Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প702 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০১-২. শিবালিক পর্বতমালা

    কুড়িয়ে পাওয়া পেনড্রাইভ – মিতিনমাসি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    শিবালিক পর্বতমালা ধরে ছুটছিল গাড়িখানা। গাছগাছালিতে ছাওয়া সবুজ পাহাড়ের গা বেয়ে। চক্রাকার রাস্তা কখনও চড়াই তো কখনও উতরাই। পথের কিনারে গভীর খাদ এই যদি বাঁয়ে তো এই ডাইনে। ভয়ংকর ওইসব খাদের পানে তাকালে গা শিরশির করে, মাথা ঘুরে যায়। টুপুরের অবশ্য চক্কর টক্কর লাগে না। তা ছাড়া আনন্দে সে এখন রীতিমতো ডগমগ।

    পুজোর ছুটিটা যা জমে উঠেছে এবার! জব্বর একখানা চমক দিল বটে পার্থমেসো। আগে কিচ্ছুটি জানায়নি, হঠাৎ সপ্তমীর সকালে ট্রেনের টিকিট নিয়ে হাজির। শুধু টুপুর নয়, টুপুরের মা-বাবাকেও যেতে হবে। দশমীর সন্ধেয় দিল্লি-কালকা মেলে যাত্রা শুরু, তারপর কটা দিন হিমাচল প্রদেশে চরকি খেয়ে লক্ষ্মীপুজোর পরে ব্যাক। টুপুরের তো পোয়াবারো। কলকাতার দুর্গাপুজোটাও মিস হল না, আলটপকা একটা ভ্রমণও জুটে গেল কপালে। তাও হেঁজিপেঁজি বেড়ানো নয়, কুলু, মানালি, রোটাং! টুপুরের স্বপ্নের দেশ!

    আজ কাকভোরে ট্রেন থেকে নেমেছে টুপুররা চণ্ডীগড়ে। সেখানেই ভাড়া করা হল এই সাত আসনের গাড়ি এবং তৎক্ষণাৎ রওনা। ভাকরা নাঙ্গাল বাঁধ পেরিয়ে পঞ্জাবের রোপারে ব্রেকফাস্ট, তারপর দুপুর দুপুর মান্ডি পৌঁছে মধ্যাহ্নভোজ। এবার তাদের গন্তব্য কুলু।

    গাড়ির একদম পিছনের সিটে মিতিন আর বুমবুম। পথশ্রমে বুমবুম বেশ ক্লান্ত, মায়ের কোলে মাথা রেখে দিব্যি ঘুমোচ্ছে সে। মাঝের আসনে টুপুর, সহেলি আর অবনী। পার্থ বসেছে ড্রাইভারের পাশে, হাতে হিমাচল প্রদেশের একখানা প্রকাণ্ড ম্যাপ। তীক্ষ্ণ চোখে কাগজখানা দেখছে পার্থ, আর হঠাৎ হঠাৎ চোখ তুলে তাকাচ্ছে ইঁতিউতি। যেন মানচিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছে পথঘাট!

    ম্যাপখানা মুড়ে পার্থ আচমকা চালকের পানে ঘাড় ঘোরাল, ভাইসাব, অভি তক হম কিতনা কিলোমিটার আয়া?

    চালকটি এক তরুণ শিখ। নাম টিঙ্কু সিং। তারস্বরে পঞ্জাবি গান চালিয়েছে টিঙ্কু। গান না বাজালে পাহাড়ি রাস্তায় তার নাকি চোখ বুজে আসে। স্পিকারের আওয়াজ সামান্য কমিয়ে টিঙ্কু বলল, চণ্ডীগড়সে মান্ডি দোশো কিলোমিটার। উসকে উপর তিস-চাল্লিশ জোড় লিজিয়ে।

    তার মানে কুলু এখনও পঁচিশ-তিরিশ কিলোমিটার। পৌঁছোতে পৌঁছোতে সন্ধে হয়ে যাবে।

    সহেলি খানিক ঝিমোচ্ছিলেন। ধড়মড়িয়ে সোজা হয়ে বললেন, এই সেরেছে। তার মানে অন্ধকারের মধ্যে পৌঁছোব? একটা অচেনা, অজানা জায়গায়?

    তো? জঙ্গলে গিয়ে পড়ছি নাকি? এত বিখ্যাত একটা টুরিস্ট প্লেস! হিমালয়ের একটা প্রধান গেটও বলা যায়।

    কিন্তু গিয়ে হোটেল খুঁজতে হবে যে। আমাদের তো কোনও বুকিং টুকিং নেই!

    ওটা কোনও সমস্যা নাকি? অবনী এবার ঢাউস বই থেকে মুখ তুলেছেন। নিশ্চিন্ত সুরে বললেন, তোমার গ্রেট সিস্টার আছে না টিমে? প্লাস, এমন ওস্তাদ ভগ্নিপতি পার্থ?

    বাহ-বাহ, সব দায় বুঝি ওদের, অ্যাঁ? তুমি খালি বসে বসে ঠ্যাং নাচাবে। আর থান ইট গিলবে?

    অভিযোগটা একশো ভাগ সত্যি। পরশু সন্ধেয় ট্রেনে চড়ার পর থেকে কুটোটি নাড়েননি অবনী। মালপত্র তোলা নামানো, রাতে শোওয়ার বন্দোবস্ত, খাওয়ার জোগাড়, চণ্ডীগড়ে নেমে গাড়ির জন্য ছোটাছুটি, সমস্ত ঝক্কি মিতিন আর পার্থ পালা করে সামলেছে। এদিকে অবনী বইই পড়ে চলেছেন একটানা। সম্প্রতি সমুদ্র সম্পর্কে বেজায় আগ্রহ জেগেছে অবনীর, তাই তিন-তিনখানা ওশিয়ানোগ্রাফির বই নিয়ে চলেছেন পাহাড়ে। টুপুরের বাবার এ হেন বিদঘুটে খেয়ালে টুপুরের মা তো বিরক্ত হতেই পারেন।

    অবনী অবশ্য গ্রাহ্যেই আনলেন না সহেলিকে। হাই মাইনাস পাওয়ার চশমাখানা ঠিক করতে করতে বললেন, আরে বাবা, ওরা অল্পবয়সি, ওসব কাজ তো ওদেরই মানায়। তার উপর মিতিন হল গিয়ে ডিটেকটিভ। সুপারস্মার্ট লেডি। পার্থও যথেষ্ট চালাকচতুর বিজনেসম্যান। আমার মতো আজীবন ছাত্র ঠেঙানো এক সাধারণ কলেজ মাস্টারের সঙ্গে ওদের তুলনা হয় নাকি?

    সহেলি রেগে টং। তর্জনী উঁচিয়ে বললেন, তোমার কায়দাবাজির কথা রাখো। সাফ বলে দিচ্ছি, কুলুতে কিন্তু মিতিন-পার্থ মোটেই গাড়ি থেকে নামবে না। তুমি একা গিয়ে একটা ভাল হোটেলের ব্যবস্থা করবে।

    রাতটা তা হলে গাড়িতেই কাটবে রে দিদি, মিতিন মুচকি হেসে ফোড়ন কাটল, তারপর ভোর হলে আমাদেরই বেরোতে হবে অবনীদাকে খুঁজতে।

    পার্থ হা-হা হেসে উঠল। টুপুরও হাসছে মিটিমিটি। চোয়াল শক্ত রেখেও নিজেকে সামলাতে পারলেন না সহেলি, হেসে ফেলেছেন ফিক করে। ব্যস, অবনীকে আর পায় কে! ফের তিনি বইয়ের পাতায় মনোযোগী।

    অপাঙ্গে তাঁকে একবার দেখে নিয়ে পার্থ বলল, এবার জায়গা বুঝে কোথাও একটু দাঁড়ালে হয় না?

    টুপুর জিজ্ঞেস করল, কেন?

    স্ন্যাকস ব্রেক। এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে শিঙাড়া কিংবা চপ।

    তুমি এখন খেতে পারবে? দুপুরে না দশ-এগারোখানা রুটি সাঁটালে?

    সর্বনাশ, তুই গুনছিলি নাকি? পার্থ হ্যা-হ্যা হাসল, এমন চমৎকার পাহাড়ি জায়গা! নির্মল বাতাস, নো পলিউশন, যা খাচ্ছি তুরন্ত হজম। পেট ফের হাঁক পাড়ছে রে।

    পেট ছাড়া আরও অঙ্গ আছে মশাই, মিতিন কুটুস হুল ফোটাল, চোখ দুটোকেও একটু ইউজ করো। সিনসিনারিগুলো দ্যাখো।

    দেখার এখন আছেটা কী? মান্ডির পর সেই যে শুরু হল, শুধু পাহাড় আর পাহাড়, পাহাড় আর পাহাড়। দু’ঘণ্টা ধরে তো পাহাড়ই গুনে যাচ্ছি। তাও যদি একখানা আইস-পিক চোখে পড়ত!

    সঙ্গে সঙ্গে যে বিপাশা নদীটা চলেছে, সেটা নজরে পড়ছে না?

    বিপাশা তো এখন সারাক্ষণ পাশে পাশে থাকবে ম্যাডাম। কুলু-মানালি ছাড়িয়ে সেই রোটাং পাস পর্যন্ত। কতবার যে ওর সঙ্গে মোলাকাত হবে!

    বেশ তো। কিন্তু খানিকক্ষণ আগে যে লেকটা পড়ল, সেটাও তোমার মনে ধরল না?

    উহল নদীর পান্ডো-ড্যাম? পার্থর উদাসী জবাব, মন্দ নয়, তবে কুলু হল গিয়ে ভ্যালি অফ গডস। দেবদেবীদের উপত্যকায় আমি আরও সুন্দর কিছু এক্সপেক্ট করি।

    মিলবে মিলবে, মিতিন আশ্বাস দিল, পৌঁছে দেখো।

    কথোপকথনের মাঝেই সূর্য ঢাকা পড়েছে এক পাহাড়ের আড়ালে। মাথার উপর ঝকঝক করছে আকাশ, তবু আলো যেন মরে এল সহসা। দ্রুত ছায়া ঘনাচ্ছে। পাহাড়ের গায়ে, দূরে দূরে, দেখা যায় ছোট ছোট গ্রাম। আলোছায়া মাখা চাষের খেতগুলোও যে এখন কী অপরূপ!

    টুপুর একদৃষ্টে বাইরেটা দেখছিল। অস্ফুটে বলে উঠল, বিউটিফুল। ঠিক যেন পটে আঁকা ছবি!

    পার্থ ফের ম্যাপে ডুবেছে। জিজ্ঞেস করল, কী রে?

    একবার চোখটা ঘোরাও না। দৃশ্যগুলো মনে হচ্ছে, কেউ যেন তুলি দিয়ে এঁকেছে।

    ন্যাচারাল বিউটি তো আছেই রে। নইলে এখানকার মানুষরা এমনি এমনি জন্ম আর্টিস্ট হয়! পার্থ বিজ্ঞ স্বরে বলল, জানিস নিশ্চয়ই, কুলু উপত্যকায় পেন্টিং-এর একটা নিজস্ব ধারা আছে। লোকাল শিল্পীরা এক একজন তো রীতিমতো তুখোড়। এমন এমন ছবি আঁকে, সাহেবরা পর্যন্ত ভিরমি খেয়ে যায়। কত বিদেশি টুরিস্ট যে এখান থেকে ছবি কিনে নিয়ে যায়।

    সহেলি নড়েচড়ে বসলেন, আমরাও দু-একটা কিনতে পারি। ড্রয়িংরুমে একটাও ভাল পেন্টিং নেই, যদি পছন্দসই কিছু পাওয়া যায়।

    নো প্রবলেম। এখন তো কুলুতে বিখ্যাত দশেরার মেলা চলছে, ওখান থেকেই বেছেবুছে নিতে পারবেন।

    বিখ্যাত কেন বলছ? খুব বড় মেলা নাকি?

    অতি বৃহৎ। ভারতে যে ক’টি আন্তর্জাতিক মেলা বসে, তার মধ্যে কুলুর দশেরার মেলা অন্যতম। দেখবেন, কী এলাহি আয়োজন!

    সত্যি, কুলুতে পৌঁছে চোখ যেন ধাঁধিয়ে গেল। পাহাড়ে ঘেরা শহরখানা আলোয় আলোয় ঝলমল করছে। বড় রাস্তার গায়েই সমতলে বিশাল এক মাঠ, সেখানেই বসেছে মেলা। গিজগিজ করছে মানুষ, মাইক বাজছে, লোকজনের হইহল্লায় চতুর্দিক গমগম।

    রাস্তার একধারে গাড়ি লাগিয়েছে টিঙ্কু। জানলার কাচ নামিয়ে পার্থ উল্লসিত স্বরে বলল, ওয়াও! মেলা তো জমে ক্ষীর!

    টুপুর চকচকে চোখে বলল, ঝপ করে এক পাক ঘুরে নিলে হয় না?

    উঁহু, এখন কোথাও নয়। আগে হোটেল। পরশু বিকেল থেকে শুধু দৌড় চলছে, খানিক জিরিয়ে তবে ঘোরাঘুরি, বলেই সহেলি ঠেলছেন অবনীকে, কী গো, এবার থাকার ব্যবস্থাটা করো।

    অবনী কাঁচুমাচু মুখে বললেন, আ-আ-আমি? এই ভিড়ে কোথায় যাব?

    পার্থ হেসে বলল, আহা, থাক থাক। অবনীদাকে রেহাই দিন। আমি দেখছি।

    তড়াক লাফিয়ে পার্থ রাস্তায়। তাকাচ্ছে এদিক-ওদিক। মিতিন গলা বাড়িয়ে বলল, মেলার মাঠটার নাম ঢালপুর ময়দান। এটাই কুলুর সেন্ট্রাল প্লেস। কাছেই গভর্নমেন্টের টুরিস্ট সেন্টার পাবে, আগে সেখানে খোঁজ নাও।

    হনহনিয়ে এগোল পার্থ। এদিকে বুমবুমের ঘুম ভেঙেছে, জেগেই তিনি একের পর এক বায়না জুড়ছেন! চিপস চাই, কোল্ডড্রিঙ্ক খাবে। অদূরে মেলায় অতিকায় নাগরদোলা দৃশ্যমান, এক্ষুনি তাতে চড়বে বলে রীতিমতো ঘ্যানঘ্যান শুরু করে দিল। মিতিন তাকে ধমকে ধামকে থামাচ্ছিল, পার্থ ফিরে এসেছে। হাত উলটে বলল, নো চাক্স। সরকারি সমস্ত লজ ভরতি।

    তা হলে কী হবে?

    ঘাবড়াচ্ছেন কেন? ঢালপুর ময়দানের আশপাশে অসংখ্য হোটেল, একটা না-একটাতে ঠিক ঢুকে যাব। আপনারা গাড়িতে বসুন, আমি আধ ঘণ্টার মধ্যে জায়গা ফিট করে ফেলছি।

    মিতিন জিজ্ঞেস করল, আমি যাব?

    নো নিড। পার্থ মুখার্জি এই কেসে একাই কাফি।

    মেসো চলে যাওয়ার পর টুপুর নেমে পড়ল গাড়ি থেকে। নেমেছে বুমবুমকে নিয়ে মিতিনও। দোকান থেকে মিতিন চা এনে দিল দিদি-জামাইবাবুকে। টুপুর আর বুমবুমকে চিপসের প্যাকেট। টিঙ্কুকেও চা খেতে ডাকল মিতিন। গেলাস হাতে গল্প জুড়েছে দু’জনে।

    টুপুরের অল্প-অল্প শীত করছিল। গায়ে কার্ডিগান চাপানো, তবুও। হাত দুটো সামনে জড়ো করে টুপুর দেখছিল মেলাটাকে। স্থানীয় মানুষদের গায়ে কী রং-বেরঙের পোশাক! ছেলেদের মাথায় রঙিন টুপি, মেয়েরা সেজেছে রুপোর গয়নায়। ওই টুপিগুলো নিশ্চয়ই কুলু টুপি? দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও টুপি পরে ঘুরছে। মেলায় এসে ছেলেমানুষ বনে গেছেন বড়রাও, অনেকেই ভেঁপু বাজাচ্ছেন। এমনকী, সাহেব-মেমরাও। বিচিত্র বাজনা বাজাতে বাজাতে একদল পাহাড়ি মেয়ে-পুরুষ পাক খাচ্ছে মেলাটাকে। কেউ কেউ নাচ জুড়েছে।

    সবাই মিলে গানও গাইছে কী একটা। কচিকাঁচাদের উল্লাসের অন্ত নেই, তারাও চলেছে পিছু পিছু।

    জনস্রোতের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কতক্ষণ কেটেছে কে জানে, হঠাৎই হন্তদন্ত পায়ে পার্থর আবির্ভাব। গোমড়া মুখে বলল, ব্যাড নিউজ। ভেরি ব্যাড নিউজ। কোত্থাও ঠাঁই নেই। সব ক’টা হোটেল উপচে পড়ছে। সমাচার শুনে সহেলির মুখ পাংশু। কাঁদোকাঁদো গলায় বললেন, আমি এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম। ট্রেনে কতবার বললাম, হোটেল বুকিং না করে বেরোনোটা মোটেই উচিত হয়নি।

    প্যানিক করিস না তো দিদি। পার্থর এলেম বোঝা গেল, এবার আমি একটু চেষ্টা করি? মিতিন গাড়ির দরজা খুলে ধরল, এসো এসো, উঠে পড়ো সকলে। জলদি জলদি।

    পার্থ অবাক মুখে বলল, কোথায় যাবে?

    কোয়েশ্চেন পরে। চটপট বোসো তো সিটে।

    ফের চলা শুরু। মাঠ ছাড়িয়ে, শাঁ শাঁ আরও খানিকটা গিয়ে বাঁয়ে ঘুরল গাড়ি। খাড়াই বেয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। এদিকটায় তেমন আলো টালো নেই, বেশ অন্ধকার অন্ধকার। সরু পথের দু’ধারে ঘরবাড়ি আছে বটে, তবে লোকজন দেখা যায় না বিশেষ। এক-আধজন যাও চোখে পড়ল, তাও সাদা চামড়ার। চড়াই বেয়ে উঠছে হেঁটে হেঁটে।

    টুপুর চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, এদিকেও হোটেল আছে নাকি? এত নির্জনে?

    মিতিনের নির্বিকার জবাব, মনে হয় না।

    পার্থ অসহিষ্ণু স্বরে বলল, তা হলে আমরা চলেছি কোথায়?

    প্রাইভেট কটেজে।

    মানে?

    এখানকার অনেক স্থানীয় মানুষ টুরিস্টদের ঘর ভাড়া দেয়। আমাদের টিঙ্কু সিং এরকম তিন-চারটে কটেজের সন্ধান জানে।

    তাই নাকি?

    ইয়েস। এতক্ষণ তো টিঙ্কুর কাছ থেকে এসবই জানছিলাম। এখন দেখি কপাল ঠুকে।

    প্রথম বাড়িটায় বিফল মনোরথ হতে হল। দ্বিতীয়টাতেও। অবশেষে তৃতীয় একটি কাঠের বাড়ির দোতলায় দু’খানা ঘর মিলেছে। নীচে সপরিবার বাড়িওয়ালার বাস। খাবার দাবার তারাই বানিয়ে দেবে। তবে দর অতি চড়া। অবনী বললেন, রাতটুকু এখানেই ঘাঁটি গাড়া যাক, সকালে অন্য কিছু ভাবা যেতে পারে।

    পার্থ-মিতিনেরও তাই মত। একমাত্র সহেলি যা একটু খুঁতখুঁত করছেন। মেলাটা এখান থেকে অনেকটা দূর হয়ে যাবে কিনা। অবশ্য শেষমেশ মেনেও নিলেন। এই কটেজ ছাড়া এখন আর গতি কী!

    বাড়িওয়ালার নাম বিভব শর্মা। বছর পঁয়তাল্লিশ বয়স। কথাবার্তায় সজ্জন। নিজে দোতলায় উঠে খুলে দিলেন ঘর দুটো। পার্থ আর টিঙ্কু মালপত্র নামাল গাড়ির ছাদ থেকে। সকলে মিলে ধরাধরি করে তুলল উপরে।

    সুটকেস টুটকেস ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে পার্থ হাত-পা ছড়িয়ে বসেছে সোফায়। অলস মেজাজে বলল, এখন একটু কফি পেলে দারুণ হত।

    মিতিন বলল, যা তো টুপুর, নীচে গিয়ে বলে আয়।

    টুপুর উঠতে গিয়েও থমকেছে। নীচ থেকে একটা গলার আওয়াজ আসছে? কে যেন গাঁকগাঁক করে চেঁচাচ্ছে? বিভব শর্মা কী যেন বললেন অনুচ্চ স্বরে, পরক্ষণে চিৎকার আরও চড়ে গেল।

    টুপুর সভয়ে বলল, ঝগড়া বেধেছে নাকি?

    তাই তো মনে হচ্ছে। মিতিনের ভুরুতে হালকা ভাঁজ, চল তো দেখি।

    মিতিনের পিছন পিছন একতলায় নেমে আরও কুঁকড়ে গেল টুপুর। একটা রোগা, ঢ্যাঙামতো লোক চড়াও হয়েছেন বিভব শর্মার ঘরে। বয়স বছর পঞ্চাশ। টিকলো নাক। বাবরি চুল। পরনে চুস্ত-পাঞ্জাবি, গায়ে কুলু শাল। সভ্যভব্য চেহারার মানুষটা আঙুল তুলে শাসাচ্ছেন বিভবকে। নরম গলায় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে চলেছেন বিভব শর্মা। কিছুই শুনলেন না ভদ্রলোক, হঠাৎ দুদ্দাড়িয়ে বেরিয়ে গেলেন ঘর ছেড়ে।

    মাথা নামিয়ে বসে আছেন বিভব শর্মা। হলটা কী?

    .

    ০২.

    কটেজের দু’খানা ঘরই ভাড়ার সঙ্গে মানানসই। ফায়ারপ্লেস, ইংলিশ খাট দিয়ে সাজানো দিব্যি আরামদায়ক কামরা। দরজা-জানলায় লম্বা লম্বা পরদা, মেঝেয় মোটা কার্পেট, এক সেট সোফা, কারুকাজ করা সেন্টারটেবিল, ওয়ার্ডোব, ড্রেসিংটেবিল, টিভি, শাওয়ার-গিজার-কমোড বসানো ঝকঝকে বাথরুম, সবই মজুত। এমনকী, লেখাপড়া করার চেয়ার-টেবিলও। সেখানে শোভা পাচ্ছে কম্পিউটার। বিদেশি পর্যটকদের মন কাড়ার জন্যই বুঝি এতসব বন্দোবস্ত। দেওয়ালে খান দুয়েক পেন্টিংও ঝুলছে। পাহাড়ের দৃশ্য, পাহাড়ি মানুষের মুখ, বিপাশা নদী। আঁকার মান নেহাত মন্দ নয়, তাকিয়ে থাকতে বেশ লাগে।

    সারাদিন পর এমন একটা আস্তানা পেয়ে সকলেরই শরীর বেশ ছেড়ে গিয়েছে। কেউ আর বেরোনোর নামটি করছে না। উষ্ণ উষ্ণ জলে হাতমুখ ধুয়ে যে যার মতো তরতাজা হয়ে নিল খানিকটা। এখন সকলে মিলে জড়ো হয়েছে এক ঘরে। কফি আর গরম গরম চিকেন পকোড়াও হাজির, হাত মুখ দুইই চলছে সমান তালে। বসেছে গল্পের আসর।

    নীচের ঘটনাটা নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল। যে ভদ্রলোক এসে চেঁচামেচি করছিলেন, তিনি নাকি একজন স্থানীয় শিল্পী। নাম বৈজনাথ রাই। এই কটেজেই নাকি দু’জন লোক এসে উঠেছিল, তারা তিনখানা ছবি আঁকতে দিয়েছিল বৈজনাথকে। আজ সকালে বৈজনাথের বাড়ি থেকে ছবি তিনটে নিয়েও এসেছে লোকগুলো। তখন নাকি বলেছিল, সন্ধেবেলা কটেজে এসে টাকা নিয়ে যেতে। এখন বৈজনাথ এসে দেখছেন, চিড়িয়া উধাও। মাঝখান থেকে বেচারার কড়কড়ে চল্লিশ হাজার টাকা চোট! এর পরেও বৈজনাথ ক্ষিপ্ত না হয়ে পারেন?

    অবনী ভারী মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। ক্ষুব্ধ স্বরে বললেন, ছি-ছি, শিল্পীকে কেউ এভাবে ঠকায়? লোকগুলো মহা পাজি তো!

    সহেলি বললেন, ওরকম বদমাশ টুরিস্টও আসে তা হলে?

    টুরিস্টদের মধ্যে সব ধরনের চিজই থাকে, পার্থ টুপুরের দিকে ফিরল, লোকগুলো এ দেশি না ফরেনার?

    খাঁটি ভারতীয়। মিস্টার শর্মা তো বললেন, দু’জনেই নাকি মুম্বইওয়ালা। পরিচয় দিয়েছিল বিজনেসম্যান।

    চিটিংবাজির কারবার করে বোধহয়। তা হোটেলে না উঠে এখানে আড্ডা গেড়েছিল যে বড়?

    কে জানে! হয়তো আমাদের মতোই জায়গা না পেয়ে।

    কবে এসেছিল?

    বারো দিন নাকি ছিল এখানে।

    মানে পুজোর আগে থেকে? স্ট্রেঞ্জ! তখন তো মেলাও শুরু হয়নি? বারো দিন ধরে টাউনের কোনও হোটেল না পাওয়াটা যেন কেমন কেমন লাগছে! পার্থ মিতিনের দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচাল, কী গো, তোমার ইনটিউশন কী বলে?

    ওদের হয়তো এরকম জায়গাই পছন্দ, মিতিন হাত উলটোল, অনেকেই তো ভিড়ভাট্টা পছন্দ করে না। বেড়াতে এসে নির্জনতা খোঁজে।

    মিটারও তো এখানে কম ওঠেনি! শুধু রুম-চার্জই দিয়েছে প্রায় লাখ খানেক!

    দিয়েছে। তাদের খেয়াল।

    তুমি কি এর মধ্যে কোনও রহস্য পাচ্ছ না?

    মিতিন হেসে ফেলল, তুমি কি আমাকে খোঁচাচ্ছ?

    নাহ। জাস্ট তোমার ডিডাকশানটা বুঝতে চাইছি।

    সরি। একটা মাত্র সমীকরণ থেকে এক্স-ওয়াই-জেডের সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব নয়।

    টুপুর বলল, আমার কিন্তু মনটা খচখচ করছে, মিতিনমাসি। যারা লাখ টাকা শুধু ঘরভাড়াই দেয়, তারা বৈজনাথ রাইয়ের মাত্র চল্লিশ হাজার টাকা মেরে দেবে?

    এই প্রশ্নটায় দম আছে, মিতিন কফিতে শেষ চুমুক দিল, তবে কী জানিস, মানুষ বড় আজব জীব রে। কোটি কোটি টাকা যার রোজগার, অথচ সেও হয়তো কাজ করিয়ে লোককে পয়সা দেয় না। হায়দরাবাদের নিজামের কথাই ভাব। লাখ লাখ টাকা খরচা করে পার্টি দিতেন, কিন্তু অনুষ্ঠানের শেষে এঁটো খাবারও ফেলে দেওয়ার জো ছিল না। তার কর্মচারীদের ওসব গিলতে হত। অথচ তিনি তখন পৃথিবীর এক নম্বর বড়লোক। গ্যারাজে তার লাইন দিয়ে রোলস রয়েস।

    বুঝেছি। তুমি ব্যাপারটাকে আমল দিচ্ছ না, পার্থকে কিঞ্চিৎ হতাশ দেখাল। পরক্ষণে সামান্য উজ্জীবিত স্বরে বলল, আর একটা স্ট্রাইকিং পয়েন্ট আছে কিন্তু। তোমরাই বললে, বৈজনাথ রাই বিশ হাজার টাকা অ্যাডভান্স নিয়েছিলেন। পাওনা আরও চল্লিশ। অর্থাৎ তিনটে ছবির জন্য মোট ষাট হাজার। লোকাল একজন আর্টিস্টের পক্ষে দামটা কি একটু বেশি ঠেকে না?

    আমার মনে হয় না।

    কেন জানতে পারি?

    কারণ, বৈজনাথজির পেন্টিং-এর হাত যথেষ্ট ভাল। ওইরকম একটা অ্যামাউন্ট উনি দাবি করতেই পারেন।

    বৈজনাথজি কেমন আঁকেন, তুমি জানলে কী করে?

    দেওয়ালের ছবিগুলো দেখে।

    এগুলো বৈজনাথজির আঁকা নাকি?

    ইয়েস স্যার। শুধু কান নয়, চোখ দুটোও খোলা রাখো। ছবির কোনায় বৈজনাথ রাইয়ের দস্তখত আছে মশাই৷

    পার্থ ফ্যালফ্যাল তাকাচ্ছে। টুপুরও হাঁ। ইস, মিতিনমাসির পর্যবেক্ষণ শক্তিটা যে কেন এখনও টুপুর আয়ত্ত করতে পারল না?

    চিকেন পকোড়া শেষ। সহেলি একটা হাই তুলে বললেন, তোমাদের রহস্য খোঁজা এবার থামাও। একটু কাজের কথা হোক।

    পার্থ জিজ্ঞেস করল, যেমন?

    এখানে যাব, ওখানে যাব, বললেই তো হবে না। আমাদের এগজ্যাক্ট টুর-প্ল্যানটা কী?

    কালকের দিনটা আমরা কুলুতেই থাকছি। লোকাল যা-যা দ্রষ্টব্য তা তো দেখবই। খানতিনেক মন্দির আছে, তার মধ্যে বিজলেশ্বর মহাদেব টেম্পল তো যথেষ্ট ফেমাস। বিপাশার পারেও ঘুরব। তারপর বিকেল থেকে মেলা। আপনিও প্রাণ খুলে শপিং করতে পারবেন।

    আমি কিন্তু জায়েন্ট হুইল চড়বই, বুমবুম প্রায় লাফিয়ে উঠেছে, আর আমার একটা লাল-সবুজ টুপিও চাই।

    হবে হবে, হাত তুলে ছেলেকে আশ্বাস দিল পার্থ। ফের সহেলিকে বলল, তারপর ধরুন, পরশু সকালে আমরা বেরিয়ে যাচ্ছি। স্ট্রেট টু মানালি। সেখানে থ্রি নাইট হল্ট। একদিন তো রোটাং পাস যেতে আসতেই কেটে যাবে। একদিন চুটিয়ে মানালি সফর। হিড়িম্বার মন্দির, বশিষ্ঠ-আশ্রম, গোল্ডেন আপেলের বাগান, টিবেটিয়ান মনাষ্ট্রি।

    পার্থ একটু সময় নিয়ে বলল, এরপর যে প্ল্যানটা আছে, আমরা দু’ভাবে বাকি টুরটা সারতে পারি। রোটাং পেরিয়ে যেতে পারি কেলং। লাহুল-স্পিতির একমাত্র শহর। রুটটা একটু টাফ, তবে জায়গাটা নাকি দারুণ। ন্যাড়া পাহাড়ের মধ্যিখানে ভ্যালি অফ গ্লেসিয়ার। মানে বুঝছেন তো? হাতের নাগালে বরফ। তা ছাড়া চন্দ্রভাগার ভাগা নদীটাকে ওখানে পেয়ে যাবেন।

    কেলং-এর নাম আর একটা কারণেও করা যায়, মিতিন বলে উঠল, কলকাতায় লর্ড হার্ডিঞ্জকে বোমা ছোড়ার অপরাধে বিপ্লবী রাসবিহারী বসু ধরা পড়েছিলেন ওই কেলং-এ।

    হ্যাঁ। ওখানে তার একটা স্ট্যাচুও আছে বলে শুনেছি, পার্থ মাথা নাড়ল, যাই হোক, কেলং একটা অপশন। দ্বিতীয় চয়েস, আমরা মানালি থেকে সিমলা চলে যেতে পারি। মোটামুটি আরও তিনটে দিন সিমলা আর তার চারপাশটা উপভোগ করে ট্রেনে ব্যাক টু কালকা। চণ্ডীগড়ের বদলে কালকা থেকেই নয় কলকাতা ফিরব।

    মন্দ নয় আইডিয়াটা, সহেলি বললেন, সিমলা-কালকা ট্রেনজার্নিটা নাকি খুব সুন্দর। একশো-দেড়শোখানা টানেল পড়ে পথে, সেটাও এক অভিজ্ঞতা।

    মিতিন ফুট কাটল, প্লাস, তুই সিমলাতে প্রাণের সুখে শপিং করতে পারবি।

    অবনী হা-হা করে হেসে উঠলেন, খাসা বলেছ। তোমার দিদি বাজার করা ছাড়া তো কিছু বোঝে না। ওর কাছে ভ্রমণ মানেই কাড়ি কাড়ি জিনিস কেনা। আর ফিরে গিয়ে ডেকে ডেকে সকলকে বিলোনো।

    তোমার তাতে কী? তুমি চুপ করো তো। হাতে করে ছোটখাটো কিছু নিয়ে গেলে লোকে কত খুশি হয় জানো?

    এখান-ওখান থেকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার কী আছে? কলকাতায় তো সবই পাওয়া যায়। চাইলে কুলুর পেন্টিংও।

    কর্তা-গিন্নিতে জোর তর্ক বেধেছে। তাদের থামাতে পার্থ তড়িঘড়ি বলে উঠল, এক সেকেন্ড। এক সেকেন্ড। আমার একটা থার্ড প্ল্যানও আছে।

    মিতিন জিজ্ঞেস করল, যথা?

    গ্রেট হিমালয়ান ন্যাশনাল পার্ক। দুরন্ত জঙ্গল। সিমলা, কল্পা, কাজা, মানালি আর কুলুর ঠিক মধ্যিখানে। ওখানে প্রচুর ভাল ভাল স্পট আছে। নানা ধরনের বন্যপ্রাণীরও দর্শন মিলবে।

    ওরে বাবা, আমি ওসব জঙ্গল টঙ্গলে নেই, সহেলি প্রতিবাদ করে উঠলেন, মানালি থেকে সিমলার পরিকল্পনাটাই থাক।

    আমি বলি কী, অবনী গলা ঝাড়লেন, এত ছোটার কি কোনও প্রয়োজন আছে? কুলুতেই দু-তিন দিন জিরোই, তারপর নয় মানালি ঘুরে বাড়ির পথে রওনা দেব। তিন-চার দিন না থাকলে কি কোনও জায়গা ঠিকঠাক চেনা যায়, তোমরাই বলো?

    অ্যাই, তোমার আয়েশিপনা ছাড়ো তো। সকলের সঙ্গে যখন বেড়াতে বেরিয়েছ, তাল রেখে দৌড়োতে হবে। রুমে আরামসে বই নিয়ে বসে থাকবে, ওটি হচ্ছে না।

    শুধু কি নিজের জন্য বলছি? বাচ্চাদের ধকলের কথা একবার ভাবো।

    টুপুর আর মোটেই ছোট নেই। বুমবুমও তোমার মতো ইয়ে নয়, যথেষ্ট শক্তপোক্ত।

    আবার একচোট বিবাদ বাধার উপক্রম। সামাল দিতে ফের ঝাঁপিয়েছে পার্থ। প্রসঙ্গ বদলাতেই বুঝি রাতের মেনুর কথা পাড়ল। মিতিন পুটুস পুটুস টিপ্পনী কাটছে। ঘরের পরিবেশ পলকে ঝরঝরে। সহেলি উঠে গেলেন পাশের ঘরে। নৈশাহার আসা পর্যন্ত খানিক গড়িয়ে নেবেন। অবনীও জাবদা বইখানা খুলেছেন। বুমবুম টিভি চালিয়ে দিল। রিমোট টিপে টিপে ঠিক একটা কার্টুন চ্যানেল বার করে ফেলেছে। কলকাতায় হলে টুপুরও হয়তো পরদায় চোখ রাখত, কিন্তু হিমালয় ভ্রমণে এসে ইচ্ছে করছে না। পায়ে পায়ে বেরিয়ে পড়ল ঘর থেকে। বাইরের সরু প্যাসেজটুকু জুড়ে টানা কাচের জানলা। বন্ধ জানলার কোনও এক ফাঁক দিয়ে হাওয়া আসছে ঠান্ডা ঠান্ডা। আজ অক্টোবরের এগারো। অর্থাৎ এখনও আশ্বিন। আর মাসখানেকের মধ্যে নিশ্চয়ই এই কুলু উপত্যকা ঢেকে যাবে বরফে। ঢালপুর ময়দানখানা কেমন যে দেখাবে তখন?

    ছবিটা কল্পনা করতে করতে টুপুর কাছে চোখ রেখেছে। অদুরে আর একটা পাহাড়। অন্ধকারে পাহাড়টা নজরে পড়ার কথা নয়, তবে এমন বিন্দু বিন্দু আলো ফুটে আছে গায়ে! নিশ্চয়ই বাড়িঘরের আলো। কিন্তু মনে হয় আকাশের তারাগুলো যেন নেমে এসেছে নীচে। নাকি আকাশটাই তারাদের নিয়ে!

    কী রে, কাচে নাক ঠেকিয়ে কী দেখছিস?

    টুপুর চমকে তাকাল। মিতিনমাসি৷

    হেসে টুপুর বলল, সামনের পাহাড়টাকে গো। কী দুর্দান্ত লাগছে!

    কুলু ভ্যালির তো এটাই বিশেষত্ব। যেদিকে তাকাবি, সেই দিকটাই বিউটিফুল। কোন কোন হিমালয়ান রেঞ্জ কুলু ভ্যালিকে ঘিরে রেখেছে, ভাব। উত্তরে পীরপঞ্জাল, পুবে পার্বতী, পশ্চিমে বরাভাঙ্গাল আর দক্ষিণে ধৌলাধার। এদের মাঝখানে কুলু কার্পেটের মতো ছড়িয়ে আছে। একসময়ে এটা ছিল সেন্ট্রাল এশিয়ার গেটওয়ে। কুলু, মানালি, রোটাং, কেলং পেরিয়ে লাদাখ হয়ে ব্যবসায়ীর দল যাতায়াত করত নিয়মিত। এই পথের নাম ছিল গ্রেট ইন্ডিয়ান সিল্ক রুট।

    এখন আর রাস্তাটা নেই?

    ব্যবহার হয় না। আজকাল তো প্লেনেই লোকে যাতায়াত করে, খামোখা এত দুর্গম পথ কেন পাড়ি দেবে? একমাত্র ট্রেকিং যারা করে তারাই এখন…

    কথার মাঝেই হঠাৎ বুমবুমের উত্তেজিত ডাক, মা, তাড়াতাড়ি এসো, দেখে যাও কী পেয়েছি।

    মিতিন-টুপুর দৌড়োল ঘরে। গিয়ে দেখল বুমবুম কম্পিউটারে বসে। তার হাতে একটি পেনড্রাইভ।

    ভুরু কুঁচকে মিতিন বলল, ওটা কোত্থেকে পেলি?

    এই তো, টেবিলের ড্রয়ারে ছিল।

    পার্থ একটা ম্যাগাজিন পড়ছিল। উঠে এসেছে। বুমবুমের হাত থেকে পেনড্রাইভটা নিয়ে দেখল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। বলল, আট জি বি মেমারি। নির্ঘাত আগের লোক দুটো ফেলে গিয়েছে।

    খুবই সম্ভব। হয়তো তাড়াহুড়ো করে বেরিয়েছে, খেয়াল করেনি।

    দেখব নাকি, কী আছে এতে?

    অবনী বই পড়া থামিয়ে পিটপিট তাকাচ্ছিলেন। বললেন, অন্যের প্রাইভেট ডকুমেন্ট দেখা কি শোভন হবে? আমাদের উচিত বিভব শর্মার কাছে ওটা জমা করে দেওয়া।

    রাখুন তো আপনার উচিত-অনুচিত। তারা কোন নীতিটা মেনেছে? যত সব ফোরটোয়েন্টি! বলতে বলতে বুমবুমকে হটিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল পার্থ। কম্পিউটার চালু করে পেনড্রাইভ লাগাল জায়গা মতো। উৎসাহী গলায় বলল, দেখা যাক, ব্যাটাদের কোনও গোপন তথ্য আবিষ্কার করা যায় কিনা!

    কম্পিউটার সচল হতেই পেনড্রাইভখানা লোড করে ফেলল পার্থ। মাউস টিপতেই বিস্ময়। ছবি, সার-সার ছবি। নিছক ফোটোগ্রাফ নয়, ক্যামেরাবন্দি একগুচ্ছ পেন্টিং, সবক’টারই বিষয়বস্তু পর্বত। সম্ভবত হিমালয় নিয়ে আঁকা। অনভিজ্ঞ চোখও বলতে পারে, কোনও দক্ষ শিল্পীর কাজ। একটি ছবিতেও রং চড়া নয়। নীল, বাদামি, লাল, সবুজ, সবই বেশ হালকা-হালকা। আলোছায়ার খেলাও আছে ছবিতে। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে ইচ্ছে হয়।

    অবনী বললেন, এ তো কোনও বড় আর্টিস্টের এগজিবিশন থেকে তোলা ফোটো।

    হুম, মিতিন বিড়বিড় করল, খুব পাওয়ারফুল ডিজিটাল ক্যামেরায় এবং সবকটা ছবিই মনে হয় জলরঙে আঁকা।

    পার্থ বলল, মোট সাঁইত্রিশটা আছে। তার মধ্যে তিনটেতে ক্রস মার্ক। কেন বলো তো?

    হ্যাঁ। কেমন অদ্ভুত ঠেকছে, মিতিনকে যেন সামান্য চিন্তিত দেখাল, বৈজনাথ রাইকে তিনখানা ছবি আঁকার অর্ডার দিয়েছিল না লোক দুটো?

    তাই তো। ঠিকই তো, পার্থ ঢকঢক মাথা নাড়ল, কিন্তু আঁকা ছবি কেন আবার আঁকতে বলবে? কপি করাচ্ছিল?

    হতে পারে, অবনী বললেন, অনেকে তো ভাল ছবির কপি দিয়েও ঘর সাজায়।

    তাই কি? মিতিন ঠোঁট টিপল, ব্যাপারটা নিয়ে তো এবার ভাবতে হচ্ছে–।

    মিতিনমাসির এই স্বর ভীষণ চেনা। টুপুরের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। নির্ঘাত রহস্যের গন্ধ পেয়েছে মিতিনমাসি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }