Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্বেত পাথরের থালা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প295 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শ্বেত পাথরের থালা – ১৫

    অধ্যায় ১৫

    স্কুল থেকে ফিরে খেলতে যাবার জন্যে ছটফটানি শুরু হয়েছে রূপের। আজকাল খাওয়া শেষ করে আর শোয় না, যদি ঘুমিয়ে পড়ে। বিকেল বয়ে যায়। সারাদিন রপটাচ্ছে। পরিশ্রম হচ্ছে খুব। কিন্তু সোমনাথ বলেন, ‘ও হল বালক, নতুন বড় হচ্ছে, প্রতি দিন, প্রতি মুহূর্তে ওর শক্তি বাড়ছে, ওর শক্তিসামর্থ্যের পরিমাপ আমার মতো বুড়োরা করতে পারবে না। ওর শরীর যখন পারছে, তখন ও বিশ্রাম না নিয়েই খেলতে যাক, খেলুক। না পারলে তখন দেখা যাবে।’ ইতিমধ্যে ওকে দুবেলা দুধ খাওয়ানো হচ্ছে, প্রতিদিন একটি করে মুরগীর ডিম, সপ্তাহে তিন দিন মাংস এবং যথেষ্ট ফল খাওয়ানো হচ্ছে। তার মা চাকরি নেওয়ার পর খাওয়ার মান আরও উন্নত হয়েছে। জামা প্যান্ট পাল্টে, পায়ে ধবধবে কেডস হাতে ব্যাট নিয়ে, দাদুর হাতে উইকেটগুলো ধরিয়ে দিয়ে রূপ খুব বড় সড় মানুষের মতো পায়চারি করছে। মা বাড়ি না ফিরলে সে খেলতে যেতে পারছে না। ভারি উৎকণ্ঠিত। দালানে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়েই ব্যাটটাকে শূন্যে হাঁকড়াচ্ছে রূপ—‘দেখলে কাকা, হাতটা কি রকম সট করে উঠে গেল। আমি হবো স্ট্রোক প্লেয়ার। ঠুকে ঠুকে কিষেণের মতো খেলা আমার পোসাবে না। কি বলো?’

    সোমনাথ বললেন—‘ঠিক। একেবারে ঠিক।’

    —‘আচ্ছা কাকা স্ট্রোক-প্লেয়ার কি বোলার হতে পারে না?’

    —‘কেন পারবে না রে?’

    —‘তাই ভাবছিলুম কাকা। আমার ডান হাতটা কিরকম ঘোরে না, বল করবার সময় বাঁ-হাতি বোলার। সেদিন সঞ্জুর ক্যাচখানা ধরলুম, দেখেছিলে? মাটিতে ডিগবাজি খেয়ে, একেবারে বাঁ-হাতের আঙুল দিয়ে…’ উৎসাহের চোটে ডিগবাজিটা শানের মেঝের ওপর খেয়েই দেখিয়ে দিল রূপ। তারপর ধুলো ঝেড়ে বলল—‘হাতে স্পিন কি? রাইটহ্যান্ড ব্যাটসম্যান, ন্যাটা স্পিনার, খারাপ, কাকা?’

    —‘দারুণ ভালো রে, জব্বর!’

    চারদিক চেয়ে ভারিক্কি চালে আবার বলে রূপ—‘মা এখনও কেন এল না বলো তো। বড্ড ভয় হয় কাকা। চারদিকে যা অ্যাকসিডেন্ট! মায়ের আবার কিছু হলো টলো না তো?’

    সোমনাথ হাসতে-হাসতে তার পিঠ চাপড়ে বলেন—‘দূর পাগলা উদীয়মান ক্রিকেটারদের মায়েদের কিস্যু হয় না।’

    বন্দনার আজকে বাড়ি ফিরতে সত্যিই খুব দেরি হচ্ছে। ছুটির পর সে স্কুল থেকে বেরিয়ে বাড়িমুখো না হয়ে উল্টো দিকে চলে গিয়েছিল। ভিক্টোরিয়ার দিকে। চওড়া রাস্তা দিয়ে দ্রুতগামী গাড়িদের পাশাপাশি সে হেঁটে যাচ্ছিল রেসকোর্সের দিকে। অনেকটা হেঁটে তবে মন বশে এল। পিকনিকের আয়োজন হচ্ছে স্কুলে। ডায়মন্ড হারবারের দিকে যাওয়া হবে, নিজেদের স্কুল-বাস নিয়ে। কি কি রান্না হবে তার একটা তালিকা তৈরি হচ্ছিল। প্রতিমাদি বলে বলে যাচ্ছিলেন, নতুন আসা একটি মেয়ে নাম নন্দা, লিখে নিচ্ছিল। ‘চার কিলো মাংস, পাঁচ কিলো মাছ’…বলতে- বলতে প্রতিমাদি হঠাৎ থেমে বললেন—‘দুজনের মতো নিরামিষের ব্যবস্থা রাখতে হবে নন্দা, ফ্রায়েড রাইসটা নিরামিষ রাখো, কাজু কিসমিস কড়াইশুঁটি দিয়ে হোক মিষ্টি-মিষ্টি, কড়াইশুঁটির কচুরি, আলুর দম, ভেজিটেবল চপ, চাটনিটা কমন।’ বন্দনা কিছুতেই মুখ ফুটে বলতে পারল না সে সবই খায়, তার জন্যে আলাদা ব্যবস্থা করবার দরকার নেই। কথাটা না বলতে পেরে ভেতরে-ভেতরে কী গভীর লজ্জা! এঁরাও তো জিজ্ঞেস করতে পারতেন। ধরেই নিলেন কেন যে তার খাওয়া নিরামিষ হবে? তাহলে বললে প্রতিক্রিয়া কি হত। ঘৃণা? বিস্ময়? বিদ্রূপ? টিটকিরি? নিজের কাছে লজ্জিত হলেও এদের কাছে যেন তার মানটা বেঁচে গেল। কিন্তু অস্বস্তিতে স্টাফরুমে বসতে পারল না সে। উঠে বাইরের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। হঠাৎ কানে এল নন্দার গলা, আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করছে—‘কেন প্রতিমাদি, বন্দনাদি নিরামিষ খাবেন কেন? উনিও কি প্রিন্সিপ্যালের মতো সৎসঙ্গী?’

    নীলিমাদি অনুচ্চস্বরে বললেন—‘জানো না বুঝি? ও তো উইডো। সাজ-পোশাক দেখলে বোঝা যায় না অবশ্য। অনেকেই এ ভুল করে।’

    মা বাড়ি ফিরতে রূপ মুরুব্বির মতো বলল—‘তোমার জন্যে আমরা আটকে ছিলুম। রোজ রোজ কিন্তু এতো দেরি করো না। অন্ধকার হয়ে গেলে কি আর বলের সুতো দেখতে পাব?’ ব্যাট কাঁধে বীরপুরুষ বেরিয়ে গেল। বন্দনা দরজা বন্ধ করে দিয়ে ওপরে উঠল। কোত্থেকে যে আজ এত ক্লান্তি এল! টেবিলের ওপর কাকা ফ্লাসকে চা রেখে দিয়েছেন, পাশে কিছু ঢাকা প্লেট, কিছু খাবার-দাবার আছে। বন্দনা ফ্লাস্‌ক থেকে চা ঢেলে ঢেলে অনেকক্ষণ ধরে খেল। আর কিছু মুখে দিতে ইচ্ছে করছে না। প্লেটের ঢাকা খুলে দেখল—কবিরাজি কাটলেট, স্যালাড। মাঝে মাঝে শখ করে দোকান থেকে আনান কাকা। খেতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু পড়ে থাকলে কাকাকে অনেক কৈফিয়ত দিতে হবে। সে কাটলেটটাকে টুকরো-টুকরো করে জানলা দিয়ে নিচে ফেলে দিল, কয়েকটা কুকুর ছুটে এসে টুকরোগুলো নিয়ে মহা কাড়াকাড়ি চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে দেখে আস্তে-আস্তে জানলা থেকে সরে এল। যাক নিশ্চিন্ত।

    অনেক রাতে কোথা থেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজে উঠে বসলেন সোমনাথ। তাঁর ঘুম খুব সজাগ। পাশের বাড়ির কার্নিশে পায়রারা রাতে পা বদলায়, তার খসখস আওয়াজে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমটা উঠলেন না। কোথা থেকে আসছে কান্নাটা? সরু একটা বারান্দা আছে রাস্তার দিকে, পরপর তিনটে ঘর তার কোলে। মনে হচ্ছে, বন্দনার ঘরের সংলগ্ন সেই বারান্দার অংশ থেকেই আসছে আওয়াজটা। আজ রূপ মায়ের কাছে শুয়েছে। পাছে তার ঘুম ভেঙে যায় তাই বারান্দায় উঠে গিয়ে কাঁদছে বন্দনা।

    শ্বশুরবাড়িতে যেভাবে ছিল তাতে তিল তিল করে মরে যাচ্ছিল মেয়ে। সেখান থেকে তাকে নিজের কাছে নিয়ে এসে একটা সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে রেখে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য তিনি খুব সম্ভব ফেরাতে পেরেছেন। কয়েক বছর আগেকার বন্দনার সঙ্গে আজকের বন্দনার আকৃতিতে কোনও মিল নেই। এখন তার বয়স যেন কমে গেছে, দেখলে মনে হয় নবীনা কুমারী মেয়ে। বিবাহিত জীবনেও সে এতো সুন্দর ছিল না বোধহয়। সোমনাথ নিজে থেকে চিরকৌমার্য বেছে নিয়েছেন। কৌমার্যের মধ্যে তিনি একটা অতিরিক্ত সৌন্দর্য দেখতে পান। বিবাহিত রমণীর রূপ যেন সকালের আকাশের মতো, খোলামেলা। তার মধ্যে কোনও রহস্য থাকে না। বন্দনা এখন নিজের মতো একটা জীবন পেয়েছে। নিজের সঙ্গে অনবরত বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে সে নিজেকে চিনতে পারছে। স্বনির্ভরতা এবং দায়হীনতা এ দুটো জিনিসের স্বাদ আলাদা। বন্দনা নিজস্ব জীবনবৃত্ত পেয়ে স্ব-নির্ভর এবং একই সঙ্গে তার কাকা মাথার ওপরে থাকায় অনেকটা দায়হীন। এখন সে সুস্থ, স্বাভাবিকও। কিন্তু এ আশা সোমনাথের নেই যে মেয়ে অভিমন্যুর অভাবের দুঃখ, তার অকালমৃত্যুর বেদনা কোনদিন ভুলতে পারবে। ভুলুক—তা তিনি চানও না। এ ব্যথাও যে জীবনের এক দুরূহ দান। যে পায় সেই জানে, এর মূল্য কত! জীবনের কত তুচ্ছতা, জীর্ণতা ঝরে ঝরে যায়, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। মানুষ ভেঙে ভেঙে আবার নতুন হয়ে গড়ে ওঠে গভীর রাতে মৃত প্রিয়জনের জন্য এই সন্তপ্ত কান্না এ বড় নিভৃত, গোপন কান্না, কে জানে কত ফাল্গুনী রাতের বকুলগন্ধ মেশা সুখস্মৃতি মথিত হচ্ছে ওই কান্নায়, সেসব রাতের পুনরাবৃত্তি এ জীবনে আর কখনও হবে না। তারও জন্য এ ব্যাকুল কান্না। গুরুজনদের দেখবারও নয়, শোনবারও নয়। বুক দিয়ে আগলে রাখতে পারেন মেয়েকে, কিন্তু এই স্মৃতির আগ্রাসী কবলের কাছে তিনি ব্যর্থ। সন্তর্পণে পাশ ফিরে শোন সোমনাথ। কাঁদুক। একটু কেঁদে নিক। মাঝে মাঝে এমনি হালকা হয়ে না নিলে গুরুভার বুকে বেঁধে মেয়ে পথ চলবে কি করে? কিন্তু গুমরে গুমরে কান্না চলতেই থাকে, চলতেই থাকে। যেন বুক নিংড়ে যাচ্ছে বেদনায়, দুঃসহ কষ্টে। অনেকক্ষণ শুনে। শুনে আর থাকতে পারলেন না সোমনাথ। ধীরে ধীরে পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। অঘ্রান মাসের কৃষ্ণপক্ষ। চাঁদ নেই। কিন্তু অসংখ্য তারার আলো। বাড়িগুলো সে আলোয় ভুতুড়ে দেখাচ্ছে। বন্দনার ছায়ামূর্তিও যেন ভৌতিক। সান্ত্বনা জানাবার ভাষা নেই। শুধু আলতো করে মাথায় হাতটা রাখলেন সোমনাথ। কান্না স্বভাবতই বেড়ে গেল। বেশ কিছুক্ষণ পর সোমনাথ আস্তে আস্তে বললেন, ‘কি হয়েছে বুড়ি? এমনি করে কাঁদছিস কেন? আমায় বলবি না?’ গুমরে গুমরে বন্দনা বলল—‘আমি তাকে ভুলে গেছি কাকা। তার জন্যে আমি আর শোক করি না। সেই দুঃসহ কষ্ট আমায় আজকাল ছেড়ে গেছে। আমি কি রকমের সতী সাধ্বী স্ত্রী বলো! খাচ্ছি-দাচ্ছি, দিব্যি সাজপোশাক করছি, বেঁচে আছি মহা আনন্দে। প্রতিদিন কিভাবে উপভোগ করছি জীবনটাকে তোমায় বলে বোঝাতে পারব না। কিন্তু সে যে অকালে অত কষ্ট পেয়ে মর্মান্তিকভাবে চলে গেল, তাকে আমি মন থেকে একেবারে মুছে ফেলে দিয়েছি। তুমিই বলো কাকা আমি কি এক নিষ্ঠুর, নির্দয়, পাপিষ্ঠা নই? আমি কি নারী নামের যোগ্য? দেশের পুরাণে লোককথায় মৃত স্বামীর পেছন পেছন স্ত্রীর যমালয়ে গিয়ে স্বামীকে ফিরিয়ে আনার তপস্যার কথা লেখা আছে, যে দেশের একটি মেয়ে একদিন লর্ড বেন্টিংকের সামনে নিজের আঙুল মোমবাতির শিখায় পুড়তে দিয়ে দেখিয়ে অবাক করে দিয়েছিল যে আগুনে পুড়ে মরা তার কাছে কিছুই নয়, আমিও তো সেই দেশেরই মেয়ে….’

    সোমনাথবাবু এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিলেন এইবার আর থাকতে পারলেন না, বললেন, ‘থাম বন্দনা, চুপ কর। তুই স্কুলে-কলেজে পড়া শিক্ষিত মেয়ে হয়ে এ দেশের সবচেয়ে কলঙ্কজনক লজ্জাকর কুসংস্কারের বীভৎস নজির তুলে কিসের সাফাই গাইতে চাইছিস? ছি, ছি। আমি তোকে কিছুই শেখাতে পারিনি। কিচ্ছু দিতে পারিনি। আর আমাকেই বা শেখাতে হবে কেন, তুই নিজেই বা নিজের শক্তিতে শিখবি না কেন?’

    কাকাকে এত ক্ষুব্ধ বন্দনা কোনদিন দেখেনি। তিনি তার দিকে তাকিয়ে নেই। তাঁকে ভেদ করে পেছনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। যেন বন্দনা তাঁর সামনে থেকে মুছে গেছে।

    কাকা বলছেন, ‘যে সাবিত্রী বেহুলার গল্পের তুই উল্লেখ করলি, সে তো মানুষের সবচেয়ে বড় আকাঙক্ষা অমৃতত্ব লাভের প্রতীক কাহিনী বলেই আমি জানি। বিশুদ্ধ জ্ঞান, বিশুদ্ধ প্রেম দিয়ে অমৃতত্ব লাভ। এত পড়েছিস এটুকু বুঝিসনি? দেখতে পাই তুই রোজ অভিমন্যুর ছবিতে ফুল দিস, ঠাকুরের ছবির পাশাপাশি তার ছবি রেখে দিয়েছিস। ধূপধুনো দিয়ে পুজো করিস। তোর সেন্টিমেন্টে লাগবে বলে কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বাধা দেওয়া উচিত ছিল। এমনি করেই কুসংস্কারের চোরাবালিতে তোরা ডুবিস।’

    বন্দনা ব্যথিত গলায় বলল, ‘ফুল দিতেও বারণ করছ?’

    ‘ফুল দিতে বারণ করিনি বুড়ি, আনুষ্ঠানিক পুজো করতে বারণ করছি। ভালোবাসা মনের ধর্ম। তাকে যে মুহূর্তে অনুষ্ঠানের মধ্যে ফেলবি, সেই মুহূর্ত থেকে সে মরতে আরম্ভ করবে। স্তূপীকৃত হয়ে থাকবে শুধু শুকনো ফুল বেলপাতার জঞ্জাল। মন্দিরে মন্দিরে একটু ঘুরলেই তো এ তথ্য বুঝতে বাকি থাকে না।’

    ‘আকাশের দিকে চেয়ে দ্যাখ শুদু এক মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অন্তর্গত কিছু গ্রহতারা দেখতে পাচ্ছিস। তাই-ই এতো যে হিসেব হয় না। তোর আমার দৃষ্টির বাইরে। ধারণাশক্তির বাইরে অবাধ অগাধ মহাশূন্য পড়ে আছে, অণুর পরে অণু জমে জমে সৃষ্টি হল জল, মাটি, প্রাণী। এই সব, এই এত আয়োজন কি বৃথা মনে করিস? বিজ্ঞানের কথা না হয় ছেড়েই দিলুম।’

    ‘আমি তো মনে করি অভিমন্যু এক অর্থে পুণ্যাত্মা মানুষ ছিল। মাত্র আটত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতা তার প্রয়োজন হয়েছিল এ যাত্রায়। তুই কি মনে করিস তোর পুজো নিতে এখনও সে পৃথিবীর আবহমণ্ডলের মধ্যে গতিহীন প্রেত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে! জানিস না মানুষের মধ্যে অঙ্গুষ্ঠ পরিমাণ যে আলোকবর্তিকা জ্বলছে, অভিজ্ঞতার সারটুকু নিয়ে তাকে বিশুদ্ধ দীপ্তি হতে হবে বলেই তার বারবার পৃথিবীতে আসা? অভিমন্যুর যে অভিজ্ঞতাটুকুর প্রয়োজন তোকে দিয়ে ছিল, তা নিশ্চিত পূর্ণ হয়ে গেছে, দেহাতীত আত্মা কাউকে মনে রাখে না, সতীত্ব সাধ্বীত্ব ইত্যাদি বাঁধা বুলি কপচে তুই যে জিনিসের ছায়ামাত্র প্রকাশ করতে চাইছিস সেই ভালোবাসা মনে রাখার প্রয়োজনও আর তার নেই।

    বন্দনা আর কাঁদছিল না, অবাক হয়ে কাকার উত্তেজিত মুখের দিকে চেয়েছিল, বলল, ‘বাঃ, যে মুহূর্তে একটা মানুষ চলে গেল, অমনি তাকে ভুলে যাব? তাকে আর মনে রাখার দরকার নেই? পুরনো কাপড়ের মতো ধোবার বাক্সে ফেলে দিয়ে নতুন কাপড়ের পাট ভাঙব? এই তোমার তত্ত্ব কাকা? এ যে বড় হৃদয়হীন দর্শন, তোমার বিজ্ঞান, তোমার আধ্যাত্মিক তত্ত্ব মাথা দিয়ে বুঝলাম, কিন্তু হৃদয় কি তা মানে?’

    —‘ভুলে যাওয়া উচিত তা তো বলিনি; প্রিয়জনের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক তার মধ্যে একটা চিটচিটে আসক্তির দিক আছে, সেটা ত্যাগ করার কথা বলছি। সেটা বাদ দিলে যে ভালোবাসা থাকে সেটুকুই তো হল সেই ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে। নৈনং ছিন্দান্তি শস্ত্ৰানি নৈনং দহতি পাবকং, ন চৈনং ক্লেদয়ান্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ। সেই ভালোবাসা অনুভূতির মধ্যে সূক্ষ্ম লাইট ওয়েভের মতো মিশে থাকবে, তুই আরও উজ্জ্বল হবি, আরও পরিপূর্ণ। সমৃদ্ধ হবে তার ব্যক্তিত্ব, তোর আত্মা। কারণ তুই শুধু পেয়েছিলি না, পেয়েছিস। যা একবার পাওয়া যায় বুড়ি তা আর হারায় না কখনও, তোর সত্তার ভেতরে তা নিশ্চয় কাজ করে যাচ্ছে, তাকে কাজ করতে দে…’

    মাঝরাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে সোমনাথবাবুর গলা গমগম করে উঠল। তিনি তখনও বলছেন—‘এ-ও বলি বুড়ি, শুধু স্বামীর ব্যাপারেই এই ভোলা-না-ভোলার ব্যাকুলতা মেয়েদের এতো বেশি কেন, ভেবে দেখেছিস? আদরের সন্তান গেলে মেয়েরা সে শোক কাটিয়ে উঠে আর একটি সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতে দুঃখ বা লজ্জা বোধ করে না, তোর মা তোর দশ বছর বয়সে মারা গেছেন, তুই কখনও মায়ের কাছছাড়া হতিস না, তোর মারও তুই ছিলি প্রাণ, দশ বছর বয়সটার স্মৃতি বেশ ভালোই তৈরি হয়ে যায় বুড়ি, অথচ তোর মায়ের জন্যে মনে কতটুকু জায়গা রেখেছিস! মায়ের ছবিতে কোনদিন ফুল দিয়েছিস, মালা পরিয়েছিস? ধূপ জ্বেলেছিস? জ্বালাসনি বলে বিবেকের কাছে নিজেকে কখনও অপরাধী মনে করেছিস? তিনি গিয়েছিলেন নিতান্ত অল্পবয়সে, চৌত্রিশও বোধহয় পুরো হয়নি, সে-ও তো অকালমৃত্যুই! এই মায়ের কাছে তোর, কিংবা যে কোনও মানুষের ঋণ যত, আর কারও কাছে তো তার কণাও নয়! তবে? শুধু স্বামীকে ভোলা না ভোলা নিয়ে তোদের বিবেকের এতো জ্বালা কেন মা? কিছু না শুধু এইটুকুই। তোকে বোঝাতে চাই যাকে বিবেক বলে মনে করছিস সে শুধু একরকমের আত্মপ্রবঞ্চনা। সত্যকে যে মুহূর্তে চিনতে পারবি, হয়ত ধাক্কা খাবি কিন্তু আস্তে আস্তে মিথ্যে ভয়, মিথ্যে লজ্জা, মিথ্যে দুঃখের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবি। বিপত্নীকদের আরেকটা বিয়ে করার কোনও সামাজিক বাধা নেই, মৃত স্ত্রীর জন্য পালনীয় কোনও কঠোর আচারও নেই, তাই তাদের স্ত্রীর শোক ভুলতে দেরি হয় না। স্বামীহীনাদের বেলায় সব দিক থেকেই নিষেধের দেয়াল ওঠে তাই শোকও যেতে চায় না। না হলে কি হত বলা যায় না।’

    বন্দনা কাঁপছে দেখে কাকা তার হাত শক্ত করে ধরে বললেন, ‘আমার কথায় যে সত্য আছে সে তুই পাশ্চাত্য দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারবি। যেহেতু স্বামীর মৃত্যুতে স্বাধীনতা খর্ব হয় না, সেহেতু শতকরা নব্বুইজন সেখানে সুবিধে পেলেই পুনর্বিবাহ করে। দশ পার্সেন্টের ক্ষেত্রে মৃতের প্রতি আনুগত্যটা খাঁটি। তা-ও তাদের মধ্যে কতজন বিবাহক্ষম, সন্দেহ আছে।’

    বন্দনা বলল, ‘তুমি আজ আমায় এমন কঠিন কঠিন কথা বলছ কেন কাকা, আমি জানি না। আমার ভেতরটা যে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে তুমি কি বুঝতে পারছ না?’

    —‘তুই যে বললি জীবনটাকে উপভোগ করছিস বলে হঠাৎ তোর ভীষণ বিবেকদংশন হচ্ছে। তাই এত কথা বললুম। সত্যি যদি জীবনটাকে ভালো লাগে তো ভালো লাগতে দে, তার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে স্মৃতি জাগিয়ে জোর করে আজকের ভালোলাগাটাকে বাধা দিস না। তাতে একবারও প্রমাণ হবে না, তুই অভিমন্যুকে ভালোবাসিস না। মা মিথ্যা মোহ, ভ্রান্তি, মায়ার আবরণ আমি তোর ওপর থেকে সরিয়ে নিতে চাইছি।’ সোমনাথবাবুর গলার স্বর কোমল, বললেন, ‘জীবনকে তুই সহজভাবে দেখতে শেখ, কোনও কিছুই নিজের ওপর জুলুম করে, সংস্কারবশে করিস নি। স্বাভাবিক জীবনের ধর্মে যদি মৃত প্রিয়জনের জন্য কষ্ট আর তেমন তীব্র না থাকে তো না-ই থাকল। সত্যকে সহজে নে, এই আমার প্রার্থনা। স্ত্রীর শোকের কতটা যে প্রকৃত ভালোবাসা থেকে আর কতটা বৈধব্যভীতি থেকে তার অনুপাতের একটা ভয়াবহ এবং করুণ গল্প বলি শোন, তারপর তোকে ছেড়ে দেব। আমাদের বাড়িতে ছিলেন বড়পিসিমা—চোদ্দ বছর বয়সে বিয়ে হয়, ষোলতে বিধবা হন। মাথা ন্যাড়া, আধময়লা থান পরনে, বিশাল একান্নবর্তী পরিবারের সব রান্না একা হাতে করতেন, কাউকে ছাড়তেন না, যেন সংসারকে ওইটুকু না দিলে নিজের অস্তিত্বটার কৈফিয়ত দেওয়া যাবে না এমনই একটা ভাব ছিল তাঁর। কিংবা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছেন যেন। বেলা তিনটের সময়ে খেতেন, সেই একবেলার আহার। বোধহয় আমার মা রাত্রে জোর করে দুধ মিষ্টি কিছু খাওয়াতেন কোনদিন কোনদিন। একসময়ে আমার ছোট পিসেমশাই-এর হল সাঙ্ঘাতিক উদুরি। সে অসুখ তখন ক্যানসারের মতোই দুরারোগ্য ছিল। নিজের বাড়িতে তেমন দেখবার কেউ নেই। ছোট পিসিমা পিসেমশাইকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে উঠলেন। চিকিৎসা চলল কিন্তু অবস্থা উত্তরোত্তর খারাপ হতে হতে অবশেষে এমন হল যে দিন কাটে তো রাত কাটে না। সকাল থেকে ছোটপিসিমা রোগীর শয্যার পাশে। দুপুরবেলা বেচারি দিদির ডাকে সবে উঠে একটু খেয়ে আসতে গেছেন এমন সময়ে পিসেমশাই-এর শেষ সময় উপস্থিত হল। আমাকে পাঠানো হল তাঁকে ডাকতে দেখলুম খাবার ঘর ভেতর থেকে এঁটে বন্ধ। প্রাণপণে দরজা ঠেলছি কোনও সাড়া নেই। শেষে জানলার খড়খড়ি তুলে দেখি আসনে ছোটপিসিমা বসে, সামনে ভাতের থালা, বড়পিসিমা গ্রাস তুলে তুলে ছোটবোনের মুখে দিচ্ছেন। মাছ মাংস ইত্যাদি যে তিনি কখন কাকে দিয়ে আনিয়েছেন অসুখের বাড়িতে, কখন চুপি চুপি রান্না করে রেখেছেন কেউ জানতে পারেনি। মুখে গ্রাস তুলে দিচ্ছেন আর বলছেন—‘আগে খেয়ে নে রে ছুটি, জীবনে আর কোনদিন ছুঁতে পারবি না।’

    ‘আমি সেখান থেকে ছুট্টে পালিয়ে এলুম। তারপর ছোটপিসিমা যখন মৃত্যুপথযাত্রী স্বামীর পায়ের কাছে এসে দাঁড়ালেন তখন তাঁর পরনে লাল পাড় শান্তিপুরী শাড়ি। মাথায় ডগডগে সিঁদুর, পানের রসে ঠোঁট রাঙা কিন্তু পিসেমশাইয়ের তখন আর জ্ঞান নেই। জ্ঞান হারাবার আগে করুণ চোখে যাকে খুঁজছিলেন তিনি তখন জীবনের শেষ খাওয়া খেতে, শেষ সাজ সাজতে ব্যস্ত।

    ‘সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনকে মেনে নে বন্দনা। কত স্মৃতি যাবে, কত স্মৃতি আসবে, কত কিছু হারাবি, কত পাবি। এভাবে নিজেকে অতীতে প্রোথিত বাড়বৃদ্ধিহীন গাছের শব করে রাখিসনি। তুই যত চলবি, যে ভালোবাসা মানুষকে অন্য মানুষ করে তোলে সে ততই তোর দু হাতে ধরা দেবে। নইলে নয়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তরসাধক – বাণী বসু
    Next Article অষ্টম গর্ভ – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }