Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প702 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭-৮. টুলকার দুর্গম পথ

    টুলকার পথও রীতিমতো দুর্গম। শাল, সেগুন শিশুগাছ তো বটেই, আরও কত যে লতা আর ঝোপঝাড়ে ভরে আছে জঙ্গল। মেঘলা আকাশে সূর্যও আজ মুখ লুকিয়েছে। বিকেল হওয়ার আগেই ঘোর আঁধার নামছে পথে। রাস্তাও ভারী উঁচু-নিচু, জিপ প্রায় লাফাতে লাফাতে চলেছে। কপাল ভাল, পথে দু’খানা বাইসনের দর্শন মিলল। বাঁকানো শিং, মহিষের মতো দেখতে প্রাণীগুলো ভারী শান্ত মুখ করে দাঁড়িয়ে রাস্তা জুড়ে। পার্থ তো মহা পুলকিত। তক্ষুনি লাফিয়ে নেমে ফোটো তুলতে যাচ্ছিল। নিষেধ করলেন বিভূতি। যতই নিরীহ মনে হোক, বাইসন নাকি অতি ভয়ংকর, বাঘও তাকে সমঝে চলে। বিরক্ত হলে এমন তেড়ে আসবে, পার্থকে শিঙে না গেঁথে ছাড়বে না। আর তা না পারলে ঢুসো মেরে মেরে ক্ষতি করে দেবে গাড়িটার।

    অগত্যা গাড়িতে বসেই শাটার টিপছে পার্থ। স্টার্ট বন্ধ করে কাঠ হয়ে বসে থাকার পর সন্তর্পণে একবার মাত্র হর্ন বাজালেন বিভূতি। ভারী অবহেলাভরে গাড়ির দিকে একবার মাত্র তাকাল বাইসন দুটো, তারপর দুলকি চালে সেঁধিয়ে গেল জঙ্গলে। জিপ ফের চলতে শুরু করার পর বনের মধ্যে দৃষ্টি চালিয়ে প্রাণী দুটোকে খুঁজল টুপুর। নাহ, কোত্থাও নেই। বড়সড় দুটো বাইসন যেন মিশে গিয়েছে গাছপালায়।

    টুপুর নিজের মনেই বলল, যাহ, পুরো ভ্যানিশ!

    মিতিন বলল, হ্যাঁ রে। জঙ্গলের মধ্যে প্রাণীদের নড়াচড়া একদম টের পাওয়া যায় না। হয়তো খুব কাছেই রয়েছে, কিন্তু তুই বুঝতে পারবি না।

    বিভূতি বললেন, তাই তো জঙ্গলে খুব সতর্ক থাকতে হয়। সর্বদা সজাগ রাখতে হয় চোখ-কান।

    নিঃশব্দে চরে বেড়ানোর ব্যাপারে হাতি সবচেয়ে সাংঘাতিক।

    মিতিন মাথা নেড়ে সায় দিল, হঠাৎ দেখবি সামনে এসে হাজির। অথচ তার দু’ সেকেন্ড আগেও শুকনো পাতা মাড়ানোর আওয়াজটা পর্যন্ত পাবি না।

    কথা বলতে বলতেই ছোট একটা গ্রাম পেরোল গাড়ি। টিনের বোর্ডে নাম ঝুলছে গ্রামের, ছোটকাই। আবার ঘন জঙ্গল শুরু।

    বুমবুম প্রশ্ন জুড়েছে, এখানে লোক থাকে কেন? ভয় করে না?

    টুপুর বিজ্ঞের মতো বলল, গ্রামের লোকদের অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। তারাও জন্তুজানোয়ারদের ঘাঁটায় না, জন্তুরাও তাই তাদের ক্ষতি করে না।

    অতটা সিম্পল নয় রে, পার্থ ফোড়ন কাটল, এখানকার মানুষদের যথেষ্ট লড়াই করে বাঁচতে হয়।

    বুমবুমের চোখ বড় বড়, কীরকম লড়াই?

    যখন যেমনটা প্রয়োজন। ভালুক, চিতা তো প্রায়শই হানা দেয় গ্রামে। তখন ওরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বেরোয়। তবে সবচেয়ে মুশকিল, যখন হাতির পাল চড়াও হয়। খেতের ফসল নষ্ট করে। বাড়িঘর লন্ডভন্ড করে দেয়। তখন গাঁয়ের লোক দলবেঁধে বেরিয়ে এসে ক্যানেস্তারা পেটায়।

    তা হলেই হাতিরা পালায়?

    হ্যাঁ, ওই ক্যানেস্তারার আওয়াজটাকে ওরা একটু ভয় পায় কিনা। অনেক সময় অবশ্য ক্যানেস্তারাতেও কাজ হয় না। তখন ফরেস্ট গার্ডরা এসে…

    বলার সঙ্গে সঙ্গে একটা বিকট শব্দ। ঘ্যাচাং ব্রেক কষেছেন বিভূতি। লাফিয়ে নেমে পড়লেন সিট ছেড়ে। জিপের পিছন থেকে ঘুরে এসে বললেন, ঝামেলা হয়ে গিয়েছে স্যার। টায়ার বার্স্ট করেছে।

    পটকা ফাটার মতো আওয়াজটায় বেজায় চমকেছিল টুপুর আর বুমবুম। উদ্বিগ্ন মুখে টুপুর বলল, তা হলে কী হবে এখন? গাড়ি আর যাবে না? এই জঙ্গলের মধ্যে?

    ভয় পাচ্ছ কেন? বদলি টায়ার তো সঙ্গে আছে। তোমরা নেমে দাঁড়াও, আমি লাগিয়ে ফেলছি। আর জঙ্গল তো শেষ। টুলকা প্রায় এসেই গিয়েছে। টুলকায় টায়ার সারানোর একজন মিস্ত্রি আছে। তোমরা যতক্ষণ টুলকায় ঘুরবে, আমি ততক্ষণে খারাপ টায়ারটা মেরামত করে নেব।

    সত্যি, টুলকা আর বেশি দূরে নয়। টায়ার বদলে সেখানে পৌঁছোতে মিনিট পনেরো মতো লাগল। ছোট্ট জনপদ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সবজির খেত। মাটির ঘরের পাশাপাশি পাকা বাড়িও আছে অল্প কিছু।

    হাঁটতে হাঁটতে বনবাংলোর দিকটায় গেল টুপুররা। গেটের মুখেই বনবিভাগের এক কর্মচারীর সঙ্গে দেখা। টুপুররা কিছু বলার আগেই সে দু’ হাত নাড়ছে, কোই রুম খালি নেহি হ্যায়। সব ফুল হ্যায়।

    পার্থ কৌতূহলী মুখে বলল, বহুত টুরিস্ট আয়া হ্যায় কেয়া?

    হাঁ সাব। কোই জাগাহ নহি মিলেগা। কাল দো সাব আয়ে থে, উনকো ভি হম ওয়াপস ভেজ দিয়া।

    দো সাব? মিতিনের ভুরু জড়ো, দিখনেমে ক্যায়সে থে উয়োলোগ?

    বহুত তাকতদার। কন্ধামে বহুত বড়া বড়া ঝোলা থা। এক সাবকা মোটি মোচ থি।

    মিতিন হিন্দিতেই জিজ্ঞেস করল, কখন এসেছিলেন তাঁরা?

    হিন্দিতেই জবাব এল, সন্ধের পর। সাতটা-আটটার সময়।

    জায়গা না পেয়ে ওঁরা কী করলেন? চলে গেলেন?

    হাঁ।

    এখানে আর কোথাও থাকার ব্যবস্থা আছে?

    না। তবে অনেকে গ্রামের লোককে বলে কয়ে এক আধ রাত থেকে যায়। কেউ কেউ ছোটকাইয়ে কারও বাড়িতে গিয়েও থাকে। যাদের খুব সাহস, তারা জঙ্গলের ওয়াচ টাওয়ারেও রাত কাটায়।

    ওয়াচ টাওয়ার কত দূর?

    এখান থেকে অনেকটা। সবচেয়ে কাছে করদাপাড়া। সেটাও তো প্রায় দশ কিলোমিটার।

    ওঁরা কি কাল সেখানেই…

    কে জানে! টুলকায় তো আজ সারাদিন দেখিনি, ছোকরা কর্মচারীটির চোখে জিজ্ঞাসা, আপনারা কি ওঁদের চেনেন?

    না। জঙ্গলেই আলাপ হয়েছিল। ওঁরা তা হলে এখানে নেই। তাই তো?

    থাকলে তো দিনে একবার চোখে পড়ত। তা আপনারা কি এখন ফিরে যাবেন?

    পার্থ বলল, উপায় কী!

    হেঁটে চারপাশ ঘুরুন না। কাছেই একটা সুন্দর ঝরনা আছে, ভীমধারা। ঝরনার ধারে হরিণ টরিনের দেখা মিলতে পারে।

    পথনির্দেশ জেনে নিয়ে হাঁটা ধরল টুপুররা। টুলকা থেকে একটা চড়াই মতো রাস্তা উঠে গিয়েছে উপরে। সেই পথ ধরেই চলেছে চারজন। অল্প একটু গিয়েই বাঁক। ঘুরতেই টুলকা অদৃশ্য, সামনে ফের জঙ্গল। তেমন গভীর না হলেও বেশ গা ছমছমে। হঠাৎই বুমবুম জোরে চেপে ধরেছে টুপুরের হাত। আঙুল তুলে গাছের মগডালে কী যেন দেখাচ্ছে।

    চোখ তুলে তাকাতেই টুপুরের হৃৎপিণ্ড ধড়াস। বেজির মতো দেখতে ওটা কী? রক্তের মতো লাল দু’খানা চোখ জ্বলছে যেন! গায়ের রং না লাল, না বাদামি। ইয়া মোটা লেজ। তড়াক তড়াক লাফ মারছে এ ডাল থেকে ও ডালে।

    পার্থরও নজরে পড়েছে। ফিসফিস করে বলল, ভয় পাস না, ওটা জায়ান্ট স্কুইরেল। সাতকোশিয়ার স্পেশ্যাল।

    প্রাণীটা কাঠবিড়ালি শুনে টুপুর খানিকটা আশ্বস্ত হল বটে, তবু একটা বুক ঢিপঢিপ ভাব যেন রয়েই গেল। চলতে চলতে সাবধানে দেখছে এদিক ওদিক। বাঁয়ে পাহাড়ের দিকটায় মাঝে মাঝে প্রকাণ্ড গর্ত। শুকনো ডালপালায় ঢাকা।

    টুপুর নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, ওগুলো কী?

    বোধহয় বাঘটাঘদের স্টোরেজ, পার্থ বেমালুম নির্ভয়ে বলল, গাঁ থেকে গোরু ছাগল তুলে আনে তো অনেক সময়। বেশি ভিতরে নিয়ে যায় না। মেরে এখানেই ঢাকা দিয়ে রাখে। পরে সময় সুযোগ মতো এসে পেটে চালান দেয়।

    তার মানে, কাছাকাছি বাঘ আছে?

    থাকা অসম্ভব নয়। এই জঙ্গলে যে দু-চারখানা বাঘ টিকে আছে, তারা নাকি টুলকার দিকেই… আর চিতাবাঘ তো আছেই।

    টুপুরের শরীর হিম হয়ে গেল। বুমবুম কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠল, আমি আর যাব না।

    যেতে আর হলও না। অদূরে কাঠের ডান্ডার মাথায় তির চিহ্নে নির্দেশিকা, ভীমধারার পথ।

    এ রাস্তাটা তবু মন্দের ভাল। সরু বটে, তবে জঙ্গলটা ছেঁড়া ছেঁড়া। এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে পাহাড়ের প্রান্তে। সেখানে পৌঁছে টুপুর তো বেজায় হতাশ। শুধু টুপুর কেন, সকলেই। কোথায় গেল ভীমধারা? একটু দূরে পাহাড় থেকে একটা জলস্রোত গড়াচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা নেহাতই ক্ষীণ।

    পার্থ বিরক্ত মুখে বলল, দুর দুর, আসাটাই বৃথা।

    চৈত্র মাসে পাহাড়ি ঝরনার চেহারা এরকমই হয়। বর্ষায় এরই রূপ একেবারে বদলে যাবে, মিতিন বাইনোকুলারটা চোখে লাগাল। নীচটা দেখতে দেখতে বলল, জায়গাটা কিন্তু ভারী সুন্দর।

    কী ছিরিটা দেখছ? পাহাড়টা ধাপে ধাপে নেমে গিয়েছে, নীচে এবড়োখেবড়ো পাথর, সেখানে ডোবা মতো হয়ে খানিকটা জল জমে আছে, ব্যস।

    আরও দ্রষ্টব্য আছে, মিতিন বাইনোকুলারটা এগিয়ে দিল পার্থকে, দ্যাখো তো, আর কিছু চোখে পড়ে কিনা?

    যন্ত্রটা চোখে লাগিয়ে পার্থ জোর চমকেছে। প্রায় চেঁচিয়ে উঠে বলল, নীচে তো মানুষ! একটা নয়, দুটো!

    হুম। কর্মবীর আর শক্তিধর। টুপুরও এবার দেখতে পেয়েছে দু’জনকে। খোলা চোখেই। দু’জনে একটা পাথরের উপর চিতপাত হয়ে শুয়ে। জলের ধারে।

    বিস্মিত মুখে টুপুর বলল, ওঁরা ওভাবে পড়ে কেন? মরে টরে গেছেন নাকি?

    মোটেই না, দিব্যি জ্যান্ত আছেন। নড়ছেন, পার্থ বাইনোকুলারটা মিতিনকে ফেরত দিল। চোখ সরু করে বলল, ওরা তা হলে এখানেই গা ঢাকা দিয়ে আছে?

    তাই তো দেখছি, মিতিন ঠোঁট চাপল, চলো তো, গিয়ে কথা বলি।

    কথা কীসের? গিয়ে ক্যাঁক করে ধরবে। জঙ্গলে রিভলভার নিয়ে ঘুরছে, এ কি মামদোবাজি পায়া হ্যায়?

    রিভলভার তো আমার সঙ্গেও আছে পার্থ।

    তোমার ব্যাপার আলাদা। তুমি প্রাইভেট ডিটেকটিভ। রাখতেই পারো।

    ওঁদেরও হয়তো লাইসেন্স আছে, মিতিন মৃদু হাসল, উত্তেজিত হোয়ো না। চলো, আলাপটা একটু ঝালাই।

    পাহাড়ের গা বেয়ে খাঁজ কাটা কাটা পায়ে চলার পথ। প্রায় সিঁড়ির মতো। সাবধানে পা ফেলে নামল চারজনে। টুপুরদের দেখেই কর্মবীর আর শক্তিধর উঠে বসেছেন।

    ভুরু কুঁচকে শক্তিধর বললেন, আপনারা হঠাৎ এখানে?

    আপনাদের পিছু পিছু এসে পড়লাম আর কী, মিতিন হাসছে। সহজ সুরেই বলল, বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটালাম না তো?

    রেস্ট নিতে তো জঙ্গলে আসিনি। আমরা দণ্ডীবাট করছি।

    পার্থ সন্দিগ্ধ চোখে তাকাল, সেটা কী?

    পায়ে হেঁটে সাতকোশিয়া পরিক্রমা। পাক্কা সাঁইত্রিশ কিলোমিটার ঘোরা, সহজ কাজ তো নয়।

    সে তো বটেই। তার সঙ্গে যদি মাঝে মাঝে হরিণের পিছু পিছু ঘুরতে হয়, তা হলে তো কাজটা আরও কঠিন।

    একটু যেন চমকালেন কর্মবীর। পরক্ষণে স্বাভাবিক গলাতেই বললেন, কঠিন পরিশ্রম না করলে দু’বেলা দুটো অন্ন জুটবে কী করে মশাই? রাতবিরেতে জঙ্গলে কাটাবার ঝুঁকিই বা কেন নেব?

    আমারও তো সেই প্রশ্ন। এত ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে চক্কর মারছেন কেন? পার্থ ফস করে বলে উঠল, আপনাদের মতলবটা কী?

    আপনাদের সেবা করা, শক্তিধর বিটকেল সুরে হেসে উঠলেন। মিতিনের দিকে ফিরে বললেন, আপনারা নিশ্চয়ই গাড়ি নিয়ে টুলকা এসেছেন?

    অবশ্যই, পার্থ জবাব দিল, আমাদের তো হেঁটে-হেঁটে জঙ্গল চষার শখ নেই। বিশেষ কোনও উদ্দেশ্যও নেই।

    ব্যঙ্গটা যেন গায়েই মাখলেন না শক্তিধর। ফের মিতিনকেই বললেন, আপনারা নিশ্চয়ই এখন টিকরপাড়াতেই ফিরবেন?

    লিফট চান তো? মিতিন দু’হাত ছড়িয়ে দিল, ওয়েলকাম। চলে আসুন।

    থ্যাঙ্ক ইউ ম্যাডাম। দণ্ডীবাট তো মোটামুটি শেষ, টিকরপাড়ায় তাঁবুটার বুকিং এখনও আছে। ভাবছি, আজ টিকরপাড়া ফিরেই যাই।

    ঝোলাঝুলি কাঁধে চাপিয়ে উঠে পড়লেন দু’জনে। টুপুর আর পার্থ মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। মিতিনমাসির আক্কেলটা কী বুঝে উঠতে পারছে না টুপুর। জেনেশুনে দুটো সন্দেহজনক লোককে জামাই আদরে নিয়ে যাবে এখন? দিব্যি জঙ্গলের গল্পও জুড়ে দিল দুই মক্কেলের সঙ্গে। তবে কর্মবীর আর শক্তিধরের সঙ্গী হওয়ায় একটা বাঁচোয়া। ফের পাহাড়ে চড়তে হল না, শর্টকাট রাস্তা ধরে সবাই ফিরে এসেছে টুলকায়।

    টায়ার সারিয়ে সারথিও প্রস্তুত। বিকেল বিকেলই রওনা দিল জিপ। বনবাংলোয় এসে কর্মবীর আর শক্তিধর চলে গেলেন তাঁবুর দিকে।

    সন্ধে নেমে গিয়েছে। বাংলোর লনে বসে চা আর ভাজাভুজি খাওয়া হচ্ছিল। পাশের বাংলোয় আলো জ্বলছে। বেগুনি খেতে খেতে পার্থ হঠাৎ বলল, আমাদের কিন্তু একবার প্রোফেসরসাহেবের কাছে যাওয়া উচিত।

    মিতিন কী যেন ভাবছিল। টক করে উঠে দাঁড়িয়েছে। বলল, ঠিক বলেছ। চলো, ভদ্রলোকের একটা খবর নিয়ে আসি।

    বিভূতি রাতের রান্নায় ব্যস্ত। বুমবুমকে তাঁর জিম্মায় রেখে মিতিনরা গিয়েছে পাশের বাংলোয়। দরজা বন্ধ। কড়া নাড়তেই পাল্লা খুলেছে সুবাহু। একটু যেন থমথমে মুখ।

    পার্থ জিজ্ঞেস করল, স্যার এখন কেমন আছেন?

    ভাল নয়, জ্বরটা বেড়েছে।

    ও, একবার দেখতে পারি স্যারকে?

    এখন? ওষুধ খেয়ে মশারির মধ্যে শুয়ে আছেন। বোধহয় ঘুমিয়েও পড়েছেন।

    স্যারকে আজ আর ডিসটার্ব না করাই ভাল, সুবাহুর পিছন থেকে বিট অফিসারের স্বর উড়ে এল, তা ছাড়া আপনারা জঙ্গলে বেড়াতে এসেছেন। ফরেস্ট ম্যালেরিয়া রোগীর কাছে বেশি না যাওয়াটাই নিরাপদ।

    মিতিন বিট অফিসারকে দেখে অবাক যেন। বলল, আপনি? এই বাংলোয়?

    পূর্ণচন্দ্র আলগা হাসলেন, আমিই তো ডাক্তারবদ্যির কাজ করছি। জঙ্গলে এসে অনেকেই তো এই অসুখে পড়ে, তাই কিছু মেডিসিন আমাদের কাছে মজুতই থাকে। সেগুলোই দিয়ে গেলাম। কমলে ভাল, নইলে কাল ওঁকে নিয়ে আঙুলে ছুটতে হবে।

    পার্থ সুবাহুকে জিজ্ঞেস করল, আপনাদের রান্নাবান্নার কী ব্যবস্থা?

    চিন্তা করবেন না। পূর্ণবাবু সব কিছুর আয়োজন করে দিচ্ছেন।

    আর কথা না বাড়িয়ে নিজেদের বাংলোয় ফিরল মিতিন, টুপুর আর পার্থ। রুমে এসে মেসোর সঙ্গে গল্প জুড়েছে টুপুর। জঙ্গলের মশা নিয়ে। সকালে নদীতে দেখা ঘড়িয়ালটাকে নিয়ে। টুলকা ভ্রমণ নিয়ে। শক্তিধর আর কর্মবীরকে নিয়ে। টিকড়পাড়া ফেরার পথে কর্মবীর আর শক্তিধর কেন মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলেন, তাই নিয়েও গবেষণার শেষ নেই দু’জনের। একমাত্র মিতিন চুপ। তার যেন কিছুই কানে যাচ্ছে না। সকালে ফাঁকা তাঁবুতে কুড়িয়ে পাওয়া কার্বন পেপারটা ব্যাগ থেকে বের করে আলোয় মেলে দেখল একটু। তারপর ফের সেটি ব্যাগে চালান করে চলে গেল রান্নার তদারকিতে।

    কালই জঙ্গলে শেষ দিন। সকালে বাঘমুন্ডা যাওয়ার প্ল্যান। নৈশাহার সেরে একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিল সকলে। কোত্থেকে যেন একটা অদ্ভুত মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে। খুবই চেনা গন্ধ। জুইফুল? উঁহু। কামিনী? রজনীগন্ধা? নাহ, অনেকটা ল্যাভেন্ডারের মতো লাগে যেন! সাতকোশিয়ার জঙ্গলে কি ল্যাভেন্ডার ফোটে? পাশের বাংলো থেকে আজও ভেসে আসছে গিটারের সুর। কী নেশা রে বাবা! স্যারের অসুখেও গিটার বাজানোয় খামতি নেই।

    সুরেলা গিটার আর ফুলের সৌরভে কখন যে চোখ জড়িয়ে এসেছিল টুপুরের। মিতিনমাসি যে কখন বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দাঁড়িয়েছে বারান্দায়, বাইনোকুলারে চোখ রেখে দেখছে দূরের তাঁবুর আলো, টুপুর টেরও পায়নি।

    সকালে ঘুম ভাঙল বুমবুমের চিৎকারে। ঠেলছে টুপুরকে, অ্যাই ওঠ, সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে।

    টুপুর চোখ রগড়াতে রগড়াতে বলল, হলটা কী?

    খাঁচায় বড় ঘড়িয়াল দুটো নেই। আমি নিজের চোখে দেখে এলাম এক্ষুনি।

    .

    ০৮.

    বাংলোর সামনের লনটায় বিট অফিসার পূর্ণচন্দ্র বেহেরা ঘাড় ঝুলিয়ে বসে। পাশেই সুবাহু। তারও মুখে-চোখে প্রবল বিস্ময়। সদ্য ঘুম থেকে ওঠা বিভূতিও কেমন থতমত মুখে দাঁড়িয়ে। তিনজনের কারও মুখে বাক্যটি নেই।

    পার্থমেসোর সঙ্গে আবার একবার খাঁচাটা দেখে ফিরল টুপুর। ভোরবেলা থেকে এই নিয়ে তিনবার দেখা হল খোলা খাঁচাটা। প্রথমে বুমবুমের সঙ্গে, তারপর মিতিনমাসির পিছু পিছু। খাঁচায় ঢুকে কত কী যে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিরীক্ষণ করল মিতিনমাসি। আঙুল ঘষে ঘষে কী যেন পরখ করল খাঁচার মেঝেতে। দেখল, মাছবিহীন ছোট্ট-ছোট্ট জলাশয়গুলোও। তা মাসিও যে এরকম ঘটনায় দারুণ চমকেছে, এতে টুপুরের কোনও সংশয়ই নেই।

    পার্থও রীতিমতো উত্তেজিত। রাগ-রাগ গলায় পূর্ণচন্দ্রকে বলল, আপনার ব্যাপারটা কী বলুন তো? ঘড়িয়ালগুলোকে পাহারা দেওয়ার জন্য সিকিয়োরিটি গার্ড রাখেননি?

    পূর্ণচন্দ্র আমতা আমতা মুখে বললেন, না, মানে, রাজুই তো ছিল। রাতবিরেতেও গিয়ে ওদের দেখে আসত। ও হঠাৎ চলে গিয়ে বড় মুশকিল হয়েছে।

    সে তো বোঝাই যাচ্ছে। খাঁচার দরজা খোলা পড়ে, কেউ নজর করেনি, পার্থ তেরছা চোখে তাকাল, ঘড়িয়ালদের খাবারদাবার কে দিচ্ছিল এখন?

    খাবার মানে তো শুধু জ্যান্ত মাছ। স্থানীয় এক ধীবরকে বলা আছে, সে সাপ্লাই দিয়ে যায় নিয়মিত। রাজুর জায়গায় আমিই এখন ছাঁকনিওয়ালা জালে করে ছেড়ে দিচ্ছিলাম ফিশ পুলে।

    কালও দিয়েছিলেন?

    হ্যাঁ, রাত্রি তখন প্রায় ন’টা বাজে।

    তখনই বুঝি খাঁচার দরজাটা খুলে রেখে এসেছেন?

    এমনটা হওয়ার কথা নয়। তবে অনেক সময় তো একটুআধটু ফাঁক থেকে যায়। আর ওরা যে সেই ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাবে…। পূর্ণচন্দ্র কপাল চাপড়াচ্ছেন, আর মাত্র তিনটে মাস গেলে কোনও অশান্তিই ছিল না।

    কেন?

    ওরা পূর্ণবয়স্ক হয়ে গিয়েছিল তো। এ বছরই বর্ষায় ওদের নদীতে ছেড়ে দেওয়া হত।

    কথোপকথনের মাঝে মিতিন যেন কখন এসে দাঁড়িয়েছিল পিছনে। ফস করে হালকা সুরে বলল, তা হলে আর দুশ্চিন্তা করছেন কেন? জলের জীব জলেই চলে গিয়েছে, আপনাদের আর টানাটানির পরিশ্রম করতে হল না।

    তা বললে কি আমার চলবে ম্যাডাম? মিয়োনো স্বরে বললেন পূর্ণচন্দ্র, নির্ঘাত শোকজ খেতে হবে।

    রেঞ্জ অফিসে জানিয়েছেন?

    অবশ্যই। শুনে তো রেঞ্জারসাহেবের কী চোটপাট!

    সব দোষ আপনাদের ওই রাজুর। ব্যাটা আমাদের পাঁচশো টাকা নিয়ে কোথায় যে চম্পট দিল, অনেকক্ষণ পর সুবাহু মন্তব্য জুড়ল, রাজু থাকলে এসব কিছু ঘটত না।

    পার্থ বলে উঠল, সে তো শুনলাম বাড়ি গিয়েছে।

    তাই নাকি? আপনাকে কে বলল?

    লবঙ্গির চৌকিদার। সুরজ মুন্ডা না কী যেন নাম। রাজু নাকি পনেরো দিন পর ফিরবে।

    আশ্চর্য! আমাকে একবার জানিয়ে পর্যন্ত গেল না, পূর্ণচন্দ্র ঝেঁঝে উঠলেন, ফিরুক একবার। ওর চাকরি যদি না আমি খেয়েছি!

    আহা, অত রেগে যাচ্ছেন কেন? ছেলেমানুষ একটা ভুল করে ফেলেছে, মিতিন শান্ত করতে চাইল বিট অফিসারকে। স্বাভাবিক স্বরে বলল, আচ্ছা পূর্ণবাবু, ঘড়িয়াল দুটো নদীতে গেল কোন পথে?

    কেন? খাঁচার দরজা পেরোলেই তো রাস্তা। সুবাহু আগ বাড়িয়ে জবাব দিল, ঘষটে ঘষটে আর হাত-দশেক গেলেই পাহাড়কিনার। ওখান থেকে পাথর বেয়ে বেয়ে নদীতে নেমে যাওয়া কুমির ঘড়িয়ালদের পক্ষে কী এমন কঠিন! বাই দ্য ওয়ে, কাল শেষরাতে আমি ঘড়িয়ালের ডাকও শুনেছি।

    আপনিও…? পূর্ণচন্দ্রর চোখ উজ্জ্বল হল, আমারও কানে এসেছে। তখন বোধহয় রাত তিনটে-সাড়ে তিনটে হবে। ওই সময়ই বোধহয় পালিয়েছে।

    ইস, ওই সময় যদি বেরিয়ে আসতেন, তা হলে বোধহয় দুই ঘড়িয়ালই ধরা পড়ে যেত, মিতিনের গলায় কৌতুকের সুর, যাক গে, ওই নিয়ে ভেবে তো আর লাভ নেই। বরং গুছিয়ে একটা রিপোর্ট তৈরি করুন। এদিকে আমরাও ব্রেকফাস্ট সেরে বাঘমুন্ডায় বেরিয়ে পড়ি।

    হ্যাঁ, ঘুরে আসুন। বাঘমুন্ডা খুব ভাল লাগবে। চৌকিদার চক্রধরকে ওখানে গাইড করে নেবেন, আপনাদের ভালভাবে ঘুরিয়ে দেবে।

    বিভূতি রান্নাঘরে চলে গেলেন। সুবাহুও উঠে দাঁড়িয়েছে। বলল, আমিও রুমে যাই। সকালে এই ঘড়িয়াল ঘড়িয়াল করে স্যারের টেম্পারেচারটা দেখা হয়নি।

    সুবাহুর সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে মিতিন জিজ্ঞেস করল, জ্বর কমেনি প্রোফেসরসাহেবের?

    ছাড়ছে, আসছে, ছাড়ছে। স্যার খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বুঝতে পারছি কী করি!

    হুঁ, প্রবলেম। আপনার তো আজ আর কোথাও বেরোনো হচ্ছে না?

    প্রশ্নই ওঠে না। সারাদিন স্যারের কাছেই থাকব।

    মিতিন রুমে ফিরেছে। পার্থ, টুপুর আর বুমবুমও। ঘরে ঢুকেই মিতিন টুকটাক গোছগাছ করছে। গুনগুন গান গাইতে গাইতে। টুপুর যেন ঠিক পড়তে পারছিল না মাসিকে। ঘড়িয়ালদের অন্তর্ধান এত সহজে মেনে নিল মিতিনমাসি? এমন একটা কাণ্ড ঘটার পরও ফুরফুরে মেজাজে বেড়াতে বেরোচ্ছে, এ যেন মাসির চরিত্রের সঙ্গে ঠিক মেলে না। টুপুরেরই কি তা হলে ধারণাটা ভুল? প্রাণী দুটোর নিখোঁজ হওয়াটা কি নেহাতই তুচ্ছ ব্যাপার? এতে কি কোনও রহস্যই নেই?

    ক্ষুণ্ন মুখে জলখাবার সারল টুপুর। আজ সাদাসিধে মেনু। টোস্ট, ডিমসেদ্ধ, কলা খেয়ে উঠে গাড়িতে চাপল সবাই। জিপে স্টার্ট দিচ্ছেন বিভূতি, তখনই টুপুর দেখল, শক্তিধর আর কর্মবীর আসছেন বাংলোর দিকে। কাঁধের ঝোলা ছাড়াই।

    টুপুরের মাথায় হঠাৎ বিদ্যুতের ঝিলিক। ফিসফিস করে মিতিনকে বলল, এঁরা আসার পরই কিন্তু কাল ঘড়িয়াল দুটো হাওয়া হয়েছে।

    তো?

    না মানে, একটু ক্রস করে দ্যাখো না। যদি কিছু বের করতে পারো।

    ওঁরা আমার প্রশ্নের জবাব দেবেন কেন?

    কায়দা করেই না হয় জানবে। এঁরা যে সুবিধের লোক নন, তা তো আমরা আগেই দেখেছি।

    ওঁদের সঙ্গে ব্যাকব্যাক করার চেয়েও অনেক বেশি জরুরি কাজ আছে। সময় নষ্ট করাটা এখন উচিত হবে না।

    এক্ষুনি বাঘমুন্ডা যাওয়াটা এতই জরুরি?

    আহ, চুপচাপ চল তো।

    অগত্যা টুপুরকে ঠোঁটে কুলুপ আঁটতেই হয়। ওদিকে গাড়ি চলতেই বুমবুমের স্বর ফুটেছে, ঘড়িয়াল দুটো কিন্তু খুব মজার ছিল তাই না মা?

    কেন বল তো?

    পাশের বাংলোর কাকু এসে দাঁড়ালেই মুখ হাঁ করত।

    তাই নাকি?

    হ্যাঁ গো। আমি কতবার খাঁচার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছি, মুখ খোলেই না, মুখ খোলেই না। কিন্তু কাকুকে দেখলে ওমনি দু’জনে একসঙ্গে…

    কাকুকে দেখলেই বোধহয় ওদের খিদে পেত, পার্থ ঠাট্টা জুড়ল, এখন অবশ্য দু’জনে মহানন্দে নদীর মাছ সাঁটাচ্ছে দেদার।

    তাই কি?

    মিতিনের আকস্মিক প্রশ্নে হোঁচট খেয়েছে পার্থ। সে ফের মুখ খোলার আগেই মিতিন বিভূতিকে বলল, আর এগোনোর দরকার নেই। গাড়িটা এবার থামান।

    রাস্তার ধারে জিপ দাঁড় করালেন বিভূতি, কেন ম্যাডাম? বাঘমুন্ডা যাবেন না?

    এক্ষুনি নয়। অন্য একটা কাজ মনে পড়ে গেল। টিকরপাড়া বাংলো থেকে আমরা কদ্দূর এসেছি?

    বড়জোর এক-দেড় কিলোমিটার।

    আমাদের বাংলোর পিছন দিয়ে যে রাস্তাটা জঙ্গলের মধ্যে গিয়েছে, সেখানে কীভাবে পৌঁছোনো যায়?

    গাড়ি তো যাবে না। হাঁটতে হবে। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে।

    ঠিক আছে, আপনি এক কাজ করুন, বুমবুমকে নিয়ে পুরানাকোট চলে যান। ভূতবাংলোটার কথা বলছিলেন, ওটা দেখিয়ে আবার ঠিক এই জায়গায় ফিরে আসুন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ঘুরে আসবেন, কেমন?

    বুমবুম চোখ পিটপিট করল, তোমরা কোথায় যাচ্ছ?

    বাঘ খুঁজতে৷ যাবি তুই?

    বুমবুম জোরে জোরে মাথা নাড়ল, না। কিন্তু একা একা ভূতের বাড়ি!

    ভয় করছে?

    হ্যাঁ, বুমবুম করুণ মুখে পার্থকে বলল, বাবা, তুমিও চলো না।

    দলছাড়া হতে মোটেই ইচ্ছে ছিল না পার্থর। মিতিন যে কিছু একটা করতে চলেছে, সে তো টের পেয়েই গিয়েছে। কিন্তু ছেলের আবদারও তো উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই।

    পার্থ-বুমবুমকে নিয়ে চলে গেল বিভূতির জিপ। তরতরিয়ে ডান দিকের জঙ্গলটায় ঢুকে পড়ল মিতিন। টুপুরকে সঙ্গে নিয়ে। শাল, সেগুন, শিশু, গামারের ছায়াঢাকা শুনশান অরণ্য। পায়ের নীচে শুকনো পাতা ভাঙছে খড়মড়। নিস্তব্ধ বনে ওই আওয়াজটুকুই যে কী কানে লাগে! গাছগাছালি তেমন একটা ঘন নয়, তবু প্রতি মুহূর্তে বুক ঢিপঢিপ। মনে হয়, এই বুঝি এসে পড়ল কোনও বুনো জন্তু!

    কিছু বলব না, বলব না করেও টুপুর জিজ্ঞেস করে ফেলল, আমরা কোথায় যাচ্ছি মিতিনমাসি?

    মিতিনের কাঠ কাঠ জবাব, আশা করি, এটুকু আন্দাজ করার মতো বুদ্ধি তোর আছে।

    বাংলোর পিছনের জঙ্গলটায়? কিন্তু কেন?

    ছেঁড়া ছেঁড়া সুতোগুলো জুড়তে।

    মানে?

    কথা না বলে জোরে পা চালা। আমার হিসেবমতো এখন অনেকটা হাঁটতে হবে।

    ছমছমে অরণ্য চিরে আরও মিনিট দশেক চলার পর একটা মেঠো রাস্তায় এসেছে দু’জনে। বনপথই, তবে মোটামুটি চওড়া। বোঝা যায়, এদিক দিয়ে মানুষ আসা-যাওয়া করে রোজ।

    মিতিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েছে। গলায় ঝোলানো বাইনোকুলার চোখে লাগিয়ে ঘোরাল। তারপর একদিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, আমাদের বাংলোটা পুবে। সুতরাং এখন পশ্চিমে হাঁটতে হবে।

    কেন?

    ফের প্রশ্ন? স্টার্ট ওয়াকিং।

    বোধহয় একশো মিটারও এগোয়নি, জঙ্গল ক্রমশ ঘন হতে শুরু করেছে। রাস্তাটাও এবার পাহাড়ি, পাকদণ্ডীর মতো। চড়াই বেয়ে উঠতে উঠতে টুপুরের গা ছমছম ভাবটা বেড়ে যাচ্ছিল যেন।

    হঠাৎ থমকেছে মিতিন। পরক্ষণেই দৌড়ে গিয়ে একটা পলিথিনের খালি বস্তা কুড়োল জঙ্গল থেকে। আঙুলে তুলে শুকল একটু। তারপর আলগোছে জিভে ছোঁয়াল আঙুলটা।

    টুপুর জিজ্ঞেস করল, কী গো?

    নুন।

    জঙ্গলে নুনের বস্তা?

    হুম। এটা না থাকলে হিসেব মেলে না। মনে হচ্ছে, গন্তব্যের কাছাকাছি এসে গিয়েছি।

    বস্তাটা ভাঁজ করে নিয়ে এগোল মিতিন। ছোট্ট একটা বাঁক ঘুরে ফের রুদ্ধ হয়েছে তার গতি। পথের ধারে একটা বড়সড় গর্ত। অনেকটা টুলকায় যেমন দেখেছে।

    ঝুঁকে গর্তটা পর্যবেক্ষণ করল মিতিন। দেখছিল টুপুরও। বলল, ভিতরে তো কিছু নেই গো।

    ভাল করে লক্ষ করা আছে। রাশি রাশি পিঁপড়ে।

    তাই তো! এত পিঁপড়ে কেন?

    ওদের খাদ্যবস্তু যে ছিল এখানে।

    কোনও মরা জন্তুটন্তু?

    উত্তর না দিয়ে মিতিন উবু হয়ে বসেছে। হাত বাড়িয়ে গর্ত থেকে একটা দড়ি টানল। দড়ির সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসছে একটা ভাঙাচোরা কাঠের পাটাতন। চার-চারখানা চাকা লাগানো।

    পাটাতনটাকে নেড়েচেড়ে দেখল মিতিন। তারপর একটা পাতলা হাসি ফুটেছে ঠোঁটে। মাথা দোলাতে দোলাতে বলল, সব হিসেবই মিলে যাচ্ছে রে।

    কীসের হিসেব? টুপুরের ভুরুতে ভাঁজ, তুমি ঘড়িয়াল অন্তর্ধানের রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করছ বুঝি?

    গুড গেস, টুপুরের পিঠে আলগা চাপড় দিল মিতিন। হালকা চালে বলল, চল, অভিযানের প্রথম পর্ব শেষ। এবার ফিরি।

    মিতিনের পাশাপাশি হাঁটছিল টুপুর। যেতে যেতে বলল, কাল রাত্তিরে ঘড়িয়াল দুটো চুরি করে এখানেই মারা হয়েছিল। তাই তো?

    যা মনে আসে বলে যা। শুনছি।

    তারপর চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে চোররা। মাংসটা গর্তে ফেলা হয়েছিল, জন্তুজানোয়ার এসে খেয়ে গিয়েছে, বলেই টুপুরের খটকা লেগেছে। ভুরু কুঁচকে বলল, তা হলে হাড়গোড়গুলো গেল কোথায়? সেগুলোও কি সাবাড় হয়ে গিয়েছে?

    তুইই বল।

    টুপুর মগজ হাতড়াল। জবাব খুঁজে না পেয়ে বলল, হয়তো গর্তে নেই। হয়তো এদিক-ওদিক ছড়িয়ে আছে। আর একটু খুঁজলে হয়তো মিলত।

    ঘোড়ার ডিম, মিতিন এক ফুঁয়ে টুপুরের ধারণাটা উড়িয়ে দিল, আর কী মনে হচ্ছে বল?

    ঘড়িয়ালের আওয়াজ শোনা গিয়েছিল শেষরাতে। তখনই কিংবা তারপর নিশ্চয়ই চুরিটা হয়েছে।

    অর্থাৎ তিনটে-চারটের সময়। তারপর মাত্র ঘণ্টা ছয়েক গড়িয়েছে। এইটুকু সময়ের মধ্যে দু-দুটো ঘড়িয়ালের মাংস কি কোনও জন্তুর পক্ষে চেটেপুটে খেয়ে ফেলা সম্ভব?

    তাও তো বটে। তা হলে?

    ভাব, ভাব। ভাবা প্র্যাক্টিস কর। কানে যা শুনবি, সেটাকেই ধ্রুব সত্য বলে ধরে নিস না। তোর কি ধারণা, ঘড়িয়াল দুটোকে মেরে ওই পাটাতনে চাপিয়ে এতটা দূর পর্যন্ত আনা হয়েছিল? এক-একটা ঘড়িয়ালের ওজন জানিস? অন্তত দেড়শো কেজি। তার উপর অতটা লম্বা, অন্তত বারো চোদ্দো ফুট।

    টুপুর ভাবনায় পড়ে গেল। এ তো বেশ জটিল ধাঁধা!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }