Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস

    April 23, 2026

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প702 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪-৬. ভারী প্রাতরাশ

    সকালে একটা ভারী প্রাতরাশ, নটার মধ্যে স্নান, সাড়ে নটা বাজতে না বাজতে টুপুর পুরোপুরি তৈরি। ব্যাগট্যাগ গুছিয়ে মিতিনও প্রস্তুত। আরতি রান্না করছিল, বেরোনোর আগে তাকে কয়েকটা টুকিটাকি নির্দেশ দিল মিতিন। বুমবুম স্কুল থেকে এলে তাকে কী খেতে দেবে, ম্যাগির বায়না জুড়লেও আরতি যেন কানে না তোলে, খেলতে যাওয়ার আগে বুমবুম যেন অবশ্যই পোশাক বদলায়, এই সব। রাতে টুপুরের প্রিয় কষকষে আলুর দমও বানিয়ে রাখতে বলল আরতিকে। তারপর ক্যাবিনেটের দেরাজ থেকে বের করল গাড়ির চাবি। হ্যাঁ, আজ গাড়িটা লাগবে।

    পার্থ দাড়ি কামাচ্ছিল। কাল রাতে ঘটনাটা শোনার পর থেকে সেও বেশ উদ্বিগ্ন। কোনওরকম মজা, রসিকতা করছেনা। বাথরুমের দরজা থেকে মুখ বাড়িয়ে বলল, বেরোচ্ছ?

    হ্যাঁ। পারলে আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরো।

    আমিও কিন্তু তোমাদের সঙ্গে যেতে পারতাম।

    দরকার কী ভিড় বাড়ানোর! অনর্থক তোমার প্রেসের কাজ ফেলে…!

    সারাদিন খুব টেনশনে থাকব। কাজে মনই বসবে না।

    চিন্তা কোরো না। প্রয়োজন বুঝলে তোমায় ডেকে নেব। টুপুরকে নিয়ে নীচে এল মিতিন। পার্কিং-স্পেস থেকে লাল মারুতিখানা বের করে চলল অভিযানে। আধঘণ্টাতেই পৌঁছে গেল সেন্ট পিটার্সে। চার্চের লাগোয়া পুরনো বনেদি স্কুল। ইমারতখানা প্রাচীন, তবে চেহারা এখনও বেশ শক্তপোক্ত। উঁচু পাঁচিলের মাঝখানে সবুজ রঙের প্রকাণ্ড লোহার ফটক বন্ধ। কোনও কলরব নেই, অন্দরে ক্লাস চলছে জোর কদমে।

    বড় গেটের এক কোণে বেঁটে লোহার দরজা। সেখান দিয়েই ঢুকল মিতিন আর টুপর। অমনি কোত্থেকে এক খাকি উর্দিধারী বেরিয়ে এল। প্রায় পথ রোধ করে বলল, কোথায় যাবেন?

    মিতিন ভারিক্কি স্বরে বলল, প্রিন্সিপাল-ম্যাডামের কাছে। প্রাইমারি সেকশনের।

    অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে?

    রুস্তমজির চিঠিটা হাতে তুলে দেখাল মিতিন। দরোয়ান কী বুঝল কে জানে, বলল, চলে যান। অফিসের গায়েই ম্যাডামের ঘর।

    ভ্রূ কুঁচকে দরোয়ানটিকে জরিপ করে নিল টুপুর। রোগা, লম্বা, বছর চল্লিশেক বয়স, ব্যাকব্রাশ করা চুল, মুখটা খানিক চোয়াড়ে চোয়াড়ে। এই লোকটাই কি রনিকে ছেড়েছিল কাল? আর-একজন দরোয়ানকেও অবশ্য দেখা যাচ্ছে। বিশাল ছাতিমগাছটার তলায় বসে আয়েশ করে খইনি ডলছে মোটাসোটা লোকটা। গাছের ওপাশে চার-চারটে ঢাউস স্কুলবাস দাঁড়িয়ে। না, রুস্তমজির ছেলের স্কুলটি যথেষ্ট ওজনদার।

    প্রিন্সিপালের দরজায় পিতলের ফলকে নাম জ্বলজ্বল করছে অমিতা রায়। বাইরে এক বেয়ারা বসে ছিল, তার হাত দিয়ে চিঠিটা পাঠাতেই, কী কাণ্ড, মিসেস রায় স্বয়ং বেরিয়ে এলেন। ধবধবে সাদা বয়কাট চুল, ছোটখাটো চেহারার মহিলাটি মিতিনদের খাতির করে ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালেন। আন্তরিক সুরে বললেন, আপনারা মিস্টার জরিওয়ালার কাছ থেকে আসছেন….,ইউ আর ভেরি মাচ ওয়েলকাম। চা খাবেন? না কফি? নাকি কোল্ড ড্রিঙ্কস?

    থ্যাঙ্কস। কিচ্ছু না।

    তা বললে চলে? আপনি জানেন না, মিস্টার জরিওয়ালাকে আমরা কতটা শ্রদ্ধা করি। প্রাক্তনী হিসেবে তিনি সেন্ট পিটার্সের গর্ব। শুধু তাই নয়, আমাদের স্কুলের যে-কোনও অনুষ্ঠানে উনি অকৃপণভাবে সাহায্য করেন।

    দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, উনি কিন্তু স্কুল থেকে যথোচিত প্রতিদান পাননি।

    মিতিনের কেটে-কেটে উচ্চারণ করা বাক্যটিতে জোর ধাক্কা খেলেন অমিতা। হতভম্ব মুখে বললেন, কেন, কী হয়েছে?

    কাল ওঁর ড্রাইভার স্কুলে এসে রনি, আইমিন রৌণককে পায়নি এবং মিসেস জরিওয়ালা উৎকণ্ঠিত হয়ে আপনাকে ফোন করেছিলেন।

    হ্যাঁ তো। আমি তো খবর নিয়ে ওঁকে জানিয়েও দিলাম মিস্টার জরিওয়ালার অন্য গাড়িটা এসে ওকে নিয়ে গিয়েছে!

    আপনি শিয়োর, ওঁদের অন্য গাড়িটা এসেছিল?

    আমাকে তো দরোয়ান সেরকমই বলল… অমিতা সহসা থমকালেন, এনিথিং রং?

    ভীষণ-ভীষণ রং। রৌণক কাল কিডন্যাপড হয়েছে।

    অ্যাঁ? ভদ্রমহিলা প্রায় চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠলেন, পরক্ষণে ধপাস করে বসে পড়লেন। সপ্রতিভতা ঝরে গিয়ে রীতিমতো তোতলাচ্ছেন, ও মাই গড! পুলিশ জানে?

    রুস্তমজি এখনও পুলিশকে কিছু জানাননি। উনি ঘটনাটা স্ট্রিক্টলি কনফিডেন্সিয়াল রাখতে চান। আশা করি, আপনিও আপাতত খবরটা পাঁচকান করবেন না।

    নিশ্চয়ই। কিন্তু,.. আপনি…?

    প্রাইভেট ডিটেকটিভ। মিতিন নিজের একটা কার্ড বাড়িয়ে দিল, কিডন্যাপাররা মুক্তিপণ হিসেবে এক কোটি টাকা চেয়েছে। পরশু সন্ধের মধ্যে। আমি ক্রিমিনালদের ধরার চেষ্টা করছি।

    ও। তা আমি আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

    ভুলে যাবেন না ম্যাডাম, ঘটনাটা আপনার স্কুলের সামনেই ঘটেছে। আপনাদেরই দরোয়ান রৌণককে কিডন্যাপারদের হাতে তুলে দিয়েছে।

    দরোয়ান তো আই-ডি কার্ড দেখে তবে…!

    বুঝলাম। কিন্তু স্কুলের আই-ডি কার্ড বা তার নকল ক্রিমিনালদের হাতে গেল কী করে?

    সেটা আমি কী করে বলব? অমিতার গলায় এবার আত্মরক্ষার সুর। চোখ ঘুরিয়ে বললেন, বাচ্চা জানে কিংবা বাচ্চার গার্জেন।

    স্কুলে আইডি কার্ডের কোনও কপি থাকে না? ক্লাসটিচারের জিম্মায়?

    না। দুটো কার্ডের একটা বাচ্চার গলায় ঝোলে, অন্যটা থাকে বাড়ির লোকের কাছে।

    বেশ। কিন্তু প্রতি বছরই নিশ্চয়ই নতুন কার্ড ইস্যু হয়?

    হ্যাঁ। পুরনো কার্ডগুলোও গার্জেনদের জিম্মাতেই থাকে। তবে এ বছর…!

    কী হয়েছে এ বছর?

    এবার স্কুলের একটা ফাংশান ছিল। অ্যানুয়াল এঞ্জাম আর সেশনের মাঝে। বাচ্চাদের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরনো কার্ডগুলো গার্জেনদের কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিলাম। এ বছর নতুন কার্ড ইস্যু করার পরও ওগুলো আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

    অর্থাৎ আগের বছরের কার্ড আপনাদের হেপাজতে?

    হ্যাঁ। ক্লাসটিচারদের। আমি অবশ্য ওঁদের বলেছি ডেসট্রয় করে দিতে।

    কাজটা হয়েছে কি?

    এতক্ষণে অমিতা যেন সামান্য গুটিয়ে গেলেন। দ্বিধান্বিত স্বরে বললেন, নিশ্চয়ই হয়েছে…!

    আপনি নিশ্চিত নন, তাই তো?

    অমিতা চুপ। পিরিয়ড শেষের ঘণ্টা পড়ল, বাইরে মৃদু কোলাহল। দুজন শিক্ষিকা ঢুকছিলেন অমিতার ঘরে, হাতের ইশারায় তাঁদের আসতে মানা করলেন অমিতা। দুই শিক্ষিকাই কিঞ্চিৎ বিস্মিত, তবে চলেও গেলেন তৎক্ষণাৎ।

    মিতিন ঘুরে তাঁদের দেখছিল। ফের সিধে হয়ে বলল, আপনার বক্তব্য তো মোটামুটি শুনলাম। এবার যে রৌণকের ক্লাসটিচারের সঙ্গে একটু কথা বলা দরকার।

    ডেকে পাঠাব?

    যদি না খুব অসুবিধে হয়। মিতিনের স্বর সামান্য নরম, তবে কাইন্ডলি তাঁর সামনে অপহরণের প্রসঙ্গটা তুলবেন না।

    সে আমার মাথায় আছে। বলেই কলিংবেলে চাপ। পলকে বেয়ারা হাজির। অমিতা ভার-ভার গলায় বললেন, প্রিয়াঙ্কাম্যাডামকে এক্ষনি আসতে বলো তো। আর শোনো, এখন কাউকে ঘরে অ্যালাও করবে না।

    ঘাড় নেড়ে চলে গেল বেয়ারা। হঠাৎই যেন টুপুরের দিকে নজর পড়ল অমিতার। মুখে আলগা হাসি ফুটিয়ে বললেন, এটি কে? মিস্টার জরিওয়ালার পরিবারের কেউ?

    আমার বোনঝি। ঐন্দ্রিলা।

    যাক, তাও ভাল। আমি ভাবলাম যদি…! অমিতাকে কেমন অসহায় দেখাল। প্রায় আপন মনে বললেন, পারসিরা অনেকেই এই স্কুলটা খুব পছন্দ করেন। তাঁরা খবরটা পেলে ছেলেদের হয়তো স্কুল থেকে সরিয়ে নেবেন। স্কুলের পক্ষে সেটা যে কী লজ্জার!

    স্কুলের মানসম্মানটাই আপনার কাছে বড় হল ম্যাডাম? মিতিনের স্বর তীক্ষ্ণ, বাচ্চাটার বিপদ নিয়ে আপনি ভাবিত নন?

    তা কেন, ছি ছি। রৌণককে আমরা সবাই খুব ভালবাসি। তার উপর সে মিস্টার জরিওয়ালার একমাত্র ছেলে…। এই স্কুল থেকে সে কিডন্যাপড হল, ভাবলেই বুকটা ধড়াস ধড়াস করছে।

    কথার মাঝেই দরজায় এক তরুণী। ছিপছিপে লম্বা, শ্যামলা রং, পরনে সালোয়ার-কামিজ। কাঁধে দোপাট্টা।

    অমিতা গলাখাঁকারি দিয়ে বললেন, প্রিয়াঙ্কা, মিট দিস লেডি। ইনি তোমাকে কিছু প্রশ্ন করবেন। ভেবেচিন্তে ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিয়ো।

    প্রিয়াঙ্কা অবাক মুখে বসলেন চেয়ারে। মিতিনকে দেখছেন। টুপুরকেও। সপ্রতিভ স্বরেই মিতিনকে বললেন, হ্যাঁ, বলুন?

    মিতিন ঈষৎ ঘুরে বসল। প্রায় প্রিয়াঙ্কার মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি তো ক্লাস ফোরের এ সেকশনের ক্লাসটিচার?

    হ্যাঁ।

    বাচ্চাদের স্কুল থেকে ছাড়ার সময় আপনি প্রেজেন্ট থাকেন?

    এটা তো আমার ডিউটি ম্যাডাম।

    ঠিক কী পদ্ধতিতে বাচ্চাদের ছাড়েন, একটু যদি বিশদে বলেন।

    ছুটির পর আমরা সেকশনের বাচ্চাদের লাইনে দাঁড় করাই। যারা স্কুলবাসে যায়, নাম ডেকে ডেকে তাদের বাসে পাঠিয়ে দিই। আর যাদের বাড়ির লোক নিতে আসে, তাদের গেটের কাছে নিয়ে যাই। বাড়ির লোক আইডি কার্ড দেখালে দরোয়ান বাচ্চা হ্যান্ডওভার করে দেয়।

    আপনি সামনে থাকেন?

    শেষ বাচ্চাটি যতক্ষণ না যায়, আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

    কার্ড কে দেখে? আপনি, না দরোয়ান?

    দুজনেই। দরোয়ান তো পাশেই থাকে।

    ভাল করে ভেবেচিন্তে বলুন, প্রতিটি কার্ড আপনি দেখেন তো?

    প্রিয়াঙ্কা সামান্য থতোমতো। ঝলকে প্রিন্সিপালকে দেখে নিয়ে বললেন, হ্যাঁ, মানে… সেশনের প্রথম এক-দুসপ্তাহ খুবই কড়াকড়ি বজায় রাখি। তারপর মোটামুটি চেনাজানা হয়ে গেলে…!

    কার সঙ্গে চেনাজানা?

    যাঁরা নিতে আসছেন…। অবশ্য সব সময়ই কার্ড দেখা হয়।

    গতকাল কি এই নিয়ম পালন করা হয়েছিল?

    প্রিয়াঙ্কা আবার যেন হোঁচট খেলেন। অস্বস্তি মাখা গলায় বললেন, কেন ম্যাডাম, কোনও কমপ্লেন আছে নাকি?

    কমপ্লেনের কোনও কারণ ঘটেছিল কি?

    সেরকম কিছু তো মনে পড়ছে না।

    একটি বাচ্চাকে কিন্তু কাল বাড়ির ড্রাইভার ছাড়া অন্য একজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

    এমন তো হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া অচেনা লোকের কাছে ক্লাস ফোরের একটা বাচ্চা যাবেই বা কেন? সে তো আপত্তি জুড়বে।

    রৌণক জরিওয়ালার বাবা কিন্তু বলছেন, তাঁর গাড়ি এখানে আসার আগেই…!

    কাল তো রৌণকদের অন্য গাড়িটা এসেছিল। কালো রঙের হন্ডা সিটি। রৌণকের মা যে গাড়িটা নিয়ে আসেন মাঝে মাঝে। ড্রাইভার কার্ড দেখিয়ে নিয়ে গেল, রৌণকও কিছু বলল না…!

    লোকটা যে ওই গাড়িটিরই ড্রাইভার বুঝলেন কী করে?

    কারণ, গাড়িটা সে-ই চালাচ্ছিল।

    আপনি তাকে স্টিয়ারিং-এ দেখেছেন?

    তা নয়। আসলে ড্রাইভারই তো সাধারণত বাচ্চাদের নিতে আসে। রৌণকও লাফাতে-লাফাতে লোকটার সঙ্গে চলে গেল… তাই অন্য কিছু ভাবার অবকাশ হয়নি।

    ও। তা কাল হন্ডা সিটিটাই এসেছিল, জানলেন কী করে? গাড়িটা আপনি দেখেছিলেন?

    সত্যি বলতে কী, ওই সময় অতশত খেয়াল করার সুযোগ কোথায়? এত বাচ্চা…এমন ক্যালোর-ব্যানোর…। তবে কে যেন একটা চেঁচিয়ে বলল…। প্রিয়াঙ্কা পলকে চিন্তা করলেন, হ্যাঁ, মনে পড়েছে। সোহম রৌণককে বলছিল, আজ তোদের হন্ডা সিটিটা এসেছে রে।

    সোহম কি রৌণকের ক্লাসমেট?

    দুজনে খুব বন্ধু। পাশাপাশি ছাড়া বসবেই না।

    হুম। আচ্ছা, শেষ বাচ্চাটাকে যখন কাল ছেড়েছিলেন তখন কটা বাজে?

    সাড়ে তিনটে তো বটেই। প্রিয়াঙ্কাকে খানিক ব্যাকুল দেখাল, এত কথা জানতে চাইছেন কেন ম্যাডাম?

    জবাব না দিয়ে প্রিয়াঙ্কার চোখে চোখ রাখল মিতিন, আপনার সেকশনের বাচ্চাদের গত বছরের কার্ডগুলো তো আপনার হেপাজতেই ছিল?

    এখনও আছে। আমার ড্রয়ারে।

    সে কী! অমিতা প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন, ওগুলো না নষ্ট করে দেওয়ার কথা?

    হয়ে ওঠেনি ম্যাডাম। প্রিয়াঙ্কা আমতা-আমতা করছেন, বাচ্চাদের ফোটো থাকে তো, তাই ছিঁড়তে, পোড়াতে মায়া লাগে। আমরা প্রাইমারির টিচাররা, সবাই মিলে ঠিক করেছি, গরমের ছুটিতে সব পুরনো কার্ড একসঙ্গে জড়ো করে জ্বালিয়ে দেব।

    বুঝলাম। মিতিন সহসা গম্ভীর। অমিতার মুখও থমথম করছে। ভুরু কুঁচকে তাঁকে দু-এক সেকেন্ড দেখে নিয়ে মিতিন বলল, প্রিয়াঙ্কা, এবার আপনাকে কটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারি?

    বলুন?

    আপনি থাকেন কোথায়?

    টালিগঞ্জ।

    বাড়িতে কে কে আছেন?

    মা, দুই ভাই…। বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, ছোট হায়ার সেকেন্ডারি দিল।

    বাবা…?

    বছর দুয়েক আগে মারা গিয়েছেন। রোড অ্যাক্সিডেন্টে।

    আপনি চাকরি কত দিন করছেন?

    দেড় বছর।

    অর্থাৎ বাড়িতে এখন আপনি একাই রোজগেরে? মিতিনের ঠোঁটে চিলতে হাসি, সোহম আজ এসেছে?

    হ্যাঁ।

    কাইন্ডলি তাকে একটু পাঠিয়ে দেবেন?

    প্রিয়াঙ্কার মুখ শুকিয়ে গেল। কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, রৌণকের কী হয়েছে বলুন না, প্লিজ!

    সময় হলে জানতে পারবেন এবং এখন কলিগদের সঙ্গে নো আলোচনা। মিতিনের গলা কাঠ-কাঠ, আর হ্যাঁ, এক্ষুনি ড্রয়ার চেক করে জানান পুরনো সমস্ত কার্ড ঠিকঠাক আছে কি না।

    ঢক করে ঘাড় নাড়লেন প্রিয়াঙ্কা। উঠে বেরিয়ে গেলেন সন্ত্রস্ত পায়ে।

    .

    ০৫.

    মিলিটারি অ্যাটেনশনের ভঙ্গিতে দাঁড়াল ছেলেটা। হাত, পা, মাথা নড়ছে না এতটুকু। এমনকী, চোখের পলকটাও পড়ছে না। তবে চোখের মণি দুটো ঘুরছে টুপটাপ, ধীর গতিতে টেনিসকোর্টে বল ছোটার মতো। কখনও টুপুরে গিয়ে থামছে, কখনও অমিতায়। দেখছে মিতিনকেও, তবে সেভাবে যেন গুরুত্ব দিচ্ছে না।

    মিতিন মিটিমিটি হাসছে। হাসিমুখেই বলল, তুমি তো মনে হচ্ছে ভারী লক্ষ্মী ছেলে?

    সোহম জবাব দিল না। যেন এরকম একটা ফালতু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মানেই হয় না।

    তুমি কী খেলতে ভালবাসো? ফুটবল? না ক্রিকেট?

    ক্রিকেট।

    ব্যাটিং? না বোলিং?

    এবার ঘাড় একটু ঘুরল, আমি পেস বল করি।

    ও মা, তাই নাকি? কে তোমার ফেভারিট বোলার?

    ব্রেট লি।

    কোনও ব্যাটসম্যানকে তোমার ভাল লাগে না?

    লাগে। ম্যাথু হেডেন।

    সে কী! ভারতের কোনও খেলোয়াড়কে পছন্দ নয়? সচিন তেন্ডুলকর?

    সর্বদাই সচিন ভাল, তবে আমি অস্ট্রেলিয়ার সাপোর্টার।

    বাঃ, বাঃ। মিতিন জোরে হেসে উঠল, ভারতীয় হলে ভারতের ক্রিকেটটিমকে সাপোর্ট করতে হবে, এমন তো কোনও রুল নেই!

    সোহমের ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটল এতক্ষণে। কৌতূহলী স্বরে বলল, তুমিও অস্ট্রেলিয়ার দলে?

    একটু একটু।

    মিতিন এলোমেলো গল্প করেই চলেছে। টুপুর অবাক হয়ে দেখছিল, কীভাবে সোহমের আড়ষ্টতা কাটিয়ে দিচ্ছে মিতিনমাসি। মিনিট দু-তিন পর মূল প্রসঙ্গে এল। সোহমকে কাছে টেনে বলল, রৌণক তোমার খুব বন্ধু, তাই না?

    ফাস্ট ফ্রেন্ড। বলেই সোহমের চোখ পিটপিট, তুমি রৌণককে চেনো?

    চিনি তো। রৌণকের বাবা আমার বন্ধু।

    ও। রৌণক আজ আসেনি কেন?

    শরীরটা ভাল নেই।

    কী হয়েছে রৌণকের?

    সিরিয়াস কিছু নয়। কাল-পরশুর মধ্যে সেরে যাবে।

    কাল তো রৌণক ভালই ছিল! যাওয়ার সময় বলল, আজ আমার জন্য ভিডিয়ো গেমসের নতুন একটা সিডি আনবে…!

    কাল বুঝি রৌণকদের গাড়ি আগে এসেছিল?

    হ্যাঁ। ও যে হন্ডা সিটিটায় গেল…!

    যে হন্ডা সিটি মানে? ওটা তো রৌণকদেরই আর-একটা গাড়ি!

    উঁহু। ওটা রৌণকদের সেই গাড়িটা নয়।

    বলো কী, অ্যাঁ?

    অমিতা চুপচাপ কথোপকথন শুনছিলেন, এবার প্রায় আঁতকে উঠলেন, প্রিয়াঙ্কাম্যাডাম এইমাত্র বলে গেলেন, কাল তুমি নাকি চেঁচাচ্ছিলে, রৌণক, তোদের হন্ডা সিটিটা এসেছে।

    আমার মিসটেক হয়েছিল ম্যাম। রংটা সেম তো, তাই…!

    কী করে বুঝলে ওটা অন্য গাড়ি? মিতিনও বেশ উত্তেজিত, নম্বর দেখে?

    হ্যাঁ তো। রৌণকদের হন্ডা সিটির নাম্বার থ্রি থ্রি ফোর ফোর। কালকের গাড়ির নাম্বারে কোনও থ্রি ছিলই না। ফোরও না।

    তাও রৌণক ভুল গাড়িতে উঠে গেল?

    তাই তো দেখলাম। যে আঙ্কলটা নিতে এসেছিলেন, তাঁর সঙ্গে লাফাতে-লাফাতে…?

    আঙ্কলটাকে তুমি চেনো?

    উঁহু। কখনও দেখিনি।

    তার মানে যে আঙ্কল হন্ডা সিটি চালান, ওই আঙ্কলটা তিনি নন?

    কী জানি! আমি তো সেই ড্রাইভার আঙ্কলকে ভাল করে দেখিইনি।

    কেন? হন্ডা সিটি তো মাঝেসাঝে রৌণককে নিতে আসে?

    হন্ডা সিটি যেদিন আসে, আন্টি নিজেই নেমে রৌণককে নিয়ে যান। ড্রাইভার আঙ্কল গাড়িতেই থাকেন। তা ছাড়া অনেক সময় তো আন্টি নিজেই গাড়ি চালান।

    বুঝলাম। মিতিন সামান্য ঝুঁকল, আচ্ছা সোহম, কালকের আঙ্কলটা কি ইউনিফর্ম পরা ছিলেন?

    না। গ্রিন শার্ট। আর জিন্স।

    দেখতে কেমন?

    গোঁফ আছে, চশমা আছে, হাইট শর্ট…! বলতে-বলতে থমকাল সোহম। চোখ সরু করে বলল, এত কোয়েশ্চেন করছ কেন? রৌণক কি মিসিং?

    না না, তোমার মেমারি টেস্ট করছিলাম। মিতিন আলগা হাসল, এবার বলো তো, যে গাড়িটা এসেছিল, তার নাম্বার কত?

    পুরোটা পড়তে পারিনি। তার আগেই তো হুস করে বেরিয়ে গেল। তবে নাম্বারটায় সিক্স আর নাইন ছিল। পাশাপাশি। লাস্টে।

    দারুণ চোখ তো তোমার! তা গাড়িতে রৌণক আর ওই আঙ্কল ছাড়া আর কি কেউ ছিল?

    দেখতে পেলাম কোথায়! রৌণকও উঠল, গাড়িও ধাঁ।

    যাঃ, এই আনসারটা তা হলে তুমি দিতে পারলে না! মিতিন আবার একটু হাসল, যাক গে, তুমি মেমারি টেস্টে পাশ করে গিয়েছ। আজই রৌণককে গিয়ে বলছি, তোমার জন্য সিডি যেন অবশ্যই নিয়ে আসে।

    থ্যাঙ্ক ইউ।

    তুমি কিন্তু এখন রৌণককে ফোন কোরো না। শুয়ে থাকতে হচ্ছে তো, বন্ধুদের ফোন পেলে মন খারাপ হবে। যাও, ক্লাসে যাও।

    দুপা গিয়েও সোহম দাঁড়িয়ে পড়ল। সন্দিগ্ধ চোখে মিতিনকে বলল, তুমি কি পুলিশ?

    কেন বলো তো?

    এত ক্রস করলে! নিশ্চয়ই রৌণকের অন্য কিছু একটা হয়েছে?

    এ মা, তুমি কী বোকা! পুলিশ কি এরকম একটা দিদিকে সঙ্গে নিয়ে ঘোরে? টুপুরকে দেখাল মিতিন। হাসি-হাসি মুখেই বলল, আমি রৌণকের একটা আন্টি। রৌণক কদিন স্কুলে আসবে না তো, খবরটা তাই প্রিন্সিপালম্যামকে দিতে এসেছিলাম।

    সোহম তবু যেন বিশ্বাস করল না। তবে চলে গেল পায়ে-পায়ে। মিতিন আর টুপুরকে দেখতে-দেখতে।

    ছেলেটা ঘর থেকে বেরনোমাত্র অমিতা কপাল চাপড়ালেন, কী হবে এখন? রৌণককে কীভাবে উদ্ধার করা যাবে?

    মিতিন নীরব। মুখে একটি শব্দও নেই। একটুক্ষণ গুম হয়ে বসে টুপুরকে চেয়ার ছাড়ার ইঙ্গিত করল। কোনও বিদায় সম্ভাষণ না জানিয়েই বেরিয়ে পড়ল অমিতার ঘর থেকে।

    স্কুল কম্পাউন্ডের বাইরে ফুটপাথ ঘেঁষে মিতিনের মারুতি। সেদিকে এগোতে গিয়েও টুপুরের পা সহসা নিশ্চল। উত্তেজিত মুখে বলল, প্রিয়াঙ্কাম্যাডামের কাছ থেকে আই-ডি কার্ডের খবরটা তো নেওয়া হল না!

    ব্যাগ থেকে গাড়ির চাবি বের করছিল মিতিন। ভাবলেশহীন গলায় বলল, প্রয়োজন নেই।

    কেন?

    পুরনো কার্ড যদি নকল হয়ে থাকে, আর সেই কাজে যদি স্কুলের কেউ জড়িত হয়…!

    তা হলে সেই কার্ড এখন ফেরতও চলে এসেছে।

    তবু জেনে নিলে…!

    নষ্ট করার মতো সময় হাতে নেই টুপুর।

    কিন্তু…, যে দরোয়ান কাল রনিকে ছেড়েছিল, তাকে তো একবার ট্যাপ করতে পারতে?

    দরকার পড়লে নিশ্চয়ই করব। তবে আগের কাজ আগে। মিতিন গাড়ির স্টিয়ারিং-এ বসল। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে মোবাইল বের করল। বোতাম টিপে চাপল কানে।

    প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ওপার থেকে পার্থর গলা ঠিকরে এল, কী নিউজ? কী হল স্কুলে? জানা গেল কিছু?

    পরে শুনো। এক্ষুনি একটা কাজ করে দিতে হবে তোমাকে। মোটর ভেহিকল ডিপার্টমেন্টে তোমার এক বন্ধু আছে না?

    শ্যামল বসাক। ডেপুটি ডিরেক্টর।

    চটপট তার সঙ্গে যোগাযোগ করো। একটা গাড়ির ডিটেল ইনফরমেশন চাই। কালো হন্ডা সিটি। শেষ দুটো নাম্বার ছয় আর নয়। কবে রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে, মালিকের নাম, ঠিকানা, ফোন, নাম্বার, সব জোগাড় করে ফেলো। যদি কলকাতায় রেজিস্ট্রেশন না হয়ে থাকে, সেটাও জানাও। কতক্ষণ লাগবে?

    ধরে নাও অন্তত ঘন্টাদুয়েক।

    চেষ্টা করো যাতে এক ঘণ্টার মধ্যে হয়। বলো, এক্সট্রিমলি আর্জেন্ট। একটা বাচ্চার জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।

    দেখছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব…! ব্যস, কথার মাঝখানেই মোবাইল অফ। মিতিনের দৃষ্টি উইন্ডস্ক্রিনে স্থির।

    টুপুরের উত্তেজনার পারা আরও চড়ছিল। উৎসাহিত চোখে বলল, সোহম কিন্তু জব্বর একটা ক্লু দিয়েছে।

    হুম। সূত্রটা ইম্পট্যান্ট। এগোতে সুবিধে হবে।

    শুধু সুবিধে? গাড়ির মালিকের সন্ধান পেলেই তো কালপ্রিট কট।

    অত সহজ বোধহয় নয় রে। অপরাধী অনেক ভাবনাচিন্তা করেই এগিয়েছে। হিসেব ছকে।

    কী হিসেব?

    তলিয়ে ভাব। মিতিনের মারুতি চলতে শুরু করল। মৌলালি মোড়ের আগে ঘুরল বাঁয়ে, এসপ্ল্যানেড অভিমুখে। হালকা যানজট ঠেলে এগোচ্ছে। গিয়ার বদলাতে-বদলাতে মিতিন বলল, হাতে তো এখন খানিকটা সময় আছে, লাইট লাঞ্চ সেরে নিবি নাকি?

    যা বলবে।

    মিনিট দশ-পনেরোর মধ্যে গাড়ি মধ্য কলকাতার এক স্ন্যাকবারের দরজায়। সবে বারোটা বাজে, দোকানে এখন তেমন ভিড় নেই। সকালের পরোটা-আলুচচ্চড়িতে পেট এখনও গজগজ, মাসি-বোনঝি কারওই তেমন খিদে পায়নি, তবু একপ্লেট করে স্যান্ডুইচের অর্ডার দেওয়া হল। সঙ্গে কফি।

    মনে মনে ঘটনা পরম্পরা সাজানোর চেষ্টা করছিল টুপুর। স্যান্ডুইচ হাতে তুলে বলল, একটা ব্যাপার কিন্তু দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। কোনও পেশাদার অপরাধী রনিকে অপহরণ করেনি। যে করেছে, সে রনির যথেষ্ট পরিচিত।

    বটেই তো। নইলে রনি নির্বিবাদে তার সঙ্গে যাবে কেন!

    ইস, রনি যদি একবার গাড়ির নাম্বারটা খেয়াল করত।

    বড়রাই করেন না, ও তো একটা বাচ্চা। আমাদের বাড়ির তলায় যদি একটা লাল মারুতি দাঁড়িয়ে থাকে, তুই কি প্রথমে ধরে নিবি না গাড়িটা মিতিনমাসির? নাম্বার মেলানোর কথা কি আগে মাথায় আসবে?

    তা ঠিক। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই চেনা লোকটি রনির আই-ডি কার্ড পেল কোত্থেকে? স্কুলের কারও সঙ্গে যোগসাজশ করেই কি পুরনো কার্ডটা…!

    কার্ড জোগাড় করার আরও নানান উপায় আছে রে। যাক গে, তোর যা মনে হচ্ছে বলে যা, শুনছি।

    আমার ধারণা…। টুপুর ঢোক গিলল, দুষ্কর্মের প্ল্যানটা ছকা হয়েছে অনেক আগে। যখন পুরনো কার্ডগুলো ক্লাসটিচারের জিম্মায় এসেছে, তখনই…!

    তার মানে বলছিস প্রিয়াঙ্কাও এর সঙ্গে জড়িত?

    সরাসরি যোগ না থাকলেও, কিছু দায় তো তাঁর আছেই। প্রথমত, কার্ডগুলো তিনি নষ্ট করেননি। দ্বিতীয়ত, নিশ্চয়ই তিনি কার্ডগুলোকে যথেষ্ট সাবধানে রাখেননি। আর সেই সুযোগ নিয়েই কেউ… হয়তো ওই দরোয়ানটাই রনির পরিচিত লোকের কাছে কার্ডটা পাচার করেছিল। যেহেতু সে অপরাধের অংশীদার, তাই হয়তো ছুটির সময় ইচ্ছে করে কার্ডটা ভাল করে চেক করেনি। প্রিয়াঙ্কাম্যাডাম তো কিছুই দেখেন না, অতএব লোকটাকে সন্দেহের মুখে পড়তেও হয়নি৷ টুপুর আশান্বিত চোখে তাকাল, কী গো, ভুল বললাম?

    না। সেভাবে দেখতে গেলে তো প্রিয়াঙ্কা স্বয়ং জড়িয়ে থাকতে পারেন। গোটা সংসারের দায় তাঁর কাঁধে, পরিবার চালাতে তাঁর খরচ-খরচাও কম নয়…! প্রলোভনে উনি পড়তেই পারেন।

    তবে? টুপুর আরও উৎসাহিত, প্রশ্ন এখন একটাই। নাটের গুরুটি কে? আমার তো মনে হয় রাকেশ। মানে মিস্টার জরিওয়ালার হন্ডা সিটির ড্রাইভার।

    সে বেচারাকে সন্দেহ করার কারণ?

    তার ছুটি নেওয়া এবং রনি-অপহরণ একই সঙ্গে ঘটল, এটা কি কাকতালীয়? দুটো ঘটনার মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই? যেমন পুরনো কার্ড এ বছর ক্লাসটিচারের হেপাজতে থাকা আর রনিকে গুম করা, দুটো ঘটনা একই সময়ে ঘটা মোটেও আকস্মিক হতে পারে না।

    উম, তোর মগজ তো দেখছি পাকছে! বেশ পেঁচিয়ে-পেঁচিয়ে ভাবতে শিখেছিস! মিতিন মুচকি হাসল, আর-একটা ঘটনাও কিন্তু ঘটেছে রে। সেটাও কাকতালীয় না হতে পারে।

    কী বলো তো?

    প্রিয়াঙ্কার স্টেটমেন্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মনে করার চেষ্টা কর। টুপুরের পুরো গুলিয়ে গেল। স্টেটমেন্টের কোন অংশটার কথা বলছে মিতিনমাসি? উপযাচক হয়ে হন্ডা সিটির খবর শোনানোটা, নাকি…?

    ভাবনার মাঝেই মিতিনমাসির মোবাইল বাজল। মনিটরে নাম দেখে তাড়াতাড়ি ফোন কানে ধরল মিতিনমাসি, হ্যাঁ অনিশ্চয়দা, বলুন? ও, ফোনবুথটা লেক টাউনে? বাঙ্গুর অ্যাভেনিউ? হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝেছি। থ্যাঙ্ক ইউ দাদা। পরে বলব। সম্ভবত পরশু আপনার সাহায্য লাগবে। সময় আর জায়গা আপনাকে জানিয়ে দেব।

    চলভাষযন্ত্র নীরব হওয়ার পর টুপুর কলকল করে উঠল, রনিকে তা হলে লেক টাউনে রেখেছে?

    উঁহু। ফোনটা ওখান থেকে এসেছিল। এবং এর থেকে কিছুই প্রমাণ হয় না। মিতিন ব্যাগের চেন টানল। মাথা নেড়ে বলল, তবে একবার তো যেতে হবেই। যদি বুনো হাঁসের পিছনে তাড়া হয়, তবুও।

    বিল মিটিয়ে ফের লাল মারুতি ফের ছুটল গাড়ি। মূল শহর ছেড়ে বাইপাস পৌঁছোতে প্রায় চল্লিশ মিনিট লেগে গেল। এত জ্যাম রাস্তায়!

    উলটোডাঙার মুখে এসে আবার মিতিনের মোবাইল ঝনঝন।

    গাড়ি চালানোর সময় ফোন ধরে না মিতিন, মাসির ব্যাগ খুলে টুপুরই বোতাম টিপল। ও প্রান্তে মিসেস জরিওয়ালা। গলা থরথর কাঁপছে, ম্যাডাম, সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে!

    নিজের পরিচয় দিতে ভুলে গেল টুপুর। উৎকণ্ঠিত স্বরে বলল, নতুন কী ঘটল আবার?

    এইমাত্র একটা ফোন এসেছিল। আই মিন, রনির কিডন্যাপারের।

    কী বলছে?

    রুস্তমজি যে আপনাকে অ্যাপয়েন্ট করেছে, সেটা ওরা জেনে গিয়েছে।

    তো?

    খুব শাসাচ্ছিল। কেউ কোনওরকম গোয়েন্দাগিরি চালালে রনিকে ওরা মেরে দেবে।

    তা আমরা এখন কী করব?

    আমি রুস্তমজিকে বলছি আপনাদের রুপিয়া দিয়ে দিতে। আপনারা আর কিচ্ছু করবেন না, প্লিজ! অনুগ্রহ করে আমার রনিকে নির্বিঘ্নে ফেরত পেতে দিন।

    টুঁ শব্দটি না করে লীলার বক্তব্য শুনল মিতিন। চোয়াল শক্ত হল ক্রমশ। জ্বলছে চোখ জোড়া। তবে গাড়ি কিন্তু চালাচ্ছে একই গতিতে। এতটুকু ছন্দপতন নেই।

    টুপুর নিচু গলায় ডাকল, মিতিনমাসি?

    উঁ?

    ফোনবুথ-টুথে গিয়ে আর লাভ আছে কোনও?

    লাভ-লোকসানের হিসেব কষা গোয়েন্দার কাজ নয়। কেস যখন নিয়েছি, শেষ না দেখে ছাড়ব না।

    বাচ্চাটার যদি কোনও ক্ষতি হয়ে যায়?

    হবে না।

    কী করে জোর দিয়ে বলছ?

    যারা ভয় দেখায়, তাদের কলজের জোশ কম। জানবি, তারা নিজেরাই ভয় পেয়েছে।

    .

    ০৬.

    সবে ফাল্গুন মাস চলছে। তবে দুপুরের রোদ এখনই যথেষ্ট কড়া। বেলা আড়াইটে বাজে, বাঙ্গুর অ্যাভেনিউয়ের পথঘাটে লোক নেই বিশেষ। মিতিনদের অবশ্য কপাল ভাল, খুব একটা খোঁজাখুঁজি করতে হল না, সহজেই সন্ধান মিলল ফোনবুথখানার।

    বড় রাস্তার উপরেই খুপরি দোকান। বাইরে জ্বলজ্বল করছে সাইনবোর্ড। দোকানের অর্ধেকটা কাঁচ দিয়ে ঘেরা টেলিফোন-ঘর, বাকি জায়গাটুকুতে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে এক প্রৌঢ় মানুষ। টেবিলে খাতাপত্র আর বিলিং মেশিন।

    গাড়ি থেকে নেমে সটান দোকানে ঢুকল মিতিন। ফাঁকা বুথে একা-একা ঢুলছিলেন ভদ্রলোক। ভরদুপুরে মিতিনদের আগমনে ধড়মড়িয়ে উঠলেন। চোখ কচলে বললেন, লোকাল কল করবেন?

    এস টি ডি?

    কোনওটাই নয়। মিতিন নিজের কার্ড বাড়িয়ে দিল, একটা ইনফরমেশন চাই।

    ভদ্রলোক কার্ড উলটেপালটে দেখলেন বটে, তবে যেন ঠিকঠাক বুঝতে পারলেন না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন।

    মিতিন ভারিক্কি গলায় জিজ্ঞেস করল, বুথে কি আপনিই থাকেন সারাদিন?

    কেন বলুন তো?

    আমার জানা দরকার, কাল বিকেল-সন্ধেয় এখানে কে ছিল?

    আমিই তো থাকি। কালও নিশ্চয়ই আমিই ছিলাম।

    ভালভাবে মনে করে দেখুন তো, কাল বিকেল সাড়ে ছটা নাগাদ কে বা কারা এখানে ফোন করতে এসেছিল।

    অত খেয়াল থাকে নাকি? কত লোক ঢুকছে, বেরোচ্ছে…! আর বিকেল-সন্ধেতে তো ভাল ভিড় থাকে।

    এখান থেকে কোথায় ফোন যাচ্ছে না যাচ্ছে, তার রেকর্ড থাকে নিশ্চয়ই?

    বিলে নাম্বার থাকে। আমি ওসব রেকর্ড রাখি না। অযথা কাগজের জঞ্জাল কে বাড়ায়?

    কিন্তু কাল এখান থেকে এমন একটা কল হয়েছে, যার জন্য আপনি ঝামেলায় পড়তে পারেন।

    কেন? কী হয়েছে? ভদ্রলোক এতক্ষণে যেন সন্ত্রস্ত, কে ফোন করেছে এখান থেকে?

    ভয়ংকর এক অপরাধীর গ্যাং। মিতিন গলাটাকে বেশ রহস্যময় করল, পুলিশ কিন্তু আপনাকে এসে ধরবেই।

    এ কী ফ্যাসাদ রে বাবা! ভদ্রলোকের মুখ-চোখ শুকিয়ে গেল, ব্যাপারটা কী, খুলে বলবেন তো!

    এক্ষুনি জানানো যাবে না। শুধু এটুকু বলতে পারি, এসেছিল দুজন। তারা একসঙ্গে বুথে ঢুকেছিল। ঠিক সাড়ে ছটায়। মিতিনের চোখ সরু, কিছু স্মরণে আসছে কি?

    দাঁড়ান, দাঁড়ান। ভদ্রলোক চোখ বুজে ভাবলেন একটু। তারপর ঘাড় নাড়তে-নাড়তে বললেন, সময়টা আমি অত দেখিনি, তবে সন্ধের মুখে-মুখে… সাইকেল নিয়ে… দুটো কল করল দুজনে…!

    দুজনই ছিল তো?

    হ্যাঁ। ওই মোড়ের বাড়ির ভদ্রমহিলা তখন বুথে। আই এস ডি করছিলেন। লোক দুটো এখানেই দাঁড়িয়ে ছিল, এই টেবিলের সামনে। একজনের কাঁধে কিটব্যাগ ছিল। ঘড়ি দেখছিল ঘনঘন। আমাকে দু-একবার তাড়াও লাগাল।

    কীরকম বয়স তাদের?

    নিখুঁতভাবে বলি কী করে? তবে ধরুন গিয়ে… পঁয়ত্রিশ চল্লিশটল্লিশ…!

    কেমন দেখতে?

    অর্ডিনারি। চেহারায় তো সন্দেহ করার মতো কিছু দেখিনি।

    পোশাক কী ছিল বলতে পারবেন?

    না ম্যাডাম। অত আমি লক্ষ করি না। তবে খুব একটা উৎকট পোশাক ছিল না, এটুকু জানাতে পারি। তেমন হলে তো চোখে লাগত।

    হুম। ফোন শেষ হওয়ার পর তারা কী করেছিল?

    বিল পেমেন্ট করল। তারপর সাইকেল ফুটপাথে দাঁড় করানো ছিল, চড়ে চলে গেল।

    দুজনের দুটো সাইকেল?

    হ্যাঁ। না, না, সাইকেল বোধহয় একটাই ছিল।

    টুপুর আর চুপ থাকতে পারল না। ভুরু কুঁচকে বলল, তার মানে একটা সাইকেলেই দুজনে…?

    তাই হবে। কে জানে, আমি হয়তো ভুলও বলতে পারি।

    যেটুকু স্মরণ করতে পারলেন, সেটুকুই যথেষ্ট। মিতিন চিলতে হাসল, আপনাকে একটি অনুরোধ আছে।

    বলুন?

    আমার কার্ডটা ড্রয়ারে রেখে দিন। যদি লোক দুটো আবার আসে বা পথেঘাটে তাদের দেখে চিনতে পারেন, সঙ্গে সঙ্গে আমাকে খবর দেবেন।

    অবশ্যই। ভদ্রলোক জোরে জোরে মাথা নাড়লেন। তারপর হঠাৎই দৃষ্টি সরু, লোক দুটো কি কাউকে খুনটুন করেছে ম্যাডাম?

    ওই গোছেরই কিছু। এখন বলা বারণ।

    ভদ্রলোককে আর কোনও প্রশ্নের অবকাশ না দিয়ে মিতিন সোজা দোকানের বাইরে। গাড়ি স্টার্ট করে টুপুরকে বলল, তোর মেসোকে একটা ফোন লাগা তো। দ্যাখ তো, কদ্দূর এগিয়েছে।

    মাসির ব্যাগ খুলে মোবাইলটা বের করতে-করতে টুপুর বলল, এখান থেকে কিন্তু খানিকটা দিশা পাওয়া গেল।

    যেমন?

    সাইকেলে যখন এসেছিল, লোক দুটো নির্ঘাত কাছাকাছি কোথাও থাকে।

    অসম্ভব নয়।

    অতএব রনিকেও ধারেকাছে কোথাও রেখেছে।

    হুম। নে, এবার ফোনটা লাগা।

    মেসোর নাম্বার টেপার আগেই মোবাইলে বাজনা। স্বয়ং রুস্তমজির কল।

    চমকে গিয়ে মিতিনমাসিকে ফোনটা বাড়িয়ে দিতে যাচ্ছিল টুপুর, মিতিনের ইশারায় নিজের কানেই চাপল, মাসি এখন ড্রাইভ করছেন মিস্টার জরিওয়ালা। কিছু খবর থাকলে আমায় দিতে পারেন।

    তিন-চার সেকেন্ড পর রুস্তমজির গলা শোনা গেল, ওয়েল, লীলা একটু আগে আমায় ফোন করেছিল। ওকে কিডন্যাপাররা খুব ভয় দেখিয়েছে।

    জানি! ম্যাডাম মাসিকে বলেছেন।

    ইয়েস, আমি সেটাও শুনেছি।

    ও।

    আমার এখন জানার বিষয়, আপনার… আই মিন তোমার মাসি এখন কী করতে চান? আর এগোবেন? না তদন্তটা এখানেই স্টপ করে দেবেন?

    আড়চোখে মিতিনমাসিকে দেখে নিয়ে টুপুর বলল, কোনও ইনভেস্টিগেশন শুরু করে মাঝপথে থেমে যাওয়াটা মাসির স্বভাবে নেই, মিস্টার জরিওয়ালা।

    এটা খুবই প্রশংসনীয়। আমি এই অ্যাটিটিউডটাই বেশি পছন্দ করি। তবে উনি যদি এখানেই থেমে যেতে চান, তা হলেও আমার আপত্তি নেই। আমি ওঁকে যথাযথ ফিজ দিয়ে দেব। লীলার উপর দিয়ে যে মানসিক ঝড়টা যাচ্ছে, তার কথাও তো মাথায় রাখতে হবে।

    তা ঠিক। তবু…! টুপুর মুহূর্তের জন্য থামল। গলা ঝেড়ে নিয়ে বলল, কাজ না করে ফিজ নেওয়াটাও আমার মাসির ধাতে নেই, মিস্টার জরিওয়ালা। তা ছাড়া মাসি এই কেসটায় বেশ খানিকটা এগিয়েছেন, এখন কিডন্যাপারদের না ধরে আগেই থেমে যাওয়াটা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত অসম্মানজনক।

    ও প্রান্তের স্বর একটুক্ষণ নীরব। তারপর আবার বাজল, ঠিক আছে, ম্যাডাম যা ভাল বুঝবেন তাই করুন। আমিও তো অপরাধীদের শাস্তি চাই। বাই দ্য বাই, উনি কদ্দূর কী এগোলেন, জানতে পারি কি?

    এতক্ষণের সমাচার উগরে দিতে যাচ্ছিল টুপুর, হঠাৎ কাঁধে মিতিনের মৃদু চাপ। ইঙ্গিত বুঝে থমকাল টুপুর। আমতা-আমতা করে বলল, মাসি আপনাকে সব জানাবে।

    ওকে। নো প্রবলেম। ম্যাডামের ফোনের অপেক্ষায় রইলাম। ৬০।

    ফোনটা ছাড়তেই মিতিন হালকা গলায় বলল, তোকে তো দেখছি এবার রেমিউনারেশন দিতে হবে রে।

    কেন গো?

    যা ওস্তাদ হয়ে উঠছিস দিনদিন! কী সুন্দর গুছিয়ে কথা বললি রুস্তমজির সঙ্গে।

    মিতিনমাসির মুখে এমন তারিফ শুনলে টুপুরের পুলক না জেগে পারে! একগাল হেসে বলল, মানছ তা হলে আমি তোমার যোগ্য সহকারী?

    অনেকটা। তবে আরও দু-চারটে কথা রুস্তমজিকে বলা উচিত ছিল।

    কীরকম।

    কিডন্যাপারদের ফোন আবার আসবে। রুস্তমজি যেন প্রতিটি কলের নাম্বার আর টাইম নোট করেন এবং অবিলম্বে আমাকে জানিয়ে দেন।

    ঠিকই তো! এটা তো মাথায় আসেনি? টুপুর ঝটিতি মোবাইলটা হাতে নিল, বলে দিই রুস্তমজিকে?

    হুটোপুটির দরকার নেই। ফোন এলে উনি নিজেই করবেন।

    তা হলে আমাকে দোষ দিচ্ছ কেন?

    যেটা বলা উচিত ছিল, সেটা তোকে শেখাচ্ছি। লেক টাউন ছেড়ে ভি আই পি রোডে পড়ল গাড়ি। বাঁয়ে গাছপালা আর সরু খালের ওপারে সল্টলেকের বাড়িঘর। একটা ফুটব্রিজও গিয়েছে সেদিকপানে। আলগাভাবে ফুটব্রিজটাকে দেখে নিয়ে মিতিন বলল, তুই কিন্তু দরকারি ফোনটার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছিস টুপুর।

    এ তো রীতিমতো কর্তব্যে গাফিলতি। টুপুর জিভ কাটল। পার্থমেসোর লাইনটা টিপে মাইক্রোফোনটাও চালু করে দিল।

    কী গো মেসো, সাড়াশব্দ নেই কেন?

    আর বলিস না। শ্যামলকে তো ফোনে ধরতেই পারছিলাম না। এনগেজড, এনগেজড…।

    তা হলে?

    পেয়েছি শেষ পর্যন্ত। শ্যামল একটু টাইম চাইল। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ডিটেল পেয়ে যাব। তোরা কোথায়?

    এবার টুপুর নয়, মিতিনের জবাব। গলা তুলে বলল, আমরা তোমার প্রেসে যাচ্ছি। ট্রাফিক নরমাল থাকলে মিনিট কুড়ির মধ্যে পৌঁছে যাব।

    লাগল অবশ্য প্রায় এক ঘণ্টা। দুপুরবেলা প্যাসেঞ্জার তোলার জন্যে বাস-মিনিবাসগুলো যেভাবে যত্রতত্র রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। তাদের টপকে এগোনোর সাধ্য আছে গাড়িঘোড়ার? তার উপর বউবাজারের রাস্তা তো অকহতব্য। ট্রাম, বাস, টানারিকশা, ট্যাক্সি, ঠেলাগাড়িতে তো থিকথিকে জ্যাম। পার্থর প্রেস পর্যন্ত তো পৌঁছেতেও পারল না গাড়ি। যানজট আর ভিড়ের চোটে বেশ খানিকটা আগে মারুতিকে রাখতে হল। তারপর ধাক্কা খেতে-খেতে বাকি পথটুকু হন্টন।

    পার্থর প্রেসে আগে কখনও আসেনি টুপুর। চেহারা দেখে একটু বুঝি হতাশই হল। আদ্যিকালের এক জীর্ণ বাড়ির নীচের তলায় দুখানা ঘর নিয়ে পার্থর ছাপাখানা। রাশিরাশি কাগজ গড়াগড়ি খাচ্ছে মেঝেয়, কোণেও দাঁড় করানো আছে নানান রঙের কাগজের রোল। তার মাঝেই কম্পিউটার, ডি টি পি মেশিন, চেয়ার, টেবিল, কাঠের র‍্যাক…। একটা ঘরে কম্পোজের কাজ চলছে, অন্যটায় মুদ্রণ। ভিতরে নড়াচড়ার জায়গা এত কম, পা রাখলেই যেন দমবন্ধ হয়ে আসে। দুটো ঘরেই অবশ্য এ সি চলছে, এটাই যা বাঁচোয়া!

    মিতিন-টুপুরকে দেখে পার্থ ব্যস্ত হয়ে পড়ল। চা, কফি, না ঠান্ডা পানীয় কী আনাবে ভেবে পেল না। শেষে বুদ্ধি করে ডাব আনতে পাঠাল একজনকে। টুপুরকে বলল, তোদের পেটে কিছু পড়েছে? নাকি খাবার আনাব?

    আমাদের নিয়ে চিন্তা পরে। মিতিনের কেজো প্রশ্ন, কাজটা হল কি?

    ও শিয়োর। শ্যামল আমার মান রেখেছে। এইমাত্র ফোন করেছিল। বলতে-বলতে টেবিল থেকে একটা চিরকুট তুলে পড়ল পার্থ, লাস্টে ছয় আর নয় নাম্বারওয়ালা একটা কালো হন্ডা সিটির সন্ধান মিলেছে। পুরো নাম্বার টু ওয়ান সিক্স নাইন। দু হাজার আট সালের গাড়ি, রেজিস্ট্রেশনটা কমার্শিয়াল, অর্থাৎ ভাড়া খাটে। মালিকের নাম দ্বিজেন হালদার। কার রেন্টের ব্যবসা আছে। ঠিকানা, সেভেন বি, মিডলটন রো! ফোন নাম্বার…!

    লাগবে না। মিতিন একটা টুল টেনে বসে ছিল, তড়াক উঠে দাঁড়াল, চল টুপুর, বেরিয়ে পড়ি। দ্বিজেন হালদারকে এক্ষুনি মিট করতে হবে।

    আহা, ডাবটা তো খেয়ে যাও।

    সময় নেই, পার্থ। মিডলটন রো যেতে কতক্ষণ আবার লাগে! গিয়ে লোকটাকে পাব, কি পাব না, কে জানে! মিতিন ঘড়ি দেখল, তুমিও সঙ্গী হতে পারো। যদি অবশ্য কাজের প্রেশার না থাকে।

    পার্থ বুঝি মুখিয়েই ছিল। কর্মচারীদের নির্দেশ দানের পালা সেরে সে তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত। চোখে রোদচশমা চড়িয়ে বেরিয়ে পড়ল প্রেস ছেড়ে। গাড়িতে এসে নিজেই চালকের আসনে বসল।

    ছুটল গাড়ি। দক্ষিণ মুখে।

    ভিতরে ভিতরে দারুণ একটা উত্তেজনা অনুভব করছিল টুপুর। কী চমৎকার সরল গতিতে এগোচ্ছে তদন্ত। কিডন্যাপারের কল থেকে একটা ফোনবুথের সূত্র মিলেছিল, সেখানে হানা দিয়ে তাদের পুরোপুরি নিরাশ হতে হয়নি। অন্তত এটুকু তো অনুমান করা গেল, অপরাধীরা কোন অঞ্চলের! মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গাড়ির হদিশও হাতের মুঠোয়। এবার নিশ্চয়ই অপরাধীর টুটি চেপে ধরতে অসুবিধে হবে না! বেচারা রনিটাকে যদি আজই উদ্ধার করা যায়…!

    সাতের বি মিলটন রো মোটেই দ্বিজেন হালদারের বসতবাড়ি নয়। ঠিকানাটি কার রেন্টাল অফিসেরই। আরও অনেক অফিস আর দোকানপাটের মাঝে ফালি ঘরে স্টার টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস। খুদে অফিসটি রীতিমতো ঝাঁ চকচকে। দ্বিজেন হালদার মানুষটিও বেশ কেতাদুরস্ত। সবুজ সেক্রেটারিয়েট টেবিলের ওপারে ঘোরানো-চেয়ারে আসীন। সামনে ল্যাপটপ। চারপাশে সুদৃশ্য কাঠের প্যানেলিং করা দেওয়ালে পৃথিবীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের ফোটো। একটি গণেশের মূর্তিও আছে। দ্বিজেন হালদারের ঠিক মাথার উপরে, কাচের তাকে। টাটকা মালা পরানো। ধূপের গন্ধও আবছাভাবে নাকে আসে যেন।

    ল্যাপটপে আঙুল চলছিল দ্বিজেন হালদারের। মিতিনদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ তুললেন সুট-টাই পরা বছর পঞ্চাশের মানুষটি। চেয়ারে হেলান দিয়ে কেতাবি ঢঙে বললেন, ইয়েস? হাউ ক্যান আই হেলপ ইউ?

    পার্থকে শেখানোই ছিল। কাঁধ ঝাঁকিয়ে পার্থ বলল, আমাদের একটা গাড়ি চাই। কাল দুপুরে।

    আপনারা কে? কোত্থেকে আসছেন?

    সেটা জানা বুঝি খুব জরুরি? পার্থও কায়দা মেরে বলল, ওয়েল, আমি হরিসাধন সরকার, ইনি আমার স্ত্রী তারাসুন্দরী সরকার, আর এই মেয়েটি হল…!

    এক সেকেন্ড। দ্বিজেন হাত তুলে থামালেন পার্থকে।

    তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন, সরি স্যার। আমরা পার্সোনালি কাউকে গাড়িভাড়া দিই না।

    সে কী? কালই তো এখান থেকে একটা কালো হন্ডা সিটি, যার নাম্বার টু ওয়ান সিক্স নাইন, কোনও একজনকে ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দিয়েছিলেন।

    দ্বিজেন হালদারের ভ্রূ-তে ভাঁজ। বিরক্ত স্বরে বললেন, আপনারা ঠিক কে বলুন তো? কী চান, অ্যাঁ?

    পার্থ নয়, এবার মিতিন মুখ খুলল। আই-ডি কার্ড বাড়িয়ে দিয়ে শীতল গলায় বলল, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, অকারণে আসিনি? আশা করি আপনার সহযোগিতা পাব?

    যৎপরোনাস্তি বিস্মিত হলেন দ্বিজেন। একটুক্ষণ গুম থেকে কাঠ কাঠ গলায় বললেন, আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে আমি বাধ্য নই। তবে আমি কোনও ঝঞ্ঝাট-ঝামেলাও চাই না। বলুন আপনাদের কী জানার আছে?

    ওই বিশেষ গাড়িটি কাল ভাড়া খাটতে গিয়েছিল কি?

    হ্যাঁ।

    রাতে নিশ্চয়ই ফিরেছে?

    না। পার্টি চারদিনের জন্য নিয়েছে গাড়িটা। তাদের কোনও গেস্ট এসেছে ফরেন থেকে, গাড়ি নিয়ে অতিথিরা মন্দারমণি গিয়েছে।

    কাল কখন থেকে ভাড়া ছিল গাড়ি?

    দুপুর থেকে। বেলা দুটোয় রিপোর্টিং ছিল।

    কোথায়?

    এটাও বলতে হবে? দ্বিজেনের স্বর রুক্ষ, বেলেঘাটা। টাওয়ার অফ সাইলেন্সের গেটে।

    মিতিনের দৃষ্টি চকিতে স্থির, আপনার পার্টির নাম জানতে পারি?

    দ্বিজেন ক্ষণকাল চুপ। তারপর যেন খানিক ইতস্তত করে বললেন, এঁরা আমার খুব পুরনো ক্লায়েন্ট। প্রায়শই অফিশিয়াল কাজে আমার গাড়ি নেন…! কার্পেট ইমপোর্ট-এক্সপোর্টের ব্যবসা তো, মাঝে মাঝেই বাইরে থেকে লোক আসে…!

    আপনি কাদের কথা বলছেন?

    রুস্তমজি জরিওয়ালা। যাঁদের ফ্যান্টাসি ব্র্যান্ডের কার্পেট আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস

    April 23, 2026
    Our Picks

    হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস

    April 23, 2026

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }