৪. ভাগের রাজনীতি–৩য় পর্ব
চতুর্থ অধ্যায় – ভাগের রাজনীতি— তৃতীয় পর্ব : দেশের মাটি তিন ভাগ করার সুনির্দিষ্ট লাহোর প্রস্তাব : প্রস্তাবক মহম্মদ আলি জিন্না
জিন্নার ভারতে পুনরাগমন : লীগ রাজনীতির ভারগ্রহণ
১৯৩৪ সালে মিঃ জিন্না তাঁর কয়েক বছরের লণ্ডন প্রবাস সেরে দেশে ফিরলেন। তিনি স্বেচ্ছায় ফিরলেন, না তাঁকে ট্রেইনিং দিয়ে পাঠান হল, তা বোঝা দুষ্কর নয়। সে সময় দেশে মুসলিম লীগ নেতৃত্বে যে কিছু ঘাটতি ছিল, তাতে সন্দেহ নেই। জিন্না সে ঘাটতি পূরণ করলেন। সে সময় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে কিছু মুসলিম ছাত্র ও যুবক কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছিল : “Muslims young and old, and the Muslim press, are full of this self-analysis, and the desire to get out of the communal rut and line up with the forces of freedom and progress is strong within them.”
জিন্না এসে এই গতিরোধ করেন এবং অনতিবিলম্বে মুসলিম লীগের একচ্ছত্র কর্তৃত্বে অধিষ্ঠিত হন। জিন্নাকে মুসলিম লীগ তথা মুসলিম রাজনীতির সর্বময় কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং বিভাজনপন্থী রাজনীতিতে পোক্ত করে তুলতে পাঞ্জাবী কবি মহম্মদ ইকবালের অবদান অস্বীকার করা যায় না। একের পর এক চিঠি লিখে, যুক্তি পরামর্শ দিয়ে, ‘সারা জাঁহাসে আচ্ছা’র কবি পুরো দস্তুর সাহেব জিন্নাকে কাঠমোল্লা-মৌলবীদের কাছাকাছি আসার পথ নির্মাণ করে দেন। জিন্না ভারতে ফিরে কিছুদিন হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতিবাচক ও জাতীয়তাবোধের কথা বললেন বটে, কিন্তু ক্রমেই তিনি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির খপ্পরে নিজেকে সমর্পণ করলেন। সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারায় মুসলমানদের প্রতি প্রাপ্যের অধিক অনুগ্রহ (Weightage) প্রদর্শনের বিনিময়ে মুসলিম জনতাকে ব্রিটিশের অনুকূলে টেনে আনার এবং পৃথক নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে স্বাতন্ত্র্য ও বিচ্ছিন্নতাবোধ সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের একচ্ছত্র ব্রিটিশ-বিরোধিতায় ফাটল ধরাতে জিন্নার মতো পাকা খেলোয়াড় আর দ্বিতীয় কেউ ছিল না। জিন্নার পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে একদা বহু আলোচিত ও প্রত্যাখ্যাত ১৪ দফার বেশ কয়েকটি দফাও ব্রিটিশ শাসকরা ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। প্রতিদানে ইংরেজের বদলে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের ব্রিটিশ-বিরোধী তথা স্বাধীনতা আন্দোলন ঠেকাবার ভার নেয়।
দিনরাত সকাল-সন্ধ্যা সাম্প্রদায়িকতা প্রচারের সিদ্ধান্ত
জিন্না সে দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করার জন্য মুসলিম লীগকে কেমনভাবে গড়ে তুলবেন তার কিছুটা আভাস তিনি বোম্বাই-এর গভর্নর লর্ড ব্রাবোর্নের সঙ্গে আলোচনা কালে তাঁকে জানিয়েছিলেন :
“Jinnah went on to tell me some of his plans for consoli-dating the Muslim League throughout India and how he is doing his utmost to awaken the Mohammedans to the neces-sity of standing on their own feet more than they do now. His policy is to preach communalism morning, noon and night and to endeavour to net Mohammedans to found more schools, to open purely Mohammedan Hospitals, Children Homes etc. and to teach them generally” to stand on their own feet and make themselves independent of the Hindus.” (5.6.1937)
মুসলিম আসনে কংগ্রেস প্রার্থী : জিন্নার গোঁসা : লীগকে মুসলমানদের একমাত্র প্রতিনিধি বলে দাবি
এল ১৯৩৭ সালের নির্বাচন—১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন তথা Communal Award অর্থাৎ সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারার ভিত্তিতে। নির্বাচনে কংগ্রেস মুসলিম আসনে প্রার্থী দেওয়ায় লীগ ও জিন্না অত্যন্ত কুপিত হন। কংগ্রেস সরাসরি মুসলিম রাজনীতির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।
মুসলিম লীগ কোনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রদেশেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না। কিন্তু হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশে সব কটি মুসলমান আসন দখল করল। আবার কংগ্রেস একটিও মুসলমান আসন দখল করতে সমর্থ হল না; কিন্তু লীগের সঙ্গে মনোমালিন্য সৃষ্টিই সার হল এবং মুসলিম লীগই মুসলমানদের একমাত্র সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এই দাবি করার পথ পরিষ্কার করল।
জিন্নার দাবি মতো কংগ্রেস, মুসলিম লীগকে মুসলমানদের একমাত্র সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান বলে স্বীকার করতে অস্বীকার করল; কারণ তাহলে কংগ্রেসকে হিন্দুদের প্রতিষ্ঠান বলে প্রকারান্তরে স্বীকার করে নেওয়া হয়, যা কংগ্রেসের পক্ষে কোনও মতেই সম্ভব ছিল না। সুতরাং ঐ পথে না গিয়ে নিজেকে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীর একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠানের দাবি প্রতিষ্ঠাকল্পে কংগ্রেস মুসলিম জনতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের (Muslim mass contact) পরিকল্পনা করে। কংগ্রেসের সে কর্মসূচী নিম্নরূপ :
কংগ্রেসের মুসলিম জনসংযোগের কর্মসূচী
1. The first thing to be done is to concentrate on en-rolling Muslim members of the Congress. ……to pay special attention to this matter and take immediate steps to organise enrolment of Muslim members.
2. Each Provincial Congress Committee should ap-point a special committee to consider and take in hand this work of increasing Congress contact with Muslim masses, rural and urban.
3. The office of the A.I.C.C. is starting a separate de-partment for this purpose and we shall gladly help with advice, leaflets, pamphlets, etc.
4. To issue notices of meetings etc. in Urdu in all ar-eas where there is an Urdu reading population. (31. 3. 37 )
কংগ্রেসের প্রতি হুশিয়ারি : মুসলিম রাজনীতি থেকে হাত ওঠাও
মুসলমান নেতারা এমনিতেই মনোকষ্টে ছিল নির্বাচনে আশানুরূপ ফললাভ না হবার জন্য। কংগ্রেসের মুসলিম আসনে প্রার্থী দেওয়ার গোঁসা তখনও কাটেনি। এমন সময়ে মুসলিম জনতার সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নিতেই তারা তেলেবেগুনে চটে উঠে। এবং “Hands off Muslim poli -tics” অর্থাৎ ‘মুসলমানদের সঙ্গে পীরিত করার মতলব ত্যাগ করো’ বলে হুঁশিয়ারি ছাড়ে। তাতেও নিরস্ত না হয়ে মুসলমানদের মধ্যে কংগ্রেস তথা হিন্দু-বিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে মসজিদে মসজিদে মোল্লা মৌলবীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা নামাজের জমায়েতে নিরক্ষর শ্রোতাদের কাছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সত্যমিথ্যা নানান অলীক কাহিনী বলে ওয়াজ করতে থাকে এবং ইসলাম বিপন্নের ফতোয়া দিতে থাকে। এ বিষয়ে মুসলিম লীগ নেতাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষণীয় :
“The recent orientation of their (Congress’s) policy to-wards Muslims and the Muslim League is bound to fail and lead to disaster … This policy, I venture to say, will set back the national advance of the country” -Mr. Jinnah “All that is being said and written in the Press about Muslim mass contact and the Muslim League, would have been very amusing if it was not so tragic and full of danger … Efforts like this, will only widen the gulf and lead to a fearful catastrophe “ Maulana Shaukat Ali.
মুসলিম রাজনীতিতে উচ্চস্তরে উচ্চশিক্ষিত মুসলমান নেতাদের সঙ্গে নিম্নস্তরে আধুনিক শিক্ষা-বিমুখ ধর্মান্ধ মোল্লা-মৌলবীদের এই অশুভ যোগাযোগে এযাবৎ ‘হিস্যার’ রাজনীতিতে ব্যস্ত লীগ নেতারা হিংসা ও বিদ্বেষের রাজনীতির পথে পা বাড়ালেন।
কংগ্রেসের ‘মুসলিম জনসংযোগ’ নীতি গ্রহণে জিন্না ও লীগ নেতাদের ক্ষিপ্ত হবার কারণ আছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে উত্তর ভারতে নেহরুর সভায় মুসলমানরা বেশ ভাল সংখ্যাতেই উপস্থিত থাকত এবং নেহরুর মুখে অশিক্ষার অবসান, দারিদ্র্যদূরীকরণ, কৃষিব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে লম্বা লম্বা কথা শুনে উদ্বুদ্ধ হতো। মুসলিম লীগ নেতারা কখনো অর্থনীতি-নির্ভর রাজনীতিতে অভ্যস্ত ছিল না। তাদের দৌড় মসজিদের দোরগোড়া পর্যন্ত। কিন্তু কংগ্রেসের সভায় মুসলমান শ্রোতার উপস্থিতি দেখে নেহরু ও জিন্না দুজনেরই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। নেহেরু ভাবলেন মুসলমানরা তাঁর সমাজতন্ত্র গিলছে; আর জিন্না ভাবলেন নেহরু তাঁর মুসলিম সমাজকে লীগ রাজনীতি থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে।
নেহরু-জিন্না বাকযুদ্ধ
তখন শুরু হল কংগ্রেস সভাপতি জহরলাল ও লীগ সভাপতি জিন্নার মধ্যে পত্র-যুদ্ধ, বিবৃতির লড়াই, বক্তৃতার বোমাবাজি, সাক্ষাৎকারের তীরক্ষেপ, সাংবাদিক সম্মেলনে চাপান-উতোর। জিন্না ও লীগ নেতারা মুসলমান জনতাকে বোঝাল যে কংগ্রেসের সঙ্গে গেলে তোমাদের দারিদ্র্য দূর হোক বা না হোক, ধর্ম ও তমুদ্দুন যে বিপন্ন হবে সেদিকে খেয়াল থাকে যেন। সে সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম্’ সঙ্গীত ও কংগ্রেস পতাকায় যে ইসলাম-বিরোধী রূপ, রস ও গন্ধ রয়েছে সেদিকে তাদের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হল।
ব্যাস, আর যায় কোথায় সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিক খেলে গেল। মুসলিম জনতা নেহরুর সভা ছেড়ে লীগ ও জিন্নার সভায় ছুটল। ‘বিপন্ন ইসলাম’-কে তো রক্ষা করতেই হবে!
আর এই বিবৃতি বক্তৃতার লড়াই-র ফাঁকে ফাঁকেই মুসলিম লীগের হোমল্যাণ্ড বা শরিয়তী শাসনাধীন পৃথক বাসভূমি তথা পাকিস্তান দাবি ক্রমেই জোরদার হতে থাকে। কারণ স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র ব্যতীত শরিয়তী প্রথায় শাসনব্যবস্থা জারি করা যাবে না যে : But the enforcement and development of the Shariat of Islam is impossible in this coun-try without a free Muslim State or States. -Mohammad Iqbal.
আপনি কি সেই জিন্না? —গান্ধীজী
কিছু লোকের ধারণা গান্ধীজী ও নেহরুজী জিন্নার সঙ্গে আর একটু বোঝাপড়ার মনোভাব দেখালে, আর একটু নমনীয়-কমনীয় দৃষ্টিভঙ্গী অবলম্বন করলে জিন্না সাহেবের দিমাগ একটু নরম হতো। তাঁরা ভুলে যান মুসলিম লীগের একচ্ছত্র কর্তৃত্বলাভের পর জিন্না সাহেব অহমিকার এক অচলায়তনে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি ভাঙেন তো মচকান না। কোনও জীববিশেষের লেজে নাকি বারো বছর ঘি মালিশ করলেও যেই বাঁকা সেই বাঁকা। জিন্না ছিলেন সেই ধাতের মানুষ। তাঁর বোলচাল-বাতচিতের রকমসকম দেখেই গান্ধীজী তাঁকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন—যে জিন্নাকে আমরা একদা হিন্দু-মুসলিম মিলনের দূত বলে জানতাম, আপনি কি সেই জিন্না?
“In your speeches I miss the old nationalist. When in 1915 I returned from the self-imposed exile in South Africa, every-body spoke of you as one of the staunchest of nationalists and the hope of both Hindus and Muslims. Are you still the same Mr. Jinnah? If you say you are, in spite of your speeches, I shall accept your word.” (3.2.38).
কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়ায় জিন্নার শর্ত
কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে জিন্না কি কি শর্তে আলোচনায় বসতে রাজি। তা তাঁর নিজের হাতে তৈরি ‘নোট’ থেকেই বোঝা যায় এককালের জাতীয়তাবাদী জিন্নার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে সাম্প্রদায়িক সঙ্কীর্ণতা কেমন প্রবল ছাপ ফেলেছে :
1. The Congress must recognise the Muslim League on a footing of complete equality as the authoritative and repre-sentative organisation of the Musalmans of India.
2. The Muslim mass contact movement, on behalf of the Congress, should cease.
3. The League cannot recognise any other Muslim organisation or individual Musalman as representative of the Musalmans.
4. ‘Bande Mataram’ should be abandoned in all public institutions.
5. ‘Bande Mataram’ should not be sung in mixed gather-ings.
6. Hindi should not be made compulsory.
7. Congress Flag should not be forced in any public institution.
8. The Muslim members of the Congress should not be considered to represent the Muslims.
9. Stop persecution of the Muslim Press and members and workers of the League.(20.5.38)
কোনও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং ৫৩ বছরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসব অন্যায় আবদার মেনে নেওয়া সম্ভব কি? দেশভাগের পর অবশ্য হিন্দুত্ব-বিরোধী নেহরু মুসলমানদের দিল খুশ করতে উপরিউক্ত শর্ত কিছু কিছু মেনে নিয়েছিলেন।
তারপর যত দিন গেছে জিন্নার এই মনোভাব কঠোর থেকে কঠোরতর হয়েছে। উপরিউক্ত দাবি সনদের সঙ্গে পরে যুক্ত হয়েছে সারা ভারতে গো-কোরবানির অবাধ অধিকার এবং মসজিদের সামনে জনসাধারণের চলাচলের পথেও বাজনা বাজিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। তখন থেকেই বাক্যুদ্ধ ও মসীযুদ্ধের পর অসিযুদ্ধ ও পেশী প্রদর্শনের রাজনীতির প্রাক্-প্রস্তুতি শুরু হয়েছে লড়কে লেঙ্গে, মারকে লেঙ্গে বুলিতে— যার মধ্যে নমনীয়তা বা বোঝাপড়ার ছিটেফোঁটাও ছিল না।
লাহোর প্রস্তাব : ভারতকে তিনভাগ করতে হবে
এবার এল সেই ঐতিহাসিক দিন। এতদিনের কেরকেরির পর অবশেষে মুরগী ‘পাকিস্তানী আণ্ডা’ প্রসব করল। ব্রিটিশের এগিয়ে দেওয়া খড়কুটোর পর মুসলিম লীগ ডিমে তা দিতে বসল। সব দ্বিধা-সঙ্কোচ কাটিয়ে, মুখোশ সরিয়ে ভারতের মাঝেই আলাদা বাসভূমির দাবি নাকচ করে, এবার সরাসরি ভারতকে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভাগ করে মুসলমানদের জন্য আলাদা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপিত হল লাহোরে মুসলিম লীগ সম্মেলনে ১৯৪০ সালের ২৪শে মার্চ। মূল প্রস্তাবটি ছিল নিম্নরূপ :
“…that geographically contiguous units are demarcated into regions which should be so constituted with such ter-ritorial readjustments as may be necessary that the areas in which the Muslims are numerically in a majority, as in the north-western and eastern zones of India, should be grouped to constitute ‘independent states’ in which the constituent units shall be autonomous and sovereign :”
