Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প364 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. নিঝুম রাত

    নিঝুম রাত। জেগে আছে চরণ। অন্ধকার। বাতি নেভানো যদি কুটে পাগলা আসে। কিন্তু কার জন্য জেগে থাকা। এ কে চরণের। কেউ নয়, তবু জাগতে ইচ্ছে করছে। ভালবাসতে ইচ্ছে করছে সুনির্মলকে। কয়েকবার চুপিসারে হাত বুলিয়েছে সে সুনির্মলের গায়ে। এরা ভয়ানক, এরা ভাল, এরা পবিত্র। এদের বাবা মা বাড়ি, এদের লেখাপড়া, সব কিছু মিলিয়ে চরণ কত তুচ্ছ, এরা কোনওদিন কি জীবনে কোনও নোংরামি দেখেছে? চরণের মতো অভিশপ্ত হয়ে ওদের কি কোনও দিন বাঁচতে হবে। না! ওদের ভাগ্য আলাদা। ওদের কাজ আলাদা তাই ওরা কত মহৎ কাজ করে, স্বদেশী করে, জেলে যায়। সেই তুলনায় আমি কত হীন, কত কুৎসিত ঘরে আমার জন্ম। সেই বীভৎস মা নিষ্ঠুর বাবা।

    কিন্তু এ শুধু তাই নয়। রণের ঘুমহীন নিঃসঙ্গ রাত্রে আজ সে সঙ্গী পেয়েছে। একাকীত্ব সে আর সহ্য করতে পারে না। তার সে একাকীত্ব ঘুচিয়েছে সুনির্মল। তার মনের মতো মানুষ। ইদানীং তার ফাঁকা মনটা নিয়তই কাউকে চাইছিল। যাকে ভাল লাগে, যাকে একটু ভালবাসা যায়। আজ সে পেয়েছে সুনির্মলকে। শীত খুব। তবু নিজের গায়ের কাঁথাটা সে সুনির্মলকে দিয়েছে। কাঁথাটা নোংরা, তবু দিয়েছে। সে সব দিতে পারে, সব। কারও জন্য, অনেকের জন্য, মনের মানুষদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রাণ চায় তার।

    সকালবেলা ভজন দোকানে আসতে না আসতে সুনির্মলের বাবা এসে হাজির। সারা রাত প্রায় ঘুম হয়নি ভজনের। মেচেতা পড়া চোখের কোল তার আরও বসে গিয়েছে। রুগণ দেখাচ্ছে মুখটা। তার সঙ্গে সঙ্গে সারা রাত জেগেছে যুঁই। সারা রাত, কেঁদেছে অন্ধকারে আর ভজনের আরামের জন্য সেবা করেছে। একটু ঘুম এনে দেওয়ার জন্য অপরাধবোধে ভজন নির্বাক ছিল, রোগের যন্ত্রণার উপরে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল আর একটা যন্ত্রণা। তার উপরে আর একটা দুশ্চিন্তা ছিল দোকানের জন্য। সুনির্মল সুস্থ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু দোকানটা নষ্ট হলে এ সংসারটা যে অচল হয়ে পড়বে।

    সুনির্মলের বাবা এলেন হাঁপাতে হাঁপাতে, রাতজাগা উৎকণ্ঠা নিয়ে। শুধু উৎকণ্ঠা নয়, ভয়ে প্রাণ উড়ে গিয়েছে ভদ্রলোকের। তাঁর ছেলের সর্বনাশা পথের কথা তিনি জানতেন। সাদা সরল মানুষ এসেই ভজনের হাত ধরে প্রায় ড়ুকরে উঠলেন, আমার ছেলে কোথায় বলে।

    আপনারা ছেলে। অবাক হওয়ার ভান করল ভজন।

    হ্যাঁ, আমার ছেলে, যার মাথাটি তোমার দাদা খেয়েছেন। আমার সেই একমাত্র ছেলে সুনির্মল। দোহাই তোমার, বলল সে কোথায়?

    ভজন বলল, এই মরেছে, আমি কী করে জানব? আমি কি ওদের দলের লোক?

    সুনির্মলের বাবা প্রায় কেঁদে উঠলেন, বাবা, আমায় লুকোসনি, আমি জানি, তুই ওদের লোক। খুব ভাল, এরকম ভাবেই নিজেকে গোপন করে রাখ। কিন্তু ছেলেটা কোথায় বল। সে যে কাল দুপুরে বেরিয়েছে, আর তো ফিরল না সারা দিনে রাতে। বলে দাও, আমি আর কোনও দিন ওকে তোমার এ দোকানে আসতে বারণ করব না।

    আর কোনও দিন এ দোকানে আসতে বারণ করবেন না, দলের লোক এসব কী বলছেন ভদ্রলোক। অবাক হল, হাসি পেল ভজনের। বুকের কোথায় যেন খচখচ করতে লাগল। ও! তাই বুঝি ভাবে সবাই ভজনকে। ভজুলাটকে। মাতালটাকে। মনে মনে ছি ছি করল সে নিজেকে, ছি ছি করল লোককে। তবু তাকে ভেক নিতে হল। বলল, দেখুন কাকাবাবু, কাল সুনির্মল আমার কাছে এসেছিল।

    তারপর? উদগ্রীব হয়ে উঠলেন সুনির্মলের বাবা।

    আমাকে বলল, ওর কোন কলেজের বন্ধুর সঙ্গে কদিন কোথায় বেড়াতে যাবে।

    সে কী, কলেজ থেকে যে ওর নাম কাটিয়ে দিয়েছে? বন্ধু আসবে কোত্থেকে?

    প্রমাদ গণল ভজন, তা তো জানিনে। আমাকে এই বলেছিল। আচ্ছা আপনি যান, আমি খবর নিচ্ছি। পুলিশে খবর-কবর দেবেন না, তা হলে একটা গণ্ডগোল হয়ে যেতে পারে। আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ি যান।

    সত্যি বলছিস বাবা?

    সত্যি বলছি।

    ভদ্রলোক একটু যেন নিশ্চিন্ত হলেন। যেতে গিয়ে আবার ফিরে দাঁড়িয়ে নিচু গলায় বললেন, ছেলে যে আমার খারাপ নয়, তা আমি জানি। তা সে যে যা-ই বলুক। দেখছি তো পাড়ার ছোঁড়াগুলোকে। ওরকম হলে আমি গলায় দড়ি দিতুম। কিন্তু বড় ভয় করে বুঝলে। সারাটা রাত এল না। মানে, ছেলে কিনা, মানে…গলাটা বন্ধ হয়ে গেল ভদ্রলোকের। হাসতে গেলেন, ঠোঁট দুটো বেঁকে গেল। ফিসফিস করে বললেন, যাচ্ছি নিশ্চিন্ত হয়ে।

    চলে গেলেন সুনির্মলের বাবা। ভজন ফিরে দাঁড়িয়ে দেখল, চরণ হাসছে দাঁত বের করে।

    ভজন খেঁকিয়ে উঠল, অত হাসি কীসের। আমাকে বিপদে পড়তে দেখে হাসি হচ্ছে।

    বলে এগুতেই চরণ চড়চাপড় খাওয়ার ভয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াল। কিন্তু তাকে কিন্তু মা বলে ভজন ভেতরে ঢুকে দেখল, সুনির্মলও শুয়ে শুয়ে হাসছে। মুখটা তার শুকনো, ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে। বলল, উঃ, আমি ভাবছিলুম, ভেতরে ঢুকে পড়ল বুঝি। ভজুদা মাথা থেকে কথাটা কে বার করেছ তো?

    তোর জন্যে কি বলেছি? বলেছি আমার দোকানটার জন্য। বুড়ো হাঁক হাঁক করে ঢুকত, লোক জানাজানি হত। বেকায়দায় পড়তুম আমি। ধরে নিয়ে যেত তোকে, আর গণেশ উলটে বসে থাকত আমার। কিন্তু এ-সব রমজানি এখানে আর কদিন চালাবে। ভজন কোমরে হাত দিয়ে ঘাড় কাত করে দাঁড়াল।

    সুনির্মল বলল, আমি তো রথীনকে বলেছিলুম, সন্তোষ মাসিমার ওখানে নিয়ে যেতে।

    তবে সেখানে গেলেই হত। শেষটায় মিছে কথা বলালি আমাকে দিয়ে। বুড়ো আবার না এসে কী ছাড়বে! বলে দলের লোক।

    খানিকটা আপন মনে বলল, আমার বয়ে গেছে। এ দেশের লোকের আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই, তাই সব তিল থেকে তাল করে বেড়াচ্ছে।

    বলে সে রান্নাঘরে ঢুকে থমকে দাঁড়াল। দেখল, উনুনের ধারে বড় প্লেটের উপর ডবল ডিমের মামলেট আর মাখন রুটি সাজানো রয়েছে। কী ব্যাপার। সে ডাকল, চরণ।

    চরণ তার পিছনেই ওই ডাকের জন্য তটস্থ হয়ে অপেক্ষা করছে। ধরা পড়ে যাওয়া অপরাধীর ভাব তার চোখে মুখে। কিন্তু হাসিটি ছাড়েনি। বলল, আজ্ঞে।

    আজ্ঞে এদিকে এসো তো। বলে তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাকাল সে চরণের দিকে। ভাবল, এ হারামজাদাও কি লুকিয়ে খায় নাকি। বলল, সকালবেলা খদ্দেরের খ নেই, ও খাবার কার জন্য সাজিয়েছ চাঁদ?

    আজ্ঞে। বলতে গিয়ে তেমনি সলজ্জ হেসে থেমে গেল চরণ। তবে ভজনের হাতের রেঞ্জের বাইরে।

    আজ্ঞে কেন, বলে ফ্যাল না হারামজাদা। খেঁকিয়ে উঠল ভজন।

    চরণ সুনির্মলকে দেখিয়ে বলল, ওই বাবুর জন্যে।

    মাইরি? ভজনের চোখ কুঁচকে উঠল। বাছার আমার বাবুঅন্ত প্রাণ দেখছি। দামটা কে দেবে?

    চরণ বলল, বাবুর শরীরটা…

    ভজন ধমকে উঠল, চুপ! যেন কতকেলে বাবু ওর।

    বেশি অবাক হয়েছে সুনির্মল। সে ব্যাপারটা কিছুই জানে না। বলল, আমার জন্য খাবার? কই আমি তো কিছু

    ভজন হাত তুলে ভেংচে উঠল, থাক তোমাকে আর ভালমানুষি করতে হবে না। শালা-একটা আমাকে খেয়ে ফতুর করার তালে তালে ছিল, আর একটা খাইয়ে ফতুর করবে দেখছি।

    চরণের দিকে ফিরে বলল, দাও আর কেন? তা বাবুর তোমার কালকে অনেক রক্ত বেরিয়ে গিয়েছে। ওই ডিম রুটির সঙ্গে একটু দুধ জ্বাল দিয়ে দাও, উবগার হবে।

    চরণ বুঝল খ্যাঁকানির আড়ালে এটা আসলে নির্দেশ। সে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে উঠল দুধ জ্বাল দিতে।

    ভজন সেদিকে তাকিয়ে বলল, তারপর দেখছি আমি তোর ওস্তাদিটা। ব্যবসা গুটিয়ে দূর করে দেব এখান থেকে তোকে দাঁড়া। তার আগে চল থলেটা নিয়ে বাজার ঘুরে আসি।

    বলে সে সামনের ঘরে চলে গেল। চরণ হাসি মুখ নিয়ে ফিরে তাকাল সুনির্মলের দিকে। সুনির্মলের মুখেও হাসি। এদিক থেকে ভজনের স্বরূপটা তারা জানে।

    .

    নতুন বছর পড়ে গেল। ইংরেজি নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি আচমকা মুক্ত হয়ে এলেন নারায়ণ।

    বিকালবেলা, বিনা সংবাদে তিনি এসে দাঁড়ালেন স্টেশনের রকে। অবাক হয়ে তাকালেন শ্রীমতী কাফের দিকে। পিছনে দুজন কুলি বিছানা বাক্স মাথায়।

    নারায়ণ এসে দাঁড়ালেন সিঁড়ির সামনে। শ্রীমতী কাফের মাথায় পিছন থেকে ড়ুবন্ত সূর্যের আলো পড়েছে তাঁর মুখে। তাঁর মুখে বিস্ময়, হাসি হাসি ভাব, একটা দ্বিধা, একটা বেদনার আভাস। কিন্তু তার চেয়েও বেশি তাঁর চোখে মুখে ছড়িয়ে আছে একটা মুক্তির উল্লাস। তার ক্ষুধার্ত চোখ, লুব্ধ শিশুর জিহ্বার মতো সমস্ত কিছু গোগ্রাসে গিলছে! সবই যেন তেমনটি আছে কেবল শ্রীমতী কাফেটি ছাড়া। এই লাল ধুলো ভরা রাস্তা, ঘোড়াগাড়ির আস্তানা, দোকানের সারি। হঠাৎ বাঁক নিয়ে মোড় ফেরানো গঙ্গামুখোপশ্চিমের রাস্তাটা, মোড়ের ন্যাড়া ন্যাড়া অশ্বত্থ গাছটা, তলায় সেই মুচি, দোকানদারদের সেই পরিচিত মুখগুলো, তারপর দক্ষিণের দীর্ঘ সড়ক। দুপাশে তার গাছের সারির মধ্যেই ওদিকে কোথায় লুকিয়ে আছে একটা একতলা বাড়ি। একটা বাড়ি, তার খান কয়েক ঘর, রক, পাতকুয়ো, খিড়কি দ্বার, পাঁচিলের গায়ে একটা পেয়ারাগাছ, পিছনে পাড়া আর প্রতিবেশী।

    নারায়ণের চোখ ছলছল করে উঠল। মাকে মনে পড়ছে। মা, বকুলমা, বাবা, ভজন, তার বউ আর ছেলে। বুকটা যেন যুগপৎ শুন্যতায় পূর্ণতায় ভরে উঠল। ইচ্ছে হল ওই ধুলো ভরা রাস্তাটাকে দুহাতে আঁকড়ে ধরেন; মুখটি খুঁজে দেন রাস্তার কোলে। তাঁর সারা দেহ রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল। চোখের জল তিনি কিছুতেই রোধ করতে পারলেন না।

    রাস্তায় ভিড় বিকালের, ট্রেনের। পথচারীদের মধ্যে হঠাৎ কয়েকজন দাঁড়িয়ে পড়েছে। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে কয়েকজন দোকানি। ভুনু আর দু-একজন গাড়োয়ান চেঁচাতে গিয়ে থমকে গিয়েছে। যাত্রীটি শাঁসালো নিঃসন্দেহে কিন্তু এ যেন ঠিক তেমন যাত্রীটি নয়। সকলেরই যেন চিনি চিনি মনে হয়, তবু বলা যাচ্ছে না মুখ ফুটে।

    হঠাৎ কুটে পাগলা চেঁচিয়ে উঠল, ওগো, লারান ঠাকুর এসেছে গো। লারান ঠাকুর এসেছে।

    বলতে বলতে খপ করে এসে নারায়ণের হাতটা চেপে ধরলে সে। আর এক হাত দিয়ে চিবুক ধরে বলল, এবার কোথা যাবে আমার গোরাচাঁদ? সুর করে বলল, আর তো তোমায় ছাড়ব না হে, কাঁটা হয়ে রইব পথে।

    মুহূর্তে যেন শোর পড়ে গেল। নারায়ণ এসেছে, নারান ঠাকুর, বটঠাকুর। লাটঠাকুরের দাদা গো, সেই যে সায়েব মেরে জেলে গিয়েছিল। হ্যাঁ, নেকো হালদারের বড় ছেলে। পাঁচ বচ্ছর বাদে ফিরল। পাঁচ বচ্ছর না মুণ্ডু, দশ বচ্ছর বাদে। চোদ্দো বছর হে! রাম ফিরেছেন বনবাস থেকে। কিন্তু ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল যে! পারেনি। পারেনি শালার সরকার। আহা দ্যাখ দ্যাখ গায়ে যেন সূর্যের ছটা বেরুচ্ছে।

    হ্যাঁ, সুর্যেরই ছটা। তবু কৃশ হয়েছেন নারায়ণ অনেকখানি। মুখটা যেন আরও ফরসা দেখাচ্ছে। যেন বাউলের চিকন মুখোনি। তার চোখ পড়ল সকলের দিকে। আশ্চর্য, কেউ ভোলেনি। সবাই যেন ফিরে পাওয়া আত্মজনের দিকে তাকিয়ে আছে। এগিয়ে আসছে কেউ কেউ। নারায়ণ তাড়াতাড়ি চোখ মুছে সিঁড়ি নামতে গেলেন।

    কুটে পাগলা জোর করে হাত চেপে ধরল, বলল, কোথা যাবি ঠাকুর? যাবি তো চারটে পয়সা দিয়ে যা। নইলে ছাড়ব না।

    ছাড়বে না। হেসে ফেললেন নারায়ণ। তেমনি আছে পাগলটা। বদলায়নি একটুও। পুরনো হওয়ার অবসর দিলে না নারায়ণকে। যেন পুরনো মানুষটিই দাঁড়িয়ে আছে ওর কাছে। তিনি পকেট থেকে পয়সা বের করে দিলেন কুটের হাতে। তারপর নেমে এসে উঠলেন শ্রীমতী কাফেতে।

    হীরেন আর কৃপাল কী কথায় ব্যস্ত ছিল। তারা চমকে উঠল নারায়ণকে দেখে। লাফিয়ে উঠল। হীরেন এসে জড়িয়ে ধরল নারায়ণকে! কৃপাল হাত চেপে ধরল। পরিচিত খদ্দেররা উঠে এল চেয়ার ছেড়ে কথা বলার জন্য। একদল লোক উঠে এল দোকানের উপর রাস্তা ছেড়ে।

    চরণ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভেতরের দরজার কাছে। দেরি হয়নি চিনতে তার। ওই চেহারার কথা সে অনেকবার শুনেছে, তার চেয়েও বেশি শুনেছে নামটা। একটা অদ্ভুত ধারণা ছিল এ মানুষটির সম্পর্কে তার। প্রাণে বড় সাধ ছিল, এই মূর্তিটি সে একবার দেখবে। পায়ে হাত দিয়ে ধুলো নেবে। কিন্তু পারল না দাঁড়িয়ে রইল। রূপ দেখতে লাগল সে। প্রাণ ভোলানো রূপ।

    শুধু দেখছে না ভজন। বিকালের ঝোঁকেই নেশা করেছে সে। মাথা এলিয়ে দিয়ে পড়ে আছে টেবিলের উপর। জানতেও পারছে না কে এসেছে, ভাবতেও পারছে না।

    নারায়ণের চোখ ভজনের উপর পড়ল। বুঝলেন, ভজন মাতাল হয়ে পড়ে আছে। নানা রকমের খবর পেয়েছেন জেলে বসে ভজনের মদ খাওয়ার কথা। ভজন মাতাল। প্রখর বুদ্ধিতে আর সাহসে যার জুড়ি ছিল না এ তল্লাটে, সেই ভজন। কিন্তু কেন ও মাতাল হল। বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল নারায়ণের। যন্ত্রণা করতে লাগল, অপরিসীম বেদনায় ভরে উঠল বুকটা। কেন, কেন এমন হল ভজনের! তাঁর বড় প্রিয়, বড় আদরের দুবিনীত ভজন।

    তিনি ভজনের মাথার উপর একটি হাত রেখে ডাকলেন, ভজন…, ভজুরে।

    সবাই চুপচাপ। আরও লোক জমছে। পরিচিত পথচারীরা সবাই ঢুকছে। যেন শহর নয়, গাঁয়ের মুদিখানার মতো ভিড় করছে সবাই। গাঁয়ের ছেলে এসেছে জেল থেকে। সবাই দেখছে। দেখছে দুই ভাইয়ের ব্যাপারটা। কেউ কেউ খানিকটা বা মত্ত ভজনের মাতলামি দেখবার জন্য উঁকি দিচ্ছে। কুলি দুটোর মাথা থেকে একজন বোঝাগুলো নামিয়ে দিল। কতক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকবে ওরা।

    নারায়ণ আবার ডাকলেন, ভজন…ভজু।

    ভজন টেবিলে মুখ ঘষতে ঘষতে মোটা জড়ানো গলায় বলে উঠল, ও মায়া ডাক অনেক শুনেছি বাবা। ওতে আর ভজুলাট ভুলছে না।

    দু-চারজন হেসে উঠল নিঃশব্দে। বাদবাকিরা ভ্রূ কোঁচকালো তাদের দিকে তাকিয়ে।

    চরণের গলাটা যেন চুলকে উঠল। ইচ্ছে হল, চিৎকার করে বাবুকে ডেকে সে উঠিয়ে দেয়।

    নারায়ণভজনের মাথাটা ধরে ঝাঁকানি দিলেন। বললেন, ভজু, আমি এসেছি রে।

    ভজন তার রক্ত শিবনেত্র তুলে হেসে উঠল বলল,

    কে গো তুমি সন্ধ্যাবেলা সন্ধ্যামালতি
    জ্বালতে এলে অন্ধ বুকে প্রেমের বাতি।

    আবার একটা চাপা হাসি দেখা গেল কয়েকটা মুখে। ভিড় বাড়ছে। ভিড় দেখে ভিড় করেছে অনেকে। জিজ্ঞেস করছে, কী হয়েছে? কিছু হয়নি, কিছু না। নারায়ণ ফিরে এসেছেন।

    নারায়ণ বললেন, আমি নারায়ণ, তোর দাদা।

    ভজনের চোখ এবার বিস্ফারিত হয়ে উঠল। সামনে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল সে। তাড়াতাড়ি দুহাতে মুখ ঢেকে সে বলল, দাদা এসেছ? দাদা তুমি? আমার শ্রীমতী কাফেতে? কিন্তু, কিন্তু আমি যে মদ খেয়েছি।

    সেকথা শুনেও অনেকে হাসল। নারায়ণ হাত ধরলেন ভজনের। বুকের মধ্যে আড়ষ্ট ব্যথায় কথা আটকে গেল তার ভজনের কথা শুনে, আমি যে মদ খেয়েছি। কিন্তু কেন? কেন। খেয়েছিস?

    ভজন আবার বলল, দাদা তুমি সত্যি এসেছ? আর আমি, আমি যে মাতাল হয়ে পড়েছি।

    ভজনের মুখটা আরও লাল হয়ে উঠল। লাল হয়ে উঠল নারায়ণের মুখও। দুজনেই চুপচাপ। দুজনেরই গলার কাছে কী যেন ঠেলে আসছে, কথা বেরুচ্ছে না। অনেকদিন অনেক বছর বাদে তারা দুই ভাই বাইরে মিলেছে। জেলখানার বাইরে, খোলা আকাশের তলায়, বহু লোকের মাঝে। ভাইয়ের চেয়েও বড়, তারা দুই বন্ধু। কিন্তু, তাদের আর কথা সরছে না মুখ থেকে। তারা পয়শনে যেন কী হারিয়েছে, সেই ব্যথায় তারা নিশ্চুপ।

    সংবাদ এর মধ্যেই রটে গিয়েছে নারায়ণ এসেছেন। প্রিয়নাথ এসেছে। রথীন এসেছে। এসেছে আরও ছেলেরা।

    এমন সময় এল ছোকরা পুলিশ অফিসার। তার একটু দেরি হয়েছে। সে এসেছিল নারায়ণকে স্টেশনে রিসিভ করতে। এখানে রিসিভ অর্থে নিজের পরিচয় দান। পুরুক্তি প্রতে আসছিল নারায়ণের উপর সরকারের বিধিনিষেধের ফিরিস্তি। যে বিধিনিষেধের অডার পড়ে নামায় সই করে এসেছেন জেল থেকে। কিন্তু শ্রীমতী কাফেতে এত ভিড় দেখে চমকে উঠল সে। এত ভিড় কেন? লোকটা জেল থেকে এসেই সভা করতে আরম্ভ করল নাকি? কিন্তু বক্তৃতা করতে নিষেধ আছে যে।

    অফিসার এসে দাঁড়াতেই জনতার চোখ মুখের ভাব পালটে গেল। অনেকে সরে পড়তে লাগল এদিকে ওদিকে। যাকে বলে কেটে পড়তে লাগল। মাঝখান দিয়ে ভাগ করে ভেতরে যাওয়ার জায়গা করে দিল অফিসারকে।

    অফিসার ভেতরে ঢুকে টুপিটা খুলল। চিনতে ভুল হল না নারায়ণকে। বলল, আপনার কোনও সভা-সমিতি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

    নারায়ণ অবাক হলেন এবং সেই সঙ্গে সকলেই। সভা কোথায় হচ্ছে? নারায়ণ বললেন, সভা কোথায় দেখলেন? আমরা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করছি।

    ও! অফিসার খানিকটা বিমুঢ় ও বিস্মিত চোখে ভিড়ের দিকে ফিরে তাকাল। আশ্চর্য! এরা সব দেখা করতে এসেছে। এত লোক, এই পথচারী, দোকানি, গাড়োয়ানগুলো।

    ভজন হঠাৎ তার মেজাজে ফিরে গেল। বলল, মশাইয়ের এটা সভাস্থল বলে মনে হল! বেশ, সভাস্থলই হয়ে উঠুক তবে এটা। চা-পানের সভা। উঠে এসো সব, চলে এসো ভেতরে। চলে এসো।

    বলেই হাঁক দিল, চরণ, সবাইকে চা দে। কেউ যেন ফিরে না যায়। চলে এসো।

    অনেকেই ভেতরে ঢুকে এল, কেউ কেউ চলে গেল ভয়ে। কিন্তু বেশির ভাগই ভেতরে ঢুকে এল। ভেতরে যাদের জায়গা হল না, বারান্দায় রইল তারা।

    অফিসার হাসতে চেষ্টা করল। বলল, কিছু মনে করবেন না, আমি অন্য কথা ভেবেছিলুম। আচ্ছ, চলি নারায়ণবাবু। আপনি তা হলে রোববার দিন আসছেন থানায়। বলে নমস্কারের একটা ভঙ্গি করে বেরিয়ে গেল সে। জ্বালা ধরে গিয়েছে তার বুকটার মধ্যে। মনে হল সমস্ত লোকগুলো এক-একটা পয়লা নম্বরের শয়তান। ব শয়তানগুলো আসছে মনে মনে। কিন্তু চিরদিন এরকম যাবে না। বিশেষ ওই মাতাল ভজুলাটের কথাগুলো যেন সাপের ছোবলানি। ওকে কি একদিনও হাতে পাওয়া যাবে না।

    এবার প্রণামের পালা। প্রথমে রথীন তারপর সুনির্মল। তার হাতের ঘা শুকিয়ে গিয়েছে। প্রণাম করছে আরও অন্যান্য ছেলেরা। নারায়ণ সবাইকে বুকে জড়িয়ে ধরছেন। কোলাকুলি করলেন আবেগ ভরে প্রিয়নাথের সঙ্গে, লজ্জায় আর আনন্দে অভিভূত হয়ে উঠেছেন নারায়ণ। তবু বুকের মধ্যে অস্বস্তি। কেন যেন টনটন করে উঠছে বারবার। ভজনের জন্য ভয় পেয়েছেন তিনি।

    চরণ এসে প্রণাম করল। নারায়ণ বললেন, দেখছি, দোকানেই সবাই দেখা করবে। চরণকে টেনে নিয়ে বললেন, তুমি কে ভাই?

    সারা গায়ের মধ্যে শিউরে উঠল চরণের। তুমি কে ভাই শুনে যেন ঘুম ঘোরে কেঁদে ওঠার মতো কান্না পেল চরণের। এমন কথা শোনবার জন্য প্রস্তুত ছিল না তার হৃদয়। এমন প্রাণ ঢালা কথা, এত বড় লোকের মুখ থেকে। ছেলেমানুষের মতো ঠোঁট কেঁপে গেল। বলল, চরণ।

    চরণ। বলল ভজন, শ্রীমতী কাফের হেড বাবুর্চি।

    ভয়ে উৎকণ্ঠায় থমকে গেল চরণ। হেড বাবুর্চি শুনে হয়তো স্পর্শ ও গলার স্বর বদলে যাবে নারায়ণের। কিন্তু না। বরং নারায়ণ চরণকে আর একটু আকর্ষণ করলেন। হেসে বললেন, হেড বাবুর্চি বুঝি? কিন্তু তার চেয়ে চরণ অনেক ভাল। কি বলো চরণ?

    না, রোধ করা গেল না চোখের জল। চরণ তাড়াতাড়ি পালিয়ে বাঁচল। কেঁদে বাঁচল রান্নাঘরে গিয়ে। আমি চরণ, চরণ বাবুর্চি। আমার সয় না এত ভালবাসা, ভালবাসার কথা।

    তারপর এর একথা, তার সেকথা। চেনা মানুষদের সব নানান প্রশ্ন, কুশল জিজ্ঞাসা।

    ভুনু গাড়োয়ান, সারথী দূরে হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে। দেখছে লারাইন ঠাকুরকে। দিল বলছে হ্যাঁ, এ যেন দেবতাই। সবাইকে প্রণাম ও নমস্কার করতে দেখে, সেও দূরে দাঁড়িয়েই কপালে হাত টুকছে! একে তাড়ি গিলেছে, তায় গাড়োয়ান। ইয়ে বাবু তো আর লাটবাবু নয়। সামনে যেতে তাই তার বড় সঙ্কো ও ভয়।

    বাঙালি আসেনি এখনও, নইলে চেঁচামেচি খানিকটা বেশি হত। তারপর শুরু হয় নারায়ণের শ্রীমতী কাফে দেখার পালা। নারায়ণের মনে হল সে নিজে সাজিয়েছে। এমনই মনের মতো হয়েছে তার। শুধু মনটা খারাপ হয়ে গেল তার ঘড়ির পেণ্ডুলামে কঙ্কালের ছবিটা দেখে।  ওটা ভাল নয়। সুন্দর নয়। কে একজন তারস্বরে শোনাচ্ছে নারানকে বিশের মৃত্যুকাহিনী।

    সূর্য অস্ত গিয়েছে। শীতের সন্ধ্যা এসে পড়েছে কোন ফাঁকে। বাতিওয়ালা বাতি জ্বালাতে আরম্ভ করেছে। আর দেরি করা যায় না। বাড়ি থেকে সংবাদ এসেছে, নারায়ণ যেন আর দেরি না করেন। নারায়ণ বাড়ি চললেন। সেখানেও দেখা করার পালা, অস্বস্তি শুধু বাবার কাছে গিয়ে দাঁড়ানো।

    অনেক রাত। ভজন বাড়ি এল, নারায়ণ ঘুমোননি। তিনি অপেক্ষা করছিলেন ভজনের জন্যই। তাকে ডেকে তিনি নিজের ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন। ডাকলেন, ভজন।

    বলো।

    তোর সঙ্গে কয়েকটা কথা না বললে, আমার ভাল লাগছে না ভাই। বোস।

    ভজন আবার বলল, বলল। বলে সে বসল।

    নারায়ণ বারকয়েক ইতস্তত করলেন। দেখলেন, ভজন যেন তার চেয়েও বুড়িয়ে গিয়েছে। বার্ধক্যের রেখা পড়েছে তার মুখে। বললেন, হ্যাঁ রে, তোর কয়েকটি ছেলে হয়েছে, তবু জিজ্ঞেস করছি, বউকে কি তোর পছন্দ হয়নি?

    ভজনের মুখ লাল হয়ে উঠল। লজ্জায় নয়, বেদনায়। বুঝল, দাদা শান্তি পাচ্ছে না। বলল, ওর চেয়ে ভাল মেয়ে তুমি আর কোথায় পাবে এ দেশে? বরং আমি ওর মর্যাদা দিতে পারিনি।

    নারায়ণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন ভজনের মুখের দিকে। না, মিথ্যে নয়, এ অকপট স্বীকারোক্তি। তবে এমন হল কেন? বললেন, বাবার জন্য কি তোর এ সংসার ভাল লাগে না?

    ভজনের মুখটা যেন আরও দুমড়ে যেতে লাগল। কথা ফুটতে চায় না তার গলায়। বলল, মাঝে মাঝে ভারী রাগ হয় বাবার পরে। কিন্তু দাদা, বাবার জন্য আমার ভারী কষ্ট হয়। ওই ভাবে বসে থাকতে দেখে আমার ভারী মায়া হয়। মনে হয়, ছেলেমানুষ যেন।

    এবার দুজনেই চুপচাপ। খানিকক্ষণ কারও মুখে কথা নেই। দুজনেই বোধহয় বাবার কথাটা মনে মনে একবার ভেবে দেখল। তারপরে নারায়ণ আবার বললেন, বকুলমার পরে কি তোর রাগ হয়েছে?

    ভজন হাসতে চাইল। কত কী ভাবছেন দাদা তার সম্পর্কে। না তো। রাগ কেন হবে?

    তবে বুঝি তোর আমার পরে রাগ হয়েছে? গলার স্বর চেপে এল নারায়ণের।

    চমকে উঠল ভজন। কেন দাদা?

    আমি তোর জন্য, বউমা আর ছেলেদের জন্য কিছুই করতে পারিনে।

    তুমি তো দেশের কাজ করো। তোমার আলাদা কাজ রয়েছে। তার জন্য আমি রাগ করব? ভজনের মুখ বিকৃত হয়ে উঠল। ছি ছি, আমার সে কথা কোনও দিন মনে হয়নি।

    নারায়ণ হাত ধরলেন ভজনের। সন্ত্রাসবাদীর ভয়ঙ্কর চোখ ছলছল করে উঠল। তবে ভাই কেন এমন হল?

    ভজন ঢোক গিলছে। কীসে যেন আটকে যাচ্ছে কথা গলার মধ্যে। তবু জোর করে প্রায় ফিসফিসিয়ে বলল, জানিনে আমি জানিনে দাদা কেন এমন হল। আমি আমার নিজেকে বুঝতে পারিনি তোমাকে কী বলব। বিশ্বাস করো, আমি বোধহয় শেষ হয়ে গেছি, কত কি ভেবেছি জীবনে, তাকিয়ে দেখি শেষটায় বদ্ধ মাতাল হয়েছি।

    গলার স্বর বন্ধ হয়ে গেল ভজনের। তবু বলল, আমাকে আর কিছু বলল না দাদা।

    কিন্তু নারায়ণ না বলে পারলেন না, ভজন, তুই আমার চেয়ে বেশি লেখাপড়া করেছিস। তুই পাশ করেছিস। আমার দ্বারা তাও হয়নি।

    অসহ্য যন্ত্রণায় ভজন ধিক্কার দিয়ে উঠল নিজেকে, ছি ছি ছি, ওকথা আর বলল না দাদা। আমি লেখাপড়া জানি, সেকথাটাও আমি ভুলে গেছি। দাদা, আমার কটি ছেলে রয়েছে। নিজের কথা ভাবলে আমার ভয় করে, তাই আমি ভাবিনে। দাদা, বাঙালি আর ভুনু গাড়োয়ানের সঙ্গে বসে আমি মদ খাই। দুটো ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলিনে। আমার মান অপমান জ্ঞানও নেই। দাদা, আমি হার মেনেছি।

    কার কাছে?

    সকলের, সব কিছুর কাছে। ভগবানের দোষ দিইনে, আমি আমার পথ চিনিনি। ব্যবসা করি কিন্তু বুঝি, সেখানেও আমার হার। আমি সকলের ভার, সকলের বোঝা।

    চুপ কর, ভজন, অমন করে বলিসনে। ভজনকে থামিয়ে দিয়ে নারায়ণ অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।

    ভজন বসে রইল মাথা নিচু করে। অস্থির হয়ে উঠেছে তার প্রাণ। এমন সব কথার মুখোমুখি কোনও দিন দাঁড়াবার কথা ভাবেনি সে। ভাববার অবসর হয়নি। ভাবনা এলে এড়িয়ে গিয়েছে।

    নারায়ণ বললেন, ভজন, নিজের উপর ভাই এমন করে বিশ্বাস হারালে চলবে না। আমি বুঝতে পারিনে সর, কেন এমনটা হয়। কিন্তু মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারলে সব গণ্ডগোল হয়ে যাবে। তোর উপর যে অনেক দায়িত্ব এসে পড়েছে, সেকথা ভুললে চলবে না।

    এমন সময় বাইরে থেকে শিশুর কান্না শোনা যেতেই নারায়ণ চমকে উঠলেন। তাড়াতাড়ি বললেন, যা ভজু, বউমা তোর জন্যে বোধহয় বসে আছেন। খেয়ে নে, গে।

    ভজন বেরিয়ে গেল। দরজা খুলে বাইরে এসে চমকে গেল। দেখল দূরে, জানলার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে যুঁই। রাত্রে আধয়া চাঁদ উঠেছে। ঝাপসা আলোয় দেখল, বুইয়ের গালে চকচক করছে জল। হয়তো সব কথা শুনেছে সে।

    কেবল নারায়ণ বসে রইলেন। গালে হাত দিয়ে ভাবছিলেন ভজনের কথাগুলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসওদাগর – সমরেশ বসু
    Next Article নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    সওদাগর – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }