Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানুষ শক্তির উৎস – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭. সজল এল

    ০৭.

    সজল এল। বাড়িতে আজ ভোজ, উৎসব। রমুদা হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করেছে, ফাস্ট ডিভিশন। রমুদার বন্ধুরা এসেছে কয়েকজন। সজল মিহির বিপ্লব শ্যামল এবং রাখী আর ঋতা। মিহিরের বোন রাখী। শ্যামলের বোন ঋতা। ওরা সকলেই হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করেছে। মিহির আর শ্যামলের বাড়িতে রমুদার অনেক দিনের যাতায়াত, তাই ওদের বোনেরাও আজ নিমন্ত্রিত। ঋতা ছাড়া, এবং সজল ছাড়া, আর সবাইকেই আমি আগে দেখেছি। ওরা এ বাড়িতে আগেও এসেছে।

    সবথেকে বড় কথা, সজল আজ এসেছে। যদিও এই আসা নিয়ে, আজ আমার কোনও চিন্তাই নেই। রমুদার অন্যান্য বন্ধুরা যেমন আসে, আর একজন তেমনি এসেছে, এইটুকুই জানি। কিন্তু আমার ভবিষ্যতের কথা ভেবেই বলছি, এ দিনটি কোনও দিন ভুলিনি। ভুলবও না। অথচ ঘটবার মতো কিছু ঘটলও না।

    কিন্তু তার আগে, কয়েকটি বছরের কথা একটুখানি বলে নিই। কলকাতায় আসার সেই প্রথম দিনের ঘটনার পরে, কয়েক দিনের মধ্যেই রমুদার সঙ্গে আবার আমার ভাব হয়ে গিয়েছিল। রমুদা কয়েক দিন আমার সঙ্গে কথা বলেনি। গম্ভীর হয়ে, আমার পাশ দিয়ে চলে যেত। আমার কেমন খারাপ লাগত। মামিমার চোখে কিছুই পড়েনি। তা হলে হয়তো আগেই কথা বলা হয়ে যেত। আমার লজ্জা করত। অথচ এ কথাও ঠিক, চুমো খাওয়াটা আমি কোনও মতেই মেনে নিতে পারিনি, পারব না। তবু রমুদাদের বাড়িতে আছি, ও আমার সঙ্গে কথা বলে না, পাশ কাটিয়ে চলে যায়, কেমন যেন নিজেকে অপরাধী লাগছিল। দীপুকে বলেছিলাম। দীপু আবার সেই রকম, ঘাড়ে ঝাঁকুনি দিয়ে বলেছিল, না বলুক, তাতে কী হয়েছে?

    আমার খুব খারাপ লাগে। মামিমা জানলে কী ভাববে?

    মা আবার কী ভাববে! দাদাকে বকে দেবে। তা হলে মাকে-ই বলে দিস।

    আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠেছি, না। মামিমাকে বলিস না। তুই রমুদাকে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলিস।

    ও আমার কথা শুনবে না।

    তবু বলিস।

    তুই বলতে পারিস না?

    রাগ করে যদি?

    কাঁচকলা করবে।

    দীপুর সঙ্গে এ কথা বলার পরদিনই, রমুদা ইস্কুল থেকে বাড়ি ফিরে, খাবার খেয়ে, আবার যখন বেরিয়ে যাচ্ছিল, তখন ওদের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। রমুদা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথা আঁচড়াচ্ছিল। আয়নাতেই আমাকে দেখতে পেয়ে, ফিরে তাকিয়েছিল। আবার সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বলেছিলাম, রমুদা, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো না কেন?

    রমুদা বলল, তুই-ই তো আমার ওপর রেগে গেছিস।

    এখন তো আমার আর রাগ নেই।

    সেদিনে রেগে গেলি কেন? আমি কি তোর সঙ্গে প্রেম করতে গেছলাম!

    কথাটা শুনেই আমার মুখ লাল হয়ে উঠেছিল। পিসতুতো বোনের সঙ্গে কেউ আবার প্রেম করে নাকি। তা ছাড়া রমুদা প্রেম করবে, তাও আমি ভাবতে চাইনি। আমি তো ওর বোন, তা ছাড়া কোনও মেয়ের সঙ্গেই ও প্রেম করতে পারে না। প্রেমের নিশ্চয়ই একটা বয়স আছে, আমার ধারণা তাই ছিল। বলেছিলাম, প্রেম করতে যাবে কেন। তা আবার কেউ করে নাকি?

    রমুদার স্পষ্ট জবাব, কেন করবে না। আমি তো করি।

    আমি হাঁ করে রমুদার মুখের দিকে তাকিয়েছিলাম। রমুদার স্বাস্থ্য অবিশ্যি খুবই ভাল। পনেরো বছরেই ও বেশ লম্বা হয়ে উঠেছিল, দেখে বেশ শক্ত সমর্থ মনে হত। গোঁফের সবুজ রেখা দেখা দিয়েছিল ঠোঁটের ওপর। মুখটা মামিমার মতো একটু গোল ধাঁচের। রমুদা আবার বলেছিল, ও রকম হাঁ করে তাকিয়ে আছিস কেন!

    আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম, তুমি যে বললে, তুমি প্রেম করো।

    হ্যাঁ করি তো, কী হয়েছে। আমার মতো অনেক ছেলেই প্রেম করে।

    এতটা অবিশ্যি আমার জানা ছিল না। নিজের দাদাকে কোনওদিন প্রেম করতে দেখিনি। বন্ধুদের দেখেছি, কিন্তু তাদের প্রেমিকরা রমুদার থেকে বয়সে বড় ছিল। আমাদের দেখে যারা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে বা দোকানে বসে শিস দিত, গান করত, তারাও রমুদার থেকে বড় বলেই আমার ধারণা। আমার ভাবতেও সাহস হচ্ছিল না, রমুদা যার সঙ্গে প্রেম করে, তাকে চুমো খায়। সে কথা জিজ্ঞেস করবার সাহস একেবারেই ছিল না। বলেছিলাম, আমি ও সব জানি না। তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো।

    তুই রাগ করেছিলি কেন! একটা চুমো তো খেয়েছিলাম মাত্র।

    আমার ও সব একদম ভাল লাগে না।

    তা লাগবে কেন–তুই তো একটা গেঁয়ো গোঁয়ার মেয়ে।

    আমি কথাটা মেনে নিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রমুদা আমার মাথায় একটা আলতো করে চাটি মেরে বলেছিল, আচ্ছা বলব। তোকে তো সত্যি এলিজাবেথের মতো দেখতে।

    আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে কে?

    ছবির হিরোইন, ইংরেজি ছবির। তুই কিছুই জানিস না।

    ছবি মানে সিনেমা, রমুদার মুখেই প্রথম শুনেছিলাম। বলেছিল, তার মুখের সঙ্গে তোর আদল আছে।

    সে তো মেমসাহেব।

    হলই বা, মেয়ে তো। আমার তাকে খুব ভাল লাগে।

    এই পর্যন্তই সেদিন কথা হয়েছিল। রমুদার আমি পিসতুতো বোন। কিন্তু ওর ভাল লাগা, সাগরপারের চিত্রাভিনেত্রীর মতো আমাকে দেখতে–সেই কারণে, আমাকে ওর আরও বেশি ভাল লাগে। সেই জন্য ও আমাকে আরও অনেক বার আদর করার চেষ্টা করেছে। আমি তফাত থেকেছি। এখনও ওর মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয়, আমাকে একটু আদর করে! আমি যে ওর বোন, পিসতুতো বোন, সেটা যেন ওর কাছে কিছুই না। কী করে ওর মনটা এ রকম হল, জানি না। পরে আমি এক দিন জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমি যে তোর পিসতুতো বোন, সেটা তুই ভুলে যাস?

    কয়েক মাস পর থেকেই, ওকে আমি তুই’ বলতে আরম্ভ করেছিলাম। ও জবাব দিয়েছিল, তাতে কী হয়েছে। বোনকে চুমো খাওয়া যায় না?

    বলেছিলাম, না।

    ও সব তুই ভাবিস। আমি ও সব ভাবি না। আমার ভাল লাগলে, আমি সবাইকেই চুমো খেতে পারি।’

    সবাইকে?

    হ্যাঁ, সবাইকে।

    রমুদার কথাবার্তা এমন পাকা পাকা, যেন ও তখন আর ষোলো বছরের একটা ছেলে না। রমুদা একটু বেশি পেকেছিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই বয়সে, আমি যতটা ভীতি-বিহ্বল হয়ে ভাবতাম, ততটা না। আবার বলেছিল, তা বলে সবার সঙ্গে তো আর আমি প্রেম করি না।

    আমার মুখ দিয়ে আপনিই বেরিয়ে গিয়েছিল, প্রেম ছাড়া চুমো খাওয়া যায়?

    রমুদা হেসে বলেছিল, তুই একটা বোকা।

    হয়তো তাই, আমার জানা ছিল না। কিন্তু রমুদার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা তখন বেশ সহজ হয়ে উঠেছিল। আমি কৌতূহলিত হয়ে, অবাক গলায় জিজ্ঞেস করেছিলাম, আচ্ছা রমুদা, তুই কি সত্যি প্রেম করিস নাকি?

    করি তো।

    ভয় করে না?

    কেন, ভয় করবে কেন?

    যদি কেউ জানতে পারে?

    জানতে পারবে কেন। শুধু আমার বন্ধু জানে, যার বোন।

    সে কিছু বলে না?

    বলবে আবার কী!

    কী করো তোমরা?

    কী আবার করব। হাসি-গল্প, কথা বলি, আর–আর–।

    রমুদার মতো ছেলের মুখেও কথা আটকে যেতে দেখেছিলাম। ঢোক গিলে বলেছিল, আর সবাইকে লুকিয়ে একটা চুমো খাই।

    কথাটা শুনে যেন আমিই লজ্জায় লাল হয়ে উঠেছিলাম। রমুদার সেই বন্ধু বা প্রেমিকা রাগ করে কি না, তা জিজ্ঞেস করবার দরকার ছিল না। সে যে কী করে, তা আমার আগেই জানা ছিল। আমি রমুদাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। ইতিমধ্যে আমার অভিজ্ঞতা তো অনেক বেড়েছে। এখন আমার পনেরো বছর বয়েস। এসেছিলাম তেরোতে। এখন আমার অনেক বন্ধু। তারা অবিশ্যি সবই মেয়ে। ছেলেদের সঙ্গে মেশবার কোনও ইচ্ছা আমার নেই। কিন্তু ইস্কুলের বন্ধুদের কাছে, ছেলেদের কথা আমাকে অনেক শুনতে হয়। আগেই বলেছি, কৃষ্ণনগর থেকে কলকাতা কম কিছু না। বরং আরও বেশি। এক এক সময় ভেবে অবাক হই, সকলেরই ছেলে বন্ধু আছে, আমারই কেবল নেই! সেটাও সত্যি নয়। আমার মতোও অনেক মেয়ে আছে, যারা ও সব কিছুই করে না। যারা আমারই মতো ছেলেদের এড়িয়ে চলতে চায়।

    এমন একটা সময়ে প্রথমে কলকাতা এসেছিলাম, যখন ইস্কুলে ভরতি হতে পারিনি। বাড়িতে বসেই প্রায় পাঁচ মাস পড়েছি। ইতিমধ্যে কৃষ্ণনগরের ইস্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট আনানো হয়েছিল। এখন আমি নিয়মিত ছাত্রী। ভয় ছিল, আমার একটা বছর হয়তো নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ পরীক্ষা দিতে পারিনি। কিন্তু ভরতির সময়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। তাতে ভালভাবেই পাশ করে গিয়েছিলাম। আমার ইস্কুল বাড়ি থেকে বেশি দূরে না। আমি এখন গাড়িতে করে ইস্কুলে যাই। ইস্কুলের গাড়িও আছে, কিন্তু আমি বাড়ির গাড়িতেই যাই।

    মামার এখন দুটো গাড়ি। একটা গাড়ি নিয়ে তিনি নিজে চলে যান তাঁর কারখানায়। আর একটা গাড়ি বাড়িতেই থাকে। রমুদা দীপু আর আমাকে ইস্কুলে পৌঁছে দেয়। প্রথম প্রথম কেমন একটা আড়ষ্ট বোধ করতাম। গাড়ি চাপতেই আড়ষ্ট লাগত। কয়েক মাসে, রোজই প্রায় গাড়ি চেপে চেপে, খানিকটা সহজ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ইস্কুলে যেতে কেমন আড়ষ্ট লেগেছিল। গাড়ি চেপে ইস্কুলে যাবার কথা কোনও দিন ভাবিনি। ইস্কুলের মেয়েদের অনেকের ধারণা ছিল, আমি বড়লোকের মেয়ে। অনেক মেয়ে, প্রথম দিকে, তার জন্যে একটু ঠাট্টা বিদ্রূপও করত। অনেকে মিশতে চাইত না। যাদের সঙ্গে আমার মিশতে ইচ্ছা করত, তাদের সঙ্গে মেশা হত না। যাদের সঙ্গে ইচ্ছা করত না, তারা অনেকে যেচে কথা বলত।

    পরে অবিশ্যি সবই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। আমাদের একটা আলাদা দল তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এখনও সেই দলটাই আছে। আমরা ক্লাস নাইনে পড়ি। মাঝে মাঝে কেউ দলত্যাগ করে, আবার নতুন কেউ আসে। আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়, কথা বন্ধ হয়, আবার ভাব হয়, হাসাহাসিও হয়। আমার সব বন্ধুদেরই মামিমা চেনেন। সকলেই কখনও না কখনও আমাদের বাড়িতে এসেছে। আমিও ওদের বাড়িতে যাই। তবে একলা যেতে পারি না। রাস্তাঘাট অনেক চিনে নিয়েছি। ইস্কুলের রাস্তা, কাছাকাছি বন্ধুদের বাড়ির রাস্তা। কিন্তু মামিমা আমাকে একলা ছেড়ে দেন না। গাড়ি দিয়ে আসে, নিয়ে আসে। মামিমাও কখনও কখনও যান। রমুদা দীপুও যায়।

    আমাদের দলটাকে বলা যায়, মাঝামাঝি। অর্থাৎ মধ্যপন্থী। একদল মেয়ে আছে, ওরা রাজনীতির কথা বলে। নানান পার্টির কথা বলে। ইস্কুল স্ট্রাইকের কথা ওরা বলে। কয়েকটি মেয়ে আছে, এমনকী ইস্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে, ঠিক কলেজের বড় মেয়েদের মতো বক্তৃতা দেয়। আমার খুব অবাক লাগে, অবাক হয়ে ওদের কথা শুনি। তখন যেন বিশ্বাস করতে পারি না, ওরা আমাদের সঙ্গেই ইস্কুলে পড়ে। ওরা হেড মিস্ট্রেসকেও ভয় পায় না। ওদের খুব সাহস। অবিশ্যি স্ট্রাইক হলে, প্রায় সকলেই খুব খুশি। অন্যান্য ইস্কুলের মেয়েরাও এসে পড়ে। এমনকী ছেলেরাও আসে। কিন্তু ছেলেরা আমাদের ইস্কুল কম্পাউন্ডের মধ্যে ঢোকে না। বাইরে থেকেই চিৎকার করে, সব বেরিয়ে এসো, বেরিয়ে এসো। কোনও কোনও পাজি ছেলে বলে, এই শুনছিস মেয়েগুলো, শীগগির বেরিয়ে আয়।’ বলে আবার নিজেরাই হাসাহাসি করে। আমরাও নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করি। আমার বন্ধুদের মধ্যেই কেউ হয়তো নিচু স্বরে বলে ওঠে, ও এখনই বাবা হয়ে গেছে।

    কেউ হয়তো বলে, রাসকেলটাকে ধরে নিয়ে আয় তো কান ধরে।

    বলে আমরা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করি। সবকিছুই নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যারা রাজনীতি করে, তাদের সঙ্গে যেন ভাল করে মিশতে পারি না। দূর থেকেই, অনেকটা সমীহ করার ভাব নিয়ে ওদের দেখি। ওদের মধ্যে কেউ কেউ লেখাপড়ায়ও খারাপ না। বেশির ভাগই ভাল না। ওরা নাকি, ইস্কুলের বাইরেও পার্টি করে, মিছিলে মিটিং-এ যায়। ওদের মধ্যে রমা বলে একটি মেয়েকে আমার ভাল লাগে। ও আমাদের সঙ্গে মিশতেও পারে। ও অবিশ্যি বক্তৃতা দিতে পারে না। রাজনীতিতে খুব উৎসাহ। ওর দাদারা সবাই রাজনীতি করে। ওর কোন এক দাদা নাকি কোন একটা দলের এম এল এ।

    আর একটা দল আছে। ওরা যে শুধু প্রেমিকা, তা না। ওরা যে কী, আমি তাই ভেবে পাই না। ওরা যে কী খারাপ খারাপ কথা বলতে পারে, ভাবা যায় না। ছেলেদের মতো শালা তো কথায় কথায় বলে। আরও এমন সব কথা বলে, যা অত্যন্ত ছোটলোক রকবাজগুলো বলে। কানে না শুনলে, বিশ্বাস করাই সম্ভব না। এ সব তো হল গালাগাল বা খিস্তি। যে সব গল্প ওরা বলাবলি করে, তাও ভয়ংকর। মনে হয়, ওদের কিছু জানতে বাকি নেই, করতে বাকি নেই; শুনলে মনে হয়, ওদের মাথার ওপরে কেউ নেই। ওরা নিজেরাই নিজেদের কত্রী। অথচ, সত্যি ওরা আমাদেরই বয়সি। কেউ হয়তো দু-এক বছরের বড় হতে পারে।

    আমার মনে হয়, ইস্কুলের বাথরুমের দেওয়ালের লেখিকা ওরাই। সিনেমার গল্প লেগেই আছে। হিন্দি বেশি, বাংলা কম, ইংরেজি কিছু কিছু। ওদের নাকি সকলেরই বয়ফ্রেন্ড আছে। একজন না, একাধিক। ওরা একসঙ্গে রাস্তায় বেরোলে, সেটা একটা ভয়ের ব্যাপার। হাসবে, চিৎকার করবে, এবং কেউ তাকিয়ে দেখলে, তার বিষয়ে কথা বলবে। ওরা পুরুষদের ঠাট্টা করে বলে, ব্যাটা, কিশোরীভজা। কোথা থেকে ওরা এ সব কথা শেখে, তাও বুঝি না।

    আমাদের মধ্যেও ছেলেদের নিয়ে কোনও কথা হয় না, তা বলব না। অনেক কথাই হয়। কে কেমন দেখতে, কার চাউনির কী উদ্দেশ্য, কাকে দেখে কী মনে হয়, এই সব কথা। অনেককে দেখে হাসি পায়, কারোকে দেখে রাগ হয়, কারোকে কারোকে ভালও লাগে। রাস্তায় হেঁটে আর কতটুকুই বা চলাফেরা করতে পারি। একলা তো প্রায় নয়ই। বন্ধুদের সঙ্গেই বেশি। তবে আমার শরীরের দিকে কেউ তাকালে, আগের মতো আড়ষ্ট হয়ে যাই না। মনে মনে রাগ হয়। বয়স্ক লোকেরা তাকালে বেশি রাগ হয়, ঘৃণা হয়, তখন একটা বীভৎস মুখ আমার মনে পড়ে যায়।

    কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমার একটা অবাধ্যতা এবং প্রতিবাদ ঠিকই আছে। আমার কোনও কোনও বন্ধুর বাড়ি গিয়েছি। ওদের দাদাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। আমি একটি কি দুটির বেশি কথা কারোর সঙ্গে বলতে পারি না। তাও না বলতে পারলেই ভাল। সে জন্য আমার বন্ধুরা আমাকে একটু কথা শোনায়, ঠাট্টা করে বলে, তোর একটু রূপের গুমোর আছে যমুনা। তা যে নেই, কেমন করে ওদের বোঝাব! অথচ আমারই বন্ধুদের সঙ্গে, রমুদা আর দীপুর কত ভাব হয়ে গিয়েছে। দীপা নামে যে বন্ধুটি আছে, তার সঙ্গে তো দীপুর খুব ভাব। ওদের নামের এবং নামের ধ্বনির মিলের জন্যই কি না জানি না। দীপা আমাদের বাড়িতে এলেই দেখি, অন্য ঘরে গিয়ে, খালি দীপুর সঙ্গে গল্প করে। ইস্কুলেও দীপুর কথা জিজ্ঞেস করে। দীপুটাও সেই রকম। আমাকে দীপার কথা জিজ্ঞেস করে। বলে, যমুনা, দীপাকে এক দিন আসতে বলিস।

    আমি ইচ্ছা করেই জিজ্ঞেস করি, কেন রে?

    দীপু বলে, এমনি, কেন আবার। দীপা খুব ভাল মেয়ে।

    দীপাকে মেয়েরা দীপুর বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করে। দীপা গায়ে মাখে না, হাসে। ও-ও দীপুর মতোই বলে, দীপুকে নিয়ে এক দিন আমাদের বাড়িতে আসিস।

    দীপু গিয়েছে, যায়ও। এখন আর আমার সঙ্গে যায় না, নিজে নিজেই চলে যায়। দীপুকে দীপার বাবা-মাও ভালবাসেন। না বাসার কোনও কারণ নেই। দীপু দেখতে সুন্দর, লেখাপড়ায় খুব ভাল। ওর চেহারার সঙ্গে মামার মিল আছে। মামার মুখ যেমন একটু মেয়েলি, সেইরকম।

    মামিমাও দেখতে সুন্দর। তাঁর মুখ গোল ভাবের। রমুদা ছেলে বলে, মামিমার আদল পেয়েও, আজকাল ওর মুখটা চওড়া দেখায়।

    আমার বন্ধু বীথির ভাব আবার রমুদার সঙ্গে। প্রথম দিন রমুদার সঙ্গে আলাপের পরে, বীথি অবিশ্যি বলেছিল, তোর রমুদাটা ভারী ফাজিল।

    কেন, কী করেছে?

    আমার দিকে তাকিয়ে গোঁফে তা দিচ্ছিল, আর মোটা গলায় কথা বলছিল।

    হেসে বলেছিলাম, ও ওইরকম।

    আবার বললে, তোমাকে দেখতে বেশ সুন্দর। আমার লজ্জা করছিল।

    সত্যিই তো বলেছে, তুই সুন্দর।

    ও রকম আবার কেউ বলে নাকি। বলে মিটিমিটি হাসছিল।

    তোকে ভাল লেগেছে।

    যাহ, যমুনা তুই আজকাল খুব পাজি হয়েছিস।

    আমি হেসে উঠেছিলাম। এখন তো দেখি, রমুদার সঙ্গে বীথির বেশ ভাব। দুজনে গল্প করে, আর হাসে। কোনও কোনও সময় ওদের খুনসুটিও করতে দেখা যায়। বীথি তখন মামিমাকে এসে বলে, দেখুন না মাসিমা, রমুদা কী রকম করছে!

    কী করছে?

    যা-তা বলছে আমাকে।

    তুমিও বলো।

    রমুদা হয়তো তখনই তাগ করে বীথিকে ধরবার জন্য। বীথিও ছুট দেয়। ওরা দুজনেই বেশ বন্ধু হয়ে গিয়েছে। তবে, আমার যত দূর ধারণা, রমুদা যাকে বলে প্রেম’,বীথির সঙ্গে সেটা বোধ হয় ওর হয়নি।

    .

    মামা-মামিমার কথা একটু বলি। কৃষ্ণনগরের কথা ভুলিনি। নিজের বাবা মা ভাইবোনদের কথাও না। সকলেই আমার জীবন ব্যাপিয়া। কিন্তু মামা-মামিমা যে কোনও দিন আমার এত আপন হয়ে উঠবেন ভাবিনি। ওঁদের স্নেহে আমি এত সহজ হয়ে উঠেছি, এক এক সময় ভুলেই যাই, আমি বাবা-মা ছাড়া আছি। রমুদা দীপু সবাইয়ের সঙ্গে এমনভাবে জীবন কাটছে, মনে হয় আমি যেন আমার পুরনো জীবনেই আছি। কেবল জায়গাটাই বদলেছে। কৃষ্ণনগরের বদলে কলকাতা। এখন কলকাতাকে আমার নিজের শহর বলে মনে হয়। আগে যেমন কলকাতাকে অচেনা বিদেশ বলে মনে হত, এখন তা হয় না।

    মামিমা আমাকে তাঁর নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। আমিও সেইভাবে সাজতে অভ্যস্ত হয়েছি। মামিমা আমাকে এখনও শাড়ি পরতে দেননি। চৌরঙ্গি পাড়ার দরজির কাছ থেকে নানা ডিজাইনের জামা জ্যাকেট ফ্রক অ্যান্ড স্ল্যাকস শেরোয়ানি তৈরি করিয়ে আনেন। আমি অবিশ্যি জামা জ্যাকেট ফ্রকই বেশি পরি। কোথাও বেড়াতে যেতে হলে অন্য পোশাক। অথচ শাড়িও কম নেই। মামিমার তেমন পছন্দ না। শাড়ি পরলে নাকি আমাকে অনেক বড় দেখায়। মামার আবার শাড়িই পছন্দ। বলেন, বাঙালির মেয়ে একটু ডাগর হয়ে উঠলে, শাড়ির তুল্য পোশাক নেই।

    পোশাক নিয়ে মামা-মামিমার মধ্যে তর্ক হয়। মামিমা বলেন, তোমার মেয়েকে নিয়ে তুমি যখন বেরোবে, তখন শাড়ি পরিয়ে নিয়ে যেয়ো। মামা বলেন, নিশ্চয়ই যাব। কসমেটিকস-এর ব্যবহার আমার নিজের তেমন পছন্দ না। নিজেকে কেমন যেন বড় বেশি চোখে পড়ানোর মতো লাগে। মামিমার খুব ইচ্ছা, আমি সেইসব ব্যবহার করি। মামিমার সঙ্গে বেরোতে হলে, করতেই হয়। আগে চুল কাটার কথা ভাবতেও পারতাম না। আমার চুল খুব লম্বা ছিল। আমার সবকিছুই একটু বাড়ন্ত ছিল তো৷ মামিমা বলেন, এত লম্বা চুল কোনও কাজের না। এত লম্বা চুলের যত্ন নেওয়া যায় না। নিতে গেলে অনেক সময় লাগে। তাই এখন পিঠের কাছে চুল, সোজা করে কাটা। ইচ্ছামতো বেণী বাঁধা যায়, খুলে রাখলেও অসুবিধা হয় না। শখ হলে, আলাদা গুছি দিয়ে খোঁপাও বাঁধা যায়।

    কোনও দিন হঠাৎ খুব সাজগোজ করলে, মামা আমার দিকে তাকিয়ে, হেসে ঘাড় নাড়েন, বলেন, বিন্দু, মামির পাল্লায় পড়ে তুই কলকাতার মেমসাহেব হয়ে গেছিস। মামিমা বলেন, আমার মেয়েকে আমি যেভাবেই সাজাই, তোমার কেন চোখ টাটায়। দেখতে কেমন লাগছে, তাই বলো। মামার জবাব, না সাজলেও আমাদের মেয়ে সুন্দর। রমুদা বা দীপু কাছে থাকলে, পিছনে লাগে। রমুদা বলে, হ্যাঁ, যমুনা একেবারে মিস ক্যালকাটা।‘ মামা হাঁক পাড়েন, রাখ তোর মিস ক্যালকাটা। যত সব ব্যাকডোরের শূর্পণখা।

    মামা অপরিচিত লোকদের সামনে, আমার পরিচয় দেবার সময় সোজা বলে দেন, আমার মেয়ে। মামিমা আবার এতটা পারেন না। বলেন, বলতে গেলে আমার মেয়েই।মামা অফিস থেকে বাড়ি এসে আগে ডাকেন, বিন্দু কোথায় রে।না দেখতে পেলে তাঁর ভাল লাগে না। আমার একটু শরীর খারাপ করলে, মামিমার থেকে উনি বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মাঝে মাঝে আমার পিছনেও লাগেন, বিন্দু, তোর যা একটা বিয়ে দেব না, দেখিস! দত্তবাড়িতে ও রকম ঘটা আর হয়নি। আমি লজ্জা পাই, গম্ভীর হয়ে বলি, আমি মোটে বিয়েই করব না। মামা বলেন, এমন ছেলে নিয়ে আসব, দেখবি ঠিক পছন্দ হয়ে যাবে। আমি পালিয়ে যাই। মামা-মামিমা হাসেন। কিন্তু আমি জানি, মামা চান, আমি যেন খুব ভালভাবে পড়াশুনো করি, সবসময়ে ভাল রেজাল্ট করতে পারি। তাঁর এবং মামিমার স্নেহ এবং আদরের মধ্যে, একটা সতর্ক দৃষ্টিও আছে আমার দিকে, আমি যেন কোনও বিপথে না যাই। খবর না দিয়ে, বন্ধুদের বাড়ি গিয়ে, কয়েক বার বকুনিও খেয়েছি।

    এক দিন হঠাৎ কী কারণে, অফিস-আদালত ইস্কুল কলেজ, সব ছুটি হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ বীথির মাথায় এল, ম্যাটিনিতে সিনেমা দেখতে যাবে দল বেঁধে। আমি প্রথমে রাজি হইনি। পরে রাজি হয়েছিলাম। কাছের একটা হলে তখন কয়েক দিনের জন্য অযান্ত্রিক’ হচ্ছিল। দেখে যখন বাড়ি ফিরেছিলাম, সে কী কাণ্ড! ভাবলে এখনও আমার ভয় লাগে। ও রকম আর কোনও দিন করব না। অন্তত আরও বড় না হয়ে নয়। দেখেছিলাম, মামা-মামিমা উদ্বেগে উৎকণ্ঠায় অস্থির। রমুদা ও দীপু পর্যন্ত ভয়ে মুখ চুন করে বসে ছিল। আমাকে দেখতে পেয়েই, রাগে মামা-মামিমা প্রথমে কথাই বলেননি। রমুদা চোখ পাকিয়ে ঘুষি দেখিয়ে সরে গিয়েছিল। দীপু তো পারলে যেন মারত।

    তারপরে শুরু হয়েছিল মামার বকুনি। মামার সেই আর এক চেহারা। বলেছিলেন, তোমার কোনও বন্ধুকে আর এ বাড়িতে আসতে দেওয়া হবে না। ইস্কুল ছাড়া আর কোথাও এক পা যাওয়া চলবে না।

    ধরে মারেননি বটে। বেশ ধমকে বলেছিলেন, ফের এ রকম কোনও দিন হলে, চাটিয়ে তোমার দুই গাল লাল করে দেব।

    মামার চিৎকার শুনে, রমুদা এসে পড়েছিল। কোপটা গিয়ে পড়েছিল ওর ওপরেও, এই যে, তোরাই হচ্ছিস এ সবের মূলে। যখন খুশি সিনেমায় যাওয়া, তোদের কাছেই শিখেছে। এখন থেকে নিয়ম করে দিচ্ছি, রবিবারের ম্যাটিনি শো ছাড়া, সিনেমায় যাওয়া চলবে না। তাও মাসে এক বার কি দু বার।

    রমুদা অবাক অপরাধী মুখে এক বার আমার দিকে তাকিয়ে সরে পড়েছিল। আমার চোখে তখন জল। মামিমার রাগ তখন পড়ে গিয়েছিল। আমাকে নিয়ে অন্য ঘরে চলে গিয়েছিলেন। আমি কেঁদে উঠে বলেছিলাম, আর কোনও দিন এ রকম করব না। মামিমা তাঁর বুকের কাছে আমাকে টেনে। নিয়েছিলেন।

    পরে অবিশ্যি সবই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। সেই সপ্তাহের রবিবারেই, বাড়ির সবাইকে নিয়ে মামা ডায়মন্ডহারবার গিয়েছিলেন। মামিমা মামাকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ছেলেমেয়ের মান ভাঙাতে ডায়মন্ডহারবার ছুটতে হল? মামা আমাকে আদর করে কাছে টেনে বলেছিলেন, কী চিন্তায় যে ফেলেছিলি বিন্দু, জানিস না। ও রকম করলে, আমার হার্টফেল হয়ে যাবে। শুনে আমার আরও কান্না পেয়েছিল।

    মামা রোজ সন্ধের মধ্যেই অফিস থেকে ফেরেন। কিন্তু নীচের তলায়, রাত্রি দশটা সাড়ে দশটা অবধি লোকজন থাকে। নীচের দুটো বড় বড় ঘরে, সোফা চেয়ার ডিভান দিয়ে সাজানো। এক ঘরে মামার বিশেষ অন্তরঙ্গরা বসেন। আর এক ঘরে কাজের লোকেরা যাঁরা আসেন। মামার রাত্রের আত্মার মধ্যেও তাঁর ব্যবসার কাজ কিছু কিছু চলে। নানান ব্যবসায়ী, সরকারি অফিসাররা আসেন। দুই ঘরেই তখন মদ্যপান চলে। নানা রকম খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার নীচেই রান্না হয়। সন্ধেবেলার খাবারের জন্য, রোজ আলাদা বরাদ্দ করা থাকে। এ প্রায় প্রাত্যহিক ব্যাপার।

    মামা যে মদ খান, এটা আমি আগে জানতাম না। প্রথমে খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাপারটা এমনিই সহজ, ঘাবড়াবার বা কিছু ভাববার অবকাশ ছিল না। কারণ মামিমা বা রমুদা ও দীপুকে ও সব নিয়ে কোনও কথাই বলতে শুনিনি। নিত্যকার ব্যাপার, দেখে দেখে অভ্যস্ত। ও বিষয়ে কারোর কোনও প্রশ্ন নেই। কেবল রমুদা মাঝে মাঝে বলে, এক দিন একটু স্কচ হুইস্কি খেয়ে দেখতে হবে।আমি বলি, খেয়ে দেখিস, মামাকে আমি বলে দেব।’রমুদা বলে, তুই জানতেই পারবি না।’রমুদাকে বিশ্বাস নেই। এই দু বছরের মধ্যেই, ওকে আমি কয়েক দিন সিগারেট টানতে দেখেছি। তাও আবার আমাকে ডেকে নিয়ে, দেখিয়ে দেখিয়ে। আমি ভয় দেখিয়ে বলেছি, যাই, মামিমাকে বলে দিয়ে আসি। রমুদা ভয় পেয়ে বলেছে, খবরদার যমুনা, তা হলে তোর রক্ষা নেই। তবে খাচ্ছিস কেন?’ বেশ মজা লাগে। কী মজা লাগে, ও-ই জানে।

    যাই হোক, মামাকে কোনও দিন মাতাল হতে দেখিনি। আমাদের দেখবার অবকাশও কম। মামা যখন ওপরে আসেন, আমরা তখন যে যার ঘরে। মামিমাই শুধু মামার জন্য বসে থাকেন। নীচের আসরে, কাজের লোকজন না থাকলে, মামিমাও মাঝে মাঝে নীচে যান। তখন কেবল মামার বন্ধুরাই। থাকেন। মামার বন্ধুপত্নীরাও অনেকে এসে থাকেন। শুনেছি, তাঁরা কেউ কেউ ড্রিঙ্ক করেন। তখন খুব কৌতূহল হয় যে, নীচে গিয়ে দেখি। সাহস পাই না।

    এমনিতে মামা-মামিমার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বিশেষ দেখতে পাই না। এক-একদিন মামা হঠাৎ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে রাত্রে বেরিয়ে যান। ফেরেন অনেক রাত্রে। কখনও কখনও একেবারে সকাল করে ফেরেন। কোথায় যান জানি না। মামিমার মুখ গম্ভীর হয়ে ওঠে, মামার সঙ্গে কথা বলেন না। মামাকেও দেখি, চুপচাপ তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে, অফিসে বেরিয়ে যান। মামিমা শুধু আমাকে বলেন, তোর মামা কাল সারা রাত বাড়ি ফেরেনি। আমি জিজ্ঞেস করি, কোথায় গেছলেন? মামিমা রাগের সঙ্গে, বিরক্ত মুখে বলেন, কী জানি। কোনও বন্ধুর বাড়িতে আড্ডা দিয়েছে বোধ হয় সারা রাত।আমারও মনে হত, মামা অন্যায় করেছেন। মামিমার রাগটা যেন আমার মধ্যেও সংক্রামিত হয়। আমিও মামার সঙ্গে ভাল করে কথা বলি না। তারপরে যখন দেখি, মামিমার সঙ্গে আবার কথা হচ্ছে, তখন আমিও বলি।

    মামাও সেটা বোঝেন। বলেন, কী রে বিন্দু, কথা বলছিস না কেন?

    কী কথা বলব?

    কত কথাই তো বলিস। এখন চুপচাপ কেন!

    আমার ভাল লাগছে না।

    কেন?

    কিছু না বলে চুপ করে থাকি। মামা হেসে বলেন, তুই আর তোর মামিমা দেখছি এক রকম।

    আমার অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করে, বলি না। মামা নিজেই বলেন, সে দিন সারা রাত এক বন্ধুর বাড়িতে গল্প করেই কেটে গেল। বাড়িই ফিরতে পারলাম না।

    আমি বলি, মামিমা সারা রাত ঘুমোতে পারেননি।

    মামা যেন খুবই অসহায় বেচারির মতো হয়ে যান, বলেন, জানি তো। বন্ধুরা শোনে না, বোঝে না, কী যে করি। তোর মামিমাকেও বলেছি। তুইও একটু বলে দিস বিন্দু।

    ঠিক সে সময়েই হয়তো পিছন থেকে মামিমার গলা শোনা যায়, থাক, আর মেয়েকে কাজে লাগাতে হবে না। মামা হেসে ওঠেন। আমি মামিমার দিকে তাকাই। মামিমার ঠোঁটের কোণে হাসি। তাড়াতাড়ি সরে পড়েন। এ রকম কিছু কিছু ব্যাপার ছাড়া, মামা ও মামিমার মধ্যে আর কোনও বিবাদ-বিসংবাদ দেখতে পাই না। মামাকেও খারাপ মানুষ মনে করতে পারি না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাকালের রথের ঘোড়া – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অশ্লীল – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }