নামের উৎপত্তি ও প্রবাদ
খুলনা নামের উৎপত্তি নিয়ে কয়েকটি প্রবাদ প্রচলিত আছে। “পূর্বকালে সুন্দরবনের নিকটবর্তী ছিল। লোকে সুন্দরবন থেকে কাঠ, গোলপাতা, মধু সংগ্রহে এ পথে সুন্দরবন যেত এবং বোঝাই নৌকা নদীর ভয়াবহতার জন্যে রাতে এখানে অবস্থান করতো। কোন অজানা মাঝি রাতে নৌকা খুলতে গেলে জঙ্গল মধ্য থেকে বন দেবতা খুলোনা খুলোনা বলে মাঝিদের নিষেধ করতো। এই খুলোনা থেকে খুলনা নামের উৎপত্তি হয়েছে।”
অপর প্রবাদ “কবি কঙ্কন বিরচিত চণ্ডিকাব্যের ধনপতি উপাখ্যান বর্ণিতা ধনপতি সওদাগরের লহনা-খুলনা নামে দুই স্ত্রী ছিল। কনিষ্ঠা আদরিণী খুলনার স্মৃতি রক্ষার্থে এখানে একটা মন্দির নির্মাণ করে মন্দিরের নাম রাখেন খুল্লেনেশ্বরী মন্দির। প্রথমা স্ত্রী লহনার নামে নদীর অপর পারে লহনেশ্বরী মন্দির নির্মাণ করেন। এ মন্দির উলুবনের কালীবাড়ী নামে পরিচিত। খুল্লেনেশ্বরী মন্দির থেকে খুলনা নাম হয়েছে।”
প্রথমোক্ত প্রবাদের অনুকরণে সৃষ্ট তৃতীয় প্রবাদ “সুন্দরবন থেকে কাঠ, গোলপাতা, মধু বোঝাই নৌকাগুলি ময়ুর নদীতে অবস্থান করতো। রাতে চলাচলকারী মাঝিদের ঝড় বা কোন বিপদাশঙ্কা থাকলে জলদেবতা খুলোনা খুলোনা বলে নিষেধ করতেন। এর থেকে খুলনা নামের সৃষ্টি হয়েছে।” উল্লেখ্য ময়ুর নদী কোনদিন খুব দীর্ঘ ও প্রশস্ত ছিলনা এবং খুলনা নামে পরিচিত গ্রাম থেকে অনেক দূরে।
সাম্প্রতিক আরো একটি প্রচলিত প্রবাদ–“প্রাচীন কালে আরবীয় বণিকেরা বাণিজ্যার্থে এখানে এসে বলতো ‘আদ খালনা’। এই ‘আদ-খালনা’ থেকে খুলনা হয়েছে।”
প্রথমোক্ত প্রবাদদুটি অনেক আগে থেকে প্রচলিত এবং অন্য অন্য প্রবাদগুলি বর্তমান কালের। ঐতিহাসিকরা প্রবাদগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করেন না।
