট পরা। সে-ই কাছে এগিয়ে এসে বলেছিল, নমস্তে। আপকো কাহা চোট লাগা?

    রুহিতনের তখনই চোখে পড়েছিল লোকটির গলায় বুক দেখবার ডাক্তারি নল ঝুলছে। হাসি হাসি কথাবার্তা ভদ্রলোকের মতোই। হিন্দিতে কেন বলছিল, কে জানে? ভদ্র ব্যবহার, প্রত্যাশিত কিন্তু তৎক্ষণাৎ সন্দেহের উদ্রেক করে। কিন্তু কীসের চোট লাগার কথা জিজ্ঞেস করছিল? সে বাংলাতেই। বলেছিল, চোট তো হামাক লাগে না।’ বলতে বলতে উঠে বসেছিল।

    হামাক’ শব্দটা তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। বাংলা সে দিবা বাগচি, খেলু চৌধুরীদের মতোই বলতে পারে। নিজের অঞ্চলে সে রাজবংশিদের আঞ্চলিক আর নেপালি ভাষায় কথা বলতেই অভ্যস্ত ছিল। ধলভূমগড়ের কুরমি মাহাতোদের কথাও তার অজানা ছিল না।

    ডাক্তার ঝুঁকে পড়ে তার মুখের দিকে দেখেছিল। বলেছিল, আঁ, এই তো নাকের কাছে ঠোঁটের ওপর রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। এ সব জায়গায় একটু ওষুধ লাগিয়ে দিই। বলেই এক হাত রুহিতনের কাঁধের ওপর রেখে, আর এক হাত দিয়ে বুকের কাছে বুলিয়ে বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, এ সব জায়গায় লাগেনি তো?

    না না, কোথাইয়ে লাগে নাই।’ রুহিতন জবাব দিয়েছিল। জিপের মধ্যে রক্ষীদের মারের ব্যাপারেই ডাক্তার এসেছে, সে বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু তার সে রকম কোনও ব্যথা যন্ত্রণা ছিল না। সে আবার বলেছিল, দেন তো দেন একটু নাইবার ব্যবস্থা করে দেন। আর একটু গরম চা।’

    ডাক্তার ভুরু কুঁচকে বলেছিল, কিন্তু গা তো গরম। জ্বর রয়েছে মনে হচ্ছে। চান করাটা কি ঠিক হবে?’ বলে সে ইউনিফর্ম পরা লোকটির দিকেই যেন অনুমতি সাপেক্ষে তাকিয়েছিল।

    রুহিতন বলেছিল, ওইরকম গা গরম আমার থাকে। তিন দিন মোটে গায়ে জল দেই নাই। আজ দিতে হবে।

    ডাক্তার লোকটি রুহিতনের দিকে কয়েক মুহূর্ত তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে দেখেছিল। মুখ ফিরিয়ে ইউনিফর্ম পরা চোখে কালো চশমা মাথায় টুপি হাতে ছড়ি ভারিক্কি লোকটিকে ইংরাজিতে কী যেন বলেছিল। ইউনিফর্ম পরা লোকটি মাথা ঝাঁকিয়ে কঁকিয়ে ডাক্তারের কথা শুনেছিল। মোটা স্বরে দু-একটা কথাও বলেছিল। ডাক্তার তখনই রুহিতনের দিকে ফিরে ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তিকে দেখিয়ে বলেছিল, উনি হলেন জেল সুপারিন্টেনডেন্ট। তোমাকে, ইয়ে মানে, আপনাকে দেখতে এসেছেন।

    রুহিতন জেল সুপারের দিকে এক বার তাকিয়ে দেখেছিল। তাকে সুপারের পরিচয় দেওয়া বা তার। তাকিয়ে দেখা, কোনওটাই কোনও অর্থবহ না। সুপার হেসেছিল, নাকি চোখের কালো চশমায় ঝলক লেগেছিল, কিছু বোঝা যায়নি। ডাক্তারকে ইংরাজিতে কিছু বলেছিল। লোকটার গলার স্বর কোলা ব্যাঙের মতোই মোটা। চেহারাটাও খুব উঁদরেল ভাবের ছিল। ডাক্তার হেসেছিল, আর বাংলায় বলে উঠেছিল, সত্যি আশ্চর্য। তারপরে বাইরের দিকে তাকিয়ে কাকে যেন ডেকেছিল। একজন কয়েদির পোশাক পরা লোক, হাতে একটা বাকসো নিয়ে ভিতরে এসেছিল। ওর ডোরাকাটা পায়জামা আর মাথার টুপি দেখেই বোঝা গিয়েছিল, কয়েদিটা বোধ হয় জেল হাসপাতালের কাজ করে। ডাক্তার রুহিতনের খাঁটিয়ার ওপরেই বাকসোটা রেখে ঢাকনা খুলেছিল। একটা শিশির মুখ খুলে উগ্র গন্ধ কিছু। তুলোর সঙ্গে ভিজিয়ে রুহিতনের নাকের কাছে ঘষে দিয়েছিল।

    রুহিতন তৎক্ষণাৎ মুখটা ফিরিয়ে নিয়ে বলেছিল, মশায়, কইলাম তো আমার চোট লাগে নাই।

    ডাক্তার বলেছিল, রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। একটু মুছে দিই।

    নাইবার সময় জল ঢাললেই সব ধুয়ে যাবে। রুহিতন বলেছিল।

    ডাক্তারকে নিরস্ত হতে হয়েছিল। সে জেল সুপারের সঙ্গে ইংরাজিতে আরও কয়েকটা কথা। বলেছিল। তারপরে বাকসোটা কয়েদির হাতে তুলে দিয়ে সুপারের সঙ্গে বেরিয়ে গিয়েছিল। দুটো দিন রুহিতনের সেই সেলে খারাপ কাটেনি। পরশু দিন ডাক্তার আর জেল সুপার চলে যাবার পরে, তাকে ওয়ার্ডার নীচে চান করতে নিয়ে গিয়েছিল। গরম চা দিয়েছিল সেলের বাইরের বারান্দাতেই। দুদিনই খাবার দিয়েছে সেলের বাইরে বারান্দাতেই।

    আজ সকালে ঘুম ভেঙেও জানত তাকে এ রকম একটা নিরিবিলি জায়গাতেই রাখা হবে। কিন্তু নতুন হুকুমে তাকে ওয়ার্ডাররা অন্য জায়গায় নিয়ে চলেছে। আগেই বলা হয়েছে, অন্য ওয়ার্ডে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রুহিতন গতকাল স্নান করেনি। আজ শীতভাব থাকা সত্ত্বেও গায়ে মাথায় অল্প জল না ছিটিয়ে পারেনি। এখন এই খোলা মাঠের ওপর রোদ আর বাতাসে একটু ভালই লাগছে। পুকুরের ওপারে ডান দিকে গাছের তলায় ছায়ায়, ওয়ার্ডের বারান্দায় লোকজন চলাফেরা করছে। দেখলেই বোঝা যায়, ওদিকে সকলেরই কিছু ব্যস্তসমস্ত ভাব। মাঠের এদিকে ওদিকেও দু-একজন ওয়ার্ডারকে কয়েদির সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। পায়রারা আঁক বেঁধে উড়ে যাচ্ছে মাথার ওপর দিয়ে। সব জেলেই বোধ হয় পায়রা থাকে। রুহিতনের এই রকম ধারণা হয়েছে। যে কটা জেলে সে আজ পর্যন্ত থেকেছে, সব জেলেই প্রায় পায়রা দেখেছে। কেন, জেলকে ওদের ভয় নেই? দোতলা ওয়ার্ডের ছাদে, ছাদের থেকে দূরে আরও উঁচুতে টাওয়ারের ওপর জেলরক্ষীদের দেখা যাচ্ছে। পায়রাদের ভয় নেই তারা সেখানেও ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকী পাগলা ঘণ্টির মাথার ছাউনির ওপরেও দুটো পায়রা মুখোমুখি ঘাড় ফুলিয়ে, মাথা নাড়ছে।

    রুহিতনের মনে পড়ে গেল, বারো-তেরো বছর বয়সের সময় তার পায়রা পোষার শখ হয়েছিল। তখনই তার বাবা নকশালবাড়ির পুবের চা বাগান ছেড়ে, পাঁচ মাইল দক্ষিণ-পুবের মৌজায় চাষ আবাদ করতে চলে গিয়েছিল। ইতিমধ্যে বাগানে কাজ করে তার কিছু পয়সাকড়ি মায়ের কাছে জমা পড়েছিল। আরিশজোতে একটা শিবরাত্রের মেলা হয়। রামধনের কাছে। সেই মেলা থেকে মা তাকে কিনে। দিয়েছিল দুটো ধাড়ি পায়রা পায়রি, আর চারটি বাচ্চা।

    রুহিতন গ্রামের নানান জায়গা থেকে স্টেশনের আশপাশ ঘেঁটে কাঠের আর টিনের টুকরো জোগাড় করে নিজের হাতে একটা বাসা বানিয়েছিল। তার থেকে বয়সে বড় আশেপাশের গ্রামের আরও অনেকে পায়রা পুষত। আকাশে উঠে ডিগবাজি খাবে বা নানা রকম খেলা দেখাবে এই রকম লক্কা গোলা নোটন, নানা রকম মিশেল পায়রার চাষ করত তারা। লক্কা গোলা নোটন, অনেক কিছু তারা তৈরি করত। কিন্তু যেগুলোকে বাজ তৈরি করা হত, সেগুলোই আসল। পায়রা কখনও বাজ হয় না তবু এমনভাবে তাদের শিক্ষা দেওয়া হত, সেইসব পায়রারা হয়ে উঠত শিকারি চতুর আর হরণকারী। অপরের পায়রার ঝাকের সঙ্গে মিশে তার ভাল পায়রাটিকে নিজের ঘরে ভাগিয়ে নিয়ে আসত। সেই সব পায়রাকেও শিকরে বাজ বলা হয়।

    রুহিতনের স্বপ্ন ছিল, সে সেই রকম শিকরে বাজ তৈরি করবে। আর সেইজন্যই সে মুখের মধ্যে আঙুল ঢুকিয়ে জিভ গুটিয়ে শিস দিতে শিখেছিল। তার সেই শিকরে তৈরি স্বপ্নের সঙ্গী ছিল ছোট ভাই হরতন। হরতনের নামটাও ঠাকুরদা রেখেছিল। তারপরে তো পর পর চারটে বোন হয়েছিল। কিন্তু ছমাস পরেই তার স্বপ্নকে গলা টিপে মারা হয়েছিল। পায়রা পোষা অনেকটা সেই রকম। ডুয়ে রাখলে পিঁপড়েয় খায়, উঁচুতে রাখলে বাতাসে উড়ে যায়। নীচে রাখলে শেয়ালে হানা দেয়, ওপরে রাখলে খটটাস। তাই পায়রাগুলোকে সে দাওয়ার ওপরে চালের নীচে ঝোলানো বাসায় রেখেছিল। বাইরের উঠোন থেকে নিচু হলে বাসা দেখা যেত। শেয়ালের নাগাল পাবার উপায় ছিল না। খটটাসের পক্ষেও সেই ঝোলানো বাসার ঘাড়ে চেপে রীতিমতো খিল দেওয়া দরজা খোলা সম্ভব ছিল না। সন্ধ্যা হলেই খোপে পুরে ঢাকা দিয়ে রাখতে হত। কিন্তু এক দিন রাত পোহাতে দেখেছিল, খোপের দরজা খোলা। একটা পায়রাও নেই। বাচ্চাগুলো বেশ তৈরি হয়ে উঠেছিল। ধাড়ির সঙ্গীটা দুটো ডিম পেড়েছিল। খড়ের ওপরে ডিম দুটো ভেঙে পড়েছিল। দাওয়ার মাথার ওপর চালাতে কোথা থেকে কালো পিঁপড়ে গোটা বাসাটা ছেয়ে ফেলেছিল। ভাঙা ডিম দুটোর জন্যই।

    কী করে এমন সর্বনাশ হতে পারে? রুহিতনের বুক ফেটে কান্না আসছিল। খটটাস? কিন্তু তার কোনও চিহ্নই ছিল না। হরতনটা তার মধ্যে চিৎকার করে কান্না শুরু করে দিয়েছিল। রুহিতনের মনে গভীর সন্দেহ হয়েছিল খটটাস সম্ভবত, ভাম কখনওই সে কাজ করেনি। করলে সবগুলো পায়রাকে সে নিয়ে যেতে পারত না। তা ছাড়া, কিছু চিহ্নও নিশ্চয় রেখে যেত। তার আরও মনে হয়েছিল, খটটাস কখনও এমন নিপুণভাবে খোপের খিল দেওয়া ঢাকা খুলতে পারে না। তবে চোর? চোরের কাজ!

    রুহিতনের মা ছিল তখন গর্ভবতী। দুটো বোনকে নিয়ে বাবার কাছে মাঠের কাজে যাবার তোড়জোড় করছিল। রুহিতন হরতনেরও যাবার কথা। এত বড় একটা ঘটনাকে মা তেমন আমলই দেয়নি, বরং বলেছিল, পায়রা গেছে, আবার আসবে। আমি পৌষ মাসে তিস্তা মাইয়ের মেলা থেকে ছটা পায়রা কিনে দেব। এখন চল যাই, তোদর বাবা একলা একলা কাজ করছে। লোকটার কষ্ট হচ্ছে, তারপরে রেগে যাবে।

    রুহিতনের কাছে মায়ের আচরণটা মোটেই স্বাভাবিক মনে হয়নি। নিখোঁজ পায়রাগুলোর জন্য মা কোনও দুঃখ আক্ষেপ প্রকাশ করা তো দূরের কথা, মন খারাপ করেও একটা কথা বলেনি। এক বার এসে দাঁড়ায়নি খোপের সামনে। দেখেনি তাকিয়ে, ঘটনাটা কী? রুহিতন দাওয়ায় আছাড় খেয়ে পড়েছিল। দাওয়া থেকে উঠোনের ধুলোয় লুটোপুটি। সে হরতনের মতো কাঁদেনি, চিৎকার করে গালাগাল আর অভিশাপ দিয়েছিল। রুহিতন যখন খুব খারাপ খারাপ গালাগাল আর শাপমন্যি করছিল তখন মা বেশ অবাক হয়ে ভয় পেয়ে বলে উঠেছিল, নিজের বাপকে এ সব বলছিস তুই?

    নিজের বাপ! হ্যাঁ, মা বুঝিয়েছিল। গতকাল রাত্রে রুহিতনের বাবা কোথায় কোনখানে নিয়ে নাকি মানত করা পায়রা বলি দিয়েছিল। রাত্রে আর পায়রা কোথায় পাবে, তাই ঘরেরগুলোই নিয়েছিল। মানত? কোনখানে? আশেপাশে সেই সময়ে কোথাও কোনও পূজাপাট বলি, কিছুই ছিল না। রুহিতন ঘরের আশেপাশে আনাচেকানাচে জঙ্গলে চারদিকে ছুটোছুটি আরম্ভ করে দিয়েছিল। তার সন্দেহ আর ছুটোছুটি বৃথা যায়নি। মৃত পায়রার পালক-ঝোলকগুলো সে শুকনো পাতা ঢাকা দেওয়া উঁই থেকে খুঁজে বের করেছিল। তার সন্দেহ তখন বিশ্বাসে পরিণত হয়েছিল। আসল ঘটনা বাবা মায়ের ডেয়ং (হাড়িয়া) খাওয়ার ফল। ডেয়ং-এর নেশায় চুর হয়ে বাবার পায়রাগুলো খাবার ইচ্ছা হয়েছিল। মা হয়তো বাধা দিয়েছিল। বাবা কখনও সে বাধা মানে? বাবা নিজের হাতেই পায়রাগুলো খোপ থেকে বের করেছিল, ঘাড় মটকিয়ে পালক ছাড়িয়েছিল। আর মা রান্না করে দিয়েছিল। রাত তখন কত, কে জানে?

    কথাগুলো মনে হতেই, রুহিতন হিংস্র হয়ে উঠেছিল। হুংকার ছেড়ে হরতনকে নিয়ে মাঠে ছুটে গিয়েছিল। পোশপতৃ তখন নিশ্চিন্ত মনে নিড়ানের কাজ করছিল। সে একলা না, মোহন ছেত্রীর জোতে আরও অনেকেই তখন কাজ করছিল। তরাইয়ের এই এক সমস্যা। বৃষ্টি হলেই আগাছার উৎপাত। নিড়ান দেওয়া একটা বড় কাজ। তবে আগের রাত্রে পায়রার মাংসের ভোজটা খারাপ হয়নি। শরীর বেশ গরম ছিল। বোধ হয় ডেয়ং আর পায়রার মাংসে একটা আমেজও ছিল।

    রুহিতন আর হরতন দুটো বাঁশের লাঠি নিয়ে হই হই করে ছুটে গিয়েছিল। রুহিতন বাপের নাম ধরেই চিৎকার করেছিল, কোথায় পোশপত কুরমি? আমার পায়রার মাংস যে খেয়েছে তার মাংস আজ আমি খাব।

    পশুপতি অবাক হয়ে নিড়ানি হাতে উঠে দাঁড়িয়েছিল। রুহিতন হরতনের পিছনে তাদের মাও ছুটে এসেছিল, আর ছেলেদের বাপকে চিৎকার করে সাবধান করছিল। তথাপি পশুপতি ব্যাপার ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি। রুহিতন যখন তার ওপর লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছিল তখন সে নিজেকে বাঁচাবার জন্য দৌড় দিয়েছিল। রুহিতন হরতন বাপকে সমানে তাড়া করেছিল। মাটির ঢ্যালা কুড়িয়ে নিয়ে ছুঁড়ে মেরেছিল। মাঠের যত মজুর কিষণ সবাই কাজকর্ম ফেলে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিল, আর রুহিতনের মায়ের চিৎকার থেকে আসল ঘটনাটা শুনে নিচ্ছিল। শুনে তারা সবাই হাসাহাসি আর হইহল্লা আরম্ভ করে দিয়েছিল। এ রকম একটা মজার ঘটনা সচরাচর ঘটে না। দুই বালক ছেলেকে সবাই উৎসাহ দিয়ে ক্ষেপিয়েছিল,হ্যাঁ, এ রকম মানুষের মতো দেখতে পায়রাখেকো শেয়াল খটটাসকে মারাই ভাল।

    বাবা হয়তো তার দুই ছেলেকে সহজেই কাবু করে ফেলতে পারত। কিন্তু চুরি করে পায়রা খাওয়ার একটা অপরাধ বোধেই সে ছেলেদের কাছ থেকে দৌড়ে পালিয়েছিল।…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিপর্যস্ত – সমরেশ বসু
    Next Article মানুষ শক্তির উৎস – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }