Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প702 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭-৮. মানালি যাচ্ছি

    সে কী রে! আমরা মানালি যাচ্ছি না?

    তাই বললাম নাকি? হাতে তো এখনও অঢেল দিন, পরে যাব। বেড়াতে বেরিয়ে শুধু হুটোপুটি করে ছোটাটা তো কোনও কাজের কথা নয়। নজ্ঞরে যখন এলামই, একটা রাত কাটাতে দোষ কী! দেখতেই তো পাচ্ছ, জায়গাটা অসম্ভব সুন্দর। আজ চতুর্দশী, চাঁদের আলোয় আরও অপূর্ব লাগবে।

    আমি মিতিনের দলে। এক রাত কেন, তিন রাত্তিরও এখানে থাকতে পারি। আদৌ মানালি না গেলেই বা কী এসে যায়! মানালিও পাহাড়, নজ্ঞরও তাই। ওখান থেকেও বরফে ঢাকা হিমালয় দেখবে, এখান থেকেও।

    অ্যাই, তুমি চুপ করো তো, শুধু আয়েশ করার ধান্দা।

    বটেই তো। ছুটি কাটাতেই তো এসেছি। আরাম করব না কেন!

    সহেলি আর অবনীতে ফের ঝগড়া বেধে যাচ্ছিল, পার্থ থামিয়েছে হাত তুলে। হেসে সহেলিকে বলল, দেখাই যাক না দিদি, যদি এখানে একটা ভাল হোটেল পাওয়া যায়। বিকেলে নয় কালটা ঘুরে আসব।

    অবনী ঘাড় নাড়লেন, হ্যাঁ, ওখানে আর একটা মিউজিয়ামও আছে।

    আমি আর মিউজিয়ামে নেই। একটা দেখেই আমার ঠ্যাং ব্যথা করছে।

    তুমি লোকাল মার্কেটে যেয়ো। দরাদরি করে মেমেন্টো কেনো।

    বিচিত্র মুখভঙ্গি করলেন সহেলি। দেখে সকলে হেসে ফেলল। হাসতে হাসতেই আবার দুপুরের আহারে মন দিয়েছে। নজ্ঞরের এই ভোজনালয়টি একান্তই নিরামিষ। খাবার দাবারের পদও খুব বেশি নেই। ফুলকপির একটা ঝাল ঝাল তরকারি, বেগুনভর্তা আর তড়কা ডাল। গরমাগরম পরোটার সঙ্গে তাই হাপুসহুপুস খাচ্ছে সকলে। এমনকী, ঝালের কষ্ট ভুলে বুমবুমও। পেটে যখন ছুঁচো ডন দেয়, তখন সব খাবারই তো অমৃত।

    টিঙ্কুও খাচ্ছিল পাশের টেবিলে। পরোটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে পার্থ তাকে জিজ্ঞেস করল, এখানে পছন্দসই হোটেল কোথায় আছে, জানো?

    বহুত মিলেগা। উপরের কাসলেই থাকতে পারেন, ওখানে তো এখন হোটেল হয়ে গিয়েছে।

    ভাল?

    বহুত বড়িয়া। লেকিন বহুত মেহেঙ্গা।

    মাঝামাঝি কিছু নেই?

    পেয়ে যাবেন। এই বাজারেই ঢুঁড়লে।

    হোটেল থেকে হিমালয়ের চুড়ো দেখা যাবে তো?

    জরুর।

    খাওয়া সেরে টিঙ্কুকে নিয়ে বেরিয়ে গেল পার্থ। বিল মেটাতে গিয়ে মিতিন আলাপ জুড়েছে হিমাচলি হোটেলমালিকের সঙ্গে। মৌরি চিবোতে চিবোতে প্রশ্ন করল, এখন তো নজ্ঞরের পিক সিজন, তাই না?

    কোথায় আর মরশুম ম্যাডাম! নজ্ঞরে তো তেমন টুরিস্টই আসে না।

    কেন? এখানে তো অনেক কিছু দ্রষ্টব্য আছে? রোয়েরিখ সাহেবের গ্যালারি!

    পাহাড় বেড়াতে এসে কত জন আর তসবির পসন্দ করে বলুন। সকলে তো কুলু-মানালি ছোটে। হয় কিছু বিদেশি আসে, নয় দু-চারটে খ্যাপা মানুষ।

    খ্যাপা?

    নয়তো কী! পিঠে বোঝা চাপিয়ে এ-পাহাড় ও-পাহাড় চরে বেড়াচ্ছে।

    ও, আপনি ট্রেকারদের কথা বলছেন?

    হাঁ জি। ওরাই সবথেকে বেশি আসে। নজ্ঞর থেকে অনেক স্পটে যাওয়া যায় কিনা।

    যেমন?

    চন্দ্ৰখনি পাস যেতে পারেন। মালানা গ্রাম যদি পায়ে হেঁটে যান, তিন দিন লাগবে। চাইলে মালানা দিয়ে মণিকরণ যাওয়া যায়, পথে পড়বে রসোই পাস। আবার মণিকরণ পেরিয়ে ক্ষীরগঙ্গা যেতে পারেন। সব ক’টাই খুব ফেমাস ট্রেকিং রুট, বলতে বলতে ভদ্রলোক একবার মিতিনদের দলটাকে দেখে নিলেন। হেসে বললেন, আপনারা নিশ্চয়ই ট্রেক করতে আসেননি?

    একেবারেই নয়। আমরা ছবি দেখার পার্টি।

    ঢুকতে দিল? ওখানে তো আজ অনেক পুলিশ। রাতে নাকি চোর টোর এসেছিল!

    আপনি জানেন?

    ছোট জায়গা ম্যাডাম, খবর কানে এসেই যায়। তবে একটা কথা আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি ম্যাডাম। এই পাহাড়ের লোকেরা কেউ রোয়েরিখ সাহেবের গ্যালারিতে চুরি করতে যাবে না। সবাই এখনও ওঁকে ভক্তি করে।

    চোর তা হলে বাইরের কেউ?

    বিলকুল।

    তা বাইরের লোক রাতদুপুরে এসে চুরি করবেই বা কী করে? অত রাতে পালাবেই বা কোথায়?

    কে জানে! হয়তো পয়দল চন্দ্ৰখনি পাসের দিকে চলে গেল। কিংবা এখান থেকে কাতরেইন যাওয়ার একটা শর্টকাট রাস্তা আছে, পথে বিপাশা পড়ে। নদী টপকালেই পাতলিখুল, তারপর কাতরেইন আর কতটুকু!

    পার্থ ফিরেছে। এসেই মিতিনকে তাড়া লাগাতে শুরু করল, চলো চলো, হোটেলরুমে আগে বডি ফেলি। তারপর বেরিয়ে যার সঙ্গে খুশি বকর বকর কোরো।

    হোটেলটা কাছেই। বাজার পেরিয়ে ছোট্ট টিলার মাথায়। পিছনে উত্তর দিক পুরো খোলা এবং সত্যি সত্যি সেখান দিয়ে বরফে ঢাকা হিমালয়ের একটা ফালি দৃশ্যমান। ঘর দু’খানাও চলনসই। কুলুর কটেজের মতো বাহারি না হলেও খাট, আলমারি, ড্রেসিংটেবিল, ওয়ার্ড্রোব, সবই আছে। একটা করে ছোট টিভিও।

    বিছানা পেয়ে সহেলির হাঁটু-কোমরের ব্যথা যেন বেড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়েছেন। অবনী বসলেন বই খুলে। বুমবুম যথারীতি টিভিতে।

    টুপুরের চোখ জড়িয়ে আসছিল। ঘুম কাটাতে পাশের কামরায় এল। এ ঘরেও পার্থ টিভি খুলবে খুলবে করছে। হাতে রিমোট। টুপুরকে দেখে বলল, কী রে, মাসির ল্যাজ, এবার তোদের কী প্ল্যান?

    মিতিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছে। টুপুরের হয়ে জবাব দিল, আপাতত নজ্ঞর দর্শন।

    নো টুপি প্লিজ। খোলসা করে বলো তো, কেন রয়ে গেলে নজ্ঞরে?

    বুঝতে পারছ না? চুরির কিনারা করতে গেলে এই নজ্ঞরে একটু থাকা দরকার। অর্থাৎ কিনা অকুস্থল থেকে খুব একটা দূরে যাওয়া সমীচীন নয়।

    কোমর বেঁধে নেমেই পড়লে তা হলে?

    ছাড়তে পারছি না যে। পরপর এমন সব ক্লু এসে যাচ্ছে!

    যেমন?

    সেই পেনড্রাইভ থেকে তো শুরু হয়েছে। তারপর বৈজনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ছবি কপি, ছবি চুরি…

    তো?

    আরও আছে। এখনই ভাঙছি না।

    যা ইচ্ছে করো। শুধু মাথায় রেখো, এ কেসে তোমার কিন্তু এক পয়সাও রোজগার নেই।

    প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায় অর্থ ছাড়াও কেস করে স্যার। মগজের খিদে মেটানোর বাসনাও তো থাকে মানুষের, নয় কি?

    পার্থ লাগসই একটা জবাব দিতে যাচ্ছিল, অকস্মাৎ বুমবুম হাজির। তিড়িংবিড়িং লাফাতে লাফাতে বলল, টিভিতে ছবি চুরির খবরটা দেখাচ্ছে গো মা?

    চোখ সরু করে পার্থ বলল, তুই কী করে জানলি?

    চ্যানেল চেঞ্জ করতে গিয়ে চোখে পড়ল। চালাও না টিভি, দ্যাখো।

    হ্যাঁ, বুমবুমের সংবাদ সঠিক। স্থানীয় চ্যানেলে এক মহিলা গম্ভীর মুখে পরিবেশন করছেন ছবি চুরির এপিসোড। নবীন তারকুণ্ডে আর সুখদেব ভাটিয়া নামে দুই ব্যক্তি নাকি সম্ভাব্য চোর। গোটা উপত্যকা জুড়ে খোঁজ চলছে ওই দুই ব্যক্তির। তল্লাশি করা হচ্ছে মান্ডিগামী এবং রোটাংগামী প্রতিটি যানবাহন। লোক দুটোর সন্ধান দিতে পারলে হিমাচল প্রদেশ সরকার পুরস্কার প্রদান করবে বলেও ঘোষণা করা হল।

    টুপুর তারিফের সুরে বলল, এস পি সাহেব দারুণ প্রম্পট তো!

    পার্থ অবজ্ঞাভরে বলল, কিন্তু ব্রেনে ঘিলুটা একটু কম।

    কেন?

    চুরির বিষয়টা জানানোই তো কাফি ছিল। সঙ্গে বড়জোর লোক দুটোর নাম আর অ্যাওয়ার্ড, ব্যস। পুলিশ কী অ্যাকশন নিচ্ছে, তা সর্বত্র চাউর করা তো বোকামি।

    চোর সাবধান হয়ে যাবে বলছ?

    অফ কোর্স। তারা আর গাড়িঘোড়া ধরবেই না। অন্য কোনও উপায়ে পালানোর তাল করবে।

    কীভাবে? পায়ে হেঁটে? নাকি উড়ে? আকাশপথে? জানো কি, দুপুর বারোটার পরে কুলু থেকে আর কোনও প্লেন ছাড়ে না?

    জানার প্রয়োজন নেই। তবে কাজটা যে উচিত হয়নি, এ আমি জোর গলায় বলব।

    আমার কিন্তু উলটোটাই মনে হয়, এবার মিতিনের ঠোঁট নড়েছে, অ্যানাউন্সমেন্টে হয়তো সুফলই মিলবে।

    কীরকম?

    লোক দুটো যদি টিভি দেখে, আমার ধারণা, দেখবেই, তা হলে তাদের দু’তরফা বিপদ। ঘাপটি মেরে থাকতেও ভয় পাবে, দুম করে বেরিয়ে পড়ারও সাহস হবে না। এরকম মুহূর্তেই অপরাধীরা ভুলভাল কাজ করে বসে।

    সবটাই কিন্তু নির্ভর করছে একটা অনুমানের উপর, টুপুর টুপুস মন্তব্য জুড়ল, আমরা ধরেই নিচ্ছি, লোক দুটো এখনও কুলু ভ্যালিতে আছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে ওরা হয়তো বহু আগেই পগার পার।

    অসম্ভব। কুলুর আশপাশে দুই মক্কেলকে থাকতেই হবে।

    কেন?

    সে আর একটা অঙ্ক। আমি অলরেডি কষে রেখেছি, মিতিন ঠোঁট চেপে হাসল, দাঁড়া, আশুতোষ শাহকে একটা ফোন লাগাই।

    মোবাইলে নম্বর খুঁজে টিপল মিতিন। ইচ্ছে করেই বুঝি মাইক্রোফোন অন করল, যাতে পার্থ টুপুর শুনতে পায়।

    বারকয়েক রিং বাজার পর ওপারে আশুতোষের মার্জিত কণ্ঠস্বর, ইয়েস ম্যাডাম? পৌঁছে গিয়েছেন মানালি?

    না মিস্টার শাহ। আজ আমরা নজ্ঞরে থাকাটাই মনস্থ করলাম, মিতিনের মুখ হাসিহাসি, হোটেলে এন্ট্রি নিয়েই আপনার কর্মকুশলতা দেখছি। টিভিতে জোর প্রচার চলছে তো!

    হা হা। আমি আরও অনেক দূর এগিয়েছি। বৈজনাথ রাই এখন আমার সামনে। লোক দুটোর স্কেচ বানাচ্ছেন।

    দ্যাটস গ্রেট! কেমন বুঝলেন বৈজনাথকে?

    সম্ভবত ইনোসেন্ট। বাট নো প্র্যাকটিক্যাল সেন্স। শিল্পীরা যেমন হয় আর কী, আশুতোষ অল্প থেমে থেকে বললেন, কেসে আর একটা ব্রেক থ্রু হয়েছে ম্যাডাম। পাজি দুটো যে গাড়িতে কুলু থেকে বেরিয়েছিল, সেই মারুতি ভ্যানটিকে ট্রেস করা গিয়েছে।

    তাই নাকি?

    ওরা কুলু ছেড়ে সোজা মানালি গিয়েছিল। সেখানে উঠেছিল মানাল নদীর ধারে একটি গেস্টহাউসে। নাম, দা গোল্ডেন মুন।

    জানলেন কী করে?

    আরে, গাড়ির ড্রাইভার তো আমাদের জিম্মায়। মানালি থানায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার বক্তব্য, লোক দুটো নাকি গেস্টহাউসে উঠেই গাড়ি ছেড়ে দিয়েছিল। লোকটার স্টেটমেন্টও আমি ক্রসচেক করে নিয়েছি গোল্ডেন মুনে টেলিফোন করে। ওখানকার ম্যানেজারই জানাল, গেস্টহাউসে ওরা নাকি মোটে একটা দিন ছিল। সোমবার দুপুরে লাঞ্চ সেরে মালপত্র নিয়ে বেরিয়ে যায়।

    অন্য কোনও গাড়ি নিয়ে?

    না। গাড়ি ছাড়াই। সঙ্গে নাকি বিশেষ মালপত্র ছিল না। জাস্ট দু’জনের দুটো হ্যাভারস্যাক আর দুটো হ্যান্ড-লাগেজ। এবার আমি পতা লাগাচ্ছি, ওরা মানালি থেকে অন্য কোনও গাড়ি নিয়েছিল কিনা।

    চমৎকার! আপনি তো ঝড়ের গতিতে ছুটছেন!

    হা হা হা।

    চালিয়ে যান। গ্যালারির পাহারাদার প্রসাদের কী সমাচার?

    কাস্টডিতে এনেছি। কুলুতে। বৈজনাথের স্কেচ আঁকা শেষ হোক, তারপর প্রসাদকে নিয়ে পড়ছি।

    ছাড়ি তা হলে। মাঝে মাঝে ফোনে বিরক্ত করব কিন্তু।

    আরে না। আপনি হলেন গিয়ে ডিটেকটিভ। মাঝে মাঝে আপনার কাছ থেকেও তো ইনপুট পেতে পারি।

    থ্যাঙ্ক ইউ।

    টেলিফোনটা অফ করে একটুক্ষণ চোখ বুজে রইল মিতিন। ফের মোবাইলে আর একটা নম্বর টিপছে। আবার মাইক্রোফোন চালু। এবার অপর প্রান্তে বিভব শর্মা। হাউমাউ করছেন, আমার তো সর্বনাশ হয়ে গেল ম্যাডাম!

    মিতিন নির্বিকার, কেন? কী হল?

    আপনি কেন এস পি সাহেবকে আমার নাম্বার দিলেন ম্যাডাম? উনি তো আমাকে বহুত আঁখ দেখাচ্ছেন। প্রাইভেট কটেজ চালাই, পুলিশ নজর দিলে বেওসা চালাব কী করে? কাঁহা কাঁহাসে গেস্ট আসে আমার কটেজে, তাদের কে যে কেমন আমি কীভাবে জানব?

    তা তো বটেই।

    কিন্তু এস পি সাহেব তো ও কথা মানছেন না। রোয়েরিখ গ্যলারিতে কোন পেন্টিং চুরি হয়েছে, ওই তারকুণ্ডে আর ভাটিয়া নাকি কালপ্রিট। তা এতে আমার কী কসুর বলুন? অথচ এস পি সাহেব আমাকেও ওদের সঙ্গে জড়িয়ে দিতে চাইছেন। বিজনেস তো আমার চৌপাট হয়ে যাবে।

    আহা, লোক দুটো ধরা পড়লেই তো আপনি…

    পুলিশ কি আসলি ক্রিমিনালকে ধরতে পারে কখনও? তারা কোথায় ভেগেছে কৌন জানে! মাঝখান থেকে আমি ফালতু ফালতু… বিভব শর্মার স্বরে তীব্র ক্ষোভ, টাইমটাই আমার খারাপ যাচ্ছে। এমন একটা ভরা মরশুমে আমার কটেজ বিলকুল খালি!

    দুঃখ করছেন কেন? কালই তো একজন আসছেন!

    না ম্যাডাম। ওতেও গড়বড়। এই তো দুপুরে সাহেবের মেসেজ এল, ভিসা নিয়ে কী প্রবলেম বেধেছে, একদিন পর উনি দিল্লিতে নামছেন। অতএব কাল নয়, উনি কুলু আসবেন পরশু। ভাবুন, অলরেডি বুকিং ফিরিয়ে দিয়েছি, এখন কালও হোল-ডে যদি ফাঁকা যায়…।

    আফশোস করবেন না শর্মাজি। সব ঠিক হয়ে যাবে।

    আপনি প্লিজ এস পি সাহেবকে একটু বলে দিন, আমি বুরা আদমি নই।

    কী আশ্চর্য! আমি বললেই বা তিনি মানবেন কেন?

    এস পি সাহেবের মুখে সব শুনেছি ম্যাডাম। আপনার পরিচয়, পেশা…। মনে হল, উনি আপনার কথাকে ওজন দেবেন, বিভব শর্মা ক্ষণিক চুপ থেকে বললেন, কিছু মনে করবেন না ম্যাডাম, আমার এই অপদস্থ হওয়ার পিছনে আপনারও কিছুটা দায়িত্ব আছে।

    কীভাবে?

    রুমে যে একটা পেনড্রাইভ পেয়েছিলেন, সেটা কি আমায় জানানো উচিত ছিল না? আমি তো ওটাকে থানায় জমা করতাম।

    করতেন কি?

    চান্সই তো পেলাম না। নিজেকে প্রমাণ করব কী করে!

    আর কথা না বাড়িয়ে মিতিন কুট করে লাইনটা কেটে দিল। পার্থ, টুপুর মন দিয়ে শুনছিল ফোনালাপ, ব্যঙ্গের সুরে পার্থ বলল, শর্মা একটু বেশি ঘ্যানঘ্যান করছেন না?

    যা বলেছ, টুপুর সায় দিল, পেনড্রাইভ হাতে পাননি বলে কেন এত হাহুতাশ? তারকুণ্ডেদের সঙ্গে ওঁর যোগসাজশ থাকা মোটেই বিচিত্র নয় মিতিনমাসি৷

    বিভব শর্মাকে একদম ভিলেন ঠাউরে ফেললি? মিতিন দু’দিকে মাথা নাড়ল, না রে, লোকটার একটাই গলদ। বড্ড লোভী। হয়তো তার জন্যই ওকে আরও সাফার করতে হবে।

    শেষ বাক্যটি পুরোপুরি বোধগম্য হল না টুপুরের। আর কী দুর্ভোগ থাকতে পারে বিভব শর্মার?

    .

    ০৮.

    নজ্ঞরে আঁধার নেমেছে বহুক্ষণ। কুলুর মতো জমজমাট নয় নজ্ঞর, বরং সন্ধে হতেই চতুর্দিকে যেন কেমন ঘুমঘুম ভাব। অল্পস্বল্প দু’-চারজন টুরিস্ট ঘুরছে। ইতস্তত, সবই প্রায় শ্বেতাঙ্গ। বাজারে দোকানপাটেরও ঝাঁপ পড়ে গেল ঝপাঝপ। দূরে, খাড়া উত্তরে, এক পাহাড়ে টিপটিপ আলো। ওই জায়গাটার নাম নাকি জগৎসুখ। একদা ওখানেই নাকি রাজধানী ছিল কুলুরাজ্যের। নজ্ঞরেরও আগে।

    গায়ে শাল জড়িয়ে হোটেলের কাচঘেরা বারান্দা থেকে পাহাড়টাকে দেখছিল টুপুর। বিরস মেজাজে। বিকেল থেকে সময়টা আজ বিচ্ছিরি কাটছে। টুপুরদের হোটেলে বসিয়ে রেখে কোথায় যে গায়েব হল মিতিনমাসি, এখনও তার পাত্তা নেই। গাড়িটাও নেয়নি, অর্থাৎ কাছেপিঠে আছে নির্ঘাত। আবার বোধহয় গ্যালারিতেই গিয়েছে, একে-ওকে-তাকে জেরা করছে। অথবা চুরির জায়গাতেই অনুসন্ধান চালাচ্ছে নতুন করে। টুপুরকে ছাড়াই। কোনও মানে হয়? মাঝখান থেকে টুপুরকে কিনা বেরোতে হল বাবা-মা-পার্থমেসোদের সঙ্গে। বড্ড নীরস ঘোরাঘুরি। বাবা তো সারাক্ষণ উরুসবতী মিউজিয়ামের গল্প শুনিয়ে গেলেন টুপুরকে। ওখানে নাকি শুধু শিল্পকলা নয়, বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাও চলে। হিমালয়ের গাছপালা আর শিকড়বাকড় থেকে একসময় যে ওষুধ-বিষুধ তৈরি হত, তা নিয়ে নানা পরীক্ষা, বায়োকেমিস্ট্রি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আবহাওয়াবিজ্ঞান…। চমৎকার একখানা লাইব্রেরিও আছে নাকি সেখানে। পার্থমেসো তো আরও একপ্রস্থ গল্পের ঝাঁপি। ব্রিটিশরা নাকি কুলু উপত্যকার দখল নিয়েছিল মাত্র পৌনে দুশো বছর আগে। তারও পরে নজ্ঞরে অনেকটা জমিজমা কেনেন এক ব্রিটিশ কর্নেল। নাম রেনিক। তার হাতেই নাকি কুলুতে আপেল চাষের শুরু। রোয়েরিখ সাহেবের বাড়ি কাড়ি নাকি সেই কর্নেল সাহেবেরই বানানো। এক সময় মান্ডিরাজাকে সব বেচেবুচে দিয়ে রেনিক ইউরোপ চলে যান। রাজা বাড়িঘর দেখভাল করার ভার দেন আর এক সাহেবকে। তা সাহেবের কপাল মন্দ। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী নাকি একই দিনে বিষাক্ত ব্যাঙের ছাতা খেয়ে মারা যান। তারও পরে আসেন রোয়েরিখরা। মান্ডিরাজার কাছ থেকে বাড়িঘর সমেত গোটা সম্পত্তিটা কিনে ফেলেন এবং ধীরে ধীরে তারা কুলুরই মানুষ বনে যান।

    কিন্তু এত সব জেনে টুপুরের কী লাভ? মিতিনমাসি বলে, হাবিজাবি তথ্য ঢুকিয়ে মস্তিষ্ক ভারাক্রান্ত করিস না। তাতে দরকারের সময়ে আসল বিষয়টি খুঁজতে অসুবিধে হবে। রোয়েরিখদের বাড়ির ইতিহাস জেনে কি চোর ধরার ক্লু মিলবে? ফুঃ।

    নজ্ঞরের চূড়ায় রাজা জগৎ সিংহের দুর্গ-কাম-প্রাসাদটা অবশ্য মন্দ লাগেনি টুপুরের। পাথরের দুর্গটায় পা রাখলেই কেমন গা ছমছম করে। প্রাসাদ থেকে নীচের উপত্যকার দৃশ্যও ভারী মায়াময়। আজ বিকেলে ওটুকুই যা টুপুরের প্রাপ্তি।

    তারপর থেকে তো হোটেলে ফিরে ঠুটো জগন্নাথের মতো বসে থাকা। বাইরে নেমে যে একটু হাঁটবে টুপুর, তারও কি জো আছে? একে কনকনে ঠান্ডা, তায় শনশন হাওয়া! ভালই বেগ আছে বাতাসের, ছুরির মতো কেটে কেটে লাগে গায়ে। বোঝাই যায়, নজ্ঞর কুলুর চেয়ে অনেকটা উঁচুতে।

    ভিতর থেকে হঠাৎ পার্থ ডাকছে, অ্যাই টুপুর! টুপুর!

    টুপুর অনিচ্ছাভরে সাড়া দিল।

    দেখে যা, কী আনিয়েছি। ঠান্ডা হয়ে যাবে, আয় চটপট।

    রুমে ফিরে মুখচোখ সামান্য উজ্জ্বল হল টুপুরের। প্রকাণ্ড প্লেটে রাশিখানেক পেঁয়াজি আর আলুর চপ। মা খেতে আরম্ভ করেছেন, বুমবুম তুলব তুলব করছে, পার্থমেসোর মুখ চলছে কচকচ। একটা পেঁয়াজি তুলে কামড় দিল টুপুর। বসেছে সহেলির পাশে। ভুরু নাচিয়ে বলল, এই পাণ্ডববর্জিত জায়গায় এমন মুখরোচক খাদ্যবস্তু মিলল কোত্থেকে?

    বইয়ে নিমগ্ন ছিলেন অবনী। তবু ঠিক শুনতে পেয়েছেন। ভারিক্কি গলায় বললেন, পাণ্ডবরা এই অঞ্চল এড়িয়ে গিয়েছেন, তাই বা বলি কী করে? লোকাল হিস্ট্রি অনুযায়ী মানালির জঙ্গলে হিড়িম্ব রাক্ষসকে মেরে তার বোন হিড়িম্বাকে বিয়ে করেছিলেন ভীম। শুধু তাই নয়, মহাভারতের এককাড়ি ঋষি এই লোকালিটিতে থাকতেন। এমনকী মহাভারতের লেখক বেদব্যাসও। ইনফ্যাক্ট, বিপাশা নদীর নামও…

    আমি শুনতে চাই না। আমি শুনতে চাই না, সহেলি দু’কান চাপলেন, জ্ঞান বিতরণ থামিয়ে এবার আলুর চপ খাও তো।

    খেপেছ? আপেলের দেশে এসে ওই সব কুখাদ্য গিলব? একে ভাজাভুজি, তায় কী তেল তার ঠিক নেই!

    উঁহু। মেটিরিয়াল তেমন খারাপ নয়, পার্থ অবনীকে আশ্বস্ত করতে চাইল, আমি এই হোটেলের রন্ধনশালায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ভাজিয়েছি দাদা।

    টুপুর তামাশা জুড়ল, তোমার তো হেভি ক্যালি!

    অবশ্যই। রাতে কী মেনুর বন্দোবস্ত করলাম জানিস তো?

    কী?

    কষা মুরগি, হাতে গড়া রুটি, পাঁপড়, চাটনি, আচার। ব্রয়লার নয়, বিশুদ্ধ কুলু চিকেন।

    টুপুর উল্লাসধ্বনি করতে যাচ্ছিল, তখনই মঞ্চে মিতিন। ঘরে ঢুকেই হালকা সুরে বলল, বাহ, দিব্যি সাঁটাচ্ছ তো তোমরা!

    প্রায় চেঁচিয়ে উঠে টুপুর বলল, ছিলে কোথায় এতক্ষণ?

    বলছি বলছি। আগে পেটে একটু দানাপানি পুরি। প্রচুর হেঁটেছি, হাই ডোজের ক্যালরি চাই এখন।

    কাঁধের ব্যাগ টেবিলে রেখে নির্বিকার মুখে চপ খাচ্ছে মিতিন। তর সইছিল না টুপুরের, ছটফট করছে। ফের বলল, কোথায় গিয়েছিলে, জানাতে আপত্তি আছে নাকি?

    আদৌ না, মিতিন মিটিমিটি হাসছে, এখানেই এদিক-ওদিক করছিলাম। দু-চারজনের সঙ্গে কথাও বলতে হল।

    অভিযানটা কি খুবই গোপনীয়?

    সঙ্গে নিইনি বলে বড় চটে আছিস দেখছি। ওরে বোকা, কোথাও কোথাও আমায় একাই ছুটতে হয়। ওতে মুভমেন্টটা ইচ্ছেমতো করা যায় রে।

    পার্থ বলল, ভাঁজ না মেরে পয়েন্টে এসো। পাক্কা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা কোন রাজকার্যে ছিলে, অ্যাঁ?

    একের পর এক সূত্র জোগাড় করলাম। এবার তাদের জোড়া লাগাব।

    যেমন?

    বিশদেই বলি তা হলে। অবনীদা, বোর হবেন না কিন্তু, মিতিন গুছিয়ে বসল, দুপুর থেকে আমায় একটা প্রশ্ন তাড়া করছিল। লোক দুটো কীভাবে পরপর স্টেপ ফেলেছে? কুলু থেকে মানালি পৌঁছে তারা তো গাড়ি ছেড়ে দিল। তারপর কী করল? তারপর কী করল?

    ভেবে কিছু পেলে?

    একটা আউটলাইন খাড়া করলাম। আমার যুক্তি বলল, লোক দুটো নিশ্চয়ই আর গাড়িভাড়া করবে না। কারণ, ড্রাইভারসহ গাড়ি সব সময়ই একটা প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে থেকে যাবে। অতএব তারা নজ্ঞর আসার জন্য মানালি থেকে নির্ঘাত বাস ধরেছে। মানালি থেকে নজ্ঞরে লাস্ট বাস আসে রাত আটটায়।

    টুপুর বলল, তারকুণ্ডেরা আটটার সময় নজ্ঞরে পৌঁছে গিয়েছিল?

    সম্ভবত।

    কিন্তু চুরি তো হয়েছে গভীর রাতে! সেই দুটো-তিনটেয়!

    কারেক্ট। এই ছ’-সাত ঘণ্টা তারা তা হলে ছিল কোনখানে? নজ্ঞরের পথে পথে তো নিশ্চয়ই ঘোরেনি! অথচ তারা নজ্ঞরেই ছিল! কীভাবে তা সম্ভব?

    তুমিই বলো।

    তারা যদি এমন কোনও ভেক ধরে, যাতে লোকজনের চোখে পড়লেও সন্দেহ না জাগে! এক্ষেত্রে ট্রেকার সাজা সবচেয়ে সোজা। পিঠে একটা হ্যাভারস্যাক থাকলেই যথেষ্ট। সঙ্গে টুপি, গ্লাভস, লাঠি। হ্যাভারস্যাকে ট্রেকিং-এর সরঞ্জাম আছে, না ডাকাতির, তা কে আর বুঝছে!

    তেমন কোনও ছদ্মবেশীর সন্ধান পেলে?

    নিখুঁত ভাবে কেউ বলতে পারল না। তবে এখানে একটা ধাবা সাড়ে দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে। সেখানে দু’জন শিখ নাকি আহার সেরেছিল এবং তাদের পোশাক-আশাক দেখে ট্রেকারই মনে হচ্ছিল।

    তারকুণ্ডেরা সর্দারজি সেজেছিল?

    হ্যাঁ। এনকোয়্যারির পরের ধাপে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

    কীরকম?

    আসছি সে প্রসঙ্গে। ধাপে ধাপে, মিতিন আর একখানা পেঁয়াজি তুলল প্লেট থেকে। চিবোতে চিবোতে বলল, রাতের খাওয়া সেরে তারকুণ্ডে আর ভাটিয়া পাড়ি জমাল গ্যালারিতে। সামনে দিয়ে ঢুকল না, নীচের সমাধিস্থল থেকে উঠে এল উপরে, বাড়ির পিছনে। সিকিওরিটি গার্ড প্রসাদকে ওরা আগেই হাত করে রেখেছিল।

    কেমন করে শিয়ের হলে?

    কারণ, টেনে হিঁচড়ে ঝোপ অবধি নিয়ে যাওয়ার গল্পটা বানানো। যেখানে প্রসাদ পড়েছিল, তার আশপাশে এমন কোনও চিহ্ন পাইনি, যা দেখে মনে হয় লোকটাকে হিঁচড়োতে হিঁচড়োতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ভেবে দ্যাখ, লোকটা কিন্তু খাদের ধারে ছিল, অথচ খাদে পড়েনি! অর্থাৎ হাত-মুখ বাঁধার ঘটনাটা পুরো সাজানো। ঝোপে তাকে রাখাও হয়েছে সাবধানে, মিতিন সামান্য দম নিয়ে ফের বলল, তবে হ্যাঁ, প্রসাদ কিন্তু নাটকটার জন্য সাংঘাতিক কিছু পয়সাকড়ি পায়নি। হয়তো দু-চারশো, বা বড়জোর হাজার। এবং যে ছবিগুলো বদল হতে চলেছে, তাদের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে প্রসাদের এখনও কোনও আন্দাজ নেই।

    বুঝলাম। লোকটা বোকা পাপী।

    কতকটা তাই। এ ছাড়া লোকটাকে তারকুণ্ডেরা ভয় দেখিয়েও থাকতে পারে। হয়তো প্রসাদ ভেবেছে, বাধা দিলেও তো প্রাণের আশঙ্কা, তার চেয়ে বরং ক’টা টাকা নিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নয় পড়েই থাকি। আমার বিশ্বাস, পুলিশের রুলের গুঁতোয় তার মুখ থেকে সত্যিটা এতক্ষণে বেরিয়েও গিয়েছে।

    মিস্টার শাহকে ফোন করে তা হলে জেনে নাও।

    কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ, এই ডিডাকশানের ভুল-ঠিকে কিছু যায় আসে না, মিতিন মৃদু হাসল, এবার আমি পরের ধাপে। চুরির পর তারকুণ্ডেরা গেল কোথায়?

    পার্থ বিজ্ঞের সুরে বলল, নজ্ঞর-কুলুর ত্রিসীমানা ছেড়ে পালাবে, এটাই স্বাভাবিক।

    হ্যাঁ। যদি তারা নিজেদের জন্য চুরি করে। আই মিন, তারা নিজেরা যদি ছবি তিনটে বেচার প্ল্যান করে থাকে।

    নিজেরাও সংগ্রহে রাখতে পারে।

    নো চান্স। ওই ছবি যারা কালেকশানে রাখে, তারা মারুতিভ্যান ভাড়া করে না। তারা অনেক রইস হয়।

    ওরা তো কুলুতে রইসি চালেই ছিল!

    কারণ, তাদের কেউ একজন ওভাবে থাকতে বলেছিল। ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে। নির্জনে। এবং বিভব শর্মারই কটেজে।

    কেন? কেন? কেন?

    সব কেনর জবাব এক্ষুনি মিলবে না স্যার। শুধু এটুকু জেনে রাখো, এত দামি ছবি ছুটকো-ছাটকা ক্রিমিনালরা মার্কেটে বেচতে পারে না।

    কেন পারে না?

    কারণ, তাদের সেই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। যারা এই ধরনের ছবি কেনে, ওরা নিয়ে গেলে ছবিগুলোকে আসল বলে মানবেই না। ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে নামীদামি পেন্টারের অরিজিনাল ছবি কেনাবেচার জন্য আলাদা কিসিমের চিড়িয়া থাকে। তারকুণ্ডে আর ভাটিয়া ওই রকমই এক মক্কেলের হয়ে কাজটা করেছে।

    কে সে?

    পরে জেনো। যাই হোক, আবার তারকুণ্ডে-ভাটিয়ায় ফিরি। মেঘের আড়ালের মেঘনাদটির হাতে চুরির জিনিস তুলে দিতে হবে বলেই কুলু ভ্যালিতে থেকে যেতে হয়েছে জোড়া বজ্জাতকে। কিন্তু কোথায় তারা থাকতে পারে? কুলুতে যাওয়ার ঝকমারি আছে। যে-কোনও মুহূর্তে বৈজনাথের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা। তা ছাড়া কুলুতে এখন যা ভিড়, হোটেল পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।

    আশ্চর্য, বিভব শর্মার কটেজেই তো উঠতে পারে!

    দুটো অসুবিধে। এক, যদি ছবি বদল ধরা পড়ে যায়, তা হলে তো পেনড্রাইভটি দেখে বিভব শৰ্মাই ওদের পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। দ্বিতীয় ঝামেলা, স্বয়ং বৈজনাথ। যিনি ছবির কপি করেছেন, কিন্তু পুরো টাকা পাননি।

    তা বটে। ছ্যাঁচড়া অপরাধীদের এটাই হচ্ছে মুশকিল, এমন কিছু কিছু গন্ডগোল পাকিয়ে ফেলে!

    অবনী অনেকক্ষণ বই মুড়ে রেখেছেন। মন দিয়ে শুনছিলেন আলোচনা। খানিকটা অধৈর্য ভাবে বলে উঠলেন, বুঝেছি বুঝেছি। তারা কুলুতেও যাবে না, নজ্ঞরেও থাকবে না। তা হলে যাবে কোথায়?

    এটাই মিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চেন, মিতিন গালে আঙুলের টোকা দিল, আমার মন বলছিল, কুলু, নজ্ঞর, মানালি, কোথাও না গিয়ে চতুর্থ একটা জায়গা বেছে নেবে। যেখানে রাত্তিরেই বা কাকভোরে তাদের পক্ষে পৌঁছোনো সম্ভব। কোনও যানবাহন ছাড়াই।

    কোথায় সেটা?

    কাছাকাছির মধ্যে কাতরেইন আছে। যেখানে হোটেল টোটেল পাওয়া যায়। ব্যস, মনে হওয়া মাত্র চলে গেলাম কাতরেইন।

    সে তো সাত-আট কিলোমিটার দূর! গেলে কীভাবে? তুমি তো গাড়িও নাওনি? পায়ে হেঁটে?

    পাহাড়ি রাস্তায় অতটা হাঁটা কি সহজ কথা! একটা অটো ধরে নিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি, কাতরেইনে হোটেল খুব বেশি নেই। যেতে যেতে ভাবছিলাম, ওরা যদি হেঁটে কাতরেইন গিয়ে থাকে, তা হলে নিশ্চয়ই শর্টকাট রুটটা ধরেছে। কিন্তু তার জন্য তো পাথর বেয়ে বেয়ে বিপাশা পেরোতে হয়। আমি বিপাশার নিয়ারেস্ট হোটেলটাতেই প্রথমে খোঁজ নিলাম। এবং কী কপাল, লেগেও গেল।

    মানে? ওখানে পেলে লোক দুটোকে?

    উঁহু। পাখি উড়ে গিয়েছে। শুধু জানা গেল, দুই সর্দারজি ট্রেকার ভোর চারটেয় এসেছিল হোটেলটায়। তারা নাকি কুলু ভ্যালিতে হিচহাইকিং করে বেড়াচ্ছে। হেঁটে হেঁটেই নাকি তারা হিমালয়ের এই অঞ্চলটা চষে ফেলবে।

    কী গুলবাজ রে বাবা! সহেলি আর নীরব শ্রোতা হয়ে থাকতে পারলেন না, চোখ বড় বড় করে বললেন, জিভে মিথ্যে কথার খই ফোটে!

    চোর-ডাকাতরা সত্যবাদী যুধিষ্ঠির হলে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট তো আর থাকত না রে দিদি। আমাকেও বসে বসে আঙুল চুষতে হত।

    টুপুর অধীর হয়ে বলল, আহা, আসল খবরটা শোনাও না। ওরা কখন কাতরেইন ছেড়েছে? সকালেই?

    তা হলে কি আগাম টাকা দিয়ে হোটেলে উঠত? আর পাঁচটা হিচ হাইকারের মতো পথের ধারেই বসে থাকত দু’জনে, মিতিন কেটে কেটে বলল, তারা হোটেল থেকে ভেগেছে বিকেল সাড়ে তিনটেয়।

    পার্থ বলল, অর্থাৎ টিভিতে ঘোষণা শুরু হওয়ার পর?

    ইয়েস স্যার। টিভি দেখে ওরা নিশ্চয়ই নার্ভাস হয়ে পড়েছিল এবং বোধহয় তাদের নাটের গুরুর সঙ্গে যোগাযোগও করে এবং তার নির্দেশ অনুসারেই তড়িঘড়ি ওই পলায়ন, মিতিন গাল ছড়িয়ে হাসল, শুনে খুশি হবে, ওরা কোথায় যাচ্ছে তাও বলে গিয়েছে হোটেল-মালিককে।

    পার্থ, টুপুরের গলা কোরাসে বেজে উঠল, কোথায়?

    মানালি। যাওয়ার আগে নাকি একটা হোটেলের নাম-ধামও বলেছে। সস্তার জায়গা। শিবালিক লজ।

    এ তো দারুণ খবর রে! সহেলির হাসি আর ধরে না, চল, আমরাও তা হলে কাল সকালে মানালি রওনা দিই।

    অবনী বললেন, না। আগে পুলিশকে জানাও। পুলিশ ক্যাঁক করে ধরুক, তারপর নয় তুমি সিনে হাজির হোয়ো৷

    আমি একটা অন্য প্রস্তাব দেব, অবনীদা? মিতিনের হাসি চওড়া হল, শুনলেই অবশ্য দিদি ফায়ার হয়ে যাবে।

    কী?

    আমরা বরং কাল আবার কুলুতেই যাই।

    সহেলি চেঁচিয়ে উঠলেন, কেন?

    কারণ, ওরা মানালি যায়নি। পুলিশকে মিসলিড করার জন্য মানালির কথা বলেছে, মিতিনের স্বর দৃঢ় হল, ওরা কুলুর আশপাশে থাকবে। থাকতেই হবে। অন্তত কালকের দিনটা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }