Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লৌহকপাট – জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)

    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী) এক পাতা গল্প980 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লৌহকপাট – ৩.২

    দুই

    নাম গোলাম মামুদ। চাকরি করেন লীগ সরকারের জেলখানায়। অথচ দাড়ি নেই, লুঙ্গি নেই, পরেন শান্তিপুরী ধুতি। তার পেছনে কাছা, সামনে কোঁচার বাহার। ফল যা হবার তাই হল। স্বজাতি মহলে চাঁই-এর দল চঞ্চল হয়ে উঠলেন। শোনা গেল, এ হেন অনাচার কর্তৃপক্ষের নজরে না এনে তাঁরা কিছুতেই ঠাণ্ডা হবেন না। তাঁর নিজের অফিসেও স্বজাতির দলটাই তখন প্রবল। বলতে গেলে আমিই কেবল বিজাতীয়। তবু তাঁদের চেয়ে আমার উপরেই টানটা যেন বেশী পড়ল জেলর সাহেবের। আমি তাঁর জেলখানার অন্যতম অনুচর, কিন্তু বৈঠকখানার অদ্বিতীয় সহচর। একদিন সেখানে বসেই চায়ের পেয়ালা হাতে নিয়ে বলে ফেললাম, কাজটা ভালো হচ্ছে না, দাদা।

    উনি তাকিয়ায় ঠেসান দিয়ে গড়গড়া টানছিলেন। হঠাৎ না বুঝতে পারার সুরে বললেন, কোন্ কাজটা?

    তাঁর সযত্ন-রচিত কোঁচাটা দেখিয়ে দিলাম।

    মামুদ সাহেব হাসলেন, এ দিকে দেখছি তোমারও নজর পড়েছে। যাকে বলে, কোঁচায় সর্পভ্রম। কিন্তু যা ভাবছ তা নয়। এর পেছনে একটা মজার ইতিহাস আছে।

    —কি রকম? মজার গন্ধে একটু এগিয়ে বসলাম।

    —তবে শোন, বলে নলটায় গোটা কয়েক ঘন ঘন টান দিয়ে শুরু করলেন—’বছর পাঁচেক আগেকার কথা। সিউড়ি থেকে বদলি হয়ে এলাম খুলনায়। চার্জ নেবার কদিন পর সন্ধ্যাবেলা বসে বসে ওয়ারেন্ট চেক করছি। হাকিমের নামটায় নজর পড়তেই থেমে গেলাম। এস. বি. সেন। আমাদের সুনীল নয়তো? একসঙ্গে বি. এ. পাশ করেছি। তার কিছুদিন পরেই ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে কোথায় চলে গেল। অনেকদিন দেখা নেই। ও-এস.-কে ফোন করে জেনে নিলাম, হ্যাঁ, সুনীলই বটে। বাসার ঠিকানাটাও সংগ্রহ করে ফেললাম।

    ‘এই যা দেখছ, এইটাই আমার চিরকালের পেটেণ্ট চেহারা। আজন্ম ডিসপেটিক। ভোরে উঠে এক চক্কর না ঘুরে এলে খিদে হয় না।’ পরদিন সকালেই বেড়িয়ে ফেরবার মুখে সুনীলের বাড়িতে গিয়ে হানা দিলাম। চাকর এসে বলল, বাবু এখনও ওঠেন নি। বাড়িতে মেয়ে-ছেলে নেই। ওর শোবার ঘরের দরজায় ধাক্কা দেওয়া গেল। ভেতর থেকে বিরক্তির সুরে সাড়া এল, কে? জবাব দিলাম না। মিনিট দুই অপেক্ষা করে একবার কড়া নেড়ে দিলাম। দরজা খুলে গেল। সুনীল অসময়ে ঘুমভাঙা রুক্ষ চোখ দুটো একবার আমার দাড়ি থেকে লুঙ্গি পর্যন্ত বুলিয়ে নিয়ে চড়া গলায় বলল, কাল না তোমাকে বলে দিলাম, আণ্ডা আমার চাই না? আবার এসেছ বিরক্ত করতে! আমি কাঁদো-কাঁদো গলায় বললাম, না এসে উপায় কী হুজুর? আপনারা পাঁচজনে দুটো আণ্ডা না নিলে আমার পেট চলে কী করে?

    ‘আরে, এ যে মামুদ’ —বলেই কোমরের কাপড় সামলাতে সামলাতে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল।

    ‘বাসায় ফিরে প্রথমেই গিয়ে দাঁড়ালাম আমার শোবার ঘরে বড় আরশিটার সামনে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম নিজেকে। তারপর কী মনে হল, বৈঠকখানায় এসেই নাপিত ডেকে পাঠালাম। চেহারাটা খোদার দেওয়া। ওটা তো আর ছাড়া যায় না। ছাড়লাম আমার অনেকদিনের পুরনো সাথী—দাড়ি আর লুঙ্গি।’

    আমি বললাম, ‘কিন্তু দাদা, ওরা আপনাকে অত সহজে ছাড়বে বলে মনে হচ্ছে না। হয়তো এবার ঐ পাঁচ বছরের অবহেলার শোধ নিয়ে বসবে।’

    —দেখা যাক, বলে নলটা আবার তুলে নিলেন মামুদ সাহেব।

    যে সময়ের কথা বলছি, তার কিছুদিন পরেই নোয়াখালির রঙ্গমঞ্চে দেখা দিয়েছিল সেই বীভৎস নাট্যলীলা। এটা ছিল তারই মহড়ার যুগ। সুতরাং জাতির বৈশিষ্ট্যের ধ্বজাধারী একদল বীরপুরুষ আচকান আর পায়জামা চড়িয়ে হঠাৎ একদিন হানা দিলেন মামুদ সাহেবের বৈঠকখানায়। ভুল উর্দুর সঙ্গে খাঁটি স্বদেশী খিস্তি মিলিয়ে তাঁর ধুতি আর শ্মশ্রুহীন মুখের বিরুদ্ধে ঘোষণা করলেন জেহাদ। মামুদ দমবার পাত্র নন। নির্ভুল উর্দুতে মোলায়েম সুরে সে জবাব দিলেন, তার মানে হচ্ছে, ওটা তাঁর ব্যক্তিগত রুচির এলাকা, এবং সে জায়গায় অন্যের নির্দেশ বা উপদেশ তিনি অনধিকারচর্চা বলে মনে করেন।

    এর মাসখানেক পরেই এল ওঁদের ঈদ্ পর্ব। স্থানে অস্থানে কোরবানির ধুম পড়ে গেল। মামুদের রন্ধনশালায় মাংস জিনিসটা নিষিদ্ধ ছিল না। কিন্তু তার জাত সম্বন্ধে বাছ- বিচার ছিল। মুরগী এবং খাসী ছাড়া আর কোন জন্তু সেখানে ঢুকবার অধিকার পায় নি। ব্যাপারটা তাঁর স্বজাতি-মহলে তোলপাড় তুলেছিল। হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই, ঈদের দিন সকালবেলা খান বাহাদুরের কুঠি থেকে কুলির মাথায় বিশাল এক ঝুড়ি এসে হাজির। বিশ-পঁচিশ সের গোস্ত—জেলর সাহেব এবং তাঁর স্বধর্মী সহকর্মীদের জন্যে কিঞ্চিৎ উপহার!

    মামুদের আরদালি ছিল ইয়াসিন সেখ। সেই বৃহৎ মাংসখণ্ডগুলোর দিকে একবার তাকিয়েই তাড়াতাড়ি কুলিটাকে সরিয়ে দেবার আয়োজন করছিল। মামুদ বাধা দিলেন। ঐ ইয়াসিনকে পাঠিয়ে জেলের বাগান থেকে আনিয়ে নিলেন দুজন কোদালধারী কয়েদী। বাড়ির পেছনে খানিকটা পোড়ো জায়গা পড়ে ছিল। তারই এক কোণে খোঁড়া হল একটা ছোটখাটো কবর। মাংসের টুকরোগুলো সযত্নে মাটি চাপা দেবার পর, কুলির সঙ্গে যে মৌলভী গোছের লোকটি এসেছিলেন, তাঁর দিকে ফিরে বিশুদ্ধ উর্দু ভাষায় বিনীত কণ্ঠে বললেন মামুদ, খান বাহাদুর সাহেবকে আমার হাজার হাজার আদাব জানাবেন। তাঁর উপহার পেয়ে আমি ভারী খুশী হয়েছি।

    এই আদাবের উত্তর কখন কী ভাবে পাঠিয়েছিলেন খান বাহাদুর, সেটা জানবার আমার অবকাশ হল না। তার আগেই এসে গেল বদলির হুকুম।

    মাস ছয়েক পরে আদালত থেকে কী একটা মামলায় সাক্ষীর সমন পেয়ে আবার যেতে হয়েছিল সেই পুরাতন কর্মস্থলে। শুনলাম, মামুদ সাহেব তখনো টিঁকে আছেন। কোর্টের কাজ সেরে গেলাম দেখা করতে। খবর পেয়েই ছুটে এলেন বৈঠকখানায়। পরনে শান্তিপুরী ধুতি নয়, হাওড়া হাটের লুঙ্গি; আর চিবুকের তলায় কিঞ্চিৎ নুর। বাঁ হাতটায় একটা ব্যাণ্ডেজ।

    বোধ হয় একটু বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। উনি ম্লান হেসে বললেন, তোমার কথাই ঠিক হল, মলয়। এরা শোধ নিয়েছে, ভালো করেই নিয়েছে।…সেবার মান রাখতে গিয়ে পোশাক ছেড়েছিলাম। এবার চাকরি রাখতে গিয়ে মান ছাড়লাম।

    শেষের দিকে গলাটা কেমন উদাস হয়ে এল। আমি সে প্রসঙ্গ চাপা দিয়ে বললাম, হাতে কী হল?

    —হাতে? ও-ও, সেও এক মজার ব্যাপার। বলছি, বোসো।

    মামুদ সাহেব ভিতর থেকে একবার ঘুরে এলেন। তার আগেই এল ঘরের তৈরী সন্দেশ আর চা। মিনিট কয়েক যেতে না যেতেই জমে উঠল আমাদের সেই পুরোনো দিনের আড্ডা। তারই ফাঁকে শুনতে পেলাম ওঁর ব্যাণ্ডেজ-বাধা হাতের কাহিনী!

    তিন-চার দিন আগের ঘটনা। তখনও ঠিক ভোর হয়নি। জেলর সাহেবের ঘুম পাতলা হয়ে এসেছে। হঠাৎ কানে গেল একটানা বাঁশির সুর। এ সর্বনেশে বাঁশি তার চেনা। বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। দু-তিন মিনিট না যেতেই জেল-গেটে উঠল পেটা ঘণ্টার আর্তনাদ। জেল-অ্যালার্ম! চলতি কথায় যাকে বলে পাগলা ঘণ্টি। হাতের কাছে যা পেলেন, তাই জড়িয়ে নিয়ে ছুটলেন মামুদ। ততক্ষণে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে লাঠি পার্টি আর তার সামনে রাইফেলধারী স্কোয়াড। হুকুম পেলেই ডবল মার্চ করে ঢুকে পড়বে জেলখানায়।

    সদলবলে অকুস্থলে গিয়ে দেখলেন মামুদ, যা আশঙ্কা করেছিলেন, ঘটেছে ঠিক তাই। তেরো নম্বরের জানালার শিক ভেঙে উধাও হয়েছে এক ছোকরা কয়েদী। জেলর সাহেবের নাকের উপর বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার মরচে-ধরা ক্ষয়ে-যাওয়া ভাঙা ডগা মুহূর্তমধ্যে সারা জেল জুড়ে শুরু হল তাণ্ডব। তন্নতন্ন করে খোঁজা হল প্রতিটি বাড়ির কোণ, পাঁচিলের ধার, গাছের ডাল আর নর্দমার তলা। কিন্তু পলাতকের সন্ধান পাওয়া গেল না। পাওয়া গেল পাঁচিলের গায়ে দাঁড় করানো একটা বাঁশ আর তার পাশে একটা ছেঁড়া কুর্তা।

    ছেলেটার নজর আছে, বললেন মামুদ সাহেব। এতদিন থাকল আমার হোটেলে। যাবার সময় বখশিশ দিয়ে গেল গায়ের একটা ছেঁড়া জামা

    পাগলা-ঘণ্টি শেষ হবার আগেই এসে পড়লেন জেল-সুপার। পরীক্ষা করলেন ভাঙা শিক আর ছেঁড়া কুর্তা। তারপর চারটে সিপাইকে সাপেণ্ড করে উঠলেন গিয়ে গাড়িতে

    চারটে সিপাই! সবিস্ময়ে প্রশ্ন করলেন মামুদ সাহেবের প্রতিবেশী এক উকিলবাবু। মিনিট দশেক আগে এসে আমার পাশে একটা চেয়ার দখল করেছিলেন।

    মামুদ বললেন, সেইটাই সাধারণ নিয়ম। একটা ‘এসকেপ’ মানেই চারজনের গর্দান।

    —তারা সব কারা? জানতে চাইলেন উকিলবাবু।

    —এই ধরুন, এক নম্বর—বাবুটি যে-ওয়ার্ড থেকে চম্পট দিলেন, তার ওয়ার্ডার-ইন- চার্জ। দু নম্বর—যেখান দিয়ে তিনি পাঁচিল লঙ্ঘন করলেন, সেই অঞ্চলের ওয়াল-গার্ড। তিন নম্বর হল জানালা-ঠোকাই।

    —সেটি আবার কে?—কৌতুককণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন উকিল ভদ্রলোক।

    মামুদ হেসে বললেন, জানালা-ঠোকাই চেনেন না! বড় মুশকিলে ফেললেন দেখছি। পরিচয়টা একটু জানিয়ে দাও তো, মলয়। আমি ততক্ষণে মৌতাতটা সেরে নিই। তোমরা তো এ রসে বঞ্চিতই রয়ে গেলে।

    গড়গড়ার নলটা মুখে তুললেন জেলর সাহেব। সদ্য-সাজা অম্বুরী তামাকের মিষ্টি গন্ধে ঘর ভরে উঠল। বললাম, একেবারে বঞ্চিত হই নি দাদা। ঘ্রাণেন কিঞ্চিৎ পাচ্ছি বৈকি। তবে সেটা হয়তো ঠিক অর্ধ-ভোজন নয়।

    উকিলবাবুর দিকে ফিরে বললাম, আপনার তো জেলের পাশেই বাড়ি। রোজ দুটো আড়াইটার সময় সারা জেলে একটা শব্দ ওঠে ঠন ঠন ঠন ঠন, ঠক ঠক। কখনও লক্ষ্য করেন নি?

    —হ্যাঁ, হ্যাঁ; মাঝে মাঝে শুনতে পাই বটে। বাড়িতে আমরা বলাবলিও করেছি। কেউ বলতে পারে নি ওটা কী।

    —ওটা হচ্ছে লোহার ডাণ্ডা দিয়ে জানালা-দরজার শিক ঠোকার শব্দ। একজন সিনিয়র ওয়ার্ডারের ওপর ঐ দরকারী কাজটার ভার পড়ে। তারই নাম জানালা-ঠোকাই। সন্ধ্যাবেলা ‘লক-আপ’-এর ঠিক আগে তাকে রিপোর্ট দিতে হয় জেলর সাহেবের কাছে, জানালা দরজা সব পরখ করে দেখলাম, ‘সব ঠিক হ্যায়’। এই রকম আর একজন আছে, ঠিক সন্ধ্যার আগে টহল দিয়ে ফেরে সারা জেলখানা। দেখে বেড়ায়, কোথাও পড়ে আছে কিনা বাঁশ, দড়ি কিংবা ঐ ধরনের কোনো মারাত্মক জিনিস। তাকেও রিপোর্ট দিতে হয় লকআপ টেবিলে, তামাম জেলখানা ঘুম্-ঘামকে দেখা। বাঁশ রশি সব বন্ধ হ্যায়।

    ঐ হল চার নম্বর, যোগ করলেন মামুদ সাহেব।

    সুপার চলে যেতেই শুধু বড় জমারদারকে সঙ্গে নিয়ে জেলের ভিতরটা চুপি চুপি ঘুরে দেখছিলেন জেলর সাহেব। কয়েদীরা তখনও বন্ধ। ফিমেল ওয়ার্ডের পাশ দিয়ে পথ। হঠাৎ কানে এল কলকণ্ঠের হাসির ঝঙ্কার। কী ব্যাপার? একটু দাঁড়িয়ে গেলেন মামুদ সাহেব। শুনলেন, বলে উঠল কে একটি মেয়ে, কী মুশকিল! কতক্ষণ আর আটকে রাখবে?

    —চুপ কর না, ধমকে উঠলেন আরেকজন। কী রকম মজাটা হল, মাইরি! সাহেব থেকে সিপাই সক্কলের মুখ চুন।

    —যা বলেছিস ভাই, উচ্ছলিত কণ্ঠ শোনা গেল আর-একটি মেয়ের। ওঃ, যা আনন্দ হচ্ছে! বাহাদুর বটে ছোকরা। একবার দেখতে ইচ্ছে করে, সত্যি।

    এর পর যে মন্তব্য শোনা গেল, তার মধ্যে কিঞ্চিৎ আদি রসের আধিক্য। মামুদ লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে দিলেন। কিন্তু ওদের ঐ অহেতুক উল্লাসের নিগূঢ় সত্যটি তাঁর মনের মধ্যে লেগে রইল। যে ছেলেটা পালিয়ে গেছে সে এদের কেউ নয়। তার কোনও পরিচয় এরা জানে না। কখনও দেখে নি, নামও শোনে নি কোনোদিন। পালিয়ে গেছে বলেই আজ সে ওদের আপনার জন। তাদের সঙ্গে এদের একাত্মতা। যে শৃঙ্খলে এরা বাঁধা পড়ে রইল, তারই বন্ধন সে ছিঁড়ে চলে গেছে, অগ্রাহ্য করে গেছে এই পাষাণ- প্রাচীরের অবরোধ, এই সিপাই-শাস্ত্রী-লাঠি-বন্দুকের ভ্রুকুটি। ওদের মনেও লেগেছে সেই মুক্তির বাতাস। সমস্ত জেলের আজ আনন্দের দিন।

    গোটা দুয়েকের সময় আবার অ্যালার্ম বেজে উঠল।

    —আবার!

    মামুদ সাহেব বললেন, কী করা যাবে বল? কপালে দুঃখ থাকলে কেউ খণ্ডাতে পারে না। এবারকার ঘটনাস্থল জেনানা ফাটক। গিয়ে দেখলাম, জনচারেক পড়ে আছে দাঁত লেগে; একদল হাত-পা ছুঁড়ছে, মানে হিস্টিরিয়া; আর বাকীগুলো পরিত্রাহি চেঁচাচ্ছে। ডাক্তার বেচারা যে কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। কার নাকে দিচ্ছে স্মেলিং সল্ট, কারও মাথায় ঢালছে জলের বালতি। ব্যাপার যা শুনলাম, রীতিমতো ভৌতিক কাণ্ড।

    শীতের দিন। খোলা উঠানে বসে মেয়েরা তাদের দুপুরের বিশ্রামটুকু সেরে নিচ্ছিলেন। হঠাৎ একজনের নজর পড়ল কম্পাউণ্ড পাঁচিলের ওধারে একটা ছোট ব্যারাকের ছাদের উপর। সারি সারি মাটির গামলা উপুড় করে বসানো।

    গামলা কেন? প্রশ্ন করলেন উকিলবাবু।

    দেখছেন না? কোন্ শায়েস্তা খাঁর আমলের বাড়ি। তখন ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল ছাদ ফুটো করে। সেখান দিয়ে আবার বৃষ্টি আসবে তো? তাই ঐ গামলার ঢাকনা। মেয়েটার মনে হল ওরই ভেতর একটা বড় গামলা বেশ তালে তালে নাচছে।

    তোমরা হাসছ, কিন্তু ওর হার্ট বেচারি তখন ফেল করে-করে। বেশ করে চোখ রগড়ে আরেকবার দেখল। নাঃ, ভুল নয়। দু-চার মিনিট বিশ্রাম নিয়ে গামলা-সুন্দরী আবার নৃত্য শুরু করলেন! সবাই জানে, ওটা হচ্ছে কলেরা ওয়ার্ড, আর ওর ঠিক পাশেই হচ্ছে ফাঁসিমঞ্চ, যাকে বলে gallows। কিছুদিন আগেই সেখানে একজনকে ঝোলানো হয়েছে। ব্যাস্ আর যায় কোথায়! মেয়েটির জিব গেল টাকরায় আটকে, চোখ উঠল কপালে আর গলা থেকে বেরিয়ে এল একটা গোঁ গোঁ গোছের বিকট আওয়াজ। তার হাতের ইশারা লক্ষ্য করে আরও দু-চারজন যারা তাকিয়েছিল ঐ দিকে, তারাও এক দফা নাচ দেখে নিল। তারপরে যে কাণ্ড হল, সেটা তোমরা কল্পনা করে নাও, আমি ঠিক বোঝাতে পারব না। আমার ফিমেল ওয়ার্ডার ডিউটির নাম করে একটু গড়িয়ে নিচ্ছিলেন। হাঁউমাউ শুনে যখন ঘুম ভাঙল, দেখলেন, situation out of control। তাঁর হাতে তখন একটিমাত্র অস্ত্ৰ—ঐ বাঁশি। তাই প্রাণপণে ফুঁকে দিলেন।

    এবার বিশাল বাহিনী নিয়ে হানা দিলাম কলেরা ওয়ার্ডের ফটকে। খালি বাড়ি পড়ে আছে। ছাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে এতগুলো লোকের ঘাড় ব্যথা হয়ে গেল! নৃত্যদর্শনের সৌভাগ্য হল না। ভৌতিক-দুনিয়ার যাঁরা বাসিন্দা, তাঁদের স্বভাব-চরিত্র ঠিক জানা নেই। তাঁরা ভয় দেখান শুনেছি। হয়তো জায়গা বিশেষে ভয় পেয়েও থাকেন। বিশেষ করে জেলখানার পাগলা ঘণ্টিকে কেয়ার করে না এরকম পাগলাভূত পাওয়া দুষ্কর। রিট্রিট করব কিনা ভাবছি, হঠাৎ যেন মনে হল, গামলাটা একটু নড়ছে। সবাই রৈ রৈ করে উঠল; কিন্তু উপরে উঠে ব্যাপারটা পরখ করবার হুকুম যখন দিলাম, সব চুপচাপ। তবে দু-একজন সাহসী মানুষ জেল ফোর্সেও থাকে। তাবই একজন একটা ম‍ই লাগিয়ে উপরে উঠে গেল, এবং অনেকখানি দূর থেকে গামলা তাক করে ছুঁড়ে মারল লাটি। গামলাটা ভেঙে যেতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এল খালি গা, জাঙ্গিয়া-পরা লিলিকে এক ছোকরা। আমাদের দিকে চেয়েই কেঁদে উঠল ভেউ ভেউ করে।

    পুরীর সমুদ্র দেখেছ? তার চেয়েও মহা বিক্রমে গর্জে উঠল আমার ফোর্স।

    মইটাকে তৎক্ষণাৎ সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করলাম আর হাবিলদারকে বললাম রিজার্ভ ফোর্স ফিরিয়ে নিতে। নিতান্ত অনিচ্ছায় তারা মার্চ করে চলে গেল। আরদালি, বডিগার্ড, গোছের দু-চারজন যারা রইল, তাদের বিশেষ মারমুখী বলে মনে হল না। এইবার মই লাগিয়ে বললাম ছেলেটাকে নেমে আসতে। সে কি আসতে চায়? ছাদের উপর দাঁড়িয়ে কাঁপতে লাগল হাত জোড় করে। জিজ্ঞাসা করলাম, পালিয়েছিলি কেন?

    —মেট মারত রোজ।

    —কেন?

    আর কথা বলে না। দু-চারটা ধমক দিতেই বলল, খারাপ কাজ করতে চেয়েছিল, আমি দিই নি।

    অসম্ভব নয়। ছেলেটি দেখতে সুশ্রী। বললাম, এখানে এসে জুটলি কী করে?

    সেও এক তাজ্জব কাহিনী। শেষ রাতে শিক ভেঙে তো বেরোল। রান্নাঘরের পাশ থেকে একটা বাঁশও যোগাড় হল। কিন্তু নানা রকম কসরত করেও পাঁচিলে ওঠার সুবিধে হল না। এদিকে ভোর হয়ে আসছে। হঠাৎ কারও নজরে পড়লে পাঁউরুটি বানিয়ে দেবে। তাই ফরসা হবার আগেই কোনও রকমে গা-ঢাকা দিয়ে পাইপ বেয়ে উঠল কলেরা ওয়ার্ডের মাথায় আর আশ্রয় নিল গামলার নীচে। তারপর সাত-আট ঘণ্টা বসে থেকে কোমরে আর পায়ে যখন খিল ধরে গেছে, তখন ওই গামলা মাথায় দিয়েই মাঝে মাঝে উঠে একটু লেফট রাইট করবার চেষ্টা করছিল।

    জেনানা ফাটক থেকে একজন যে সেদিকে চোখ দিয়ে বসে আছে, ও কেমন করে জানবে?

    অনেক করে ভরসা-টরসা দেবার পর নামতে রাজি হল ছোকরা। মাটিতে পা দিতে যাবে, এমন সময় চোখের পলকে কোত্থেকে ছুটে এল চার-পাঁচজন বীরপুরুষ। একটা নিরীহ ছাগলছানার ওপর লাফিয়ে পড়ল একপাল নেকড়ে। ও ব্যাটাও ওস্তাদ কম নয়। বেটনের বেড়াজাল এড়িয়ে কেমন করে যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ল এসে আমার পায়ের ওপর। বাঁ হাতটা বোধ হয় একটু বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। হঠাৎ তার ওপর সপাং করে উঠল বেটনের ঘা।

    জেলর সাহেব আবার গড়গড়ার আশ্রয় নিলেন। বলবার মতো কিছু ছিল না। আমরা- শুধু নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলাম। কয়েক মিনিট পর অনেকটা যেন কৈফিয়তের সুরে বললেন মামুদ, সকালে যাদের সাসপেণ্ড করা হয়েছে ঐ সিপাইটা তাদেরই একজনের ছেলে। ছোকরা মানুষ। নিজেকে ঠিক সামলাতে পারে নি।

    বললাম, তা বুঝলাম। কিন্তু আপনার যে সামলে উঠতে বেশ কিছুদিন লাগবে।

    —না হে। এমন কিছু নয়। ডাক্তারদের কাণ্ড তো? কেরামতি দেখাবার কোনও একটা সুযোগ পেলেই হল। অফিসে যেতে পারতাম, কিন্তু ঐ হতভাগাটা শুনছি ঘুরঘুর করছে বাড়ির চারদিকে। মতলব মোটেই ভালো নয়।

    বলেন কী? রাগে বিস্ময়ে চেঁচিয়ে উঠলেন উকিলবাবু। মামূদ সাহেবও চড়া গলায় বললেন, তাই দেখুন না! লাঠি ঠুকে নুলো বানিয়ে দিলি। তাতে আশ মিটল না, এবার কপাল ঠুকে খোঁড়া না বানিয়ে ছাড়বে না।

    তারপর একটু হেসে স্বর নামিয়ে বললেন, তাই কটা দিন একটু গা-ঢাকা দিয়ে আছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্যারাডাইস লস্ট – জন মিল্টন
    Next Article ১৯৮৪ (নাইন্টিন এইটি-ফোর) – জর্জ অরওয়েল
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }