Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সওদাগর – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প398 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.২ বাড়ি এল সে

    বাড়ি এল সে। এসে দেখল, রাজীব কথা বলছে সুকুমারীর সঙ্গে। আজকাল সে রোজ সন্ধ্যাবেলা এখানে আসে। তিলি আর ষোড়শী রাঁধছে।

    মেঘনাদ এসে হেসে দাঁড়াল। তাকে দেখে চমকে উঠল তিলি। বললে, একী, কালিঝুলি মেখে এলে কোত্থেকে?

    মেঘনাদ বললে, কারখানা থেকে গো ! যা ছিলাম, এদ্দিনবাদে আবার সেই বেশেই এলাম। খারাপ লাগছে নাকি দেখতে?

    তিলি ঠোঁট উলটে বলল, বিচ্ছিরি !

    বলে হেসে উঠল। মেঘনাদ বলল, তোমার দিদি কোথায়।

    : ভাড়াটেদের ঘরে। ষোড়শীকে বলল, ডেকে দে তো বউদি।

    ষোড়শী ডেকে নিয়ে এল লীলাকে। মেঘনাদ বলল, ঝুমি, তোমার নামে বেকারির নাম দিলাম, লীলা বেকারি।

    লীলা দৃপ্ত চকিত ভঙ্গিতে ফিরে বলল, কেন?

    লীলার কি রূপ আরও বেড়েছে? যেন বেড়েছে। তীব্র দীপ্তি তার কৃশ তনু অঙ্গে।

    মেঘনাদ হেসে বলল, তুমি মহাজন-গিন্নি, সেই জন্য।

    বিদ্রুপে ফেটে পড়ল লীলা। অদ্ভুত তীক্ষ্ণ অথচ অশ্লীল মুখভঙ্গি করে বলে উঠল, সত্যি নাকি? যা করছ, তা-ই করো, আবার গিন্নিকে নিয়ে টানাটানি কেন?

    তিলির ভ্রূ জোড়া কুঁচকে উঠল। মেঘনাদ হাসতে পারছে না। কিন্তু রাগ করলে না। বলল, বিনয়বাবু বলছিলেন লীলা বেকারি নাম দিতে।

    অসহ্য রোষে ফুঁসে উঠল লীলা, তোমার বিনয়বাবু যা খুশি তা-ই বলতে পারে। তাতেই কি সব হবে?

    অকস্মাৎ জ্বলন্ত উনুন থেকে ঠকাস করে কড়াটা নামিয়ে রেখে তীব্র স্বরে বলে উঠল তিলি, তাই তো হয় বলে জানি। নিজে কি তা জানিসনে?

    বলে বাতাসের আগে বেরিয়ে গেল তিলি। চমকে উঠল ষোড়শী। ছুটে এল সুকুমারী।

    লীলার চোখে মুখে গায়ে গলে পড়ছে তরল আগুন। চোখের আগুনে ঝলসে দিতে চাইছে মেঘনাদকে। তীব্র অস্ফুট গলায় খালি বলল, শয়তানের রাজত্ব, পুড়ে যাক, ছাই হয়ে যাক। বলে ছুটে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল ঘরের।

    ভাড়াটে মেয়ে পুরুষেরা উঁকি মারছে। সুকুমারী, ষোড়শী ভীত চোখে তাকিয়ে আছে মেঘনাদের দিকে।

    ধোঁয়া কালিমাখা একটি বিশাল শরীর। সারা শরীরে ও মুখে একটা অমানুষিক অভিব্যক্তি। গাল দুটো কুঁচকে ঢেকে গেছে বড় বড় চোখ দুটি। তার চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছা করছে। মনে হচ্ছে। এক ধাক্কায় ধ্বসিয়ে দেবে সমস্ত বাড়িটা। তারপর সুকুমারীর দিকে চেয়ে অদ্ভুত নিচু মোটা গলায়। বলল, পাপ মা, সব পাপ।

    বলে বাইরের ঘর দিয়ে বেরিয়ে গেল একেবারে রাস্তায়। রাজীবকেও লক্ষ করল না দরজার কাছে।

    সুকুমারী শান্তভাবে অথচ কাঁপতে কাঁপতে রান্না নিয়ে বসল।

    তিলি বসে পড়েছে গিয়ে পিপুলের আড়ালে অন্ধকারে। কিছুতেই নিজেকে রোধ করতে পারছে সে। পিপুলের বুকে মুখ চেপে ফুলে ফুলে উঠছে নিঃশব্দ কান্নায়।

    রাজীব এসে দাঁড়াল সেখানে। কাউকে দেখা যায় না এখান থেকে। রাজীব অসঙ্কোচে তিলির পিঠে একটি হাত রেখে ডাকল, ঠুমি

    তিলি ফিরল না, কান্নাও থামল না। তেমনি কাঁদতে লাগল। কিন্তু রাজীবের রক্তে দোলা লাগল। পিঠ থেকে সে ঘাড়ে হাত দিল তিলির। কাছে বসে আকর্ষণ করল। ডাকল আবার, তুমি !

    ঠুমি নড়ল না। কিন্তু থিতিয়ে এল যেন কান্নার বেগ। সান্ত্বনা দিতে এসে রক্তে তোলপাড় লেগে গেল রাজীবের। সে ঝুঁকে পড়ে ঠোঁট ছোঁয়াল তিলির ঘাড়ে। তিলি চমকাল না, কাঁপল না। ছেলেমানুষদের ঘ্যানঘ্যানানিতে বিরক্ত মেয়েমানুষের মতো বলে উঠল, আঃ, এরকম করছেন কেন আপনি।

    রাজীবের বুকের আগুন হঠাৎ নিবু নিবু হয়ে এল তিলির গলা শুনে। যেন এর চেয়ে তিলি ভয় পেলে, সম্মানের ভয়ে রেগে উঠে পালালে ভাল হত, আশা থাকত। বলল, তুমি, তুমি কাঁদছ—

    তিলি বলল, আমি কাঁদছি তো কী হয়েছে। আপনার কি ইউনিয়ন-টিউনিয়ন সব উঠে গেছে। আর কোনও কাজ নেই?

    রাজীবের হাত শিথিল হয়ে এল। রাগ নয় অনুরাগ নয়, শাসন। আশ্চর্য ! রাজীব মনে জোর পায় না একটুও। বলল, সে কথা তোমাকে বলতে চাই তুমি। বিনয় চৌধুরী আমার সর্বনাশ করেছে।

    ওই একই নাম সর্বত্র। তিলি বলল, সর্বনাশ করেছে, আমাকে বলে কী হবে। গিয়ে শোধ নিন। এখানে বসে থাকলে কী হবে।

    : শোধ নেব ঠুমি, দারুণ শোধ নেব।

    : তাই নিনগে। সংসারের জ্বালায় আপনার জন্য কাঁদতেও পারব না?

    কোথায় রাজীবের সেই চিল চোখ। করুণ গলায় বলল, কিন্তু তুমি, তোমার কাছে আমি অনেক কিছু চাই।

    অদ্ভুত মিষ্টি সুর, তবু যেন নির্বিকার গলায় বলল তিলি, চান, নিয়ে যাবেন। এখন যান।

    সে ঘরে চলে গেল আবার। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রাজীবের বুকটা শুধু ভরে উঠল।

    তবু শূন্য বুকটার মধ্যে হাহাকার উঠতে লাগল।

    চালিস খেয়ে এসে বলল, কত্তা, আপনাকে খেতে ডেকেছে। সকলের খাওয়া হয়ে গেছে।

    মেঘনাদ কোনও জবাব দিল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল তন্দুরের হাঁ মুখের দিকে। সত্যি যেন একটা বিকটাকার দানব লাল মুখগহ্বর খুলে হাঁ করে রয়েছে। আগুনের শিখা আর নেই। সব জ্বলন্ত অঙ্গার। মেঘনাদের বুকটাও অমনি লাল। সেখানেও তন্দুর জ্বলছে। আজ প্রথম, নতুন। রকমভাবে মনে হচ্ছে, লীলা তার জীবনের একটা দিক ভেঙে দিয়েছে।

    ফিরে এল সে বাড়িতে। রাত হয়েছে বেশ। ঘুমন্ত সুপ্ত পাড়া। পিপুলের ছায়ায় এসে দাঁড়াতেই, অন্ধকার ছুঁড়ে তিলি বেরিয়ে এল। বলল, এত রাত করলে?

    মেঘনাদ বলল, ইচ্ছে করে করিনি। তোমাদের বাড়িতে গণ্ডগোল দেখে পালিয়ে গেলাম।

    রাজীবের সামনে সেই তিলি মেয়েটি নয় এখন সে। বলল, বোনাই, আমি আর এখানে থাকতে পারছিনে

    : কোথায় যাবে তুমি ঠাকরুন !

    ওই স্নেহের নামটা শুনলেই বুকের মধ্যে বাষ্প জমে উঠে তিলির। বলল, তোমার কাছে একদিন একটা কথা বলব বলেছিলাম।

    : আজ বলবে সে কথা?

    : হ্যাঁ। একটু থেমে বলল, বোনাই, বাবা, মা, সোনাদা ওরা বড় গরিব। তুমি আমাকে একটা বিয়ে দিয়ে দেও।

    মেঘনাদ কয়েক মুহূর্ত বিমূঢ় হয়ে রইল। গলায় শব্দ আসছে না। থেমে থেমে বলল, আমাদের ছেড়ে চলে যেতে চাও তুমি ঠাকরুন।

    তিলির কণ্ঠরুদ্ধ। তবু ফিসফিস করে বলল, আর থাকতে পারছিনে বোনাই। এখানে আমার আর ঠাঁই না থাকাই ভাল। আর

    : আর?

    : আর কবে বিয়ে হবে? বয়স যে অনেক হল।

    মেঘনাদের বুকের মধ্যে বোবা যন্ত্রণা। বলল, তোমার যদি সুখ হয় ঠুমি তবে তাই করব আমি।

    : সুখ বলো না বোনাই। বলো, নিষ্কৃতি।

    : কার নিষ্কৃতি?

    : তোমার, আমার, সকলের।

    : লোকের কাছে মনের কথা বলে আমি বোকা বনে যাই। কিন্তু তুমি ঠাকরুন, তোমাকে বিয়ে দিয়ে আমার নিষ্কৃতি কীসের? তোমাকে যে বড় সুহৃদ বলে জানি।

    : থাক থাক সে সব কথা বোনাই।

    বলতে বলতে মুখ ঢাকল তিলি দু হাতে।

    মেঘনাদ বলল, তবে কান্নাও থাক। তবে, আগে আমাকে পুরোপুরি আরম্ভ করতে দেও কাজকর্ম, তারপরে

    তিলি আবার বলল, থাক।

    .

    : থাক নয়, বলতে হবে আমাকে কী হয়েছে। কী হয়েছে বিনচৌ-এর, সে দিন সেই চিঠিটা আসার পর থেকে।

    লীলা মুখোমুখি দাঁড়াল বিনয়ের। দোতলা থেকে রাস্তা দেখা যাচ্ছে, দূরের রাস্তা। বিনয় বিষণ্ণ স্নান চোখে তাকিয়ে আছে দূরে। করুণ হেসে বলল,  বিনচৌ-এর সব দুঃখ কি তুমি ঘোচাতে পারবে লীলা?

    : না পারি শুনতে তো পারি।

    বিনয় এখন মনে মনে ভাবছে, থাক থাক এ সব। কিন্তু তার ভেতরে আর একটি মন আছে। স্ব-বিরোধী সেই মন। সে বিদ্রোহ করে থাবা শাণাচ্ছে, উসকে দিচ্ছে তাকে। বিনয় তাকিয়ে আছে অন্যদিকে, কিন্তু দূরাভিসারী দৃষ্টি লীলাকেই দেখছে। বলল, তোমাকে বলা যায় না লীলা। বলতে বলতে দুশ্চিন্তার কয়েকটি রেখা ফুটে উঠল বিনয়ের মুখে।

    লীলা বলল, কেন?

    : তুমি মেয়েমানুষ, তাই। তোমাকে ভালবাসি, তাই।

    গাঢ়, গভীর অথচ দুশ্চিন্তাচ্ছন্ন গলা বিনয়ের।

    ভালবাসা ! কেমন যেন অর্থহীন গা জ্বালানো বলে মনে হয় কথাটি। তবু, বিনয়ের সঙ্গে সত্যি কোথায় বাঁধা পড়েছে লীলা। তার সংসার পোড়ানো বুকের চিতায় একটা হৃদয়গত আমেজের মতো। গলায় তার গাঢ়তা নেই, খরতা আছে। বলল, ভালবাসলে বলা যায় না, এমন কথাও আছে নাকি?

    বিনয়ের গলার ভেতরটা কাঁপছে। বাইরে থেকে বোঝা যায় না। একটা মন ভয় পাচ্ছে, রাগ করছে, বলছে, খবরদার! ওরে রাক্ষস, বলিসনে বলিসনে। তবু বলে ফেলল, লীলা, আমার সাত হাজার টাকা দেনা আছে। দু তিন দিনের মধ্যেই শোধ করতে হবে।

    চকিত সংশয়ে বেঁকে উঠল লীলার ভ্রূ। বলল, বিনচৌ-এর দেনা? কেন, বিনচৌ-এর কি টাকা নেই?

    অদ্ভূত করুণ বিষণ্ণ অথচ তিক্ত গলায় বলল বিনয়, জানি, তাই ভাবে সবাই। আমার ঠাকুর চাকরও তা-ই ভাবে। লীলা, যা দেখছ, সব সাজানো। ভেতরটা একেবারে ফোঁপরা, শূন্য। এই বাড়ি, ঘর, কারখানা..।

    তখনও লীলা তাকিয়েছিল অপলক তার চোখের দিকে। সংশয়টা বোধ হয় কেটে আসছে। আর বিনয়ের ভেতরটা বলছে, আর নয়, আর বলিসনে বিনচৌ। তবু বিনয় আবার বলল, তোমার স্বামীর সব টাকাই ব্যবসায় খাটতে আরম্ভ করেছে। নইলে, তার অনেক উপকার করেছি, তার কাছেই চাইতাম।

    লীলা জানে না কী উপকার করেছে বিনয় মেঘনাদকে। তবু জানে, বিনয় ছাড়া গতি নেই লোকটার। লীলা হঠাৎ বলল,  বিনচৌ-এর বউ কোথায়? সেও কি এ সব জানে না?

    বিনয় বলল, আমার বউ আর কোনওদিন আসবে না।

    : কেন?

    সত্যি কথাই আর একরকমভাবে বলল বিনয়, তাকে আমি কোনওদিন ভালবাসিনি, সেও নয়। তা ছাড়া, তার চরিত্র

    বিনয় চুপ করল। কিন্তু লীলা অদ্ভুত নিষ্পলক সাপের মতো চেয়ে আছে বিনয়ের দিকে। বিনয়ের ভেতরটা কোঁকড়াচ্ছে।

    লীলা বলল, বউ কোথায় গেছে?

    : দিল্লিতে, বোধ হয় তার বাপের কাছে।

    বলতে বলতেই আত্মসম্মানে যেন লাগল বিনয়ের। বলল, ও সব কথা থাক লীলা।

    থাকল, কিন্তু লীলা যেন প্রতিটি ভঙ্গি বিনয়ের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। সে তেমন করে আর হাসে না। মাঝে মাঝে নিঃশব্দ বিদ্যুৎ জ্বলে ঠোঁটে। হঠাৎ হেসে বলল,  বিনচৌ দেখছি খুব বড় সওদাগর। সপ্তডিঙার শুধু সাজনগোজন সার।

    বিনয় প্রেম ঢুলুঢুলু চোখে তাকিয়ে বলল, সব যাক, লীলার ভালবাসা তো থাকবে। সে আমাকে ওইটুকু দিতে পারে।

    লীলা হেসে উঠল খিলখিল করে। বড় তীব্র হাসি। কিন্তু লীলার বুকটা কেন যেন জ্বলছে। তার কেবলই মনে হতে লাগল, বিনয় তার কাছে কিছু চায়। বিনচৌ-এর বিষণ্ণ চোখে করুণ ব্যাকুলতা। কিন্তু মানুষটা কেমন যেন ভীরু দুর্বল। শুধু চাওয়া, প্রাণ ভরে চাইতেই পারে। আর যেন কিছু নয়।

    লীলা চলে যাওয়ার পর ঠোঁটে ঠোঁট টিপে ধিক্কার দিয়ে উঠল তার ভেতরের মন, পারলিনে বলতে, হাতের মুঠোয় পেয়ে ছেড়ে দিলি। কিন্তু সময় যায়নি এখনও।

    বিনয় কয়েকটি চিঠি বার করল। সবগুলিই দিল্লি থেকে লেখা সুলতার সাম্প্রতিক চিঠি। সবগুলিই বিনয়ের চিঠির জবাব, আমি যাব না আর কোনওদিন। তুমি আইনের সাহায্য নিতে পারো। সুলতা।

    আইন! আইন ! বিনয়ের টানা চোখে রক্ত ছুটে আসে।

    রাত্রি আটটার পর আবার এল লীলা। বিনয় বলল, রাত্রে এলে?

    লীলা হেসে বলল, থাকতে এলাম।

    বিনয় চেষ্টা করে হাসল। বলল, থাকো কিন্তু পাড়ায় টিকতে দেবে না যে লোকে।

    : অন্য পাড়ায় না হয় যাব।

    বিনয় বলল, ভাববার বিষয়।

    লীলা সে কথার কোনও জবাব না দিয়ে, আঁচলের আড়াল থেকে বার করল একটি পেতলের বাক্স। তার গহনার বাক্স । বলল, আমার সব গহনা। এতে সাত হাজার হয়ে যাবে।

    বিনয় যেন ভয় পেয়ে চমকে উঠল। সোনা পেয়েও ভয় হয়, চমকায় বিনয়। লীলা বলল, নেও।

    বিনয় বলল, কিন্তু লীলা, তোমার বাড়ির লোকেরা

    কিন্তু এই কয়েক মুহূর্তেই বিনয়ের ভয় কেটে গিয়ে লোভ দুর্বার হয়ে উঠেছে। পেতলের বাক্সের সোনার ঝকমকানি তার চোখে। সে মুখে বলতে পারেনি। লীলা কাজে করে এনেছে।

    লীলা বলল, বাড়ির লোক কী করবে জানিনে। বিনচৌ-এর দরকার, তাই এনেছি।

    বিনয় বলল, এত ভালবাসো তুমি।

    ভালবাসা ! ভালবাসা ! তীব্রস্বরে চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছা করল লীলার, জানিনে কীসের ভালবাসা। কোথায় আছে ভালবাসা। কিন্তু বলল, তা জানি না। বিনচৌ যদি অমন করে বলে—

    কী করে বলে, তাও ঠিক বোঝে না লীলা। বিনচৌ তার বিষণ্ণ ব্যাকুল চোখে তার কাছে এতদিন ভিক্ষা চেয়েছে। সে দিয়েছে সব। দিয়ে তার শান্তি কতখানি হয়েছে জানে না। না দিলে শান্তি নেই, জানে।

    লীলা বসেছিল খাটে। তার কাছে হাঁটু মুড়ে বসল বিনয় । বলল, বলে তোমার মনে কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু লীলা তোমার গলার একটি হার রাখো বলে সে হার, চারখানি চুড়ি আর কানের দুল পরিয়ে দিল লীলাকে। কোনও প্রতিবাদ করল না লীলা। শুধু একটু হাসল।

    লীলা চলে যাওয়ার পর, একলা ঘরে হাঁ করে তাকিয়ে রইল বিনয় গহনার বাক্সের দিকে। সমস্ত বিশ্বটা বড় বিস্ময়ের লাগছে তার কাছে। লীলাকে যে যেন চিনতে পারছে না। আবার সুলতার চিঠিগুলি দেখতে লাগল সে। চিঠিগুলি ফুঁসছে, যাব না, যাব না, কোনওদিন যাব না।

    এই সুলতার ঘর। এই ঘরে সে রাত্রে কোনওদিন ঢোকেনি। আজ এই ঘরে বসে চোখের ঘুম একেবারে গেছে বিনয়ের। সেও ফুঁসছে, কামড়াচ্ছে তার বুকের মধ্যে। আর দুটি ভীরু মুখ, চারটি ভীরু চোখ তাকে যেন দেখছে শান্তিনিকেতনের গাছের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে। তারপর, আবার কাল আছে ইউনিয়নের মিটিং। রাজীব চেষ্টা করছে ফেঁসো কারখানায় স্ট্রাইকের জন্য। ছুটছে। কলকাতা প্রদেশ অফিসে, তলে তলে যোগ দিচ্ছে বেয়াড়া শ্রমিকদের সঙ্গে। হেসে কথা বলছে। বিরুদ্ধ দলের সঙ্গে। যারা আজকে তাদের দলের গোটা শাসনক্ষমতাটাই ধুলোয় লুটিয়ে দিতে চায়। এদিকে, কোম্পানি দৃঢ়ভাবে নোটিশ আনছে, চিপ র‍্যাশন বন্ধের। জানিয়েছে বিনয়কে আগেই।

    সুলতা, লীলা, ইউনিয়ন, গহনা…

    বারান্দায় কাকের ডাকে চমকে উঠল বিনয়। রাত শেষ হয়ে গেছে।

    .

    কারখানা জমে উঠেছে। প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে মাল তৈরির পরিমাণ। মালিক বলে চেনা যায় না মেঘনাদকে। সে গেদো আর ছিট, উভয় মালেরই মিস্তিরি। প্রতিদিন স্নান করে, শুদ্ধবস্ত্রে, এখনও সেই মশলা তৈরি করে। মশলাই আসল। স্বাদ গন্ধ শুধু নয়, মশলার উপর নির্ভর করে। মালের নরম শক্ত হওয়া। ফেটে যাবে কি শক্ত হয়ে যাবে, বেশি ময়দায় কম মাল হবে না বেশি মাল হবে, সব নির্ভর করে মশলার উপর। সেই মশলা কাউকে করতে দেয় না মেঘনাদ। নুরুল ভাল মিস্তিরি। আরও কয়েকজন নতুন লোক এনেছে ল্যাংচা ম্যানেজার হরিহর। তারাও, গেদো মালের মিস্তিরি মন্দ নয়। কিন্তু বাজারে নতুন পসার করার সময়, ভরসা করা যাচ্ছে না তাদের উপর।

    তা ছাড়া মশলা বড় গোপন জিনিস। গুরুর কাছে দিব্যি-খেয়ে সাকরেদ দীক্ষা পায়, কোনওদিন কাউকে বলবে না। মেঘনাদের প্রথম গুরু এক জন মুসলমান। দ্বিতীয় গুরু লালমিঞা। এমন কী কোনও মিস্তিরিও তার মশলার কথা আর এক জনকে বলবে না। বড় বড় মেশিনওয়ালা কারখানায় এই মিস্তিরিদেরই বলে কেমিস্ট। মাইনে তাদের হাজার বারোশো। তেমন তেমন কারখানায় দেড় হাজার, দু হাজার। এদের নিয়ে আবার টানাটানি কাড়াকাড়ি হয়।

    সবাই মেঘনাদের কাজই দেখে। যেন অসুর। টিণ্ডাল, মিস্তিরি, কারিগর সব কাজই করছে। আর মাঝে মাঝে মেশিনটির দিকে চেয়ে দেখছে। ঘর উঠতেই বিজয়ের কাছ থেকে মেশিন এসে পড়েছে। একদিন এমনই সারি সারি মেশিনে ভরে উঠবে এই ঘরগুলি। আরও বড় মডেল, নতুন মডেল আসবে। হিটার আসবে। ভেজা আর শুকনো কাঠের জন্য মাথায় হাত দিয়ে বসতে হবে না।

    সেই দিন, সেই দিন আসবে কবে। পাশে পাশে লীলার মুখ ভেসে ওঠে। বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতেও তার লজ্জা করে আজকাল। হয়তো, এই লোকটির কাছে কত ঠাট্টা বিদ্রূপ করে লীলা তাকে নিয়ে। লীলার মুখোনি মনে পড়লে, কাজে মাতে সে আরও বেশি। লীলা, তিলি, কোনও বোনেরই বড় একটা কাছাকাছি হয় না। তিলি খেতে দেয়, মেঘনাদ চুপ করে খায়। শুতে গেলে যখন যায়, তখন লীলা অঘোরে ঘুমোয়। যদি জেগে থাকে, যদি কখনও জাগাতে প্রাণ চায়। মেঘনাদের, তখনই হয় নতুন যন্ত্রণার উদ্ভব।

    কাজ, কাজ শুধু।

    নিজের হাতে ময়দা মেপে দেয় কারিগরদের। নিজের হাতে ওজন করে মালের ছাঁচ কেটে দেয়।

    আর তার পায়ে পায়ে ঘোরে চালিস। চালিস নইলে কাজ জমে না তারও। কাজের মাঝেই পেট বাজিয়ে গান ধরে। মেঘনাদের ধমক খেলে থামে। হঠাৎ নাচ শুরু করে দেয়। বলে, কত্তা ঝুমির ঝুরি নইলে চলবে না।

    আচমকা দংশনে ব্যথা লাগে বুকে। বলে, ঝুমির ঝুরির বড় আদর হবে না রে।

    আচ্ছা, করা যাক।

    ইদ্রিস কাজ ছেড়ে এসেছে হোটেলের। তারও খুব উৎসাহ। করা হল ঝুমির ঝুরি। চলল না এখানকার বাজারে। এখানে চায় সবাই রুটি, বড় বড় বিস্কুট। কারখানার টিফিনে যাতে পেট ভরে। শৌখিন মালের বাজার নেই।

    মেঘনাদের পুরো কলসিটি উপুড় হয়ে গেছে। শুন্য হয়ে গেছে, আর এক ফোঁটাও জল নেই। সঞ্চয়ের কলসিটায়। এবার কিছু ঘরে আসা দরকার। যা আসে তা বড় নগণ্য। দু দিন বাদে খরচ পোষাবে না।

    হিসাব লেখে নকুড়। কিন্তু লেখায় খোঁড়া ম্যানেজার হরিহর। বলে, কত লিখলেন স্যার ফাদার-ইন-ল। দশ টাকা জমা লিখুন, পাইকের রাখোহরির নামে । বাকি সত্তর টাকা।

    নকুড়ের কলম ঝুলে যায়। জমা খরচের পড়তা দূরের কথা, আশমান জমিনের চেয়েও ফারাক বেশি। কিন্তু নকুড় বোবা হয়ে গেছে। ভাবে, এইটাই বোধ হয় এ ব্যবসার রীতি। কার ব্যবসা, কে করে, যেন কিছুই জানে না। ছানি পড়া চোখে, কিলবিলে কপাল তুলে চেয়ে থাকে।

    অফিসঘরে, টিন ভরতি মাল। হরিহর মুঠো ভরে মুখে দিয়ে চিবোয়। বলে, কী হল?

    নকুড় বলে, জমা খরচটা ঠিক বনছে না যে ল্যাংচা হরি।

    : নট ল্যাংচা হরি স্যার ফাদার-ইন-ল, ম্যানেজার বলবেন। ইওর সন-ইন-ল তাই বলেন। যা বলছি, তাই লিখে যান।

    বলে চোখ মারে রাখোহরিকে। রাখোহরি মাল নিয়ে চলে যায়।

    বিনয়ের দেওয়া এ বিশ্বস্ত লোকটি এ অঞ্চলের সকলের পরিচিত। আঠারো বছর বয়সে, হরিহর ছিল বিনয়ের জ্যাঠার চেলা। ছেলে কুলীন বাঁড়জ্জে ঘরের। বউ ছেলেমেয়েও আছে। গুণের মধ্যে বড় গুণ, ভাল রেস খেলতে জানে, মদ খেতে পারে, আর পারে মারামারি করতে। ওই করেই একটি পা গেছে। কিন্তু লেখাপড়া না করেও ইংরাজি বলে সে মন্দ নয়। বিশেষ করে, এ ইংরেজি হল, বাংলাদেশের যুদ্ধোত্তর কালের ইংরেজি।

    কখনও বিস্কুট খাচ্ছে, পাউডার মিলক গিলছে মুঠো মুঠো । নকুড়কে বলে, চলবে নাকি স্যার?

    হাঁ করে চেয়ে থাকে নকুড়। কেন যেন ভয় করে ল্যাংচা হরিকে। মনে হয়, তার মনের গোপন গুহায় লেংচে লেংচে ফিরছে লোকটা অষ্টপ্রহর। যেন জানে সব, নকুড়ের পাপ। চেনে সোনাদুলিচরের ভূতটাকে।

    তাই হিসাবের খাতা লিখতে হাত কাঁপলেও মেঘুকে খাতাখানি দেখাতেও হাত ওঠে না।

    হরিহর ঘাবড়ায় একটু মেঘনাদকে দেখলে। সব সময় পেছনে লাগে চালিসের। চালিসও সহ্য করে না তাকে। চালিস বেশ বুঝতে পারছে, রুটির মিস্তিরি বদনের সঙ্গে হরিহরের কিছু একটা, গোপন ব্যাপার আছে। অনেক দিন সে দেখেছে, রাত্রে বসে বসে দুটিতে কীসের ফুসফুস গুজগুজ করে।

    বদনের বড় গুণ হল, মেঘনাদ না থাকলেই গেদো মালের ময়দার খামি দিয়ে, চিত হয়ে শুয়ে থাকা উলঙ্গ মেয়েমানুষের মূর্তি তৈরি করবে। সবাইকে ডেকে দেখাবে আর মূর্তি থেকে খাবলা খাবলা তুলে, ওজন করবে, ছাপ কাটবে। বলবে, শালা মেয়েমানুষ সব রুটি হয়ে গেল। খা কত খাবি।

    এ দৃশ্যে মিস্তিরি কারিগর, সবাই হেসে মরে। হাসে, তবু বুড়ো ইদ্রিস বলে, হেই খোদা, উল্লুকের দোষ নিয়ো না। কিন্তু বাদবাকি সবাই বদনের এই খেলায় জমে যায়। নুরুল আর ইদ্রিস, বাপ ব্যাটা চোখাচোখি করে। ইদ্রিসের চোখে খবরদারি, এই দেখে যেন ব্যাটা আবার মেয়েপাড়ায় ছুটে না যায়। ঘরে তার সোহাগী বিবি রয়েছে।

    তবু আধো অন্ধকার তন্দুর ঘরে, তন্দুরের আগুনের লাল আলোয় এই মানুষগুলিকে মনে হয়, নরকের প্রেত। ময়দার মেয়ে মূর্তির দিকে তাকায় যেন, বুভুক্ষু শেয়ালের মতো।

    গদাধর বলে একটি রিক্রুট আছে হরিহরের, গেদোর কারিগর। সে আবার কোনও কোনও সময় ঝাঁপ দিয়ে পড়ে ওই মূর্তির উপর। তখন সকলের গলা থেকে একটি মিলিত শব্দ ওঠে। হাসির শব্দ নয়। ভীত চমকিত সেই শব্দ অস্ফুট আর্তনাদ। শুধু চালিস চেঁচিয়ে বলে, শালা খচ্চর, দাঁড়া, মালিককে আমি বলে দেব। বলে সে দিয়েছে অনেকবার। মেঘনাদ ধরতে পারেনি একদিনও।

    হরিহর বলে, বেশ তৈরি করিস মাইরি। কেষ্টনগরের আর্টিস্টের থেকে কড়া আর্টিস্ট তুই। একে বলে স্কালপচারিস্ট। একে ময়দা, তায় মেয়েমানুষ। লাইফ দিতে পারিসনে, যাকে বলে প্রাণ?

    বদন বলে, প্রাণ নেই বলেই তো এটা ভাল। থাকলে আর এত খাবলা খাবলা খেতে হত না।

    লীলা বেকারিতে জমজমাট আসর বেঁধেছে হরিহর। মেঘনাদ এদের সব কিছু বোঝে না। কিন্তু আন্দাজ করে, হরিহরের আছে একটি মধুচক্র। সিরাজদিঘার কারখানার অনেকে বেশ্যাবাড়ি যেত। কাজের সময় কারিগর কম পড়ত তার। ছুটে যেত বারোবাসরের পাড়ায়। ধরে নিয়ে আসত, ঘাড়ে ধরে। দরকার হলে রাগের মাথায় দু এক ঘা কষাত। এখানে সে সব তো আছেই, তার উপর আছে সিনেমা দেখা। সোজাসুজি মেঘনাদের কাছেই পয়সা চেয়ে বসে।

    সেই জন্য মাঝে মাঝে বিজয়ের দরকার হয়। অথচ নুরুল ইদ্রিসের দলকে কিছুই বলতে হয় না। খামির দলা নিয়ে মেয়েমানুষ করার ব্যাপারটা একদিন মেঘনাদের সহ্যের সীমা ছাড়াল। একদিন বদন মেয়েমানুষের মূর্তি করে, গায়ে লিখে দিল লীলা। তারপর চেঁচিয়ে বলল, নে, কে এবার বিনচৌ হবি, চলে আয়।

    জানত না, মেঘনাদ আছে কাছাকাছি। সে এসে দাঁড়াল সেখানে। হরিহর তাড়াতাড়ি বলল, এই যে স্যার, আপনি এসে পড়েছেন। চলে চলুন এখান থেকে, এ সব ছোটলোকের কাজ।

    খামির মূর্তির নাভির কাছে লেখা রয়েছে লীলা। মেঘনাদের মুখটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল। সম্মান বাড়াবার জন্য কোনওদিন লালায়িত ছিল না সে। কিন্তু যন্ত্রণা সম্মানবোধের ধার ধারে না। সে হঠাৎ বদনকে দু হাতে টেনে তুলে, প্রায় ছুড়ে ফেলে দিল ঘরের বাইরে।

    বদন একবার চিৎকার করে উঠল, ওরে বাবারে।

    হরিহর বলল, মার্ডার হয়ে যাবে স্যার।

    কিন্তু আশ্চর্য ! মেঘনাদ শুধু শান্ত গলায় বলল, ইদ্রিস মিঞা, কাজে হাত দেও, দাঁড়িয়ে থেকো না।

    হরিহরকে বলল, আপনি অফিসে যান।

    : ইয়েস স্যার। কপালে হাত ঠেকিয়ে লেংচে লেংচে চলে গেল হরিহর। বদন ততক্ষণ পালিয়েছে। অনেকে খুশি হল, কিন্তু একটা ভয় ভয় ভাব গেল না।

    আর মেঘনাদ ছিটের তন্দুরের পেছনে গিয়ে বসে পড়ল মাজা-ভাঙা সাপের মতো। আর এতদিন বাদে তার প্রথম মনে হচ্ছে, মনে যেন তার সে বল নেই, দেহে তেমন শক্তি নেই। বুকটা অষ্টপ্রহর টনটন করে।

    তারপর, এখান থেকেই চোখে পড়ে, ধুলো পড়া মেশিনটা। অমনি শিরদাঁড়ায় বিদ্যুতের ঝিলিক অনুভব করে। ছুটে এসে, ঝাড়ন দিয়ে ঝাড়তে আরম্ভ করে। এখনও কত কাজ বাকি। এই তো সবে শুরু। এখনই ভেঙে পড়লে চলবে কেন।

    .

    রাত্রি তখন বারোটা হবে। চালিস সিনেমা দেখে ফিরছে। দেখল মালখানার পেছনের দরজা থেকে এক বস্তা ময়দা মাথায় করে কে বেরুচ্ছে। কী করে সম্ভব। মালখানার চাবি তো মেঘনাদের কাছে থাকে।

    তারপর দেখল, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ল্যাংচা হরি।

    দরজাটা অদ্ভুত কায়দায় বন্ধ করে, ফিরতেই দুরে দেখতে পেল চালিসকে।

    কাছে আসতেই চালিস বলল, দরজা কী করে খুললে ম্যানেজারবাবু।

    হরিহর বলল, কীসের দরজা খোলা। বাড়ি যাওয়ার আগে সব দেখেটেখে যাচ্ছি।

    : আর ময়দাটা যে গেল বদনের মাথায়। চুরি করে নিয়ে ব্ল্যাক করো তুমি?

    খপ করে চালিসকে ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চলল তন্দুরের ঘরে। বলল, চল শালা, তোকে তন্দুরের মধ্যে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে মারব আজ।

    কিন্তু তার আগেই চালিসের গলা টিপে ধরল সে। চালিসের গলায় স্বর নেই। বেড়ালের মুখে ইঁদুরের মত ছটফট করতে লাগল সে। হরিহর বলল, কর্তাকে বলবি?

    কোনও শব্দ নেই। হরিহর ছেড়ে দিল। দিতেই চালিস তীব্র চিৎকার করে ছুটে বেরিয়ে গেল। গেল একেবারে মেঘনাদের কাছে। মেঘনাদ সব শুনে তখুনি এল। এসে দেখল, সব যেমন বন্ধ ছিল, তেমনিই আছে। চালিসকে বলল, দরজার কাছে বোস।

    বলে সে নিজে বাতি জ্বালিয়ে বসল খাতাপত্র নিয়ে। গুনে গুনে দেখল ময়দা আর চিনির বস্তা। খাতার হিসাব খুলে বলল, আশ্চর্য ! হিসাব রাখে তার শ্বশুরমশাই নকুড়, সেখানে তো কোনও গণ্ডগোলই নেই।

    ইতিমধ্যেই নুরুল ইদ্রিস এরাও এসে বসেছে কাছাকাছি।

    পাইকেরদের খাতা খুলে চক্ষুস্থির মেঘনাদের। একশোর উপর পাইকেরের নাম উঠেছে খাতায়। আর প্রত্যেকের নামেই বাকি মোটা মোটা টাকা। তিন মাসের মধ্যে কুল্যে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পড়ে আছে তাদের কাছে।

    লালমিঞার কথা মনে পড়ছে। নিজের হাতে হিসেব কষবি, দেখবি লাভ লোকসান। আশ্চর্য ! যে নকুড়ের ভরসায় হিসেব দেখেনি সে, সেই নকুড় তাকে একটি কথাও বলেনি। বেমালুম হরিহরের কথায় কাজ করে গেছে।

    আর মাসখানেক এইভাবে চালালে, সমস্ত আশা ভরসা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। মেঘনাদ ইদ্রিসকে বলল, ইদ্রিস, তোমরা শুতে যাও। আমি রাতে থাকব এখানে।

    ইদ্রিস বলল, বাবু, বড় তখলিফ হচ্ছে আপনাকে দেখে। আমাদের কিন্তু কোনও গোস্তাকি নেই।

    মেঘনাদ হাসল। এমন নিদারুণ হাসি, আর কেউ কোনওদিন দেখেনি। বলল, সে কি আমি জানি না ইদ্রিস। জানি না শুধু, আমার সামনে কী আছে। জানি না শুধু, যা চেয়েছিলাম, তা করতে পারব কি না।

    সবাই গেল। চালিস বসে রইল। মেঘনাদ বলল, তুই গেলিনে?

    চালিস চুপ। মেঘনাদ বলল, ঘুম পায়নি নাকি রে?

    চালিস কাঁচা মুখ বুড়োটে করে বলল, কিত্তা, ওই ল্যাংচা ম্যানেজারকে যদি আপনি না তাড়ান, তা হলে সব্বেনাশ হবে।

    মেঘনাদ হিসাবে ডুবে গেল হাসতে হাসতে।

    সকালবেলা বিনয় এল। হরিহর গিয়ে তাকে সব বলেছে।

    মেঘনাদ বলল, আপনার ম্যানেজারবাবুকে আর চাইনে।

    বিনয়ের চোখে অন্যমনস্কতা। বলল, হরিহর বলছিল, ও চুরি করেনি। যদি চুরি কেউ ধরে দিতে পারে, সে কান কেটে দেবে।

    মেঘনাদ বলল, কান কাটার দরকার নেই। আমি তাকে রাখব না আর বিনয়বাবু।

    বিনয়ের চোখ বিষণ্ণ হয়ে উঠল। কিন্তু ঠোঁটের পাশে কঠিন রেখা দেখা দিল। অদ্ভুত দৃঢ় গলা শোনাচ্ছে মেঘনাদের। এমন গলা আর কোনওদিন শোনেনি মেঘনাদের।

    বিনয়ের সমস্ত চেহারার মধ্যে একটি নিশিজাগা উশৃঙ্খল ছায়া পড়েছে। তাকে দেখাচ্ছে একটু বেশি বয়স্ক। সে খালি বলল, বেশ, তাই হোক।

    তারপর প্রতিটি পাইকেরের মুখোমুখি হল মেঘনাদ নিজে। কিন্তু অর্ধেকের উপর পাইকেরের কোনও পাত্তাই নেই।

    .

    সকাল গেল। দুপুরও যায় যায়। রাজীব আর তিলিদের বাড়ি থেকে যায় না।

    তিলি বলল, বাড়ি যাবেন কখন?

    রাজীব বলল, এবার যাব ঠুমি। বিনয়বাবু আবার আমাকে কমিটিতে নিতে চাইছেন। ভাবছি, যাব, গিয়ে আমি ওর শোধ নেব।

    তিলি বলল, তাই নিনগে।

    : একটা কথা ছিল ঠুমি—

    বিরক্তি ফুটে উঠল তিলির মুখে। বলল, বলুন।

    : কাউকে বলবে না?

    : না।

    রাজীব একটু কাঁচুমাচু করে বলল, তুমি বলেই বলছি। হয়তো বিনয়দার সঙ্গে আমার আবার মিল হয়ে যাবে! তা ছাড়া আমার আর রাস্তা নেই। বাহান্ন সালে না দাঁড়াতে পারি, সাতান্ন সালেও আশা আছে। কিন্তু তোমাকে না বলে গেলে…জানো…আমার হাত দিয়ে মেঘনাদবাবুর একটি সর্বনাশ হয়েছে।

    ভয়ে ও রাগে ক্ষ্যাপা সিংহিনীর মতো ফিরে দাঁড়াল তিলি, কার সর্বনাশ? বোনাইয়ের? কী সর্বনাশ বলুন।

    তিলির মূর্তি দেখে রাজীব ঘাবড়ে গেল। এমন মূর্তি কোনওদিন দেখেনি সে। ভাবেওনি, এমন মূর্তিও আছে ঠুমির মধ্যে।

    সে এক পা পিছিয়ে বলল, সে কথা আমি বলতে পারব না তুমি।

    তিলি প্রায় ঝাঁপ দিতে এল রাজীবের উপর, তবে বললেন কেন?

    রাজীব আরও পেছুল। বলল, মেঘনাদবাবুকে তুমি একটু সাবধানে কাজ করতে বলল। আমি আর কিছু বলতে পারব না।

    বলে সে বেরিয়ে গেল। তিলি পাগলের মতো ছটফট করতে লাগল। সর্বনাশ ! আর কত সর্বনাশ থাকতে পারে। বউ যার পায়ের তলার মাটি খাচ্ছে দিবানিশি সর্বনাশী নদীর মতো, তার আরও কত সর্বনাশ আছে। আরও কতদিন এ পাপপুরীতে থাকতে হবে। বোনাই কবে তাকে বিদায় করবে। এতদিন বাদে অমর্ত মুদি টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। সেই টাকা, বিজয় মেঘনাদ বাবা মা, কারও কাছে চাইতে পারছে না তিলি । অমর্ত সেই চিরকালের ইশারাই করছে। একদিন, একটি রাত্রি…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচেতনার অন্ধকারে – সমরেশ বসু
    Next Article শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }