Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানুষ শক্তির উৎস – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. এম. এ পাশ করে বেকার

    ১১.

    এম. এ পাশ করে আমিও বেকার হয়ে গেলাম। কিন্তু আমার বেকারি আর সজলের বেকারিতে অনেক তফাত। সজলের মুখ সবসময়ই বিষণ্ণ। গান করা ভুলে গিয়েছে। কিন্তু পড়াশোনা করছে খুব। জীবনে যা পড়েনি, তাই পড়ছে।

    ইতিমধ্যে কয়েকটি বছর কেটে গিয়েছে। মামা মাসের অধিকাংশ সময় দিল্লিতে থাকেন। রমুদাও প্রায়ই দিল্লি যায়। সেখানে, দিল্লির শহরতলিতে নতুন কারখানা তৈরি হচ্ছে। দিল্লিতে আলাদা বাড়ি ভাড়া করা হয়েছে, নতুন গাড়ি কেনা হয়েছে। মামিমাও দিল্লিতে কয়েক বার ঘুরে এসেছেন। আমি এক বারও যাইনি। কলকাতার কারখানা যেমন ছিল, তেমনি পড়ে আছে।

    হরিশদার কথাই সত্যি। আগের সম্মিলিত মন্ত্রিসভা ভেঙে গিয়েছিল। আবার হয়েছিল, আবারও ভেঙে গিয়েছে। আবার নির্বাচন আসন্ন। হরিশদা, সুবীর এঁরা সকলেই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছেন। সজলকে বাইরে থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু ওর সঙ্গে যোগাযোগ আছে। ওকে অবিশ্যি খুব সাবধানে থাকতে হয়। যে কোনও মুহূর্তেই অ্যারেস্ট হতে পারে। জানাজানি হলে, খুনও হতে পারে। খুন এখন রাজনীতির এক মুখ্য অঙ্গ। বহু ছেলে জেলে পচছে। নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি, তার সঙ্গে পুলিশের খুন করা, এবং পুলিশও খুন হচ্ছে।

    এক বছর আগে সজল আমাকে প্রথম সুবীরকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল। বলেছিল, চলো, একজন সব্যসাচীর সঙ্গে তোমাকে দেখা করিয়ে দিই। আগে নাম বলেনি, জায়গাও বলেনি৷ অবিশ্যি আমাকে নিয়ে যাবার অনুমতি ছিল বলেই নিয়ে গিয়েছিল। সত্যি, সব্যসাচীকেই দেখেছিলাম। অজ্ঞাতবাসী অর্জুন, কিন্তু দু চোখে তার আগুনের ঝিলিক। দৃঢ়বদ্ধ দুই ঠোঁটে কঠিন প্রতিজ্ঞা, প্রশস্ত কপাল যেন বিদ্যুতের চিকুর হানা। সমস্ত মূর্তিটাই যেন আগুনের মতো লকলক করছে। সেই আগুনের তাপ যেন আমার গায়ে লাগছে, মনে লাগছে। অথচ সুবীরের চোখের কোল বসা, গালে চিবুকে কয়েকদিনের দাড়ি।

    আমি তাকিয়েছিলাম দেখে, খাপ থেকে খোলা ছুরির ঝিলিকের মতো হেসে বলেছিল, আমি কিন্তু ক্লাউন নই যমুনা।

    আমি চমকে উঠে বলেছিলাম, আমি তা মোটেই ভাবিনি৷ কত দিন যে আপনাকে দেখবার ইচ্ছে ছিল।

    সুবীর বলেছিল, আমাকে দেখে কী হবে! তুমি কিছু করে দেখাও। তুমি কী হতে চাও, তাত্ত্বিক না যোদ্ধা? আমাদের এখন যোদ্ধার দরকারই বেশি। মারের বদলা মার না, বহুকালের মার খেয়ে, এখন কেবল মার। প্রতিদিন নতুন নতুন শত্রু গজাচ্ছে, সবাইকেই মার। পারবে?

    সুবীরের কথা শুনে মনে হয়েছিল, পারব। কিন্তু থমকে গিয়ে বলেছিলাম, ভেবে দেখিনি কখনও।

    সুবীর বলেছিল, ভাববার সময় এসেছে। সূর্য এখন আমাদের রক্তেই লাল, আমাদের তেজেই প্রখর।

    সজল বলেছিল, তেজের কথা বলব না, কিন্তু আরও অনেকের রক্তেই লাল নয় কি?

    সুবীর প্রায় চাপা গর্জনের স্বরে বলে উঠেছিল, না। পাপের রক্তে আর পুণ্যের রক্তে তফাত আছে। আমাদের রক্ত পুণ্যের। সজল অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সুবীরের কথাগুলো আমার মনের মধ্যে জ্বলজ্বল করে উঠেছিল। তুলনায় সজলকে আমার কেমন যেন নিষ্প্রভ মনে হয়েছিল। ফিরে আসবার সময় সুবীর আমাকে বলেছিল, রমু সজল এরা আমার বন্ধু, ওদের তুমি তুমি করে বলল, আমাকেও বোলো। আর এখানে আসবার সময়, তোমার শ্রেণীশত্ৰু মামার গাড়ি চেপে, বড়লোকের মেয়ে হয়ে এসো, কেউ কিছু সন্দেহ করবে না।’সজলকে বলেছিল, তুই যেন মাসখানেক ধরে কেমন দোদুল্যমান চরিত্রের মতো কথা বলছিস।

    সজল বলেছিল, তোকে তো বলেছি, মূল নীতিতে আমার কোনও অবিশ্বাস নেই। পদ্ধতিটা ঠিক কি না, মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়।

    সুবীর বলেছিল, সন্দেহ জিনিসটা বিষের মতো। শহরের সংগ্রামের পদ্ধতি আমরা ঠিকই নিয়েছি। সন্দেহটা ঝেড়ে ফেলিস। আমরা যে সার্থক, তা দেশের চেহারা দেখে কি কিছুই বোঝা যায় না! এভাবেই আমরা সমস্ত কিছু, ধাপে ধাপে কোলাপস করে দেব।

    আমি স্পষ্টই দেখেছিলাম, সজলের চোখে দ্বিধা, পুরোপুরি বিশ্বাসের ছাপ নেই।

    ফেরার পথে সজল নিশূপ আচ্ছন্নের মতো ছিল। আমি কেবল সুবীরের কথাই ভেবেছিলাম। আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে, যাবার সময় সজল জিজ্ঞেস করেছিল, কেমন দেখলে সুবীরকে।

    আমি এক কথায় বলেছিলাম, আগুন! তারপরে বলেছিলাম, সুবীর আমার মনে গেঁথে গেছে। সজল বলেছিল, অসম্ভব ক্ষমতা আছে ওর।

    .

    তারপরেও আমি অনেক বার সুবীরের ওখানে গিয়েছি। আমাকে যেন কেউ ঠেলে নিয়ে যেত। কখনও একলা, কখনও সজলের সঙ্গে। অনেকক্ষণ ধরে সুবীরের কথা শুনেছি। সজলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, আমি সুবীরের কথাই বারে বারে বলেছি। জানতাম না, আর একজনকে কোথায় ঠেলে দিচ্ছি। কোন অন্ধকারে। সুবীরের ওখানে অদ্ভুত অদ্ভুত ছেলেকে দেখেছি, যারা আমার সঙ্গে বিশেষ কথা বলত না। সুবীর তাদের যা নির্দেশ দেয়, তারা তা-ই করে। সুবীরকে যেন ক্রমেই, খাঁচায় বন্দি বাঘের মতো অস্থির মনে হচ্ছিল। চারদিক থেকে সব বিচ্ছিন্ন হয়ে, এক-একটা জায়গায় আবদ্ধ হওয়ার মতো অবস্থা দেখা যাচ্ছিল। হরিশদার ছেলে হিরণ, আঠারো-উনিশ বছরের ছেলে। কলেজ ছেড়ে পার্টির কাজে চলে এসেছে। হরিশদা বলেছেন, ওর যদি ইচ্ছা হয়ে থাকে, করুক। হিরণ সুবীরের সঙ্গেই থাকে। ওর হাতে আমি সবসময়েই কোনও না কোনও অস্ত্র দেখেছি।

    সুবীরের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকে, সজল প্রায়ই আমাকে চিঠি লিখত। এই যে সেই সব চিঠি, আমার টেবিলে ছড়ানো। ওর মধ্যে ভাবান্তর এবং পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল। পার্টি বা মূলনীতি বিষয়ে বোধ হয় নিরুৎসাহ ছিল না, পদ্ধতির বিষয়ে ওর সন্দেহ যেন স্থির বিশ্বাসে পৌঁছেছিল। এক দিন সুবীরকে বলেছিল, আমরা খুব ছোটখাটো চ্যালেঞ্জের মধ্যে জড়িয়ে পড়ছি বলে মনে হচ্ছে। তাতে কি মনে হয় না, আমরা আমাদের নীতি আর আদর্শের ইমেজ নষ্ট করছি?

    সুবীর বলেছিল, সংগ্রাম থাকলেই চ্যালেঞ্জ থাকবে। বৃহত্তর চ্যালেঞ্জের সময় এলেই তা করা হবে। আপাতত এমনকী, আমাদের কেউ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও তার কাজ করতে পারে।

    এক দিন হিরণ বলেছিল, সজলদা আমাদের সাধারণ খুনির মতো মনে করেন!’ সজল বলেছিল, কথা তৈরি কোরো না হিরণ। কিন্তু অনেক অশুভ হাতের সঙ্গে কি আমাদের হাত মিলিয়ে খেলো করা। হচ্ছে না?

    সুবীর জ্বলন্ত চোখে, সজলের দিকে তাকিয়ে বলেছিল, কাকে তুমি অশুভ হাত বলো?

    সজল শান্তভাবেই বলেছিল, যা সমাজের পক্ষে, প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে অশুভ, তাকেই আমি অশুভ বলছি। যারা আমাদের সংগ্রামের সুযোগ নিয়ে, নিজেদের স্বার্থে রক্তপাত করছে, অত্যন্ত নিচু স্তরের খুনি, গুণ্ডা, বদমাইশ, ওয়াগন ব্রেকার্স, ছিনতাই পার্টি, এক কথায় স্যোকন্ড মস্তান, আর যে দক্ষিণপন্থীরা ক্ষমতায় আসার জন্য সবরকম সর্বনাশের রাস্তা ধরেছে, তারা আমাদের ছায়ায় নিজেদের। আড়াল করছে। তাতে দিনের পর দিন আমাদের ইমেজের ক্ষতি হচ্ছে।

    সুবীরের চোখ বাঘের মতোই জ্বলছিল, কিন্তু সজলের কথা শুনে সে আগুনের ঝিলিকে বিদ্রূপ করে হেসে উঠেছিল; বলেছিল, সজলবাবু, আপনার যদি বৈপ্লবিক শিক্ষা থাকত, তা হলে এ ভয়টা আপনি পেতেন না।

    পরমুহূর্তেই তার হাসি মিলিয়ে গিয়ে, মুখ শক্ত হয়ে উঠেছিল, বলেছিল, তুমি যাদের গুণ্ডা মস্তান বলছ, আমাদের ভাষায় তারা হল লুম্পেন প্রলেটারিয়েট। তাদের বাদ দিয়ে আমাদের চলবে না। তাদের অশুভ হাতকে শুভ করে তোলার দায়িত্ব আমাদের। তাদের অস্ত্র আর ঘৃণাকে লেলিয়ে দিতে হবে। আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে, ভবিষ্যতে তারাই হয়ে উঠবে আমাদের পার্টির এক একটি হিরার টুকরো, বুঝেছ?

    আমার মনে হয়েছিল, সুবীরের প্রতিটি কথা, নিচ্ছিদ্র যুক্তি দিয়ে ঠাসা। বুঝি বা না বুঝি, তার বলার মধ্যে এমন একটা প্রত্যয় আর দৃঢ়তা ছিল, তার জ্বলন্ত মুখকে এমন অগ্নিশুদ্ধ মনে হয়েছিল, আমার ভিতরটাই যেন দপদপ করছিল। কিন্তু আশ্চর্য, সজল যেন কেবল আগুনে জল ঢালতেই চাইছিল। ও উত্তেজিত হয় না, রেগে ওঠে না, ওর স্বরের মধ্যে গর্জন বেজে ওঠে না। ও শান্তভাবে একটু হেসে বলেছিল, সংশোধনবাদী আর দক্ষিণপন্থী অনুচরদেরও লুম্পেন প্রোলেটারিয়েট বলতে হবে? কোনও ফরমুলাই চিরদিন কার্যকরী হয় না। দেশ আর কালচারের মধ্যে, তার অনেক অদলবদল হয়ে যায়।

    সুবীর ছুরি ছুঁড়ে মারার মতো জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার নতুন ফরমুলাটা কী, শুনি?

    সজল বলেছিল, নতুন ফরমুলা দেবার মতো ভবিষ্যৎ-দৃষ্টি আমার নেই। তবে একটা কথা নিশ্চিত জানি, পঞ্চাশ-ষাট বছর আগের লেখা বইয়ে যাদের লুম্পেন প্রোলেটারিয়েট বলে উল্লেখ করা হত, তাদের সঙ্গে আমাদের দেশের মস্তান খুনিদের কোনও মিল নেই। আমার মতে, এরা আসলে ক্ষমতাশালী পার্টিগুলোর এজেন্ট, যারা জনসাধারণের মনে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে, আর পার্লামেন্টারি মতবাদে বিশ্বাসী, বুর্জোয়া, আধবুর্জোয়া দলগুলো তার সুযোগ নেয়। নিচ্ছে, নেবে। লুম্পেন প্রোলেটারিয়েট এরা কখনওই নয়। কাঁচকে হিরার টুকরো ভাবা হচ্ছে।

    সুবীর আবার বিদ্রুপে ঠোঁট বাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার মতে লুম্পেন প্রোলেটারিয়েট কারা? নয়া লেনিনের মুখ থেকেই সেটা শুনি?

    হিরণ হেসে উঠে বলেছিল, নয়া লেনিন!

    সজলও হেসেছিল, বিষণ্ণ শান্ত হাসি, বলেছিল, লেনিনিজমকে বিকৃত করা আমার কাজ না, যা করছে আজকের নয়া লেনিনরা। তা ছাড়া সত্যি বলতে কী, লেনিন তাঁর সময়ে যা বলে গেছলেন, সেই তুলনায় পৃথিবীর অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। লেনিনিজমকে কাজে লাগাতে হলে, আজকের ভারতবর্ষের অবস্থার সঙ্গে, উপযুক্ত ভাবে তাকে প্রয়োগ করার প্রশ্ন আছে। যে সব দেশে বিপ্লব হয়েছে, সে সব দেশের বিশেষ কোনও ফরমুলাই যে আমাদেরও কাজে লাগবে বা লাগাতে হবে, আমি তা বিশ্বাস করি না। আমাদের অবস্থা বুঝে উপায় উদ্ভাবন করতে হবে।

    সুবীর তীক্ষ্ণস্বরে জিজ্ঞেস করেছিল, আমরা কি অবস্থা বুঝে, ঠিক নীতি আর কৌশল নিয়ে চলছি না?

    সজল শান্ত মুখে চুপ করে ছিল। সুবীর ঝাঁজালো স্বরে জবাব দাবি করে বলেছিল, কথা বলো সজল, এভাবে চুপ করে থাকলে চলবে না। আমরা একই পার্টিতে আছি, অথচ আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকবে, তা চলতে পারে না।

    সজল জিজ্ঞেস করেছিল, থাকলে?

    সুবীর দৃঢ়স্বরে বলেছিল, মতভেদ থাকলে তোমাকে পার্টি ছাড়তে হবে।

    সজল আবার জিজ্ঞেস করেছিল, সেই মতভেদ যদি নীতি আর কৌশলের দিক থেকে সত্যি আর ঠিক হয়, তবু আমাকে পার্টি ছাড়তে হবে?

    সুবীর সজলের সেই বিষণ্ণ গাম্ভীর্যের মধ্যে, শান্তভাবে কথা বলা সহ্য করতে পারছিল না। আমিও পারছিলাম না। সজলকে আমার যেন প্রাণহীন মনে হচ্ছিল। হতাশ, বিষণ্ণ, অথচ ও ওর বক্তব্য থেকে সরছিল না, নিজেকে সমর্পণও করছিল না, নতি স্বীকারের কোনও লক্ষণই ছিল না। সুবীরের অসহিষ্ণুতা তাই আমার কাছে উপযুক্ত মনে হয়েছিল। সুবীর যেন জ্বলে উঠে বলেছিল, তোমার কোনও ফরমুলা নেই। আমরা ব্যক্তিগতভাবে কোনও পদ্ধতি স্থির করে কাজ করি না, মনে রেখো, আমাদের একটা পার্টি আছে, আর পার্টি যাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে নীতি আর কৌশল স্থির হয়েছে, আমরা সেই নীতি আর কৌশল নিয়ে চলেছি। এক্ষেত্রে মতভেদ থাকলে, তোমাকেই পার্টি থেকে বের করে দেওয়া হবে।

    হিরণ বলে উঠেছিল, পার্টি থেকে বের করে দেবার কোনও নিয়ম আমাদের নেই।

    হিরণের চোখে আমি হিংস্রতা দেখেছিলাম। আমি জানতাম, পার্টি থেকে বের করে দেবার কোনও নিয়ম নেই, শ্রেণীশত্রু রূপে তার অস্তিত্বকে বিলোপ করাই পার্টির নীতি। সুবীর হিরণের কথার কোনও প্রতিবাদ করেনি। জানি না, বুঝতে পারিনি, হিরণের চোখের হিংস্রতা দেখে কি আমার বুকের মধ্যে এক বার কেঁপে উঠেছিল? আমি কেবলই চাইছিলাম, সজল তর্ক বন্ধ করুক, সুবীরের কাছে নতি স্বীকার করুক। পার্টির নীতি ও কৌশলের কথা আমার মনে হয়নি, আমি সুবীর ছাড়া কিছুই বুঝিনি, সেইজন্য নতি স্বীকার বলতে, সুবীরের কাছে নতি স্বীকারই বুঝেছিলাম।

    সজল একভাবেই বলেছিল, মতভেদের কথা আমি বাইরের লোকের সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছি না, আমি আলোচনা করছি পার্টির মধ্যেই। পার্টির মধ্যে পার্টির নীতির সমালোচনা কি অপরাধ যে পার্টি থেকে বের করে দেওয়া হবে?

    সুবীর দৃঢ় তীব্র স্বরে বলেছিল, না, পার্টির কোনও সমালোচনাই সহ্য করা হবে না। ১৬০

    সজল বলেছিল, একে তো আমি ব্যুরোক্রাসি বলেই জানি। আর তার পরিণতি কী, আমি তাও জানি।

    সুবীর যেন হঠাৎ শান্ত হয়ে গিয়েছিল, বরফের মতো জমাট আর শীতল; বলেছিল, সজল, তুমি বড় বেশি জেনে ফেলেছ।

    সজল বলেছিল, আর জানাটা খুব ভাল লক্ষণ না, সে অভিজ্ঞতা তথাকথিত বিপ্লবী দেশগুলো থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতা জিনিসটা বড় মারাত্মক অবসেশনের মতো, তারা মনে করে, তারা যা বলছে, সেটাই শেষ কথা, অথচ তত্ত্ব দিয়ে তা প্রমাণ হয় না, অতএব ক্ষমতা প্রয়োগই শেষ কথা। আচ্ছা সুবীর, তুমি কি মনে কর না, মানুষই সব থেকে বড় শক্তির উৎস, একমাত্র উৎস?’

    সুবীর বাঘের মতো গর্জন করে উঠেছিল, কোন মানুষ? যারা কৃষক মজুরদের শোষণ করে, তারা? তাদের প্রতিনিধিরা, পাহারাদারেরা, চ্যালাচামুণ্ডারা? শুধু কথার জন্যই, ভেগ কোনও কিছু বলা চলবে না সজল।

    সজল বলেছিল, ভেগ আমি কিছুই বলছি না। সেই সব মানুষদের কথা হচ্ছে, জীবিকার খাতিরে। ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্রতম যে সব কোটি কোটি মানুষ আছে, তারা কি আমাদের শত্রু?

    সুবীর দৃঢ় স্বরে বলেছিল, তারা যদি আমাদের সঙ্গে না আসতে চায়, তবে শত্রু।

    সজল শান্তভাবে জিজ্ঞেস করেছিল, আমাদের সঙ্গে তাদের আসবার উপায়?

    সংগ্রামের সঙ্গে সামিল হওয়া। সুবীর বলেছিল, আমরা সংগ্রামের যে পদ্ধতিতে চলেছি, তাতেই তারা আমাদের সঙ্গে আসবে, নিজেদের প্রয়োজনে। যাদের না আসবার, তারা আসবে না।

    সজল আবার জিজ্ঞেস করেছিল, আমরা যে পদ্ধতিতে চলেছি, তাতে কি তারা আমাদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবে?

    সুবীর আবার দীপ্ত আর প্রোজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল; বলেছিল, আসবে, আসতে হবে। ইতিমধ্যেই কি তার প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি? শ্রেণীশত্রুদের আমরা ভীত আর সন্ত্রস্ত করে তুলেছি।

    আমাকে পর্যন্ত অবাক করে দিয়ে সজল হো হো করে হেসে উঠেছিল, কিন্তু সে হাসির মধ্যে, পুরনো সজলের প্রাণবন্ত সুর ছিল না। ছিল বিদ্রূপ আর একটা অস্বাভাবিক উন্মাদনার ভাব, অগভীর হালকা যাকে বলে, যা ওর শান্ত বিষণ্ণতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

    হিরণ বলে উঠেছিল, সজলদা যাত্রার অভিনয় করছেন!

    সজলের হাসিটা আমারও ভাল লাগেনি। আলোচনার বিষয় এবং পরিবেশের সঙ্গে বেখাপ্পা কেবল না, গুরুত্বকে হাস্যকর করে তোলার অভিসন্ধি মনে হয়েছিল। সুবীর ওর দিকে তাকিয়েছিল তীক্ষ্ণ প্রজ্জ্বলিত চোখে।

    সজল হাসি একেবারে না থামিয়ে, প্রায় হাসতে হাসতেই বলেছিল, কাদের সন্ত্রস্ত করে তুলেছ? ক্লাস এনিমিদের? পশ্চিমবাংলার দিকে–মানে কলকাতার দিকে তাকিয়ে তোমার কি তা-ই মনে হচ্ছে?

    সুবীর যেন কেমন জ্বলন্ত অঙ্গারের রূপ ধারণ করছিল, লেলিহান শিখার মতো অস্থিরতা দেখা যাচ্ছিল না। বলেছিল, কিছু না জিজ্ঞেস করে তোমার মতামতটাই বলো।

    যেখানে কোনও সমালোচনাই সহ্য করা হবে না বলা হচ্ছে, সেখানে মতামত ব্যক্ত করাও অন্যায়। সজল বলেছিল, তথাপি না বলে পারছি না। রিয়্যাল ক্লাস এনিমিদের আমরা যেমন একটু গায়ে হাতও দিতে পারিনি, তেমনি তাদের সন্ত্রস্তও করতে পারিনি। আমরা দক্ষিণপন্থীদের পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছি, অবিশ্যিই না জেনে, পরোক্ষে, আর বামপন্থী সংশোধনবাদী পার্টিগুলোকে আমাদের সমালোচনার সুযোগ দিচ্ছি, কেননা, ওদের দক্ষিণপন্থী সংশোধনবাদের বিপরীত আমরাও বামপন্থী সংশোধনবাদের পথে চলেছি। কিছু ইনডিভিজুয়াল ছাড়া, জনতার কোনও অংশই আমাদের সঙ্গে নেই।

    এই পর্যন্ত বলেই, সজল কী মনে করে হঠাৎ থেমে গিয়েছিল এবং এক পলক চুপ করে থেকে আবার বলেছিল, অবিশ্যি আমার এ সব বলার কোনও মানে হচ্ছে না। তুমি আগেই বলেছ, যারাই তোমার সঙ্গে আসতে না চাইবে, তারাই শত্রু। অতএব, তোমার রাস্তা তো খোলা, চালিয়ে যাও।

    চালিয়ে যাও, মানে কী?’ সুবীর যেন চাপা গর্জনের স্বরে জিজ্ঞেস করেছিল, আর তোমার সঙ্গে মানেই বা কী? আমি কি একলা নাকি?

    সজল বলেছিল, চালিয়ে যাও বলতে বলছি, যা করছ, তোমার নীতি অনুযায়ীই যখন করছ, করে যাও। তোমার বলতে আমি তোমাদের কয়েকজনের কথা বলছি। তা ছাড়া, তুমি নিজেই বলেছ, পার্টি এরকম নীতির কথা বলেছে, আপাতত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও, কেউ অ্যাকশন নিতে পারে। তার মানে, প্রত্যেকেই একটা পার্টি।

    বুঝেছি, এখন সবটাই তুমি বিকৃত করে দেখাচ্ছ। সুবীর বলেছিল, আর এটা কাদের পদ্ধতি, তাও আমরা জানি।

    সুবীরের চোখের দুই জ্বলন্ত অঙ্গারের দিকে তাকিয়ে, আমি যেন ভিতরে ভিতরে আবার কেঁপে উঠেছিলাম। মনে হয়েছিল, তৎক্ষণাৎ একটা ভয়ংকর কিছু ঘটে যেতে পারে। হিরণ যেন একটা হিংস্র প্রত্যাশা নিয়ে সুবীরের দিকে তাকিয়েছিল। আশা করেছিলাম, অতঃপর সজল নিজেকে গুটিয়ে নেবে। নেয়নি। এক বার হেসে উঠলেও, ও আবার আগের মতো শান্তভাবে বলেছিল, আর তোমার জানা মানেই শেষ জানা।

    বলে সজল নিঃশব্দে হেসেছিল। সুবীরও হেসেছিল, অঙ্গারের গায়ে খোঁচা লাগার মতো, বলেছিল, আমি আরও কিছু শেষ জানি। তোমার এখন দরকার কোনও এঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে একটা ভাল চাকরি, আর সুন্দরী স্বাস্থ্যবতী একটি বউ।

    সুবীরের দৃষ্টি পলকে আমাকে এক বার ছুঁয়ে গিয়েছিল। জানি না, আমার মুখে রক্ত ছুটে এসেছিল কি না, একটা তপ্ত ঝলক অনুভব করেছিলাম। আমি ঘাড় ফিরিয়ে সজলের দিকে তাকিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, সুবীরের কথার ও প্রতিবাদ করবে। সুবীরের কথায় স্পষ্টতই আমার প্রতিও ইঙ্গিত ছিল।

    সজল হেসে বলেছিল, ক্লাস এনিমির সঠিক ভূমিকা হয়তো সেটাই, কিন্তু আমার পোড়াকপালে তা আর ঘটছে কই!

    সজলের ও রকম কথা আমি আশা করিনি। ভেবেছিলাম, সে তীব্রভাবে, তার জীবন উৎসর্গের কথাই ঘোষণা করবে। সে যে সুবীরের থেকে কোনও অংশে কম সংগ্রামী না, এ কথাই সে জোর গলায় বলবে। কিন্তু সজলের কথায়, দশজন সাধারণ বেকার যুবকের কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছিল, যা শুনে আমি কুপিত হয়েছিলাম, রুষ্ট হয়েছিলাম, ওর ভাবী স্ত্রী হিসাবে নিজেকে হীন মনে হয়েছিল। আমি আর বসে থাকতে পারছিলাম না। বিশেষ কারোকে উদ্দেশ না করে শুধু বলেছিলাম, আমি যাচ্ছি।

    বলেই বেরিয়ে গিয়েছিলাম, পিছনে সজলের গলার স্বর শুনতে পেয়েছিলাম, দাঁড়াও, আমিও যাচ্ছি।’

    ফেরার পথে, সজলের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাকালের রথের ঘোড়া – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অশ্লীল – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }