Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্যামাপ্রসাদ : বঙ্গবিভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ – দীনেশচন্দ্র সিংহ

    দীনেশচন্দ্র সিংহ এক পাতা গল্প541 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. যুক্ত বঙ্গ পরিকল্পনা বানচালে শ্যামাপ্রসাদের মরণপণ সংগ্রাম

    দ্বাদশ অধ্যায় – যুক্তবঙ্গ পরিকল্পনা বানচালে শ্যামাপ্রসাদের মরণপণ সংগ্রাম : পরিকল্পনার পঞ্চত্বপ্রাপ্তি : হিন্দুর হোমল্যান্ড হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি

    এতক্ষণ যুক্তবঙ্গ নিয়ে যাঁরা অশুভ আঁতাত গড়েছেন তাঁদের কথা বলা হল। এখন এই চেষ্টা বানচালে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী সহ যাঁরা কোমর বেঁধে লেগেছেন তাঁদের কথা। স্বাধীন যুক্তবঙ্গের প্রয়াস ও পরিণতি নিয়ে তথ্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন ডঃ অমলেন্দু দে। এই বিষয়ে তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ “স্বাধীন বঙ্গভূমি গঠনের পরিকল্পনা : প্রয়াস ও পরিণতি” থেকে প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি দিয়ে এই প্ৰচেষ্টা বানচালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সমেত হিন্দু মহাসভা নেতৃবৃন্দ ও বাংলার বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা যেতে পারে।

    বঙ্গভঙ্গ দাবির সময়কাল

    “১৯৪৬ খ্রীস্টাব্দের ১৬ই আগস্ট কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়েই এই দাবি উত্থাপিত হয়। মুসলমানদের হাত থেকে হিন্দুদের রক্ষা করার জন্য হিন্দু মহাসভা বঙ্গভঙ্গের দাবি করে। এই সময় থেকেই হিন্দু মহাসভা হিন্দু মধ্যবিত্তের মধ্যে এই দাবির সমর্থনে প্রচার শুরু করে। কয়েকজন খ্যাতনামা অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীও এই প্রচার অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন।

    ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের জানুয়ারী মাসে আজাদ হিন্দ ফৌজের মেজর জেনারেল এ. সি. চ্যাটার্জী বঙ্গভঙ্গের উদ্দেশ্যে একটি সমিতি গঠন করেন। লীগ মন্ত্রিসভা নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হওয়ায় হিন্দুদের মধ্যে এই দাবির প্রতি সমর্থন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে কংগ্রেস এই প্রচারের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করতে সচেষ্ট না হওয়ায় স্বাধীনতাকামী জাতীয়তাবাদীদের মধ্যেও বঙ্গ ভঙ্গের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের মনোভাব জাগ্রত হয়। ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ফেব্রুয়ারী মাসে হিন্দু মহাসভা ‘বাংলার হিন্দুদের জন্য একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ’ গঠনের উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করে এবং তারপর বিভিন্ন জেলায় হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে প্রবল আন্দোলন শুরু করে। ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ৪ঠা এপ্রিল শুক্রবার থেকে তিনদিন ধরে বঙ্গীয় হিন্দু মহাসভা কনফারেন্স তারকেশ্বরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ৪ঠা এপ্রিল নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে বলেন, যেহেতু মুসলিম লীগ বাংলাদেশে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর, সেজন্য হিন্দুরাও বাংলায় একটি শক্তিশালী জাতীয় সরকারের অধীনে একটি পৃথক প্রদেশ গঠন করবে। বাঙালী হিন্দুদের নিকট এটা একটা জীবন-মরণের প্রশ্ন। যদি হিন্দুদের পছন্দমত কোন শাসনতন্ত্র না হয়, তাহলে তাঁদের হিন্দু-বিরোধী সাম্প্রদায়িক শাসনের অধীনে দাসত্বের জীবন যাপন করতে হবে। তিনি তাঁর দীর্ঘ ভাষণে খুবই সুস্পষ্টভাবে বলেন, আমরা বঙ্গভঙ্গের মারফত হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক মাতৃভূমি চাই। নির্মল চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (সি. পি. এম. নেতা সোমনাথ চ্যাটার্জীর পিতা) ভাষণ থেকে কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত করা হল : “Let us declare today that as the Muslim League persists in its fantastic idea of establishing Pakistan in Bengal, the Hindus of Bengal must constitute a separate Province under a strong National Govern-ment. This is not a question of partition. It is a question of life and death for us, the Bengalee Hindus. Unless you can have an administration of your own choice, you shall be serfs under an anti-Hindu communal regime and you can never get out of the prevailing sense of frustration and defeatism and you can never protect your oppressed brother and sister.”

    ৫ই এপ্রিল তারকেশ্বরের এই হিন্দু মহাসভা সম্মেলনে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, দেশ ভাগের মধ্য দিয়েই সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন : I can conceive of no other solution of the communal problem in Bengal than to divide the province and let two ma-jor communities residing herein live in peace and freedom.” 8 এপ্রিল বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি বাংলাদেশ বিভাগের পক্ষে যে সিদ্ধান্ত নেয় তাকে স্বাগত জানান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

    ৬ই এপ্রিল তারকেশ্বরে এই সম্মেলন উপলক্ষে এক মহতী জনসভা হয় এবং ঐ দিনই সম্মেলনের মূল প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপিত করেন সনৎকুমার রায়চৌধুরী ও সমর্থন করেন ঢাকার সূর্যকুমার বসু

    প্রায় একই সময়ে বাংলার কংগ্রেসও বাংলাদেশ বিভাগের দাবিতে প্রস্তাব গ্রহণ করে। ৪ঠা এপ্রিল কলকাতাতে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির কার্যকরী সমিতি একটি প্রস্তাবে দাবি করে, যদি ব্রিটিশ সরকার ২০শে ফেব্রুয়ারীর ঘোষণা অনুযায়ী বাংলার বর্তমান প্রাদেশিক সরকারের নিকট ক্ষমতা অর্পণ করে, তাহলে বাংলার যে অংশ ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় সেই অংশে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করতে হবে এবং বাংলাদেশের গঠনতন্ত্র রচনায় যদি সার্বজনীন ভোটের অধিকার, যুক্ত নির্বাচন প্রথা ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার ব্যবস্থা না গৃহীত হয় তাহলে বাংলাদেশ বিভক্ত করে দুটো প্রদেশ গঠন করতে হবে; আর যে অংশ উল্লিখিত নীতি অনুযায়ী শাসনতন্ত্র রচনা করতে চাইবে সেই অংশকে সেই অধিকার দিতে হবে। প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি এও দাবি করে যে, ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে অন্তবর্তিকালীন দুটো আঞ্চলিক মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। লক্ষণীয় এই যে, বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়ে প্রাদেশিক কংগ্রেসের এই কার্যকরী সভায় উপস্থিত ছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কে. সি. নিয়োগী, এম এল. এ. ডাঃ বি. সি. রায়, নলিনীরঞ্জন সরকার, ডঃ পি. এন. ব্যানার্জি, কুমার দেবেন্দ্রলাল খান, এম. এল. এ. (সেন্ট্রাল), মাখনলাল সেন ও অতুলচন্দ্র গুপ্ত। বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব গ্রহণ করায় বাংলার কংগ্রেস সক্রিয়ভাবে এই দাবির সমর্থনে জনমত গঠন করে। এইভাবে কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা একই ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং একই সঙ্গে বঙ্গভঙ্গের দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করে।

    হিন্দু মহাসভার নেতৃবৃন্দ বঙ্গভঙ্গের আন্দোলনকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যান যে, তাঁরা একথাও বলতে শুরু করেন, যদি পাকিস্তান গঠিত নাও হয় তাহলেও বাংলায় হিন্দুপ্রধান অঞ্চল নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করতে হবে। ২২ এপ্রিল নয়া দিল্লিতে একটি জনসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন : “পাকিস্তান যদি গঠিত নাও হয়, মুসলিম লীগ যদি মন্ত্রী মিশন-পরিকল্পিত দূর্বল কেন্দ্রীয় ক্ষমতা মানিয়াও লয়, তাহা হইলেও বাংলার হিন্দু মেজরিটি অঞ্চলে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করিতে হইবে।” শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাষণ থেকে কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত করা হল :

    “This separation must not be dependent on Pakistan. Even if Pakistan is not conceded and some form of a weak and loose centre envisaged in the Cabinet Mission Scheme is accepted by the Muslim League, we shall demand the creation of a new province composed of the Hindu majority areas in Bengal.”

    প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ২৯শে মার্চ কলকাতাতে ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ান এসোসিয়েশনের ৯৫তম বাৎসরিক সাধারণ সভাতে একটি প্রস্তাবে বাংলাদেশ বিভাগের দাবি এবং হিন্দুদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের দাবি করা হয়। তখন ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ান এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা ছিলেন বর্ধমানের মহারাজা স্যার উদয়চাঁদ মহাতব, পি. এন. সিংহরায়, মহারাজা শিরীষচন্দ্র নন্দী, মহারাজা প্রবেন্দ্রমোহন ঠাকুর, মহারাজ কুমার সীতাংশু কান্ত আচার্য চৌধুরী, অমূল্যধন আড্ডি ও অমরেন্দ্র নারায়ণ রায়।

    এইভাবে বাঙালী হিন্দুদের স্বতন্ত্র মাতৃভূমির দাবি উত্থাপিত হয়।”

    এই দাবি কেমন করে অঙ্কুর থেকে মহীরুহে পরিণত হয় তার বিবরণ সংক্ষেপে বলা দরকার :

    In the “Roy’s Weekly “ published from Simla which first sug-gested division of Bengal to solve the communal problem. Then Prof. Hemant K. Sarkar wrote a series of articles on the creation of a separate province of West Bengal in “Daily Basumati” in 1946. The great Calcutta killing later gave an im-petus to the movement and the correspondence columns of the “The Statesman” and the “ Amrita Bazar Patrika” were opened to writers for and against partition. As the prospects of Pakistan brightened the leaders of the Hindu Mahasabha in Bengal formulated a plan for the partition of Bengal.

    Syama Prasad Mookherjee led the movement with the warn-ing that if Bengal, “as it was constituted and administered to day” was allowed to become a separate independent State cut off from the rest of India, the Hindus would resist it with their lives. He demanded partition of Bengal “whether Pakistan comes or not. (The last phase of the Transfer of Power-Vijai Shankar Rai).

    এই দাবির সমর্থনে শ্যামাপ্রসাদের অগ্রণী ভূমিকার কথা অন্যান্য সূত্র থেকেও সমর্থিত :

    “গান্ধীজী গ্রুপ ভাঙ্গিয়া অসমকে স্বাধীন হইবার পরামর্শ দিয়াছেন।” মাইনরিটি মুসলমান, ভারতে সেফ গার্ড খুঁজিতেছে, সে যুক্তিতে বঙ্গের হিন্দুর সেফ গার্ডের দাবি। সম্প্রতি বাংলার কয়েকজন নেতা, পশ্চিমবঙ্গ নামে স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করে এই সমস্যার সমাধানে প্রয়াসী–কারণ বাংলার লিগ সংখ্যাধিক্য শাসনাধীনে, বাঙালী হিন্দুর ধন, প্রাণ, স্বার্থ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, নারীর মর্যাদা বিপর্যস্ত। সম্মেলন স্বতন্ত্র পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ গঠনের দাবি জানাইতেছে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ, মেজর জেনারেল এ. সি. চ্যাটার্জি, ডঃ প্রমথনাথ বাঁড়ুজ্জে প্রমুখ ব্যক্তি এই আন্দোলনের কার্যকরী সমিতির সদস্য, সুতরাং চেষ্টার ত্রুটি হইবে না।” (সজনীকান্ত দাস, সম্পাদক-শনিবারের চিঠি, পৌষ, ১৩৫৩ সংখ্যা)।

    বাংলাভাগের দাবি গণদাবিতে পরিণত : তারকেশ্বরে হিন্দু কনফারেন্স

    বাংলাভাগের দাবি কয়েকজন নেতা ও বুদ্ধিজীবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে গণ-দাবিতে রূপদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল :

    “As a result, the Bengal Hindu Mahasabha convened a conference at Tarakeswar (District Hooghly) on 5 April, 1947 under the Presidentship of N.C. Chatterjee. A resolution was passed authorising S.P. Mookerjee to constitute a Council of action to establish a separate homeland for the Hindus of Bengal. It was also decided that 1,00,000 volunteers were to be enrolled by the end of June, 1947. The Constituent Assembly was asked to appoint a Boundary Commission, and as soon as the area of Legislative Assembly in this area were to be demarcated that it should be constituted into a province.

    The conference also decided to seek support of the Congress in achieving this aim. However, this demand of dividing Bengal as raised by the Hindu Mahasabha was rejected by the Muslim League. The latter considered it a joint move of the Hindu Mahasabha and the Congress which intended to crush the Muslim demand for Pakistan.”

    বাংলাকে বিভক্ত করা হবে কেন?— ডঃ শ্যামাপ্রসাদ

    পাকিস্তান হাসিল করার জন্য মুসলিম লীগ যে ত্রাস সৃষ্টি করেছে তাকে ‘ক্রাস’ করার অর্থাৎ ভাঙার যে কোনও প্রচেষ্টাই অভিনন্দনযোগ্য। হিন্দু মহাসভা সে চেষ্টাই করেছে। একখানি পুস্তিকায় শ্যামাপ্রসাদ বলেছেন— “In a pamphlet entitled “Should Bengal be divided into two provinces?” (Syama Prasad Mookerjee papers, Speeches and Writings by S.P. Mookerjee, Srl.No. 6), Syamaprasad Mookerjee refuted the argument that no government could possibly crush the Hindus who constituted 45% of the Bengal. He said it was not the numbers that mattered. What mattered was the system of administration and a glaring example was Hyderabad where 90% Hindus were groaning under a tyrannical rule. He de -fended his proposal for division of Bengal on practical as well as administrative grounds……..”

    হাসিম ও সুরাবর্দী : কেউটে থেকে ঢোঁড়া : সোনার বাংলা গড়ার কসম

    শ্যামাপ্রসাদের এই আপসহীন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া ঘটতে দেরি হল না। বিভেদকামী বিচ্ছিন্নতাবাদী মুসলিম লীগ নেতারা হঠাৎ ছোরা লাঠি ছেড়ে কান্নাকাটি শুরু করলেন। সুরাবর্দী বললেন, তিনি হিন্দু মুসলমানের মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাধীন সোনার যুক্ত বঙ্গ গড়বেন; আর আবুল হাসিম বললেন, যুক্ত বাংলায় অখণ্ড বঙ্গ সংস্কৃতির বেস্ত তৈরি হবে :

    “১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ২৯শে এপ্রিল আবুল হাসেম এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে সত্য কথা বলার। আমি বিস্মিত হই এই ভেবে, যাঁদের মধ্য থেকে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, চিত্তরঞ্জন দাশ ও সুভাষচন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে, সেই বাংলার হিন্দুদের হল কি?”

    কোন্‌টা আসল রূপ?

    এই প্রশ্নের জবাব তো জনাব হাশিম ১৬ আগস্ট ‘৪৬ এবং ১০ অক্টোবর ‘৪৬ তারিখের ইতিহাসের পাতাতেই পাবেন, আর সে ইতিহাসের রূপকারদের মধ্যে অন্যতম তো স্বয়ং হাশিম সাহেব!

    সুতরাং তিনি যখন বলেন, “হিন্দু ও মুসলিম যুবকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, বিজাতীয় প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া, বাংলার হৃতগৌরব উদ্ধার করা এবং ভারত ও পৃথিবীর মধ্যে বাংলাকে এক সম্মানিত আসনে প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন। অতীতের ঐতিহ্য ও বর্তমানের সংগ্রাম থেকে প্রেরণালাভ করে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বাংলার যুবকদের চরিত্র গঠন করতে হবে। আবুল হাশেম আরও বলেন, হিন্দু ও মুসলমান তাদের নিজস্ব সত্তা বজায় রেখে, তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায়, এখানকার জলবায়ুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একই সুন্দর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে তুলেছেন”-তখন শুনতে অবাক লাগে বই কি! রত্নাকর দস্যুর রাতারাতি এমন বাল্মীকি-তে রূপান্তর কোন্ জাদুবলে? এরই সঙ্গে পাঠক তুলনা করে দেখতে পারেন মাত্র ৯ মাস আগে ১৬ আগস্টের দাঙ্গার প্রাক্কালে বিতরিত হাশিম সাহেবের রক্তখেকো বিবৃতি ( ৯৪ পৃষ্ঠা)।

    সুতরাং হাশিম-সুরাবর্দীদের কোনটা আসল রূপ তা বোঝা দায়। কারণ ১৬ আগস্টের রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার পর এই সুরাবর্দীই বোম্বাইতে বলেছেন— “When a nation fights against another nation I cannot guarantee civilized conduct.” আর এখন বাংলাভাগের দাবি জোরদার হতেই তাঁর মুখে শান্তির ললিতবাণী ও সোনার বাংলা গড়ার জন্য হিন্দুদের প্রতি আকুল আবেদন? ক্রিপস্ সাহেবের সঙ্গে আলোচনা কালে সুরাবর্দী হিন্দুদের বিরুদ্ধে যে ধরনের ভাষা প্রয়োগ করেছেন তাকে ওয়াভেল “ A hymn of hate against the Hindu”. হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-কীর্তন বলে অভিহিত করেছেন। তাহলে কোন্‌টা তাঁর আসল রূপ?

    আক্রম খাঁর আক্রমণাত্মক বিবৃতি : যুক্তবঙ্গ মুর্দাবাদ

    কিন্তু হাশিম ও সুরাবর্দীর এসব সাধু (?) প্রচেষ্টায় হিন্দুরা তো দূরের কথা মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট মৌলানা আক্রম খাঁ সমেত শক্তিশালী অংশই সামিল হতে রাজী নয়। হিন্দু-মুসলিম ঐক্য, অখণ্ড বঙ্গ সংস্কৃতি, একই মাতৃভাষা কথাগুলি তাদের কানে হুল ফোটায়। বিধর্মী প্রতিবেশী হিন্দুর চেয়ে হাজার মাইল দূরের স্বধর্মী পরদেশীই তাদের আপন জন। সুতরাং তারা স্বাধীন বাংলা, অখণ্ড সংস্কৃতি ইত্যাদি ছেঁদো কথায় কান দিতে নারাজ। তারা লাহোর প্রস্তাবানুসারে পুরো বাংলারই পাকিস্তানভূক্তি চায়। আক্রম খাঁ এক বিবৃতিতে বলেন—

    “বিভাজন রোখার জন্য বাংলাকে পাকিস্তান এলাকা থেকে বিমুক্ত করতে হবে এরকম প্রস্তাবের আমি তীব্র বিরোধিতা করি। … যারা হিন্দু-মুসলমানকে বাঙালী জাতি এবং তার ভিত্তিতে পৃথক সার্বভৌম বাংলার কথা বলে তারা স্পষ্টতই আমাদের শত্রুর হাতের খেলনায় পরিণত হয়েছে।” আর একটি বিবৃতিতে তিনি বলেন—

    “মুসলিম বাংলা অবশ্যই বঙ্গভঙ্গের বিরোধী। বঙ্গভঙ্গ হতে পারে কেবলমাত্র বাংলার মুসলমানের মৃতদেহের উপর; লাহোর প্রস্তাবে যে খসড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোন প্রস্তাবই আমি সমর্থন করি না।” (১৯ এপ্রিল, ১৯৪৭)।

    সুতরাং হাশিম-সুরাবর্দীর মুখে একগাল মাছি। যুক্তবঙ্গের বেলুন মুসলিম লীগ থেকেই ফাঁসিয়ে দেওয়া হল।

    বারোজের বেসামাল অবস্থা ও বাচাল উক্তি : শ্যামাপ্রসাদকে ব্যক্তিগত আক্রমণ

    বাংলাভাগের দাবি উত্তরোত্তর জোরদার হতেই বারোজ দেখলেন তাঁর সাধের স্বাধীন বঙ্গ প্রস্তাব ভেস্তে যেতে বসেছে। তিনি বাংলার হিন্দুদের আহত মর্যাদা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলেন; বরং ব্যঙ্গের সুরেই বললেন তারা না কি বাংলার একাংশের শাসনভার হাতে পাওয়ার জন্যই বাংলা ভাগের আন্দোলন চালাচ্ছে :

    “Sir Frederic Burrows said that he was not sure that there was a general demand among the Bengali Hindus as a whole for partition of Bengal. The idea, however, was being ‘sold’ rather well. There was a definite attempt because of the feeling of frustration among the Hindus in Bengal, to get command at least part of the Province.”

    হিন্দু মহাসভা বঙ্গীয় আইন পরিষদে একটিমাত্র আসন পেলেও তারাই যে প্রকৃতপক্ষে বাংলার হিন্দু জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে সেকথা বারোজ সাহেব প্রকারান্তরে স্বীকার না করে পারেননি। আর সেজন্য তিনি বামহস্তে হলেও ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে ‘স্যালুট’ না জানিয়ে পারেননি। শ্যামাপ্রসাদ যে বারোজ সুরাবর্দীর স্বাধীন বাংলার চাল বানচাল করে দিলেন, তজ্জন্য তিনি ক্ষোভের সঙ্গে হলেও সত্য কথাটি বলে ফেলেছেন :

    “Dr. Mukherjee was a clever and unscrupulous politician. The Hindu Mahasabha had failed completely to gain represen-tation in the Legislative Assembly except for Dr. Mukherjee’s own seat. They were, however, good propagandists.”

    প্রকাশ্যে যাই বলুন গোপনে শ্যামাপ্রসাদের সংগঠন শক্তি অস্বীকার করেননি বারোজ

    বারোজ ভেবেছিলেন ঢাকায় কিরণশঙ্কর রায়ের জমিদারি স্বার্থের দুর্বলতায় এবং কলকাতায় শরৎ বসুর রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আকাঙ্ক্ষায় সুড়সুড়ি দিয়ে তিনি স্বাধীন বাংলা পরিকল্পনা রূপায়ণ মারফত মুসলমানদের মনোরঞ্জন করত : ব্রিটিশ বাণিজ্যিক স্বার্থ-সংরক্ষণ করবেন। তার ফলে বাংলার হিন্দুস্বার্থ জলাঞ্জলি হলে তার কিছু যায় আসে না। কিন্তু তাঁর এই সাধের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে শ্যামাপ্রসাদ কোমর বেঁধে লেগেছেন। ১২ এপ্রিল ‘৪৭ তারিখে বারোজ মাউন্টব্যাটেনকে এক গোপন পত্র লেখেন। তাতে বাংলা ভাগ নিয়ে হিন্দু মহাসভার তুমুল আন্দোলন এবং তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত বিশাল হিন্দু মহাসভা কনফারেন্সে ডঃ মুখার্জীর উপর আন্দোলনের নেতৃত্ব ভারার্পণের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বারোজ লেখেন :

    “The movement for partitioning Bengal……continues to gather strength. A conference convened by the Hindu Mahasabha at Tarakeshwar (Hooghly district) during the Easter holidays was attended by a very large and enthusiastic audience. A resolution was passed authorising Dr. Syamaprasad Mukherjee to constitute a council of action to establish a separate homeland for the Hindus of Bengal; 1,00,000 volunteers are to be enrolled by the end of June, the Constitu-ent Assembly are to be asked to appoint a Boundary Commis-sion; and as soon as the area of the new Province has been settled, the Hindu Members of the Legistative Assembly in this area are to demand that it should be constituted into a province; if necessary leaving the Bengal Assembly and forming themselves into a separate legislative body. It was emphasized that the new province should be constituted before the British Govt. transferred power. Another resolution demanded the for-mation of two regional Ministries as an immediate step to restore peace and order in the province.”

    বাংলা ভাগের দাবিতে কংগ্রেস ও লীগ বেসামাল : গান্ধীজীর মৌনাবলম্বন

    বাংলা ভাগের দাবি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতেই মুসলিম লীগ তো চটেছেই, কংগ্রেসীরাও শ্যামাপ্রসাদকে দোষারোপ করতে শুরু করেছে :

    “As this move gained momentum and strength it began to be subjected to severe attack both by the Muslim League and the Congress. The Congress critics who perturbed more by the growing influence of Dr. Mookerji on the Hindu masses than by the move itself began to shift the onus of accepting partition of the country on Dr. Mookerji. They asserted that the creation of the new provice as visualised by Dr. Mookerji would support the cause of Pakistan.”

    কিন্তু শ্যামাপ্রাসাদ এসব মিনমিনে কংগ্রেসীদের মতামতকে কোনও মূল্য দিতেই রাজী ছিলেন না। তিনি ৯ মার্চ ‘৪৭ তারিখে কংগ্রেসীদের সমালোচনার জবাবে যে বিবৃতি দেন, তার জবাব দেবার মতো মুখ তাদের ছিল না :

    Dr. Mookerji replied to the criticism through a detailed statement issued on March 9, 1947. “It is wrong” he said “that his move supported the cause of Pakistan. We are against Pakistan in any shape or form. It does not, howerver, depend on Bengali Hindus alone whether division of India will be pre-vented or not. If Hindus and other nationalist forces through-out India are really determined not to allow any portion of India to go out of the Indian Union, they will get the largest measure of support from Bengali Hindus. If on the other hand an attempt is made to place Bengal out of the Indian Union due to commitments with which the British, Government, the Muslim League and the Congress are closely associated, we shall at any rate break the solidarity of Eastern Pakistan, save one area of Bengal and link it up with the Indian Union.”

    শ্যামাপ্রসাদ সরাসরি কংগ্রেসের হাই কম্যান্ড গান্ধীজীর সঙ্গে দেখা করে যুক্তবঙ্গে র বিরুদ্ধে তাঁর যুক্তি পেশ করে গান্ধীজীর মতামত জানতে চান; কিন্তু গান্ধীজী কোনও উত্তর না দিয়ে মৌনাবলম্বন করে থাকেন :

    He met Mahatma Gandhi at Sodpur on 13th of May, 1947, to ascertain his views on the Suhrawardy scheme of United Sovereign Bengal. Gandhijt told Dr. Mookerji that he had not yet made up his mind but was trying to find out what the pro-posal really meant. He then asked Dr. Mookerji about his own opinion about it. Dr. Mookerji replied that though apparently Mr. Suhrawardy was the author of this scheme, it was really being sponsored by the British commercial interests and that Lord Mountbatten had personally asked him to give the pro-posal careful consideration. But, Dr. Mookerji asked, what was there to prevent this United Sovereign Bengal from seeking voluntary alliance with Pakistan. Mr. Suhrawardy, he feared, could surely manipulate a decision of this kind with the help of the majority of Muslim votes “Can you contemplate Bengal lying separate from the rest of India?” he asked Gandhiji, to which he had no reply.”(Portrait of a Mortyr-Balraj Madhok)

    কংগ্রেসীদের প্রতি আহ্বান : হিন্দুর ভোটেজিতেছেন, হিন্দুর স্বার্থ রক্ষা করুন : অবশেষে কংগ্রেসও দাবিতে সামিল

    প্রাদেশিক আইন সভায় তো হিন্দু মহাসভা প্রতিনিধি মাত্র একজন, স্বয়ং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ। তাই তিনি আহ্বান জানালেন কংগ্রেসী সদস্যদের হিন্দু সদস্যরূপে। কারণ তারা সবাই হিন্দু; হিন্দুদের ভোটে নির্বাচিত। তারা কংগ্রেসী নামের আড়ালে নিজেদের হিন্দু পরিচয় গোপন করে থাকেন। ডঃ মুখার্জী বাঙালীর এই ঘোর দুর্দিনে কংগ্রেসীদের স্বপরিচয়ে আত্মরক্ষার পথনির্দেশ দিলেন; এবং তার ফল ফলতেও বিলম্ব হল না।

    হিন্দু মহাসভা বাংলা ভাগের দাবি নিয়ে সোচ্চার হতেই কংগ্রেসীরা দেখল হিন্দুরা তাদের নপুংসকতায় ক্ষুব্ধ হয়ে হিন্দু মহাসভার পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে। তখনই বাংলার কংগ্রেস দল নড়েচড়ে ওঠে। তারাও তখন কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের মতামতের তোয়াক্কা না করে হিন্দু মহাসভার প্রস্তাবানুসারেই বাংলার হিন্দু গরিষ্ঠ ও মুসলমান গরিষ্ঠ অঞ্চলের জন্য দু’টি আলাদা মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি তোলে। বারোজের উপরিউক্ত চিঠি থেকে জানা যায় :

    “On the same day as the Tarakeswar Committee, the Execu-tive committee of the Bengal Provincial Congress Committee also urged the immediate setting up of two regional Ministries and resolved that if His Majesty’s Government contemplated handing over its power to the existing Government of Bengal, such portion of Bengal as wished to remain in India should be formed into a separate Province.”

    দেখাই যাচ্ছে কংগ্রেসীরা শ্যামাপ্রসাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা ছাড়া আর গত্যন্তর দেখেননি।

    মুসলিম লীগের আক্কেল গুড়ুম

    হিন্দু মহাসভার বাংলাভাগের দাবিতে বাংলার কংগ্রেস দলকে সামিল হতে দেখেই মুসলমানদের টনক নড়ল। এতদিন তারা ‘হাতে বিড়ি মুখে পান, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ গেয়েছে বুক চিতিয়ে, এখন তারা বুঝতে পারল নিজেদের তৈরি অস্ত্রেই তারা ঘায়েল হতে চলেছে। তাদের বিচলিত ভাব বারোজের পত্রে গোপন থাকেনি :

    “The attiude of the Hindu Mahasabha has surprised nobody, but the Muslims have been quick to criticise the manner in which the local Congress leaders have subordinated national-ism to communalism.”

    মামদোর মুখে রামনাম আর কাকে বলে! কংগ্রেস জাতীয়তাবাদ বিসর্জন দিয়ে সম্প্রদায়িকতাবাদের আশ্রয় নিচ্ছে, তাতে মুসলমানদের মর্মব্যথা!

    কম্যুনিস্ট দল এবং শরৎ বসুর ফরোয়ার্ড ব্লকও বাংলা ভাগের বিরোধী। তারা স্বাধীন যুক্ত বাংলার নামে প্রকারান্তরে পুরো বাংলাকেই পাকিস্তান বানাতে সওয়াল করে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলার হিন্দু জনমত যে তাদের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে তা বারোজও স্বীকার না করে পারেননি :

    “The Communists contitnue to oppose partition, as does Sarat Bose’s Forward Block, but the weight of Hindu opinion has definitely swang against them.”

    আর মুসলিম নেতারা বাংলা ভাগের দাবি তাঁদের পাকিস্তান দাবিকে জবাই করার হিন্দু কৌশল মনে করলেও অচিরে তাঁদের খোয়াব ভঙ্গ হতে দেরী হল না। চিরকাল বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী ও অখণ্ড ভারতের পূজারী হিন্দু জনমত যে মুসলিম লীগের ছোরামারা রাজনীতিতে বীতশ্রদ্ধ হয়েই বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা মুসলিম অপশাসন থেকে রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তা তাঁরা বিলম্বে হলেও বুঝতে পারলেন :

    “The Muslim Leaders are trying to laugh the movement off as a political strunt to kill Pakistan, but I think they now realise that the partitionists mean business.”

    স্বাধীন বাংলা কার্যত Virtual Pakistan :— শ্যামাপ্রসাদ

    জিন্না-সুরাবর্দী ঘুঘুর দল বাংলাকে পাকিস্তান বানাবার দাবি ছেড়ে হঠাৎ স্বাধীন যুক্তবঙ্গের যে ফাঁদ পেতেছে, সে ফাঁদে ধরা দিলে সমগ্র বাঙালী হিন্দুর কি দশা হবে দূরদর্শী শ্যামাপ্রসাদ তা দিব্যচক্ষে দেখতে পেয়েছিলেন। মুসলিম রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে শ্যামাপ্রসাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশী। তিনি গান্ধীজীর রামধুন-মার্কা হিন্দু-মুসলিম মিলন প্রচেষ্টার ব্যর্থতা ও অসারতা সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন বলেই ভবিষ্যৎ স্বাধীন বাংলায় তাঁদের কি হাল হবে সে সম্পর্কে তাঁর মনে দ্বিধা ছিল না। স্বাধীন বাংলা অদূর ভবিষ্যতে কি রূপ ধারণ করবে তা মুসলমান নেতাদের বক্তব্য থেকেই ধরা পড়ে— ‘a sort of Pakistan, ‘Subsidiary Pakistan’ শব্দ জিন্না-সুরাবর্দীরা হেলাফেলা ভরে বলেননি। তাঁরা ভেবেছিলেন অখণ্ড বঙ্গের ধুয়া তুলে হিন্দুদের দুর্বলতায় সুড়সুড়ি দিয়ে, আগে তো ভারত থেকে বেরিয়ে আসা যাক; তারপর স্বমূর্তি ধারণ করে গোটা বাংলাকেই পাকিস্তানে ঢুকিয়ে দিতে আর কতক্ষণ! তাঁদের সে ফাঁদে শরৎ বসু-কিরণশঙ্কর রায়েরা ধরাও দিয়েছিলেন। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদকে কোনও ছলাকলাতেই ভোলান যায়নি। স্বাধীন বাংলা যে প্রকারান্তরে পাকিস্তানেই পর্যবসিত হবে সে সম্বন্ধে তিনি নিঃসন্দেহ। তাই মাউন্টব্যাটেন-জিন্না মোলাকাতের বিবরণ গোপন থাকা সত্ত্বেও আলোচনার পাঁচ দিনের মাথায় তিনি বলেছিলেন—স্বাধীন বাংলা কার্যত ‘Virtual Pakistan’ হবে।

    বাংলাভাগের পক্ষে শ্যামাপ্রসাদের দীর্ঘ সওয়াল

    ২রা মে মাউন্টব্যাটেনকে নিম্নোদ্ধৃত চিঠিতে শ্যামাপ্রসাদ লেখেন—

    Mr. S. P. Mookerjee to Rear-Admiral Viscount Mountbatten of Burma (Extract)

    Mountbatten Papers, Official Correspondence Files: Bengal, Partition of Part I (b)

    C/O DIRECTOR, IMPERIAL AGRICULTURAL RESEARCH INSTITUTE, NEW DELHI,

    2 May, 1947

    “The views I am expressing in this letter are shared by a very large section of Hindus not only in Bengal but in other parts of India and I hope Your Excellency will give due consideration to them.

    We are definitely opposed to Pakistan. We say this not merely from the point of view of Hindus but in the interest of India as a whole. The Constituent Assembly today represents every province in British India and also a number of important Indian States. One Moslem majority province namely N. W. F. Province is represented by a majority of its members. The Muslim members belonging to Bengal, Sind and the Punjab are no doubt absent and they are represented only by the Sikh and Hindu members. This obstructionist attitude on the part of the Moslem League should not weigh with H.M.G. at all. If H.M.G. can take courage in both hands and announce that it is not going to depart from the main provisions of the Cabinet Mission scheme, the situation will at once change. If it is further announced that the Constituent Assembly will be accepted as the first Provisional Parliament of Free India and the transfer of power will be made to a Provisional Government to be elected by the Constituent Assembly on the basis of pro-portionate representation, the Moslem League is bound to alter its present attitude of negation and obstruction and take its legitimate part in the administration of the country.

    Whether division of India takes place or not, it is essential that the Punjab and Bengal should be partitioned. I shall not say anything about the Punjab in my letter as her representatives must have placed full facts before you already. I shall deal with Bengal only.

    The reasons why Bengal should be partitioned in any case are as follows:-

    1. Bengal’s area is about 78,000 square miles and her popu-lation is more than 60 millions. Purely from administrative standpoint, creation of two provinces out of the existing boundaries of Bengal is not only possible but eminently desir-able. Bengal today is admittedly one of the worst administered provinces in British India.

    2. Bengal Hindus have suffered terribly during the last ten years on account of communal misrule and mal-administration. In spite of their immense contribution towards the development of the province, they have no voice in its administration. Protection of Muslim interests is not the only minority problem in India. If ever an impartial survey is made of Bengal’s admin-istration during the last ten years, it will appear that Hindus have suffered not only on account of communal riots and disturbances but in every sphere of national activities, educational, economic, political and even religious.

    3. Fortunately for Bengal the two major communities live in two compact zones and a separation is rendered easier on this account. Hindu Bengal will have about 35,000 square miles with a population of about 24 milions. This will be equal to, and even larger than, some of the existing provincial units in India and also some States in Europe and America.

    4. More than two-thirds of the Hindu population including about 4.5 millions out of 7.6 millions of the scheduled castes will live within Hindu Bengal. This will give an opportunity to both major communities to develop themselves according to their best ability and traditions and the constant rancour and strife between one community and another will gradually disappear. Both major communities in the two provinces are soon bound to realise that in their own mutual interest, the minority community in the two respective provinces must be duly protected.

    Both the Provinces should remain within the Union of india. If however India is to be divided on communal consideration, partition of Bengal becomes an immediate necessity and the above arguments are strengthened by the following additional ones :

    1. Mr. Jinnah’s claim for Pakistan is based on the theory that Hindus and Muslims are two separate nations and Muslims must have their own homeland and their own State. That being so, Hindus in Bengal who constitute about 26 millions of people may well demand that they must not be compelled to live within the Moslem State and the area where they predomi-nate should be cut off, so that the province thus created may link itself up with the Hindusthan Union. This demand Mr. Jinnah can never resist for, as the Cabinet Mission pointed out in its scheme of May, 16, the same logic and arguments applicable to Pakistan apply also to partition of Bengal.

    2. If Muslims being 24 percent of India’s population constitute themselves into such a formidable minority, that their demand for a separate homeland and State becomes irresistible, surely 45 percent of Bengal’s Hindu population is a sufficiently large minority which cannot be coerced into living within the Pakistan State against the will of the people.

    3. It is said that if once Bengal and the Punjab are parti-tioned, the other portions of India have also to be partitioned on similar consideration. This is purely academic. If there are other areas in India which are large enough to be constituted into separate provinces on communal consideration, their claim has to be justified on merits. Surely the extistence of small pockets here and there cannot justify the creation of new provinces. Even in Eastern Bengal, there will be numerous towns with majority Hindu population and also several Hindu pockets; but we are not going to claim that each of them is to be converted into a provincial unit. It is only because the Hindu majority areas, contiguous in character, are large enough to form into a separate province that we are justified in putting forward our claim for partition.

    4. Mr. Jinnah speaks of transfer of population and property. If an undivided Bengal is thrown into Pakistan, we have to transfer about 26 millions of Hindus which is next to impos-sible. On the other hand if Bengal is partitioned, the question of transfer will be compratively easier. It will affect about nine millions Hindus in Muslim Bengal and six millions Moslems in Hindu Bengal.

    5. There is some loose talk of a sovereign undivided Bengal. We do not understand its significance at all nor do we support it in any way. This will give us, Hindus, no relief whatsoever. Sovereign undivided Bengal will be a virtual Pakistan. Who will frame the constitution of Sovereign Bengal? Obviously, this will be left in the hands of the majority of the Moslem Leaguers who will be guided by fanatical notions of a separate nationhood and we are not prepared to trust our fate to them. Further we do not in any case want to be cut off from the rest of India and we are not prepared to make any compromise on this issue on any consideration whatsoever.

    I do hope you will give full consideration to the above points. You have come to India with an open mind and to explore the safest way to transfer power to Indian hands. By being fair to both the major communities in Bangal would it be possible for you to avoid chaos and bloodshed. Our suffering in Bengal today is indescribable. We have ceased to live under a civilized Government and the rule of law has been substituted by the rule of gangsterism. You may either decide the question of partition yourself or set up a machinery which will make it possible for the people of the area concerned to express their views. I would however emphasise, as indeed I did in course of my interview with you, that it is essential that the Bengal min-istry must be dissolved as soon as the question of partition is announced. To allow the ministry to continue in office may lead to disastrous consequences from which recovery will become almost impossible.

    I have written to Your Excellency with utmost frankness for I honestly believe that it is a life and death question to us. Freedom is about to dawn on India and we, who constitute not a negligible number amongst the people of India and whose contributions to the growth of India’s progress have been con-siderable, have the right to demand that in the Free India to come we must have a territory assigned to us wherein we can live without fear and enjoy the fruits of peace and freedom, without depriving the other majority community of the rightful interests in the area in which it predominates.”

    বাংলাভাগের পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিখানার গুরুত্ব বিবেচনায় তার সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ নিচে দেওয়া গেল :

    “আমি এই চিঠিতে যে অভিমত ব্যক্ত করছি তার সঙ্গে শুধু বাংলার বৃহৎ সংখ্যক হিন্দুই নয়, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের হিন্দুরাও সহমত পোষণ করে। এবং আশা করি আপনি তা যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন।

    আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধিতা করি। আমরা শুধু হিন্দুদের মনোভাব থেকে একথা বলছি না, সর্বভারতীয় স্বার্থেই একথা বলছি। বর্তমান গণপরিষদ ব্রিটিশ ভারতের সকল প্রদেশেরই নয়, বেশ কিছু সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় রাজ্যেরও প্রতিনিধিত্ব করে। বাংলা, সিন্ধু ও পাঞ্জাবের মুসলমান সদস্যগণ অবশ্য অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকছেন এবং ঐ প্রদেশগুলির হিন্দু ও শিখ সদস্যরাই তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মুসলিম লীগের এই বাধাদানকারী মনোভাবকে কোনও মতেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। যদি সরকার সাহস সঞ্চয় করে ঘোষণা করতে পারেন যে তারা মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনার মূল সুপারিশ থেকে কোনওমতেই পিছিয়ে আসবেন না, তাহলেই পুরো পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে যাবে। যদি আরও ঘোষণা করা হয় যে গণপরিষদকেই স্বাধীন ভারতের প্রথম সাময়িক লোকসভা বলে গণ্য করা হবে, এবং সে লোকসভা থেকে নির্বাচিত অস্থায়ী সরকারের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে— অবশ্যই সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত — তা হলেই মুসলিম লীগ তাদের নেতিবাচক ও বাধাদানকারী মনোভাব পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে এবং দেশের শাসনকার্যে নিজেদের ন্যায্য অংশ গ্রহণ করবে।

    ভারত ভাগ হোক বা না হোক, পাঞ্জাব ও বাংলাকে ভাগ করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। আমি পাঞ্জাবভাগ সম্পর্কে কোনও কথা বলব না। কারণ সে প্রদেশের প্রতিনিধিরা পাঞ্জাবভাগের সপক্ষে ইতিপূর্বেই আপনার সামনে সব তথ্য পেশ করেছে। আমি শুধুমাত্র বাংলার ব্যাপারেই আমার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখব।

    যে সব কারণে বাংলাভাগ আবশ্যক হয়ে পড়েছে সেগুলি নিম্নরূপ :

    ১. বাংলার আয়তন প্রায় ৭৪০০০ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। শুধুমাত্র শাসনকার্যের সুবিধার্থেই বাংলার বর্তমান আয়তন ভাগ করা কেবল প্রয়োজন নয়, বাঞ্ছনীয়ও বটে। বর্তমানে বাংলা ব্রিটিশ ভারতের নিকৃষ্টতম শাসনাধীন বলা যায়।

    ২. গত ১০ বছরে সাম্প্রদায়িক কুশাসনে ও বিশৃঙ্খল শাসন ব্যবস্থায় বাংলার হিন্দুরা নিদারুণভাবে নির্যাতিত হয়েছে। এই প্রদেশের উন্নয়নে তাদের অপরিসীম অবদান সত্ত্বেও শাসনক্ষেত্রে তাদের কোনও স্থান নেই। মুসলিম স্বার্থ সংরক্ষণই ভারতে একমাত্র সংখ্যালঘু সমস্যা নয়। গত ১০ বছরে বাংলার শাসন ব্যবস্থার উপর যদি কোনও নিরপেক্ষ সমীক্ষা চালান হয়, তা হলে দেখা যাবে যে হিন্দুরা কেবলমাত্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও গোলযোগের জন্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, জাতীয় জীবনের সকলরকম ক্রিয়াকাণ্ডে যেমন শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি—এমনকি ধর্মাচরণ সমেত সকল ক্ষেত্রেই নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ৩. বাংলার সৌভাগ্য এই যে দুটি প্রধান সম্প্রদায়ই মোটামুটি দু’টি আলাদা অঞ্চলে সংখ্যাগুরু হিসাবে বাস করছে। ফলে এদের বিভাজন সহজতর হবে। হিন্দু বাংলার ভাগে পড়বে প্রায় ৩৫০০০ বর্গ মাইল জমি ও ২ কোটি ৪০ লক্ষ লোক। এটি ভারতের এমন কি ইউরোপ ও আমেরিকার

    ৪. অনেক প্রদেশ বা দেশের সমান বা তার চেয়ে আকারে বড় হবে। বাংলার ৭৬ লক্ষ তফশিলী হিন্দুর মধ্যে ৪৫ লক্ষ তফশিলী হিন্দু সমেত হিন্দু জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশী লোক হিন্দু বাংলায় পড়বে। এর ফলে দু’টি বৃহৎ সম্প্রদায়ই নিজ-নিজ সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় নিজেদের কর্মদক্ষতা ও ঐতিহ্য অনুসারে উন্নতিসাধনে সক্ষম হবে এবং তার ফলে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমাগত বিরোধ ও সংঘর্ষের অবসান ঘটবে। দু’টি প্রদেশের দুই বৃহৎ সম্প্রদায় শীঘ্রই বুঝতে পারবে তাদের পারস্পরিক স্বার্থেই উভয় প্রদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

    দুটি প্রদেশই ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অবশ্য যদি ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারতভাগ করতেই হয়, তাহলে বাংলাভাগও অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়াবে এবং তখন উপরে প্রদর্শিত যুক্তিসমূহের সঙ্গে নিম্নলিখিত যুক্তগুলিও বিবেচনা করতে হবে :

    ১. হিন্দু ও মুসলমান দু’টি পৃথক জাতি এবং মুসলমানরা অবশ্যই নিজস্ব বাসভূমি ও নিজস্ব রাষ্ট্রের অধিকারী—এই সূত্র বা মতবাদের উপর মিঃ জিন্নার পাকিস্তান দাবি প্রতিষ্ঠিত। যদি তাই হয়, বাংলার দুই কোটি ৬০ লক্ষ হিন্দুও দাবি করতে পারে যে, পৃথক জাতি হিসাবে তাদেরও মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসে বাধ্য করা হবে না এবং বাংলার যে অংশে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সে অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং এই নবগঠিত প্রদেশটি হিন্দু ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গেই যুক্ত থাকবে। মিঃ জিন্না এই দাবি কোনও মতেই প্রতিহত করতে পারবেন না। কেননা—১৬ই মে’র মন্ত্রিমিশন প্রস্তাবেই একথা বলা হয়েছে যে মিঃ জিন্নার দাবির পেছনে যে যুক্তি খাড়া করা হয়েছে, সেই একই যুক্তি বাংলাভাগের পক্ষেও সমভাবে প্রযোজ্য।

    ২. ভারতীয় জনসংখ্যার মাত্র ২৪ শতাংশ হয়েও মুসলমানরা নিজেদের যদি এমন জবরদস্ত সংখ্যালঘু বলে জাহির করতে পারে যে তাদের আলাদা বাসভূমি ও স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি ঠেকান দুষ্কর, তাহলে বাংলার ৪৫ শতাংশ হিন্দু নিশ্চয়ই এমন গুরুত্বহীন সংখ্যালঘু নয় যে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাকিস্তানে বসবাসে বাধ্য করা যাবে।

    ৩. বলা হচ্ছে যে বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগ করা হলে ভারতের অন্যান্য এলাকাও একই যুক্তিতে ভাগ করতে হবে। এটা একেবারেই অবান্তর কথা। যদি ভারতে সম্প্রদায় ভিত্তিতে কোনও এলাকাকে আলাদা প্রদেশে রূপদানের প্রশ্ন ওঠে তবে তা গুণগতভাবে বিচার করতে হবে। কিন্তু এখানে ওখানে ক্ষুদ্র পকেটতুল্য এলাকাকে প্রদেশের মর্যাদা দেওয়া যায় না। পূর্ববঙ্গে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বহু শহর ও অঞ্চল রয়েছে; আমরা কিন্তু সেগুলিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ আলাদা প্রদেশ রূপে গঠন করার দাবি করছি না। কারণ বাংলার যে বৃহৎ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল হিন্দু ভারতের সংলগ্ন বা লাগোয়া রয়েছে, তা আলাদা প্রদেশ হিসাবে গঠিত হতে পারে বলেই আমরা বাংলা-ভাগের দাবি করছি।

    ৪. মিঃ জিন্না লোক ও সম্পত্তি বিনিময়ের কথা বলছেন। যদি অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের কবলে সমর্পণ করা হয়, তাহলে আমাদের ২ কোটি ৬০ লক্ষ হিন্দুকে সরিয়ে আনতে হবে—যা কার্যত অসম্ভব। অপরপক্ষে যদি বাংলা ভাগ করা হয় তাহলে লোক বিনিময়ের প্রশ্ন তুলনামূলক ভাবে সহজতর হবে। এর ফলে মুসলিম বাংলায় ৯০ লক্ষ হিন্দু থেকে যাবে, আর হিন্দু বাংলায় থেকে যাবে ৬০ লক্ষ মুসলমান

    ৫. স্বাধীন অবিভক্ত বাংলা নিয়ে কিছু সস্তা কথাবার্তা চলছে। আমরা এর তাৎপর্য একেবারেই অনুধাবন করতে পারছি না; কিংবা এ প্রস্তাব কোনওভাবেই সমর্থন করতে পারছি না। এই প্রস্তাবে হিন্দুদের কোনওপ্রকার উপকারের সম্ভাবনা নেই। সার্বভৌম বাংলার সংবিধান কারা রচনা করবে? অবশ্যই একাজ সংখ্যাগুরু মুসলিম লীগারদের হাতেই অৰ্পণ করা হবে। তারা পৃথক জাতিতত্ত্বের প্রবক্তা রূপে ধর্মান্ধ মনোভাবেই পরিচালিত হবে। আমরা তাদের হাতে আমাদের ভাগ্য সমর্পণ করতে রাজী নই। অধিকন্তু আমরা কোনও মতেই ভারতের অবশিষ্টাংশ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিতেও রাজী নই। এই প্রশ্নে কোনও সমঝোতা, সালিশী বা বিবেচনা করতেও আমরা প্রস্তুত নই।

    আমি আশা করি উপরে প্রদত্ত যুক্তি ও তথ্য আপনি গভীরভাবে বিবেচনা করে দেখবেন। আপনি খোলা মন নিয়ে ভারতে এসেছেন। ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা উদ্ভাবনে দুটি বৃহৎ সম্প্রদায়ের প্রতি সমতুল্য আচরণ করলে আপনি বিশৃঙ্খলা ও হানাহানি বন্ধ করতে সক্ষম হবেন। আজ বাংলায় আমাদের দুর্দশা বর্ণনাতীত। আমরা সুসভ্য সরকারের শাসনাধীনে থাকার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আইনের শাসনের স্থান দখল করেছে গুণ্ডামি। আপনি হয় নিজে বাংলাভাগের প্রশ্ন বিবেচনা করবেন, না হয় এমন কোনও সংস্থা গড়বেন যার কাছে স্থানীয় জনসাধারণ নিঃসঙ্কোচে নিজেদের অভিমত খোলা, মনে প্রকাশ করতে পারে। তবে আমি যেমন আগেও আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎকারকালে বলেছি, এখনও জোর. দিয়ে বলতে চাই যে, প্রদেশ ভাগের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান বাংলা মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করতে হবে। কারণ, তারপরও এই মন্ত্রিসভাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখলে এমন সাংঘাতিক বিপর্যয়কর অবস্থার উদ্ভব হবে যে তার থেকে উদ্ধার পাওয়া অসম্ভব হবে।

    আমি অত্যন্ত খোলাখুলিভাবে আপনার কাছে সব কথা লিখেছি। কারণ আমি ন্যায়ত ও ধর্মত বিশ্বাস করি যে এটি আমাদের কাছে জীবনমরণ সমস্যা। ভারতে স্বাধীনতালগ্ন আগতপ্রায় এবং আমরা বাঙালীরা যারা ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যায় নগণ্য নই, ভারতের সমৃদ্ধি সাধনে যাদের অবদান সর্বাধিক, তাদের দাবি করার অধিকার আছে যে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ভারতে আমরা এমন একটি আলাদা স্থান চাই, যেখানে আমরা নির্ভয়ে বসবাস করতে পারি এবং শান্তি ও স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারি। তার দ্বারা অন্য সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কেও বঞ্চিত করা হবে না। যে অঞ্চলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে আধিপত্য বজায় রেখে তারা নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে পারবে।”

    এই সুদীর্ঘ চিঠিতে শ্যামাপ্রসাদ মুসলিম লীগ শাসনে বাংলার হিন্দুদের দুর্গতি ও দুর্ভাবনার কথা এবং প্রস্তাবিত স্বাধীন বাংলায় তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা অকাট্য যুক্তি সহকারে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ২রা মে’র ঠিক একমাস পরে ২রা জুন প্রদেশভাগ সমেত ভারতভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বলতে গেলে স্বাধীন যুক্তবঙ্গ পরিকল্পনারও “গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটে। শ্যামাপ্রসাদের নিরলস সংগ্রাম জয়যুক্ত হয়। পশ্চিমবঙ্গ আলাদা প্রদেশ হিসাবে ভারতের অঙ্গীভূত থেকে যায়

    যোগ আর ভাগে দড়ি টানাটানি

    কিন্তু এখনও শেষ কথা বলার সময় আসেনি। স্বাধীন বাংলার জন্য যত কূটকচালি চিঠি চালাচালি চলতে থাকে, তার বিরুদ্ধে আন্দোলনও তত জোরদার হতে থাকে। তারকেশ্বর কনভেনশনের পর (৫ এপ্রিল ১৯৪৭) শ্যামাপ্রসাদ বাংলা ভাগের দাবি নিয়ে সারা বাংলায় প্রচারাভিযানে বেরিয়ে পড়েন। সর্বত্র বিশাল হিন্দু জনতা এই প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে থাকে। স্বাধীন বাংলার প্রতি বাঙালী হিন্দুদের এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেই ১৮ মে তারিখে এক গোপন টেলিগ্রামে মাউন্টব্যাটেন বারোজকে জানিয়ে দেন, স্বাধীন বাংলার পেছনে ছোটা নিরর্থক। কংগ্রেস কোনমতেই জাগ্রত হিন্দু জনমতের বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব সমর্থন করবে না। তবে তিনি সুরাবর্দীকে তাঁর প্রচেষ্টা থেকে বিরত করতে চান না :

    “My talk with Nehru at Simla led me to believe that it is ex-tremely unlikely that the Congress High Command will accept an independent Bengal or allow their followers to support such a proposal, as their view is that Bengal has no future except in Hindusthan; but I do not mean by this that I should wish Suhrawardy to abandon his efforts for unity.”

    পাকিস্তান সৃষ্টি হলে বাংলা ভাগ করতেই হবে : লণ্ডনে শ্যামাপ্রসাদের তারবার্তা

    মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তর সমস্যা সমাধানের যে ছক তৈরি করেছেন, তার অনুমোদনের জন্য লন্ডন গেলেন। শ্যামাপ্রসাদ সেখানেও তাকে ধাওয়া করলেন :

    “The Hindu Mahasabha leaders were adamant on this issue and in order to make it a reality, S.P. Mukherjee sent a cable to Lord Listowel, Secretary to State for India and Sir Stafford Cripps, which stated:

    Pakistan or no Pakistan, in the interest of the peace and harmony and the political and economic advancement of the people, it is essential that a separate province including Calcutta which have 75% Hindus, must be created in Bengal comprising Hindu majority areas which will remain in Indian Union. We are against the division of India but if Pakistan is conceded against our will, separation of Hindu majority areas in Bengal is inseparable as indeed suggested in the Cabinet Mission scheme of May 16, 1946.”

    এবার উঃপঃ সীমান্ত প্রদেশের হিন্দুদের পালা

    এসব অকাট্য যুক্তি খণ্ডন করার মতো কোনও যুক্তি কেউ দেখাতে পারেনি— স্বয়ং মাউন্টব্যাটেনও না। তিনি কলকাতা নোয়াখালির দাঙ্গা দেখেননি; কারণ সে সময় তিনি ভাইসরয় হয়ে আসেননি। কিন্তু তাঁর ভারতে পদার্পণের মাসখানেকের মধ্যে পাঞ্জাব ও সীমান্ত প্রদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু শিখদের উপর যে অত্যাচার অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা তিনি স্বকর্ণে শুনেছেন, তার নমুনা স্বচক্ষে দেখেছেনও। সীমান্ত প্রদেশে শতকরা মাত্র ৭ জন হিন্দু-শিখের বাস। তাদের প্রতিনিধিরা মাউন্টব্যাটেনকে তাদের উপর নির্যাতনের কাহিনী শোনান :

    “(at Pashawar) I received a delegation of six Hindus with a horrible tale of woe against the Muslim League, of murder, rape and violence.”

    তারপর রাওয়ালপিণ্ডি থেকে ২৫ মাইল দূরে ক্ষুদ্র কোহুটা শহরে হিন্দু বস্তিতে যেন বিমান থেকে বোমা বর্ষিত হয়েছে :

    “…I and my wife immediately drove out 25 miles to the small town of Kohuta which had a population of 2000 Hindus and Sikhs, and 1500 Muslims. On the night of March the 6th a patrol of the Norfolks found everything peaceful and the inhab-itants on the usual friendly terms which they had been on for so many years; on the 7th, the whole town was ablaze. The whole of the Hindu-Sikh part is an absolute wreck, as though it had been subjected to an air raid…”

    সমস্ত পরিবারকে মশালের মতো বেঁধে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিদগ্ধ

    এতো গেল ধনসম্পত্তি বিনষ্টের কথা। কিন্তু যে নিষ্ঠুরতার সঙ্গে হিন্দু-শিখদের হত্যা করা হয়েছিল, তার নজির বর্বরতার ইতিহাসেও বেশি মিলবে না :

    “The unattractive part of all these massacre is the sadistic violence which distinguishes them. They seem to be very fond of tying whole families together, pouring oil on them and then lighting them as a single torch.”

    অর্থাৎ যে জান্তব হিংস্রতার সঙ্গে এই গণহত্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে সে বর্বরতার আর দ্বিতীয় নজীর নেই। সেই নরপশুর দল এক একটি হিন্দু শিখ পরিবারের সকল সদস্যকে একসঙ্গে মোচার মতো বেঁধে তার উপর কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বেলে দিত এবং মনে হতো যেন একটা মশাল জ্বলছে।

    এই নিষ্ঠুর নিধন ক্রিয়ার মাঝে হিন্দু ও শিখ রমণীরা নিজেদের ধর্ম ও ইজ্জত বাঁচাতে যে অসীম সাহসিকতার পক্ষে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন, মাউন্টব্যাটেনের কলমে তাও ধরা রয়েছে :

    “Hindu and Sikh women have not been wanting in courage and many have taken their lives rather than be raped or forcibly converted.”

    এসব বর্বরতার বাংলা অনুবাদ দিলাম না। তবে আধুনিক সেকুলারওয়ালারা কারও স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে এভাবে ‘রোস্ট’ করার কাহিনী নিজ নিজ পরিবারবর্গের কাছে বর্ণনা করতে পারেন। তাঁরা শুনে পুলক অনুভব করেন কিনা জানাতে পারেন। তা হলেই বুঝব তারা শুধু রাস্তাঘাটে নয়, ঘরেও “সেকুলারিজম সালসা” সেবন করাতে সক্ষম হয়েছেন।

    মাউন্টব্যাটেন স্পষ্টাক্ষরে লিখেছেন কোহুটা যাবার আগে ঘটনা যে এমন ভয়াবহ আকার নিয়েছিল তিনি তা অনুমানও করতে পারেন নি : “Until I went to Kohuta, I had not appreciated the magnitude of the horrors which are still going on.”

    এই বর্বরদের হাত থেকে বাংলা ও পাঞ্জাবের যতটুকু অংশ রক্ষা করা যায় তার জন্য আন্দোলন করে শ্যামাপ্রসাদরা কি অন্যায় করেছেন? সেকুলারিজম ফেরি করার জায়গা তো তাঁরাই তৈরি করে দিয়ে গেছেন!

    পোশোয়ারে হিন্দু-শিখদের উপর নির্বিচার আক্রমণ : প্রধান মন্ত্রী ডাঃ খান সাহেবের বাড়ি আক্রান্ত

    বাংলা ও পাঞ্জাবের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং তার প্রতিকারে সবাই মাথা ঘামালেও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে শতকরা মাত্র ৭ জন হিন্দু শিখের জীবন ও সম্মান কেমন দুর্বিষহ ও বিপন্ন হয়ে উঠেছিল এবং সেখানকার কংগ্রেসী মুসলমান সরকারকে নাজেহাল করতে মুসলিম লীগের গুণ্ডাবাহিনী যে কোমর বেঁধে লেগেছিল, সে খবর বহির্জগতে তেমন প্রচার পায়নি। হিন্দু ও শিখদের উপর আক্রমণের বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে সীমান্ত প্রদেশের গভর্নর স্যার ও. ক্যারো ১৩ মার্চ, ‘৪৭ তারিখে ভাইসরয় ওয়াভেলকে এক টেলিগ্রামে জানান :

    “North-West Frontier Province situation : After the victory in Mardan election in the middle of February, local Leaguers started on direct action against Ministry, partly stimulated by events in the Punjab… League demonstration was staged at Assembly Hall on March 10th. It was necessary to support po-lice with troops. Mob made ugly rushes and troops had to open controlled fire. Seven round fired, 15 casualties sustained of which two have been subsequently died. This clash has on the whole steadied situation but immediate result was that 17 cases of stabbing Hindus took place on the same afternoon in Peshawar city…. communal incidents have now spread to villages east and south of Peshawar where there have been some murders and some forcible conversion of Sikhs.

    Elsewhere in Province situation in Hazara…. has deterio-rated. Gurdwaras have been burnt, individual Sikhs murdered and forced conversions have taken place…… Hindus and Sikhs are frightened and stray stabbing assaults by Moslems are still taking place.”

    এক হতভাগ্য শিখ মহিলার মর্মন্তুদ কাহিনী বর্ণনা করে স্যার ও. ক্যারো জানান :

    “Particular point was made of case of a Sikh woman who after the murder of her husband in disturbances was married to Mohammedan and after staying some days in Premier’s house had made free statement before both parties that she wished to return to Sikh relations and had therefore been released under law.”

    তার ফল ফলতে দেরি হল না। গুণ্ডার দল প্রধানমন্ত্রীর (ডাঃ খান সাহেব) বাড়ি চড়াও হয় এবং যথেচ্ছ ভাঙচুর করে :

    “On February 21st large and dangerous procession formed in Peshawar city, marched into the cantonment, overpowering police, and surrounded Premier’s house of which windows were broken….”

    মুসলিম লীগ গুণ্ডাদের হাতে জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের এই তো হাল। এদের সর্দার আবদুর রব নিস্তার হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য; নেহরু-প্যাটেলদের সহকর্মী। খুনী আর গুণীমানীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান!

    ভারতভাগের সঙ্গে বাংলা ভাগ করে সমস্যা মেটান হোক : শ্যামাপ্রসাদ

    শ্যামাপ্রসাদ অখণ্ড ভারতের জন্য ১৯৪৬ সালের শেষ পর্যন্ত– কলকাতা ও নোয়াখালির রায়টের পরেও—লড়ে গেছেন। কিন্তু যখন দেখলেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সারা দেশে ছড়িয়েছে এবং মুসলিম লীগ ও জিন্না একবাক্যে বলে চলেছে দেশভাগ ছাড়া আর কিছুতেই তারা তৃপ্ত হবে না, তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও হিন্দু মহাসভা দেশভাগে সম্মত হয়। সে ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে বাংলা ভাগ করে বাংলার সমস্যাও মিটিয়ে ফেলা হোক :

    “Although the Mahasabha was still against Pakistan, or vivisection of the fatherland, and for a strong central govern-ment, they now wanted the division of Bengal into Hindu-majority West Bengal and a Muslim-majority East Bengal. Ben-gal Hindus would have at least one part of Bengal they could control, either in a federated India or if part of Bengal was detached to make a Bengali wing of Pakistan. Through the early months of 1947, the Hindu Mahasabha carried on a strong, vocal campaign for a Bengali Hindu homeland matching Jinnah’s cry of ‘Islam in danger! with one of ‘sacred Hindustan and Hindus in danger’! Mookerjee put it this way in a statement of March 19 :

    Partition of Bengal alone will offer a peaceful solution of the grave communal problem confronting the province. This will give the two major communities in Bengal full freedom to de-velop their own culture and tradition in the areas where they are in predominant numbers, both are sure to recognise soon that it will be to their mutual interest to guarantee full protection to the respective minorities in the two (proposed) provinces”.

    যুক্ত বাংলায় হিন্দুরা ক্রীতদাসে পরিণত হবে : শ্যামাপ্রসাদ

    যে মুসলিম লীগ গুণ্ডাশাহীর শাসনে বাংলার হিন্দুদের ধন-প্রাণ মান-ইজ্জত বিনষ্ট হল, তার জন্য যাদের মনে তিলমাত্র অনুতাপ নেই এবং বিধর্মীর ধন-প্রাণ ও ইজ্জত নষ্ট করাকে যারা ইসলাম ধর্মসম্মত মনে করে, ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের শাসনে পুরো বাঙলাকে চিরতরে আবদ্ধ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদ গর্জে উঠেছেন :

    “We shall demand with one voice that the transfer of power must be made to a strong Central Government in respect of the whole of British India.

    Hindus will resist with their life blood any scheme of the perpetuation of slavery which will be inevitable if Bengal, as she is constituted and administered today, is allowed to become a separate independent unit off from the rest of India. Nothing can justify the transfer of nearly 35 millions of persons belonging to one community to the perpetual domination of an artificial majority which refuses to identify itself with the rising aspirations of the entire people.”

    (N. N. Mitra -Indian Annual Register, 1947 “Chronicle of Events”-22 February).

    তাঁর এই বিবৃতি থেকেই হিন্দুদের চৈতন্যোদয় হতে থাকে। বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলি যাতে মুসলিম লীগের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করা যায় তার সমর্থনে জনমত গড়ে উঠতে থাকে। ক্রমেই তা প্রবলাকার ধারণ করে। ভারত ভাগ হবে, অথচ বাংলা অবিভক্ত অবস্থায় স্বাধীন বাংলা বেনামে পাকিস্তানে যাবে, তা কোনও মতেই হতে পারে না। পাকিস্তান হোক বা না হোক বাংলা ভাগ করতেই হবে :

    “Mookerjee’s statement signalled an important shift in Mahasabha policy, instead of calling unceasingly for Indian unity, for the indivisibility of the fatherland, believing the grant-ing of Pakistan demand likely, they were now willing to give up some territory in return for keeping the maximum number of Hindus in India. They now wanted the division of Bengal into a Hindu majority West Bengal and a Muslim majority East Bengal whether or not Pakistan was established.”

    কংগ্রেসীদের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে টেনে নামান : শ্যামাপ্রসাদ একক নেতৃত্বে অসাধ্য সাধন

    এই দাবির সমর্থনে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ বিরাট আন্দোলন গড়ে তোলেন। মুসলিম লীগের হিংসাত্মক রাজনীতি বাংলার হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক যেমনভাবে বিষিয়ে দিয়েছে, তাতে ভাষার বন্ধন, অখণ্ড সংস্কৃতি ইত্যাদি ছেঁদো কথার কোনও মূল্যই নেই হিন্দুদের কাছে। যাদের শাসনে ধর্মীয় স্বাধীনতা, প্রাণের নিরাপত্তা, মানসম্ভ্রমরক্ষার নিশ্চয়তা নেই, তাদের সংস্পর্শ থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই মঙ্গল বলে হিন্দুরা মনে করে। মুসলমান নেতাদের কথাবার্তা থেকেই তাদের মনোগত অভিপ্রায় ও মানসিক প্রবণতা মাঝে মাঝে প্রকাশ হয়ে পড়ে। একদা গান্ধীজীর দক্ষিণ হস্ত মৌলানা মহম্মদ আলি বলেছিলেন “The worst sin -ner and dabauchee among the Muslims was, in his eyes, far superior to even Mahatma Gandhi” (তিনি একজন ঘৃণ্যতম পাপী ও লম্পট মুসলমানকে মহাত্মা গান্ধীর চেয়ে মহত্তর মানুষ বলে মনে করেন।) এই যাদের দৃষ্টিভঙ্গী তাদের সঙ্গে বসবাস? বাংলার সমগ্র হিন্দু সমাজ যাতে চিরতরে এদের শাসনাধীন না হয়, অর্ধাংশে হিন্দু যাতে নিজ ধর্মসংস্কৃতি মান-ইজ্জত রক্ষা করতে পারে, সেই দূরদর্শী মনোভাব থেকেই শ্যামাপ্রসাদ বাংলাভাগের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন :

    “Throughout the spring of 1947, Mookerjee became the single most vocal spokesman for Bengali Hindus and gradually, the majority of the Congress in Bengal, Bengal members of the Constituent Assembly, and members of the Congress Working Committee joined him in the demand for the partition of Bengal.”

    নিজের দল হিন্দু মহাসভা ক্ষীণশক্তি হলেও একমাত্র ব্যক্তিত্ব ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জোরে শ্যামাপ্রসাদ বাংলার কংগ্রেস দলকে বাংলাভাগ আন্দোলনে সামিল করতে পেরেছেন। ২৯শে এপ্রিল বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি বাংলা বিভাগের দাবিতে এক প্রস্তাব নেয় ও বড়লাট, নেহেরু-প্যাটেল প্রভৃতির কাছে তা পাঠায়। ১লা মে সভাপতি সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ বিবৃতি দেন— “ An undivided Bengal in a divided India is an impossibility. Let Mr. Suhrawardy repudiate the two nation theory and abandon communalism, and he will be able to prevent the partition of Bengal.”

    একক নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের এতবড় উদাহরণ এদেশে খুব বেশী দেখা যায়নি। তাঁর সে অসাধ্য সাধনের কথা সমালোচকদেরও অকুন্ঠ স্বীকৃতি আদায় করেছে :

    “S. P. Mookerjee soon won the majority of the Bengal Congress and Bengal Hindu representatives in the Central and provincial legislative assemblies to his side, while continually condemning the wickedness of the idea of Pakistan, the Mahasabha and Congress allies were using parallel argument calling for the partition of Bengal (and the Punjab) whether there was an overall partition of India or not… There is a connecting line from the views of Rajagopalachari during the war, to Mookerjee and the Congress in 1947, if Pakistan is to be conceded, then the arrangement must be such that the larg est number of non-Muslims be given the opportunity to remain in India.”

    এ তো নির্জলা খাঁটি কথা। দেশভাগ যখন হচ্ছেই, তখন তার সঙ্গে প্রদেশও ভাগ করে সংশ্লিষ্ট প্রদেশের যত অধিক সংখ্যক হিন্দুকে ভারতের মধ্যে রাখা যায় সে প্রচেষ্টায় অপরাধ কোথায়? শ্যামাপ্রসাদ সে কাজটিই করেছেন। তাই তো প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা আজ পশ্চিমবঙ্গের নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পিণ্ডি চটকাতে পারছেন। তা না হলে তাদের দশাও পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের মতোই হতো; সর্বস্ব খুইয়ে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের দয়াভিক্ষা করে দিন কাটাতে হতো। শ্যামাপ্রসাদ সেই আত্মাবমাননা থেকে বাঙালীকে বাঁচার ব্যবস্থা করে গেছেন।

    গান্ধীজীর নোয়াখালি উপস্থিতিতেও হিন্দু নারীর চরম লাঞ্ছনা

    শুধু ধন-সম্পত্তি খোয়ান নয়, ও তো উদ্যোগী পুরুষে অর্জন করে, অবস্থা বৈগুণ্যে খোয়ায়ও। তাতে আফসোসের কিছু নেই। কিন্তু গান্ধীজীর নোয়াখালি অবস্থান কালেও নোয়াখালিতে মা-বোনেদের ইজ্জত নিয়ে কেমন ছিনিমিনি খেলা চলছিল, দুটি প্রত্যক্ষ ঘটনা থেকে তার পরিচয় পাওয়া যাবে। এই দু’জন কুলবধূর মর্মান্তিক কাহিনী পাষাণহৃদয়ও বিগলিত করবে :

    (এক)

    “খেয়া পার হচ্ছি, সঙ্গের ২-১ জন ফিশফিশ করে চিনিয়ে দিচ্ছেন নৌকার মাঝিকে— হাতে যার রেডক্রশের ব্যাজ, লোকটা দাঙ্গায় নেতৃত্ব দিয়েছিল অমুক গ্রামে। সামনাসামনি কথা বলার সাহস হত না। থানায় বহুকষ্টে এক স্বামী-স্ত্রীকে বুঝিয়ে নিয়ে গেছি —-যা ঘটছে তা বল। এজাহার দাও। তখন বেশ রাত্রি হয়েছে, অতি সঙ্গোপনে আমার সঙ্গে বড় ঘোমটা দিয়ে তার স্ত্রী বলছে যে দাঙ্গার দুইমাস পরেও প্রতি রাতে বউটিকে ২-৩ জন জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং ভোর রাতে ফেরত দিয়ে যায়। এরকম প্রত্যহ ঘটছে, কিন্তু ভয়েও স্বামী বা পরিবারের কেউ প্রতিবাদ করতে বা পুলিশের সামনে এজাহার দিতে সাহস পারছে না। সাহস দিয়ে সঙ্গে করে আনাতে লক্ষ্মীপুর থানায় এল। কিন্তু কথা ফোটে না, লিখে বিবৃতি দেওয়া তো দূরের কথা। থানার ও. সি. বলছেন, ঘটনা তো শুনলাম। নাম বলবে, পরিচয় বলবে, বিবৃতি সই করবে তবে তো এজাহার হবে। মেয়েটি, কেঁদে আকুল। বলে, আমার এই প্রাত্যহিক লাঞ্ছনা থেকে বাঁচান। স্বামী বলে, নাম বললে আমায় কেটে ফেলবে। তার চেয়ে দেশ ছেড়ে পালাই। সত্যি সত্যিই শেষ পর্যন্ত ঐ পরিবার দেশ ছেড়ে পালাতেই বাধ্য হল। আমার শক্তি হল না দোষীকে শাস্তি দিতে কিংবা উপদ্রুতকে রক্ষা করতে। আমরা অসহায় দর্শক হয়ে রইলাম।”

    (দুই)

    “একবার খবর এসেছিল যে নোয়াখালির এক গ্রামে একটি অপহৃতা মেয়ে একটি স্থানীয় পরিবারে পুত্রবধূ হিসাবে বাস করছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিনে তদন্ত করতে আসছেন। সুচেতা কৃপালনীকেও ওই সময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন মি. ম্যাকিনার্নি, আই. সি. এস— একজন আইরিশ অফিসার। পুলিশ ফোর্স নিয়ে তিনি যখন উপস্থিত হলেন, সুচেতাও রয়েছেন। পরিবারের কর্তা বললেন, মেয়েটি আছে আমার কাছে, এ-কথা ঠিকই। কিন্তু সে সাবালিকা এবং স্বেচ্ছায় আমার পুত্রকে বিবাহ করেছে, এটা অপহরণ নয়। এটা ভালবাসার বিবাহ। ম্যাকিনার্নি মেয়েকে সামনে এনে কথাবার্তা বললেন, তিনি ভাল বাংলা বলতে পারতেন। মেয়েটির চেহারা বিধ্বস্ত, অত্যন্ত দুর্বল। শুধু মাথা নেড়ে উত্তর দেয় সে এখানেই থাকবে— স্বেচ্ছায় এসেছে।

    সুচেতা ম্যাজিস্ট্রেটকে বললেন— আপনি আলাদা ঘরে ওকে নিয়ে জেরা করুন।। প্রকৃত ঘটনা তাতেই জানা যাবে। ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, এ তো প্রেমঘটিত বিবাহ, এতে আর জেরা করার কী আছে? দপ্ করে জ্বলে উঠলেন সুচেতা কৃপালনী। বললেন, Please Mr. Macinerny, please give me one concrete case of love affair between the communities from 10th October to this day, after the riot. This is not a case of love marriage. Take evidence in a separate room so that the girl can speak the truth —তাঁর চাপে পড়ে আলাদা ঘরে নেওয়া হল মেয়েটিকে, শুধু ম্যাজিস্ট্রেট ও মেয়েটি। আর সকলেই বাইরে। ঘরে ঢুকে মেয়েটি এদিক ওদিক চেয়ে যখন দেখল আর কেউ নেই, আকুল হয়ে কেঁদে সাহেবের পায়ের উপর পড়ে বললে, আমায় আপনি এখনই নিয়ে যান এখান থেকে। আমি আপনার আশ্রয় চাই।

    সাহেব সব বুঝলেন। তবুও সুচেতা কৃপালনীকে ডেকে বললেন, কোথায় এখন নিয়ে যাব? একটু বুঝে নিই। সুচেতা সাহেবকে বললেন, তোমার যা ক্ষমতা আছে তুমি ওকে নিয়ে যে কোনও আশ্রম এমনকি জেলেও রাখতে পারো। কিন্তু যদি দেরী কর, সারা জেলায় এ খবর ছড়িয়ে যাবে। এমনকি সারা ভারতের মানুষ জানবে যে অপহৃতা মেয়েকে তুমি উদ্ধার করে আশ্রয় দিতে পারনি। যত দেরি করবে ততই প্রবল আন্দোলন হবে, আইনশৃঙ্খলা রাখতে পারবে না। ওকে পুলিস এসকর্ট দিয়ে এ জেলা থেকে অন্যত্র পাঠাবার ব্যবস্থা কর। মেয়েটি সাবালিকা, সুতরাং সে যদি ভালবাসার বিবাহ অস্বীকার করে, তোমার কী অধিকার আছে তাকে এখানে রেখে কালক্ষেপ করার? বলা বাহুল্য, এ কথায় কাজ হল। পুলিস হেফাজতে তাকে নিয়ে দুই রাত্রি চৌমুহনির যোগেন্দ্রকুমার মজুমদারের বাড়িতে রেখে, সেখান থেকে কুমিল্লার কস্তুরবা গান্ধী ন্যাশনাল মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কন্যা শিক্ষালয়ে রেখে চিকিৎসা করে সুস্থ করার পর একটি আদর্শবাদী ছেলে তাকে বিবাহ করে। সুখেই ছিল বলে শুনেছি।” (অশোকা গুপ্ত— নোয়াখালির দুর্যোগের দিনে

    হিন্দু মা-বোনেদের এই চরম লাঞ্ছনার পরেও যারা বাংলা ভাগের জন্য বা যুক্ত বঙ্গ প্রস্তাব বানচালের জন্য শ্যামা প্রসাদকে দোষারোপ করে, তাদের মধ্যে মানুষের আত্মা আছে না কুকুরের আত্মা রয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ হয়। এদের ঘরে কি মা বোন নেই?

    হিন্দুদের নিরাপত্তা : সুরাবর্দীর মিথ্যা আশ্বাস

    এই পরিস্থিতিতেও প্রস্তাবিত স্বাধীন যুক্তবঙ্গে হিন্দুদের নিরাপত্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে সুরাবর্দী বলেন :

    “আমি মনে করি না মুসলমানদের সংখ্যা কিছুটা বেশি থাকায় তাঁরা যদি মন্ত্রিসভায় সামান্য সংখ্যাগুরু হন তাহলে হিন্দুদের বিশেষ আপত্তির কারণ হবে। কারণ ইতিপূর্বেও এই অবস্থা সকলে মেনে নেন। কেউ কি একথা ভাবতে পারেন যে, পরিবর্তিত পরিবেশে মুসলমানেরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করতে পারেন? অনেকগুলো কারণেই তা অসম্ভব : হিন্দুদের নিজস্ব শক্তি যে কোন শাসনব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে পারে। শাসনতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁরা অধিষ্ঠিত আছেন। সরকারী চাকরিতে তাঁরাই সংখ্যাগুরু। সেক্রেটারিয়েটের শাসনব্যবস্থা তাঁদেরই কব্জায় আছে। স্বভাবতই হিন্দু অফিসারের প্রভাব ও প্রতিপত্তি অগ্রাহ্য করা অসম্ভব। উপরন্তু, বাংলাদেশের সীমান্তেও দুই কোটি হিন্দু থেকে যাবেন। তাঁরা সব সময়ে সমধর্মীদের অধিকার বজায় রাখতে তৎপর থাকবেন। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে হিন্দুদের প্রতি অবিচার করা সম্ভব নয়।”

    উত্তরে সুরাবর্দী সাহেবকে বলা যেত— হিন্দুরা তো এমন ক্ষমতা ও মর্যাদাপূর্ণ পদে মুসলিম লীগ শাসনেও ছিল; তা সত্ত্বেও তারা কলকাতা-ঢাকা-নোয়াখালি-ত্রিপুরায় এমন পড়ে পড়ে মার খেল কেন? মূল সত্য হল—বিধর্মীর উপর হত্যা লুণ্ঠন দাহন ধর্ষণ চালান মুসলমানদের ঐতিহ্য এবং তা তাদের ধর্মানুমোদিত। তা ঠেকাতে গেলে বা নিন্দা করলে ইসলাম-বিরোধী কাজ বলে গণ্য হবে। তাই সুরাবর্দীও এসব না-পাক কাজকে নিন্দা করতে পারেননি। যেমন পারেনি কোনও মুসলমান নেতা মোপলা আক্রমণ থেকে (১৯২৪) কলিকাতা-নোয়াখালি দাঙ্গা পর্যন্ত।

    দ্বিতীয়ত, “মনে রাখতে হবে ২৭শে এপ্রিল দিল্লী প্রেস কনফারেন্সে সুরাবর্দীকে প্রশ্ন করা হয় স্বাধীন বাংলা পাকিস্তানে যোগ দেবে কিনা? সুরাবর্দী এর উত্তর দেননি। (অমলেশ ত্রিপাঠী)।

    যুক্তবঙ্গ ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হবে কিনা : সুরাবর্দী নিরুত্তর

    পূনরায় “তাঁকে প্রেসের প্রতিনিধিরা কয়েকটি প্রশ্ন করেন, যথা— (ক) তিনি সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের বিষয়টির মীমাংসা করার জন্য কোন রেফারেণ্ডাম গ্রহণ করতে রাজী আছেন কি না? (খ) এই স্বাধীন বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হবে কিনা? (গ) তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে যুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা (joint electorates) গ্রহণ করবেন কিনা? প্রথম প্রশ্নের উত্তরে সোহরাওয়ার্দী বলেন, এই প্রস্তাব সম্পর্কে রেফারেণ্ডাম গ্রহণ করা আত্মহত্যাতুল্য হবে। শেষের দুটো প্রশ্ন সম্পর্কে তিনি কোনই মতামত ব্যক্ত করেন নি। তিনি শুধু বলেন, দেখা যাক স্বাধীন বাংলাদেশ কিভাবে কাজ করে। স্বাধীন বাংলাদেশ নিজেই তার শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করবে।” (অমলেন্দু দে)

    সোজা কথায় সুরাবর্দী নিজেই তাঁর যুক্তবঙ্গ সম্পর্কে মুক্ত মন নন। তাঁর উদ্দেশ্যই হল কোনমতে ভুজুংভাজুং দিয়ে একবার সম্পূর্ণ বাংলাকে ভারত রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা। তারপর লীগ গুণ্ডা বাহিনীকে সংযত করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব হবে না। শতকরা ৫০ হিন্দু পুলিশ / মিলিটারী থাকলেই বা কি? তারা নিজের পরিবারের জানমান বাঁচাবে, না বৃহত্তর হিন্দু সমাজের জানমান বাঁচাতে ছুটবে? ফল হবে ইংরেজ কর্তৃত্বাধীন লীগ শাসনে বাংলার হিন্দুদের উপর কলকাতা ও নোয়াখালির দাঙ্গার পৌনঃপুনিক অনুষ্ঠান। তখন বাংলার হিন্দুরা যাবে কোথায়? বিশেষত যখন বাংলার মুসলিম লীগের সভাপতি মৌলানা আক্রম খাঁ বলেন-

    “Referring to the question of a sovereign, united Bengal, he said that he would not support any proposal that was not in consonance with the scheme outlined in the Lahore resolution of the All india Muslim League.”

    ১৫ই মে তারিখে তিনি “শরৎ বসুর ফরমুলাকে সমালোচনা করে এক দীর্ঘ ‘বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, শরৎ বসুর ফরমুলা বাঙালী মুসলমানদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে কবর দেবার উদ্দেশ্যেই রচিত। এই ফরমুলা গ্রহণ করার অর্থ হল পাকিস্তান প্রস্তাবকে ধ্বংস করা এবং সাড়ে তিন কোটি বাঙালী মুসলমানকে ব্রিটিশের হাত থেকে বর্ণহিন্দুদের হাতে অর্পণ করা। একই সঙ্গে এই ফরমুলা তপশীলী হিন্দুদের আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেবে এবং তাদের দাসত্বকে স্থায়ী করবে।”

    মুসলিম লীগ যা চায় না, শরৎবাবু তার পেছনে ছুটছেন

    এরপরও শরৎবাবুরা যুক্তবঙ্গের মরীচিকার পেছনে ছুটেছেন। আশ্চর্য! একেই বুঝি বলে— ‘ধন্য আশা কুহকিনী!’ বাংলার মুসলিম লীগ যেমন স্বাধীন বাংলার বিপক্ষে, তেমনি বাংলা ভাগেরও বিপক্ষে। ১৮ই মে’র বিবৃতিতে লীগ সভাপতি বলেন—কেবলমাত্র মুসলমানদের লাসের উপরই বাংলা ভাগ হবে :

    “Muslim Bengal is positively against the division of Bengal. I assure everyone concerned with the question of separation that the Muslims of Bengal will fight against it. The partition of Bengal can be effected only over the corpses of the Bengal Muslims.”

    কিন্তু কার্যত মুসলমানদের লাস (corpses) অবিভক্ত কি বিভক্ত কোনও বাংলাতেই পড়েনি। পড়েছে হিন্দুদের corpses বা লাস হাজারে হাজারে, অবিভক্ত এবং বিভক্ত উভয় বাংলায়। যুক্ত বাংলাতেও যে তার ব্যতিক্রম কিছু হতো না তা অবধারিত জেনেই শ্যামাপ্রসাদের নেতৃত্বে হিন্দুরা রুখে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর পেছনে ছিলেন তৎকালীন বাংলার বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়।

    যুক্তবঙ্গের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়

    “লক্ষণীয় এই যে, এই সময়ে বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে যে আন্দোলন শুরু হয় তাতে বাঙালী বুদ্ধিজীবীদেরও এক বিশেষ ভূমিকা ছিল। বাংলার ও বাংলার বাইরে যেসব বাঙালী হিন্দুরা ছিলেন তাঁরাও একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের দাবিতে সক্রিয় হন। ২২শে এপ্রিল (১৯৪৭ খ্রীঃ) নয়াদিল্লিতে যে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সেখানে ঐতিহাসিকডঃ সুরেন্দ্রনাথ সেনও বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে ভাষণ দেন। ৭ই মে বাংলার পাঁচজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ—স্যার যদুনাথ সরকার, ডঃ মেঘনাদ সাহা, ডঃ শিশির মিত্র ও ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিস্টওয়েলের নিকট একটি তারবার্তায় বলেন, বাংলাদেশে একটানা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলায় জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এবং শিক্ষা, ব্যবসা ও শিল্প প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে যে ‘সাম্প্রদায়িক মন্ত্রিসভা’ রয়েছে তা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অবস্থায় কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গে একটি পৃথক প্রদেশ গঠন করা প্রয়োজন। এই পাঁচজন শিক্ষাবিদের তারবার্তার কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত করা হল :

    “Education, trade and industry in Bengal have almost collapsed owing to recurrent riots causing insecurity of life and property. The present Communal Ministry is totally incapable of maintaining law and order. We strongly support the immedi-ate formation of a separate West Bengal Province guranteeing under a non-communal Ministry safety of life and unhindered progress in education, industry and commerce, with the con-tinuance and development of Calcutta a vital part of West Ben-gal, as a moral intellectual social and economic centre.” একই ধরনের টেলিগ্রাম তারা স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও স্যার জন এণ্ডারসনকে পাঠান।

    প্রকাশ থাকে যে এঁদের মধ্যে একমাত্র সুনীতিবাবু ছাড়া আর সবারই আদি নিবাস ছিল পূর্ববঙ্গে—ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর ও রাজশাহী জেলায়। এঁদের মধ্যে তিনজন— যদুনাথ সরকার, রমেশচন্দ্র মজুমদার ও সুরেন্দ্রনাথ সেন—খ্যাতনামা ঐতিহাসিক। তাঁরা সম্পূর্ণ বাংলাকে মুসলমান শাসনে ছেড়ে দিতে রাজী ছিলেন না।

    শরৎ বসুর বিকল্প প্রস্তাব নেই : বৃথা আফসোস

    স্বাধীন যুক্তবঙ্গের অন্যতম উদ্যোক্তা শরৎচন্দ্র বসু মশাই বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের পরিণতি সম্পর্কে বলেছেন— “Future generations will, I am afraid, condemn us for conceding division of India and support-ing partition of Bengal and the Punjab.” (আমার আশঙ্কা হয়, ভারত বিভাগ এবং তৎসহ বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাগে সম্মত হওয়ার জন্য ভবিষ্যৎ বংশধরগণ আমাদের দোষারোপ করবে)। লম্বাচওড়া কথা বলা খুব সহজ। কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতিতে সারা দেশের আইন শৃঙ্খলা বজায় রেখে, আর্থিক উন্নতির পথ সুগম রেখে, দেশের অখণ্ডতা বজায় রাখার মতো কোনও বিকল্প শাসনব্যবস্থার কথা শরৎবাবু তো বাতলাতে পারেন নি।

    বস্তুত বঙ্গভঙ্গের পক্ষে প্রবল জনমতের জোয়ার দেখেই মিঃ জিন্নার ইঙ্গিতে সুরাবর্দী কৌশলে কাজ হাসিল করতে যুক্তবঙ্গের ধুয়া তোলেন। ১৯৩৭ সন থেকে ১৯৪৭ সনের মধ্যে সাম্প্রদায়িক অবস্থার যে আকাশপাতাল পরিবর্তন ঘটে গেছে, সে সম্পর্কে সম্যক পর্যালোচনা না করেই সুরাবর্দীর সুরে পোঁ ধরেন শরৎবাবু। বাংলা ভাগ হলে সুরাবর্দীর গদি থাকবে না জেনেই যুক্তবঙ্গের জন্য তাঁর দরদ উথলে ওঠে। কিন্তু আদতে তাঁর হৃদয়ের (যদি সে বস্তু থেকে থাকে) কোনও পরিবর্তন হয়নি। যদি হতো তা হলে তিনি করজোড়ে বাংলার নির্যাতিত মা-বোনেদের কাছে মার্জনা ভিক্ষা করতেন। কারণ, হিন্দুদের কাছে ধনসম্পদ জানপ্রাণের চেয়ে নারীজাতির সম্মান বড় বেশি মূল্যবান। হিন্দুদের সেই দুর্বল স্থানে তিনি আঘাত করেছেন, নারীজাতির মর্যাদাহানি করেছেন। যুক্তবঙ্গের প্রবক্তারা সোদপুরে গান্ধীজীর সঙ্গে একে একে দেখা করেন। তিনি প্রার্থনা সভায় বলেন, ‘যদি বাংলা ভাগ হয়, তবে তার জন্য মুসলমানরা, বিশেষত ক্ষমতাসীন মুসলিম সরকার দায়ী হবে। ‘If he (Gandhi) were the Prime Minister of Bengal, he would plead with his Hindu brethren to forget the past. He would tell them he was as much a Bengali as they were. Difference in religion could not part the two.’ কিন্তু এসব অরণ্যে রোদন। চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। বখতিয়ার খিলজীর বাংলা জয় থেকে যে হিন্দু বিদ্বেষের সূত্রপাত, সুরাবর্দী পর্যন্ত সে ধারা অব্যাহত। শুধু সময় ও সুযোগের অপেক্ষা; ফাঁক পেলেই ছোবল।

    সে সময় পাকিস্তানী মাদকে মুসলমান সমাজকে এমন আসক্ত করেছিল যে 1946-এর নির্বাচনে মুসলিম লীগ প্রায় 89% ভোট পায়। বাংলায় তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য। যেখানে তারা নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেনি—যেমন, পাঞ্জাব, সীমান্ত প্রদেশ (89% মুসলমান অথচ কংগ্রেস মন্ত্রিসভা), সিন্ধু প্রদেশ সেখানে ‘মুসলিম ন্যাশানাল গার্ড’ নামক গুণ্ডাবাহিনী ও ব্রিটিশ গভর্নরদের সহায়তায় দাঙ্গাহাঙ্গামা অরাজকতা সৃষ্টি করে শাসন-ব্যবস্থা অচল করে তোলে। বলতে গেলে, স্রেফ গুণ্ডামির মাধ্যমে মুসলিম লীগ ঐ প্রদেশগুলির শাসনভার করতলগত করে।

    যদি ধরে নেওয়া যায় “সম্ভবত মহাত্মা গান্ধীর সংস্পর্শে এসে এবং জিন্না ও অন্যান্য প্রভাবশালী মুসলিম লীগ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য হওয়ায় সোহরাওয়ার্দীর চিন্তাধারায় এক পরিবর্তন ঘটে” (ডঃ অমলেন্দু দে), কিন্তু তিনি তো বাংলার মুসলিম লীগের বৃহত্তর অংশকে তাঁর মতে আনতে পারেননি। আর লীগের গুণ্ডাবাহিনীকে কে সংযত করবে? তারা তো হিন্দু-বিদ্বেষ বিষে এক একটা কাল কেউটেতে পরিণত। গত ক’বছরের লীগ শাসনে হিন্দুদের প্রতি ব্যবহারে তাদের চোখের হায়া নষ্ট হয়ে গেছে। হিন্দুরা কোন্ বিশ্বাসে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলা শাসনে লীগের সঙ্গে সামিল হবে? কে তাদের জীবন ও ধনমানের গ্যারান্টি দিবে?

    তবে মুসলিম লীগ হিন্দু সমাজের মাঝেই তাদের দোসর খুঁজে পেয়েছে। তাদের বিভীষণ, জয়চাঁদ বা মীরজাফর বলে কাগজ কালি খরচ করা নিরর্থক।

    যোগেন্দ্র মণ্ডলের সহায়তায় মুসলিম লীগের শক্তিবৃদ্ধি

    “প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা প্রয়োজন কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভার প্রভাব ক্ষুণ্ণ করবার উদ্দেশ্যে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ তপশীলী সম্প্রদায়ের নেতা যোগেন্দ্ৰনাথ মণ্ডল, দ্বারিক বাড়রি প্রভৃতিকে তাঁদের সঙ্গে রাখতে সক্ষম হন। এইভাবে তপশীলী সম্প্রদায়ের এক অংশের সঙ্গে লীগের মৈত্রী হয়। লীগ নেতৃবৃন্দ তপশীলী সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষার অনেক প্রতিশ্রুতি তাঁদের দেন। এমনকি লীগের সমর্থনে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল ভারত সরকারের আইন মন্ত্রী হন এবং দ্বারিক বাড়রিও বাংলার একজন মন্ত্রী হন। যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল বাংলার তপশীলী সম্প্রদায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনিও বাংলাদেশ বিভাগ সম্পর্কে লীগ তত্ত্বের সমর্থক ছিলেন এবং বাংলাদেশ বিভাগের দাবি করায় কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভার বিরুদ্ধে তপশীলী সম্প্রদায়কে সমবেত করতে চেষ্টা করেন। যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ভূমিকা মুসলিম লীগের শক্তিবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

    যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল লীগের সর্বভারতীয় লাইন অনুকরণ করে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরোধিতা করেন। হিন্দু মহাসভা নেতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গের সমর্থন করায় তিনি মোটেই বিস্মিত হননি। কিন্তু ভাইসরয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের প্রাক্তন সভ্য এন. আর. সরকার এই দাবি সমর্থন করায় তিনি বিস্মিত হন। তাছাড়া তিনি এই দেখে বেদনা অনুভব করেন যে, পূর্ববঙ্গের হিন্দু জমিদার কিরণশঙ্কর রায়, পূর্ববঙ্গের হিন্দু জমিদার রায়বাহাদুর সত্যেন্দ্রনাথ দাস, এম.এল. এ. (সেন্ট্রাল) ও পূর্ববঙ্গের মস্তবড় ব্যবসায়ী এ. এম, পোদ্দার, এম. এল. এ-(সেন্ট্রাল) বঙ্গভঙ্গ সমর্থন করেন। তিনি মনে করেন, বঙ্গভঙ্গ করে সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি পরিষ্কার করেই বলেন, তপশীলী সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধী”

    মুসলিম লীগের সহযোগী তপশীলী সম্প্রদায়ের নেতা যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল বাংলাদেশ বিভাগের বিরোধিতা করলেও, বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ডিপ্রেসড ক্লাসেলীগ (Bengal Provincial Depressed Classed League) পাঞ্জাব ও বাংলাদেশ বিভাগের দাবি করে। এই লীগের সম্পাদক আর. দাস বলেন, মুসলিম লীগের সমর্থক যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের তপশীলী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কথা বলার কোনই অধিকার নেই। কারণ বাংলায় মুসলিম লীগ শাসনে তপশীলী সম্প্রদায়কে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ ভুগতে হয়েছে। তাই আর. দাস বাংলাকে হিন্দু ও মুসলিম বাংলায় বিভক্ত করার দাবি করেন।”

    শরৎবাবুর চেতাবাণী

    শরৎবাবু তো “I warned my Countryman” বলে অনেক বাগাড়ম্বর করেছেন। হিন্দুরা তাঁর সাবধান বাণীতে কান না দিয়ে শ্যামাপ্রসাদের তালে তাল দেওয়ায় তাদের অনুযোগ করেছেন। কিন্তু তিনি কি কল্পনা করতে পারতেন সে দৃশ্য : শত শত সশস্ত্র গুণ্ডা জঙ্গী জিগির দিতে দিতে বাড়ি ঘিরেছে; দাউদাউ করে ঘর বাড়ী জ্বলছে; গুণ্ডারা বাড়ির লোকজন যাকে পাচ্ছে তাকে তরোয়ালের কোপ, লাঠির বাড়ি মারছে; কাউকে আগুনে ছুঁড়ে ফেলছে, চারদিকে হতাহতের আর্তরব; মাথায় ফেট্টি বাঁধা দুর্বৃত্ত— একহাতে বা ছোরা আরেক হাতে বা বগলে চেপে ধরে জঙ্গলের দিকে টানছে কারো অতি আদরের কন্যা ও পুত্রবধূকে; আর দাড়ি, গোঁফের ফাঁকে কালো দাঁত বের করে, খেঁক খেঁক হাসি-হাসছে। দানবের হাতে নির্যাতিত কন্যা বা বধূর অর্তনাদের সামনে অসহায় স্বামী-পিতা-ভ্রাতার-মানসিক যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা শরৎবাবুর হয়নি। তিনি ভাগ্যবান। কিন্তু তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র আধ মাইলেরও কম দূরত্বে পার্ক সার্কাসের হিন্দুরা এমন নৃশংস অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল বলেই হিন্দুরা এক বাক্যে বাংলাভাগের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। এই পাশ প্রবৃত্তির লোকেরাই পাকিস্তান কায়েম করেছিল।

    শরৎবাবু স্মরণ করতে পারতেন ১৯২৪ সালে মালাবারে ও কোহাটে মুসলিম দুর্বৃত্তদের হাতে হিন্দুদের নির্যাতনের পর গান্ধীজীর প্রতিক্রিয়ার কথা। একালের পাঠকদের কাছেও তার কিঞ্চিৎ পরিচয় তুলে ধরা দরকার :

    উত্তরে কোহাট দক্ষিণে মালাবার : সর্বত্র এক ইতিহাস— হত্যা লুণ্ঠন ধর্ষণ

    খিলাফৎ আন্দোলনের সলিল সমাধি সম্পূর্ণ হয়। কোন চালু আন্দোলন ব্যর্থ হলে তার প্রতিক্রিয়া ঘটা স্বাভাবিক। স্বাধীনতার লক্ষ্যটা শিকেয় তুলে রেখে খলিফা নিয়ে মাতামাতি করার জন্য হিন্দুরা মুসলমানদের দোষ দিতে লাগল। আর মুসলমানরা বলতে লাগল, হিন্দুরা ফাঁকতালে স্বরাজ পেতে চাইছিল যেখানে তারা হবে সংখ্যালঘু। তার পরিণাম দাঁড়াল কোহাট, মালাবার এবং আরও কয়েটি জায়গায় হিংসাত্মক ঘটনা।

    সার্ভেন্টস অফ ইণ্ডিয়া সোসাইটির রিপোর্টে পাওয়া যায়, মালাবারে মোপলা বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫০০ হিন্দু নিহত হয় এবং ২০,০০০ হিন্দুকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হয়। প্রায় ৩ কোটি টাকার বিষয় সম্পত্তি ধ্বংস হয়।

    প্রকৃতপক্ষে কোহাটি হত্যাকাণ্ড ছিল আরও গুরুতর ব্যাপার। পট্টভি সীতারামাইয়া তাঁর ‘হিস্টোরি অফ্ দি কংগ্রেস’-এ লিখেছেন—”কিন্তু এই বছরের (১৯২৪) বিষক্রিয়ার পরিণামে নানা জায়গায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা ঘটে, বিশেষতঃ দিল্লী, গুলবার্গ, নাগপুর, লক্ষ্ণৌ, শাহজাহানপুর, এলাহাবাদ, জব্বলপুর এবং সবচাইতে বিশ্রিরকম কোহাটে। বস্তুতঃ কোহাট হত্যাকাণ্ড ভারতের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।”

    “নর্থ ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের শহর এলাকায় হিন্দুর সংখ্যা ছিল বলতে গেলে শতকরা পাঁচ। তার মধ্যে অন্ততপক্ষে ১৫৫ জন নিহত হয়। নিরাপত্তার অভাব বোধ করে সমস্ত হিন্দু অধিবাসীরা ৩২০ কিমি দূরত্ব পার হয়ে রাওয়ালপিণ্ডি চলে আসতে চায়। এক অভাবিত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। গান্ধীজী ২১ দিন অনশনের সিদ্ধান্ত নেন।

    গান্ধীজীর আত্মগ্লানি

    মহাদেব দেশাই তাঁকে নিরস্ত করার চেষ্টা করেন। গান্ধীজী সক্ষোভে বলেন, “আমার ভুল। কেন, আমি হিন্দুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি এমন অভিযোগ আমার উপর আসতে পারে। আমি তাদের মুসলমানদের বন্ধু হতে বলেছি। তাদের ধর্মস্থানগুলির নিরাপত্তার জন্য আমাদের জীবন এবং সম্পত্তি মূসলমানদের রক্ষণাবেক্ষণে রাখতে বলেছি। এমন কি আজও আমি তাদের অহিংসার পথ অনুসরণ করে বিবাদ-বিসংবাদ অবসানের জন্য হত্যার বদলে মৃত্যুবরণের কথা বলছি। তার পরিণামে কি দেখছি? কতগুলি মন্দির অপবিত্র করা হয়েছে। কতজন ভগিনী আমার কাছে অভিযোগ জানাচ্ছে। গতকালই আমি হাকিমজীকে বলেছি, মুসলিম গুণ্ডাদের ভয়ে হিন্দু নারীরা সন্ত্রস্ত। বহু জায়গাতেই তারা একা চলাফেরা করতে ভয় পায়। … থেকে আমি একটা চিঠি পেয়েছি। যেভাবে তার নাবালিকা সন্তানেরা ধর্ষিতা হয়েছে তা আমি সহ্য করি কি করে? আমি এখন শান্তভাবে এসব মেনে নেওয়ার জন্য হিন্দুদের বলি কি করে?

    অবস্থাটা এমনই, ১৯৩০ সালে কংগ্রেসের কাঁকিনাড়া অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন মৌলানা মহম্মদ আলি। এই অধিবেশনে বিষ্ণু দিগম্বর বন্দে মাতরম্ সঙ্গীত গেয়েছিলেন। বন্দে মাতরম্ সঙ্গীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সভাপতি মৌলানা মহম্মদ আলি স্থানত্যাগ করেন। এতদ্ব্যতীত তাঁর সভাপতির ভাষণে তিনি এই উপদেশও দেন যে, হরিজনদের মধ্যে শতকরা পঞ্চাশ জনকে ধর্মান্তরিত করা যেতে পারে।”

    (ভবেন্দু ভট্টাচার্য—স্বস্তিকা, ৩ এপ্রিল, ২০০০ )

    সুরাবর্দীর ভূ-স্বর্গ রচনার স্বপ্ন : আসল কথায় ফাঁকি

    দিল্লীতে মাউন্টব্যাটেনের (এবং অবশ্যই জিন্নার) সঙ্গে বাতচিত সেরে এসে সুরাবর্দী তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাকে ভূ-স্বর্গ বানাবার এক স্বর্ণময় চিত্র অঙ্কন করে ২৭ এপ্রিল কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন এবং বলেন : .

    “Undivided Bengal would be a great country, the richest and the most prosperous in India. Capable of giving to its people a high standard of living, where a great people will be able to rise to the fullest height of their stature, a land that will be truly plentiful,…… is it not possible to evolve a system of govern-ment by all of us sitting together which will satisfy all sections of the people and we would revive the glory and splendour that was Bengal? I would go very very far, far indeed to meet the wishes of the Hindus of Bengal, if they would only accept the priniciple of a soverign, undivided Bengal….. I can assure them the future is not going to be like the present.”

    সাংবাদিকরা ছেড়ে কথা বলার পাত্র নয়। তারা তাঁকে চেপে ধরল স্বাধীন বাংলার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কি ধরনের হবে? জিন্নার সঙ্গে তাঁর কি কথাবার্তা হয়েছে? হিন্দু মুসলমান যুক্তবাংলায় একসঙ্গে সুখে থাকতে পারলে একই ভারতে থাকতে অসুবিধা কোথায়? বলাই বাহুল্য, সুরাবর্দী এসব সরাসরি প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন :

    “Press questioners passed over this bit of hyperbola, and tried to pin Suhrawardy down on what relationship such a soverign Bengal would have to Pakistan of which he previously had been a supporter. What promises had he and Mr. Jinnah exchanged? He was asked if Hindus and Muslims can live together in one Bengal, then why can’t they remain in one undivided India? His answers were evasive.”

    স্বচ্ছ চিন্তাধারা, জাতিধর্ম নির্বিশেষে জনসাধারণের প্রতি সমদৃষ্টি এবং আপন পর নির্বিশেষে ন্যায়-অন্যায় বিচারবুদ্ধি না থাকলে এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দান কঠিনই বটে। সুরাবর্দীরও সেই দশা। ব্রিটিশ রাজপুরুষগণ তাঁর সে সময়কার মানসিকতা সম্পর্কে বলেছেন :

    “Although British officials felt Suhrawardy had moderated his views the catastrophe of previous August, Gandhi found Suhrawardy quite an irresponsible person, and this did not help.”

    ভূ-স্বর্গ না ভূ-নরক : শ্যামাপ্রসাদ

    শ্যামাপ্রসাদ যখন বঙ্গভঙ্গের পক্ষে এবং স্বাধীন বঙ্গের বিপক্ষে সারা বাংলা চষে বেড়াচ্ছেন, তখন শরৎ বসু মশাই জনসমক্ষে তাঁর সাধের যুক্তবঙ্গের প্রস্তাব নিয়ে দাঁড়াতে সাহস করেন নি। গৃহাঙ্গনের নিরাপদ ঘেরাটোপ থেকে বিবৃতি দিয়ে ও চিঠি লিখে তাঁর বিরোধিতার কথা জানাচ্ছিলেন। তিনি ও সুরাবর্দী মিলে বাংলাকে যে ভূ-স্বর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা করেছিলেন সে সম্পর্কে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ বলেছেন :

    “Syamaprasad Mookerjee argued with both Suhrawardy and Sarat Bose, who was associated with the proposal (independent united Bengal). Mookerjee said, “Suhrawardy’s picture of the paradise to come is hardly comparble to the hell that now ex-ists in Bengal.’ Mookerjee and many other Hindus felt that Suhrwardy’s plan was only a ruse to try to bring all of Bengal into Pakistan as part of a deal with Jinnah.”

    এই সন্দেহ যে অমূলক নয় তা আগেই বলা হয়েছে। যুক্তবঙ্গ হলেই সুরাবর্দী-ইস্পাহানী-ওসমানী ও কলুটোলা-কলাবাগান-রাজাবাজার-পার্কসার্কার্স-বেলেঘাটা-বেলগাছিয়া-খিদিরপুর-ওয়াটগঞ্জের গুণ্ডার দল রাতারাতি সাধুসন্ত পীর ফকির বনে যাবে, সেকথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তাই শ্যামাপ্রসাদের ডাকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছিল। কারণ দিশাহারা বাঙালী তখন তাঁকেই একমাত্র পরিত্রাতা বলে মনে করেছিল। আর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে বাংলা ভাগ সম্পর্কে তাঁর দৃঢ় ও সুস্পষ্ট অভিমত জানিয়ে তিনি নিম্নোক্ত চিঠি লেখেন :

    সরদার প্যাটেলকে লেখা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর চিঠি

    ৭৭, আশুতোষ মুখার্জী রোড,
    কলকাতা ১লা মে ১৯৪৭

    আমার প্রিয় সরদারজী,

    শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়ায় সে ব্যাপারে আমরা স্বাভাবিকভাবেই খুবই উদ্বিগ্ন। সার্বভৌম বাংলার ভিত্তিতে সুহরাওয়ার্দীর সঙ্গে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করে শরৎবাবু প্রচণ্ড অনিষ্ট করছেন। তবে হিন্দুদের মধ্যে তাঁর সমর্থক নেই এবং তাঁর একটি সভাতেও ভাষণ দেবার সাহস নেই। আশা করি, আপনি কাউকেই এই সার্বভৌম বাংলার ধারণাটাকে আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করতে অনুমতি দেবেন না।

    আমি দেখছি, ১৭ তারিখে দিল্লীতে একটা কনফারেন্স হবে যেখানে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেতাদের জানানো হবে। আমি আশা করি শেষ মুহূর্তে মুসলিম লিগের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। মিঃ জিন্না যদি অবস্থার চাপে তা করতে বাধ্যও হয়, অনুগ্রহ করে বাংলাকে বিভক্ত করার ব্যাপারটা ব্যর্থ হতে দেবেন না। ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনায় যে রকম ভাবা হয়েছে সেরকম একটা শিথিল কেন্দ্রীয় সরকার স্থাপিত হলে বাংলায় আমাদের কোনরকম নিরাপত্তা থাকবে না। পাকিস্তান হোক আর নাই হোক, আমরা বাংলার বর্তমান সীমানার মধ্যে দুটি প্রদেশ গঠন করার দাবি করছি।

    আমি জানি না, বড়লাট কোন অস্থায়ী সীমানা ঘোষণা করবেন কি না। বর্তমানে বর্ধমান এবং প্রেসিডেন্সী বিভাগ এবং জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিঙকে এর অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। পরবর্তীতে সীমানা কমিশন আলোচনা করে থানার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করবে। এটা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ যে নতুন ঘোষণায় বাংলা মন্ত্রিসভার তাৎক্ষণিক বাতিলের ঘোষণা থাকতে হবে। এটা অবিলম্বে না করলে পরিণতি অবশ্যই ভয়ানক হবে। এই মন্ত্রিসভাকে একদিন কাজ করতে দিলেও প্রদেশের এবং বিশেষ করে কলকাতার সর্বনাশ করে ছাড়বে। আঞ্চলিক মন্ত্রিসভা গঠনে বিলম্ব হলে পরামর্শদাতাদের প্রতিনিধি পরিষদ নিয়ে ৯৩ ধারা জারী করা হোক।

    আপনি যদি কখনও মনে করেন যে, আমার দিল্লী যাওয়া দরকার, আমাকে তা জানাতে ইতস্তত করবেন না।

    পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর কাছে আমি একই রকম চিঠি পাঠাচ্ছি।

    আন্তরিকভাবে আপনার
    শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী

    মাননীয় সরদার বল্লভভাই প্যাটেল

    নতুন দিল্লী

    শ্যামাপ্রসাদের দেখাদেখি বাংলার কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও সর্দার প্যাটেলকে চিঠি লেখা হয়। তাতে শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনিই শোনা যায় :

    সরদার প্যাটেলকে লেখা বি. সি. সিংহের চিঠি

    ৫৯, ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড,
    পোঃ কাশীপুর
    কলকাতা

    ৫ই জুন, ১৯৪৭

    শ্রদ্ধেয় সরদারজী,

    কয়েকদিন আগে শ্রীযুক্ত নীহারেন্দু দত্তমজুমদারের সঙ্গে গিয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করার কথা হয়ত আপনার মনে আছে। আপনার উৎসাহ এবং দয়ার্দ্র সহানুভূতি আপনার মূল্যবান সময়ের অনধিকার দখল নিতে এবং চিঠি লিখে আপনার তাৎক্ষণিক বিবেচনার দাবি রাখে এরকম কতকগুলি ব্যাপার আপনার নজরে আনতে উৎসাহিত করেছে।

    ১. কতকগুলি সারা বাংলা নির্বাচন ক্ষেত্রের কি হবে, বড়লাটের ঘোষণায় তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি। উদাহরণ স্বরূপ, রেলপথ শ্রমিকসঙ্ঘ নির্বাচন ক্ষেত্ৰ (একজন কম্যুনিস্টের দখলে), জল পরিবহণ শ্রমিক সঙ্ঘ নির্বাচন ক্ষেত্র (একজন মুসলমানের দখলে), ৫টি বাণিজ্য আসন (যার ৪টি কংগ্রেসীদের এবং ১টি একজন মুসলমানের দখলে), প্রেসিডেন্সী এবং রাজসাহী বিভাগ ভূমি অধিকারী আসনদ্বয় (উভয়েই কংগ্রেসীদের দখলে), যা বিভক্ত হতে যাচ্ছে, প্রেসিডেন্সী বিভাগ এবং উত্তর বঙ্গ পৌর নির্বাচন ক্ষেত্রদ্বয় (উভয়ই কংগ্রেসীদের দখলে) যা বিভক্ত হতে যাচ্ছে— এই নির্বাচন ক্ষেত্রগুলির দশা কি হবে তা খুব পরিষ্কার নয়। এই আসনগুলির কয়েকটির অন্তর্ভুক্তি আমাদের অবস্থান শক্তিশালী করবে। সুপারিশও করা হয়েছে যে, এরকম ক্ষেত্রে, যেখানে কোন সদস্যের নির্বাচন ক্ষেত্র বিভক্ত হচ্ছে সেখানে তিনি কোন গণপরিষদে যোগ দিতে চান তাঁকে তা ঠিক করার ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে।

    ২. ঘোষণায় এমনও সুযোগ রাখা হয়েছে যে, বাংলার প্রশাসনের ওপর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য মুসলিম লিগ যদি ভোটাভুটির সময় হিন্দুস্থান গণপরিষদের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেয় তবে সেক্ষেত্রেও আমরা নিঃসন্দেহে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হব, কিন্তু সে পরিস্থিতিতে বাংলায় জাতীয়তাবাদের জন্য বুনিয়াদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না, আমরা নিজেদের হাতে প্রশাসন না পেলে এটা করা যাবে না। যদিও মিঃ জিন্নার বিরুদ্ধে বাংলার মুসলিম লিগের বিদ্রোহী হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম তবুও যে কোন রকম পরিস্থিতির জন্য আমাদের তৈরি থাকা এবং আগে থেকে মনস্থির করে রাখা উচিত। আমাদের মনে হয়, তাহলে,  মোটামুটি বর্তমান অবস্থায় বজায় থাকবে এবং বাংলায় জাতীয়তাবাদের বুনিয়াদ গড়ার যে পরিকল্পনা আমাদের আছে তা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হবে। আমাদের মতে, বিভাগ হতে হবে। তারপরেও ইচ্ছে করলে পূর্ববঙ্গ প্রদেশের হিন্দুস্থান গণপরিষদে যোগ দিতে কোন বাধা থাকবে না। কিন্তু এই সঙ্কটময় মুহূর্তে, সারা বাংলাকে মুসলিম লিগের যে কোন রকম প্রভাবাধীনে ছেড়ে দিতে পারে না। জাতীয়তাবাদী চরিত্রের প্রশাসন নিশ্চিত করার জন্য, আমরা মনে করি বিভাজন অত্যাবশ্যক এবং এ-ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য আমরা উদ্বিগ্ন।

    ৩. আমাদের মনে হয়, বাংলায় এখন দু-তিনটে ব্যাপারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া উচিত, যেমন—(১) বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে জনগণের উৎসাহকে উস্কে প্রচণ্ড ক্রোধে পরিণত করতে হবে যাতে করে কোনরকম দোদুল্যমানতা না থাকে এবং মুসলিম এবং হয়ত আমাদেরও কিছু ‘নেতার’ সর্বাপেক্ষা চেষ্টা সত্ত্বেও যেন স্বপক্ষ ত্যাগের কোন সম্ভবনা না থাকে। (২) যে সব জায়গাগুলো ন্যায্যভাবে আমাদের পাওয়া উচিত অথচ বর্তমানে আমাদের হাতের বাইরে আছে, সে জায়গাগুলো যাতে আমরা পাই তার জন্য সীমানা কমিশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। (৩) কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথাবার্তার ধারা থেকে আশঙ্কা করার কারণ আছে যে, পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি করার চেষ্টা হবে। কিন্তু মাত্র মুসলিম লিগের সুবিধা হবে এমনভাবে কংগ্রেসের অবস্থানের যাতে অপব্যাখ্যা না করা হয় তা দেখার জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু আমাদের পক্ষে এই কর্মসূচি পরিচালনা করার জন্য সামনে কঠিন সময়ের সম্বন্ধে সচেতন এবং যে ভূখণ্ড অস্থায়ীভাবে আমাদের আয়ত্তের বাইরে তা অর্জন করার আদর্শে অনুপ্রাণিত এক মন ও একই অভীপ্সা সম্পন্ন শক্তিশালী সংগঠনের প্রয়োজন। ঘোষণার ফলশ্রুতি স্বরূপ হয়ত আমাদের দলে এবং সংগঠনে পরিবর্তন ঘটবে এবং একজন সাধারণ কংগ্রেসী হিসেবে আমি আপনার কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ রাখছি যে, সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব এই পরিবর্তনের খুব মনযোগের সাথে তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করুক যাতে এই পরিবর্তন নির্বিঘ্নে ঘটতে পারে এবং কোন গোষ্ঠী বা সেরকম বিবেচনাসমূহ সহ্য এবং সঙ্কটপূর্ণ অত্যাবশ্যক ইস্যুগুলিকে প্রভাবিত করতে না পারে।

    আমি যতটা জানতে সমর্থ হয়েছি বাংলায় জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে সর্বজনীন সন্তোষ বিরাজ করছে, কিন্তু মুসলিম লিগ বিমর্ষ। যদিও নাজিমুদ্দিন গোষ্ঠীর কাগজগুলো পাকিস্তান থাকার জন্য ঘোষণাকে অভিনন্দিত করেছে, সুহরাওয়ার্দী গোষ্ঠীর মুখপত্র ইত্তেহাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে যে, মি. জিন্না বাংলা বিভাগে রাজী হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার ওপর আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মি. মুয়াজ্জেমুদ্দিন হোসেন আজ কাগজে বিবৃতি দিয়েছেন যে তাঁরা মাংস চেয়েছিলেন, সেখানে তাঁদের পাথর দেওয়া হয়েছে। তিনি এ-প্রশ্নও রেখেছেন যে, পাকিস্তান ছাড়া আর কোন শর্ত গ্রহণ করা হবে না, জিন্না এরকম আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বাংলার মুসলমানদের ‘পোকায় খাওয়া’,’ছেঁটে ফেলা’ পাকিস্তানের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। সুরটা লড়াইয়ের নয়, হতাশার। আমাদের সামনে যে কঠিন দিন আসছে, বিশেষ করে অব্যবহিতরূপে যে প্রবাহ ও পরিবর্তনের সময় আসছে তাতে আমরা উদ্বিগ্নচিত্তে আপনার নির্দেশের অপেক্ষা করছি এবং যে সব বিষয়গুলির কথা আমি লিখছি তার ব্যাপারে আপনার নির্দেশের জন্য আগ্রহসহকারে অপেক্ষা করা হবে।

    গভীরতম শ্রদ্ধাসহ,

    ইতি,
    আন্তরিকভাবে আপনার,
    বিমল চন্দ্র সিংহ
    সহকারী সচিব,
    বাংলা কংগ্রেস বিধানসভা দল
    এবং সদস্য
    বাংলা প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি
    (বাংলার হিন্দু মুসলমান সমস্যা—নজরুল ইসলাম)

    পরিত্রাতার ভূমিকায় শ্যামাপ্রসাদ

    “As the editor of the Indian National Register commented, one must understand the evil spirit of 1946 to understand why the partition was accepted in 1947. The evil spirit of communal hatred allowed Syamaprasad to mobilize Hindu community for partition in 1947 and to bring the Mahasabha and Congress in Bengal together at this climatic moment”.

    “বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি ও হিন্দু মহাসভা একযোগে কাজ করছিল। ২৬ এপ্রিল কিরণশঙ্কর রায়, শ্যামাপ্রসাদ, বিধানচন্দ্র দিল্লিতে মিলিত হয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সদস্যদের বঙ্গভঙ্গ সমর্থনে অনুরোধ জানাতে মনস্থ করেন।” (অমলেশ ত্রিপাঠী)

    আর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে তিনি লেখেন— ‘সার্বভৌম বাংলার ভিত্তিতে সুরাবর্দীর সঙ্গে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করে শরৎবাবু প্রচণ্ড অনিষ্ট করছেন। তবে হিন্দুদের মধ্যে তাঁর সমর্থক নেই এবং তাঁর একটি সভাতেও ভাষণ দেবার সাহস নেই। …অনুগ্রহ করে বাংলাকে বিভক্ত করার ব্যাপারটা ব্যর্থ হতে দেবেন না। ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনানুসারে একটি শিথিল কেন্দ্রীয় সরকার স্থাপিত হলে, বাংলায় আমাদের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। পাকিস্তান হোক আর নাই হোক, আমরা বাংলার বর্তমান সীমানার মধ্যে দুটি প্রদেশ গঠন করার দাবি করছি। (১লা মে ১৯৪৭)

    অধিকাংশ হিন্দু বাংলা ভাগ চাইছে না : শরৎ বসু

    বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত : শরৎবাবু কোণঠাসা

    শরৎবাবু বলেছেন বাংলার অধিকাংশ হিন্দু বাংলা ভাগ চাইছে না; তারা স্বাধীন যুক্তবঙ্গের পক্ষপাতী :

    “having been in close touch with public opinion in West and East Bengal, I can say that it is not a fact that Bengali Hindus unanimously demand partition. As far as East Bengal is con-cerned, there is not the slightest doubt that the overwhelming majority of Hindus there are opposed to partition.”

    কিন্তু প্রকৃত তথ্য শরৎবাবুর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। পূর্ববঙ্গের হিন্দু জনমতের পরিচয় তো কংগ্রেস দলের দপ্তর থেকেই পাওয়া যায় :

    “Even Hindus in East Bengal wrote to the Central Congress office supporting the partition of Bengal though they would be left in a Muslim province or nation unless they migrated.”

    পুনশ্চ : If one uses the evidence of the Congress files, which contain numerous letters from East Bengal Hindus calling for partition, then Patel was right and Sarat Bose was indeed isolated.”

    পূর্ববঙ্গের হিন্দুরা দাঙ্গাপীড়িত, তারা তো বাংলাভাগ চাইতেই পারে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরাও তো বাংলাভাগের সমর্থনে নেমেছেন। সে সম্পর্কে শরৎবাবুর বক্তব্য :

    “As regards West Bengal the agitation had gained ground because the Congress came to the aid of the Hindu Mahasabha and also because communal passions have been roused among Hindus on account of the happenings since August last. The demand for partition is confined more or less to the middle classes.”

    ঘটনা হয়তো তাই, সব দেশে সব বিষয়েই মধ্যবিত্তশ্রেণীই অগ্রণী ভূমিকা নেয় এক্ষেত্রে তাই হয়েছে। কিন্তু তাদের সঙ্ঘবদ্ধ করাও কম কৃতিত্বের কথা নয়। শ্যামাপ্রসাদের নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা সেই মহৎ কর্মটিই করেছে :

    “…. the middle classes in West Bengal were the main propagators of the partition idea and the Mahasabha was calling the tune.”

    বাংলা ভাগের পক্ষে জনমত সংগ্রহ

    মধ্যবিত্তের কথাই যখন বলা হল, তখন সেই জনমত কি ভাবে সংগৃহীত হল তার সূত্র এবং পরিসংখ্যানও জানা দরকার :

    “A widely-noted survey of Hindu public opinion by the Amrita Bazar Patrika in early May found that an overwhelming majority, ninety-seven percent, supported partition. Their find-ings were presented in an article, Homeland for Bengali Hindus.”

    শুধু সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনমত সংগ্রহ নয়, সারা বাংলার বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও বাংলাভাগের সমর্থন প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল :

    Support for Bengal Partition

    The West Bengal Provincial Committee which was formed a few months before the Calcutta Carnage of August, 1946, for the purpose of agitating for Bengal Partition, has received the support of a large number of public organisations, organs and individuals. A summary of some of the public bodies who have supported the Partition is given below :

    The Indian Association, the premier Liberal organisation. Bengal Hindu Conference held at Calcutta on the 15th and 16th of March, 1947, attended by 400 delegates from all over Bengal.

    The Jatiya Bangabhumi Samiti.

    The Bengal Partition League of Mahendra, Patna.

    The West and North Bengal Union.

    The Hindu Minorities Protection Committee of Birbhoom.

    The North and West Bengal Provincial Committee.

    The New Bengal Association.

    Burdwan District Congress Committee.

    Hooghly District Congress Committee.

    Midnapur District Congress Committee.

    Tamluk Subdivisional Congress Committee.

    81 Barristers of Calcutta High Court.

    165 Advocates of Calcutta High Court.

    100 Solicitors of Calcutta High Court.

    Presidency Magistrate’s Court. Bar Association.

    Sealdah Police Court Bar Association.

    Sealdah Civil Court Bar Association.

    Alipore Pleaders’ Bar Association.

    Howrah District Pleader’s Bar Association.

    Howrah District Criminal Court Bar Association.

    Uluberia Subdivisional Civil Court Bar Association.

    Iberia Subdivisional Criminal Court Bar Association.

    Anta District Pleaders’ Bar Association.

    Chinsurah Pleaders’ Bar Association.

    Arambag Pleaders’ Bar Association.

    Serampore Pleaders’ Bar Association.

    Burdwan District Pleaders’ Bar Association.

    Asansol Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Kalna Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Katwa Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Suri District Pleaders’ Bar Association.

    Rampurhat Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Bolpur Pleaders’ Bar Association.

    Bankura Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Bishnupur Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Midnapur District Pleaders’ Bar Association.

    Tamluk Subdivisional Bar Association.

    Contai Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Jhargram Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Ghatal Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Ghatal Subdivisional Muktears’ Bar Association.

    Tamluk Subdivisional Muktears’ Bar Association.

    Garhbeta Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Krishnagar Muktears’ Bar Association.

    Ranaghat Pleaders’ Bar Association.

    Diamond Harbour Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Diamond Harbour Subdivisional Muktears’ Bar Association.

    Barasat Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Jessore District Pleaders’ Bar Association-Hindu mumbers.

    Magura Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Narail Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Khulna District Pleaders’ Bar Association-Hindu members.

    Bagerhat Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Pabna District Pleaders’ Bar Association.

    Darjeeling District Pleaders’ Bar Association.

    Raigunj Pleaders’ Bar Association.

    150 Hindu members of Dacca District Pleaders’ Assocation.

    Hindu members of Narayanganj Subdivisional Bar Associa-tion.

    Hindu members of Munshiganj Subdivisional Bar Associa-tion.

    Faridpur District Pleaders’ Bar Association.

    Madaripur Subdivisional Pleaders’ Bar Association.

    Hindu members of Mymensingh District Pleaders’ Bar As-sociation.

    Netrokona Subdivisional Muktears’ Bar Association.

    Sherpur Pleaders’ Bar Association.

    Barisal District Pleaders’ Bar Association.

    Hindu members of Chittagong district Pleaders’ Bar Association.

    Hindu members of Noakhali District Pleaders’ Bar Assocation.

    Midnapur Municipality.

    Barrackpur Municipality.

    Rampurhat Union Board.

    Burdwan Sadar Local Board.

    Kalna Local Board.

    Hooghly District Board.

    Bangadeshiya Kayastha Sabha.

    Ward XI Legal Defence Committee.

    Hindu Chamber of Commerce.

    Bengali and Marwari Merchants of Khulna.

    Netrokona Medical Association.

    Tarun Samiti, Simla.

    Netaji Byayam Sangha, Ghatal.

    Residents of Asansol.

    Burdwan Traders’ and Mill-owners’ Association.

    Howrah People’s Association.

    Conference of Khulna citizens.

    Ranaghat Rate-payers’ Association.

    Noakhali Rehabilitation Committee.

    Nadia District Teachers’ Association.

    Meeting of Jessore people. Faridpur Medical Association.

    Ghatal Medical Association.

    Amrita Bazar Patrika (Daily English).

    Eastern Express (Daily English).

    Jugantar (Daily Bengali).

    Bharat (Daily Bengali).

    Hindusthan (Daily Bengali).

    The Modern Review (English Monthly).

    Prabasi (Bengali Monthly).

    Charu-Mihir (Weekly-Mymensingh).

    Pallibasi (Weekly-Kalna).

    এরপরও শরৎবাবু কি করে বলেন বেশির ভাগ বাঙালী বাংলা ভাগ সমর্থন করে না। অবশ্য বাঙালী বলতে তিনি যদি মুসলমানদেরও হিসাবে ধরেন, তাহলে অন্যকথা। তিনি বাংলাভাগের পক্ষে বিপক্ষে গণভোটের প্রশ্নও তুলেছিলেন, কিন্তু শ্রীহট্ট ও সীমান্ত প্রদেশে গণভোটের যে নমুনা দেখা গেছে, তারপর আর কোনও কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিই ঐ ধরনের গুণ্ডা কবলিত গণভোটের নাম মুখে আনেনি।

    অবশেষে বাংলাভাগ

    অবশেষে ভোটাভুটি। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইন সভায় দুই বাংলার বিধায়কগণের ভোটে বাংলাভাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্বাধীন যুক্তবঙ্গের পক্ষে বিপক্ষে ভোট দেবার কোনও শর্ত ছিল না বলে সে প্রশ্নে কোনও ভোট নেওয়া হয়নি। থাকলেও কোনও হিন্দু সদস্য ভোট দিতেন কিনা সন্দেহ। এমন কি শরৎবাবুর বড় দাদা সতীশ বসু এবং কিরণশঙ্কর রায়ও (যুক্তবঙ্গ সম্পর্কে উৎসাহ হারিয়ে) বাংলাভাগের পক্ষেই ভোট দেন; সে সঙ্গে জ্যোতি বসু সমেত দু’জন কম্যুনিস্ট সদস্যও :

    “Thus the Congress-Mahasabha alliance successfully manouvred to keep West Bengal as a Hindu-majority province within a divided India. Given the little choice before them, the Hindu Bengalis voted to split Bengal and remain part of a larger political entity, India. A united Bengal separate from Pa-kistan was not a choice, and it is not clear that any would have voted for it. Even Sarat Bose’s own brother Satish Bose, and Kiran Sankar Ray voted for partition. Jinnah got Pakistan, but it was one he called ‘moth-eaten’ because he lost East Punjab and West Bengal.”

    মিঃ জিন্নাকে ‘পোকা-কাটা’ পাকিস্তান উপহার দেবার কৃতিত্ব যে অনেকখানিই শ্যামাপ্রসাদের প্রাপ্য তা ইতিহাসকারগণও স্বীকার করেছেন :

    “Syamaprasad was successful in mobilizing the Hindu Com-munity for division; Sarat Bose and his allies could not resist the tide.”

    শ্যামাপ্রসাদের জন্যই কলিকাতা হাইকোর্ট কলিকাতায় রয়েছে : বিচারপতি ফণিভূষণ চক্রবর্তী

    শ্যামাপ্রসাদের অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক মৃত্যুর পর কলকাতা হাইকোর্টের-সমস্ত বিচারপতি, আইনজীবী ও কর্মচারীদের সমবেত শোকসভায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি প্রয়াত ফণিভূষণ চক্রবর্তী তাঁর বিচারপতিসুলভ প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টি থেকে একথা জোরগলায় বলেছিলেন যে হাইকোর্ট যে কলকাতার বুকে অবস্থিত রয়েছে, তার কৃতিত্ব অনেকখানিই শ্যামাপ্রসাদের প্রাপ্য :

    “This Court has a special reason to be grateful to Dr. Syamaprasad Mookerjee. The fact that this Court is func-tioning today as a Court of the Union of India is due mainly, if not wholly to his efforts. At the time when the plan for Parti-tion of the Country was being finalised, there was a suggestion that the whole of this province might go over to the other State and it was then that Syamaprasad Mookerjee intervened and harnessed all the mighty powers he possessed to an organised and determined opposition to the plan and forced a partition within a partition with the result that this Court continued to remain a Court of the Indian Union.” (24.6.53)

    শুধু কলকাতা হাইকোর্ট কেন, শরৎবাবু -সুরাবর্দীর স্বাধীন যুক্তবঙ্গের ফাঁদে পা দিলে ঢাকা-লাহোর-করাচীর হিন্দু-শিখদের শতসহস্র ঐতিহ্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষা ও সেবা সম্পর্কিত ভবন-সদন-আশ্রম-আলয়-নিলয়-নিকেতন-সেন্টার ও হলের যে গতি হয়েছে, এলগিন রোডে নেতাজী ভবন বা উডবার্ন পার্কে নেতাজী রিসার্চ বুরো’র বাড়িও তেমনি ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের বাড়ি কিংবা হাই মাদ্রাসা বোর্ডের হেড অফিসে রূপান্তরিত হতো।

    সুতরাং শ্যামাপ্রসাদ যে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে নেহরুজীর মুখের উপর বলেছিলেন, -“You divided India, I divided Pakistan” তা শূন্যগর্ভ দম্ভোক্তি নয়, নির্ভেজাল খাঁটি সত্য কথা—যা বর্তমানে নেহরু বংশের দাসানুদাস কংগ্রেসীদের কানে মধুবর্ষণ করবে না।

    শ্যামাপ্রসাদকে ছেড়ে কার্জনকে পূজা করুন : সুগত বসু

    অতি সম্প্রতি সুগত বসু নামে জনৈক লেখক আনন্দবাজার পত্রিকায় এক প্রবন্ধে (১২.৭.২০০০) প্রশ্ন তুলেছেন—”বঙ্গভঙ্গের প্রবক্তাকে বাঙালি কী চোখে দেখবে।” আগাগোড়া অসামঞ্জস্য, তথ্যের কারচুপি ও চিন্তার দৈন্যে ভরা প্রবন্ধের লেখক সমাপ্তি, রেখা টেনেছেন একটি কথা বলে–”বঙ্গভঙ্গের প্রবক্তাকে যদি আমরা বাঙালির নায়ক বা পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা হিসেবে মানতে চাই, তাহলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নয়, লাটসাহেব কার্জনকেই আমাদের পুজোর বেদিতে বসিেেয় আরাধনা করা উচিত” হাঁ, এ না হলে U.S. মার্কা অনাবাসী অধ্যাপক! কোথায় হিন্দু-মুসলমানের বিভেদ সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত কার্জনের বাংলা ভাগ (১৯০৫), আর কোথায় কার্জনের কৃপাধন্য মুসলিম সমাজের একাংশের হিন্দু-বিরোধী জিঘাংসাবৃত্তি থেকে মান ইজ্জত রক্ষার ঠাঁই হিসাবে বাংলা ভাগ (১৯৪৭)! সুগত বসুরা যতখুশি কার্জনের আরাধনা করুন; কিন্তু জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমী বাঙালী তাদের পরিত্রাতারূপে শ্যামাপ্রসাদকেই পূজার বেদীতে অধিষ্ঠিত করেছে। শিব আর বানরের তফাত বোঝার মতো কাণ্ডজ্ঞান তাদের লোপ পায়নি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅথর্ববেদ সংহিতা (সম্পাদনা : দিলীপ মুখোপাধ্যায়)
    Next Article মৈমনসিংহ-গীতিকা – দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }