Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সওদাগর – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প398 Mins Read0
    ⤶

    ৩.৩ বসন্তের আবির্ভাব ঘটছে

    রাত্রি অনেক। বসন্তের আবির্ভাব ঘটছে। এ বাড়ির টিনের চালায় বাতাস কেটে কেটে যাচ্ছে। পত্রহীন রিক্ত পিপুল। যেন বনস্পতি পিতৃদশার বেশ ধরেছে।

    তিলি দেখছে, লীলা পায়চারি করছে বারান্দায়। রাত্রে, মেঘনাদ আজকাল আর বাড়ি থাকে না। লীলা মধ্যরাত্রে উঠে রোজ বাইরে আসে আর পায়চারি করে। সন্ধ্যা হলে বিনয়ের বাড়ি যায় প্রায়ই।

    বারান্দা থেকে নেমে উঠোনের দিকে গেল লীলা। সবাই ঘুমোচ্ছে। তিলি উঠল। দরজা খুলল নিঃশব্দে। দেখল উঠোনের পেছনে, শজনেতলা দিয়ে যাচ্ছে লীলা। তিলি গেল পেছন পেছন।

    সামনে মাঠ, কয়েকটি গাছ, আশেপাশে আসশেওড়ার ঝোঁপ। লীলা ধীরে ধীরে যাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে লীলা। বিনচৌ-এর বাড়ি তো ওদিকে নয়। তিলির ভয় করছে। লীলার জন্য ভয়, আশেপাশের মানুষের চোখকে ভয় ।

    লীলা গিয়ে দাঁড়াল জংলা পুকুরের ধারে। নড়ে-চড়ে না, নিশ্চল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে জলের দিকে।

    তিলি এসে দাঁড়াল কাছে, কথা বন্ধ দুই বোনের। তবু তিলি বলল, এখানে এসেছিস যে রাত্রে। মরতে নাকি?

    অন্ধকারেও জ্বলছে লীলার চোখ । অবাক হয়ে খালি দেখল তিলিকে। বলল, না, বেড়াচ্ছি।

    তিলি বাঁকা হেসে বলল, বিনচৌ-এর পিরিতের এত জ্বালা?

    পিরিতের জ্বালা ! অদ্ভুত হাসল লীলা।

    তিলি হঠাৎ বলল, গয়নার বাক্স কী করেছিস, কোথায় রেখেছিস?

    : দিয়ে দিয়েছি বিনচৌকে।

    তিলি জানত, গহনার বাক্স লুকিয়ে রেখেছে লীলা । কিন্তু বিনচৌকে ! কেঁপে উঠল তার বুকের মধ্যে। সে ভুলে গেল রাত্রি, বাইরের এই জংলা পুকুরের ধার। বলল, সব?

    :হ্যাঁ।

    : তবে তুই মর এই পুকুরে ডুবে, আমি দেখি। মর মর, তোর পায়ে পড়ি মর। যেন আর একটা লোকের মরণ তুই চোখে দেখতে না পাস। তাতে তোর মরেও লজ্জা।

    আর একটা লোক হল মেঘনাদ। বলল লীলা, মরেই তো আছি।

    তিলি হঠাৎ বলল, কাউকে ভালবাসলে কি মানুষ এমনি হয়? এমন রাক্ষুসী। বিনচৌকেও কি ভালবাসিসনে।

    ভালবাসা ! এই সংসারে ভালবাসা ! দেহ ছারখার করে দাও, মন পুড়িয়ে দাও, সোনা-দানা ঐশ্বর্য, যা আছে সব বিলিয়ে ছড়িয়ে ধ্বংস করে দাও। তবু নিজের বুকে সব শুন্য। চারদিকে বিলোল কটাক্ষ, বিষণ্ণ ব্যাকুলতা, চারদিকে ফিসফিস, ভালবাসা, ভালবাসা ! সবটাই দারুণ ধ্বংসের মন্ত্র।

    সব পুড়ক, নিজে পুড়ক, এ বিশ্ব পুড়ক। জীবন কখনও ভরে না। মন কখনও ভরে না। বিনচৌ ! একদিকে তার লোভ, আর একদিকে তার ভয়। আগুন নেই মনের কোথাও। সমস্তটাই ছাইয়ের উত্তাপ। শ্মশানের বিষণ্ণতা তার চোখে।

    তিলি বলল ফিসফিস করে, তুই মরছিস মর। কিন্তু আর যাকে মারছিস এ সংসারে তার দাম অনেক বেশি।

    লীলা বলল, বোনাইকে বিয়ে কর তুই।

    তিলি বাধা দিল না তার কান্না। ভাঙা ভাঙা গলায় বলল, ওলো রাক্ষুসী, সে কপাল আমি করিনি। সে সৌভাগ্য আমার জন্মে নেই। তার অতবড় বুকটার সবটুকু যে সে তোকে দিয়ে বসে আছে। নইলে তাই করতুম, তাই চাইতুম। তিলি বাড়ি ফিরে এল। লীলা জলের কাছে এগিয়ে গেল আরও।

    লীলার চোখে আবার বিনচৌ। চোখে যার অভুক্ত প্রেতের বিষণ্ণতা। যার ছায়া পড়ে না। কোথাও। মাটিতে, মনে, কোথাও নয়। একটি নিঃস্ব জঞ্জাল। কাকে বোঝাবে একথা লীলা। তার মতো মেয়ে কি আর আছে এই দেশে, এই সমাজে, যে হৃদয়ের কারবারে গোপন করেনি নিজেকে লোকচক্ষুর কাছে। স্বামী, বাপ, মা, ভাই, বোন, কারও কাছে ফেরেনি লুকিয়ে। লজ্জা, ঘৃণা, ভয়, সবই পায়ের তলায় রেখে যে, এই যুগের পরকীয়া ব্যভিচারে নেমেছে। নেমেছে, কিন্তু সোনাদুলির লতাই খালের ধারে যে আগুন জ্বলছিল, তা নিবল না। কী ভীষণ একা সে। এ সংসারে কি তার মতো দুটি নেই! থাকলে তারা কী করছে, কেমন করে বেঁচে থাকছে, জানতে বড় সাধ হয়।

    লীলা গোপন করেনি তার ক্ষুধা, বাসনা, অভাব। কিন্তু পৃথিবীতে, এইটুকু শক্তি, এইটুকু মহত্ত্বও কি কারও নেই, যে কিছু নিয়ে কিছু দিতে পারে। যা চায় লীলা তার সামান্যতম বস্তু।

    ঘৃণায় কাঁটা দিয়ে উঠল লীলার শরীরে। কী অদ্ভুত ভীরু, দুর্বল, নীচ অথচ সাজানো গোছানো অমায়িক ওই বিনচৌয়েরা। ওকে সোনাগুলি দিয়ে তার জ্বালা যেন একটু কমেছিল। একটি সোনার হার দিয়ে বিনচৌ-এর গলায় ফাঁস লটকালেও লোকটা আরামে হয়তো মরে যেত। আপনা থেকে বমি করে উগরে দিত হয়তো প্রাণটা !

    তার কাছে কী চেয়েছিল লীলা ! কী ! লীলা নিজে কেন ছায়াহীন, রক্তহীন প্রেতিনী হতে পারল না। তবে বিনচৌয়ের মরা ডালে বাস, নরকের সংসার পাততে পারত সে

    এত যে আগুন, এত যে জ্বালা, তবু মানুষের মন, মেয়ে মানুষের মন কেন বাসা বেঁধে রয়েছে সেখানে। যেখানে জীবন, সংসার, শান্তি অনেক দুঃখেও চোখের জলে যেখানে হাসির মেলা।

    দূরে ভেসে উঠল একটি মূর্তি। যার কাপুরুষতা নেই, ভাঁড়ামি নেই, পুতুপুতু করে কোনও কিছু। ধরে রাখবার দুর্বলতা নেই। যে চাইলে দিতে জানে, জানে না দিতে শুধু লীলাকে। যে তাকায়নি লীলার দিকে, ফেলে দিয়ে গেছে আঁস্তাকুড়ে। যার কাজ যার বুকের আগুন, আর সব আগুনই ছাই করে দিয়ে গেছে।…সেই মেঘনাদ ! মেঘনাদ !…মুখটা মনে পড়ছে না লীলার। সামনে দিয়ে শেয়াল যাতায়াত করছে। মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে নিশাচর পাখি।..কিন্তু মুখটা মনে পড়ছে না তো। মুখটা, সেই মুখটা কেমন দেখতে। একটি কচি মুখ, শিশু, লীলার সেই মৃত সন্তানের মতো। না না না, তবে ! সেই মুখটা কেমন ! গোঁফদাড়ি হীন, থলথলে মাংস, জুলজুলে চোখ, নরকরক্ষীর মতো? না না না…।

    চিৎকার করে উঠতে গিয়ে মুখে আঁচল চাপা দিল সে।

    আজ তাকে তিলি চায়! চব্বিশের অনুঢ়া বুকে এই বুঝি প্রথম দাগ, যাকে বলেছিল সে, তোর কী আছে, তুই কী বুঝবি?

    সত্যি তিলি কী বুঝবে, কী বুঝবে তার !

    .

    বিনয় ডেকেছে একবার মেঘনাদকে।

    বিনয় বসেছিল বাইরের ঘরে। পিওন এসে একটি রেজিষ্ট্রি চিঠি দিয়ে গেল, সই করিয়ে। খুলল বিনয়। উঁকিলের চিঠি। অবাক হল সে। কলকাতার উঁকিল লিখছে, আমার দিল্লিবাসিনী মক্কেল শ্ৰীমতী সুলতা দেবী, তাঁর সন্তানসহ কেন আলাদা বাস করিতে পারিবেন না,…তারিখের মধ্যে তার কারণ জানাইবেন।

    আলাদা ! সেপারেশন ! আর আসবে না কোনওদিন সুলতা! আশ্চর্য ! ভয় ও ব্যথায় মুখটা বিকৃত হয়ে উঠল বিনয়ের

    কিন্তু সামনে তাকিয়ে দেখল, যেন অবিকৃত মুখ সুলতার। তেমনি নির্বিকার শান্ত। যেন বলছে, দশ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি, তুমি ফিরতে পারলে না। তোমার দেওয়া সমস্ত অপমানে পুড়ে পুড়ে ছাই হয়েছি, তবু প্রহর গুনেছি। দিন চলে গেছে, আর পারিনে। কিন্তু কই, সুলতা তত ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসছে না, বিদ্রূপ করছে না। খিলখিল করে হেসে ঠাট্টা করছে না তাকে নিয়ে বন্ধুমহলে! তবু কী কঠিন মুখ তার, কী ভয়ংকর নির্লিপ্ত চাহনি। এত কঠিন যে, ছেড়ে যাওয়ার এই শেষ মুহূর্তেও উঁকিলের চিঠির মতোই, নিবের ডগায় খসখস শব্দের মতো বলছে, যেখানে তোমার ছায়া, সেখানে আর যাব না।

    অনেক দিন আগের সেই সব দিনগুলির কথা মনে পড়ছে। আর বুকের মধ্যে কনকন করে উঠছে। হয়তো, বিবাগী, বৈরাগিনী, এই ব্যর্থ সুলতার কাছে আজ আবার কেউ আসবে, কোনও নবীন মানুষ। যে তার দুই ছেলের মায়ের বুকে আবার রং ফোঁটাবে।

    জ্বর বিকারগ্রস্ত মনে হতে লাগল নিজের। মনে হচ্ছে, লীলা হাসছে তার সামনে দাঁড়িয়ে। হাসছে নিঃশব্দে, শাণিত চোখে। যে চোখ বিনচৌ-এর ভালবাসার ছায়াহীন প্রেত প্রাণটাকে আজ উলটেপালটে দেখতে পারে। যে তার প্রাণের আগুন নেড়েচেড়ে দেখেছে শুধু ছাই সর্বস্বতা।

    হঠাৎ একটি মস্তবড় ছায়া দেখে চমকে উঠল বিনয়। দেখল মেঘনাদ এসেছে। এক মুহূর্ত তার মুখ দিয়ে কথা বেরুল না। পর মুহূর্তেই অতিরিক্ত উৎসাহে, দৃঢ় গলায় বলল, বসুন। মেঘনাদ বসল। বিনয় আরও কয়েক মিনিট যেন কিছু ভাবল। তারপর দ্রুত গলায় বলে উঠল, পারমিটটা। আমার কাছে রয়েছে।

    হ্যাঁ।

    : আপনি জানেন বোধ হয়, বেঙ্গল গভর্নমেন্ট বিস্কুট ম্যানুফ্যাকচারিং বন্ধ করে দিয়েছে। অবশ্য, আমাদের পারমিটে তা বন্ধ হয়নি।

    মেঘনাদ বিনয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। সে বুঝতে পারছে না, বিনয় কী বলবে।

    বিনয় বলল তার বিষণ্ণ চোখ তুলে, একটা অন্যায় হয়ে গেছে। সে জন্য আপনাকে আমি তিন হাজার টাকা দেব।

    তিন হাজার টাকা। ভেতরটা গুড়গুড় করছে মেঘনাদের। কীসের অন্যায় আবার।

    বিনয় বলল, পারমিটটা রাজীব আমার নামে করিয়ে এনেছিল। কথাটি বলার আগে ভিতরে ভিতরে বিনয় প্রস্তুত হয়েছিল একটা ভয়ংকর কিছুর জন্য। কিন্তু আশ্চর্য। কিছুই হল না।

    মেঘনাদ তেমনি নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রইল বিনয়ের দিকে। ভেতরে তার আগুন লেগেছে। চকিত বজ্রপাতে, কিছু অনুভব করার আগেই যেন সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আর সেই আগুনের আভায় মুখটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডের মতো লাল হয়ে উঠেছে।

    বিনয় মেঘনাদের দানবীয় শরীরটার দিকে তাকিয়ে শক্ত হয়ে উঠল। যেন পালাতে পারে সুযোগমতো। বলল আবার, ঘুষের টাকাটা আপনাকে আমি দিয়ে দেব। অবশ্য তিনবারে দেব টাকাটা। কিন্তু ব্যবসায় আমাকে অর্ধেক অংশীদার করে নিতে হবে। নইলে পারমিটটা দিয়ে আমি নিজেই…।

    মেঘনাদ তাকিয়ে দেখল, সামনে বিনয়ের সেই চোখ। মনে হল, এ তো বিষণ্ণ নয়, শ্মশানের কুকুরের চোখ । শ্মশানের ছাইগাদায় পড়ে থাকা, শবভুক ঢুলুঢুলু চোখওয়ালা কুকুর। চোখে তার শবের স্বপ্ন, পোড়া মাংসের নেশায় জুলজুলে।

    তার সমস্ত বোধশক্তি কয়েক মুহূর্তের জন্য লোপ পেয়ে গেল। তবু তার সারা শরীরের পেশিতে পেশিতে একটা অদ্ভুত বোবা উত্তেজনা পাক খেয়ে উঠল। তার মাথার মধ্যে একটা বিষধর পোকা বোঁ বোঁ করে পাখা ঝাপটাতে লাগল, তুই বোকা, মূর্খ, এ সংসারে অনুপযুক্ত।

    সে উঠে দাঁড়াল। ভয়ে বিনয় আরও শক্ত হল। তার কোনও কথা জিজ্ঞেস করতেও সাহস হল । মনে হল মেঘনাদ যেন ফুলছে। ফুলতে ফুলতে ছড়িয়ে পড়ছে ঘরময়।

    মেঘনাদ উঠে দাঁড়াল। কিন্তু হঠাৎ যেতে পারল না। মনে হচ্ছে, তার যেন কিছু করার রয়েছে এ ঘরে, নিদারুণ কিছু বলার আছে বিনয়কে।

    কয়েক মুহূর্ত শুধু বাইরের পথচারীদের টুকরো কথা শোনা গেল।

    তারপর হঠাৎ আর একবার সেই সন্ত্রস্ত জুলজুলে চোখ দুটো দেখে মেঘনাদ বেরিয়ে এল রাস্তায়।

    .

    এই রাস্তা, উত্তরে দক্ষিণে লম্বা। শ্রীহীন বস্তি, ছন্নছাড়া কতকগুলি দোকান, ধুলায় ধূসর এই রাস্তা কতদিন সে দেখেছে। আজ যেন অচেনা অচেনা লাগছে। ভূতগ্রস্ত মানুষের মতো অনেকখানি হেঁটে চলে গেল দক্ষিণে।

    কারখানার পর কারখানা। কী বিরাট আর বিশাল! ভলকে ভলকে ধোঁয়া বেরুচ্ছে চিমনি দিয়ে। মেঘনাদের মনের মধ্যে কে যেন চিৎকার করছে, এই কারখানাগুলি তবে হল কী করে। সে কেন পারল না, কী দোষ ঘটেছিল তার।

    : কে? মেঘু নাকি?

    মেঘনাদ তাকাল। বোধহীন দৃষ্টি। তাকিয়ে মনে হল, যেন গত জন্মের চেনা মানুষ তার সামনে। দেখল, নসীরাম গণকার। বেঁচে আছে আজও! তিন মাথা এক হয়েছে। পাকাচুল যেন আবার কালচে হচ্ছে। বসেছে রাস্তার ধারে। পিজবোর্ডে লিখে রেখেছে, বাস্তুহারা গণৎকার, বিশিষ্ট হস্তরেখাবিদ। একবার পরীক্ষা প্রার্থনীয়।

    নসীরাম বলল, আহা হা, অনেকদিন বাদে দেখলাম বাবা তোমাকে। আরে আরে? তোমার কপালে যে মা লক্ষ্মীর সোনার আসন আঁকা দেখেছি। ধনপতি সওদাগরের ভাগ্যরেখা দেখছি। তোমার কপালে। বসো বাবা, একটু হাতটা

    বলতে বলতে থেমে গেল নসীরাম। চোখ পড়ে গেল মেঘনাদের চোখে। মনে হল, তার শতোত্তর গণকার বুকে এমন তীব্র খোঁচা আর কখনও খায়নি সে। তার বলিরেখা চামড়া কুঁকড়ে উঠল সর্বাঙ্গের। ভয় হল, মারবে নাকি মদন সা’র বেটা মেঘু।

    আবার তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ পালটে সিরাজদিঘার কথা বলতে আরম্ভ করল। মা, গদি, ব্যবসা, হিন্দু, মুসলমান।

    মেঘনাদ ফিরে এল। কোনও কথা, কারও কথাও জিজ্ঞেস করল না।

    কেবল মাথার মধ্যে কতগুলি কথা কোলাহল করতে লাগল।

    ধনপতি সওদাগর। বদর বদর ডিঙা যায়, শতকে বৈঠা ছপছপ পড়ে। সাতসাগরের জলে কেন মাটি ঠেকে যায় বৈঠায়। দ্যাখ দ্যাখ কী হল। জল নেই, সাতসাগর শুকিয়ে বালি। এ কার। কোপ। মনসা জল শুষেছিল চান্দের, ধনপতির লক্ষ্মী। দেবীর কোপ পড়েছে।

    আর মেঘনাদের উপর কোপ পড়েছে কার । লীলার মুখ ভেসে উঠল চোখের সামনে। না, না, সে তার কিছুই করেনি। সে যা করেছে, তার নিজের জন্য করেছে। মেঘনাদের সমস্ত কাজের কাছে সে তুচ্ছ। মেঘনাদ তো কারও প্ররোচনায় কাজ করেনি। কাজ করেছে নিজের বিশ্বাসে, উৎসাহে।

    তবে? তার কেন এমন হল। মনে পড়ল বাবার কথা, গদিতে বসা লক্ষ্মণ সায়ের কথা।…তারই পাশে পাশে মেঘনাদের আশা। বোধ হয় ভুল হয়েছে। হয়তো তার জীবন ছিল ঘুনসিতে চাবি বাঁধা, হরিনাম সার করা, সিন্দুকরক্ষী সাহা মহাজনের পচা জীবন। যে জল খাবে বাতাসার ছায়া দেখে। যার পিঠের ঘামাচি মেরে দেবে হিসাবরক্ষক তার কলমের নিব দিয়ে। যে বাজারে থাকবে মেয়েমানুষ নিয়ে, বাড়ির মেয়েরা ডাকবে রজক, নরসুন্দর, চাকরবাকরকে। পয়সা যার হরি, রাধাকৃষ্ণ, খোলকরতালের মিঠা বুলি।

    কিংবা হয়তো লেখাপড়া শেখেনি বলে হেরে গেল এ সংসারে। এ যুগের সীমান্তে ঢুকতে, যে রাস্তা পার হতে হয় পলে পলে, অনেক কষ্টে, সেই পথ পার হতে পারেনি সে।

    কিন্তু তা-ই কি সব। বিনয় না হয়ে, তার জায়গায় যদি একজন অবিদ্বান এই চক্র সাজিয়ে বসত, তা হলে কি সর্বনাশের চেহারা কিছু সুন্দর হত। মূখের শয়তানি, সেও যে ভয়ংকর। শয়তান শয়তান, তার বিদ্যা অবিদ্যা নেই।

    কিন্তু কারখানার আশা ! মেশিনের কারখানা, আধুনিক যন্ত্র, তার গর্জন, নতুন কাজ, অনেক মানুষ, আজকের মানুষ, এ-ই তো প্রাণভরে চেয়েছিল সে।

    কারখানায় এসে উঠল মেঘনাদ। কাঠ নেই, ফুরিয়ে গেছে। তন্দুরের চিতা জ্বলবে না। ছিটের কাজ বন্ধ। ময়দা নেই। ময়দা নেই কোথাও। কয়েক হাজার টাকা বাকি পাইকেরদের কাছে। সে পাইকেররা ভূত কি মানুষ, কেউ জানে না। তারা সব অদৃশ্যজীব। নতুন করে পারমিট পাওয়া, সে অনেক দূরের জল। তা ছাড়া, বিনয় নিজে এবার কারখানা করবে। সে তার সব কিছুতে বাধা দেবে। প্রাণপণে।

    মেঘনাদ ডাকল ইদ্রিসকে। বলল, ইদ্রিস, বোধ হয়, তোমাদের সর্বনাশ করলাম। আমার কারখানা আজ থেকে বন্ধ। আমি আর ব্যবসা চালাতে পারব না।

    সকলে তাকে ঘিরে এল। একে একে শুনল সব কথা। সকলের নতুন পাতা সংসার এই লীলা বেকারিতে। সব চলে যেতে লাগল।

    কেবল চালিস পিতৃমাতৃহীন ছেলেটার মতো দাঁড়িয়ে রইল। মেঘনাদ বলল, চলে যা, নইলে না খেয়ে মরবি।

    চালিস বলল, কত্তা, আমি থাকি। এরপর পাঁচ সের ময়দার কাজও তো করতে হবে। মেঘনাদ কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপরে বাড়ির দিকে চলল।

    খেতে দিয়ে তিলি অবাক হয়ে গেল। যত দিচ্ছে, ততই খেয়ে যাচ্ছে বোনাই। একবারও না করছে না। এত ভাত তো কোনওদিন খায় না।

    বলল, বোনাই, কী হয়েছে?

    : কেন?

    : তোমাকে অন্যরকম লাগছে। তোমার তো কোনও দুঃখই বাকি নেই। তবে? তোমার কী হল আবার?

    মেঘনাদ বলল সব কথা তিলিকে। তিলি পাথরের মতো জমে গেল। মনে পড়ল রাজীবের কথাগুলি।

    তারপর একে একে সবাই শুনল।

    সন্ধ্যাবেলায় বিজয় এসে বলল, কী হবে বোনাই?

    মেঘনাদ বলল, পারলাম না বিজয়।

    একটু থেমে বলল, বিজয় তোমাকে বলেছিলাম, যন্ত্রের কারখানা করব। পারলাম না। আমি চুরি করতে পারলাম না, জোচ্চোরি করতে পারলাম না, শয়তানি করতে পারলাম না। এ দেশে, এ সময়ে, আমি যন্ত্রের কারখানা কেমন করে করব। কিন্তু কোনও কাজ শিখিনি আর জীবনে। সওদাগরিও হল না আমার। আমাকে এবার একটা ছোট হাত তন্দুর করতে হবে।

    বিজয় বলল, বোনাই, একটা কথা বলব?

    : বলো।

    : জানি তোমার অনেক দুঃখ। এত বড় মার আমি খেলে পাগল হয়ে যেতাম। কিন্তু এই কারখানা, যন্ত্র, এ সব ছাড়া কি আর তুমি কিছু চাও না জীবনে?

    : বিজয়, তুমি কিছু কি চাও না এই মিস্তিরিগিরি ছাড়া

    : চাই বোনাই, সেই তো আমার জীবনের যন্ত্রণা। মানুষ বলে এই কি আমার পরিচয় যে, শালা বিজা মিস্তিরি। না, হেসো না বোনাই। আমি বড় হতে চাই। মিস্তিরির কাজে আমার ঘৃণা নেই। কিন্তু আমি শুধু মিস্তিরি । এ অপমান আমার সয় না। তবু সইতে হয়। আমার জ্ঞান নেই, লেখাপড়া নেই। বেশ্যাবাড়ি বলে ভুল করে আমার বাড়িতে লোকে ঢুকে পড়ে, শালা এমন আমার থাকবার আস্তানা। বোনাই, ধর্মে কর্মে, রাস্তায় ঘাটে, আর এই পেট, সব নিয়ে আমার শুধু অপমান। আমি যে অনেক কিছু চাই।

    মেঘনাদ বলল, আমিও তাই চেয়েছিলাম বিজয়। পুরনো ছেড়ে নতুন, নতুন জ্ঞান, শিক্ষা, কাজ, জীবন সবই আরও সুন্দর, আজকের যুগে যার সম্মান আছে, আমি তাই চেয়েছিলাম আমার সর্বস্ব দিয়ে।

    বিজয়ের খালি মনে হল, নতুন কাজ, সম্মান, সে সব কিছুই নয়, শুধু মুনাফা আর মুনাফা।

    কিন্তু বোনাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুকটা তার টনটন করে উঠল শুধু। লোভী আর মুনাফাখোর মানুষকে তো বোনাইয়ের মতো দেখায় না।

    : বড় মহাজন। তা আমি হয়েছিলাম। সিরাজদিঘায় আমি বড় গদির মালিকই হয়েছিলাম। বাড়িঘর, নৌকা কারখানা, বউয়ের গায়ে সোনা, সবই করেছিলাম। কিন্তু আমার মন ভরেনি। অমন গদির মহাজন হওয়ায় বড় ঘেন্না ধরে গেছল। মানুষ হয়ে জন্মেও যদি সংসারের সঙ্গে তাল না রাখতে পারলাম, তবে কী করলাম। হরিনাম দিয়ে টাকা রেখে লাভ কী। যে কারবারে সাহাদের অত নাম, অত মান, অত গর্ব, আমার কি তা কিছুই থাকতে নেই। তবে যদি বলল জীবনটাকে আমি টাকা সার করেছিলাম। তা হলে সার ব্যাটা হয়ে আমি গোত্র বদল করতে সাহস করেছিলাম কেন। বিজয়, সংসারে পিশাচেরও টাকা থাকে। কিন্তু আমার বুকের পাটা, আমি নতুন কাজ, নতুন জিনিস করতে চেয়েছিলাম। আর কী যন্ত্রণা। দেখো, এমন মার খেয়েও আমার বুকের পাটা একটু টসকাল না।

    তারপর বলল, কিন্তু ভুলই হয়তো করেছিলাম। কেন না, নইলে মনে হচ্ছে কেন, একাজে আজ এ দেশে চোর-জোচ্চোর, শহুরে শয়তান না হলে হবে না। নইলে বলি, এ সংসারে কল কারখানারও বুঝি নতুন কোনও জন্মান্তর হবে। তা না হলে পাপে যে সংসার ভরে যাবে বিজয়। পাপকে এত ঘৃণা আর কখনও করতে পারিনি। দিন গুনব বিজয়, পাপ কবে শেষ হবে। তবে…

    হেসে বলল, এবার পেট চালাবার পালা। আমাকে আগুন দিতে হবে আবার তন্দুরেই।

    বিজয় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল বানাইয়ের দিকে। কথাগুলি বুঝল না, কিন্তু মনটা ধরে ঝাঁকানি দিয়ে দিল বোনাই।

    .

    দু দিন পর সে লীলার কাছে বলল, তোমার কাছে কোনওদিন কিছু চাইনি। তোমার সোনা আমাকে দেও, আমি ফিরিয়ে দেব আবার।

    লীলা বলল, সে সব নেই !

    : কী করেছ?

    : বিনচৌকে দিয়ে দিয়েছি।

    : বিনচৌকে ! হঠাৎ লীলাকে তুলে দলা পাকিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল বারান্দায়।

    চমকে উঠল মেঘনাদ। আঁ, কী করছে সে। মাথা নিচু করে ঘরে ঢুকে গেল।

    .

    ছোট হাত তন্দুর তৈরি করেছে মেঘনাদ নিজেই চালিসকে নিয়ে।

    দিন কয়েক পরে মেঘনাদ পাঁচ সের ময়দার ব্যাগ কাঁধে করে ঢুকল কারখানায়। তার গায়ে একটি পুরনো ঝোলা পাঞ্জাবি। হঠাৎ দেখলে মনে হয় রেলওয়ে কুলি। এই পাঁচ সের ময়দাও চোরাবাজার থেকে কিনতে হয়েছে তাকে। থামলে একটি দিনও চলবে না। যত কমই হোক, মাল তৈরি করে ফেরি করে বেচতে হবে রাস্তায় রাস্তায়।

    লীলা এসেছে কারখানায়। মেঘনাদ ময়দাটা রাখতেই, ব্যাগটা তুলে নিয়ে গেল সে। ভ্রু কুঁচকে উঠল মেঘনাদের। দেখল বড় কাঠের পাত্রে ময়দা ভেজাচ্ছে লীলা

    চালিস আর তিলি বাইরের থেকে ভয়ে ভয়ে উঁকি মেরে দেখছিল। মেঘনাদকে দেখে তাদের বুকের মধ্যে কাঁপছে। কিন্তু ভয় নেই লীলার।

    একটি অতিমানবের মতো ধীরে পা ফেলে ফেলে মেঘনাদ লীলার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। দু হাত দিয়ে ছোঁ মেরে তুলল লীলার শাড়ি ধরে। রুদ্ধ মোটা গলায় বলল, কেন?

    খোলা চুলে লীলার মুখের আধখানা ঢাকা পড়েছে। সেই দিনের আঘাতের দাগ এখনও মুখে। মেঘনাদের মুখের দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে রইল। ঢোক গিলছে, কষ্ট হচ্ছে মেঘনাদের থাবায় পাখির মতো ঝুলে থাকতে। চিকচিক করছে চোখের কোণ দুটি। তবু ঠোঁট দুটি আশ্চর্য রকম টেপা। ভেজা ভেজা চোখের মণিতে এক নতুন ঔজ্জ্বল্য, ভাবে এক বিচিত্র দৃঢ়তা। এই নতুন। পরিবেশেও চেনা যায়, এই সেই লীলা। যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য সব করে, ফিরে আসার দিনেও, সে ফিরে আসে তার নিজের মতোই। তার ঠোঁটের পাশে, মেঘনাদের সে দিনের আঘাতের দাগ আজ যেন ভালবাসার জয়ের চিহ্ন হয়ে উঠেছে। থেমে থেমে স্পষ্ট চাপা গলায় বলল, কাজ না করে আর কতদিন থাকব।

    মেঘনাদের চোয়াল দুটি কাঁপছিল, ঢোক গিলছিল। সেও কথা বলতে পারছিল না। লীলার কথা শুনে হঠাৎ তার বুকের মধ্যে হু হু করে উঠল। প্রায় শুন্যে দুলিয়ে ন্যাকড়ার পুতুলের মতো লীলাকে সে এনে বসাল তার মেশিনটার উপরে। তারপর নিজেও বসল মেশিনটার নীচে। নিজের মুখটা ঢাকতে চাইছে।

    লীলা দু হাত বাড়িয়ে দিল তার প্রকাণ্ড রুক্ষ মাথাটায়। মনে হল, এতবড় পুরুষের এমন পুজো সে আর কোনওদিন পায়নি। মেঘনাদ বলল, পারবে, কাজ করতে?

    মেঘনাদের চোয়াল দুটি কাঁপছে, ঢোক গিলছে। সেও কথা বলতে পারছে না।

    : পারব !

    : তবে করো।

    লীলা উপুড় হয়ে পড়ল কাঠের পাত্রে। মেঘনাদ তুলে নিল জ্বালানি কাঠ। তন্দুরে আগুন দিতে হবে। চালিসও এল। ছোট তন্দুরে ঝাঁটা বুলাতে লাগল।

    তিলিও এল। লীলা ডাকল তাকে, আয়।

    ছোট চিমনি থেকে ধোঁয়া উঠল।

    মেঘনাদ বলল, তুমিও এলে তুমি ঠাকরুন এ কারখানায়।

    তিলি হাসবার চেষ্টা করে বলল, একটা কথা বলতে এলুম। বোনাই, তোমার কাছে যা চেয়েছিলুম !

    মেঘনাদ বলল, হবে, ঠুমি ঠাকরুন। অনেকদিন রয়েছ, আর কিছুদিন থাক। এত তাড়া কীসের। ধরে তো রাখব না।

    তিলি হাসল চোখ নামিয়ে। অনেকদিন থেকেছি, আর কতদিন ! কতদিন !

    তন্দুরের মুখ থেকে লোলায়মান অগ্নিজিহ্বা ছুটে ছুটে আসতে লাগল বাইরে।

    .

    কিন্তু কয়েকদিন পর, সবাইকেই আসতে হয় কারখানায় বাস করতে। তিলি, সুকুমারী, নকুড়, ষোড়শী আর তার ছেলে, সবাইকেই।

    বিজয় গ্রেপ্তার হয়েছে কারখানা থেকে। শস্তা রেশন বন্ধের প্রতিবাদে, শ্রমিকেরা কারখানার মধ্যে অবস্থান ধর্মঘট করেছিল। তিন দিন বিজয় বাড়ি আসেনি, হাজার হাজার শ্রমিক ঘরে ফেরেনি। বউ বেটি ছেলে তাদের খাবার দিয়ে এসেছে কারখানায়। ঘেরাও হয়ে ছিলেন সাহেব ম্যানেজার। তাঁকে খাবার দিয়ে যেতেন মেমসাহেব। পুলিশ তিনদিন ধরে ঘেরাও করেছিল শুধু শ্রমিকদের। কিন্তু কিছুই করেনি। তারপর হঠাৎ, ভোজবাজির মতো, শ্রমিকদের মধ্যে একটা গণ্ডগোল লেগে গিয়েছিল। ওতপাতা রাত্রিচর জীবের মতো পুলিশ হঠাৎ গ্রেপ্তার করতে আরম্ভ করেছিল। তাদের প্রথম আসামি বিজয়

    মেঘনাদ অবাক হয়ে এই নতুন স্বদেশি দলকে দেখছিল। চুরি নয়, ডাকাতি নয়, কোম্পানির কাছে শস্তা রেশন চাইলে তাকেও পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরাও তো তা হলে স্বদেশি ! কিন্তু কী বিচিত্র স্বদেশি। পেটের দায়ে স্বদেশি। বিজয়ের কথা মনে পড়ল, বোনাই, সব মিলিয়ে আমার শুধু অপমান। আমি যে অনেক কিছু চাই। সেই অপমানিত স্বদেশি বিজয়েরা, কিন্তু কী ভয়াবহ। বিভীষিকার রাজ্য ঘিরে আছে তাদের।

    মেঘনাদের মনে হল, পাপ যেন একটি দীর্ঘসূত্র গাঁথা মালা। অনেক তার রং, মাথার উপর করাল সন্ত্রাসের রাজ্য, সব এক ঠাঁই। আর এতবড় স্বপ্ন নিয়ে, বিজয় মিস্তিরির সঙ্গে একাকার হয়ে গেল মেঘনাদ।

    বুক চাপড়ে চিৎকার করে উঠল নকুড়, সুকুমারী। কে খাওয়াবে? কে পরাবে?

    মেঘনাদ বলল, আমি একলা তো সামলাতে পারব না। সবাই মিলে কাজ করে খাব। ভয় কীসের!

    সবাই মিলে ভাড়া ঘর ছেড়ে দিয়ে কারখানায় বাস তুলে নিয়ে এল। কেবল তিলি আর ষোড়শীকে, হাত ধরে অনুনয় করে নিয়ে আসতে হল মেঘনাদকে।

    অমৃত মুদি এল দাদ চুলকোতে চুলকোতে। টাকাটা আর ফেলা রাখা যায় না। অবশ্য বউ তার মারা গেছে। এই বয়সে ছেলেমেয়ে নিয়ে, দোকান চালিয়ে সংসার চালানো বড় কঠিন। নকুড় সা’র ছোট মেয়েরও অবিশ্যি বয়স হয়েছে। যদি তার সঙ্গে বিয়ে দেয় তা হলে টাকার কথাই ওঠে না। কথাটি প্রকাশ্যে লোক জানিয়েই বলল অমৃত।

    মেঘনাদ তার মস্ত বড় শরীরটি অমৃতর সামনে এনে দাঁড়াল। তা তো হয় না মশাই। আপনার টাকাটা আমি দিয়ে দেব।

    অমৃত বলল, সবাই সব কিছু দিয়ে দেয়। আপনিও তো দিলেন সা মশাই। শালীকে নিজের কাছে রাখতে চান, রাখুন। তবে, দেবটেব করবেন না, নগদ বিদায় করুন।

    মেঘনাদ বলল, নগদ বিদায়ের, যে উপায় নাই।

    অমৃত আশ্চর্য নির্বিকার কিন্তু বিষাক্ত হাসি হেসে বলল, মশাই, দায়ে পড়েই বলছি, তা হলে যা হোক একটা নগদ-বিদায় করুন। দুটোতেই ওকথা বললে চলবে কেন।

    মেঘনাদের চোখে রক্ত ছুটে এল। তার পেছনেই তিলি আর লীলা দাঁড়িয়ে আছে। নকুড় আর সুকুমারী ঘরের মধ্যে। মেঘনাদ বলল, আপনি কত টাকা পান?

    : উনাশি টাকা, চৌদ্দ আনা, তিন পয়সা। মশাই বিজা মিস্তিরিকে অত কেউ কোনওদিন ধার দেবে না। আমি দিয়েছিলাম কেন? না, পরে যখন একটা কিছু সম্পর্ক

    মেঘনাদ বলল, আমি কালকেই আমার মেশিন বেচে আপনার

    তিলি চাপা গলায় আর্তনাদ করে উঠল, বোনাই ! ছি ছি ছি, কী সব বলছ তুমি। সামনে চৈত মাস। ওকে বলো, বোশেখ মাসের প্রথম যে বের দিন আছে, সেই দিন যেন আসে। কিছু দিতে পারবে না, সেটা বলে দেও। খালি সাত পাক ঘুরিয়ে তুলে নিয়ে যেতে হবে।

    মেঘনাদ আর লীলা রুদ্ধশ্বাস বোবার মতো তাকিয়ে রইল তিলির দিকে। অমৃত বলে উঠল, আরে নিশ্চয় নিশ্চয়, আমি আধ পয়সাও চাই না। ছি রাধা করুণা করুন, আমি যেন ঘরে তুলতে পারি। ব্যস বাস আর কিছু বলতে হবে না।

    বলে সে হনহন করে চলে গেল।

    মেঘনাদ খালি গলায় বলল, ঠুমি ঠাকরুন

    তিলি হাসবার চেষ্টা করে বলল, মেশিন বিক্রি, অমন পাপের কথা বোলো না বোনাই।

    তারপর সত্যি সশব্দে হেসে বলল, তোমাকে বলেছিলাম, তুমি পারলে না, আমার ব্যবস্থা আমিই করলুম। আজকালকার মেয়েরা যে তাই করে।

    কিন্তু আশ্চর্য ! লীলা একটি কথাও বলতে পারছে না।

    তিলি আবার বলল, বোনাই, সংসারে মন নিয়ে বড় জ্বালা। আমার মন বলছে, আমাকে ওখানেই যেতে হবে।

    মেঘনাদ বলল, কিন্তু ঠুমি, এখানে যে মন নয়, টাকা।

    তিলি বলল, না বোনাই, শুধু টাকা নয়। আমার কি মন নেই, আমি কোন মন নিয়ে তোমার এখানে থাকব?

    বলে, মুখ আড়াল করতে গিয়েও লীলার চোখে চোখ পড়ে গেল।

    লীলা আচমকা হু হু করে কেঁদে উঠে দু হাতে জড়িয়ে ধরল তিলিকে। এমন করে কেউ কোনওদিন লীলাকে কাঁদতে দেখেনি। এ যেন সেই লীলাই নয়। সে বলল, তোর সব মন নিয়ে। তুই থাক তুমি। তোকে আমি কিছুতেই ছেড়ে দিতে পারব না ভাই।

    তিলি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অদ্ভুত নিরাসক্ত গলায় বলল, দ্যাখ দিদি, ভাল যদি বাসলি বোনাইকে, এত ভালই বাসলি যে, ঠুমি রাককুসির জন্যও আর সোয়ামিকে একটু দুঃখু দিতে চাসনে? এত ভাল ভাল নয়, আমারও ভাল লাগে না।

    বলে সে তরতর করে ঘরে ঢুকে গেল।

    লীলা তেমনি মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে রইল। মেঘনাদ তার মাথায় হাত দিয়ে চুপ করে রইল খানিকক্ষণ।

    সূর্য অস্ত যাচ্ছে। মুক্তর শজনে গাছের ফাঁক দিয়ে কুটি কুটি রংঝালরেরমতো এসে ছড়িয়ে পড়ছে ফাল্গুনের শেষ রোদ। চড়াই পাখিরা ঝাঁক বেঁধে উড়ছে, বসছে লাফাচ্ছে।

    মেঘনাদ বলল, মহাজনগিন্নি জীবনের এতটা খালি, ঠুমি নিয়ে তার কতটুকু আর আমরা ভরাব। দুঃখের কথা সবাই বলে, সুখের কথা কেউ বলে না। ঠুমি সংসারের নিয়মের কথা বলেছে, সে কথা আমার চেয়ে আর কে বেশি বুঝবে। ও সব থাক, চলো, কাজের সময় হয়েছে।

    চালিস ফিরে এল, সারাদিনের বিস্কুট ফেরি শেষ করে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচেতনার অন্ধকারে – সমরেশ বসু
    Next Article শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }