Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্বেত পাথরের থালা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প295 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শ্বেত পাথরের থালা – ২৬

    অধ্যায় ২৬

    প্রদীপ বলল—‘আমি প্রস্তাব করছি, অভিরূপ আজ আমাদের সব্বাইকে পার্ক হোটেলে ডিনার খাওয়াবে।’

    —‘আমি এই সাধু প্রস্তাব সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করছি,’ অংশু বলল। অঞ্জু একটা ঝটকা দিয়ে বলল—‘এটা তোমাদের খুব অন্যায়। এটা হতে পারে না। অভিরূপ এখন গার্জেনের হোটেলে খায়।’

    অংশু বলল—‘কড়া ডোজ দিইছিস অঞ্জু, অভিরূপের জন্যে তোর প্রাণ কেঁদে উঠছে সেটাও অ্যাপ্রিশিয়েট করছি। কিন্তু বললে তো হবে না। অভিরূপ সাঁসালো পার্টি। একমাত্তর নয়নের মণি তার ওপর।’

    অঞ্জু বলল—‘ঠিক আছে, আমি সংশোধনী প্রস্তাব আনছি অভিরূপ খাওয়াবে, তবে পার্ক হোটেল নয়, বসন্ত কেবিনে।’

    হাত উল্টে প্রদীপ বললে—‘যা শালা। পার্ক হোটেল থেকে বসন্ত কেবিন। ইম্যাজিনেশন আছে অঞ্জুটার। হবে ওর। জীবনে কিছু পারবে।’ প্রস্তাব পাস হয়ে গেল।

    অভিরূপ এতক্ষণে বলল—‘লে ল্লেঃ, পার্ক হোটেল! দেখেছিস কখনও ভেতরটা? কি ড্রেস পরে যেতিস যদি সংশোধনী ছাড়া প্রস্তাব পাস হয়ে যেত। আমি না হয় বাড়ি থেকে এনে টাকা ফেলে দিতাম।’

    প্রদীপ বললে—‘কি ড্রেস দেখাচ্ছিস তুই বে! জানিস অদূর ভবিষ্যতে এসব হোটেল ফোটেল জনগণের হয়ে যাবে! তুই কি ব্রিটিশ আমল থেকে এলি নাকি? শালা কলোনিয়াল। এই অঞ্জু ওর কান মুলে দে তো!’

    জলি বলল—‘এই তোমরা ব্যাকরণে ভুল করবে না একদম। অঞ্জু কি ওর শালী যে কান মুলে দেবে? কানমলার হক বউয়েদের থাকে না, শালীদেরই একমাত্র থাকে। দিই, অভিরূপ দিই!’

    অভিরূপ একটু লাল হয়ে জলির বাড়ানো হাতের দিকে তাকিয়ে বলল —‘খবর্দার পকেট নিয়ে টানাটানি করছ কর। কান ফানে হাত দিতে এলে লাশ পড়ে যাবে।’

    লাশ পড়ার কথায় সকলেই খুব হাসল। একে তো অভিরূপ এদের চোখে লালটুস, ক্যাবলা, তার ওপর ওদের ভাষা ভালো রপ্ত হয়নি, অথচ বলতে যায়। প্রয়োগে থেকে থেকেই নানারকম ভুল হয়।

    আজকে ওদের সবারই আনন্দ মাত্রাছাড়া। কারণ অনেক দিন ঘোরাঘুরি করে অভিরূপ আজ অঞ্জুর ফাইন্যাল মত পেয়েছে। য়ুনিভার্সিটির আলাপ গড়াতে গড়াতে দু-তিন বছর হয়ে গেল, এখনও পুরো দলটার কফি-হাউজ অধিবেশন বন্ধ করার কোনও কারণ ঘটেনি। অংশুর প্রাইভেট টুইশন, প্রদীপ বাড়ির বাজার সরকার, বাজারের কমিশন থেকে খরচ চলে। অঞ্জু-জলি কিভাবে নিজেদের বাড়ি থেকে হাত-খরচ আদায় করে সেটা টপ সিক্রেট, ওরাই জানে।

    বসন্ত কেবিনে কবিরাজি এবং ফাউল কারি দিয়ে উৎসব পালন করার পর অংশুরা নেহাত দয়া করে অভিরূপ আর অঞ্জুকে ছেড়ে দিল, বলল—‘যা যা, তোরা একটু ঘুরে ঘেরে আয়।’

    অঞ্জুর পরনে কড়া কমলালেবু রঙের ছাপা শাড়ি। সেই একই রঙের লিপস্টিক, টিপ। প্রায় মাঝ-পিঠ অবধি চুল হর্সটেল করে বাঁধা—অঞ্জুর চোয়াল সামান্য উঁচু। নাকবসা। এবং ছড়ানো পৃথুল ঠোঁট। চোখ দুটি প্রতিমার চোখের মতো একটু ওপর দিকে বাঁকানো। চলনে বলনে, ভাষায় ভঙ্গিতে বেপরোয়া বিজয়িনীর প্রত্যয়। লম্বায় অভিরূপ তার থেকে ইঞ্চিখানেকের বেশি নয়। একেবারে গোলগাল, নধর, এক টুকরো কুচকুচে গোঁফ আর চশমায় হঠাৎ দেখলে গাম্ভীর্যটুকু ধরা পড়ে। ভালো করে দেখলে বোঝা যায়, সে যেন ধরা পড়েই আছে।

    বাইরে বেরিয়ে সে বলল—‘এই অঞ্জু, উট্রামে যাবে?’

    —‘আউটরাম? ধুস! দিলুটা রোজ আমায় আউটরামে নিয়ে যেত। পকেট গড়ের মাঠ! ওসব গঙ্গা-ফঙ্গা আমার ভাল লাগে না।’ দিলু অভিরূপের পূর্বসূরী। সেই আণ্ডার-গ্র্যাজুয়েটের দিনগুলো থেকে দিলুর সঙ্গে অঞ্জুর প্রণয় পর্ব চলছিল। দিলু ওকে একটা আংটিও পরিয়ে দিয়েছিল। নানারকম মনকষাকষির পর অঞ্জু আংটিটা খুলে দিয়েছিল। দিলু বলেছিল—‘ফেরত দিচ্ছ। দাও। আমিও মরে যাচ্ছি না। তুমিও না। দিলুও দেখবে কত ধান থেকে তুমি কতো চাল বের করতে পার।’

    দিলুর ব্যাপারটা অভিরূপ জানে। দিলুর পূর্বে যে একটি নওলকিশোর ছিল সে-কথাও। কিন্তু তা সত্ত্বেও দিলুর নাম সে সহ্য করতে পারে না। বলল—‘দিলেটা একেন্নম্বরের বজ্জাত। ওর সঙ্গে তোমার কি?’

    অঞ্জু সোজাসুজি বললে—‘আহা ন্যাকা! জানে না যেন।’

    অভিরূপ হার মেনে বললে—‘ঠিক আছে, কোথায় যাবে বল।’

    —‘সিনেমা! আবার কোথায়।’

    —‘এখন? এখন তো ইভনিং শো আরম্ভ হয়ে গেছে! ঘণ্টা কাবার হতে চলল।’

    —‘তাতে কি? আমাদের তো এয়ার কণ্ডিশনে বসা নিয়ে কথা! হলে বসে অঞ্জু বলল—‘তুমি ওদের মতো ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছ কেন আমার মাথায় আসে না। তোমার মাকে বলো যোগীন্দরে ঢুকিয়ে দেবে!’

    কথাটা যে অভিরূপের মনে হয়নি তা নয়। কিন্তু সে জানে মাকে বলা বৃথা। নিজের কর্মক্ষেত্রে মা ভীষণ ডাঁট নিয়ে থাকে। ছেলের জন্যে উমেদারি করতে মায়ের মাথা-কাটা যাবে। বলল—‘ছাড়ো তো! সীরিয়াসলি লেগেছি যখন, ঠিকই পেয়ে যাব একটা।’

    —‘দূর’ অঞ্জু বিরক্ত হয়ে বলল, ‘বছরের পর বছর ওয়েটিং রুমে বসে থাকতে আমার ভাল লাগে না। দিদির বিয়ে হয়ে গেল, বোনের বিয়ে হয়ে গেল, আমার বেলাই খালি যত বেকার রাঙা মুলো জোটে।’

    অভিরূপ আহত হয়ে বলল—‘অঞ্জু প্লীজ, তুমি আর একটু ভদ্রভাবে কথা বলা অভ্যেস করো, নইলে তোমাকে আমি মায়ের কাছে নিয়ে যাব কি করে?’

    অঞ্জু অম্লানবদনে বলল—‘যা বলেছ! অংশু-ফংশুর সঙ্গে মিশে আমার একটা পার্মানেন্ট ল্যাঙ্গোয়েজ প্রবলেম হয়ে গেল। কি যে করি। তোমার মা আবার যা, দেখলে ভয় লাগে।’

    —‘ভয়? কিসের ভয়!’

    —‘কী গম্ভীর। তার ওপরে সিলভার-টনিকে লাল হয়ে আছে। ডাঁটিয়াল। যাই বলো বাবা।’

    অভিরূপ বলল—‘অঞ্জু, তুমি একটা ইমপসিবল, মা খুব ভালো লোক। একটু গম্ভীর বরাবরই। কিন্তু সেটা হাই-ব্ৰাণ্ড বলে নয়। অনেক শোক দুঃখ পেয়েছে তো। দেখ তুমি গিয়ে যদি হাসি ফোটাতে পারো।’

    অঞ্জু ঘুরে বসে বলল—‘দেখ অভিরূপ, তুমি যদি ভেবে থাক, আমি তোমাকে বিয়ে করব, তোমার মায়ের মুখে হাসি ফোটাবার মিশন নিয়ে, তবে কাটো। এক্ষুনি কাটো।’

    হল মোটামুটি ফাঁকা। ওদের সিট রীয়ার স্টলে। তবু অঞ্জুর শেষ কথাটার তীক্ষ্ণতায় দু চার সারি সামনে বসা কয়েকজন ভদ্রলোক ফিরে তাকালেন। চাপা গলায় বললেন—‘চুপ করবেন?’

    অভিরূপ বলল—‘দেখলে তো? সত্যিই কিন্তু তোমার কথাবার্তার ধরন চেঞ্জ করতে হবে আমাদের বাড়ি যেতে হলে।’

    অঞ্জু তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল—‘দেখা যাবে।’

    এই দলটার সঙ্গে অভিরূপের আলাপ-পরিচয় হয়েছে ইউনিভার্সিটি থেকে। ওর স্কুলের সঙ্গীসাথীরা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকেনি। দু একজন বিদেশে চলে গেছে। কলেজের যে সবচেয়ে বন্ধু, সে-ও কমপিটিটিভ পরীক্ষা দিয়ে এখন ট্রেনিং-এ আছে। অভিরূপের মুশকিল হল সে কিছুতেই একটাতে লেগে থাকতে পারে না। নইলে তার বুদ্ধি-শুদ্ধি একেবারেই খারাপ না। কমপিটিটিভ পরীক্ষার জন্য তৈরি হতে গিয়ে অনার্সটা ভালো হল না, অনার্সটা করতে গিয়ে কমপিটিটিভ পরীক্ষাটাও না। তাছাড়া অনার্সের ফল খারাপ হয়ে যাওয়ায় সে এমনি দমে গেল, আর সর্বভারতীয় পরীক্ষার পড়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতেই পারল না। ইউনিভার্সিটিতে অনেক কষ্টে সুযোগ পাওয়া গেল পলিটিক্যাল সায়েন্সে। তার কলেজের সহপাঠীরা বরানগরে চলে গেল ইকনমিক্স পড়তে। অভিরূপ একদম একা পড়ে গেল। মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কে আজকাল কেমন একটা আড়ষ্টতা এসে গেছে। খারাপ রেজাল্ট দেখে মা খুব মুষড়ে পড়েছিল। ‘ইসস্‌, এতো খারাপ হল কেন রে, রূপ? তুই বড্ড দুটো তিনটে জিনিস একসঙ্গে করতে যাস। একূল-ওকূল দুকূল যায়।’

    —‘গেছে গেছে, সবাই যদি এখন রঞ্জনলাল মুখার্জি না হতে পারে।’

    কলির ছেলে রঞ্জন কলকাতার এক নাম করা স্কুলের নাম করা ভালো ছেলে। মা বলল—‘কারুর সঙ্গে তুলনা করবার দরকার কি?’

    —‘তুলনা আমি করিনি, তুমি করছ।’

    —‘আমি আবার কখন তুলনা করলুম?’

    —‘মনে মনে করেছ। করা অবশ্য স্বাভাবিক। তোমাকে দোষ দিচ্ছি না। আমার লাকটা তো গোড়া থেকেই খারাপ। একদম গোড়া থেকে।’

    মা একটু চুপ করে থেকে বলল—‘রূপ, পরীক্ষায় ভালো মন্দ থাকবেই। আমি কথার কথা বলেছি। ও নিয়ে বেশি মন খারাপ করবার দরকার নেই। তুই আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে যা।’

    ‘—না।’ রূপ তীব্রস্বরে চিৎকার করে উঠল।

    মা আস্তে আস্তে সরে গেল সেখান থেকে।

    রাত্রে খেতে বসে নরম গলায় রূপ বলল—‘মা দেখ, এম-এতে আমি ভালো করবই।’

    মা ভয়ে ভয়ে বলল—‘ইকনমিক্স পাবি তো?’

    —‘এই মার্কসে ইকনমিক্স হবে না। আমাকে পলিটিক্যাল সায়েন্স পড়তে হবে। তবে আমার কথা লিখে রাখো যে যুগটা আসছে সেটা পল সায়েন্সের যুগ। তাছাড়া আই এ এসের জন্য তো আবার বসছিই।’

    মা উদ্বিগ্নস্বরে বলল—‘এম-এটা করে নে না। তারপর আই এ এস-এর কথা ভাবিস।’

    —‘এই জন্যেই তোমার সঙ্গে পরামর্শ করা চলে না। তুমি এতো ওল্ড ফ্যাশনড। এখন আর একেক্কে এক দুয়েক্কে দুই-এর দিন নেই। এখন একসঙ্গে সব করতে হবে। খেলাধুলো, পড়াশোনা, রাজনীতি, স—ব।’

    মা নিঃশ্বাস ফেলে বলল—‘রূপু, তুই সত্যিই এখনও বড় ছেলেমানুষ। একটু আমার কথা মেনেই দেখ না কি হয়। নিজের মতে চলে তো একটা রেজাল্ট…’

    রূপ মাংসের বাটিটা ঠেলে দিল, বলল—‘দূর, খাব না, ভাল লাগে না।’

    মা বলল—‘না, না তুই খেয়ে নে। আমি আর কিছু বলব না।’

    রূপ দেখল পরের দিনই পিসি এল, পিসিতে মায়েতে কিসব গুঞ্জন হল, পিসি যাবার সময়ে বলে গেল—‘রূপু, তোকে তোর পিসে ডেকেছে, কাল পরশুর মধ্যে একবার যাস।’

    যাবে না যাবে না করেও অভিরূপ গিয়েছিল। পিসে সে সময়ে একটা খুব লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল। ওদের অফিসে সেলস-ট্রেনি নেওয়া হচ্ছে, রূপ যদি দরখাস্ত করে পিসে চেষ্টা করবে। রূপ তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলেছিল—‘মার্কেন্টাইল ফার্মের চাকরিতে কি সিকিওরিটি আছে পিসে? সম্মানই বা কি? চাকরি হল সরকারি চাকরি। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস।’

    পিসে হেসে বলেছিল—‘আমার কাছে তো এই চাকরিটাও বেশ সিকিওর আর বেশ প্রেসটিজিয়াসই মনে হচ্ছে রে। এসব চাকরিতে উন্নতির সুযোগ অনেক। ভেবে দেখ, এ সুবর্ণ সুযোগ আর আসবে না। এম-এ পাস করতে করতে বয়স বেড়ে যাবে।’

    —‘ভেবে দেখি।’

    বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে একচোট হয়ে গেল।

    মা বলল—‘সঞ্জয় কি বলল রে?’

    —‘জানোই তো সব।’

    —‘সত্যি জানি না।’

    —‘কেন পিসিতে তোমাতে চুপিচুপি কি যে সব চক্রান্ত করলে আমার বিরুদ্ধে।’

    মা গম্ভীর হয়ে বলল—‘পিসে তোমাকে কিছু যুক্তি পরামর্শ দেবে, তাই শুনেছি। বলতে ইচ্ছে হয় বলো, নইলে থাক।’

    অভিরূপ বলল—‘আচ্ছা মা, আমাকে বইতে কি তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে। ইউনিভার্সিটির মাইনে আর বইপত্রের টাকাটা কি খুব বেশি।’

    —‘এ কথা কেন?’

    —‘কই রঞ্জনলাল মুখুজ্জেকে তো কেউ চাকরির অফার করছে না। সে তো যত খুশি পড়ার চান্স পেয়ে যাচ্ছে। সে কি তার বাবা আছে বলে।’

    মা বলল—‘রঞ্জন এখনও স্কুলের গণ্ডিই পেরোয়নি। তবে হ্যাঁ তাকে ডাক্তারি পড়াবার জন্যে তৈরি করা হচ্ছে এটা ঠিক। কিন্তু রূপ তোমার যে বাবা নেই, তোমাকে যে যত শিগগির সম্ভব নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, মায়ের পাশে, এটা তোমার জায়গায় অন্য যে কোনও ছেলে নিজেই বুঝে নিত। নিজেই ভাবত। আমার অবস্থাও যেমন অন্য পাঁচজন মায়ের মতো নয়, তোমার অবস্থাও তেমন কখনই অন্য পাঁচজন ছেলের মতো নয়। তোমার বাবা নেই। ইট রিয়্যালি মেক্স ভেরি ভেরি বিগ ডিফারেন্স।’

    রূপের কাছে মায়ের উত্তরটা অপ্রত্যাশিত। বাবা না থাকার প্রসঙ্গটা বরাবর মাকে খুব দুর্বল কাঁদো-কাঁদো করে দেয়, সচেতনে না হলেও এটাকে অস্ত্র হিসেবে বহুবার ব্যবহার করে ফল পেয়েছে সে। হঠাৎ সে কিছু জবাব দিতে পারল না। ভুরু কুঁচকে নিজের ঘরে ঢুকে গেল।

    অনেক রাত অবধি ঘুম আসছিল না। মায়ের হাত কপালের ওপর। —‘রূপ।’

    রূপ পাশ ফিরে শুল।

    মা কোমল গলায় বলল—‘তুই চাকরির কথায় ওরকম ভেঙে পড়ছিস কেন? আমি সঞ্জয়কে ফোন করেছিলুম। চাকরিটা খুব ভালো, তুই ঘুরতে ভালোবাসিস, ঘুরতে পারবি। স্কুটার কিনবি একটা। আর চাকরি করতে করতেও তুই আই এ এস-এর জন্যে তৈরি হতে পারবি। সবাইকার ক্ষমতা কি এক ধরনের হয়। রঞ্জুর একদিকে মাথা খোলে তোর অন্যদিকে মাথা খেলবে। আমার ধারণা হাতে কলমে কাজ করে শিখতে তোর ভালো লাগবে রে রূপ।’

    —‘তুমি তাহলে চাও আমি, চাকরিই করি?’

    —‘চাই, কিন্তু পড়াশোনায় ইতি করে নয়। রোজগারের ধান্দার জন্যও না। তোর একটা চেঞ্জ দরকার। একঘেয়ে মুখস্থবিদ্যার আবহাওয়ায় তুই ফুটতে পাচ্ছিস না। চাকরি করলে তুই ছোট হয়ে যাবি না। কিছুদিনের মধ্যেই দেখবি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবি।’

    —‘ঠিক আছে তুমি যদি তাই চাও, তাই হবে।’

    —‘আমি চাই বলে কিছু করিসনি। নিজে ভেবে-চিন্তে ভালো মনে করতে হয় তো কর। নইলে থাক।’

    অনেক রাত পর্যন্ত মা রূপের কপালে হাত বুলিয়ে দিল। আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ল রূপ।

    বন্দনা জানলার ধারে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে থেকে রাতটা কাটিয়ে দিল। সে এতদিনে নিশ্চিত হয়ে গেছে যে রূপের আর পড়াশোনা হবার নয়। ও সব সময়ে নিরাপত্তাবোধের অভাবে ভুগছে। এক জিনিস থেকে আরেক জিনিসে ওর আগ্রহ বদলে যাচ্ছে। মতি স্থির থাকছে না। সঞ্জয় ঠিকই বুঝেছে। চাকরিটা পেলে, চাকরি করলে, ওর আত্মবিশ্বাস আসবে, ও স্থির হবে, ব্যবস্থিত হবে। হে ঈশ্বর চাকরিটা যেন ও করে।

    সকালবেলায় রূপ খুশি মেজাজে বলল, ‘য়ুনিভার্সিটিতে ভর্তিটা তো হয়ে থাকি। চাকরিটা যদি না-ই হয়।’

    সঞ্জয় যেভাবে কথা বলেছিল তাতে বন্দনার সন্দেহ ছিল না যে চাকরিটা ওর হবেই, তবু বলল—‘সে তো ঠিকই, ভর্তি হয়ে থাকতে আপত্তি কি?’

    ফর্ম জমা দেবার লাইনে রূপের ঠিক সামনে দাঁড়িয়েছিল অংশু। ওর কলেজেই পড়ত, কিন্তু ঘনিষ্ঠতা ছিল না। ওকে দেখে বলল—‘এই যে রূপচাঁদ, এসে গেছিস? সব মাল এক ধার থেকে পল সায়েন্সে। ওই দ্যাখ তিনু, আমাদের তিনকড়ি রে, ওই প্রদীপ।’

    এই সময়ে অংশু আর রূপের মাঝখানে দুটি মেয়ে এসে ঠেলেঠুলে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    অংশু বলল—‘যাশ শালা, এ আবার কি? এই, এই ম্যাডাম কি হচ্ছে, এটা একটা কিউ।’

    একটি মেয়ে ঠোঁটের অদ্ভুত ভঙ্গি করে বলল—‘কিউ? তাই বুঝি। এই জলি, এরা বলছে এটা কিউ। কিউ কি রে? শুনেছিস কখনও?’

    জলি নামধারিণী হাত নেড়ে বললে—‘ছেলেমানুষ বলছে, ওদের বলতে দে।’ এরকম অদ্ভুত সংলাপ অভিরূপ তো দূরের কথা অংশু পর্যন্ত কখনও শোনেনি। অংশুকে দেখে মনে হল সে হার স্বীকার করে নিয়েছে। বলল—‘কোন কলেজ ম্যাডাম? ’

    মেয়েটি বোঁ করে পেছন ফিরে গেল, তারপর আবার সামনে ফিরে বলল—‘হল?’

    —‘কি হবে?’

    —‘ওই যে কলেজের নাম জিজ্ঞেস করলেন। গায়ে লেখা আছে, দেখলেন?’

    অংশু বলল—‘যাঃ শালা।’

    জলি হেসে গড়িয়ে পড়ে বলল—‘ব্যাকরণে ভুল করে ফেললেন দাদা, না ভাই, আচ্ছা দাদাভাই, আ-কারের জায়গায় ঈ-কার হবে।’

    দু’জনেই হেসে গড়িয়ে পড়তে লাগল।

    অংশু বলল—‘আপনাদের নাম কি?’

    জলি বলল—‘মাইরি।’

    —‘মাইরি নাম? ধুর।’

    —‘নাম কেন হবে। আপনার বাক্যটার পাদপূরণ করে দিলাম।’ অংশু বোকার মত হাসল।

    জলি বলল—‘আমার নামটা অলরেডি আউট হয়ে গেছে। জলি, শুধু জলি, পদবী, উপাধি ইত্যাদি ফালতু ব্যাপারে বিশ্বাস করি না। আর উনি হচ্ছেন মিস অঞ্জু সরদার। পুরো নাম অঞ্জলি। কিন্তু অমন আদ্যিকেলে নাম ওকে মানায় না বলে ছেঁটে কেটে ছোট করে নিয়েছি। ফিল্মে চান্স পেয়েছে। যে সে না।’

    অভিরূপ এতক্ষণ চুপ করেছিল, লোভ সামলাতে না পেরে বলল—‘একসট্রা না কি?’

    জলি বলল—‘একসট্রা? তুমি হও গে ভাই গণেশদাদা। অঞ্জু ভ্যাম্প-এর রোল ছাড়া নেয় না। গড়িয়ে গড়িয়ে নাচতে হয়। চোখ নাচবে, কোমর নাচবে, সব নাচবে, পারবেন? কি গণেশদাদা পারবেন?’

    অঞ্জু বললে—‘বাদ দে। বাদ দে।’

    ওদের দু’জনকে অনায়াসে টপকে সামনে এগিয়ে যেতে যেতে অঞ্জু বলতে লাগল—‘লেডিজ ফার্স্ট, লেডিজ ফার্স্ট ।’ সবার আগে ফর্ম জমা দিয়ে রিসিট চোখের ওপর নাচাতে নাচাতে বেরিয়ে গেল।

    অংশু বললে—‘বোওল্ড। ক্লীন বোওল্ড। এক্কেবারে তুখোড় ইয়র্কার রে! ব্যাটের তলা দিয়ে গলে গেল।’ তারপর গলা নিচু করে বলল—‘চাবুকের মতো ফিগার, দেখেছিস অভিরূপ?’

    এই নতুন ইয়ারদের হুল্লোড়ের জগতে এমন নেশাড়ের মতো জমে গেল রূপ যে ইনটারভিউয়ের দিন সে যখন আড়াই ঘণ্টা লেট করে সঞ্জয় পিসের বিখ্যাত আপিসে পৌঁছল তখন সেটা কতটা ট্র্যাফিক-জ্যামে আটকে পড়া বা রাস্তার আধলা ইঁটে হোঁচট খেয়ে পা কেটে যাওয়ার জন্য আর কতটা ভেতরের অনিচ্ছা থেকে, বলা শক্ত।

    এখন সেই চাকরিটার কথা ভেবে তার হাত পা কামড়াতে ইচ্ছে হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তরসাধক – বাণী বসু
    Next Article অষ্টম গর্ভ – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }