Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানুষ শক্তির উৎস – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. মুখে হাত চাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে

    ০৩.

    কতক্ষণ এই একভাবে মুখে হাত চাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম জানি না। জুতোর শব্দ পেয়ে, মুখ থেকে তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে, আঁচল দিয়ে চোখ মুছলাম। ডাক শুনতে পেলাম, যমুনা!

    সামনে চেয়ে দেখলাম রমুদা। ওর চোখে মুখে একটা উদ্বেগের ছাপ। আমার খুব কাছে এসে বলল, কী হয়েছে রে?

    বললাম, কিছু হয়নি৷

    রমু আমার মুখের দিকে তবু একটু সময় তাকিয়ে রইল। জিজ্ঞেস করল, কেন এসেছিল ও? কী বলতে এসেছিল তোকে?

    এমন কিছু না। এমনি কয়েকটা কথা বলতে এসেছিল।

    তুই কাঁদছিলি কেন?

    এমনি।

    ও কি তোকে কোনও ভয় দেখাতে এসেছিল?

    আমি তাড়াতাড়ি বললাম, না না, ভয় আবার কী দেখাবে।

    রমুদা বলল, ওদের কথা কিছু বলা যায় না। যাবার সময় আমার সঙ্গে একটা কথা বলল না। এক বার তাকাল না পর্যন্ত। এরা কী? কী ভাবে, কীভাবে চলে!

    রমুদার এ সব কথার জবাব আমি কিছু জানি না। শুধু এটুকু অনুমান করতে পারি, সুবীর রমুদার কথা একদম ভুলেই গিয়েছিল। সে যে আছে, সেটাই বোধ হয় ওর মনে ছিল না।

    রমু আবার বলল, সুবীর যতক্ষণ ঘরের মধ্যে ছিল, ততক্ষণ একটা ছেলে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। এমন একটা লম্বা জামা গায়ে দিয়ে এসেছে, দেখে বোঝবার উপায় নেই, ভেতরে কিছু লুকিয়ে রেখেছে কি না।

    আমি জানি, সুবীরের পক্ষে একলা কোথাও যাওয়া সম্ভব না। যে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, সে সুবীরকে পাহারা দেবার জন্যই দাঁড়িয়ে ছিল। হয়তো তার কাছে কোনও অস্ত্র ছিল। হয়তো কেন, নিশ্চয়ই ছিল। সেটাই স্বাভাবিক। আমি বললাম, তোর বোধ হয় খাওয়া হয়নি রমুদা। তুই খেতে যা।

    যাব যাব, আগে বলে নিই, শোন না।

    রমুদার মধ্যে এখনও বেশ উত্তেজনার ভাব রয়েছে। অনেকক্ষণ ধরেই ওর একটা উত্তেজনার মধ্যে কেটেছে। বলল, অনেক দিন বাদে আমি ওকে দেখলাম। চেহারাটা যেন একদম বদলে গেছে। চেনাই যায় না। সুবীর তো দারুণ দেখতে ছিল! ভেরি হ্যান্ডসাম আর স্মার্ট, আর ও তো বেশ বড়লোকের ছেলে, গাড়িতে আসত, বন্ধুদের খুব খাওয়াত, দারুণ গ্ল্যামার…যাক গে, সে কথা বলছি না। এখন একদম চেনাই যায় না।

    রমুদা বলে যাচ্ছে, আমি শুনে যাচ্ছি। অনেক বার শোনা কথা। আমার কানে যাচ্ছে, কিন্তু মনের মধ্যে ঢুকছে না। কিন্তু রমুদা অন্য প্রসঙ্গে এল। বলল, আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেছলাম, জানিস যমুনা। ট্রাম-রাস্তাটা পেরিয়ে, আমাদের পাড়ার রাস্তায় ঢুকেছি। হঠাৎ দেখি একটা লোক যেন হাওয়া থেকে বেরিয়ে এল, এসে আমার পাশে পাশে চলতে লাগল। আমার কেমন অস্বস্তি লাগল। আজকাল এমন দিনকাল হয়েছে, দিনেই হোক আর রাত্রেই হোক, একলা চলতে গিয়ে হঠাৎ পাশে অচেনা কেউ এসে দাঁড়ালে, কেমন ভয় ভয় লাগে। আমি লোকটার দিকে তাকালাম। সেও আমার দিকে তাকাল। মনে হল। যেন হাসল। তারপরেই শুনতে পেলাম, কী রে রমেন, চিনতে পারছিস? দেখিস যেন আমার নামটা উচ্চারণ করিস না। গলার স্বর শুনেই আমি চিনতে পারলাম, আর অমনি থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম। সত্যি বলছি, আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। দেখলাম, সুবীরের একটা হাত ওর প্যান্টের পকেটে। সুবীর তা হলে আমাকে…ভাবতেই, কোনও দিকে ছুট দেব কি না ভাবলাম। তখনই ও ঠিক হুকুমের মতো বলে উঠল, দাঁড়াস না, চলতে থাক।আমি চলতে থাকলাম। সুবীর যেন আমার গা ঘেঁষে চলতে লাগল। আমি বলেই ফেললাম, তুই কি আমাকে? ও সে কথায় কান দিল না। বলল, যাক, তোকে পেয়ে ভালই হল। তোদের বাড়িতেই আমি যাচ্ছি।তাতে আমার ভয় একটুও কমল না। একটা ভয়ংকর কিছু করার জন্যই নিশ্চয় সুবীর যাচ্ছে। প্রথমে দীপুর কথা আমার মনে হল। দীপু সুবীরদের বিরুদ্ধে প্রায়ই কথা বলে। তারপরে বাবার কথা মনে হল, বাবাই হয়তো ওদের টারগেট। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমাদের বাড়িতে কেন? বলল, যমুনার সঙ্গে এক বার দেখা করব। তৎক্ষণাৎ সজলের কথা আমার মনে পড়ল, ভাবলাম, তা হলে তুই ওদের টারগেট। জানি না, তোরা কী করছিস, কী তোদের ব্যাপার, আমার কেবল এই কথা মনে হল, ওরা তোকে শেষ করতে আসছে। আমি বললাম, যমুনা তো বোধ হয় বাড়ি নেই, ও বিকেলেই বেরিয়ে গেছে। সুবীর বলল, বেরিয়েছিল, এখন বাড়িতেই আছে। তার মানে তুই কখন বেরিয়েছিলি, কখন ফিরেছিস, সব খবরই ওর জানা। তোকে কী দরকার, সে কথা জিজ্ঞেস করতে পারলাম না। আমি এক বার সুবীরের মুখের দিকে তাকালাম। ও রাস্তার সামনের দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, ড্রিংক করেছিস? জিজ্ঞাসার ভঙ্গিটা এমন, আমি ঘাবড়ে গেলাম। নিশ্চয় গন্ধ পেয়েছে। বললাম, হ্যাঁ, ওই একটু–এক বন্ধুর বাড়ি গেছলাম। আমার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করল, ও আজকাল খায়-টায় কিনা। একসময়ে আমরা একসঙ্গে কয়েক বার বিয়র-টিয়র খেয়েছি। কিন্তু জিজ্ঞেস করলাম না। কী জানি আবার কী ভেবে বসবে! ও বোধ হয় আজকাল আর খায় না (কথাটা বলার সময়ে রমুদা আমার দিকে এমনভাবে তাকাল, যেন আমাকে জিজ্ঞেস করছে, আমি জানি কি না। কিন্তু আমি কিছুই জানি না।) তারপরে বাড়িতে ঢোকবার মুখেই দেখি, কোথা থেকে আর একজন চলে এল। তার দিকে আমি ফিরে তাকাতে সুবীর বলল, ও আমার সঙ্গে আছে। রমেন, যমুনা যে ঘরে আছে, তুই আমাকে সে ঘরে নিয়ে চল। বাড়ির লোকজন কেউ যেন জানতে না পারে। তখনও আমার মনে এক চিন্তা, ও তোকে শেষ করতেই এসেছে। একটু সন্দেহও ছিল, একটা মেয়েকে কি ওরা মারবে? সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে আমি জিজ্ঞেস করে ফেললাম, যমুনাকে তোর কী দরকার? সুবীর আমার সে কথার কোনও জবাব দিল না, খালি বলল, যমুনার ঘরে নিয়ে চল। ও আমাকে রীতিমতো হুকুম করছিল, আমাকে আর কিছু বলার দরকার মনে করছিল না। দেখলাম, দোতলায় বাইরে কেউ নেই। দীপুর জন্যই আমার বিশেষ করে ভয় ছিল। তোর ঘরের এ দিকটা অন্ধকার ছিল। আমি সুবীরকে তোর দরজা দেখিয়ে বললাম, যমুনা এ ঘরে থাকে। ও আমাকে বলল, ন কর। ও নিজে কেন নক করল না জানি না, বোধ হয় অন্য কিছু সন্দেহ করছিল, তাই আমিই নক করলাম। তুই দরজা খুলে দিতেই সুবীর ভিতরে ঢুকল, দরজা বন্ধ করে দিল। আমি জানি না, সুবীরের ওটায় সায়লেন্সর লাগানো ছিল কি না। যাই হোক, এখন বুঝতে পারছি, ও তোকে মারতে আসেনি। কিন্তু যতক্ষণ সুবীর বাইরে আসছিল না, ততক্ষণ আমি যেন দম বন্ধ করে ছিলাম। ও কেন এসেছিল, কী বলতে এসেছিল?

    ওহ, রমুদা এত কথা বলতে পারে! উত্তেজনা ওর ভিতরে রয়েছে বুঝতে পারছি, নেশার ঝোঁকটাও বোধ হয় রয়েছে। কিন্তু সুবীর কেন এসেছিল, কী বলেছে, সে কথা রমুদাকে বলবার দরকার নেই। বললাম, এখন কোনও কথা নয়।

    রমুদা বলল, তুই আমার কাছে বলতে চাইছিস না।

    এখন আমার এ সব কথা একটুও ভাল লাগছে না। বললাম, তুই খেতে যা রমুদা, অনেক রাত হয়েছে।

    রমুদার চোখের দিকে তাকিয়ে আমার একটু অবাক লাগল। ওর চোখ দুটো যেন এখন বেশি লাল দেখাচ্ছে। ও আমার চোখে চোখ রেখে, ঠায় তাকিয়ে আছে। ওর চোখে আর মুখে যেন রাগ জ্বলজ্বল করছে, আর দৃষ্টিতে একটা সন্দেহের ভাবও যেন রয়েছে। হঠাৎ রমুদা গলার স্বর নামিয়ে বলে উঠল, জানি, আমি সব জানি যমুনা।

    অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী জানিস?

    রমুদা তর্জনী তুলে, আমার দিকে তাকিয়ে বলল, য়ু আর অলসো রেসপনসেবল।

    মানে?

    মানে, তা-ই। আমাকে সজল বলেছিল।

    বলেই রমুদা দরজার দিকে এগিয়ে গেল। সজলের নাম শোনা মাত্র, আমার গায়ের মধ্যে কেমন করে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে, রমুদার কথা যেন একটা সাংঘাতিক কিছু ইঙ্গিত করল। আমি দরজার কাছে ছুটে গেলাম। রমুদার পথ আটকে দাঁড়িয়ে, ওর চোখের দিকে তাকালাম। মনে হল, ওর চোখে যেন একটা ঘৃণার ভাব। জিজ্ঞেস করলাম, কী বলেছিল, সজল তোমাকে কী বলেছিল?

    রমুদা বলল, সে কথা আর এখন বলে কোনও লাভ নেই।

    সজল বলেছিল রমুদাকে! সজল কী বলেছিল? আর এখনই রমুদা সে কথা বলছে, যখন সুবীর এসে ঘুরে গেল। রমুদার চোখে মুখে রাগ আর ঘৃণা। সজল কী বলেছে রমুদাকে! সজল তো রমুদার সঙ্গে ইদানীং ভাল করে মিশত না, কথা বলত না। রমুদাকে কিছু বলার প্রবৃত্তি তার ছিল বলে মনে হয়নি। এখন রমুদা বলছে, সজল ওকে বলে গিয়েছে। কী বলে গিয়েছে! আমি শক্ত গলায় জিজ্ঞেস করলাম, সজল তোমাকে কী বলে গিয়েছে?

    বললাম তো, সে কথা এখন আর বলে কোনও লাভ নেই।

    আছে। তোমাকে বলতে হবে, সজল কী বলেছিল। তুমি এক বার যখন বলেছ, তখন তোমাকে সবটাই বলতে হবে। আমাকে এ কথাই বা কেন বললে–য়ু আর অলসো রেসপনসেবল।

    রমুদার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, ওর সেই ঘৃণা বা রাগের ভাবটা যেন কমে এসেছে। আমার চোখের দিকে সোজা চোখ তুলে আর তাকাতে পারছে না। কিন্তু সজল কী বলেছে, সে কথা জানবার জন্য আমার ভিতরে যেন দপদপ করছে। আমার মনের অবস্থা অনেকটা মরিয়া হয়ে ওঠার মতো।

    রমুদা বলল, সজল আমাকে একদিন বলছিল, ওর জীবনটা যদি আমার মতো হত, তা হলে নাকি ভাল হত।

    তার মানে কী! তার সঙ্গে তোমার এ সব কথার সম্পর্ক কী!

    সজল আরও বলেছিল, ওর কোনও বন্ধু নেই, ওকে কেউ ভালবাসে না, সমস্ত মিথ্যা। সবাই তুইও ওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিস।

    আমি প্রায় ধমকে উঠলাম, মিথ্যা, মিথ্যা কথা বলছিস তুই রমুদা। তোকে কখনও সজল এ সব কথা বলেনি।

    রমুদার গলায় তেমন জোর নেই, তবু বলল, বলেছে, তুইও শেষপর্যন্ত আর ওর সঙ্গে ছিলি না, তুইও।

    আমি চিৎকার না করেও নিচু স্বরে শাসিয়ে উঠলাম, চুপ, চুপ কর তুই রমুদা। তুই একটা মিথ্যুক। চলে যা আমার সামনে থেকে, তোর পায়ে পড়ি রমুদা, চলে যা। সে কখনও তোকে এ সব কথা বলেনি, তুই আর এ সব কথা আমাকে শোনাসনি।

    রমুদা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখল। আমি দরজার কাছ থেকে সরে দাঁড়ালাম। রমুদার চোখে আবার যেন সেই রাগ আর ঘৃণার ভাবটা ফিরে এল। চোখ থেকে চোখ সরিয়ে, আমার আপাদমস্তক দেখল। তারপরে মুখ ফিরিয়ে বলে উঠল, বেচারি সজল।

    আমার গলা দিয়ে আর্তনাদের মতো বেরিয়ে এল, রমুদা!

    আমাকে মেরে ফেলতে চাইবি। মরতে আমি ভয় পাই সত্যি, কিন্তু আমার মতো ছেলেও একটু-আধটু সত্যি কথা বলতে পারে।

    রমুদা কথাগুলো এমনভাবে বলছে, আমি বাধা দিতে পারছি না। রমুদা এভাবে কথা বলে না। ও যে সজলের বিষয়ে এভাবে বলতে পারে, আমার ধারণা ছিল না। মনে হচ্ছে, ওর রাগ আর ঘৃণার মধ্যে একটা নিশ্চিত কিছু আছে। তবু আমি না বলে পারলাম না, কিন্তু সজলের নাম করে, যে সব কথা তুমি

    রমুদা আমার দিকে ফিরে দাঁড়াল, বলল, আমি সত্যি বলছি, ও আমাকে কয়েক দিন আগে বলেছিল, রমু, মাঝে মাঝে মনে হয়, জীবনটা তোর মতো হলেই বা ক্ষতি কী ছিল।যমুনা, আমি বুঝতে পারিনি, কেন সজল ও কথা বলেছিল। ভেবেছিলাম, ও আমাকে ঠাট্টা করছে। প্রায়ই তো আমাকে ঠাট্টা করে অনেক কথা বলত। আমি বলছি না, তার মধ্যে বিষ ছিল, কিন্তু ঠাট্টা করে প্রায়ই আমাকে ডন জুয়ান বলত, কিংবা, এই যে রমেনবাবু, আজকাল কার সঙ্গে লাভ অ্যাফেয়ার চলছে? কখনও বলত, আজকাল সুধা পান কী রকম চলছে রে রমু? এ রকম অনেক কথাই বলত। ও আমার বন্ধু, একসময়ে আমরা খুবই বন্ধু ছিলাম। ও অবিশ্যি বরাবরই আমার থেকে সব ব্যাপারে সিরিয়াস ছিল। আজকাল তো একেবারেই বদলে গিয়েছিল। এ বাড়িতে ও আমার কাছে বা দীপুর কাছে আর আসত না, তোর কাছেই আসত…।

    রমুদা বলে চলেছে, আমি শুনে যাচ্ছি। শুনতে ভাল লাগছে। সজলের কথা বলছে রমুদা, সজলের নাম বলছে বার বার, আমার শুনতে ভাল লাগছে। আমার মনটা যেন একটা কেমন দোলায় দুলছে। আমি রমুদার মুখের দিকে তাকিয়ে শুনে যাচ্ছি, রমুদা বলে চলেছে, তখন মাঝে মাঝে বাড়িতেই দেখা হয়ে যেত। ইদানীং ও যেন কেমন হয়ে গেছল, অনেক সময় সিঁড়ি দিয়ে ওঠবার সময় আমার পাশ দিয়ে চলে গেলেও, ফিরে তাকিয়ে দেখত না। সেটা যে রাগ করে, তা মনে হত না। কেমন যেন আনমাইন্ডফুল, আর–আর কী বলব, কেমন ডিপ্রেসড মনে হত। তার মধ্যেই যদি হঠাৎ কোনও দিন চোখাচোখি হয়ে যেত, তা হলেই হেসে উঠে হয়তো জিজ্ঞেস করত, এই যে রোমিও, কোথায় অভিসারে চললে? আমিও হয়তো ঠাট্টার ভাবেই জবাব দিয়েছি, যাই কোনও জুলিয়েটের খোঁজে। কিন্তু কয়েক দিন আগে, ওর সঙ্গে নীচের বসবার ঘরে মুখোমুখি দেখা হয়ে গেল। ও আমার দিকে যেন খানিকটা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী রে সজল, কী দেখছিস? বলল, কিছু দেখছি না, ভাবছি। মাঝে মাঝে মনে হয়, জীবনটা তোর মতো হলেই বা ক্ষতি কী ছিল? ও হাসছিল না, সেইরকম একটা আনমাইন্ডফুল ভাব। বললাম, ঠাট্টা করছিস? সজল বলল, না, ঠাট্টা করছি না। জীবন নিয়ে চিন্তার বাড়াবাড়িটা বোধ হয় ভাল না। সহজ হওয়া ভাল। আমি বললাম, আমি ভাই জীবন নিয়ে এত চিন্তা-ভাবনা করতে পারি না। চলে গেলেই হল। সেদিন সজলের মনটা নিশ্চয়ই অন্য রকম ছিল। আমাকে হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা রমু, তুই কি সত্যি কোনও মেয়েকে কখনও ভালবাসিসনি?–আমি একটু অবাক হলাম। জানি, কেন সজল আমাকে ও কথা জিজ্ঞেস করল। আমাকে সবাই যা ভাবে, ও নিশ্চয় তাই ভাবে, আমি একটা ফিলান্ডারার। আমি অবিশ্যি জানি না, আমি সত্যি ফিলান্ডারার কি না। কিন্তু ভাল হয়তো বাসতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে কথা থাক গে, বললাম, সজল, তোরা যাকে ভালবাসা বলিস, আমি বোধ হয় সে ভালবাসা বুঝি না, জানি না। সজল আমার চোখের দিকে চুপ করে তাকিয়ে রইল। ও যে আমাকে দেখছে, তা আমার মনে হল না।

    রমুদা থেমে গেল। আমি নিশ্বাস বন্ধ করে জিজ্ঞেস করলাম, তারপর?

    রমুদা বলল, তারপর ও আর কিছু বলল না।

    আমি যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না, সজল আর কিছু বলেনি। জিজ্ঞেস করলাম, আর কিছু না?

    রমুদা বলল, আর কিছু না। সজল সিঁড়ির দিকে চলে গেল।

    আমার মাথার মধ্যে, অনেকগুলো প্রশ্ন এসে বিধতে লাগল। সজল কেন ও কথা জিজ্ঞেস করেছিল? নিজের ভালবাসা নিয়ে কি ওর মনে কোনও প্রশ্ন জেগেছিল? তাই কি রমুদার মতো ছেলেকে সে ও কথা জিজ্ঞেস করেছিল। আমি বুঝতে পারছি, রমুদা এখন মিথ্যা কথা বলছে না। রমুদার কথা শুনে সজল কী ভেবেছিল? কী মনে করেছিল? তার কাছেও কি ভালবাসার বোধ অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল! তা হলে কি সজলের মনেনা, না, না, তা আমি ভাবতে পারি না। কয়েক দিন আগেও সজল যে চিঠি দিয়েছে, তাতেও লিখেছে-’ভালবাসাই শক্তি এবং সাহস। ভালবাসায় তো কেবল সুখের এবং আনন্দের অনুভূতিই থাকে না। ব্যথা আর চোখের জলে সে মাখামাখি করে থাকে। মানুষের হৃদয়ের ধন বলতে যেগুলোকে বুঝি, ভালবাসা তার মধ্যে এক-একটি মস্ত ধন। আমার সে ধন তো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না, কারোরই পারবে না। বিন্দু, কথাগুলো কি তোমার শোনা শোনা লাগছে? মনে হচ্ছে কি, বহুদিনের পুরনো বাসি কথা বলছি? তা হলে বলব, সত্যি, আমি নতুন কোনও কথা বলছি না। মানুষ যত প্রাচীন, আমার কথাও তাই। বিন্দু, এ কথা তোমাকে ছাড়া আর কাকে বলব!..

    আমার মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। এ কদিন সজলের চিঠিগুলো পড়ে পড়ে, সব কথা আমার মুখস্থ। শেষপর্যন্ত ভালবাসাই ওর মূলধন। দেখলাম, রমুদা চলে যাচ্ছে। আমি তাড়াতাড়ি ডাকলাম, রমুদা, শোন। কিন্তু বাকি যে কথাগুলো বললি, সেগুলো কী?

    রমুদা জিজ্ঞেস করল, কোন কথা?

    আমি বললাম, সজল বলেছে, ওকে কেউ ভালবাসে না, ওর কোনও বন্ধু নেই, সব মিথ্যা, আমরা সবাই ওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলাম!

    রমুদা মাথা নেড়ে বলল, না, এ সব কথা সজল আমাকে বলেনি।

    তবে কেন বললি?

    বললাম, তার কারণ এ সব কথা আমার মনে হয়েছে। ওকে দেখে, ওর কথা শুনে, এ সব কথা আমার মনে হয়েছে। যমুনা, আমি মদ খাই, বাজে মেয়েদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াই, তা বলে কি আমি কিছুই বুঝি না? সব বোঝাবুঝিটা কি তোদেরই একচেটিয়া? সজল তো আমারই বন্ধু ছিল, এ বাড়িতে ওকে আমিই নিয়ে এসেছিলাম, তোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। কী দারুণ উইটি স্মার্ট হাসিখুশি ছিল। তোর মতো বরফ-জমাট মেয়ে, ওর উত্তাপেই–।

    আমি বলে উঠলাম, থাক থাক, এ সব কথা থাক রমুদা। তোর কথা যা বলছিলি তা-ই বল।

    রমুদার আবেগ থমকে গেল। একটু যেন হতাশ হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল, না, বলব আর কী। আস্তে আস্তে সজলকে অন্য রকম হয়ে যেতে দেখলাম। ওর কথা শুনে, আর ওকে দেখে, ও সব কথা আমার মনে হয়েছে। আমি ভাই জানি না, একাকিত্ব কথাটা তোদের অভিধানে প্রতিক্রিয়াশীল কি না। আমি অবিশ্যি একা হতে ভয় পাই, ব্যাপারটা আমাকে ভীষণ হন্ট করে, সেইজন্য আমি কেবল সঙ্গী খুঁজে বেড়াই। ভাল পাই কি মন্দ পাই, তার কোনও বিচার আমি করি না। তবু মনে হয়, আমাকে যেন একটা রাক্ষস তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আমি আর সজল অনেক তফাত। আমার মনে হয়েছিল, সজল নিজেকে বড় একা মনে করছে, ও ভীষণ একা হয়ে গেছে।

    আমি উচ্চারণ করলাম, একা!

    হ্যাঁ, রমুদা বলল, একা, সজলকে ভীষণ একা একা মনে হয়েছে আমার। যমুনা, এমনকী এ কথাও আমার মনে হয়েছে, তুইও আর ওর সঙ্গে নেই, তুইও দূরে চলে গেছিস।

    রমুদার কথার মাঝখানে আমার চিৎকার করে বাধা দিতে ইচ্ছা করল। প্রতিবাদ করে ওকে থামিয়ে দিতে চাইলাম। কিন্তু আমার মুখ থেকে কোনও কথা বেরোল না। কোনও শব্দ করতে পারলাম না। আমার নিজের মধ্যে একটা সংশয় আর সন্দেহ জেগে উঠল। সজলের মুখ আমার চোখের সামনে ভাসতে লাগল। সজলের স্বর আমার কানে বাজছে।

    রমুদা আবার বলল, সজলের আর আমাদের সোনলিনেস আলাদা। আমরা সাধারণ মানুষ। আমি মনে করি, সব মানুষই একা। কিন্তু সেটাকে ভুলে থাকবার জন্য, আমরা কত কী করি, কেবল উত্তেজনা খুঁজে বেড়াই। আর রবীন্দ্রনাথ যে বলেছিলেন, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে, সে গানটার তো আর কোনও অর্থই নেই। বরং একটু বদলে দিয়ে, এ রকম গাইলেই ভাল হয়, তবে দলকে চলো রে।কারণ রবি ঠাকুরের একলা আদর্শের কথা, দলও আদর্শের কথা। এখন আর কেউ একলা চলার কথা বলে না, দলে চলার কথা বলে। সজলও আদর্শবাদী, সেটাই ওর সমস্যা।

    রমুদা হঠাৎ থামল। একটু থেমে থেকে আবার বলল, যাক গে, অনেক কথা বলে ফেললাম। সজলের সম্পর্কে আমার যা মনে হয়েছিল, তা-ই বললাম। সজলকে দেখে মনে হত, ও যাদের সঙ্গে আছে, তাদের সঙ্গে থেকেও যেন আলাদা। যমুনা, তুই সজলকে ভালবাসিস, আমিও সজলকে ভালবাসি। তবে আমার ভালবাসা…চলি।

    রমুদা পরদা ঠেলে চলে গেল। আমি তেমনি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। সজলের মুখ ছাড়া আর কিছু দেখতে পাচ্ছি না। সজল, সত্যি কি তুমি নিজেকে একলা ভাবছিলে, সত্যি কি তুমি একা হয়ে গিয়েছিলে? আমি–আমি কি তোমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম!

    সজল সে কথা কোনও দিন বলেনি। তাকে দেখে বোঝা যায়নি। কিন্তু আমি–আমি কি নিজেকে একটুও চিনি না। এই মুহূর্তে, আমি কি নিজেকে দেখতে পাচ্ছি না। আহ্, মনে হচ্ছে, একটা কঠিন কিছু আমার বুক থেকে গলার কাছে ঠেলে আসছে। আমি দাঁতে দাঁত চেপে, নিজেকে শক্ত করে রাখছি। না, এভাবে নিজেকে দেখব না। এ ভাবে নিজেকে টুকরো টুকরো কথায় আর জিজ্ঞাসায় ভাসিয়ে দেব না। পিছন থেকে দেখি, দেখতে দেখতে আসি। কোনও দিন নিজের জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে ভাবিনি। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, এক বার নিজেকে দেখি। সব কথার জবাব সেখানে আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাকালের রথের ঘোড়া – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অশ্লীল – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }