Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প702 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১-২. দূরপাল্লার ট্রেনের কামরা

    টিকরপাড়ায় ঘড়িয়াল – মিতিনমাসি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    দূরপাল্লার কোনও ট্রেনের কামরা যে এত ফাঁকাও যায়, টুপুরের ধারণা ছিল না। হাওড়া থেকে ছাড়ছে গাড়ি, যাবে সেই অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি। অথচ টুপুরদের টু টিয়ার এসি কোচের খান পঞ্চাশেক বার্থে যাত্রীসংখ্যা কিনা সাকুল্যে দশ! ওঠার সময়ও দেখেছে টুপুর, গোটা ট্রেনটাতেই লোকজন নেই বিশেষ।

    এত নির্জন গাড়িতে রাতদুপুরে ডাকাতি ফাকাতি হবে না তো? অবশ্য তেমন একটা কিছু ঘটলে তো টুপুরেরই পোয়াবারো। ডাকাতরা আর তাদের কাছ থেকে কী-ই বা নেবে? দু’খানা মোবাইল ফোন, ঘড়ি, কিছু টাকাপয়সা আর পার্থমেসোর দামি ডিজিটাল ক্যামেরাটা। ওই ক্যামেরাখানা পার্থমেসোর প্রাণ। ওটা খোয়া গেলে বেচারা খুব দুঃখ পাবে। তবে ডাকাতরা তো ওইটুকু নেবেই। নইলে তাদেরই বা পোষাবে কেন! তবে ডাকাতদের সঙ্গে যদি মিতিনমাসির মুখোমুখি টক্কর হয়, যে অভিজ্ঞতা টুপুরের ভাঁড়ারে জমবে, তার দাম তো ওই ক্যামেরার চেয়ে ঢের ঢের বেশি। পেশাদার গোয়েন্দা হওয়ার সূত্রে মিতিনমাসির কাছে আজকাল রিভলভার তো থাকেই। অস্ত্রটা যদি বের করে, কী প্রতিক্রিয়া হবে ডাকাতদলের? পালাবে দুড়দাড়িয়ে? নাকি জোর ফাইট হবে একখানা?

    উফ, ভাবতেই রোমাঞ্চ! একটা কাল্পনিক ডাকাতির আশঙ্কায় ফুরফুরে মেজাজ আরও তর হয়ে গেল টুপুরের। জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার পথে এমন একটা শিহরন জাগানো চিন্তা মনটাকে যেন টনকো করে দেয়।

    জুলজুল চোখে সঙ্গীদের এক ঝলক দেখে নিল টুপুর। মিতিনমাসির হাতে লেটেস্ট মডেলের আই ফোন, কাকে যেন মেসেজ পাঠাচ্ছে টুকুস টুকুস। বুমবুম কমিকসে বিভোর। হাওড়া স্টেশনের স্টল থেকে খান তিনেক ‘ছোটা ভীম’ কিনে দেওয়া হয়েছিল, তারই একখানা গিলছে গোগ্রাসে। ট্রেন ছাড়ার আগে পর্যন্ত বেজায় ব্যস্ত ছিল পার্থমেসো। ট্রলি সুটকেসগুলো নীচের বার্থের তলায় চালান করে, চেন-তালা লাগিয়ে এখন সে অনেকটাই নিশ্চিন্ত। বাথরুমে গিয়ে পোশাক বদলে এল। প্যান্টশার্ট ছেড়ে পরে নিয়েছে পাজামা-পাঞ্জাবি। এত রাতেও কফি খেল তারিয়ে তারিয়ে। চলন্ত ট্রেন থেকে মন দিয়ে দেখছে বাইরের অন্ধকার।

    হঠাৎ ঘুরেছে পার্থমেসো। ভুরু নাচিয়ে টুপুরকে জিজ্ঞেস করল, কিছু বলবি মনে হচ্ছে?

    টুপুর হাসি হাসি মুখে বলল, ট্রেনটা বড্ড চুপচাপ! রাত্তিরে একটা এক্সাইটিং কিছু হলে দারুণ লাগবে, তাই না?

    কীরকম উত্তেজনা চাইছিস তুই?

    এই ধরো, ডাকাতি, রাহাজানি গোছের কিছু।

    যত্ত সব ক্যাডাভ্যারাস চিন্তা, পার্থ ঠোঁট ওলটাল। তার চেয়ে বরং ভাব, ট্রেন খড়গপুর পৌঁছেলে নেমে ডিমসেদ্ধ খাব, সঙ্গে একটু পুরি সবজিও চলতে পারে।

    এক্ষুনি খাওয়া খাওয়া করছ? এই না হাওড়া স্টেশনে একপ্লেট বিরিয়ানি সাঁটালে?

    সে তো অলরেডি হজম হতে শুরু করেছে। স্পেসটা আবার ভরাট করতে হবে যে, বলেই পার্থর একগাল হাসি, কাল থেকে তো জঙ্গলে বাস। পেটে কী পড়বে কে জানে! তার আগে উদরে যতটুকু যা ভালমন্দ লোড করে নেওয়া যায় আর কী।

    আমরা কোন ফরেস্টে যাচ্ছি, সেটা কিন্তু এখনও আমায় বলোনি মেসো!

    আরে, সে তো জানতেই পারবি। এখন একটু সাসপেন্সে থাক না।

    টুপুরের ভিতরের ছটফটানি যেন আরও বেড়ে গেল। সন্ধে থেকে এই এক ডায়ালগ আওড়ে চলেছে পার্থমেসো। কোনও কথা নেই, বার্তা নেই, আগাম কোনও জানান দেওয়া নেই, আচমকা আজ বিকেলবেলা টুপুরদের হাতিবাগানের বাড়িতে হাজির। গিয়েই তাড়া লাগাচ্ছে, তিন-চার দিনের জাঙ্গল টুর। আজই রাত সাড়ে এগারোটায় ট্রেন, চটপট জামাকাপড় গুছিয়ে নে। কিন্তু জঙ্গলটা যে কোথায়, হঠাৎ যাওয়াই বা হচ্ছে কেন, কিছুই ঝেড়ে কাশল না এখনও। তবে হ্যাঁ, স্কুলে সবে ফাস্ট টার্মিনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পড়াশোনার চাপ কম, এসময়ে মিতিনমাসির সঙ্গে ছোট্ট একটা ভ্রমণ তো টুপুরের কাছে পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা। সুতরাং, আর কথা বাড়ায়নি টুপুর। পাঁচ মিনিটে তৈরি হল। বাবা-মাকে টা টা করে অবিলম্বে পার্থমেসোর সঙ্গে ফুড়ুৎ।

    কিন্তু ট্রেনে চড়ার পরেও এই হেঁয়ালির কী অর্থ?

    মেসোকে ছেড়ে মাসিকে ধরল টুপুর। আদুরে গলায় বলল, কী গো, তুমিও আমার সঙ্গে লুকোছাপা করবে?

    মিতিন মোবাইল থেকে চোখ তুলল। হাসছে মিটিমিটি। বলল, কৌতূহলে ফুটছিস তো?

    বুমবুম ফস করে বলে উঠল, আমি জানি আমরা কোথায় যাচ্ছি। কটকে।

    টুপুরের গুলিয়ে গেল। বিড়বিড় করে বলল, কটকে তো জঙ্গল নেই।

    জানিস তা হলে? মিতিন ঠোঁট টিপল, এবার তো তা হলে তোর জিয়োগ্রাফির ফান্ডাটা একটু পরখ করতে হয়। কটকেই আমরা নামব। তবে জঙ্গলটা সেখান থেকে আরও শ’খানেক কিলোমিটার দূরে।

    সিমলিপাল?

    তুত, সিমলিপাল হলে থোড়াই ট্রেনে চাপতাম! কলকাতা থেকে বম্বে রোড ধরে গাড়িতে চলে যেতাম।

    তা হলে কি কেওনঝাড়?

    উঁহু, কেওনঝাড় তো যায় জাজপুর থেকে।

    বুঝেছি, নন্দনকানন যাওয়া হচ্ছে।

    তোর মাথা। ওটা একটা জঙ্গল নাকি? জাস্ট ওপেন এয়ার চিড়িয়াখানা। তা ছাড়া নন্দনকানন তো ভুবনেশ্বরে।

    নাহ, আর কোনও জঙ্গলের নাম মনে আসছে না টুপুরের। কাঁচুমাচু মুখে বলল, আমি পারব না।

    আর একটু ক্লু দিই? পার্থ গলাখাকারি দিল। জঙ্গলটা মহানদীর পারে। নদীর ওপারে ফুলবনি জেলা, এপারে আঙুল।

    ফুলবনি নামটা শোনা শোনা বটে, তবে আঙুল টুপুরের একেবারেই অচেনা। হতাশ মুখে টুপুর বলল, সরি। ওড়িশার ম্যাপ আমার মুখস্থ নেই৷

    তুই একটি লেডিজ ফিঙ্গার। সাতকোশিয়ার নাম শুনেছিস?

    না।

    ভূগোলে তুই লাড্ডু পাবি। অত বড় একটা ফরেস্ট। বাঘ, ভালুক, হাতি, বাইসন, লেপার্ড, কী আছে, আর কী নেই!

    আসলটাই তো বললে না, পার্থ মন্তব্য জুড়ল, ওখানে ঘড়িয়াল সংরক্ষণের চমৎকার বন্দোবস্ত আছে।

    ঘড়িয়াল? টুপুর চোখ কুঁচকাল, মানে যে কুমিরগুলো মাছ খায়?

    অনেকটা ঠিক বলেছিস। ঘড়িয়াল মাছই খায়। দেখতেও প্রায় কুমিরেরই মতো। তবে ওরা পুরোপুরি কুমির নয়, প্রজাতিটা আলাদা।

    ও! তা সাতকোশিয়ার জঙ্গলটা কেমন? খুব ঘন?

    গেলেই দেখতে পাবি। মিতিন এবার একটু তাড়া লাগাল, এখন শুয়ে পড় তো দেখি, অনেক রাত হয়েছে।

    আহ, খড়্গপুরটা যাক না, পার্থ নড়েচড়ে বসল, ডিমসেদ্ধটা খেয়ে তারপর না হয়…।

    উঁহু, বাকি রাতটুকু উপোসই থাকো।

    হুকুম জারি করে বুমবুমের হাত থেকে কমিকসের বই কেড়ে নিল মিতিন। রেলের কর্মচারী চাদর, বালিশ, তোয়ালে কম্বল রেখে গিয়েছে। উপরের বার্থে পাতা হল বুমবুমের বিছানা। পার্থও চড়েছে আপার বার্থে, তোড়জোড় করছে নিদ্রার।

    টুপুর বাথরুমে গিয়েছিল। ফিরছে পায়ে পায়ে। ফাঁকা কুপগুলো দেখতে দেখতে। হঠাৎ গতি শ্লথ হল সামান্য। একটা কুপে দুটো গাঁট্টাগোট্টা লোক এখনও জেগে। তাস খেলছে দু’জনে। টুপুর থমকানো মাত্রই দু’জোড়া চোখ মুহূর্তে তেরচা। দৃষ্টিটা যেন কেমন কেমন। আর পাঁচটা সাধারণ যাত্রীর মতো নয়। দু’জনেরই চুলে কদমছাঁট, হাতে মোটা স্টিলের বালা। এই চৈত্র মাসেও একজনের গায়ে চামড়ার জ্যাকেট, অন্যজনের ফ্ল্যাপ-হাতা বুশশার্ট। একজনের গোঁফজোড়া রীতিমতো তাগড়াই, অন্যজনের নিখুঁত কামানো মুখে চোরা হিংস্রতার ঝিলিক।

    গুঁফো লোকটি সহসা দাঁত ছড়িয়ে বলে উঠল, কী খুকি, এখনও ঘুমোওনি যে?

    গলাটা মোটেও বাজখাঁই নয়, বরং যেন ভাঙা ভাঙা, ফ্যাসফেসে। তবু তার স্বর শুনে বুকটা ধক করে উঠেছে টুপুরের। তাড়াতাড়ি সরে এল। সিটে ফিরে হাঁপাচ্ছে অল্প অল্প। খানিক দম নিয়ে মিতিনকে বলল, দুটো অদ্ভুত লোক আছে কিন্তু কামরায়। আমাদের পাশের পাশের কুপটায়।

    জানি, গলা অবধি কম্বলে ঢেকে শুয়ে ছিল মিতিন। চোখ বুজে। বোজা চোখেই বলল, একজনের নাম কর্মবীর ঘোষ, অন্যজন শক্তিধর সমাদ্দার।

    তুমি ওদের চেনো নাকি?

    প্যাসেঞ্জার লিস্টে নাম দেখেছি।

    দু’জনকেই বেশ সন্দেহজনক মনে হল।

    কেন? রাতে পেঁয়াজ-লঙ্কা দিয়ে রুটি-তড়কা খেল বলে?

    তুমি জানলে কী করে?

    কিছুই তো দেখিস না। আমরা যখন রেলওয়ে ক্যান্টিনে বিরিয়ানি খাচ্ছিলাম, ওরা পিছনের টেবিলেই ছিল। দু’জনেই খুব খাইয়ে। দশটা বারোটা করে রুটি নিয়েছে।

    ও। তবু, লোক দুটো…

    আর যাই হোক, তুই যা ভাবছিস তা নয়। এখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড় দেখি।

    মিতিনমাসির কথায় টুপুর খানিকটা আশ্বস্ত হল বটে, কিন্তু পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছে কই। মাঝে মাঝেই টুকরোটাকরা আওয়াজ ভেসে আসছে গলার। একজন বোধহয় উঠল সিট ছেড়ে, টুপুরদের কুপের সামনে দিয়ে জুতো মশমশিয়ে গেল দূরের বাথরুমটায়। কেন গেল ওদিকে? পুরো কামরা সরেজমিন করতে? যাক, ফিরছে লোকটা। আর কোনও সাড়াশব্দ নেই। শুয়ে পড়ল? নাকি কোনও মতলব ভাঁজছে?

    ভাবতে ভাবতে কখন যেন ঘুমিয়েও পড়ল টুপুর। কত মাঠঘাট, কত নদনদী পেরিয়ে ছুটছে ট্রেন, দাঁড়াচ্ছে, আবার চলছে ঝমঝমিয়ে, টুপুর তখনও গভীর নিদ্রায়।

    নাহ, ডাকাতি লুঠতরাজ কিছুই হয়নি। টুপুরের ঘুম ভাঙল মিতিনমাসির ঠেলাঠেলিতে, কী রে, ওঠ। মুখটুখ ধুয়ে নে। কটক তো এসে গেল, এবার নামতে হবে।

    ওমা, তাই তো! সকাল তো হয়ে গিয়েছে। টুপুর প্রায় লাফিয়ে উঠল। ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দৌড়োল বেসিনে। মুখে-চোখে জল ছিটিয়ে ফিরছে, তখনই ফের চমক। কর্মবীর আর শক্তিধর ব্যাগ গুছিয়ে তৈরি। ওঁরাও কটকে নামছেন?

    হয়তো ওঁদের নামাটা স্রেফ কাকতালীয়। টুপুর জোরে জোরে মাথা নাড়ল। তবু মনটা যেন কেমন খচখচ করছে!

    .

    ০২.

    জঙ্গলের দোরগোড়ায় পৌঁছোতে বিকেল গড়িয়ে গেল। টুপুররা কটকে নেমেছিল সকাল সাড়ে আটটায়। তারপর সাকুল্যে একশো কিলোমিটারও আসেনি, তবু যে কীভাবে চলে গেল গোটা দিনটা!

    প্রথম সময় নষ্ট হল গাড়ি ভাড়া করতে গিয়ে। কটকের বাদামবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে বেশ কয়েকখানা জিপ দাঁড়িয়ে, কিন্তু কোনওটাই পার্থমেশোর পছন্দ হয় না। চেহারা মনোমতো হলে দরে বনে না, দর ঠিক হলে চালককে দেখে নাক সিঁটকোয়। শেষমেশ যে গাড়িটাকে মনে ধরল তার চালকটির একমাত্র গুণ, তিনি ভাল বাংলা বলতে পারেন। পার্থমেসোর সাফ কথা, তিন-তিনটে দিন প্রায় অষ্টপ্রহর থাকব, তার সঙ্গে আমি সারাক্ষণ ওড়িয়া, হিন্দি চালাতে রাজি নই। বলব এক, সে বুঝবে আর-এক। এতে নাকি বেড়ানোর আনন্দই অর্ধেক মাটি হয়ে যায়।

    যাই হোক, বিভূতি নামের সেই ড্রাইভারটিকে নিয়ে যাত্রা শুরু। কিন্তু এন এইচ ফাইভ ধরে বারো তেরো কিলোমিটার গিয়ে এন এইচ বিয়াল্লিশে পড়ার পরই টের পাওয়া গেল, বিভূতিবাবু অত্যন্ত সাবধানি চালক। বাহনের গতি তিনি তিরিশ কিলোমিটারের উপরে ওঠাতেই চান না। মসৃণ রাজপথ ধরে অমন ঢিকুর ঢিকুর করে চলা যে কী দুঃসহ! গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়েছে পার্থমেসোর সাম্প্রতিক নেশাটি। শুধু দামি ডিজিটাল ক্যামেরাই নেয়নি, সঙ্গে আছে একগাদা টেলিলেন্স। চলতে চলতে কোনও দৃশ্য চোখে লাগল তো ব্যস, ওমনি গাড়ি থামাও। নেমে ফোটো তুলছে তো তুলছেই। পথে পড়ল ঢেঙ্কানল, ছুটল রাজবাড়ির ছবি নিতে। এই করতে করতে গাড়ি যখন আঙুলের বনদফতরের সামনে এসে দাঁড়াল, তখন দুপুর প্রায় শেষ। কলকাতা থেকেই বনবাংলোর বুকিং করে রেখেছিল মিতিনমাসি, তবু সরকারি দফতরে গিয়ে কাগজপত্র তৈরি করে আনতে খানিকটা সময় তো খরচ হয়ই।

    তবে মধ্যাহ্নভোজটি চটপটই সারা হয়েছিল আজ। খুবই সরল মেনু। আঙুলের এক পঞ্জাবি রেস্টুরেন্টে তন্দুরি রুটি আর কষা মাংস। কিন্তু আহার সেরে আর-একটি অভিযানে নামতে হল যে পার্থমেসোকে! সাতকোশিয়ার জঙ্গলে নাকি খাওয়াদাওয়ার কোনও বন্দোবস্ত নেই, নিজেদের রেশন নিজেদেরই বয়ে নিয়ে যেতে হয়। ফর্দ বানানোই ছিল পার্থমেসোর, ঘুরে ঘুরে বাজার করতে লাগল আঙুলে। চাল, ডাল, নুন, ঘি, তেল, চা, চিনি, আলু, পটল, ঝিঙে, ঢেঁড়শ, বেগুন, প্যাকেট প্যাকেট মশলা, বিস্কুট, পাউরুটি, আটা, ময়দা, এমনকী কেজিখানেক বেসনও। সকাল-বিকেল বেগুনি, পেঁয়াজি খেতে হবে যে! জ্যান্ত মুরগি কেনারও ইচ্ছে ছিল, মিতিনমাসি আর টুপুরের প্রবল আপত্তিতে বাতিল হয়ে গেল প্ল্যানটা। অগত্যা ডিমই ভরসা। ড্রাইভার সমেত পাঁচজন মানুষের জন্য পার্থমেসো প্রায় শ’খানেক ডিম কিনে ফেলল। ওমলেট খাবে, পোচ খাবে, ডালনা হবে, ডিমের খিচুড়ি হবে। কত কী যে তার ইচ্ছে! বিভূতিবাবু আগাগোড়াই ভাবলেশহীন ছিলেন, তিনি পর্যন্ত পার্থমেসোর ভোজনের পরিকল্পনা শুনে হাসছেন খুকখুক।

    এভাবেই এগোতে এগোতে টুপুররা অবশেষে পৌঁছেছে পম্পাসারে। এখান থেকেই সাতকোশিয়া জঙ্গলের শুরু। রয়েছে বনবিভাগের চেকপোস্ট, সেখানে জাবেদা খাতায় যাত্রীদের নাম, ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, সব লেখার পর জঙ্গলে ঘোরার অনুমতি মেলে।

    লেখালিখির কাজটা মিতিনমাসিই সারছিল। টুপুর আর বুমবুম ঘুরে ঘুরে দেখছিল চারদিকটা। এখনও তেমন একটা জঙ্গল জঙ্গল ভাব আসেনি। তবে সামনেই যে গভীর অরণ্য, এখানেই যেন তার আভাস মিলছে অল্প অল্প। চতুর্দিক বেশ নির্জন, পাখির কিচিরমিচির ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই। বসন্তের গাছগাছালি লালে লাল হয়ে আছে ফুলে ফুলে। একটা বুনো গন্ধও আসছে যেন।

    হঠাৎই টুপুরের চোখ গিয়েছে চেকপোস্টে টাঙানো সাইনবোডর্টায়। জ্বলজ্বল করছে জঙ্গলের নাম, সাতকোশিয়া গর্জ ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি।

    নিজের মনে টুপুর অস্ফুটে বলল, স্যাংচুয়ারি মানে তো অভয়ারণ্য। কিন্তু গর্জ ব্যাপারটা কী?

    বুমবুম বিজ্ঞের মতো বলল, এখানে বাঘের গর্জন শোনা যায় তো, তাই নাম হয়েছে গর্জ।

    ক্যামেরা কাঁধে পার্থ শাটার টিপছিল এলোমেলো। ছেলের জবাব শুনে হা হা হেসে উঠেছে, বেড়ে বলেছিস তো! তোর হেডে মনে হচ্ছে ব্রেন আছে!

    টুপুর সন্দিগ্ধ চোখে বলল, গর্জন থেকে গর্জ?

    আরে, না রে না। গর্জ তো ইংরিজি শব্দ, মানে গিরিখাত।

    ওড়িশার জঙ্গলে আবার গিরিখাত আসে কোত্থেকে?

    উঁহু, জঙ্গলে গিরিখাত নয়। গিরিখাতে জঙ্গল।

    মানে?

    আমরা এখন আর সমতলে নেই। প্রায় হাজার ফিট উঠে এসেছি। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে চলতে চলতে আরও খানিকটা ওঠানামা হবে। এটা পূর্বঘাট পর্বতমালার একটা অংশ। সেই পূর্বঘাটেরই কয়েকটা পাহাড়ের মধ্যে গিরিখাতে গড়ে উঠেছে এই জঙ্গলটা। ম্যাপ যা বলছে, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে মহানদী।

    বিভূতি খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে পার্থর বর্ণনা শুনছিলেন। এগিয়ে এসে বললেন, হ্যাঁ স্যার, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে সাত ক্রোশ পথ গিয়েছে মহানদী। মানে, চোদ্দো মাইল। আর ওই সাত ক্রোশ থেকেই জঙ্গলের নাম সাতকোশিয়া।

    পার্থ ঘাড় নাড়ছে। জিজ্ঞেস করল, এখানে নাকি আগে তিনখানা জঙ্গল ছিল?

    সে তো মহানদীর এপার-ওপার মিলিয়ে। এখন সবক’টা একসঙ্গে নিয়ে সাতকোশিয়া। তবে এপারের জঙ্গলটি বেশি ঘন। জন্তুজানোয়ারও এপারেই বেশি।

    দেখা যায় কাউকে? নাকি সবাই জঙ্গলে ঘাপটি মেরে থাকে?

    কপালে থাকলে চোখে পড়বে স্যার। হরিণ তো পাবেনই, বাইসনও মিলতে পারে। এখন তো মহুয়াফুল ফোঁটার সময়। ভল্লুক মহুয়া খেতে খুব ভালবাসে, তাই তাদেরও হয়তো দেখা পেতে পারেন।

    বুমবুম চেঁচিয়ে উঠল, আর বাঘ? হাতি?

    ওরা একটু দূরে দূরে থাকাই ভাল, বুঝলে খোকা। বিশেষ করে হাতি।

    কেন? হাতি তো খুব ভাল। লোকে তো হাতির পিঠে চড়ে।

    জঙ্গলের হাতি মোটেই সেরকম শান্তশিষ্ট নয়, খুব রাগী। সামনে পড়লে খেপে গিয়ে আমাদের আস্ত জিপগাড়িখানা উলটে দিতে পারে, বিভূতি চোখ ঘোরালেন, তবে বাঘ এ জঙ্গলে বেশি নেই। যা আছে বেশিরভাগই চিতা। তারাও বড় মারাত্মক। কাউকে যদি জঙ্গলে একা পেয়ে যায়, বিশেষ করে বাচ্চাদের…

    বুমবুমের মুখ শুকিয়ে আমসি। ছেলের ভাবান্তর নজরে পড়েছে পার্থর। এগিয়ে এসে হাত রাখল ছেলের মাথায়, আহা, ঘাবড়াচ্ছিস কেন? বনজঙ্গলে তুই একা একা ঘুরবি নাকি? আমরা তো থাকব সঙ্গে।

    অমনি বুমবুমের মুখে হাসি ফিরেছে। সগর্বে বলল, আমি ভয় পাইনি তো। লেপার্ড এলে আমি ঢিল মেরে তাড়িয়ে দেব।

    বটে? চল তো ভিতরে, দেখব তোর কত সাহস। ঘরে বসে একবার বাঘের ডাক শুনলেই তো আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যাবে।

    শুনেই বুমবুমের মুখ ফের কাঁচুমাচু। বিভূতি তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, না গো খোকা। তোমরা যেখানে থাকবে, মানে টিকরপাড়া বনবাংলোয়, ওদিকটায় বাঘ, চিতাবাঘ আসে না বড় একটা। লবঙ্গির জঙ্গলেই ওদের বেশি উপদ্রব। আর টুলকায়।

    টুপুর অবাক মুখে বলল, সেগুলো আবার কোথায়?

    সাতকোশিয়ার ভিতরেই।

    আমরা সেখানে যাব না?

    নিশ্চয়ই যাব, পার্থ বলল, বিভূতিবাবুর সঙ্গে আমার কথা হয়ে গিয়েছে। উনি আমাদের গোটা জঙ্গলটাই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবেন। এই ফরেস্ট তো আপনার হাতের তালুর মতো চেনা। তাই না বিভূতিবাবু?

    হ্যাঁ স্যার, পুরোটাই আমার নখদর্পণে। প্রতি বছরই পাঁচ-ছ’বার করে আসি কিনা। এই তো পরশু দু’জনকে পৌঁছে দিয়ে গেলাম। কলেজের এক মাস্টারমশাই, আর তাঁর ছাত্র। সাতদিন পর ফিরবেন। কথা হয়েছে, ফোন করে ডাকলে আমি এসে নিয়ে যাব।

    জঙ্গলে ওঁরা গাড়ি ছাড়াই ঘুরবেন?

    অনেকেই ওরকম ঘোরে স্যার। অ্যাডভেঞ্চার করতে ভালবাসে।

    টুপুর জিজ্ঞেস করল, তা হলে টিকরপাড়ায় আমরা কী দেখতে পাব? শুধুই কুমির? মানে ঘড়িয়াল?

    হ্যাঁগো দিদিভাই। ঘড়িয়াল তো ওখানে কিলবিল করছে। নদীতে, পাশের খাঁচায়, রোগাসোগা ছোটোখাটো চেহারা বিভূতির মুখে চিলতে হাসি দেখা গেল। কাঁচাপাকা গোঁফে আঙুল চালাতে চালাতে বললেন, মাঝে মাঝে ভারী বিপদ ঘটায় ঘড়িয়ালগুলো। বনবাংলোর বারান্দায় পর্যন্ত চলে আসে। দরজায় ঠকঠক করে।

    দৃশ্যটা মোটেই মজার বলে মনে হল না টুপুরের। ঘরের সামনে কুমির ঘুরে বেড়াবে, এ কেমন জঙ্গল রে বাবা? মাছ খায় বলে মানুষের হাত-পা চেখে দেখবে না, এমন তো কোনও গ্যারান্টি নেই।

    টুপুরের বুকে একটা হালকা কাঁপুনি শুরু হয়েছিল, তখনই মিতিন ফিরেছে। কাগজপত্র ব্যাগে ঢোকাতে ঢোকাতে বলল, চল চল, বাংলোয় ঢুকতে সন্ধে না হয়ে যায়।

    ঝটিতি জিপে উঠে যে যার সিটে। গাড়ি স্টার্ট দিয়েছেন বিভূতি। সরু পিচের রাস্তা ধরে চলেছেন নিজস্ব গতিতে। শেষ বিকেলের আলো মেখে শাল-সেগুনের জঙ্গল ভারী মায়াবী এখন।

    বাইরেটা দেখতে দেখতে মিতিন পার্থকে বলল, তোমার ক্যামেরার ডিটেলটাও চেকপোস্টে এন্ট্রি করাতে হল। ভিডিও না স্টিল, তাও নোট ডাউন করল।

    তাই নাকি? পার্থ কাঁধ ঝাঁকাল, দারুণ কড়াকড়ি তো!

    ছাই কড়াকড়ি, স্টিয়ারিং থেকে বিভূতি বলে উঠলেন, একে বলে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো।

    কেন? কেন?

    সাধারণ টুরিস্টের উপর খুব নিয়মকানুন ফলায়। ওদিকে চোরা শিকারিরা গার্ডদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি নিজেদের কাজ হাসিল করে যাচ্ছে।

    কীরকম?

    এই তো গত বছরেই দু-দুটো চিতাবাঘ মারা পড়ল। তিনটে হরিণও।

    খবরটা পড়েছি, মিতিন মাথা নাড়ল, চামড়া ছাড়িয়ে বডিগুলো ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। মোটামুটি এই সময়েই ঘটেছিল, তাই না? কেউ বোধহয় ধরাও পড়েনি?

    আপনি তো অনেক খবর রাখেন ম্যাডাম, বিভূতির স্বরে তারিফ। আপনমনেই বললেন, সত্যি, তখন কত হইহল্লা হল। পুলিশের বড় বড় অফিসার এসে কী হয়রানিই না করল টুরিস্টদের। কিন্তু পাজিগুলোর টিকিও ছুঁতে পারল না। ওড়িশার পুলিশ একেবারে অপদার্থ।

    সব রাজ্যের পুলিশই প্রায় সমান বিভূতিবাবু, পার্থর গলায় পলকা ব্যঙ্গ, এই তো, দু’-তিন সপ্তাহ আগেই দেখলাম আমাদের সুন্দরবনে চোরাশিকারিরা ঢুকে একটা বাঘ মেরেছে এবং চামড়াটি ছাড়িয়ে ভাগলবা। বন দফতর, পুলিশ কেউ কিছু করতে পারল?

    টুপুর করুণ মুখে বলল, ওইসব লোক কী খারাপ! জন্তুজানোয়ার মেরে তাদের ছাল ছাড়িয়ে নেয়।

    টাকার জন্য মানুষ কী না করে! একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়ার দাম তো কম নয়। পার্থ সামনের সিট থেকে মিতিনের দিকে ঘুরে তাকাল, মিনিমাম তিন-চার লাখ, কী বলো?

    জানি না। গবেষণায় আমার স্পৃহাও নেই, মিতিন অল্প হাসল। তবে তোমায় একটা অন্য খবর দিতে পারি। জঙ্গল টুরে নিউজটা বোধহয় আমাদের কাজে লাগবে।

    কী?

    টিকরপাড়া ফরেস্ট বাংলোর চৌকিদারটি নাকি গতকাল সকাল থেকে হাওয়া। চেকপোস্টের গার্ডরা জানাল।

    পার্থ চোখ পিটপিট করল, তো? আমাদের তাতে কী এল গেল?

    ওই চৌকিদারটিই টুরিস্টদের রান্নাবান্না করে দিত।

    অ্যাঁ? পার্থ এবার জোর ঝাঁকুনি খেয়েছে। ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে বলল, সর্বনাশ! আমাদের খাওয়াদাওয়ার কী হবে তা হলে?

    এত তুমি ভোজনরসিক, মিতিন টুপুরের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপল, কদিন তুমিই না হয় আমাদের রেঁধেবেড়ে খাওয়াবে।

    সে তো আমি পারিই। কুকিং কী এমন কঠিন কাজ? তবে কিনা, বেড়াতে এসে ভেবেছিলাম ঘুরে ঘুরে একটু ওয়াইল্ড লাইফ ফোটোগ্রাফি করব, বলতে বলতে হঠাৎ কী ভেবে স্টিয়ারিং-এর দিকে ঘাড় ঘুরিয়েছে, বিভূতিবাবু, আপনি রান্নাবান্না জানেন না?

    জঙ্গল হালকা হয়েছে খানিকটা। ছোট্ট একটা গ্রাম পেরোচ্ছে গাড়ি। ডান দিকে একটি স্কুল। সামনের মাঠে ফুটবল পেটাচ্ছে জনাকয়েক কিশোর। সেদিকে একবার দেখে নিয়ে বিভূতি মৃদু স্বরে বললেন, পারি স্যার। অল্পস্বল্প।

    ভাতের ফ্যান গালতে পারেন?

    হ্যাঁ।

    রুটি সেঁকতে পারেন? লুচি, পরোটা ভাজা?

    তাও পারি। তবে একটু তেড়াবেঁকা হয়।

    নো প্রবলেম। ওড়িশার ম্যাপের মতো হলেও চলবে, পার্থকে বেশ খুশিখুশি দেখাল, ডাল, ভাজা, ডিমের ডালনাও পারেন নিশ্চয়ই?

    করেছি মাঝে মাঝে। খুব ভাল না হলেও মুখে তোলা যাবে।

    আর পকোড়া টকোড়া?

    চেষ্টা করলে হয়তো পারব। ওই বেসনে ডুবিয়ে তেলে ছেড়ে দেওয়া তো?

    ইয়েস। দ্যাটস অল উই নিড! উচ্ছ্বাসে ইংরিজি বেরিয়ে গেল পার্থর। বত্রিশ পাটি দন্ত বিকশিত করে বলল, রান্নার দায়িত্বটা তা হলে আপনিই নিন। আমরাও থাকব, হেল্পটেল্প করব। সবাই মিলে ক’দিন ধরে বেশ একটা বনভোজন বনভোজন চলবে। কী বিভূতিবাবু, রাজি তো?

    ছোট্ট করে ঘাড় নাড়লেন বিভূতি। নীরব সম্মতিটুকু পেয়ে পার্থ আহ্লাদে আটখানা। ঘুরে টুপুরকে বলল, তোর মাসি আমায় জব্দ করবে ভেবেছিল। কেমন একটা ব্যবস্থা করে ফেললাম দ্যাখ। হা হা হা।

    বুমবুম খলখল হেসে উঠল কিছুই না বুঝে। টুপুরও হাসছে মিটিমিটি। গ্রাম ছাড়িয়ে আবার ছেঁড়া ছেঁড়া জঙ্গলে ঢুকেছে গাড়ি। যেতে যেতেই বাঁয়ে একখানা বনবাংলো। পুরানাকোট ফরেস্ট রেস্ট হাউস। কোনও লোকজন নেই, শুনশান পরিবেশে যেন ঝিমোচ্ছে বাংলোটা। তার একটু পরেই এসে গিয়েছে টিকরপাড়া।

    পাশাপাশি তিনখানা বাড়ি। একটায় বনবিভাগের অফিস কাম ফরেস্ট অফিসারদের ইনস্পেকশন বাংলো। মন্ত্রীসান্ত্রিরাও এসে থাকেন সেখানে। অন্য দুটো বাংলো সাধারণ ভ্রমণার্থীদের জন্যে। বাংলোর সামনে একটা বড়সড় লন। সেখানে গাড়ি থামতেই বনবিভাগের কর্মচারী হাজির। টুপুরদের বুকিং-এর কাগজপত্র তিনি দেখলেন খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে। তারপর চাবি এনে খুলে দিলেন একটা দু’কামরাওয়ালা স্যুইট। ভিতরে বন্দোবস্ত মন্দ নয়। বড় বড় খাট, আলমারি, সোফা, ড্রেসিংটেবিল সবই পরিচ্ছন্নভাবে সাজানো। ডাইনিংটেবিল পেতে খাওয়ার জায়গাও করা আছে একখানা। বাথরুম ঝকঝকে, শাওয়ারও মজুত। আরাম করে থাকতে গেলে এর বেশি আর কী-ই বা চাই!

    ব্যাগ, সুটকেস ঢোকানো হয়েছে ঘরে। বিছানায় গড়িয়ে পড়েছে পার্থ। হাঁক ছাড়ল, টুপুর, বিভূতিবাবুকে বল তো, আমাদের খাওয়ার জিনিসপত্রগুলো যেন গাড়ি থেকে নামিয়ে নেন। আর এখন একটু চা হলে ভাল হয়।

    অমনি মিতিনের ধমক, অ্যাই, নিজে ওঠো তো! বেচারা এতক্ষণ গাড়ি চালিয়ে এসেছেন, তুমি গিয়ে বিভূতিবাবুর সঙ্গে হাত লাগাও। রান্নাঘরগুলো ওই দূরে, জিনিসপত্র নিজেই পৌঁছে দিয়ে এসো।

    অগত্যা সুখশয্যা ছাড়তেই হল পার্থকে। টুপুর পায়ে পায়ে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে লনটায়। দিনের আলো প্রায় মরে এসেছে। ঘরে ফেরা পাখিদের কলকাকলিতে জঙ্গল এখন রীতিমতো মুখর। এত শব্দ যে, কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। তাদের বাংলোখানা পাহাড়ের প্রায় শেষ প্রান্তে। অনেকটা নীচ থেকে ভেসে আসছে নদীর আওয়াজ। লন থেকে দেখা যাচ্ছে না নদীটাকে, তাই যেন ওই শব্দে কেমন গা ছমছম করে। খানিকটা দূরে, নদীর ওপারে আবার পাহাড়। সবুজে ছাওয়া। সূর্য বুঝি ওই পাহাড়ের আড়ালে ডুবেছে, ছায়া নেমেছে পাহাড়ে। নদীটাকেও এবার দূরে দেখতে পেল টুপুর। এঁকেবেঁকে চলে যাচ্ছে পাহাড়ের পিছনে। এই ছায়া ছায়া আলোয় দৃশ্যটা যে কী অপরূপ!

    হঠাৎই পাশে বুমবুম। তিড়িংবিড়িং লাফাচ্ছে। সঙ্গে মিতিনমাসি। হাতে ইনফ্রারেড বাইনোকুলার। খাঁটি জার্মান যন্ত্র, রাতেও দূরের বস্তু দেখা যায়। বেশ। একটু লালচে ভাবে, তবে মোটামুটি স্পষ্ট।

    বাইনোকুলার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চারদিক দেখছিল মিতিন। হঠাৎ টুপুরকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, দূরে মাঠটায় ফোকাস কর। চেনা কিছু পাচ্ছিস?

    টুপুর চোখে লাগাল যন্ত্রটা। নদীর পারে একটা তাঁবু। তার সামনে দুটো লোক হাত পা ছড়িয়ে শরীরচর্চা করছে।

    টুপুরের হৃৎপিণ্ড আচমকা লাফিয়ে উঠল। কী কাণ্ড, ট্রেনের সেই মুশকো লোক দুটো না! কর্মবীর আর শক্তিধর?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }