Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প702 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১-২. হাসি পায় টুপুরের

    স্যান্ডরসাহেবের পুঁথি – মিতিনমাসি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    এক-একসময়ে পার্থমেসোকে দেখে যা হাসি পায় টুপুরের! বিশেষত রোববারের সকালে। পার্থমেসোকে যেন ভূতে পায়! পাঁচ-পাঁচখানা বাংলা কাগজ ছড়িয়ে বসবে সোফায়। শব্দজব্দের পাতাগুলো খুলে। একবার এই কাগজের ছক মেলাচ্ছে, খানিক পরেই চলে যাচ্ছে আর-একটা কাগজে, সেটা শেষ না করেই আবার একটা কাগজ। ছক মেলাতে-মেলাতে কখনও আপন মনে গান গেয়ে উঠছে, কখনও অস্থির ভাবে মাথা ঝাঁকাচ্ছে, কখনও বা সোফা ছেড়ে তড়াং লাফিয়ে উঠে পায়চারি করছে ঘরময়। পার্থমেসোর তখন পুরো বেভুল দশা। টুপুর তো ছার, ওই সময়ে মিতিনমাসি, বুমবুমকে দেখলেও চিনতে পারে না। সুখাদ্য ভরা প্লেট পর্যন্ত তখন চোখে পড়ে না মেসোর।

    আজও প্রায় সেই হাল। ফ্রেঞ্চটোস্টের পাহাড় সামনে পড়ে, ছুঁয়েও দেখছে না। ঠকাঠক পেনসিল ঠুকছে কপালে, হঠাৎ-হঠাৎ ঘাড় ঝোঁকাচ্ছে কাগজে, পরক্ষণে ঠোঁট উলটে নাচাচ্ছে বুড়ো আঙুল। অর্থাৎ এই শব্দটাও লাগসই হল না।

    কোনওমতে হাসি চেপে টুপুর বলল, কী গো মেসো, তোমার ব্রেন আজ ফেল মেরে গেল নাকি?

    পার্থ যেন শুনতেই পেল না। চোখ পিটপিট করে বলল, শিশুরা কী টানতে ভালবাসে বল তো?

    সদ্য কেনা প্রকাণ্ড স্মার্ট টিভিতে অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট দেখছিল বুমবুম। পুটুস করে বলে উঠল, হামা।

    সেটা তো আমিও ভেবেছি। কিন্তু এক ধরনের ধর্মগুরু… দু’ অক্ষরের…

    একটু দ্বিধা নিয়ে টুপুর বলল, মোল্লা? পাদ্রি?

    মিতিন ইংরেজি কাগজে চোখ বোলাচ্ছিল। একটা ফ্রেঞ্চটোস্ট তুলে নিয়ে বলল, লামাও হতে পারে।

    হ্যাঁ। লামাই হবে। আমার সঙ্গে আড়াআড়ি মিলবে, পার্থ ঘাড় দোলাল, কিন্তু রাত্রির এক বিশেষ রূপ… পাঁচঅক্ষর…

    টুপুর অস্ফুটে বলল, নিশুতি রাত? কিংবা গভীর রাতে?

    আসছে না।

    থার্ড লেটারটা কি ‘স’? মিতিন জিজ্ঞেস করল, তা হলে নিঃসম্পাত হতে পারে।

    হচ্ছে না। ফোর্থ লেটার সম্ভবত ‘ম’, পার্থ ভুরু কোঁচকাল, আসছে কিছু মাথায়?

    উঁহু, দু’-চার সেকেন্ড চেষ্টা করে মিতিন হাল ছেড়ে দিল। কৌতূহলী সুরে বলল, তা প্রথম অক্ষরটা কী?

    সেটাও তো ছাই আসছে না।… দু অক্ষরে পরিমাপ। কী-ই হতে পারে? মান? মিতি? কিন্তু ‘মা’ বা ‘মি’ দিয়ে কি কোনও বিশেষ ধরনের রাত হয় কি?

    হুম। সত্যি বেশ কঠিন, মিতিন সায় দিল। খাবার চিবোতে- চিবোতে বলল, যাক গে, এবার কানটা একটু খাড়া করো। ঘরে তোমার মোবাইল বাজছে। যাও, ধরো।

    অগত্যা পার্থকে উঠতেই হল। ধ্যানে ব্যাঘাত ঘটায় মুখ বেজার। পেনসিল হাতে যাচ্ছে শোয়ার ঘরে।

    টুপুর হাসতে-হাসতে বলল, শব্দ মেলানোর খেলায় কেন যে এত মজা পায় পার্থমেসো?

    মানুষ জীবটা বড় আজব রে টুপুর। কে যে কীসে কেন আনন্দ পায়, তা কি ঠাহর করা সোজা কাজ? কোনও বিজ্ঞানী টেলিস্কোপে চোখ লাগিয়ে রাতের পর রাত বসে থাকেন, তাতেই তার আনন্দ। কেউ হয়তো মাটির তলায় কী আছে তা খোঁজার নেশায় মজে থাকে দিনরাত। কেউ সমুদ্রের নীচে কী আছে তাই নিয়ে মশগুল, আবার কেউ বা হাজার-হাজার বছর আগের সভ্যতা খোঁজায় বিভোর। এত সব বৈচিত্র্য আছে বলেই না মানুষ দুনিয়ার সেরা প্রাণী। হাতি কিংবা গন্ডারের এত ধরনের শখ, খেয়াল নেই বলেই না বেচারারা এত শক্তিশালী হয়েও মানুষের হাতে লেজেগোবরে হচ্ছে। তারপর ধর, এই যে মানুষের জ্ঞানপিপাসা…

    বাধ্য ছাত্রীর মতো মিতিনমাসির কথাগুলো শুনছিল টুপুর। এত সুন্দর ভাবে গুছিয়ে ব্যাখ্যা করে মিতিনমাসি। সাধে কি টুপুর ছুটি পড়লেই মাসির বাড়ি ছুটে আসে। কত দুরূহ ব্যাপার যে জলের মতো বুঝিয়ে দেয় মাসি। এই যে সামার ভেকেশনে এবার সে ঢাকুরিয়া এসেছে, মাত্র তিনদিনেই কত কিছু যে জানা হয়ে গেল। সেই প্রাচীনকাল থেকে কত দেশের যে লোক এসেছে ভারতে, কীভাবে তারা এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশে গিয়েছে পুরোপুরি, এই ভারত থেকেই বা কোথায়-কোথায় মানুষ পাড়ি জমিয়েছিল, তারা এখন সেখানে কেমন আছে, সবই তো মাসির গল্প শুনে-শুনেই জানা হয়ে গেল টুপুরের। মাসির হাতে এখন তেমন কেসটেসও নেই, তাই সারাদিন মাসির সঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে, এটাও তো টুপুরের বাড়তি লাভ। এখন দিনকয়েকের জন্য কোথাও একটা বেড়ানো হয়ে গেলেই টুপুরের গরমের ছুটিটা সর্বাঙ্গ সুন্দর হয়।

    কথাও একটা চলছে বটে। ওড়িশায়। সিমলিপালের জঙ্গলে যাওয়ার। খোঁজখবর চালাচ্ছে পার্থমেসো, তবে প্রোগ্রামটা এখনও ঠিক গুছিয়ে উঠতে পারেনি। আজ মেসোকে আবার খোঁচাতে হবে। মেসোও বেড়াতে যথেষ্ট ভালবাসে, তবু বারবার ঠেলা না মারলে কাজ হবে না।

    ভাবনার মাঝেই পার্থ ফিরেছে। কাঁচুমাচু মুখে মিতিনকে বলল, একটা গন্ডগোল করে ফেলেছি, বুঝলে।

    এ আর নতুন কী, মিতিন ঠোঁট টিপল, আমার কাছে কাউকে আসতে বলে বেমালুম ভুলে মেরে দিয়েছ, তাই তো?

    হ্যাঁ…মানে…তুমি কী করে আন্দাজ করলে?

    তোমার বলার ভঙ্গি দেখে, আরতি চা রেখে গিয়েছে। কাপ তুলে চুমুক দিল মিতিন। মুচকি হেসে বলল, চোর-ডাকাত, খুনি-বদমাশ চরিয়ে খাই মশাই, তোমার মতো একটা হাবাগোবা লোকের মনের কথা আঁচ করা কী এমন কঠিন?

    পার্থ দুম করে চটে যাচ্ছিল, কী ভেবে থমকেছে। চোখ সরু করে বলল, তুমি কি আমাকে খেপাতে চাইছ?

    যাক ঘট এখনও পুরো খালি হয়নি তা হলে! …তা কে আসছেন জানতে পারি?

    আমার বউবাজার পাড়ারই একজন। মানে আমার প্রেসের কাছেই ভদ্রলোকের দোকান। আমার খুব একটা ঘনিষ্ঠ নন। প্রেসে ছাপাতে টাপাতে আসেন, সেই সূত্রেই চেনা, এই যা। তবে তোমার টিকটিকিগিরির যশোগাথা ওঁর কানেও পৌঁছেছে। আর তাই কী এক জটিল সমস্যা নিয়ে তোমার সঙ্গে দেখা করতে চান। কাল রাত্তিরেই আসতে চাইছিলেন। বার্সেলোনার ফুটবল ম্যাচটা দেখব বলে আমিই নিষেধ করেছিলাম। বলেছিলাম রোববার সকালে আসুন।

    অ। তা কখন আসছেন?

    এসে পড়েছেন, প্রায় গড়িয়াহাটা পেরিয়ে গিয়েছেন। বাড়ির ডিরেকশনটা আর-একবার জেনে নিলেন, বলেই পার্থ জলখাবারের প্লেটখানা টানল। দ্যাখ না-দ্যাখ ফ্রেঞ্চটোস্ট সাফ। হড়াসহড়াস চুমুক দিচ্ছে চায়ের কাপে। অন্য সময়ে মেসোর এই তাড়াহুড়ো দেখে হাসত টুপুর, এখন কেমন বুকটা ধুকপুক করছে। কেন আসছেন ভদ্রলোক? কোনও রহস্যটহস্য আছে নাকি? মিতিনমাসি কি নেবে কেসটা? যদি নেয়, তা হলে তো টুপুরের কপাল খুলে গেল! আরও-একবার মাসির শাগরেদি করার সুযোগ মিলবে, এ কি কম কথা?

    হঠাৎ মিতিনমাসির গলা কানে এল টুপুরের, এখনই গোঁফে তা দিস না রে টুপুর। কাঁঠাল এখনও গাছে।

    টুপুর তাড়াতাড়ি বলল, আরে ধুস। কাঁঠাল, না এঁচোড়, তাই কি এখনও জানি! এঁচোড় হলে তো গাছেই ঝুলে থাকবে। খসে পড়বে না। ঠিক কিনা?

    উঁহু। কাঁঠালই মনে হচ্ছে, মিতিন পার্থর দিকে ফিরল, ভদ্রলোকের কীসের দোকান? সোনা-রুপোর?

    না। বিয়ের কার্ড বানান।

    পুরনো বিজনেস?

    আদ্যিকালের। বোধহয় দু-তিন পুরুষ ধরে এই কারবার করছেন। দোকানের উপরতলায় বাড়ি। সেই বাড়ির বয়সও না হোক দেড়-দুশো বছর হবে। খসে-খসে পড়ছিল। রিসেন্টলি মেরামত হল, রংটং করাল।

    নাম কী ভদ্রলোকের?

    মনোজ। মনোজ বড়ুয়া। মাস তিন-চার আগে কাগজে মনোজবাবুর নামটা এসেছিল।

    কেন?

    কী সব প্রাচীন পুঁথিটুথি নাকি পাওয়া গিয়েছিল ওঁদের বাড়ি থেকে।

    মিতিন কয়েক সেকেন্ড ভাবল। ঘাড় নেড়ে বলল, ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। সম্ভবত বৌদ্ধ কোনও ধর্মগ্রন্থ। ভদ্রলোকও নিশ্চয়ই বুদ্ধিস্ট?

    সে আমি কী করে জানব? শুধু জানি, মনোজবাবুর দেশ পূর্ববঙ্গে। আই মিন, বাংলাদেশে৷

    এবার থেকে এও জেনে রাখো বাঙালি বৌদ্ধদের পদবি সাধারণত বডুয়াই হয়।

    তার মানে ফিল্মজগতের প্রবাদ পুরুষ প্রমথেশ বড়ুয়াও বৌদ্ধ?

    উনি তো বাঙালিই নন। অহমিয়া, মিতিন গুছিয়ে বসল, বড়ুয়া পদবিটার অনেক হিস্ট্রি আছে, বুঝলে। বড়ুয়া পদবির বাঙালি বৌদ্ধরা সকলেই প্রায় চট্টগ্রামের বাসিন্দা। তারা নাকি প্রায় পাঁচহাজার বছর ধরে ওখানে বাস করছে। শুনলে অবাক হবে, চট্টগ্রাম শব্দটা এসেছে চৈত্য গ্রাম থেকে। চৈত্য মানে জানো তো?

    অতটা মুর্খ ভেবো না। চৈত্য শব্দটা এসেছে চিতা থেকে। অর্থাৎ কোনও বৌদ্ধ সন্ন্যাসীকে পোড়ানোর পর তাঁর চিতাভষ্ম দিয়ে যে স্মৃতিস্তম্ভ বানানো হয়, তারই নাম চৈত্য।

    কারেক্ট। অজস্র চৈত্য ছিল বলেই বড়ুয়াদের বাসস্থানের নাম চৈত্যগ্রাম। মুখে-মুখে সেটাই হয়ে গিয়েছে চট্টগ্রাম। ওখানকার বড়ুয়ারা ছিল মহাযানী বৌদ্ধ। আবার তারা হিন্দুদের অনেক আচার বিচারও মেনে চলত। পরে অবশ্য বার্মিজ আর সিংহলিদের সংস্পর্শে এসে তারা অনেকটাই গোঁড়া হয়ে যায়।

    টুপুরের এসব কচকচানি ভাল লাগছিল না। অধৈর্য ভাবে বলল, কিন্তু ভদ্রলোক মাসির কাছে আসছেন কেন? পার্থমেসো, তিনি তোমায় কিছু বলেননি?

    জানতেই চাইনি। আমার অত ফালতু কৌতূহল নেই। যাঁর কাছ থেকে দু’হাজার টাকা পেমেন্ট বের করতে চারবার তাগাদা মারতে হয়, আগ বাড়িয়ে তাঁকে প্রশ্ন করতে আমার ভারী দায় পড়েছে। তবে…

    কী তবে?

    মনোজবাবু কেন আসছেন তা আন্দাজ করতে তোর মাসির মতো টিকটিকি হওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্ঘাত ওই পুঁথিটুথিগুলো খোয়া গিয়েছে। উনি পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন, তারা হয়তো পাত্তা দেয়নি, তাই তোর মাসির শরণাপন্ন হচ্ছেন।

    একেবারেই ভুল অনুমান, মিতিন মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, ক’দিন আগে যে পুঁথি নিয়ে কাগজে খবর বেরিয়েছে, সেটা চুরি গেলে অবশ্যই আর-একটা বড়সড় নিউজ হত। এবং পুলিশও চুরিটাকে হেলাফেলা করতে পারত না। সুতরাং রহস্যটা অন্য কিছু। আর তা যথেষ্ট গভীর।

    ওই ভেবেই নাচো, পার্থ তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, তবে একটা কথা বলে রাখছি। বিনে পয়সায় একদম খাটবে না। তাতে কিন্তু আমার ব্যবসার ক্ষতি হবে।

    টুপুর অবাক মুখে বলল, কেন?

    বা রে, তোর মাসি মাগনায় কাজ উদ্ধার করে দিলে উনি তো ধরেই নেবেন, আমরা খুব মালদার। এবং আমাদের পয়সাকড়ি না দিলেও চলে। অতএব ভবিষ্যতে আমাকেও পেমেন্ট দিতে বহুত হয়রান করবেন।

    পার্থমেশোর বিটকেল যুক্তিতে টুপুর হেসে উঠতে যাচ্ছিল, তার আগেই কলিংবেলের ঝংকার। বুমবুম সাঁই ছুটে গিয়েছে দরজায়। পিছন পিছন পার্থ। পাল্লা খুলতেই দৃশ্যমান হয়েছেন মনোজ বড়ুয়া। বয়স বছর পঞ্চান্ন। বেঁটেখাটো। মাথাজোড়া টাক। গায়ের রং ফরসা। মুখটি মঙ্গোলিয়ান ধাঁচের। পাজামা-পাঞ্জাবি পরা মনোজ ভারী বিনয়ী ভঙ্গিতে নমস্কার করলেন মিতিনকে। পার্থর আহ্বানে পায়ে-পায়ে গিয়ে বসেছেন সোফায়।

    মিতিন জিজ্ঞেস করল, চা খাবেন? না কফি? এই জ্যৈষ্ঠের গরমে এতটা পথ ড্রাইভ করে এলেন, ঠান্ডা শরবতও নিতে পারেন।

    মনোজ যেন সামান্য চমকেছেন। হাতে গাড়ির চাবিটা ঝুলছিল, ঈষৎ অপ্রস্তুত হয়ে তাড়াতাড়ি ঢুকিয়ে রাখলেন পকেটে। সামান্য ইতস্তত করে বললেন, কিচ্ছু লাগবে না। প্লেন জল হলেই চলবে।

    দিচ্ছি।…আপনি বোধহয় খুব ডিস্টার্বড আছেন, শান্ত হয়ে বসুন।

    জল খেয়ে মনোজ একেবারে চুপচাপ। কথাই বলছেন না। ভদ্রলোককে সহজ করার জন্য মিতিনই শুরু করল আলাপচারিতা। সামনের সোফায় বসে বলল, আমাদের বাড়ি চিনতে নিশ্চয়ই অসুবিধে হয়নি?

    জবাব দিলেন না মনোজ। শুধু ঘাড় নাড়লেন দু’দিকে।

    আপনাদের আদি বাড়ি তো চট্টগ্রাম, তাই না?

    প্রপার চট্টগ্রাম নয়। তবে তার কাছেই, এবার স্বর ফুটছে মনোজের, আমাদের দেশ রাঙামাটি।

    একসময়ে যার নাম ছিল রক্তমৃত্তিকা?

    হ্যাঁ।

    আপনারা তো শুনলাম বউবাজারের পুরনো বাসিন্দা। রাঙামাটি থেকে সরাসরি চলে এসেছিলেন?

    না। দশ-এগারো পুরুষ আগে আমরা ঢাকায় যাই। বিক্রমপুর। পরে সেখান থেকে কলকাতা।

    ও…তা কলকাতায় এখন কে কে আছে আপনার?

    আমার জেঠতুতো খুড়তুতো দাদা-ভাইরা, তাদের ফ্যামিলি, আমার স্ত্রী ছেলে…

    যৌথ পরিবার নাকি আপনাদের?

    ছিল। এখন যে যার মতো পৃথক।

    একই বাড়িতে?

    হ্যাঁ। আলাদা-আলাদা অংশে।

    ও। তা শরিকে শরিকে সম্পর্ক কেমন? সদ্ভাব আছে?

    মোটামুটি, বলে একটুক্ষণ থেমে রইলেন মনোজ। তারপর আচমকাই বদলে গিয়েছে তাঁর স্বর। কাঁদোকাঁদো গলায় বললেন, আমার দেবলের বড় বিপদ ম্যাডাম। আমি যে তাকে নিয়ে কী টেনশনে ভুগছি, আপনাকে বোঝাতে পারব না।

    মিতিন ঝুঁকল সামান্য, কে দেবল?

    আমার একমাত্র ছেলে। খেয়ালের ঝোঁকে বেরিয়ে এখন তার প্রাণসংশয় দশা। সে বেঁচে আছে, কী নেই, তাও বুঝতে পারছি না। আপনি অনুগ্রহ করে তার একটা খবর এনে দিন। ভগবান তথাগতর কৃপায় যদি সে এখনও জীবিত থাকে, দয়া করে তাকে রক্ষা করুন।

    টুপুর স্তম্ভিত। পার্থ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছে। মিতিনের কপালে চওড়া ভাঁজ।

    তিনজনের কেউই বুঝি কল্পনা করতে পারেনি, মনোজ বড়ুয়া এমন একটা সমস্যা নিয়ে হাজির হবেন আজ।

    .

    ০২.

    মনোজ বড়ুয়ার কথাগুলো মোটেই বোধগম্য হচ্ছিল না টুপুরের। একে তো ঘটনার পরম্পরা থাকছে না, তার উপর ছেলে নিরুদ্দেশ, নাকি বাড়িতে বলে কয়েই গিয়েছে, তাও যেন স্পষ্ট হচ্ছে না। একবার বলছেন ছেলে কাশ্মীর থেকে ফোন করেছিল, পরক্ষণে বলছেন ফোনটা ছেলের নম্বর থেকে আসেনি, কেউ জোর করে দেবলকে দিয়ে কথা বলাচ্ছিল। মাসি যে খুঁটিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করবে, তারও জো নেই। মাঝে-মাঝেই গলা ছেড়ে যা হাউমাউ করে উঠছেন ভদ্রলোক। পার্থমেসো তো বিরক্ত হয়ে চলেই গেল পাশের ঘরে। টুপুরেরও কৌতূহল মাথায় উঠেছে, এখন এই ঘ্যানঘেনে ভদ্রলোক মানে-মানে বিদেয় হলেই সে যেন বাঁচে।

    মিতিনেরও হিমশীতল রূপটা বদলে গেল আচমকা। রীতিমতো রূঢ় গলায় বলল, আমার এখন দরকারি কাজ আছে। আপনি এবার আসুন।

    থতমত খাওয়া মুখে মনোজ বললেন, তা হলে আমার ছেলের ব্যাপারটা…

    সরি, মিতিনের সাফ জবাব, বোগাস কেস আমি নিই না। ছেলে আপনার বহাল তবিয়তেই আছে, আপনি বিশেষ কোনও উদ্দেশ্যে আষাঢ়ে গল্প ফাঁদছেন।

    কী বলছেন আপনি? মনোজের মুখ ফ্যাকাশে দেখাল, ছেলেকে বাঁচাতে বলার পিছনে একজন বাবার কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে?

    ধান্দাটা যে কী, সে আপনিই ভাল জানেন, বিচ্ছিরি কর্কশ স্বরে বলল মিতিন। টুপুর হাঁ। ঘরে আসা কোনও ভদ্রলোকের সঙ্গে মাসি এই সুরে কথা বলছে, এ যেন অকল্পনীয়। টুপুরকে আরও বিস্মিত করে মিতিন তেরিয়া ভাবে বলল, আপনার ছেলে যে সত্যিই নিপাত্তা, তার কোনও প্রমাণ আছে?

    মনোজ এবার আমতা-আমতা করছেন, আসলে হয়েছে কী… পুলিশের কাছে তো যাইনি… ডায়েরিও লেখাইনি…

    ধানাইপানাই ছাড়ুন। সাফ-সাফ বলুন, হ্যাঁ, কি না?

    না।

    সে কবে থেকে নিখোঁজ?

    ধরুন বুধবার, একটুক্ষণ চিন্তা করে বললেন মনোজ। পরমুহূর্তে মাথা ঝাঁকাচ্ছেন, না-না, বুধবারেই তো দেবল ফোন করেছিল..

    ফের উলটোসিধে বকছেন? মিতিন ধমক দিল, কোথা থেকে ফোন করেছিল ছেলে?

    কাশ্মীরের শ্রীনগর। মানে তাই তো বলল দেবল।

    সে কবে শ্রীনগর গিয়েছিল?

    বোধহয় আগের দিন।… ওইদিনও হতে পারে।

    আশ্চর্য, কবে ছেলে কাশ্মীর গিয়েছে তাও গুলিয়ে ফেলছেন?

    সে আদৌ কোথাও যাচ্ছে কিনা, কিছুই তো বাড়িতে জানায়নি। আর পাঁচটা দিনের মতোই মঙ্গলবার সকালে চান-খাওয়া করে পিঠে ল্যাপটপ চাপিয়ে বেরিয়ে গেল। তারপর ফোন পেলাম তো ওই পরের দিন।

    রোজ কোথায় যেত আপনার ছেলে? অফিসে?

    না না। সারাটা দিন এশিয়াটিক সোসাইটির লাইব্রেরিতে পড়ে থাকত।

    কেন? গবেষণা করত বুঝি?

    ওই আর কী। খ্যাপামিও বলতে পারেন। অত ভাল রেজাল্ট করল এম এ পরীক্ষায়, কিন্তু চাকরিবাকরির লাইনে গেলই না। বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে থাকাটাই ছিল ওর জীবন।

    সে কী বিষয়ে রিসার্চ করছিল?

    তিব্বতে বৌদ্ধধর্মের প্রসার বা ওই জাতীয় কিছু। আমি সঠিক বলতে পারব না।

    হুম। তা মঙ্গলবারেও কি আপনার ছেলে এশিয়াটিক সোসাইটির লাইব্রেরিতে গিয়েছিল?

    লাইব্রেরিয়ান বললেন, দুপুর বারোটা পর্যন্ত ওখানে ছিল দেবল। তবে অন্যদিনের মতো পড়াশুনো করছিল না, মাঝে-মাঝেই মোবাইল ফোনে কথা বলছিল, আর ল্যাপটপ খুলে কীসব কাজ করছিল। তারপর হঠাৎই ব্যাগ গুছিয়ে লাইব্রেরি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। রাতে খোঁজ নেই, পরের দিন সে শ্রীনগরে। তার পরের দিন থেকে আর কোনও সাড়াশব্দই নেই, মনোজের গলা আবার ধরা-ধরা, যে ছেলে বই ছাড়া দুনিয়ার কিচ্ছুটি জানে না, কলকাতা ছেড়ে নড়তেই চায় না, তার এমন বিচিত্র আচরণে নার্ভাস হওয়াটা কি খুব অস্বাভাবিক? চার-চারটে দিন চলে গেল, সে একটি বারের জন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করল না… আপনিই বলুন, এর পরেও কি বাবা-মা ভয় পাবে না?

    আপনার ছেলে তো কচি খোকা নয় মনোজবাবু। হয়তো সে নিজের মনে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফোন করার কথা তার মাথাতেই নেই। সে যে বিপদে পড়েছে, এমন একটা উদ্ভট ধারণা আপনার হল কেন?

    উদ্ভট নয় ম্যাডাম। বিশ্বাস করুন। দেবল শেষ ফোনটা ওর মোবাইল থেকে করেনি। সেটা এসেছিল একটা ল্যান্ডলাইন থেকে। ওর গলাটাও কেমন যেন শোনাচ্ছিল। উত্তেজিত। নার্ভাস। যা বলল, সেও তো কম মারাত্মক নয়।

    কীরকম?

    সে নাকি এক্ষুনি একটা বিপজ্জনক কাজে বেরোচ্ছে। সেই কাজে সফল হওয়ার সম্ভাবনা যতটা, প্রাণ হারানোর ঝুঁকিও নাকি ততটাই।

    কেন? কোথায় যাচ্ছে সে?

    স্পষ্ট কিছু জানাল না। শুধু বলল, কোন গুম্ফায় নাকি রত্নখনির সন্ধান মিলেছে। পিছনে ফেউ লাগার আগে সেখানে পৌঁছোতে হবে।

    ফেউ? মানে? আরও কেউ সেই খনির খোঁজ পেয়েছে নাকি? রত্নখনি মানেটাই বা কী?

    জানি না। আমি কিছু বুঝতে পারছি না ম্যাডাম। তবে আমার মনে হয়…

    মনোজ হঠাৎ চুপ করে গেলেন। ভাবছেন কী যেন। মিতিন চোখা স্বরে বলল, সম্প্রতি বাড়িতে একটা বৌদ্ধ পুঁথি পাওয়া গিয়েছিল। তার সঙ্গে আপনার ছেলের হঠাৎ কাশ্মীর যাওয়ার কোনও সম্পর্ক আছে কি?

    মনোজ মাথা দোলালেন, আমিও তাই সন্দেহ করছি।

    কেন?

    কাগজে খবরটা প্রকাশ হোক, এটা দেবলের মোটেই ইচ্ছে ছিল না। আমার জেঠতুতো দাদার ছেলে অতি উৎসাহী হয়ে এক সাংবাদিক বন্ধুকে জানায়। তাতেই খবরটা চাউর হয়। খুব বিরক্ত হয়েছিল দেবল। তারপর থেকে পুঁথিগুলো সে নিজের জিম্মাতেই রাখত। এশিয়াটিক সোসাইটির লাইব্রেরিতেও কখনও নিয়ে যায়নি। পাতাগুলোর ফোটো তুলে ওই ফোটোগুলো নিয়েই পড়াশোনা করছিল দেবল। ওই পুঁথি থেকেই হয়তো ও অজানা কিছু জানতে পেরেছিল। সেই টানেই হয়তো…

    পুঁথিগুলো ঠিক কীরকম? তালপাতার? নাকি প্লেটের উপর লেখা?

    কোনওটাই নয়। পুরনো কাগজের। ঝুরঝুরে হয়ে গিয়েছিল। একটা পাতলা কাঠের বাক্সে যত্ন করে রেখেছিল দেবল। বাক্সটা ধরুন দেড়ফুট বাই দেড়ফুট, মনোজ একটু থেমে থেকে বললেন, পরশু আবিষ্কার করলাম, কাঠের বাক্সখানা নেই। সম্ভবত দেবল সঙ্গে নিয়ে গিয়েছে।

    সম্ভবত বলছেন কেন?

    কারণ দেবল শেষ যেদিন ফোন করল, সেই রাত্রেই বাড়িতে একটা চোর এসেছিল। রেনপাইপ বেয়ে উঠে দেবলের চিলেকোঠার ঘরেই হানা দিয়েছিল চোর। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সে বাক্সটার সন্ধানেই এসেছিল। কিন্তু পায়নি।

    কীভাবে বুঝলেন?

    ওটা একদম সামনে থাকত যে। দেবলের মাথার বালিশের পাশে। ঘরে ঢুকলেই যে কারও চোখে পড়বে। ওই জিনিস খুঁজতে কেউ গোটা ঘর তছনছ করে? পায়নি বলেই বোধহয়… মনোজ ঢোক গিললেন, চোরের কথা ভেবেই তো আরও ভয় পাচ্ছি ম্যাডাম। বোধহয় এমন একটা কিছু আশঙ্কা করেই দেবল ফেউয়ের কথা বলছিল।

    হতে পারে, মিতিন এবার নড়ে বসল, এখন মনে হচ্ছে আপনার আগমন নেহাত অযৌক্তিক নয়।

    আপনি তা হলে দায়িত্ব নিচ্ছেন? মনোজের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল, ছেলেটাকে বাঁচাবেন তো?

    দাঁড়ান-দাঁড়ান। ব্যাপারটা আর একটু বুঝি, মিতিন আবার সহজ স্বরে কথা বলছে। মাসির হঠাৎ হঠাৎ বদলে ভেবলে যাওয়া টুপুরের মুখখানা একবার দেখে নিয়ে মিতিন বলল, ওই পুঁথি আপনি পেলেন কোত্থেকে?

    বাড়িতেই তো ছিল। শোয়ার ঘরের মাথার একটা কুলুঙ্গিতে। আমরা অবশ্য একেবারেই জানতাম না। বহুকাল বাড়িটায় হাত পড়ে না, কড়িবরগার হাল খুব খারাপ হয়ে গিয়েছে, তাই এবার আমার অংশে মিস্ত্রি লাগিয়েছিলাম। ওরাই কুলুঙ্গি থেকে একটা ছোট লোহার তোরঙ্গ বের করে। তার মধ্যেই কিছু পুরনো বইপত্রের সঙ্গে ছিল ওই পুঁথি। আমি ওর মূল্য বুঝতে পারিনি। দেবলই বলল ওটা নাকি অমূল্য সম্পদ। কোন এক সাহেবের লেখা।

    কাগজে তো সে সব কথা ছিল না। শুধু লিখেছিল প্রাচীন এক মূল্যবান পুঁথি মিলেছে।

    পাছে বেশি হইচই হয়, তাই দেবলই গোপন করেছিল।

    আপনাদের বাড়িতে ওই পুঁথি এল কী করে?

    সেই ধাঁধারও সমাধান করেছে দেবল। আমাদের বংশের ঠিকুজিকুলুজি ঘেঁটে ঘেঁটে ও দেখেছে, আটপুরুষ আগে আমাদের বড়ুয়া পরিবারেরই একজন বিক্রমপুর থেকে কলকাতায় চলে এসেছিলেন। নাম হেমকান্ত বড়ুয়া। তিনি বিয়ে-থা করেননি, বৌদ্ধধর্ম নিয়ে তাঁর পড়াশোনা ছিল বিস্তর। সিকিম আর দার্জিলিংয়ের অজস্র গুম্ফাতেও যাতায়াত করেছেন বেশ কয়েকবার। সেই সময়েই নাকি ওই সাহেবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।

    এই সব তথ্য দেবল পেল কীভাবে?

    ওই সাহেব আর হেমকান্ত নাকি এশিয়াটিক সোসাইটিতেই গবেষণা করতেন। তিব্বতের বৌদ্ধধর্ম নিয়ে। সোসাইটির লাইব্রেরির পুরনো জার্নালেই নাকি এসবের উল্লেখ আছে। সাহেব নাকি এদেশেই মারা যান। তিব্বতে যাওয়ার পথে। দেবলের ধারণা, হেমকান্ত তখন পুঁথিটি রক্ষা করার জন্যে নিজের কাছে রেখেছিলেন। আমাদের এই কলকাতার বাড়িটি তৈরি হয় সিপাহি বিদ্রোহের আগের বছর। তখন থেকেই এবাড়িতে কোনও ভাবে রয়ে গিয়েছে পুঁথিটি। হেমকান্তর দৌলতে।

    হুউউম, মিতিন মাথা দোলাল, এবার খানিকটা পরিষ্কার হল।… তা সাহেবের নামটা জানতে পারি?

    বলেছিল দেবল। কী একটা খটোমটো নাম। মনে পড়ছে না। বটে।…

    তা ওই পুঁথিটা কি আপনি স্বচক্ষে দেখেছেন?

    হ্যাঁ হ্যাঁ। অন্তত তিন-চারবার।

    কোন ভাষায় লেখা। সংস্কৃত? পালি? নাকি গ্রিক-ল্যাটিন?

    দেখে আমার সংস্কৃত মনে হচ্ছিল। কিন্তু দেবল বলল, ওটা নাকি বাংলা। ওরকম সংস্কৃতের ছাঁদে বাংলা হরফ আমি আগে কখনও দেখিনি।

    সাহেব বাংলায় লিখেছেন? আশ্চর্য তো! টুপুর প্রশ্ন করে ফেলল, কী লেখা ছিল?

    প্ৰথম কয়েকপাতা ভগবান তথাগতর উদ্দেশে নিবেদিত শ্লোক। আমরা বৌদ্ধরা যাকে বলি সূত্র। তারপর হাতে আঁকা কয়েকটা ছবি। পাহাড় পর্বতের। মাঝে-মাঝে কিছু লাইন টানা। যেন কোনও দিকনির্দেশ। শেষে পাহাড়ের মাথায় অবলোকিতেশ্বর। তার নীচে কী সব হিজিবিজি কাটা আছে।

    মিতিন শুনল নীরবে। মন্তব্য না করে হেলান দিয়েছে সোফায়। মিনিটখানেক পর হঠাৎই টানটান। গম্ভীর স্বরে বলল, আপনার কেসটা আমি নিলাম। তবে সফল যে হবই, এই গ্যারান্টি দিতে পারছি না।

    আপনি দায়িত্ব নিচ্ছেন, এটাই তো আমার সৌভাগ্য। এর পর বাকিটা আমার কপাল, মেঘ সরে এতক্ষণে একফালি হাসি ফুটেছে মনোজের মুখে। উৎসাহিত গলায় বললেন, আপনি তা হলে যাবেন কাশ্মীর?

    যেতেই হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। পারলে কালই। একটুও সময় নষ্ট করা বোধহয় ঠিক হবে না।

    টুপুর ফস করে বলে ফেলল, তা হলে তো মাসিকে প্লেনে যেতে হয়।

    হ্যাঁ-হ্যাঁ, যেভাবে ম্যাডামের সুবিধে। খরচখরচা নিয়ে ভাবতে হবে না, টুপুরকে চমকে দিয়ে পকেট থেকে দু’খানা হাজার টাকার বান্ডিল বের করলেন মনোজ, আপাতত এতেই চালিয়ে নিন। আমার জোয়ান ছেলেটাকে ভালয় ভালয় ফিরিয়ে আনতে পারলে পুরো পাঁচলাখই দেব ম্যাডাম।

    মিতিন যেন একটুও অবাক হয়নি। নোটের তাড়ার দিকে তাকালই না। ঠান্ডা গলায় বলল, আমার যে আরও কয়েকটা প্রশ্ন আছে মনোজবাবু।

    বলুন ম্যাডাম।

    আপনি প্রথমেই পুলিশে না গিয়ে আমার কাছে এলেন কেন?

    সত্যি বলবো? আমি চাই না ব্যাপারটা জানাজানি হোক। তা হলে হয়তো দেবলের বিপদ আরও বাড়তে পারে। তা ছাড়া পুলিশের উপর আমার তেমন আস্থা নেই। ওরা আমার আশঙ্কাকে আদৌ আমল দেবে কিনা তা নিয়েও আমার যথেষ্ট সংশয় আছে।

    হুঁ।…আচ্ছা, শ্রীনগর থেকে আপনার ছেলে যে ফোন করেছিল, সেই নম্বরে আর যোগাযোগ করেছিলেন?

    অনেকবার। শুধু রিং হয়ে যাচ্ছে। কেউ তুলছেই না।

    নম্বরটা আমায় দিন। আর আপনার ছেলের মোবাইল নম্বরটাও।

    মোবাইলটা তো সুইচড অফ হয়ে পড়ে।

    তবু দিন। আপনার ছেলের ফোটোও চাই একটা।

    এনেছি ম্যাডাম, বুকপকেট থেকে এবার একটা ছোট খাম বাড়িয়ে দিলেন মনোজ। বললেন, এটা রিসেন্ট ফোটো। গত মাসে বুদ্ধপূর্ণিমার দিন তোলা।

    খাম খুলে ফোটোটায় একবার চোখ বোলাল মিতিন। টুপুরও দেখছিল উঁকি মেরে। এক ঝকঝকে তরুণ, গালে দাড়ি, চোখে চশমা। ফোটোটা খামে চালান করে মিতিন সামান্য হালকা সুরে বলল, আমার উপর পুরো দায়টা চাপাচ্ছেন মনোজবাবু? আপনিও সঙ্গে চলুন।

    উপায় নেই ম্যাডাম? ছেলের চিন্তায় তার মা প্রায় শয্যা নিয়েছেন। তাঁকে ফেলে নড়ি কী করে?

    মিতিন আর কিছু বলল না। মনোজ গলা ঝাড়লেন, তা হলে এখন উঠি ম্যাডাম?

    আসুন।

    কদ্দুর কী এগোলেন টাইম টু-টাইম জানালে ভাল হয়। বুঝতেই তো পারছেন, কীরকম টেনশনে থাকব…

    চেষ্টা করব। যদি জানানোর মতো কিছু ঘটে।

    মনোজ বেরিয়ে যেতে না-যেতেই হুড়মুড়িয়ে পার্থর আবির্ভাব। বোঝাই যায় কান খাড়া করে এঘরের প্রতিটি বাক্য গিলছিল এতক্ষণ। নোটের গোছা হাতে তুলে ওজন দেখছে। খুশি-খুশি মুখে বলল, গোনার দরকার নেই। পুরো দু’লাখই আছে, কী বলো?

    মনে তো হচ্ছে।

    ভাগ্যিস লোকটাকে সত্যি-সত্যি ভাগিয়ে দাওনি!… তবে আমার কিন্তু বেশ অবাক লাগছে। চিপ্পুস পার্টি ঝটাকসে দু’লাখ ফেলে দিয়ে গেল… খুবই রহস্যজনক। বুনো হাঁসের পিছনে তাড়া করার জন্য…।

    তোমার গবেষণা এখন থামাবে? চটপট গিয়ে নেটে বোসো। ফ্লাইটের টিকিটগুলো করো। যেন কালই বিকেল-বিকেল শ্রীনগর পৌঁছোতে পারি।

    যথা আজ্ঞা শ্রীমতী টিকটিকি।

    চল রে টুপুর, এক্ষুনি তোর মা’র সঙ্গে একটু কথা বলে নিই।

    বুমবুম ঘরময় নেচে বেড়াচ্ছে, কী মজা, কী মজা, আমরা পাহাড় দেখব!

    ভাইয়ের উল্লাসধ্বনি শুনতে-শুনতে টুপুর শুকনো গলায় বলল, আজই আমায় বাড়ি পাঠিয়ে দেবে বুঝি?

    মিতিন মুচকি হেসে বলল, দূর বোকা। তোর গরমের জামাকাপড়গুলো আনাতে হবে না?

    টুপুর সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল, আবার ধপ করে বসে পড়েছে। হৃৎপিণ্ড লাফাচ্ছে তড়াক-তড়াক। সে যে আনন্দে অজ্ঞান হয়ে যায়নি, এই ঢের। এই গরমে ভূস্বর্গ ভ্রমণ? ভাবা যায়!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }