Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানুষ শক্তির উৎস – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤷

    ১. মানুষই শক্তির উৎস

    ০১.

    ‘মানুষই শক্তির উৎস।…’

    না, এভাবে না। ওর চিঠিটা–ওর শেষ চিঠিটা, এভাবে শুরু হয়নি। ওই কথাটা বারে বারে মনে আসছে। মনে করতে চাই বা না চাই, ওই একটি কথা যেন মন্ত্রের মতো জপে চলেছি। ইচ্ছা করি বা না করি, কথাটা আমার মনের মধ্যে বেজে চলেছে।

    আসলে সমস্যা তো আমার নিজের। ভাবছিলাম, কী দিয়ে, কোথা থেকে শুরু করব। জীবনে তো কখনও ভাবিনি, কোথায় শুরু, কোথায় শেষ। না, এ কথাটা হল যেন, আমি বিশ্ব সংসারের কথা ভাবতে বসেছি। সে রকম কোনও ব্যাপক গভীর দার্শনিক ভাবনা আমার নেই। আমি নিতান্ত নিজের কথা ভাবছি, নিজের এই জীবনের কথা, মাত্র ছাব্বিশ বছর যার বয়স।

    ছাব্বিশ কি? না, মাস তিনেক হয়ে গেল, সাতাশে পড়েছি। সেই হিসাবে, আমার জন্মদিনটাকে শুরু বলতে হয়। আর বেঁচে যখন আছি, তখন শেষের প্রশ্ন আসে না। কিন্তু কথাটা তা না। কথা হল, জীবনে কখনও ভাবিনি, কোথা থেকে শুরু করব, কোথায় শেষ করব। কী ভাবে শুরু হয়েছিল, তাও জানি না। আমাকে জানিয়েই কিছু শুরু হয়নি। কার জীবনই বা জানিয়ে শুরু হয়!

    হয়, শুনেছি। অনেক মহাপুরুষের জীবন নাকি, তাঁদের জন্মের অনেক আগেই, নানা দৈববাণীতে ঘঘাষিত হয়, তিনি কবে এই ধরাধামে আসবেন, কী করবেন। আমি তো সেরকম মহাপুরুষ নই। এমনকী, এই সমাজের দিকে তাকিয়ে বলছি, আমি পুরুষও নই। আমি একটি মেয়ে, নিতান্ত একটি মেয়ে। নিতান্ত একটি মেয়ে’ কথাটার ওপর একটু বেশি জোর দিয়ে বললাম, কারণ আমি এখনও সেইখানে রয়ে গিয়েছি, সেই পর্যায়ে, যারা ভাবে এই জগৎ পুরুষশাসিত। যারা বলে, এটা আজ আর কোনও ভাবনার বিষয় না, এটা একটা পুরনো ধারণা, আমি এখনও তাদের মতো নবীনা হতে পারিনি। আমি আমার সবকিছুর মধ্যেই দেখি, অনুভব করি, পৃথিবী পুরুষশাসিত।

    ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী, এখন একজন মহিলা। সেকুলার, ডেমোক্র্যাটিক ইত্যাদি যে সব নামে এই বিশাল দেশকে ভূষিত করা হয়, সে সবের সত্যতা আমার কাছে কিছু নেই–বিশেষ করে যখন ডেমোক্রাটিক বলা হয়, তখন মিথ্যাটা আরও বড় মনে হয়। অমিতদার কথা মনে পড়ছে, অমিতাভ চৌধুরী, আমাকে একদিন বলেছিলেন, ভারতবর্ষ ডেমোক্রাটিক দেশ নয়– এটা আদৌ সত্যি না। তোমরা যেখানে যে অবস্থায় খুশি এই সরকারের সমালোচনা করতে পারো, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, বৈভব ইত্যাদি নিয়ে খোলা ময়দানে অভিযোগ করতে পারো এবং এই যে সব কথা বলতে পারছ, তুমি এটাকে ডেমোক্রাটিক দেশ বলে মানো না, এ সবই প্রমাণ করে, এটা ডেমোক্রাটিক দেশ। পৃথিবীতে এমন রাষ্ট্রও আছে, যে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রব্যবস্থা বা তার নেতাদের সমালোচনা করলেই, তোমাকে কোতল করে দেওয়া হবে, না হয় শাস্তি পেতে হবে।

    অমিতদা কী বলতে চেয়েছিলেন আমি জানি। ওঁর ইঙ্গিতটা বুঝতে আমার অসুবিধা হয়নি। ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার তাই নিয়ম। ফ্যাসিস্ট না হয়েও, সে রকম ব্যবস্থা থাকতে পারে। কেউ যদি বলে, যেখানে কোটি কোটি মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র চলছে, সেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার সমালোচনা মানেই, কোটি কোটি মানুষের স্বার্থের হানি, অতএব সমালোচনা বন্ধ। মুখে কুলুপ এঁটে রাখো। সেক্ষেত্রে সেটাকে আমি অন্যায় মনে করব কেন। কোটির জন্য মুখ বন্ধ আর গোটির জন্য মুখ বন্ধ, দুইয়ের মধ্যে অনেক তফাত আছে। যদিও এই মুখ বন্ধ কথাটার মধ্যে আমি যেন কেমন একটা পাপের গন্ধ পাই। অনেকটা আবছায়া অন্ধকারে উদ্যত ফণা তোলা সাপের মতো। সব ক্ষেত্রেই মুখ বন্ধ না করলে কি চলে না? মুখ। বন্ধ কি কোথাও শেষরক্ষা করতে পারে!

    তা বলে অমিতদার কথাও মেনে নিই না। আমাদের এই ডেমোক্রাসির মানে কি কেবল কথার স্বাধীনতা! একটা চ্যাটারবকসের যে স্বাধীনতা? কথার স্বাধীনতা যে কত, সে তো রোজ খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায়। কথা কথা কথা। কথার আদ্যশ্রাদ্ধ। এ যেন অনেকটা সেই রকম, ভগবান তোমাকে মুখ দিয়েছেন বলতে, বলে যাও। শুনছি কি না জানি না, যা করবার, তা করে যাচ্ছি।

    আহ, আবার রাজনীতি। আবার আমি রাজনীতির কথা ভাবছি? রাজনীতি আমার সবই নিয়েছে, সবকিছু নিয়ে আমাকে এইখানে ফেলে রেখে গিয়েছে, যেখানে বসে আজ আমাকে শুরুর কথা ভাবতে হচ্ছে। আজ এই প্রথম, নিজের দিকে ফিরে তাকাবার সময় হল। নিজেকে খুঁজে দেখবার সময় হল। কিন্তু রাজনীতির কথা বোধ হয় ভোলা যায় না। রাজনীতি তো ঈশ্বরের স্থান দখল করেনি। ঈশ্বরকে ভোলা যায়। ঈশ্বরকে না-ও মানা যায়। কিন্তু মৃত্যুকে? রাজনীতি যেন রবীন্দ্রনাথের রাহুর প্রেম’-এর। মতো। ভুলে থাকতে চাইলেও, তাকে ভুলে থাকা যায় না। নিষ্কৃতি পাওয়া যায় না। সে অমোঘ, অপ্রতিরোধ্য। আমার সমস্ত কিছুর মধ্যে সে আছে। আমি চাই বা না চাই, কী এল গেল! অথচ চেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম, জীবনের জন্যই রাজনীতির প্রয়োজন। কিন্তু সে কোন রাজনীতি, যা জীবনকে প্লাবনের মতো ভরে তুলবে! আমার চোখে অন্ধকার, দৃষ্টি ঝাপসা। সেই রাজনীতি আমি দেখতে পাই না।

    তবু রাজনীতি, তফাত যাক! যে কথা ভাবছিলাম। এত বড় দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন মহিলা, তার জন্য তাঁর মনে কি বিশেষ কোনও অহংকার আছে! থাকতে পারে হয়তো, কে জানে। কিন্তু তার জন্য ভারতবর্ষের স্ত্রীলোকদের জীবনে কী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আমি কিছুই দেখতে পাই না। ভারতবর্ষ তাতে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হয়ে যায়নি। পুরুষরা তেমনি পুরুষই আছে, মেয়েরা মেয়েই আছে।

    মেয়েদের ছাড়া পুরুষদের চলে না। আমাদেরও তাদের ছাড়া চলে না। এই না চলাটাই তো বড় কথা। আমরা আমাদের পরস্পরের জন্য। তবু পুরুষরাই প্রধান। সেটা আমার একটুও খারাপ লাগে না, অস্বাভাবিক বলেও মনে হয় না। পুরুষদের সঙ্গে যত টেক্কা দিয়েই চলি, কখনও ভুলতে পারি না, আমি একটি মেয়ে।

    আমার এমন অনেক বান্ধবী আছে, যাদের এ সব কথা মোটেই ভাল লাগে না। ওদের ধারণা, আমার মনোভাবটা ক্রীতদাসীর মতো। পুরুষদের প্রাধান্যের বিরুদ্ধে ওরা এত কথা বলে, এমন চেঁচায়, যেন মনে হয় পুরুষরা আমাদের শত্রু। তাই কখনও হয় নাকি! ও সব ভেবে চিন্তা করে, অনেক রকম গল্প। লেখা যায়। নারীবিদ্বেষী পুরুষ বা পুরুষবিদ্বেষী নারীর গল্প। মেয়ে বিশেষের ক্ষেত্রে সে রকম কিছু ঘটতে পারে, বা পুরুষ বিশেষের। তার পিছনে নানান কারণ থাকতে পারে। কিন্তু সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার না, সাধারণও না। অসাধারণ আর অস্বাভাবিক নিয়ে কোনও কথা চলে না।

    অধীনতা? তা-ই বা মন্দ কী। সে অধীনতা তো আর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা নয়। তার মধ্যে মান-অপমানের কোনও প্রশ্ন নেই। বিদ্রোহেরও কোনও কথা নেই। আমার তো ধারণা, অধীনতার মধ্যেও শান্তি আছে। এমনকী বোধ হয় সুখও আছে। আমি যদি অধীন হতে পারি, আমাকে যদি কেউ অধীন করতে পারে, তার চেয়ে ভাল আর কী হতে পারে। সামাজিক বিচার বিশ্লেষণ, তত্ত্ব তর্কে যাই হোক, মেয়ে-পুরুষের মধ্যে যদি কোনও বিরোধ হয়, বিবাদ হয়, তা কখনও মজুর-মালিকের লড়াই না। তার মূলটা ভিন্ন। অর্থনৈতিক স্বাধীনতাই পাই, আর রাজনৈতিক তক্তে বসেই লড়াই করি, নারী-পুরুষের মূল সম্পর্কের সমস্যা সেখানেই মিটে যায় না। সমস্যা বাইরের না, ভিতরের। আইন বা আইন সভা তার কোনও নিরসন করতে পারে না। মূল সমস্যা, নারী আর পুরুষ, তাদের দুজনের মধ্যে নিরসন করতে পারে।

    সেই জন্যই বলছিলাম, এই সমাজের দিকে তাকিয়েই বলছি, আমি একটি মেয়ে। পুরুষপ্রধান সমাজে একটি মেয়ে যেমন হয়, নিতান্ত তেমনি একটি মেয়ে। আমি যা-ই বলব, আমার হাসি কান্না আবেগ, সবই এই সমাজের একটি সাধারণ মেয়ের কথা। মেয়েদের নিয়ে বড় বড় কথা বলবার কিছু নেই আমার।

    ছেলেরা–মানে পুরুষেরা আমাদের নিয়ে বরাবরই একটু বাড়াবাড়ি করেছে। করেছে অবিশ্যি নিজেদের সুখের জন্য বটে, দুঃখের জন্যও বটে। এত সব বিশেষণ দিয়েছে, যার কোনও মাথামুণ্ডু নেই। শুনলেই বোঝা যায়, কখনও আদরে গলে গিয়েছে। কখনও রাগে বারুদ হয়ে উঠেছে। কখনও বুঝতে পেরে কেবলই হাতড়ে ফিরেছে, কখনও আবার অঙ্কের মতো চুলচেরা বিচার করেছে। যা বলবার পুরুষরাই বলেছে। আমরা আর আমাদের বিষয়ে কতটুকু বলেছি! আমরা বরাবরই নীরব।

    আমাদের প্রোফেসর দুষ্মন্তবাবু থাকলে, এখুনি বলে উঠতেন, উঁহু উঁহু, হল না। আয়েষার কথা ভুলে যেয়ো না, এই বন্দি আমার প্রাণেশ্বর। নারীরা মোটেই নীরব না, অনেককাল আগেই তারা মুখ খুলেছে।

    সে রকম হিসাব করে বললে, আরও কিছু বলা যায় না। কিন্তু আমার ধারণায় মোট কথা, পুরুষরা মেয়েদের নিয়ে যত কথা বলেছে, আমরা তার কিছুই বলিনি। কাব্যে সাহিত্যে ধর্মগ্রন্থে, সবখানে। কিন্তু পুরুষদেরই আমার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে, তারা কি সবসময়ে আমাদের সম্বন্ধে ঠিক কথাটি বলতে পেরেছে! বেশি বাড়াবাড়ি করলে এই অসুবিধা হয়। ঠিক কথাটি সবসময়ে বলা হয়ে ওঠে না। মেয়েদের ঠিক মেয়েদের চোখে দেখলে, জটিলতা কমে। সেই হিসাবে, মেয়েরা ছেলেদের অনেক বেশি বুঝতে পারে। মেয়েরা পুরুষকে পুরুষের চোখেই দেখে। পুরুষেরা একটু নতুন কিছু না বলতে। পারলে, একটু নতুন চোখে দেখতে না পারলে, তাদের শান্তি নেই। তার মধ্যে, তাদের যেন একটি বিশেষ তৃপ্তি আছে। সেই জন্যই বোধ হয় রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্রকে উদ্দেশ করে, একটি সাধারণ মেয়ের গল্প লিখতে বলে, কবিতা লিখেছিলেন।

    একটি নিতান্ত সাধারণ মেয়ে বলতে কী বোঝায়, সেটা আবার একটা কথা। তার মানে এই নয়, একটা সরল রেখার মতো সোজা ব্যাপার কিছু মেয়েদের স্বভাবের মধ্যেই যে সব আঁকাবাঁকা ওঠা-নামা আছে, ব্যাপারটা সেই রকমই স্বাভাবিক। একটি নিতান্ত মেয়ে, কোনও মহৎ-অমহতের কথা নেই।

    কিছুকাল আগে, এক অবাঙালি লেখিকার একটা গল্প পড়েছিলাম। গল্পের নায়িকা এক বিবাহিতা মেয়ে। সে তার স্বামীর সঙ্গে দেহ-মিলনে মিলিত হল। স্বামীর সঙ্গে তার মিলনটা যেন অনেকটা ভিখিরিকে খাবার ছুঁড়ে দেওয়ার মতো। তারপরেই সে তার প্রেমিকের কাছে চলে গেল।

    এটা একটা অদ্ভুত বা নতুন ব্যাপার কিছু না। এটা একটা নিতান্ত সাধারণ মেয়েরই গল্প। কেউ শুনলে, আমাকে না জানি কী ভাববে! পুরুষদের কথা তো বাদই দিচ্ছি, মেয়েরাও প্রতিবাদে ফেটে পড়বে। সবসময়ে তো সব বিষয় বক্তৃতা দিয়ে বোঝানো যায় না। এ কথাও বলা যায় না, কী সত্যি, কী মিথ্যা, তা নিজের বুকে হাত দিয়ে বলো। কিন্তু আমি বুঝি, এটা একটা সাধারণ মেয়েরই গল্প। যে কোনও বিবাহিতা মেয়ের জীবনেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। বলতে গেলে, এটা একটা মেয়েলি গল্প, সতোর সঙ্গে লেখা, সেন্টিমেন্টের স্পর্শ নেই। সেই জন্যই গল্পটা আমার আরও ভাল লেগেছে। পরে যখন এই গল্পটার সম্পর্কেই প্রাবন্ধিকের পণ্ডিতি বিশ্লেষণ পড়েছি, মোটেও ভাল লাগেনি। প্রবন্ধে গল্পটা হয়ে উঠেছে, যাকে বলে প্রকৃত আধুনিকতা, রিলেশনকে আবিষ্কার, বর্তমান সমাজের বুকে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনশীল যুগকে দেখা এবং বাস্তব জীবন–ইত্যাদি প্রভৃতি। বলতে ইচ্ছা করে, আ মরণ, মিনসের আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই, আধুনিকতা আর বাস্তবতা বোঝাতে বসল।

    একেবারে অবিকল এমন ঘটনা না থাকলেও, স্বামী থাকতেও অন্য পুরুষ, একি পুরাণে ইতিহাসে নেই? এ সব কি আজকাল, এ যুগেই ঘটছে নাকি। সেই যবে থেকে বিয়ে, তবে থেকেই এই গল্প। এখন। অবিশ্যি আইন এবং নীতি আছে। তারা এটাকে ব্যভিচার বলবে। বলবে, আইনের সুযোগ আছে, ডিভোর্স করো, প্রেমিকের কাছে চলে যাও। কেউ তোমার পথ আটকে রাখবে না। কিন্তু একটা লোক, কাজকর্ম করে, খায়দায়, স্ত্রী সহবাস করে, তাকে ত্যাগ করার রাস্তাই বা কোথায়। ভালবাসি না’ কথার কোনও দাম নেই। আইন আর নীতি, নারী-পুরুষের প্রকৃত অর্থের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও কাজ করে না।

    কিন্তু এত কথা ভাবছি কেন। আসলে আমি বলতে চাইছি, মনের শুচিতায় আমি বিশ্বাস করি। শরীরের স্বাস্থ্যে এবং পরিচ্ছন্নতায়। ঘৃণা করি ইন্দ্রিয়পরায়ণতাকে। স্বেচ্ছাচারিতাকে নিন্দা করি। কিন্তু সতীত্ব’ নাম দিয়ে, দেহের যে-শুচিতার কথা বলা হয়, তার কোনও অর্থ নেই। সব মেয়েই জানে, তাদের শরীরটা চোর চোর খেলার সামগ্রী না, ছুঁয়ে দিলেই চোর! আমি সাধারণ একটি মেয়ে, নিতান্ত একটি মেয়ে, শরীর নিয়ে স্বর্গবাসের ভাবনা ভাবি না।

    যখন ছোট ছিলাম, যখন কিশোরী ছিলাম, তখন অনেক ভাবনা ছিল। যখন প্রথম জেনেছিলাম, আমার মধ্যে একটা নতুন দরজা খুলে গেল, তখন শক্ত হয়ে উঠেছিলাম। নিজের খোলা দরজার সামনে, নিজেই কঠিন প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।…তারপরে সহজ হতে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। সহজ আর স্বাভাবিক হওয়াটাই সবথেকে কঠিন।

    এত কথারই বা কী দরকার। সোজা কথা সহজে বলি, সাধারণ মেয়েদের মনে শরীর নিয়ে কোনও শুচিবায়ুতা নেই। আমারও নেই। এ কথা ভাবতে গিয়ে, আমার অনেক বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এক-একজন এক-একরকম। কেউ আমার পক্ষে, কেউ আমার বিপক্ষে। আবার অন্য রকমও আছে। যেমন লীনা। ওর কোনও বাছ-বিচার নেই, ছেলে হলেই হল। অবিশ্যি এতটা বলব না, একটু বাছ-বিচার আছে। ওকেই ঠিক স্বেচ্ছাচারিণী বলা যায়, ভোলাপচুয়াস যাকে বলে।

    লীনা ওর মাসিকে নিয়ে খুব গর্ব করে। ওর জীবনের চিন্তাভাবনা, সবই ওর সীতা মাসির মতো। সীতামাসি একটি রাজনৈতিক দলের নেত্ৰীস্থানীয়া। প্রত্যেক ইলেকশনেই দাঁড়ান, প্রত্যেক বারই এম-এল-এ নির্বাচিত হন। এখন বয়স হয়ে গিয়েছে। তা পঞ্চাশের কাছাকাছি তো বটেই। সীতামাসিকে আমি দেখেছি। কপালের সামনে, কানের পাশে, চুলে কিছু কিছু পাক ধরেছে। কিন্তু মুখের চামড়ায় তেমন ভাঁজ পড়েনি। গায়ে মেদ জমেনি। বেশ শক্ত সমর্থ চেহারা। স্বাস্থ্যে এখনও বেশ ধার আছে। একটিও দাঁত পড়েনি। সত্যি বলতে কী, শরীরটা দেখলে, মনে হয়, এখনও ওঁর যৌবন আছে। ভাল বক্তৃতা দিতে পারেন। ভাল বক্তৃতা বলতে আমি অ্যাজিটেশনের কথা বলছি। যাকে বলে, তাতিয়ে মাতিয়ে তোলা, সেটা খুব ভাল পারেন। তবে মূলে বড় অন্তঃসারশূন্য বলে আমার মনে হয়েছে। তৈরি করা, সাজানো-গোছানো, গরম গরম কথা বলেন, তখন ভঙ্গিটাও চমৎকার।

    শুনেছি সীতামাসি নাকি ইস্কুলে পড়বার সময় থেকেই রাজনীতি করেন। কলেজে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই, ওঁর বক্তৃতার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ভক্ত জুটে যায় অগুনতি। লীনা বেশ গর্ব করে, চোখ ঘুরিয়ে বলে, সীতামাসি তাঁর কলেজে, সব ছেলেকে দলে টেনে নিয়েছিলেন। যার সঙ্গে কথা বলতেন, সেই ছেলেই কাত হয়ে যেত। বলতে গেলে, কলকাতার কলেজের ছেলেরা এক সময়ে সীতামাসির জন্যই। রাজনীতি করতে এসেছিল।

    ভাবলেও অবাক লাগে। এ আবার কখনও সত্যি হতে পারে নাকি! একটি মেয়ের জন্য ছেলেরা তাঁর দলে এসে ভিড়ত? জিজ্ঞেস করলে, লীনা আরও ঝলক দিয়ে বলে, আগুন, সীতামাসি তখন ছিল। আগুন। ছেলেরা সব বাদলা পোকা। কোনও ছেলেকেই সীতামাসি বাদ দিত না। যাকে ভাল লাগত, তাকেই…।’

    লীনা কথা শেষ না করে চোখের ইঙ্গিতেই সারে। বলে, দলের অনেক নেতাও সীতামাসির দিকে হা-পিত্যেশ করে তাকিয়ে থাকত। সীতামাসির বর তো অন্য দলে ছিলেন। লেখাপড়ায় যেমন ভাল ছিলেন, তেমনি বড়লোকের ছেলে। তাঁকে কিছুতেই কেউ দলে আনতে পারেনি। তারপর এম এ পড়তে গিয়ে, মেসোমশাই কাত হলেন। কেবল দলেই আসেননি, সীতামাসিকে বিয়েও করেছিলেন। যাকে বলে একেবারে হজম, তাই। এখন সেই মেসোমশাই কোথায়! কোন এক ইংরেজি কাগজে বসে বসে এডিটরিয়াল লিখছেন, আর কিছুই না। সীতামাসি যা বলেন, তাই করেন। হ্যাঁ, যদি কিছু করতে হয়, সীতামাসির মতোই করা দরকার। একে বলে জীবন।’…

    সীতামাসির সম্পর্কে, লীনা যা বলে, তা একেবারে মিথ্যা না। আরও কয়েকজনের মুখে শুনেছি। বিশেষ করে হরিশদার কাছে। হরিশদা, সীতামাসি সব একসময়ে একসঙ্গে রাজনীতি করতে নেমেছিলেন। দুজনেই সমবয়সি। এখন অবিশ্যি হরিশদা সীতামাসিদের দলে নেই। বরং বলা যায়, সীতামাসিদের শত্ৰুদলের লোক তিনি এখন। হরিশদা এখনও হেসে বলেন, সীতাকে দেখে আমরা সকলেই কম-বেশি মজেছিলাম।’…

    হরিশদা আরও অনেক কথা বলেন, বলতে বলতে অনেক সময় রেগে যান। কিন্তু সে যাই হোক, লীনা কেন সীতামাসি হতে চায়। লীনার রূপ আছে, মানি। রাজনীতির কিছু বোঝে বলে তো মনে হয় না। যদিও গরম গরম বক্তৃতা দেয়। তবে ও বোধ হয় ভুলে গিয়েছে, সীতামাসিদের দিন আর নেই। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে বা তার পরে পরেই, রাজনীতির যা হালচাল ছিল, সে সব একেবারেই বদলে গিয়েছে। সীতামাসিদের সময়ের কথা যা শুনি, মনে হয় তখন সব ব্যাপারটা ছিল বেশ সহজ। এখনকার মতো এত জটিল আর কুটিল হয়ে ওঠেনি। অবিশ্যি মেয়েদের রূপের দর সবসময়েই বোধ হয় সমান। লীনা তাই, সীতামাসি না হতে পারুক, একটা কিছু হতে চলেছে। ওর পিছনে পিছনেও অনেক ছেলে ঘোরে। লীনা সবসময়েই ছেলেদের নিয়ে বেড়ায়। নিজের মুখেই সব কথা বলে যায়।

    লীনা হল অন্য রকম। লীনার সঙ্গে আমার কোনও দিন বনবে না। বনেওনি। লীনাকে আমি আমাদের মতো সাধারণ মেয়ে মনে করি না। ওর কথা ভাবলে, আমার গায়ের মধ্যে যেন কেমন ঘিনঘিন করে। ও ওর নিজের বিষয়ে যে সব কথা বলে, সে সব মুখ ফুটে বলা যায় না। ভারী কুৎসিত আর নোংরা মনে হয়। বেশ বুঝতে পারি, সবকিছুর মধ্যেই ওর একটা উগ্ৰ কামুকতা আছে। মেয়েপুরুষ বলতে ও একটা জিনিসই বোঝে। সেই জন্য লীনার মতো মেয়েদের কাছে শরীরের মূল্যটাও অন্য রকম। শরীরকে ওরা অন্য চোখে দেখে। লীনার কথা শুনলে অনেক সময় হাসিও পায়। ছেলেদের অদ্ভুত দুর্বলতার কথা ওর মুখে শোনা যায়।

    এমন অসহায় গোবেচারা মনে হয়, তাদের আচরণের কথা শুনলে হাসি পাবেই। যদিও জানি, ব্যাপারগুলো মোটেই হাসির নয়। এক রকম দুঃখের আর কষ্টের ব্যাপার সেগুলো। কেননা, ও সব ইতর খেলা ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু আর একটা কথা অনেক সময়েই আমার মনে হয়েছে। হাসি আর যাই করি, লীনার মধ্যে অন্য মেয়েদের সর্বনাশের বীজ লুকিয়ে আছে। একটু ভালমানুষ মেয়ে, একটু অল্পবয়সের মেয়ে, যার তেমন কোনও অভিজ্ঞতা নেই, সে যদি লীনার সঙ্গে মেশে, লীনার কথা শোনে, তা হলে ফাঁদে পড়ে যেতে পারে। শরীরের ফাঁদ, সুখের ফাঁদ, রক্তের ফাঁদ যাকে বলে। লীনার সে ক্ষমতা আছে। যারা জানে না, লীনার কথা শুনলে, তাদের রক্তের মধ্যে…।

    দরজায় খটখট শব্দ হল যেন। আমি বন্ধ দরজার দিকে এক বার ফিরে তাকালাম। প্রায় এক মিনিট কেটে গেল। আর কোনও শব্দ হচ্ছে না। বোধ হয় ভুল শুনেছি।…যাই হোক, আমি বলতে চাই, লীনারও শরীর সম্পর্কে কোনও শুচিবায়ুতা নেই, কিন্তু ওর শরীরটা হল একটা নর্দমা। একেই বোধ হয় নিমফোমানিয়াক না কী বলে, তাই। তা না হলে লীনা এ কথা বলতে পারত না, জানিস, একদিন রাত্রে আর থাকতে পারলাম না। রাত্রি দশটার সময় স্বপনের বাড়ি চলে গেলাম। গিয়ে শুনলাম, স্বপন বাড়ি নেই। তখন আমার মাথার ঠিক নেই। একজন কারোকে চাই। শঙ্করের বাড়ি গিয়ে হানা দিলাম…।

    আমি আর শুনতে পারছিলাম না। বলেছিলাম, তোর উচিত ছিল উন্মাদ আশ্রমে যাওয়া। সেখানে জলবিছুটি দিয়ে চাবকালেই তুই ঠিক হয়ে যেতিস, রোগ সেরে যেত।

    লীনা খিলখিল করে হেসেছিল। ওর হাসিটাও আমার স্বাভাবিক মনে হয় না। আসলে লীনা অসুস্থ…খট খট খট। দরজায় শব্দ। এ বার স্পষ্ট।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাকালের রথের ঘোড়া – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অশ্লীল – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }