Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প702 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫-৬. ভাঙাচোরা রাস্তা

    অতি ধীরে চলছিল গাড়ি। ভাঙাচোরা রাস্তা ধরে। ভাঙাচোরা বলাটা ভুল, রাস্তা প্রায় নেই বললেই চলে। গহিন অরণ্য চিরে প্রায় মাটির পথ, মেরেকেটে সাত-আট হাত চওড়া। কোনও এককালে হয়তো ইট-টিট পড়েছিল, এখন তার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া কঠিন।

    মুখে কুলুপ এঁটে পথের দু’পাশটা দেখছিল টুপুর। কী গাঢ় নিস্তব্ধতা। এমন নৈঃশব্দ্যের মাঝে কথা বলা বুঝি মানায়ও না। জনপ্রাণীর আওয়াজ তো দূরস্থান, শোনা যাচ্ছে না কোনও পাখির ডাকও। গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দটা পর্যন্ত কানে লাগছে। জঙ্গল ক্রমশ এতই গভীর, স্পষ্টভাবে কিছু দেখার উপায় নেই। এই ঘোর দুপুরেও বনের মাঝে চাপ চাপ অন্ধকার। হঠাৎ হঠাৎ ঝোপঝাড় সামান্য নড়ে উঠলেই ছ্যাঁত করে ওঠে বুক। মনে হয়, এই বুঝি হানা দিল কোনও বুনো জন্তু। মাঝে মাঝেই পথের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি ঝোরা। সন্তর্পণে সেই জল মাড়িয়ে এগোচ্ছে টুপুরদের জিপ। একবার যেন হরিণের ডাকও শোনা গেল। কিন্তু চোখে এসে ধরা দিল না কেউ।

    স্তব্ধতার চাপ কমাতেই বুঝি কথা বলে উঠলেন বিভূতি, কেমন লাগছে স্যার?

    দুর্দান্ত, পার্থ পাশের সিট থেকে বলল, ভেবেছিলাম হালকাপুলকা ফরেস্ট। কিন্তু এ তো দেখছি সিমলিপাল, সারান্ডাকেও হার মানায়। লবঙ্গি আর কদ্দূর?

    আরও সাত-আট কিলোমিটার তো বটেই।

    আগাগোড়াই এরকম? মাঝে কোনও ফাঁকা জায়গা নেই? গাড়ি দাঁড় করিয়ে ফোটো তুলতাম।

    হ্যাঁ হ্যাঁ, আছে বই কী। একটু অপেক্ষা করুন।

    বলতে বলতে মিনিট কয়েকের মধ্যে জঙ্গল একটু পাতলা হয়েছে। মিলেছে একফালি খোলা প্রান্তর। শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া ছাড়াও আরও কত লাল লাল ফুল ফুটে আছে। গাছের পাতাগুলোও যেন লালচে লাগে ফুলের আভায়।

    গাড়ি থামতেই টুপুর নেমে হাত-পা ছাড়িয়ে নিল। চোখে বাইনোকুলার লাগিয়ে মিতিনের ঘাড় ঘুরছে এদিক-সেদিক। পার্থর শাটার টেপার বিরাম নেই। বুমবুম ঘাড় উঁচিয়ে দেখছে ফুলের মেলা।

    হঠাৎ টুপুর চেঁচিয়ে উঠল, ওই দ্যাখো, দূরে একটা হরিণ।

    বুমবুম পলকে সচকিত, কই রে টুপুরদিদি?

    ওই তো, বড় শাল গাছটার নীচে। ও মা! একটা তো নয়, অনেক!

    টুপুরদের শো দেওয়ার জন্যই যেন হাজির হয়েছে চিতল হরিণের পাল। একটুও ভয় পাচ্ছে না মানুষকে। দিব্যি অসংকোচে দাঁড়িয়ে। হালকা বাদামির উপর সাদা সাদা ছোপ। সুন্দর জীবগুলো কী সরল চোখে তাকাচ্ছে! আচমকা কোথায় যেন মৃদু শব্দ হল, অমনি দুদ্দাড়িয়ে পালাল হরিণের দল, লাফ মেরে মেরে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল।

    টুপুর অবাক হয়ে বলল, একটা আওয়াজ শুনেই ওরা হাওয়া মারল যে বড়?

    মিতিন বলল, ওরা এমনিতেই ভিতু। তা ছাড়া, জঙ্গলের প্রাণীরা আগাম বিপদের গন্ধ পায়। হয়তো কাছেপিঠে নেকড়ে কিংবা প্যান্থার গোছের কিছু এসেছে।

    পার্থ সামান্য বিচলিত হয়েছে। বলল, আর দেরি নয়। চলো, তা হলে আমরা জিপে উঠে পড়ি।

    মিতিন হেসে বলল, ভয় পেয়ে গেলে?

    তা কেন, সঙ্গে আমাদের বাচ্চাকাচ্চা আছে, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটা মোটেই সেফ নয়।

    জন্তুটাকে দেখতে পেলে একটা দুরন্ত স্ন্যাপ নিতে পারতে।

    চলো, গাড়িতে গিয়ে বসি তো। ওখান থেকেও কিছু মন্দ হবে না।

    বসে অপেক্ষা করাই সার। কোনও চারপেয়েই দর্শন দিল না। তবু টেলিলেন্স লাগিয়ে বেশ কয়েকবার শাটার মারল পার্থ।

    বিভূতি ফের স্টার্ট দিয়েছেন গাড়িতে। আবার নিঝুম জঙ্গল। আবার এবড়োখেবড়ো পথ। পার্থ ঘাড় ঘুরিয়ে মিতিনকে জিজ্ঞেস করল, সঙ্গে বিস্কুটটিস্কুট কিছু এনেছ?

    মিতিন ভ্রূভঙ্গি করল, এরই মধ্যে খিদে পেয়ে গেল?

    যা ঝাঁকুনি, বাপ রে! ভাত, মাছের ঝোল হজম হয়ে গিয়েছে।

    বুমবুমের চিপস আছে, চলবে?

    দাও দু-চারটে। ক্ষুন্নিবৃত্তি হোক।

    অমনি বুমবুমের বায়না, আমাকেও দাও, আমাকেও দাও।

    অগত্যা টুপুরই বা আর বাকি থাকে কেন! সেও চলেছে টকঝাল কচুভাজা চিবোতে চিবোতে।

    খানিকটা গিয়ে টুপুর জিজ্ঞেস করল, লবঙ্গি থেকে ফিরে আমরা কি আর বেরোব?

    পার্থ কাঁধ ঝাঁকাল, কোথায় আর যাব?

    বা রে, তুমিই তো বললে জঙ্গলে একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে। গভীর রাতে সেখান থেকে নাকি অনেক জন্তু দেখা যায়।

    উত্তম প্রস্তাব, যাওয়া যেতেই পারে, পার্থ পাশে তাকাল, কী বলেন বিভূতিবাবু?

    কোনটায় যাবেন? বিভূতির পালটা প্রশ্ন।

    মানে? বিট অফিসার যে বললেন, একটাই ওয়াচ টাওয়ার? হাতিবাড়ি কোথায় যেন?

    না তো, আরও দুটো আছে। কদলিখোলা আর করদাপাড়া। অবশ্য হাতিবাড়ি যাওয়াই ভাল। বাকি দুটোর দশা সুবিধের নয়।

    ওখানে বাঘ-ভল্লুক কিছু দেখা যাবে?

    এখন সম্ভাবনা কম। জলাশয় মতো বানানো আছে, আর আছে নুনের গর্ত। গরম আরও বাড়লে ঝরনা টরনাগুলো একেবারে শুকিয়ে যায়, তখন জানোয়াররা ওখানে জল খেতে আসে। তবে নুন চাটতে আসা দু’-একটা ভালুক কিংবা বুনো শূকর দেখতে পাবেন, এটুকু বলতে পারি। আর কপাল খুব ভাল থাকলে হাতি। বাঘ টাঘ এখন আশাই করবেন না।

    পার্থ বুঝি একটু দমে গিয়েছে। তবু বলল, হাতি তো বোধহয় আজই পেয়ে যাব, লবঙ্গিতে।

    তা হলে আর বিভূতিবাবুকে মিছিমিছি কষ্ট দেওয়া কেন? মিতিন বলে উঠল, রাত্তিরটা উনি শান্তিতে ঘুমোন। কাল-পরশু তো হাতে থাকছে। তার মধ্যেই একদিন না হয়…

    জো আপকা মর্জি ম্যাডাম।

    লবঙ্গির বনবাংলো এসে গিয়েছে। জিপ থামতেই দৌড়ে এল চৌকিদার। বুড়ো মানুষ, হাঁটু পর্যন্ত ধুতি, খালি গা, কাঁধে গামছা, গায়ের রং মিশমিশে কালো। মুখে আদিবাসী আদিবাসী ছাপ অতি স্পষ্ট।

    চৌকিদার বিভূতির চেনা। পার্থর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, এ হল সুরজ মুন্ডা। সাতকোশিয়ার সব কটা বনবাংলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কর্মচারী।

    সুরজ ঘাড় নাড়লেন। ওড়িয়া ভাষায় বললেন, হাঁ স্যার, পঁয়ত্রিশ বৎসর চাকরি করছি।

    বটে? তা হলে তো আপনার কাছে জঙ্গলের অনেক গল্প শোনা যাবে, পার্থ সোৎসাহে বলল, তার আগে একটু চা পাওয়া যাবে কি?

    এইনে করি আনুছি।

    বলেই দৌড়। টুপুররা ঘুরে ঘুরে দেখল বাংলোটা। তিনটে ঘর, মাঝে ডাইনিং হল, সবই অবশ্য বন্ধ। সামনে খানিকটা খোলা জমি। সেখানে অনেক গাছ। শাল, সেগুন, শিশু, কাঁঠাল। একটু দূরে লম্বা দেবদারুও চোখে পড়ল। একখানা পাহাড়ও দৃশ্যমান। পাহাড়ের নীচে খেত, যেন পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। বেশ লাগে দেখতে।

    পার্থ বিভূতিকে জিজ্ঞেস করল, বাংলোটা বন্ধ কেন? কেউ আসে না এখানে?

    বুকিং দিচ্ছে না। জলের খুব সমস্যা তো এখানে।

    টুলকায় নিশ্চয়ই পাওয়া যায়?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ। ওখানে তো টুরিস্ট যাচ্ছে। বাঘমুন্ডাতেও।

    কিন্তু পুরানাকোট? ওখানে তো রেঞ্জ অফিস, লোকবসতি আছে, তবু বাংলোটা তো শুনশান মনে হল।

    তার কারণ অন্য স্যার। পুরানাকোটের বাড়িটায় ভূত আছে।

    হোয়াট?

    হ্যাঁ স্যার। আপনাআপনি দরজা খুলে যায়, খাওয়ার প্লেট থেকে খানা উবে যায়, নানারকমের গলা কানে আসে। বনদফতর এখন পারতপক্ষে কাউকে ওখানে পাঠায় না।

    সুরজ চা এনেছেন। হাতে হাতে কাপ ধরিয়ে দিয়ে বললেন, আপনা মানুকু তো খুব অসুবিধা হইছি।

    পার্থ যেন ঠিক বুঝতে পারল না। বলল, কেন? কীসের অসুবিধে?

    রান্ধুতি কি এ? টিকরপদার চৌকিদার তো ছুটিতে যাইছি।

    যাহ, সে তো নিখোঁজ। তার তো পাত্তাই মিলছে না।

    রাজু তো পরশু ঘরকো যাইছি। পনেরো দিনের আগে আসিবুনি।

    পার্থ আর মিতিন মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। পার্থ জিজ্ঞেস করল, আপনাকে এত খবর কে দিল?

    সুরজবুড়ার কান বড় লম্বা। জঙ্গলের সব কথা ভাসি আসে।

    এ তো বেশ গোলমেলে ব্যাপার! পার্থর চোখ পিটপিট, তা আর কী কথা আপনার কানে ভেসে এসেছে?

    নুকিচুরি করে কেত্তে কেত্তে সব জন্তু মারে। এনে কেই দেখি পারিনি।

    তাই নাকি? শুনছিলাম বটে গত বছর দু’খানা চিতা খুন হয়েছে। পার্থ মাথা নাড়ল, আর কী-কী জন্তুকে টার্গেট করে?

    এত্তেদিনি হরি মার খেলা। এনে ঘড়িয়া মারুছি।

    ঘড়িয়া? মানে ঘড়িয়াল?

    হ্যাঁ স্যার।

    বলেন কী? এমন নিরীহ মেছো কুমিরদেরও?

    মিতিন মন দিয়ে কথোপকথন শুনছিল। চায়ে চুমুক দিয়ে শান্ত গলায় বলল, অবাক হওয়ার কিছু নেই পার্থ। ঘড়িয়ালের চামড়া যে কত মহার্ঘ, তা টুপুরও জানে।

    তা বটে। কিন্তু…।

    পার্থর তবু যেন মন খুঁতখুঁত। এদিকে চার-চারজন শ্রোতা পেয়ে সুরজ উজাড় করে দিচ্ছেন তাঁর গল্পের ঝাঁপি। সেই অনেক অনেক বছর আগে রইস লোকজন কীভাবে কাঁধে বন্দুক চাপিয়ে বাঘ, ভালুক শিকারে আসত। তারপর একসময় জন্তু-জানোয়ার মারার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল সরকার। রায়গড়া, পদ্মাতোলা আর মহানদীর জঙ্গল মিলিয়ে হয়ে গেল একটাই বন। ভাল লোক তো আর আসেই না, এখন শুধু দুষ্ট ছেলে-ছোকরার উপদ্রব। তারা যেখানে-সেখানে পিকনিক করে, গাঁকগাঁক করে গান চালায়, ভয়ে জন্তুরা আর তেমন বেরোয়ই না।

    নিজের ভাষায় চলছে সুরজের বকবকানি। প্রথমটা মন্দ লাগছিল না, কিন্তু ক্রমেই যেন পার্থর বোধগম্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেটে পড়ার জন্য ঘনঘন ইশারা করছে বিভূতিকে। কোনওক্রমে ছাড়া পেয়ে বিভূতিও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন যেন।

    গাড়ি চলতেই টুপুরের গলায় আফশোস, এ মা, আমাদের তো লবঙ্গিতে হাতি দেখা হল না!

    বিভূতি বললেন, হাতিরা বেশিক্ষণ এক জায়গায় থাকে না। অনবরত স্থান বদলায়। টিকড়পাড়া ফেরার আর একটা রাস্তা আছে। খুব খারাপ পথ। আরও ঘন জঙ্গল। ওই দিক দিয়ে গেলে হয়তো কিছু জানোয়ার চোখে পড়বে। যদি বলেন তো…

    কোনও দরকার নেই, মিতিন সরাসরি নাকচ করে দিল, জঙ্গলে তো আসা বুনো বুনো ভাবটা এনজয় করতে। সেটা তো পুরোমাত্রায় হচ্ছে। জন্তুজানোয়ার দেখার জন্য কলকাতার চিড়িয়াখানাই কি যথেষ্ট নয়?

    পার্থ ক্ষীণ স্বরে বলল, তবু ন্যাচারাল পরিবেশে বন্যপ্রাণী দেখার মজাটাই তো আলাদা।

    বুমবুম বলল, ঠিক বলেছ, ঠিক বলেছ।

    মিতিন বলল, না, এখন সোজা বাংলো। রাতে যদি জাগতে পারো, ওয়াচ টাওয়ারে বসে দেখো।

    অগত্যা আগের পথেই প্রত্যাবর্তন। রুমে এসে কিছুক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি খেল পার্থ। তারপর গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে চলল বিভূতিকে জপাতে। বিকেলে গরম গরম পকোড়া চাই কিনা!

    লনে চেয়ার নিয়ে বসে ছিল মিতিন। টুপুরও একটা চেয়ার টেনে বসল পাশে। দেখছে নদীর ওপারের পাহাড়, বাঁক খাওয়া রুপোলি নদী। শেষ সূর্যের আলো পড়ে ঝিকমিক করছে জলটা। কাছেই একটা গাছে তিনটে মিশকালো পাখি এ ডাল ও ডাল করছে। ভীমরাজ নাকি? একটা টিয়ার ঝাঁক মহানদীর ওপার থেকে ফিরছে। ট্যাঁ ট্যাঁ করতে করতে মিলিয়ে গেল জঙ্গলের আড়ালে।

    টুপুর আত্মগতভাবে বলল, বিকেলটা এখানে দারুণ, তাই না মিতিনমাসি?

    মিতিনের কোনও সাড়াশব্দ নেই। টুপুরের হঠাৎই মনে হল, মাসি যেন বড্ড চুপচাপ। ফেরার পথে গাড়িতেও বিশেষ কথাবার্তা বলছিল না। কী যেন ভাবছে সারাক্ষণ।

    টুপুর জিজ্ঞেসই করে ফেলল, কী এত চিন্তা করছ গো?

    সামান্য মাথা ঝাঁকাল মিতিন। তারপর বলল, একটা সংশয় মনে উঁকি দিচ্ছে, বুঝলি।

    কীরকম?

    যেমন ধর, রাজু নামের চৌকিদারটির হঠাৎ প্রস্থান। বিট অফিসার কিছুই জানেন না, অথচ সুরজ বলছেন, সে নাকি ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছে।

    হয়তো সুরজ ভুল জানেন। কিংবা রাজু হয়তো বাড়ি থেকে কোনও খারাপ খবরটবর পেয়েছে।

    কিন্তু বিট অফিসার তো পাশেই থাকেন। তাঁকে বলে যাবে না?

    উনি তো বলছিলেন, রাজুর নাকি এরকম অভ্যেস আছে।

    হুম। তারপর ধর, কর্মবীর আর শক্তিধরই শুধু তাঁবুর বুকিং পেলেন।

    টুপুর উৎসুক মুখে বলল, তুমি কি কোনও রহস্যের গন্ধ পাচ্ছ?

    উঁহু, তার চেয়েও বেশি। মনে হচ্ছে, কোথাও একটা নোংরা খেলা চলছে। আর সেই খেলাটা খুবই ভয়ংকর।

    তুমি কী বলছ, কিছুই বুঝতে পারছি না।

    আমি নিজেও পরিষ্কার বুঝতে পারছি না যে। আবছা আবছা ক’টা সুতো দেখতে পাচ্ছি শুধু। যতক্ষণ না ওগুলো স্পষ্ট হচ্ছে, জোড়াও যাবে না।

    এক-এক সময়ে কী যেন হেঁয়ালি করে মিতিনমাসি, মাথামুন্ডু ঠাহর করাই দায়। তবে যাই হোক, টুপুরকে এড়িয়ে তো কিছু করবে না মাসি৷

    ভাবনার মধ্যেই রাশি রাশি তেলেভাজা হাজির। পাহাড়প্রমাণ বেগুনি, পেঁয়াজি, আলুর চপ, কিছুই বাদ নেই। বড় প্লেটে সাজিয়ে এনেছেন বিভূতি। পাশে উল্লসিত মুখে পার্থ আর বুমবুম। কচর কচর মুখ চলছে বাপ ছেলের।

    পার্থ আহ্লাদিত স্বরে বলল, খেয়ে দ্যাখো, তোমার কালকের রাতের বেগুনির চেয়ে ঢের ভাল হয়েছে।

    মিতিন একটা বেগুনি তুলে নিল। কামড় দিয়ে বলল, মন্দ নয়, তবে নুন একটু কম।

    পার্থ বলল, ওফ, কিছুতেই প্রাণ খুলে প্রশংসা করতে পারো না। একদম নিখুঁত হলে কি প্রেসের ব্যবসায় পড়ে থাকতাম? জমিয়ে তেলেভাজার দোকান দিতাম একখানা।

    আর নিজেই খেয়ে সাফ করতে, টুপুরও মজা জুড়ল, আর দিনের শেষে ক্যাশবক্সে পড়ে থাকত লবডঙ্কা।

    মোটেই না। তোর মাসি টিকটিকিগিরি করে যা কামায়, তার তুলনায় ঢের বেশি পয়সা আসত, পার্থ আর একটা চেয়ার টেনে বসল। তির্যক সুরে বলল, কত কেসে যে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়, হিসেব করে দেখেছিস কখনও?

    এমন একটা অপবাদ মিতিনমাসির আছে বটে। অনেক সময়েই সরকারি কেসে বিনা পয়সায় খেটে দেয় আই জি অনিশ্চয় মজুমদারের অনুরোধে। এই জঙ্গলেও যদি কোনও রহস্যের সন্ধান পায়, সেটাও কি বেগার খাটা হবে? হয়তো বা!

    বিভূতি হাসি হাসি মুখে পাশের বাংলোটা দেখছিলেন। হঠাৎই বলে উঠলেন, মাস্টারমশাই আর ছাত্র খুব জঙ্গলে ঘুরছেন দেখি! এখনও ফিরলেন না!

    রাতে খাওয়ার সময়ে ঠিক গুটিগুটি পায়ে হাজির হবেন, বলেই পার্থ তর্জনী তুলে মিতিনকে বলল, আজ কিন্তু ওঁদের আর নেমন্তন্ন নয়। নিজেরা যা পারে, রেঁধে খান।

    নিমন্ত্রণ করা, না করার অবশ্য প্রয়োজন হল না। সুবাহু ভিড়লই না রান্নাঘরের দিকে। পুরানাকোট থেকে সম্ভবত কিছু শুকনো খাবার কিনে এনেছে, তাই দিয়েই সারবে নৈশাহার।

    রাতে খাওয়া দাওয়ার পর পার্থ মন দিয়ে আজকের তোলা ফোটোগুলো দেখছিল। তাকে ঘিরে মিতিন, টুপুর আর বুমবুম। নিজের তোলা ফোটোতে নিজেই ভারী মুগ্ধ পার্থ। বাহ, বাহ, ধ্বনি ঠিকরোচ্ছে গলা থেকে। তার আত্মতারিফের ঘটায় টুপুর তো হেসে খুন। উজ্জ্বল মুখে ক্যামেরাটা মিতিনকে বাড়িয়ে দিয়েছে পার্থ। বলল, দ্যাখো, ওয়াইল্ড লাইফ ফোটোগ্রাফি কাকে বলে একটু বোঝার চেষ্টা করো।

    সরু চোখে প্রত্যেকটি ফোটো নিরীক্ষণ করছিল মিতিন। পাহাড়, নদী, শাল, সেগুন, আসান, কুসুম, শিরীষ, মহুল গাছে ভরা বন। লাল লাল ফুল, হরিণ, চকিতে হরিণের পালিয়ে যাওয়া।

    হঠাৎ মিতিনের দৃষ্টি স্থির। একটা ফোটো দেখছে জুম করে। পার্থকে বলল, এটা একটু ডিপলি ওয়াচ করো তো। গাছের ওপাশে ওটা কী? মানুষ না?

    হ্যাঁ, তাই তো, পার্থ ঝুঁকল, দু’জন লোককে দেখা যাচ্ছে যেন!

    মিতিন আরও জুম করল ফোটোটাকে। বিড়বিড় করে বলল, ওদের হাতে…

    রিভলভার! পার্থ প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, রিভলভারই তো মনে হচ্ছে। কিন্তু ওরা কারা?

    মিতিন বলল, চিনতে পারলে না? কর্মবীর আর শক্তিধর।

    .

    ০৬.

    সকালে নৌকো চড়তে চড়তে বেলা দশটা বেজে গেল। চওড়া পাটাতনে বসেছে টুপুর আর পার্থ। মাঝে বুমবুম। উলটো দিকে সালোয়ার কামিজে মিতিন, গলায় তার বাইনোকুলার। আকাশে আজ বেশ মেঘ, দমকা বাতাস উঠছে হঠাৎ হঠাৎ। স্রোতের অভিমুখে চলা নৌকো দুলে দুলে উঠছে। অমনি ছটফটে বুমবুম ভয়ে জড়সড়।

    টুপুরেরও যে বুক ঢিপঢিপ করছিল না, তা নয়। তবে অন্য একটা চিন্তা তাকে আরও বেশি ভাবাচ্ছে যে। ধরেই রেখেছিল আজ আবার ঘাটের পথে দেখা হবে শক্তিধর আর কর্মবীরের সঙ্গে। কিন্তু কী কাণ্ড, তাঁবু বেবাক ফাঁকা! তাদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ জেগেছে বলেই কি পালাল লোক দু’জন? শূন্য তাঁবুটা তন্নতন্ন করে খুঁজল মিতিনমাসি৷ মিলল শুধু একটা ছেঁড়াখোঁড়া কার্বন পেপার। মূল্যবান হিরেজহরতের মতো সেটাই ব্যাগে পুরল মিতিনমাসি৷ কী কম্মে লাগবে কে জানে!

    ওই লোক দু’জন যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্যে জঙ্গলে ঢুকেছেন, তাতে আর টুপুরের কোনও সন্দেহ নেই। পার্থমেসোরও না। ক্যামেরার মনিটরে দুই মূর্তিমানকে আবিষ্কার করেই ভারী উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল পার্থমেসো। তর্জনী উঁচিয়ে বলল, ওঁরা নির্ঘাত চোরাশিকারি। জঙ্গলে জন্তু মারতে এসেছেন।

    আমারও তাই মনে হয়, টুপুর বলেছিল, হরিণগুলোকে বোধহয় তাক করছেন। হরিণের চামড়ার যা দাম!

    হতেই পারে। হয়তো এক-আধটাকে মেরেও ফেলেছেন। আমাদের এখন তা হলে কী করা উচিত?

    বিট অফিসারকে জানাবে? নাকি পুলিশকে?

    সরাসরি ওঁদের তাঁবুতে গিয়ে হানাও দিতে পারি।

    থাক। রাত্তিরবেলা এখন আর শোরগোল তুলে লাভ নেই। অত বীরত্বও দেখাতে হবে না, মিতিনমাসি সরাসরি উৎসাহে জল ঢেলে দিল, যাও, এখন সবাই শুয়ে পড়ো তো।

    তুমি ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছ না?

    নিয়েছি বলেই তো ঘুমোতে বলছি। সকালে তা হলে শরীর-মন তাজা থাকবে। তখন নয় অভিযানে নামব।

    মিতিনমাসিকে আর ঘাঁটায়নি বটে, কিন্তু প্রস্তাবটা মোটেই মনঃপূত হয়নি পার্থমেসোর। আর এখন খাঁ খাঁ তাঁবুটি দেখা ইস্তক তার মুখ রীতিমতো গোমড়া। নদীর দু’পাশে সবুজের বাহার, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে অরণ্য ক্রমশ উঠে গিয়েছে উপরপানে। গাছে গাছে কত রঙের যে ফুল! এমন অপরূপ দৃশ্য পার্থমেসো যেন দেখেও দেখছে না। শুধুই যান্ত্রিক ভাবে এলোমেলো শাটার টিপে চলেছে ক্যামেরায়। নদীর ওপারেও নাকি চিতল, শম্বর, নীলগাই, চৌশিঙ্গার দর্শন মেলে। আছে ভালুক, আছে হাতির পাল। বনপথ ধরে নাকি প্রায় কটক পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া যায়। দাঁড় বাইতে বাইতে ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে ধারাভাষ্য দিয়ে চলেছেন বৃদ্ধ মাঝি। পার্থমেসো যেন শুনেও শুনছে না। সাতকোশিয়া সম্পর্কে তার যেন আর আগ্রহই নেই।

    তার মাঝেই হঠাৎ মাঝিকে মিতিনের প্রশ্ন, কাল ওই বাবুদের কতক্ষণ নৌকো চড়ালেন?

    বেশি নয়, জোর এক ঘণ্টা।

    মাত্র? তারপর ওঁরা ফিরে এলেন?

    না তো। ওঁরা এক জায়গায় নৌকো দাঁড় করিয়ে পাড়ে নেমে গেলেন।

    ওসব জেনে আর কোনও লাভ আছে? পার্থর বিদ্রূপ উড়ে এল, সময়কালে কোনও ব্যবস্থা নিলে না, পাখি তো ফুড়ুৎ।

    অত সোজা নয় স্যার। জঙ্গল ছেড়ে যাবেন কোথায়?

    যেখানে খুশি। গোয়েন্দা ম্যাডাম নিশ্চয়ই দেখেছেন, বাংলোর কাছ থেকেই আঙুলের বাস ছাড়ে। ভোরবেলা যদি সেই বাসে চেপে থাকেন, এতক্ষণে তাঁরা…।

    এক সেকেন্ড। তারা যদি শিকারই করে থাকেন, তা হলে সেই মরা জন্তুটন্তু নিয়েই গিয়েছেন নিশ্চয়ই?

    তা কেন। চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে যাবেন।

    রাতারাতি ওই কাজটি সম্ভব নয় পার্থ। জন্তুজানোয়ারের ছাল ছাড়ানোর নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। মেরেই অমনি কাঁধে চামড়া নিয়ে পালানো যায় না। চামড়াটাকে শুকোতে হয়। সময় লাগে। অন্তত তিন-চারদিন।

    তা হলে হয়তো আছেন কোথাও ঘাপটি মেরে। এখন গোটা জঙ্গল ঢুঁড়ে দেখা কি সম্ভব? কাল রাতেই যদি পাকড়াও করতে পারতাম…

    কাল রাতে ওঁরা তাঁবুতে ফেরেননি। সোলার ব্যাটারির আলোও জ্বলেনি। আমি দেখেছি।

    পার্থ চুপসে গেল। মিতিন ফের প্রশ্ন ছুঁড়েছে মাঝিকে, তা ওঁরা দুজন কাল নামলেন কোথায়?

    এই তো, একটু সামনে। মহানদী যেখানে চওড়া হয়েছে, তার শুরুতেই৷

    ও।

    আর কিছু না বলে আইফোনখানা ব্যাগ থেকে বের করল মিতিন। কী যেন দেখছে মনিটরে, আর বারবার তাকাচ্ছে পারের দিকে। বুঝতে না পেরে টুপুর চোখ সরাল বাঁয়ে, সাতকোশিয়ার পাহাড়ে। এখন নদী থেকে বেশ বোঝা যাচ্ছে কেন জায়গাটাকে সাতকোশিয়া গর্জ বলে। খাড়া পাহাড়ের গা ঘেঁষে নদী যেন এক সরু গিরিখাত ধরেই বইছে। এমন একটা নদীতে সে এখন নৌকোয়, ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়।

    ঠিক তখনই বুমবুমের চিৎকার, অ্যাই টুপুরদিদি, দ্যাখ দ্যাখ, কুমির!

    হ্যাঁ, তাই তো! টুপুরের চোখ বড় বড়। পাড়ের কাছে একটা পাথরের উপর দিব্যি শুয়ে আছে ঘড়িয়ালটা। গায়ের রং পাথরের সঙ্গে প্রায় মিশে গিয়েছে, হঠাৎ দেখলে ঠাহর করা কঠিন। বেশ পেল্লাই সাইজ। কম করে পনেরো-ষোলো ফুট তো হবেই।

    হঠাৎ টুপুরদের চমকে দিয়ে নড়ে উঠল ঘড়িয়ালটা। পাথর ছেড়ে ধীর পায়ে নেমে পড়েছে জলে। অমনি কী তার গতি! জলে গা ভাসিয়ে শাঁই শাঁই ছুটছে।

    বুমবুম টুপুরের হাত চেপে ধরল, অ্যাই দিদি, ও তো নৌকোর দিকেই আসছে! কী হবে এখন?

    বৃদ্ধ মাঝি বলে উঠলেন, ভয় পেয়ো না খোকা। ওরা মানুষের কোনও ক্ষতি করে না। দ্যাখো, কেমন নৌকোর সঙ্গে সঙ্গে যাবে।

    মাঝির কথা মেনেই যেন নৌকোর কাছাকাছি এসে সুড়ুৎ করে ঘুরে গেল ঘড়িয়াল। তারপর চলেছে পাশে পাশে নৌকোর পাহারাদার হয়ে। যেতে যেতেই মাঝে মাঝে ঘাড় ঘোরাচ্ছে ঘড়িয়াল। কখনও ডাইনে, কখনও বাঁয়ে। ম্প্রিং-এর মতো।

    বুমবুম বলল, ও ওরকম করছে কেন?

    মাঝির ঠোঁটে মিটিমিটি হাসি, মছলি খাচ্ছে বেটা।

    কোথায় মাছ? দেখতে পাচ্ছি না তো?

    পার্থর মেজাজ সমে ফিরেছে। হেসে বলল, দেখতে পেলে আমরাই ঘড়িয়াল বনে যেতাম রে! সাঁতার কাটতে কাটতেই দু’ পাশটায় ওদের দৃষ্টি চলে, আর সুড়ুৎ সুড়ুৎ মৎস্য গেলে।

    কথার মাঝেই কখন যেন দিক পরিবর্তন করেছে ঘড়িয়াল। ক্রমশ সরে যাচ্ছে তীরের পানে। হেলেদুলে উঠে পড়ল পারে। আবার যেন ঘুমিয়ে পড়ল তক্ষুনি।

    প্রতিটি দৃশ্যই সযত্নে লেন্সবন্দি করেছে পার্থ। খুশি খুশি মুখে বলল, ঘড়িয়ালটা বড় লক্ষ্মী রে! না চাইতেই দিব্যি কেমন একটা শো দিয়ে গেল।

    মুখখানাও ভারী খাসা, টুপুর টিপ্পনী জুড়ল, ঠিক যেন হিন্দি ফিল্মের ভিলেন।

    যাহ, মোটেই ভিলেন নয়। কী চমৎকার শান্ত ব্যবহার। কুমির-ঘড়িয়াল সম্পর্কে আমার ধারণাটাই বদলে গেল।

    বদলানোই তো উচিত, অনেকক্ষণ পর কথা বলল মিতিন। ঘড়িয়ালের দৃশ্যটি উপভোগ করার পর আবার তার দৃষ্টি মোবাইলের মনিটরে। অল্প মাথা দুলিয়ে বলল, হাঙর, কুমির, সাপ, বাঘ, ভল্লুক, কেউই তেমন খারাপ জীব নয়। এদের চেয়ে বরং মানুষ অনেক বেশি হিংস্র প্রাণী। ওরা আক্রমণ করে পেটের দায়ে। আর মানুষ খেয়ালখুশি মতো জন্তুজানোয়ার হত্যা করে।

    টুপুর উৎসাহী মুখে মাসির কথায় সায় দিতে যাচ্ছিল, তার আগেই জোর দুলে উঠেছে নৌকো। একটা বাঁকের পর হঠাৎই যেন মুখটা খুলে গেল নদীর। অনেকটা চওড়া হয়ে গিয়েছে। প্রায় তিন গুণ। এখন আর পাহাড়ি নদী বলে মনে হচ্ছে না, থইথই করছে জল।

    বাঁদিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে মিতিন জিজ্ঞেস করল, কালকের বাবুরা এখানেই নেমেছিলেন?

    মাঝির ঘাড় নড়ল, হাঁ দিদি। নেমেই লাফাতে লাফাতে পাহাড়ে উঠে গেলেন।

    মোবাইলের মনিটরে চোখ রেখে মিতিন পার্থকে বলল, আমার জি পি এস যা বলছে, এখান থেকে লবঙ্গির জঙ্গল পঁচিশ কিলোমিটার দূর। মানে, কর্মবীর আর শক্তিধরকে যেখানে দেখা গিয়েছে।

    পার্থ ভুরু কুঁচকে বলল, তো?

    কাল ওঁদের ফোটোটা তুলেছিলে অ্যারাউন্ড সাড়ে তিনটেয়। আর ওঁরা এখানে ল্যান্ড করেছিলেন মোটামুটি সাড়ে দশটায়। অর্থাৎ, জঙ্গলের পথে মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় পঁচিশ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন।

    হুম। বোঝাই যাচ্ছে দু’জনেই দারুণ এক্সপার্ট।

    একটু বেশি মাত্রায় এক্সপার্ট। হিসেবটা আমার মিলছে।

    কী হিসেব?

    উত্তর না দিয়ে মিতিন চোখ রাখল বাইনোকুলারে। মন দিয়ে দেখছে কী যেন। পার্থ আর টুপুর চোখ চাওয়াচাওয়ি করল। মিতিনের মাথায় কিছু যে একটা পাক খাচ্ছে, টের পাচ্ছে দু’জনেই। তবে এখন যে মিতিন আর মুখ খুলবে না, সেটা তারা দুজনেই জানে।

    অগত্যা মাঝির সঙ্গে কথোপকথন চালু করল পার্থ। জিজ্ঞেস করল, এই নদীই তো কটকে যাচ্ছে, তাই না?

    হাঁ স্যার। কটক পেরিয়ে সেই পারাদ্বীপে গিয়ে সমুদ্রে পড়ছে।

    ও। তা কটক এখান থেকে কদ্দূর? মানে এই নদীপথে?

    তা তিরিশ-চল্লিশ মাইল হবে। দাঁড় টানটে টানতে মাঝি একবার আকাশের দিকে তাকালেন। বলিরেখা ভরা কপালে আরও কিছু ভাঁজ পড়ল যেন। পার্থকে বললেন, বাবু, চলুন, এবার ফেরা যাক।

    এত তাড়াতাড়ি? কেন?

    আকাশের মতিগতি ভাল ঠেকছে না। এখানে নদীর স্রোতটাও খুব খারাপ। ঝড় উঠলে নৌকো উলটে যেতে পারে।

    যাহ, কিচ্ছু হবে না। আপনি চলুন তো।

    না পার্থ, ওঁকে জোর কোরো না, মিতিনের স্বর বেজে উঠল, নদীতে মাঝির কথা অমান্য করতে নেই। উনি যখন আর এগোতে চাইছেন না, তখন ফিরে যাওয়াটাই সংগত।

    পার্থ হতাশ মুখে বলল, তবে আর কী। হাইকমান্ড যখন নির্দেশ দিয়েছে, চলো এবার উজান পথে।

    তা যেতে এক ঘণ্টা সময় লেগেছিল। স্রোতের বিপরীতে ফিরতে দেড় ঘণ্টা পার হয়ে গেল। ঘাটে যখন টুপুররা নামল, আকাশ মেঘে ছাওয়া। হাওয়ার ঝাপটায় দুলছে জঙ্গলের গাছপালা। ফাঁকা তাঁবুটা একবার আলগা নিরীক্ষণ করে এক দৌড়ে বাংলোয় পৌঁছে গেল বুমবুম আর টুপুর।

    বনবাংলোর পিছনের জঙ্গল থেকে নেমে আসছিল সুবাহু। কাঁধে গিটারের বাক্স। টুপুরদের দেখে একগাল হাসি, তোমাদের সকালের বোটিং প্রোগ্রাম ওভার?

    হ্যাঁ, বুমবুম ঘাড় দোলাল, আজ একটা বিরাট ঘড়িয়াল দেখেছি। জ্যান্ত।

    হা হা হা। জ্যান্ত ঘড়িয়াল তো এখানেও দেখেছ, খাঁচায়।

    ওগুলো যেন কেমন কেমন, বুমবুম মুখে বেঁকাল, মেশিনের মতো হাঁ করে, মেশিনের মতো মুখ বোজে।

    মিতিন-পাৰ্থও এসে গিয়েছে। পার্থ স্মিত মুখে সুবাহুকে জিজ্ঞেস করল, আপনি একা যে? স্যার আজ বেরোননি?

    স্যারের একটু জ্বর জ্বর মতো হয়েছে।

    মশাটশা কামড়ায়নি তো? জঙ্গল মসকিউটো কিন্তু হাইলি ডেঞ্জারাস। ফরেস্ট ম্যালেরিয়া হয়ে যায়।

    তাই তো ভাবছি। এখনও স্পেসিমেন কালেকশান চলছে, আরও দিন পাঁচেক থাকতে হবে।

    জঙ্গলে পদে পদে বিপদ, পার্থ চোখ ঘোরাল, তার উপর আবার উটকো দু’খানা বিপদ এসে ঢুকে পড়েছে জঙ্গলে।

    মানে?

    ওই যে দুটো লোক তাঁবু খাঁটিয়ে রয়েছেন, ঘোরতর সন্দেহজনক। এবং বিপজ্জনক।

    কেন? ওঁরা আবার কী করলেন?

    জঙ্গলের মধ্যে খোলা রিভলভার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

    তাই নাকি? সুবাহু থতমত, আপনারা দেখলেন রিভলভার নিয়ে ঘুরতে?

    উঁহু। আমার ক্যামেরা দেখেছে, পার্থ গলা নামাল। অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মিতিনকে দেখিয়ে বলল, আমার মিসেস তো ডিটেকটিভ, উনি জঙ্গলে তোলা ফোটোগুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ বের করলেন, দু’জনেরই হাতে আর্মস।

    চোখের কোণ দিয়ে একবার মিতিনকে দেখে নিয়ে সুবাহু বলল, খুব অ্যালার্মিং ব্যাপার তো!

    অবশ্যই। কিছু একটা গড়বড়ে ঘটনা চলছে জঙ্গলে। আমার মিসেস তার স্মেল পেয়েছেন।

    তাই বুঝি উনি গোয়েন্দাগিরি শুরু করে দিয়েছেন? সুবাহু হাসছে, আপনাদের বেড়ানো তো তা হলে ডকে।

    আরে না, এই তো খেয়ে উঠেই আবার বেরোব, বলেই পার্থর হাঁক, বিভূতিবাবু, আপনার রান্না কদ্দূর?

    খানা রেডি, বিভূতির জবাব উড়ে এল, আপনারা ঘরে গিয়ে বসুন, আমি নিয়ে আসছি।

    পার্থ আর মিতিন ঢুকে গেল রুমে। বুমবুম টানছে টুপুরকে, অ্যাই, চল একবার খাঁচার ঘড়িয়ালগুলোকে দেখে আসি।

    কেন রে?

    এমনি। ইচ্ছে করছে।

    আজব বাসনা! খিধেয় পেট চুঁইচুঁই, এখন বাবুর ঘড়িয়াল দেখার শখ জেগেছে!

    পায়ে পায়ে দুই মূর্তি খাঁচার সামনে হাজির। ছোট ছোট ঘড়িয়ালগুলো নড়াচড়া করছে বটে, কিন্তু বড় দুই ঘড়িয়াল শুয়ে আছে স্থির।

    বুমবুম চেঁচিয়ে উঠল, অ্যাই, অ্যাই, তোরা জাগ না।

    ঘড়িয়াল-যুগল নিথর।

    বুমবুম খাঁচা ধরে ঝাঁকাচ্ছে, অ্যাই, ওঠ না, ওঠ না।

    টুপুর হেসে বলল, কী পাগলামি করছিস? ওরা তোর ভাষা বুঝতে পারবে নাকি?

    পারতেও তো পারে, পিছনে হঠাৎ সুবাহুর গলা। পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাসি হাসি মুখে বলল, আবার ডাকো। আর-একবার ডাকো।

    কিমাশ্চর্যম! বুমবুম তৃতীয়বার গলা চড়াতেই চোয়াল ফাঁক হতে শুরু করেছে ঘড়িয়ালের। ক্রমশ বড় হচ্ছে হাঁ। আবার আস্তে আস্তে বুজেও গেল।

    বুমবুম আহ্লাদে আটখানা। হাততালি দিচ্ছে। টুপুরও খুশি। তবু কেমন একটা যেন খটকা লাগছিল টুপুরের। হঠাৎই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }