Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প702 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭-৮. হোটেল শিলটনের বহিরঙ্গে

    হোটেল শিলটনের বহিরঙ্গে তেমন একটা দেখনদারি নেই। তিনতলা ব্রিটিশ স্থাপত্যের বিল্ডিংটায় বয়সের ছাপ পড়েছে। তবে ছোট্ট সবুজ লনখানি যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। মিতিন লাউঞ্জ আর রিসেপশন কাউন্টারটিও মোটামুটি ছিমছাম। মোটা-মোটা গথিক থামে, দীর্ঘকায় দরজা-জানলায়, কারুকাজ করা কাঠের সানশেডে একটা বনেদিয়ানার গন্ধও পাওয়া যায় যেন।

    রিসেপশনের বাঁ দিকে মালিকের ঘর। ভিতরে ভিজিটিং কার্ড পাঠিয়ে অপেক্ষা করছিল মিতিন। দরজার পিতলের নেমপ্লেটখানা পড়তে পড়তে টুপুর ফিসফিস করে বলল, ভদ্রলোকের ভাল নামটা কী খটোমটো গো?

    মিতিন নিচু গলায় বলল, এ আর কঠিন কী। হ্যারোতিউন থেকে হ্যারি। আর্মেনিয়ানদের নাম এরকমই হয়।

    ইউনিফর্ম পরা কর্মচারীটি ঘর থেকে বেরিয়েছে। হাত দেখিয়ে বলল, আপনারা যেতে পারেন।

    ভিতরে চড়া ঠান্ডা। কম্পিউটার শোভিত প্ৰকাণ্ড টেবিলের ওপারে মাঝবয়সি হ্যারি। ঘুরনচেয়ারে আসীন। গোলগাল মুখ, ভালমানুষ-ভালমানুষ চেহারা। গায়ের রং ফরসা হলেও মোটেই সাহেবদের মতো নয়। মাথায় কাঁচাপাকা চুল। চকচকে কামানো গাল। পরনে ঝকঝকে সুট-টাই।

    ঠোঁটে হাসি টেনে মিতিন বলল, গুড আফটারনুন মিস্টার আরাকিয়েল।

    হ্যারির মুখমণ্ডলে তেমন কোনও অভিব্যক্তি ফুটল না। বিনা সৌজন্যেই বললেন, বসুন। জানতাম আজ-কালের মধ্যেই আসবেন।

    গদিমোড়া চেয়ারে বসে মিতিন বলল, তদন্তের খবর কে দিল আপনাকে জেসমিন? নির্মলা? না ইসাবেল আন্টি?

    সেটা খুব ইম্পৰ্ট্যান্ট নয় ম্যাডাম। হ্যারির স্বর অসম্ভব শান্ত, শুধু ভাবছি, আর কত মানসিক অত্যাচার আমার কপালে আছে। এখন তো মনে হচ্ছে আঙ্কলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সঙ্গে-সঙ্গে ছুটে যাওয়াটা সেদিন উচিত হয়নি।

    ওভাবে ধরছেন কেন মিস্টার আরাকিয়েল? আপনি তো কর্তব্য পালন করেছেন। দুর্ভাগ্যবশত সেই রাত্তিরে একটা বিচ্ছিরি ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এবং ইচ্ছেয় হোক, অনিচ্ছেয় হোক, আপনি তাতে জড়িয়ে পড়েছেন।

    হুম। সেই অ্যাঙ্গেলেই তো দেখার চেষ্টা করছি। টেবিলের কাচে পেপারওয়েট ঘোরাচ্ছেন হ্যারি। থেমে বললেন, ও কে কী কী জানতে চান বলুন? বাইশে ডিসেম্বরের রাতের ডিটেলটা আর একবার বলতে হবে নিশ্চয়ই? যাতে আমার বক্তব্যের অসঙ্গতি থেকে ধরতে পারেন হিরেটা আমি কখন সরিয়েছি?

    হ্যারির বাচনভঙ্গিতে টুপুর থ। মহা ঝানু লোক তো! বিকার নেই, উত্তেজনা নেই, দিব্যি কেমন চিবিয়ে-চিবিয়ে ইংরেজিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন মিতিনমাসিকে।

    টুপুরকে আরও অবাক করে দিয়ে মিতিনও হাসছে মিটিমিটি। কোনও রকম পাঞ্জা কষাকষিতে না গিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল, তার আর প্রয়োজন নেই মিস্টার আরাকিয়েল। মোটামুটি সকলের স্টেটমেন্ট তো নিলাম, ওগুলো ঘেঁটেঘঁটেই যা পাওয়ার পেয়ে গিয়েছি।

    এবং নিশ্চিত হয়েছেন হিরে আমিই নিয়েছি, তাই তো? হ্যারির স্বরে ব্যঙ্গ, কিন্তু ম্যাডাম, জিনিসটা খুঁজে না বের করলে তো অপরাধ প্রমাণ হবে না। তা কোথা থেকে সার্চ শুরু করবেন? আমার বাড়ি? অফিস? ব্যাঙ্কের লকার? আপনি একাই খুঁজবেন, নাকি পুলিশ সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে আসছে?

    দেখা যাক কী হয়। মিতিন হ্যারির চোখে চোখ রাখল, আগে তো বোঝার চেষ্টা করি, হিরে আপনি নেবেন কেন?

    আমি আপনাকে লিড দিতে পারি ম্যাডাম ডিটেকটিভ। হোটেল শিলটন এখন ভাল চলছে না। তাই হয়তো হোটেল আর হিরে বেচে বাকি জীবনটা আমি বসে-বসে খাব। কিংবা সপরিবার কেটে পড়ব অস্ট্রেলিয়ায়।

    উহুঁ, কারণটা তেমন জোরালো লাগছে না।

    কেন নয়? ওই হিরের দাম আপনি জানেন?

    আন্দাজ করতে পারি। টাকার হিসেবে অন্তত দু কোটি। মিতিনের চোখে স্নিগ্ধ হাসি, কিন্তু এও জানি, হিরেটা আপনার কাছে টাকার চেয়ে অনেক অনেক বেশি মূল্যবান।

    এতক্ষণে হ্যারির মুখে যেন সামান্য ভাঙচুর। ঘুরনচেয়ারে হেলান দিয়ে বললেন, আপনাকে তো যথেষ্ট ইন্টেলিজেন্ট মনে হচ্ছে।

    উহুঁ, বুদ্ধিমতী নই, যুক্তিবাদী। আমি কার্যকারণে বিশ্বাস করি।

    হ্যারির চোখের মণি পলকের জন্য স্থির। তারপর থেমে-থেমে বললেন, দেখুন ম্যাডাম, হিরে আমি নিয়েছি কি নিইনি, সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। তবে পুলিশের লোক নন বলেই আপনাকে বলছি, ওই হিরেতে আমার কাকার যতটা অধিকার ছিল, আমারও ঠিক ততটাই আছে। ওটা কখনওই কাকা বা তাঁর পরিবারের একার প্রাপ্য নয়। আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

    অন্যায়ভাবে বলছেন কেন? আপনার ঠাকুরদা যদি তাঁর ছোট ছেলেকেই দিয়ে যান, কার কী বলার আছে?

    না ম্যাডাম, তা তিনি পারেন না। হিরেটা ঠাকুরদা অর্জন করেননি। ওটা আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি। একজন ভারতীয় হিন্দু মহিলাকে বিয়ে করার জন্য বাবাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন ঠাকুরদা।

    আপনার মা…?

    মরাঠি। শোভা দেশপান্ডে। হিন্দু বলেই ঠাকুরদা তাঁকে মানতে পারেননি। চেয়ারের ঘূর্ণন থামিয়ে হঠাৎই ঝুঁকেছেন হ্যারি। ব্যথিত মুখে বললেন, দুঃখের কথা কী জানেন, আমার ঠাকুরদা ছিলেন অত্যন্ত পণ্ডিত মানুষ, অথচ উনি একবারও ভেবে দেখেননি আমাদের আর্মেনিয়ানদেরই অনেকের পূর্বপুরুষ ছিলেন হিন্দু।

    টুপুরের গলা দিয়ে বিস্ময়ে ঠিকরে এল, ওমা, আর্মেনিয়ানরা কী করে হিন্দু হবেন?

    ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি ভারী অদ্ভুত ম্যাডাম। হ্যারির ঠোঁটে বিষণ্ণ হাসি, আপনারা হয়তো খবর রাখেন না, এক সময় ভারতের সঙ্গে আর্মেনিয়ার নিয়মিত ব্যবসাবাণিজ্য চলত। শুধু তাই নয়, যিশু খ্রিস্টের জন্মের দেড়শো বছর আগে দুজন হিন্দু রাজকুমার পাকাপাকিভাবে আর্মেনিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। আর্মেনিয়ান ভাষায় তাঁদের একজনের নাম জেসান্নি, অন্যজনের নাম ডেমেটার। ভারতীয় ভাষায় নাম দুটো শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। কৃষ্ণ আর জগন্নাথ। কনৌজের রাজা দীনাক্ষীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তাঁরা। প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আর্মেনিয়ায় আশ্রয় নেন। আর্মেনিয়ার রাজা তাঁদের থাকতে দিয়েছিলেন তারোনে। পরে আরও অনেক হিন্দু সেখানে গিয়ে একটা বড়সড় শহর গড়ে তুলেছিল। তার প্রায় পাঁচশো বছর পর আর্মেনিয়ার এক খ্রিস্টান রাজার সঙ্গে হিন্দুদের যুদ্ধ হয়। হেরে গিয়ে হিন্দুরা সদলবলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে।

    মিতিন বলল, ইন্টারেস্টিং!

    আরও ইন্টারেস্টিং কী জানেন? আর্মেনিয়ায় এখনও এক হিন্দু বীরের মূর্তি আছে। স্থানীয় ভাষায় সেই যযাদ্ধার নাম আর্টজান। অর্থাৎ আপনাদের অৰ্জুন। এবার বলুন, এই সব হিন্দুর কেউ যে আমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন না তা কি নিশ্চিতভাবে বলা যায়?

    তা বটে। মিতিন চেয়ারে টানটান হল, আপনার ঠাকুরদা সত্যিই কাজটা ঠিক করেননি। কিন্তু একেবারেই কি কিছু দেননি আপনাদের?

    অতি সামান্য, অতি সামান্য। শুধু প্রিটোরিয়া স্ট্রিটের এই বাড়িটা, যেখানে বাবা কষ্টেসৃষ্টে এই হোটেলটা বানিয়েছিলেন। আর নগদ মাত্র এক লাখ টাকা।

    হুম, আপনার ক্ষোভের কারণটা বোঝা গেল।

    ক্ষুব্ধ হওয়াটা কি খুব অস্বাভাবিক, ম্যাডাম? হ্যারি ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ফেললেন, এখনও যে কত রকম বঞ্চনা আমাকে সহ্য করতে হচ্ছে।

    যেমন?

    আমার কাকার কাণ্ডটাই দেখুন না। ঠাকুরদা নয় অবুঝ ছিলেন, কিন্তু কাকা? তিনি তো আমায় খুব ভালবাসতেন বলেই জানতাম। আমিও কখনও কর্তব্যে গাফিলতি করিনি। সময় পেলেই কাকাকাকিমাকে দেখে আসতাম, নিয়মিত খোঁজখবর রাখতাম…। নিজের যখন ছেলেমেয়ে নেই, কাকার কি উচিত ছিল না সম্পত্তির খানিকটা অন্তত আমায় দিয়ে যাওয়া? কিন্তু একটা উইল করে গোটা সম্পত্তিটা উনি কাকিমাকে দিয়ে গেলেন।

    মিস্টার আরাকিয়েলের উইল ছিল?

    তবে আর বলছি কী। উইল যদি আদৌ না থাকত, অন্তত সম্পত্তির একটা ভাগ তো আমি পেতাম। খ্রিস্টানদের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী। অথচ সেটুকুও উনি করলেন না। …আর কাকিমা যা করলেন…।

    ইসাবেল আন্টি? তিনি আবার কী করলেন?

    ভাবতেও পারবেন না ম্যাডাম। আত্মীয়স্বজনের ব্যাপার বলতেও লজ্জা করে। হিরে নিয়ে আমার পিছনে পুলিশ তো লাগিয়েছেনই, আমি আর আমার স্ত্রী জেরায় জেরবার হয়ে গিয়েছি। তার মাঝেই খবর পেলাম তড়িঘড়ি করে কাকিমা উইলের প্রোবেটও নাকি নিয়ে ফেলেছেন।

    তাই নাকি? কবে? কদ্দিন আগে?

    কাকা গত হওয়ার মাসখানেকের মধ্যেই। জানুয়ারি মাসে।

    আপনি জানলেন কোথা থেকে? অ্যালবার্ট…?

    হ্যারি ঈষৎ থতমত, না… মানে… বোধ হয় অ্যালবার্টই…

    অ্যালবার্টের সঙ্গে আপনার খুব ভাব, তাই না?

    ভাব বলতে আপনি কী বলতে চাইছেন বুঝলাম না। হ্যারি ফের সপ্রতিভ, আল মাঝে-মাঝে প্রোফেশনাল কারণে আমার কাছে আসে, দেখা-সাক্ষাৎ হলে কথাবার্তা বলি।

    প্রোফেশনাল কারণটা কী?

    অ্যাল এখন গাইডের কাজ করে। অফিশিয়াল লাইসেন্স ওর নেই, তবে চালাকচতুর ছেলে তো, যোগাযোগ ঠিক তৈরি করে ফেলে। আর ওই সব ফরেন টুরিস্টদের আমাদের হোটেলে এনে তুললে কিছু কমিশনও পায়।

    ব্যস, এইটুকুই ব্যবসায়িক সম্পর্ক? মিতিনের চোখ সরু, নাকি হোটেল শিলটনের বেআইনি জুয়ার বোর্ডেও নিয়মিত আসে অ্যালবার্ট?

    হ্যারির শান্ত চোখ দুটো আচমকাই জ্বলে উঠল। পরমুহূর্তে আবার হিমশীতল। কেটে-কেটে বলল, আপনি কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন ম্যাডাম ডিটেকটিভ। ভদ্রতা করে কথা বলছি বলে যদি ভেবে থাকেন আপনি যা খুশি প্রশ্ন করবেন, তা হলে কিন্তু ভুল করছেন। আপনার একটি প্রশ্নেরও জবাব দিতে আমি বাধ্য নই।

    দেবেন না। মিতিন কাঁধ ঝাঁকাল, তবে বাইশে ডিসেম্বর রাতে অ্যালবার্ট চলে যাওয়ার পর আপনি সত্যি-সত্যি ঘুমোচ্ছিলেন, নাকি কাকার ঘরে গিয়ে সিন্দুকটা পরখ করছিলেন, এ ব্যাপারে পুলিশের কিন্তু যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

    হ্যারি দু-এক সেকেন্ড নিশ্চুপ। তারপর মুখে একটা ধূৰ্ত হাসি ফুটে উঠেছে, গোড়াতেই একটা গলদ করে ফেললেন ম্যাডাম। অ্যাল চলে যাওয়ার পর আমি ঘুমাইনি, আমি ঘুমিয়ে পড়ার পর অ্যাল গিয়েছে। সত্যি বলতে কী, অ্যাল কখন চলে গিয়েছিল, আমি জানি না।

    সরি। মানতে পারলাম না। আপনি ইচ্ছে করে আমাকে মিসগাইড করছেন।

    যা খুশি ভাবতে পারেন। আমার কিছু যায়-আসে না। হ্যারির স্বরে ওঠাপড়া নেই, আগেই তো বললাম, ওই হিরেতে আমার যথেষ্ট অধিকার আছে। যদি নিয়ে থাকি, বেশ করেছি। পারলে খুঁজে বের করুন।

    বেশ। দেখি চেষ্টা করে। মিতিন উঠে পড়ল, আজ তা হলে চলি মিস্টার আরাকিয়েল। আশা করছি শিগগিরই আমাদের আবার দেখা হবে।

    শিলটন হোটেল থেকে বেরিয়ে টুপুর বলল, মিস্টার হ্যারি কিন্তু বেশ পিকিউলিয়ার, তাই না?

    মিতিন কী যেন ভাবছিল। অন্যমনস্কভাবে বলল, কেন?

    বা রে, যাকেই হিরে নিয়ে ক্রস করা হচ্ছে, সে-ই হাউমাউ করে উঠছে। একমাত্র মিস্টার হ্যারিরই কোনও হেলদোল নেই! কেমন বুক বাজিয়ে বলে দিলেন, নিয়ে থাকলে বেশ করেছি।

    হুম।

    তোমার কী ধারণা? মিস্টার হ্যারিই কালপ্রিট?

    তোর কী মনে হচ্ছে?

    আমার মনে হয়…। টুপুর মাথা চুলকোল, হ্যারির সঙ্গে অ্যালবার্টের যোগসাজশ আছে। এই দুই মক্কেলের উপর রাউন্ড দ্য ক্লক নজর রাখলে হিরের হদিশ মিলতেও পারে। অবশ্য থ্রু অ্যালবার্ট যদি কোনও বিদেশির কাছে পাচার হয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে আর কিছু করার নেই।

    বলছিস?

    হা গো। আমার মন বলছে সেরকমই কিছু ঘটেছে। এবং সেই কারণেই মিস্টার হ্যারি এত বেশি কনফিডেন্ট।

    আর হিরের বদলে য়ে টাকাটা এল, সেটা মিস্টার হ্যারি কোথায় রাখতে পারেন?

    জায়গার অভাব? হোটেলের লনেই তো পুঁতে রাখা যায়।

    হুম।… নে, এবার একটা ট্যাক্সি ধর। বাড়ি গিয়ে আরতিকে ছাড়তে হবে।

    বিকেলবেলা থিয়েটার রোড থেকে ট্যাক্সি পেতে খুব অসুবিধে নেই। সিটে বসে টুপুর বলল, মাটিতে টাকা পুঁতে রাখার থিয়োরিটা কি তোমার পছন্দ হল না?

    অপছন্দ হল তো বলিনি। মিতিন হাসল, আমি কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছি না। আবার একটা লাইন ধরে একবজ্ঞা ভাবতেও রাজি নই। তবে হ্যারির কাছে এসে একটা মস্ত লাভ হল।

    টুপুর চোখ কুঁচকোল, কী লাভ?

    প্রথমত, মানুষটাকে খানিকটা চেনা গেল। সেকেন্ডলি, অনেক ইনফরমেশনও মিলল।

    কী ইনফরমেশন? আর্মেনিয়ানদের গল্প?

    জবাব দেওয়ার আগেই মিতিনের মোবাইল বেজে উঠেছে। নম্বরটা দেখেই মিতিনের ভুরু জড়ো, ইয়েস?

    ব্যস, আর কথা নেই মিতিনের মুখে, কানে যন্ত্র চেপে একটানা শুধু শুনে যাচ্ছে, মোবাইল অফ করার আগে একবারই মাত্র স্বর ফুটল, ও কে।

    টুপুর আলগাভাবে জিজ্ঞেস করল, কে গো?

    মিস্টার কুরিয়েন।

    আঁ? মিস্টার কুরিয়েন হঠাৎ? কী বলছেন?

    বললেন, গোটা বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডই আদতে একটি মহাশূন্য। কী বুঝলি?

    টুপুর ফ্যালফ্যাল করে তাকাল। কী যে হেঁয়ালি করে না মিতিনমাসি।

    .

    ০৮.

    হেঁয়ালি ক্রমেই বাড়ছিল। বাড়ি ফিরে গোটা সন্ধেটা ঘর অন্ধকার করে শুয়ে রইল মিতিনমাসি। রাতে খেতে বসেও আনমনা। মুরগির ঠ্যাং চিবোতে-চিবোতে আর্মেনিয়ানদের সম্পর্কে অজস্র জ্ঞান বিতরণ করল পার্থমেসো। রেজাবিবির সমাধিটাকে যদি হিসেবে না ধরা হয়, তা হলে কলকাতায় পা রাখার ঢের আগেই নাকি চুঁচুড়ায় ঘাঁটি গেড়েছিল আর্মেনিয়ানরা। তারপর চন্দননগরে। তারপর মুর্শিদাবাদের লাগোয়া সৈদাবাদে। মোগল বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের ফরমান নিয়ে সৈদাবাদে নাকি জমিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিল আর্মেনিয়ানরা। অবশ্য প্রথম গির্জাটি নাকি গড়ে উঁচুড়ায়। আমাদের বঙ্গদেশে সেটাই নাকি দ্বিতীয় প্রাচীনতম গির্জা। পার্থমেসোর এমন লম্বা বক্তৃতাও চুপচাপ গিলে নিল মিতিনমাসি, একটাও টীকাটিপ্পনী জুড়ল না। এমনটা কালেভদ্রে ঘটে। মিতিনমাসির মগজে যখন জট পড়ে যায়, শুধু তখনই। কেসটা কি তবে, টুপুর যেমনটা ভাবছিল, তত সরল নয়? মিস্টার কুরিয়েনই বা কী এমন সংবাদ শোনাল টেলিফোনে? দুয়ে-দুয়ে চার কি তবে হচ্ছে না?

    পরদিন সকালেও মিতিনমাসি ঝিম মেরে বসে। পার্থমেসো কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎই সালোয়ার-কামিজ পরে তৈরি। আরতিকে বলল, আমি আর টুপুর একটু বেরোচ্ছি। ফিরতে দেরি হতে পারে। বুমবুমকে খাইয়ে দিয়ো।

    বিস্মিত মুখে টুপুর বলল, কোথায় যাবে?

    মারকুইস স্ট্রিট।

    কেন গো?

    কয়েকটা গিঁট খুলতে হবে। জেসমিন আর ইসাবেল আন্টিকে একবার মিট করা দরকার।

    জেসমিনও মিতিনদের দেখে অবাক। বলল, কী ব্যাপার ম্যাডাম? ফোনটোন না করেই হঠাৎ..?

    চলে এলাম। মিতিন একগাল হাসল, অসুবিধে করলাম কি?

    তা নয়… তবে আমি যে একটু বেয়োব এখন…।

    একদম সময় নেই?

    না না, আছি কিছুক্ষণ। আসলে বারোটায় এক পার্টিকে টাইম দিয়েছি তো…।

    মিনিট কুড়ির মধ্যেই আপনাকে ছেড়ে দেব।

    আহা, এত ইতস্তত করছেন কেন? আসুন তো।

    ড্রয়িংরুমে মিতিনদের বসিয়ে নির্মলাকে শরবত তৈরির নির্দেশ দিয়ে এল জেসমিন। মুখোমুখি সোফায় বসে বলল, কদ্দুর এগোলেন?

    সামান্যই। অন্ধকার সুড়ঙ্গে হাঁটছিলাম, সবে যেন একটু আলোর দিশা পাচ্ছি।

    জেসমিনের চোখ জ্বলজ্বল, হিরেটা তা হলে পাওয়া যাবে?

    সম্ভাবনা আছে।

    থ্যাঙ্ক গড। আন্টি তা হলে প্রাণ ফিরে পাবেন।

    আন্টি এখন আছেন কেমন?

    একই রকম। ওষুধ তো চলছে, তবে তেমন উন্নতি হচ্ছে না। হিরেটা পেলে হয়তো শকটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন, শরীরটাও ফিরবে।

    হুঁ। মিতিন মাথা নাড়ল, এবার তা হলে কাজের কথায় আসি?

    বলুন?

    মিস্টার আরাকিয়েলের মৃত্যুর পর মিস্টার হ্যারি তো আর এ বাড়িতে আসেননি, তাই না?

    তা কেন, আসছিল তো। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর থেকে আর যোগাযোগ রাখছে না। একমাত্র ফিউনারেল ডিনারের দিন সপরিবার এসেছিল। ঘন্টাখানেকের জন্য।

    আন্টিকে টেলিফোনও করছেন না?

    উঁহু। পিসি তো সে জন্যও খুব আপসেট।

    ফিউনারেল ডিনারের দিন মিস্টার হ্যারির মুড নিশ্চয়ই ভাল ছিল না?

    একেবারেই না। প্রায় কারওর সঙ্গেই কথা বলেনি।

    আচ্ছা, মিস্টার হ্যারি কি শুধু পুলিশের ব্যাপারেই আহত? নাকি অন্য কোনও কারণ আছে?

    আর কী কারণ থাকবে?

    শুনলাম মিস্টার আরাকিয়েল উইল করে যাবতীয় সম্পত্তি ইসাবেল আন্টিকে দিয়ে গিয়েছেন। সেই কারণেও কি মিস্টার হ্যারি…?

    জেসমিন ক্ষণিকের জন্য থতমত। অস্ফুটে বলল, আপনি হ্যারির কাছে গিয়েছিলেন?

    হ্যা। মনে হল ওঁর কিছু এক্সপেক্টেশন ছিল।

    আশ্চর্য, আঙ্কলের প্রপার্টি আন্টি পাবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। হ্যারি আশা করে কোন মুখে?

    কারণ, সম্পত্তির অনেকটাই যে বংশগত। এমনকী হারানো হিরেটাও। সুতরাং, মিস্টার হ্যারির যে একটু হলেও দাবি নেই, একথা বোধ হয় আইনও বলবে না।

    দেখুন ম্যাডাম, আইনি কুটকাচালি আমি একদম বুঝি না। আঙ্কল যদি তাঁর স্ত্রীকেই সব দিয়ে যান, কার কী বলার আছে?

    তা তো বটেই। …আচ্ছা, মিস্টার হ্যারি কি আগে শুনেছিলেন উইলের কথা?

    জানার তো কথা নয়। আমাকেও আঙ্কল কখনও বলেননি। আন্টিকেও না।

    ও।… আপনারা জানলেন কবে?

    ফিউনারেল ডিনারের পর। আঙ্কলের সলিসিটর আমাদের জানালেন। উইল তো ওঁদের কাছেই গচ্ছিত ছিল।

    মানে সলিসিটার ফার্মে?

    হ্যা। রয় অ্যান্ড সেন। তিন নম্বর ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিট।

    কে কে সাক্ষী ছিল উইলের?

    একতলার সিনিয়র ডিসুজা। আই মিন, পিটার আঙ্কল। আর আমাদের হাউস ফিজিশিয়ান, যিনি সেরাত্রে আঙ্কলকে দেখতে এসেছিলেন।

    ও। কবে নাগাদ উইলটা করা হয়েছিল?

    ডেট তো দেখলাম বছর তিনেক আগের। জেসমিনকে ঈষৎ অসহিষ্ণু দেখাল, কিন্তু হিরে চুরির সঙ্গে উইলের কী সম্পর্ক ম্যাডাম?

    হয়তো কিছুই না। তবু বুঝে নিতে দোষ কী? আলোচনার মাঝে নির্মলা নিঃশব্দে শরবত রেখে গিয়েছিল, চুমুক দিয়ে মিতিন বলল, আচ্ছা… একটা কথা। আন্টি এত তড়িঘড়ি উইলের প্রোবেট নিতে গেলেন কেন?

    আমিই অ্যাডভাইস করেছিলাম। হিরে মিসিং হওয়ার পর আমার খুব নার্ভাস লাগছিল। মনে হয়েছিল, সম্পত্তিটা এক্ষুনি এক্ষুনি পিসির নামে করে নেওয়া উচিত। তা ছাড়া আঙ্কলের শেয়ার সার্টিফিকেটগুলোর নাম ট্রান্সফারও তো জরুরি ছিল।

    ভাল করেছেন। ঠিকই করেছেন। ইসাবেল আন্টির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার দিকটাও তো ক্লিয়ার থাকা দরকার। মিতিন সামান্য হাসল, প্রপার্টি এখন তা হলে ইসাবেল আন্টির নামেই, কী বলেন?

    হ্যাঁ। ওটা নিয়ে আর কেউ ট্যাঁফোঁ করতে পারবে না।

    আচ্ছা জেসমিন, হিরের সম্পর্কে উইলে কোনও উল্লেখ ছিল কি?

    আলাদাভাবে থাকবে কেন? স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বলতে তো হিরেটাও…। জেসমিনের চোখ সহসা স্থির, হিরেটা কি তবে হ্যারিই সরিয়েছে?

    আরও দু-একটা দিন যাক, সব জেনে যাবেন। মিতিন আবার হাসছে, শুধু এটুকু বলতে পারি, আমাকে অগ্রিম দেওয়াটা আপনার বৃথা যাবে না।

    থ্যাঙ্ক ইউ ম্যাডাম। থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ।

    ইউ আর ওয়েলকাম। শরবত শেষ করে মিতিন গ্লাস টেবিলে রাখল, আপনি যেখানে যাচ্ছিলেন… যেতে পারেন এবার।

    আপনারা?

    আর-একটু বসি। ইসাবেল আন্টির সঙ্গে একবার দেখা করে যাই।

    এখন কথা বলবেন? জেসমিন দু-এক সেকেন্ড ভাবল, বেশ তো, নির্মলাকে ডেকে দিচ্ছি। ও আপনাদের আন্টির রুমে নিয়ে যাক।

    ইসাবেল বিছানায় শুয়ে একটা বই পড়ছিলেন। নির্মলা ধরে বসিয়ে দিতেই চোখ ঘষে বললেন, ওমা, তোমরা কখন এলে?

    এই তো… টুপুরকে নিয়ে মিতিন খাটের ধারটায় বসল, কী বই পড়ছেন আন্টি?

    মঁপাসার ছোট গল্প।

    আপনি বুঝি মঁপাসার ভক্ত?

    ভীষণ। গল্পগুলো তো বারবার পড়ি। তবে এখন চোখের যা হাল, দু-চার পাতা পেরোতে না-পেরোতে অক্ষরগুলো কেমন ঝাপসা হয়ে যায়।

    ছানি আসেনি তো? ডাক্তার দেখিয়েছিলেন?

    আর আমার ডাক্তারে কাজ নেই। রোগ ধরতে পারে না, শুধু গাদাগাদা ওষুধ দেয়। আমি আর ওষুধও খাব না। ছোট্টখাটো শান্ত ইসাবেল গজগজ করে উঠলেন, ভাবছি এবার ধ্যান করাটাও ছেড়ে দেব।

    কেন আন্টি? ধ্যান কী ক্ষতি করল?

    ধ্যানই তো যত নষ্টের গোড়া। যেদিন থেকে জোসেফের ছবির সামনে বসছি, সেদিন থেকেই জোসেফ আমায় ডাকাডাকি করছেন। শরীরও বিগড়োচ্ছে দিনদিন। যখনই ধ্যান সেরে উঠি, মনে হয়, আরও যেন কমজোরি হয়ে গেলাম, হাত-পায়ের কাঁপুনি যেন বেড়ে গেল। আরে বাবা, টেনে নিতে হয় তো টেনে নাও, এরকম দগ্ধে-দগ্ধে মারা কেন? ইসাবেল আবার দুহাতে চোখ রগড়ালেন, যাক গে, আমার কথা ছাড়ো। হিরের কী খবর?

    প্রাণপণ চেষ্টা করছি আন্টি। মনে হয় শিগগিরই পেয়ে যাবেন।

    মনে হয়-ফয় নয়। ওই হিরে আমার চাইই চাই। আরাকিয়েল বংশের গুড লাক যদি না মেলে, এই বুড়ি তা হলে আর বাঁচবে না।

    ওসব অলক্ষুনে কথা মুখেও আনবেন না। মিতিন ঝুঁকে ইসাবেলের হাতে হাত রাখল, একটা কথা জিজ্ঞেস করব আন্টি?

    বলো।

    আপনি কি কখনওই আঙ্কলকে সিন্দুক থেকে হিরেটা বের করতে দেখেননি?

    সেদিন তো বললাম, সিন্দুক খোলার সময় উনি আমাকেও ঘরে থাকতে দিতেন না।

    হুঁ। … আজ আর-একবার সিন্দুকটা দেখতে পারি?

    দ্যাখো। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নির্মলাকে চাবির গোছা বাড়িয়ে দিলেন ইসাবেল, যা, খুলে দে।

    সিন্দুকের অভ্যন্তর সেদিনের মতই ফাঁকা-ফাঁকা। ভেলভেটের ফাঁকা বাক্স খোলা পড়ে। ডায়েরি আর টুকরো টুকরো কাগজ যেখানে ছিল সেখানেই। বাক্সখানা আবার ভাল করে পরখ করে ডায়েরিটা হাতে নিল মিতিন। উলটোচ্ছে পৃষ্ঠা। সময় নিয়ে নিয়ে। হঠাৎই বাড়িয়ে দিয়েছে টুপুরকে। চাপা গলায় বলল, লাস্ট পেজটা দ্যাখ।

    ডায়েরিটা সংখ্যায় সংখ্যায় ঠাসা। পাতায়-পাতায় হিসেব। একদম শেষ পৃষ্ঠায় লাল কালিতে বড় বড় করে লেখা, GOLD 13578.

    টুপুরের মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, গোল্ড তেরো হাজার পাঁচশো আটাত্তর? এর মানে কী?

    উত্তর না দিয়ে মিতিন ডায়েরি রাখল স্বস্থানে। নির্মলাকে সিন্দুক বন্ধ করতে বলে ফিরেছে ইসাবেলের কাছে।

    ইসাবেল জিজ্ঞেস করলেন, ফের দেখে লাভ হল কিছু?

    লাভ-লোকসানের হিসেব কি সহজে করা যায় আন্টি? মিতিন মৃদু-মৃদু হাসছে, মিস্টার আরাকিয়েলের উইলের বলে বিশাল সম্পত্তি আপনি পেয়ে গেলেন। এটা আপনি কী মনে করেন? লাভ? না লোকসান?

    পুরোটাই লোকসান, বাছা। সেই মানুষটাই আর রইলেন না… তাঁর সম্পত্তি নিয়ে এই বয়সে আমি কী করব?

    তবু তো তাড়াহুড়ো করে উইলের প্রোবেটটা নিলেন।

    জেসমিন বলল যে। না নিলে নাকি অসুবিধে হতে পারে। কেন, ভুল করেছি?

    না না, ভুল কীসের।

    আমার কিন্তু কেমন যেন খচখচ করছিল। মনে হচ্ছিল, বড় বিষয়ী হয়ে যাচ্ছি। তারপর থেকেই তো ধ্যানে মন দিলাম।

    হুঁ। তা আপনি উইল করার কথা ভাবছেন না?

    ভাবছি তো। জোসেফের কয়েকটা ভুল তো শোধরাতে হবেই।

    কীরকম?

    জোসেফের খুব ইচ্ছে ছিল আর্মেনিয়ান অ্যাকাডেমিকে কিছু দান করার। হয়তো উইলটা উনি বদলাতেন। কিন্তু সময় তো পেলেন না। ভাবছি, টাকাকড়ি যা আছে তার একটা মোটা অংশ অ্যাকাডেমিকে দিয়ে যাব। এই বাড়ি আর কিছু টাকা পাবে জেসমিন। বলতে বলতে ইসাবেল ফিরেছেন নিৰ্মলার দিকে, আমার এই মেয়েটাকেও ফেলব না। এর জন্য বাড়ির একখানা ঘর আর আজীবন মাসোহারার বন্দোবস্ত অন্তত করে যাব।

    টুপুর ফস করে বলে উঠল, আর হিরে?

    আগে খুঁজে তো পাওয়া যাক। তারপর ভেবে দেখব।

    ইসাবেলের গলায় সংশয়ের সুর। টুপুর হাসল মনে-মনে। এই প্ৰবীণা মহিলা জানেন না, মিতিনমাসি যখন একবার কেসটা হাতে নিয়েছে, ওই হিরে উদ্ধার হবেই। যদি হিরে পাচারও হয়ে গিয়ে থাকে, তাও মিতিনমাসি এ কদিনে টের পেতই। শুধু উইল নিয়ে এত পুছতাছ কেন, সেটুকুই টুপুরের বোধগম্য হচ্ছে না। ওই আজব লেখাটাই বা হঠাৎ দেখাল কেন? সোনার সঙ্গে হিরের কী সম্পর্ক ১৩৫৭৮-এরই বা মানে কী?

    ভাবনাটাকে বেশি খেলানোর অবকাশ পেল না টুপুর। গাড়িবারান্দার ছাদটা একবার ঘুরে এসে ইসাবেলের কাছ থেকে বিদায় নিল মিতিন। দরজা বন্ধ করতে নির্মলাও এসেছে পিছনপিছন। হঠাৎই ঘুরে দাঁড়িয়ে মিতিন তাকে বলল, আন্টির ঠিকমতো খেয়াল রাখছ তো?

    নির্মলা নীরস গলায় বলল, দেখাশুনো করাটাই তো আমার কাজ।

    বিনিময়ে তো পাচ্ছও অনেক কিছু। আন্টি তো তোমার সারা জীবনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।

    আন্টির করুণা। আমার ভাগ্য।

    তুমি কিন্তু আন্টির ভালবাসার পুরো মর্যাদা দাওনি নির্মলা।

    একথা কেন বলছেন?

    বাইশে ডিসেম্বরের রাতটা ভাবো, তা হলেই জবাব পেয়ে যাবে।

    পলকে নির্মলার মুখ ছাইয়ের মতো ফ্যাকাশে। মাথা নিচু করে বলল, আপনি যা ভাবছেন তা কিন্তু…।

    নিৰ্মলা থেমে গেল। দু-চার সেকেন্ড তীক্ষ চোখে নির্মলাকে দেখল মিতিন। তারপর সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে নেমে গেল নীচে।

    টুপুর কৌতূহলে টগবগ করে ফুটছিল। একতলায় এসে বলল, মিস্টার হ্যারি আর নির্মলা কি আঁতাত করে…?

    এখন কোনও প্রশ্ন নয়। চল, জেসমিনের মোমবাতির কারখানাটা একবার দেখে যাই।

    কেন?

    বললাম যে, নো প্রশ্ন। জাস্ট ফলো মি।

    গিয়ে অবশ্য লাভ হল না। বাড়ির পিছনের গ্যারাজ ঘরটা বন্ধ। তালামারা পুরনো আমলের কাঠের পাল্লা ঠেলেঠুলে ভিতরটা দেখার চেষ্টা করল মিতিন। কিছুই বোধহয় গোচরে এল না। হতাশ হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরছে। হঠাৎই হনহন করে চলে গেল পাঁচিলের ধারের ঝোপটায়। ছোট্ট একটা কাগজের বাক্স কুড়িয়ে দেখছে ভুরু কুঁচকে। বাক্সটা ফেলে দিয়ে টুপুরকে বলল, দাঁড়া এখানে। আমি আসছি।

    বলেই দুদ্দাড়িয়ে আবার দোতলায়। টুপুর হতবাক। গিয়ে বাক্সটা তুলে দেখল একবার। কী কাণ্ড, এ যে এক ডজন থার্মোমিটারের বাক্স। এটা দেখে মিতিনমাসি অত উত্তেজিত হয়ে পড়ল কেন? কী ছাই রহস্য পেল বাক্সটায়?

    মিনিট পাঁচেক পর ফিরেছে মিতিন। আর-এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল না, টুপুরকে ডেকে নিয়ে সোজা গেটের বাইরে। বাহাদুর যে প্যাটপ্যাট করে তাকিয়ে, সেদিকেও নজর নেই যেন।

    লম্বা-লম্বা পায়ে হাঁটছিল মিতিন। তাল মেলাতে টুপুরের গলদঘর্ম দশা। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মুখে এসে মিতিন ট্যাক্সি ধরতে দাঁড়িয়েছে। সঙ্গে-সঙ্গে টুপুর জিজ্ঞেস করল, ব্যাপারখানা কী? আবার ওপরে ছুটলে কেন?

    ব্যাগ খুলে মিতিন একটা আধপোড়া লাল বাটি-মোমবাতি বের করে দেখাল, এটা আনতে।

    টুপুরের গুলিয়ে যাচ্ছিল সব কিছু। মোমের মধ্যে হিরে আছে নাকি?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }