শ্যামাপ্রসাদের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জী
জীবনপঞ্জী – শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (১৯০১-১৯৫৩)
১৯০১ জন্ম কলিকাতায়, ৬ই জুলাই
১৯২১ কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজীতে অনার্স সহ প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে বি. এ. ডিগ্রী লাভ।
১৯২২ ১৬ই এপ্রিল সুধা দেবীর সঙ্গে বিবাহ। ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকা পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ।
১৯২৩ প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে ভারতীয় ভাষায় এম. এ. ডিগ্রী লাভ। বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি মানসে বাংলায় এম.এ. পরীক্ষা দেন ও প্রথম স্থান লাভ করেন।
১৯২৪ বি.এল. পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম। কলিকাতা হাইকোর্টে অ্যাডভোকেট রূপে নাম লেখানো। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফেলো’ নির্বাচিত। মে মাসে স্যার আশুতোষের মৃত্যুর পর সিণ্ডিকেটের শূন্য আসনে সদস্যরূপে মনোনীত।
১৯২৬ ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলাত যাত্রা। লিনকন’স ইন-এ যোগদান। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সম্মেলনে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করা।
১৯২৭ বিলেতে ব্যারিস্টার হওয়া।
১৯২৯ বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসাবে কংগ্রেস সদস্য রূপে নিৰ্বাচিত।
১৯৩০ কংগ্রেস লেজিসলেটিভ কাউন্সিল বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিলে কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ এবং স্বতন্ত্র সদস্য রূপে পুনরায় নির্বাচিত।
১৯৩২ – বাংলা ভাষার মাধ্যমে ম্যাট্রিকুলেশনে পড়াশোনা ও পরীক্ষা দানে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। রবীন্দ্রনাথকে বিশ্ববিদ্যালয়ে “বিশেষ অধ্যাপক” রূপে নিয়োগে মুখ্য ভূমিকা। রবীন্দ্রনাথের ৭০ বর্ষ পূর্তি উদ্যাপন কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক।
১৯৩৩ পত্নীবিয়োগ।
১৯৩৪ উপাচার্য—কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পর পর দুইবার, ১৯৩৪-৩৮। বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম উপাচার্য। কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের পোস্ট গ্রাজুয়েট কাউন্সিলের সভাপতি-পর পর কয়েক বছরের জন্য। আর্টস ফ্যাকাল্টির ডীন। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বোর্ডের সদস্য ও পরে চেয়ারম্যান।
১৯৩৫ ইনডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (বাঙ্গালোর) কোর্ট এবং কাউন্সিলের সদস্য।
১৯৩৭ পুনর্গঠিত কনস্টিটিউশান অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় নির্বাচিত রবীন্দ্রনাথকে প্রথম বাংলায় সমাবর্তন ভাষণ দানে আহ্বান।
১৯৩৮ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক এল. এল. ডি. উপাধি।
লীগ অফ নেশনসের “ ইনটেলেকচুয়াল কো-অপারেশন কমিটি”তে ভারতের প্রতিনিধিরূপে মনোনীত।
প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ
১৯৩৯ – অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার কলিকাতা অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ।
১৯৪০ – ১৯৪০-৪৪-এর জন্য অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি এবং বাংলার হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
১৯৪১ – ১৯৪১-এর ১১ই ডিসেম্বর থেকে ১৯৪২-এর ২০শে নভেম্বর পর্যন্ত এ. কে. ফজলুল হকের প্রগতিশীল মোর্চার মন্ত্রিসভায় বাংলার অর্থমন্ত্রী। বিহার সরকার ভাগলপুরে হিন্দু মহাসভার অধিবেশনে নিষেধাজ্ঞা জারী করায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ডঃ মুখার্জীর ভাগলপুর অভিযান, গ্রেপ্তার বরণ, ডিফেন্স অফ ইণ্ডিয়া আইনে আটক হওয়া, এবং পরে মুক্তি।
ক্রিপস মিশনে বক্তব্য পেশ করার জন্য অংশগ্রহণ।
১৯৪২ মেদিনীপুরে এবং আগস্ট আন্দোলনের সম্পর্কে অন্যত্র বাংলার গভর্ণরের দমননীতির প্রতিবাদে বাংলা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ। তদানীন্তন ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগোকে ইঙ্গ-ভারতীয় শাসন ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়ে পত্র লেখা, কারারুদ্ধ মহাত্মাজীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার প্রচেষ্টা ও অনুমতি না মেলা।
১৯৪৩ বাংলার মন্বন্তরে ব্যাপক সাহায্যের জন্য সংগঠন গড়ে তোলা। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার অমৃতসর অধিবেশনে সভাপতিত্ব হিন্দু-মুসলমান সমস্যা সমাধানের আশায় মিঃ জিন্নার সঙ্গে সাক্ষাৎ।
১৯৪৩-৪৫ বাংলার রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি। ১৯৪৪ “ন্যাশনালিস্ট” নামে এক ইংরাজী দৈনিক সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠা করা। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার বিলাসপুর অধিবেশনে সভাপতিত্ব।
১৯৪৫ নভেম্বরে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ দিবস পালন উপলক্ষে সরকারের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষের সময়ে ছাত্রদের নেতৃত্বদানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ। তার পরেই গুরুতর অসুস্থতা
১৯৪৬ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় নির্বাচিত। কলকাতার দাঙ্গায় বিপুল প্রাণক্ষয়। চতুর্দিকে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা। দুর্গত মানুষের পাশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ভাবে দাঁড়িয়ে সাহায্যদান। হিন্দুস্থান ন্যাশনাল গার্ড-এর প্রতিষ্ঠা করা।
বাংলা থেকে গণপরিষদে সদস্য নির্বাচিত। সুরাবর্দী ও শরৎ বসুর ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন স্বাধীন যুক্ত বাংলা পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা। ডঃ মুখার্জীর আন্দোলনে বাংলার এক অংশের ভারতীয় ইউনিয়নে থেকে যাওয়া সম্ভব হয়। পশ্চিমবঙ্গ নামক সে অংশ পাকিস্তানের কবল থেকে রক্ষা পায়।
১৯৪৭ : ১৫ই আগস্ট পণ্ডিত নেহরু সরকার গঠন করেন। ডঃ মুখার্জী মন্ত্রিসভায় যোগ দেন এবং শিল্প ও সরবরাহ দপ্তরের ভার নেন। স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর হিন্দু মহাসভাকে রাজনীতিক কার্যকলাপ পরিত্যাগ করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে নিয়োগের উপদেশ দেন। মহাবোধি সোসাইটির সভাপতি।
১৯৪৮ ৩০শে জানুয়ারী মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু। কয়েক মাস আগে প্ৰদত্ত নীতির পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাব ১৯৪৮-এর ১৫ই ফেব্রুয়ারী মহাসভা কর্তৃক গৃহীত।
১৯৪৯ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পণ্ডিত নেহরু কর্তৃক জানুয়ারী মাসে বুদ্ধশিষ্য সারিপুত্ত ও মোগগালানার দেহাবশেষ ডঃ মুখার্জীর হাতে অর্পণ। আগস্টে মহাসভার ১৯৪৮, ১৫ই ফেব্রুয়ারীর সিদ্ধান্ত নাকচ এবং পুনরায় রাজনীতিক কার্যকলাপ শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ। মহাসভার কার্যকরী সভা থেকে ডঃ মুখার্জীর পদত্যাগ। ১৯৫০ পূর্ব-পাকিস্তানের প্রলয়ঙ্কর হিন্দুবিরোধী দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে নেহরু-লিয়াকত আলি চুক্তি। পাকিস্তানের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তোষণ-নীতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্য এবং সেই কারণেই ৮ই এপ্রিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ডঃ মুখার্জীর পদত্যাগ।
১৯৫১ জনস্বার্থে দুই দুইবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ জাতীয় রেকর্ড বলা যেতে পারে। উদ্বাস্তুদের সেবায় মনপ্রাণ দিয়ে আত্মনিয়োগ এবং তাদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের জন্য বিস্তৃত জায়গায় পরিদর্শন। পিপলস পার্টি নামে একটি নূতন রাজনৈতিক দল গঠন এবং পাকিস্তানকে তোষণের জন্য ভারত সরকারকে অভিযোগ। দিল্লীতে অক্টোবর মাসে ডঃ মুখার্জীর সভাপতিত্বে ভারতীয় জনসংঘ নামে একটি সর্বভারতীয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠা। ভারতের সকল প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিরা এই সভায় আসেন। লোকসভায় মৌলিক অধিকার খর্বকারী ভারতীয় সংবিধানের সংশোধনী বিল পাস করানোর বিরুদ্ধে লোকসভায় তীব্র প্রতিবাদ জানান।
১৯৫২ সাধারণ নির্বাচনে দক্ষিণ কলিকাতা কেন্দ্র থেকে লোকসভায় নির্বাচিত। পাকিস্তানের প্রতি দৃঢ় নীতি নেওয়ার জন্য লোকসভার ভেতরে ও বাহিরে সরকারের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করেন। লোকসভায় জাতীয় গণতান্ত্রিক দল নামে একটি বিরোধী ব্লক তৈরি করেন। নভেম্বর মাসে সাঁচীতে বুদ্ধশিষ্যদের দেহাবশেষ স্থাপনের অনুষ্ঠানে যোগদান। বর্মা, কাম্বোডিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে ভ্রমণ। কটকে বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনে সভাপতিত্ব। কানপুরে জনসঙ্ঘের সম্মেলনে সভাপতিত্ব।
১৯৫৩ জম্মু ও কাশ্মীরের সম্পূর্ণ ভারতভুক্তির জন্য জম্মুতে প্রজাপরিষদের আন্দোলনে সমর্থন জানানোর জন্য ভারত সরকার, বিশেষ করে পণ্ডিত নেহরুর সঙ্গে তীব্র বাদ-বিতণ্ডা। পারস্পরিক আলোচনা ও শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধানের জন্য নেহরু ও শেখ আবদুল্লার সঙ্গে দীর্ঘ কিন্তু নিষ্ফল পত্রবিনিময় চাঁদনী চকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শোভাযাত্রা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার, আটক, পরে হেবিয়াস কর্পাসের আবেদনে সুপ্রীম কোর্টের আদেশে মুক্তিলাভ।
ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মতো কাশ্মীরেও বিনা পারমিটে প্রবেশের অধিকার দাবি করে এবং কাশ্মীরের জন্য আলাদা নিশান, আলাদা বিধান ও আলাদা প্রধান ব্যবস্থার প্রতিবাদে কাশ্মীরে প্রবেশ ও গ্রেপ্তার। শ্রীনগরে এক পরিত্যক্ত গেস্ট হাউসে আটক থাকা। বন্দী দশায় গুরুতর পীড়ায় আক্রান্ত। অচিকিৎসা ও ভুল চিকিৎসায় ২৩শে জুন নির্জন নির্বান্ধব অবস্থায় মৃত্যু।
২৪ জুন কলিকাতায় বিশাল শোকমিছিল সহকারে শবযাত্রা ও মরদেহের সৎকার।
