Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানুষ শক্তির উৎস – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. দরজা বন্ধ করে দিয়ে

    ০৪.

    দরজা বন্ধ করে দিয়ে, টেবিলের সামনে বসলাম। এই তো সজল আমার সামনে। ওর ছোট বড় চিঠিগুলো, একটা একটা করে আমার সামনে সাজানো। এগুলোই বারে বারে আমার চোখ টেনে নিচ্ছে মন টেনে নিচ্ছে। শুরুতে তাই ওর শেষ চিঠির মাঝখান থেকে আরম্ভ করেছিলাম। মাঝখানের সেই কথাটাই বারে বারে আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে, মানুষই শক্তির উৎস।..তারপরেও অনেক কথা।

    কিন্তু সজলের চিঠি এখন থাক। আমার নিজেকে দেখতে আসাই তো আমার জীবনে সজলকে চিনতে চিনতে আসা। ওর চিঠিগুলো তো কেবল চিঠি না। ওগুলো আমার জীবনেরও অংশ। চিঠিগুলো আসুক তাদের নিজের সময়ে, সন তারিখের হিসাবে।

    কিন্তু কী কঠিন কাজ। এত কথা লিখলাম, আরও অনেক কথা বাকি। আমি সাহিত্য করতে বসিনি। নিতান্ত নিজের কথা লিখতে বসেছি। তবু আজ মনে হচ্ছে, একটু সাহিত্য করবার ক্ষমতা থাকলে, ক্ষতি কী ছিল। আশাপূর্ণা দেবী বা প্রতিভা বসু হবার দরকার নেই। ওঁদের মতো গল্প উপন্যাস কোনও দিন লিখতে পারব না। নিজের জীবন নিয়ে, আর যাই হোক, ও সব চলে না। আর আত্মজীবনী বা জীবনস্মৃতি? নমস্কার। ও সব তো লেখা হয়–অপরের জীবনে কাজে লাগবে বলে। অন্যদের জীবন সম্পর্কে জ্ঞান দান করবে, উদ্বুদ্ধ করবে। সে সব জীবন হল মহৎ, কর্মময়, নিষ্পাপ এবং নিটোল। কেবল আলো আছে, কালো নেই। ব্যক্তিজীবনে জ্ঞান আছে, গ্লানি নেই। আঘাত দুঃখ ব্যথা বেদনা সবকিছুতেই পুণ্যের ছোঁয়া। পাপের লেশ নেই। ছেলেবেলায় মা যেমন করে বলত, তেমনি করে বলতে ইচ্ছা করছে, আ হতভাগী! সত্যি, হা হতভাগী, আমার জীবনে কালো আছে, গ্লানি আছে, পাপ আছে। কোনও কাজও করে উঠতে পারিনি।

    বাংলায় এম-এ পাশ! কোনও কাজে লাগল না গো, জীবন আমার বিফলে গেল।–এই রকম গান গেয়ে বলতে ইচ্ছা করছে। কর্ম বলতে যা বোঝায়, এটা কি জীবনের সে রকম একটা কাজ। একটুও মনে হয় না। আমি বলি, সত্যিকারের কাজ হল, যযাগিনী হয়ে নিঠুর হরিকে খুঁজতে যাওয়া। কাজকে এত বড় করে কবে দেখলাম! কাজকে চিনতে শিখলাম কবে! না, আমার কর্মও নেই। আমার জীবন-মরণ পরশ রতন কাচের সমান ভেল৷ কষ্ট হচ্ছে, চোখে জল আসতে চাইছে। হঠাৎ বড় সত্যি বলে মনে হচ্ছে কিনা কথাগুলো। সব দিক থেকেই বড় সত্যি।

    না, যাকে বলে আত্মজীবনী’, আমার এ লেখা তা নয়। আসলে এ হল, ভাবতে ভাবতে, না, লিখতে লিখতে নিজেকে দেখা। এ অপরের জন্য না। একেবারেই নিজের জন্য। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেমন নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি, এও তেমনি। এও এক রকমের আয়না। সেই বাউল গানের মতো আরশিনগরের পড়শি। নিজের কাছে আমিও যে একজন পড়শি। সেই পড়শিকে দেখা। জীবনের এতকাল তো পড়শি হয়ে কাটিয়ে এলাম। আর কত কাল!

    .

    কোথা থেকে শুরু করব! কবে থেকে? যবে থেকে সজলকে দেখলাম? নাকি যবে থেকে কলকাতায় এলাম। এই মহাতীর্থ কলকাতা, হ্যাঁ, আমার কাছে কলকাতা মহাতীর্থই বটে। মহাতীর্থ শ্মশানকে যেমন মহাতীর্থ বলা হয়, কলকাতা আমার কাছে তেমনি। শুনেছি, মহাশ্মশান তাকে বলা হয়, যে শ্মশানে চিতা কখনও নেভে না। সেই হিসাবে কেওড়াতলা আর নিমতলাই তো আছে। যে শহরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, যে শহরে মারি মড়ক অ্যাকসিডেন্ট খুন প্রতিদিন লেগে আছে, সেই শহরের শ্মশানের চিতা নেভে না। কিন্তু কেওড়াতলা আর নিমতলা কি মহাতীর্থ! তা নয়। মহাতীর্থের সংজ্ঞা আলাদা। তার কোনও সঠিক ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। শুধু এইটুকু বুঝি, সেই মহাশ্মশানই মহাতীর্থ, যে মহাশ্মশান সাধকের সাধনপীঠ। যেখানে চিতার আগুনের পাশে বসে, নির্ভীক সাধক তাঁর আসনে অটল। তিনি শোকমুক্ত, সুখমুক্ত। মৃত্যু সেখানে গভীর সংকেতবহ। জীবনের মূল্য গভীর অর্থবহ। সেখানে ভয়ংকরের মধ্যে সুন্দর আর প্রেম অবস্থান করে। শিব তো শ্মশানবাসী।

    কলকাতাও আমার কাছে সেই রকম মহাতীর্থ, সাধনপীঠ। এই মহাশ্মশানে সাধনা চলছে। কলকাতায় জন্মাইনি। কিন্তু কলকাতাকে যত দেখেছি, যত দেখছি, তত ভালবেসেছি, বাসছি। একটু আগে রমুদা রবীন্দ্রনাথের গানের কথা বলে গেল–তবে একলা চলো রে’না বলে, তবে দলকে চলো রে।কথাটা ও মিথ্যা বলেনি। কিন্তু তার মধ্যে ওর একটা রাগ আর বিদ্রূপ আছে। আমার রাগ আর বিদ্রূপ নেই, অথচ, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ গাওয়ার চেয়ে, আমার গাইতে ইচ্ছা করে, আমার শ্মশান কলকাতা, আমি তোমায় ভালবাসি।

    এই শ্মশানে এখন ভূত-প্রেতরা নাচছে। ডাকিনী-যোগিনীরা উল্লাসে চিৎকার করছে। কিন্তু সাধকরা সাধনায় মগ্ন হয়ে আছে। আমি এই সাধনপীঠের সাধিকা হতে পারিনি। সজল পেরেছিল। সজল এই সাধনপীঠের নির্ভীক সাধক। আমি জানি, সজল একলা না, ওর মতো আরও সাধক কলকাতায় আছে। তাই নমো নমো নমো কলকাতা, নমো নমোনমো মহাতীর্থ।

    কলকাতাকে কত লোকে কত কী বলেছে। এখনও বলছে। কবি সাহিত্যিক রাজনৈতিক নেতা, সকলেই কিছু না কিছু বলছেন। শিল্পীরাও বাদ নেই। কলকাতার কত অজস্র ছবি আঁকা হচ্ছে তাঁদের পটে। কত বিচিত্র চিন্তা আর কল্পনার ছাপ সেই সব ছবিতে। সাধারণ মানুষেরাও কলকাতাকে নিশ্চয়ই অনেক কিছু বলে। কৃষ্ণের মতো কলকাতারও শতনাম।

    মহাশ্মশান মহাতীর্থ, এ কি কেবল আমিই বললাম। মনে হয় না। হয়তো কখন কোথায় শুনেছি, মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছে। তা বলে আমি কলকাতাকে দুঃস্বপ্নের শহর’ বলব না, মিছিলের শহর’ বলব না। সে ধরনের কোনও স্বার্থ আমার নেই। জানি, এখন কলকাতাকে সবাই খারাপ বলে, নিন্দা করে। আগেকার শতনামের মধ্যে, অনেক প্রশস্তি থাকত, প্রশংসা থাকত। কলকাতাকে নিয়ে, সারা ভারতের অনেক উচ্ছ্বাস আর আবেগ ছিল। এখন নেই। এখন শুধু নিন্দা নিন্দা আর নিন্দা, কেবল ধিক্কার। আমি সে সব বিশ্বাস করি না। সে সব ধিক্কার আর নিন্দা শুনলে মনে হয়, ভারতের অন্য বড় বড় শহরগুলো পুণ্যভূমি, অধিবাসীরা সব পুণ্যবান।

    হাসি পায়। তবু যদি কিছু জানতে বাকি থাকত। ভারতবর্ষের যে শহরে পার্লামেন্ট জিনিসটা আছে, মন্ত্রীরা আছে, এম পিরা আছে, সরকারি বড় বড় কর্মচারীরা আছে, আর সাংবাদিকরা আছে, সবাই মিলে কি সেটাকে স্বর্গরাজ্য করে তুলেছে নাকি? ওটাকে তো আমার বলতে ইচ্ছা করে, স্বার্থ আর চক্রান্তের শহর। সজল বলত নির্বীর্য মৌমাছিদের শহর। সজলের মতো এমন ভাল কথায় গভীর অর্থব্যঞ্জক কিছু আমি বলতে পারি না। কিন্তু নারীঘাতী শিশুঘাতী শহর’ বলতেই বা আপত্তি কী। হত্যা নিরবধি কি কেবল কলকাতায়। পার্লামেন্ট শহরে কি রোজ খুন কিছু কম হয়! বরং নারী আর শিশুহত্যা অনেক বেশি। কলঙ্ক কেবল রাধার নামে। আরও অনেক নাম সেই সব শহরকে দেওয়া যায়। কী লাভ। কলকাতাকে গালি দিলে সইতে পারি না। জানি, এই মহাশ্মশানের ভয়ংকর রূপ সকলের সহ্য হয় না। কিন্তু কলকাতা যে শুরুর শহর। তাই কলকাতার দায় অনেক বেশি। সেই জন্যই কলকাতা মহাতীর্থ। সেই বাউল গানের মতো আমার বলতে ইচ্ছা করে, যাহা নাই ভাণ্ডে, তাহা নাই ব্রহ্মাণ্ডে। যাহা নাই কলকাতায়, তাহা নাই ভারতে।

    আবার এ কথাও আমার বলতে ইচ্ছা করে, খুঁটে পোড়ে, গোবর হাসে, এমন দিন সবারি আসে। আজকের কলকাতা, কালকের সারা ভারতবর্ষ হয়ে উঠবে না, তা-ই বা কে জোর করে বলতে পারে। আজ যা কলকাতায়, কাল তাই ভারতে।

    অতএব, নমস্কার আমার মহাতীর্থকে। যে যা খুশি তাই বলুক গিয়ে, কলকাতা-কলকাতা-ই। আমার কলকাতার তাতে কিছু যায় আসে না। কলকাতাকে নিয়ে সকলের মাথাব্যথার কারণ তো বুঝি। যা বলল, তাই বলল, কলকাতাকে আসলে কেউ ভুলতে পারে না। তাই প্রশংসা না করতে পারুক, নিন্দে করেই মনে রাখতে হয়।

    কলকাতা আমার সুখ দুঃখ, শোক আনন্দ, প্রেম বিরহ। সজলকে তো কলকাতাতেই প্রথম দেখেছি, পেয়েছি। অতএব যবে থেকে কলকাতায়, তবে থেকেই শুরু করি। কলকাতার প্রথম দিন থেকে শুরু করি।

    .

    আজ থেকে কত বছর আগের কথা? তেরো বছর। তেরো বছরেরও কিছু বেশি। চৌদ্দয় পড়তে চলেছে, আজ পর্যন্ত নিয়ে, কলকাতায় এসেছিলাম। এসেছিলাম যখন, তখন আমারও তেরো বছর। তেরো বছর পুরোপুরি। তেরো বছর বয়সে কলকাতায় এলাম। কলকাতায় সেদিন কী বৃষ্টি! শুধু কলকাতায় না, বৃষ্টি পেয়েছিলাম পথে আসতে আসতেই। বাড়ি থেকে যখন বেরিয়েছিলাম, আকাশের অবস্থা তখন খারাপ ছিল না। তবে সেটা ছিল বর্ষাকাল। আমাদের বাড়ির দেশের আকাশে তখন মেঘ ছিল, রোদও ছিল। গুমোট গরম ছিল। সবসময়ে, সারা শরীর ঘামে ভেজা। বাড়ি থেকে বেরোবার সময় মনে হয়নি, কলকাতায় এত বৃষ্টি।

    মোটর গাড়িতে করে এসেছিলাম মামার সঙ্গে। কেন এসেছিলাম, সে কথাও বলতে হয়। তা না হলে সবটুকু বলা হয় না। নিতান্ত অভাবের দায়ে পড়ে কলকাতায় মামাবাড়ি আসতে হয়নি। অনাদরেও আসতে হয়নি। এখনও আমার বাবা মা বেঁচে আছেন। আগের তুলনায় বাবার অবস্থা এখন আরও ভাল। আমার ওপরে যে দাদা, সে এখন নদিয়া জেলার একজন বড় সরকারি কর্মচারী। তাই হেড কোয়ার্টার কৃষ্ণনগরে। এখন কৃষ্ণনগরের খাস শহরে, পাত্র বাজারের কাছে আমাদের নিজেদের বাড়ি। আগে ছিল কৃষ্ণনগর শহর থেকে দুরে, গ্রামের সীমায়। যেখান থেকে আমি প্রথম কলকাতায় এসেছিলাম। সে বাড়ি এখন অপরের আশ্রয় হয়েছে। সেখানে কেউ যায় না, থাকে না।

    সঠিক বলতে পারব না, গত তেরো বছরের মধ্যে, বাবাও কেমন করে যেন তাঁর অবস্থাকে অনেকখানি ফিরিয়ে নিতে পেরেছিলেন। রহস্য যাই থাক, উন্নতির মূলে ডাকাতি ছিল না। তবে খুব সদুপায়ে হয়নি, তার কিছুটা আভাস আমার জানা আছে। এমন করে, নিজের বাবার সম্পর্কে বলতে বা। ভাবতে খুব খারাপ লাগে। নিজের কাছেই নিজের লজ্জা লাগে। ছোটও মনে হয়। তবু, আজ এই মুহূর্তে, নিজের কাছে, নিজে নিজে বলতে লজ্জা লাগছে না। আমি তো অন্য কারোর কাছে বলছি না। নিজের কাছে বলা।

    অবিশ্যি বাবার কথা যে কেউ জানে না, তা বলি না। তাঁর উন্নতির সঙ্গে, আরও যে কজন উন্নতি করেছিল, তারা সবই জানে। বলতে গেলে, জানে বাংলা দেশের অনেক লোকেই। যারা খবরের কাগজ পড়ে। বাবার নাম না, ঘটনাটা কাগজে বেরিয়েছিল। যে ভদ্রলোকের নামে আসল দুর্নাম হয়েছিল, এক সময়ে তাঁকে খুব প্রতাপশালী লোক বলে জানতাম। অন্তত নদিয়া জেলার লোকেরা তাই জানত। আমার বাবাকে সেই ভদ্রলোক তুমি’ সম্বোধন করতেন। অথচ ভদ্রলোককে দেখে, বাবার থেকে বয়সে ছোট মনে হত। শুনেছি, ভদ্রলোকের সঙ্গে কংগ্রেস মন্ত্রীসভার যথেষ্ট ভাব ছিল। আমাদের বাড়িতে বসেই, অনেক সময় তিনি মন্ত্রীদের বিষয়ে কথাবার্তা বলতেন। মন্ত্রীদের নাম করে বলতেন, কখন কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে।

    ছেলেবেলায় সে সব কথা শুনে, আমার মনে এমন কিছু দাগ কাটত না। কারণ, মন্ত্রী ব্যাপারটা যে একটা দারুণ কিছু, তাঁদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন, কথাবার্তা বলেন, তাঁরাও সব বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি, এ রকম কোনও ধারণা ছিল না। তিনি বলতেন, তাই মাঝে-মধ্যে হয়তো কানে যেত। অনেক পরে বুঝতে পেরেছি, তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিই ছিলেন। অবিশ্যি এমনিতেও তাঁকে বাড়ির বিশিষ্ট অতিথি হিসাবেই জানতাম। তিনি আমাদের বাড়ি এলে তাঁকে যথেষ্ট সমাদর করা হত। বাইরে যেমন বাবা, অন্দরে তেমনি মা, দুজনেই ব্যস্ত হয়ে উঠতেন। শোনা যেত, অনঙ্গবাবু এসেছেন, অনঙ্গবাবু এসেছেন। হ্যাঁ, ভদ্রলোকের নাম অনঙ্গ ছিল। বেশ লম্বা চওড়া দোহারা চেহারা। গলার স্বর চড়া, একটু হাঁকডাক করা স্বভাবের লোক। তিনি আসতেন একটা জিপ গাড়িতে চেপে। এসেই বাজখাঁই মোটা গলায় ডাক দিতেন, কই হে মিত্তির, বাড়ি আছ নাকি?

    অনঙ্গবাবুর কথায় রীতিমতো পূর্ববঙ্গীয় টান ছিল। তিনি পুব দেশেরই লোক। পার্টিশনের পরে সেখান থেকেই এসেছিলেন। যাই হোক, ভদ্রলোক মিথ্যাবাদী ছিলেন না। অন্তত মন্ত্রীদের সঙ্গে যে তাঁর যথেষ্ট দহরম ছিল, সেটা মিথ্যা ছিল না। আমার বাবার সঙ্গে অনঙ্গবাবুর কীভাবে পরিচয় হয়, তার কিছুই জানি না। আমার দশ-এগারো বছর বয়সের সময় থেকেই, তাঁকে আমাদের বাড়িতে আসতে দেখেছি। বাবার সঙ্গে তাঁর কী কথাবার্তা হয়, কিছুই বুঝতাম না। মাঝে মাঝে তাঁদের দুজনকেই কাগজপত্র খুলে বসতে দেখেছি। সে সব কাগজপত্র কীসের, তাও ঠিক জানতাম না। তাঁরা দুজনেই যে শুধু থাকতেন, তা না। কোনও কোনও সময় আরও কেউ কেউ থাকতেন। তাঁরা কেউ রানাঘাটের লোক, কেউ শান্তিপুর নবদ্বীপের লোকও ছিলেন।

    কৃষ্ণনগর শহরে বাবার ছিল একটি কয়লার গোলা। গোলার সামনে একটি ছোট স্টেশনারি দোকান। সেই হিসাবে বাবাকে ব্যবসায়ী বলা যায়। কিন্তু দোকানের কেনাবেচা দেখাশোনা অন্য একজনই করত। সেই লোকটির নাম ছিল সাধু। লোকটি নামে সাধু, কাজেও সাধু। বাবাকে কোনও দিন ঠকায়নি। ঠকালে, আমাদের ছটি ভাইবোনকে নিয়ে, বাবার সংসার চলত না। আমরা তাকে সাধুদা বলে ডাকতাম। শুনেছি। মুড়াগাছায় তার বাড়ি। তিন কুলে কেউ নেই। ইস্কুলে নাকি ক্লাস টেন অবধি পড়েছিল। তার মা মারা যাবার পরে, মুড়াগাছার টান ফুরিয়েছিল। কৃষ্ণনগরে এসেছিল ভাগ্যের সন্ধানে। আর তার ভাগ্য নির্ধারক হিসাবে জুটেছিলেন আমার বাবা।

    বাবাকে দোকানে বিশেষ বসতে দেখতাম না। কিন্তু বাড়িতেও কম থাকতেন। প্রায় সব সময়েই ঘুরে ঘুরে বেড়াতেন। কোথায় কোথায় ঘুরতেন, তার সবটা জানতাম না। তবে নদিয়া জেলার অনেক জায়গাতেই ঘোরাঘুরি করতেন। মায়ের সঙ্গে কথাবার্তায় সে সব জানা যেত। আবার অনেক সময় গ্রামে গ্রামেও ঘুরে বেড়াতেন। বলে না দিলেও বুঝতে পারতাম, বাবার সেই ঘোরাঘুরির কাজের বিষয়, অনঙ্গবাবুর সঙ্গে জড়ানো। অথচ বাবাকে এমনিতে কখনও রাজনীতি করতে দেখিনি। অনঙ্গবাবু যেমন। করতেন। সবাই বলত, অনঙ্গবাবু কংগ্রেস করেন। তিনি যে মাঝে-মধ্যে দিল্লিও যান, সে কথা শুনেছি।

    ভদ্রলোকটির কথা আজ যেন একটু বিশেষভাবে মনে পড়ছে। বাবার উন্নতির কথা বলতে গিয়ে, অনঙ্গবাবুর কথা না ভেবে পারছি না। আজ যখন দেখি, বাবা কৃষ্ণনগর শহরে দোতলা বাড়ি তৈরি করেছেন, শহরবাসী হয়েছেন, তখন সেই অনঙ্গবাবু কলকাতায় কোনও আত্মীয় বাড়িতে, নিতান্ত অভাবের মধ্যে বাস করছেন। শুনেছি, সামান্য কিছুদিনের জন্য তাকে হাজতবাসও করতে হয়েছিল! নদিয়া জেলায় তার প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছিল। এখন হয়তো সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। কিন্তু অনঙ্গবাবু আর যান না।

    এ সব কথার অনেকটাই, আমি শুনেছি আমার ছোট বোনের কাছ থেকে। কলকাতার মানুষেরা অনঙ্গবাবুকে চেনে না, নিতান্ত তার ব্যক্তিগত পরিচিতেরা ছাড়া। কলকাতার মানুষ শুধু খবরের কাগজে। একটি ছোট খবর পড়েছিল, সরকার ও জনসাধারণের ছ’ লক্ষ টাকা তছরুপ। আজ থেকে কত বছর আগের ঘটনা এটা? বছর পাঁচ-ছয়ের বেশি না। জনসাধারণ আর সরকারি অর্থে, একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। গড়ে তুলেছিলেন বিশেষ ভাবে অনঙ্গবাবুই। তিনি না থাকলে সরকারি অর্থ পাওয়া যেত না। তাঁর সহযোগী বলা যাক বা তাঁর অনুচর বলা যাক, যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমার বাবা একজন।

    বাবা আগেও রাজনীতি করতেন না, এখনও করেন না। কোনও দিনই করেননি। অথচ শহরের ওপরে তিনি একটি বাড়ি করেছেন। লোকে জানে, তার ছেলের চাকরির উন্নতিতেই এটা সম্ভব হয়েছে। কথাটা ভাবলে দাদার মুখটাও আমার মনে পড়ে যায়। দাদা কীভাবে নিয়েছে ব্যাপারটা? ও তো একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মচারী, পদটাও নিতান্ত ছোটখাটো না। ও নিজেও ভাল জানে, ওর উপার্জনের টাকায় বাবা বাড়িটা তৈরি করেননি। এমনকী কৃষ্ণনগরের লোকেরাও সেটা জানে।

    আমার যেমন ভাবনা! দাদা আবার কী ভাববে। কী-ই বা ভাবতে পারে। শহরে একটা বাড়ি হয়েছে দেখে, নিশ্চয়ই মনে মনে খুশি হয়েছে। পরিবারের ইজ্জত তাতে বেড়েছে। কেন খুশি হবে না। আমি নিজেই বা কী ভেবেছি। পাপ? কই, সেরকমভাবে কোনও দিন মনে হয়েছে বলে তো মনে করতে পারি না। বরং নতুন বাড়িতে গিয়ে বেশ ভালই লেগেছে। গ্রিল ঘেরা দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে, ছোট বাগানের দিকে তাকিয়ে দেখেছি। যেখানে বাবা তার নিজের হাতে জুই আর বেল ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। এক পাশে কাগজিলেবু গাছের ঝোপে চড়ুই পাখির ঝুটোপুটি খেলা দেখেছি। বাগানের পাঁচিল ঘেঁষে দুটো নারকেল গাছ। বাতাসে দোলানো চকচকে নারকেল পাতার ঝিলিমিলি দেখেছি। আমাদের পাঁচিলের বাইরে মস্ত বড় একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। তাতে রোদ-ঝলকানো থোকা থোকা ফুল দেখেছি। দেখে মনটা খুশিতে ভরে উঠেছে।

    দোতলা থেকে ছাদে গিয়ে দাঁড়িয়েছি, যেখানে একদিকে দাঁড়ালে একটি পুকুর দেখা যায়। সেই পুকুরে বউ-ঝিদের স্নান করতে দেখে, বাসন মাজতে দেখে, নিজের ছেলেবেলার কথা ভীষণ মনে পড়ে গিয়েছে। কখন অন্যমনস্কভাবে চোখ ফিরিয়ে, পুকুরের ধারে সুপুরি আর নারকেল গাছগুলোর দিকে অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে থেকেছি। তারপরে হঠাৎ টুনটুনির চড়া স্বরের শিস শুনে চমকে উঠেছি। খুশি হয়েছি, আমাদের শহরের বাড়ি দেখে, আমিও তো খুশিই হয়েছি। দোতলার জানালা মেলে দিয়ে, খাটের ওপর শুয়ে, দক্ষিণের বাতাস যখন গায়ে লাগিয়েছি, খুশি হয়েছি। আমার বাবার বৈভব দেখে খুশি হয়েছি। আমার মনে তো সে রকম কোনও কাটা খচখচিয়ে ওঠেনি।

    তা হলে দাদারই বা উঠবে কেন। আমার ছোট দুটি বোন, দুটি ভাই তো আরও খুশি। শহরের বাড়ি বোধ হয় ওদের কাছে স্বপ্নই ছিল। আজ সেই শহরের ওরা শুধু বাসিন্দা না, শহরে ওদের নিজেদের বাড়ি। আমি অবিশ্যি সে স্বপ্ন আমার ছেলেবেলায় কোনও দিন দেখিনি। বাবা-মায়ের মুখে কিছু যদি শুনতাম, তা হলে একটা আশা থাকত। স্বপ্ন দেখতে পারতাম। তা, না-ই বা থাকল, না-ই বা দেখলাম। স্বপ্ন। কিন্তু খুশি হয়েছি, মনে মনে বেশ খুশি হয়েছি, শহরে আমাদের একটা বাড়ি হয়েছে।

    আমি আর কৃষ্ণনগরে কতটুকুই বা যাই। এমন বেশি কিছু দুরে না। কিন্তু কলকাতা ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করে না। বছরে এক বার কি দু বার যাই। তাও কয়েক দিনের জন্য। আগে, চার-পাঁচ বছর আগে, আরও ঘন ঘন যেতাম। অন্তত দু মাসে এক বার। এখন বছরে এক বার। এ বছর তো এক দিনও যাওয়া হয়নি। নতুন বাড়িটার বয়সও বেশি না। বছর চারেক হল তৈরি হয়েছে। বাড়িতে গিয়ে খুশি হয়েছি, কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেই মনে হয়েছে, কলকাতাকে যেন অনেক দিন ছেড়ে রয়েছি। কৃষ্ণনগরের সঙ্গে আমি আর নিজেকে তেমন মেলাতে পারি না।

    কেউ শুনলে না জানি কী ভাববে। ছিলাম তো এঁদো পাড়াগাঁয়ের মেয়ে। মায়ের আমি বড় মেয়ে। আমার অনেক দায় ছিল। তখন আমাদের ঝি-চাকরের সংসার ছিল না। মায়ের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে আমাকে কাজ করতে হত। ইস্কুলে যেতে হত, পড়া করতে হত। সেই মেয়ে আমি। কলকাতাকে পেয়ে বুঝি আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছি। আমার কথা কেউ শুনলে, সে তাই ভাববে। কিন্তু আসলে যে কলকাতা আমার কাছে কী, তা এক কথায় বোঝাব কেমন করে। এ লোভী আর আদেখলে মেয়ের হাতের পুতুল না। শরৎচন্দ্রের সেই গল্পের নাম দিয়ে বলতে ইচ্ছা করছে, কলকাতা হল এ অভাগীর স্বর্গ’। বোবার ভাষা। অন্ধের দৃষ্টি। জড়ের অনুভূতি।

    থাক, এ কথা থাক। কৃষ্ণনগরের শহরের বাড়ির কথা বলছি। খুশি হয়েছি। কিন্তু পাপবোধ? কই, কখনও তো সে রকম কিছু বোধ করিনি। কিন্তু অনঙ্গবাবুর কথা মনে হলে, ভিতরটা যেন কালো হয়ে ওঠে। মুখটা যেন লুকিয়ে ফেলতে ইচ্ছা করে। মনের মধ্যে টনটন করে। শুনেছি, সেই বিশাল সুপুরুষ চেহারার অনঙ্গবাবুর ফরসা রং নাকি কালি লেপা হয়েছে। ভীষণ রোগা হয়ে গিয়েছেন। কলকাতার পথে পথে ঘুরে বেড়ান। তার ছেলেমেয়েরা কলকাতারই আত্মীয়র বাড়িতে নাকি থাকে। তাও আবার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়। মন্ত্রীদের সঙ্গে ওঠাবসা তার অনেক দিনই ঘুচেছে। দিল্লি এখন তার কাছে দুরস্ত। আর এখন তো কোনও কথাই নেই। এখন এ রাজ্যে ঘন ঘন বদলি মন্ত্রীসভার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্কই নেই।

    অনঙ্গবাবুর বিষয়ে, এ সব কথা আমার ছোট বোনের মুখে শুনেছি। জিজ্ঞেস করেছি, তুই জানলি কী করে? তিনি কি কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন?

    ছোট বোন বলেছে, না। বাবার কাছে শুনেছি।

    অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছি, বাবার কাছে?

    হ্যাঁ, বাবা যখন অনঙ্গবাবুর বিষয়ে মায়ের সঙ্গে বলে, তখন শুনি। তার নাকি এখন হা-ভিখিরির দশা।

    শুনতে শুনতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছি। বাবার মুখটা তখন মনে পড়েছে। অনঙ্গবাবুর বিষয়ে বাবা কীভাবে কথা বলেন! বাবার মনে কি দুঃখ আছে অনঙ্গবাবুর জন্য! নাকি করুণা করে বলেন, দয়া করে বলেন। আমার জানতে ইচ্ছা করে, শুনতে ইচ্ছা করে। বাবার মনে কি কোনও পাপবোধ আছে? তাকে দেখলে অবিশ্যি কিছুই বোঝা যায় না। কোনও মানুষকে দেখলেই, বোধ হয় বোঝা যায় না, তার পাপবোধ আছে কি না। এখন বাবাকে দেখলে বেশ সুখী আর তৃপ্ত মানুষ বলে মনে হয়। এখন নিয়মিত কয়লার গোলায় যান। স্টেশনারি দোকানটা আরও বড় করা হয়েছে, রাস্তার ধারে পাকা ঘর করে স্টেশনারি দোকানটা বাড়ানো হয়েছে। কয়লার গোলার জমিটাও এখন আমাদের। বাবা ওটা কিনে নিয়েছেন। তার মানে, শহরের বুকে আরও অনেকখানি জমির স্বত্ত্ব, কম কথা না। ইচ্ছা করলে সেখানেও একটা বাড়ি তৈরি করা যায়।

    কত টাকা বাবা পেয়েছিলেন? ছ লক্ষের কতটা তার হাতে এসেছিল? আরও কয়েকজন ভাগীদার তো নিশ্চয় ছিল। …না, এ সব ভাবার কোনও মানে হয় না। ভেবেই বা আমি কী করব। ভাবতে গেলে নিজেকেই কেমন ছোট লাগে! মোটের ওপর বাবাকে বেশ আত্মতৃপ্ত মানুষ বলে মনে হয়। সেই সাধুদা এখনও আছে। কয়লার গোলা আর দোকান, সে-ই চালায়। এখন একজন অবাঙালি কুলি গোলার কাজকর্ম করে। বাবা গিয়ে গদিতে বসেন। হিসাবপত্র দেখেন। দু বেলা দু বার যান। বেশির ভাগ সময় বাড়িতেই থাকেন। বাগানের গাছপালা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মাঝে মাঝে আমার বিয়ের কথা বলেন। আমাকে কোনও দিন কিছু জিজ্ঞেস করেননি। মায়ের মুখে শুনতে পাই, বাবা নাকি আমার বিয়ের কথা। ভাবেন। মামার কাছে নাকি চিঠিপত্রও দু-একবার লিখেছেন। মামা আমাকে সে কথা কোনও দিনই বলেননি। শেষপর্যন্ত অবিশ্যি বাবার বক্তব্য, বড় মেয়ের ভাবনা আমার ভাববার দরকার নেই। তার যা করবার রমেশই করবে। ও মেয়ে তো বলতে গেলে এখন রমেশেরই মেয়ে।

    রমেশ হল মামার নাম। বাবার এ কথায় আমি কোনও দোষ দেখি না। মামার মেয়ে হতে আমার কোনও আপত্তি নেই। মামা আমার কাছে বাবার চেয়ে কোনও অংশে ছোট নন, বরং বড়। বাবা আর মেয়ে হিসাবে, আমার নিজের বাবার সঙ্গে যে সম্পর্ক, যতখানি চেনাচিনি জানাজানি, তার চেয়ে আমার মামার সঙ্গে বেশি।

    বাবা এখন দোকানে বসেন, বাগান দেখেন। আমার ছোট বোনের বিয়ের জন্য ব্যস্ত হয়েছেন। দাদার বিয়ের জন্য মেয়ে খোঁজাখুঁজি করছেন। বলেন, বাড়িতে একটি বউ না থাকলে মানায় না। আমার ছোট বোন মীনার বিয়ে, বলতে গেলে স্থির হয়েই গিয়েছে। গত বছরই শুনে এসেছিলাম, মীনা প্রেম করছে। মীনা নিজেই সে কথা আমাকে বলেছে। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি। গত বছর যখন গিয়েছিলাম, বাড়িতে একটি নতুন ছেলেকে দেখেছিলাম। মীনাই আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। ছেলেটি কলেজে লেকচারার। অবিশ্যি আমাদের দেশে যেমন রেওয়াজ। যে কলেজে পড়ায়, সে-ই প্রোফেসর, সেই ছেলেটিকেও সবাই সে রকম প্রোফেসর বলে জানে। তবে এইটুকু যা রক্ষে, ছেলেটি বুড়িয়ে যায়নি। কলেজে মাস্টারি করলেই যেমন, ধুতি পাঞ্জাবি চপ্পল, হাতে ব্যাগ আর একটা মেকি পাণ্ডিত্যের ভাব করে থাকে, সে রকম না। বেশ স্মার্ট আর হাসিখুশি। রাজনীতিও করে।

    ছেলেটি চলে যাবার পরে মীনা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, অতীনকে তোমার কেমন লাগল?

    যাকে বলে ধরতাই, কথার সুর আর ভঙ্গিতেই অনেক সময় তা ধরা পড়ে যায়। বলেছিলাম, আমার তো বেশ ভালই লাগল। কোন দিক দিয়ে জিজ্ঞেস করছিস?

    মীনা স্পষ্ট করেই বলেছিল, তোমার ছোট ভগ্নিপতি হিসাবে!

    আমি মুখ টিপে হেসে বলেছিলাম, খুব ভাল, তোর সঙ্গে বেশ মানাবে।

    কিন্তু বাবার বোধ হয় তেমন পছন্দ না।

    কেন?

    এইসব কলেজের মাস্টারদের নাকি কোনও ভবিষ্যৎ নেই।

    আমি হেসে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ভবিষ্যৎ নেই মানেটা কী। এরা বেঁচে থাকবে না?

    মীনাও হেসেছিল। বলেছিল, তা নয়, বাবা বলতে চায়, এরা ইপেড, কোনও দিন টাকা-পয়সা করতে পারবে না, বড়লোক হতে পারবে না, আমাকে সুখে রাখতে পারবে না।

    আমি বলেছিলাম, সেটা তো তোর ভাববার বিষয়।

    মীনা বেশ জোরের সঙ্গেই ঘাড় ঝাঁকুনি দিয়ে বলেছিল, তা তো নিশ্চয়ই। আমার যা ঠিক করবার, ঠিক করে ফেলেছি। বাবা যদি আপত্তি করে, তা হলে আমরা নিজেরাই বিয়ে করব। তোমার তা হলে ভাল লেগেছে অতীনকে?

    আমার আবার হাসি পেয়েছিল। বলেছিলাম, আমার ভাল লাগায় কী যায় আসে। তোর ভাল লাগলেই হল।

    তবু তোমার ভাল লেগেছে শুনে আমি হ্যাপি।

    আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, মা কী বলে?

    মা তো এমনিতে অতীনের সঙ্গে ভালভাবেই কথাবার্তা বলে।

    কিছু বুঝতে পারে?

    কোন ব্যাপারে?

    তোদের ব্যাপারে?

    তা নিশ্চয়ই পারে। তবে মা মুখে কিছুই বলে না। ময়না (মীনার ছোট, আমার বোন) মাকে বলেছে। কিছু। তা না হলে আর বাবার কানে যাবে কী করে। বাবাও কিছু জানে বলেই, আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেছে, এ সব কলেজে পড়ানো মাস্টারদের কিছু নেই, কোনও ভবিষ্যৎ নেই।

    আমি বলেছিলাম, এখন তো বড় হচ্ছিস, যা ভাল বুঝবি করবি।

    মীনা বলেছিল, তাই করব। আজকাল তো আমার কিছুই ভাল লাগে না। অনার্স করতে পারলাম না। বি. এ পাশ করে বসে আছি। এমনিতেও বাবা আমাকে কলকাতায় এম. এ পড়তে যেতে দিত না। কলকাতা না হোক, কল্যাণীতেও যেতে পারতাম। বাবার তাতে একদম ইচ্ছে ছিল না। এখন আমার করবার কিছুই নেই। এখন আর আমার পড়াশুনোতেও মন নেই। তার চেয়ে বিয়ে হয়ে গেলে, দিব্যি অতীনের সঙ্গে গিয়ে সংসার করতে পারতাম। সেই আমার ভাল৷

    মীনা আর কিছু চায় না। অতীনের বউ হয়ে, ঘর-সংসার করবে, এইটুকুই ওর সাধ। খুবই সহজ আর সরল ব্যাপার। মীনার কথা শুনে, আমার খুব ভাল লেগেছিল। কোনও অস্পষ্টতা নেই, কোনও জটিলতা নেই। একটি ছেলেকে একটি মেয়ে বিয়ে করতে চায়, সংসার করতে চায়। তথাকথিত ভবিষ্যৎ বা বড়লোক হবার কোনও অ্যামবিশন নেই। অন্তত আপাতত নেই। তবু বাবা এখনও কেন চুপ করে আছেন, কে জানে। বোধ হয় দাদার বিয়েটা আগে দিতে চান। তারপরে মেয়ের বিয়ে। অথবা, কে জানে, বাবা হয়তো ভেবে বসে আছেন, কিছুদিন কাটিয়ে দিতে পারলে, মীনা নিজে থেকেই মত পরিবর্তন করবে। আমি অবিশ্যি তা বিশ্বাস করি না। মীনাকে আমি অকপট আর জেদি বলেই জানি। বাবা ওর সঙ্গে পারবেন না।

    মীনার কথা শুনে, সজলের মুখ আমার মনে পড়ে গিয়েছিল। আমি কোনও দিন মীনার মতো সহজ করে এমন কথা বলতে পারলাম না। ভাবতে পারলাম না। অথচ–অথচ, সেই কথা তো আমার মনে আছে। সজল ওর দু হাত দিয়ে আমার মুখ তুলে ধরে বলেছিল, বিন্দু, কাজ করব, খাটব, খাব, তোমাকে নিয়ে সংসার করব, এমনি একটি সাধারণ মানুষ হওয়া ছাড়া আর আমার কী চাই। এর চেয়ে মহৎ আমি আর কিছু ভাবতে পারি না।’… আহ, না, না না, কঁদতে চাই না। চোখের দৃষ্টি কেন ঝাপসা হয়ে আসে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাকালের রথের ঘোড়া – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অশ্লীল – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }